Tag: Bengali news

Bengali news

  • Sebashray Scam: সেবাশ্রয়-কাণ্ডে আরও বড় বিপাকে অভিষেক, নতুন মামলা দায়ের, বিধানসভায় ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Sebashray Scam: সেবাশ্রয়-কাণ্ডে আরও বড় বিপাকে অভিষেক, নতুন মামলা দায়ের, বিধানসভায় ‘চিটিংবাজ ভাইপো’ কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির (Sebashray Scam) অভিযোগে ফের তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে নাম না করেই অভিষেককে ‘‘চিটিংবাজ’’ বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, এই মামলায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং যথাসময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের কেলেঙ্কারি” (Sebashray Scam)

    বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু প্রথমেই সেবাশ্রয় প্রকল্পকে ঘিরে একাধিক অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ডায়মন্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “ভাইপোর সেবাশ্রয় ক্যাম্পের কেলেঙ্কারি। বিষ্ণুপুরে একাধিক অভিযোগ হয়েছে।” এরপর নাম না করেই অভিষেককে ‘‘চিটিংবাজ’’ বলে আক্রমণ করেন। বিধানসভায় বক্তব্যের সময় শুভেন্দু বেশ কয়েকটি ছবিও দেখান। তাঁর দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে একাধিক মানুষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও পা কেটে ফেলতে হয়েছে, কাউকে খোয়াতে হয়েছে হাত। সেই সমস্ত ঘটনার ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এক্স-রে এবং আল্ট্রাসোনোগ্রাফি যন্ত্র বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদেরও বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ তো খুনের মামলা। চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। সবক’টাকে তুলব। একবার কেউ জেলে ঢুকলে আর বেরোতে পারবে না। কাউকে বাঁচানো যাবে না। আগে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সমস্ত যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’’

    সেবাশ্রয় প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয়

    মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, দিলীপ মণ্ডলের একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ২০২৫ সালের ওষুধের পাশাপাশি মিলেছে ২০২১ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া ওষুধও। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্যের সময় ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাসের লেখা একটি চিঠিরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই চিকিৎসক সেবাশ্রয় প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁকে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠির অংশও তিনি বিধানসভায় পড়ে শোনান। এরপর রাজ্য সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের পরমাণু শক্তি বিভাগ এবং স্বাস্থ্য দফতরের কাছে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার এবং নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয় এবং সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে (Sebashray Scam)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অপরাধ তদন্ত বিভাগ, বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী এবং জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক তদন্ত চলছে। সেবাশ্রয় শিবিরে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের অভিযোগকে পৃথক মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নিশ্চিন্ত থাকুন, যাঁরা এত বড় অপরাধ করেছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। সময়ই সব কথা বলবে। সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। যথা সময়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Suvendu Adhikari)।”

    অভিষেকের বিরুদ্ধে ফের মামলা

    এদিকে, অভিষেকের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবারে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, পৈলানের একটি রিসর্টে টানা চল্লিশ দিন ধরে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনা করা হয়েছিল। সেই রিসর্টের তরফে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শিবির পরিচালনার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান টানা চল্লিশ দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক এবং কর্মীর থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের সমস্ত ব্যবস্থা করতে হয়েছিল রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে। অথচ সেই সমস্ত খরচ তাঁদের (চিকিৎসক ও কর্মীদের) নিজেদেরই বহন করতে হয়েছে। এর ফলে পর্যটনের মরশুমে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। অভিযোগে অভিষেক ছাড়াও তাঁর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রিসর্টের মালিক সমীরণ রায়ের দাবি, শুধু থাকার খরচই নয়, স্থানীয় শিবির পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থও তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছিল। টাকা না দিলে রিসর্টে ভাঙচুর চালানো হবে এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ (Sebashray Scam)।

    কী বলছেন অভিযোগকারী?

    অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ প্রকল্পের কারণে তাঁদের অন্তত বিশ থেকে পঁচিশ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্তরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন তাঁরা ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাহস সঞ্চয় করে দ্বারস্থ হয়েছেন পুলিশের। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তোলাবাজি এবং দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় অভিষেক-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। শুরু হয়েছে তদন্তও। শুক্রবারই ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা বিধানসভায় সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। তার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেন। সেই আবহেই নতুন অভিযোগ সামনে আসায় তৃণমূলের রক্তচাপ আরও বেড়েছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (Suvendu Adhikari)।

    সর্বাত্মক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়, জানাল আদালত

    এদিকে, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অভিষেকের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে একের পর এক মামলা। তবে এই সব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলেই দাবি করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে একাধিক মামলার প্রেক্ষিতে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিলেন। যদিও আদালত জানিয়ে দিয়েছে, সামগ্রিকভাবে তাঁকে কোনও সর্বাত্মক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে প্রতিটি মামলায় আইন অনুযায়ী তদন্ত চলবে। রাজ্যের অন্যতম বহুল চর্চিত এই মামলায় আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগের পক্ষে কতটা প্রমাণ সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর (Sebashray Scam)।

     

  • Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ট্যাঙ্ক জেলায় যৌথ নিরাপত্তা চেকপোস্টে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় (TTP Attack) অন্তত ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন সেনাকর্মী, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এই হামলা চালিয়েছে। হামলার এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার ভোরে।

    “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” (Pakistan)

    সেনাবাহিনীর তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাটি চালিয়েছে “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” নামে চিহ্নিত জঙ্গিরা। পাকিস্তান সরকার বর্তমানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সদস্যদের বোঝাতে এই পরিভাষা ব্যবহার করে। এক সময় এই সংগঠনের প্রতি পাকিস্তান সরকারের নরম মনোভাব ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, সংগঠনটির বহু সদস্য আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমী দেশগুলির সেনাদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত ছিল। সেই সময় পাক প্রশাসন তাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখিয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও হয়েছিল। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, জঙ্গিরা প্রথমে যৌথ চেকপোস্টের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত এবং দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের সতর্কতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের কারণে জঙ্গিদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনী ১৫ জন জঙ্গিকে হত্যা করে।

    ভয়াবহ বিস্ফোরণ

    তবে প্রথম আক্রমণে ব্যর্থ হওয়ার পর জঙ্গিরা কৌশল পাল্টায়। বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে তারা চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে চেকপোস্টের পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বিস্ফোরণেই ১২ জন সেনাসদস্য, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক নিহত হন। পাক সেনাবাহিনী নিহতদের “শহিদ” আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, তাঁরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, হামলার পর গোটা এলাকায় তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্য কোনও জঙ্গি আশপাশে লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি “আজম-ই-ইস্তেহকাম” কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করবে বলেও জানানো হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত ফেডারেল শীর্ষ কমিটির অনুমোদিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য, বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা (Pakistan)। সেনাবাহিনীর জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের সাহসী সেনাদের এই আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের অটল অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। যে কোনও মূল্যে দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (TTP Attack)।”

    আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে

    এদিকে, গত সপ্তাহেও খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী বড়সড় অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে সংঘর্ষে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের ২৪ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বান্নু জেলায় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা এবং আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের হামলার নেপথ্যে থাকা জঙ্গি এবং তাদের সহায়ক নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করতে যৌথ গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় তীব্র গোলাগুলির পর ২৪ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সেনাবাহিনী (Pakistan)। চলতি বছরের মে মাসেও বান্নু জেলার ফতেহ খেল পুলিশ পোস্টে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশকর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলায়ও বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি গিয়ে পুলিশ পোস্টে ধাক্কা মেরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। বর্তমান হামলার কৌশলের সঙ্গে সেই ঘটনার মিল রয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের অভিমত।

    একের পর এক জঙ্গি হামলা 

    গত এক বছরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রদেশটি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী ধরনের কৌশল নেওয়া উচিত, তা নিয়ে কেন্দ্রের সরকার এবং প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। এই রাজনৈতিক বিভাজনও সন্ত্রাস দমনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা (TTP Attack)। গবেষণা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের ২০২৫ সালের বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় হিংসার মাত্রা গত বছর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে হিংসায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২০, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩১-এ। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় হামলার প্রধান লক্ষ্য থাকে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ফলে জঙ্গি দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান আরও জোরদার করেছে। তবে ধারাবাহিক হামলা প্রমাণ করছে, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি এখনও উল্লেখযোগ্য সংগঠনগত সক্ষমতা ধরে রেখেছে (TTP Attack) এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Pakistan)।

     

  • NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে (NTA) বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং (Young Professionals) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার ৪৭ জন আধিকারিক ও কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক তদন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং মূল্যায়ন গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সংস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।

    বরখাস্ত বহু আধিকারিক (NTA)

    এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনার জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, এবং প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। ঘটনার পর থেকেই এনটিএর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের শুধু অন্যত্র বদলি করা হয়নি বা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলবে। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কার কী দায় ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী দিনে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তৈরি হচ্ছে নয়া কাঠামো

    এনটিএর পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়ে চারজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন তরুণ পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। নতুন জেনারেল ম্যানেজারদের তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং তাঁরা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করবেন (Young Professionals)। নতুন কাঠামোয় মূল্যায়ন ও মনস্তাত্ত্বিক পরিমাপ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি, নম্বরের সামঞ্জস্য নির্ধারণ, প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারণ, কম্পিউটারভিত্তিক অভিযোজিত পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা বিভাগের প্রধান দেশের পাঁচশোরও বেশি শহর এবং বিদেশের নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, পরীক্ষার দিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে (NTA)।

    সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক

    তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক হিসেবে কাজ করবেন। সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি মেনে চলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থার নির্দেশিকাও কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে। এছাড়া সতর্কতা, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধান পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা ব্যুরো, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালনা করবেন। সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধে প্রণীত ২০২৪ সালের আইনের আওতায় এই তদন্তগুলি পরিচালিত হবে (Young Professionals)। ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে যে তরুণদের নিয়োগ করা হবে, তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাননি। এই পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটানো হয় (NTA)।

    পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন

    মোট ১৬টি পদের মধ্যে ১২টি থাকবে অ্যাকাডেমিক গবেষণায়, দু’টি আইনি গবেষণায় এবং দু’টি অর্থ ও হিসাব বিভাগে। প্রথমে ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ করা হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, অস্থায়ী কর্মীর ওপর এনটিএর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে সংস্থায় স্থায়ী পদের সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পদ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ৭৩ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১২৪। এই ভারসাম্য বদলাতে চায় কেন্দ্র। রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মোট ১০টি কার্যকরী বিভাগে আগামী দিনে আরও নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদকদেরও নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে (NTA)। পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজি আর ওএমআর শিটে হবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে যৌথ প্রবেশিকা (মেইন) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাঁচের সঙ্গে নিট-ইউজির সামঞ্জস্য তৈরি হবে (Young Professionals)।

    সংরক্ষিত থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড

    সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একাধিক প্রশ্নসেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। তবে এজন্য নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র, আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নথিভুক্তিকরণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং গোপনীয় নথি সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিরীক্ষা ও পটভূমি যাচাই আরও কঠোর করা হবে। সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ব্যর্থতা ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে (NTA)।

     

  • Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তর প্রতিবাদে সামিল ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি সোশাল হ্যান্ডল চিহ্নিত, সক্রিয় ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও!

    Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তর প্রতিবাদে সামিল ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি সোশাল হ্যান্ডল চিহ্নিত, সক্রিয় ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনকে (Jantar Mantar Protest) কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য, গুজব এবং সম্পাদিত ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ তুলল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পুলিশের দাবি, এ কাজে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত ৪৮০টিরও বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Pakistan Social Media Accounts) সক্রিয় ছিল। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই একই অ্যাকাউন্টগুলি সক্রিয় ছিল বলেও দাবি দিল্লি পুলিশের (Delhi Police)।

    ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি অ্যাকাউন্ট 

    বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে চলা আন্দোলনের (Jantar Mantar Protest) সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একাধিক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট গুজব, ভুয়ো পোস্ট এবং সম্পাদিত ভিডিও ছড়াচ্ছে।  পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত ৪৮০টিরও বেশি পাকিস্তান-ভিত্তিক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Pakistan Social Media Accounts) চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও ছিল সক্রিয়

    দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) দাবি, এই একই সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীনও সক্রিয় ছিল। পুলিশের অভিযোগ, ওই সময়ের মতো এবারও উদ্দেশ্য একটাই- ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা।

    ছাত্রদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা!

    পুলিশের দাবি, ভুয়ো পোস্ট, সম্পাদিত ভিডিও এবং নাম-পরিচয়হীন সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের তথ্য বা ভিডিও দেখে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য ছাত্রদের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)।

    গুজব ছড়াবেন না, তথ্য যাচাই

    সাধারণ মানুষের উদ্দেশে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) আবেদন, সামাজিক মাধ্যমে কোনও তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। পুলিশের বার্তা, ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়াবেন না এবং সমাজবিরোধী শক্তিকে মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর সুযোগ দেবেন না।

    শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে

    দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) স্পষ্ট করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বা আন্দোলন করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, এবং সেই অধিকারকে তারা সম্মান করে। তবে একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, শান্তি বজায় রাখা এবং যাচাই করা তথ্যের উপর ভরসা করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি।

  • S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের (India China Ties) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ, বাণিজ্যিক ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

    ভারত-চিন সম্পর্ক (S Jaishankar)

    বৈঠকের শুরুতেই জয়শঙ্কর বলেন, “গত কয়েক মাসে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর থেকেই ইতিবাচক অগ্রগতি শুরু হয়েছে। পরে তিয়ানজিনে দুই দেশের নেতার আরও একটি বৈঠকে সেই ইতিবাচক দিকটি আরও জোরদার হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই ভারত ও চিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। এমন একটি সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়া এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক কখনও স্বাভাবিক হতে পারে না। তাঁর কথায়, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত।”

    দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাজানে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর থেকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে উভয় দেশই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে যে সব দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলিকে পূর্ণ সমর্থন এবং আরও শক্তিশালী উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। ভারত ও চিন উভয়ই বৃহৎ এবং প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব আগেই একমত হয়েছিলেন যে মতপার্থক্য কখনও বিরোধে পরিণত হওয়া উচিত নয় (S Jaishankar)। তিনি বলেন, “দু’টি বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও চিনের নিজস্ব স্বার্থ থাকবেই। কিন্তু আমাদের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়। সেই মতভেদকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাই কূটনীতির দায়িত্ব (India China Ties)।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর

    বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করার উদ্যোগ, ভিসা ব্যবস্থার আপডেট, আবারও কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা শুরু এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার মতো পদক্ষেপ সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকাই রাখছে। তবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন, এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান হওয়া বাকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য আনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা এবং সরকারি ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যে ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং সরকারি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আমাদের আরও মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারণ করা জরুরি (S Jaishankar)।”

    বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়

    বৈঠকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। চলতি বছরে ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই প্রসঙ্গে চিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “এ বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই সময়ে ব্রিকসের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগে চিন যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই (India China Ties)।” আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই এই বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মতবিনিময়ের জন্য একটি উপযুক্ত সুযোগ।” বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার পর ভারত-চিন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এই (S Jaishankar) বৈঠককেও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও ভারত ও চিন নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। জয়শঙ্কর বর্তমানে দু’দিনের সফরে ফিলিপিন্সে রয়েছেন। এই সফরে তিনি আসিয়ান কাঠামোর আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান-ভারত বিদেশমন্ত্রী বৈঠক, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক। এই (India China Ties) সব বৈঠকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত (S Jaishankar)।

     

  • India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে (India) চলেছে ভারত। বলা ভালো, রুশ তেল (Russian Oil) কেনার ক্ষেত্রে ভারত আরও সক্রিয় হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশ এখনও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখলেও, ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি রেকর্ড পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাশিয়া তার তেলের জন্য একটি বড় ও নির্ভরযোগ্য বাজার পাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে ভারত তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি জোগাড় করে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত করছে।

    জুন মাসের খতিয়ান (India)

    জানা গিয়েছে, জুন মাসে ২৩ লাখেরও বেশি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ভারতের বিভিন্ন বন্দরে এসে পৌঁছেছে। যার আর্থিক মূল্য ৫১৪ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জুলাই মাসেও এই আমদানির পরিমাণ প্রায় একই স্তরে থাকতে পারে। ইউরোপের বড় অংশের বাজার হারানোর পর রাশিয়া এখন মূলত এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের ধারাবাহিক চাহিদা রাশিয়ার তেল রফতানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত কেন এত বেশি পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনছে, তার সবচেয়ে বড় কারণ হল তুলনামূলক কম দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মানের অপরিশোধিত তেলের তুলনায় রুশ তেল এখনও উল্লেখযোগ্য ছাড়ে মিলছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি কম খরচে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছে। এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমছে, লাভের পরিমাণ বাড়ছে এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।

    তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত

    তাছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাত ভারতের আমদানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেই কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে এবং সরবরাহের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু রাশিয়া থেকেই নয়, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি জোগাড় নিশ্চিত করা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার পরিবর্তে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। জুন মাসে ভারতে মোট যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই এসেছে রাশিয়া থেকে। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে রুশ তেলের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে কতটা বেড়েছে (Russian Oil)।

    অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে ব্রেন্ট মানের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল পাওয়া ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়ে, তাহলে রাশিয়া থেকে আমদানির প্রবণতাও বজায় থাকতে পারে (India)। রাশিয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইউরোপে রুশ তেলের বাজার অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমী দেশগুলির নানা বিধিনিষেধের কারণে জাহাজ পরিবহণ, বিমা এবং আর্থিক লেনদেনেও রাশিয়া নানা সমস্যায় জর্জরিত। সেই সময় থেকেই এশিয়ার দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

    নয়াদিল্লির সাফ কথা

    ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে খুব সীমিত পরিমাণে তেল আমদানি করত। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতায়। বর্তমানে চিন ও ভারতের মতো দেশগুলির চাহিদাই রাশিয়ার তেল রফতানিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India)। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বারবার উঠেছে প্রশ্ন। যদিও নয়াদিল্লি বরাবরই জানিয়ে এসেছে, তাদের তেল কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই বাণিজ্যিক বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয় (Russian Oil)। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তুলনামূলক কম দামে তেল সংগ্রহ করা এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখাই সরকারের পাখির চোখ। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন অস্থায়ীভাবে কিছু রুশ তেলবাহী চালানের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। পরে সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, তাদের আমদানি নীতির মূল ভিত্তি থাকবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা কূটনৈতিক চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত (India)।

    ভারতের বহুমুখী আমদানি কৌশল

    শিল্পমহলের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে ভারত একাধিক দেশ থেকে তেল আমদানি করছে এবং প্রয়োজনীয় মজুতও বজায় রেখেছে। ফলে কোনও একটি অঞ্চলে সংঘাত বা সরবরাহ ব্যাহত হলেও, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। এই বহুমুখী আমদানি কৌশল ভবিষ্যতেও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি এখন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, কৌশলগত ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট—যেখানে সুলভ মূল্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি মিলবে, সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে এবং বিকল্প উৎসগুলিতে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে, ততদিন (Russian Oil) ভারত মস্কো থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে চলবে বলেই ধারণা (India) সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian Students) প্রথম পছন্দ ছিল আমেরিকা। উন্নত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বহু দশক ধরে দেশটি ছিল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। দীর্ঘদিনের চেনা এই ছবিটাই বদলে যাচ্ছে দ্রুত। কড়া অভিবাসন নীতি, ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইউরোপের নতুন সুযোগ-সুবিধার কারণে ক্রমশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে (US) ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। খবরে প্রকাশ, শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তারা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড এখন আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার (Indian Students)

    এই পরিবর্তন অবশ্য নতুন নয়। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে প্রায় ৬৮.৩৩ শতাংশ। শিক্ষা-প্রযুক্তি সংস্থা জ্ঞানধনের তথ্য বলছে, আমেরিকাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীর হার ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ২৬ শতাংশে, ২০২৫ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। একই সময়ে ইউরোপে পড়াশোনার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু জার্মানিতেই ছিলেন ৪৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা ‘আপগ্র্যাড স্টাডি অ্যাব্রড’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ বিদেশে পড়াশোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের বছর বাইশের এক প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতকের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আমেরিকায় পাঠাতে চাইলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য বেছে নেন জার্মানিকেই।

    ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির পর ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে (Indian Students)। এই চুক্তিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সহজতর ভিসা ব্যবস্থা, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের স্পষ্ট রূপরেখা এবং ভারতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপের কথা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতিশীলতা কাঠামো বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে আকৃষ্ট করে ইউরোপকে আন্তর্জাতিক প্রতিভার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” বিদেশে পড়াশোনার প্ল্যাটফর্ম লিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অনব কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রথমবারের মতো একটি বড় অর্থনৈতিক জোট স্পষ্টভাবে বলছে, তারা বৃহৎ পরিসরে ভারতীয় মেধাকে স্বাগত জানাতে চায়।” তাঁর দাবি, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ভারত থেকে ইউরোপে শিক্ষার্থী ও কর্মীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে (US)।

    কম খরচও বড় কারণ

    শুধু সুযোগ-সুবিধা নয়, খরচের দিক থেকেও ইউরোপ এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা কেসি ওভারসিজের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ার খরচ আমেরিকার তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে খাবারে কাটছাঁট করা, গণপরিবহণের বদলে হেঁটে যাতায়াত করা কিংবা অতিরিক্ত কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে হচ্ছে। ইউরোপ স্টাডি সেন্টারের পরিচালক শিবরামন পাণ্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ইউরোপ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির পর আমাদের কাছে অনুসন্ধানের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।” স্টুডেন্ট অ্যাকোমোডেশন সংস্থা ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন আধিকারিক ময়ঙ্ক মহেশ্বরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ কম শিক্ষাব্যয়, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ, উন্নত কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিকভাবে ভালো সুবিধার কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে।” বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী নিজের পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী দেশ বেছে নিচ্ছেন (Indian Students)। যেমন, প্রযুক্তি-শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের জন্য নেদারল্যান্ডস, ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য ফ্রান্স এবং কম খরচে গবেষণার সুযোগের জন্য পর্তুগাল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    আমেরিকার কড়া নীতিতে কমছে আগ্রহ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতিও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে যে ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত থাকার অনুমতি পান, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিসা চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে (US)। এছাড়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি, ভিসা নবীকরণে কড়াকড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর বাড়তি নজরদারি এবং ভিসার শর্ত ভাঙলে দ্রুত বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিতেও দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী আমেরিকাকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটাই কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজারে।

    ইউরোপে আগ্রহ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে

    ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন ও ভর্তি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২,৬৩০। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩,৭০০-তে পৌঁছেছে। দেশটিতে ভারতীয়রা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। আইনডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Indian Students)।স্পেনও এখন নয়া গন্তব্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের ইউরোপীয় শিক্ষার্থী পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্য  অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১,০৮৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রা ব্যয়, শিক্ষার্থী-বান্ধব ভিসা ব্যবস্থা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইউরোপে পড়াশোনা করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। প্রয়োজন দক্ষতা, স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা (US)।

    চাকরির সুযোগ

    পাণ্ডিয়ান বলেন, “কেউ যদি বলে এই দেশে পড়লেই চাকরি পাবেন, তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। শুধু ওই দেশে পড়াশোনা করলেই চাকরির অধিকার তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন। তবেই সুযোগের দরজা খুলবে।” শিক্ষার্থীদের একাংশ আবার ভাষাগত সমস্যা, আবাসনের সঙ্কট, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের কিছু দেশে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং বিদেশিদের প্রতি কঠোর মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবুও কম খরচ, ইংরেজি মাধ্যমে বাড়তে থাকা পাঠ্যক্রম, স্পষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ অভিবাসন নীতির কারণে ইউরোপ এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে (Indian Students)।

     

  • BJP: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, রাহুলের আচরণকে ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’ বললেন নিতিন নবীন

    BJP: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, রাহুলের আচরণকে ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’ বললেন নিতিন নবীন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শতাব্দীপ্রাচীন দলের নেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP) নিতিন নবীন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, কেসি বেণুগোপাল এবং পবন খেরার নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার পদে থেকে রাহুল গান্ধীর আচরণ সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়”।

    নৈরাজ্যের প্রতীক (BJP)

    নিতিন নবীন বলেন, “রাহুল গান্ধীর আচরণ থেকেই স্পষ্ট, তিনি বিরোধী দলনেতার পদের মর্যাদাকে গুরুত্ব দেন না। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, রাহুল গান্ধী ক্রমশ নৈরাজ্যের প্রতীক হয়ে উঠছেন। সংসদের কিছু সাংবিধানিক পদ কোনও একক দলের সম্পত্তি নয়। প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি দলের নেতা নন, তিনি ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধি। আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীদের আচরণ এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা প্রমাণ করে, এটি মতপার্থক্যের রাজনীতি নয়, বরং নৈরাজ্যের রাজনীতি। আরও উদ্বেগের বিষয়, প্রবীণ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।”

    বিজেপি সীমা লঙ্ঘন করেনি

    তিনি এও বলেন, “আমরাও দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে ছিলাম, কিন্তু কখনও এই ধরনের সীমা লঙ্ঘন করিনি। রাহুল গান্ধী যে শর্ত দিয়েছিলেন, তা মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার পর বিরোধী দলনেতার সেই অবস্থান থেকে সরে আসা দুর্ভাগ্যজনক। সংসদের ভেতরে যে কোনও ধরনের আলোচনার জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত। কিন্তু শিষ্টাচার ভঙ্গ এবং বিরোধী শিবিরে যে নৈরাজ্যবাদী মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, তা দেশকে উদ্বিগ্ন করছে। দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর পাশে রয়েছেন।”

    ব্যাহত লোকসভা-রাজ্যসভার কার্যক্রম

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নিকে আটক করে। নিরাপত্তারক্ষীদের দেখা যায় রাহুলকে পুলিশের বাসে করে তুলে নিয়ে যেতে (BJP)। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁকেও পুলিশ আটক করে। সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “ওরা ভীতু। ওরা আমাদের ভয় পায়। কিন্তু আমরা ওদের ভয় পাই না (Rahul Gandhi)।” এদিকে, নিট-স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো (BJP) লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

     

  • Balochistan: চতুর্মুখী সঙ্কটে পাকিস্তান, সন্ত্রাসবাদ-গণবিক্ষোভ আর সীমান্ত সংঘাতে জেরবার ইসলামাবাদ

    Balochistan: চতুর্মুখী সঙ্কটে পাকিস্তান, সন্ত্রাসবাদ-গণবিক্ষোভ আর সীমান্ত সংঘাতে জেরবার ইসলামাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভূতপূর্ব এক অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সঙ্কটের সম্মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান। দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রের অন্তত চারটি ভিন্ন প্রান্তে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। একদিকে যেমন বেড়েছে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির রক্তক্ষয়ী তৎপরতা, তেমনই অন্যদিকে ধেয়ে আসছে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের তীব্র গণবিক্ষোভের ঢেউ। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে তৈরি হওয়া যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে দেশের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামরিক শক্তির চরম পরীক্ষা নিচ্ছে এই চতুর্মুখী সঙ্কট।

    গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স (Balochistan)

    গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পাকিস্তানে হিংসা ও জঙ্গি হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই বছর দেশটিতে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১,১৩৯ জনের, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৬ সালের জুন মাসে হামলার সংখ্যা সামান্য কমলেও, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, কেবল জুন মাসেই ১১৮টি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ১১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৪৮ জন জখম হয়েছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সন্ত্রাসবাদের কোনও যৌক্তিকতা না থাকলেও, আজকের এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির উত্থান আসলে পাকিস্তানের গত কয়েক দশকের নিজস্ব ভুল নীতিরই ফসল। আঞ্চলিক স্বার্থে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার যে কৌশল ইসলামাবাদ নিয়েছিল, তা এখন ব্যুমেরাং হয়ে দেশের অভ্যন্তরেই বড়সড় নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি করেছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে পাক নাগরিকদের মধ্যেও।

    বালুচিস্তানে দ্বিমুখী যুদ্ধ

    পাকিস্তানের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বালুচিস্তান। এই বিস্তীর্ণ প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসলামাবাদ এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদকে চরমভাবে শোষণ করছে, অথচ স্থানীয় মানুষদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। গুম এবং রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখানে আরও উসকে দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদের আগুনকে। বর্তমানে সেখানে একদিকে চলছে স্বাধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, অন্যদিকে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি। গত জুলাই মাসে বালুচিস্তানের জিয়ারত জেলার মাঙ্গি বাঁধের কাছে একটি পুলিশ পোস্টে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র জঙ্গিরা হামলা চালায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হামলায় দু’জন স্টেশন হাউস অফিসার-সহ ন’জন পুলিশ কর্মী নিহত হন। পরে আরও ১৮ জনকে অপহরণ করে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর ঠিক দু’দিন পরে, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র যোদ্ধারা লাসবেলা জেলায় পাক সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল বেশ কয়েকজন সেনা কর্মীর। কোয়েটার কাছে অন্য একটি হামলায় চারজন অসামরিক নাগরিক নিহত হন। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে পাকিস্তানের প্রায় ৪০ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারান।

    ইসলামাবাদের মাথাব্যথা

    ইসলামাবাদের বড় চিন্তার বিষয় হল, বালুচিস্তানে তাদের একই সঙ্গে দু’টি ভিন্ন আদর্শের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। বিএলএ লড়ছে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবিতে, যার মূল ভিত্তি বালুচ জাতীয়তাবাদ। আর, টিটিপির লক্ষ্য হল পুরো পাকিস্তানে তাদের নিজস্ব চরমপন্থী ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই বছর বিএলএর রণকৌশলে বড় বদল দেখা গিয়েছে। তারা দেশের ১০টিরও বেশি শহরে হামলা চালিয়ে পুলিশ স্টেশন, রেললাইন, ব্যাঙ্ক ও সরকারি ভবন ধ্বংস করেছে।

    খাইবার পাখতুনখোয়ায় ড্রোনের ব্যবহার

    একদিকে যখন বালুচিস্তান জ্বলছে, তখন খাইবার পাখতুনখোয়া বা কেপি প্রদেশেও অব্যাহত টিটিপির হামলা। উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান, বান্নু, বাজাউর, খাইবার এবং ডেরা ইসমাইল খানের মতো উপজাতীয় অঞ্চলে নিত্যদিন চলছে বোমা বিস্ফোরণ, অতর্কিত হামলা এবং টার্গেট কিলিং। সম্প্রতি আপার দির এবং বান্নুতে পৃথক হামলায় তিন পুলিশ কর্মী নিহত এবং প্রায় ২০ জন জখম হয়েছেন। কৌশল বদলে টিটিপি এখন পুলিশ স্টেশন এবং নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার জন্য বাণিজ্যিক ড্রোনের ব্যবহার শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান আর প্রথাগত জঙ্গি দমনের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এখন ড্রোন হামলা, সীমান্ত পারের জঙ্গি চলাচল, গোয়েন্দা যুদ্ধ এবং অনলাইন প্রোপাগান্ডার এক জটিল মিশ্রণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। ২০২২ সালের শেষের দিকে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর, বারবার সামরিক অভিযান চালিয়েও, টিটিপির নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে পারেনি পাকিস্তান। পরন্তু বালুচিস্তানে টিটিপির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে, কেপি এবং বালুচিস্তানের সংঘাতগুলি এখন একে অপরের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে।

    পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে তীব্র গণবিক্ষোভ

    উপজাতীয় এবং সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে যখন সশস্ত্র লড়াই চলছে, তখন পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতৃত্বে সেখানে মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতের আকাশছোঁয়া বিল, আটার দাম বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ চলছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানের অন্য প্রান্তে বসবাসকারী জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তুদের জন্য প্রাদেশিক পরিষদে সংরক্ষিত ১২টি আসন নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষ। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই আসনগুলির মাধ্যমে ইসলামাবাদ স্থানীয় রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং স্থানীয়দের কণ্ঠরোধ করে।

    এই আন্দোলনের জবাবে পাক প্রশাসন কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। ইন্টারনেট বন্ধ, গণজমায়েতে নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বিচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি জেএএসিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আন্দোলন থামানো যায়নি। জুলাই মাসের সংঘর্ষে অন্তত ন’জন নিহত হয়েছেন। রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত পরিকল্পিত বিক্ষোভ মিছিল ঠেকাতে প্রায় ৪,০০০ রেঞ্জার্স, পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বহু এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

    বন্ধু থেকে শত্রু আফগানিস্তান

    ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান সরকার আনন্দের সঙ্গে তাদের স্বাগত জানিয়েছিল। ইসলামাবাদ আশা করেছিল, কাবুলের নতুন সরকার দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত রাখবে। কিন্তু ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছে পাকিস্তানের সেই আশা চুরমার হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তান এখন সরাসরি অভিযোগ করছে, আফগান তালেবান তাদের মাটিতে টিটিপির শীর্ষ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও তালেবান অভিযোগ অস্বীকার করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা বলে দাবি করেছে। এই বিরোধ এখন প্রকাশ্য সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের ওপর হামলার পর, পাক বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাক্তিয়া, পাক্তিকা এবং কুনার প্রদেশে বিমান ও স্থল অভিযান চালায়। ইসলামাবাদ দাবি করে তারা জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে, কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বহু সাধারণ আফগান নাগরিক হতাহত হয়েছেন। এর জবাবে আফগান তালেবানও চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি সামরিক টার্গেটে ড্রোন ও বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে। ফলস্বরূপ, ডুরান্ড লাইন এখন আর কেবল আন্তর্জাতিক সীমান্ত নয়, বরং একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

    সঙ্কট কি দেশের ভাঙন ডেকে আনবে?

    এই চারটি সঙ্কট একই সময়ে ঘটায় আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কযুক্ত মনে হলেও, এদের লক্ষ্য ও পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। বিএলএ চায় স্বাধীনতা, টিটিপি চায় শরিয়া শাসন, জেএএসি চায় অর্থনৈতিক স্বস্তি ও রাজনৈতিক অধিকার, আর আফগান তালেবান ব্যস্ত তাদের নিজস্ব শাসন কায়েম করতে। তবে এই গোষ্ঠীগুলির লক্ষ্য যা-ই হোক না কেন, এরা প্রত্যেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক কাঠামোর দুর্বলতাকে বেআব্রু করে দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন, দেশের দু’টি প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন অত্যন্ত সক্রিয় এবং দেশের পরিস্থিতি দিন দিন আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। প্রাক্তন আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ সম্প্রতি পাকিস্তানে নতুন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পর, দেশটির ভেঙে যাওয়ার তত্ত্ব নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সীমানা বদলে যাওয়ার মতো কোনও জোরালো প্রমাণ নেই। কারণ প্রতিটি আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং দাবি আলাদা। তা সত্ত্বেও, এটি মানতেই হবে যে পাকিস্তান তার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই বহুমুখী চাপ সামলাতে গিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক শক্তি কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।

     

  • West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রের মেগা উন্নয়ন প্যাকেজ, পরিকাঠামো-কৃষি-গ্রামীণ উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দ

    West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রের মেগা উন্নয়ন প্যাকেজ, পরিকাঠামো-কৃষি-গ্রামীণ উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) সার্বিক উন্নয়নে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। সড়ক, রেল, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, আবাসন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজ্যের (Rural Package) অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “উন্নত ভারত এবং আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নপূরণে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে, সমস্ত বাধা দূর করতে এবং প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও জানান, পরিকাঠামোর উন্নতি, কৃষির আধুনিকীকরণ এবং গ্রামীণ জীবিকার বিকাশ ঘটলে তা কেবল পশ্চিমবঙ্গেরই কল্যাণ করবে না, বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতেও বড় অবদান রাখবে।

    বিশেষ নজরদারি দল (West Bengal)

    এই বিরাট পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হল রাজ্যের ১৯টি বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের পর্যালোচনা। সড়ক, রেল, মেট্রো রেল, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং শ্রম দফতরের অধীনে থাকা এই প্রকল্পগুলির মোট আর্থিক মূল্য ৮২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।চৌহান জানান, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং লজিস্টিক ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে। তবে জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, বনবিভাগের ছাড়পত্র, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে অনেক প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। এই জট কাটাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সময়সীমা বেঁধে কাজ করতে রাজি হয়েছে। পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজ্য-স্তরের প্রকল্প পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠী বা ‘পিএমজি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রগতি’ প্ল্যাটফর্মের ধাঁচেই এটি কাজ করবে, যা নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সাহায্য করবে।

    কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

    গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে কেন্দ্র ৮,৫০৮ কোটি টাকার একটি বড় আর্থিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। রাজ্যের সমপরিমাণ অংশীদারিত্ব মিলিয়ে আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য মোট উপলব্ধ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২,০৬৪ কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থ গ্রামীণ পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান তৈরি এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে খরচ হবে। গত ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া কেন্দ্রের নতুন ‘ভিবিজিরাম’ কাঠামোর অধীনে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের দিন সংখ্যা বর্তমানের ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় কেবল স্বল্পমেয়াদী কাজ নয়, বরং গ্রামীণ রাস্তা, পুকুর, সেচ নালা, স্কুল ভবন ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মতো দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ তৈরি করা হবে (West Bengal)।

    আবাসন ও নারীর ক্ষমতায়ন

    প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (পিএমএওয়াইজি) প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক দফতরে ১ লাখ গ্রামীণ পাকা বাড়ির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ফিল্ড লেভেলের উপভোক্তা যাচাইকরণের কাজ ব্যাহত হওয়ায়, এর সময়সীমা আগামী ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে পাকা বাড়ি দেওয়া কেন্দ্রের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনার অধীনে রাজ্যের নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য ২৯৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৫ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ হিসেবে এবং বাকি ৫০ কোটি টাকা কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা সামাজিক বিনিয়োগ তহবিল হিসেবে দেওয়া হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়াতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সহায়ক হবে (Rural Package)।

    কৃষির আধুনিকীকরণ

    কৃষি ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতের ‘বীজ হাব’ বা বীজ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছেন (West Bengal) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আলু এবং হাইব্রিড ভুট্টার বীজ উৎপাদনের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ইতিমধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। হর্টিকালচার বা উদ্যানপালন ক্ষেত্রের উন্নয়নে মালদা জেলাকে জাতীয় ‘ক্লিন প্ল্যান্ট প্রোগ্রামে’র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে আম, লিচু ও অন্যান্য ফলের রোগমুক্ত চারা তৈরির জন্য বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই চারা তৈরির জন্য বড় নার্সারিগুলিকে ৩ কোটি টাকা এবং মাঝারি নার্সারিগুলিকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়াও ধান, ভুট্টা এবং অর্কিডের বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্যের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি-জলবায়ু ও মাটির চরিত্র বুঝে একটি বৈজ্ঞানিক কৃষি রোডম্যাপ তৈরি করছেন।

    ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’

    রাজ্যের ধান গবেষণা কেন্দ্রগুলিকে উন্নত প্রযুক্তির আদানপ্রদানের জন্য ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্রে উন্নীত করা হবে। কৃষকদের ফসলের সুরক্ষা ও ঋণের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। কৃষকরা যাতে মহাজনদের খপ্পরে না পড়ে সহজে ব্যাঙ্ক ঋণ পান, তার জন্য নাবার্ড এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় গ্রামে গ্রামে কিষান ক্রেডিট কার্ড শিবির করা হবে। পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে (Rural Package) পরিণত করতে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নত ভারতের স্বপ্ন সফল করতে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী।

     

LinkedIn
Share