Tag: bjp

bjp

  • Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন সরকার বাংলায় বিনিয়োগের (West Bengal Industry) বন্ধ দুয়ার খুলে দিতে বদ্ধপরিকর। সোমবার কলকাতার ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’ (Bharat Chamber of Commerce)-এর মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্পমহল ও বণিকসভাকে আশ্বাস দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। বণিকমহল ও বঙ্গবাসীকে ‘১০০ দিনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। কলকাতার বুক থেকে বিগত বাম ও তৃণমূল জমানায় বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলির রাজ্য ছাড়ার ঐতিহাসিক ধাক্কাকে চূড়ান্ত লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দেন শমীক।

    বাংলায় শিল্পের জোয়ার আনতে ম্যাজিক

    এদিন ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’-এর অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, “আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। আগামী মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ করতে চলেছি, যা দেখার পর আপনারা প্রত্যেকে আমাদের নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।’’ ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতিদের আশ্বস্ত করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি মনে করিয়ে দেন, “এই মাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমি। এটাই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ-বান্ধব অঞ্চল হওয়ার যোগ্য ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত জমানার অপশাসনে বাংলার সেই বিপুল সম্ভাবনা কোনও দিন ডানা মেলতেই পারেনি। আমরা এবার যা প্রয়োজনীয়, ঠিক তাই করব।’’

    শিল্পের স্বার্থে সময়োপযোগী ও কড়া আইন

    শমীক জানান, খুব দ্রুত এমন সময়োপযোগী ও কড়া আইন তৈরি করা হবে, যা এ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের জন্য চূড়ান্ত লাভদায়ক এবং সুরক্ষামূলক হবে। তবে শমীকের সংযোজন, এই কর্মযজ্ঞ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একা করতে পারা সম্ভব নয়। রাজ্যের বুদ্ধিজীবী ও আমজনতাকেও এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে হবে।

    ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে?

    এদিন বাংলার শিল্পায়নের (Industrial Sector of Bengal) বেহাল দশা বোঝাতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা ‘এমএসএমই’ (MSME) সেক্টরের বর্তমান করুণ অবস্থার এক জ্বলন্ত উদাহরণ টানেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমি নতুন ও বড় বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার জন্য খোলা আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু আমাদের রাজ্যে ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে? একটা সাধারণ পানের দোকান বা চায়ের দোকানকেও এমএসএমই-র তালিকায় রেজিস্টার্ড করিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে বাহবা নেওয়া হচ্ছে! এটাই কি আমাদের কাম্য ছিল? আমাদের এর চেয়ে অনেক উন্নত ও খাঁটি এমএসএমই পরিকাঠামো গড়তে হবে।”

    ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি

    এদিনের অনুষ্ঠান থেকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের পর্যটন (Tourism) থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত চা শিল্প (Tea Industry) – কোনও কিছু নিয়েই আগে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে ধুঁকছেন গরিব চা শ্রমিকেরা, ক্ষোভে ফুঁসছেন টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের কারিগররা। একই সঙ্গে শমীক বলেন,  “নতুন শিল্প গড়ার স্বার্থে রাজ্যে একটি অত্যন্ত সুসংহত এবং যুগোপযোগী ‘ল্যান্ড পলিসি’ বা ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি।”

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান দিয়ে শমীক আক্ষেপের সুরে জানান, এক সময় শিল্পে ও অর্থনীতিতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিত পশ্চিমবঙ্গ। আর আজ দেশের মোট এফডিআই (FDI)-এর প্রায় ৩৬ শতাংশ যাচ্ছে একা মহারাষ্ট্রে, সেখানে কলকাতায় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের হার তলানিতে ঠেকে মাত্র ০.৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে! এই চরম লজ্জার অবসান ঘটাতে নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন পরিবেশ চাই

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা এখন এক চূড়ান্ত ডিজিটাল যুগে (Digital Age) বাস করছি। আমাদের রাজ্যকে দ্রুত ডেটা সেন্টার (Data Centers) শিল্পে অংশ নিতে হবে এবং বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এ রাজ্যে কোটি কোটি টাকা ঢালতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিগত সরকার প্রস্তুত ছিল না। তবে এবার আমরা তৈরি।”

    বিগত সরকারের গাফিলতি

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে খনিজ তেলের সন্ধান মেলা সত্ত্বেও তা নিয়ে বিগত সরকারের গড়িমসি এবং পরিকাঠামো স্তরের চূড়ান্ত ব্যর্থতা নিয়ে এদিন সুর চড়ান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের কোনও সুনির্দিষ্ট দূরদর্শিতা না থাকায় সেই প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইএম বাইপাসের ওপর চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইনের কাজ বছরের পর বছর ধরে কেন আটকে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শমীক। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্য পালাবদলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যে শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। গড়ে তোলা হবে আত্মনির্ভর বাংলা।

     

     

     

     

     

  • Bangladeshi Infiltrators Detained: মুর্শিদাবাদ-মালদায় অ্যাকশনে পুলিশ, অবৈধ বাংলাদেশিদের ধরে পাঠানো হল হোল্ডিং সেন্টারে

    Bangladeshi Infiltrators Detained: মুর্শিদাবাদ-মালদায় অ্যাকশনে পুলিশ, অবৈধ বাংলাদেশিদের ধরে পাঠানো হল হোল্ডিং সেন্টারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশি ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করতে জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। তাঁদের (Bangladeshi Infiltrators Detained) তৈরি করতে বলা হয়েছিল হোল্ডিং স্টেশন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের সেই নির্দেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যে শুরু হয়ে গেল অনুপ্রবেশকারীদের পাকড়াও করতে জোরদার তৎপরতা (Holding Centre)। মুর্শিদাবাদে ওপার বাংলা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়া ৩ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ধরে পাঠানো হয়েছে লালগোলায় তৈরি নয়া হোল্ডিং সেন্টারে। একইভাবে, মালদার ইংরেজবাজারেও ধরা পড়েছে ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাদের পাঠানো হয়েছে ইংরেজবাজার শহর লাগোয়া বাগবাড়ির চন্দনপার্কে, জেলার একমাত্র হোল্ডিং সেন্টারে।

    মুর্শিদাবাদে আটক ৩ অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi Infiltrators Detained)

    প্রশাসন সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ওই তিন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাদের কাছে ভারতে থাকার বৈধ নথিপত্র নেই। ধৃতদের নাম মহম্মদ সেলিম, মহম্মদ রুবেল এবং শরিফুল ইসলাম। আগে সচরাচর অনুপ্রবেশকারীদের ধরে সটান পাঠিয়ে দেওয়া হত জেলে। নবান্নের নির্দেশিকা পাওয়ার পর এবার আর মান্ধাতা আমলের সেই চেনা পথে হাঁটছে না প্রশাসন। রাজ্যে পালাবদলের সরকারের নয়া গাইডলাইন মেনে আইনি প্রক্রিয়া সেরে নেওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই হয়েছে লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে।

    ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখার ফরমান

    পালাবদলের সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে রাজ্যের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয় সম্প্রতি। তাতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ বা মায়ানমার থেকে যে সব নাগরিক বা রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বাংলায় ঢুকে পড়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা চলছে, সাধারণ কয়েদিদের মতো তাদের জেলে রাখা যাবে না। এই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আদালতে তোলার পর সরাসরি সরকারি ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখতে হবে। সেখান থেকেই দ্রুত তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নবান্নের এই নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাপ্রশাসন। মুর্শিদাবাদের লালগোলার বিশেষ ক্যাম্পটিকে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। রানিতলায় ধরা পড়া তিন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে এনে রাখা হয়েছে সেখানেই। বিএসএফ এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে এই অনুপ্রবেশকারীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে, যাতে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যায়।

    ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাজ শুরু

    রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে কোমর কষে নেমেছে। মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। এই হোল্ডিং সেন্টারগুলির মাধ্যমেই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে নিজেদের দেশে (Bangladeshi Infiltrators Detained)। এতে ভিটেয় ফিরতে অযথা সময় নষ্ট হবে না অনুপ্রবেশকারীদের, রেহাই পাবেন প্রশাসনিক কর্তারাও। এদিকে, মুর্শিদাবাদের লালগোলার পর মালদার ইংরেজবাজারেও ধরা পড়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাদের পাঠানো হয়েছে ইংরেজবাজার শহর লাগোয়া বাগবাড়ির চন্দনপার্কে, জেলার একমাত্র হোল্ডিং সেন্টারে। আগে এটি ছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অফিস। নবান্নের নির্দেশিকা পাওয়ার পর তাকেই দ্রুত রূপ (Holding Centre) দেওয়া হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারের। সিসিটিভি এবং কড়া প্রহরার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মালদার এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে। তাদের পাকড়াও করা হয়েছে গাজোল এলাকা থেকে। এই ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৩ মহিলা এবং ৬ নাবালক-নাবালিকা।

    কী বলছেন সাংসদ?

    মালদা উত্তরের সাংসদ বিজেপির খগেন মুর্মু বলেন, ‘‘ভারতীয় নাগরিক নন, এমন যে সব ব্যক্তি (Bangladeshi Infiltrators Detained) আছেন, তাঁদের আমাদের দেশ থেকে ফিরতে হবে তাঁদের নিজেদের দেশে। এটা তো খুবই জরুরি। আমাদের রাজ্যকে সুরক্ষিত করব। আমাদের দেশকে সুরক্ষিত করব। এতদিন ধরে তৃণমূল রাজ্যটাকে রোহিঙ্গাদের, সন্ত্রাসবাদীদের, জেহাদিদের করিডর হিসাবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছিল।” নবান্নের নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ এবং মালদা মিলিয়ে গ্রেফতার করা হল মোট ১২ জন অনুপ্রবেশকারীকে। তাদেরই রাখা হয়েছে দুই জেলার দুই হোল্ডিং সেন্টারে।

    রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রথমে বাম এবং পরে তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে বেনো জলের মতে ঘটেছে বাংলাদেশি মুসলমান এবং রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ। দালাল মারফত এরাই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢুকে পড়ে তৎকালীন শাসক দলের ‘করিৎকর্মা’ নেতাদের ধরে জাল কাগজপত্র বানিয়ে দিব্যি বাস করছিলেন এপার বাংলায়। তাঁরাই ছিলেন বাম এবং তৃণমূল সরকারের ভোটব্যাঙ্ক। অভিযোগ, এই অনুপ্রবেশকারীরাই ওই দুই জমানায় ভোট ‘করাত’। কখনও হুমকি, কখনও আবার ছাপ্পা দিয়ে শাসক দলের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জিতিয়ে আনতে এদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তবে ছাব্বিশের ‘ফিল্টার্ড’ (এসআইআরের ছাঁকনিতে বাদ গিয়েছে বহু ভোটারের নাম। এঁদের সিংহভাগই অনুপ্রবেশকারী বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।) বিধানসভা নির্বাচনে বেআব্রু হয়ে পড়ে রাজ্যের সদ্য-প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূলের কঙ্কালসার চেহারাটা। ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টিতে জয়ী হয়ে তারা গুণছে ধরাকে সরা জ্ঞান করার মাশুল (Bangladeshi Infiltrators Detained)। আর ২০৮টি আসন পেয়ে দার্জিলিং থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত রাজ্যের সর্বত্রই পদ্ম ফুটিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। নবান্নে শুরু হয়েছে পদ্ম-রাজ। তার পরেই শুরু (Holding Centre) হয়েছে ‘অনুপ্রবেশকারী খেদাও’ অভিযান। যে অভিযানে ধরা পড়ল ১২ অনুপ্রবেশকারী।

     

  • Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির অশীতিপর বৃদ্ধও, কী অভিযোগ ভবানীপুরের এই ভোটারের?

    Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির অশীতিপর বৃদ্ধও, কী অভিযোগ ভবানীপুরের এই ভোটারের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) ‘জনতার দরবারে’ (Janata Darbar) হাজির ৮১ বছরের এক বৃদ্ধও। ছিলেন চাকরি হারা চাকরিপ্রার্থীরাও। সল্টলেকে বিজেপির দফতরে ফি সোমবার বসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবার। প্রতিটি দরবারেই ব্যাপক ভিড় হয়। আজ, সোমবারও ছিল উপচে পড়া ভিড়। সেই ভিড়েই ছিলেন চাকরিহারা থেকে চাকরিপ্রার্থীরাও। ছিলেন প্রবীরবাবুর মতো অসহায় মানুষও। রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নানা অভাব-অভিযোগ জানাতে এসেছেন তাঁরা।

    জনতার দরবারে হাজির অশীতিপর বৃদ্ধও (Suvendu Adhikari)

    এঁদের মধ্যেই ছিলেন বছর একাশির প্রবীর মুখোপাধ্যায়ও। তিনি ভবানীপুরের টাউনসেন্ড রোডের বাসিন্দা। মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে এসে তিনি জানান, তিনি  জয় কামদার এবং সোনা পাপ্পুর প্রতারণার শিকার। তাঁর মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, কামদার ও তার সাগরেদরা প্রোমোটিংয়ের নামে প্রবীরবাবুর বাড়িটি জরবদখল করে। কিন্তু তার পরে দীর্ঘ দিন পেরিয়ে গেলেও, এ পর্যন্ত ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি প্রবীরবাবুকে। মাথা গোঁজার ঠাঁই খুইয়ে তাঁকে থাকতে হচ্ছে ভাড়া বাড়িতে। মাস গেলে ভাড়া বাবদ গুনতে হচ্ছে মোটা টাকা। তাঁর দাবি, প্রতারিত হয়েছেন তিনি। বিচার পাওয়ার আশায় নিজের কেন্দ্রের বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির তিনি। তাঁর কাছে সব শুনে সমাধানের আশ্বাস দেন রাজ্যের প্রথম পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সোম-দরবারে এদিন সব থেকে বেশি নজর কাড়েন চাকরিহারা এবং ‘বঞ্চিত’ চাকরিপ্রার্থীরা। সব মিলিয়ে মোট ন’টি চাকরিপ্রার্থী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে, তাঁদের ক্ষোভ এবং দাবিদাওয়া জানাতে।

    দরবারে দাবি নিয়ে হাজির বঞ্চিত শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীরাও

    তৃণমূল জমানায় নিয়োগ দুর্নীতি কেলেঙ্কারির জেরে রাজ্যে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অথৈ জলে পড়েছে। সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে একে একে সকলের অভাব-অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই দেখা গেল ২০১৬ সালের প্যানেলের বঞ্চিত শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিনিধিদের। তাঁদের পক্ষে সুমন বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাই যোগ্যতার ভিত্তিতে যোগ্যদের চাকরি দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এই সরকারকে আমরা বিরক্ত করব না (Suvendu Adhikari)। কিন্তু আমাদের হাতে সময় কম। অন্যান্য বিষয়ের মতো এই বিষয়েও নয়া সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই আমাদের আশা।” তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিলেন (Janata Darbar)। আমাদের মতো যুবকদের অবজ্ঞা করার পরিণাম তিনি এখন দেখছেন।”

    কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা

    কেবল শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নয়, রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশার কথাও কয়েকজন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে। কারিগরি শিক্ষার চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম দুর্নীতির জেরে গত ১৫ বছর ধরে কোনও নিয়োগ হয়নি। অবিলম্বে এই শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার।” শুধু শিক্ষক বা চাকরিপ্রার্থীরাই নন, নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ‘দরবারে’ অভাব-অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বহু সাধারণ মানুষও। কোচবিহার থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও বহু মানুষ জনতার দরবারে এসেছিলেন ব্যক্তিগত ও সামাজিক নানা সমস্যার সুরাহার আশায়। সল্টলেকে গেরুয়া পার্টির এই ‘শুভেন্দু-দরবারে’ উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিজেপির হেভিওয়েট রাজ্য নেতৃত্বও (Suvendu Adhikari)।

    শূন্যপদ পূরণই সরকারের আশু লক্ষ্য

    সরকারে যে দলই থাকুক না কেন, সাধারণ মানুষের নানান অভাব-অভিযোগ থাকেই। তবে ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মের বেড়াজালে আটকে গিয়ে সেই সব সমস্যা অনেক সময়ই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রীর কান পর্যন্ত পৌঁছয় না।  সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া-অভাব-অভিযোগ সম্বলিত সেই সব চিঠি নবান্নে বা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠালেও, সব সময় সেগুলি উদ্দিষ্ট ব্যক্তির টেবিলে পৌঁছয় না বলেই অভিযোগ। সেই সব জটিলতা এড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতেই এহেন দরবারের সিদ্ধান্ত রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর। ইতিমধ্যেই নয়া সরকার সব দফতরের কাছ থেকে শূন্য পদের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। তাই শূন্যপদ পূরণই যে রাজ্যের পদ্ম-সরকারের কাছে প্রাধান্য পাবে, তা বলাই বাহুল্য (Janata Darbar)। রাজ্যবাসী যাতে তাঁদের নিজেদের নানা সমস্যার কথা খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে পারেন, তা-ই ফি সোমবার ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের অভিযোগ বা সমস্যার গুরুত্ব বিচার করে ঘটনাস্থলেই উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশও এই দরবার থেকেই দেন তিনি। আজ, সোমবার নিয়ে নয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই দরবারের বয়স হল দু’সপ্তাহ (Suvendu Adhikari)।

    মর্যাদা পুরুষোত্তমের পথে শুভেন্দু!

    প্রসঙ্গত, শুভেন্দু আগেই জানিয়েছিলেন, প্রতি সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সল্টলেকের দলীয় অফিসে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন মুখ্যমন্ত্রী। চেষ্টা করবেন সমস্যার দ্রুত সমাধানের। কলকাতা থেকে শুরু হলেও, অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়ও ‘জনতার দরবার’ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে শুভেন্দুর সরকারের। সেই সব দরবারেও গুরুত্ব দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের ছোটখাট সমস্যাকেও। চেষ্টা করা হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই সব সমস্যার সমাধানের। রামায়ণ থেকে জানা যায়, অযোধ্যার প্রজাদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনতে নিয়মিত রাম দরবার বসাতেন ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠ পুত্র রামচন্দ্র স্বয়ং। ক্রমে সনাতন ধর্মের এই অবতার হয়ে (Suvendu Adhikari) ওঠেন অযোধ্যাবাসীর চোখের মণি।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শুভেন্দুও এগোচ্ছেন রামের পথে। স্বাভাবিক। মর্যাদা পুরুষোত্তম রামই যে আরাধ্য বঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রীরও (Janata Darbar)!

     

  • PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের (PM Modi on Falta Repoll) নির্বাচনে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। ফলতার এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর বিজেপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১,০৯,০২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ফলতা বিজয়র পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদির বার্তা, “ফলতাবাসী নিজেদের রায় দিয়ে দিয়েছে! গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। ভয়ভীতি-হুমকি হেরে গিয়েছে।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য, বিকশিত বাংলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন রাজ্যবাসীর কাছে।

    অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাব

    ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ফলতা থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হওয়ার জন্য দেবাংশু পণ্ডাজিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই জয় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বিজেপির প্রতি অটুট আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসাধারণ কাজ মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন, আর সেই কারণেই তাঁরা আমাদের প্রতি আরও আশীর্বাদ ও সমর্থন জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির সকল কর্মী ও সমর্থকদের তাঁদের অসাধারণ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আগামী দিনেও আমরা পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।” নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দু’সপ্তাহ পরেই এই নির্বাচন হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার যে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করে চলেছে, তা মানুষের নজর এড়ায়নি। এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গবাসী আবার আমাদের আশীর্বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

    কেন প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার ফল শুধু একটি বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচনের ফল নয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্যতম অংশ এই ফলতা। নির্বাচন কমিশন ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণার পর অভিষেক বলেছিলেন, ‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না। দিল্লি থেকে যত শক্তশালী, যাকে খুশি আনুন, ক্ষমতা থাকলে ফলতায় লড়ে দেখাও।’ এই ফলতায় ভোটাররা বছরের পর বছর ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরির’ অভিযোগ ওঠে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে এই ফলতায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন অভিষেক। সেই ফলতাতে বিজেপি প্রার্থীর লক্ষাধিক ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বার্তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এ বারের নির্বাচনে যে বিজেপি জিতবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগেই ময়দান ছেড়েছেন। তবে বিজেপি যে এই বিপুল ব্যবধানে ফলতায় বিজয়ধ্বজা ওড়াবে, তা আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি অনেকেই। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জিতেছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা। তৃণমূল সেখানে নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে।

  • CM Suvendu Adhikari: ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এখন তৃণমূলের ‘হার-বার মডেল’, ফলতার ফল বেরনোর আগেই কটাক্ষবাণ মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এখন তৃণমূলের ‘হার-বার মডেল’, ফলতার ফল বেরনোর আগেই কটাক্ষবাণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এখন তৃণমূলের (TMC) ‘হার-বার মডেল’। ফলতা পুনর্নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিক এই ভাষায়ই তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বিভিন্ন সময় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ডায়মন্ড হারবার মডেলের কথা বুক ফুলিয়ে বলতেন স্থানীয় সাংসদ তথা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই লোকসভা কেন্দ্র থেকেই সাত লাখ ভোটে জিতে সংসদে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভাতিজা’। (নিন্দুকরা অবশ্য বলেন, ডায়মন্ড হারবারে ভোট হয়নি, ভোট লুট হয়েছে। তাই দ্বিতীয়বার সংসদে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে ‘ভাইপো’র।)

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)

    রবিবার অভিষেকের নাম না করেই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামিদিনে তৃণমূলের লড়াই হবে নোটা-র বিরুদ্ধে।” ফলতা পুনর্নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হচ্ছেন তিনি। তাই তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শুভেন্দু। ধন্যবাদ দিয়েছেন ফলতার ভোটারদেরও। পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। বিজেপির প্রার্থীকে এক লাখ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম, জয়ের ব্যবধান এক লাখ আট হাজার পেরিয়েছে।’’ এর পরেই শুভেন্দু ভোটের আগে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দেন। লেখেন, ‘‘উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ।’’

    তৃণমূলকে তোপ

    তৃণমূলকে (TMC) তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘‘একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুট, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিলেন।’’ নাম (CM Suvendu Adhikari) না করে অভিষেককে কটাক্ষবাণও হেনেছেন শুভেন্দু। লিখেছেন, ‘‘প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনও অপরাধ নেই, যা সংগঠিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কসুর করেনি এই ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’। ফলস্বরূপ, বিগত নির্বাচনকে (লোকসভা ভোট) পরিহাসে পরিণত করে এই বিধানসভা (ফলতা) ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল।’’

    ফলতায় ধরাশায়ী তৃণমূলের জাহাঙ্গির

    প্রসঙ্গত, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত। এই বিধানসভা থেকে প্রায় দেড় লক্ষ ভোটের লিড পেয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর সেই জয়ের অন্যতম ‘কারিগর’ বলে পরিচিত, জাহাঙ্গির খানকে ফলতায় প্রার্থী করে তৃণমূল। যদিও হার নিশ্চিত আঁচ করে ভোটের দু’দিন আগে সরে দাঁড়ান তিনি। যদিও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কোনও সুযোগ তখন তাঁর ছিল না। অভিষেক ‘ঘনিষ্ট’ এই তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রুজু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, ফলতা নির্বাচনে কারচুপি করানোর চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি (CM Suvendu Adhikari)। তার জেরে শুক্রবার হয় পুনর্নির্বাচন। ফল প্রকাশ হয় আজ, রবিবার। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘‘১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখন বাস্তব প্রকাশিত হল।এ তো সবে শুরু, প্রত্যাখ্যানের দীর্ঘ যাত্রা এবার অতিক্রম করতে হবে। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে নোটার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।’’ ত্রিপুরা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু লেখেন, ‘‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা (TMC) নির্বাচনে নোটার কাছে পরাজিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী (CM Suvendu Adhikari)।’’

     

  • WB Municipal Crisis: পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা, পদত্যাগের হিড়িক রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায়

    WB Municipal Crisis: পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা, পদত্যাগের হিড়িক রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে বইছে পরিবর্তনের সুপবন! তৃণমূল সরকারের পতন ঘটতেই পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা (WB Municipal Crisis)। বহু পুরসভার বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে পুরভোটের আগেই ভেঙে যেতে পারে রাজ্যের আরও বহু পুরবোর্ড। তৃণমূলের (TMC) একটি অসমর্থিত সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা সদ্য মন্ত্রিত্ব খোয়ানো তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমও ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। যদিও খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, কেউ পদত্যাগ করবেন না। তারপরেও বদলায়নি রাজ্যের পুর-পরিস্থিতির ছবি। শুধু তা-ই নয়, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরনিগমেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা।

    কাউন্সিলরদের ইস্তফার হিড়িক (WB Municipal Crisis)

    দিন দুই আগেই হালিশহর পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলর একযোগে ইস্তফা দিয়েছেন। কাঁচরাপাড়ায়ও গণইস্তফা দিয়েছেন কাউন্সিলররা। হালিশহরে তো খোদ পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষই ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। গণইস্তফা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ভাটপাড়া পুরসভায়ও। সেখানে একসঙ্গে ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। ওই পুরসভায় কাউন্সিলর ছিলেন ৩৫ জন। তাঁর মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন ৩০ জনই। চেয়ারপার্সন রেবা সাহা স্বয়ং ইস্তফা দিয়েছেন। তাই ভাটপাড়া পুরসভা এলাকায়ও পরিষেবা দেওয়া নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভাটপাড়ার বিধায়ক বিজেপির অর্জুন সিংয়ের দাবি, সরকারি আধিকারিকরা পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করতে থাকবেন।

    যোগাযোগ রাখেননি তৃণমূল নেতারা!

    ভাটপাড়া পুরসভার পদত্যাগী উপ-পুরপ্রধান দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, “আমার কাছে কোনও বিকল্প পথ ছিল না। আমি যখন শুনলাম, আমাদের কয়েকজন কাউন্সিলর রিজাইন দিয়ে দিচ্ছেন, চেয়ারম্যানও রিজাইন দিয়ে দিয়েছেন, তাই আমার কাছে আর কোনও অলটারনেটিভ ছিল না। তাছাড়া, আমি দেখছি, শহরবাসী কোনও পরিষেবা পাচ্ছেন না। কর্মচারীরা মাইনে পাচ্ছেন না (WB Municipal Crisis)। দলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। দল কোনও সাজেশনও দেয়নি। দুর্ভাগ্য এরকম একটা পরিস্থিতিতে দলের কোনও সাহায্য পাইনি। কেউই আমাদের কোনও সাজেশন দেয়নি। কেউ গাইড করেনি। কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। আমায় কেউ কোনও চাপ দেয়নি। একদম ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত (TMC)।”

    তৃণমূল কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

    এদিকে, দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই সঞ্জয় আবার তৃণমূলের দাপুটে নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। মেলা দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। স্বাভাবিকভাবেই সঞ্জয়ের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার উত্তর দমদম পুরসভায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান অস্থায়ী কর্মীরা। চেয়ারম্যানকে আসতে হবে বলেও দাবি জানান তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে যায় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাসের পর মাস তাঁরা মাইনে পাচ্ছেন না। এক এক সময় এক এক রকমভাবে বেতন দেওয়া হচ্ছে (WB Municipal Crisis)।

    অচলাবস্থার সৃষ্টি কলকাতা পুরসভায়ও

    অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে কলকাতা পুরসভায়ও (TMC)। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, মেয়র পদে ইস্তফা দিতে চাইছেন খোদ ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার এখানে হাউসের বাইরে হাউস বসাতে হয় মেয়র-সহ সব তৃণমূল কাউন্সিলরকে। চেয়ারপার্সন বলা সত্ত্বেও খোলা হয়নি ঘর, অভিযোগ তৃণমূলের। ফিরহাদ বলেন, “আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটা চরম অপমান। একটা নিদর্শন হয়ে রইল। হঠ করে আমার ইচ্ছে হল, আমি হাউস বন্ধ করলাম, হাউস খুললাম, এটা সম্পূর্ণ চেয়ারপার্সনের কাজ। সুতরাং অ্যাক্ট অনুযায়ী চেয়ারপার্সনকে যেমন চলতে হবে, তেমনি, আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখের। তাই আমার যাঁরা কলিগ, যাঁরা কাউন্সিলররা এখানে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে অভিনন্দন জানাই। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াইয়ে আপনারা শামিল হয়েছেন, সেই গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আমরা চালিয়ে যাব।” মেয়রের বার্তা, “রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয়, একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    হাওড়াবাসীকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    দুয়ারে বর্ষা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জুনের ১০ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যেই গোটা বাংলায় বর্ষা ঢুকে যাবে (WB Municipal Crisis)। তার আগে পুরসভাগুলির অচলাবস্থায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পরেই যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের। হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচন প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত পরিষেবার স্বাদ মানু‌ষ পেতে পারে না। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বোর্ডের হাতে হাওড়া পুরনিগম এবং বালি তুলে দিতে পারব বলে আমাদের বিশ্বাস।’

    কী বলছেন রাজ্যের নয়া মন্ত্রী?

    পুরসভাগুলির এই অবস্থা নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক, পুর কমিশনার, রাজ্যের অন্য পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। মন্ত্রী বলেন, “হাতে আমাদের ১৮ দিন আছে (বর্ষা আসতে)। এবার যাতে বাংলার মানুষের অসুবিধা না হয়, সেটা দেখা হবে। আগের বছর প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল। সে রকম যদি এবার হয়, তাহলে কীভাবে সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে, সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে।”

    বিজেপির বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, ভাটপাড়ার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনারই কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, নৈহাটি, গারুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর ছাড়াও শিল্পাঞ্চলের বহু পুরসভায় যাঁরা জনপ্রতিনিধি ছিলেন (TMC), তাঁরাও স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিজেপির তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হবে। অভিযোগ করবেন ইও, এফওরা। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করবেন যাতে এই পুরসভাগুলিতে পাঁচজনের একটি কমিটি করা হয় এবং বসানো হয় একজন প্রশাসক (WB Municipal Crisis)।

     

  • CM Suvendu Adhikari: রাজ্যে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প, কারা পাবেন সুবিধা?

    CM Suvendu Adhikari: রাজ্যে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প, কারা পাবেন সুবিধা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আগের সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা তো করেইনি, উল্টে বিরোধিতাই করেছে। যার ফলে কোটি কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন।’’ শনিবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এমনই অভিযোগ করলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, এবার রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ তৈরি করছে রাজ্য সরকার।

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ (CM Suvendu Adhikari)

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন (Ayushman Bharat)। পরে নবান্নে করেন সাংবাদিক বৈঠক। সেখানেই ঘোষণা করা হয় স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ তৈরির কথা। রাজ্যের ৬ কোটি মানুষ তৃণমূল পরিচালিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। তাঁদের এবার কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। নতুন করেও আবেদন করা যাবে।  নবান্নের এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। তাঁদের পাশে বসিয়েই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই আক্রমণ শানান পূর্বতন রাজ্য সরকারকে। তিনি জানান, যে সুবিধা (আয়ুষ্মান ভারত) অন্যান্য রাজ্য পেয়েছে, সেগুলি পশ্চিমবঙ্গ পায়নি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকার ভারত সরকারের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রকল্প রিভিউ করেছে। সেই মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের হেল্থ‌‌ সেক্টরে আমরা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছি।”

    কবে মিলবে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড?

    রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাঁরা নতুন করে আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চান এবং স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে এত দিন যুক্ত হননি, এমন নাগরিকও চাইলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দিল্লিতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের চুক্তি সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারত সরকারের মন্ত্রী, আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটা করব। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি মানুষ, যাঁরা ভিন রাজ্যে রয়েছেন, তাঁরাও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের এই সুবিধা পাবেন।’’ সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার রোধে ভ্যাকসিন দেওয়াও শুরু হবে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশব্যাপী এই সুবিধা চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে সাত লাখেরও বেশি ডোজ় দিতে চায় ভারত সরকার। শুভেন্দু বলেন, ‘‘১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী বালিকাদের এই ডোজ় দিতে পারি আমরা। ৩০ মে থেকে দেওয়া হবে। বিধানগর সাব-ডিভিশন হাসপাতালে সেদিন আমি নিজে উপস্থিত থেকে এই প্রকল্প শুরু করব। ওই দিন থেকেই রাজ্যে শুরু হয়ে যাবে টিবি-মুক্ত ভারতের ওয়ার্কশপও (CM Suvendu Adhikari)।’’

    শিশুমৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বেগ

    রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার ঠিকঠাক মনিটরিং করেনি। তিনি বলেন, ‘‘পাঁচ বছরের নীচে মৃত্যুহার এরাজ্যে অনেক বেশি। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম মালদা জেলাগুলির রিপোর্ট উদ্বেগজনক।’’ এমন আরও কয়েকটি রিপোর্টও দেন শুভেন্দু। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ (Ayushman Bharat) খুশির খবর দিচ্ছি। এই অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভারত সরকার ২১০৩ কোটি আমাদের জন্য বরাদ্দ করেছে। আজ তার এক চতুর্থাংশ ট্রান্সফারও করে দিয়েছে।’’ রাজ্যে আরও প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরির ঘোষণাও করেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে চারশোরও বেশি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরি করা হবে। এতে সাধারণ মানুষের অনেকটা আর্থিক সাশ্রয় হবে। দুরারোগ্য অসুখের ওষুধে ৮০ শতাংশ ছাড় মিলবে। এমন ৪৬৯টি কেন্দ্র তৈরি হলে ১০ গুণ সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি জানান, ২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে। প্রত্যেক জেলায় যাতে মেডিকেল কলেজ থাকে, সেই জন্যও পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে চারটি প্রশাসনিক জেলায় মেডিকেল কলেজ নেই। শুভেন্দু বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। এর সুফল কিছু দিনের মধ্যেই পেতে শুরু করবেন রাজ্যবাসী। চারটি প্রশাসনিক জেলা— আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, আসানসোল এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিকেল কলেজ হয়নি। সেজন্য প্রয়োজনীয় জমি ইত্যাদির প্রস্তাবও পাঠানো হবে কেন্দ্রকে। উত্তরবঙ্গে এমস তৈরির জন্যও পদক্ষেপ করা হবে (CM Suvendu Adhikari)।’’

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

    রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কবে থেকে চালু হবে, কারাই বা এর সুবিধা পাবেন, কিংবা আদৌ চালু হবে কিনা, তা নিয়ে একটা দোলাচল ছিল বঙ্গবাসীর মনে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের উপভোক্তারা আদৌ কেন্দ্রের এই প্রকল্পটির সুবিধা পাবেন কিনা, তা নিয়েও সংশয় ছিল। এদিন সেই সংশয়ের অবসান ঘটল তখন, যখন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, এই মুহূর্তে যাঁরা পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা পান, তাঁরা এখন থেকে সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। জুলাই থেকেই আয়ুষ্মান ভারত কার্ড মিলবে। পরে এই প্রকল্প আরও বড় আকারে চালু করা হবে। তিনি জানান, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৯৭৬ কোটি টাকা (CM Suvendu Adhikari)।

    স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে মমতার শাসনে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। কেন্দ্রের ওই প্রকল্প থেকে রাজ্যের বাসিন্দাদের বঞ্চিত করে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পে রাজ্যের সব পরিবারের মহিলাদের নামে এই কার্ড দেওয়া হয়। কার্ডটি ব্যবহার করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পান উপভোক্তারা। যদিও সেই কার্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রাজ্যবাসীর (Ayushman Bharat)। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের সরকারের আমলে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল না। স্বাস্থ্যের মতো যৌথ ক্ষেত্রেও আমলা বা আধিকারিকদের মধ্যে কথাবার্তা, চিঠিপত্র চালাচালিও হয়নি। এবার সেসব অতীত (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    Abhishek Illegal Construction: পুরসভার একের পর এক নোটিস! অভিষেকের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা তৃণমূলের বহু নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার আতসকাচের নীচে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের (Abhishek Illegal Construction) কোম্পানি, তাঁর পরিবারের সদস্য়দের সম্পত্তি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে অভিষেককে। অথচ এই নোটিসের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না, এমনটাই দাবি করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নোটিসকাণ্ডের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছেন বহু তৃণমূল নেতা।

    অভিষেকের জবরদখল!

    মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির প্রসঙ্গ উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। তিনি বলেছেন, “ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টি।” রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই অ্যাকশনে নামে কলকাতা পুরসভা। নোটিস পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের একের পর এক ঠিকানায়। কোনওটার বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ। আবার কোনও সম্পত্তির চরিত্র বদলের অভিযোগে দেওয়া হয় নোটিস।

    জানতেন না ফিরহাদ!

    কলকাতা পুরসভার এই নোটিসকাণ্ড নিয়ে একরকম হাত তুলে নেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “মেয়রকে জানানোর কথাই নয়। তার কারণ হচ্ছে, নোটিসটা হচ্ছে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।” কখনও আবার মেয়রের গলায় কার্যত শোনা যায় ক্ষোভের সুর। তিনি বলেন, “ওঁর ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কারণ, আমি কোনও ইজারা নিইনি।”

    অভিষেকের থেকে দূরত্ব বজায়

    অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্য়দের একাধিক ঠিকানায় যে ১৭টা নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা, তার মধ্য়ে ১৪টি গেছে ৯ নম্বর বরো থেকে। এই নোটিস-পর্বের মধ্যেই বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সংস্থা ও আত্মীয়দের সম্পত্তির নামে কলকাতা পুরসভা নোটিস দেওয়ার পর তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করেন বহু নেতা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “এই বাড়ি, এই বিষয়টা, বাড়ি, নোটিস ইত্যাদি যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি।” তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেক বুঝবে, আমি কী করে বলব ? ববি কিছু জানতে পারে, আমি জানি না।”

    কোন কোন ঠিকানায় নোটিশ দিয়েছে পুরসভা?

    ১৮৮-এ শান্তিনিকেতন

    ১৮৮-এ, হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িতে নোটিস দিয়েছে পুরসভা এবং এই নোটিস দেওয়া হয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এখানে যেটা বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, সেটাকে সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা ডেভিয়েশন কেন হল সেটা জানাতে হবে। লিফট, এসকেলেটর, সেগুলোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো জানাতে হবে। না হলে কলকাতা পুরসভা নিজেই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। এবং ভেঙে দেওয়ার পর, তার যে খরচ, সেই খরচও যিনি হচ্ছেন মালিক তার থেকে আদায় করা হবে।

    ১১৯ কালীঘাট রোডের বাড়িতে

    ১১৯ কালীঘাট রোডের এই বাড়িতেও কলকাতা পুরসভার তরফে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এটা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে এই নোটিস করা হয়েছে।

    ১২১, কালীঘাট রোডের বাড়ি

    ১২১, কালীঘাট রোডের এই বাড়িতে সাত-সাতটা নোটিস পৌঁছেছে। যার মধ্যে পাঁচটি নোটিস লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, আর একটি শুধু লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণির ৩টি বাড়িতে

    প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে তিনটে ঠিকানায় নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির এই গলির তিনটি প্রিমিসেস রয়েছে, যেখানে তিন জন অ্যাসেসিকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ৪৬-এর বি ও ২৯এ , ২৯-এর C  প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস করা হয়েছে।

    ওস্তাদ আমির খান সরণি ও পণ্ডিতিয়া রোড

    ১বি ওস্তাদ আমির খান সরণি এবং ৩৭ পণ্ডিতিয়া রোডের ঠিকানাতেও নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা।

    মেজাজ হারালেন অভিষেক

    অন্যদিকে, পৌরনিগম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। আর তা শুনেই রীতিমতো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর দিতে গিয়ে রেগে গেলেন। বললেন, “কলকাতা পৌরনিগমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, অবৈধ অংশটা কোথায়।” শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের পর বেরিয়ে আসছিলেন অভিষেক। তখনই তাঁর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পৌরনিগম, কী বলবেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে গাড়িতে উঠে যান অভিষেক। গাড়ির কাচ তোলা ছিল। তবে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকায়, একসময় গাড়ির কাচ নামান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, “আপনি জিজ্ঞাসা করে আসুন, কোন অবৈধ অংশ? যে অবৈধ অংশ মার্ক করে দেবে, উত্তর আমার থেকে নিয়ে যাবেন। যান।” বলেই গাড়ির কাচ তুলে দেন।

    কী বলছে বিজেপি?

    অভিষেকের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এত চুরি জোচ্চুরির বন্যার পর, যে লোকটা যাদের কাছে হিরো ছিল, সেই হিরোগিরি চুপসে গিয়েছে, এইসময় কেউ তাঁকে পৌরনিগমের নোটিস নিয়ে প্রশ্ন করে? এরকম কাটা ঘায়ে কেউ নুনের ছিটে দেয়? নিকটাত্মীয়র জোরে আইপ্যাক আর রাজ্যের প্রশাসন যদি স্যালুট না করত, তাহলে তো এমন হত না। স্বজনপোষণের বলে উনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আর যিনি এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাঁর কাছ থেকে রাজনৈতিক কথা আশা করছেন কেন আপনারা?”

  • CM Suvendu Adhikari: বিএসএফকে জমি দিল শুভেন্দুর সরকার, রাজ্যে লাগু সিএএ-ও

    CM Suvendu Adhikari: বিএসএফকে জমি দিল শুভেন্দুর সরকার, রাজ্যে লাগু সিএএ-ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার ১১ দিনের মাথায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি দিয়ে দিল শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। অনুপ্রবেশকারীদের বড় বার্তাও দিলেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষমতায় এলে যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে কথা নির্বাচনী প্রচারেই লাগাতার বলে (Infiltrator Deportation) গিয়েছে বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পর সেটাই করা হল বাস্তবায়িত।

    অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা (CM Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে পারলেই গ্রেফতার করবে পুলিশ। তুলে দেওয়া হবে বিএসএফের হাতে। কেন্দ্রের আইন বুধবার (২০ মে) থেকেই রাজ্যে লাগু হচ্ছে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় সরকার আবেদন করেছিল ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তের জন্য জমি দিতে। আগের সরকার (তৃণমূল সরকার) তা দিতে চায়নি। ফলে এই মুহূর্তে খুব খারাপ জায়গায় রয়েছে সীমান্ত এলাকা। দু’সপ্তাহের মধ্যে আমাদের আমলারা, বিশেষ করে ভূমি এবং রাজস্ব দফতরের সচিবরা ২৭ কিমি ফেনসিং এবং আউটপোস্টের জন্য জমি চিহ্নিত করে আজ তুলে দিচ্ছেন।” তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্য ২২০০ কিমির মধ্যে ১৬০০ কিমিতে কাঁটাতার দিতে পারেনি। ৬০০ কিলোমিটার অংশ রয়েছে কাঁটাতারবিহীন। ২০১৬ সালে রাজনাথ সিং ব‍্যক্তিগতভাবে জমি চেয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যন্ত অনুরোধ করেছিলেন। তার পরেও জমি দেওয়া হয়নি।”

    অনুপ্রবেশকারীদের ডিপোর্ট করার প্রক্রিয়া শুরু

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের ডিপোর্ট করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে (CM Suvendu Adhikari)। ২০২৫-এর ১৪ মে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বিগত সরকার, একদিকে সিএএর বিরোধিতা করেছিল, আর অন্যদিকে ভারত সরকারের এই আইন কার্যকর করেনি। এবার সেই আইনই কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলাজনিত অপরাধ, লাভ জেহাদ, বলপূর্বক ধর্মান্তর, নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে যে ধরনের অসামাজিক কাজকর্মের বৃদ্ধি আমরা লক্ষ্য করেছি, যারা তার সঙ্গে যুক্ত বলে ধরা পড়েছে, তাদের বড় অংশই বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী। এদিন, বিএসএফের তরফে ফুলের তোড়া এবং স্মারক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয় মুখ্যমন্ত্রীকে (Infiltrator Deportation)।

    প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী, ২০২৪-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, আইনে নির্দিষ্ট করা সম্প্রদায়ের যে সব মানুষ বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছে, তাদের কোথাও কোন‌ও হেনস্থা করা হবে না (CM Suvendu Adhikari)। যারা ওই সময়ের পরে এসেছে, তাদের রাজ্য পুলিশ সরাসরি গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে, যাতে বিডিআরের সঙ্গে কথা বলে তাদের ডিপোর্ট করা যায় (Infiltrator Deportation)।

     

  • WB Assembly Row: রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হয়নি শোভনদেবকে, তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে কী বললেন বিধানসভার সচিব?

    WB Assembly Row: রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়া হয়নি শোভনদেবকে, তৃণমূলের অভিযোগের জবাবে কী বললেন বিধানসভার সচিব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগেও, যে ঘরটায় বসতেন রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, সেই ঘরটা এখনও অবধি তালাবন্দি (WB Assembly Row)। যদিও ইতিমধ্যেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূল পরিষদীয় দলের তরফে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করার কথা জানানো হয়েছে।

    বিধানসভার সচিবের বক্তব্য (WB Assembly Row)

    এহেন পরিস্থিতিতে আরটিআই করেছিলেন এই প্রবীণ তৃণমূল নেতা। এই বিষয়ে জবাব দিলেন বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস। তাঁর সাফ কথা, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে (Shovondeb Chattopadhyay) বিরোধী দলনেতা করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম মানেনি তৃণমূল কংগ্রেস।শোভনদেবের আরটিআইয়ের জবাবে সচিব মনে করিয়ে দেন, বিধানসভার ভেতরে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাঁর সিদ্ধান্তকে কোনওভাবেই চ্যালেঞ্জ করা যায় না। স্পিকার নির্বাচনের দিন শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতার প্রথাগত রীতি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, তবে তার মানে এই নয় যে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ পরবর্তীকালে তাঁর পদের সপক্ষে প্রয়োজনীয় কোনও নথি চাইতে পারবে না।

    ‘রেজুলিউশন কপি’ কোথায়?

    একটি চিঠি পেশ করে তিনি জানান, তৃণমূলের তরফে যে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে বিধায়কদের কোনও ‘রেজুলিউশন কপি’ (সমর্থনপত্র) অ্যাটাচ করা ছিল না। তাই জানা যায়নি শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে দলের ঠিক কতজন বিধায়ক সমর্থন করছেন। একই ত্রুটি ছিল ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার আবেদন পত্রের ক্ষেত্রেও। সচিবের বক্তব্য, এই আইনি ও প্রশাসনিক ত্রুটির কারণেই বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু নিয়ম মেনে (WB Assembly Row) দলীয় সিদ্ধান্তের রেজুলিউশন কপি চেয়েছিলেন। যদিও তা এখনও জমা দেওয়া হয়নি। বিধানসভার সচিব চিঠিটা দেখিয়ে বলেন, “এই চিঠির সঙ্গে কোনও রেজুলিউশন কপি যুক্ত ছিল না। শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে  ক’জন বিধায়ক তাঁর (Shovondeb Chattopadhyay) মত ব্যক্ত করেছেন, সেটা উল্লেখ নেই।” ফিরহাদ হাকিমকেও চিফ হুইপ করতে কতজন তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেছেন, তারও উল্লেখ নেই। সেই কারণেই সমস্যা হচ্ছে বলে জানান বিধানসভার সচিব (WB Assembly Row)।

     

LinkedIn
Share