Tag: Bengali news

Bengali news

  • President Murmu: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস

    President Murmu: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ২৫ জানুয়ারি। ফি বছর ভারত এই দিনটি পালন করে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে। গণতন্ত্রের উদ্‌যাপন এবং প্রতিটি নাগরিককে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত (National Voters Day) করতেই পালিত হয় এই দিনটি। সরকারি এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই দিনটি ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-এর প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবেও চিহ্নিত (President Murmu)। সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের অধীনে ১৯৫০ সালের ২৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থা হল নির্বাচন কমিশন। এখনও পর্যন্ত কমিশন ১৮টি লোকসভা নির্বাচন এবং ৪০০-রও বেশি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনা করেছে।

    রাজ্যসভার নির্বাচন (President Murmu)

    এছাড়াও রাজ্যসভার নির্বাচন, যেখানে রাজ্য বিধান পরিষদ রয়েছে, সেখানে তার নির্বাচন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি ও দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের নির্বাচন, এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির মতো মর্যাদাপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলির নির্বাচনও নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনটি একটি বহুসদস্য সংস্থা, যার মধ্যে রয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং আরও দু’জন নির্বাচন কমিশনার (President Murmu)। নির্বাচন কমিশনের মতে, এ বছরের জাতীয় ভোটার দিবসের মূল থিম হল “আমার ভারত, আমার ভোট”, এবং ট্যাগলাইন “ভারতীয় গণতন্ত্রের কেন্দ্রে নাগরিক”। কমিশন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন (President Murmu)।

    অনুষ্ঠানে থাকছেন যাঁরা

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন। কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল থাকবেন সম্মানীয় অতিথি হিসেবে। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় ভোটার দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় নয়াদিল্লিতে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, সদ্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত তরুণ ভোটারদের হাতে ভোটার পরিচয়পত্র (এপিক কার্ড) প্রদান এবং অসাধারণ কাজের জন্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সম্মান জানানো হয় (National Voters Day)। রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিভাগে সেরা নির্বাচনী অনুশীলন পুরস্কার দেন। এর মধ্যে রয়েছে, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকস, উদ্ভাবনী ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি, আদর্শ আচরণবিধির বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পাশাপাশি গণমাধ্যমের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি ও পুরস্কার (President Murmu)।

    উল্লেখযোগ্য অবদান

    এই পুরস্কারগুলি নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে সিভিল সার্ভিস সংগঠনগুলিকেও তাঁদের কাজের জন্য সম্মানিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে দুটি প্রকাশনার উদ্বোধন করা হবে- ‘২০২৫: উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের এক বছর’ এবং ‘চুনাও কা পর্ব, বিহার কা গর্ব’, যেখানে বিহারে সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার বিবরণ রয়েছে। এই উপলক্ষে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক বিকাশে কমিশনের বৈশ্বিক নেতৃত্ব তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রদর্শিত হবে। এছাড়াও একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভোটার তালিকা প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার নানা দিক তুলে ধরা হবে। এই প্রদর্শনীতে ভোটারদের কল্যাণে সাম্প্রতিক উদ্যোগ এবং ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনার দিকগুলিও তুলে ধরা হবে (President Murmu)।

    জাতীয় ভোটার

    জাতীয় ভোটার দিবসের গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অংশগ্রহণ যে কোনও গণতন্ত্রের সফল পরিচালনার মূল ভিত্তি। এটি সুস্থ ও অর্থবহ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের অপরিহার্য শর্ত। ভারতে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করে যে, প্রতিটি যোগ্য ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। পাশাপাশি, তালিকাভুক্ত প্রত্যেককে স্বেচ্ছায় ভোটদানে উৎসাহিত করাও কমিশনের দায়িত্ব। জাতীয় ভোটার দিবস এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। এটি ভোটার রেজিস্ট্রি ও অংশগ্রহণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে ও তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করে।

    ভোটারের উদ্দেশে উৎসর্গ

    এই দিনটি দেশের সমস্ত ভোটারের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। নয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তিকরণ এই উদ্‌যাপনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সারা দেশে প্রায় ১১ লক্ষ ভোটকেন্দ্রে জাতীয় ভোটার দিবস উদ্‌যাপন করা হয় (President Murmu)। জেলা স্তরে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (ডিইও), রাজ্য স্তরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এলাকায় বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ও নতুন ভোটারদের সংবর্ধনা জানান (National Voters Day)। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ২০১১ সাল থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠা দিবস, অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারিকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে। সারা দেশে এটি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। এর সঙ্গে থাকে সিম্পোজিয়াম, সাইকেল র‍্যালি, মানবশৃঙ্খল, লোকশিল্প অনুষ্ঠান, মিনি-ম্যারাথন, প্রতিযোগিতা ও সচেতনতা সেমিনারের মতো নানা কর্মসূচি। এর অধিকাংশই তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে, যাতে নির্বাচন ও গণতন্ত্র সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে (President Murmu)।

    পুরস্কার কর্মসূচি

    এছাড়া, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও ভোটার সচেতনতার ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা উদ্‌যাপনের জন্য একটি পুরস্কার কর্মসূচিও জাতীয় ভোটার দিবসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জাতীয় ও রাজ্য- উভয় স্তরেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর সেরা নির্বাচনী জেলাগুলিকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সমস্ত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিতর্ক, আলোচনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। ছাত্রছাত্রীরা অঙ্কন, নাটিকা, গান, চিত্রাঙ্কন ও প্রবন্ধ রচনায় অংশ নিতে পারে। এই উদ্যোগগুলি তরুণ মনকে দায়িত্বশীল ভোটার হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা জোগায়। এই সমস্ত কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের সিস্টেমেটিক ভোটার্স এডুকেশন অ্যান্ড ইলেকটোরাল পার্টিসিপেসান কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য হল সচেতন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (President Murmu)।

    ‘বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা’ তৈরি

    সিস্টেমেটিক ভোটার্স এডুকেশন অ্যান্ড ইলেকটোরাল পার্টিসিপেসান হল নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্মসূচি, যা ২০০৯ সালে শুরু হয়। এটি সারা দেশে ভোটার শিক্ষা, সচেতনতা ও সাক্ষরতার ওপর গুরুত্ব দেয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, ১৬তম জাতীয় ভোটার দিবসের প্রাক্কালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এসআইআর উদ্যোগের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ‘বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা’ তৈরি করা, অর্থাৎ সব যোগ্য ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং অযোগ্যদের নাম বাদ দেওয়া (National Voters Day)। বিহারে এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তা চলছে। বিহারের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, “চূড়ান্ত ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে একটি আপিলও দায়ের হয়নি, যা এর পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করে (President Murmu)।”

    এসআইআর

    এসআইআর পরবর্তী বিহারের নির্বাচন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ১৯৫১ সালের পর সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে ৬৭.১৩ শতাংশ। মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন ৭১.৭৮ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও উদ্ভাবনের বছর হিসেবে উদ্‌যাপন করেছে। প্রায় ৩০টি বড় উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম ছিল সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি, যার আওতায় দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৫,০০০-এরও বেশি বুথ লেভেল অফিসার ও সুপারভাইজারকে দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ইসিআইনেট অ্যাপ চালু করা, যেখানে সব ভোটার পরিষেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল জমা দেওয়ার সুবিধা, এবং ভোটারদের সুবিধার জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোটারের সংখ্যা ১,২০০-এ সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত।

    জ্ঞানেশ কুমার

    জ্ঞানেশ কুমার বৈশ্বিক স্তরে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় ভারতের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের কথাও তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইডিইএর সভাপতিত্ব ভারতের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সম্মেলনের আয়োজন করে, যেখানে ৭০টিরও বেশি দেশের নির্বাচন সংস্থার প্রধান ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশ নেন (President Murmu)। নিজের বার্তায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ আবেদন জানান। তিনি বলেন, “ভুয়ো তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।” তিনি ঘোষণা করেন, তরুণদের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে তারা নির্বাচনী ব্যবস্থার স্পষ্ট ধারণা পায় (National Voters Day)। তিনি বলেন, “দেশসেবার প্রথম ধাপ হল ভোটদান।” ১৮ বছর পূর্ণ করা প্রত্যেক নাগরিককে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

    জাতীয় ভোটার দিবস

    জাতীয় ভোটার দিবস ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। ২০১১ সালে সূচনার পর থেকে এই বার্ষিক উদ্‌যাপন দেশের অন্যতম বৃহত্তম নাগরিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে, যা দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৬ সালের থিম আরও একবার এই বার্তাই জোরদার করে—প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনও ভোটার যেন বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভোটার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নারী ভোটার নিবন্ধনের ঊর্ধ্বগতি এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের মধ্যে দিয়ে ভারতের গণতান্ত্রিক যাত্রা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে বলেই জানানো (National Voters Day) হয়েছে কমিশনের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে (President Murmu)।

     

  • Pakistan: পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতিকে কারাদণ্ড, কারণ জানলে অবাক হবেন

    Pakistan: পাকিস্তানে মানবাধিকার আইনজীবী দম্পতিকে কারাদণ্ড, কারণ জানলে অবাক হবেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রবিরোধী মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) দমন–পীড়ন এক নাটকীয় মোড় নিল শনিবার। মানবাধিকার আইনজীবী (Human Rights Lawyer) ইমরান জয়নাব মাজারি–হাজির এবং তাঁর স্বামী, আইনজীবী হাদি আলি চাঠাকে রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ‘অবৈধ’ বলে বিবেচিত সোশ্যাল মিডিয়া কাজকর্মের অভিযোগে প্রত্যেককে ১৭ বছরের করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    অশাস্তির সূত্রপাত (Pakistan)

    এই অশাস্তির সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ১২ অগাস্ট, ইসলামাবাদের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)-তে দায়ের করা একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে। অভিযোগে বলা হয়, মাজারি–হাজির অনলাইনে এমন কিছু কনটেন্ট ছড়িয়েছেন, যা নিষিদ্ধ সংগঠনের বয়ানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। অন্যদিকে, তাঁর কিছু পোস্ট পুনরায় শেয়ার করার অভিযোগে হাদি আলি চাঠার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় (Human Rights Lawyer)। গত বছরের ৩০ অক্টোবর এই দম্পতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়। শুক্রবার আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে ইসলামাবাদে তাঁদের গ্রেফতার করা হয় এবং পরে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। মামলার শুনানি চলাকালে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মহম্মদ আফজল মাজোকার আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

    আদালত বয়কট

    রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের জন্য শুনানিতে উপস্থিত হয়ে মাজারি–হাজির ও চাঠা আদালত বয়কট করেন। কারণ হিসেবে তাঁরা জানান, আদালতকক্ষে গণমাধ্যমের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁরা পুরো বিচারপ্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ান (Pakistan)। আদালতের লিখিত আদেশে বলা হয়েছে, ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন (পিইসিএ)-এর একাধিক ধারায় রাষ্ট্রপক্ষ সফলভাবে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে (Human Rights Lawyer)। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয়কে ধারা ৯-এর আওতায় পাঁচ বছর, ধারা ১০-এর আওতায় দশ বছর এবং ধারা ২৬-এ-এর আওতায় আরও দু’বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়, মোট ১৭ বছর করে। শুনানি চলাকালীন সময়ে তীব্র বাকবিতণ্ডার পর এই বয়কটের ঘটনা ঘটে। মাজারি–হাজির আদালতে গণমাধ্যমের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আমাদের খাবার বা জল দেওয়া হচ্ছে না।”
    এরপরই তাঁরা বিচারপ্রক্রিয়ায় আর অংশ নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

    ফ্যাসিবাদ চূড়ায়

    তাঁদের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর বিচারক মাজোকা রায় ঘোষণার সময় তাঁদের আসনে বসে থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাঁরা চেয়ার ছেড়ে সরে গেলে বিচারক আদালত কর্মীদের সব রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশ দেন এবং পরে দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন (Pakistan)। গত ১৫ জানুয়ারি আদালত দম্পতির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করে, কারণ তাঁরা একাধিকবার আদালতে হাজির হননি। পরদিনই তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা হয়। মাজারি–হাজিরের মা, প্রাক্তন মানবাধিকারমন্ত্রী ও ইমরান খান সরকারের সদস্য শিরিন মাজারি শুক্রবার গ্রেফতারের খবরটি নিশ্চিত করেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের আলাদা আলাদা গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “ফ্যাসিবাদ তার চূড়ায়। ক্ষমতায় থাকা পুরুষত্বহীন লোকেরা নিশ্চয়ই এই সাফল্যে খুব খুশি (Human Rights Lawyer)।”

    ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন

    প্রসঙ্গত, গ্রেফতারি এড়াতে এই দম্পতি ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের (আইএইচসিবিএ) কার্যালয়ে টানা দু’রাত কাটিয়েছিলেন। গ্রেফতারের সময় উপস্থিত থাকা আইএইচসিবিএ সভাপতি ওয়াজিদ আলি গিলানি দাবি করেন, কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিলেন যে আদালতে হাজিরার সময় আইনজীবীদের গ্রেফতার করা হবে না। গিলানির অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের গাড়ি জোরপূর্বক থামিয়ে জানালা ভেঙে মাজারি–হাজির ও চাঠাকে টেনে বের করে আনে। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আইএইচসিবিএ সেক্রেটারি মানজুর জাজ্জাকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় (Pakistan)।” প্রতিবাদ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে গিলানি বলেন, “এই ধরনের দমন–পীড়ন চলতে থাকলে ২০০৭ সালের আইনজীবী আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি ফের সৃষ্টি হতে পারে। কর্তৃপক্ষকে এই নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।”

    গ্রেফতারের পর পাকিস্তানের আইনজীবী মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ইসলামাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশন এবং ইসলামাবাদ বার কাউন্সিল যৌথভাবে ঘটনার নিন্দা জানায়। আইএইচসিবিএ ও আইবিএ শুক্রবার ধর্মঘট ঘোষণা করে। ইসলামাবাদ বার কাউন্সিল শনিবার প্রদেশজুড়ে আইনজীবী ধর্মঘটের ডাক দেয়। এই (Human Rights Lawyer) ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের আইনজীবী মহলে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে (Pakistan)।

     

  • Mirzapur Gym Conversion Racket: উত্তরপ্রদেশে ফর্দা ফাঁস জিমের আড়ালে চলা ধর্মান্তর চক্রের

    Mirzapur Gym Conversion Racket: উত্তরপ্রদেশে ফর্দা ফাঁস জিমের আড়ালে চলা ধর্মান্তর চক্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর জেলায় পাঁচটি জিমকে কেন্দ্র করে চলা একটি ইসলাম ধর্মান্তর চক্রের (Mirzapur Gym Conversion Racket) পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। দুই হিন্দু নারী আলাদা আলাদা অভিযোগ (Police) দায়ের করে জানান, মুসলিম জিম প্রশিক্ষকেরা তাঁদের যৌন হয়রান করেছে, অর্থ আদায় করেছে এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দিয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ভাদোহির এক পুলিশ কনস্টেবল ইরশাদ খানও এই ধর্মান্তর চক্রের সঙ্গে জড়িত।

    ফরিদ আহমেদ (Mirzapur Gym Conversion Racket)

     জিআরপি  তার সহযোগী ফরিদ আহমেদ ‘আয়রণ ফায়ার’ ও ‘কেজিএন ২.০’ নামের জিম চালানোর আড়ালে ৫০ জনেরও বেশি তরুণীকে ফাঁদে ফেলেছিল বলে অভিযোগ। এর আগে মির্জাপুর কোতওয়ালি দেহাত পুলিশ মহম্মদ শেখ আলি আলম ও ফয়সাল খান নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। খারঞ্জা ফলসের কাছে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর জিআরপি কনস্টেবল ইরশাদ খান এবং তার সহযোগী ফরিদ আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের গুলি গিয়ে লাগে ফরিদের পায়ে। ফরিদের কাছ থেকে একটি অবৈধ পিস্তল ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে মির্জাপুর পুলিশ।

    লাকি আলি খান 

    এদিকে, চক্রটির মূল হোতা আশফাক ওরফে লাকি আলি খান এবং তার ভাই ইমরান খানের বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যাতে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে। একই সঙ্গে পুলিশ দুই ভাইয়ের প্রত্যেকের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, কনস্টেবল ইরশাদ খান অবৈধ তোলাবাজি থেকে অর্জিত অর্থে দামি গাড়ি চালাতেন এবং একাধিক জিমের একটি চেইন গড়ে তুলেছিলেন (Mirzapur Gym Conversion Racket)। অভিযুক্ত মুসলিমদের পরিচালিত জিমে যেসব হিন্দু নারী যেতেন, তাঁদের বিশ্বাস অর্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘সান্নো’ নামের এক মুসলিম নারীকে (Police)।

    ‘কেরালা স্টোরি’

    একটি তথাকথিত ‘কেরালা স্টোরি’ ধাঁচের ঘটনায়, সান্নো নামের ওই মুসলিম মহিলা চক্রটির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং হিন্দু মেয়েদের বিশ্বাস অর্জন করে তাঁদের ফাঁদে ফেলার কাজ করতেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষরা হিন্দু মেয়েদের নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিত। কোনও ‘শিকার’ যদি একটি জিমে ফাঁদে না পড়তেন, তাহলে তাঁকে ফাঁদে ফেলার দায়িত্ব ন্যস্ত হত অন্য জিমের হাতে। ইসলামে ধর্মান্তরের লক্ষ্যে হিন্দু মেয়েদের টার্গেট করার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি জিম— কেজিএন-১.০, কেজিএন-২.০, কেজিএন ৩.০, বি-ফিট এবং আয়রন ফায়ার সিল করে দিয়েছে, যাতে প্রমাণ লোপাট না করা যায় (Mirzapur Gym Conversion Racket)।

    জেলাশাসকের বক্তব্য 

    জেলাশাসক পবন কুমার গঙ্গওয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব জিম পরিচালনার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর জিমগুলি সিল করে দেওয়া হয় (Police)। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পুলিশ শত শত ছবি, ভিডিও ও চ্যাট-সহ গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশ এই জিম-কেন্দ্রিক ইসলামি ধর্মান্তর চক্রের আর্থিক লেনদেনের সূত্রও খতিয়ে দেখছে। কেজিএন ২.০ জিমের মালিক অমিত দুবে জানান, জিমটি এই ধরনের বেআইনি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা তিনি জানতেন না। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই জিমের দামি যন্ত্রপাতি ধর্মান্তরের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে কেনা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাত পর্যন্ত জিমে যাতায়াত ছিল মহিলাদের এবং সেখানে পার্টির আয়োজনও হত (Mirzapur Gym Conversion Racket)।

    পুলিশ সুপারের বক্তব্য

    মির্জাপুরের পুলিশ সুপার সোমেন ভার্মা বলেন, “এটি কোতওয়ালি দেহাত এলাকার একটি মামলা। দুই মহিলা তাঁদের জিমের মালিক ও প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেছেন। জিমের মালিক ও অন্যদের বিরুদ্ধে নারীদের শোষণ, তোলাবাজি এবং অবৈধভাবে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমরা বর্তমানে এই মামলার সব অভিযোগ তদন্ত করছি।” এদিকে, সিটি এএসপি নীতিশ সিং জানান, পাঁচটি জিমের মধ্যে চারটি পরিচালনা করতেন তিন ভাই ও তাঁদের এক জামাই। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বহু ভুক্তভোগীর মধ্যে দুজন অভিযোগ দায়ের করার পর। মির্জাপুর পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান চালিয়ে তিনটি জিম সিল করে এবং মহম্মদ শেখ আলি আলম ও ফয়সাল খান নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে (Police)।

    পৃথক অভিযোগ

    কোতওয়ালি দেহাত থানায় পৃথক অভিযোগে দুই হিন্দু মহিলা জানান, মির্জাপুরে জিম ট্রেনার হিসেবে কর্মরত অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষরা প্রথমে তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে, পরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও তোলে। এমনকি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও তৈরি করেও ব্ল্যাকমেল করা হয় এবং শেষে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হয় (Mirzapur Gym Conversion Racket)। ২০ জানুয়ারি নটওয়ান মিল্লত নগরের বাসিন্দা মহম্মদ শেখ আলি আলম এবং গোসাই তালাব এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ জাহির ও শাদাব নামের আরও দু’জনকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ও আটক সকল অভিযুক্তই বিভিন্ন জিমের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং একটি সংগঠিত ‘লাভ জেহাদ’ নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল।

    ঋণ নিয়ে ওটিপি চাইতে থাকত

    অভিযুক্ত জাহির কেজিএন-১ জিমের মালিক। তবে তিনি যুক্ত ছিলেন কেজিএন-২, কেজিএন-৩ এবং আয়রন ফায়ার জিমের সঙ্গেও। যাঁরা অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাঁরা আগে কেজিএন জিমে যেতেন, সেখানেই অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। বি-ফিট জিমে যাওয়া এক অভিযোগকারী জানান, অভিযুক্ত শেখ আলি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ধীরে ধীরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও তোলে। পরে তাকে ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করা হয়। এমনকি তার নামে ঋণ নিয়ে ওটিপি চাইতে থাকত অভিযুক্তরা (Mirzapur Gym Conversion Racket)। ভুক্তভোগীর দাবি, শেখ আলি আলম একাধিকবার তাকে বোরখা পরিয়ে ছবি তুলেছে এবং দিনে পাঁচবার নামাজ পড়তে বাধ্য করেছে। তাকে দরগায় নিয়ে গিয়ে কালমা পড়তে বাধ্য করা হয় এবং জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো হয়। ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে শেখ আলি আলম তাঁকে গালিগালাজ করে, অশ্লীল ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, জিম ট্রেনার ফয়সাল ও তার সহযোগীরাও এই ধর্মান্তর চক্রে যুক্ত।

    ৫০ জন হিন্দু মেয়েকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা

    পুলিশের দাবি, এখন পর্যন্ত সিল করা পাঁচটি জিমে প্রায় ৫০ জন হিন্দু মেয়েকে ফাঁদে ফেলে শোষণ ও ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে এবং তাদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের চেষ্টা চলছিল। এখন পুলিশ শুধু অভিযুক্তদের কল ডেটা রেকর্ডই নয়, জিমগুলির অর্থায়নের উৎসও তদন্ত করছে। যদিও জিম ট্রেনারদের বেতন ছিল মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, তবু তারা দামি ব্র্যান্ডের পোশাক ও জুতো এবং দামী মোবাইল ফোন ব্যবহার করত।  রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মির্জাপুরের কয়েকজন (Police) প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিও এসব জিমে বিনিয়োগ করেছিলেন (Mirzapur Gym Conversion Racket)।

     

  • Arunachal Pradesh: অবৈধ ধর্মীয় পরিকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করতে হবে, দাবি অরুণাচলবাসীর

    Arunachal Pradesh: অবৈধ ধর্মীয় পরিকাঠামো নির্মাণ বন্ধ করতে হবে, দাবি অরুণাচলবাসীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম ও ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা ইসলামপন্থী-সহ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এবং অরুণাচল প্রদেশের স্থানীয় জনগণের তৈরি মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো অবৈধ ধর্মীয় পরিকাঠামো নির্মাণের প্রতিবাদে আন্দোলন এখন চরমে। রাজ্যের একাধিক আদিবাসী সংগঠন অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের (Arunachal Pradesh) বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টার অরুণাচল বনধের ডাক দিয়েছে।

    অরুণাচল এসটি বাঁচাও আন্দোলন (Arunachal Pradesh)

    লোয়ার সুবনসিরি জেলার প্রশাসন ২০ জানুয়ারি, অরুণাচল এসটি বাঁচাও আন্দোলনের ডাকা ২৪ ঘণ্টার বনধ চলাকালীন পারিয়ামি মসজিদ খালি করে দেয়। এর ফলে জিরোতে কথিত দুটি অবৈধ মসজিদকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন চলছে, তা আরও তীব্র হয়। এই বনধের মূল লক্ষ্য ছিল সুলুয়া ও পারিয়ামিতে নির্মিত অনুমোদনহীন পরিকাঠামো। সংগঠনটি ওই কাঠামোগুলি অবিলম্বে ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছে।  পাশাপাশি পারিয়ামি মসজিদের ভেতরে থাকা একটি ইসলামি স্তম্ভ অপসারণের দাবিও তোলেন স্থানীয়রা। এ জন্য ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    এসটি বাঁচাও আন্দোলন

    এর প্রেক্ষিতে অরুণাচল প্রদেশ সরকার সুলুয়া মসজিদ, যেটি ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে এসটি বাঁচাও আন্দোলনের অভিযোগের পর সিল করা হয়েছিল, তা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যাতে জমির মালিক রুবু তাপা নিজের খরচে সেটি ভেঙে ফেলতে পারেন। এই নির্দেশ আসে ১৯ জানুয়ারি ওল্ড জিরো মার্কেট ওয়েলফেয়ার কমিটির এক আবেদনের পর। ইনচার্জ ডেপুটি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী (Illegal Mosques) এসডিও হাগে তারুং অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সার্কেল অফিসার মিস মিডে বাগেকে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের অনুলিপি পুলিশ সুপার, টাউন ম্যাজিস্ট্রেট, জিরো পুলিশ স্টেশন, এসটি বাঁচাও আন্দোলন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়।

    নিরাপত্তা ইস্যু

    এদিকে, অরুণাচল প্রদেশে নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ার আর একটি পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যপাল কেটি পার্নাইক শুক্রবার সদ্যনিযুক্ত ডিজিপি শিব দর্শন সিং জামওয়ালকে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পার্নাইক বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশ সামাজিক সম্প্রীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পক্ষে মারাত্মক হুমকি, যা লোয়ার সুবনসিরির মতো জেলাগুলিতে অননুমোদিত ধর্মীয় কাঠামো ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় উদ্বেগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ (Arunachal Pradesh)।” এই ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট দেখাচ্ছে যে জেলাটিতে অবৈধ ধর্মীয় কাঠামোকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

    এর আগে, ২৭ ডিসেম্বর রাজ্যের রাজধানী ইটানগরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে একাধিক সংগঠন রাজ্য থেকে অবৈধ বাংলাদেশি ‘মিঞা-মুসলিম’ বসতিস্থাপনকারীদের উচ্ছেদ এবং তাদের ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) বাতিলের দাবি তোলে। অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ ফোর্স (IYFA) এবং অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের (APIYO) উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি দেন (Illegal Mosques)। সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অভিবাসীদের রাজ্যে কোনও জায়গা নেই এবং অরুণাচল প্রদেশ ও সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত কখনওই বাংলাদেশের অংশ হতে পারে না (Arunachal Pradesh)।”

     

  • Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের তুষ্টিকরণের রাজনীতির বিষবৃক্ষে ফলতে শুরু করেছে বিষময় ফল! তার জেরে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল-শাসিত (TMC) রাজ্যের একাধিক জায়গায় ব্যাহত হয়েছে বার্ষিক হিন্দু উৎসব সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja)। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ছিল সরস্বতী পুজো। উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি শহরে শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বাধা সৃষ্টি হয় সরস্বতী পুজোয়।

    তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে মন্দিরে তালা (Saraswati Puja)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলঘরিয়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা চৌক সোসাইটি মন্দিরটিতে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে স্থানীয় হিন্দু মহিলারা সরস্বতীর আরাধনা করতে পারেননি। সমস্যার সমাধান করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট টিএমসি কাউন্সিলরও। পুলিশ জানিয়েছে, টিএমসির বিবদমান দুই গোষ্ঠী কোনও সমঝোতায় না পৌঁছনো পর্যন্ত তারা তালা ভাঙবে না বা হস্তক্ষেপ করবে না। স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “আমরা চাই এই মন্দিরটি সকলের জন্য একটি সাধারণ উপাসনাস্থল হোক। এখানে একটি মাত্র তালা থাকবে, যার দুটি চাবি থাকবে, একটি ওদের কাছে, অন্যটি আমাদের কাছে।” আর এক মহিলা বলেন, “এটি কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সবার।”

    পুজো বন্ধ কলেজ-স্কুলেও

    এদিকে, দক্ষিণ কলকাতার সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের এক ছাত্রী জানান, সরস্বতী পুজোর আয়োজন করার জন্য তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, হুমকি দেওয়া টিএমসি নেতার নাম দাউদ আলম মোল্লা। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে ওই ছাত্রী বলেন, “দাউদ আলম মোল্লা বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে আমায় হুমকি দিয়েছে যে সে আমার এলএলএম (LLM) নষ্ট করে দেবে।” উল্লেখ্য, যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল’ কলেজই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিএমসি সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী (TMC), কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ শব্বির আলি সরস্বতী পুজোর আয়োজন করলে ছাত্রছাত্রীদের ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দিয়েছিলেন।

    এদিন, কোচবিহার জেলার দিনহাটা কলেজে টিএমসির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে সরস্বতী পূজার মণ্ডপ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে তলব করা হয়। খবর পেয়ে দিনহাটা থানার ওসি এবং এসডিপিও কলেজ চত্বরে পৌঁছন (Saraswati Puja)। পুজোয় অংশ নিতে আসা হিন্দু ভক্তদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, শাসক দলের দুষ্কৃতীরা কলেজ ক্যাম্পাসকে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত শহরের আর একটি ঘটনায়, স্কুল চত্বরে সরস্বতী পুজো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের। জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে ৫০ শতাংশের বেশি মুসলিম ছাত্রছাত্রী থাকায় পুজোর অনুমতি নাকচ করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ আধিকারিকরা ছাত্রছাত্রীদের দেবী সরস্বতীর পুজো করতে বাধা দিচ্ছেন।

    ফুটপাতে পুজোর আয়োজন!

    শেষ পর্যন্ত হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে, ফুটপাতে পুজোর আয়োজন করতে বাধ্য করা হয় (Saraswati Puja)। প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বলেন, “তারা বলেছে, এই স্কুলে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ায় এখানে পুজো করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গে থাকা হিন্দুদের অবস্থা আর বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই (TMC)।” তিনি এও বলেন, “পুলিশ দেবী সরস্বতীকেও স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে, ফলে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফুল দিতে হয়েছে।” এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। টুইট-বার্তায় তাঁর প্রশ্ন, “পশ্চিমবঙ্গ কি এখন বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে?” তিনি এও লেখেন, “এই ঘটনা আমাদের একটি বিষয় শেখায়, যদি হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যায়, তাহলে তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে।” উপরোক্ত চারটি ঘটনা স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায়ই যেমন দেখা যায়, হিন্দুদের অধিকার সংক্রান্ত বহু খবরই মূলধারার সংবাদমাধ্যমে উপেক্ষিত থেকে যায়। তাই সরস্বতী পুজো ব্যাহত হওয়ার ঘটনার সংখ্যা (TMC) কয়েক ডজন ছাড়িয়ে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না (Saraswati Puja)।

  • Iran: মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুঁশিয়ারি দিল ইরান, কী বলল জানেন?

    Iran: মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুঁশিয়ারি দিল ইরান, কী বলল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনও সামরিক পদক্ষেপ করে, তবে তাকে তারা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবেই বিবেচনা করবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই মর্মে সতর্ক করে দিল ইরান (Iran)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US) ঘোষণার পর, যেখানে তিনি বলেন যে একটি ‘নৌবহর’ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, এরই মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলি ওই অঞ্চলের আরও কাছে চলে এসেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ ইরানি আধিকারিক জানান, ওয়াশিংটন এই হামলাকে সীমিত বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, তেহরান এর জবাব দেবে সবচেয়ে কঠোর উপায়ে।

    ইরানের সতর্কবার্তা (Iran)

    ইরানের পক্ষে এই সতর্কবার্তাটি এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন এবং যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন-সহ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বিমানবাহী রণতরী বহর ভারত মহাসাগর পেরিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমাদের একটি বড় সামরিক শক্তি ইরানের দিকে এগোচ্ছে।” তবে তিনি এও জানান, সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। এদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী আবারও হামলার শিকার হলে আমাদের কাছে যা কিছু আছে, সব কিছু দিয়েই পাল্টা আঘাত হানতে কোনও দ্বিধা করব না।”

    সর্বাত্মক সংঘর্ষই হবে ভয়াবহ

    তিনি বলেন, “যে কোনও সর্বাত্মক সংঘর্ষই নিশ্চিতভাবে হবে ভয়াবহ।” তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর বক্তব্য কোনও হুমকি নয়, বরং একজন কূটনীতিক ও অভিজ্ঞ সেনা হিসেবে তিনি যে বাস্তবতা তুলে ধরাকে প্রয়োজনীয় মনে করেছেন, সেটাই তিনি প্রকাশ করেছেন। এই ক্রমবর্ধমান কঠোর ভাষার পটভূমিতে রয়েছে ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ, যা গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, বিক্ষোভ দমনে সরকারের অভিযানে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন (Iran)।

    এর আগে, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে অথবা তেহরান যদি তার পরমাণু কর্মসূচি ফের শুরু করে, সে ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি একাধিকবার দিয়েছেন ট্রাম্প। গত বছরের জুন মাসে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল আমেরিকা (Iran)। একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ বহর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে (US)। ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে।

     

  • Donald Trump: ডাহা ফেল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিসে’র প্রচেষ্টা, কেন জানেন?

    Donald Trump: ডাহা ফেল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিসে’র প্রচেষ্টা, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে (Davos) গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সেই সফর শেষমেশ এক বড়সড় ব্যর্থতায় পরিণত হল। ইউরোপীয় দেশগুলির ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার মুখে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর দাবিতে পিছু হটতে বাধ্য হওয়ার পর, গাজা সঙ্কট নিয়ে তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগটিও সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে গেল (Donald Trump)। ট্রাম্প এই বোর্ডে যোগ দিতে প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ প্রভাবশালী দেশই এই উদ্যোগ থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশগুলির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডে যোগ দিতে রাজি হয়।

    উচ্চাভিলাষী ট্রাম্প (Donald Trump)

    গাজায় যুদ্ধবিরতি দিয়ে বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যে নতুন সংস্থাটি গঠনের কথা ছিল, সেটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া মাত্র ১৯টি দেশের অংশগ্রহণে যাত্রা শুরু করেছিল। ট্রাম্প যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, বাস্তবে তা তার ধারেকাছেও পৌঁছায়নি। ভারত, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তিগুলি এই বোর্ডে যোগ দেয়নি।২০২৬ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময় বৃহস্পতিবার সকালে দাভোসে ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বোর্ড অব পিসে’র সূচনা করেন। বিশ্বের সব মহাদেশের বহু দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও, সিংহভাগ দেশই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমেরিকা-সহ মোট ২০টি দেশ উপস্থিত ছিল। যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আগে দাবি করা হয়েছিল, আমন্ত্রিত ৬০টি দেশের মধ্যে অন্তত ৩৫টি দেশ যোগ দেবে, বাস্তবে সেই সংখ্যা ছিল ঢের বেশি কম (Davos)।

    পশ্চিম ইউরোপীয় দেশই এই বোর্ডে যোগ দেয়নি

    উল্লেখ্য যে, কোনও পশ্চিম ইউরোপীয় দেশই এই বোর্ডে যোগ দেয়নি, যা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপের বাড়তে থাকা দূরত্বকেই স্পষ্ট করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যে ১৯টি দেশ এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল, তারা হল,  আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরিন, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডন, কাজাখস্তান, কসোভো, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) এবং উজবেকিস্তান (Donald Trump)। আলবেনিয়া, বেলারুশ এবং ভিয়েতনাম বোর্ডে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, কিন্তু দাভোসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওই দেশগুলিরই কোনও শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না (Davos)।

    বোর্ড ভবিষ্যত রাষ্ট্রসংঘের

    পর্যবেক্ষকদের মতে, মূলত মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিই এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই তালিকার বহু দেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয় এবং বেশ কয়েকটি দেশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেখানে ইসলামি আইনের ভিত্তিতে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। যে দেশগুলি এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকার করেছে, তাদের মধ্যে কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। অনেক দেশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই বোর্ড ভবিষ্যতে রাষ্ট্রসংঘের (ইউএন) ভূমিকা খর্ব করার চেষ্টা করতে পারে। আবার কয়েকটি দেশ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়েও আপত্তি তুলেছে। যদিও পুতিন নিজেও এই বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, এই বিষয়ে রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে এখনও আলোচনা চলছে (Donald Trump)।

    রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প 

    ব্রিটেন নিশ্চিত করেছে যে তারা বোর্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে না। ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা এই বোর্ডে যোগ দেবে না, কারণ এটি রাষ্ট্রসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। নরওয়ে, সুইডেন, স্লোভেনিয়া এবং চিনও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা এই বোর্ডে যোগ দিচ্ছে না। অন্য অনেক দেশ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও বৃহস্পতিবার বোর্ডে যোগ দেয়নি। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ আরও বহু দেশ (Davos)। তবে ট্রাম্প আশাবাদী যে ভবিষ্যতে আরও দেশ তাঁর এই বোর্ডে যোগ দেবে। তিনি বলেন, “একবার এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে, আমরা কার্যত যা চাই তাই করতে পারব। এবং তা আমরা রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই করব।”

    ‘বোর্ড অব পিস’

    গাজার জন্য গঠিত এই ‘বোর্ড অব পিস’ পশ্চিম এশিয়া সংক্রান্ত ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য গাজা যুদ্ধের পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের তদারকি করা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম এই প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল গাজা সংঘাতের অবসান ঘটানোর একটি উপায় হিসেবে। তবে বর্তমানে এটি আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার একটি বৃহত্তর মঞ্চের রূপ নিতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বোর্ডটির এক্সিকিউটিভ কমিটি গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলির তদারকি করবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক কূটনৈতিক যোগাযোগ, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং বৃহৎ পরিসরের অর্থায়ন (Donald Trump)।

    উল্লেখ্য যে, এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ঐচ্ছিক সদস্য ফি ধার্য করা হয়েছে। যে দেশগুলি এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে, তারাই স্থায়ী সদস্যপদ পাবে। আর যারা অর্থ দিতে পারবে না, তারা তিন বছরের জন্য (Davos) সদস্য হিসেবে থাকতে পারবে। তবে বোর্ডে যোগ দেওয়ার সময় কোনও দেশ এই ফি দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য জানা যায়নি (Donald Trump)।

     

  • India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    India: পাক-তুরস্ক-সৌদির ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা, দুই দেশের সঙ্গে নয়া জোট ভারতের! সঙ্গী আরও দুই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন ব্যস্ত। ব্যস্ত তার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্যপূরণে ট্রাম্প-নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম গোলার্ধকে আরও মজবুত করার ভাবনায় মজে (India)। বহুপাক্ষিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি, শুল্কযুদ্ধের ‘বাজুকা’ ছোড়া এবং লেনদেনভিত্তিক চুক্তিতে ঝোঁক, এ সবই তার বহিঃপ্রকাশ। ফলস্বরূপ, বিশ্বে স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে আমেরিকার ঐতিহ্যগত ভূমিকা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রভাব এখন আটলান্টিকের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত স্পষ্ট।

    নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন (India)

    দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিগুলি নীরবে নিজেদের কৌশল পুনর্গঠন করছে। এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দুটি আলগা কিন্তু ক্রমশ আলোচিত কৌশলগত অক্ষ মাথা তুলতে শুরু করেছে। একটি গড়ে উঠছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে। অন্যটি গড়ে উঠছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে, যার কৌশলগত প্রান্তে রয়েছে গ্রিস ও সাইপ্রাস। এগুলির কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিক জোট নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির মধ্যে হওয়া ইঙ্গিতপূর্ণ চুক্তি, কূটনৈতিক বার্তা ও কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পুরানো জোটব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও কার্যকর সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এসবই হচ্ছে সরকারি ঘোষণার তুলনায় অনেক দ্রুত।

    স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট

    এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (SMDA)। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি রিয়াধের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন, কারণ এতদিন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল দ্বিপাক্ষিক ও মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভর (India)। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং ট্রাম্প আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় থেকেই এই চুক্তির জন্ম। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে পরিচিত এই কাঠামোয় তুরস্কের আগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ব্লুমবার্গ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এই জোটে যোগ দিতে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চালাচ্ছে (UAE)।

    বাস্তব চিত্র

    যদিও রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা বলছে এই কাঠামো আদর্শগত নয়, প্রতিরক্ষামূলক, তবুও বাস্তব চিত্র উপেক্ষা করা কঠিন। সম্ভাব্য এই ত্রিপাক্ষিক জোটে এক ছাতার নীচে মিলিত হচ্ছে সৌদি আরবের আর্থিক শক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি। আঙ্কারাভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক টেপাভের বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজচান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, “আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন দেশগুলিকে তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করছে (India)।” পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, এই চুক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সীমিত যুদ্ধের পর জোট মজবুত করার প্রয়াস। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের পক্ষে তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রকাশ্যে এসেছিল এবং নয়াদিল্লি তা লক্ষ্যও করেছিল। বহুদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে সৌদি আরবের জন্য এটি ওয়াশিংটনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা, বিশেষত ভৌগোলিক বাস্তবতা ও ‘ভাই’ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্কের শীতলতার প্রেক্ষাপটে। আর তুরস্কের ক্ষেত্রে, এই ‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম এশিয়ায় কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাটোর মধ্যেই রয়েছে (UAE)।

    ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’

    যদি সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক অক্ষ এক দিক হয়, তবে অন্য দিকে রয়েছে ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব (India)। ১৯ জানুয়ারি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রায় দু’ঘণ্টার ভারত সফরের সময় নয়াদিল্লি ও আবুধাবি একটি ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের উদ্দেশ্যপত্র’ সই করে। ভাষাগতভাবে এটি সংযত হলেও সময়টি মোটেই কাকতালীয় নয়। সৌদি–পাক অক্ষ নিয়ে আলোচনা ও অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই চুক্তি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকান লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল ভাটিকিওটিস এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “তুরস্ক–সৌদি আরব–পাকিস্তান অক্ষের মোকাবিলায় ভারত ইউএই এবং পরোক্ষভাবে ইজরায়েলকে নিয়ে একটি নতুন ভূরাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “এই নতুন অক্ষগুলির জন্ম হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তির সঙ্কোচনের ফল হিসেবে।”

    আব্রাহাম চুক্তি

    এই অংশীদারিত্ব আব্রাহাম চুক্তির পর আরও শক্তিশালী হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউএই ও ইজরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এটি ভারত–ইজরায়েল–ইউএই– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে পূর্বে গঠিত (I2U2) জোট কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভারত ইতিমধ্যেই ইজরায়েল থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে এবং যৌথ উৎপাদনেও যুক্ত। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালায়। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে ইজরায়েল প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। ইউএইর (UAE) কাছে ভারত ইয়েমেন, আফ্রিকা ও কৌশলগত লোহিত সাগর অঞ্চলে সৌদি প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি (India)। এই পাল্টা জোট কেবল পশ্চিম ভারত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে ভূমধ্যসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সেখানে তুরস্কের আগ্রাসী অবস্থানের বিরুদ্ধে কৌশলগত সমন্বয় বাড়াচ্ছে  গ্রিস, সাইপ্রাস ও ইজরায়েল। ২০২৪ সালে ব্রিটেনভিত্তিক ইউরোপিনিয়নের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ৩+১ ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে (ইজরায়েল–গ্রিস–সাইপ্রাস) ভারতকে আমন্ত্রণ জানায় ইজরায়েল।

    জোট গড়ছে আঞ্চলিক শক্তিগুলি

    এয়ার মার্শাল অবসরপ্রাপ্ত অনিল চোপড়া ‘ইউরেশিয়ান টাইমসে’ লেখেন, এই গোষ্ঠীটি ভবিষ্যতে ইউএইকেও (UAE) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অ্যাজেন্ডায় রয়েছে যৌথ সামরিক মহড়া, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর, যা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী (India)। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক–পাকিস্তান–সৌদি অক্ষ শুধু ভারতের জন্য নয়, ইজরায়েল, আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসের জন্যও চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ত্রিপাক্ষিক সামরিক জোট গড়ে ওঠেনি। আমেরিকা ভেতরের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, ইউরোপ বিভক্ত। ফলে আঞ্চলিক শক্তিগুলি আর দিকনির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছে না, তারা নিজেদের মতো করে জোট গড়ছে, হিসাব কষছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে (UAE)। এই অক্ষগুলি এখনও তরল এবং অনানুষ্ঠানিক হলেও, ভবিষ্যতের কৌশলগত রূপরেখা যে নতুন করে লেখা হচ্ছে, তা স্পষ্ট (India)।

     

  • Daily Horoscope 24 January 2026: দুপুর নাগাদ কোনও সুসংবাদ পাবেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 24 January 2026: দুপুর নাগাদ কোনও সুসংবাদ পাবেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) প্রেম জীবনে কিছু অবসাদ থাকবে।

    ২) দান-পুণ্যের কাজে অর্থ ব্যয় করবেন।

    ৩) ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষককে নিজের কথা বোঝানোর সুযোগ পাবেন।

    বৃষ

    ১) পরিজনদের সঙ্গে হইহুল্লোড় করবেন।

    ২) দুপুর নাগাদ কোনও সুসংবাদ পাবেন।

    ৩) সন্তান বা ভাই-বোনের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সংবাদ হতে পারে এটি।

    মিথুন

    ১) ছাত্রছাত্রীরা কেরিয়ার গড়ে তোলার চেষ্টা করলে সফল হবেন।

    ২) অনাবশ্যক ব্যয় বাড়বে।

    ৩) ব্যস্ততা সত্ত্বেও দাম্পত্য জীবনের জন্য সময় বের করবেন।

    কর্কট

    ১) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ২) অসহায়দের যথাসম্ভব সাহায্য করবেন।

    ৩) মানসিক শান্তি পাবেন।

    সিংহ

    ১) স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।

    ২) খাওয়া-দাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ রাখুন।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়বে, আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হবে।

    কন্যা

    ১) পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সমস্যা সমাপ্ত হবে।

    ২) সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করবেন।

    ৩) সপরিস্থিতির কারণে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

    তুলা

    ১) কর্মক্ষেত্রে আয়ের নতুন উৎস তৈরি হবে।

    ২) সমাজে বিশেষ সম্মান পাবেন।

    ৩) বন্ধুর সংখ্যা বৃদ্ধি হবে।

    বৃশ্চিক

    ১) ধন, সম্মান ও যশ বৃদ্ধি হবে।

    ২) সন্তানের ভবিষ্যতের কারণে অর্থ ব্যয় করতে পারেন।

    ৩) বিদেশ যাত্রার সুযোগ পাবেন।

    ধনু

    ১) পারিবারিক কারণে অর্থ ব্যয় করবেন।

    ২) আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

    ৩) আদালতে আনাগোনা বাড়তে পারে।

    মকর

    ১) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ২) ধর্মীয় কাজে সময় কাটাবেন।

    ৩) ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

    কুম্ভ

    ১) আজকের দিনটি কষ্টজনক।

    ২) শরীরের কোনও অংশে ব্যথা হবে।

    ৩) অর্থ ব্যয় হবে।

    মীন

    ১) দাম্পত্য জীবন আনন্দে কাটবে।

    ২) সন্ধ্যাবেলা কোনও সুসংবাদ পাবেন।

    ৩) পুরনো বন্ধুর সঙ্গে ভ্রমণ করতে পারেন।

     DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।..

  • Ramakrishna 563: “শোনো! শিষ্যের মাথাটা গুরুর জিনিস, আর গুরুর পা শিষ্যের জিনিস”

    Ramakrishna 563: “শোনো! শিষ্যের মাথাটা গুরুর জিনিস, আর গুরুর পা শিষ্যের জিনিস”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

     দশম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১লা সেপ্টেম্বর

                         জন্মাষ্টমীদিবসে নরেন্দ্র, রাম, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে গিরিশ ঘোষ—গুরুই ইষ্ট—দ্বিবিধ ভক্ত 

    গিরিশ— হ্যাঁ গা, গুরু আর ইষ্ট; — গুরু-রূপটি বেশ লাগে — ভয় হয় না — কেন গা? ভাব দেখলে দশহাত তফাতে যাই। ভয় হয়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—যিনি ইষ্ট, তিনিই গুরুরূপ হয়ে আসেন। শবসাধনের পর যখন ইষ্টদর্শন হয়, গুরুই এসে শিষ্যকে বলেন — এ (শিষ্য) ওই (তোর ইষ্ট)। এই কথা বলেই ইষ্টরূপেতে লীন হয়ে যান। শিষ্য আর গুরুকে দেখতে পায় না। যখন পূর্ণজ্ঞান হয়, তখন কে বা গুরু, কে বা শিষ্য। ‘সে বড় কঠিন ঠাঁই। গুরুশিষ্যে দেখা নাই।’

    একজন ভক্ত — গুরুর মাথা শিষ্যের পা।

    গিরিশ — (আনন্দে) হাঁ।

    নবগোপাল — শোনো মানে! শিষ্যের মাথাটা গুরুর জিনিস, আর গুরুর পা শিষ্যের জিনিস। শুনলে?

    গিরিশ — না, ও মানে নয়। বাপের ঘাড়ে ছেলে কি চড়ে না? তাই শিষ্যের পা।

    নবগোপাল — সে তেমনি কচি ছেলে থাকলে তো হয়।

    পূর্বকথা—শিখভক্ত—দুই থাক ভক্ত—বানরের ছা ও বিল্লির ছা

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— দুরকম ভক্ত আছে। একথাকের বিল্লির ছার স্বভাব। সব নির্ভর — মা যা করে। বিল্লির ছা কেবল মিউ মিউ করে। কোথায় যাবে, কি করবে — কিছুই জানে না। মা কখন হেঁশালে রাখছে — কখন বা বিছানার উপরে রাখছে। এরূপ ভক্ত ঈশ্বরকে আমমোক্তারি (বকলমা) দেয়। আমমোক্তারি দিয়ে নিশ্চিন্ত।

    “শিখরা বলেছিল (Kathamrita)— ঈশ্বর দয়ালু। আমি বললাম, তিনি আমাদের মা-বাপ, তিনি আবার দয়ালু কি? ছেলেদের জন্ম দিয়ে বাপ-মা লালন-পালন করবে না, তো কি বামুনপাড়ার লোকেরা এসে করবে? এ-ভক্তদের ঠিক বিশ্বাস—তিনি আপনার মা, আপনার বাপ।

    “আর-এক থাক ভক্ত আছে, তাদের বানরের ছার স্বভাব। বানরের ছা নিজে জো-সো করে মাকে আঁকড়ে ধরে। এদের একটু কর্তৃত্ব বোধ আছে। আমায় তীর্থ করতে হবে, জপতপ করতে হবে, ষোড়শোপচারে পূজা করতে হবে, তবে আমি ঈশ্বরকে ধরতে পারব,—এদের এই ভাব।

    “দুজনেই ভক্ত (ভক্তদের প্রতি)—যত এগোবে, ততই দেখবে তিনিই সব হয়েছেন (Kathamrita)— তিনিই সব করছেন। তিনিই গুরু, তিনিই ইষ্ট। তিনিই জ্ঞান, ভক্তি সব দিচ্ছেন।”

LinkedIn
Share