মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক বা বিতাড়ন প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে বুধবারই নবান্ন থেকে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তবে সেই প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা বৃহস্পতিবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দূর করলেন তিনি। এ দিন হাওড়ায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা বা আদালতে পেশ করার প্রয়োজন নেই; দ্রুত পুশব্যাকের স্বার্থে সরাসরি তাঁদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, হাওড়া স্টেশনে কোনও অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হলে, তাঁকে আইনি হেফাজতে না রেখে সরাসরি সীমান্ত এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার ও জিআরপি (GRP) কর্তাদের ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
হাওড়া স্টেশনে নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ (CM Suvendu Adhikari)
দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল প্রান্তিক হাওড়া স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। এই পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশ রুখতে স্টেশন চত্বরে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “পুলিশ কমিশনার এবং আরপিএফ-কে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (CAA) আওতাভুক্ত নন এমন কোনও অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হাওড়া স্টেশনে ধরা পড়লে, তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় মানবিকতা বজায় রেখে যথোপযুক্ত আহারের ব্যবস্থা করে তাঁকে সরাসরি বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্ত অথবা বসিরহাটের কোনও বিওপি (সীমান্ত চৌকি)-তে (BSF) পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।”
সাপ্তাহিক রিপোর্টের কড়াকড়ি
ধড়পাকড় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রতি সপ্তাহে কতজন অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত হচ্ছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিজের দফতরে রাখতে চান মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)। এই উদ্দেশ্যে প্রতি সপ্তাহের এই সংক্রান্ত খতিয়ান রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG)-র মাধ্যমে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনি প্রেক্ষাপট ও সিএএ (CAA)
উল্লেখ্য, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান— এই ছয়টি ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়কে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে। ভারত সরকার তাঁদের কোনোভাবেই পুশব্যাক করবে না। ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ‘অভিবাসন ও বিদেশি’ আইনের ৩৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল।
প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “যাঁরা সিএএ-র এই পরিধির মধ্যে পড়েন না, তাঁদের চিহ্নিত করে সরাসরি বিএসএফ-এর (BSF) হাতে তুলে দিতে হবে। কেন্দ্রের পাঠানো এই পূর্ববর্তী নির্দেশিকাটি আগের সরকার কার্যকর করেনি বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, বর্তমান সরকার এটি অবিলম্বে রাজ্যে কার্যকর করছে। নির্বাচনের প্রচারে দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সরকার এই কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল।”

Leave a Reply