Tag: Donald Trump

Donald Trump

  • Donald Trump: ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দিলেন মাচাদো! আদৌ হস্তান্তর করা যায়? কী বলছে নিয়ম?

    Donald Trump: ট্রাম্পের হাতে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার তুলে দিলেন মাচাদো! আদৌ হস্তান্তর করা যায়? কী বলছে নিয়ম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁর স্বপ্ন ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার হস্তগত করা। কিন্তু তাঁর সেই কাঙ্খিত নোবেল পুরস্কার অধরাই রয়ে গিয়েছে। শেষমেশ অবশ্য দুধের স্বাদ ঘোলেই মেটালেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। হোয়াইট হাউসে গিয়ে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো (Maria Corina Machado) যখন তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন, তখন সেই মুহূর্তে ট্রাম্পের মুখে ছিল অর্থবহ এক হাসি। এই সম্মান বহুদিন ধরেই তাঁর হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষা, এবং তিনি কখনওই তা প্রকাশ্যে চাওয়ার ব্যাপারে পিছপা হননি। পুরস্কার হাতে নিয়ে এক গাল হাসি হেসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “দারুণ এক সৌজন্যমূলক পদক্ষেপ।”

    নোবেল পুরস্কার আদৌ হস্তান্তর করা যায়? (Donald Trump)

    মাচাদো শুধু ট্রাম্পকে পদকটি উপহারই দেননি, তিনি সেটি হোয়াইট হাউসেই রেখে গিয়েছেন। ট্রাম্পও প্রকাশ্যেই তা গ্রহণ করেন এবং একে পারস্পরিক সম্মানের প্রতীকী রূপ বলে অভিহিত করেন। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের পদক অন্য কারও হাতে তুলে দিলেন। প্রশ্ন হল, এভাবে কি নোবেল পুরস্কার আদৌ হস্তান্তর করা যায়? মাচাদোর হোয়াইট হাউস সফরের কয়েক দিন আগেই এই বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছিল নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট। রবিবার প্রতিষ্ঠানটি আবারও জানায়, নোবেল শান্তি পুরস্কার কখনও হস্তান্তর, ভাগ বা প্রত্যাহার করা যায় না। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পকে দিতে পারেন। তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই বিষয়টি পুনরায় স্পষ্ট করা হয় (Donald Trump)।

    নোবেল কমিটির বক্তব্য

    এক বিবৃতিতে নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট জানায়, নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও স্থায়ী। নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধির উল্লেখ করে তারা জানায়, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও আপিলের সুযোগ নেই। পাশাপাশি তারা জানায়, পুরস্কার পাওয়ার পর কোনও বিজয়ীর বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে (Maria Corina Machado) নোবেল কমিটি কোনও মন্তব্য করে না। বিবৃতিতে বলা হয়, “একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়ে গেলে তা আর কখনও প্রত্যাহার, ভাগ বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত এবং চিরস্থায়ী।”

    নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এই মন্তব্য করে। নোবেল শান্তি পুরস্কার, যাকে সব নোবেল পুরস্কারের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করা হয় এবং যা মানবজাতির সর্বাধিক কল্যাণে অবদান রাখা ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, চলতি বছর মাচাদোকেই দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে তিনি ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তিনি এই পুরস্কারটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেবেন (Donald Trump)।

    পরবর্তী কালে মাচাদো জানান, এই উপহার তিনি দিয়েছেন ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবে (Maria Corina Machado)। হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর মাচাদো বলেন, “আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার দিয়েছি। আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর ব্যতিক্রমী অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই, তাঁকে এই উপহারটি দিয়েছি।” বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, “মারিয়া আমার করা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারটি আমায় দিয়েছেন। পারস্পরিক সম্মানের এক অসাধারণ রূপ। ধন্যবাদ, মারিয়া (Donald Trump)!”

  • US Immigrants Visa: বাংলাদেশি-পাকিস্তানিদের ঢোকা বন্ধ আমেরিকায়! ভারতীয়দের নিয়ে আপত্তি নেই ট্রাম্প প্রশাসনের

    US Immigrants Visa: বাংলাদেশি-পাকিস্তানিদের ঢোকা বন্ধ আমেরিকায়! ভারতীয়দের নিয়ে আপত্তি নেই ট্রাম্প প্রশাসনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রবেশ নিষিদ্ধ আমেরিকায়। ৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (immigrant visa) প্রক্রিয়া বন্ধ করল আমেরিকা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে এই ঘোষণা করা হয়। ৭৫টি দেশের তালিকায় নাম আছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের। যদিও ভারতের নাম নেই এই তালিকায়। ভারতীয়দের ভিসা দেওয়ায় আপত্তি নেই আমেরিকার। যেসব দেশের অভিবাসী (US Immigrants Visa) “আমেরিকার জনগণের কাছ থেকে অগ্রহণযোগ্য হারে কল্যাণ গ্রহণ করছে”, সেইসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হবে, বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক সোশাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছে, ‘নতুন অভিবাসীরা আমেরিকার জনগণের কাছ থেকে সম্পদ বের করে নিচ্ছে না, এই বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ জারি থাকবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, যে সব দেশ থেকে নাগরিকরা আমেরিকায় এসে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে পারে, সেই সমস্ত দেশের নামই তালিকায় রাখা হয়েছে। আমেরিকায় নিজেদের জীবন-যাপনে সক্ষম নন, সরকারি সাহায্যের ভরসায় যারা থাকবেন, এমন ব্যক্তিদের আমেরিকায় ঢোকা আটকাতেই ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী ভিসা (US Immigrants Visa) বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকানদের পকেট থেকে টাকা নিয়ে সে দেশে বসবাস করছে অন্য দেশের নাগরিকরা। এই প্রক্রিয়া আটকাতেই ভিসা বন্ধের সিদ্ধান্ত।

    স্থগিতাদেশ শুরু কবে থেকে

    আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই স্থগিতাদেশ শুরু হতে চলেছে। কতদিন এই ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সমস্ত কনস্যুলার অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন নির্দেশ চালু হবে। তবে যারা নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা, ট্যুরিস্ট ভিসা বা বিজনেস ভিসায় আমেরিকা যেতে চাইবেন, তাদের কোনও সমস্যা হবে না।

    ৭৫টি দেশের তালিকায় কারা

    এই মর্মে ৭৫টি দেশের তালিকা আমেরিকার সরকার এখনও জনসমক্ষে নিয়ে না এলেও, ফক্স নিউজের একটি রিপোর্ট সম্ভাব্য দেশগুলির তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় রয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগা, বার্বুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুস, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্য়ামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কঙ্গো, কিউবা, ডমিনিকা, মিশর, ইরিট্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনিয়া, হাইতি, ইরান, ইরাক, আইভরি কোস্ট, জামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরঘিস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসিডোনিয়া, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো, মন্টেনেগ্রো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজিরিয়া, রিপাবলিক অব কঙ্গো, রাশিয়া, রোয়ান্ডা, সেনেগাল, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, তাইল্যান্ড, টোগো, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট।

  • India US Relations: ভারতের বন্ধুত্ব অপরিহার্য, আগামী বছর আসতে পারেন ট্রাম্প! দাবি নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

    India US Relations: ভারতের বন্ধুত্ব অপরিহার্য, আগামী বছর আসতে পারেন ট্রাম্প! দাবি নয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ভারত-আমেরিকা (India US Relations) মৈত্রীর বার্তা। সাম্প্রতিক সময়ে শুল্ক বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে টানাপড়েন বেড়েছে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে। ভারতের উদ্দেশে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আবহে নতুন বার্তা নিয়ে এলেন ভারতে নবনিযুক্ত মার্কিন দূত সার্জিও গোর (Sergio Gor)। দায়িত্ব নিয়েই তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, “ভারতের থেকে কোনও পার্টনারই (সঙ্গী-রাষ্ট্র) বেশি অপরিহার্য নয়।” পাশাপাশি তিনি জানান, আগামী বছরই ভারত সফরে আসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    ভারত আমেরিকার কাছে অপরিহার্য

    দিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে বক্তব্য রাখার সময় গোরের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের (India US Relations) চেয়ে অপরিহার্য আর কোনও দেশ নেই। গোর বলেন, “আমেরিকার দূত হিসেবে এখানে আসাটা দারুণ ব্যাপার। আমি এই অসাধারণ দেশে গভীর শ্রদ্ধা এবং একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এসেছি : আমাদের দুই দেশের মধ্যে পার্টনারশিপকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়া। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম গণতন্ত্র এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যে সংযোগস্থাপন…আমার সঙ্গে শেষ নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর শেষ ভারত সফর এবং ভারতের মহান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেছিলেন। আমি আশা করি, শীঘ্রই প্রেসিডেন্ট আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন, আশা করি পরের বছর বা বছর দু’য়েকের মধ্যে…প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভোর ২টোর সময় ফোন করার একটা অভ্যাস আছে এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে সময়ের পার্থক্যে, এটা খুব ভাল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।”

    মোদি-ট্রাম্প ভালো বন্ধু

    ভারতে (India US Relations) দায়িত্ব নিয়েই ট্রাম্প-মোদির ভাল বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন মার্কিন দূত। সার্জিও গোর জোর দিয়ে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্ব খুব ভালো। বাস্তব এবং প্রকৃত বন্ধুরা তাঁদের মতপার্থক্য সমাধান করতে পারে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, “প্রকৃত বন্ধুদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা সবসময় তাঁদের মতপার্থক্য সমাধান করে নেয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, নয়াদিল্লি এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্কের জন্য বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, উভয় দেশ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য-সহ অন্যান্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কথায়, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সারা বিশ্ব ঘুরেছি এবং আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে-প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব বাস্তব, এতে কোনও খাদ নেই।” গোর আরও ঘোষণা করেন যে, ভারত ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটের সদস্য হবে। তিনি বলেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে আগামী মাসে এই দেশগুলোর জোটে ভারতকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।”

    ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোট কী?

    একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং উদ্ভাবন-চালিত সিলিকন সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি কৌশলগত উদ্যোগ। গত ডিসেম্বরেই ‘প্যাক্স সিলিকা’ তৈরির কথা জানিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে মূলত সিলিকন উপত্যকার সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধশালী, নিরাপদ এবং উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে থাকবে বিরল খনিজ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ এবং কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) পরিকাঠামো। সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীতে থাকছে জাপান, রিপাবলিক অফ কোরিয়া (দক্ষিণ কোরিয়া), সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন, ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অস্ট্রেলিয়া। এছাড়াও রিপাবলিক অফ চায়না বা তাইওয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ এবং কানাডাকে নিয়ে ‘প্যাক্স সিলিকা’ গঠন করতে চলেছে আমেরিকা।

    পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ

    মোদি এবং ট্রাম্পের বন্ধুত্বের(India US Relations) কথা বহুল চর্চিত। কখনও মোদির আমেরিকা সফর, আবার কখনও ট্রাম্পের এ দেশে আসা— এ সবই নতুন বার্তা বহন করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে বলে দাবি। নেপথ্যে বণিজ্যচুক্তি জট এবং ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক চাপানো! দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। এর জন্য ট্রাম্পের ‘নীতি’কে দায়ী করেছে বিশ্ব। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের আবহে বাণিজ্য (trade) নিয়ে ফের সক্রিয় আলোচনায় বসতে চলেছে ভারত ও আমেরিকা (India–U.S.)। আগামিকাল, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি এই বিষয়ে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ হবে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor)। সোমবার নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের দিনই এই সুসংবাদের কথা জানান তিনি।

    বাণিজ্য-চুক্তি নিয়ে আলোচনা

    গোরের মন্তব্যে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজার। সোমবার দুপুরে বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি ৫০ (Nifty 50) প্রায় ২২০ পয়েন্ট ঘুরে দাঁড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে লেনদেন করে। নিফটি ছিল প্রায় ২৫,৭৫০-এর কাছাকাছি, আর সেনসেক্স (Sensex) ওঠে প্রায় ২০০ পয়েন্ট। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও (Piyush Goyal) আলাদা মন্তব্যে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি। সার্জিও গোর বলেন, আমেরিকা ও ভারত কেবল অভিন্ন স্বার্থে আবদ্ধ নয়, এই সম্পর্ক সর্বোচ্চ স্তরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত। গোরের দাবি, বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা সহজ কাজ নয়। তবু ওয়াশিংটন সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। ভারত সফর প্রসঙ্গে গোর জানান, তাঁর দায়িত্বই হল ভারত–আমেরিকা (India US Relations) অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

  • Syria: আইএস ঘাঁটি লক্ষ্য করে সিরিয়ার ৩৫ টার্গেট কেন্দ্রে নিশানা আমেরিকার

    Syria: আইএস ঘাঁটি লক্ষ্য করে সিরিয়ার ৩৫ টার্গেট কেন্দ্রে নিশানা আমেরিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সিয়ার (Syria) থেকে আইএসকে নির্মূল করতে অনেকদিন ধরেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে আমেরিকা প্রশাসন। জঙ্গি হামলায় ট্রাম্পের (Donald Trump) মার্কিন সেনা আধিকারিকের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গত মাসেই এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড় হামলা চালিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। একে, শাসক বিরোধী বিক্ষোভের জেরে উত্তাল ইরান, ঠিক সেই সময়েই আইএসআইএসের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে আকাশ পথে হামলা চালায় আমেরিকা। জানা গিয়েছে, অন্তত ৩৫টি এলাকায় নিশানা করে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

    এফ-১৫ই, এ-১০ এবং এসি ১৩০ বিমান ব্যবহার (Syria)

    মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডার মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এই হামলার কথা জানান। এফ-১৫ই, এ-১০ এবং এসি ১৩০ যে গানশিপ সহ ২০টি যুদ্ধ বিমান সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে। একই ভাবে হামলায় ব্যবহার করা হয় এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং জর্ডনের এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান। ৩৫টি নিশানায় আনুমানিক ৯০টিরও বেশি বোমা ফেলা হয়েছে। ক্যাপ্টেন হকিন্স বলেন, “আইএসকে (Syria) নির্মূল করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তার ভিত্তিতে সিরিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জঙ্গি হামলা দমন এবং আমেরিকা (Donald Trump) ও তাদের সঙ্গীদের সুরক্ষা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

    হকআই স্ট্রাইক

    পালমিরা আক্রমণের বদলা হিসেবে একে “অপারেশন হকআই স্ট্রাইক” হিসেবে বিবেচনা করে হানা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। টরেস-টোভার এবং হাওয়ার্ড উভয়ই আইওয়া ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের পর সিরিয়ার (Syria) শাসক বাশার আল আসাদের পতনের পর গত মাসে দুই মার্কিন নাগরিককে হত্যা করা হয়েছিল। তবে আমেরিকার মতে এই হত্যার দায় কেবলমাত্র আইএসের। ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন তাই কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই হামলা শুরু হয়েছে। গত ২৬ তারিখে আইএসের পশ্চিম এশিয়ার প্রধান নেতা ধিয়া জাওবা মুসলি আল হারদানি এবং তাঁর দুই পুত্র নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী।

  • Iran Protest: ইরানে আরও তীব্র খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ, নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে সাড়া

    Iran Protest: ইরানে আরও তীব্র খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভ, নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে সাড়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থায় দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় প্রমাণ করছে ইরান। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ইরানজুড়ে (Iran Protest) তীব্র বিক্ষোভ। বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এবং টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা। রাজধানী শহর তেহরান সহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেন। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকে এই গণবিক্ষোভ শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। তেহরানের বহু বাসিন্দা রাস্তায় জড়ো হয়েছেন। এমনকী, ঘর থেকেও স্লোগান দিতে দেখা যায় বহু মানুষকে। দেশজুড়ে যে অস্থিরতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে তা ১২ দিনে পড়ল। এই বিক্ষোভের মূলে রয়েছে মূলত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং জীবনযাত্রার অসম পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ চরমে পৌঁছতেই ইন্টারনেট এবং ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় ইরান জুড়ে।

    বিক্ষোভের সূত্রপাত

    গত দেড় সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে ইরানে (Iran Protest) । গত ২৭ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারেরা দেশে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভের আঁচ। প্রাথমিক ভাবে দেশের আর্থিক অবস্থার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চললেও ক্রমে তা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Anti-Khamenei protests) বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিক্ষোভে পরিণত হয়। ১২ দিন পরেও এই বিক্ষোভ থামার লক্ষণ নেই। বিপর্যস্ত অর্থনীতির মধ্যে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ ইরানিরা রাস্তায় নেমে এসে ক্ষমতাসীন ধর্মতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অধীনে ইরানের সরকার ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এদিকে, দেশের বিচার বিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানরা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্তত কয়েকজনকে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির ডাকা বিক্ষোভে সাড়া দিতে দেখা গিয়েছে। পাহলভির বাবা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের ঠিক আগে ইরান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বিক্ষোভগুলোতে শাহের সমর্থনে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা অতীতে মৃত্যুদণ্ডের কারণ হতে পারত, কিন্তু এখন ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পুরনো ক্ষোভকেও তুলে ধরছে।

    রেজা পাহলভির আহ্বান

    রেজা পাহলভি শুক্রবার রাত ৮টায় জনগণকে ফের রাস্তায় জড়ো হয়ে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র নিপাত যাক। স্বৈরাচারী শাসকের পতন হোক। ইরানের মহান জাতি, বিশ্বের চোখ আজ আপনাদের দিকে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামুন। আপনাদের দাবি জোরাল ভাবে তুলে ধরুন। আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্র এবং তার নেতা ও বিপ্লবী গার্ডকে সতর্ক করছি। গোটা বিশ্ব এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর আপনাদের উপর রয়েছে। জনগণের উপর দমন পীড়নের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।” সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে যুবরাজ পাহলভি খামেনেই প্রশাসনকে তোপ দাগেন। তিনি লেখেন, “লাখ লাখ ইরানবাসী আজ স্বাধীনতা চেয়ে মিছিল করেছেন। তার জবাব দিতে প্রশাসন ইরানে যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।” ওই পোস্টেই নির্বাসিত যুবরাজ ইরানের প্রতিবাদী জনতার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলিকে নীরবতা ভেঙে এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    গোঁড়া ধর্মীয় শাসনতন্ত্রকে কঠোর জবাব

    নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি (প্রাক্তন শাসক রেজা শাহ পাহলভির পুত্র) জনগণকে গণপ্রতিবাদে নামার ডাক দেওয়ার পরেই পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে ইন্টারনেট এবং টেলিফোন সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে ইরানের গোঁড়া ধর্মীয় শাসনতন্ত্রকে (Anti-Khamenei protests) অতি কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরেই ইরানের প্রশাসন ইন্টারনেট এবং টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। তাবরিজ বিমানবন্দরে বিমান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই সেনা-পুলিশের হামলায় ইরানে ৩৯ জন প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারির সুরে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা চলবে না। বৃহস্পতিবার আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “যদি তারা (ইরান প্রশাসন) মানুষ মারতে শুরু করে, তা হলে আমরা তাদের উপর খুব কঠিন আঘাত হানব।” ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুঁশিয়ারির পর সম্প্রতি সুর নরমের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্রই তাঁদের উপর কঠোর পদক্ষেপ করা চলবে না।

    ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতা

    ইরানের (Iran Protest) ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৫টি প্রদেশে এই বিক্ষোভ চলছে, কিছু প্রদেশে ১০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভের মূল কারণ রিয়ালের মার্কিন ডলারের বিরুদ্ধে হঠাৎ পতন ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি। এই পরিস্থিতিতে নয়া দিল্লি ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা (India advisory for citizens) জারি করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, “ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোবেন না।” এছাড়াও ভারতীয় নাগরিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের (PIO) সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বিক্ষোভ বা সশস্ত্র সংঘর্ষের এলাকায় না যাওয়ার জন্য।

    ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে

    ইরানের শহর ও গ্রামীণ এলাকা জুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা ক্রমশ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে অনেক বাজার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিংসায় অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন এবং ২,২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। যার কারণে ঘরেই চাপে রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Anti-Khamenei protests)। ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ক্লাউডফ্লেয়ার এবং অ্যাডভোকেসি গ্রুপ নেটব্লকস ইন্টারনেট বিভ্রাটের খবর দিয়েছে এবং উভয়ই এর জন্য ইরান সরকারের হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছে। দুবাই থেকে ইরানে ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। অতীতেও এ ধরনের বিভ্রাটের পর সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। পাহলভির আহ্বান ভবিষ্যতে বিক্ষোভের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও অস্পষ্ট।

  • US Visa Bond: বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ড! আমেরিকায় যেতে গেলে দিতে হতে পারে ১৫০০০ ডলার

    US Visa Bond: বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ড! আমেরিকায় যেতে গেলে দিতে হতে পারে ১৫০০০ ডলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার ভিসা (US Visa Bond) পেতে এখন থেকে আরও বেশি অর্থ খরচ করতে হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের। এবার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি। সেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ। মার্কিন ভিসা বন্ড দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশ-সহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন বিদেশ দফতর। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

    কোন কোন দেশ ভিসা-বন্ডের আওতায়

    আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড (US Visa Bond) জমা দেওয়ার নিয়ম আগেই চালু করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ, ভেনেজুয়েলা-সহ আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মার্কিন বিদেশ দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজিরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা-সহ একাধিক দেশ। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনও অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

    ভিসা বন্ড কী

    ভিসা বন্ড (US Visa Bond) হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে কিছু দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়-যাতে তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা মেনে চলেন। প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো বিদেশি পড়ুয়া, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।

    কেন নেওয়া হয় ভিসা বন্ড

    ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ভিসার (Visa Bond For Bangladesh) মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও অনেকেই আমেরিকায় থেকে যাচ্ছেন। সেই প্রবণতায় রাশ টানতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি হোয়াইট হাউসের। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই তাঁর প্রশাসন আমেরিকায় থাকা বহু অবৈধবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে। তা ছাড়া এইচ-১বি ভিসা, গ্রিন কার্ডের জন্যও আরও কড়া নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এমনকি ভিসা আবেদনকারীর সমাজমাধ্যমের পোস্টের উপরেও নজর রাখছেন মার্কিন অভিবাসন দফতরের আধিকারিকরা।

    কীভাবে ফেরত পাওয়া যাবে ভিসা বন্ড

    এই ভিসা বন্ড (US Visa Bond) নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যে সব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সে সব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে বা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন অথবা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম), তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

    বাংলাদেশিদের জন্য মাত্র তিনটি বিমানবন্দর

    ভিসা বন্ড (US Visa Bond) প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি যাত্রীরা কেবল নিম্নোক্ত বিমানবন্দরগুলো দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সেগুলো হল- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনও পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা বন্ড ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে। এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • S Jaishankar: “সেখানকার মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকেন”, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

    S Jaishankar: “সেখানকার মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকেন”, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি (Venezuela Crisis) নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সে দেশের ‘অপহৃত’ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখন নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাস সম্পর্কিত অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণের সুরক্ষা ও কল্যাণই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।” তিনি বলেন, “আমরা এখানে সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসে পরিস্থিতির সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানাই, যাতে ভেনেজুয়েলার মানুষ সুরক্ষিত থাকেন।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর? (S Jaishankar)

    জয়শঙ্কর আরও বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক সব সময় ভালো। তাই ওই দেশটি নিশ্চয়ই সবসময় ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সহযোগিতাই আশা করে।” চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভোরে আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী এবং স্পেশাল অপারেশন ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যায়। ম্যানহাটানে ফেডারেল আদালতে হাজিরও করা হয় ওই দম্পতিকে। আদালতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন। বক্তব্য শুরু করেন “আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট” বলে (Venezuela Crisis)।

    নির্দোষ, দাবি মাদুরোর 

    আদালতে স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি নির্দোষ, দোষী নই এবং আমি একজন সৎ মানুষ।” বিচারকের সামনে তিনি স্পষ্টভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নৈশ অভিযানে ভেনেজুয়েলার এবং কিউবা নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর। কিছু মার্কিন সৈনিকও জখম হয়েছেন (S Jaishankar)। জয়শঙ্কর সাফ জানিয়ে দেন, ভারতের উদ্বেগ লিডারশিপ পরিবর্তনের নৈতিক দিক ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতি প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক স্বার্থের জন্য যে কোনও পদক্ষেপে মানুষের কল্যাণই মূল ভিত্তি হওয়া উচিত (Venezuela Crisis)।

    মামলার পরবর্তী শুনানি

    ১৭ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে (S Jaishankar)। এদিকে, নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার শীর্ষ আদালতের নির্দেশে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodriguez) অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধানের পদ শূন্য হয়ে পড়ায় সৃষ্ট প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালতের একটি সূত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে (Venezuela Crisis)। ওই দেশটির পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজরও রয়েছে (S Jaishankar)।

  • Trump-Modi: ‘‘মোদির মতো জনপ্রিয় নন ট্রাম্প’’, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ইয়ান ব্রেমারের

    Trump-Modi: ‘‘মোদির মতো জনপ্রিয় নন ট্রাম্প’’, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ইয়ান ব্রেমারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কখনও শুল্ক চাপানোর হুমকি। কখনও আবার পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে ভারতবিরোধী মন্তব্য। প্রায় প্রতি দিনই ‘বিতর্কিত’ বিবৃতি দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Trump-Modi) হু-হু করে কমছে জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনই অভিমত, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার।

    কেন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাঁটা

    ইয়ান ব্রেমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন— যেমন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের সামরিক অভিযান— কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল তিনি নাও পেতে পারেন। তিনি বলছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলি স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক লাভ এনে দিতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে তা বদলে যেতে পারে। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ট্রাম্পের তুলনা করে বলেছেন, মোদি দীর্ঘসময় ধরে জনপ্রিয়তার কারণে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যা তাঁর সিদ্ধান্তগুলিকে স্থিতিশীল করে তুলেছে। কিন্তু দেশের ভিতরেই ট্রাম্পের বিরোধিতা অনেক বেশি। ট্রাম্পের বয় ৮০ বছর। প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর মেয়াদ ২০২৯ পর্যন্ত সীমিত—এবং পরবর্তী কোনও প্রেসিডেন্ট তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করে দিতে পারে। ব্রেমার বলেন, চিনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের মোদির মতো স্থায়ী নেতৃত্ব নেই মার্কিন নেতৃত্বে, যেখানে প্রতি চার বছর পরপর শাসক পরিবর্তন হয় এবং সেই কারণে অনেক নীতি ও পদক্ষেপ কার্যবসিত হয় না।

    ভেনেজুয়েলার তেল, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ

    ভেনেজুয়েলাতে তেলের বড় মজুদ থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন, বলে মনে করেন ব্রেমার। বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা আগের ৩০ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম। তেলের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগগুলোতে বিশ্বাস থাকতে হয়— তাই মাত্র কয়েক বছর মেয়াদি একজন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা তা রূপান্তর করতে সর্বদা যথেষ্ট নয়। ব্রেমার বলেন, “তাই এমন ভাবনা ঠিক নয় যে আমেরিকান কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার সব তেল দখল করে নেবে।”

    মোদির জনপ্রিয়তা বেশি

    ব্রেমার মনে করেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের কথা বলে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয়ত, তাঁর শুল্কনীতির জেরে ক্ষতি হচ্ছে দেশের তাবড় বড় শিল্পপতিদের। তা ছাড়া বর্ষীয়ান রিপাবলিকান নেতার বিদেশনীতি নিয়েও সেখানকার আমজনতার মধ্যে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তাঁদের একাংশের দাবি, ‘বন্ধু’দের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করছেন ট্রাম্প। আর ‘সুপার পাওয়ার’ থাকার গর্বে আন্তর্জাতিক স্তরে ধীরে ধীরে একা হচ্ছে আমেরিকা। দেশেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কম ও মেয়াদ সীমাবদ্ধ। ফলে তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্টের সময় বাতিল বা বদলে যেতে পারে। মোদি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে দেশে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছেন। ভারতে তাঁর স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নেই।

  • Donald Trump: ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ, অনিশ্চিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি?

    Donald Trump: ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ, অনিশ্চিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত–মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্কে ফের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার (Unjust Tariff) হুমকি দিয়ে তিনি প্রকাশ্যে চাপ বাড়ালেন ভারতের ওপর। সাম্প্রতিক মন্তব্য ও বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আগ্রাসী অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নীতি বহু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মানজনক এবং অগণতান্ত্রিক বলে সমালোচিত হচ্ছে।

    ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ (Donald Trump)

    ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ছ’টি দেশের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এই তালিকায় সরাসরি ভারতের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ভারত যদি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন হুমকি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রফতানি খাতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় শিল্প ও রফতানিকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা (Donald Trump)।

    বাণিজ্য আলোচনার প্রধান বাধা

    দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ভারত–মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের কৃষি ও দুধের বাজার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বাজার খুলে দিতে রাজি হয়নি নয়াদিল্লি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। বিপন্ন হবে খাদ্য নিরাপত্তা। ওয়াশিংটনের লাগাতার চাপ সত্ত্বেও ভারত এই বিষয়ে তার নীতি থেকে এক চুলও সরেনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটিই ভারতের নীতিগত স্বাধীনতার প্রকাশ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই অবস্থান মেনে নিতে না পেরে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ভারতকে শাস্তি দিতে চাইছে বলেই অভিযোগ (Unjust Tariff)। গত বছর সেপ্টেম্বর–নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল ভারত-মার্কিন এই বাণিজ্য চুক্তি। কিন্তু তা এখনও ঝুলে রয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও পড়েছে প্রশ্নের মুখে (Donald Trump)।

    মার্কিন হুমকি!

    ভারতের ওপর চাপ আরও খানিক বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, তিনি এমন একটি আইন খসড়া করেছেন যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের প্রস্তাবকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের বাণিজ্য নীতিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আর একটি উদাহরণ। ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার অধিকারকে তোয়াক্কা না করে ট্রাম্প প্রশাসন ভয় দেখিয়ে আনুগত্য আদায়ের চেষ্টা করছে বলেই অভিযোগ (Donald Trump)।

    ট্রাম্পের পদক্ষেপে অস্থিরতা

    ভারত ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ একাধিক অঞ্চলে অস্থিরতার সৃষ্টি করছে। ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তাঁর দাবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া ও চিনের নৌবাহিনীর সম্ভাব্য তৎপরতা গ্রিনল্যান্ডকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছে। তাঁর এই বক্তব্য ফের একবার ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক নিয়ম, কূটনৈতিক শালীনতা ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের প্রতি অবহেলার শামিল বলেই অভিযোগ (Unjust Tariff)। পশ্চিম এশিয়ায়, বিশেষ করে ইরানে, পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে পারেন (Donald Trump)।

    মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি

    এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।” এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত সরকার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে পূর্ব এশিয়ায়ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে চিন তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে পারে। এর ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Unjust Tariff)। এদিকে, মার্কিন আগ্রাসী কূটনীতি ও একের পর এক ভূ-রাজনৈতিক সংকট বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বৈশ্বিক বাজারে। লগ্নিকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার দামে।

    সোনার দামে প্রভাব

    আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম এক লাফে ১২৬ মার্কিন ডলার বেড়ে পৌঁছেছে ৪,৪৫৮ ডলারে। ভারতের বাজারেও সোনার দাম দ্রুত বেড়েছে। সোমবারই সোনার দাম বেড়েছে ১,৭৬০ টাকা প্রতি আউন্স। বিশ্ববাজারে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই সোনার দাম আরও ২,০০০ টাকার বেশি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। একই সঙ্গে বাড়তে পারে রুপোর দামও।সার্বিকভাবে, ট্রাম্পের মুখোমুখি সংঘাতমুখী নীতি—যার মধ্যে শুল্ক হুমকি, সরকার পরিবর্তনের রাজনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা রয়েছে, শুধু ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। এর ঠিক উল্টো দিকে তাকালে দেখা যাবে, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। কৃষক, শ্রমিক ও দেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় আপোসহীন মনোভাব বজায় (Unjust Tariff) রেখে নয়াদিল্লি দায়িত্বশীল ও সার্বভৌম বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করছে (Donald Trump)।

  • Trump-Zelensky Meet: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা, রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি

    Trump-Zelensky Meet: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা, রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নববর্ষের আগেই রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে (Trump-Zelensky Meet) বসতে চলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক হওয়ার কথা। জেলেনস্কি জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ থামলে কোন কোন এলাকা কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এই বিষয়টিই আলোচনার মূল কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, এই সংঘর্ষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ। তবে, রবিবার এই বৈঠকের আগে শনিবার ভোরে কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

    ভূখণ্ডের প্রশ্নই প্রধান

    দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনায় সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূখণ্ডের প্রশ্ন। জেলেনস্কি কিয়েভে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও প্রায় চূড়ান্ত। অতীতে সোভিয়েত-পরবর্তী সময়ে দেওয়া নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি কার্যত ব্যর্থ হওয়ায় এই বৈঠক কিয়েভের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কি (Trump-Zelensky Meet) জানান, যুক্তরাষ্ট্র ১৫ বছরের জন্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তার একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। যা পুনরায় নবীকরণ করা যাবে। তবে ইউক্রেন আরও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চায়, যাতে ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসন রোখা যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা ঘোষণা করে জেলেনস্কি বলেন, নতুন বছরের আগেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। এক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, “সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ডনবাস এবং জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র – এই দু’টি বিষয় অবশ্যই আলোচনায় থাকবে। পাশাপাশি আরও অনেক প্রসঙ্গ নিয়েও কথা হবে।”

    ওয়াশিংটনের হাতেই নিয়ন্ত্রণ

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে (Russia Ukraine war talks) মার্কিন মধ্যস্থতায় যে শান্তি প্রক্রিয়া চলছে (Ukraine peace plan), তার নিয়ন্ত্রণ যে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের হাতেই, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির (Volodymyr Zelensky) সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের ঠিক আগেই (Trump Zelensky meeting) ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, তাঁর অনুমোদন ছাড়া জেলেনস্কির হাতে কার্যত কিছুই নেই। তবে রবিবারের বৈঠক ভাল হবে বলেই আশাবাদী ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি জানান, শীঘ্রই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমি পুতিনের সঙ্গে খুব শিগগিরই কথা বলব, যতবার দরকার পড়বে, কথা হবে।”

    গণভোট করতে রাজি ইউক্রেন

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ইউক্রেনে রাশিয়ার (Russia Ukraine War) পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ থামাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তারই অঙ্গ এই আলোচনা। জেলেনস্কি জানান, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে গণভোট করতে তিনি রাজি, তবে শর্ত একটাই। রাশিয়াকে অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে, যাতে ইউক্রেন সেই গণভোটের প্রস্তুতি নিতে এবং তা আয়োজন করতে পারে। বৈঠকের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ। যুদ্ধের শুরুর দিকেই এই কেন্দ্র দখল করে নেয় রাশিয়া। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানান, ইউক্রেনের ২০ দফা পরিকল্পনা মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচিত প্রস্তাবের সঙ্গে মিলছে না। যদিও তিনি ইন্টারফ্যাক্সকে বলেন, শান্তি আলোচনায় একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’-এ পৌঁছনো সম্ভব।

    মস্কোর অবস্থান বেশ কড়া

    অন্যদিকে মস্কোর অবস্থান বেশ কড়া। রাশিয়া চায়, ইউক্রেন পূর্ব ডোনেৎস্ক অঞ্চলের সেই অংশগুলি থেকেও সেনা সরিয়ে নিক, যেগুলি প্রায় চার বছরের যুদ্ধে এখনও পুরোপুরি দখল করতে পারেনি রুশ বাহিনী। রাশিয়ার লক্ষ্য, সম্পূর্ণ ডনবাস অঞ্চল, ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা। ইউক্রেনের অবস্থান সম্পূর্ণ উল্টো। কিভ চায়, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই সংঘর্ষ বন্ধ হোক। এই টানাপড়েনের মাঝেই আপসের পথ খুঁজতে আমেরিকা প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেন যদি ওই এলাকা ছাড়ে, তাহলে সেখানে একটি ‘ফ্রি ইকোনমিক জোন’ গঠন করা হবে। যদিও এই অর্থনৈতিক অঞ্চল কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ক্রেমলিন সূত্রে জানানো হয়েছে, পুতিনের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে মার্কিন প্রস্তাবগুলি নিয়ে মস্কোর অবস্থান কী, তা প্রকাশ করা হয়নি। মস্কো দাবি করেছে, আলোচনায় “ধীর কিন্তু স্থির অগ্রগতি” হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাস থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহারের জেলেনস্কির প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

    যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাব

    হোয়াইট হাউস প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে একটি কার্যত নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল গঠন করা হবে, যেখানে উভয় পক্ষ সেনা মোতায়েন করবে না। এতে বিতর্কিত এলাকার আইনগত মালিকানা প্রশ্নটি আপাতত এড়ানো যাবে। তবে অঞ্চলগত দাবি এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ এখনো সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। রাশিয়া ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ডনবাস থেকে ইউক্রেনীয় সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হলে তারা অঞ্চলটি দখল করে নেবে। সর্বশেষ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ন্যাটোর অনুচ্ছেদ–৫-এর আদলে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৮ লাখে বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে—যা রাশিয়ার আপত্তির অন্যতম কারণ।

LinkedIn
Share