Tag: Bengali news

Bengali news

  • RBI: আগামী বছর থেকেই ভারতে চালু ১০, ২০ টাকার পলিমার নোট! প্রস্তুতি শুরু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

    RBI: আগামী বছর থেকেই ভারতে চালু ১০, ২০ টাকার পলিমার নোট! প্রস্তুতি শুরু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর থেকেই ভারতে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হতে পারে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোটের (Polymer Currency Notes)। এই লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যেতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থাকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্রথম পর্যায়ে ১০ ও ২০ টাকার নোট নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। এই পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে অন্যান্য মূল্যমানের নোটও চালু করা হতে পারে। সফল হলে ২০২৭ সাল থেকেই দেশজুড়ে বড় পরিসরে পলিমার নোট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড বিশ্বজুড়ে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির কাছ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত অস্বচ্ছ পলিমার শিট সরবরাহের জন্য বৈশ্বিক আগ্রহপত্র আহ্বান করেছে।

    বৈশ্বিক দরপত্র আহ্বান (RBI)

    প্রস্তাবিত ক্রয়ের পরিমাণ প্রায় ৬৮ হাজার রিম পলিমার শিট। এর মধ্যে ৩৪ হাজার রিম করে দু’টি মূল্যমানের নোটের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিটি রিমে ৫০০টি শিট থাকবে। এই পলিমার শিটে স্বচ্ছ জানালা-সহ প্রতিকৃতি, ধাতব সংখ্যা, চৌম্বকীয় লুকোনো সুতো, ছায়া-চিত্র এবং দীপ্তিময় নকশার মতো উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। এগুলি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড এবং সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মুদ্রণকেন্দ্রে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈশ্বিক দরপত্রই পলিমার নোটের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ অগাস্ট। দরপত্রের নথিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান কেনাকাটা শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মূল্যমানের নোটের জন্য বিরাট পরিমাণে পলিমার শিট কেনা হতে পারে।

    কঠোর নিরাপত্তা বিধি

    এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা বিধিও রাখা হয়েছে। দরদাতাদের নিশ্চিত করতে হবে, চিন বা পাকিস্তানে তাদের যে কোনও কার্যক্রম ভারতের প্রকল্প থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে। এছাড়া ওই দুই দেশ থেকে কোনও কাঁচামাল আনা যাবে না এবং চিন বা পাকিস্তানে আগে কাজ করেছেন এমন (RBI) কোনও কর্মীকেও এই প্রকল্পে নিয়োগ করা যাবে না। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে এমন দেশের সংস্থাগুলিকে অংশগ্রহণের জন্য শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার বিভাগের নিবন্ধন কমিটির অনুমোদনও থাকতে হবে। আবেদনকারী সংস্থার অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে কোনও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বা ব্যাঙ্কনোট মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত পলিমার শিট সরবরাহের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি মোট প্রস্তাবিত চাহিদার অন্তত ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ২০ হাজার ৪০০ রিম সরবরাহ করার ক্ষমতাও থাকতে হবে। আবেদনকারীদের পরীক্ষাগারে যাচাইয়ের জন্য পলিমার শিটের নমুনা জমা দিতে হবে এবং লিখিতভাবে জানাতে হবে যে ওই উপাদানে কোনও প্রাণিজ চর্বি বা ডিএনএ নেই।

    পলিমার নোট চালুর সুবিধা

    যদিও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্পে কোন মূল্যমানের নোট ব্যবহার করা হবে তা ঘোষণা করেনি। তবে জুন মাসে মুদ্রানীতি ঘোষণার পর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছিলেন, পলিমার নোট চালুর প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, “পলিমার নোট চালুর সুবিধা এবং বাস্তবসম্মত দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” অস্ট্রেলিয়া ১৯৮৮ সালে প্রথম পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালু করে। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই ধরনের নোট ব্যবহার করা হয়। সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট বেশি টেকসই, জাল করা কঠিন এবং (Currency Notes) দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নোট মুদ্রণের খরচ (RBI) কমানোর পাশাপাশি কমতে পারে পরিবেশের ওপর প্রভাবও।

     

  • Sonam Wangchuk: ২০ দিনের অনশন ভাঙল হাসপাতালে, ভোররাতে সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরাল দিল্লি পুলিশ

    Sonam Wangchuk: ২০ দিনের অনশন ভাঙল হাসপাতালে, ভোররাতে সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরাল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনির্দিষ্টকালের অনশনে ইতি। টানা ২০ দিনের অনশনের পর জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে শনিবার ভোররাতে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ, এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার ভোরের দিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই এই অভিযান চালানো হয়। এর ফলে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন কেন্দ্র যন্তর মন্তরে ওয়াংচুকের দীর্ঘ অনশন কর্মসূচির ইতি ঘটল। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতেই শুধুমাত্র চিকিৎসাজনিত কারণেই তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)

    দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওয়াংচুক বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দীর্ঘদিন অনশন ও শরীরে জলশূন্যতার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, “সোনম ওয়াংচুককে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অনশন ও শরীরে জলশূন্যতার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার মধ্যে রাখতে হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নয়াদিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, “মাননীয় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।”

    শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল খালি করার আবেদনও জানিয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ অনশন সত্ত্বেও ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর জীবনরক্ষাকারী শারীরিক সূচকগুলি স্বাভাবিক ছিল। রক্তচাপ এবং শরীরে জলের মাত্রাও গ্রহণযোগ্য অবস্থায় ছিল। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা সামান্য কম পাওয়া যায়। তিনি হালকা ডায়রিয়ার অভিযোগও জানান। দীর্ঘদিন অনশন ও জলশূন্যতার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ায় তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা বা হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ওয়াংচুক সম্মতি দিতে চাননি। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের শীর্ষ সূত্রের দাবি, নয়াদিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার দায়িত্ব নেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। ইচ্ছাকৃতভাবেই ভোরের সময়টি বেছে নেওয়া হয়, কারণ সেই সময় যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

    ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়

    পুলিশের আরও দাবি, ওয়াংচুকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অভিজিৎ দিপকে সাময়িকভাবে মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার সময়টিকেও কৌশলগত সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই সময় মঞ্চে আন্দোলনের মূল সমন্বয়কারী উপস্থিত ছিলেন না। এদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন সাদা পোশাকের পুলিশকর্মী নয়াদিল্লি জেলার বিশেষ শাখা এবং স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড ঘেরা আন্দোলনস্থলে প্রবেশ করেন। সূত্রের দাবি, পুরো অভিযানটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালিত হয়। হাতে গোনা কয়েকজন ঊর্ধ্বতন আধিকারিকই সম্পূর্ণ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন। ফিল্ড লেভেলের পুলিশকর্মীদের শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা মঞ্চ ঘিরে ফেলেন এবং পরে ওয়াংচুকের শয্যার চারপাশে অবস্থান নেন। এরপর বড় সাদা চাদর দিয়ে চারদিক ঢেকে তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনা হয়, যাতে ভিড় জমায়েত বা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়। দ্বিতীয় স্তরে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ক্যুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা ব্যারিকেডের বাইরে আন্দোলনকারীদের আটকে, এবং পরিস্থিতির অবনতি রুখে দেন।

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য

    তৃতীয় স্তরে দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অ্যাম্বুল্যান্স এবং পুলিশের গাড়ির কাছে তৈরি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে গোটা অভিযান তদারকি করেন। ওয়াংচুককে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার পর সফদরজং হাসপাতালে দ্রুত পৌঁছে দিতে যান চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর অভিজিৎ দিপকে আন্দোলনস্থলে ফিরে এসে অভিযোগ করেন, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওয়াংচুককে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, ওয়াংচুক হাসপাতালে ভর্তি হলেও, আন্দোলন থামবে না। তিনি নিজেই অনশন শুরু করে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার সময় কিছু আন্দোলনকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে নিরাপদভাবেই পুরো অভিযান সম্পন্ন করেছে। উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, “মাননীয় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার সময় কিছু আন্দোলনকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতে সামান্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও, পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম বজায় রেখে নিরাপদভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।”

     

  • Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করলে হবে জেল-জরিমানা! সংসদে আসছে নয়া বিল

    Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করলে হবে জেল-জরিমানা! সংসদে আসছে নয়া বিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে (Vande Mataram) জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে একটি সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র, যার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান (Jail Law India Bill) করা বা গানটি গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রস্তাবিত আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেরই বিধান রাখা হয়েছে।

    ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর আওতায় জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে এই আইনের অধীনে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’কে ইচ্ছাকৃত অবমাননা বা অসম্মান থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা গান বন্ধ করে দেওয়াও এই আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পাবে ‘বন্দে মাতরম’ও। জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। ২০ জুলাই শুরু হবে সংসদের বাদল অধিবেশন। তখনই বিলটি পেশ করা হতে পারে। বিলটি প্রথমে লোকসভা এবং পরে রাজ্যসভায় পাস হতে হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই তা আইনে পরিণত হবে এবং সংশোধিত বিধান কার্যকর হবে।

    বন্দে মাতরম’কে জাতীয় প্রতীকের সমান আইনি সুরক্ষা

    প্রস্তাবিত আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করা বা গানটির পরিবেশন ব্যাহত করার ঘটনাকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। দুর্ঘটনাজনিত কোনও ভুল, অনিচ্ছাকৃত আচরণ বা প্রকৃত ভুলবশত ঘটে যাওয়া ঘটনার ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সচেতনভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতীয় গানকে অসম্মান করেছেন বা গান পরিবেশন বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন (Jail Law India Bill)। কেন্দ্রের মতে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘বন্দে মাতরমে’র গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে এই গান অসংখ্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে, প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই জাতীয় গানকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতীকের সমান আইনি মর্যাদা ও সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Vande Mataram)।

    জাতীয় চেতনায় বিশেষ স্থান বন্দে মাতরমের

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জাতীয় সঙ্গীত, ‘বন্দে মাতরম’, বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য সঙ্গীত এবং ভিনদেশের জাতীয় সঙ্গীত সরকারি অনুষ্ঠানে কীভাবে পরিবেশন করা হবে, সেই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সর্বত্র একই ধরনের সম্মান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল ওই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য। তার কিছুদিনের মধ্যেই ‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠে’ প্রথম এই গান প্রকাশিত হয়। পরবর্তী কালে এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সেই কারণেই গানটি আজও দেশের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনায় বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে (Jail Law India Bill)। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ হলেও, ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে গানটির প্রথম দুটি স্তবকই সরকারিভাবে স্বীকৃত এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাবেশে এই অংশই সাধারণত গাওয়া হয়। নতুন সংশোধনী আইন কার্যকর হলে জাতীয় সঙ্গীতের মতো জাতীয় গানকেও আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হবে।

    ‘বন্দে মাতরমে’র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দেড়শো বছর পূর্তি

    প্রস্তাবিত সংশোধনী এমন এক সময়ে আনা হচ্ছে, যখন ‘বন্দে মাতরমে’র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দেড়শো বছর পূর্তি পালন করা হচ্ছে। ফলে এই আইন কেবল প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ হিসেবেই নয়, ঐতিহাসিক ও প্রতীকী দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছে কেন্দ্র। তবে বিলটি এখনও আইন হয়ে যায়নি। সংসদের উভয় কক্ষে তা নিয়ে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাবও উঠতে পারে। উভয় কক্ষের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই সংশোধনী কার্যকর হবে। সেই পর্যন্ত এটি একটি প্রস্তাবিত আইন হিসেবেই বিবেচিত হবে। আইনটি কার্যকর হলে ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। এর ফলে জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ও একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পাবে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় গানকে অপমান করা বা গান পরিবেশনে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে এবং আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে (Vande Mataram)।

    কী বলছে কেন্দ্র

    কেন্দ্র সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে আরও (Jail Law India Bill) দৃঢ়ভাবে সংরক্ষণ করা। সংসদের বাদল অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল নিয়ে কী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় (Vande Mataram), এখন তা-ই দেখার।

     

  • India EU FTA: চূড়ান্ত পর্বে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, আগামী বছরের শুরুতেই খুলতে পারে নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত

    India EU FTA: চূড়ান্ত পর্বে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, আগামী বছরের শুরুতেই খুলতে পারে নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পরে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India EU FTA)। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, চুক্তির আইনি দিক যাচাইয়ের কাজ আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হবে (Trade Pact)। এরপর উভয় পক্ষের অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা। তাঁর দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দ্রুত অনুমোদিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলির অন্যতম হতে পারে।

    কী বললেন পীযূষ গোয়েল (India EU FTA)?

    ১৪ জুলাই স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ভারত-স্পেন ব্যবসায়িক মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আইনি দিক যাচাই আগামী এক বা দু’সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে।”  তিনি এও জানান, ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে এবং তার কয়েক মাস পরেই ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তিও বাস্তবায়নের পথে এগোবে। মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। একইভাবে ভারতের মধ্যেও এই চুক্তিকে ঘিরে কোনও উল্লেখযোগ্য আপত্তি বা মতভেদ নেই। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য দেশ সম্পূর্ণ একমত। ভারতেও এই চুক্তি নিয়ে কোনও অসন্তোষ বা আপত্তির সুর শোনা যাচ্ছে না।”

    বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা

    প্রায় দু’দশক ধরে চলা আলোচনা ও একাধিক দফার দরকষাকষির পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। বর্তমানে চুক্তির আইনি ভাষা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। এরপর তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সরকারি ভাষায় অনুবাদ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনসভাগুলিতে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই চুক্তি কার্যকর হবে। গোয়েল জানান, বিশ্বের মোট অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেই কারণে এই চুক্তি শুধু দু’পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

    পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রভাব

    মন্ত্রী এই চুক্তিকে ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং উভয় পক্ষের স্বার্থরক্ষাকারী বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলিও ইউরোপের বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে পারবে (Trade Pact)। তিনি জানান, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, যাতায়াত ব্যবস্থা, রেলপথ, পরিকাঠামো, উদ্ভাবন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মতো একাধিক ক্ষেত্রে এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি পণ্য, পরিষেবা এবং দক্ষ জনশক্তির যাতায়াতের ক্ষেত্রে নানা বাধা কমবে। সরকারে-সরকারে এবং ব্যবসায়-ব্যবসায় সহযোগিতাও আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁর আশা।

    স্রেফ শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নয়

    গোয়েলের মতে, এই চুক্তিকে শুধুমাত্র শুল্ক কমানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারস্পরিক স্বীকৃতি ব্যবস্থা, শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করবে এই চুক্তি (India EU FTA)। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতা, একাধিক যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, “দুটি যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মুক্ত ও উন্মুক্ত বাজার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ।”

    ভারত ও স্পেনের মধ্যে বাণিজ্য

    একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা মন্থর হলেও, স্পেন তুলনামূলকভাবে ভালো অর্থনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। ফলে ভারত ও স্পেনের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য এটি একটি অনুকূল সময়। ভারত-স্পেন সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে গোয়েল একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনারও প্রস্তাব দেন। তিনি আগামী দশ বছরে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ দশ গুণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। বর্তমানে ভারত ও স্পেনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও কম (Trade Pact)। এই লক্ষ্য সামনে রেখে মন্ত্রী বলেন, “আগামী ১০ বছরে ভারত ও স্পেনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০ গুণ বাড়ানো কি সম্ভব নয়? দুই দেশের মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা ১০ গুণ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগও ১০ গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা কি করা যায় না?”

    অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী!

    তিনি এও বলেন, “এই লক্ষ্য হয়তো অনেকের কাছে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী মনে হতে পারে। কিন্তু বড় পরিবর্তন আনতে গেলে বড় লক্ষ্য স্থির করতেই হয়। ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা ছাড়িয়ে যাওয়া সহজ। প্রকৃত সাহস হল বড় স্বপ্ন দেখা এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা।” মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৩০০টি স্প্যানিশ সংস্থা ভারতে ব্যবসা করছে। আর ১০০টির মতো ভারতীয় সংস্থা স্পেনে ব্যবসা করছে। তাঁর মতে, দুই দেশেরই উচিত একে অপরের দেশে আরও বেশি করে বিনিয়োগ করা, মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানো, পর্যটন, শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তির আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এই প্রক্রিয়াকে আরও গতি দেবে বলেও মনে করেন তিনি।

    বৈঠকে গোয়েল

    এদিকে, ১৪ জুলাই ইউরোপীয় কমিশনের কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোফ হ্যানসেনের সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। বৈঠকে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কৃষি ও খাদ্য খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয় (India EU FTA)। বিশেষ করে শক্তিশালী কৃষি-খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা, কৃষকদের সহায়তা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মত বিনিময় করে দু’পক্ষই। বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় গোয়েল লেখেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সফল সমাপ্তির ভিত্তিতে আমরা কৃষি অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার নানা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। শক্তিশালী কৃষি-খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা, খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি, কৃষকদের সহায়তা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল।”

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক

    এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আর শুধু শুল্ক হ্রাস বা বাণিজ্য বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিক্ষা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো একাধিক ক্ষেত্রকে ঘিরে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার দিকেই এগোচ্ছে দুই পক্ষ। আইনি যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হলে এই (Trade Pact) চুক্তি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের (India EU FTA)।

     

  • India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    India: ড্রাগনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে হাতি! চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪.৩, সেখানে ভারতের ৭.৮ শতাংশ, চিন্তায় বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করা সত্ত্বেও, মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হারে চিনকে ছাপিয়ে যাচ্ছে ভারত (India)। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, চিনের প্রবৃদ্ধি কমেছে, অন্যদিকে ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে (China Economy)।

    কী বলছে প্রতিবেদন? (India)

    সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  ভারত এখনও চিনা পণ্যের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারী দেশ। তবে এর বিপরীতে ভারতে তৈরি পণ্যের রফতানি চিনে তুলনামূলকভাবে অনেকখানি কম। বুধবার প্রকাশিত চিনের জিডিপি বৃদ্ধির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে দেশটির অর্থনীতি ৪.৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এই হার ছিল ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক প্রান্তিকের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম চিনের অর্থনীতিতে এতটা ধীরগতি দেখা গেল, যা অর্থনীতিবিদদের অনেকেরই প্রত্যাশার বাইরে ছিল। অন্যদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ, যা চিনের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে।

    কেন কমছে চিনের জিডিপি?

    কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউবিএস চিনের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউ সং চিনের অর্থনীতি মন্থর হওয়ার তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চিনের অর্থনীতির দুর্বলতার জন্য দায়ী নয়। বরং এই প্রযুক্তি চিনের উপকারই করেছে (China Economy)।” ইউ সংয়ের মতে, দীর্ঘদিনের আবাসন খাতের সঙ্কটই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। তাঁর দাবি, চিনের সম্পত্তি বাজার দীর্ঘ সময় ধরে মন্দার মধ্যে রয়েছে। ফলে মানুষ সম্পত্তিতে বিনিয়োগের বদলে সঞ্চয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছেন (India)। তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের ব্যয়ও কমে গিয়েছে। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চিনের সাধারণ মানুষ দামি ব্র্যান্ডের পণ্যের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা পণ্য কিনতে শুরু করেছেন। এ ছাড়াও কর্মসংস্থান কমে যাওয়াকেও অর্থনীতির দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ইউ সং। তাঁর কথায়, “এআই যেমন চিনকে সুবিধা দিয়েছে, তেমনই এটি (China Economy) বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলেছে এবং শ্রমিকের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে (India)।”

     

  • COVID-19 India: অন্ধ্রে মৃত ৩, ভারতে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! আতঙ্ক নয়, সচেতনতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    COVID-19 India: অন্ধ্রে মৃত ৩, ভারতে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! আতঙ্ক নয়, সচেতনতার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ভারতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা (COVID-19 India)। কয়েক বছর কেটে গেলেও করোনা ভাইরাস যে আমাদের চারপাশ থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়নি, তার প্রমাণ মিলল অন্ধ্রপ্রদেশে (Andhra Pradesh)। বাড়ছে সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ইতিমধ্যেই করোনা (COVID-19 India) আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সরকারের। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতা অবলম্বন প্রতিবেশী রাজ্য তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বড় কোনও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত নেই। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার বার্তা দিয়েছেন তাঁরা।

    রূপ বদলাচ্ছে করোনা ভাইরাস (COVID-19 India)

    মুম্বইয়ের পালমোনোলজিস্ট ড. আভা মাশুর জানান, “SARS-CoV-2 ভাইরাসটি আসলে কখনও পুরোপুরি মিলিয়ে যায় না। এটি নতুন নতুন রূপ নিয়ে বারবার ফিরে আসে। ভাইরাসের এই মিউটেশন বা রূপ পরিবর্তন অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।” বর্তমানে ভারতে ওমিক্রনের দুটি উপ-ভেরিয়েন্ট মূলত সক্রিয় রয়েছে-

    • জেএন.১ ভেরিয়েন্ট: এটি অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। তবে এর কারণে আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হচ্ছে না।
    • বিএ.৩.২ ভেরিয়েন্ট: ভাইরাসের এই রূপটিতে অনেক বেশি মিউটেশন দেখা গেলেও, এটিও গুরুতর কোনও রোগের কারণ হচ্ছে না। তাই এটি নিয়ে অযথা ভয়ের কিছু নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

    উপসর্গ-

    বর্তমানে এই ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে মূলত হালকা ঠান্ডা-কাশি বা গলার সমস্যার মতো মৃদু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ছে না।

    কারা বেশি ঝুঁকিতে?

    যদিও বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ মৃদু রূপ নিচ্ছে, তাও চিকিৎসকেরা কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বয়স্ক ব্যক্তিরা, গর্ভবতী নারীরা, ক্রনিক হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা, সিওপিডি (COPD) বা ফুসফুসের জটিল রোগে (ILD) আক্রান্ত রোগী, কিডনি বা লিভারের ক্রনিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (Immunocompromised) তাঁদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

    কী করণীয়?

    গুরুগ্রামের ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. নেহা রাস্তোগি এবং ড. আভা মাশুর সংক্রমণ রুখতে সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। “বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যারা সংক্রামিত হচ্ছেন, তারা যেন জনসমক্ষে না গিয়ে নিজেদের আলাদা রাখেন। করোনার ভ্যাকসিন বা বুস্টার ডোজ নেওয়া না থাকলে তা দ্রুত নিন। ভিড় বা আবদ্ধ জায়গায় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। নিয়মিত হাত পরিষ্কার করা এবং সঠিক স্যানিটাইজেশন বজায় রাখা। ঘরের ভেতরে বাতাস চলাচলের (Ventilation) ভালো ব্যবস্থা রাখা। জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে করোনা পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া”।

  • India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    India: নিরাপত্তা পরিষদ-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোয় দ্রুত সংস্কারের আহ্বান ভারতের, কী বলল দিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের (UN Security Council Reform) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ও বিস্তৃত সংস্কারের দাবি ফের জোরালোভাবে তুলল ভারত (India)। নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, সাধারণ পরিষদকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে ভারত বলেছে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

    গোলটেবিল বৈঠকে সোচ্চার ভারত (India)

    স্থানীয় সময় ১৪ জুলাই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি। তিনি বলেন, “ভারতের কাছে ভবিষ্যতের উপযোগী বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার অর্থ হল, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম করা। সেই কারণেই নিরাপত্তা পরিষদের সর্বাত্মক সংস্কার, সাধারণ পরিষদের পুনরুজ্জীবন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের আরও শক্তিশালী ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত— টেকসই উন্নয়নের এই তিনটি ক্ষেত্রেই তাদের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।”

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে

    রাষ্ট্রসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় রাষ্ট্রসংঘের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা সংঘাত থামাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার যে মূল লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তা আজ প্রশ্নের মুখে পড়েছে (India)।” নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকেই এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন হরিশ। তিনি বলেন, “আশি বছর আগের বাস্তবতা মাথায় রেখে তৈরি করা কাঠামো বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আর যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রসংঘ এখনও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি। আন্তঃসরকারি আলোচনার কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রস্তুত বক্তব্যই দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ৩৯ থেকে ৪১ নম্বর পদক্ষেপও মূলত কাগজেই রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন।”

    আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা

    তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় আন্তঃসরকারি আলোচনার বিষয়ে যে সুপারিশগুলি রয়েছে, সেগুলি ওই আলোচনার সহ-সভাপতিরা তৈরি করেছিলেন, পরিকল্পনার সহ-সমন্বয়কারীরা নন। ওই অংশ নিয়ে ভারতের গুরুতর আপত্তি থাকলেও, গঠনমূলক মনোভাব থেকেই ভারত এই কর্মপরিকল্পনা সমর্থন করেছে (UN Security Council Reform)।” আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি। বলেন, “টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে গেলে পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী এবং নিশ্চিত অর্থায়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম এবং উন্নয়নমুখী হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের মূল দায়িত্বও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।” বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার সংস্কারে ভারতের অঙ্গীকারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সহ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর সংস্কারের লক্ষ্যে সব আন্তরিক উদ্যোগকে ভারত (India) সমর্থন করে যাবে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মানবিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্ষম ও কার্যকর করে তোলাই আমাদের যৌথ লক্ষ্য হওয়া উচিত (UN Security Council Reform)।”

     

  • Shri Amarnath Yatra: মাত্র ১২ দিনেই ৩ লাখ তীর্থযাত্রীর নজির, নয়া রেকর্ড অমরনাথ যাত্রায়

    Shri Amarnath Yatra: মাত্র ১২ দিনেই ৩ লাখ তীর্থযাত্রীর নজির, নয়া রেকর্ড অমরনাথ যাত্রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের শ্রী অমরনাথ যাত্রায় (Shri Amarnath Yatra) তৈরি হল নয়া ইতিহাস। যাত্রা শুরুর মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই পবিত্র গুহা মন্দির দর্শন করেছেন ৩ লাখেরও বেশি তীর্থযাত্রী (Pilgrims)। মঙ্গলবার এই সংখ্যা পার হয়েছে ৩ লাখের গণ্ডি। ২৮ অগাস্ট শ্রাবণী পূর্ণিমা তথা রাখিবন্ধনের দিন শেষ হবে ৫৭ দিনের এই তীর্থযাত্রা। প্রশাসনের আশা, যাত্রা শেষ হওয়ার আগেই এ বছর তীর্থযাত্রীর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

    উপরাজ্যপালের বার্তা (Shri Amarnath Yatra)

    জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এই সাফল্যের জন্য প্রশাসনের আধিকারিক, বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, “শ্রী অমরনাথ যাত্রা মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই ৩ লাখ তীর্থযাত্রীর মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই পবিত্র যাত্রাকে প্রতিটি ভক্তের জন্য নির্বিঘ্ন ও স্মরণীয় করে তুলতে যাঁরা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, সেই সব আধিকারিক, পরিষেবা প্রদানকারী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আমি অভিনন্দন জানাই। হর হর মহাদেব!” মঙ্গলবার দর্শনের দ্বাদশ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৬ হাজার ৩০৮ জন ভক্ত দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার ৩ হাজার ৮৮৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বাবা বরফানির পবিত্র গুহা মন্দিরে পুজো দেন। বালতাল ও পহেলগাঁও— এই দুই পথ দিয়ে তাঁরা গুহা মন্দিরে পৌঁছন।

    তুষারলিঙ্গ দর্শন

    এর ফলে ৩ জুলাই যাত্রা শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ১ হাজার ৯২৬ জন তীর্থযাত্রী ইতিমধ্যেই তুষারলিঙ্গ দর্শন করে ফেলেছেন। এঁদের সিংহভাগই নিজ নিজ রাজ্যে ফিরেও গিয়েছেন। তবে অনেকে সোনমার্গ, ক্ষীর ভবানী মন্দির, শঙ্করাচার্য মন্দির-সহ কাশ্মীরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শন শেষে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে (Shri Amarnath Yatra)। পুরো তীর্থযাত্রা জুড়েই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জম্মু ও শ্রীনগরের প্রশাসন যৌথভাবে যাত্রা পরিচালনা করছে। প্রতিদিন ভোর প্রায় ৩টা থেকে বালতাল ও পহেলগাঁও রুটের উদ্দেশে তীর্থযাত্রীদের (Pilgrims) দল রওনা দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় নির্দিষ্ট বিশ্রামস্থলে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে বিনামূল্যে খাবার খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

    তীর্থযাত্রার সাত-সতের

    দর্শন শেষে ফেরার সময়ও একইভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় তীর্থযাত্রীর দল যাতায়াত করে। যাত্রার সময় জাতীয় সড়কে তীর্থযাত্রীদের দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফলে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাধারণ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এই কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্যবাহী গাড়ির সারিও তৈরি হয়। এ বছর আবহাওয়াও তীর্থযাত্রীদের অনুকূলে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত অধিকাংশ দিনই গুহা মন্দির এলাকায় আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় যাত্রায় কোনও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। সাধারণত ভারী বৃষ্টির সময় দুই পথই পিচ্ছিল হয়ে গেলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় পুণ্যযাত্রা। দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীরা শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। যাত্রাপথে একাধিক স্থানে বিনামূল্যে ভোজশালায় নানা ধরনের খাবার, চা ও জলখাবারের ব্যবস্থা রয়েছে (Shri Amarnath Yatra)।

    পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন

    শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন গত কয়েক বছরে যাত্রাপথের পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। রাস্তা চওড়া করা, যাত্রী নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ব্যবস্থা, বিভিন্ন জায়গায় ওয়েটিং রুম এবং অস্থায়ী তাঁবু নির্মাণের ফলে এখন তীর্থযাত্রা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে হচ্ছে (Pilgrims)। প্রতিদিন জম্মুর ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে ভোর ৩টার দিকে বালতালগামী দল এবং প্রায় এক ঘণ্টা পরে পহেলগাঁওগামী দল রওনা দেয়। পুরো জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ তীর্থযাত্রী ভগবতী নগর বেস ক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত গুহা মন্দিরে দর্শন করা মোট তীর্থযাত্রীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্পষ্ট, বিপুল সংখ্যক ভক্ত অন্য পথ দিয়ে যাত্রায় অংশ নিয়েছেন (Shri Amarnath Yatra)।

    অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী

    যাত্রা পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চন্দেরকোট, রামবান এবং বানিহাল এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, তীর্থযাত্রীর ভিড় কিছুটা কমে যাওয়ায় জম্মুর মহাজন হলের নিবন্ধন কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাওয়ি নদী তীর কেন্দ্র, গীতা ভবন এবং পুরানি মণ্ডির রাম মন্দিরে নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলছে। এই রাম মন্দিরে প্রতি বছর বহু সাধু-সাধ্বী তীর্থযাত্রার আগে অবস্থান করেন। এদিকে, কাঠুয়ার লক্ষণপুরে রাতের বেলায় পৌঁছনো তীর্থযাত্রীদের সরাসরি জম্মুর দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের স্থানীয় শিবিরে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং পরের দিন সকালে সরকারি বহরের সঙ্গে জম্মুর উদ্দেশে রওনা করানো হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত লক্ষণপুরে একসঙ্গে (Pilgrims) ২ হাজারেরও বেশি তীর্থযাত্রীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে আহারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে (Shri Amarnath Yatra)।

     

  • Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সকল ভক্ত এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    রাষ্ট্রপতি কী বললেন?

    শুভেচ্ছাবার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “জনবিশ্বাস অনুযায়ী মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ, চক্ররাজ সুদর্শন, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা রথে চড়ে ভক্তদের দর্শন দিতে বেরিয়ে আসেন।” তিনি প্রার্থনা করেন, মহাপ্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদে দেশ ও দেশের মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক।উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন বলেন, “রথযাত্রা বিশ্বাস, ভক্তি, সমতা এবং সম্প্রীতির প্রতীক। এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।”

    প্রধানমন্ত্রী যা বললেন (Rath Yatra)

    রথযাত্রাকে ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “রথযাত্রা ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ।” তাঁর কথায়, “এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারত এবং বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। এই উৎসব বিনয়, সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ ধারণ করে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথ সকলকে সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দিন। আমাদের সমস্ত প্রয়াসে তিনি শক্তি দিন এবং সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা আরও দৃঢ় করুন। জয় জগন্নাথ।”

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

    অন্য একটি শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথের পবিত্র রথযাত্রার শুভক্ষণে আমি প্রার্থনা করি, তাঁর আশীর্বাদ যেন সকলের ওপর চিরকাল অটুট থাকে। তাঁর ঐশ্বরিক কৃপা দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা সঞ্চার করুক।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “বিশ্বখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রা বিশ্বাস, আস্থা ও ভক্তির এক অনন্য প্রতীক। একই সঙ্গে এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।” তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রতি বছর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম হয়। শুধু ওড়িশার পুরীতেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও একই উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয় রথযাত্রা।

     

  • PM Modi: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর, কৃষক থেকে পেশাজীবী—সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার বার্তা মোদির

    PM Modi: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর, কৃষক থেকে পেশাজীবী—সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর স্বাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি। আজ, বুধবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় গেল এই দুই চুক্তি। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) একে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই দুই চুক্তির ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ব্যবসা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, পরিষেবা ও দক্ষ পেশাজীবীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি ভারত-ইউকে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এই চুক্তিগুলি আমাদের যৌথ লক্ষ্যকে বাস্তব রূপ দেবে এবং দুই দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।” তিনি এও বলেন, “এই বাণিজ্য চুক্তি ভারতের কৃষক, উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য নতুন গতি এনে দেবে। ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্র ব্রিটেনের বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার পাবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, পেশাদার পরিষেবা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগও আরও বিস্তৃত হবে।”

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    প্রধানমন্ত্রী জানান, সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিটি বিশেষভাবে সেই সব ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্রিটেনে কাজ করতে যান। তাঁর কথায়, “সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত এই চুক্তি ব্রিটেনে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা নিয়ে আসবে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বাড়াবে। এই পদক্ষেপ আমাদের দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনভিত্তিক ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্বের প্রতিফলন (PM Modi)।” প্রসঙ্গত, প্রায় তিন বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরে গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার থেকে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি কার্যকর হয়েছে সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত দ্বৈত অবদান সংক্রান্ত চুক্তিও। এই ব্যবস্থার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্রিটেনে কর্মরত ভারতীয় কর্মীদের একই সময়ে দুই দেশের সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলবে। ফলে তাঁদের আর্থিক সাশ্রয় হবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলিও কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছতে পারবে (FTA)। ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হওয়া হাজার হাজার পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, পরিষেবা খাত, ডিজিটাল বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পেশাজীবীদের চলাচল, মেধাস্বত্ব এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ও এই চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (PM Modi)।

    কী কী সুবিধে মিলবে

    চুক্তি অনুযায়ী, মূল্যমানের নিরিখে ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ রফতানি পণ্য ব্রিটেনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। ফলে দেশের বস্ত্রশিল্প, রেডিমেড পোশাক শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতো শিল্প, রত্ন ও গয়না শিল্প, সামুদ্রিক পণ্য, টেক-সামগ্রী, রাসায়নিক শিল্প এবং কৃষিজ পণ্যের রফতানিতে বড় ধরনের সুবিধা মিলবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (FTA)। অন্যদিকে, ভারত ধাপে ধাপে ব্রিটেন থেকে আমদানি হওয়া কিছু নির্বাচিত পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। এর মধ্যে রয়েছে স্কচ হুইস্কি, জিন এবং কিছু বিলাসবহুল গাড়ি। এর ফলে আগামী দিনে ভারতীয় বাজারে এই পণ্যগুলির দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও শুল্ক হ্রাস ধাপে ধাপে কার্যকর হবে, তাই এর প্রভাবও পর্যায়ক্রমে দেখা যাবে (PM Modi)।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে শুধু পণ্য রফতানিই নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদের আদানপ্রদানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পেশাদার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির জন্য ব্রিটেনের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    শিল্প-বাণিজ্য মহলের প্রতিক্রিয়া

    ভারত ও ব্রিটেনের শিল্প ও বাণিজ্য মহলও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন পাউন্ড। অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই অঙ্ক দ্বিগুণ হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে (PM Modi)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই আরও সুদৃঢ় করবে না, বরং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিক্ষা, পরিষেবা এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন ভিত্তি তৈরি করবে। ফলে ভারত ও ব্রিটেনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও (FTA) শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে বলে আশা (PM Modi)।

     

LinkedIn
Share