Tag: CJP Protest

  • Sonam Wangchuk: ‘ওঁরা সাধু নন’! সিজেপি প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, দাবি সোনমের

    Sonam Wangchuk: ‘ওঁরা সাধু নন’! সিজেপি প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, দাবি সোনমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তবে তাঁর মতে, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা কোনও অপরাধ নয় এবং তরুণদের রাজনীতিতে আসা স্বাভাবিক ও ইতিবাচক বিষয়। প্রখর গুপ্তের সঙ্গে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক বলেন, সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার ভূমিকা দেখে তাঁর মনে হয়েছে যে তাঁদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তবে তাঁরা সরাসরি তাঁকে রাজনীতিতে প্রবেশের ইচ্ছার কথা জানাননি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

    ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে রাজনীতি নয়!

    ওয়াংচুক বলেন, তিনি সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতাদের এমন কোনও ‘সাধু’ হিসেবে দেখেন না, যাঁদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা নিয়ে ‘কোনও সমস্যা নেই’। বরং তরুণদের জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কাজ করতে করতে রাজনীতিতে আসাকে তিনি উৎসাহিত করবেন। প্রয়োজনে তাঁরা কোনও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন অথবা নতুন রাজনৈতিক সংগঠনও গড়ে তুলতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ছাত্র আন্দোলনকে (Sonam Wangchuk on CJP Protest) রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রাখার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ওয়াংচুক। প্রায় দু’মাস ধরে যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, আন্দোলনের মঞ্চকে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।

    ছাত্র আন্দোলনের ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখা উচিত!

    ওয়াংচুকের বক্তব্য,সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখতে সেটিকে নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক এবং একটি চাপসৃষ্টিকারী মঞ্চ হিসেবে রাখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, আন্দোলনটি সমর্থন পাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল মানুষ সেটিকে বিজেপি, কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টির (AAP) আন্দোলন হিসেবে দেখেননি। বরং এটি একটি স্বতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিল। সিজেপি (CJP)-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অতীতে আপ-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। ওয়াংচুক জানান, এতে তাঁর কোনও আপত্তি ছিল না। তাঁর মতে, কোনও ব্যক্তির অতীত রাজনৈতিক সম্পর্ক বা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একটি আন্দোলনের রাজনৈতিক চরিত্র—এই দু’টি বিষয়কে আলাদা করে দেখা উচিত।

  • Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলে উল্লেখ। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের (India Controversy) সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক আন্দোলনের ফলে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত বারো বছরে তাঁদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তাঁরা সবসময় অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন।” সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল, শিক্ষাজগত, প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ, লেখক, সমাজকর্মী-সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু মানুষ সমাজমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং দেশের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে।

    অজয় জাদেজার কড়া প্রতিক্রিয়া

    প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অজয় জাদেজা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাঁর মতে, এমন মন্তব্য দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং একজন শিক্ষাবিদের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।”

    সুনীল দেওধরের মন্তব্য

    ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধরও এই ঘটনায় সরব হন। তিনি ভগিনী নিবেদিতার (Nivedita Menon) প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ভগিনী নিবেদিতা নিজের জন্মভূমি ছেড়ে ভারতকে নিজের দেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও আধ্যাত্মিক ভাবধারাকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরেছিলেন। একই নাম বহন করলেও নিবেদিতা মেননের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। ধরনের মন্তব্য ভগিনী নিবেদিতার আদর্শেরও অবমাননা করে।” পাশাপাশি দেশভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেন বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক।

    নিবেদিতা মেননকে (Nivedita Menon) কটাক্ষ নিরঞ্জন কুমারের

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মতো ব্যক্তিরা এই দেশের মাটি, জল, বাতাসে বড় হয়েছেন এবং জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তাই দেশের প্রতি তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। নিজের দেশকে ‘অভিশপ্ত’ বলে উল্লেখ করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই ভারতকে ছোট করে দেখিয়ে অন্য দেশের প্রশংসা করেন, অথচ ভারতের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং মানবিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন না।”

    মেননের মন্তব্যের সমালোচনা লেখক রতন শারদারের

    লেখক ও বিশ্লেষক রতন শারদাও সমাজমাধ্যমে নিবেদিতা মেননের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “যখন নিজেদের মতামতের একচেটিয়া প্রভাব থাকে না, তখনই কিছু মানুষ দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে শুরু করেন।”

    সমালোচকেরা মুখে ভারতের সাফল্যের কথা

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) বক্তব্যের বিরোধিতায় অনেকেই ভারতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন, অতিমারির সময় ভারত শুধু নিজেদের নাগরিকদের জন্য নয়, বিশ্বের বহু দেশের কাছেও টিকা পৌঁছে দিয়েছিল। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দেশেও ভারত দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবিক ভূমিকা পালনকারী একটি দেশকে ‘মনহুস’ বলে আখ্যা দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    নতুন করে আলোচনায় অতীতের বিতর্কও

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) অতীতের একাধিক বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, কাশ্মীর প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে বক্তব্য এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর অবস্থান অতীতেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এছাড়াও একটি আলোচনায় তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্য জাতীয়তাবাদী মতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে।

    তীব্র মতভেদ, জারি বিতর্ক (India Controversy)

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দেশের ভাবমূর্তি এবং জনবুদ্ধিজীবীদের সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রত্যেক নাগরিকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে দেশের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। সব মিলিয়ে নিবেদিতা মেননের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে দিল্লির জন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে (Jantar Mantar Protest) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচার চালানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে শুধু সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপই নয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ১৮০টি ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউব চ্যানেল, তিনটি বেসরকারি ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা এবং পাকিস্তান-যোগের অভিযোগ থাকা ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল পুলিশের নজরে রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট ছড়িয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় জাতীয় সংকট হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

    কী খতিয়ে দেখছে পুলিশ?

    তদন্তকারীরা ১৯ ও ২০ জুলাই জন্তর-মন্তরে হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনলাইনে একই ধরনের বার্তা কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, তা বিশ্লেষণ করছেন। পুলিশের দাবি, বিদেশে পরিচালিত কিছু সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অতীতেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় সক্রিয় ছিল। সেই একই ধরনের অ্যাকাউন্ট জন্তর-মন্তর বিক্ষোভের সময়ও সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রভাব বা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত প্রচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও ইনফ্লুয়েন্সার, সংস্থা বা সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নাম প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলি কেবল তদন্তের অংশমাত্র।

    আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায়

    ডিজিটাল প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলি কোনও গোপন আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন— পিয়ার-টু-পিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি, তৃতীয় পক্ষের মার্কেটিং কনসালটেন্সি চুক্তি এবং এমন অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি, যেগুলির প্রচলিত ব্যাংকিং নথি থাকে না।

    সোশাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তদন্তে উঠে এসেছে, বিভ্রান্তিকর দাবি, সম্পাদিত ভিডিও, ডিপফেক বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রথমে অল্প কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভিউ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেই কনটেন্টকে আরও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেয়। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া কাজ করেছিল কি না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে একই ধরনের বার্তার একাধিক সংস্করণ তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দিচ্ছে তদন্তকারীরা।

    তদন্তের মূল লক্ষ্য

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, তদন্তের উদ্দেশ্য শুধু ভুয়ো তথ্য শনাক্ত করা নয়। বরং জন্তর-মন্তরের তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে বৃহত্তর অনলাইন আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং তার মাধ্যমে জনমনে উদ্বেগ, বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং কোনও চার্জশিটও দাখিল হয়নি। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক নথি এবং সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে দেশীয় বা বিদেশি কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

  • CJP Protest: ‘আরশোলা’-দের বিক্ষোভের পর কড়া পদক্ষেপের প্রস্তুতি! দিল্লি পুলিশের নজরে তিন সংস্থা থেকে বহু নেটপ্রভাবী, ইউটিউবার

    CJP Protest: ‘আরশোলা’-দের বিক্ষোভের পর কড়া পদক্ষেপের প্রস্তুতি! দিল্লি পুলিশের নজরে তিন সংস্থা থেকে বহু নেটপ্রভাবী, ইউটিউবার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের কয়েক দিন পরেই একাধিক নেটপ্রভাবী ও ইউটিউবারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের রেডারে রয়েছে তিনটি (CJP Protest) বেসরকারি সংস্থাও। ডিজিটাল বিপণন, সোশাল মিডিয়া পরিচালনা এবং কনটেন্ট প্রমোশনের সঙ্গে যুক্ত ওই তিন সংস্থার নথিপত্র খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা।

    পুলিশের নজরে একাধিক সোশাল মিডিয়ার হিসেব (CJP Protest)

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির নজরে রয়েছে এমন (Delhi Police) একাধিক সোশাল মিডিয়ার হিসেব, যেগুলি থেকে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও প্ররোচনামূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে বিভিন্ন পোস্ট, ভিডিয়ো এবং সরাসরি সম্প্রচার খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিক্ষোভের সময় হিংসা ছড়ানো এবং গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট সোশাল মিডিয়ার হিসেবগুলির ভূমিকা পর্যালোচনা করার পর আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে প্রায় ১৮০টি সোশাল মিডিয়ার হিসেবকে তদন্তের আওতায় এনেছিল দিল্লি পুলিশ।

    বিক্ষোভকারীদের নিয়ে দিল্লি সরকারের বক্তব্য

    যন্তর মন্তরে সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালীন নথিভুক্ত এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ জানিয়েছিলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে অথবা যাঁরা বিক্ষোভের সময় হিংসা ও ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না। দিল্লি সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরও একটি বিবৃতিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সিজেপির নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও বিরূপ আইনি পদক্ষেপ করবে না। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি অপরাধের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না। ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের উল্লেখ করে এই অবস্থান জানানো হয় (CJP Protest)। আশিস সুদ আরও বলেন, “ভারত সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে নিজেদের মতের বিরোধিতা বা অসন্তোষ প্রকাশকারী ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।” তবে যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং যাঁরা হিংসা বা ভাঙচুরে জড়িত ছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না বলেও জানান তিনি।

    বিক্ষোভ ঘিরে ১৩টি এফআইআর

    নির্দোষ ছাত্রদের আশ্বস্ত করতেই দিল্লি সরকারের ওই বিবৃতি বলে জানান সুদ। তাঁর বক্তব্য, নির্দোষ ছাত্রদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই (Delhi Police), এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করা হবে না। এর আগে ২০ জুলাই সিজেপির ‘চলো সংসদ’ মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনায় দিল্লি পুলিশ ১৩টি এফআইআর নথিভুক্ত করেছিল। একই সঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, ওই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া প্রায় ২,৮০০ জনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক ইতিহাস থাকার তথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে (CJP Protest)।

     

  • Rajeev Chandrasekhar: ‘নেতা বুঝে বেছে নিন’, সিজেপি নিয়ে ছাত্র-অভিভাবকদের সতর্ক করলেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর

    Rajeev Chandrasekhar: ‘নেতা বুঝে বেছে নিন’, সিজেপি নিয়ে ছাত্র-অভিভাবকদের সতর্ক করলেন বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজেপি (Cockroach Janata Party)-কে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। এবার কেরল বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrasekhar) সরাসরি ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন। সমাজমাধ্যমে সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গে ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত উমর খালিদের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘যাঁরা ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ার দাবি করছেন, তাঁরা আসলে কারা?’’

    সৌরভের পুরনো পোস্টও তুলে ধরলেন

    শুধু ছবিই নয়, সৌরভ দাসের একটি পুরনো এক্স (X) পোস্টও শেয়ার করেন রাজীব (Rajeev Chandrasekhar)। সেই পোস্টে উমর খালিদের কারাবাসকে ‘‘ভারতের বিচারব্যবস্থার এক কলঙ্ক’’ বলে মন্তব্য করেছিলেন সৌরভ। এই পোস্ট সামনে এনে বিজেপি নেতার দাবি, সিজেপি-র নেতৃত্ব ও তাদের মতাদর্শ সম্পর্কে দেশের মানুষ, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

    ‘কার সঙ্গে আছেন জানুন’

    নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrasekhar) বলেন, ‘‘অনেকেই হয়তো ন্যায্য দাবির জন্য রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্ব কার হাতে এবং কোন শক্তি সেই আন্দোলনকে প্রভাবিত করছে, তা বুঝে নেওয়া জরুরি।’’

    দেশের ঐক্য ভাঙতে চাইলে বিরোধিতা করুন

    নিজের পোস্টে রাজীব (Rajeev Chandrasekhar) লেখেন, ‘‘যারা ভারতকে ভাঙতে ও ধ্বংস করতে চায়, তারাই আবার তোমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার দাবি করছে। কিছু মতাদর্শভিত্তিক গোষ্ঠী দেশের যুবসমাজকে ব্যবহার করে ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। যে নামেই তারা সামনে আসুক না কেন, তাদের বিরোধিতা করা প্রত্যেক ভারতীয়র দায়িত্ব।’’

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণেরও উল্লেখ

    সিজেপি (CJP)-র আন্দোলন ঘিরে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, তদন্ত হলে শুধু পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নয়, পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‘সত্য সামনে আসতেই হবে।’’ একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা দিলেও হিংসার অভিযোগে চলা তদন্তে স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেখানে অপরাধের প্রমাণ মিলবে, সেখানে দায় ঠিক করতেই হবে।

    উমর খালিদকে ঘিরে কী বলছে তদন্ত?

    দিল্লি পুলিশের দাবি, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত উমর খালিদ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ইউএপিএ (UAPA)-এর অধীনে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, ঘটনাটি শুধু একটি বিক্ষোভের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা নয়; তদন্তকারী সংস্থার নথিতে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক ভিত্তি রয়েছে।

    নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    সম্প্রতি দিল্লির প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার এস. এন. শ্রীবাস্তব-সহ কয়েকজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের মতে, এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, তথ্যযুদ্ধ এবং সরকার অস্থির করার চেষ্টার দিকও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটেই রাজীব চন্দ্রশেখরের (Rajeev Chandrasekhar) বার্তা, ‘‘ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা যেন আন্দোলনের মুখ নয়, আন্দোলনের নেতৃত্বকেও চিনে নেন।’’

  • BJP Leaders on Instagram: প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বার্তার পর ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় বিজেপি নেতারা, যুবসমাজের কাছে পৌঁছতে জোর প্রচার

    BJP Leaders on Instagram: প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বার্তার পর ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় বিজেপি নেতারা, যুবসমাজের কাছে পৌঁছতে জোর প্রচার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের পর যুবসমাজের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ আরও জোরদার করতে ইনস্টাগ্রামকে প্রধান রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পথেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির (BJP Leaders on Instagram) একাধিক শীর্ষ নেতা ইনস্টাগ্রামে তাঁদের সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রী ও বিজেপি নেতার অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিকভাবে রিল, ভিডিও এবং রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশের হার বেড়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্ব

    নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের পর সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম তরুণদের মধ্যে মতামত গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে এসেছে। সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সিজেপি (CJP) চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসরণকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সেলফি-স্টাইল ভিডিও প্রকাশ করে পরীক্ষা সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তরুণদের মতামতের জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। ২০১৪ সাল থেকে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী মোদির সম্প্রতি একটি মধ্যরাতের ভিডিও প্রকাশের পর প্রায় ১০ লক্ষ নতুন অনুসরণকারী যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৫০ লক্ষ। বিজেপির সরকারি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অনুসরণকারী প্রায় ৯৫ লক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে দলটি প্রশ্নপত্র ফাঁস, সংসদে পাবলিক এক্সামিনেশন সংশোধন বিল (Prevention of Unfair Means) সংক্রান্ত ভিডিও ও রিল প্রকাশ করছে। এসব পোস্টে বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিলের আলোচনা ব্যাহত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    প্রহ্লাদ জোশীর ইনস্টা-বার্তা

    নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী ইনস্টাগ্রামে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, পাবলিক এক্সামিনেশন আইন (Prevention of Unfair Means) কার্যকর করার মাধ্যমে পরীক্ষা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান করা হয়েছে। একটি পোস্টে তিনি বলেন, পরীক্ষাব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রস্তুত এবং তথ্যভিত্তিক আলোচনার পক্ষেই তারা। তিনি আরও দাবি করেন, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেসের কয়েকজন সাংসদও সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা চেয়েছেন, কিন্তু একজন ব্যক্তির অহংকারের কারণে সেই আলোচনা হচ্ছে না।

    নাড্ডার ভিডিও বার্তা

    প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডাও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর পোস্টে সিজপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিট ইস্যুতে বৈঠকের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আগে যেখানে তাঁর পোস্টের সংখ্যা ছিল খুবই কম, এখন প্রায় প্রতিদিনই একাধিক ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

    মন্ত্রিদের ইনস্টা-বার্তা

    প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ইনস্টাগ্রামে প্রতিদিন একাধিক পোস্ট করে সংশোধনী বিল, ছাত্রদের উদ্দেশে ধৈর্য ধরার আহ্বান এবং সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে—এমন বার্তা তুলে ধরছেন। আগে যেখানে সপ্তাহে চার-পাঁচটি পোস্ট করতেন, এখন প্রতিদিনই একাধিক পোস্ট প্রকাশ করছেন তিনি। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আনা বিল নিয়ে ধারাবাহিক ভিডিও পোস্ট করছেন। তাঁর বক্তব্যে পরীক্ষায় দুর্নীতিকে “জাতীয় সমস্যা” হিসেবে উল্লেখ করে সব রাজনৈতিক দলকে বিল সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রতিদিন এক ডজনেরও বেশি পোস্ট দেখা যাচ্ছে।

    পরীক্ষায় দুর্নীতি “জাতীয় সমস্যা”

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করতে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়ালও সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বিরোধীদের বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যু না করে সংসদীয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মহিলা ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন। তাঁর পোস্টে “হেমন্ত ইস্তফা দো” স্লোগান এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

    ইনস্টা-যোগ অমিত মালব্য-র

    বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যও আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ইনস্টাগ্রামে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিওর উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেখানে ৩৭০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল, “আজাদ কাশ্মীর”-এর দাবি, হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য এবং দিল্লি দাঙ্গার অভিযুক্তদের মুক্তির দাবির মতো স্লোগান শোনা গেছে। তাঁর বক্তব্য, যদি ভিডিওগুলি সত্য হয়, তবে আন্দোলন ছাত্রদের প্রকৃত দাবি থেকে সরে গিয়েছিল। মালব্য আরও দাবি করেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের সর্বাধিক অভিযোগ ইন্ডিয়া জোটশাসিত রাজ্যগুলিতে সামনে এসেছে। তাঁর তালিকায় জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, কেরল ও কর্নাটকের নাম রয়েছে। সোমবার লোকসভায় সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিদ্যমান আইনে সংশোধনী বিল পেশ করেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ₹৫০ লক্ষ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

  • CJP Protest: খুনের দায়ে অভিযুক্ত ১০১ জন উপস্থিত সিজেপি বিক্ষোভে! চাঞ্চল্যকর দাবি দিল্লি পুলিশের

    CJP Protest: খুনের দায়ে অভিযুক্ত ১০১ জন উপস্থিত সিজেপি বিক্ষোভে! চাঞ্চল্যকর দাবি দিল্লি পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP Protest)-র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্তত ১০১ জন খুনের মামলার অভিযুক্ত ছিলেন। মোট ২,৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৯৮৯ জন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS)-সহ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিক্ষোভে উপস্থিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ (POCSO), মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

    বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের সংখ্যা

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে—

    • ১০১ জন খুনের মামলার অভিযুক্ত
    • ৬২ জন খুনের চেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত
    • ২৮৪ জন ডাকাতি ও লুটপাটের মামলায় অভিযুক্ত
    • ৬১ জন ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত
    • ৬ জন পকসো আইনের মামলায় অভিযুক্ত
    • ২৫ জন নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত
    • ২২৯ জন অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযুক্ত
    • ১৩৫ জন ছিনতাইয়ের মামলায় অভিযুক্ত
    • ১৯ জন অপহরণের মামলায় অভিযুক্ত
    • ৬৭ জন এনডিপিএস (মাদকদ্রব্য) আইনের মামলায় অভিযুক্ত

    দিল্লি পুলিশের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেই পুনরাবৃত্ত অপরাধী (Repeat Offender)।

    ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষে আহত ১১৮ পুলিশকর্মী

    গত ২০ জুলাই সিজেপি-র ডাকা ‘চলো সংসদ’ (Chalo Sansad March) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই সংঘর্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আহতদের মধ্যে ছিলেন স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার (DCP), অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার, এসিপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক এবং বেশ কয়েকজন মহিলা পুলিশকর্মী। অন্যদিকে, ওই সংঘর্ষে প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হন। উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পাঁচ দিন পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপরই সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে।

    প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

    দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন এবং ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে একাধিক অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নোটিস পাঠিয়ে ওই ধরনের পোস্ট ও ভিডিও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন করে আপত্তিকর কনটেন্ট সামনে এলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে তা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে।

  • Viral Video: আন্দোলনের পর ‘বিজয়োৎসব’? পাঁচতারা হোটেলে ‘ককরোচ-পার্টি’র ভাইরাল ভিডিও ছড়াতেই বিতর্কে সিজেপি

    Viral Video: আন্দোলনের পর ‘বিজয়োৎসব’? পাঁচতারা হোটেলে ‘ককরোচ-পার্টি’র ভাইরাল ভিডিও ছড়াতেই বিতর্কে সিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দোলন শেষ, এবার পাঁচতারা হোটেলে ফুর্তিতে মজেছে তথাকথিত ‘ককরোচরা’। দীর্ঘ ৩৭ দিনের আন্দোলন, সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ, সাধারণ ছাত্র-যুবকদের আবেগকে সামনে রেখে ‘ন্যায়ের লড়াই’-এর দাবি। পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অজুহাতে টানা ৩৭ দিন ধরে শহরকে অচল করে রাখার পর, সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের অবসান ঘটেছিল। কিন্তু আন্দোলন মিটতেই বেরিয়ে এলো এদের মূল চরিত্র। হঠাৎই সামনে এসেছে একাধিক ভাইরাল ভিডিও (Viral Video)। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। যেখানে দেখা যাচ্ছে নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের দুঃখ-কষ্টের তোয়াক্কা না করে, দিল্লির এক অতি-বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে মদ্যপ ও উন্মাদ উদযাপনে মেতে উঠেছে সিজেপি-র তথাকথিত নেতারা। সোশাল মিডিয়ায় সেই উদ্দাম ফুর্তির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

    নীতিশিক্ষার আড়ালে চরম ‘ভণ্ডামি’

    নিট পরীক্ষার অনিয়ম আর শিক্ষা সংস্কারের বড় বড় বুলি ঝেড়ে যন্তর মন্তরে খাড়া করা হয়েছিল এই আন্দোলনের মঞ্চ। ৩৭ দিন ধরে চলা এই অবস্থান, অনশন আর সস্তা পথসভার আসল উদ্দেশ্য যে আন্দোলন ছিল না, বরং রাজনৈতিক ঘোলা জলে মাছ ধরা ছিল—তা আজ স্পষ্ট। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে (Viral Video) দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে সিজেপির (Cockroach Janta Party) শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত অশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অর্পিত শর্মা-সহ কয়েকজন একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে নাচ-গান ও উদ্‌যাপন করছেন। ভিডিওগুলির সত্যতা নিয়ে সরকারি কোনও তদন্তের কথা সামনে না এলেও, সেগুলি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যে আন্দোলনের নামে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, যেখানে বহু আন্দোলনকারী এখনও আইনি জটিলতার মুখে, সেই আন্দোলনের নেতাদের এই বিলাসী উদ্‌যাপন কি আদৌ শোভনীয়?

    রাজপথের হিংসা

    আন্দোলনের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা যায় গত ২০ জুলাই। তথাকথিত এই আন্দোলনকারীরা আন্দোলনের নামে রাজধানীজুড়ে তাণ্ডব চালায়। হাই-সিকিউরিটি জোন ভেঙে সংসদে ঢোকার চেষ্টা, পুলিশকে আক্রমণ করা, দিল্লির সরকারি বাস (DTC) ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। সাধারণ মানুষের করের টাকায় তৈরি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করাই ছিল এদের মূল উদ্দেশ্য। আজ সেই হিংসাত্মক ঘটনার জন্য একাধিক আইনি মামলা ঝুলছে সাধারণ কর্মীদের কাঁধে।

    ইস্তফার নাটকের পরই ফুর্তির বন্যা!

    এদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগপত্রে তিনি সাফ জানান, চলমান অস্থিরতাকে এমন শক্তির হাতিয়ার হতে দিতে চান না, যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করতে চাইছে। এরপর ছাত্রদের ক্ষতিপূরণ, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হয়। এরপরই সিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে। আর আন্দোলনের দাবি মেটানো ও আলোচনার আশ্বাস মিলতেই পাততাড়ি গোটায় সিজেপি (Cockroach Janta Party)। রাজপথের ধুলো ঝেড়ে ফেলতে না ফেলতেই সামনে এলো নেতাদের আসল রূপ।

    বিলাসবহুল হোটেলে ‘ককরোচ’ নেতাদের তাণ্ডব

    আর ঠিক এই সময়েই সামনে আসে বিলাসবহুল হোটেলের উদ্‌যাপনের ভিডিও (Viral Video)। দিল্লির একটি বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত প্রাইভেট পার্টিতে সিজেপি (Cockroach Janta Party)-র শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং অর্পীত শর্মাদের চরম অনৈতিক ভঙ্গিতে নাচ-গান ও হুল্লোড় করতে দেখা যাচ্ছে। যেখানে শত শত পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এবং সাধারণ ছাত্ররা আজ কোর্ট-কাছারির চক্কর কাটছে, সেখানে নিজেদের “ছাত্রনেতা” দাবি করা এই যুবকরা কোটি টাকার পাঁচতারা হোটেলে উৎসব পালন করছে! এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা প্রমাণ করে, সাধারণ পরীক্ষার্থীরা এদের কাছে কেবলই রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ঘুঁটি ছিল।

    ‘ফুর্তির টাকা কোথা থেকে এল?’ প্রশ্ন মহেশ জেঠমালানির

    সোশাল মিডিয়ায় এই ভিডিও (Viral Video) ছড়িয়ে পড়তেই কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। সিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “”সিরিয়াসলি? দিল্লিতে টানা কয়েকদিন তাণ্ডব ও সহিংসতার পর সিজেপি নেতৃত্ব পাঁচতারা হোটেলে ভিক্টরি পার্টি দিচ্ছে! তথাকথিত এই যুব নেতারা ফুল ভলিউমে গান চালিয়ে নাচতে শুরু করে দিল? পুরো আন্দোলনজুড়ে হাজার হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা, বিলাসবহুল খাবার, যাতায়াত, তাঁবু, মঞ্চ, কোটি টাকার সাউন্ড সিস্টেমের খরচ কে জোগালো? দিল্লিকে অশান্ত রাখতে আর এই নেতাদের ফুর্তি যোগাতে কে এত টাকা ঢালল?” টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী স্থগিত করে রাখার পেছনে যে অঢেল কালো টাকার লেনদেন হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব জনসমক্ষে আনতে হবে, বলেও দাবি তোলেন তিনি।

    তদন্ত চলছে

    দিল্লি পুলিশ এখনও ২০ জুলাইয়ের হিংসার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ক্লিপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। তবে ভিডিওটি তদন্তের অংশ কি না, সে সম্পর্কেও কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি।

    শিক্ষা ইস্যু থেকে নজর এখন অর্থের উৎসে

    ভিডিওটি সামনে আসার পর কেবল রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, সাধারণ মানুষও এই ‘ভণ্ড’ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। নেটিজেনদের প্রশ্ন- যাদের সাধারণ কর্মী ও ছাত্ররা আজ পুলিশের মামলার মুখোমুখি, তারা কী করে এমনভাবে পার্টি করতে পারে? যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও শিক্ষাক্ষেত্রের সংস্কারের দাবিতে, সেই আন্দোলনের আলোচনা এখন অনেকটাই সরে এসেছে অন্য দিকে। ভাইরাল উদ্‌যাপনের ভিডিও সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আন্দোলনের নেতৃত্ব, অর্থের উৎস, সাংগঠনিক জবাবদিহি এবং জনআন্দোলনের নামে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন। আন্দোলনের সমর্থকদের একাংশ এখনও নেতৃত্বের পাশে থাকলেও, বিরোধীরা বলছেন- যাঁরা সাধারণ মানুষের আবেগকে সামনে রেখে আন্দোলন করেন, তাঁদের ব্যক্তিগত আচরণও জনসমক্ষে প্রশ্নের মুখে পড়ে। আর সেই কারণেই পাঁচতারা হোটেলের এই উদ্‌যাপন শুধু একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান নয়, বরং আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

  • CJP Protest: যন্তর-মন্তরে ৬০ মেট্রিক টন আবর্জনা ফেলে চলে গেল সিজেপি! রাতভর পরিষ্কার করল দিল্লি পুরসভা

    CJP Protest: যন্তর-মন্তরে ৬০ মেট্রিক টন আবর্জনা ফেলে চলে গেল সিজেপি! রাতভর পরিষ্কার করল দিল্লি পুরসভা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলন শেষ হওয়ার পর রাজধানীর যন্তর-মন্তরে শুরু হয়েছে এক বিশাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান। আন্দোলনকারীরা সরে যাওয়ার পর প্রায় ৬০ মেট্রিক টন আবর্জনা পরিষ্কার করতে রাতভর কাজ চালিয়েছে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (NDMC)। শতাধিক সাফাইকর্মী, প্রকৌশলী এবং ভারী যন্ত্রপাতি নামিয়ে যন্তর-মন্তর-সহ আশপাশের এলাকা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই গোটা অভিযানের ব্যয়ভার শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে করদাতাদের অর্থ থেকেই।

    রাতভর চলল পুনরুদ্ধারের কাজ

    শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি-র আন্দোলন শেষ হতেই নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের সহ-সভাপতি কুলজিৎ সিং চাহাল এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনার কাজ তদারকি করেন। স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং হর্টিকালচার বিভাগের ৫০০-রও বেশি কর্মী ও আধিকারিক এই অভিযানে অংশ নেন। শুধু আবর্জনা সরানোই নয়, রাস্তা ধোয়া, দেওয়ালে লেখা স্লোগান মুছে ফেলা, ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাত ও কার্বস্টোন মেরামত, সবুজ এলাকা পুনর্গঠন এবং ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজও করা হয়। যন্তর-মন্তরের পাশাপাশি টলস্টয় মার্গ, সংসদ মার্গ, জয় সিং মার্গ এবং কনট প্লেসের কিছু অংশেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানো হয়।

    পাহাড়প্রমাণ আবর্জনা

    নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলনস্থল ও আশপাশ থেকে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন মিশ্র বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ রাতেই সরিয়ে ফেলা হয়। আবর্জনার মধ্যে ছিল ফেলে দেওয়া খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের কাপ, ব্যানার, কাপড়, নির্মাণসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ, পাথর এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্য। ২৪ জুলাই একদিনেই প্রায় ২৭ মেট্রিক টন আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়, যা আগের দিনের প্রায় ১৫ মেট্রিক টনের তুলনায় অনেক বেশি। এই বিপুল বর্জ্য সরাতে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল নামায় ৮টি অটো-টিপার, ২টি ভারী ট্রাক, ১টি এক্সকাভেটর, ৩টি প্রেসার জেটিং মেশিন, মেকানিক্যাল রোড সুইপার। বহু সাফাইকর্মী, যারা রাতভর শিফটে কাজ করেন।

    করদাতাদের অর্থে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

    বৃহৎ জনসমাবেশের পর এই ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। শুধু আবর্জনা সরানো নয়, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, ফুটপাত, পার্ক, সবুজ এলাকা এবং সরকারি সম্পত্তি মেরামতের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ ও জনবল ব্যয় করতে হয়। ফলে শহরের অন্য এলাকাগুলিতে নিয়মিত নাগরিক পরিষেবাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের ভার শেষ পর্যন্ত বহন করেন সাধারণ করদাতারাই, যদি না সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোনও ব্যবস্থা থাকে।

    আন্দোলন চলাকালীনই আবর্জনার পাহাড়

    যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালীনও চোখে পড়েছিল আবর্জনার পাহাড়। প্রতিবাদস্থল জুড়ে প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের প্লেট ও ​​খাবারের প্যাকেট পড়ে আছে, সাথে ছিল অবিরাম দুর্গন্ধ। ওই অঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা নয়াদিল্লি পৌর কর্পোরেশন (এনডিএমসি)-এর এক কর্মকর্তা বলেন, “যেখানে প্রতিদিন ৫,০০০-এর বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল, সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো নির্দিষ্ট নিয়মকানুন ছিল না। আগে আমরা টলস্টয় মার্গ, সংসদ মার্গ এবং জন্তর মন্তর রোড থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করতাম। আন্দোলন চলাকালীন আমরা প্রতিদিন প্রায় ১৫,০০০ কেজি বর্জ্য অপসারণ করি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এনডিএমসি তিনটি শিফটে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করে। সকালে প্রায় ৫০ জন, বিকেলে ১৫ জন এবং সন্ধ্যায় ২০ জন কর্মী এলাকাটি পরিষ্কার করেন। আমরা ব্যাটারিচালিত ও পরিবেশবান্ধব আবর্জনা সংগ্রহকারী যন্ত্র ‘গবলার’ এবং দ্রুত কঠিন বর্জ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি ভ্যাকুয়াম ডিভাইসও ব্যবহার করি। নিয়মিত বিরতিতে ফগিং মেশিন এবং জীবাণুনাশক স্প্রেও ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবাদস্থলে অটো-টিপার এবং আবর্জনার ট্রাক আসে।” তবুও, গত কয়েকদিন ধরে আবর্জনা জমে উঠেছে, বিশেষ করে কেরালা হাউসের বিপরীতে একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশে।

    নতুন করে উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ন

    যন্তর-মন্তরের এই ঘটনা আবারও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। বৃহৎ জনসমাবেশের আগে কি আয়োজকদের বাধ্যতামূলকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা জমা দেওয়া উচিত? আন্দোলনের ফলে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি বা অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ হলে তার দায় কি আয়োজকদেরই বহন করা উচিত? আন্দোলন শেষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে কি সংগঠকদের স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর শুধু একটি নির্দিষ্ট আন্দোলনের জন্য নয়, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত বৃহৎ গণআন্দোলনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    নেপথ্যের নায়ক পৌরকর্মীরা

    প্রতিবাদের ছবি যেমন সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেয়, তেমনই আন্দোলনের পরে শহরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে রাতভর কাজ করা সাফাইকর্মী, প্রকৌশলী, যন্ত্রচালক এবং উদ্যান বিভাগের কর্মীদের অবদান অনেক সময়ই আড়ালেই থেকে যায়। তাঁদের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমেই অল্প সময়ের মধ্যে যন্তর-মন্তর এবং আশপাশের এলাকা আবার সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হয়েছে। যন্তর-মন্তরের এই ঘটনার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বৃহৎ রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের পর জনপরিসর পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব কি শুধুই পুরসভা এবং করদাতাদের উপর বর্তাবে, নাকি ভবিষ্যতে আয়োজকদেরও এই দায়বদ্ধতার আওতায় আনার সময় এসেছে?

  • CJP Protest: ভারত জোড়ো থেকে ছাত্র বিক্ষোভ— একই ছকের অংশ! নিট আন্দোলনের নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক সমন্বয়?

    CJP Protest: ভারত জোড়ো থেকে ছাত্র বিক্ষোভ— একই ছকের অংশ! নিট আন্দোলনের নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক সমন্বয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, ভারতে সাম্প্রতিক ছাত্র ও নাগরিক বিক্ষোভগুলো হয়তো সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসছে এক ভিন্ন ছবি। এটি কোনো আকস্মিক আন্দোলন (CJP Protest) নয়। এর পিছনে রয়েছে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে থেকেই শুরু হওয়া এক সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত ছক। এই পরিকল্পনার কাজ শুরু হয় হয়েছিল ২০২২ সালে রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর মধ্যে দিয়ে। নামটা দিয়েই শুরু করা যাক। কোন রাজনৈতিক নেতা দেশে পদযাত্রা করতেই পারে, কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে হঠাত ‘ভারত জোড়ো’ কেন? আর ভারতকে টুকরো করেছিল কারা? সে তো রাহুল গান্ধীরই দল আর পূর্ব পুরুষরা। তবে মাঝ রাস্তাতেই ফুস হয়ে গিয়েছিল ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর ফানুস। তবে প্রশ্ন, এই ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর নামে মোচ্ছব, মানে এসি ভ্যান, এসি তাঁবু, আরও কত কি! সেসবের অর্থ জুটেছিল কথা থেকে?

    ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর ব্যর্থতা নয়া পরিকল্পনা

    ‘ভারত জোড়ো অভিযান’ আর তার পরে রাহুলের ভোট-চুরির ঢক্কা-নিনাদ পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে। নির্বাচনে জয় হয় মোদির নেতৃত্বে এনডিএ-র। বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা বোঝে শুধু রাহুলকে দিয়ে হবে না। তখন তাদের নজর পড়ে দেশের অন্য সব গদ্দার হিন্দু-সনাতন বিরোধী গ্রুপগুলোর উপর। অর্থাৎ নানান বাম, অতিবাম আর নৈরাজ্যবাদী গ্রুপগুলোকে কংগ্রেসের সঙ্গে এক ছাতার তলায় এনে উৎপাত শুরু করার এক বৃহত্তর পরিকল্পনা। তারা দুটো সময়সীমা তৈরি করে – একটা ২০২৭ থেকে ২০২৯
    আর একটা ২০৩০ থেকে ২০৩৪। কিন্তু মাঝে এই নিট পরীক্ষার প্রশ্ন লিকের ছুতোটা পেয়ে যাওয়ায়, তারা এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চায়নি। তড়িঘড়ি এজেন্টদের রাস্তায় নাবিয়ে দেয়।

    কীভাবে চলেছে তাদের প্রস্তুতি পর্ব?

    সূত্রের খবর, এই আন্দোলন সংগঠিত করার আগে চারটি গোপন বৈঠকের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    • ১. রিজিওনাল লজিস্টিকস সামিট — ২ এপ্রিল, ২০২৪ (বাংলাদেশ) বাংলাদেশে আয়োজিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল এবং ভারতের বামপন্থী গ্রুপগুলির প্রতিনিধিরা মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে আলোচনার মধ্যে ছিল,  ভারতের অভ্যন্তরীণ গোপন নেটওয়ার্কগুলোর জন্য বাংলাদেশে জমিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারকে প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা। সেইসঙ্গে নানা শহরে “হিট স্কোয়াড” তৈরি করা এবং গোপন পরিচালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
    • ২. দ্য স্টুডেন্টস মোবিলাইজেশন হাব — ২৭ জুন, ২০২৬ (নয়াদিল্লি) নয়াদিল্লির সিপিএম-এর দফতর সুরজিৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এই দ্বিতীয় বৈঠকে অংশ নেয় মূলত স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI) এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-সহ বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকটিতে ২০ জুলাই থেকে দেশব্যাপী রাজপথের আন্দোলন গড়ে তোলার মূল রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল।
    • ৩. দ্য নারেটিভ স্ট্র্যাটেজি সেশন — তৃতীয় বৈঠকে সংযুক্ত করা হয় দেশের মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলিকে। ১৪ জুলাই, ২০২৬ (কোচি) ইসলামিক পণ্ডিত মাওলানা আরশাদ মাদানীর পক্ষ থেকে এবং সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া (SDPI)-র উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে শীর্ষস্থানীয় আইনি প্রতিনিধি আর তথাকথিত সমাজকর্মীরা একত্রিত হয়েছিল। একদম বাম জামাতি গেম প্ল্যান! এরপর জুলাই ২৩ তারিখে শ্রীলঙ্কায় মিলিত হল কয়েকটি দেশের বাম, অতিবাম নেতারা। উদ্দেশ্য? বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার সরকার বদলের কৌশল নিয়ে আলোচনা!
    • ৪. দ্য ইন্টারন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন লিঙ্ক — ২৩ জুলাই, ২০২৬ (শ্রীলঙ্কা) বিজয় প্রসাদ এবং বিকল্প সঙ্গমের আশিষ কোঠারি সহ অনেক বামপন্থী নেতাদের পাশাপাশি কিউবা, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক প্রতিবাদের কৌশলগুলোকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়; যার সাথে লাদাখ সংহতি অনশন ধর্মঘটের সঙ্গে জড়িত অ্যাক্টিভিস্টদের সাংগঠনিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল।

    আন্দোলনের পিছনে দেশীয় নেটওয়ার্ক

    এই আন্দোলনের ফ্রন্টলাইন হিসেবে কাজ করছে ‘ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ পিপলস মুভমেন্টস’ (NAPM)। এতে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্রসংগঠন (SFI, AISF, NSUI, FTII) এবং নাগরিক সমাজের নানা সংগঠন। আন্তর্জাতিক সমর্থন দিচ্ছে লন্ডনের সোয়াস (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠন এবং আমেরিকার ‘হিন্দুজ ফর হিউম্যান রাইটস’-এর মতো গ্রুপগুলো বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। এমনকি ১৫০ জনের বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির সই করা খোলা চিঠির মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে পুনরায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সিন্ধু জল চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলে বিদেশি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সুতরাং, যা সাধারণ মানুষের কাছে ছাত্র ও কৃষকদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত অধিকার আদায়ের আন্দোলন বলে মনে হচ্ছে, তার পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত জোট। যাদের মূল উদ্দেশ্য ভারতবর্ষকে ভিতর থেকে দুর্বল করে ভারতের অগ্রগতিকে রুদ্ধ করা।

LinkedIn
Share