Tag: bjp

bjp

  • Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    Abhishek Banerjee: ভোটের সময় ‘গুজরাটি গ্যাং’, রাষ্ট্র-বিরোধী মন্তব্যের জের, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বুয়া’র পর এবার ‘ভাতিজা’কেও কাঠগড়ায় তোলার প্রস্তুতি শুরু! তৃণমূল সুপ্রিমো (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আগেই দায়ের হয়েছিল এফআইআর, এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই ভাইপো তথা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধেও। তাঁর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হল একদা তৃণমূলের খাসতালুক ভবানীপুরে। ভবানীপুর থানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সম্পাদক অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন অর্ণবকান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। বুধবারই মমতার নামে শিলিগুড়িতে এফআইআর দায়ের করেছিলেন এই আইনজীবী। এফআইআর দায়ের হয়েছিল অভিষেকের বিরুদ্ধেও। তবে উসকানিমূলক মন্তব্য করায় এবার মামলা দায়ের হল তাঁরই পাড়ায়, ভবানীপুর থানায়।

    ‘গুজরাটি গ্যাং’ মন্তব্য (Abhishek Banerjee)

    অর্ণবও ভবানীপুরেরই বাসিন্দা। তিনি জানান, ২ মে এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক লিখেছিলেন, “১০ বার জন্মালেও আপনাদের ‘বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং’ আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলের ছিটেফোঁটাও ক্ষতি করতে পারবে না।” অভিষেকের এই মন্তব্যের জেরেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে ভবানীপুর থানায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে নানা সময় বুয়া-ভাতিজা উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। এর আগে উসকানিমূলক মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট ৬টি ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন সমাজসেবী রাজীব সরকার।

    অভিযোগকারীর বক্তব্য

    অর্ণবের দাবি, অভিষেক ওই পোস্টে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকর (Abhishek Banerjee)। এফআইআরে বলা হয়েছে, একজন সাংসদ হিসেবে সংবিধানের সার্বভৌমত্ব ও দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নেওয়ার পরেও, অভিষেক সমগ্র গুজরাটি সম্প্রদায়কে একটি ‘গ্যাং’ বা অপরাধী চক্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কেবল একটি সম্প্রদায়কে অপমান করে না, বরং দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপরেও আঘাত হানে। গুজরাটি সমাজ দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিল্পোন্নয়ন এবং সমাজসেবামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সেই সম্প্রদায়কে কটাক্ষ করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ (TMC)।

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য নয়

    অভিযোগপত্রে এও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক মতভেদ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের অংশ হলেও, কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বা কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাকে অপমান করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিকটবর্তী একটি সংবেদনশীল লোকসভা কেন্দ্রের (ডায়মন্ড হারবার) সাংসদের এমন মন্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

    রাষ্ট্রকেও চ্যালেঞ্জ অভিষেকের!

    অর্ণবের আশঙ্কা, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল যদি উল্টোটা হত এবং তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরত তাহলে এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যে বসবাসকারী গুজরাটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে পারত (Abhishek Banerjee)। তাই এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, ওই পোস্টে অভিষেক কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তথাকথিত (TMC) ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ রোখার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাই পুলিশের কাছে তৃণমূল সম্পাদকের ওই পোস্টের যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অর্ণব (Abhishek Banerjee)।

     

  • Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গেলে মিলবে ফর্ম। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে এই ফর্ম। যাঁরা তা (Documents List) করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্য করতে সরকারি আধিকারিকরা যাবেন বাড়িতেও। স্থানীয় বিধায়করাও সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার যোজনায় লক্ষ লক্ষ ‘বেনো জল’ ঢুকে রয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজকোষের অপচয় রোধ করতেই অন্নপূর্ণা প্রকল্পে নথি ও তথ্য ভালো করে যাচাই করা হবে।

    ফর্মে জানাতে হবে যেসব তথ্য (Annapurna Yojana)

    ফর্মটি ১১ পাতার। তাতে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের বাকি সব সদস্যের খুঁটিনাটি সব তথ্যই জানতে চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক অনুদান। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে মহিলারা ফি মাসে তিন হাজার করে টাকা পাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই কারণেই ফর্মটি দীর্ঘ হয়েছে। আবেদানকারীদের ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্যও এই ফর্মের নথি এবং তথ্য বিবেচনা করা হবে।

    ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর

    অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে প্রথমেই চাওয়া হয়েছে আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর। ফর্মে উল্লেখ করতে হবে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও এই সব তথ্য এবং গৃহকর্তা বা কর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করাও থাকতে হবে। আবেদনকারী ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে সরকার। যদি থাকে, সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সে সংক্রান্ত তথ্যও বিশদে উল্লেখ করতে হবে ফর্মে।

    শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও দিতে হবে

    আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ানও দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, জানাতে হবে তা-ও। পরিবারের প্রত্যেকের পেশা লিখতে হবে ফর্মে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে (Annapurna Yojana)। পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার কথাও উল্লেখ করতে হবে এই ফর্মে। সে সংক্রান্ত নথিও জমা দিতে হবে। পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণও জানাতে হবে। কেউ সিএএতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআরে নাম বাদ পড়েছে কি না, পড়লেও ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এসবও জানাতে হবে সরকারকে। পরিবারের শিশুদের স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের খুঁটিনাটি (Documents List) তথ্যও উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণ শুরু হবে ১ জুন থেকে, চলবে তিন মাস ধরে। তাই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই (Annapurna Yojana)।

    কেন এত কড়াকড়ি, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই না হওয়াতেই নানা ধরনের অসংগতি সামনে আসছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বহরমপুরের শিয়ালমারা রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, একজন পুরুষ হয়েও নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন রাকিবুল, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি নাম মৃত ব্যক্তি, অ-ভারতীয় নাগরিক অথবা সম্পূর্ণ ভুয়ো উপভোক্তার।

    সরকারি অর্থরে অপচয় রোখা লক্ষ্য

    সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সরকার এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে চলেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই যাচাইয়ের ফলে বর্তমান তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ পড়ে যাবে। একইসঙ্গে, স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগ্য পরিবারের মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ফের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু মহিলাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা নয়, বরং রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

  • Annapurna Bhandar Yojana: “‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না”, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Annapurna Bhandar Yojana: “‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না”, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Bhandar Yojana) নিয়ে অবসান যাবতীয় জল্পনার। ১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফর্মপূরণের (Form) কাজ। চলবে তিন মাস। এই প্রকল্পে আর্থিক অনুদান পেতে হলে ফর্ম পূরণ করতে হবে উপভোক্তাদের। বুধবার নবান্ন থেকে ফর্ম প্রকাশ করে রাজ্যে এই প্রকল্প সূচনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই আবেদন করা যাবে। তৃণমূলের আমলে যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাঁদের সকলকেই এই ফর্মপূরণ করতে হবে। যতদিন না অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত উপভোক্তারা লক্ষ্মীর ভান্ডারের আর্থিক সুবিধা পাবেন। কেউ যে বঞ্চিত হবেন না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী।

    ফর্মের খুঁটিনাটি (Annapurna Bhandar Yojana)

    জানা গিয়েছে, বিডিও অফিস এবং পুরসভায় ফর্ম মিলবে। আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই সব তথ্য যাচাই করা হবে। মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবের নেতৃত্বে আধিকারিকরা এর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। যাঁরা আধারের কাজ করেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজে যাঁরা যুক্ত, তাঁরা এই কাজ করবেন। যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। সাহায্য করবেন বিধায়করাও। এই প্রকল্পে সুবিধা পাবেন কেবলমাত্র উপযুক্ত প্রাপকরাই। যে ফর্ম দেওয়া হচ্ছে, সেখানে উপভোক্তার পরিবার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হবে। ওই পরিবারকে আরও একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা দিতেই এই তথ্য চাওয়া হবে (Annapurna Bhandar Yojana)। ১৫, ১৬, ১৭ জুন ‘জনকল্যাণ শিবির’ হবে। সেখানেও ফর্ম পূরণে সাহায্য করা হবে। বর্তমানে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ পান ২ কোটি ২০ লাখ মহিলা। এসআইআরের পরে মৃত, ভুয়ো, স্থানান্তরিত এমন কমবেশি ৩০ লাখ উপভোক্তার নাম বাদ যাবে। আবার, নতুন আবেদনও জমা পড়বে।

    উপযুক্তদেরই টাকা দেওয়া হবে

    ধীরে ধীরে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে’র উপভোক্তাদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় নথিভুক্ত করা হবে। তাই কাউকে তাড়াহুড়ো করে আবেদন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যতদিন না কোনও উপভোক্তা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, ততদিন তিনি লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন (Form)।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম তালিকা ভেরিফায়েড। কিন্তু অনেক অভিযোগ এসেছে। ভুয়ো প্রাপক, অ-ভারতীয়দের বাদ দেওয়া হবেই। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপযুক্তদের টাকা দেওয়া হবে। এই স্কিম তাঁদেরই (Annapurna Bhandar Yojana)।”

    অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন যাঁরা

    তিনি বলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে এই ফর্ম পূরণ করতে হবে। অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলারা পাবেন ৩ হাজার করে টাকা। আয়কর দিলে প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। সিএএ (CAA)-তে আবেদনকারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সরকারি, আধা সরকারি চাকরি করলেও এই সুবিধা পাবেন না। ভারতীয় ছাড়া কাউকে অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতা নয়।” তিনি বলেন, “এসআইআরে ট্রাইব্যুনালে আবেদনকারীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। আধারযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে টাকা ঢুকবে। অন্নপূর্ণা যোজনায় পরিচ্ছন্ন তালিকা হবে। ফর্ম পূরণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের ডিটেলসও নেওয়া হবে, যাতে কোনও অভিযোগ না ওঠে। যাঁরা প্রকৃতই পাওয়ার যোগ্য তাঁরা যেন পান, সেটা দেখতে হবে (Annapurna Bhandar Yojana)।”

     

  • TMC Inner Clash: তৃণমূলের পদ ছাড়লেন কাকলি, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা পুরসভার আরও দুই কাউন্সিলরও

    TMC Inner Clash: তৃণমূলের পদ ছাড়লেন কাকলি, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা পুরসভার আরও দুই কাউন্সিলরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতা খোয়াতেই টলোমলো হয়ে গিয়েছিল তৃণমূল নেত্রীর আসন (TMC Inner Clash)। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে রোজকার যে ভিড়টা দেখা যেত, সেই চেনা ছবিটাও তো দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আর দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যে বিপুল জনাদেশ নিয়ে (Calcutta Municipal Corporation) বিজেপি নবান্নের কুর্সিতে বসতেই তৃণমূল নেত্রীর পাশ থেকে সরে গিয়েছে স্তাবকের দল। আক্ষরিক অর্থেই একা মমতা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছেন ‘নকল বুঁদি গড়’ রক্ষা করতে। তবে তিনি সেই ‘গড়’ কতদিন আগলে রাখতে পারবেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কারণ, ছাব্বিশের নির্বাচনে দল খাদে পড়ে যেতেই তৃণমূল নেত্রীর পাশ থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন এক এক করে বহু প্রবীণ নেতাও।

    পদ ছাড়লেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি (TMC Inner Clash)

    এই যেমন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূলের টিকিটে জিতে সংসদে গিয়েছেন কাকলি। ইদানিং তিনিই শুরু করেছেন বেসুরো গাইতে। দিন তিনেক আগে কাকলি ছেড়েছিলেন জেলা সভাপতির পদ। এবার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলীয় নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন কাকলি। কারণ, কাকলির ‘বিলম্বিত বোধদয়’! শুধু তা-ই নয়, তৃণমূল জমানায় রাজ্যে হওয়া একের পর এক কেলেঙ্কারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নাম না করে কাকলি আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলেরই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাকলিকে তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কল্যাণকে। তার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাকলি লেখেন, “’৭৬ থেকে পরিচয়, ‘৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”

    কাকলির বিলম্বিত বোধদয়!

    তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে কাকলি লিখেছেন, ‘দুর্নীতি থেকে আরজিকরকাণ্ড তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।’ বুধবার তিনি লেখেন, “আমার বিবেক আজ গভীরভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।’ কাকলি জানান (TMC Inner Clash), ২০২৪ সালে আরজিকর মেডিকেল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ’ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। তার অভিঘাত তিনি অনুভব করেছেন। তৃণমূলের সাংসদ লিখেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন আর সে পদে থাকার মানে হয় না।”

    কাকলির নিশানায় আইপ্যাক

    ওই চিঠিতেই কাকলি চাঁদমারি করেছেন আইপ্যাককে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এই সংস্থাই ছিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা। তিনি জানান, আইপ্যাক নিয়ে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। সেগুলিও তাঁকে বিচলিত করেছে (Calcutta Municipal Corporation)। কাকলি লিখেছেন, “যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলেই আমি মনে করি।” তৃণমূলের এই প্রবীণ নেত্রী জানান, তিনি তৃণমূলের সাধারণ কর্মী। কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেননি। দল, গণতন্ত্র এবং মানুষের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিলেন তিনি।

    পদ ছাড়লেন সুশান্ত-অরূপ

    এদিকে, মঙ্গলবারই কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করতে। তৃণমূল সুপ্রিম সেই নির্দেশের পর ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি, গুরুত্বপূর্ণ পদে ইস্তফা দিলেন কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর – সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। বুধবার ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দেন সুশান্ত। আর মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির পদে ইস্তফা দেন অরূপ চক্রবর্তী (TMC Inner Clash)। সুশান্ত এবং অরূপ যথাক্রমে ১০৮ এবং ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

    বিজেপিকে ধন্যবাদ সুশান্তর

    সুশান্ত বলেন, “মানুষ যাঁদের ক্ষমতায় এনেছেন, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। দলের যেসব মন্ত্রী জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, গত কয়েকদিনে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এঁদের জন্যই মমতার ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। বিজেপিকে ধন্যবাদ। ওদের জন্য আমাদের দলের অনেককে ঘরে ফেরাতে পেরেছি। বাকিদের ফিরিয়ে আনলে আমাদের দায়িত্ব শেষ।” তিনি বলেন, “২০২০ সালে আমার ওপর আক্রমণ হয়। ২০২৪ সালেও ফের আক্রমণ হয়। অবাক করা ব্যাপার হল, আমার সরকার ঠিক করে তদন্তটাও করেনি। অদ্ভুতভাবে মূল দুষ্কৃতীর জামিন হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবীর ব্যবস্থা করে বাকি অভিযুক্তদের আটকে রেখেছি। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, এই তদন্তটা দেখতে (Calcutta Municipal Corporation)।”

    কেষ্টু-বিষ্টুরা কোথায়?, প্রশ্ন অরূপের

    অরূপ বলেন, “মমতাদি-অভিষেক ছাড়া বাকি নেতৃত্ব কই? বাকি কেষ্টু-বিষ্টুরা কোথায়? যাঁদের কনভয়ের আগে চার-পাঁচটা করে গাড়ি থাকত? জনাদেশ আমাদের বিপক্ষে গিয়েছে। এটা আমাদের মানতে হবে। হার স্বীকার করতে হবে। ছাব্বিশের হার না মানা মানে বাকি সব জয় মিথ্যে হয়ে যায়। গণতন্ত্রে মানুষের রায়কে মান্যতা দিতেই হবে।” তিনি বলেন, “কেউ ক্ষমতায় সারাজীবন থাকে না। সিপিএম ভেবেছিল থাকবে, নেই। এখন আমরা নেই। মমতার বাড়িতে রবীন্দ্র-জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যেসব সেলিব্রিটি ছিলেন, তাঁরা কোথায় (TMC Inner Clash)?” এদিন দুপুরে পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন সুশান্ত-অরূপ। পরে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘরে গিয়েও।

    জনাদেশ মাথা পেতে নিয়ে ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। তিনি পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন (Calcutta Municipal Corporation)। ঘাসফুল শিবির সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলের ভরাডুবির জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেবলীনা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলনেত্রী স্বয়ং গোহারা হারতেই আর ‘রিস্ক’ নেননি তিনি (TMC Inner Clash)।

     

  • Mamata Banerjee: হিন্দু ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য! এবার খোদ মমতার বিরুদ্ধেই দায়ের হল মামলা

    Mamata Banerjee: হিন্দু ধর্ম নিয়ে বিরূপ মন্তব্য! এবার খোদ মমতার বিরুদ্ধেই দায়ের হল মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নের গদি খোয়াতেই তৃণমূলের একের পর এক নেতার দিকে ধেয়ে আসছে বহুবিধ বাণ। দলের ছোট-বড় নেতার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ। এবার টান পড়ল দলের মাথায়! আজ্ঞে হ্যাঁ। এফআইআর দায়ের হল (Controversial Remarks) তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে। টানা ১৫ বছর নবান্নের ঠান্ডা ঘরে ছিলেন মমতা। অভিযোগ, এই পর্বে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক মঞ্চ হাজির হয়ে তিনি করেছেন একাধিক ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য। তার জেরেই দায়ের হল মামলা। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন পড়েছে, ঠিক তখনই বোমা ফাটালেন তৃণমূলেরই এক শীর্ষ নেতা। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের জেরে প্রকাশ্যে চলে এসেছে তৃণমূলের অন্দরে লুকোনো পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুন।

    বিতর্কিত মন্তব্য মমতার (Mamata Banerjee)

    জানা গিয়েছে, রেড রোড এবং কলকাতার ধর্না মঞ্চে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেই অভিযোগ তুলেই শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পদ্ম-কর্মী তথা পেশায় আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি দুটি ঘটনা নিয়ে এফআইআর করেছি। একটি হল রেড রোড থেকে উনি বলেছেন, আমি এই গন্দা ধর্ম মানি না। কোন গন্দা ধর্ম উনি মানেন না? যে ধর্মকে গোটা বিশ্ব আইডিয়োলজি হিসাবে দেখে? যে ধর্মকে নিয়ে হাজারো মুনি-ঋষি চর্চা করেছেন যুগ-যুগান্তর ধরে? উনি সেই ধর্ম মানেন না?” রিঙ্কি বলেন, “আমার দ্বিতীয় অভিযোগ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে উনি বলেছিলেন আমি আছি বলেই একটা বিশেষ সম্প্রদায় তোমাদের ১২টা বাজিয়ে দিচ্ছে না। কোন কমিউনিটি ঘিরে ধরছে না? কাদের ঘিরে ধরছে না? উনি তো মুসলমান-হিন্দু উভয় সম্প্রদায়েরই মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন? তাহলে একটা সম্প্রদায়কে খুশি করতে গিয়ে কেন আর একটি সম্প্রদায়কে হুমকি দিয়েছিলেন? একজন হিন্দু ভোটার হয়ে আমি ভয় পেয়েছি। আমি ওঁর এই মন্তব্য সমর্থন করি না। তাই অভিযোগ দায়ের করেছি।”

    আইনজীবী-অভিযোগকারিণীর বক্তব্য

    আইনজীবী-অভিযোগকারিণী বলেন, “২০২৫ সালে ঈদের ওই ঘটনার পর আমি শিলিগুড়ির প্রধাননগর থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকরা আমার অভিযোগ নিতে (Mamata Banerjee) অস্বীকার করেন। তাঁরা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কটু কথা বলে থানা থেকে (Controversial Remarks) বের করে দেওয়া হয় আমায়।” রাজ্যে পালাবদলের পর শেষমেশ শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পেরেছেন তিনি। রিঙ্কি জানান, আইনত যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তার অপেক্ষায়ই রয়েছেন তিনি।

    কোন কোন ধারায় মামলা

    জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এই ধারাগুলি হল, ৩৫১ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন), ৩৫২ (শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে অপমান বা প্ররোচিত করা), ৩৫৩ (জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা, ঘৃণা বা গুজব ছড়ানো), ৩৫৪ (কোনও ব্যক্তিকে ঈশ্বর বা ঐশ্বরিক শক্তির শাস্তির ভয় দেখিয়ে বা অপছন্দের পাত্র বানানোর হুমকি দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও কাজ করতে বাধ্য করা), ৩৫৬ (ফৌজদারি মানহানি), এবং ২৯৯ (যদি কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত বা বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে এমন কোনও কাজ, কথা, লেখা, চিহ্ন বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমের ব্যবহার করে—যার লক্ষ্য কোনও একটি (Mamata Banerjee) বিশেষ গোষ্ঠীর ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করা এবং তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া)।

    তৃণমূলে শুরু কাদা ছোড়াছুড়ি

    এদিকে, হাতি (পড়ুন, তৃণমূল) গাড্ডায় পড়তেই, শুরু (Controversial Remarks) হয়ে গিয়েছে লাথালাথি। বিধানসভা নির্বাচনে ‘বুয়া’র সাধের দল মুখ থুবড়ে পড়তেই শুরু হয়ে গিয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা পেশায় আইনজীবী অত্রি শর্মা দলের মুখপাত্র। তিনি সরাসরি মমতার বিরোধিতা না করলেও, পরোক্ষভাবে তাঁর ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। অত্রি বলেন, “ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য করা একেবারেই উচিত হয়নি। আমরা যাঁরা সেই সময় থেকে আজও দলে নিষ্ঠার সঙ্গে রয়েছি, তাঁরাও কিন্তু মন থেকে এই বিষয়টি সমর্থন করতে পারিনি। তবে ভারতীয় সংবিধানে সবারই আইনি পথে অভিযোগ জানানোর পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে জেলাস্তরের এক শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্য থেকে এটা (Mamata Banerjee) স্পষ্ট যে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ধিকি ধিকি করে জ্বলছিল অসন্তোষের আগুন। তৃণমূলের পদস্খলন হওয়ার পর সেই ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিই উগরোতে শুরু করেছে আগুনে লাভা।

    ‘ভাতিজা’র আইনি ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা

    ‘বুয়া’র পাশাপাশি তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড তথা ‘ভাতিজা’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি ভবিষ্যৎ নিয়েও শুরু হয়ে গিয়েছে জল্পনা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় উসকানিমূলক এবং উগ্রপন্থীদের মতো মন্তব্য করার অভিযোগে বিধাননগর সাইবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধেও দায়ের হয়েছিল এফআইআর। সেই মন্তব্যের জন্য আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে ‘ভাইপো’কে। একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতা হয়ে তিনি কীভাবে প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন হুমকি দিতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। সব (Controversial Remarks) মিলিয়ে নির্বাচনে হারের ঘা পুরোপুরি শুকোবার আগেই, তৃণমূলের (Mamata Banerjee) যে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গিয়েছে, তা বলাই বহুল্য।

     

  • Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের হাল ধরেছেন পদ্ম-নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি বসেছেন সপ্তাহ দুয়েক হল। এর মধ্যেই নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ (রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁকে এই সম্বোধনই করেন) শুভেন্দু নবান্নে ফিরিয়ে এনেছেন বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি (Bengal Bureaucratic Culture)। শুভেন্দু যে চেয়ারে বসেছেন, টানা ১৫ বছর ধরে তাতে বসেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন সতীর্থ তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মা-মাটি-মানুষের দলের নেত্রী মমতা নবান্নেও ‘কলতলার কালচার’ শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ। সরকারি বিভিন্ন বৈঠকে তিনি আমলাদেরও ‘আপনি’র পরিবর্তে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সম্বোধন শুনতে অভ্যস্ত না হলেও, শুনতে শুনতে সয়ে নিয়েছিলেন আইএএস-আইপিএস পরীক্ষা দিয়ে পাশ করা আধিকারিকরা। রাজ্যে বিজেপি জমানা শুরু হতেই বাংলার হারানো সংস্কৃতি ফেরালেন শুভেন্দু।

    নৈশভোজের আসরেও বদলের বার্তা (Suvendu Adhikari)

    ফেরা যাক খবরে। সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক নৈশভোজের। আলিপুরের ‘সৌজন্য অডিটোরিয়ামে’ হওয়া এই ভোজসভাকে অনেকেই সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না। প্রশাসনিক মহলের পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতমুখী প্রশাসনিক পরিবেশের পর নয়া বিজেপি সরকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আমলাতন্ত্রের সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাইছে। কয়েকজন আধিকারিকের মতে, এহেন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল আমলাদের এই বলে আশ্বস্ত করা যে, শুভেন্দুর প্রশাসন আরও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং কম প্রকাশ্য সংঘাতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে (Suvendu Adhikari)।

    ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’-র ফারাক

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক শৈলীর সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলির অন্যতম হল সরকারি আধিকারিকদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে তাঁর ভাষা ব্যবহার। নবান্ন সূত্রে খবর, নয়া মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের পরামর্শ দিয়েছেন এই বলে যে, সরকারি বৈঠকে যাতে আমলাদের ক্যাজুয়ালি সম্বোধন না করা হয়, বজায় রাখা হয় প্রশাসনিক মর্যাদা এবং প্রোটোকল (Bengal Bureaucratic Culture)। নয়া রাজ্য সরকারের এই ‘সাংস্কৃতিক’ পরিবর্তনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আমলাদের। কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রশাসনিক বৈঠকে প্রায়ই আধিকারিকদের ‘তুমি’ বলেই সম্বোধন করতেন (Suvendu Adhikari)। পদ্ম-জমানায় ইতি পড়েছে এই সংস্কৃতিতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সিনিয়র আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘আপনি’ ব্যবহার করছেন। ইংরেজিতে অবশ্য ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’ সম্বোধন করতে ‘ইউ’ ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এদের ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

    আধিকারিকদের বিব্রত করত আগের সরকার

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কম ভীতিপ্রদ এবং আরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ (Bengal Bureaucratic Culture)। মমতার রাজত্বে আধিকারিকদের ট্যাঁ-ফোঁ করার অধিকার ছিল না বলেই অভিযোগ। তিনি নিজেকে  ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন, যিনি দুর্নীতি, প্রশাসনিক গাফিলতি ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি আধিকারিকদের প্রশ্ন করতেন (Suvendu Adhikari)। তাঁর অনেক প্রশাসনিক বৈঠক টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হত। সেখানে প্রায়ই জেলাশাসক, পুলিশ আধিকারিক এবং আমলাদের প্রকাশ্যে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে দেখা যেত।

    আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা

    সব চেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির একটি ঘটেছিল ২০২২ সালে, পুরুলিয়ার এক প্রশাসনিক বৈঠকে। সেখানে মমতা প্রকাশ্যে জেলাশাসক রাহুল মজুমদারকে ইটভাটা রাজস্ব সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আপনি জেলাটা কীভাবে চালাচ্ছেন?” বিষয়টি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এই ধরনের ঘটনা তাঁর সরকারের সময় একাধিকবার ঘটেছে। ২০১৭ সালে উত্তর ২৪ পরগনার একটি প্রশাসনিক বৈঠকে টিটাগড় থানার তৎকালীন আইসিকে একটি জাহাজ নির্মাণ ইউনিটের দখলদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছিলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দুর আশ্বাস

    মমতার স্তাবকদের মতে, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল জবাবদিহি নিশ্চিত করার শক্ত অবস্থান (Suvendu Adhikari)। তবে সমালোচকদের দাবি, প্রকাশ্যে বারবার ভর্ৎসনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আধিকারিকদের দাবি, শুভেন্দু আমলাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে তাঁরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন (Bengal Bureaucratic Culture)। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দফতরগুলির মধ্যে মসৃণ সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণের কথা ঘোষণা করার পরে।

    তাই এই নৈশভোজকে এখন অনেকেই একটি প্রতীকী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ধরনের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা করার বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। তাদের দাবি, এই সংস্কৃতি প্রকাশ্য সংঘাতের পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেবে (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে অল আউট খেলছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। দিন দুয়েক আগেই রাজ্যের সব জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi Immigrants) পাকড়াও করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার দাওয়াই দিয়েছিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দুই জেলা মালদা এবং মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় ১৪ অনুপ্রবেশকারীকে। তাঁদের ঠাঁই হয়েছে নবগঠিত হোল্ডিং সেন্টারে। এহেন আবহে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুভেন্দু বলেন, “এঁদের চলে যাওয়া উচিত। ওই দেশের মুখপাত্র বলেছিলেন যে বাংলাদেশিদের ফেরত নেবেন। জলদি জলদি ভাগো। জলদি জলদি ভাগো। নাহলে এই সরকার যা করার করবে।”

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Suvendu Adhikari) 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলে দিয়েছি, বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরে কোর্টে পাঠানোর কোনও দরকার নেই। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে হ্যান্ডওভার করবে। ভারত সরকার, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিএসএফের যে এগ্রিমেন্ট আছে, সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশি প্রমাণ করে হস্তান্তর করে দেবে। আমাদের জেলে তিন মাস, ছ’মাস, কিংবা দু’বছর রেখে, আপনার চাল, আপনার ডাল, আপনার তেল, আপনার মাছ, আপনার ডিম, আপনার কাপড়, আপনার ওষুধ ওদের দেব কেন? ভারতীয়দেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের রাজ্যেরই ক্ষতি হচ্ছে। সেইজন্যই আইনটা এতদিন ছিল। ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কেউ বা কারা ব্যবহার করেননি। আমরা ভোটব্যাঙ্কের বাইরে গিয়ে, দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করছি (Suvendu Adhikari)।”

    হাকিমপুর চেকপোস্টে অনুপ্রবেশকারীরা

    প্রসঙ্গত, রবিবারই হোল্ডিং সেন্টার চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার জেরেই ব্যাপক ভিড় উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে। সেখানেই বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছেন বাম-তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীরা। এঁদের অনেকেই কাজ করছিলেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায়। অনেকেই পাঁচ-সাত বছর ধরে ছিলেন এ রাজ্যে (Suvendu Adhikari)। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হতেই এঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে। বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের পর (Bangladeshi Immigrants) এঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে।

     

  • Bangladeshi: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ‘হোল্ডিং সেন্টার দাওয়াই’, বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশির ভিড় হাকিমপুর চেকপোস্ট

    Bangladeshi: নয়া মুখ্যমন্ত্রীর ‘হোল্ডিং সেন্টার দাওয়াই’, বাক্স-প্যাঁটরা নিয়ে শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশির ভিড় হাকিমপুর চেকপোস্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর লম্বা লাইন দেখা গিয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছের বিভিন্ন চেকপোস্টে (Bangladeshi)। ফের একবার সেই ছবিটাই দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেক পোস্টে (Hakimpur Checkpost)। বাংলাদেশে ফিরতে এই চেকপোস্টে জড়ো হয়েছেন ভারতে অবৈধভাবে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিরা। রবিবারই হোল্ডিং সেন্টার চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার জেরেই এই ভিড় সীমান্তের চেকপোস্টে।

    ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ (Bangladeshi)

    ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে তথ্য যাচাই, নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা, বা পুরানো তালিকা আপডেট করার জন্য নির্বাচন কমিশন এনুমারেশন ফর্ম ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে পরিবারের সকল সদস্যের নাম, বয়স, এবং ঠিকানার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই ফর্ম পূরণের শেষ দিন পেরিয়ে গিয়েছে বহু আগেই। তার পরেও অনেকেই থেকে গিয়েছিলেন পশ্চিমবাংলার আনাচে-কানাচে। দালালদের হাত ধরে বাংলাদেশ থেকে এরাজ্যে ঢুকেছে বহু বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা। বাম এবং তৃণমূলের শাসনে তারা জাল কাগজপত্র জোগাড় করে দিব্যিই বসবাস করছিল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। এসআইআই-পর্ব শুরু হতেই ভারতের পাট চুকিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে এক দফা সীমান্তে জড়ো হয়েছিলেন তাঁরা। এবার ফের সীমান্তে ভিড় করছেন তাঁরা। সৌজন্যে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর ‘হোল্ডিং সেন্টার’ দাওয়াই।

    শ’য়ে শ’য়ে বাংলাদেশি হাকিমপুর চেকপোস্টে…

    এদিন হাকিমপুর চেকপোস্টে দেখা যায়, কাগজপত্র পরীক্ষা করে বাংলাদেশিদের দ্রুত ওপার বাংলায় ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিএসএফের কর্তব্যরত আধিকারিকরা। বিএসএফের ডাকের অপেক্ষায় লটবহর নিয়ে রাস্তার ধারে বসে রয়েছেন অনেক অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi)। এঁদের বেশিরভাগই কাজ করছিলেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায়। অনেকেই পাঁচ-সাত বছর ধরে ছিলেন এপার বাংলায়। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হতেই এঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে। বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের পর এঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে (Hakimpur Checkpost)।

    কী বললেন অনুপ্রবেশকারীরা?

    তাঁরা যে বৈধভাবে বাংলায় ঢোকেননি, সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে সেকথা কবুলও করেছেন বহু বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা। লাইনে দাঁড়ানো এমনই এক বাংলাদেশি বলেন, “সরকার আর রাখবে না, কী করব বলুন! সরকার চাইছে আমরা দেশে ফিরে যাই।” লাইনে দাঁড়ানো অনুপ্রবেশকারীদের কেউ ভারতে ঢুকে দোকানে কাজ করতেন, কেউ আবার করতেন পরিচারিকার কাজ (Bangladeshi)। সীমান্ত পেরিয়ে যেসব বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা ভারতে ঢোকে তাদের প্রায় সবাই দালাল ধরে আসে। এজন্য দালালদের দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। সেই দালালরাই বাংলাদেশিদের ভিড়িয়ে দেয় এপার বাংলার বাসিন্দাদের ভিড়ে।

    ম্যাপিংয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি!

    জানা গিয়েছে, চেকপোস্টে অপেক্ষমান অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড কিংবা আধার কার্ড থাকলেও, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাই এসআইআর-পর্বে ম্যাপিংয়ে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুভেন্দু সরকারের হোল্ডিং সেন্টার দাওয়াইয়ের পরেই চাল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ‘কাঁকর’। তাঁদের এই দুর্দশার জন্য কোনও অনুপ্রবেশকারী দুষছেন স্থানীয় নেতৃত্বকে। কেউ আবার আঙুল তুলেছেন পুলিশের দিকে। তবে হোল্ডিং সেন্টার চালু হতেই বাঙালির ভিড় থেকে পিলপিল করে বের হচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীরা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তাঁরাই ভিড় করছেন হাকিমপুর চেকপোস্টে। নথিপত্র যাচাই করে তাঁদের তুলে দেওয়া হচ্ছে ওপার বাংলার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে (Bangladeshi)।

    শাহি বচন

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে রাজ্যে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে গিয়েছিলেন, অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট করা হবে। ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার (Hakimpur Checkpost)। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই তাঁকে সরাসরি ডিপোর্ট করার বা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার আগে তাঁদের রাখতে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু করার নির্দেশও জেলাশাসকদের দিয়েছিলেন তিনি। সেই মোতাবেক রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চালু হয়ে গিয়েছে ওই সেন্টার। কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনেই চালু করা হয়েছে সেগুলি (Bangladeshi)।

    জিরো টলারেন্স নীতি

    অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে ডাবল ইঞ্জিন সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোবে, তাও জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, “অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স এই নীতি নিয়েই এগোবে আমাদের সরকার। আমরা ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট এই নীতির মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলার বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ধৃত বিদেশি নাগরিক এবং নিজের দেশে ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সেই মতো জেলাশাসকদের নির্দেশ দেয় শুভেন্দুর সরকার। তার পরেই রাজ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়ে যায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজ (Bangladeshi)।

    সেই সেন্টারগুলিতে ইতিমধ্যেই ১৪ জন বাংলাদেশিকে রাখা হয়েছে। এঁদের মধ্যে মালদার ইংরেজবাজার হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে। আর বাকি পাঁচ অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়েছে মুর্শিদাবাদের লালগোলায় তৈরি হোল্ডিং সেন্টারে (Hakimpur Checkpost)। লালগোলার বাহাদুরপুর পঞ্চায়েত লাগোয়া পদ্মা ভবনের ৩ তলায় তৈরি হয়েছে এই সেন্টার (Bangladeshi)।

     

  • Suvendu Adhikari: ওবিসি তালিকায় ‘জল’ কিনা, খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ওবিসি তালিকায় ‘জল’ কিনা, খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলেছে জমানা। বদলে গিয়েছে শাসকের চেহারাও! বদলানো হচ্ছে তৃণমূল পরিচালিত সদ্য প্রাক্তন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নেওয়া একের পর এক তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তও (OBC Quota Row)। তৃণমূল সুপ্রিমোকে তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই গোহারা হারিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন বিজেপির তুর্কি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার পরেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে মমতার সরকারের ওবিসি-নীতি।

    ওবিসি সংরক্ষণ বাতিলের কথা ঘোষণা (Suvendu Adhikari)

    মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য চালু থাকা ওবিসি সংরক্ষণ বাতিলের কথা ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। এবার ওবিসি তালিকায় জল মেশানো হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিধায়কদের বিশেষ নির্দেশ দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার ২৬ জন বিধায়ককে নিয়ে নবান্নে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়ি, পুরুলিয়া, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ একাধিক জেলার বিধায়কদের ডাকা হয়েছিল ওই বৈঠকে। সেখানেই তৃণমূল আমলের ওবিসি তালিকা পুনর্বিবেচনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথও। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী ওই বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন, নতুন করে ওবিসি তালিকা তৈরি করতে হবে। আগের সরকার যেভাবে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের তালিকা তৈরি করেছিল, এবার আর তা হবে না। যেসব সম্প্রদায় প্রকৃতই এই তালিকায় থাকার দাবিদার, তারাই যেন জায়গা পায়। এই কাজে বিধায়কদের দেওয়া তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসরণ

    প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মতো আগের সরকারের তৈরি ওবিসি তালিকা বাতিল করে দিয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। তাই ২০১০ সালে যে ৬৬টি সম্প্রদায় ওবিসি তালিকাভুক্ত ছিল, আপাতত তারাই ওই সুবিধা পাবে। পালাবদলের সরকার (Suvendu Adhikari) নতুন করে ওবিসি তালিকা তৈরি করবে। সূত্রের খবর, এ নিয়ে সমীক্ষার কাজ চলবে চার মাস ধরে। কাজ সরকারিভাবে হলেও, তদারকি করবেন বিধায়করা। এদিনের (OBC Quota Row) বৈঠকে এই বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

    ওবিসি তালিকায় ‘জল’!

    বাম জমানার শেষ পর্বে এবং তৃণমূল সরকারের প্রথম পর্বে ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০১২ এর মে মাসের মধ্যে রাজ্যে ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসির তালিকাভুক্ত করা হয়। বাম জমানায় ৪২টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ঠাঁই দেওয়া হয়েছিল ওবিসি তালিকায়। এই সম্প্রদায়গুলিকে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে মামলা দায়ের হয়। তৃণমূল ক্ষমতায় এসে আরও ৩৫টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২৩ সালে ওবিসি সংরক্ষণ আইন জারি করে এই ৭৭টি সম্প্রদায়কে তালিকাভুক্ত করা হয় (Suvendu Adhikari)। এর ফলে মোট ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত গোষ্ঠীর সংখ্যা গিয়ে পৌঁছয় ১৭৯-তে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ৬৬টি সম্প্রদায়কে রেখে ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত (OBC Quota Row) করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য সরকার। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই মামলা প্রত্যাহার করে। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয় ৭৭টি সম্প্রদায়কে (Suvendu Adhikari)।

     

  • Diamond Harbour Municipality: এবার ‘রামধাক্কা’ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলেও, একযোগে পদত্যাগ ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী ৮ কাউন্সিলরের

    Diamond Harbour Municipality: এবার ‘রামধাক্কা’ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলেও, একযোগে পদত্যাগ ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী ৮ কাউন্সিলরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘রামধাক্কা’ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলে! রাজ্যে পালাবদলের আবহে এই পুরসভায়ও (Diamond Harbour Municipality) মুখ থুবড়ে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল তৃণমূল কংগ্রেস (Corruption Allegations)। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রবিবার ফল বের হয় ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের। গোটা রাজ্যের মতো এই বিধানসভা কেন্দ্রেও গোহারা হেরে যায় তৃণমূল। তার পর সোমবারই ইঙ্গিত মিলল দীর্ঘদিন ধরে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নামে পরিচিত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার। ডায়মন্ড হারবার পুরসভার মোট ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮ জন কাউন্সিলর  একযোগে এদিন মহাকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে জমা দেন পদত্যাগপত্র। এঁরা তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী হয়ে পুরসভায় এসেছিলেন। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ডায়মন্ড হারবারে।

    একযোগে পদত্যাগ কাউন্সিলরদের (Diamond Harbour Municipality)

    এদিন দুপুরে ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসক অয়ন দত্তগুপ্তের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন ওই কাউন্সিলররা। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, একসঙ্গে এতজন কাউন্সিলরের পদত্যাগ কেবল প্রশাসনিক নয়, ডায়মন্ড হারবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এদিন যাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার পুরসভা এতদিন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা নয়, বরং চলত পুলিশ-প্রশাসনের অঙ্গুলি হেলনে। সাত নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তমাল হালদার বলেন, “এতদিন ডায়মন্ড হারবার মডেলের নামে একটা বেলুন ফুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এখন সেই বেলুন ফুস! আমরা জনপ্রতিনিধি হলেও, কোনও স্বাধীনতা ছিল না। সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করত পুলিশ কর্তারা। তাঁদের নির্দেশেই আমাদের উঠতে-বসতে হত।”

    ফাটল তৃণমূল জমানার দুর্নীতির বেলুন

    তাঁর দাবি, “ওপরতলা থেকে পুলিশ- প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করা হত। কাউন্সিলরদের ব্যবহার করা হত পুতুলের মতো। প্রতিবাদ করার পরিবেশ ছিল না। রাজ্যে পালাবদলের পর সাহস পেয়েছি। তাই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।” দুর্নীতির অভিযোগেও সোচ্চার হয়েছেন পদত্যাগী কাউন্সিলররা। তাঁদের দাবি, ডায়মন্ড হারবার এলাকায় পুকুর ভরাট, অবৈধ নির্মাণ, তোলাবাজি—সব ক্ষেত্রেই পুলিশের একাংশের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অবৈধ বিল্ডিং তৈরির ক্ষেত্রে মালিকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হত। প্রতিবাদ করলে শিকার হতে হত পুলিশি নির্যাতনের।

    পদত্যাগী কাউন্সিলরের বক্তব্য

    পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের অমিত সাহাও। তিনি বলেন, “ডায়মন্ড হারবার পুরসভা ১৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত (Corruption Allegations)। এতদিন সব ওয়ার্ড তৃণমূলের দখলেই ছিল। কিন্তু আমরা ৮ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের মেয়াদ প্রায় আট মাস বাকি রয়েছে। উন্নয়নের বার্তা নিয়েই আমরা এসেছিলাম। কিন্তু যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে ক্রমশই মানুষের সামনে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে উঠেছিল (Diamond Harbour Municipality)।” তিনি বলেন, “পুলিশ-প্রশাসনের মাধ্যমে পুরসভা থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।” পদত্যাগী এই কাউন্সিলর বলেন, “আমরাও দুর্নীতির তদন্ত চাই। যদি তদন্তে আমাদের কারওর নাম জড়ায়, তাহলে যা শাস্তি হবে, মাথা পেতে নেব। তবে যারা প্রকৃত দোষী, তাদেরও আইনের মুখোমুখি হতে হবে।”

    বিজেপিকে স্পেস পদত্যাগীদের

    পদত্যাগকারী কাউন্সিলররা জানান, রাজ্যের নয়া সরকার যাতে নতুন করে বোর্ড গঠন করে মানুষের জন্য কাজ করতে পারে, সেই রাস্তা পরিষ্কার করতেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তমাল বলেন, “বিজেপির দুর্দিনে যাঁরা মাটি কামড়ে লড়াই করেছেন, তাঁদের প্রাপ্য আমরা কেড়ে নিতে চাই না। নতুন সরকার তাদের প্রতিনিধি দিয়েই পুরসভা চালাক। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমরা তাদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করব (Corruption Allegations)।” ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা দীপক কুমার হালদার বলেন, “ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে, তাহলে তার তদন্ত অবশ্যই হবে। যাঁরা যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই দুর্নীতি করে কেউ পার পাবেন না।”

    তৃণমূলের খাসতালুকেই ধস

    ২০১৪ সালের পর থেকে বস্তুত ডায়মন্ড হারবার হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের খাসতালুক (Diamond Harbour Municipality)। এই লোকসভা কেন্দ্র থেকেই সাত লাখেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশের ছাড়পত্র পেয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ৮ কাউন্সিলরের একযোগে পদত্যাগ নিঃসন্দেহে বড় বার্তাই দিচ্ছে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। পদত্যাগী কাউন্সিলরদের মুখে ‘পুলিশি নিয়ন্ত্রণ’, ‘দুর্নীতি’, ‘তোলাবাজি’র মতো গুরুতর অভিযোগ শোনা গিয়েছে। যার জেরে তৃণমূল বেশ চাপে পড়ে গেল বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

    একযোগে ইস্তফা উত্তর বারাকপুর পুরসভায়ও

    এদিকে, এদিনই একযোগে ইস্তফা দেন উত্তর বারাকপুর পুরসভায় ১৮ জন কাউন্সিলর। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পুরসভা এলাকায় তৃণমূলের খারাপ ফলের দায় স্বীকার করে ইস্তফা দেন তাঁরা। পরিস্থিতির দায় ঘাড়ে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন চেয়ারম্যান নিজেও। বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশাসক বসাতে বলেছি। দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ করে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে। আগামী ছ’মাসের মধ্যেই ভোট হয়ে যাবে বলে আশা করি।”

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কা লেগেছে বিভিন্ন পুরসভায়ও। খোদ কলকাতা পুরনিগমও বেসামাল ছাব্বিশের পদ্ম-ঝড়ে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেও পদত্যাগ করতে চলেছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। এহেন আবহে রাজ্যের অন্য পুরসভাগুলিতেও সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূল কাউন্সিলররা (Diamond Harbour Municipality)। একদিন যে অস্ত্রে শান দিয়ে তাঁরা দখল করেছিলেন বাম-শাসিত একাধিক পুরসভা, সেই হাতিয়ারই ফিরছে ব্যুমেরাং হয়ে।

    ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে বইকি (Corruption Allegations)!

     

LinkedIn
Share