Tag: bjp

bjp

  • Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Crisis) বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার শাসক এবং শাসিত দুই দলের এই দুই প্রতিনিধির এই বৈঠক ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শনিবার এই বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সুদীপ। সেই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।

    তৃণমূলে ফের ‘রামধাক্কা’ (Trinamool Crisis)

    সুদীপের এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলে লাগে আরও এক ‘রামধাক্কা’। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া দল ছাড়েন। বছর চুয়াত্তরের মানস জানান, বর্তমানে দলে যে সঙ্কট চলছে, তাতে তিনি অসন্তুষ্ট। তাই দল ছেড়েছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে বাঁক নেবেন তিনি, তা স্পষ্ট করেননি পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। এদিকে, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে তাঁরা পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি এবং আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানাবেন বলে খবর।

    বিদ্রোহ চারিদিকে

    বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন তাঁদের পাশে রয়েছেন। সুদীপ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ২০। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তাঁরা সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবেন। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সুদীপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপকে সম্মান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিলেও, তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। কুণালের দাবি, ক্ষমতা ও পদলাভের লোভ থেকেই সুদীপ দলীয় নেতাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। তাই বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    কুণালের নিশানায়

    তিনি আরও (Trinamool Crisis) দাবি করেন, সম্প্রতি মমতার বাসভবনে সিআইডি অভিযানের সময় সুদীপ তাঁকে ফোন করে তাঁর অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্ত্রী নয়না সেখানে আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুদীপ আসেননি। কুণাল বলেন, “দিদির বাড়িতে না গিয়ে সুদীপদা এখন বিজেপির দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন (Amit Shah)।” সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে “বিশ্বাসঘাতক” বলেও আক্রমণ করেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, তিনি শুধু দলের নেতৃত্বকেই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাঁরা তাঁর হয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় জানান, কয়েকদিন আগেও সুদীপ দল ছাড়ছেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁকে। পরে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সুদীপকে বৈঠক করতে দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত বলে জানান সৌগত।

    ডামাডোলের বাজারে সংগঠন সাজাচ্ছেন মমতা!  

    এদিকে, দলের এই ডামাডোলের বাজারের মধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। সায়নী ঘোষের পরিবর্তে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে (Trinamool Crisis)। মহিলা সংগঠনের নতুন সভানেত্রী হয়েছেন আলিফা আহমেদ। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সুদীপকে সরিয়ে সেখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণালকে। সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হয়েছেন মুসারফ হোসেন। এরই মধ্যে রাজ্য বিধানসভায়ও সামনে চলে এল তৃণমূলে বড় ভাঙনের ছবি। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এই স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির (Trinamool Crisis)।

    কোথাকার জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার (Amit Shah)।

     

  • Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সবার জন্য উন্নয়ন,সবার জন্য সরকার। সবার সঙ্গে কথা বলেই তৈরি হবে রাজ্যে উন্নয়নের গতিপথ। শুক্রবার বিকেলে মালদায় চার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তাদের সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Malda)৷ এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে৷ তাঁদের অনেকে অ্যাপিলেট ট্র্যাইবুনালে আবেদন করেছেন, অনেকে আবার সিএএ-তে আবেদন করেছেন ৷ যতদিন না তাঁরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন, তাঁদের কাউকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না ৷ এক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচিতি বিচার্য নয়, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷ জানান, উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে দুটি এমস্। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদে সীমান্ত সমস্যাও দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে, বলে দাবি শুভেন্দুর।

    মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণ

    এদিন মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন, ‘‘মালদা জেলায় চাঁচল ও গাজোল পুরসভার দাবি বহুদিনের ৷ প্রাথমিকভাবে এই দুটি পুরসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ তার প্রাথমিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ বাকিটা বাজেটে ঘোষিত হবে ৷”

    গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ

    আগামী বর্ষার আগেই গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ করার আশ্বাসও দেন ৷ মালদা, মুর্শিদাবাদের বন্যা ও ফি বছর নদী ভাঙন এই দুই জেলার বাসিন্দাদের কাছে একটা আতঙ্ক। এতদিন এ নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেছে। শুক্রবার শুভেন্দু জানান, এখন থেকে এই দুই জেলায় বন্যা ও ভাঙন রোধে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

    চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ

    একইসঙ্গে চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্য কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ শুভেন্দু এদিন জানান, দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব রয়েছে ৷ তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে ৷ একইসঙ্গে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও মেডিক্যাল কলেজ করতে হবে ৷

    উত্তরবঙ্গে এমস্

    উত্তরবঙ্গে এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যা হবে না, বলেও এদিন মত প্রকাশ করেন শুভেন্দু । সূত্রের খবর, এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্ভবত রায়গঞ্জের মাটিকেই বেছে নেওয়া হবে। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। চার জেলায় আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর মান উন্নত করার ব্যাপারে জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৫০ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে ৷ এই প্রক্রিয়া এখন চলবে ৷ একইভাবে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা-সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি ৷” শুভেন্দু এদিন আরও জানান, রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যুক্ত হয়েছে ৷ প্রত্যেক গরিব মানুষ এবার সরকারি বাড়ি পাবেন ৷ আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে তার নতুন তালিকা তৈরিও হয়ে যাবে ৷ বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সহযোগিতায় এই কাজ হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘বিগত সরকার চার মাসের বাজেট করে গিয়েছিল ৷ আগামী ১৮ জুন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে ৷ ২২ তারিখ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে ৷” রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বক্তব্য, ‘‘আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির হবে ৷ বিধায়ক, সাংসদ ও বিডিওরা শিবিরগুলি পর্যবেক্ষণ করবেন ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে অনেক ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে ৷ সেসব বাদ দিয়ে মানুষকে এই স্কিম নিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে ৷ এই প্রকল্পের কার্ড গোটা ভারতে কাজ করে ৷ একইভাবে আমরা রেশন কার্ডেও এই ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছি ৷ তার ফলে রাজ্যের বাইরে থাকলেও ওই কার্ডে রেশন তোলা যাবে৷”

    পুলিশকে বার্তা শুভেন্দুর

    পুলিশের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তাঁর বার্তা, ‘‘ক্রশিং ছাড়া জাতীয় সড়ক জুড়ে ব্যারিকেড লাগানো যাবে না ৷ যানজটের জন্য কালিয়াচক-ফরাক্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে ৷ ওভারলোডিং সংক্রান্ত অনেক অভিযোগও আসে ৷ এসব চলবে না ৷ কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে তা যাত্রীরা সোশাল মিডিয়ায় জানাতে পারবেন ৷ যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা সরকার নেবে ৷ প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে ৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় 12 হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে ৷ প্রায় ৪ হাজার ভিলেজ পুলিশও নিয়োগ হবে ৷ মোথাবাড়ি, কালিয়াচক, বেলডাঙা, সামশেরগঞ্জের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশকে দায়িত্ব নিতে হবে ৷” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দল আন্দোলন করার অধিকার হারাক তা আমরা চাই না ৷”

    সীমান্ত সমস্যা সমাধান

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন ৷ বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ৷ এক্ষেত্রে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন শুভেন্দু ৷ ধরা পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ডিপোর্ট করার নির্দেশ দেন ৷ তিনি জানান, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকে সাজিয়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ সাহায্য করতে প্রস্তুত ৷ তার সুযোগ জেলাশাসকদের নিতে হবে৷ দুই দিনাজপুর ও মালদায় বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছিল যে, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হবে। এদিনের বৈঠকে এখনও পর্যন্ত কত জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হলো, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিরোধী বিধায়কদের সমান গুরুত্ব

    এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উত্তরের তিন জেলার তৃণমূলের সব বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের বিধায়কদের অভাব–অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন শুভেন্দু। মালদা মেডিক্যাল কলেজে হার্ট কেয়ার ইউনিট, মালদা বিমান বন্দরের জন্য জমি, কালিয়াচকে দমকল কেন্দ্র, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্যে বন্ধ হয়ে থাকা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ–সহ বিভিন্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, বেলডাঙ্গায় বিগত দিনের গন্ডগোল প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুভেন্দু বলেন, ‘আশা করব আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তিনি বিরোধী বিধায়কদেরও সাহায্য চান। এদিন দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক বেনজির সৌজন্যের আবহ তৈরি হয়েছিলো মালদার প্রশাসনিক বৈঠকে।

  • Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। বৃহস্পতিবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি ও তার সহযোগী দলগুলি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে, বিশেষ করে কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল। এবারের নির্বাচনে মোট ২৪টি আসনে কোনও ভোটগ্রহণ ছাড়াই প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬টি আসন ছিল এনডিএ-র দখলে, আর বাকি ৮টি আসন বিরোধী শিবিরের হাতে ছিল।

    কোথায় কার কত আসন

    আন্ধ্রপ্রদেশে চারটি আসনের সবকটিই জিতেছে এনডিএ। এর মধ্যে তিনটি আসন পেয়েছে তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং একটি আসন গেছে জনসেনা পার্টির ঝুলিতে। গুজরাটেও চারটি আসনের সবকটিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। এর ফলে কংগ্রেসের দখলে থাকা একটি আসনও বিজেপি পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে। রাজস্থানে বিজেপির সতীশ পুনিয়া ও অলকা গুর্জর এবং কংগ্রেসের নীরজ ডাঙ্গি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও শাসক দলগুলির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। মিজোরামে শাসক জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (জেডপিএম) একটি আসন জয়ের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, মেঘালয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এবং অরুণাচল প্রদেশে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসন নিশ্চিত করেছে।

    মধ্যপ্রদেশ-ঝাড়খণ্ডে বিতর্ক

    সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। সেখানে রাজ্যসভার তিনটি আসনের মধ্যে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্র পুনর্বহাল করা হয়নি। রিটার্নিং অফিসারের এই সিদ্ধান্তকে ‘পরিকল্পিত’ ও ‘অন্যায়’ বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, যে আইনি নোটিশের ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা কোনও সরকারি এফআইআর ছিল না। ঝাড়খণ্ডের দুটি আসন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেখানে নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নাথওয়ানির বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর মনোনয়নপত্রে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। বিরোধীরা না মানলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রাজ্যসভা নির্বাচন একদিকে এনডিএ-র সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় তুলে ধরেছে।

  • Abhishek Banerjee: মধ্যরাতেও ছাতার তলায়! জিজ্ঞাসাবাদে অসযোগিতা? ১৪ তারিখ ফের অভিষেককে তলব সিআইডির

    Abhishek Banerjee: মধ্যরাতেও ছাতার তলায়! জিজ্ঞাসাবাদে অসযোগিতা? ১৪ তারিখ ফের অভিষেককে তলব সিআইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে (Abhishek Banerjee) টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদেও সন্তুষ্ট নন সিআইডি-র তদন্তকারীরা। সে কারণেই আগামী ১৪ তারিখ বেলা ১২টার সময় ফের তাঁকে তলব করেছে সিআইডি। এর আগে একাধিকবার নোটিস পেয়েও হাজিরা দেননি অভিষেক। হাইকোর্টের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডি (CID) দফতরে হাজিরা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সূত্রের খবর, সই জাল-কাণ্ডে বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের রেজোলিউশন নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। একবার চায়ের বিরতি নিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। সিআইডি সূত্রে খবর, প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাঝেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন অভিষেক।

    টানা সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

    প্রবেশ করেছিলেন সন্ধ্যা ৫টা ৪৯ মিনিট নাগাদ, প্রস্থান প্রায় রাত সাড়ে ১১টা! এদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবানীভবনে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দর থেকে প্রথমে কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি। এরপর সেখান থেকে সোজা সিআইডি সদর দফতর ভবানীভবনে পৌঁছন। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সিআইডি-র একাধিক তলবের পর অবশেষে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন তিনি। সই জালিয়াতি কাণ্ডে এর আগে তিন তিনবার অভিষেককে ডেকে পাঠিয়েছিল সিআইডি। হাজিরা দেননি অভিষেক। শেষে জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। হাইকোর্ট থেকে রক্ষাকবচ মিলতেই দিল্লি থেকে ফিরে সোজা বাড়ি ঘুরে ভবানীভবনে চলে যান অভিষেক। রাতে সেখান থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাঁকে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রশ্ন করলেও কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দিতে চাননি অভিষেক।

    কেন বারবার মেজাজ হারান অভিষেক?

    সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সিআইডি দফতরে প্রথমে ছয়-সাত জন অফিসার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারপর একসঙ্গে ১০ জন আধিকারিক প্রশ্নের ঝুলি নিয়ে হাজির হন তাঁর সামনে। ছিলেন সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকারও। জানা গিয়েছে, একাধিক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে অভিষেককে। বৈঠকে না থাকার পরও বিধায়কদের সই কীভাবে চিঠিতে রইল? কে বা কারা সই করেছেন? কেন করেছেন? রেজোলিউশন কপি কোথায়? এ ছাড়াও একাধিক কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। জানা যাচ্ছে, অধিকাংশ প্রশ্নের জবাবেই নাকি অভিষেক বলেছেন, জানি না। সূত্রের খবর, তদন্তকারী অফিসাররা তাঁকে বলেন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিজের দায় কোনওভাবেই এড়াতে পারেন না তিনি। এ কথা শুনে নাকি মেজাজ হারান অভিষেক। স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদাধিকারীকে কোনও চিঠি দেওয়ার আগে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন ছিল, এ কথা শুনেও মেজাজ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট নন সিআইডি আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অভিষেক কিছুই জানেন না এটা মানতে পারছেন না তদন্তকারীরা। আর যদি না-জানেন তাহলে বারবার এত মেজাজ হারান কেন অভিষেক? এই প্রশ্নও উঠছে।

    কী এই সই জাল কাণ্ড?

    বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর, গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানায়। দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির ছিল অভিষেকের দিকে। সেই কারণেই তাঁকে তলব করে সিআইডি।

    কেন ফের তলব অভিষেককে

    সূত্রের খবর, অভিষেকের দেওয়া জবাবে অসন্তুষ্ট সিআইডি-র তদন্তকারীরা। জবাবে অসঙ্গতি থাকাতেই ফের তাঁকে আরও একবার হাজিরা দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। যে রেজোলিউশন নিয়ে এত শোরগোল সেই রেজোলিউশনের কপি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও তথ্য অভিষেক তদন্তকারীদের দিতে পারেননি। বারবার তাঁর কাছে এই নির্দিষ্ট বিষয়েই জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু প্রতি ক্ষেত্রেই তিনি ‘জানি না’, ‘তার পক্ষে বলা সম্ভব নয়’, ‘বলতে পারব না’, এই জাতীয় উত্তর দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই জিজ্ঞাসাবাদে খুশি নিন সিআইডি আধিকারিকরা। সেই কারণেই রবিবার ফের তলব করা হয়েছে তাঁকে। রেজোলিউশন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।

    মধ্যরাতেও ছাতার তলায় মুখ ঢাকলেন

    রাত ১১টা ২৮ মিনিটে ভাবনীভবন থেকে বেরিয়ে সোজা কালীঘাটের রাস্তা ধরেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চলে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতার উপস্থিতিতে হয় বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ। বারোটা বেজে দশ মিনিট নাগাদ দলনেত্রীর বাড়ি থেকে বের হন অভিষেক। তবে ছাতায় মুখ ঢেকে। তাঁকে দেখতে পাননি কেউ।

  • Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি যদি অভিষেকের ওপরই নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গেই থাকুন। আর যদি তাঁর থেকে দূরে সরে আসেন, তাহলে আমি আপনার পাশে আছি।” বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata TMC Rebellion)। মমতার হাতে গড়া সাধের তৃণমূলে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় এমনিতেই শ্যাম রাখি না কূল দশা তৃণমূল সুপ্রিমোর।

    ‘ভাইপো কালচারে’র জের! (Mamata TMC Rebellion)

    এহেন আবহে কল্যাণের এই হুমকি বার্তায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতারা। তৃণমূলে ‘ভাইপো কালচার’ শুরুর পর থেকেই বইতে শুরু করেছিল অশান্তির চোরাস্রোত। তবে সে সবকে কোনওদিনই পাত্তা দেননি (Kalyan Banerjee) দলনেত্রী। উল্টে সাপ এবং ব্যাঙ-দু’পক্ষকেই তাঁবে রাখতে একের পর এক ‘গেম’ খেলে গিয়েছেন তিনি। তবে তাতে যে বিশেষ কাজ হয়নি, তার প্রমাণ মিলল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গাড্ডায় পড়তেই। ভেঙে দু’খান হয়ে গেল কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার ‘কারিগর’ মমতার দল।

    অভিষেককে নিশানা কল্যাণের

    এদিন কল্যাণ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবী নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে ‘ভাতিজা’র বিরুদ্ধে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর তিনি যে অভিষেকের হয়ে কোনও মামলায় সওয়াল করবেন না, তাও জানিয়ে দেন এই তৃণমূল সাংসদ। অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “ওঁর অহংকারী মনোভাবের কারণেই দলের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উনি কাউকেই সম্মান করতে জানেন না।” তিনি জানান, দলের প্রবীণ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, মমতা এখনও ফোন করেননি। তবে তিনি যে তৃণমূলের অন্যান্য সাংগঠনিক ও আইনি বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন, তাও জানিয়ে দিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা।

    ফাটল চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে

    এদিকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। গত তিনদিনে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ। বুধবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক। ৮ জুন ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। আর ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। প্রকাশ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে তাঁকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ আরও চড়েছে।এদিকে, তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনও সংযুক্তির জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। যদিও বুধবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন (Mamata TMC Rebellion) অভিষেক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের সঙ্গে সমর্থন রয়েছে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, লোকসভায় ২০ জন সাংসদ পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। এ থেকেই (Kalyan Banerjee) স্পষ্ট, তৃণমূলের ছত্রখান হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

     

  • Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজ্যসভার সদস্যপদে ইস্তফা দিলেন দলের প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Baraik)। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে মতামত দিয়েছেন, তা (BJP) মেনে নিয়েই আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।” প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে এটি তৃণমূলের তৃতীয় রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগ। এর আগে ৮ জুন পদত্যাগ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তার ঠিক দুদিন পরে, ১০ জুন রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন সুস্মিতা দেব। এবার সেই তালিকায় উঠে গেল প্রকাশের নাম।

    বিজেপি সাংসদের বাড়িতে প্রকাশ (Prakash Baraik)

    এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাও উসকে দিয়েছেন প্রকাশ। এদিন ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে প্রকাশ চলে যান বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে। সেখানে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশ বলেন, “সময়ই সব বলবে। এখনই কিছু বলতে চাই না। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে কী করব, তা সময়ই ঠিক করবে।” তিনি জানান, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দেন প্রকাশ। ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনমত বিজেপির পক্ষেই ছিল। আমার নিজের এলাকায়ও তৃণমূল একটি আসনও জিততে পারেনি। উত্তরবঙ্গের ফলও আশানুরূপ হয়নি। সেই কারণেই আমি মনে করেছি, এই পদে আমার থাকা আর নৈতিকভাবে ঠিক নয়। তাই আমি সাংসদ পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ—দুই থেকেই ইস্তফা দিয়েছি।”

    ক্রমেই চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ফাটল

    এদিকে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন (Prakash Baraik), বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও ধরনের সংযুক্তির প্রশ্নই নেই এবং গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ঋতব্রতের দাবি, তাঁদের শিবিরে এখন ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যা আগের ৫৮ জনের তুলনায় বেশি। খুব শীঘ্রই তাঁরা স্পিকারের কাছে (Prakash Baraik) সমর্থনের চিঠি জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।তৃণমূল কংগ্রেসে ধারাবাহিক পদত্যাগ ও বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয়তায় বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি (BJP) নয়া মোড় নিতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

     

  • Indian Seafarers Dead: হরমুজ প্রণালীর কাছে হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, শোক প্রকাশ কেন্দ্রের, পাশে থাকার বার্তা সোনোয়ালের

    Indian Seafarers Dead: হরমুজ প্রণালীর কাছে হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, শোক প্রকাশ কেন্দ্রের, পাশে থাকার বার্তা সোনোয়ালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি জানান, মৃতদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মৃতদেহ ভারতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীর কাছে পালাউ-ফ্ল্যাগযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ এমটি সেট্টেবেলোতে হামলার ঘটনায় (Settebello Tragedy) নিহত হন ওই তিন ভারতীয় নাবিক।

    সর্বানন্দ সোনোয়ালের বক্তব্য (Indian Seafarers Dead)

    বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে সোনোয়াল জানান, প্রথমে নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত তিন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনা ভারতের সামুদ্রিক সম্প্রদায়ের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। সোনোয়াল জানান, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ভারতে ফিরিয়ে আনা এবং মৃতদের মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যথাযথভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়। জানা গিয়েছে, হামলার সময় এমটি সেট্টেবেলো জাহাজে মোট ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাকি তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁদের পরিবারে।

    মৃত নাবিকদের পরিবারে কান্নার রোল

    উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার বাসিন্দা নিহত নাবিক শিবানন্দ চৌরাসিয়ার বাড়িতে কান্নার রোল। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিবানন্দের ভগ্নিপতি সঞ্জয় চৌরাসিয়া জানান, ঘটনার আগের সন্ধ্যায়ই তাঁর সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তিনি ইরানের একটি জাহাজে থাকার কথা বললেও, কোনও বিপদের কথা জানাননি। শিবানন্দের বাবা রামজি চৌরাসিয়া বলেন, “শেষবার রাত ৯টার দিকে কথা হয়েছিল এবং ছেলে জানিয়েছিল সব কিছু ঠিক আছে। পরে খবর আসে জাহাজে বোমা হামলা হয়েছে।” প্রতিবেশীদের দাবি, শিবানন্দই ছিলেন চৌরাসিয়া পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। তাঁর আয়েই ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছিল ওই পরিবারের আর্থিক অবস্থার।

    উদ্বেগ প্রকাশ রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের

    এদিকে, ফরওয়ার্ড সিম্যানস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদব জানিয়েছেন, হামলার পর থেকেই জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তখনই ঘটনার বিস্তারিত তথ্যও যাচাই করা হয় (Settebello Tragedy)।অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে, ফেলবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব। এতে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলিই। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছিল, ওমানের উপকূলের কাছে এমটি সেট্টেবেলো জাহাজে হামলার ঘটনায় তারা নজর রাখছে, এবং ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানের তদারকি করছে। এই ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে ভারত সরকার। শুধু তা-ই নয়, জোর দিয়েছে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর (Settebello Tragedy)।

     

  • Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। সেই সংকটের মাঝেই বুধবার (১০ জুন) তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই দিনে দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সুস্মিতা দেবের পদত্যাগকে অনেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে চলা বৃহত্তর বিদ্রোহের অংশ হিসেবে দেখছেন। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    কে এই সুস্মিতা দেব?

    সুস্মিতা দেব দেশের এক সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। তাঁর মা বীথিকা দেব অসমের শিলচর কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সুস্মিতা। ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে অসমের শিলচর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে শিলচর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের অন্যতম সক্রিয় সাংসদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

    ৫ বছরের মেয়াদ তৃণমূলে

    কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টেনে ২০২১ সালের অগাস্ট মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে অসম ও ত্রিপুরায় দলের বিস্তারের লক্ষ্যে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সময় তৃণমূল তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল। দলে যোগদানের পর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন সুস্মিতা?

    রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে সুস্মিতা দেব লেখেন, ‘‘আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। আমার কার্যকালের সময় সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং সচিবালয়ের সমস্ত আধিকারিককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’ তবে পদত্যাগপত্রে দলত্যাগের কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন সুস্মিতা?

    পদত্যাগের পরই দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, একসময় দু’জনেই কংগ্রেসে ছিলেন। পরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিজেপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যতে সুস্মিতা দেবের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখছে না। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি বা বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের আগে মঙ্গলবারই তৃণমূল ছেড়েছেন সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। পদত্যাগের সময় তিনি সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয় আসলে ‘‘১৫ বছরের নৈরাজ্যপূর্ণ শাসনের ফল’’। এদিকে লোকসভায় তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ পৃথক গোষ্ঠী গঠনের পথে হাঁটছেন বলে খবর। এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা আসন বরাদ্দের আবেদন করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) বলেছেন, ‘‘আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে পৃথক বসার ব্যবস্থা চেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করব।’’ এই মন্তব্য কার্যত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান বলেই মনে করা হচ্ছে।

    এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা

    বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, বিদ্রোহী গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-তে যোগ দিতে পারে। তবে ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কারণে বিষয়টি সহজ নয়। আইন অনুযায়ী কোনও দলের সংসদীয় গোষ্ঠী ভেঙে আলাদা সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা ২০ বলে দাবি করা হলেও, তা আইনি স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

    সংকট সামলাতে সক্রিয় শীর্ষ নেতৃত্ব

    দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী ঐক্য রক্ষা এবং দলের ভাঙন রোধ করাই এই বৈঠকগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।

    বিধানসভাতেও অস্থিরতা

    সংসদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বে একটি পৃথক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। পরবর্তীতে বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ শুধুমাত্র একজন সাংসদের দলত্যাগ নয়, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের বিস্তারের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত সুস্মিতা দেবের প্রস্থান তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যদি বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ সত্যিই এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে তা শুধু সংসদীয় সমীকরণ নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও নতুন মোড় দিতে পারে। এখন নজর থাকবে— সুস্মিতা দেবের পর আর কতজন সাংসদ বা নেতা তৃণমূল ছাড়েন এবং বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

  • PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি এক উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে অর্থনৈতিক, সামাজিক শাসন ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ৷ মোদির নেতৃত্বে ভারত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী এবং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিদেশনীতি প্রসঙ্গে ভারত নিজস্ব একটি ব্যাখ্যাও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ৷ এমনই দাবি বিদেশ মন্ত্রকের (MEA)। ৯ জুন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা এক পোস্টে মন্ত্রক জানায়, এই সময়কালে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-র প্রকাশ

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ শুধু “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-কে শক্তিশালী করেনি, বরং বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সোলার জোট (International Solar Alliance)-এর মতো উদ্যোগ, সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল জন পরিকাঠামো হিসেবে ইউপিআই (UPI)-এর প্রসার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা—সব মিলিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর

    বিদেশ মন্ত্রক তাদের পোস্টে উল্লেখ করেছে, “গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতি অসাধারণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করা—ভারত জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক কল্যাণকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।” পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে (James Marape) একটি ভিডিও বার্তায় মোদিকে “নেতৃত্বের আদর্শ উদাহরণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারতে কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনার সাফল্য বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়।” একইসঙ্গে তিনি ভারত ও পাপুয়া নিউ গিনির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা

    মোদি সরকার শুরু থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও চিন এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চেষ্টা করছে, ভারত তার কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ), বাণিজ্য, এবং মানবিক সহায়তা দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ত্রিনিদাদ টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ (Kamla Persad-Bissessar)-ও প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আজ ভারত বিশ্ব রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

    মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে প্রেরণা

    টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে দীর্ঘতম ধারাবাহিক মেয়াদের নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছেন। ১০ জুন তাঁর টানা ৪,৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রিত্ব পূর্ণ হয়েছে, যা ভারতের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। এই উপলক্ষে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতা ও সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনরা কুমারা দিশানায়েক (Anura Kumara Dissanayake) এক চিঠিতে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ বারবার মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেছেন, আর এই দীর্ঘ মেয়াদ সেই আস্থারই প্রতিফলন। তিনি ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী উপস্থিতি

    মোদি সরকারের আমলে ভারত জি-২০ (G20) এর মতো শীর্ষ বৈশ্বিক ফোরামের সফল সভাপতিত্ব করেছে এবং ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (ISA)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে, ভারত গণতান্ত্রিক রাজনীতির ‘ভারতীয় বৈশিষ্ট্য’ তুলে ধরার জন্য পশ্চিমের সঙ্গে তার গণতান্ত্রিক ঐক্যমত্যের উপর জোর দেওয়া থেকে সরে এসেছে । বর্তমানে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভারতীয় উৎসের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ৷ এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ভারত তার ঐতিহাসিক ঔপনিবেশিক ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে ৷ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ‘বিশ্ব পরামর্শদাতা’ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছে ভারত ।

    কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বড় শক্তিগুলোর সাথে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, ‘কোয়াড’ (Quad)-এর মতো জোটে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আত্মনির্ভর ভারত

    দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিকাশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে বিদেশনীতিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতিগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব সাপ্লাই চেইনে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করা হচ্ছে। মোদি সরকারের আমলে মেক-ইন-ইন্ডিয়া উদ্যোগ, দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের সঙ্গে ভারত আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী ও নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করতে এবং সেটার বিকাশে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ।

    সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করা এই সরকারের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় বসার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে উন্নীত করে বহু-সংখ্যাবদ্ধ কৌশলের পক্ষে কথা বলছেন ৷ ভারত সবসময় নিজেকে একটি বিশ্বশক্তি বলে মনে করে।

    বিশ্বস্ত উদ্ধারকারী ও মানবিক রাষ্ট্র

    বিশ্বের কোথাও কোনো সংকট দেখা দিলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ভারত তাৎক্ষণিক সাহায্যকারী বা ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ ও আফ্রিকার সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং উন্নয়ন, প্রযুক্তি, জলবায়ু উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে বিশ্বপরিসরে দেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত এখন বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

  • WB Police: পালাবদলের পরে বড় রদবদল পুলিশে, ১৭৯ অফিসারের বদলি ও পদোন্নতি বাংলায়

    WB Police: পালাবদলের পরে বড় রদবদল পুলিশে, ১৭৯ অফিসারের বদলি ও পদোন্নতি বাংলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর পুলিশ প্রশাসনে বিরাট রদবদল। একসঙ্গে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশে ১৭৯ জন আইপিএস-ডব্লিউবিপিএস-কে বদলি করার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। বদলি করা হল কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (ট্রাফিক) রূপেশ কুমারকে। বিধানসভা ভোটের আগে এই রূপেশকে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জ্যাক’ বলেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে সরানো হয়েছে এসটিএফে। রাজ্যের উচ্চপদস্থ কর্তাদের রদবদলের নোটিশ জারি করেছে হোম অ্যাফেয়ার্স দফতর। রাজ্য হোম অ্যাফেয়ার্স দফতেরের নোটিশ অনুযায়ী, ১৭৯ আইপিএস বদলির পাশাপাশি, একাধিক পুলিশ সুপারের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২টি পুলিশ জেলার এসপি বদল করা হচ্ছে।

    কাকে কাকে বদলি

    অন্য দিকে এত দিন ফাঁকা ছিল কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম)। সেই পদেও নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানকার যুগ্ম কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বদলি হয়েছেন আইপিএস মুরলীধর শর্মা। মুরলীধরকে আইজি (আইবি) পদে বসানো হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে গত এপ্রিলে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পদ থেকে সরানো হয়েছিল মুরলীধরকে। তার আগে মুরলীধরকে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে তামিলনাড়ুতে পাঠানোর কথা বলেছিল কমিশন। পরে সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় তারা। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদেই থেকে যান মুরলী। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি জেলায় পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়েছে। আইপিএস কুণাল আগরওয়ালকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানে এত দিন ছিলেন যুগ্ম কমিশনার পদের এক আধিকারিক। ওই পদে ছিলেন সোমা দাস মিত্র। তাঁকে বদলি করা হয়েছে আইজি (পলিসি) পদে। রূপেশকে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) থেকে ডিআইজি (এসটিএফ) করা হয়েছে।

    রুটিন মাফিক বদলি

    নির্বাচনের আচরণবিধি লাগু হওয়ার পরে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশে বিরাট রদবদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। ভোট মেটার পরে নতুন সরকারের সময়ে এই প্রথম এত বড় মাপের রদবদল করা হলো। রুটিনমাফিক এই বদলির সিদ্ধান্ত বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাঁকুড়া, মালদা রেঞ্জ-সহ একাধিক বিভাগের আইজিপি (ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ) পদে রদবদল হয়। পাশাপাশি একাধিক জেলার পুলিশ সুপার পদেও বদলি করা হয়েছে।

    কোথায় কোথায় বদলি

    • রাজেশ কুমার যাদবকে বাঁকুড়া রেঞ্জের আইজিপি থেকে এসটিএফ-এর আইজিপি।
    • গৌরব শর্মাকে ট্রাফিক আইজিপি পদ থেকে এসটিএফ-এর আইজিপি করা হয়েছে।
    • সুকেশ কুমার জৈনকে আইবি থেকে সিসিডব্লু-এর আইজিপি করা হল।
    • শীশ রাম ঝাঝারিয়া সংগঠন শাখা থেকে এসভিএসপিএ-র ডিরেক্টর হলেন।
    • মুরলীধর শর্মাকে আইবি-র আইজিপি হিসেবে নিযুক্ত করা হল।
    • শুভঙ্কর সিনহাকে সরকার কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পদ থেকে আইজিপি করা হয়েছে (প্রভিশনিং)।
    • কুণাল আগরওয়ালকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) পদে রাখা হয়েছে।
    • ভি. সলোমন নেসাকুমারকে আইজিপি (পার্সোনেল) পদ দেওয়া হয়েছে।
    • শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তীকে আইজি হোম গার্ড পদ দেওয়া হয়েছে।
    • উৎপল কুমার নস্করকে আইজিপি কারেকশনাল সার্ভিসেস-এ নিযুক্ত করা হয়েছে।
    • ফারহাত আব্বাস হলেন আইজিপি ট্রেনিং।
    • অঞ্জন চক্রবর্তীকে করা হল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির ডিরেক্টর।
    • রণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় হলে আইবি-র আইজি।
    • স্বপন সরকারকে করা হল আইজিপি, অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ (ACB)।
    • সঙমিত লেপচার পদোন্নতি করে আইজিপি, আর্মড পুলিশ (উত্তরবঙ্গ) করা হয়েছে।
    • মেহমুদ আখতার পদোন্নতি পেয়ে আইজি ট্রাফিক।
    • অজয় কুমার ঠাকুরের পদোন্নতি হয়ে আইজিপি, সিআইডি করা হয়েছে।
    • সোমা দাস মিত্র পদোন্নতি পেয়ে হলেন আইজিপি (পলিসি)।
    • কৃষ্ণকলি লাহিড়ীর পদোন্নতি পেয়ে আইজি, সিসিডব্লু করা হয়েছে।
    • শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা পদোন্নতি পেয়ে আইজিপি র‍্যাঙ্কে বহাল হলেন।
    • সূর্যপ্রতাপ যাদব বীরভূমের এসপি থেকে হলেন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক)।
    • বারাসত পুলিশ জেলার এসপি পুষ্পা হলেন পূর্ব বর্ধমানের এসপি।
    • ওয়াই রঘুবংশী কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি পদ থেকে হলেন STF উত্তরবঙ্গের এসপি।
    • ঈশানী পাল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা থেকে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সাউথ ওয়েস্ট) হলেন।
    • অতুল ভি. হলেন কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি।
    • সায়ক দাসকে পূর্ব বর্ধমানের এসপি থেকে কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) করা হল।
    • সুজাতা কুমারী বীণাপাণিকে জলপাইগুড়ির এসপি পদে বহাল করা হয়েছে।
    • জে. মার্সিকে বারাসত পুলিশ জেলার এসপি করা হল।
    • চন্দ্রশেখর বর্ধন হলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি।
    • অভিষেক গুপ্ত হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের এসপি।
    • প্রিয়ব্রত রায় হলেন পশ্চিমবঙ্গ ট্রাফিক পুলিশের এসপি।
    • শুভেন্দ্র কুমার বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি হলেন।
    • সুবিমল পাল হলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (ইস্ট সাবার্বান ডিভিশন)।
    • বিদিত রাজ ভুন্ডেশকে বীরভূমের এসপি পদ দেওয়া হয়েছে।
    • ভি. সি. সতীশ পাসুমার্তি বাঁকুড়ার এসপি পদ পেলেন।
    • সৌম্যদীপ ভট্টাচার্যকে এসটিএফ মালদার এসপি পদ দেওয়া হয়েছে।
    • চিন্ময় মিত্রকে করা হল কলকাতা পুলিশের ডিসি (রিজার্ভ ফোর্স)।
    • অমিত ভার্মা হলেন হাওড়া (গ্রামীণ)-এর এসপি।
    • সানি রাজ হলেন পুরুলিয়ার এসপি।
    • কুনওয়ার ভূষণ সিং হুগলি (গ্রামীণ)-এর এসপি।
    • চারু শর্মা শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি।
    • ইন্দ্র বদন ঝা SRP, শিলিগুড়ি। কল্যাণ সিনহা রায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ।
    • মণীশ জোশী কলকাতা পুলিশের ডিসি (ওয়্যারলেস)।
    • জয়ন্ত মুখোপাধ্যায় SRP, খড়গপুর।
    • অম্লান ঘোষ হোম গার্ড সংগঠনের সিনিয়র স্টাফ অফিসার।
    • দেবরাজ দাস বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে ডিসি।
    • পল্লবতী শারন্যা ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি।
LinkedIn
Share