Tag: bjp

bjp

  • Assam Assembly Election: অসমে শেষ ভোট প্রচার, উগ্র বিদ্বেষমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় কংগ্রেস

    Assam Assembly Election: অসমে শেষ ভোট প্রচার, উগ্র বিদ্বেষমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবারই শেষ হল ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের (Assam Assembly Election) প্রচার। এদিনই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের (Mallikarjun Kharge) বিরুদ্ধে উগ্র বিদ্বেষমূলক ভাষণ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

    কাঠগড়ায় খাড়্গে (Assam Assembly Election)

    হিন্দুদের প্রতি চরম হতাশা ও বিদ্বেষের প্রকাশ হিসেবে, শ্রীভূমি জেলার দক্ষিণ করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের এক নির্বাচনী জনসভায় খাড়্গে দলের মুসলিম সমর্থকদের উসকানি দেন বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের সভাপতি বলেন, “প্রয়োজনে মাঝপথে নমাজ আদায় ছেড়ে দিয়েও আরএসএস এবং বিজেপি কর্মীদের আক্রমণ করতে হবে।” এই দুই সংগঠনকে তিনি তুলনা করেন বিষধর সাপের সঙ্গে। খাড়্গে বলেন, “কোরআনে বলা আছে, যদি বিষধর সাপ দেখ, তাহলে তাকে মেরে ফেলতে হবে, এমনকি যদি নমাজ আদায় মাঝপথে ছাড়তেও হয়। আরএসএস-বিজেপি সেই বিষধর সাপের মতো। যদি তাদের না মারো, তবে তোমরা নিরাপদে থাকবে না।”

    একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের

    কংগ্রেস নেতার এহেন মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছে। আরএসএসের তরফে অভিযোগ দায়ের হয়েছে দিশপুর এবং শিলচর থানায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, দক্ষিণ অসমের এক নির্বাচনী সভায় দেওয়া এই বক্তব্য অবমাননাকর, উসকানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল (Mallikarjun Kharge)। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্যে আরএসএস এবং বিজেপির মতাদর্শকে বিষধর সাপের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং তাদের নির্মূল করার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে (Assam Assembly Election)। আরএসএস জানিয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য উত্তেজনা ছড়াতে পারে এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে শত্রুতা, ভয়ভীতি ও হিংসা উসকে দিতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় ভাবাবেগকে হাতিয়ার করাও খাড়্গের বক্তব্যে স্পষ্ট।

    জনপ্রতিনিধিত্ব আইন

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই বক্তব্য ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮৩ নম্বর ধারার অধীনে দুর্নীতিপূর্ণ নির্বাচনী আচরণের মধ্যে পড়ে। এটি জনসাধারণকে ভয় দেখানো এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর শামিল (Assam Assembly Election)। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আরএসএস এবং বিজেপির মতাদর্শকে “বিষাক্ত” বলে চিহ্নিত করা এবং তাদের নির্মূল করার আহ্বানকে সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাতের প্ররোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, এই মন্তব্য হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এবং অসমে জনশান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে পারে। এমন বক্তব্য সময়মতো মোকাবিলা করা না হলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা সংঘর্ষের আশঙ্কাও রয়েছে।

    আরএসএসের বক্তব্য

    আরএসএসের তরফে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক আলোচনাকে সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং নির্বাচনী প্রচারে এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়, যা সামাজিক ঐক্য ও শান্তিকে বিপন্ন করে (Assam Assembly Election)। এদিকে, খাড়্গের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি থানায় এফআইআর দায়ের করেছে বিজেপিও। অসম বিজেপির দাবি, ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্য কংগ্রেস এমন পর্যায়ে নেমে গিয়েছে যে তারা সনাতন সভ্যতার পবিত্র প্রতীকগুলিকেও আক্রমণ করছে। কংগ্রেস নেতার এই উসকানিমূলক মন্তব্যকে হিন্দু বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অপমান হিসেবে তীব্র নিন্দে করেছে অসম প্রদেশ বিজেপি।

    প্রকাশ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্য

    পদ্মশিবিরের মতে, আরএসএস-বিজেপিকে নিষিদ্ধ করার দাবি রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার পরিচয় এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যও প্রকাশ করে। বিজেপির অভিযোগ, সনাতন সভ্যতায় প্রকৃতি ও জীবজগতকে পবিত্র হিসেবে মানা হয়, কিন্তু ভোটের মেরুকরণের উদ্দেশ্যে কংগ্রেস (Mallikarjun Kharge) এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে ভগবান শিবের পবিত্র অলঙ্কারকেও ক্ষতিকর হিসেবে দেখানো হয়েছে—যা লাখ লাখ ভক্তের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে (Assam Assembly Election)। এই ধরনের বক্তব্য শুধু নিন্দনীয় নয়, সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে বিপজ্জনকও। অসম বিজেপি এই উসকানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে গুয়াহাটি শহরের বাসিষ্ঠ থানায় এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযোগ জানানো হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনেও। নির্বাচনী প্রচারে উত্তেজনামূলক ও সমাজবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় খাড়্গের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

  • West Bengal Elections 2026: ভোটগ্রহণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, বুথ নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেবে নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Elections 2026: ভোটগ্রহণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, বুথ নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেবে নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের গণতন্ত্রের উৎসবে (West Bengal Elections 2026) স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আসন্ন নির্বাচনে বুথ পর্যায়ের নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবার সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত স্পর্শকাতর বুথগুলোতে যেকোনও ধরনের কারচুপি বা অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতেই এই উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

    লাইভ ওয়েবকাস্টিং ও এআই বিশ্লেষণ

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এআই মানুষের উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে তাঁকে ‘মার্ক’ করতে পারবে। মানুষের অস্তিত্ব টের পেয়ে তাঁকে কাল্পনিক আয়তক্ষেত্র দিয়ে ঘিরে স্ক্রিনে মার্ক করে সংকেত দেবে। কী ভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? মনে করুন যাক, বুথের ভিতরে ১০ জন লোকের থাকার কথা। দেখা গেল ১১ জন রয়েছেন। এআই সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে জানাবে, ওই বুথে ১১ জন লোক রয়েছেন।

    ইভিএমের সামনে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি প্রায় ২ মিনিট দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তখনও কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল দেবে এআই। ওই ব্যক্তিকে মার্ক করে রাখবে প্রযুক্তি। তার পরে কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল পাঠাবে। তখন সেই সেক্টর অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসারের নম্বর উঠে যাবে স্ক্রিনে।

    বুথ জ্যামে খবর দেবে

    প্রতিটি বুথ থেকে সরাসরি ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে ফুটেজ (West Bengal Elections 2026) সংগ্রহ করা হবে। কন্ট্রোল রুমে বসে সেই ভিডিওগুলো কেবল মানুষের চোখে নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হবে। বুথের ভেতরে বা আশেপাশে কোনও অস্বাভাবিক জমায়েত, বারবার একই ব্যক্তির প্রবেশ অথবা বুথ জ্যামের মতো ঘটনা ঘটলে এআই সিস্টেম তৎক্ষণাৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা (Alert) পাঠাবে।

    একসঙ্গে ৫০০টি বুথের ছবি দেখতে পারবেন মাইক্রো অবজার্ভারেরা। সেখানে ১০টি টেলিফোন লাইন রাখা থাকবে। টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে ৭২টি স্ক্রিন থাকবে পর্যবেক্ষণের জন্য। সেই সঙ্গে আরও ১৮টি স্ক্রিনে দেখা যাবে এসএসটি বা স্ট্যাটিক সার্ভেলান্স টিম এবং এফএসটি বা ফ্লায়িং সার্ভেলান্স টিম-র গাড়িতে বসানো ক্যামেরায় তোলা ছবি। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে প্রায় ২০০ জনের মতো মাইক্রো অবজ়ার্ভার থাকবেন। ফ্লাইং স্কোয়াড, কুইক রেসপন্স টিম, স্ট্যাটিক সার্ভেলান্স টিম বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সব সময়ের জন্য থাকবে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট নজরদারি-গাড়ির মাথায় সবদিক দেখার ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। সবটাই কমিশন কন্ট্রোল রুম থেকেই পরিচালনা করবে।

    কেন এই প্রযুক্তির প্রয়োজন?

    প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে রিটার্নিং অফিসার বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিকরা (West Bengal Elections 2026) মুহূর্তের মধ্যে ঘটনার গুরুত্ব বুঝতে পারবেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। চিরাচরিত পদ্ধতিতে হাজার হাজার বুথের ফুটেজ একসঙ্গে মানুষের পক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ।

    এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে (AI) এই বিশাল পরিমাণ তথ্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এবং দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে ভোটদাতাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    কেন সতর্ক? 

    গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, পঞ্চায়েত নির্বাচন, পুরনির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভাবে মনোনয়ন, ভোটলুট, বুথ জ্যাম, গণনায় কারচুপির অভিযোগ ব্যাপক ভাবে উঠেছিল। বিরোধীরা বার বার শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির দেগে ছিল। তবে শাসকদলের এই ভূমিকায় পুলিশ প্রশাসন নিজের নিরেপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে অভিযোগও আনা  হয়েছিল। এইবার যাতে স্বচ্ছ ভোট হয় তাই কমিশন নিজের ভূমিকায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এমনটাই মনে করেছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোকজন।

  • Bharatiya Janata Party: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন! বিজেপিতে যোগদান পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধিদের, বঙ্গে আরও শক্তিশালী পদ্ম

    Bharatiya Janata Party: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ভাঙন! বিজেপিতে যোগদান পঞ্চায়েত জনপ্রতিনিধিদের, বঙ্গে আরও শক্তিশালী পদ্ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) জেলা, যা দীর্ঘকাল ধরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে জেলার একটি বড় অংশের পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা শাসক দল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (Bharatiya Janata Party) যোগদান করেছেন। এদিন বিজেপির কার্যালয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। তিনি এই যোগদান সম্পর্কে বলেন, “কেউ আমার সঙ্গে, কেউ সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে, কেউ বিপ্লব দেবের সঙ্গে, কেউ শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমরা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের মতামত নিয়ে স্থির করেছি যে, কাদের দলে স্বাগত জানানো যায়।”

    দলবদল করে বিজেপিতে যোগদান (Bharatiya Janata Party)

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) বিভিন্ন ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েত সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পদাধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পদ্ম শিবিরে (Bharatiya Janata Party) নাম লিখিয়েছেন। মূলত সাংগঠনিক স্তরে ক্ষোভ এবং উন্নয়নের নিরিখে মতপার্থক্যের কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে। শুভেন্দু আরও বলেন, যাদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতির অভিযোগ নেই এমন ব্যক্তিদেরকেই দলে যোগদান করানো হয়েছে।

    যাঁরা যোগদান করলেন…

    • শৈবাল লাহিড়ী— বর্তমান ব্লক প্রেসিডেন্ট (তৃণমূল) ক্যানিং ১ ব্লক, প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ২০১৩-২০১৮ এবং বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ ২০১৮ থেকে ২০২৩, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ।
    • সিরাজউদ্দিন দেওয়ান— প্রাক্তন উপ-প্রধান
    • প্রতিমা সর্দার—প্রাক্তন প্রধান ২০১৩ থেকে ২০২৩, হাটপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত
    • রফিক শেখ— বর্তমান জয়েন্ট কনভেনর, নিকারীঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েত
    • আসমত মোল্লা— বর্তমান অঞ্চল প্রেসিডেন্ট, গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
    • নন্দকিশোর সর্দার— প্রাক্তন প্রধান, গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
    • বদরুদ্দোজা শেখ— প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ, ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতি
    • অর্ণব রায়— প্রাক্তন প্রধান, দিঘিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত
    • সঞ্জয় নস্কর— গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য।

    এঁরা ছাড়াও পদ্ম শিবিরে যোগ দেন— সালাউদ্দিন সর্দার, শম্ভু বৈদ্য, গণেশ মণ্ডল, কালীচরণ সর্দার, মদন নস্কর, বিষ্ণু নস্কর, কার্তিক মণ্ডল, অসিত মণ্ডল, ধনঞ্জয় সাঁপুই, দীপঙ্কর মণ্ডল, মনোরঞ্জন দাস, ফণীভূষণ সর্দার।

    বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার

    এদিনের যোগদান সভায় বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যোগদান সম্পর্কে বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বরাবরই এ রাজ্যের ভোটের প্রবণতা বুঝিয়ে দেয়। পূর্ব মেদিনীপুরে তো আমরা এমনিতেই জিতে রয়েছি। এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনাও বার্তা দেওয়া শুরু করল। গোসাবা ব্লক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস শূন্য হয়ে গেল বলতে পারি। গোটা সুন্দরবনে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা খাতা খুলতে দেব না। সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সাগর পর্যন্ত একটা আসনও তৃণমূল পাবে না। আজ তার সূচনা করলাম।”

    এই যোগদানের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজেপির  (Bharatiya Janata Party) সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এবং ক্যানিং মহকুমার বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই যোগদানকে ‘মানুষের মোহভঙ্গ’ এবং ‘পরিবর্তনের ইঙ্গিত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের প্রতি আস্থা হারিয়েই নিচুতলার কর্মীরা সরব (Bharatiya Janata Party) হচ্ছেন।

    দুর্বল হয়ে পড়বে তৃণমূল কংগ্রেস

    শাসক দলের জেলা (South 24 Parganas) নেতৃত্বের মতে, এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। যারা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে পারছেন না, তারাই দল ছাড়ছেন। সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের পাশেই আছেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের শক্তিক্ষয় তৃণমূলের সাংগঠনিক সংহতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

  • PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন (West Bengal Election 2026) দোরগোড়ায়। পয়লা বৈশাখের আগে ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তাপে উত্তপ্ত বাংলা। এই আবহেই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রাজ্যে পরিবর্তনের জন্য, পাল্টানোর জন্য, বিজেপিকে জেতানোর জন্য কার্পেট বম্বিং করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে মোদির এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চলতি সপ্তাহে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, বীরভূমের সিউড়ি, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর ১১ এপ্রিল, শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমুন্ডি, নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে জনসভা রয়েছে তাঁর। পরের দিন ১২ এপ্রিল, রবিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে রোড শো করার কথা রয়েছে মোদির। এছাড়াও কলকাতায় দুটি রোড শো করতে পারেন তিনি। অর্থাৎ বঙ্গের সিংহাসন দখল করতে মোদিকে আরও বেশি করে সামনে রেখে দলের প্রচার-ভাষ্য জোরদার করার চেষ্টা চলছে বিজেপির। প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের দলীয় প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পাশে পেয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। এমনকি দলের প্রচারের জন্য রাজনাথ সিং, নিতিন নবীন, জগৎপ্রকাশ নড্ডা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, সুনীল বনসল, নিতিন গডকড়ি সহ ৪০ জন ‘তারকা প্রচারকে’র তালিকায় তৈরি করেছে বঙ্গ বিজেপি।

    ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা মোদির

    বাংলায় ভোট ঘোষণার পর গত রবিবার কোচবিহারে প্রথম জনসভা সেরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা নির্বাচনী প্রচারে অন্তত ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এদিকে দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও একটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে। সেটি ঘোষণা হয়ে গেলে এবং ৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা হবে দলের ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’। উল্লেখ্য, কোচবিহারের জনসভা থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে শাসক দলকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশে বসবাস করছে। তবে নির্বাচনের পর সেই পরিস্থিতি আর থাকবে না বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, আগামী দিনে রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে নিজের জীবনযাপন করতে পারবে। ভয়ের বদলে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।

  • Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কনিষ্ঠ কন্যা কস্তুরির পর এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুও (Anil Basu’s Son Joins BJP)। পাঁচ বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নকে ঘিরে চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে সভা করল বিজেপি। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। আরামবাগের প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুকে দেখা গেল সেই সভায়। সৌম্য এক সময় ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই করেছেন। তবে আজ তিনি যোগদান করলেন বিজেপিতে।

    বিজেপি দেশভক্তের দল

    অনিল বসু বাম আমলের প্রবল প্রতাপশালী নেতা ছিলেন। আরামবাগ থেকে সিপিএম এর সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন ছ’বার। ২০০৪ সালে শেষবার আরামবাগ থেকে রেকর্ড প্রায় ছ’লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন অনিল বসু। ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল সেসময়। ২০১৮ সালে ২ অক্টোবর মৃত্যু হয় তাঁর। সেই অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বলেন, “বাবা সাংসদ বিধায়ক মন্ত্রী থাকলেই সেই দল করতে হবে এমন কোনও কারণ নেই। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার আছে। যে রাজনৈতিক দলকে তাঁর পছন্দ, সে তার সঙ্গেই থাকুক। বিজেপি দেশভক্তের দল। সেইটাই আমাকে আকর্ষণ করে। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি ধন্যবাদ জানিয়েছি উনি বলেছেন প্রার্থীকে জেতাতে হবে। প্রার্থী জিতবে, সুবীর নাগের সঙ্গে আমি আছি।”

    বামেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

    এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বাম শিবির ছেড়েছেন প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যাও। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা কস্তুরী। এবার বাম আমলের দৌর্দন্ডপ্রতাপ অনিল বসুর ছেলে ভোটের মুখে গেলেন গেরুয়া শিবিরে। ঘটনায় চাঞ্চল্য বঙ্গ রাজনীতিতে। আলোচনার ঝড়, সিপিএম প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও। তিনি বলেন, “আগে বামপন্থা ছিল গরিব মেহনতি মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। এখন বামপন্থা হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণির, চকচকে এলিটের প্রতিনিধি।” ভোটের মুখে এই ঘটনায় রাজ্যে বামেদের ভবিষ্যত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

  • SIR In Bengal: এসআইআর-এ বাতিল ৯০ লাখের বেশি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নিরিখে শীর্ষে কোন জেলা?

    SIR In Bengal: এসআইআর-এ বাতিল ৯০ লাখের বেশি! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের নিরিখে শীর্ষে কোন জেলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR In Bengal) পর বিবেচনাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তি হয়ে গেল। সোমবার রাতেই শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শেষ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সোমবার রাতেই ফ্রিজ হয়েছে প্রথম দফার ভোটের ভোটার তালিকা। তাই এরপর যদি ট্রাইবুনালের নির্দেশে কারও নাম তালিকায় সংযুক্ত হয়, তাহলেও প্রথম দফার নির্বাচনে সেই সব ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। সোমবার রাতেই একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকা ফ্রিজ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৯০ লাখের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। সবথেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদে। তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। কলকাতা উত্তরে তুলনামূলক বেশি নাম বাদ গিয়েছে।

    রাজ্যে ভোটার তালিকায় কত জনের নাম

    ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর (SIR In Bengal) কাজ শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জনের নাম ছিল। এসআইআর-এর খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম। জেলা অনুযায়ী বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ছিল মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম। বিবেচনাধীন তকমা ওঠায় এই তালিকায় যুক্ত হল আরও ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম। অর্থাৎ, রাজ্যের ভোটার তালিকায় এই মুহূর্তে নাম রয়েছে ৬ কোটি ৭৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭২৮ জনের।

    নাম বাদ পড়ার নিরিখে প্রথমে কে

    যাচাইকরণে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় ওই জেলা থেকে বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮২২ জনের নাম। বিবেচনাধীনদের হিসেব প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যাচ্ছে, ওই জেলা থেকে বাদ পড়েছে মোট ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫৯ জনের নাম। যাচাইকরণে উত্তর ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। তবে, ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকা ধরলে ওই জেলা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ১২ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৬, যা সমগ্র এসআইআর-এর নিরিখে সর্বাধিক। ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় মালদা থেকে বাদ পড়েছিল ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৫ জনের নাম। বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশের পর সেখানে প্রায় ২.৩৯ লক্ষ ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, ওই জেলা থেকে বাদ পড়ল মোট ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৩০ জনের নাম। এর আগে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাবে। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীও ১কোটি নাম বাদ যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে, কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা কোটির গণ্ডি পেরোয়নি। যে ১১টি রাজ্যে এসআইআর হয়েছে, তার মধ্যে বাদ যাওয়া ভোটারের হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। যোগীর রাজ্যে ২ কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে।

    কোন জেলায় কত বাতিল

    নদিয়াতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যা- প্রায় ২.০৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ২.২২ লক্ষ ভোটার এবং বীরভূমে প্রায় ৮২ হাজার ভোটারকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া হুগলিতে প্রায় ১.২০ লক্ষ, পশ্চিম বর্ধমানে প্রায় ৭৪ হাজার এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ১.৭৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজারের নাম বিবেচনাধীন ছিল, সেখান থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮০৫ জনের নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লাখ ২২ হাজারের মধ্যে থেকে বাদ পড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৯২৯ জনের নাম। কোচবিহারে বাদ পড়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৭২৫ জনের নাম, জলপাইগুড়িতে ৩৫ হাজার ৩৫৬, দার্জিলিংয়ে ৪৪ হাজার ২৩০, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৬ হাজার ৭৬৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। কলকাতা দক্ষিণ থেকে আগেই বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ২১ হাজার ১৫১ জনের নাম। সোমবারের পর এই তালিকায় যুক্ত হল ২৮ হাজার ৪৬৮টি নাম। অর্থাৎ, বাদ গেল মোট ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬১৯ জনের নাম। কলকাতা উত্তর থেকে বাদ গেল মোট ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৭৫ জনের নাম। পূর্ব মেদিনীপুরে মোট নাম বাদ পড়ার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৩৪৫, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭৪ হাজার ১০০, হাওড়ায় ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫১, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫২ হাজার ২৭৭, পুরুলিয়ায় ৫ হাজার ৯৪২, বাঁকুড়ায় ৬ হাজার ৫৩৩, বীরভূমে ৮২ হাজার ৫৯, আলিপুর দুয়ারে ৩৬ হাজার ৭৮, কালিম্পঙে ২ হাজার ৪০৭, ঝাড়গ্রামে ১ হাজার ২৪০ জনের নাম বাদ গিয়েছে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে।

  • Election Commission of India: স্বপদে বহাল মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ সংসদের ২ কক্ষেই

    Election Commission of India: স্বপদে বহাল মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ সংসদের ২ কক্ষেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব (Impeachment Motion Against CEC Rejected) খারিজ করে দেওয়া হল। রাজ্যসভা ও লোকসভার উভয় কক্ষেই খারিজ হয়েছে এই প্রস্তাব। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং রাজ্য সভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ এই প্রস্তাব খারিজ করেছেন। ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। ফলে আপাতত জ্ঞানেশ কুমারের মেয়াদ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রইল। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া আর এগোবে না।

    সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামো মেনে সিদ্ধান্ত

    ইমপিচমেন্টের জন্য কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী সকল দলগুলি সাংসদে নোটিস জমা করেছিলেন। সোমবার সেটাই গ্রহণ করা হয়নি। ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথমবার নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে সরানোর জন্য এমন নোটিস দেওয়া হয়েছিল। এই প্রস্তাবে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নেতৃত্বে বিরোধীরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু কোনও কক্ষেই তা গৃহীত হয়নি। গত ১২ মার্চ রাজ্যসভায় এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি জমা পড়ার পর রাজ্য়সভার চেয়ারম্যান বিষয়টির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য ও অভিযোগ বিশদে পর্যালোচনা করেন। এরপর বিচারপতি (তদন্ত) আইন, ১৯৬৮-এর ধারা ৩ অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। সংসদ সূত্রের দাবি, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে আইনি কাঠামো মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে নেওয়া হয়েছে।

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ

    বিরোধী শিবির লোকসভা এবং রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই এই বিষয়ে নোটিস জমা দিয়েছিল। ১০ পাতার ওই নোটিসে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মূলত সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, নির্বাচন পরিচালনায় পক্ষপাতমূলক আচরণ। বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া (Mass Disenfranchisement)। বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনে (SIR) অস্বচ্ছতা। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি বিশেষ আনুগত্য দেখানো। বিশেষ করে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু সাধারণ ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিরোধীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সিদ্ধান্তগুলি অনেক ক্ষেত্রে শাসকদল বিজেপির পক্ষে গিয়েছে। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তার কাজকর্মে কোনও পক্ষপাতিত্ব নেই।

  • SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    SIR in Bengal: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম! ট্রাইবুনাল নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা (SIR in Bengal) থেকে বাদ পড়ল প্রায় ৯১ লক্ষ নাম। সোমবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন জেলা অনুযায়ী বাদ পড়া (ডিলিটেড) নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। মোট বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩। বিবেচনাধীন ভোটার তালিকা থেকে নাম উঠেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম। অর্থাৎ, মোট বাদ পড়ার সংখ্যা ৯০ লক্ষ ছাড়াল (৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫)। সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত এসআইআর-এ বিবেচনাধীন থাকা ৬০ লক্ষের কাছাকাছি অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়ে গিয়েছে, বলে আগেই সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৷ সোমবার এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো সেই চিঠিও পড়ে শোনান ৷

    কোন জেলায় কত নাম বাদ

    কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। ওই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। মালদায় এই সংখ্যাটা ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৭৫। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজার ১৬৩ জন ভোটারের নামের নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও সেগুলিতে ই-স্বাক্ষর করা হয়নি। ওই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাদ পড়া নামের তালিকায় আরও কিছু নাম যুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোটার তালিকাতেও আরও কিছু নাম সংযুক্ত হতে পারে। জেলা অনুযায়ী বিবেচনাধীনদের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ছিল মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম। বিবেচনাধীন তকমা ওঠায় এই তালিকায় যুক্ত হল আরও ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম।

    রাজ্য মেশিনারি ব্যর্থ

    এসআইআর-এ নাম বাদ পড়া নিয়ে মালদার কালিয়াচকে বিচারপতিদের উপর হামলার ঘটনাও সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে উঠে আসে। এদিন কমিশনের আইনজীবী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে বলছেন, উত্তরপ্রদেশ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে আপনাদের মারার জন্য ৷ ক্রমাগত এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা হচ্ছে ৷’’ অন্যদিকে, কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘‘আপনারা শুনুন, একজন মহিলা বিচারক ভয়ে কীভাবে কেঁদে আর্ত চিৎকার করছেন ৷’’ যা শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘রাজ্য মেশিনারি যে ব্যর্থ হয়েছে তা তো স্পষ্ট ৷’’ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘ট্রাইবুনাল গঠিত হবে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দ্বারা ৷ তবে আগে ট্রাইবুনালের কাজ করার মতো পরিস্থিতি থাকতে হবে ৷ ১৫ জন বিচারপতিকে দিয়ে ১৯ দিনে সব কাজ করতে বললে তো বিশৃঙ্খলা হবেই ৷ আমরা হাইকোর্টের প্রধান বিচাপতিকে বলব, তিন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করুন ৷ এবং সেই কমিটি দেখবে ট্রাইবুনালের কাজ৷’’

    ট্রাইবুনাল নিয়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ

    এসআইআর নিয়ে এখনও মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। কমিশনের তালিকা থেকে আপাতত বাদ গিয়েছেন যাঁরা তাঁরা ফের অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ নিতে হবে। সোমবার, এই মামলার শুনানিতে উঠে আসে এসআইআর-এ (SIR in Bengal) নন্দলাল বসুর নাতির নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গ ৷ রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, ‘‘যার আঁকা ছবি ছাড়া ভারতের সংবিধান অসম্পূর্ণ থাকত, তাঁর পরিবারের লোকের নামই ডিলিট হয়ে গিয়েছে ৷’’ এ কথা শুনে প্রধান বিচারপতি জানান, কমিশনকে নন্দলাল বসুর নাতি-নাতনির করা আপিলে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। এছাড়া ট্রাইবুনাল নিয়ে এদিন বিশেষ কয়েকটি নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি জানান, বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ সব কিছু খতিয়ে দেখে নিজেদের প্রক্রিয়া তৈরি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ট্রাইবুনাল। ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালের একই রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তিন জন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন। এই কমিটি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ঠিক করবে, যা ১৯টি ট্রাইবুনালকেই বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। অফলাইনে আপিল জমা দিলে জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দিতে হবে। আগামী ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টেয় পরবর্তী শুনানি।

  • India Pakistan Relation: ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে…’, পাক মন্ত্রীর “কলকাতায় হামলা” মন্তব্যের সমালোচনা ভারতে

    India Pakistan Relation: ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে…’, পাক মন্ত্রীর “কলকাতায় হামলা” মন্তব্যের সমালোচনা ভারতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Khawaja Asif)-এর “ভবিষ্যৎ সংঘাতে কলকাতায় হামলা” (Pak Target Kolkata) সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি এবং বিরোধী কংগ্রেস উভয়ই এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। প্রয়োজন পড়লে কলকাতাতেও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘‘ভারত যদি আবার আক্রমণের চেষ্টা করে, তবে গত বছরের চেয়েও বড় অপমানের মুখে পড়বে। এবার সংঘাত ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা আমরা কলকাতা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাব। আমরা তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করব এবং তাদের নিজেদের ঘরের ভিতরেই আঘাত করব।’’ তাঁর অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদের ভুয়ো অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে দোষারোপ করতে পারে ভারত (India Pakistan Relation)।

    পাকিস্তানের নিশানায় কলকাতা

    গত ২ এপ্রিল ‘অপারেশন সিঁদুর’এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার আসিফের গলায় পালটা হুঁশিয়ারির সুর শোনা গেল। আসিফ বলেন, ‘সাজানো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এর জন্য ওরা নিজেদের লোক ব্যবহার করবে। নাহলে ওদের হেপাজতে থাকা পাকিস্তানি বন্দিদেরও কাজে লাগাতে পারে। কয়েকটি মৃতদেহ ছুড়ে দিয়ে ওরা দাবি করবে, তারা জঙ্গি ছিল।’ আসিফের দাবি, ‘এক বছর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। বিষয়টি নিয়ে ওদের নিজেদের লোকও প্রশ্ন তুলেছিল। এবার যদি তেমন কোনও নাটকের চেষ্টা করা হয় তাহলে আমরাও জবাব দেব। বিষয়টি কলকাতা পর্যন্ত চলে যাবে।’ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। গত বছর কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানার পর দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে আরও। ওই সন্ত্রাসী হামলায় হাত রয়েছে পাকিস্তানের, এমন‌ই অভিযোগ তুলে ‘সিঁদুর অভিযান’-এর মাধ্যমে প্রত্যাঘাত করে নয়াদিল্লি। গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিন সংঘর্ষ চলে। পরে সংঘর্ষবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সংঘাতে ইতি পড়লেও উত্তেজনা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত।

    সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্র পাকিস্তানই

    পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবে কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি বলেন, “১৯৭১ সাল থেকে পাকিস্তান নিজেই ভুয়ো অপারেশন চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে তারা যেন পিএইচডি করেছে।” তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের মূল কেন্দ্র পাকিস্তানই। বিজেপির মুখপাত্র প্রতুল শাহ দেও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অপারেশন সিঁদুরে আমরা তাদের ভূখণ্ডে ঢুকে জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করেছি। পাকিস্তান নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতা ভুলে যায়নি।” তাঁর দাবি, সেই সময় পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছিল এবং ভারত নিজেদের শর্তে তা মেনে নেয়। তিনি আরও বলেন, “কলকাতা পাকিস্তানের নাগালের বাইরে। তারা শুধু বড় বড় কথা বলে। ভারত চাইলে পাকিস্তানের যেকোনও স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।” এছাড়া জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা নীরজ কুমার-ও একই সুরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যকে “অত্যন্ত আপত্তিকর” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি কয়েক মিনিটে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ক্ষত এখনও টাটকা থাকা উচিত।”

    নজর ঘোরাতে এই মন্তব্য

    খোয়াজা আসিফের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল বলেন, “পাকিস্তানের ভেতরের অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, ঋণ শোধে চাপে সরকার, সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছে। এই পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য আসলে অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা।” একই সুরে বিজেপি নেতা শ্রীনিবাসও আসিফের বক্তব্যের নিন্দা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চলতে থাকলে ভারত কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।” প্রয়োজনে ‘অপারেশন সিঁদুর-২’-এর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। অন্যদিকে, কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ মজিদ মেমন কূটনৈতিক সংযম বজায় রাখার উপর জোর দেন। তাঁর কথায়, “কোনও দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পক্ষে এ ধরনের যুদ্ধংদেহী মন্তব্য করা উচিত নয়। শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই উচিত।”

    আসিফকে কটাক্ষ নেটিজেনদের

    আসিফের অভিযোগ, ফের সাজানো হামলার পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি। এই অভিযানে স্থানীয়দের পাশাপাশি জেলে বন্দি পাকিস্তানিদের ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও এহেন দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারেননি আসিফ। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে কটাক্ষ। হুমকির ভিডিও সামনে আসতেই আসিফের সমালোচনায় সরব সোশ্যাল মিডিয়া। এক ব্যক্তি লেখেন, ‘প্রথমে নিজেদের দেশের মানুষকে পর্যাপ্ত খাবার দিন। পাকিস্তানের জেনারেল আর রাজনৈতিক নেতারা শুধু ফাঁপা হুঁশিয়ারি দিতে পারেন। দেশ বাঁচাতে মানুষের বিদ্রোহ ঘোষণা করা উচিত। কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের মানুষকে বোকা বানাচ্ছে জেনারলেরা।’ আরেক ব্যক্তির কটাক্ষ, ‘বাঙালিরা ক্ষেপণাস্ত্র ধরে মাছের ঝোল বানিয়ে খেয়ে ফেলবে।’ ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে আরেকজন লেখেন, ‘ওরা বোধহয় ১৯৭১ সালের কথা ভুলে গিয়েছে। ঢাকার স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল কলকাতা। তাই সাজানো অভিযানের অজুহাত দিয়ে কৌশলগত ব্যর্থতা ঢাকা যাবে না।’

  • West Bengal Assembly Elections: তৃণমূল প্রার্থীর হয়েই প্রচার করছিলেন, মমতার কপ্টারের কাছে ড্রোনকাণ্ডে স্বীকারোক্তি তিন ধৃতের!

    West Bengal Assembly Elections: তৃণমূল প্রার্থীর হয়েই প্রচার করছিলেন, মমতার কপ্টারের কাছে ড্রোনকাণ্ডে স্বীকারোক্তি তিন ধৃতের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেলিকপ্টারে করে তৃণমূলের প্রচারে যাচ্ছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সময় তাঁর সেই কপ্টার ওড়ার সময় একটি উড়ন্ত ড্রোন দেখা যায় (West Bengal Assembly Elections)। এর পরেই ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা বিহারের বাসিন্দা বলে খবর। রবিবার হরিশচন্দ্রপুরে তৃণমূলের সভায় উপস্থিত ছিলেন ওই তিনজন। ধৃতদের দাবি, তাঁরা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের কাজই করছিলেন।

    কপ্টারের আগে আগে ড্রোন (West Bengal Assembly Elections)

    শনিবার মালদায় দলীয় প্রার্থীদের জন্য প্রচারে গিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই সময় সামসিতে মমতার হেলিকপ্টারের আগে আগে একটি ড্রোন উড়তে দেখা যায়। ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ মমতা। হেলিকপ্টারে ওঠার সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “হেলিকপ্টারটা অ্যাক্সিডেন্টে ধ্বংস হয়ে যেত। কারা করছে এসব? পুলিশের নজর রাখা দরকার। যারা করেছে, তাদের আইডেন্টিফাই করা দরকার।” এটি ছাড়াও আরও একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যাতে দেখা যায়, কপ্টারে ওঠার আগে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মমতা। আকাশে উড়ন্ত ড্রোনটিকে নিরীক্ষণ করছেন তিনি। সেই সময়ই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই ভিড়ের মধ্যে থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে করা হয় গ্রেফতার।

    ‘আমরা ড্রোন উড়িয়েছি’

    ধৃতেরা হল অঙ্কিতকুমার পাসোয়ান, শ্রীকান্ত মণ্ডল এবং নুর আখতার। হরিশচন্দ্রপুরে তৃণমূলের সভায় যোগ দিয়েছিল তারা। ধৃতদের একজন বলে, “হ্যাঁ আমরা ড্রোন উড়িয়েছি।” পাশের জনের দিকে আঙুল উঁচিয়ে সে বলে, “এ ওড়াচ্ছিল। জানত না। আমরা কাজ করছি, সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেনের জন্য। বারণ করেছিলাম (Mamata Banerjee)। আইডিয়া ছিল না। তাও বেস্ট ফুটেজের জন্য ড্রোন উড়িয়ে ফেলে।” ধৃতদের দাবি, তাঁরা তৃণমূল প্রার্থীর হয়েই প্রচার করছিলেন। তবে দলের তরফে এ নিয়ে কিছু জানানো হয়নি (West Bengal Assembly Elections)। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টারের সামনে ড্রোন ওড়ানোকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। গত ২৬ মার্চ দুর্যোগে আটকে পড়েছিল মমতার বিমান। প্রচার সেরে কলকাতায় নামার সময় আটকে পড়ে বিমানটি। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে দুর্যোগ এত তীব্র আকার ধারণ করেছিল যে অবতরণ করতে না পেরে আকাশে চক্কর কাটতে থাকে বিমানটি। প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে সেই অবস্থায় আকাশে চক্কর কেটে শেষ পর্যন্ত মাটি ছোঁয় মমতার (Mamata Banerjee) বিমান।

    কলকাতা বিমানবন্দরে নামার সময় বিপত্তি

    সেবার দুবরাজপুরে প্রচার সেরে অন্ডাল থেকে ছোট আকারের বিমানটিতে সওয়ার হন মমতা। কলকাতা বিমানবন্দরে নামার সময় বিপত্তি দেখা দেয়। পরে দুই পাইলটের ভূয়সী প্রশংসা করেন মমতা। জানান, পাইলটরাই বিমানে সওয়ার সকলের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। সেই ঘটনার পরই কপ্টারের সামনে ড্রোন ওড়ানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রশ্ন ওঠে মমতার নিরাপত্তা নিয়েই (West Bengal Assembly Elections)।এদিকে, ধৃত তিনজন জানান, হরিশচন্দ্রপুরের তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমানের হয়ে প্রচার করেন তাঁরা। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যই ড্রোন উড়িয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ‘গরিবের বন্ধু’ বলে ফেসবুকে পরিচিত মতিবুর একজন ইনফ্লুয়েন্সারও। প্রচুর (Mamata Banerjee) ফলোয়ার রয়েছে তাঁর। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মিউজিক ভিডিও পাবলিশ হয় প্রতিদিনই। সেই মতিবুরের জন্য ভিডিও তৈরিতে ভালো শটের আশায় ড্রোন উড়িয়েছিল বলে স্বীকার করে ধৃতেরা।

    ‘আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না’

    যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলতেই ড্রোন ওড়ানো হয়েছিল। পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ের সভায় মমতা বলেন, “আমি যখন মিটিং করে আসছিলাম মালদা থেকে। আমার হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ধাক্কা খেলে হেলিকপ্টারটা ধ্বংস হত। কারা ওড়াচ্ছিল? বিহারের তিনজন ধরা পড়েছে। টার্গেটটা কী? আমার জীবন কাড়ার জন্য? কেড়ে নিন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু যতক্ষণ বেঁচে থাকব, আপনাদের বিরুদ্ধে গলা ফাটাব। আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না।” প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে এ রাজ্যে সভা করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ। তিনি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলার (Mamata Banerjee) চেষ্টা করেন। তবে এই ভিকটিম কার্ডের রাজনীতি বাংলার মানুষ ভালোভাবেই বুঝে গিয়েছেন। এভাবে কমিশনের বিরুদ্ধ গালিগালাজ করা বাংলার সংস্কৃতি নয় (West Bengal Assembly Elections)।”

     

LinkedIn
Share