মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP Protest)-র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্তত ১০১ জন খুনের মামলার অভিযুক্ত ছিলেন। মোট ২,৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৯৮৯ জন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS)-সহ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিক্ষোভে উপস্থিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ (POCSO), মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের সংখ্যা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে—
- ১০১ জন খুনের মামলার অভিযুক্ত
- ৬২ জন খুনের চেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত
- ২৮৪ জন ডাকাতি ও লুটপাটের মামলায় অভিযুক্ত
- ৬১ জন ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত
- ৬ জন পকসো আইনের মামলায় অভিযুক্ত
- ২৫ জন নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত
- ২২৯ জন অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযুক্ত
- ১৩৫ জন ছিনতাইয়ের মামলায় অভিযুক্ত
- ১৯ জন অপহরণের মামলায় অভিযুক্ত
- ৬৭ জন এনডিপিএস (মাদকদ্রব্য) আইনের মামলায় অভিযুক্ত
দিল্লি পুলিশের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেই পুনরাবৃত্ত অপরাধী (Repeat Offender)।
২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষে আহত ১১৮ পুলিশকর্মী
গত ২০ জুলাই সিজেপি-র ডাকা ‘চলো সংসদ’ (Chalo Sansad March) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই সংঘর্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আহতদের মধ্যে ছিলেন স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার (DCP), অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার, এসিপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক এবং বেশ কয়েকজন মহিলা পুলিশকর্মী। অন্যদিকে, ওই সংঘর্ষে প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হন। উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পাঁচ দিন পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপরই সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে।
প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন এবং ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে একাধিক অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নোটিস পাঠিয়ে ওই ধরনের পোস্ট ও ভিডিও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন করে আপত্তিকর কনটেন্ট সামনে এলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে তা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply