Tag: Bengali news

Bengali news

  • Bangladesh Polls 2025: জামায়েতের সঙ্গে এনসিপির জোট! একাধিক বিক্ষুদ্ধ নেতার রোষ প্রকাশ্যে

    Bangladesh Polls 2025: জামায়েতের সঙ্গে এনসিপির জোট! একাধিক বিক্ষুদ্ধ নেতার রোষ প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh Polls 2025) নির্বাচনের আগে এনসিপির সঙ্গে জামায়েত ইসলামীর আসনে সমোঝতা এবং আসন ভাগাভাগি জোট চূড়ান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য গত ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে প্রতিবাদী ছাত্র জনতার বিরাট ভূমিকা ছিল। জামায়েত (Jamaat-E-Islami-NCP) এবং এনসিপির চুক্তির মাঝেই ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে দুই দলের নীতিগত কিছু বিষয়ে আবার মতান্তরও দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনায়।

    ৩০০ টি সংসদীয় আসনে জোট (Bangladesh Polls 2025)

    বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম ডেইলি স্টারের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতারিত করার পর এটি প্রধান প্রথম সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Polls 2025)। এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলাম বিশেষ ভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এই দলের মধ্যে আটটি দলের জোট রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, কর্নেল আলি আহমেদের নেতৃত্বে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি। নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপি। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মলেন করে জামায়েত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা করে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “৩০০ টি সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী নির্বাচনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বাকি প্রক্রিয়া সুষ্ঠ ভাবে চূড়ান্ত করার কাজ করা হবে।” আবার অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতাদের অনুপস্থিতি সম্পর্কে রহমান বলেন, “এনসিপির (Jamaat-E-Islami-NCP) তরফে তারা তাদের দলের কথা আমাদের স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে। নিজেরা নিজেদের সিদ্ধান্ত সংবাদ মাধ্যমে দ্রুত জানিয়ে দেবেন।”

    জামায়েত ইসলামি নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়

    তবে জামাতের এই ঘোষণা ন্যাশনাল সিটিজেট পার্টির ভেতরে গভীর বিভাজনের কথাও উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রথমে কোটা বিরোধী আন্দোলন এবং এরপর দফা এক দাবি এক হাসিনার পদত্যাগে এই এনসিপি ছাত্র নেতাদের বিরাট ভূমিকা ছিল। ফলে জামাতের সঙ্গে কিসের ভিত্তিত্বে জোট? কোন রাজনৈতিক স্বার্থকে ঠিক রাখতে রাজনৈতিক লড়াইতে জোটের (Bangladesh Polls 2025) ইঙ্গিত? এই সব একাধিক প্রশ্নের কারণে এনসিপির নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ লক্ষ করা গিয়েছে।

    এনসিপির একজন বিশিষ্ট নেত্রী তাসনিম ঘোষণা করেছেন, দলের মনোনয়ন প্রত্যাখান করবেন। আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন। তিনি বলেন, “আমার ইচ্ছে ছিল আমি একটি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সংসদে প্রবেশ করবো। বর্তমান বাস্তবতার কারণে আমি কোনও নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” আরেক সিনিয়র এনসিপি নেতা সামন্ত শারমিন জোটের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামি নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। আমি বিশ্বাস করি যে জামায়েতে ইসলামির রাজনৈতিক অবস্থান এবং আদর্শের বিবেচনায়, যেকোন সহযোগিতা এবং সমঝোতায় প্রবেশ করলে এনসিপিকে চরম মূল্য দিতে হবে। রাষ্ট্রের মূল নীতি এবং দৃষ্টিভঙ্গী জামায়েতের চিন্তার ভাবনার সম্পূর্ণ বিপরীত। এনসিপি (Jamaat-E-Islami-NCP) ন্যায়বিচার, সংস্কার, এবং একটি গণপরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে গঠিত দল। তাই ভালো করে ভাবার সময় এসেছে।”

    আরেক মুখ তারেখ রহমান

    ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Polls 2025)। তবে এই নির্বাচনে আওয়ামি লিগকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামি লীগ নিষিদ্ধ রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করেছে।

    অপর দিকে বাংলাদেশ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিএনপি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার বলেছিলেন, “১৭ বছর পর নিজের দেশে ফিরে দেশকে একটি উন্নত এবং নিরাপদ রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন আমরা আমাদের বুকে রাখি। গত বৃহস্পতিবার দিন ছিল আমার কাছে চিরস্মরণীয় দিন। আমাকে যে ভাবে আমার দেশবাসীরা অভ্যর্থনা জানিয়েছেন তার জন্য আমি সকলের কাছে ঋণী। দেশের জন্য একটি উজ্জ্বল রোডম্যাপ নিয়ে আমি ফিরে এসেছি। আমি ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় কাজ করবো। এটা আমার কাছে কেবল স্বপ্ন নয়, এমন একটি দেশ যেখানে শান্তি, মর্যাদাকে বিকশিত করবে মাত্র।”

  • Ramakrishna 543: “শুধু জলে দুধ রাখলে দুধ নষ্ট হয়ে যায়, মাখন তুলে জলের উপর রাখলে আর কোন গোল থাকে না”

    Ramakrishna 543: “শুধু জলে দুধ রাখলে দুধ নষ্ট হয়ে যায়, মাখন তুলে জলের উপর রাখলে আর কোন গোল থাকে না”

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    দক্ষিণেশ্বরে রাখাল, মাস্টার, মহিমাচরণ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    দ্বিজ, দ্বিজের পিতা ও ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ—মাতৃঋণ ও পিতৃঋণ 

    “অমি (Ramakrishna) বলি, অনাসক্ত হয়ে সংসার কর। হাতে তেল মেখে কাঁঠাল ভাঙ্গ—তাহলে হাতে আঠা লাগবে না। “কাঁচা মনকে সংসারে রাখতে গেলে মন মলিন হয়ে যায়। জ্ঞানলাভ কর তবে সংসারে থাকতে হয়। “শুধু জলে দুধ রাখলে দুধ নষ্ট হয়ে যায়। মাখন তুলে জলের উপর রাখলে আর কোন গোল থাকে না।”

    দ্বিজর পিতা (Kathamrita) আজ্ঞা, হাঁ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) সহাস্যে—আপনি যে এদের বকেন-টকেন, তার মানে বুঝেছি। অপনি ভয় দেখান। ব্রহ্মচারী সাপকে বললে, ‘তুই তো বড় বোকা! তোকে কামড়াতেই আমি বারণ করেছিলাম। তোকে ফোঁস করতে বারণ করি নাই! তুই যদি ফোঁস করতিস তাহলে তোর শত্রুরা তোকে মারতে পারত না।’ আপনি ছেলেদের বকেন-ঝকেন,—সে কেবল ফোঁস করেন।

    দ্বিজর পিতা হাসিতেছেন।

    “ভাল ছেলে হওয়া পিতার পুণ্যের চিহ্ন। যদি পুষ্করিণীতে ভাল জল হয়—সেটি পুষ্করিণীর মালিকের পুণ্যের চিহ্ন।

    “ছেলেকে আত্মজ বলে। তুমি আর তোমার ছেলে কিছু তফাত নয়। তুমি একরূপে ছেলে হয়েছ। একরূপে তুমি বিষয়ী, আফিসের কাজ করছ, সংসারে ভোগ করছ; — আর একরূপে তুমিই ভক্ত হয়েছ—তোমার সন্তানরূপে। শুনেছিলাম, আপনি খুব ঘোর বিষয়ী। তা তো নয়! (সহাস্যে) এ-সব তো আপনি জানেন। তবে আপনি নাকি আটপিটে, এতেও হুঁ দিয়ে যাচ্ছেন।

    দ্বিজর পিতা ঈষৎ হাসিতেছেন।

    “এখানে এলে, আপনি কি বস্তু তা এরা জানতে পারবে। বাপ কত বড় বস্তু! বাপ-মাকে ফাঁকি দিয়ে যে ধর্ম করবে, তার ছাই হবে!”

    পূর্বকথা—বৃন্দাবনে শ্রীরামকৃষ্ণের মার জন্য চিন্তা

    “মানুষের অনেকগুলি ঋণ আছে। পিতৃঋণ, দেবঋণ, ঋষিঋণ। এছাড়া আবার মাতৃঋণ আছে। আবার পরিবারের সম্বন্ধেও ঋণ আছে—প্রতিপালন করতে হবে। সতী হলে, মরবার পরও তার জন্য কিছু সংস্থান করে যেতে হয়।

    “আমি মার জন্য বৃন্দাবনে থাকতে পারলাম না। যাই মনে পড়ল মা (Kathamrita) দক্ষিণেশ্বরে কালীবাড়িতে আছেন, অমনি আর বৃন্দাবনেও মন টিকল না।

  • AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই (AI) সক্ষমতা গড়ে (AI Models) তোলার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “বিদেশি প্রযুক্তির ওপর লাগামছাড়া নির্ভরতা দেশের জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।” তিনি এও (India) জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নির্ধারক শক্তি হিসেবে এআই ইতিমধ্যেই আবির্ভূত হয়েছে।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি (AI Models)

    পুণে জেলার বারামতিতে বিদ্যা প্রতিষ্ঠানে শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্বোধনের পর ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে গৌতম আদানি বলেন, “সার্বভৌমত্ব ছাড়া উন্নয়ন নির্ভরতা সৃষ্টি করে। আর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অগ্রগতি ঝুঁকি ডেকে আনে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি হলেও, ১৪০ কোটির জনসংখ্যার একটি দেশ তার কর্মসংস্থান, তথ্য, সংস্কৃতি ও সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তাকে বিদেশি অ্যালগরিদম ও বিদেশি ব্যালান্স শিটের হাতে তুলে দিতে পারে না।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা

    আদানি গ্রুপের অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই এআই কেন্দ্রটি পাওয়ার পরিবারের পরিচালনাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্থাপিত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং এনসিপি-এসসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার উপস্থিত ছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা, টেকনোলজি ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা আরও গভীর করতে আদানি গ্রুপ বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করেছে। ভাষণের শুরুতে প্রযুক্তির ইতিহাসজুড়ে তার রূপান্তরকারী চরিত্রের কথা তুলে ধরে আদানি বলেন, “গতকালের বীজ যেখানে মাটিতে বপন করা হয়েছিল, আগামী দিনের বীজ সেখানে অ্যালগরিদমে বপন করা হবে।” তিনি জানান, মানব অগ্রগতি কখনও সরলরৈখিক ছিল না, বরং প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দ্বারা চালিত শক্তিশালী লাফের মাধ্যমেই তা এগিয়েছে।

    অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না

    আদানি (India) বলেন, “মানব অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না। তা এগোয় বড় বড় লাফে। প্রতিটি লাফই এমন এক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ফল, যা প্রথমে সমাজকে অস্থির করে তোলে এবং তারপর অনেক বেশি সক্ষমতার এক উচ্চতর স্তরে সমাজকে পুনর্গঠন করে।” তিনি বাষ্পশক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ থেকে বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাল কম্পিউটিং এবং বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত এই যাত্রাপথের কথা তুলে ধরেন (AI Models)। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সংজ্ঞায়ক শক্তি হিসেবে এআইয়ের উল্লেখ করে আদানি স্বীকার করেছেন, বড় ধরনের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ জড়িয়ে থাকে।

    দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে

    তিনি বলেন, “ইতিহাস আমাদের শেখায় যে এ ধরনের প্রতিটি রূপান্তরের সঙ্গে দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে—একদিকে অসাধারণ সুযোগ, অন্যদিকে গভীর উদ্বেগ। কর্মচ্যুত হওয়ার ভয়, অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার আশঙ্কা, এবং এমন সব ব্যবস্থার হাতে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার ভয়, যেগুলোকে আমরা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।” তিনি (India) বলেন, “এই ভয়গুলো দুর্বলতার লক্ষণ নয়। এগুলো গভীরভাবে মানবিক। এই উদ্বেগগুলোর দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।” ঐতিহাসিক তথ্যের উল্লেখ করে আদানি যুক্তি দেন, প্রযুক্তি ধারাবাহিকভাবে কর্মসংস্থান ধ্বংস না করে বরং তা বিস্তৃত করেছে (AI Models)।
    তিনি বলেন, “প্রযুক্তি কাজ ধ্বংস করে না। প্রথমে এটি ভূমিকা ও কাজের ধরনে বিঘ্ন ঘটায়, তারপর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে।”

    তৃতীয় শিল্পবিপ্লব

    নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি বৈশ্বিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, প্রথম শিল্পবিপ্লব ব্রিটেনে কর্মসংস্থান পাঁচ গুণেরও বেশি বাড়িয়েছিল, আর দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব গণউৎপাদন ও একটি নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম দিয়েছিল। আদানি বলেন, “তৃতীয় শিল্পবিপ্লব- ডিজিটাল বিপ্লব – কাজ বিলুপ্ত করেনি। বরং এটি উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করেছে এবং সফটওয়্যার, পরিষেবা, প্ল্যাটফর্ম ও উদ্যোক্তাদের জন্ম দিয়েছে, যা আজ বিশ্বজুড়ে কয়েক শত মিলিয়ন মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে (India)।” ভারতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মোবাইল বিপ্লব তৃণমূল স্তরে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক শক্তির সঞ্চার করেছে। আদানি বলেন, “ভারতের নিজস্ব অভিজ্ঞতাই এর স্পষ্ট প্রমাণ। মোবাইল বিপ্লব – যা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, চাকরি ধ্বংস করেনি। বরং বিপুল পরিসরে কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়িয়েছে। স্মার্টফোন ও স্বল্পমূল্যের ডেটা যখন সাধারণ ভারতীয়দের হাতে পৌঁছায়, তখন তৃণমূল স্তরে বিপুল অর্থনৈতিক শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে (AI Models)।”

    ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ

    তিনি তথ্য তুলে ধরে জানান, ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে ২৩ কোটিরও বেশি অ-কৃষি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার বড় অংশই ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পর তৈরি হয়েছে। এই সুযোগগুলো কেবল নীতি বা পুঁজি থেকে আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “এই সম্ভাবনাগুলি তখনই বাস্তব হয়েছে, যখন সক্ষমতা সাধারণ নাগরিকের হাতে পৌঁছেছে।” তিনি বলেন, “সেই কারণেই আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এআই এখন পরবর্তী এবং আরও অনেক বেশি শক্তিশালী এক লাফের প্রতিনিধিত্ব করবে। মোবাইল যদি ভারতকে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিয়ে থাকে, তবে এআই ভারতকে দেবে আরও বৃহত্তর সক্ষমতা (India)।” এআই-সক্ষম ভবিষ্যতের একটি চিত্র তুলে ধরে আদানি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিটি খাতে সক্ষমতা, সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং উৎপাদনশীলতাকে গভীরভাবে সংযুক্ত করবে। তিনি বলেন, “কল্পনা করুন, আগামী এক দশকে যখন ১৪০ কোটি ভারতীয় তাঁদের হাতের তালুতেই এআই-চালিত বুদ্ধিমত্তা বহন করতে শুরু করবেন, তখন অগ্রগতি আর সরলরৈখিক থাকবে না। তা বহুগুণে বাড়বে, দ্রুততর হবে এবং বিস্ফোরণের মতো প্রসারিত হবে।”

    তাৎক্ষণিক ঝুঁকি

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে এআই দৈনন্দিন জীবনকে রূপান্তরিত করতে পারে,ফসলের সর্বোত্তম উৎপাদন ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষকদের এআই ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন, পাশাপাশি টিয়ার-থ্রি শহরের গৃহিণীরা কীভাবে বৈশ্বিক মাইক্রোব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারেন, তার উদাহরণও দেন। আদানি সতর্ক করে বলেন, এআই একটি দুই ধারবিশিষ্ট ছুরিও বটে (AI Models)। এই প্রেক্ষাপটে আদানি বলেন, ভারতকে এআইকে একটি কৌশলগত জাতীয় সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, যা ভারতেই নির্মিত হবে, ভারতেই শাসিত হবে এবং ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে (India)।” তিনি বলেন, “শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন এআই এমন এক সময়ে আত্মপ্রকাশ করছে, যা জাতীয় গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—যখন ভারত বৈশ্বিক এআই বিপ্লবের অগ্রভাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এআই-এর ভবিষ্যৎ এমন কিছু নয় যা আপনাআপনি ভারতে এসে পৌঁছাবে। এটি এমন এক ভবিষ্যৎ, যা আমাদের দেশকেই গড়ে তুলতে হবে।”

    এছাড়াও আদানি এআই পরিকাঠামোয় আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন—যার মধ্যে রয়েছে ডেটা সেন্টার ও গ্রিন এনার্জি। তিনি এগুলিকে বুদ্ধিমত্তার কারখানা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সার্বভৌমত্ব, উৎপাদনশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য (AI Models)।

  • PM Modi: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে। এর প্রধান কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি বাড়াচ্ছে, পাশাপাশি ভারতের সাংস্কৃতিক শেকড়কেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” নাগাড়ে কথাগুলি বলে চললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁর মন কি বাত-এর ১২৯তম পর্বে (PM Modi)। তিনি এও বলেন, ভারতের তরুণরা সব সময় নতুন কিছু করার প্রতি আগ্রহী এবং একই সঙ্গে তারা সচেতন ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    তরুণদের নিজেদের ভাবনা তুলে ধরার সুযোগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে জানতে চান, কীভাবে তারা তাদের ভাবনার উপস্থাপনা আমার কাছে দিতে পারেন? আমাদের তরুণ বন্ধুদের এই কৌতূহলের সমাধান হল ‘বিকশিত ভারত ইয়াং লিডার্স ডায়ালগ’। গত বছর এই কর্মসূচির প্রথম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর কয়েক দিনের মধ্যেই এর দ্বিতীয় সংস্করণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, ১২ জানুয়ারি, জাতীয় যুব দিবসে। এই দিনটি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পালিত হয়। আমিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেব।” তিনি বলেন, এই আলোচনা চলাকালীন যুবসমাজ উদ্ভাবন, ফিটনেস, স্টার্টআপ এবং কৃষি, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নিজেদের ভাবনা ও মতামত ভাগ করে নেবে। এই উদ্যোগে তরুণদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দেখে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশও করেন।

    পিচ প্রতিযোগিতা

    তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে এ সংক্রান্ত একটি পিচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ৫০ লাখেরও বেশি তরুণ অংশগ্রহণ করেছিল। পাশাপাশি একটি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়, যেখানে পড়ুয়ারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করে। এই প্রতিযোগিতায় তামিলনাড়ু প্রথম স্থান এবং উত্তরপ্রদেশ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে (PM Modi)।” তিনি আরও বলেন, “দেশের যুবসমাজ তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য নতুন নতুন সুযোগ পাচ্ছে। এমন বহু প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠছে, যেখানে তরুণরা তাদের দক্ষতা ও আগ্রহ তুলে ধরতে পারছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদি এ মাসের শুরুতে সমাপ্ত হওয়া ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন ২০২৫’-এর কথাও উল্লেখ করেন।

    বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান

    তিনি বলেন, “এই হ্যাকাথনের সময় পড়ুয়ারা ৮০টিরও বেশি সরকারি দফতরের দেওয়া ২৭০টিরও বেশি সমস্যার ওপর কাজ করেছে। ছাত্ররা বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান তুলে ধরেছে। উদাহরণস্বরূপ, যানজট সমস্যার ক্ষেত্রে যুবসমাজ ‘স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’-সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে (PM Modi)।” তিনি জানান, আর্থিক জালিয়াতি ও ডিজিটাল গ্রেফতারের মতো সমস্যার মোকাবিলায়ও যুবসমাজ

    তরুণ কৃষি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধানে

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক তরুণ কৃষি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। বন্ধুরা, গত ৭ থেকে ৮ বছরে ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন’-এ ১৩ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী এবং ৬,০০০-এর বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। যুবসমাজ শত শত সমস্যার যথাযথ সমাধান দিয়েছে। এ ধরনের হ্যাকাথন নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয়। আমি আমার তরুণ বন্ধুদের আহ্বান জানাই, তারা যেন অবশ্যই এই হ্যাকাথনগুলিতে অংশ নেয় (PM Modi)।”

    প্রযুক্তিনির্ভর জীবন

    জীবন ক্রমশ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে, এ কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কখনও কখনও মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে রোবট হয়তো মানুষের জায়গা নিয়ে নেবে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে মানব উন্নয়নের জন্য নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতির শেকড়কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।” তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি)-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, “নতুন চিন্তাভাবনা ও নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে—বন্ধুরা, আপনারা নিশ্চয়ই ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের কথা শুনেছেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনই এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।” তিনি মনে করিয়ে দেন, কীভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা ও গবেষণার মধ্যেও সঙ্গীতের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন।

    সঙ্গীত ক্লাসের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কয়েক বছর আগে সেখানে কিছু ছাত্রছাত্রী অনুভব করেছিলেন যে পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি সঙ্গীতেরও একটি জায়গা থাকা উচিত। সেখান থেকেই একটি ছোট সঙ্গীত ক্লাসের সূচনা হয়। না ছিল বড় মঞ্চ, না ছিল বড় বাজেট। ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ বড় হয়ে ওঠে, আর আজ আমরা একে ‘গীতাঞ্জলি আইআইএসসি’ নামে চিনি। এখন এটি আর শুধু একটি ক্লাস নয়, বরং ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (PM Modi)।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গীতাঞ্জলি আইআইএসসিতে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, লোকসঙ্গীত ও অন্যান্য শাস্ত্রীয় ধারার চর্চা হয়, যেখানে ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক এবং তাঁদের পরিবার এক সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জানান, এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা এখন ২০০-এরও বেশি, এবং যাঁরা বিদেশে চলে গিয়েছেন, তাঁরাও অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত থেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংস্কৃতির শেকড়ে যুক্ত থাকার এই প্রচেষ্টা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়রাও তাঁদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দুবাইয়ে বসবাসকারী কন্নড় পরিবারগুলির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে থাকা পরিবারগুলি নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন, আমাদের সন্তানরা প্রযুক্তির দুনিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তারা কি তাদের ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে না? এখান থেকেই ‘কন্নড় পাঠশালা’র জন্ম। এটি এমন একটি উদ্যোগ, যেখানে শিশুদের কন্নড় ভাষায় পড়া, লেখা, শেখা ও কথা বলা শেখানো হয়। আজ এর সঙ্গে এক হাজারেরও বেশি শিশু যুক্ত রয়েছে (PM Modi)।”

  • Ancient Durga Mata Murti: জম্মু-কাশ্মীরের ঝিলম নদী থেকে প্রাচীন দুর্গা মাতার মূর্তি উদ্ধার, শক্তি উপাসনাস্থলের প্রমাণ

    Ancient Durga Mata Murti: জম্মু-কাশ্মীরের ঝিলম নদী থেকে প্রাচীন দুর্গা মাতার মূর্তি উদ্ধার, শক্তি উপাসনাস্থলের প্রমাণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের ঝিলম নদী থেকে প্রাচীন দুর্গা মাতার মূর্তি উদ্ধার (Ancient Durga Mata Murti)। এই মূর্তি কাশ্মীরের ভুলে যাওয়া সনাতনী ঐতিহ্যের প্রতীক। এই দুর্গামূর্তি প্রাচীন পাথরের ভাস্কর্যের নমুনা। উদ্ধারকৃত মূর্তিটি বারামুলা পুলিশ সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে মূর্তির বয়স কয়েক শতাব্দী প্রাচীন। এলাকায় এক সময় দুর্গা উপাসক হিন্দু জনবসতি বিরাট পরিমাণে যে ছিল, এটা তার প্রমাণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

    মাছ ধরতে গিয়ে উদ্ধার (Ancient Durga Mata Murti)

    গত ২৫ ডিসেম্বর শালতাং জোগিয়ারের বসিন্দা গোলাম মোহাম্মদ লাটুর ছেলে নাজির আহমেদ লাটু এই মাতা দুর্গার ভাস্কর্যটিকে (Ancient Durga Mata Murti) খুঁজে পেয়েছেন। তিনি ঝিলম নদীতে মাছ ধরার সময় পাথরের মূর্তিটি দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় শিরি থানায় খবর দেন। প্রাচীন ভাস্কর্যকে রক্ষা করা এবং তা সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে বিশেষ ভাবে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন স্থানীয় জনতা। এরপর আবিষ্কৃত এই ঐতিহাসিক পাথর এবং ভাস্কর্যের গুরুত্ব উপলব্ধী করে স্থানীয় পুলিশ জম্মু-কাশ্মীর আর্কাইভ, প্রত্নতত্ত্ব এবং জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর (Jammu and Kashmir) করে।

    প্রশাসনের বক্তব্য

    ২৫ ডিসেম্বর উদ্ধার হলেও দুর্গা (Ancient Durga Mata Murti) মায়ের মূর্তিটি ২৬ ডিসেম্বর হস্তান্তর করা হয়। তবে স্থানীয় মূর্তি বিশারদ বা গবেষকরা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শৈল্পিক তাৎপর্য, পরীক্ষা, তথ্য সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলিকে নিয়ে আরও ভাবতে হবে। এই ধরনের মূর্তি প্রমাণ করে কাশ্মীরের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট কেমন ছিল। এখানকার সংস্কৃতি কতটা প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ তাও বুঝতে চেষ্টা করে। তবে বারামুলা পুলিশ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় জনতা যে কোনও রকম পুরাতন ভাস্কর্য এবং মূর্তির (Jammu and Kashmir) খবর পেলে এবং জানালে, পুলিশ সংরক্ষণের জন্য সবরকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

  • Unnao Rape Case: উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সিংয়ের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে সিবিআই

    Unnao Rape Case: উন্নাও ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সিংয়ের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে সিবিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উন্নাও ধর্ষণ মামলায় (Unnao Rape Case) দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সিংয়ের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন করেছে সিবিআই। ২০১৭ সালে উন্নাও ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড স্থগিত করে দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। এবার এই হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। ২৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আদালতে পকসো আইনের সুরক্ষা এবং নির্যাতিতার নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করা ভীষণভাবে প্রয়োজন।

    যাবজ্জীবন কারবাসে কেন স্থগিতাদেশ (Unnao Rape Case)

    সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের নেতৃত্বে তিন বিচারপতি বেঞ্চ ২৯ ডিসেম্বর বিষয়ের শুনানি করতে সম্মত হয়েছেন। আইনের ব্যাখ্যা এবং পকসো আইনের প্রেক্ষিতে যাবজ্জীবন কারবাসের সাজায় স্থগিতাদেশ কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়েই প্রশ্ন তুলবেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, কুলদীপের মামলাটির (Unnao Rape Case) রায়ে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, এই মামলায় যৌন অপরাধ ৫ (সি), শিশু সুরক্ষা আইন, ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৬(২)-মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযক্ত হয়নি। কিন্তু যেহেতু মামলার মূল ভিত্তি নাবালিকা ধর্ষণের মামলা, তাই শিশুদের যৌন হেনস্থার মতো অপরাধের আইনকে আরও শক্তিশালী করতে দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে আর একবার ভেবে দেখার জন্য দেশের শীর্ষ আদালতে আবেদন করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    কুলদীপের আচরণ প্রভাবশালীদের মতো

    নির্যাতিতার নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে সিবিআই সতর্ক করে জানিয়েছে যে মূল অভিযুক্ত কুলদীপের (Unnao Rape Case) আচরণ প্রভাবশালীদের মতো। তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় লোকবলের এখনও রমরমা এলাকায়। নির্যাতিতা এবং পরিবারের ওপর ভয় দেখিয়ে সাক্ষীদের প্রভাবিত করার মতো ঘটনা আগেও কয়েকবার দেখা গিয়েছে। তাই মামলাকে হালকাভাবে দেখা উচিত নয়।

    ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার এক নাবালিকাকে ধর্ষণের (Unnao Rape Case) অভিযোগে কুলদীপ সেঙ্গারকে বিশেষ সিবিআই আদালত দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাবাসের শাস্তি ঘোষণা করে। সেই সময় এই মামলাটি বেশ আলোড়ন ফেলে ছিল দেশজুড়ে। তৎকালীন বিজেপি সরকারকে ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছিল। উল্লেখ্য ২০২০ সালে নির্যাতিতার বাবাকে হত্যা সম্পর্কিত আরেকটি পৃথক মামলায় ১০ বছরের কারাবাসের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল কুলদীপকে।

  • Fake GDP: ভুয়ো জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নাড়িয়ে দিল চিনকে, কেন মিথ্যে বলল জিনপিং সরকার?

    Fake GDP: ভুয়ো জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নাড়িয়ে দিল চিনকে, কেন মিথ্যে বলল জিনপিং সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে চিনে। তার সঙ্গেই লড়াই করতে হচ্ছে শি জিনপিংয়ের সরকারকে। এমতাবস্থায় ভুয়ো জিডিপি (Fake GDP) প্রবৃদ্ধির অভিযোগ দেশটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দাবি, ২০২৫ সালের শেষ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত চিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.২ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এখন চিনের এই দাবি নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলছেন।

    চিনের প্রকৃত অর্থনৈতিক সূচক (Fake GDP)

    বিশ্ব বিখ্যাত পরামর্শক সংস্থা রোডিয়াম গ্রুপের অভিযোগ, সরকারি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান অত্যন্ত অতিরঞ্জিত এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তথ্য প্রকাশ করে বেইজিং সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। সংস্থাটির মতে, চিনের (China) প্রকৃত অর্থনৈতিক সূচকগুলির সঙ্গে সরকারের ঘোষিত শীর্ষ প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের কোনও সামঞ্জস্য নেই। চিন টানা ১০টিরও বেশি ত্রৈমাসিক ধরে তীব্র মুদ্রাস্ফীতিহীনতার শিকার। ডিফ্লেশন ঘটে যখন মুদ্রাস্ফীতি শূন্যের নীচে নেমে যায়। ফলে পণ্যের দাম কমতে থাকে, চাহিদা কমে যায় এবং কর্পোরেট লাভ হ্রাস পায়। এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তারা খরচ করতে দেরি করেন, সংস্থাগুলি লাভ করতে হিমশিম খায় এবং অর্থনৈতিক গতি তীব্রভাবে মন্থর হয়ে পড়ে।

    চিনে কর্পোরেট মুনাফা

    চিনে কর্পোরেট মুনাফা নভেম্বর মাসে ১৩.১ শতাংশ কমেছে, যা অক্টোবরে ৫.৫ শতাংশ পতনের পর আরও গভীর মন্দার ইঙ্গিত দেয়। রোডিয়াম গ্রুপ জানিয়েছে, এত দীর্ঘ সময় ধরে ডিফ্লেশনের মুখে পড়েও কোনও বড় অর্থনীতি কখনও প্রায় ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ, যা দীর্ঘদিন ধরে চিনের অর্থনৈতিক মডেলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়, সেটাই জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে কমেছে ১১ শতাংশ (China)। একাধিক সূচকের ভিত্তিতে বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৫ সালে চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখনও ৩ শতাংশের বেশি হয়নি (Fake GDP)।

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরা

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাইওয়ানের তামকাং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাই মিং-ফাং এবং চুং-হুয়া ইনস্টিটিউশন ফর ইকোনমিক রিসার্চের লিউ মেং-চুন অভিযোগ করেছেন, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও শক্তি ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি তুলে ধরতে বেইজিং রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে জিডিপি পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধ চিনের একসময়ের প্রভাবশালী রফতানি খাতকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাণিজ্য নীতিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত চিনের পক্ষেই বুমেরাং হয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় চিন এখন বিকল্প বাজারের সন্ধান করতে বাধ্য হচ্ছে (China)।

    ভোগব্যয়ের সূচকগুলি

    দেশীয় ভোগব্যয়ের সূচকগুলিও সমানভাবে হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরছে (Fake GDP)। জিডিপি হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান খুচরো বিক্রির প্রবৃদ্ধি নভেম্বরে নেমে এসেছে মাত্র ১.৩ শতাংশে, যেখানে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ২.৮ শতাংশ। একই সময়ে শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৮ শতাংশে। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিও কোভিড মহামারির পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। চিনের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় সরকারি প্রবৃদ্ধির বর্ণনার ওপর আস্থা আরও দুর্বল হয়েছে।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি

    এই প্রেক্ষাপটে বহু অর্থনীতিবিদের মতে, ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি বিশ্বাসযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এদিকে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ছে। তাইওয়ানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের মার্কিন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বেইজিং (China)। কারণ তারা তাইওয়ানকে চিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেই দাবি করে (Fake GDP)। ‘এক চিন নীতি’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বেইজিং ২০টি মার্কিন প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ঘোষণা করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান সিস্টেমস, এল৩ হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস, বোয়িং, গিবস অ্যান্ড কক্স, সিয়েরা টেকনিক্যাল সার্ভিসেস, টিল ড্রোনস, ভেন্টার এবং রেডক্যাট হোল্ডিংস।

    অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে, আগামী মাসগুলিতে চিনের সরকারি অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হবে বলেই অনুমান (Fake GDP)।

  • Hindus Under Attack: দেশ তো বটেই, বিদেশেও চলছে হিন্দুদের ওপর হামলা

    Hindus Under Attack: দেশ তো বটেই, বিদেশেও চলছে হিন্দুদের ওপর হামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশ সর্বত্রই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন হয়ে উঠেছে (Hindus Under Attack)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন আমাদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে সংঘটিত হওয়া এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Roundup Week)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তৃতি উপেক্ষা করে এসেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য – সব মিলিয়ে হিন্দুরা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছেন। এসবই নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের প্রকাশ। ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫- এই সময়সীমায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এই ধরনের অপরাধগুলির একটি চিত্র তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন হন।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার তাদের শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বার্তায় খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠান, যাজক ও সাধারণ খ্রিস্টান সমাজের সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রকাশ্য যোগাযোগ স্থাপন করেছে। অন্তত সাতটি উচ্চপর্যায়ের নথিভুক্ত অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান উৎসব, কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি এবং চার্চ সম্পত্তির সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গুজরাটের নবসারি জেলার দাবেল গ্রামে এক তরুণ হিন্দু আদিবাসীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং লক্ষ্যভিত্তিক হিংসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিহত যুবকের নাম দীপক কালিদাস রাঠোর। তিনি হালপতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। নবসারি পুলিশের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, তাঁর এলাকার একাধিক মুসলিম যুবকের নৃশংস হামলার ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (Roundup Week)।

    গায়িকা লগ্নজিতাকে হেনস্থা

    খ্যাতনামা বাঙালি গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ভগবানপুরে একটি বেসরকারি স্কুলের অনুষ্ঠানে লাইভ(Hindus Under Attack)  পারফরম্যান্স চলাকালীন তাঁকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তিনি যখন চলচ্চিত্র দেবী চৌধুরানী থেকে ভক্তিমূলক গান “জাগো মা” পরিবেশন করেন, তখন মেহবুব মল্লিক নামে এক ব্যক্তি, যিনি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলে পরিচিত, মঞ্চে উঠে তাঁকে ধমক দেন এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ কিছু’ গান গাওয়ার দাবি জানান। তামিলনাড়ুর ডিন্ডিগুল জেলা ও আশপাশের একাধিক গ্রামে জমির ব্যবহার, ধর্মীয় অধিকার এবং কথিত দখলদারিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যে পেরুমাল কোভিলপট্টি গ্রামটি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গ্রামটিতে প্রায় ১,০০০টি পরিবার বসবাস করে, যার মধ্যে আনুমানিক ৮৫০টি খ্রিস্টান এবং প্রায় ১৫০টি হিন্দু পরিবার। ফলে হিন্দুরা সেখানে সংখ্যালঘু। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হল ধর্মীয় উদ্দেশ্যে বরাদ্দ সরকারি একটি জমি।

    নমাজ বিতর্ক

    বৈষ্ণব কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর আরাধনা সখী পুনের শনিবার ওয়াড়া নমাজ বিতর্কে সরব হওয়ার পর ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সেখানে দেখা যায় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ শনিবার ওয়াড়ার প্রাঙ্গনে নমাজ আদায় করা (Roundup Week) হচ্ছে। কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবন কুট্টি তিরুবনন্তপুরমের আট্টুকালে অবস্থিত চিন্ময় বিদ্যালয়কে(Hindus Under Attack) বড়দিন উদযাপনের নির্দেশ দেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিদ্যালয়টি বড়দিন উদযাপনের জন্য প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে সংগ্রহ করেছিল। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে জানায় যে উৎসবটি বাতিল করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এক অভিভাবকের অভিযোগের পর মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে স্কুলকে উৎসব আয়োজনের নির্দেশ দেন।

    হিন্দুরা বৈষম্যের শিকার

    ডিএমকের শাসনে হিন্দুরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই বৈষম্যের সর্বোত্তম উদাহরণ হল থিরুপারঙ্কুন্দ্রাম। তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার এই ঐতিহাসিক শহরটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং হিন্দু ধর্মীয় আচরণের প্রতি বৈষম্য নিয়ে বিতর্কের একটি বড় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কাশী বিশ্বনাথর মন্দির চত্বরে ও তার আশপাশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি হিন্দু সমাজে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, কারণ রাজ্য প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সীমিত করছে, অথচ মুসলিম ধর্মীয় সমাবেশগুলিকে জাঁকজমকপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে সাহায্য করছে (Hindus Under Attack)।দীপাবলিতে ‘না’, কিন্তু বড়দিনে ‘হ্যাঁ’- এই হল (Roundup Week) টিভিকে বিজয়ের দ্রাবিড় মডেলের রাজনীতি। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (TVK) স্পষ্ট দ্বিচারিতার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারুর পদদলিত দুর্ঘটনার পর জনশোকের অজুহাত তুলে একটি হিন্দু উৎসব উদযাপনে নিরুৎসাহিত করা হয়, অথচ পরে কোনও সংযম না দেখিয়ে বড়দিন উদযাপন করা হয় এবং তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করা হয়।

    লাভ জেহাদ

    ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলায় এক মুসলিম মহিলার অভিযোগ একটি আলোচিত তদন্তের সূত্রপাত করেছে। অভিযোগ, তাঁর স্বামী পরিকল্পিত ‘লাভ জেহাদ’ চক্রের মাধ্যমে হিন্দু নারীদের ফাঁদে ফেলত এবং প্রতিটি বিয়ের জন্য সহযোগী সংগঠনগুলির কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেত (Hindus Under Attack)। পুলিশ প্রতারণা এবং সংগঠিত আর্থিক প্রণোদনার নেটওয়ার্ক – উভয় বিষয়েই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় রাজ্যে জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার, যিনি যৌন শোষণ, ব্ল্যাকমেইল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের (লাভ জেহাদ বা যৌন গ্রুমিং) অভিযোগ এনেছেন। তাঁকে এখন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশি তদন্ত, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ তীব্রতর হয়েছে। অভিযুক্ত মুসলিম রেসিডেন্ট ডাক্তার রামিজউদ্দিন, প্যাথলজি বিভাগের কর্মী, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও উত্তরপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    নৃসিংহ স্বামী মন্দির 

    পবিত্র কাদিরি শ্রী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ভারতজুড়ে হিন্দু ভক্তদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আটটি পুলিশ যান ও নজরদারি ড্রোনের উদ্বোধনের সময় টিডিপি বিধায়ক কন্দিকুন্তা ভেঙ্কট প্রসাদ কাদিরি শ্রী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরের প্রবেশদ্বারে একজন পাদ্রি ও একজন মৌলানাকে প্রার্থনা করাতে আমন্ত্রণ জানান। কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের অধীনে কেপু মন্দিরের ‘কোরি কট্টা’ আচারকে (Roundup Week) কেন্দ্র করে পুলিশের হস্তক্ষেপ আইন, ঐতিহ্য এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতিকে লক্ষ্য করে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা (Hindus Under Attack)। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে হামলা। পরিকল্পিতভাবে দেশটি থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব হামলা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে জনতার হামলা, নারীদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য, এসবই হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার জন্য ব্যবহৃত কৌশল।

    বাংলাদেশের ছবি

    ঝিনাইদহ জেলায় এক হিন্দু রিকশাচালককে জনতা মারধর করেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার কবজিতে একটি পবিত্র লাল সুতো লক্ষ্য করার পর তাঁর পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঝিনাইদহ পুরসভার গেটের কাছে একদল লোক ওই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে তাঁর রিকশা থেকে নামিয়ে এনে শুধু কবজির লাল সুতো থাকার কারণেই মারধর করে(Hindus Under Attack)। জনতার সহিংসতার এক ভয়াবহ ঘটনায়, বাংলাদেশ পুলিশের স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজবাড়ি জেলায় মুসলিম গ্রামবাসীদের হাতে ২৯ বছর বয়সী এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম অমৃত মণ্ডল, যিনি সম্রাট নামেও পরিচিত ছিলেন। পাংশা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে একটি বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলে তাঁকে আক্রমণ করা হয় (Roundup Week)। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন অভিযোগ ওঠে যে হিন্দু বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে আটকে রেখে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল।

    হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ

    অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষায় ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ কাজ করে। ইসলামী দেশগুলিতে হিন্দুবিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, আর একটি আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দুবিরোধী মনোভাব দেখা যায় তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির (যেমন ভারত) প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে (Hindus Under Attack)। এই সূক্ষ্ম বৈষম্য হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। প্রচলিত আইন ও নিদর্শনগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ না করলে এই দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা তার একটি ভালো উদাহরণ। ওপর ওপর এটি দূষণ-সংক্রান্ত বিষয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞার পেছনে যুক্তিসঙ্গত (Roundup Week) ব্যাখ্যার অভাব লক্ষ্য করলে এই দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

  • Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্তে যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)। সপ্তাহ তিনেক ধরে চলা প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ফলে প্রায় দশ লাখ মানুষ তাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে অবস্থানে সেনারা রয়েছেন, সেখানেই ফ্রন্টলাইন স্থির রাখা হবে, নতুন করে সেনা বা রসদ পাঠানো বন্ধ থাকবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব নিজ নিজ (Deadly Clash) বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি টানা ৭২ ঘণ্টা কার্যকর থাকলে, জুলাই মাস থেকে তাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

    যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)

    চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সহায়তায় দুই দেশের মধ্যে টানা কয়েক দিনের আলোচনার পর এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। চুক্তিটিতে বাস্তুচ্যুতদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাইন সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। তাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্খফানিত যুদ্ধবিরতিকে অন্য পক্ষের আন্তরিকতার একটি পরীক্ষা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হয় বা লঙ্ঘিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার তাইল্যান্ড বজায় রাখবে।” রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্কের আশা, এই যুদ্ধবিরতি শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক মুখপাত্রের বাস্তবায়নে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বানও জানান।

    যুদ্ধবিরতিতে গররাজি ছিল তাইল্যান্ড

    তাইল্যান্ড প্রথমে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে গররাজি ছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আগের যুদ্ধবিরতি সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি, কম্বোডিয়া সংঘাতটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা করছে বলে তাইল্যান্ড মনে করে, তাতেও তারা অসন্তুষ্ট ছিল। জুলাই মাসের আগের যুদ্ধবিরতির তুলনায় এবার একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যভাবে এতে যুক্ত ছিলেন না, যদিও আমেরিকার বিদেশ দফতর প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত ছিল। চলতি মাসের শুরুতেই সেই আগের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে, যখন নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire) ভাঙার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে। তাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাইল্যান্ডের সি সা কেট প্রদেশে কম্বোডিয়ার দিক থেকে গোলাবর্ষণের জবাবে তাদের সেনারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় দুজন তাই সেনা জখম হন।

    তাইবাহিনীর হানা

    অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দাবি, প্রথমে আক্রমণ চালায় তাইবাহিনী, প্রেয়াহ ভিহেয়ার প্রদেশে। তারা আরও জানায়, কম্বোডিয়া পাল্টা আক্রমণ করেনি। ডিসেম্বরজুড়ে সংঘর্ষ চলতে থাকে। শুক্রবার তাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার ভেতরে আরও বিমান হামলা চালায় (Deadly Clash)। তাই বিমান বাহিনীর দাবি, বেসামরিক লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তারা কম্বোডিয়ার একটি সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এসব হামলাকে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের ওপর নির্বিচার আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছে। এবার যুদ্ধবিরতি কতটা টিকে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। কারণ দুই দেশেই জাতীয়তাবাদী আবেগ তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

    যুদ্ধ ব্যাপক ক্ষয় কম্বোডিয়ার

    বিশেষ করে কম্বোডিয়া বিপুল সংখ্যক সেনা এবং উল্লেখযোগ্য সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। সীমান্তে আগে দখলে থাকা অবস্থানগুলো থেকে তাদের সরে যেতে হয়েছে এবং তাই বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এসব ক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে (Thailand Cambodia Ceasefire)। সীমান্ত নিয়ে এই দুই দেশের মতবিরোধের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো। তবে চলতি বছরের শুরুতে উত্তেজনা বেড়ে যায়, যখন বিতর্কিত একটি মন্দিরে কম্বোডিয়ার কয়েকজন নারী দেশাত্মবোধক গান গেয়েছিলেন (Deadly Clash)। মে মাসে এক সংঘর্ষে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হন। এর দুমাস পরে, জুলাইয়ে, সীমান্তজুড়ে টানা পাঁচ দিন ধরে তীব্র লড়াই চলে। এতে কয়েক ডজন সেনা ও নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান,  বাস্তুচ্যুত হন হাজার হাজার নাগরিক। মালয়েশিয়া এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পরে দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়, যা অক্টোবরের শেষ দিকে স্বাক্ষরিত হয়।

    কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি

    ট্রাম্প এই চুক্তির নাম দেন “কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি”। এই চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষকে বিতর্কিত অঞ্চল থেকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার করতে হবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষক দল গঠন করতে হবে। তবে নভেম্বর মাসে তাইল্যান্ড এই চুক্তি স্থগিত করে দেয়, যখন মাইন বিস্ফোরণে তাই সেনারা জখম হন। তাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সেই সময় জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তাজনিত হুমকি বাস্তবে একেবারেই কমেনি (Thailand Cambodia Ceasefire)।

  • Winter Air Pollution: খোলা জায়গায় পোড়ানো প্লাস্টিক অত্যন্ত বিষাক্ত, কলকাতার বায়ু দূষণ নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Winter Air Pollution: খোলা জায়গায় পোড়ানো প্লাস্টিক অত্যন্ত বিষাক্ত, কলকাতার বায়ু দূষণ নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লার আগুন, যানবাহনের ধোঁয়া, অনিয়ন্ত্রিত কলকারখানা এবং শিল্প কেন্দ্রের বর্জ্য কলকাতার দূষিত বাতাসের প্রধান কারণ। অবশ্য আরও একটি কারণ রয়েছে, যাকে একেবারেই উপেক্ষা করা ঠিক নয় কিন্তু খুব কমই সমাধান নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা হয়। এবার ভাবনা চিন্তা শুরু করা উচিত। আর তা হল বর্জ্য পোড়ানো এবং সেখান থেকে সৃষ্টি হওয়া ধোঁয়া। এই সবটাই পরিবেশকে (Winter Air Pollution) মারাত্মকভাবে দূষিত করে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, কঠিন বর্জ্যে প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে গুরুতরভাবে বেড়ে যায় স্বাস্থ্যের ঝুঁকি। খোলা জায়গায় পোড়ানো হলে প্লাস্টিক অত্যন্ত বিষাক্ত এবং কার্সিনোজেনিক নির্গত করে।

    পিএম ১০ এবং পিএম ২.৫ দূষণ প্রধান কারণ

    ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কলকাতার দূষিত (Winter Air Pollution) বাতাসের প্রধান কারণ নির্ধারণের জন্য দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আবর্জনা পোড়ানো পিএম ১০ (PM10) এবং আরও মারাত্মক পিএম ২.৫ (PM2.5) উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভূমিকা রাখে। এই উভয় ক্ষুদ্র কণাই আমরা বাতাসের সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করি। এই দুটির মধ্যে, পিএম ২.৫, ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার কম ব্যাসের কণা হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বৃহত্তর ঝুঁকি কারণ। এই বিষাক্ত কণাই (Kolkata Environment) মানুষের ফুসফুসে ঢুকতে পারে। যার পরিণতিতে অসুস্থতা এবং প্রাণহানিও ঘটতে পারে।

    বালিগঞ্জ, বিধাননগর, যাদবপুরে বায়ুর মান কেমন?

    প্রতি শীতকালে, কলকাতার বাতাসের মান নিম্নগামী হয় এবং তাপমাত্রার পারদও কমে যায়। শনিবার সকাল ১০ টায়, ভিক্টোরিয়ায় বাতাসের মান খুব খারাপ ছিল। বালিগঞ্জ, বিধাননগর, যাদবপুর এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিটি রোড ক্যাম্পাস) বাতাস আরও খারাপ ছিল। তবে ফোর্ট উইলিয়ম এবং রবীন্দ্র সরোবরে বাতাসের মান ছিল মাঝারি।

    কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুত জাতীয় বায়ু মানের সূচকে “মাঝারি” “ভালো” এবং “সন্তোষজনক” এর নীচে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। অপর দিকে “নিরাপদ” এবং “খুব খারাপে”র ওপর রয়েছে কলকাতার বাতাস। গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে দূষণের (Winter Air Pollution) উৎসগুলি একেবারে যে থাকে না তা নয়, উষ্ণ বাতাস এবং বৃষ্টির মতো জলবায়ুগত (Kolkata Environment) কারণগুলি কিছু দূষণকারী পদার্থগুলিকে ছড়িয়ে দেয় বা ধুয়ে ফেলে। এতে দূষণের মাত্রাটা কিছুটা হলেও কম থাকে। তবে শীতকালে, বাতাস ঠান্ডা এবং ভারী থাকে। ফলে উষ্ণ বাতাসের মতো দ্রুত উপরে ওঠে না। শীতকালে বাতাসের গতিও সাধারণত কম থাকে। তাই এই সমস্ত দূষণকারী পদার্থগুলি আটকে থাকে নিম্ন বায়ুমণ্ডলে।

    দূষণে অংশীদারিত্ব কত?

    কলকাতায় দূষিত বাতাসের প্রধান উৎসগুলি হল ধুলো, কয়লা এবং জৈববস্তু পুড়িয়ে রান্না, যানবাহনের ধোঁয়া নির্গমন, শিল্প দূষণ এবং আবর্জনা পোড়ানো। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হল ধুলো, পিএম ১০। দূষণ সৃষ্টির জন্য ৪৩ শতাংশ দায়ী। রাস্তার ধারের খাবারের দোকান, খোলা জায়গায় রান্নার জন্য কয়লার ব্যবহার, জৈববস্তুর ব্যবহার এবং ইস্ত্রি করে কয়লার ব্যবহার সহ আরও নানা কারণে পিএম ২.৫ দূষণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। আনুমানিক দূষণের ২৯ শতাংশ ভূমিকা পালন করে। একইভাবে শিল্প দূষণ (Kolkata Environment) ২১ শতাংশ এবং যানবাহন ২০ শতাংশ ধোঁয়া ছড়ায়।

    বেশিরভাগই গলা এবং বৃহৎ শ্বাসনালীতে জমা হয়

    পিএম১০ এবং পিএম২.৫ উভয়ই আমাদের ক্ষতি করে। কিন্তু পিএম২.৫ আরও বেশি ক্ষতি করে। পিএম২.৫-তে সূক্ষ্ম এবং অতি-সূক্ষ্ম উভয় ধরনের কণাই থাকে, যা ফুসফুসজুড়ে ভ্রমণ করতে পারে। এই কণাগুলি রক্ত ​​সঞ্চালনে প্রবেশ করতে পারে এবং সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কলকাতা মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পালমোনোলজিস্ট অরূপ হালদার বলেন, “শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রভাব এক্সপোজারের সময়কাল ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘদিন ধরে এক্সপোজারের স্পষ্টতই খারাপ প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য তীব্র এক্সপোজারও ক্ষতির কারণ হয়।”

    বায়ুর মান সূচক (AQI) অনুসারে, “মাঝারি” বায়ুর মানও হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। “খারাপ” বাতাসের গুণমান কমে গেলে দীর্ঘদিন ধরে সংস্পর্শে থাকার ফলে বেশিরভাগ মানুষের শ্বাসকষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে “খুব খারাপ” বাতাস (Kolkata Environment) দীর্ঘক্ষণ সংস্পর্শে থাকার ফলে “শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা” দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকরা বলেছেন পিএম ১০ বেশিরভাগই গলা এবং বৃহৎ শ্বাসনালীতে জমা হয়। এগুলি নাক এবং বৃহৎ শ্বাসনালীতে জ্বালাভাবের সৃষ্টি করে।

    বর্জ্য পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন

    নয়াদিল্লির সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের পরিচালক অনুমিতা রায় চৌধুরী বলেন, “পিএম২.৫ এর উৎপাদনে অবশ্যই রাশ টানতে হবে। শিল্প দূষণ, যানবাহনের নির্গমন এবং বর্জ্য পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের করণীয় তালিকার শীর্ষে থাকা উচিত। শিল্প দূষণের উৎসগুলি বেশিরভাগই স্থানীয় এবং পার্শ্ববর্তী। সরকারের উচিত একটি অঞ্চলের মধ্যে শিল্প দূষণ (Winter Air Pollution) নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সুকৌশল ঠিক করা। এটা করতে পারলেই কলকাতার বায়ুর (Kolkata Environment) মান উন্নত করা সম্ভব হবে। হতে পারে সে দূষণ হাওড়া অথবা কলকাতার উপকণ্ঠ থেকে আসছে। এর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জায়গাগুলির কথাও  বিবেচনা করা উচিত।”

    দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায় কী?

    ডিজেল এবং পেট্রোলচালিত যানবাহনের পরিবর্তে আরও বৈদ্যুতিক যানবাহন বেশি বেশি ব্যবহার করতে হবে। সমস্ত কয়লাচালিত ওভেনকে বিদ্যুৎচালিত ইন্ডাকশন ওভেন দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে বায়ু দূষণে ছোট খাবারের দোকানগুলির ভূমিকা কমে যাবে। হকার এবং যারা ইস্ত্রি ইউনিট চালান তাঁদের বৈদ্যুতিক চালিত ইন্ডাকশন ওভেন বা হিটিং চালানোর জন্য উৎসাহিত করা উচিত।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান পুনর্বসু চৌধুরী বলেন, “সরকারের উচিত তাদের ভর্তুকিযুক্ত বিদ্যুৎব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা। রাজ্য দূষণ (Kolkata Environment) নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কর্তারা জানান, শহরজুড়ে নির্মাণ কাজের কারণে বাতাসে এত ধুলো ঝুলে আছে। জল ছিটিয়ে রাস্তার ধুলো ওড়ানো বন্ধ করা যেতে পারে। নির্মাণস্থলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জল ছিটিয়ে মাটি এবং নির্মাণ সামগ্রী আর্দ্র রাখা উচিত। এটি ধুলো উড়তে বাধা দেবে।”

LinkedIn
Share