মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে দিল্লির জন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে (Jantar Mantar Protest) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচার চালানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে শুধু সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপই নয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ১৮০টি ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউব চ্যানেল, তিনটি বেসরকারি ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা এবং পাকিস্তান-যোগের অভিযোগ থাকা ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল পুলিশের নজরে রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট ছড়িয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় জাতীয় সংকট হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
কী খতিয়ে দেখছে পুলিশ?
তদন্তকারীরা ১৯ ও ২০ জুলাই জন্তর-মন্তরে হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনলাইনে একই ধরনের বার্তা কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, তা বিশ্লেষণ করছেন। পুলিশের দাবি, বিদেশে পরিচালিত কিছু সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অতীতেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় সক্রিয় ছিল। সেই একই ধরনের অ্যাকাউন্ট জন্তর-মন্তর বিক্ষোভের সময়ও সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রভাব বা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত প্রচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও ইনফ্লুয়েন্সার, সংস্থা বা সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নাম প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলি কেবল তদন্তের অংশমাত্র।
আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায়
ডিজিটাল প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলি কোনও গোপন আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন— পিয়ার-টু-পিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি, তৃতীয় পক্ষের মার্কেটিং কনসালটেন্সি চুক্তি এবং এমন অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি, যেগুলির প্রচলিত ব্যাংকিং নথি থাকে না।
সোশাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
তদন্তে উঠে এসেছে, বিভ্রান্তিকর দাবি, সম্পাদিত ভিডিও, ডিপফেক বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রথমে অল্প কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভিউ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেই কনটেন্টকে আরও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেয়। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া কাজ করেছিল কি না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে একই ধরনের বার্তার একাধিক সংস্করণ তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দিচ্ছে তদন্তকারীরা।
তদন্তের মূল লক্ষ্য
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, তদন্তের উদ্দেশ্য শুধু ভুয়ো তথ্য শনাক্ত করা নয়। বরং জন্তর-মন্তরের তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে বৃহত্তর অনলাইন আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং তার মাধ্যমে জনমনে উদ্বেগ, বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং কোনও চার্জশিটও দাখিল হয়নি। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক নথি এবং সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে দেশীয় বা বিদেশি কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

Leave a Reply