BJP in Bengal: ‘‘অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না’’ স্পষ্ট বার্তা রাজ্য নেতৃত্বের

bjp in bengal wont accept people from other parties leadership warns workers

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল ঘটে গিয়েছে। ক্ষমতার ধারেকাছে থাকার চেষ্টায় এবার দল বদলের পালা। অতীতেও এমন ছবি দেখা গিয়েছে রাজ্য-রাজনীতি থেকে জাতীয় স্তরে। তবে, দলবদলের-স্রোতে এখনই নিজেদের ঘর ভাসাতে রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব (BJP in Bengal)। সংগঠনের সব স্তরে সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। অন্য দল থেকে বিজেপিতে কাউকে যোগদান করানোয় ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করে দেওয়া হয়েছে।

বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি

বিজেপি সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ মিটে যাওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু এলাকায় বিজেপি নেতারা ফোন পেতে শুরু করেছিলেন। সে সব ফোন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মী, পঞ্চায়েত সদস্য, কাউন্সিলরদের। ৪ মে-র পর প্রয়োজনে হলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দরজা যাতে খোলা থাকে, সেই অনুরোধ সংবলিত ফোন। ৪ মে ইভিএম খোলার পর দেখা যায়, ২০০-র বেশি আসন নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এ হেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি আরও বেড়েছে।

তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে বিজেপিতে নয়

বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অনেকেই অবিলম্বে বিজেপিতে শামিল হয়ে যেতে চাইছেন। এই ‘স্রোত’ তথা ‘বেনোজল’ আপাতত রুখতে চায় বিজেপি। যাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং ক্রোধের কারণে রাজ্যবাসী বিপুল সংখ্যায় বিজেপি-কে ভোট দিলেন, রাতারাতি তাঁরাই বিজেপিতে ঢুকে পড়ে নতুন শাসকদলের ‘মাতব্বর’ হয়ে উঠলে জনতা বিজেপির উপর ক্রুদ্ধ হবে বলে পদ্মনেতারা মনে করছেন। তাই আপাতত তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে কাউকে বিজেপিতে শামিল করানোর উপরে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘যোগদান করানো একদম বন্ধ! অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া যাবে না। সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তরে আমরা সে বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি।’’ তা হলে কি বিজেপিতে আর কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন না? পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজনীতি বিষয়ক বিভাগের প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘‘কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন কি না, দল সে সব পরে স্থির করবে। কিন্তু আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশ না-যাওয়া পর্যন্ত সব যোগদান বন্ধ।’’

যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিলেন, তাঁদের দলে নয়

মমতার মুখে অবশ্য বিজেপির অন্য ‘ভূমিকা’র কথা শোনা গিয়েছে। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের অনেককে ফোন করে বিজেপিতে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। মমতার কথায়, ‘‘কেউ যদি নিজের নিরাপত্তার জন্য যেতে চান, আমি বাধা দেব না।’’ মমতার এই অভিযোগকে অবশ্য বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব গুরুত্ব দিতে চাননি। বিজেপির একাধিক বিধায়ক মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিলেন, তাঁরাই রাতারাতি বিজেপি হয়ে গিয়ে আবার সাধারণ জনতার উপরে অত্যাচার শুরু করবেন, এ আমরা হতে দিতে পারি না। তাই নেতৃত্বের নির্দেশ শিরোধার্য। পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত কাউকে দলে নেওয়া হবে না।’’

অশোকনগর এলাকায় ছাঁকনি প্রতিবাদ

দলীয় নির্দেশকে সামনে রেখে হাতে চায়ের ছাঁকনি, মাথায় গেরুয়া আবির, আর পিছনে দলীয় পতাকা নিয়ে, এই ভাবেই রাস্তায় নামলেন বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার রাতে এমনই দৃশ্য দেখলেন উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকার বাসিন্দারা। বিজেপি কর্মীদের এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে কিছুটা অবাকই হন এলাকার লোকজন। বিজেপি কর্মীরা জানিয়েছেন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি, ভাঙচুর এবং দখলদারির ঘটনা বেড়েছে। অভিযোগ, তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর থেকে শুরু করে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গেই রাতারাতি দলবদল করে চলে আসছেন অনেকেই। দলের পুরনো কর্মীদের পাশ কাটিয়ে রাতারাতি দলবদল করে আসা কিছু সমর্থকই এই অশান্তির সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি তাঁদের। এই কারণেই ‘ছাঁকনি প্রতিবাদ’। ওই বিজেপি (BJP) কর্মীরা জানিয়েছেন, ছাকনিকে প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে এর মাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন তাঁরা।

কেন প্রতিবাদের হাতিয়ার ছাঁকনি

ওই বিজেপি কর্মীরা বলেন, ‘ছাঁকনি দিয়ে নোংরা অংশ বাদ দেওয়া যায়। যাতে দরকারি জিনিসের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অংশ চলে না আসে তা নিশ্চিত করা যায়। তেমনই দলে হঠাৎ আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবাদের মাধ্যমে।’ মঙ্গলবার রাতে এই অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয় অশোকনগর চৌরঙ্গী মোড় এলাকায়। বিজেপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জয়ী বিধায়কের তরফে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

দলবদলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা হাবরায়

দলবদলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে হাবরা এলাকাতেও। এই আসনে বিজেপির দেবদাস মণ্ডলের কাছে হেরে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তার পরেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেকেই রাতারাতি দলবদল করেছেন। বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস দখল এবং অশান্তি সৃষ্টি করছেন তারা বলে অভিযোগ। এই নিয়ে হাবরা থানার সামনে দাঁড়িয়েই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকার নবনির্বাচিত বিধায়ক। তাঁর দাবি, এই অশান্তির ঘটনায় প্রকৃত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূল সমর্থকরাই দলবদল করে এই অশান্তি ঘটাচ্ছে। যারা এই ধরনের অরাজকতায় যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share