Tag: bjp

bjp

  • BJP Balidan Diwas: ‘এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা— ৭৩তম বলিদান দিবসে স্মরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে

    BJP Balidan Diwas: ‘এক বিধান, এক নিশান, এক প্রধান’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা— ৭৩তম বলিদান দিবসে স্মরণ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ২৩ জুন মঙ্গলবার, ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৫৩ সালে আজকের দিনে জম্মু-কাশ্মীরে জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mookerjee Martyrdom Day)। দেশজুড়ে এই দিনটি বিজেপি পালন করে বলিদান দিবস (BJP Balidan Diwas) হিসেবে। এই প্রতিবেদনে আমরা জানব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও আন্দোলন সম্পর্কে।

    জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই

    বিজেপির পূর্বতন ভারতীয় জনসংঘ গঠন, পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানে যেতে না দেওয়া, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের দাবিতে আন্দোলন-এই সব গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বাঙালি নাম। তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ‘বাংলার বাঘ’ বলে খ্যাত আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও যোগমায়াদেবীর পুত্র একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে একজন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতা। তাঁর জন্মস্থান কলকাতার ৭৭ রসা রোডে (বর্তমানে আশুতোষ মুখার্জি রোড)।

    শিক্ষাজীবন ও বিবাহ

    • – ১৯০৬ সালের ২৩ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন।
    • – ১৯১৭ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় মেধা বৃত্তি (১০ টাকা প্রতি মাসে) সহ উত্তীর্ণ হন।
    • – ১৯১৯ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আর্টসে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
    • – ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন, ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।
    • – ১৯২২ সালের ১৬ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডাঃ বেণীমাধব চক্রবর্তীর কন্যা সুধাদেবীর সঙ্গে।
    • – ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

    মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো

    ১৯২৪ সালের ২৫ মে বিহারের পাটনায় স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনা গভীর রেখাপাত করে যুবক শ্যামাপ্রসাদের মনে। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, পিতার মৃত্যুতে তাঁর জীবন থেকে সমস্ত আনন্দ উধাও হয়ে যায়। এরপরেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯২৬ সালে আইন পড়তে তিনি ইংল্যান্ড যান। ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সম্মেলনে ওই বছরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। কলকাতায় ফিরে আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে যোগদান করেন। তবে হাইকোর্টের কর্মজীবনকে তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। ১৯৩৩ সালে তাঁর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে, প্রয়াত হন স্ত্রী সুধাদেবী।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ

    ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই সময়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। নতুন কোর্স হিসেবে এগ্রিকালচারের ওপর ডিপ্লোমা তিনিই চালু করেন। চিনা ও তিব্বতীয় ভাষাশিক্ষার ওপরে কোর্স চালু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর আমলে নতুনভাবে তৈরি হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি হল। তিনি উপাচার্য থাকাকালীন প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ জানান বক্তব্য রাখতে।

    হিন্দু মহাসভায় যোগদান

    ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচিত হন। ওই বছরেই হিন্দু মহাসভায় যোগদান করেন তিনি। ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৩৯ সালে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের সভাপতিত্বে কলকাতায় বসে হিন্দু মহাসভার অধিবেশন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪০ সালে তিনি হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হন।

    শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা

    ১৯৪১ সালে সাম্প্রদায়িক মুসলিম লিগকে বাংলার ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য হিন্দু মহাসভার সঙ্গে জোট হয় ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির। এই জোট জনপ্রিয় ছিল শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা নামে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওই মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব নেন। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

    দাঙ্গা বিধ্বস্ত বাংলায় উদ্বাস্তুদের পাশে

    ১৯৪৪ সালে মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরে বসে হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় অধিবেশন। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সে বছর থেকেই চালু করেন ‘ন্যাশনালিস্ট’ পত্রিকা। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং নোয়াখালি দাঙ্গা করে মুসলিম লিগ। সে সময় আক্রান্ত হিন্দুদের পাশে থাকা, উদ্বাস্তুদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, সবটাই তিনি নিজে হাতে করেছিলেন। সে সময় তিনি তৈরি করেছিলেন হিন্দুস্থান ন্যাশনাল গার্ড।

    পশ্চিমবঙ্গ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় এক ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পশ্চিমবঙ্গ। বাঙালি হিন্দু পায় তার নিজস্ব বাসভূমি। মুসলিম লিগের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তারপর থেকে এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ‘প্রতিষ্ঠা দিবস’। হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগ করার পক্ষে রায় যায়। পৃথক হয় পশ্চিমবঙ্গ। সরকার ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে ঘোষণাও করে।

    স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী

    ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট নেহরুর মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পমন্ত্রী রূপে শপথ গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর হিন্দু মহাসভাকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে আত্মনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। ভারতের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন শিল্প উন্নয়ন নিগম, প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ স্থাপন, সিন্ধ্রি সার কারখানা-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। খড়্গপুরে ভারতের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি স্থাপনা, কলকাতার প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্থাপনার ভাবনা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বেড়ে চলে। হত্যা, লুন্ঠন, নারীর সম্ভ্রমহানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫০ সালের ১৪ এপ্রিল নেহরু মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হয়েও এর প্রতিবাদে লোকসভায় গর্জে ওঠেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পদত্যাগ করেন।

    ভারতীয় জনসংঘ গঠন

    দেশভাগের পরবর্তীকালে হিন্দু শরণার্থীদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের বন্দোবস্ত তিনিই করেন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। একমাত্র জাতীয়তাবাদী সাংসদ হিসেবে তিনিই আইনসভায় হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হতেন। এমন সময় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল স্থাপনের উদ্দেশ্যে গুরুজি গোলওয়ালকারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। রাজনীতি ক্ষেত্রে গুরুজি কয়েকজন স্বয়ংসেবককে পাঠান, তাঁরা হলেন, দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী, জগদীশ মাথুর, সুন্দর সিং ভাণ্ডারি প্রমুখ। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লির রাঘোমাল গার্লস স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। তিনিই ছিলেন প্রথম সভাপতি। প্রতীক ছিল প্রদীপ। দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনসঙ্ঘ তিনটি আসন পায়। যার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতা থেকে জেতেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজে।

    জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু

    দেশের প্রধান বিরোধী কণ্ঠস্বর তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপের জন্য তিনি আন্দোলন শুরু করেন। দাবি ছিল ‘এক প্রধান-এক নিশান-এক বিধান’। কারণ কাশ্মীরের জন্য ছিল তখন আলাদা পতাকা। কাশ্মীরে চালু ছিল না ভারতের সংবিধানও। বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল ৩৭০ ধারার মাধ্যমে। এই ধারা কার্যত কাশ্মীরকে পৃথক করে রেখেছিল ভারত থেকে। কাশ্মীরে প্রবেশ করতে ভারতীয়দের লাগত অনুমতিও। এর প্রতিবাদ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বিনা পারমিটে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে গেলে ফারুক আবদুল্লার সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে ১৯৫৩ সালের ১১ মে। জম্মু ও কাশ্মীরে জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু হয় ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন।

  • Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    Osman Faizan Ali: নিট ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, চর্চায় প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট (NEET) সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল (Osman Faizan Ali)। এই বিক্ষোভকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ওসমান ফয়জান আলির ভূমিকা নিয়ে।

    ককরোচ জনতা পার্টি (Osman Faizan Ali)

    প্রতিবাদ কর্মসূচিটি হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) উদ্যোগে। আন্দোলনটিকে ছাত্র-যুবদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিভিন্ন পোস্টার ও প্রচারসামগ্রীতে ওসমান ফয়জান আলির ছবি দেখা গিয়েছে। বেশ কয়েকটি প্ল্যাকার্ডে তাঁর পরিচয় হিসেবে লেখা ছিল ‘ইন্ডিয়ান ওসমান ফয়জান আলি – ফ্রম ইউএসএ’। বিক্ষোভকারীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের অনেকেই পোস্টারে থাকা ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কয়েকজন আবার জানান, সংগঠকদের কাছ থেকে তাঁরা পোস্টার পেয়েছেন এবং ছবিতে থাকা ব্যক্তির সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই।

    কে এই ওসমান ফয়জান আলি?

    জানা গিয়েছে, ওসমান মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘@bbm_india_’-এ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ও নিট ইস্যু নিয়ে একাধিক ভিডিও এবং পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব কনটেন্টে আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিতও উঠে এসেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। ১ জুন ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দিল্লি পুলিশের উদ্দেশে মন্তব্য করতে গিয়ে ওসমান বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আন্দোলনকারীদের মধ্যে আবেগ ও উত্তেজনা উসকে দিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। যদিও ভিডিওতে সরাসরি কোনও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ডাক দেওয়া হয়নি (Osman Faizan Ali)। সম্প্রতি প্রকাশিত আরও একটি ভিডিওতে তিনি দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। তবে সেই ভিডিওতেও আন্দোলন আটকে দিলে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান

    ওসমানের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘Button Ballot Movement by Osman Faizan Ali’-এর পুরনো কিছু কনটেন্টে দেখা গিয়েছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি হায়দরাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদের ভোটারদের এআইএমআইএম (AIMIM) এবং কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করার ডাক দিয়েছিলেন। সেই বক্তব্যে বিজেপিকে পরাজিত করার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ককরোচ জনতা পার্টি-সমর্থন এবং অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে বিজেপি-বিরোধী অবস্থানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে অবশ্য ওসমানের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি (CJP)।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমার যুগে দ্রুত বদলাচ্ছে রাজনৈতিক আন্দোলনের চরিত্র। এখন দেশের বাইরে অবস্থান করেও কোনও ব্যক্তি অনলাইনের মাধ্যমে আন্দোলনের বয়ান গঠন, জনমত প্রভাবিত করা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার করার সুযোগ পাচ্ছেন (Osman Faizan Ali)। যন্তর মন্তরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কতটা, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা প্রচারসামগ্রীর উৎস সম্পর্কে কতটা সচেতন, এবং সর্বোপরি, বিদেশে থেকে অনলাইন সক্রিয়তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনায় অনলাইন প্রচার, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং জনআন্দোলনের সম্পর্ক নিয়ে (CJP) আরও বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (Osman Faizan Ali)।

    অতএব, সাধু সাবধান!

     

  • Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস (Paschimbanga Divas)। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর মহাসাড়ম্বরে পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। ২০ জুন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে একাধিক সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজে বিশেষ কর্মসূচি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) অবদান নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্বতন সরকার ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়নি।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর অবদান

    বিজেপি সরকারে আসার পরেই ২০ জুন নিয়ে যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নয়। বরং বঙ্গ বিজেপি বরাবরই ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার উপর জোর দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে টানাপোড়েনও চলে আসছিল। তৃণমূল পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য দিবস হিসেবে পালন করে। আর অন্যদিকে, বিজেপির যুক্ত হল, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় (বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি) বাংলা ভাগের পক্ষে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই দিনই বাংলা ভাগ হয়ে জন্ম হয় পশ্চিমবঙ্গের। এই অংশ জুড়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। অন্যদিকে, পূর্ববঙ্গ জুড়ে যায় পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দাবি, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ নামের কোনো রাজ্যের অস্তিত্বই থাকত না।”

    বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের সময়

    একই দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা দেন। তিনি বলেন, বাংলা দেশের সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞানচর্চা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাগেরও ঘোষণা করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু বাংলার হিন্দু-প্রধান অংশের কাছে সুযোগ ছিল ভারতে জুড়ে যাওয়ার। এরজন্য তৎকালীন বঙ্গীয় আইনসভার ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ভোটেই ঠিক হয়, বাংলা ভাগ হয়ে জুড়বে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। বিজেপির দাবি, ওই দিন বাংলা ভাগ না হলে, পশ্চিমবঙ্গ তৈরিই হত না। আর এই প্রদেশ জুড়ে যেত বাংলাদেশের সঙ্গে।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা

    এদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এবার আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। মানুষ প্রকৃত ইতিহাস জানতে চাইছে।” মন্ত্রী আরও দাবি করেন, দেশভাগের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা না থাকলে পশ্চিমবঙ্গের বৃহৎ অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তি প্রসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার উল্লেখ করেন।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ

    রাজ্য সরকারের নির্দেশে ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময় রাজ্যজুড়ে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশভাগের সময়কার ভূমিকা নিয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে চর্চার মাধ্যমে বিজেপি সরকার বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বয়ানে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চাইছে।

    স্বাধীন মতপ্রকাশের পীঠস্থান

    অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তৎকালীন রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং অনমনীয় মনোভাব যদি সেই সময় না থাকত, তবে আজ হয়তো ভারতের মানচিত্রটাই অন্যরকম হত। আজ বাঙালি হিন্দুরা যে নিজেদের রাজ্যে স্বাধীনভাবে বাস করতে পারছেন, তার কৃতিত্ব যে এই মানুষটিরই প্রাপ্য। একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও মন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তিনিও প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেন যে, দেশভাগের সেই অত্যন্ত জটিল ও অগ্নিগর্ভ সময়ে কলকাতাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার পিছনে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অন্যতম কনিষ্ঠতম প্রাক্তন উপাচার্য ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এক বিরাট ও অনস্বীকার্য ভূমিকা ছিল। ইতিহাসের সেই পাতাগুলি আজ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের এই পবিত্র পীঠস্থানে কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হবে না। বরং তিনি চান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, তাঁর আদর্শ এবং বাংলার জন্য তাঁর অবদান নিয়ে ডানপন্থী, বামপন্থী কিংবা অন্য যে কোনও রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের মধ্যেই পক্ষে-বিপক্ষে স্বাধীনভাবে আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিতর্ক এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য মানুষের সামনে বেরিয়ে আসবে।

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) দু’টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের ফল বেরল। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। অন্য আসনটি দখল করেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। জয়ী হয়েছেন বৈদ্যনাথ রাম। ভোটগ্রহণে ক্রস-ভোটিংয়ের (Cross Voting) অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    পরাজিত কংগ্রেস (Jharkhand)

    পরিমল কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝাকে পরাজিত করেছেন। আর বৈদ্যনাথ জয়ী হয়েছেন নির্ধারিত আসনে। নির্বাচনের ফল বেরলে দেখা যায়, পরিমল মোট ২৮টি ভোট পেয়েছেন। অথচ ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট বিধায়কের সংখ্যা ২৪। এই অতিরিক্ত চারটি ভোট কোথা থেকে এল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ক্রস-ভোটিংয়ের জল্পনা। পরিমলের কাছে হেরে গিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী প্রণব। তিনি পেয়েছেন মাত্র ২০টি ভোট। অন্য আসনে জেএমএম প্রার্থী বৈদ্যনাথ নির্বাচিত হয়েছে ৩০টি ভোট পেয়ে। নির্বাচন পরিচালনাকারী এক আধিকারিকের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির দুই এবং কংগ্রেসের এক বিধায়কের ভোট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ভোটের অঙ্ক

    ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট ২৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে বিজেপির ২১ জন, এবং এলজেপি (রামবিলাস), আজসু পার্টি এবং জেডিইউয়ের একজন করে বিধায়ক রয়েছেন। আর, ইন্ডিয়া জোটের মোট ৫৬ জন বিধায়কের মধ্যে জেএমএমের ৩৪, কংগ্রেসের ১৬, আরজেডির ৪ এবং সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ২ জন সদস্য রয়েছেন। ভোটের আগে এনডিএ তাদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে রাখায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের তরফে বিধায়ক ভাঙানোর আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছিল। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই দাবি করেছিলেন, এনডিএ সমর্থিত প্রার্থীই জয়ী হবেন (Jharkhand)।

    ক্রস-ভোটিং!

    ঝাড়খণ্ডে এ বার প্রার্থীদের জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ২৮ জন করে বিধায়কের সমর্থন। এর মধ্যে ‘ইন্ডি’ জোটের পক্ষে ছিল ৫৬ জনের সমর্থন। যার মধ্যে রয়েছেন জেএমএমের ৩৪ জন, কংগ্রেসের ১৬ জন, আরজেডির ৪ জন, এবং সিপিআই (এমএল)-এর ২জন বিধায়ক। নির্বাচনে জেএমএমের বৈদ্যনাথ পেয়েছেন ৩০টি প্রথম পছন্দের ভোট। তাদের সহযোগী কংগ্রেসের প্রণব পেয়েছেন ২০টি। অথচ ‘ইন্ডি’ জোটের ৫৬ জন বিধায়ক ছিলেন। সেই হিসেবে জেএমএমের প্রার্থী ৩০টি ভোট পেলে, কংগ্রেস প্রার্থীর পাওয়ার কথা ছিল ২৬টি। উল্লেখ্য (Cross Voting), জেএমএমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনের মৃত্যুর কারণে রাজ্যসভার একটি আসন শূন্য হয়েছিল। আর, বিজেপি সাংসদ দীপক প্রকাশের মেয়াদ শেষ হবে ২১ জুন। তাই নির্বাচন হয়েছে সেই আসনেও (Jharkhand)।

     

  • Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গা থেকে খসে পড়ছে একের পর এক রক্ষাকবচ। ক্রমেই শিরঃপীড়া বাড়ছে তৃণমূলের সেনাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। খারিজ করে দিয়েছে তাঁর আবেদনও (Defamation Case)।

    অভিষেকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা (Abhishek Banerjee)

    জানা গিয়েছে, ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে দায়ের হওয়া একটি মানহানি মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ওই পরোয়ানার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। তবে এবার বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের সিঙ্গল বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে মামলার আবেদন খারিজ করে দেয়। মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালে। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে তথা প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীয় ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আকাশকে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন তৃণমূলের ভাতিজা।

    স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

    এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভোপাল আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর আইনজীবীদের দাবি ছিল, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এবং তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই যুক্তির ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। বুধবার এই মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীর (পড়ুন, অভিষেকের) পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী সম্ভবত মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন। এরপরই আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে আবেদন খারিজ করে দেয় এবং আদেশের অনুলিপি অবিলম্বে ভোপাল আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় (Abhishek Banerjee)।

    আদালতের এহেন নির্দেশের ফলে আইনিভাবে অভিষেকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার পথ ফের খুলে গেল বলেই মনে করছে আইনজ্ঞদের একাংশ (Defamation Case)। রাজনৈতিক মহলেও এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (Abhishek Banerjee)।

  • Abhishek Banerjee: ভবানী ভবনে জেরা, কালীঘাটে বাড়ি মাপছে পুরসভা— জোড়া চাপে অভিষেক

    Abhishek Banerjee: ভবানী ভবনে জেরা, কালীঘাটে বাড়ি মাপছে পুরসভা— জোড়া চাপে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ি মাপল কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অবস্থিত অভিষেকের ওই বাড়ির সামনে পুরসভার একটি দল পৌঁছে ফিতে দিয়ে বিভিন্ন অংশ পরিমাপ করতে শুরু করে। এদিন সকালেই ডিজে মামলায় সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যখন দফতরে, তখনই ১২১ নম্বর কালীঘাটে এসে পৌঁছলেন কলকাতা পৌরনিগমের আধিকারিকরা। পুরসভা সূত্রে খবর, বাড়ির আউটসাইড মাপ, লেন , ফুটপাত ঠিকমতো ছাড় দেওয়া হয়েছে কিনা, ফুটপাতের কোনও অংশ দখল করা রয়েছে কিনা , সেইসব মাপ নিচ্ছেন আধিকারিকরা।

    কেন অভিষেকের বাড়িতে পুর আধিকারিকরা

    আগেই কলকাতা পৌরনিগমের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অভিষেকের বাড়ির অন্দরমহলের নতুন স্কেচ-সহ এলিভিশন কপি জমা দিতে হবে। অভিষেকের সম্পত্তিতে নির্মাণ নকশা নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে পুর প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে বাড়ির ভিতরে নতুন করে কী কী অংশ তৈরি হয়েছে, সেটা এলিভিশন কপিতে এঁকে জমা করতে হবে, সে নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত মাপ করে একটি রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ১৮৮ এ হরিশ মুখার্জি রোডে শান্তিনিকেতনে মাপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেকের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেক ও তাঁর সংস্থার একাধিক সম্পত্তিতে ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও নির্মাণ সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। অভিষেকের আত্মীয়দের মিলিয়ে মোট ১৭টি সম্পত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয় বলে সূত্রের খবর। পুরসভার অভিযোগ, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে। সেই বিষয়টিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না

    তবে পুরসভার এই পরিদর্শনের সময় অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না। সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল সিআইডি। একদিকে যখন ভবানী ভবনে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন তিনি, অন্যদিকে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে শুরু হয় পুরসভার এই মাপজোক। অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে দাবি করেছেন, ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধ অনুমোদন নিয়েই নির্মিত হয়েছে।

  • Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজিও কমপ্লেক্সে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। রক্ষাকবচ ছাড়াই ইডি দফতরে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার তলব করেছে ইডি। এই মামলায় সিবিআইয়ের দেওয়া তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটের সূত্র ধরেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, বলে খবর। সেখানে ১৫ মিনিটের একটি কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে। তাতে একাধিক বার জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এসেছে। চাকরি বিক্রি, ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা শোনা গিয়েছে সেই কথোপকথনে। সে বিষয়ে অভিষেককে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    কেন ইডির তলব অভিষেককে?

    ২০১৭ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত বলে পরিচিত ছিলেন। সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁর বাড়িতেই একটা বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে একাধিক বিস্ফোরক বিষয় আলোচনা করা হয়েছিল, তারই উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে। বৈঠকে কী কী আলোচনা হয়েছিল? চার্জশিট সূত্রে খবর, সুজয় বৈঠকে কুন্তল, শান্তনুদের জানিয়েছিলেন, অভিষেক জানতে পেরেছেন যে প্রাথমিক নিয়োগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় মোটা টাকা নিচ্ছেন। পার্থ যে টাকা নিয়েছেন, তার ভাগ তিনি কেন পাননি, সেই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক। এমনকী, টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পার্থ ও অভিষেকের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধে গিয়েছিল। সিবিআই চার্জশিট সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই যে বেআইনি নিয়োগ হয়ে গিয়েছিল, তার জন্য ১৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন অভিষেক। টাকা না পেলে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেফতারির হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এমনকী, জয়েনিং আটকানোরও হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

     অভিষেকের আর্থিক লেনদেন ইডির নজরে?

    ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) ১৫ মিনিটের ওই অডিও ক্লিপে যে অভিষেকের কথা বলা হচ্ছে, সেই অভিষেকই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কি না, স্পষ্ট নয়। ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ছাড়া, কথোপকথনে এসেছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও। অভিষেকের সংস্থা লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্মচারী ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। সেই সংস্থার আর্থিক লেনদেনও ইডির নজরে রয়েছে। তা নিয়ে এর আগে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিষেকের অন্য সংস্থাগুলিকেও ইডি এ বার তদন্তের আওতায় আনতে চাইছে। সোমবার তা নিয়েও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

  • Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    Trinamool Crisis: অমিত সকাশে তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বুয়া-সঙ্গ ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া, কোন দিকে গড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির জল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Crisis) বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার শাসক এবং শাসিত দুই দলের এই দুই প্রতিনিধির এই বৈঠক ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শনিবার এই বৈঠকের আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সুদীপ। সেই বৈঠকে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়।

    তৃণমূলে ফের ‘রামধাক্কা’ (Trinamool Crisis)

    সুদীপের এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলে লাগে আরও এক ‘রামধাক্কা’। তৃণমূলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া দল ছাড়েন। বছর চুয়াত্তরের মানস জানান, বর্তমানে দলে যে সঙ্কট চলছে, তাতে তিনি অসন্তুষ্ট। তাই দল ছেড়েছেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক পথে বাঁক নেবেন তিনি, তা স্পষ্ট করেননি পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক। এদিকে, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। সেখানে তাঁরা পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি এবং আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানাবেন বলে খবর।

    বিদ্রোহ চারিদিকে

    বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ জন তাঁদের পাশে রয়েছেন। সুদীপ তাঁদের সঙ্গে যোগ দিলে সংখ্যাটা বেড়ে হবে ২০। বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পেলে তাঁরা সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবেন। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সুদীপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুদীপকে সম্মান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিলেও, তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি। কুণালের দাবি, ক্ষমতা ও পদলাভের লোভ থেকেই সুদীপ দলীয় নেতাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। তাই বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    কুণালের নিশানায়

    তিনি আরও (Trinamool Crisis) দাবি করেন, সম্প্রতি মমতার বাসভবনে সিআইডি অভিযানের সময় সুদীপ তাঁকে ফোন করে তাঁর অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তাঁর স্ত্রী নয়না সেখানে আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুদীপ আসেননি। কুণাল বলেন, “দিদির বাড়িতে না গিয়ে সুদীপদা এখন বিজেপির দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন (Amit Shah)।” সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে “বিশ্বাসঘাতক” বলেও আক্রমণ করেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, তিনি শুধু দলের নেতৃত্বকেই নয়, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাঁরা তাঁর হয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় জানান, কয়েকদিন আগেও সুদীপ দল ছাড়ছেন না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁকে। পরে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সুদীপকে বৈঠক করতে দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত বলে জানান সৌগত।

    ডামাডোলের বাজারে সংগঠন সাজাচ্ছেন মমতা!  

    এদিকে, দলের এই ডামাডোলের বাজারের মধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে একাধিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। সায়নী ঘোষের পরিবর্তে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুব সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে (Trinamool Crisis)। মহিলা সংগঠনের নতুন সভানেত্রী হয়েছেন আলিফা আহমেদ। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে সুদীপকে সরিয়ে সেখানকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণালকে। সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হয়েছেন মুসারফ হোসেন। এরই মধ্যে রাজ্য বিধানসভায়ও সামনে চলে এল তৃণমূলে বড় ভাঙনের ছবি। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এই স্বীকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির (Trinamool Crisis)।

    কোথাকার জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার (Amit Shah)।

     

  • Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সবার জন্য উন্নয়ন,সবার জন্য সরকার। সবার সঙ্গে কথা বলেই তৈরি হবে রাজ্যে উন্নয়নের গতিপথ। শুক্রবার বিকেলে মালদায় চার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তাদের সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Malda)৷ এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে৷ তাঁদের অনেকে অ্যাপিলেট ট্র্যাইবুনালে আবেদন করেছেন, অনেকে আবার সিএএ-তে আবেদন করেছেন ৷ যতদিন না তাঁরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন, তাঁদের কাউকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না ৷ এক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচিতি বিচার্য নয়, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷ জানান, উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে দুটি এমস্। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদে সীমান্ত সমস্যাও দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে, বলে দাবি শুভেন্দুর।

    মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণ

    এদিন মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন, ‘‘মালদা জেলায় চাঁচল ও গাজোল পুরসভার দাবি বহুদিনের ৷ প্রাথমিকভাবে এই দুটি পুরসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ তার প্রাথমিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ বাকিটা বাজেটে ঘোষিত হবে ৷”

    গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ

    আগামী বর্ষার আগেই গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ করার আশ্বাসও দেন ৷ মালদা, মুর্শিদাবাদের বন্যা ও ফি বছর নদী ভাঙন এই দুই জেলার বাসিন্দাদের কাছে একটা আতঙ্ক। এতদিন এ নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেছে। শুক্রবার শুভেন্দু জানান, এখন থেকে এই দুই জেলায় বন্যা ও ভাঙন রোধে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

    চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ

    একইসঙ্গে চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্য কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ শুভেন্দু এদিন জানান, দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব রয়েছে ৷ তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে ৷ একইসঙ্গে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও মেডিক্যাল কলেজ করতে হবে ৷

    উত্তরবঙ্গে এমস্

    উত্তরবঙ্গে এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যা হবে না, বলেও এদিন মত প্রকাশ করেন শুভেন্দু । সূত্রের খবর, এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্ভবত রায়গঞ্জের মাটিকেই বেছে নেওয়া হবে। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। চার জেলায় আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর মান উন্নত করার ব্যাপারে জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৫০ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে ৷ এই প্রক্রিয়া এখন চলবে ৷ একইভাবে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা-সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি ৷” শুভেন্দু এদিন আরও জানান, রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যুক্ত হয়েছে ৷ প্রত্যেক গরিব মানুষ এবার সরকারি বাড়ি পাবেন ৷ আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে তার নতুন তালিকা তৈরিও হয়ে যাবে ৷ বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সহযোগিতায় এই কাজ হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘বিগত সরকার চার মাসের বাজেট করে গিয়েছিল ৷ আগামী ১৮ জুন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে ৷ ২২ তারিখ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে ৷” রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বক্তব্য, ‘‘আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির হবে ৷ বিধায়ক, সাংসদ ও বিডিওরা শিবিরগুলি পর্যবেক্ষণ করবেন ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে অনেক ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে ৷ সেসব বাদ দিয়ে মানুষকে এই স্কিম নিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে ৷ এই প্রকল্পের কার্ড গোটা ভারতে কাজ করে ৷ একইভাবে আমরা রেশন কার্ডেও এই ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছি ৷ তার ফলে রাজ্যের বাইরে থাকলেও ওই কার্ডে রেশন তোলা যাবে৷”

    পুলিশকে বার্তা শুভেন্দুর

    পুলিশের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তাঁর বার্তা, ‘‘ক্রশিং ছাড়া জাতীয় সড়ক জুড়ে ব্যারিকেড লাগানো যাবে না ৷ যানজটের জন্য কালিয়াচক-ফরাক্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে ৷ ওভারলোডিং সংক্রান্ত অনেক অভিযোগও আসে ৷ এসব চলবে না ৷ কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে তা যাত্রীরা সোশাল মিডিয়ায় জানাতে পারবেন ৷ যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা সরকার নেবে ৷ প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে ৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় 12 হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে ৷ প্রায় ৪ হাজার ভিলেজ পুলিশও নিয়োগ হবে ৷ মোথাবাড়ি, কালিয়াচক, বেলডাঙা, সামশেরগঞ্জের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশকে দায়িত্ব নিতে হবে ৷” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দল আন্দোলন করার অধিকার হারাক তা আমরা চাই না ৷”

    সীমান্ত সমস্যা সমাধান

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন ৷ বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ৷ এক্ষেত্রে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন শুভেন্দু ৷ ধরা পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ডিপোর্ট করার নির্দেশ দেন ৷ তিনি জানান, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকে সাজিয়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ সাহায্য করতে প্রস্তুত ৷ তার সুযোগ জেলাশাসকদের নিতে হবে৷ দুই দিনাজপুর ও মালদায় বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছিল যে, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হবে। এদিনের বৈঠকে এখনও পর্যন্ত কত জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হলো, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিরোধী বিধায়কদের সমান গুরুত্ব

    এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উত্তরের তিন জেলার তৃণমূলের সব বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের বিধায়কদের অভাব–অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন শুভেন্দু। মালদা মেডিক্যাল কলেজে হার্ট কেয়ার ইউনিট, মালদা বিমান বন্দরের জন্য জমি, কালিয়াচকে দমকল কেন্দ্র, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্যে বন্ধ হয়ে থাকা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ–সহ বিভিন্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, বেলডাঙ্গায় বিগত দিনের গন্ডগোল প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুভেন্দু বলেন, ‘আশা করব আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তিনি বিরোধী বিধায়কদেরও সাহায্য চান। এদিন দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক বেনজির সৌজন্যের আবহ তৈরি হয়েছিলো মালদার প্রশাসনিক বৈঠকে।

  • Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। বৃহস্পতিবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি ও তার সহযোগী দলগুলি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে, বিশেষ করে কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল। এবারের নির্বাচনে মোট ২৪টি আসনে কোনও ভোটগ্রহণ ছাড়াই প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬টি আসন ছিল এনডিএ-র দখলে, আর বাকি ৮টি আসন বিরোধী শিবিরের হাতে ছিল।

    কোথায় কার কত আসন

    আন্ধ্রপ্রদেশে চারটি আসনের সবকটিই জিতেছে এনডিএ। এর মধ্যে তিনটি আসন পেয়েছে তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং একটি আসন গেছে জনসেনা পার্টির ঝুলিতে। গুজরাটেও চারটি আসনের সবকটিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। এর ফলে কংগ্রেসের দখলে থাকা একটি আসনও বিজেপি পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে। রাজস্থানে বিজেপির সতীশ পুনিয়া ও অলকা গুর্জর এবং কংগ্রেসের নীরজ ডাঙ্গি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও শাসক দলগুলির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। মিজোরামে শাসক জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (জেডপিএম) একটি আসন জয়ের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, মেঘালয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এবং অরুণাচল প্রদেশে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসন নিশ্চিত করেছে।

    মধ্যপ্রদেশ-ঝাড়খণ্ডে বিতর্ক

    সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। সেখানে রাজ্যসভার তিনটি আসনের মধ্যে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্র পুনর্বহাল করা হয়নি। রিটার্নিং অফিসারের এই সিদ্ধান্তকে ‘পরিকল্পিত’ ও ‘অন্যায়’ বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, যে আইনি নোটিশের ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা কোনও সরকারি এফআইআর ছিল না। ঝাড়খণ্ডের দুটি আসন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেখানে নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নাথওয়ানির বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর মনোনয়নপত্রে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। বিরোধীরা না মানলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রাজ্যসভা নির্বাচন একদিকে এনডিএ-র সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় তুলে ধরেছে।

LinkedIn
Share