Tag: Bengali news

Bengali news

  • Firhad Hakim: বুধেই ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল, মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ, ‘ভাতিজা’র বাড়িতে ইডির নোটিশ

    Firhad Hakim: বুধেই ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল, মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ, ‘ভাতিজা’র বাড়িতে ইডির নোটিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধ-দুপুরেই ছত্রখান হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া তৃণমূল (TMC)। তার রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে এল আরও একটি দুঃসংবাদ – কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। মিউনিসিপ্যাল আইন অনুযায়ী ফিরহাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরসভার চেয়ারপার্সন বা কমিশনারের কাছে গিয়ে জমা দিতে হবে পদত্যাগপত্র। সূত্রের খবর, ফিরহাদের ইস্তফায় সম্মতি দিয়েছেন মমতা।

    কুণালের বক্তব্য (Firhad Hakim)

    বিধায়ক তথা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “ফিরহাদ হাকিম আমাদের দলনেত্রীর কাছে বারবার ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। শেষের দিন আমিও ছিলাম। কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, যা পরিস্থিতি তাতে কাজ করা যাচ্ছে না।” তিনি বলেন, “ফিরহাদ হাকিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করেছেন। জানিয়েছিলেন পদত্যাগের ইচ্ছের কথা। নেত্রী ওঁকে বারণ করেছিলেন। কিন্তু ফিরহাদ জানান, সম্মানের সঙ্গে নিষ্কৃতি চান তিনি। এর পরে মমতা সম্মতি দিয়েছেন।’’ কুণাল এমন মন্তব্য করলেও, এ নিয়ে ফিরহাদ এখনও কিছু বলেননি।

    ইঙ্গিত মিলেছিল মঙ্গলবারই

    ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী ফিরহাদকে বসানো হয় মেয়র পদে। বিরোধীদের মতে, নিজেকে মুসলমান দরদি প্রমাণ করতেই এমনটা করেছিলেন নেত্রী। ২০২১ সালে দ্বিতীয় বার মেয়রের কুর্সিতে বসেন ফিরহাদ। কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরহাদ প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব এবং মেয়র পদ সমানতালে সামলানোর পর বুধবার আচমকা করেন পদত্যাগ। মঙ্গলবারই (Firhad Hakim) কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (নিকাশি) পদে ইস্তফা দেন তৃণমূলেরই তারক সিং। তিনি ফের নিশানা করেন ফিরহাদকে। তৃণমূলের প্রতীকে আর ভোটে না দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তারক। বলেন, ‘‘কর্মী এবং সমর্থকদের কোনওভাবে সুরক্ষা দিচ্ছেন না দলীয় নেতৃত্ব। তাই ওই ঠান্ডা ঘরে বসে জ্ঞানের বাণী শোনার কোনও ইচ্ছে আমার নেই।” তারকের ইস্তফার পর ফিরহাদ বলেছিলেন, ‘‘আমরা একটা টিম হিসাবে কাজ করি। যা করব একসঙ্গেই করব।’’ তারপর (TMC) এদিন পদত্যাগ করেন ফিরহাদ।

    এদিকে, সিআইডির পর এবার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিশ পাঠাল ইডি। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় ওই নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। সব মিলিয়ে বুধেই ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল (Firhad Hakim)!

     

  • Ritabrata Banerjee: দু’টুকরো হয়ে গেল মমতার সাধের তৃণমূল! বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

    Ritabrata Banerjee: দু’টুকরো হয়ে গেল মমতার সাধের তৃণমূল! বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর এক মাসও কাটেনি, ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া সাধের তৃণমূল। একদিকে রয়েছেন মমতা এবং হাতে গোণা কয়েকজন বিধায়ক, আর অন্যদিকে রয়েছেন সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত প্রাক্তন সিপিএম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হলেন তিনিই (Opposition Leader)। নয়া বিরোধী দলনেতার জন্য বুধবারই খুলে দেওয়া হল বিধানসভার ঘর। তাঁর হাতে চাবি তুলে দেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু।

    ঋতব্রতর দাবি (Ritabrata Banerjee)

    ঋতব্রতর দাবি, তৃণমূলের টিকিটে জয়ী দুই-তৃতীয়াংশই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিধানসভায় শাসক বিজেপির চোখে চোখ রেখে লড়াই করবেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘আপাতত ৫৮ জন। আরও দু’জন আছেন। তাঁরা এখন রাজ্যের বাইরে। তাঁদের সম্মতি রয়েছে। তাঁদের সমর্থন এলে এই সংখ্যা ৬০ হবে।’’ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হওয়ার আবেদনও জানান ঋতব্রত। তিনি জানান, বিধানসভায় মুখ্যসচেতক করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। ডেপুটি লিডার করা হয়েছে চার জনকে— জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহাকে। তাঁদের সমর্থনের চিঠি বিধানসভার স্পিকারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ঋতব্রতর

    ঋতব্রত বলেন, ‘‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন। তাঁকে ধন্যবাদ যে, বিরোধীদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। আমরা কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনার বিরোধী বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। আমরা দায়িত্বশীল, সদর্থক বিরোধীর ভূমিকা পালন করব। সরকারের চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে। তাদের সদর্থক পদক্ষেপের প্রশংসাও করব।’’ তিনি (Ritabrata Banerjee) বলেন, ‘‘বাংলার মাটিতে মানুষ রায় দিয়েছেন আমাদের বিরোধী আসনের জন্য। সেটা মেনে নিতে হবে। আমি ‘বস্’ নই। আমি বসিংয়ে বিশ্বাসী নই। আমি আমরায় বিশ্বাস করি। সব সিদ্ধান্ত আমরা আলোচনা করে নেব।’’

    বিরোধী দলনেতার ঘর বরাদ্দ ঋতব্রতকে

    প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূল গোহারা হারতেই প্রকাশ্যে চলে আসে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। ‘আইপ্যাক এবং ভাইপো কালচারে’র কারণেই যে পদ্মফুলের কাছে ঘাসফুল ধরাশায়ী হয়েছে, তা নিয়েও সোচ্চার হন অনেকে। বিজেপি সরকার গঠনের দিন কয়েক পর কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেছিলেন মমতা। সেখানেও বিধায়কদের সিংহভাগকেই দেখা যায়নি। পরে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার কান্ডারি মমতা। সেই বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে হাজির ছিলেন মাত্রই ১৯ জন। ক্ষোভে বৈঠক বাতিল করে দেন মমতা। পরে সইকাণ্ডের জেরে আরও চওড়া হয় তৃণমূলের ফাটল। যার জেরে বহিষ্কার করা হয় ঋতব্রতকে। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতার পদ দাবি করেন তিনি। ঋতব্রতর দাবিকে (Opposition Leader) মান্যতা দিয়ে এদিন বিধানসভায় খুলে দেওয়া হয় বিরোধী দলনেতার ঘর (Ritabrata Banerjee)।

     

  • Tollywood Federation: ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ জমানার অবসান, বাতিল ফেডারেশন-গিল্ড, এখন থেকে দিল্লির কনফেডারেশনের আওতায় টলিপাড়া

    Tollywood Federation: ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ জমানার অবসান, বাতিল ফেডারেশন-গিল্ড, এখন থেকে দিল্লির কনফেডারেশনের আওতায় টলিপাড়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে তৃণমূলের বিসর্জনের পর এবার টলিউড ফেডারেশনের (Tollywood Federation) ভবিষ্যৎ নিয়েই উঠল বড়সড় প্রশ্ন। মমতা জমানায় ফেডারেশনের রাশ ছিল বিশ্বাস ব্রাদার্সের হাতে। এই বিশ্বাস ব্রাদার্সের একজন অরূপকে ছাব্বিশের ভোটে পরাস্ত করেন পদ্ম-প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী। অরূপ-বিদেয় হওয়ার পর বাকি ছিলেন স্বরূপ। বুধবার টলিউডে স্বরূপের কর্তৃত্বে দাঁড়ি টেনে দিলেন পাপিয়া। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় দাঁড়িয়ে বললেন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সাহায্যে দিল্লির ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশনের আওতাভুক্ত হবেন (Tollywood Restructured) টলিউডের সমস্ত কলাকুশলী। লক্ষ্য, দুর্নীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি।” বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, টলিউডে আর ফেডারেশনের অস্তিত্ব রইল না। থাকবে না ২৬টি গিল্ডও।

    আট ঘণ্টা কাজের নীতি (Tollywood Federation)

    পাপিয়া জানান, তিন থেকে চারটি কমিটি থাকবে –  পরিচালক, ক্যামেরা, প্রোডাকশন ম্যানেজার এবং শিল্প নির্দেশনা বিভাগ। বলিউডের মতো এবার টলিউডেও চালু হতে পারে আট ঘণ্টা কাজের নীতি। ফেডারেশনকে তার করে যাওয়া কাজের জন্য জবাবদিহিও করতে হবে। পদ্ম-বিধায়ক কথা বলবেন ওয়েব প্ল্যাটফর্ম এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষগুলির সঙ্গে। তাঁরা সিরিজ কিংবা ধারাবাহিক দেখানোর জন্য কোথা থেকে টাকা পাচ্ছেন, খতিয়ে দেখবেন তিনি। ধারাবাহিক, সিরিজের গল্প এবং বিষয়বস্তু নিয়েও হবে আলোচনা।

    সবাই কাজ পাবেন

    পাপিয়ার আশ্বাস, “সবাই কাজ পাবেন। যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে। মতবিরোধ থাকলেও, কাউকে নিষিদ্ধ করা যাবে না। শুটিং বন্ধ করা যাবে না। কলাকুশলীদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য পরিষেবার দায়িত্বও নেবে কনফেডারেশন।” নানা অছিলায় কেউ যাতে আর কাটমানি নিতে না পারে, সে দিকেও কড়া নজর রাখা হবে বলে জানান বিধায়ক। পাপিয়া বলেন, “ফেডারেশন এবং গিল্ডের বেশ কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। বেশ কিছু অভিযোগ প্রশাসনের কাছেও (Tollywood Federation) পৌঁছেছে। তবে আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে চাই না। বদলে ‘ডি কিউব’- ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট- ব্যবহার করতে চাই।”

    কাজ হারালেন যাঁরা

    তিনি বলেন, “ম্যানেজার গিল্ডের সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদক মহম্মদ হাসান, নিরুপম দে, মেকআপ আর্টিস্ট গিল্ডের বাপি মালাকার, ক্যামেরা গিল্ডের স্বপন মজুমদার এবং সুজিত হাজরা – এই ক’জনের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ। এঁদের আর টলিউডে কাজ করতে দেওয়া হবে না। চাইলে ভিন্‌রাজ্যে, অন্য ইন্ডাস্ট্রিতে অবশ্যই এঁরা কাজ করতে পারবেন, কিন্তু বাংলায় আর (West Bengal) নয়।” পাপিয়া বলেন, “আমাদের সময় পরিচালক ছিলেন ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ। পরে তাঁরাই যেন হয়ে গেলেন ‘চাকর’! আমি সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনব। ফিরিয়ে আনা হবে সেই সব প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, কলাকুশলীকে, যাঁরা এত দিন (Tollywood Federation) ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ্বাস ব্রাদার্সে দৌলতে ব্রাত্য ছিলেন।”

  • UK: ‘গ্রুমিং গ্যাং’ যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভাঙলেন সাংসদ

    UK: ‘গ্রুমিং গ্যাং’ যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভাঙলেন সাংসদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন সে দেশের সাংসদ রুপার্ট লো (Rupert Lowe)। তিনি দেশের বহুল আলোচিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ (Pakistan Grooming Gang) যৌন কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কিত বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের (survivors) সাক্ষ্য থেকে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লো বলেন, “শুধু বিতর্ক নয় (UK), এখন এসেছে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার সময়।” পার্লামেন্টে তিনি জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি তদন্তে উপস্থাপিত সাক্ষ্যগুলি ভয়াবহ রকমের পদ্ধতিগত নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করেছে।

    গ্যাংভিত্তিক শিশু যৌন শোষণ (UK)

    তিনি বলেন, তদন্তে জানা গিয়েছে, ব্রিটেনের অন্তত ৮৫টি এলাকায় গ্যাংভিত্তিক শিশু যৌন শোষণের (gang-based child sexual exploitation) প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত দাবিরও ফের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি,  এই সব গোষ্ঠীর অনেকগুলির সঙ্গেই যুক্ত ছিল পাক বংশোদ্ভূত পুরুষরা। লোর মতে, “প্রধানত পাকিস্তানি পুরুষদের জড়িত থাকার একটি ধারা এবং সরকারি সংস্থাগুলির গুরুতর অবহেলা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

    চরম যৌন হিংসা

    পার্লামেন্টে তাঁর পেশ করা সাক্ষ্যগুলিতে উঠে এসেছে চরম যৌন হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা। ভুক্তভোগীরা জানান, অল্প বয়সেই তাঁদের টার্গেট করা হয়েছিল। উপহার, মদ খাওয়ানো বা হুমকি দিয়ে তাদের প্রভাবিত করা হত। কিছু সাক্ষ্যে আবার এমনও দাবি করা হয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা বছরের পর বছর ধরে একাধিক অপরাধীর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন (UK)।আরও কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতি (race) ও ধর্মকে (religion) ব্যবহার করে তাদের অপমান ও নিয়ন্ত্রণ করা হত (Pakistan Grooming Gang)। কয়েকজন ভুক্তভোগী আবার জানান, খ্রিস্টান হওয়ায় তাঁদের উপহাস করা হত অথবা বলা হত তাঁদের “মূল্য কম”।প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার (institutional failure) গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্যাতনের স্পষ্ট লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ, হাসপাতালের কর্মী এবং শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ যথাযথ হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

    নির্যাতনে জড়িত পুলিশ কর্তারাও!

    একটি সাক্ষ্যে এমনও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু পুলিশ কর্তাও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, এবং তাই সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন। ব্রিটেনে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলতে এমন সংঘবদ্ধ একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের শোষণের পাশাপাশি নির্যাতনও করে (UK)। রদারহ্যাম (Rotherham), রচডেল (Rochdale) এবং ওল্ডহ্যাম (Oldham)-এর মতো শহরগুলিতে মামলাগুলি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এসব মামলায় ব্যাপক নির্যাতন এবং কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের ব্যর্থতা প্রকাশ পায় (Pakistan Grooming Gang)। জাতিগত পরিচয়, পুলিশি ব্যর্থতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল রয়ে গিয়েছে। ২০০০-এর শুরুতে অ্যান ক্রায়ার (Ann Cryer)-এর মতো রাজনীতিবিদরা প্রথম এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। লো বলেন, “দেশের নেতাদের উচিত এখনই উপযুক্ত পদক্ষেপ করা। আসন্ন তদন্ত রিপোর্ট ব্রিটেনকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে দেবে (UK)।

     

  • Kuwait: ইরানের দাবি ওড়াল কুয়েত, স্পষ্ট জানিয়ে দিল ধ্বংস করা হয়েছে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন

    Kuwait: ইরানের দাবি ওড়াল কুয়েত, স্পষ্ট জানিয়ে দিল ধ্বংস করা হয়েছে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কুয়েত (Kuwait) ও বাহরিনে থাকা মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে (Missiles Drones) বুধবার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের (ইরানের রাজধানী) দাবি, এটি ছিল এর আগে কেশম (Qeshm) দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধমূলক জবাব।

    ইরানের দাবি (Kuwait)

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর (US Fifth Fleet) এবং একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে টার্গেট করেছে। তাদের দাবি, আমেরিকা একটি ইরানি টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা ও একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। ইরান জানিয়েছে, তারা আগে আমেরিকাকে এই মর্মে সতর্ক করেছিল যে, যে কোনও আগ্রাসনের জবাব হবে আরও কঠোর এবং ভিন্ন ধরনের। এই অভিযান সেই সতর্কতার বাস্তবায়ন।

    কুয়েতের দাবি

    কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্রিয় ছিল। এই সময় দেশজুড়ে বহু বাসিন্দা জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বিবৃতিতে কুয়েতি সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে। জনগণ যে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে, তা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে টার্গেট ধ্বংস করার। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কুয়েতি সেনার তরফে দ্বিতীয় সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এতে দেশবাসী এবং সে দেশে বসবাসকারী লোকজনকে ধ্বংসাবশেষ, ধাতব টুকরো বা অপরিচিত কোনও বস্তু স্পর্শ না করার আহ্বান জানানো হয়। এসব বস্তু জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে (Kuwait)।

    উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবি জনগণকে যে কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পেলে জরুরি নম্বর ১১২-এ ফোন করে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেন। সবাইকে কেবল সরকারি ও অনুমোদিত সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে, এবং কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ সবাইকে সহযোগিতা ও জারি করা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে (Kuwait)।” প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইরান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ।

    ভিডিও ফুটেজ

    এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-এর দাবি, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতামূলক আচরণের জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে। যদিও এই দাবির নিশ্চয়তা মেলেনি (Missiles Drones)। বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, বুধবার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে (Kuwait)। এক্স হ্যান্ডেলে আইআরআইবি একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, বাহরিনের আকাশ দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।

    কেশম দ্বীপে হামলা

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ফের জানায়, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা ও একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর আমরা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে টার্গেট করেছি।” এও বলে, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে আগ্রাসনের জবাব হবে ভিন্ন এবং আরও কঠোর। আজ রাতে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি।” ২ জুন আমেরিকা কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। মার্কিন কর্তাদের মতে, টার্গেট ছিল একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন, যা ড্রোন পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM) জানিয়েছে, এর আগে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছোড়া একাধিক ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়েছিল।

    ফ্যাক্ট-চেক বিবৃতি

    পরে সেন্টকম দ্রুত একটি ফ্যাক্ট-চেক বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে ইরানের দাবি অস্বীকার করা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, তাদের (ইরানের) আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলিতে সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে (Kuwait)। বস্তুত, এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধি নির্দেশ করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে (Missiles Drones) উদ্বেগের পারা আরও চড়িয়ে দিতে পারে।

     

  • Rashmi Group: ‘পদ্মময়’ বাংলায় ৩৫,০০০ কোটি টাকার নয়া লগ্নির পরিকল্পনার ঘোষণা রশ্মি গ্রুপের

    Rashmi Group: ‘পদ্মময়’ বাংলায় ৩৫,০০০ কোটি টাকার নয়া লগ্নির পরিকল্পনার ঘোষণা রশ্মি গ্রুপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডাবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসতেই পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন শিল্পপতিরা। এবার ‘পদ্মময়’ বাংলায় ইস্পাত, বিদ্যুৎ এবং খনি খাতে ৩৫,০০০ কোটি টাকার নয়া বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল রশ্মি গ্রুপ (Rashmi Group)। শুক্রবার এই শিল্পগোষ্ঠীর তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিবছর লোহা ও ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা আরও ৭ মিলিয়ন টন বাড়াতে ৩০,০০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অধিগৃহীত তিনটি কয়লাখনি চালু করার (Power Projects) জন্য আরও ৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

    রশ্মি গ্রুপের পরিকল্পনা (Rashmi Group)

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে, গ্রুপটি তেলঙ্গনা সরকারের সঙ্গে ১২,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মউ (MoU) সই করেছিল। তবে এ রাজ্যে প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলির বিস্তারিত তথ্য, নির্দিষ্ট অবস্থান, জমির প্রয়োজনীয়তা বা সংশোধিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেনি ওই শিল্পগোষ্ঠী। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের অক্টোবরে রশ্মি গ্রুপ পুরুলিয়ায় ১০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে একটি ২.৮ মিলিয়ন টন ক্ষমতাসম্পন্ন ইস্পাত কারখানা এবং ৪০০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিল। সেই সময় রাজ্য সরকার প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৯৩৮ একর জমি বরাদ্দ করেছিল।

    কর্মসংস্থান হবে ৫০ হাজারের

    তবে এদিনের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি যে, পুরুলিয়ার আগের প্রকল্পটি নয়া  ৩৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত কি না, অথবা প্রকল্পের বিন্যাস, জমি বরাদ্দ কিংবা সময়সূচিতে কোনও পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না। সংস্থাটি জানিয়েছে, নয়া লগ্নি পরিকল্পনায় জুড়বে পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। কোম্পানির দাবি, শুধুমাত্র ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প থেকেই প্রায় ৩৫,০০০ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কয়লাখনি প্রকল্পগুলি থেকে আরও ১৫,০০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে (Rashmi Group)।

     রশ্মি গ্রুপের বক্তব্য

    ওই শিল্পগোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে রাজ্যে তারা ১০ মিলিয়ন টন প্রতি বছর (MTPA) ইস্পাত কারখানা, ৮৫০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ১.৪৫ মিলিয়ন টন প্রতি বছর সিমেন্ট উৎপাদন ইউনিট পরিচালনা করছে। রশ্মি গ্রুপের বাণিজ্য, খনি কৌশল ও কর্পোরেট পরিকল্পনা বিভাগের জয়েন্ট প্রেসিডেন্ট লাল বাবু চৌরাসিয়া জানান, পশ্চিমবঙ্গ ক্রমেই বৃহৎ শিল্প উৎপাদন ও পরিকাঠামো (Power Projects) উন্নয়নের জন্য একটি সম্ভাবনাময় শিল্প গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের গভীর আস্থা এবং মজবুত শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি আমাদের অটল অঙ্গীকারের প্রতিফলন (Rashmi Group)।”

     

  • Ramakrishna 661: “আমাকে কেউ কেউ ঈশ্বর বলে, আমি বললাম, ‘হাজার লোকে ঈশ্বর বলুক, আমার যতক্ষণ সত্য বলে না বোধ হয়, ততক্ষণ বলব না”

    Ramakrishna 661: “আমাকে কেউ কেউ ঈশ্বর বলে, আমি বললাম, ‘হাজার লোকে ঈশ্বর বলুক, আমার যতক্ষণ সত্য বলে না বোধ হয়, ততক্ষণ বলব না”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২১শে এপ্রিল

    নরেন্দ্র ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব — ভবনাথ, পূর্ণ, সুরেন্দ্র

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে (Ramakrishna) দর্শন করিয়া হীরানন্দ গাড়িতে উঠিতেছেন। গাড়ির কাছে নরেন্দ্র, রাখাল দাঁড়াইয়া তাঁহার সহিত মিষ্টালাপ করিতেছেন। বেলা দশটা। হীরানন্দ আবার কাল আসিবেন।

    আজ বুধবার, ৯ই বৈশাখ, চৈত্র কৃষ্ণা তৃতীয়া। ২১শে এপ্রিল, ১৮৮৬। নরেন্দ্র উদ্যানপথে বেড়াইতে বেড়াইতে মণির সহিত কথা কহিতেছেন। বাটিতে মা ও ভাইদের বড় কষ্ট — এখনও সুবন্দোবস্ত করিয়া দিতে পারেন নাই। তজ্জন্য চিন্তিত আছেন।

    নরেন্দ্র (Ramakrishna)— বিদ্যাসাগরের ইস্কুলের কর্ম আর আমার দরকার নাই। গয়াতে যাব মনে করেছি। একটা জমিদারীর ম্যানেজারের কর্মের কথা একজন বলেছে। ঈশ্বর-টীশ্বর নাই।

    মণি (সহাস্যে) — সে তুমি এখন বলছ; পরে বলবে না। Scepticism ঈশ্বরলাভের পথের একটা স্টেজ; এই সব স্টেজ পার হলে আরও এগিয়ে পড়লে তবে ভগবানকে পাওয়া যায়, — পরমহংসদেব বলেছেন।

    নরেন্দ্র — যেমন গাছ দেখছি, অমনি করে কেউ ভগবানকে দেখেছে (Kathamrita)?

    মণি — হাঁ, ঠাকুর দেখেছেন।

    নরেন্দ্র — সে মনের ভুল হতে পারে।

    মণি — জে যে অবস্থায় যা দেখে, সেই অবস্থায় তা তার পক্ষে রীয়্যালিটি (সত্য)। যতক্ষণ স্বপন দেখছ। একটা বাগানে গিয়েছ, ততক্ষণ বাগানটি তোমার পক্ষে রীয়্যালিটি; কিন্তু তোমার অবস্থা বদলালে — যেমন জাগরণ অবস্থায় — তোমার ওটা ভুল বলে বোধ হতে পারে! যে অবস্থায় ঈশ্বরদর্শন করা যায়, — সে অবস্থা হলে তখন রীয়্যালিটি (সত্য) বোধ হবে।

    নরেন্দ্র — আমি ট্রুথ চাই। সেদিন পরমহংস মহাশয়ের সঙ্গেই খুব তর্ক করলাম।

    মণি (সহাস্যে) — কি হয়েছিল (Kathamrita)?

    নরেন্দ্র (Ramakrishna)— উনি আমায় বলছিলেন, ‘আমাকে কেউ কেউ ঈশ্বর বলে।’ আমি বললাম, ‘হাজার লোকে ঈশ্বর বলুক, আমার যতক্ষণ সত্য বলে না বোধ হয়, ততক্ষণ বলব না।’

    “তিনি বললেন — ‘অনেকে যা বলবে, তাই তো সত্য — তাই তো ধর্ম!’

    “আমি বললাম, ‘নিজে ঠিক না বুঝলে অন্য লোকের কথা শুনব না’।”

    মণি (সহাস্যে) — তোমার ভাব Copernicus, Berkeley — এদের মতো। জগতের লোক বললছে, — সূর্য চলছে, Copernicus তা শুনলে না; জগতের লোক বলছে External World (জগৎ) আছে, Berkeley তা শুনলে না। তাই Lewis বলেছেন, ‘Why was not Berkeley a philosophical Copernicus?’

  • Ramakrishna 662: “ঠাকুর বলছেন, তাঁকে বিচার করে জানা যায় না, বিশ্বাসেই সমস্ত হয়, —জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন, আলাপ—সব”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২১শে এপ্রিল

    নরেন্দ্র ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব — ভবনাথ, পূর্ণ, সুরেন্দ্র

    নরেন্দ্র (Ramakrishna)— উনি আমায় বলছিলেন, ‘আমাকে কেউ কেউ ঈশ্বর বলে।’ আমি বললাম, ‘হাজার লোকে ঈশ্বর বলুক, আমার যতক্ষণ সত্য বলে না বোধ হয়, ততক্ষণ বলব না।’

    “তিনি বললেন — ‘অনেকে যা বলবে, তাই তো সত্য — তাই তো ধর্ম!’

    “আমি বললাম, ‘নিজে ঠিক না বুঝলে অন্য লোকের কথা শুনব না’।”

    মণি (সহাস্যে) — তোমার ভাব Copernicus, Berkeley — এদের মতো। জগতের লোক বললছে, — সূর্য চলছে, Copernicus তা শুনলে না; জগতের লোক বলছে External World (জগৎ) আছে, Berkeley তা শুনলে না। তাই Lewis বলেছেন, ‘Why was not Berkeley a philosophical Copernicus?’

    নরেন্দ্র — একখানা History of philosophy দিতে পারেন?

    মণি — কি, Lewis?

    নরেন্দ্র  — না, Ueberweg; — German পড়তে হবে।

    মণি (Ramakrishna)—তুমি বলছো, সামনে গাছের মতন কেউ কি দেখেছে? তা ঈশ্বর মানুষ হয়ে যদি এসে বলেন, ‘আমি ঈশ্বর!’ তাহলে তুমি কি বিশ্বাস করবে? তুমি ল্যাজারাস্‌-এর গল্প তো জান? যখন ল্যাজারাস্‌ পরলোকে গিয়ে এব্রাহাম-কে বললে যে, আমি আত্মীয়বন্ধুদের বলে আসি যে সত্যই পরলোক আর নরক আছে। এব্রাহাম বললেন (Kathamrita), তুমি গিয়ে বললে কি তারা বিশ্বাস করবে? তারা বলবে, কে একটা জোচ্চোর এসে এই সব কথা বলছে।

    “ঠাকুর বলছেন, তাঁকে বিচার করে জানা যায় না। বিশ্বাসেই সমস্ত হয়, — জ্ঞান, বিজ্ঞান। দর্শন, আলাপ, — সব।”

    ভবনাথ বিবাহ করিয়াছেন। তাঁহার অন্নচিন্তা হইয়াছে। তিনি মাস্টারের কাছে আসিয়া বলিতেছেন, “বিদ্যাসাগরের নূতন ইস্কুল হবে, শুনলাম। আমারও তো খ্যাঁটের যোগাড় করতে হবে। ইস্কুলের একটা কাজ করলে হয় না?”

    রামলাল—পূর্ণের গাড়িভাড়া—সুরেন্দ্রের খসখসের পরদা

    বেলা তিনটে-চারটে। ঠাকুর শুইয়া আছেন। রামলাল পদসেবা করিতেছেন। ঘরে সিঁথির গোপাল ও মণি আছেন। রামলাল দক্ষিণেশ্বর হইতে আজ ঠাকুরকে দেখিতে আসিয়াছেন।

    ঠাকুর মণিকে জানালা বন্ধ করিয়া দিতে — ও পায়ে হাত বুলাইয়া দিতে বলিতেছেন।

    শ্রীযুক্ত পূর্ণকে গাড়িভাড়া করিয়া কাশীপুরের উদ্যানে আসিতে বলিয়াছিলেন। তিনি দর্শন করিয়া গিয়াছেন। গাড়িভাড়া মণি দিবেন। ঠাকুর গোপালকে ইঙ্গিত করিয়া জিজ্ঞাসা করিতেছেন, “এঁর কাছে (টাকা) পেয়েছ?”

    গোপাল — আজ্ঞা, হাঁ।

    রাত নয়টা হইল। সুরেন্দ্র, রাম প্রভৃতি কলিকাতায় ফিরিয়া যাইবার উদ্যোগ করিতেছেন।

    বৈশাখ মাসের রৌদ্র — দিনের বেলা ঠাকুরের ঘর বড়ই গরম হয়। সুরেন্দ্র তাই খসখস আনিয়া দিয়াছেন। পরদা করিয়া জানালায় টাঙ্গাইয়া দিলে ঘর বেশ ঠাণ্ডা হইবে।

    সুরেন্দ্র — কই, খসখস কেউ পরদা করে টাঙ্গিয়ে দিলে না (Ramakrishna)? — কেউ মনোযোগ করে না।

    একজন ভক্ত (সহাস্যে) — ভক্তদের এখন ব্রহ্মজ্ঞানের অবস্থা। এখন ‘সোঽহম্‌’ — জগৎ মিথ্যা। আবার ‘তুমি প্রভু, আমি দাস (Kathamrita)’ এই ভাব যখন আসবে তখন এই সব সেবা হবে! (সকলের হাস্য)

  • CBSE: অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম নিয়ে প্রবল বিতর্ক, সরানো হল সিবিএসইর চেয়ারম্যান-সচিবকে

    CBSE: অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম নিয়ে প্রবল বিতর্ক, সরানো হল সিবিএসইর চেয়ারম্যান-সচিবকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন চালু হওয়া অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (On Screen Marking System) নিয়ে প্রবল বিতর্কের জেরে সরিয়ে দেওয়া হল সিবিএসই (CBSE)-এর চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তকে। এই পদক্ষেপ এমন একটা সময়ে নেওয়া হল, যখন সিবিএসই পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেমের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

    তদন্তের জন্য কমিটি (CBSE)

    অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন পরিষেবা ক্রয় প্রক্রিয়া তদন্তের জন্য একটি কমিটিও গড়া হয়েছে। এক সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন এসরাধা চৌহান। তিনি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশনের চেয়ারপার্সন। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে ডিপার্টমেন্ট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং (DoPT)-এর কাছে তাদের রিপোর্ট পেশ করতে হবে। অনিয়মগুলির মধ্যে ছিল উত্তরপত্রের অদলবদল, মূল্যায়নে ভুল, ত্রুটিপূর্ণ যাচাই এবং নম্বর বা গ্রেড বরাদ্দে গরমিল। যেসব শিক্ষার্থী তাদের উত্তরপত্রের স্ক্যান করা কপি চেয়েছিল, তারা দেখতে পায় যে আপলোড করা কপিগুলি তাদের নিজেদের উত্তরপত্র নয়। সিবিএসই আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ২০টি উত্তরপত্রের অমিলের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।

    প্রযুক্তিগত সমস্যা

    শিক্ষার্থী এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও ওয়েবসাইটের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যা ও দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছেন। মূল্যায়ন পোর্টালে অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা, ঝাপসা বা অনুপস্থিত পৃষ্ঠা দেখানোর মতো সমস্যাও দেখা গিয়েছে। অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (On Screen Marking System) পরিচালনাকারী পরিষেবা প্রদানকারী অনমার্ক (OnMark) পোর্টালকে ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলার জন্য সিবিএসই একটি নতুন পোর্টাল চালু করে। রবিবার বোর্ড জানায়, তারা বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং আইআইটির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি টিমকে কাজে লাগিয়েছে, যাতে প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা যায়। পোর্টালটি চালু থাকবে ৬ জুন, ২০২৬ রাত ১২টা পর্যন্ত।

    চুক্তির শর্ত

    সিবিএসই (CBSE) ডিজিটাল স্ক্যানিং এবং অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্ব দিয়েছিল হায়দরাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা Coempt Edu Teck-কে। তাদের কাজ ছিল, উত্তরপত্র স্ক্যান এবং ডিজিটাল মূল্যায়ন পরিচালনা করা। অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম ব্যবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশের পর টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। জানা গিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী, পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে এবং প্রয়োজনে চুক্তি বাতিলও করা যেতে পারে, যদিও, তাদের ব্ল্যাকলিস্ট করা যাবে না। চুক্তিতে এও বলা হয়েছিল, সিবিএসইর পক্ষ থেকে চিহ্নিত কোনও গুরুতর সমস্যা সমাধানে প্রতি ১৫ মিনিট দেরির জন্য ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে (On Screen Marking System)।

    সিকিউরিটি ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত করার শর্ত

    সমস্যার মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে প্রতি ৬০ মিনিট দেরির জন্যও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে সিবিএসই সিকিউরিটি ডিপোজিট বাজেয়াপ্ত এবং চুক্তি বাতিল করতে পারবে। মঙ্গলবার দুই শীর্ষ আধিকারিককে সরানোর সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বিষয়টি লোকসভায় ওঠার পর। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্য বিরোধী নেতারা সিবিএসই এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা ঝাপসা উত্তরপত্র, মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যানিং এবং শিক্ষার্থীদের তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাগুলির উল্লেখ করেন। মূল্যায়নে ত্রুটি এবং পুনর্মূল্যায়নের চড়া ফি নিয়ে জবাবদিহির জন্য সিবিএসই (CBSE) আধিকারিকদের এবং শিক্ষা সচিবকে তলব করেছিল শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটি।

     

LinkedIn
Share