Tag: bjp

bjp

  • Ashish Banerjee: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা, কী বলছে পুলিশ?

    Ashish Banerjee: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা, কী বলছে পুলিশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রহস্যমৃত্যু বীরভূমের রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ashish Banerjee)। রবিবার সকালে বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় (TMC)। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। আশিস আত্মহত্যা করেছেন কি না, করলে তার কারণই বা কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় বাড়ি আশিসের। বাড়ি লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয়ও রয়েছে। রবিবার সকালে সেখানেই মেলে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশও। দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

    টানা বিধায়ক (Ashish Banerjee)

    ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন আশিস। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায়ও একাধিকবার ঠাঁই হয়েছিল তাঁর। রাজ্যের প্রাক্তন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী ছিলেন আশিস। মন্ত্রিসভায় বিরাট কোনও দায়িত্ব কোনওদিনই পাননি আশিস। মমতা সরকারের আমলে রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন তিনি। বীরভূমের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন আশিস। অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি থাকাকালীন তাঁর সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি। তবে জেলার রাজনীতিতে অনুব্রতের প্রভাবের কারণে আশিসের রাজনৈতিক উত্থানের সুযোগ সীমিত ছিল বলেও ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    বগটুই গণহত্যায় অস্বস্তিতে ছিলেন আশিস

    ২০২২ সালে রামপুরহাটের বগটুইয়ে গণহত্যার ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিতে পড়েছিল তৃণমূল। সেই সময় আশিসকেও নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও নিজের বিধানসভা এলাকায় ভোটের ফল নিয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন (TMC)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা। বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে ২৪ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যান তিনি (Ashish Banerjee)। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। একাধিক প্রাক্তন বিধায়ক ও কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। দলের অনেক নেতার সঙ্গে কালীঘাটের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলের খবর। ভোটে হেরে যাওয়ার পর আশিসকে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছিল না।

    মৃত্যুর কারণ

    তাঁর মৃত্যুর পিছনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে কী লেখা রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আশিসের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন অনুব্রত। বলেন, “এত ভালো লোক। কেন এই কাজ করলেন, বুঝতে পারছি না। ওঁর কোনও শত্রু নেই। কারও সঙ্গে ঝগড়া নেই। কোনও মানসিক চাপই ছিল না। উনি কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিতেই যেতেন না। আমি প্রচণ্ড দুঃখ পেয়েছি (TMC)। ওঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। খুব নিরীহ, শান্ত লোক ছিলেন। আশিস (Ashish Banerjee) কোনও দুর্নীতিতে ছিলেন বলে আমার মনে হয় না।”

     

  • Atal Bihari Vajpayee: অটলবিহারী বাজপেয়ী, রাজনীতিতে এক বিরল যুগের উপখ্যান

    Atal Bihari Vajpayee: অটলবিহারী বাজপেয়ী, রাজনীতিতে এক বিরল যুগের উপখ্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) ছিলেন একাধারে কৃতী সাংবাদিক, কবি, অসাধারণ বক্তা, নিষ্ঠাবান দলীয় কর্মী এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ স্বয়ংসেবক। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, স্নেহশীল ও (Death Anniversary) আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনওভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ফিরেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি হাজার নয়, লাখ লাখ মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় রাজনীতির এমন একটি অধ্যায়ের অবসান হয়েছে, যেখানে প্রতিযোগিতা বা সংঘাতের পরিবর্তে সমঝোতা, সৌহার্দ্য এবং ক্ষমতার প্রতি আসক্তির পরিবর্তে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা গুরুত্ব পেত।

    বহুরূপে বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)

    ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে, যে জন্মগ্রহণ করে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো রাষ্ট্রনায়কের প্রয়াণে পৃথিবী ও মানবসমাজ আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে। কেউ তাঁকে পিতৃসম ব্যক্তিত্ব বলেছেন, কেউ রাষ্ট্রনায়ক, কেউ প্রকৃত গণতন্ত্রী। কারও কাছে তিনি ছিলেন অসাধারণ বক্তা, আবার কারও কাছে স্নেহের ‘বাবজি’। প্রখ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকর তাঁকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করতেন। মার্কিন নাগরিকদের কাছে অটলবিহারী বাজপেয়ী স্মরণীয় ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে ‘স্বাভাবিক মিত্রতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার জন্য। চিনে তাঁকে স্মরণ করা হয় এমন একমাত্র ভারতীয় নেতা হিসেবে, যিনি মাও সে তুং থেকে দেং শিয়াওপিং এবং হু চিনতাও—চিনের নেতৃত্বের পরপর তিন প্রজন্মের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য স্মরণীয়। অনেকেই হয়তো জানেন না, তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারাও তাঁকে এমন এক নেতা হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি আন্তরিকভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। সমকালীন ভারতের কাছে অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণ তাই এক অপূরণীয় ক্ষতি।

    ক্ষমতার রাজনীতি নয়, দেশের প্রতি ভালোবাসা

    অটলবিহারী বাজপেয়ী এমন এক ধরনের রাজনীতির চর্চা করতেন, যা আজকের দিনে বিরল। তাঁর কাছে ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর রাজনীতিতে আবেগ, অনুভূতি ও মানবিকতার জায়গা ছিল—যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতির মধ্যেও সহমর্মিতা বজায় থাকত। তিনি প্রতিপক্ষকে অসম্মান করতেন না, অন্যের মতকে অগ্রাহ্য করতেন না এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তির রাজনীতিতেও বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁর জীবন ছিল খোলা বইয়ের মতো স্বচ্ছ। ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে তাঁর কোনও দ্বিচারিতা ছিল না। মহাত্মা গান্ধীর মতোই তাঁর জীবন ছিল সবার সামনে উন্মুক্ত (Atal Bihari Vajpayee)। সবাই তাঁকে ভালোবাসতেন, তাঁর প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং নিজের বিশ্বাসের প্রতি তাঁর দৃঢ়তার প্রশংসা করতেন। কিন্তু এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে কখনও দলের ঊর্ধ্বে ভাবেননি। একজন প্রকৃত স্বয়ংসেবক হিসেবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতেন। কোনও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মতের অমিল থাকলেও, একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী হিসেবে তিনি তা মেনে নিতেন। বিশিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ওয়াল্টার অ্যান্ডারসন একবার বলেছিলেন, রাজনীতি ও শৃঙ্খলা সাধারণত পাশাপাশি চলে না, অটলবিহারী বাজপেয়ী ছিলেন তার একমাত্র ব্যতিক্রম।

    রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সৌহার্দ্যের রাজনীতি

    সামাজিক জীবনে অস্পৃশ্যতার প্রথা আমরা অনেকটাই দূর করতে পেরেছি। কিন্তু তার পরিবর্তে রাজনীতিতে এক নতুন ধরনের অস্পৃশ্যতা তৈরি হয়েছে। দুই ভিন্ন দলের মানুষ যেন পরস্পরের মতের সঙ্গে একমত হওয়া তো দূরের কথা, একে অপরের সঙ্গে চোখে চোখ রেখেও কথা বলতে পারেন না।

    অটলবিহারী বাজপেয়ী এর সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষের প্রতিও ছিল সৌহার্দ্য। এমনকি পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মতো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতিও তিনি প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে দ্বিধা করতেন না।

    নেহরু একসময় বলেছিলেন, অটলবিহারী বাজপেয়ী একদিন তাঁর জায়গায় অধিষ্ঠিত হবেন। নেহরুর মৃত্যুর পর বাজপেয়ী তাঁর প্রতি যে আন্তরিক ও উজ্জ্বল শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেছিলেন, তাতেও তাঁর রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় পাওয়া যায়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই গুণ ধরে রেখেছিলেন।

    কর্মীদের প্রতি ছিল গভীর মমতা

    দলীয় কর্মীদের প্রতি অটলবিহারী বাজপেয়ীর ছিল বিশেষ মমত্ববোধ। তিনি যে পদেই থাকুন না কেন, কখনও অহংকার প্রকাশ করতেন না (Atal Bihari Vajpayee)।

    অযোধ্যার তথাকথিত ‘বিতর্কিত’ কাঠামো ভেঙে পড়ার কয়েক মাস পরে বাজপেয়ীর সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন এক সাংবাদিক। তিনি প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ওই সাংবাদিকের সমস্ত তিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন ঠান্ডা মাথায়, তাঁর আচরণ কিংবা অভিব্যক্তিতে রাগের লেশ মাত্র ছিল না (Death Anniversary)।

    সংবিধান নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজন

    অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল ২০০০ সালে সংবিধানের কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা। সংবাদমাধ্যমের একাংশ সেই কমিটিকে সংবিধান পুনর্বিবেচনার কমিটি হিসেবে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরেছিল। অথচ এর উদ্দেশ্য ছিল সংবিধান কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা খতিয়ে দেখা।

    বিআর আম্বেদকর সংবিধান প্রণয়নের সময় সতর্ক করে বলেছিলেন, সংবিধান যতই ভালো হোক, তা যদি খারাপ মানুষের হাতে পড়ে, তাহলে তার উদ্দেশ্য সফল হবে না। প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হলেন দেশের মানুষ।

    প্রাক্তন ব্রিটিশ কূটনীতিক কার্নে রস তাঁর ‘নেতৃত্বহীন বিপ্লব’ গ্রন্থে লিখেছেন, গণতন্ত্র ভোটদাতা অর্থাৎ জনগণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি অর্থাৎ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তির ব্যবস্থা করে। গণতন্ত্র আসলে ভোটদাতা ও নির্বাচিতের মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ সমঝোতা।

    সাধারণ মানুষ সাধারণত সংবিধানের সেই অংশটুকুই জানেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষকে সংবিধান সম্পর্কে শিক্ষিত করার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    সংবিধান সচেতনতা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ২০১৫ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস পালন করা হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সংবিধানের মূল্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন করা।

    সমাজের বৃহৎ অংশের মধ্যে সংবিধান সম্পর্কে এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে দেশের ভিতরে ও বাইরে থাকা কিছু সংগঠন নানা ধরনের অপব্যবহার করছে। আম্বেদকর এই ধরনের অপব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা হারানোর পেছনে নিজেদের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতাও ছিল। ভবিষ্যতে যদি নিজেদের মানুষই আবার বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে এবং দেশকে ফের পরাধীনতার দিকে (Atal Bihari Vajpayee) ঠেলে দিতে পারে। তাই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

    সংবিধান পরিচালনার সামনে চার বড় চ্যালেঞ্জ

    সংবিধাননির্ভর শাসনব্যবস্থার সামনে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ বিচারব্যবস্থা। সংবিধানের তিনটি প্রধান অঙ্গের মধ্যে বিচারব্যবস্থা বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি, বিচার পেতে দেরি হওয়া মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া। আবার কেউ কেউ মনে করেন, অতিদ্রুত বিচার করাও কখনও কখনও ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করতে পারে।

    রাম জন্মভূমি মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত জমি তিন ভাগে ভাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায় বৈধ কি না, তা নির্ধারণের জন্য মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু বিরোধী পক্ষ মসজিদ ইসলাম ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ কি না, সেই প্রশ্ন তুলে রায় বিলম্বিত করার চেষ্টা করে।

    বিষয়টি যখন শুনানির জন্য ওঠে, তখন প্রধান বিচারপতি মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিয়ে জানান, এটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় নয়। এর ফলে মন্দিরপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় আকারের বিক্ষোভ দেখা দেয়। লাখ লাখ মানুষ সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দেখিয়ে দেন যে তাঁদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ আসে আমলাতন্ত্র থেকে। এখানে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, গোটা আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথাই বলা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা অনেক সময় উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। একটি ব্যবস্থা হিসেবে আমলাতন্ত্রের জবাবদিহির অভাব সাংবিধানিক শাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে (Death Anniversary)।

    আম্বেদকরের সতর্কবার্তা

    আম্বেদকর এই বলে সতর্ক করেছিলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলি যদি দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের মতাদর্শ বা দলীয় স্বার্থকে ওপরে স্থান দেয়, তাহলে দ্বিতীয়বারও দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে।

    অটলবিহারী বাজপেয়ীর কাছে দেশ ছিল মন্দিরের মতো। তিনি মনে করতেন, আমরা সেই মন্দিরের পুরোহিত এবং রাষ্ট্রপুরুষের সেবায় আমাদের জীবন উৎসর্গ করতে হবে। এটাই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন।

    ১৯৯৭ সালে ক্ষমতায় মাত্র ১৩ দিন থাকার পর পরাজিত হয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, “দল আসবে, দল যাবে, সরকার আসবে, সরকার যাবে, কিন্তু দেশকে থাকতে হবে এবং গণতন্ত্রকে চিরকাল থাকতে হবে (Atal Bihari Vajpayee)।”

    আজ পরিস্থিতি বদলেছে। জাতীয় রাজনীতিতে একটি দলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে এবং অধিকাংশ দলই আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির বিস্তার। জাত, ভাষা, অঞ্চল ইত্যাদির ভিত্তিতে তৈরি পরিচয় আজ রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। এটি শুধু ভারতের নয়, বিশ্বেরও একটি বড় রাজনৈতিক প্রবণতা। সংবিধানের পক্ষে এই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    বাইরের চাপও বড় চ্যালেঞ্জ

    তৃতীয় চ্যালেঞ্জ আসে বাইরে থেকে। এমন এক শ্রেণির উদারপন্থী বুদ্ধিজীবী ও সংগঠন রয়েছে, যারা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তাঁদের কাজকর্ম জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে সংবিধানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া মৌলিক সমঝোতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

    বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মধ্যে যেমন সত্যিই জনকল্যাণে কাজ করা সংগঠন রয়েছে, তেমনই কিছু সংগঠন ব্যবস্থার অপব্যবহারও করে।

    শবরীমালা মামলার কথাই ধরা যাক। শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে এমন ব্যক্তিরাও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, যাঁরা নিজেরাই সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুসারী নন। কেরলের মতো একটি মাতৃতান্ত্রিক সমাজকে বাইরে থেকে লিঙ্গসমতার শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ও এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তোলে বলে অভিযোগ।

    সংবিধানের ২৫ থেকে ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে, যার মধ্যে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে, নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পরিচালনার অধিকার দেয় (Atal Bihari Vajpayee)।

    রাফাল চুক্তির ক্ষেত্রেও আদালতে যাওয়া পক্ষগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অভিযুক্ত করা। আদালত অভিযোগগুলি খারিজ করে জানিয়েছিল যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তবে কিছু বুদ্ধিজীবী ও বেসরকারি সংগঠন নিজেদের স্বার্থে ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ।

    কবিতায় আশ্রয় খুঁজতেন অটলজি

    অটলবিহারী বাজপেয়ী শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন কবিও। রাজনীতির কোলাহল ও সংঘাতের মধ্যে তিনি কবিতার কাছে আশ্রয় নিতেন। তাঁর নিজের কথায়, তাঁর কবিসত্তা তাঁকে রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার শক্তি দিত, বিশেষ করে যেসব সমস্যা তাঁর বিবেককে স্পর্শ করত।

    তিনি ছিলেন গভীর আবেগপ্রবণ এবং বিনয় তাঁর চরিত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। রাজনীতিতে এমন বিনয়ী মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিজের কবিতায় তিনি ঈশ্বরের কাছে এমন উচ্চতায় না পৌঁছনোর প্রার্থনা করেছিলেন, যেখানে পৌঁছে তিনি নিজের মানুষের কাছ থেকেই দূরে সরে যাবেন।

    সাফল্য ও ব্যর্থতাকে কীভাবে সমানভাবে গ্রহণ করতে হয়, অটলজি নিজের জীবন দিয়ে তা দেখিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, জয় ও পরাজয়কে সমভাবে গ্রহণ করতে পারাই একজন প্রকৃত নেতার লক্ষণ।

    ‘অজাতশত্রু’

    আজকের কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশে সত্য কথা বলা সহজ নয়। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ী সততা, সহনশীলতা ও সমঝোতার রাজনীতি চর্চা করেছিলেন। রাজনীতিক হিসেবে তিনি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যে তাঁর ব্যক্তিগত শত্রু প্রায় ছিল না। তাই তাঁকে বলা হত ‘অজাতশত্রু’।

    তিনি নিজের কাছে সৎ ছিলেন এবং দেশের মানুষের কাছেও ছিলেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। তিনি কখনও মনে করতেন না যে তিনিই সবসময় সঠিক। কারণ, কেউ যদি মনে করেন তিনিই সর্বদা ঠিক, সেখান থেকেই বিদ্বেষের সূচনা হয়।

    অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁর জীবন ও রাজনীতির মাধ্যমে আমাদের সামনে একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে একটি যুগের অবসান ঘটেছে। সত্যিই তাঁর মতো আর একজন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু (Death Anniversary) তিনি যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছিলেন—ইতিবাচকতার রাজনীতি, সহমর্মিতা ও মর্যাদার রাজনীতি এবং বিনয়ের রাজনীতি—তা আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে (Atal Bihari Vajpayee)।

     

  • Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার রেড রোডে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সকলকে একসঙ্গে বাংলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা এবং নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে ফের তার পুরনো গৌরবের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। রেড রোডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কেরা।

    রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূর করুন

    বদলের বাংলায় রেড রোডে ইতিহাস। স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডে বাজল বন্দে মাতরম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদানের পর পতাকা উত্তোলন করেন। কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৪ জন আইপিএসকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদক’ প্রদান করেন। তার আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভিডিওবার্তায় সকলকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আসুন রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে, হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার কাজ করি।’’ তাঁর বক্তব্যে বাংলার উন্নয়নের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ গৌরবের মাটি। এই মাটিতেই জন্মেছেন বীর বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু এবং মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদর্শকে সামনে রেখে নতুন বাংলা গড়ার সংকল্প নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

    উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা

    শুভেন্দুর কথায়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেই উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে সেই লক্ষ্যে সকলকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষাকে সুদৃঢ় করতে চাই। যে সংকল্প নিয়ে সরকারে এসেছি, তাকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’’ এই প্রথমবার রেড রোডে প্যারেডে কম্যান্ডার এবং সহকারী দু’জনে ছিলেন। কুচকাওয়াজের পর মোট ১২টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের ট্যাবলো দেখানো হয়। তারপর একে একে অন্নামৃত, কন্যারত্ন ও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, দুর্গাশক্তি বাহিনী, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়।

    পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় এবছরই পুলিশের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতাজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার পুলিশ। রেড রোডকে ১৩টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরের দায়িত্বে একজন করে ডিসি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা। ১৩টি জোনের আওতায় ৮০টি সেক্টর। এ ছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ২০ জন ডিসি, ৪০ জন অ‌্যাসিস্ট‌্যান্ট পুলিশ কমিশনার। সারা শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে ন’টি পিসিআর ভ্যান, তিনটি কুইক রেসপন্স টিম। নজরদারির জন্য শহরে ১৯টি পুলিশ পিকেট, মেট্রো স্টেশনে ২৫টি পিকেট, ২৪টি পিকেট শহরের বিভিন্ন বাজার ও শপিং মলে, কালীঘাট মন্দির ছাড়াও সাতটি ধর্মস্থানে। শহরের ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নাকা চেকিংয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যে কোনওরকম নাশকতা এড়াতে দর্শকদের সঙ্গে মিশে রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ।

    দূরদর্শনে শুভেন্দুর বক্তব্য

    দীর্ঘ ২০ বছর পর বাংলার কোনও মুখ্যমন্ত্রী আবারও বার্তা দিলেন দূরদর্শনে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। দূরদর্শনে তাঁর বক্তব্য সম্প্রচারিত হয় দিল্লিতে লালকেল্লার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার ঠিক পরেই। বক্তব্যের শুরুতেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে স্মরণ করলেন তিনি। তারপর নিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বন্দে মাতরম। প্রিয় পশ্চিমবঙ্গ বাসী, আজ স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির পবিত্র দিনে প্রতিটি নাগরিককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যাঁদের সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার মুক্ত আকাশ।’ এরপরই একে একে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিনয়-বাদল দীনেশের নাম।

    বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম চালিকাশক্তি

    আড়াই মিনিটের এই বার্তায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, বরং দেশকে আরও এগিয়ে যাওয়ার এক পবিত্র অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারকে সঙ্গে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পশ্চিমবঙ্গ হবে অন্যতম চালিকাশক্তি। সেই লক্ষ্যে যুব সমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা, মা-বোনেদের আরও স্বনির্ভর করে তোলা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি-শিল্প থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।’

    এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রী তেরঙার তাৎপর্যও এদিনের বার্তায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের গর্ব। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মর্যাদাও অক্ষুন্ন রাখার কথা বলেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৬ সালে স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দূরদর্শনে বার্তা দিয়েছিলেন। তারপর বাংলার আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে দুরদর্শনে বক্তব্য রাখেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় দুরদর্শনে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ বন্ধ ছিল ১৫ বছর। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার চালু হল সেই রীতি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এবারের স্বাধীনতা দিবসটা অন্যরকম। রয়েছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তারা উদযাপন করছে ১৫ অগাস্ট। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

     

     

  • Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে উপহাস করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যে ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা ‘অস‌ংযত ও অশালীন’ বলে অভিযোগ করল বিজেপি (BJP Attacks Rahul)। এমন ভাষার ব্যবহার তাঁর পদমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। এই প্রসঙ্গে রাহুলের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, ‘‘মনে হয় এবার অন্তত ওঁর সাবালকের মতো আচরণ করা উচিত।’’

    রাহুলকে পরিণত হতে বার্তা

    দিল্লিতে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নতুন মঞ্চ ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর প্রথম জাতীয় সম্মেলনে রাহুল দাবি করেছিলেন, মোদি সরকারের একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্তে দেশের আমজনতার আক্রোশ ক্রমশ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘‘আমজনতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না!’’ সেই সঙ্গে মোদি সরকারের বিদেশনীতিরও কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর মতে, আরএসএস এবং বিজেপির বর্তমান কর্তারা হলেন ‘একদল ভাঁড়’। প্রহ্লাদ শুক্রবার অভিযোগ করেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে আদতে ভারতের জনগণকে অপমান করেছেন রাহুল।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘রাহুল গান্ধী, আপনি কবে পরিণত হবেন? ভারত চালানোর জন্য পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন, অপেশাদার নাট্যাভিনয় নয়। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে ‘ভাঁড়’ বলা প্রমাণ করে যে আপনি সীমা লঙ্ঘন করছেন।’’

    ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো আচরণ রাহুলের

    রাহুল ছাড়াও কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ টেনে মোদির বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশনীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগত ইঙ্গিত ও রসিকতার আশ্রয় নিয়েছেন। বিজেপির দাবি, সরকারের বিদেশনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কূটনীতি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই সমালোচনা তথ্য, নীতি ও কূটনৈতিক ফলাফলের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা মঞ্চস্থ করা রাজনৈতিক রসিকতার মাধ্যমে নয়। বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তাঁর আচরণ তাঁকে ‘লোকসভার বিরোধী দলনেতার চেয়ে ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো’ বেশি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ‘লকার-রুম টক’ এবং ‘সস্তা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য’-এর আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের মানুষ এমন একজন বিরোধী দলনেতা প্রত্যাশা করেন যিনি সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা বজায় রাখবেন।

    ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ কেন

    বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালাও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক আর কতটা নীচে নামতে পারে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং তাঁকে কঠোরভাবে আক্রমণ করাও বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু একজন মহিলা বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে টেনে এনে ব্যক্তিগত রসিকতা করা কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা রসবোধের পরিচয় নয়। বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে বিরোধীরা যতটা আগ্রাসী সমালোচনা করতে চান, করতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ দিয়ে সেই রাজনৈতিক বক্তব্যের শক্তি বাড়ে না, বরং মূল ইস্যু থেকে আলোচনা সরে যায়।

    কার্যকর রাজনৈতিক বার্তার অভাব

    এখানেই ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’ নামের অনুষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘রচনাত্মক বিরোধিতা’র অর্থ হওয়া উচিত বেকারত্ব, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশনীতি এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে সরকারকে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর কাছে সেই রাজনৈতিক মঞ্চ এবং সাংবিধানিক সুযোগ দুটোই রয়েছে। তাই তাঁর সমালোচনা ব্যক্তিগত কটাক্ষের পরিবর্তে নীতি, তথ্য ও সরকারের বাস্তব ফলাফলের উপর কেন্দ্রীভূত হলে তা আরও কার্যকর রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Jharkhand Recruitment Scam: ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি! নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    Jharkhand Recruitment Scam: ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি! নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (Jharkhand Recruitment Scam) পরীক্ষায় দুর্নীতি ঘিরে উত্তাল গোটা দেশ। প্রশ্নপত্র লিক, উত্তরপত্রে জালিয়াতি এবং গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাতেই গলদ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন সেই রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা। এবার ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-এর নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সরব হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় শেঠ (Union Minister Sanjay Seth)। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে তদন্তের অনুমতি না দেওয়ার জন্য হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।

    আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকি কেন

    সঞ্জয় শেঠের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর প্রশাসন দমনমূলক পদক্ষেপ করছে। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঁচির জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকি দেন এবং রাত ১টার সময় আন্দোলনস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। শেঠের বক্তব্য, নিজেদের খরচে পড়ুয়ারা জেনারেটরের ব্যবস্থা করে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করার চেষ্টা করলে পুলিশ সেটিও সরিয়ে দেয়। ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, জেপিএসসি হোক বা জেএসএসসি—সমগ্র ঘটনায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই অর্থের ভাগ কারা পেয়েছেন এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান তিনি।

    সিবিআই তদন্ত কেন নয়

    রাজ্য সরকার কেন সিবিআই তদন্তে সম্মতি দিচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সঞ্জয় শেঠ। তাঁর অভিযোগ, শাসক জোটের প্রভাবশালী নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম তদন্তে উঠে আসতে পারে বলেই সিবিআই তদন্তে আপত্তি জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে সিবিআই তদন্তের দাবিতে জেপিএসসি (JPSC) ও জেএসএসসি (JSSC)-এর পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সিবিআই তদন্তের দাবিতে রাঁচিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।  ইতিমধ্যেই বিতর্কিত জেপিএসসি (ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে সরকার রাজি বলে  ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। পরীক্ষার আয়োজনকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এমনকি, আইআইটি ও আইআইএমের সাহায্যে পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।তবে, পরীক্ষার্থীদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) নিশানা করলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কংগ্রেস মিথ্যা রটাচ্ছে বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand Parliament) পড়ুয়াদের ওপর হিংসার ঘটনায় রাহুলের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সোমবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি করেছিলেন রাহুল। তার পরের দিনই কংগ্রেস এবং রাহুলকে নিশানা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের স্বার্থ নিয়ে কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা রটিয়ে চলেছে। রাহুল গান্ধীর কাছে তথ্য নেই। যে বিরোধী দলনেতা অভ্যাসগতভাবে মিথ্যা বলেন, তিনি সংসদে আসতে বা জবাব শুনতেও চান না। তাঁরা শুধু নিজেদের মিথ্যা রটাতে এবং কুমিরের কান্না কাঁদতে চান।’’

    ‘রাহুল গান্ধী নীরব কেন?’ (Rahul Gandhi)

    অমিত শাহের বিরুদ্ধে রাহুল ও কংগ্রেস ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলছে বলেও দাবি করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য, সংসদে যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত। কংগ্রেস সংসদের কাজ ব্যাহত করছে এবং দেশের ও যুবসমাজের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এর পরেই ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে রাহুলকে নিশানা করেন প্রধান। বলেন, ‘‘ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, তা গোটা দেশ দেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, যে রাহুল গান্ধী প্রতিটি বিষয় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন, তিনি আজ নীরব কেন?’’ কংগ্রেস গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাছাই করা নীতি অনুসরণ করে বলেও অভিযোগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, যেখানে কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে যুবকদের বিরুদ্ধে হিংসার আশ্রয় নেওয়া হয়। আবার রাজনৈতিক নজর কাড়ার প্রয়োজন হলে মিথ্যা এবং হইচইও করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘দেশের যুবসমাজ কংগ্রেসের এই দ্বিচারিতা সম্পূর্ণভাবে বুঝে গিয়েছে।’’

    রাহুলকে সংসদে আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান নাড্ডার

    সংসদে অচলাবস্থা নিয়ে রাহুলকে আক্রমণের একদিন পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য সামনে এল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও রাহুলের বিরুদ্ধে সংসদের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ১৫ দিন ধরে ব্যাহত করার এবং দেশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছিলেন (Rahul Gandhi)। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডার দাবি, রাহুল গান্ধীর দাবির পর সরকার সংসদে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু পরে রাহুল তাঁর দাবি বদলে ফেলেন। নাড্ডা বলেন, “যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করছিলেন রাহুল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দাবিতে রাজি হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা নিজের দাবিই বদলে ফেললেন এবং রাম মন্দিরের অনুদানে কথিত আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আলোচনার দাবি তুলতে শুরু করলেন।” সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য রাহুলকে আহ্বান জানান নাড্ডাও। তিনি বলেন, ‘‘তিনি (রাহুল) আলোচনা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন কেন? আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাহুল গান্ধী, আলোচনা থেকে পালাবেন না। আমরা প্রস্তুত। সংসদের ভিতরে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত। পালিয়ে যাবেন না।’’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলার অভিযোগও করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য (Jharkhand Parliament), গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বৈরতন্ত্রের কোনও ঠাঁই নেই। তিনি বলেন, ‘‘জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলা রাহুল এবং কংগ্রেস পার্টির এটা ভালো করে বুঝে নেওয়া উচিত (Rahul Gandhi)।’’

  • NDA: ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অযথা সংসদ অচল করছেন রাহুল, অভিযোগ এনডিএ সাংসদদের

    NDA: ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অযথা সংসদ অচল করছেন রাহুল, অভিযোগ এনডিএ সাংসদদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধীদের লাগাতার অচলাবস্থার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সংসদের দিকে মিছিল করলেন এনডিএ (NDA) সাংসদরা। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। সেখানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সংসদে বিতর্ক এড়িয়ে (Jharkhand) যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

    এনডিএর বিক্ষোভ (NDA)

    সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং ঝাড়খণ্ডে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই এই বিক্ষোভ হল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারবার সংসদের অধিবেশন ব্যাহত হয়েছে। বিরোধীরা পুলিশের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দাবি করছে। এদিকে, রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি করেছেন। সরকার অবশ্য এই বিষয়ে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।সোমবার ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যবহারের ঘটনায়ও রাহুলের কাছে জবাব চেয়েছেন এনডিএ সাংসদরা। বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত বলেন, “এখন ওরা আলোচনা করতে অস্বীকার করছে। এর আগে ওরাই আলোচনার দাবি জানিয়েছিল—যে পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে ওরা পিছিয়ে গেল। ওরা দেশকে বিভ্রান্ত করছে। সংসদ চলতে দিচ্ছে না।”

    কী বলছে বিজেপি

    বিজেপি নেতা তরুণ চুঘ রাহুলের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে বলেন, “এটি দ্বিচারিতার ঘটনা। ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় রাহুল গান্ধী সংসদ থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন এবং নীরব রয়েছেন। গোটা দেশ সব কিছু দেখছে (NDA)।” বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ বলেন, “পুরো বিরোধী দল কোনও ধরনের আলোচনাই চায় না। ছাত্রদের বিষয়টির ক্ষেত্রে তাদের নীতি এক এক জায়গায় এক এক রকম, এবং ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা।” বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল বলেন, “আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু রাহুল গান্ধী প্রস্তুত নন। তিনিই লোকসভাকে অচল করে রেখেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিতে প্রস্তুত।” বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, “অমিত শাহজি জবাব দেবেন, রাহুল গান্ধী পালাবেন না… রাহুল গান্ধী লজ্জা করুন, ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের উপর এতটা বর্বরতা হয়েছে…”  অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সবাই তাঁদের (বিরোধীদের) কাছে জবাব চাইছে। তাঁদের জবাব দিতেই হবে।”

    গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল

    এর আগে সোমবার রাহুল জানিয়েছিলেন, বিরোধীরা অমিত শাহের মতামত শুনতে আগ্রহী নয়। বরং পুলিশের দমন-পীড়নের নির্দেশ কে দিয়েছিলেন, তা জানতে চান বিরোধীরা। রাহুল বলেন, “অমিত শাহের সংসদে এসে আমাদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই। গত ১৫ দিনে তাঁরা সেটাই দেখিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ—কারও সাহস নেই… তাঁর মতামত নিয়ে কারও আগ্রহ নেই। আমরা শুধু জানতে চাই, গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল। তিনি যদি নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কে সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন? আমরা জানতে চাই, এর দায় কার, নাকি এটি অদক্ষতার ফল?” টানা কয়েক দিন ধরে সরকার ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে এই সংঘাতের জেরে (Jharkhand) সংসদের অধিবেশন ব্যাহত হওয়ার পর সরকার ফের জানিয়েছে, তারা সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। অন্যদিকে, বিরোধীরা পুলিশের পদক্ষেপের নির্দেশদাতা এবং তার দায়বদ্ধতা নিয়ে সরাসরি জবাব দাবি করছে (NDA)।

     

  • Chhattisgarh: শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ছত্তিশগড়ে খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি গ্রেফতার

    Chhattisgarh: শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ছত্তিশগড়ে খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভগবান শিব ও শিবলিঙ্গকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ছত্তিশগড় (Chhattisgarh) খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি অরুণ পান্নালালকে গ্রেফতার করল রায়পুর পুলিশ (Shivling Remarks)। ৭ অগস্ট রাতে বছর পঁচাত্তরের পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর মন্তব্যে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ পুলিশের। অভিযোগ, হংসরাজ গোয়েল নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে ভগবান শিবকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন পান্নালাল। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির মুখপাত্র অমিত চিনমানি সিভিল লাইনস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও মন্তব্যের পর্দার ছবি এবং তার ঠিকানাও পুলিশের কাছে জমা দেন তিনি। এর পর পান্নালাল এবং হংসরাজ গোয়েলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ উসকে দেওয়া, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কাজ করা এবং শান্তিভঙ্গের প্ররোচনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমানের মতো অভিযোগে মামলা হয়েছে।

    বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পান্নালাল (Chhattisgarh)

    সিভিল লাইনস থানার পরিদর্শক যমন দেওয়াঙ্গন জানান, শুক্রবার রাতে পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শনিবার, ৮ অগাস্ট তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। দেওয়াঙ্গন বলেন, “শুক্রবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।” পুলিশ কর্তা তারকেশ্বর পটেল জানান, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের কাজে সাইবার শাখা-সহ পুলিশের একাধিক দলকে কাজে লাগানো হয় (Chhattisgarh)। পটেল বলেন, “ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা একটি পোস্ট নিয়ে সিভিল লাইনস থানায় অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়। এরপর তদন্ত শুরু হয়। সাইবার শাখা এবং পুলিশের অন্যান্য দলের সহায়তায় তল্লাশি ও প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানো হয়। এই মামলায় অভিযুক্ত অরুণ পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Shivling Remarks)।”

    পুলিশি পদক্ষেপকে সমর্থন মুখ্যমন্ত্রীর

    পান্নালালের গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্মে শ্রদ্ধেয় ভগবান শিব এবং শিবলিঙ্গকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। সাই বলেন, “আমাদের সনাতন ধর্মে শ্রদ্ধেয় ভগবান শিব ও শিবলিঙ্গকে নিয়ে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Chhattisgarh)।” এদিকে মামলা দায়েরের পর রায়পুরে পান্নালালের বাড়ির বাইরে বজরং দলের একদল কর্মী বিক্ষোভ দেখান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

     

  • Congress: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস, জানালেন খাড়গে

    Congress: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস, জানালেন খাড়গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে কংগ্রেস (Congress)। সোমবার বিরোধী দলগুলির সংসদীয় দলনেতাদের বৈঠকে বিলটি নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানির (FCRA Bill) এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। পরে সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাড়গে জানান, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের চাঙা করতেই তাঁর উত্তরাখণ্ড সফর। রাজ্য সফরের সময় তিনি এদিন রুদ্রপুরে নবনিযুক্ত রাজ্য ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

    বিলের বিরোধিতা করব! (Congress)

    সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে লোকসভায় বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলটি পেশ হতে পারে বলে খবর। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খাড়গে বলেন, “আমরা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রান্ত এই উদ্যোগের বিরোধিতা করব। আগামীকাল সংসদীয় দলনেতাদের বৈঠকের পরে আমরা কৌশল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব।” উত্তরাখণ্ডে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে কংগ্রেস কর্মীরা কাজ করছেন বলেও দাবি করেন খাড়গে। দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তাঁর নিয়মিত রাজ্য সফরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সভাপতি। প্রতিদিন এখানে আসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু আমাদের বাহিনী এখানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি কি প্রতিদিন এখানে আসেন? অমিত শাহ কি এখানে আসেন? নাড্ডা, যিনি এই অঞ্চল থেকেই এসেছেন, তিনিও কি এখানে আসেন? নতুন বিজেপি সভাপতিও কি এখানে আসেন?”

    সরকার বিল চাপিয়ে দিতে পারে না

    তিনি এও বলেন, “দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রয়োজন হলে আমরা তখনই এবং সেখানেই যাই। তার অর্থ এই নয় যে পর্যটকের মতো এসে শুধু চলে যাই।” বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলের বিরোধিতা ইতিমধ্যেই একাধিক বিরোধী দল করেছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল শুক্রবার জানিয়েছিলেন, দল এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে। তাঁর কথায়, “সরকার এই ধরনের বিল জোর করে চাপিয়ে দিতে পারে না।” ২০১০ সালের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি আনা হচ্ছে। বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোই এই সংশোধনের ঘোষিত উদ্দেশ্য।

    বিল নিয়ে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    এদিকে, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক সুপারিশ এবং আঞ্চলিক উদ্বেগ তুলে ধরেন। পরে লালদুহোমা জানান, শাহের কাছে তিনি ছ’টি বিষয় উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তা হল এই আইন অতীত থেকে কার্যকর হবে না। আমাদের সেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাকি বিষয়গুলিতে তিনি অনুচ্ছেদ ধরে মন্তব্য করবেন এবং চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে সংসদে আলোচনা শুরু করবেন (Congress)।” বিলের কয়েকটি বিধানের বিরোধিতা করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সংসদে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ।

    বিল প্রত্যাহারের দাবি

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের সভাপতি এমকে স্টালিনও শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০১০ সালের ওই আইনের ১৫ নম্বর ধারা বাতিলের দাবিও জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় স্টালিন জানান, সংখ্যালঘুদের যৌথ কর্মসূচি মঞ্চের একটি প্রতিনিধিদল ৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসন। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারাও ওই দলে ছিলেন। শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টিও এই বিলের বিরোধিতা করেছে।

    আত্মবিশ্বাসী খাড়গে

    এদিকে, শনিবার হালদোয়ানির জনসভায় খাড়গে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেস সরকার গঠন করবে (FCRA Bill)। দিল্লিতে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের দমন-পীড়ন নিয়েও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডে মন্দিরের অনুদান, বেকারত্ব, নিয়োগ পরীক্ষা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিষয় নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন খাড়গে (Congress)।

     

  • FIR: রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে সংসদে অভিনয়, পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলা

    FIR: রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে সংসদে অভিনয়, পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারাণসীর কোতয়ালি থানায় পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। কাশীর পাতালপুরী মঠের জগৎগুরু বালক দাস দেবাচার্য-সহ কয়েকজন সাধুর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা হয়েছে (Pappu Yadav)। অভিযোগ, গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সংসদ চত্বরে বিরোধী সাংসদদের অংশগ্রহণে রাম মন্দিরের অনুদান নিয়ে একটি হিন্দুবিদ্বেষী ব্যঙ্গাত্মক অভিনয় করা হয়।

    প্রণামী চুরির অভিনয় (FIR)

    ঘটনাটি ৩১ জুলাই ২০২৬, চলতি বাদল অধিবেশনের সময়ের। অভিযোগ, অযোধ্যার রাম মন্দিরে সংগৃহীত অনুদানে কথিত অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের প্রতিবাদে ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা সংসদের মকর দ্বারের কাছে বিক্ষোভ দেখান। সেই বিক্ষোভের অংশ হিসেবেই পাপ্পুকে গেরুয়া পোশাকে, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা এবং পুরোহিতের সাজে দেখা যায়। তাঁর পাশে রাখা ছিল অনুদানের বাক্স, হাতে ছিল ভগবান রামের ছবি। অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ বিরোধী নেতারা অভিনয়ের অংশ হিসেবে ওই অনুদানের বাক্সে টাকা দেন। এরপর পাপ্পু যাদব সেই টাকা নিজের পকেটে ঢোকান এবং অনুদানের বাক্স নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এর মাধ্যমে অযোধ্যার রাম মন্দিরে কথিত “প্রণামী চুরি”-র অভিযোগকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়।

    ভগবান রামের অপমান

    অযোধ্যা-সহ ফৈজাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদও ওই অভিনয়ে অংশ নেন। তিনি পাপ্পুর কলার ধরে তাঁকে “চোর পুরোহিত” বলে অভিহিত করে শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভে “চাঁদা চোর, গদি ছোড়” এবং “অমিত শাহ ইস্তফা দাও”-এর মতো স্লোগানও দেওয়া হয়। মন্দিরের অনুদান নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়টিও বিক্ষোভে তুলে ধরা হয়। এই অভিনয়কে ঘিরে বারাণসীর সাধু-সন্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গেরুয়া পোশাক ব্যবহার করে মন্দিরের পুরোহিতকে চোর হিসেবে দেখানোর ঘটনাকে তাঁরা সনাতন ধর্ম, সাধু সমাজ এবং ভগবান রামের অপমান বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন (FIR) তাঁরা। কাশী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার গৌরব বনসল জানিয়েছেন, কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সাধু-সন্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাপ্পুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংসদ চত্বরে হওয়া ওই বিক্ষোভের যে ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলিও তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অভিযোগ দায়ের দিল্লিতেও

    এদিকে, দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরী থানায়ও  পাপ্পু, রাহুল, ডিম্পল যাদব, অবধেশ প্রসাদ-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন সমাজকর্মী সূর্য মৈথিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুতো পরে প্রতীকী অনুদানের বাক্সে টাকা রাখা এবং পরে সেই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিনয় ধর্মীয় প্রতীকগুলির প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। বিশেষ করে রামলালার ছবিকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের আগে আইনি মতামত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে। এদিকে, বিরোধীদের বক্তব্য, তাঁদের বিক্ষোভের উদ্দেশ্য কোনও ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করা নয়। রাম মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনায় কথিত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। পাপ্পুও পরে দাবি করেন, তাঁর অভিনয়ের লক্ষ্য ছিল ধর্মের নামে হওয়া চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। এই জাতীয় বিক্ষোভের তীব্র নিন্দা করেছেন (Pappu Yadav) বিজেপি নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, এই অভিনয়ের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে (FIR) সনাতন ধর্ম ও গেরুয়া রঙকে।

     

LinkedIn
Share