Tag: bjp

bjp

  • West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ভোটপর্ব মিটেছে। ১৫ বছর পর ফের একবার ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী রইল বঙ্গভূমি। শনিবারই নতুন সরকার গড়বে বিজেপি। ইস্তফা না-দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন ‘প্রাক্তন’। বিধানসভার (West Bengal Assembly) স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতক, এবং ডেপুটি চিফ হুইপের ঘরগুলি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঢুকতে পারবেন না কেউই। বিধানসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মূলত এই নির্দেশ বহাল থাকছে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরে আবার পুনরায় কাজ কর্ম শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সরল মমতার ছবি

    ইতিমধ্যেই বিধানসভার মন্ত্রীদের ঘর থেকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি খুলে ফেলা হয়েছে। এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা। এরইমধ্যে দেশের সংবিধান মেনে আগের সরকার ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। করেছেন ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা মারফত প্রাপ্ত ক্ষমতার প্রয়োগ। ইতিমধ্যে বিবৃতি জারি করে পুরনো বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। তবে, সরকার ভেঙে দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল আরএন রবি। আসলে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাজিত হয়েও যে রীতি এবং রেওয়াজ মেনে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা না-দিতে পারেন, তেমন ‘অভিনব’ পরিস্থিতির কথা সংবিধান প্রণেতাদেরও মাথায় আসেনি। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই পরিস্থিতিকে একটা ‘ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট’ (খামখেয়াল) হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ, রাজ‍্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হল মানে মন্ত্রিসভার আর অস্তিত্ব রইল না। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীও হয়ে গেলেন প্রাক্তন।

    সাজছে বিধানসভা

    ইতিমধ্যে বিধানসভায় বিভিন্ন মন্ত্রীদের ঘরে বা অন্যত্র কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে সেখানে মেরামতির কাজ চলছে। যেমন কোনও সুইচ বোর্ডের সমস্যা থাকলে, কোথাও শীততাপ যন্ত্রের সমস্যা থাকলে মেরামত করার কাজ চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে গোটা বিধানসভাজুড়েই। একইভাবে বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে বারবার প্রয়োজনীয় পরিদর্শন করছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করছেন। নতুন নতুন নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের। সূত্রের খবর, ওখানেই তৈরি হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। গোটা বিধানসভায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি বন্দোবস্ত। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের করিডরের সামনে বসানো হয়েছে পুলিশ প্রহরা।

  • Jamaat Video Row: “দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন”, মমতাকে ‘পরামর্শ’ বাংলাদেশের জামাত নেতার, ভাইরাল ভিডিওয় ব্যাপক চাঞ্চল্য

    Jamaat Video Row: “দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন”, মমতাকে ‘পরামর্শ’ বাংলাদেশের জামাত নেতার, ভাইরাল ভিডিওয় ব্যাপক চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নির্বাচনী পরাজয়ের পর পদত্যাগ না করার আহ্বান জানান বাংলাদেশের জামাত নেতা মহম্মদ নুরুল হুদা (Jamaat Video Row)। মমতাকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সংঘাত আরও তীব্র করার পরামর্শও দেন। হুদার এই ভিডিও বার্তার জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

    দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন (Jamaat Video Row)

    হুদার ভিডিওটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজটির ভাষা ও প্রকাশের সময়কাল দ্রুতই একে একটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত করে। ওই ভিডিও বার্তায় হুদা সরাসরি মমতার উদ্দেশে বলেন, “পদত্যাগ করবেন না, দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন।” বাংলাদেশি এক মুসলমান নেতার এহেন মন্তব্য এবং পরামর্শই হয়ে উঠেছে বিতর্কের মূল বিষয়। হুদা পশ্চিমবঙ্গকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার কথাও বলেন। এতে আরও চড়ে যায় বিতর্কের পারা।ভারতের রাজনৈতিক দলের নেতারা হুদার এই মন্তব্যকে অত্যন্ত উসকানিমূলক আখ্যা দেন। হুদার দাবি, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মুসলমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবে। তাঁর এই বক্তব্য বিতর্কে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করেছে, বাড়িয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক নজরদারি।

    মন্তব্যের তীব্র নিন্দা বিজেপির

    বিজেপির তরফে হুদার এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। বিজেপি নেতারা এসব মন্তব্যকে বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, “কেন একটি বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করছেন?” বিজেপি-বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতাও হুদার এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য উসকানিমূলক এবং যথোপযুক্ত নয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই বিতর্ককে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বাইরের রাজনৈতিক মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব ফেলে না (Mamata Banerjee)।

    মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা

    সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। দলের কান্ডারি মমতা স্বয়ং নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। ২৯৩টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল (Jamaat Video Row)। তার মধ্যে বিজেপি জয়ী হয় ২০৭টি আসনে। নির্বাচনে দলের করুণ ফলের পরেও মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা। তার জেরে বঙ্গে বেড়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। নির্বাচনের ফল এবং ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক বয়ান এখনও রাজ্য-রাজনীতির চর্চার প্রধান বিষয়। এহেন আবহে হুদার ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজটি রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলি এই বিতর্ককে একে অপরের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তোলা হয়নি। তা সত্ত্বেও এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একটা অংশের মতে, এই ধরনের ভাষা উত্তেজনা বাড়াতে পারে, পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো এবং অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। কারও কারও মতে, এই জাতীয় মন্তব্য অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটি অনলাইনে ভাইরাল হওয়ায় এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক ভাষা, ডিজিটাল প্রচার (Mamata Banerjee) এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমান্তপারের মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক চর্চার বিষয়ে পরিণত হয়েছে (Jamaat Video Row)।

  • Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকার করায় বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি

    Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকার করায় বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের সাক্ষী থাকল রাজ্য। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পদত্যাগে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি (R N Ravi)।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০-তে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

    অচলাবস্থার মূল কারণ (Mamata Banerjee)

    সাধারণত পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের (R N Ravi) কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। তাঁর অভিযোগ:

    • নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে ‘ভোট লুট’ করেছে।
    • নির্বাচনী ফলাফলকে তিনি ‘চক্রান্ত’ এবং ‘জালিয়াতি’ বলে অভিহিত করেছেন।
    • তাঁর দাবি, জনমতকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাই নৈতিকভাবে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য নন।রাজ্যপালের কড়া পদক্ষেপ

    রাজ্য সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ দিন ছিল ৭ মে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদ না ছাড়ায় এবং নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত না হওয়ায় সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি (R N Ravi)। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের ফলে বিদায়ী মন্ত্রিসভার আইনি বৈধতা আর রইল না।

    আইনি বিশেষজ্ঞদের মত

    প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, যখন কোনও সরকার নির্বাচনে গরিষ্ঠতা হারায় এবং মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন, তখন রাজ্যপালের হাতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকে না। পরিস্থিতি জটিল হলে পুলিশি সহায়তায় প্রশাসনিক ভবন খালি করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    বিজেপি শিবির এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছে এবং দ্রুত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে, অখিলেশ যাদবের মতো বিরোধী নেতারা কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করেছেন। রাজ্য রাজনীতির এই উত্তাল পরিস্থিতিতে এখন সবার নজর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার দিকে।

  • Samik Bhattacharya: “সিংহ স্থবির বলে কেউ যদি মনে করে পদাঘাত করবে, ভুল করছে”, শুভেন্দুর পিএ খুনে প্রতিক্রিয়া শমীকের

    Samik Bhattacharya: “সিংহ স্থবির বলে কেউ যদি মনে করে পদাঘাত করবে, ভুল করছে”, শুভেন্দুর পিএ খুনে প্রতিক্রিয়া শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সিংহ স্থবির বলে কেউ যদি মনে করে পদাঘাত করবে, ভুল করছে। আমরাও তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি, কথা বলতে পারি।” শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ  খুনে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

    শমীকের প্রতিক্রিয়া (Samik Bhattacharya)

    তিনি বলেন, “আমরা জিতলাম। আর আমাদেরই ৩ জন কর্মী মারা গেলেন? আমাদের কি ক্ষমতা নেই? তাও বলছি না, বলব না। এটাই হচ্ছে আমাদের স্ট্যান্ড। কিন্তু এই যে ঘটনা ঘটল যার সঙ্গে রাজনীতির দূর দূর পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই, তিনি একজনের আপ্ত সহায়ক। একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। একজন প্রাক্তন সেনাকর্মী। আজ তাঁকে এভাবে মারার উদ্দেশ্যটা কী? এটা সম্পূর্ণভাবেই একটা পরিকল্পিত, প্রতিহিংসাজনিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড (Suvendu Adhikari PA Murder)।” বঙ্গ বিজেপির কান্ডারি বলেন, “পুলিশ তদন্ত করছে। পরে তারা জানাবে। তবে গতকালের (বুধবার রাতের) ঘটনা প্রমাণ করে দিল পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা এই মুহূর্তে কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত প্রশাসনকে ধ্বংস করেছে। পুলিশের রাজনীতিকরণ সম্পূর্ণ করেছে। সমস্ত অপরাধীর ভয় মুক্ত করেছে। অপরাধীরা মনে করছে, এটা স্বর্গরাজ্য। বারাসত ও মধ্যমগ্রাম সীমান্ত থেকে খুব দূরে নয়। বহু ধরনের সমাজ- বিরোধী কার্যকলাপ এখানে দিনের পর দিন হয়েছে।”

    জালিয়াতির কারবার

    শমীক বলেন, “জাল আধার কার্ড তৈরি, জাল রেশনকার্ড তৈরি, জাল এপিক তৈরির কাজও এই বারাসত ও মধ্যমগ্রাম থেকে চলছে। ভারতের যে প্রান্তেই অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে, তাদের জেরা করে জানা গিয়েছে, তারা কার্ড জোগাড় করেছে এখান থেকে। সেই কারণেই এটা স্পর্শকাতর অঞ্চল।” বঙ্গ বিজেপির প্রধান বলেন, “এখানে যেভাবে (Samik Bhattacharya) এই হত্যাকাণ্ড হল, কার্যত সেটা একটাই বার্তা দেওয়ার জন্য হল? মানে এটা প্রধানমন্ত্রী ২ দিন পর আসছেন, তাঁকে বার্তা দেওয়ার জন্য? এই ধরনের উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা চলছে, এটা আমি অস্বীকার করছি না। আমি আমার দলের কর্মী ও প্রশাসনকে বার্তা দিয়েছি, কেউ যদি কোনও জায়গায় কোনও অশান্তি তৈরি করে, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু এটা কী হল?”

    কী বললেন সজল ঘোষ?

    এই ঘটনায় (Suvendu Adhikari PA Murder) কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বরানগরের সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক বিজেপির সজল ঘোষও। তিনি বলেন, “এটা কামড় হলে, এবার ওদের দাঁত ভাঙা হবে। এই খুন, আর যাই হোক, পাড়ার গুন্ডারা করেনি। এটা দক্ষিণ কলকাতার প্ল্যান। দেখলাম, ৩টে নয়, ৫টা গুলি লেগেছে। ৫ খানা গুলি লেগেছে! এটা কিছুই নয়, শুভেন্দুকে ওয়ার্নিং দেওয়া, শুভেন্দুকে চমকানো। কিছু একটা হবে। তবে আর যাই হোক, ওঁকে মারার পেছনে কোনও পাড়ার গুন্ডা থাকতে পারে না।” প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারিকের আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে (Suvendu Adhikari PA Murder)। তার জেরেই আসছে (Samik Bhattacharya) বিজেপির একের পর এক নেতার প্রতিক্রিয়া।

  • Chandranath Rath: চন্দ্রনাথকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত খুনিদের বাইক উদ্ধার করল পুলিশ, মিলেছে আরও চাঞ্চাল্যকর তথ্য

    Chandranath Rath: চন্দ্রনাথকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত খুনিদের বাইক উদ্ধার করল পুলিশ, মিলেছে আরও চাঞ্চাল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari PA) আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে এই বাইকে করে চেপেই পালিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। এ বার ওই দু’টি বাইকের মধ্যে একটি বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। অপরটির খোঁজ এখনও চলছে। তবে বাইকটি কোন এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি। আবার এই অপরাধে ব্যবহৃত ঘাতক গাড়িটির নম্বর প্লেট এবং চেসিস নম্বর নিয়ে চাঞ্চাল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গাড়ির মালিক উইলিয়াম জোশেফ জানিয়েছেন, “গাড়িটি বিক্রির জন্য আমি ইন্টারনেটে দিয়েছিলাম।” এরপর মাটিগাড়া থানায় পুলিশরা তাঁর গাড়ির পুরো ভেরিফিকেশন করেছে।

    নম্বর প্লেট ও চেসিস নম্বরে কারসাজি (Chandranath Rath)

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চন্দ্রনাথ (Chandranath Rath) খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত চারচাকা গাড়িটির নম্বর প্লেটটি পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গাড়িটির পরিচয় মুছে ফেলতে বনেট, দরজা এবং অন্যান্য অংশ থেকে চেসিস নম্বর ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত কোনও পেশাদার অপরাধী গোষ্ঠী ছাড়া এত নিখুঁতভাবে গাড়ির পরিচয় গোপন করা সম্ভব নয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

    গাড়ির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি

    শুভেন্দুর পিএ খুনের (Suvendu Adhikari PA) তদন্তে দেখা গিয়েছে, গাড়িটির যে নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়েছিল, তা উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বাসিন্দা উইলিয়াম জোসেফ নামে এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত। তিনি পেশায় চা-শিল্পের কর্মী। তবে পুলিশ (Chandranath Rath)  তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, তাঁর গাড়িটি বর্তমানে শিলিগুড়িতেই রয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, অপরাধীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আসল গাড়ির মডেল ও নম্বর নকল করে এই ‘ভুয়ো’ গাড়িটি তৈরি করেছিল।

    হামলার ধরন ও নৃশংসতা

    ঘটনাটি ঘটে রাত ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে, যখন চন্দ্রনাথ রথ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে যা যা তা হল–

    তিনজন এই হত্যার (Suvendu Adhikari PA) হামলায় অংশ নেয়। একজন গাড়ি চালক এবং বাকি দুইজন মোটরসাইকেলে। ঘাতক গাড়িটি চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) গাড়ির সামনে আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে। এরপর মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা গাড়ির জানলার কাঁচে বন্দুক ঠেকিয়ে চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। তিনটি গুলি লাগে চন্দ্রনাথের শরীরে।

    ৬ ঘণ্টা ধরে রেকি

    চারচাকা গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়ি মাঝরাস্তায় আটকেছিল, সেটি বুধবার বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিট নাগাদ দোলতলা সাহারা ব্রিজের কাছে দেখা গিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। অর্থাৎ খুনের প্রায় ৬ ঘণ্টা আগে মধ্যমগ্রাম এলাকায় ঢুকে গিয়েছিল গাড়িটি। পুলিশের অনুমান, এরপর চন্দ্রনাথের বাড়ির কাছে ওই গাড়ি নিয়ে রেকি করেছিল আততায়ীরা, কীভাবে খুন করা যায় তার পরিকল্পনা ছকে নেওয়া হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। খুনের আগে পিছন থেকে এসে আচমকা চন্দ্রনাথের গাড়ির গতি আটকায় এই চারচাকা গাড়িটি।

    পুলিশের পদক্ষেপ

    রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজি) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, বারাসাত ও মধ্যমগ্রাম এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই খুনের (Suvendu Adhikari PA) রহস্য উদ্ঘাটনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এখন কাজ করছে। বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং তাতে ব্যবহৃত গাড়ির পরিচয় লোপাটের এই নয়া তথ্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

  • West Bengal election: “পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার”, নতুন গান ও স্লোগান রিলিজ বিজেপির, রয়েছেন মোদি, শুভেন্দু-শমীক

    West Bengal election: “পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার”, নতুন গান ও স্লোগান রিলিজ বিজেপির, রয়েছেন মোদি, শুভেন্দু-শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal election) জয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টি (West Bengal BJP) তাদের সাফল্যের উদ্‌যাপনে নতুন গান ও স্লোগান প্রকাশ করেছে। ভোট প্রচারে স্লোগান ছিল ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’। পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পরে নতুন স্লোগান বাঁধল পদ্মশিবির। এবারের গান “পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার। বাঁধল নতুন গানও।”

    স্লোগানে পরিবর্তন (West Bengal election)

    নির্বাচনের (West Bengal election) আগে বিজেপির প্রধান স্লোগান ছিল—“পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” জয়ের পর সেই স্লোগান পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে—“পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার।” ক্ষমতায় আসার পরে সেই গান এবং স্লোগান উদ্‌যাপন করতে নতুন গান প্রকাশ্যে আনল পদ্মশিবির। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেখানে প্রতিশ্রুতি পূরণের বার্তার পাশাপাশি রইল মোদির মুখে ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি। গানের সুরে রয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও। দলের তরফে দুই মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি নতুন গান প্রকাশ করা হয়েছে। এই গানে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি (West Bengal BJP) প্রসঙ্গে গানে বলা হয়েছে শিক্ষা হবে উর্ধ্বগামী সিঁড়ি। বেকারত্ব দূরীকরণ এবং রাজ্যে তথাকথিত ‘দাদাগিরি’র সংস্কৃতির অবসানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষঙ্গ

    গানের ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠে ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি এবং আবহ সঙ্গীতে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি (West Bengal BJP) ব্যবহার করা হয়েছে, যা দলের আদর্শগত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। শিক্ষা এ বার ‘ঊর্ধ্বগামী সিঁড়ি’তে পা রাখবে। রাজ্যে আর ‘বেকারত্ব থাকবে না’, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে নতুন গানে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজনৈতিক ‘দাদাগিরির’ সংস্কৃতি ঘোচানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। গানের ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের সাফল্যের মুহূর্তগুলো (West Bengal election) তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে নেতাকর্মীদের প্রবল পরিমাণে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গিয়েছে গানে।

     গানের প্রেক্ষাপট

    গত ১৭ জানুয়ারি মালদার জনসভা (West Bengal election) থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি যে স্লোগান বেঁধে দিয়েছিলেন, তা প্রচার পর্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। বিজেপি মনে করছে, মানুষের আবেগকেই জয়ের পর এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে এই গান ও স্লোগান বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। রাজ্যে ২০০-র গণ্ডি পেরিয়ে ক্ষমতায় আসার পর জনতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই এখন নতুন সরকারের (West Bengal BJP) প্রধান লক্ষ্য—এই বার্তাই গানে স্পষ্ট করা হয়েছে।

  • Chandranath Rath: সিনেমার কায়দায় খুন চন্দ্রনাথকে, কীভাবে মারা হল শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে?

    Chandranath Rath: সিনেমার কায়দায় খুন চন্দ্রনাথকে, কীভাবে মারা হল শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে (Chandranath Rath)। গত আট বছর ধরে তিনি সামলাচ্ছিলেন শুভেন্দুর মিটিং-মিছিলের প্ল্যান-সহ সব কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এয়ার ফোর্সের প্রাক্তনী চন্দ্রনাথকে খুন (Suvendu Adhikari PA Murder) করে রাজ্যে ত্রাসের সঞ্চার করতে চায় তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপির। সবেধন বাংলার গদি খুইয়ে যারপরনাই আতঙ্কিত তৃণমূল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার জেরেই চলছে বিজেপি নিধন যজ্ঞ, যার বলি হলেন শুভেন্দুর পিএ চন্দ্রনাথ। এই ঘটনার পরেও দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দেন জোড়া বিধানসভা কেন্দ্র-জয়ী শুভেন্দু।

    চন্দ্রনাথ খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য (Chandranath Rath)

    এদিকে, চন্দ্রনাথ খুনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, আততায়ীরা মোট তিনজন ছিল। চন্দ্রনাথকে খুন করতে কাজে লাগানো হয়েছে একটি চারচাকা গাড়ি ও দুটি বাইক। বুধবার রাত সোয়া ১০টা নাগাদ বাড়ি যাওয়ার পথে মধ্যমগ্রামে খুন হন চন্দ্রনাথ। হঠাৎই পিছন থেকে একটি চারচাকা গাড়ি আড়াআড়ি ভাবে এসে দাঁড়িয়ে যায় শুভেন্দুর পিএ-র গাড়ির সামনে। এই সময় পেছন থেকে দুপাশে দ্রুত চলে আসে দুটি বাইক। শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলিবৃষ্টি। প্রথমে গাড়ির কাচে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি চালানো হয়। গুলির ঘায়ে কাচে গর্ত তৈরি হলে চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে সেখান দিয়ে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে গুলি ছোড়ে আততায়ীরা (Suvendu Adhikari PA Murder)। তদন্তকারীদের অনুমান, চন্দ্রনাথকে খুন করার সময়ই টার্গেট করা হয় তাঁর গাড়ির চালককেও। গুলিতে জখম হয়ে তিনি ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে। গাড়ির পেছনের সিটে বসেছিলেন চন্দ্রনাথের ঘনিষ্ট একজন। তিনি অবশ্য অক্ষতই রয়েছেন।

    চালানো হয় ১০ রাউন্ড গুলি!

    তদন্তকারীদের অনুমান, সব মিলিয়ে ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। আরও জানা যায়, চারচাকা চালাচ্ছিল এক আততায়ী। আর দুজন এসেছিল বাইকে চড়ে। চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরেই দুটি বাইকে চেপে তিনজনে পালিয়ে যায় দুটি আলাদা দিকে। একটি বাইক চলে যায় যশোর রোডের দিকে (Chandranath Rath)। আততায়ীদের আর একটি বাইক এমন রাস্তা ধরেছিল, যেখান থেকে সহজেই চলে যাওয়া যায় মধ্যমগ্রাম চৌমাথা এবং রাজারহাটের দিকে। যে বাইকটি যশোর রোড ধরেছিল, সিসিটিভির ফুটেজে সেই গাড়ির ছবি মিললেও, আবছা উঠেছে গাড়ির নম্বর প্লেট। তাই আততায়ীরা ঠিক কোন দিকে গিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আততায়ীদের খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান (Chandranath Rath)।

  • Suvendu Adhikari: “মমতাকে হারানোর বদলা নিল তৃণমূল”, কেঁদে কেঁদে বললেন চন্দ্রনাথের মা

    Suvendu Adhikari: “মমতাকে হারানোর বদলা নিল তৃণমূল”, কেঁদে কেঁদে বললেন চন্দ্রনাথের মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। রামকৃষ্ণ মিশনের মেধাবী ছাত্র থেকে বায়ুসেনায় চাকরি, সেখান থেকে দাপুটে রাজনীতিবিদের ছায়াসঙ্গী— চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) এই অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিজন ও প্রতিবেশীরা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যে শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। বিজেপির অবশ্য দাবি এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের একটা চক্র রয়েছে। তবে শপথ গ্রহণের আগেই এই হত্যাকাণ্ড রাজ্যরাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

    মেধাবী ছাত্র থেকে বায়ুসেনা হয়ে রাজনীতির আঙিনায়, কেমন ছিলেন চন্দ্রনাথ (Suvendu Adhikari)?

    পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রথ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। ২০০০ সালে সসম্মানে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এই যুবক ছিলেন এলাকার গর্ব। তাঁর সহপাঠী ও বাল্যবন্ধু শিবশঙ্কর দাসের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে এক আদর্শবাদী তরুণের ছবি।

    • শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছয়টি বিষয়ে লেটার মার্কস-সহ স্টার মার্কস পেয়েছিলেন চন্দ্রনাথ।
    • ব্যক্তিত্ব: বন্ধুমহলে তিনি পরিচিত ছিলেন পরোপকারী ও মিষ্টভাষী হিসেবে। কাউকেও কোনোদিন উচ্চস্বরে কিছু বলা বা কোনও বিবাদে জড়ানোর বিন্দুমাত্র ইতিহাস তাঁর ছিল না।
    • রাজনৈতিক বিবর্তন: কর্মজীবন শুরু করার পর একসময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে দল পরিবর্তন করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

    শোকাতুর পরিবার ও প্রতিবেশীদের হাহাকার

    শুভেন্দুর পিএ (Suvendu Adhikari) চন্দ্রনাথের মৃত্যুর খবর পৌঁছানো মাত্রই চণ্ডীপুরে তাঁর গ্রাম শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। গতকাল রাত থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাচ্ছেন উদ্বিগ্ন গ্রামবাসী ও পরিচিতরা। পরিবারের একমাত্র ছেলের এমন মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিয়ে চিন্তিত পরিজনেরা। প্রতিবেশীরা বলেন, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে চেনা প্রতিবেশীরা বলছেন, “এমন মার্জিত ও অমায়িক ছেলে এ তল্লাটে বিরল।” ভোটের ঠিক আগের দিনও গ্রামে এসে সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে গিয়েছিলেন তিনি। সেই স্মৃতিই এখন গ্রামবাসীর চোখে জল এনে দিচ্ছে।

    মৃত্যুর পিছনে যারা রয়েছে, তাদের যেন শাস্তিটুকু হয়

    চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) মা হাসি রানী রথের অভিযোগ, সবটাই তৃণমূলের সাজানো গল্প। তিনি বলেন, “আজ আমরা ক্ষমতায় আসার পর, যখন আমাদের নেতা বলছেন সুশৃঙ্খলভাবে থাকতে, তখন শাসকদের যাঁরা গরম গরম বক্তৃতা দিয়েছিল যে চার তারিখের পর কোনও বাপ রক্ষা করতে পারবে না, সেটাই করে দেখাল। আমি নতুন সরকারের কাছে আবেদন করব আমার ছেলের মৃত্যুর পিছনে যারা রয়েছে, তাদের যেন শাস্তিটুকু হয়।”

    রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ ও বিচারের দাবি

    চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ তাঁর বন্ধু ও অনুগামীরা। শিবশঙ্কর দাসের স্পষ্ট অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে চন্দ্রনাথকে। তিনি বলেন, ‘‘যিনি কোনওদিন কাউকে একটি চড় পর্যন্ত মারেননি, তাঁর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকা অসম্ভব। বিজেপি করার ‘অপরাধেই’ তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।’’ বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব চন্দ্রনাথের গ্রাম ও রাজনৈতিক মহল।

  • ABVP: সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে এবিভিপি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ডাক

    ABVP: সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে এবিভিপি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে পদ্ম ফুটতেই (BJP Bengal Victory) রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) প্রদেশ কার্যালয়ে ঢল নেমেছে জেন জিদের। স্বদেশ মাতার বন্দনা, দেশের সুরক্ষা এবং দুর্নীতি মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিকে ছাড়ার হিড়িক দেখা দিয়েছে ছাত্র সমাজের মধ্যে। রাজনৈতিক পালা পরিবর্তনের পর এবিভিপির পক্ষ থেকে লিংড কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার জোরালো দাবি উঠেছে। সেই সঙ্গে সংগঠনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে বিদ্যার্থী পরিষদ। বাংলার ভেঙে পড়া শিক্ষা পরিকাঠামকে পুনঃনির্মাণের দাবি তোলা হয় এই হিন্দুত্ববাদী ছাত্র সংগঠনের তরফে।

    ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ (ABVP)

    অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পর অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) তরফে সাফ দাবি করা হয়, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সমস্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচন করতে হবে। ছাত্র অধিকারের দাবিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং ক্যাম্পাসকে রাজনীতি মুক্ত করে এবিভিপি সকল ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থকে সুরক্ষিত করার কথা জোর দিয়ে জানিয়েছে। ভর্তিতে কাটমানি, তোলাবাজি, নেশামুক্ত ক্যাম্পাস এবং কাম্পাসে নারী সুরক্ষার বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিরাপদ করার দাবিও তুলেছে এবিভিপি। বঙ্গের কৃষ্টি-সংস্কৃতির জাগরণের আরেকবার পুনঃজাগরণের কথায় জোর দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৬ সালের পর থেকে কোনও নির্বাচন হয়নি

    ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই জেলা ভিত্তিক সংগঠনের কাজ সম্পন্ন করেছে এবিভিপি। ইতিমধ্যে কলকাতা, শহরতলী, উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি, শিলিগুড়ি, মালদা, কোচবিহারে এবিভিপির শক্ত সংগঠন রয়েছে। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে গত ৮ বছর আগে ২০১৯ সালে শেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল কেবলমাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যায় এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। একক ভাবে এবিভিপি (ABVP) বিশেষ ভাবে নিজেদের ভোট অঙ্কে বিরাট প্রতিফলন হয়েছিল। তবে রাজ্যের বাকি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাম্পাসগুলিতে ২০১৬ সালের পর থেকে কোনও নির্বাচন হয়নি। একক ভাবে তৃণমূল ছাত্রপরিষদ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের একাধিপত্য জোরপূর্বক দখল করে রেখে ছিল। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির (BJP Bengal Victory) ফলে ক্যাম্পাসকে ভয় মুক্ত করতে এগিয়ে আসছে বঙ্গের জেন জি সমাজ।

    রাজনীতির আখড়া গড়ে তুলেছে

    এবিভিপির দাবি, তৃণমূলের রাজত্বে গত আট বছর এ রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রসংসদ গঠন করা যায়নি। স্বচ্ছ ভাবে করা হয়নি ছাত্র সংসদের ভোট। বারবার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রসংসদ নিষ্ক্রিয় করে রেখছে শাসকদল তৃণমূল। ইউনিয়ন রুমে ক্যাম্পাসের তৃণমূল নেতারা ছাত্রীদের ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে।  সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে এমন ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছিল সর্বত্র। অকারণে শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষকদের সঙ্গে অভব্য আচরণ, মারধর এবং রাজনীতির আখড়া গড়ে তুলেছে। কলজেগুলিকে লোকাল রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের প্রভাব বন্ধ করতে হবে। যাদবপুরের মতো জায়গায় স্বপ্নদীপের মতো একজন প্রথম বর্ষের ছাত্রকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে নামাজ, ইফতারের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কাজ করেছে তৃণমূল। তাই সার্বিক ভাবে অপসংস্কৃতির সমাপ্তি ঘটিয়ে একটি শিক্ষার পরিমণ্ডল চায় এবিভিপি।

    দুর্নীতিগ্রস্তদের সংগঠনে না

    এবিভিপি-র (ABVP) রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সেলের সহ-আহ্বায়ক দেবাঞ্জন পাল জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্য থেকে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এবিভিপি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যেরা সব থেকে বেশি যোগ দিতে চাইছেন আমাদের সংগঠনে। কিন্তু নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ক্যাম্পাসের পরিবেশ যাঁরা এত দিন নষ্ট করে এসেছেন, ভাবমূর্তি খারাপ তাঁদের কোনও ভাবেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। ২০১৭-র পর থেকে কোথাও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। এই ন’বছরে যাঁরা পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা বুঝতেই পারলেন না ছাত্র রাজনীতি কী। তৃণমূল স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধ্বংস করেছে আমরা সেটা ফিরিয়ে আনব।”

    ছাত্র সমাজের বিরাট পরিবর্তন

    রাজ্যে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনের (West Bengal Election 2026) অবসান হয়েছে। পদ্মশিবির উত্তর থেকে দক্ষিণে দিকে দিকে জয়যুক্ত হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের ঢেউ (BJP Bengal Victory) আছড়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের অলিগলিতে। লাগাম ছাড়া নারীধর্ষণ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে একক ভাবে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে জয়যুক্ত হয়েছে। মমতার মা মাটি সরকারের লাগাম ছাড়া তোষণনীতির বিরুদ্ধে এবং হিন্দু সুরক্ষার পক্ষে জনাদেশ এসেছে। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যেও বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদ্যার্থী পরিষদ রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে হিংসা মুক্ত পরিবেশ চায় এবিভিপি। এমনটাই জানানো হয়েছে সংগঠনের তরফে।

  • Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের পর বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ চান না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তৃণমূল আছে তৃণমূলেই। বলা ভাল মমতা আছেন মমতা-তেই। তৃণমূলের এই ভরাডুবির পিছনে যখন দলের একাংশ অভিষেকীকরণ-কে দায়ী করছেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়ানোর কথা বললেন। যা নিয়ে দলের অন্দরে বিতর্ক তুঙ্গে।

    ৫ বছরের ব্যবধানে ধরাশায়ী অবস্থা

    তৃণমূলের ক্ষমতার মিনার ভেঙে পড়ার পর থেকেই দলের অন্দরে আলোচ্য হয়ে উঠেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা। তাঁর কর্পোরেট কায়দা, পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে সংগঠনের সমান্তরাল করে তোলা নিয়ে নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে ক্ষোভ গোপন করছেন না। একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলার ২৯৪ আসনে তৃণমূলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ছিল ২১৩। ভয়ঙ্কর ভরাডুবি দেখাল ছাব্বিশের নির্বাচন। জনতার রায়ে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে রইল মাত্র ৮০ কেন্দ্র। তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রী থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ধরে রাখতে পারেননি নিজেদের কেন্দ্র। গড় হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতেও উঠেছে গেরুয়া ঝড়। কিন্তু ৫ বছরের ব্যবধানে এমন ধরাশায়ী অবস্থা কীভাবে? ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলার ‘অগ্নিকন্যার’ লড়াই ছাব্বিশেই ইতি টানল? বিভিন্নমহল থেকে একাধিক কাটাছেঁড়া চললেও, এবার দলের অন্দরেই ফোঁস করে উঠছেন নেতারা। বলছেন, ‘অভিষেকই (Abhishek Banerjee) যত নষ্টের গোড়া। দলে কর্পোরেট কালচারটাই কাল হল।’

    সেই অভিষেককেই সম্মান!

    বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়াতে হল সকলকে। উঠতে হল অভিষেকের জন্মের আগে থেকে রাজনীতির আঙিনায় থাকা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সমর মুখোপাধ্যায়, জাভেদ খান, ফিরহাদ হাকিমদেরও। কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন প্রার্থীকে ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন অভিষেকও। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন মমতা। তৃণমূলের এক বিজয়ী প্রার্থী বলেন, ‘‘অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানতে মমতাই সকলকে বলেন উঠে দাঁড়াতে।’’ রতুয়ার প্রবীণ বিধায়ক সমর, বালিগঞ্জ থেকে জেতা শোভনদেব, কলকাতার মেয়র তথা বন্দর আসন থেকে জেতা ফিরহাদ, বজবজ থেকে জেতা অশোক দেব— সকলকেই উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে অভিষেকের প্রতি। যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের মধ্যে।

    চেয়ার ছাড়তে হল প্রবীণদেরও

    সূত্রের খবর, মমতার নির্দেশ মেনে অনেককে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে ঠিকই। তবে অনেকেই চেয়ার ছেড়ে উঠতে ইতস্তত করেছেন। জয়ী এক প্রার্থী বলেন, ‘‘বসেও তো হাততালি দেওয়া যেত। কিন্তু হাঁটুর বয়সি অভিষেকের সামনে উঠে দাঁড়ানো প্রবীণ নেতাদের কাছে দৃশ্যতই অস্বস্তিকর ছিল।’’ তবে বৈঠকের ভিতরে উঠে দাঁড়ালেও বাইরে বেরিয়ে কেউই বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। যা খানিকটা প্রত্যাশিতই।

    অভিষেকের সমালোচনা নয়

    তৃণমূল সূত্রে আরও খবর, মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, অভিষেকের সমালোচনা করলে পার্টি বরদাস্ত করবে না। শৃঙ্খলা রাখার বিষয়ে তিনি একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গড়ে দিয়েছেন। যাতে রাখা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং ধনেখালির জয়ী প্রার্থী অসীমা পাত্রকে। ডেরেককে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বসার দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকবেন।

    জয়ীদের মধ্যে ১১ জন গরহাজির কেন

    তৃণমূলের টিকিটে এবার জিতেছেন সাকুল্যে ৮০ জন। সূত্রের খবর, বুধবারের বৈঠকে জয়ীদের মধ্যে ১১ জন হাজির ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাসনের কাজল শেখ এবং আমডাঙা থেকে জয়ী তথা ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা কাশেম সিদ্দিকি। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরে দলনেত্রীর ডাকা এই বৈঠকে একসঙ্গে এতজন জয়ী প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, যে জয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত হননি, মমতা নিজেই তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন, আপাতত নিজেদের এলাকায় ‘আক্রান্ত’ মানুষের পাশে থাকতে। দলীয় নেতৃত্বের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও মমতার উপস্থিতিতে নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম সভায় ১১ জন গরহাজির থাকায় যে জয়ী প্রার্থীরা কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতা তথা জয়ী প্রার্থীর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা বেনজির। একমাত্র কাজল শেখের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নানুরে রাজনৈতিক অশান্তির কারণে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। কিন্তু বাকিরা কেন অনুপস্থিত, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।’

    অভিষেকের বিরুদ্ধে গেলে ব্যবস্থা!

    ফল প্রকাশের পর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, খগেশ্বর রায়ের মতো প্রবীণ নেতা থেকে বিভিন্ন পুরসভার প্রাক্তন–বর্তমান চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ভোটকুশলী সংস্থার বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন অনেকে। বেসুরো নেতাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে দেখে ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অসীমা পাত্র ও শুভাশিস চক্রবর্তীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন মমতা। সূত্রের দাবি, বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী বলেছেন, ‘যিনি দলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।’ তবে, মমতা যাই বলুন, তৃণমূল সূত্রে খবর, শুধু প্রবীণরাই নন অভিষেকের পথ মানতে নারাজ অনেক যুব তৃণমূল নেতাও। তাঁদের অভিযোগ, “হারের পিছনে এক এবং একমাত্র কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটাকে কর্পোরেট একনায়কতন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। যে দল গ্রাসরুটে মিশে থাকার কথা, তাকে নিয়ে চলে গিয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের ৬ তলায়। ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করা নেতাদের পাত্তাই দেননি অভিষেক।” ক্ষমতা হারানোর পর দলের অভ্যন্তরে বিরোধিতা তৈরী হলেও মমতা কিন্তু ভোট দিলেন পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই।

LinkedIn
Share