Tag: CRPF

CRPF

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব ভারতে নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা। সেই কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Leader) অজয় মাহতো ওরফে “টাইগার”কে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) গিরিডির পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অজয়। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    মিলতে পারে মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Jharkhand)

    অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে রাজ্য পুলিশের অভিযান শাখার কর্তা নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “এটি রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানের বড় সাফল্য।” তাঁর দাবি, অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো, অস্ত্র সরবরাহ চক্র, বিস্ফোরক তৈরির নেটওয়ার্ক, তোলাবাজির উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই তথ্য ঝাড়খণ্ড এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলা নকশালবিরোধী অভিযানে গতি আনবে। নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “আমরা আশা করছি, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সক্রিয় সদস্যদের চিহ্নিত করা, সংগঠনের রসদ জোগানের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের হামলা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।” অজয় গিরিডি জেলার পিরটাঁড় ব্লকের পান্ডেদিহ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে নওয়াদিহ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর বিশেষ কোবরা ইউনিট হারলাডি গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। অভিযানের সময় কোনও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি নিরাপত্তা বাহিনীকে।

    ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অজয় বিহার-ঝাড়খণ্ড বিশেষ এলাকা কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই কমিটি ওই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। তিনি শুধু সংগঠনের সদস্যই ছিলেন না, বরং বড় বড় হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অন্যতম মূল কুশীলব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, বিস্ফোরক হামলা, তোলাবাজি, অবৈধ অস্ত্র আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের একাধিক মামলায়ও রয়েছে তাঁর নাম। তদন্তে উঠে এসেছে সারান্ডা, কোলহান, পশ্চিম সিংভূম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিস্ফোরক পুঁতে রাখা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা, সংগঠনের সদস্যদের পরিচালনা এবং কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ছিলেন (Jharkhand) তিনি। গত ছ’বছরে ঝাড়খণ্ডে একাধিক বড়সড় মাওবাদী হামলায় তাঁর যোগসূত্রের প্রমাণও পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ২০২০ সালে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক গ্রামবাসীকে খুন এবং বন দফতরের কার্যালয়ে বিস্ফোরক হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে।

    একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও যুক্ত

    ২০২১ এবং ২০২২ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তুম্বাহাকা এবং মেরালগড়া এলাকায় বিস্ফোরক হামলায় কোবরা ব্যাটালিয়নের একাধিক জওয়ান জখম হন। ওই ঘটনাগুলির নেপথ্যেও তাঁর দলের ভূমিকা ছিল বলে দাবি (Maoist Leader) তদন্তকারীদের। ওই বছরে বিস্ফোরক লুট, টোন্টো এলাকায় সংঘর্ষে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর আধিকারিক অমিত তিওয়ারি এবং কনস্টেবল গৌতম কুমারের মৃত্যুর ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ায়। হাতিবুরু এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও অজয়ের দল সক্রিয় ছিল। পুলিশের চর সন্দেহে গ্রামবাসীদের হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক বিস্ফোরক হামলা এবং অতর্কিত আক্রমণের একাধিক ঘটনায় তাঁর দলের নাম উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর একাধিক সদস্য নিহত ও জখম হন।

    বিস্ফোরক তৈরিতে দক্ষ

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে সমাথা জঙ্গলে বিস্ফোরণে কোবরা ব্যাটালিয়নের একটি প্রশিক্ষিত কুকুর মারা যায়। ২০২৬ সালের মার্চে মারাংপোঙ্গা এবং কিনবির জঙ্গলে সংঘর্ষ ও পরবর্তী বিস্ফোরণে কোবরা ইউনিটের একাধিক আধিকারিক এবং জওয়ান জখম হন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলাগুলির পরিকল্পনায়ও অজয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, অজয় মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম দক্ষ বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ছিলেন (Jharkhand)। বিস্ফোরক তৈরি ও পুঁতে রাখা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ, তোলাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল। কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বড় হামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, তাঁর গ্রেফতারের ফলে সারান্ডা, কোলহান এবং গিরিডি অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের কার্যকলাপে বড় ধাক্কা লাগবে। সংগঠনের নেতৃত্ব, পরিকল্পনা এবং পরিচালন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার, অস্ত্র সরবরাহের পথ চিহ্নিত করা এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অজয়কে

    বর্তমানে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একাধিক মাওবাদী সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে এবং সক্রিয় নাশকতা চক্রগুলিকেও ভেঙে দেওয়া যাবে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও, অভিযান এখানেই শেষ নয়। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে আমরা এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও জোরদার অভিযান চালিয়ে যাব (Maoist Leader)।” নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, অজয়ের গ্রেফতারি শুধুমাত্র এক কুখ্যাত মাওবাদী নেতার গ্রেফতারি নয়, বরং বামপন্থী উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে চলা লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য। তদন্ত যত এগোবে, ততই মাওবাদী সংগঠনের বাকি থাকা নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে (Jharkhand) পারে এই গ্রেফতারি।

     

  • Sonam Wangchuk: ২০ দিনের অনশন ভাঙল হাসপাতালে, ভোররাতে সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরাল দিল্লি পুলিশ

    Sonam Wangchuk: ২০ দিনের অনশন ভাঙল হাসপাতালে, ভোররাতে সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে সরাল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনির্দিষ্টকালের অনশনে ইতি। টানা ২০ দিনের অনশনের পর জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তর থেকে শনিবার ভোররাতে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ, এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার ভোরের দিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই এই অভিযান চালানো হয়। এর ফলে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন কেন্দ্র যন্তর মন্তরে ওয়াংচুকের দীর্ঘ অনশন কর্মসূচির ইতি ঘটল। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতেই শুধুমাত্র চিকিৎসাজনিত কারণেই তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)

    দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওয়াংচুক বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দীর্ঘদিন অনশন ও শরীরে জলশূন্যতার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, “সোনম ওয়াংচুককে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অনশন ও শরীরে জলশূন্যতার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার মধ্যে রাখতে হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নয়াদিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, “মাননীয় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।”

    শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল খালি করার আবেদনও জানিয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ অনশন সত্ত্বেও ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর জীবনরক্ষাকারী শারীরিক সূচকগুলি স্বাভাবিক ছিল। রক্তচাপ এবং শরীরে জলের মাত্রাও গ্রহণযোগ্য অবস্থায় ছিল। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা সামান্য কম পাওয়া যায়। তিনি হালকা ডায়রিয়ার অভিযোগও জানান। দীর্ঘদিন অনশন ও জলশূন্যতার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ায় তাঁকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা বা হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য ওয়াংচুক সম্মতি দিতে চাননি। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের শীর্ষ সূত্রের দাবি, নয়াদিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার দায়িত্ব নেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই অভিযানের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। ইচ্ছাকৃতভাবেই ভোরের সময়টি বেছে নেওয়া হয়, কারণ সেই সময় যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

    ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়

    পুলিশের আরও দাবি, ওয়াংচুকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অভিজিৎ দিপকে সাময়িকভাবে মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার সময়টিকেও কৌশলগত সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই সময় মঞ্চে আন্দোলনের মূল সমন্বয়কারী উপস্থিত ছিলেন না। এদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন সাদা পোশাকের পুলিশকর্মী নয়াদিল্লি জেলার বিশেষ শাখা এবং স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড ঘেরা আন্দোলনস্থলে প্রবেশ করেন। সূত্রের দাবি, পুরো অভিযানটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালিত হয়। হাতে গোনা কয়েকজন ঊর্ধ্বতন আধিকারিকই সম্পূর্ণ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন। ফিল্ড লেভেলের পুলিশকর্মীদের শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা মঞ্চ ঘিরে ফেলেন এবং পরে ওয়াংচুকের শয্যার চারপাশে অবস্থান নেন। এরপর বড় সাদা চাদর দিয়ে চারদিক ঢেকে তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনা হয়, যাতে ভিড় জমায়েত বা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়। দ্বিতীয় স্তরে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ক্যুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা ব্যারিকেডের বাইরে আন্দোলনকারীদের আটকে, এবং পরিস্থিতির অবনতি রুখে দেন।

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য

    তৃতীয় স্তরে দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অ্যাম্বুল্যান্স এবং পুলিশের গাড়ির কাছে তৈরি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে গোটা অভিযান তদারকি করেন। ওয়াংচুককে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার পর সফদরজং হাসপাতালে দ্রুত পৌঁছে দিতে যান চলাচলের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর অভিজিৎ দিপকে আন্দোলনস্থলে ফিরে এসে অভিযোগ করেন, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওয়াংচুককে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, ওয়াংচুক হাসপাতালে ভর্তি হলেও, আন্দোলন থামবে না। তিনি নিজেই অনশন শুরু করে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার সময় কিছু আন্দোলনকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে নিরাপদভাবেই পুরো অভিযান সম্পন্ন করেছে। উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, “মাননীয় দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার সময় কিছু আন্দোলনকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এতে সামান্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও, পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম বজায় রেখে নিরাপদভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।”

     

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকা কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Commander) রবীন্দ্র গঞ্জুকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরেন্দ্র গঞ্জু এবং মুকেশ গঞ্জু নামেও পরিচিত এই শীর্ষ মাওবাদী নেতার মাথার ওপর ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা (Jharkhand) হয়েছিল। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। লাতেহার জেলার চন্দওয়া থানার অন্তর্গত হেসলা মৌজার বানঝিটোলা গ্রামে পৈতৃক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার মাও নেতা (Jharkhand) 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূত্র মারফত জানা যায়, বহু বছর ধরে আত্মগোপন করে থাকা রবীন্দ্র গঞ্জু গোপনে নিজের গ্রামে ফিরেছেন। তার পরেই লাতেহার জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং কোবরা ২০৯ ব্যাটালিয়নের যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় ওই ২০ লাখি মাওবাদীকে। তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি পিস্তল, আরও একটি রাইফেল, ২৩৯ রাউন্ড গুলি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও নথি ভবিষ্যতের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার

    রবীন্দ্র গঞ্জু নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর আঞ্চলিক কমিটির সদস্য এবং স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এই সময় লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, চতরা, পালামু, গড়ওয়া, রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। ২০১৯-২০ সালের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বাধীন মাওবাদী বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল (Jharkhand)। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত, গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ করলেও, রবীন্দ্র গঞ্জু দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অনেকেই নিহত, গ্রেফতার অথবা আত্মসমর্পণ করায় তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন (Maoist Commander)।

    বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা

    লাতেহারের পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, রবীন্দ্র গঞ্জু ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা। পুলিশের দাবি, অন্তত ১৮ জন পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও, লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, পালামু, রাঁচি-সহ বিভিন্ন জেলার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৫৪টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে এই মামলার সংখ্যা ১৫৬ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।রবীন্দ্র গঞ্জুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, টহলদারি বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ, শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা, তোলাবাজি ও অবৈধ চাঁদা আদায়, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের অস্ত্র লুট, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ (Jharkhand)।

    সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর মামলা

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং তোলাবাজির একাধিক মামলায় রবীন্দ্র গঞ্জুর খোঁজ চালাচ্ছিল। তদন্তে জানা যায়, তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে তিনি নিজের গ্রামে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগে তাঁর বাড়ি বাজেয়াপ্ত ও সিল করে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মাওবাদী সংগঠনের আর্থিক জোগান বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন (Maoist Commander)। ঝাড়খণ্ডে গত এক দশকের একাধিক রক্তক্ষয়ী মাওবাদী হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর লাতেহারের চন্দওয়ার লুকাইয়া মোড়ে পুলিশের একটি টহলদার গাড়ির ওপর হামলায় একজন এএসআই এবং তিন জন হোমগার্ডের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, নিজের স্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই রবীন্দ্র গঞ্জু এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনকে এলাকায় নজরদারি চালানো এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।

    শক্তিশালী বিস্ফোরণেও তাঁর নাম

    ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি বারওয়াডিহ থানার কাটিয়া জঙ্গলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর নাম উঠে আসে। ওই হামলায় ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন, গুরুতর জখম হন ১৪ জন। বিস্ফোরক বিছিয়ে রেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাতেহার-লোহরদাগা সীমান্তবর্তী বুলবুল জঙ্গলে পরিচালিত “অপারেশন ডাবল বুলে”র তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম উঠে আসে। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের জুন মাসে এই মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ (Jharkhand)। এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুধাকরণের সঙ্গে যুক্ত তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম সামনে আসে। অন্য এক মাওবাদী কর্মীর তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং মাওবাদী সাহিত্য তদন্তকারীদের দেয় নতুন তথ্য। পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, “রবীন্দ্র গঞ্জুর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই গ্রেফতার মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা এবং তাদের অবশিষ্ট সাংগঠনিক ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে (Maoist Commander)।”

    পুলিশের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশের তরফে পঙ্কজ কুমার বলেন, “এলাকায় এখন হাতে গোনা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে—আত্মসমর্পণ করা অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর যে অভিযান চলছে, তার মুখোমুখি হওয়া।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্র গঞ্জুর গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁকে জেরা করা হলে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সুবিধা করে দিতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Jharkhand)।

     

  • gadchiroli: জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল মাওবাদীদের গোপন অস্ত্র কারখানা! বিশাল অভিযানে বড় সাফল্য পুলিশ-সিআরপিএফের

    gadchiroli: জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল মাওবাদীদের গোপন অস্ত্র কারখানা! বিশাল অভিযানে বড় সাফল্য পুলিশ-সিআরপিএফের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদী দমনে আরও একটি বড় সাফল্য পেল মহারাষ্ট্র পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তবর্তী গড়চিরোলির ঘন জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে। শুধু তাই নয়, মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অভিযানের ফলে মাওবাদীদের সংগঠন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে।

    গোপন সূত্রের ভিত্তিতে শুরু অভিযান

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৭ জুনের অভিযান ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাওবাদী-বিরোধী অপারেশন। গোপন সূত্রে খবর মিলেছিল, মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তের বালবেদা জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীরা একটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্র উৎপাদন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও মজুত করা হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ জুন গড়চিরোলি জেলার পুলিশ সুপার এম রমেশের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অংশ নেয় গড়চিরোলি ও প্রণহিতা স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের ছয়টি দল, একটি বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াড (বিডিডিএস) এবং সিআরপিএফ-এর একটি বিশেষ দল।

    জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল অস্ত্র কারখানা

    ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া তল্লাশি অভিযান ২৭ জুন আরও জোরদার করা হয়। বিডিডিএস-এর সদস্যরা সন্দেহজনক এলাকাগুলি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির যন্ত্রপাতি এবং সামগ্রী উদ্ধার করেন।

    উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

    • ● প্রায় ৫ থেকে ৬ টন ওজনের একটি ভারী লেদ মেশিন
    • ● ১৫০টি ক্লেমোর মাইন ও ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের (BGL) পাইপ
    • ● ২২০টি ১২-বোর বন্দুকের ব্যারেল বা পাইপ
    • ● ২০টি রাইফেলের রড ও ধাতব স্ট্রিপ
    • ● অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত আরও বহু ধরনের যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল

    তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, এই কারখানায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, মেরামত এবং বিস্ফোরক প্রস্তুতের কাজ চলত। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলি ভবিষ্যতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা হতে পারত।

    ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হল সব সামগ্রী

    উদ্ধারের পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সমস্ত অস্ত্র, যন্ত্রপাতি এবং কারখানার অবকাঠামো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বিডিডিএস ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভারী লেদ মেশিনসহ সমস্ত সরঞ্জাম নষ্ট করেন, যাতে ভবিষ্যতে মাওবাদীরা সেগুলি পুনরায় ব্যবহার করতে না পারে। পুলিশের মতে, শুধু অস্ত্র উদ্ধার করাই নয়, অস্ত্র তৈরির পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া আরও বড় সাফল্য। এর ফলে মাওবাদীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

    আগের অভিযানগুলির ধারাবাহিক সাফল্য

    এটি গত কয়েক মাসে গড়চিরোলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক সফল অভিযানেরই অংশ। এর আগে ২৩ মে এবং ২৭ মে পরিচালিত পৃথক অভিযানে মাওবাদীদের আরও বেশ কিছু অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই অভিযানের সূত্র ধরেই নতুন গোয়েন্দা তথ্য হাতে আসে এবং বালবেদা জঙ্গলে এই বৃহৎ অপারেশন চালানো সম্ভব হয়।

    মাওবাদী নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা

    পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়ের সীমান্তবর্তী দুর্গম বনাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে মাওবাদীরা অস্ত্র তৈরি, বিস্ফোরক মজুত এবং যুদ্ধসামগ্রী লুকিয়ে রাখত। নির্বাচনের সময়, তথাকথিত ‘মাওবাদী পর্যবেক্ষণ সপ্তাহ’ কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার আগে এই গোপন ভাণ্ডারগুলি থেকে অস্ত্র বের করে ব্যবহার করা হত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এই ধরনের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার ও উৎপাদন কেন্দ্র চিহ্নিত করে ধ্বংস করা গেলে ভবিষ্যতে মাওবাদী কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

    ‘গড়চিরোলিতে মাওবাদী প্রভাব প্রায় শেষ’

    পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য, গড়চিরোলি জেলায় মাওবাদী কার্যকলাপ এখন কার্যত নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এবং জেলায় চরমপন্থী সংগঠনের প্রভাব শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী এবং সিআরপিএফ-এর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে একসময়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই জেলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অধিকর্তাদের মতে, ভূগর্ভস্থ অস্ত্র কারখানা ধ্বংস এবং বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার নষ্ট করার এই অভিযান শুধু গড়চিরোলির জন্য নয়, সমগ্র মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তে মাওবাদী কার্যকলাপ নির্মূলের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। নিরাপত্তা বাহিনী ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই ধরনের অভিযান চালিয়ে মাওবাদীদের অবশিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।

  • CM Suvendu Adhikari: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই সোজা বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তরের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই সোজা বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তরের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক বা বিতাড়ন প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে বুধবারই নবান্ন থেকে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তবে সেই প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা বৃহস্পতিবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দূর করলেন তিনি। এ দিন হাওড়ায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা বা আদালতে পেশ করার প্রয়োজন নেই; দ্রুত পুশব্যাকের স্বার্থে সরাসরি তাঁদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, হাওড়া স্টেশনে কোনও অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হলে, তাঁকে আইনি হেফাজতে না রেখে সরাসরি সীমান্ত এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার ও জিআরপি (GRP) কর্তাদের ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    হাওড়া স্টেশনে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ (CM Suvendu Adhikari)

    দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল প্রান্তিক হাওড়া স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। এই পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশ রুখতে স্টেশন চত্বরে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “পুলিশ কমিশনার এবং আরপিএফ-কে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (CAA) আওতাভুক্ত নন এমন কোনও অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হাওড়া স্টেশনে ধরা পড়লে, তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় মানবিকতা বজায় রেখে যথোপযুক্ত আহারের ব্যবস্থা করে তাঁকে সরাসরি বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্ত অথবা বসিরহাটের কোনও বিওপি (সীমান্ত চৌকি)-তে (BSF) পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।”

    সাপ্তাহিক রিপোর্টের কড়াকড়ি

    ধড়পাকড় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রতি সপ্তাহে কতজন অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হচ্ছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিজের দফতরে রাখতে চান মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)। এই উদ্দেশ্যে প্রতি সপ্তাহের এই সংক্রান্ত খতিয়ান রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG)-র মাধ্যমে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আইনি প্রেক্ষাপট ও সিএএ (CAA)

    উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান— এই ছয়টি ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়কে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে। ভারত সরকার তাঁদের কোনোভাবেই পুশব্যাক করবে না। ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ‘অভিবাসন ও বিদেশি’ আইনের ৩৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল।

    প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “যাঁরা সিএএ-র এই পরিধির মধ্যে পড়েন না, তাঁদের চিহ্নিত করে সরাসরি বিএসএফ-এর (BSF) হাতে তুলে দিতে হবে। কেন্দ্রের পাঠানো এই পূর্ববর্তী নির্দেশিকাটি আগের সরকার কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, বর্তমান সরকার এটি অবিলম্বে রাজ্যে কার্যকর করছে। নির্বাচনের প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সরকার এই কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল।”

  • WB Election 2026: সারি সারি দাঁড়িয়ে সাঁজোয়া যান, শেষ দফার ভোট হিংসা মুক্ত করতে বাহিনীর বিরাট চমক

    WB Election 2026: সারি সারি দাঁড়িয়ে সাঁজোয়া যান, শেষ দফার ভোট হিংসা মুক্ত করতে বাহিনীর বিরাট চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাইনে দাঁড়িয়ে সারি সারি সাঁজোয়া গাড়ি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) শেষ দফা ভোটের আগে হিংসা রুখতে কমিশনের কড়া অবস্থান। দুষ্কৃতীদের সাবধান করতে সিআরপিএফ-এর (CRPF) অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ADG) জিপি সিং একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেন। তাঁর পোস্ট করা নিরাপত্তা প্রস্তুতির কিছু ছবি সময় সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় দাগি এক হাজারের বেশি অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ প্রশাসন। যেখানে যেখানে হিংসার ঘটনা ঘটছে জোর কদমে চলছে ধরপাকড়। ভোট লুট বন্ধ করতে কমিশন ও প্রশাসন ব্যাপক সক্রিয়।

    বিশেষ তৎপরতা গ্রহণ (WB Election 2026)

    নির্বাচনী (WB Election 2026) নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (CRPF)  জিপি সিং একটি পোস্ট করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রাক্কালে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা গ্রহণ করা হয়েছে।” সামাজিক মাধ্যমে বাহিনীর সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি ও রণকৌশলের কিছু আলোকচিত্র শেয়ার করেছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে কমিশন কতটা হিংসা মুক্ত নির্বাচন চায়।

    ভীতি ছাড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ

    অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল জিপি সিং নিজের শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁরা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই পোস্টের (CRPF)  মূল উদ্দেশ্য হল মূলত ভোটারদের মনে আস্থা জাগানোর একটি প্রয়াস মাত্র। সাধারণ মানুষ যাতে কোনও প্রকার ভীতি ছাড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন সেই বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভোটারদের সাহস যোগাবে

    একই ভাবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে (WB Election 2026) শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উচ্চপদস্থ এই আধিকারিকের (CRPF) সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী ময়দানে নতুন মাত্রার উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। তবে এই ধরনের সাঁজোয়া যান কেবলমাত্র কাশ্মীরের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই ব্যবহার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবহার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

  • WB Assembly Election 2026: কলকাতায় ‘অভূতপূর্ব’ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিএপিএফের মুখ্য আধিকারিকরা

    WB Assembly Election 2026: কলকাতায় ‘অভূতপূর্ব’ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিএপিএফের মুখ্য আধিকারিকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দফায় হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন (WB Assembly Election 2026)। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। পরের দফার নির্বাচন হবে ২৯ এপ্রিল। দু’দফার এই নির্বাচন বিঘ্নহীন (CAPF Chiefs Meet) করতে মরিয়া জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন পর্বে বাংলায় প্রায় ২ লাখ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন ও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPFs)-এর সমস্ত প্রধানরা কলকাতায় এক ‘অভূতপূর্ব’ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।

    গুরুত্বপূর্ণ’ যৌথ নেতৃত্ব সম্মেলন (WB Assembly Election 2026)

    শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর সল্টলেকে সিআরপিএফ কার্যালয়ে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ যৌথ নেতৃত্ব সম্মেলন হয়। সেখানে সিএপিএফের ডিরেক্টর জেনারেলরা এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা একত্রে সিদ্ধান্ত নেন যে, সম্ভাব্য বিঘ্নকারীদের মোকাবিলায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে একটি ‘সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি—এই পাঁচটি সিএপিএফ ছাড়াও ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (IRBs) এবং অন্যান্য রাজ্য পুলিশের সহায়ক বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

    সিএপিএফের বক্তব্য

    সিএপিএফের এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, “এটি একটি অভূতপূর্ব বৈঠক।  কারণ এর আগে কোনও রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন সব সিএপিএফ প্রধানদের একসঙ্গে বৈঠক হয়নি। তাঁরা গত কয়েকদিন ধরে নিজেদের এবং যৌথ বাহিনীর নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটগুলিও পরিদর্শন করেছেন।” তামিলনাড়ুতেও বিধানসভার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল, এক দফায়। সেখানে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও যৌথ বৈঠক হয়নি বলেই খবর। রবিবার এক বিবৃতিতে সিআইএসএফের তরফে জানানো হয়, “ভারতের কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব ১৮ এপ্রিল কলকাতায় একত্রিত হয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁদের প্রতিশ্রুতি ও সমন্বয় প্রদর্শন করেছে (CAPF Chiefs Meet)।”

    বৈঠকের উদ্দেশ্য

    এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর জন্য একটি শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা (WB Assembly Election 2026)। এরপর অনুষ্ঠিত যৌথ নেতৃত্ব সম্মেলনে সিএপিএফ প্রধানরা, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত পুলিশ উপদেষ্টা ও পর্যবেক্ষকরা বিশেষ করে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ১৫২টি আসনের নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। তাঁরা কুইক রেসপন্স টিম (QRT) মোতায়েন এবং অ্যান্টি-স্যাবোটাজ তল্লাশি ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন, যাতে যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সমস্ত বাহিনীর মূল লক্ষ্য হল একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে প্রত্যেক নাগরিক ভয় বা চাপ ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

    সিআইএসএফের ডিজির বক্তব্য

    সিআইএসএফের ডিজি প্রবীর রঞ্জন বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আমাদের মিশন শুধুমাত্র নিরাপত্তা নয়, এটি গণতন্ত্রের পবিত্রতা রক্ষা করার দায়িত্ব।” তিনি এও বলেন, “মাঠে থাকা কর্মীদের জন্য আমার বার্তা স্পষ্ট – আপনারা গণতন্ত্রের রক্ষক। আমাদের আলাদা ইউনিট হিসেবে (CAPF Chiefs Meet) নয়, বরং একত্রে একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ নির্বাচন বাহিনী হিসেবে কাজ করতে হবে (WB Assembly Election 2026)।”

     

  • Assembly Elections 2026: ভবানীপুর ও ডায়মন্ড হারবারে টহল দিচ্ছে ‘মার্কসম্যান’! ভোটমুখী বাংলায় কাশ্মীর থেকে এল বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    Assembly Elections 2026: ভবানীপুর ও ডায়মন্ড হারবারে টহল দিচ্ছে ‘মার্কসম্যান’! ভোটমুখী বাংলায় কাশ্মীর থেকে এল বুলেটপ্রুফ গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Assembly Elections 2026)। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে অশান্তি ঠেকাতে এবার জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়ি নিয়ে এল নির্বাচন কমিশন। বুধবার ডায়মন্ড হারবার ও ভবানীপুরের রুট মার্চেও এই গাড়ি দেখা গিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় সীমান্তবর্তী বসিরহাট, বাগদা, দেগঙ্গা ও আমডাঙ্গা এলাকায় এই যান মোতায়েন করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের সময় কোথাও গুলি চললে বা পাথর ছো়ড়া হলে এই গাড়ি ব্যবহার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনও ব্যক্তি (ভিআইপি) অশান্তির মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আটকে পড়লেও এই গাড়ি তাঁকে উদ্ধার করতে কাজে লাগানো হবে। কোনও এলাকায় জমায়েত বেশি হলে এই গাড়ি থেকে ধোঁয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ভবানীপুরে এই গাড়ির টহলদারি দেখতে রাস্তার পাশে রীতিমতো ভিড় জমে যায়।

    কী এই বুলেটপ্রুফ ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি

    কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে রাজ্যে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর। ডায়মন্ড হারবারে নামানো হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি। ‘মার্কসম্যান’ (Marksman From Kashmir) মূলত একটি লাইট আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, যা সেনা, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশের জন্য তৈরি। শক্তিশালী বুলেটপ্রুফ সুরক্ষা এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বি-৬ স্তরের ব্যালিস্টিক প্রোটেকশন থাকায় ৭.৬২ মিমি পর্যন্ত গুলির আঘাত প্রতিরোধ করতে সক্ষম এই গাড়ি। এমনকি গ্রেনেড বিস্ফোরণের ধাক্কা থেকেও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এর তলার অংশ।

    কী এই বুলেটপ্রুফ ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি

    জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বাংলায় আনা হয়েছে ওই গাড়ি, যার মাথায় মেশিন গান বসানোর জায়গাও রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি ব্যবহৃত হয়। এই গাড়ি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন। সম্পূর্ণ রূপে বুলেটপ্রুফ গাড়িটি। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিও প্রতিরোধ করতে পারে। রাস্তার নীচে পোঁতা বিস্ফোরক থেকে যাত্রীদের রক্ষা করতে বিশেষ ভাবে তৈরি গাড়িটি। ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি চালাতে সক্ষম। চারপাশ পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে ভিশন পোর্ট, ফায়ারিং স্লট। চড়াই-উতরাই পেরোতে সক্ষম গাড়িটি। গাড়িতে একসঙ্গে সাত-আটজন সওয়ার থেকে অভিযান চালাতে পারেন।

    কোথায় কোথায় নামল ওই বিশেষ গাড়ি

    বুধবার, বাহিনীর বিশেষ এই গাড়ির টহলদারি ভবানীপুর থানা থেকে শুরু হয়েছিল। তা পদ্মপুকুর, চক্রবেড়িয়া, শরৎ বোস রোড হয়ে হাজরায় গিয়ে শেষ হয়। খাকি রঙের চারচাকা গাড়িটি আদ্যোপান্ত বুলেটনিরোধক। মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় আধা সামরিক বাহিনী বা সিআরপিএফ এই ধরনের গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। এই গাড়িগুলির নম্বরপ্লেটও জম্মু ও কাশ্মীরেরই। ভবানীপুরের পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় ওই ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি নিয়ে এরিয়া ডমিনেশনের কাজ শুরু করেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। মূলত সন্ত্রাস অধ্যুষিত এলাকা, দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা এবং ভিআইপি-দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ওই গাড়ি ব্যবহার করে ভারতীয় সরকার। এদিন গাড়ির পিছনে দুই জওয়ান ছিলেন। একজন রাইফেল নিয়ে ছিলেন উপরে। গাড়িটি গ্রেনেড হামলা সহ্য করতে পারে। কোনও ক্ষতি হয় না গাড়ির। একে-৪৭ থেকে গুলি চালালেও কিছু হয় না। গাড়ির ভিতরে বসে গুলি চালাতে পারেন জওয়ানরা। উপরে মেশিনগান বসানোর জায়গাও রয়েছে। গাড়ির ভিতর থেকেই নজরদারি চালানো যায়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, হাই রিস্ক বা স্পর্শকাতর বুথগুলিতে ওই গাড়ি ব্য়বহার করা হবে। পাশাপাশি, মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র বাহিনী। এদিন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিভিন্ন জায়গা এরিয়া ডমিনেশনে বেরোতে দেখা যায় সিআরপিএফ জওয়ানদের।

    শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোটের স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    অনেক আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে তারা রুট মার্চ করছে। সঙ্গে রয়েছে পুলিশও। ভবানীপুরে বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ থেকে মাইকে প্রচার চালানো হয়। নির্ভয়ে সকলকে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানায় বাহিনী। বলা হয়, ‘‘আপনারা সকলে সকাল সকাল ভোট দিন। নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলি মেনে চলুন। ভবানীপুর থানা, সিআরপিএফ এবং কমিশন সবসময় আপনাদের সঙ্গে আছে। যে কোনও সমস্যায় বা প্রয়োজনে থানায় ফোন করুন। আমরা কেবল একটি ফোনকলের দূরত্বে রয়েছি। আমরা সবরকম ভাবে সাহায্য করব।’’ কমিশন আগেই জানিয়েছে, যে কোনও মূল্যে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ ভোট নিশ্চিত করা হবে। কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। তার জন্য এর আগে একাধিক তৎপরতা চোখে পড়েছে। এ বার কাশ্মীর থেকে বুলেটনিরোধক গাড়িও পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হল। খাস কলকাতায় সেই গাড়ি টহলদারি শুরু করে দিয়েছে। ভোটারদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে গাড়ি থেকে।

    কোথায় কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে আগামী ৪ মে। তার আগে জেলায় জেলায় প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।প্রথম দফার ভোটে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, দার্জিলিংয়ে মোতায়েন থাকবে ৬১ কোম্পানি বাহিনী, শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে ৪৪ কোম্পানি, কালিম্পংয়ে ২১ কোম্পানি, জলপাইগুড়িতে ৯২ কোম্পানি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে যথাক্রমে ৭৭ ও ১৪৬ কোম্পানি বাহিনী, ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ পুলিশ জেলায় ৬১ ও ৭১ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী, মালদায় ১৭২ কোম্পানি বাহিনী, জঙ্গিপুর ও মুর্শিদাবাদে ৩১৬ কোম্পানি,পূর্ব ও পশ্চিম, ২ মেদিনীপুরে ৪৪৪ কোম্পানি, ঝাড়গ্রামে ৭৪ কোম্পানি, বাঁকুড়ায় ১৯৩ কোম্পানি, পুরুলিয়ায় ১৫১ কোম্পানি, বীরভূমে ১৭৬ কোম্পান, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় মোতায়েন থাকবে ১২৫ কোম্পানি বাহিনী।

  • West Bengal Elections 2026: নির্বাচন বিঘ্নহীন করতে বাংলায় হবে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    West Bengal Elections 2026: নির্বাচন বিঘ্নহীন করতে বাংলায় হবে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে এবার সব চেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে (West Bengal Elections 2026) বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এমন এক রাজ্যে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটার তালিকায় এসআইআর নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে (Central Forces)।

    ২,০০০-এর বেশি কোম্পানি (West Bengal Elections 2026)

    নির্বাচন কমিশনের এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, “ব্যাপক কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং যে কোনও ধরনের অশান্তি রোধ করতে সাহায্য করবে।” প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২,০০০-এর বেশি কোম্পানি প্রয়োজন হতে পারে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েছে। এই মোতায়েনের পরিমাণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সেই নির্বাচনে ভোটের আগে এবং ভোটের সময় মোট প্রায় ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৫০-৩৭০ কোম্পানি ছিল সিআরপিএফ। আধিকারিকদের মতে, এবার বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর কারণ হল আরও ভালো পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নেওয়া, যাতে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিঘ্নহীন হয়।

    ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে নজরদারি

    বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজ্যের সব ভোটকেন্দ্র সম্পূর্ণ ওয়েবকাস্টের মাধ্যমে নজরদারিতে থাকবে, যাতে আধিকারিকরা রিয়েল-টাইমে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। আধিকারিকদের মতে, এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং ভোটারদের আস্থা বাড়বে (Central Forces)।আরও একটি বড় পার্থক্য রয়েছে ভোটগ্রহণের ধাপের সংখ্যায়। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়। এবার নির্বাচন হবে মাত্র দু’দফায়। কর্তাদের ধারণা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির জেরে নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ (West Bengal Elections 2026)।

     

  • Election Commission: দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে আসছে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি মোতায়েন

    Election Commission: দ্বিতীয় দফায় রাজ্যে আসছে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি মোতায়েন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (Election Commission) ২০২৬-এর নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি আধাসামরিক আগামী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, দুই দফায় মোট ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সেই অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১ মার্চের মধ্যে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী ঢুকেছে। নির্ধারিত জেলায় পৌঁছে গিয়েছে প্রথম দফায় রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনী। এবার ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) এসে পৌঁছাবে। জেলায় জেলায় চালানো হবে কঠোর নজরদারি (Election Security)।দ্বিতীয় দফায় আসা ২৪০ কোম্পানি আগামী ১০ মার্চের মধ্যে রাজ্যে তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে।

     

    জেলা ভিত্তিক মোতায়েন পরিকল্পনা (Election Commission)

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে রয়েছে সিআরপিএফ (CRPF), বিএসএফ (BSF), সিআইএসএফ, আইটিবিপি ও এসএসবি। নির্বাচনে (Election Commission) তাঁদের দ্বারা ইভিএম ও স্ট্রংরুম পাহারা, ভোটের দিন (Election Security) নিরাপত্তা, এলাকা দখলমুক্ত রাখা এবং আস্থা ফেরানোর কাজ করানো হবে। সব দায়িত্বের মূলে হল এলাকাকে ভয়মুক্ত করা। প্রত্যেক কোম্পানির ৯টি সেকশনের (Election Security) মধ্যে ৮টি সেকশন সরাসরি বুথ ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবে আর বাকি ১টি কিউআরটি ও তদারকির কাজে থাকবে।

     

    কোথায় কত বাহিনী

    ১০ মার্চের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এই জেলায় আসছে ৩৩ কোম্পানি। বারুইপুর পুলিশ জেলায় ১৩, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় ১১ ও সুন্দরবন পুলিশ জেলায় বাহিনী মোতায়েন থাকছে ৯ কোম্পানি। জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮ কোম্পানি, পূর্ব বর্ধমানে ২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Election Commission) মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২০, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯, মালদায় ১৮, জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ১৫, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১০ কোম্পানি মোতায়েন (Election Security) করা হচ্ছে।

    বাহিনী কোন কোন কাজ করবে?

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, এই বাহিনী (Election Commission) মূলত নিম্নলিখিত কাজগুলো সম্পন্ন করবে।

    • ১>এরিয়া ডমিনেশন: নিয়মিত টহলদারির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
    • ২>আস্থা বৃদ্ধি (Election Security): সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ তৈরি করা।
    • ৩>নজরদারি: বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য জিপিএস (GPS) এবং বডি ক্যাম ব্যবহার করা হবে।

    সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় সহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক অশান্তির খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ১০ মার্চের মধ্যে আসা এই বাহিনীর একটি বড় অংশ এই জেলার ডায়মন্ড হারবার, বারুইপুর এবং সুন্দরবন পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হবে। নির্বাচনকে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

LinkedIn
Share