Tag: health tips

health tips

  • Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কোথাও রাস্তার পাশে, আবার কোথাও আবর্জনার স্তূপের মাঝেই পড়ে রয়েছে নিথর দেহ! চেন্নাই শহর জুড়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় কয়েক’শো কাকের মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কাকের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলেই জানা গিয়েছে। বিপদ বাড়াচ্ছে মানব দেহের সংক্রমণের (Bird Flu Alert)। তাই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    কাকের মৃত্যু কোন বিপদের ইঙ্গিত করছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এইচ৫এন১ ভাইরাসের (H5N1 Virus) জেরেই কাকের মৃত্যু হচ্ছে। আর এই ভাইরাস ক্ষতিকারক। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাকের মৃত্যু নতুন সংক্রমণের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ভাইরাস পাখির শরীরে সংক্রামিত হয়। আর মৃত পাখির দেহ থেকেই এই রোগ সংক্রমণ অন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে‌ পড়ে। কাকের শরীরেই এই রোগ আটকে থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই ভাইরাস অন্যান্য পাখিদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষত পায়রা, হাঁস, মুরগির শরীরে এই ভাইরাস সহজেই সংক্রামিত হয়।

    মানব দেহে কি এই রোগ ছড়াতে পারে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানব দেহেও এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমণ ঘটতে পারে। মৃত পাখির দেহ স্পর্শ করলে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রিতে কর্মরত ব্যক্তিদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া যারা বর্জ্য পরিষ্কার করেন, তাঁদের ও সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আক্রান্ত পাখির শরীরের লালা ও রস থেকেই মূলত এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ কিংবা মৃত পাখি স্পর্শ করলে এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত (Bird Flu Alert) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে‌ যায়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে কোন সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও সংক্রামক রোগ আটকানোর প্রধান উপায় হলো আগাম সতর্কতা। তাই এই ভাইরাস রুখতেও সতর্কতা জরুরি।‌ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রি ফার্মে কর্মরত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা (Bird Flu Alert) অবলম্বন করতে হবে। হাতে গ্লাভস পরা এবং মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করেই কোনও ফার্মে একাধিক পাখির মৃত্যু হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া মৃত পাখিকে স্পর্শ করার আগে মাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। তারপরে সেই কর্মীর হাত ও পা ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচ্ছন্ন করা জরুরি। যাতে ভাইরাস সংক্রমণ না হতে পারে।

    আক্রান্ত হলে কি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় (Bird Flu Alert) হলে দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই রোগী দেরিতে আসেন। রোগ নির্ণয় করতে অনেকটা সময় চলে যায়। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তারজন্য প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় জরুরি। এলাকায় পাখির মৃত্যু হচ্ছে কিনা সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সঠিক তথ্য থাকা জরুরি। জ্বর, গলা ব্যথা, মাথার যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই উপসর্গ সহ একাধিক রোগী দেখা দিলে প্রশাসনের আগাম সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীদের দ্রুত শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সম্পর্কে দ্রুত নিশ্চিত হতে হবে। তবেই সংক্রামিত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

    রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা নয়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও ভাইরাসঘটিত অসুখ (Avian Flu Alert) সম্পর্কে নানান ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। যা সংক্রমণ আটকানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা যাতে না ছড়ায় প্রশাসনকে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমিত হলেই চিকেন খাওয়া যাবে না। এমন ধারণা ভুল। যেকোনও প্রাণীজ প্রোটিন সব সময় ভালোভাবে পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ রান্না করে খাওয়া উচিত। তাই হাঁস কিংবা মুরগীর মাংস খাওয়ার সময় ঠিকমতো সম্পূর্ণ রান্না করা জরুরি।‌ রান্না মাংস থেকে রোগ ছড়ায় না। ফার্মে কাজ করলেই এই রোগে আক্রান্ত হবে, এমন ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

  • Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্যান্সার (Cancer) রোগ নির্ণয় আর তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া জুড়ে শুধুই রোগী থাকেন না। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া জুড়ে থাকেন তাঁর পরিবার। ক্যান্সার শুধুই একজন ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে না। বরং ক্যান্সারের প্রকোপ সমাজ জুড়ে। তাই ক্যান্সার রুখতেও সামাজিক ঐক্য (Social Unity in Cancer Prevention) জরুরি। একা নয়। ক্যান্সার রুখতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে (World Cancer Day) এই কথাই জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)। ভারত সহ বিশ্বের একধিক দেশে ক্যান্সারের দাপট বাড়ছে। বয়সের সীমারেখায় এই রোগ আটকে নেই। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফুসফুস, লিভার কিংবা অগ্নাশয়ের ক্যান্সার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সমস্ত ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে তরুণ প্রজন্মের হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পুরুষদের মধ্যে যেমন ফুসফুস, গলার ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে, মহিলাদের মধ্যে স্তন এবং জরায়ুর ক্যান্সারের প্রকোপ মারাত্মক। বিশেষত খুব কম বয়সি মহিলারা অর্থাৎ তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বহু মহিলা স্তন ক্যান্সার কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। যা খুবই উদ্বেগজনক। তাই ক্যান্সার রুখতে (Fight Against Cancer) সার্বিক সক্রিয়তা জরুরি। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্যের প্রয়োজনে বাড়তি গুরুত্ব কেন?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হচ্ছে, ক্যান্সার রুখতে হলে শুধুই আক্রান্তের চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সামাজিক পরিবর্তন (Social Action)। বিশ্ব জুড়ে বাড়তে থাকা ক্যান্সারের দাপট রুখতে তাই দুই দিকে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, একদিকে যেমন আক্রান্তের চিকিৎসা জরুরি। তাঁর পরিবারের পাশে থাকা প্রয়োজন। তেমনি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। গত কয়েক দশকে বিশ্ব জুড়ে স্থূলতার সমস্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ওজন ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। লিভার, কিডনি, অগ্নাশয় কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারের কারণ হয়ে উঠছে এই স্থূলতা। দেহের ওজন অতিরিক্ত হয়ে গেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আবার লিভার, পাকস্থলী, অগ্নাশয়ের ওপরেও খারাপ প্রভাব পড়ে‌। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে। তাই ওজন নিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতনতা জরুরি (Fight Against Cancer)। স্কুল স্তর থেকেই ওজন নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত শারীরিক কসরত করা দরকার। খাদ্যাভ্যাসেও নজরদারি প্রয়োজন। এগুলো সামাজিক শিক্ষা। অর্থাৎ, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া খারাপ অভ্যাস, অনিয়মিতভাবে খাওয়া উচিত নয়, নিয়মিত শারীরিক কসরত করার অভ্যাস থাকা জরুরি, এই সবগুলোই সব সময় আলোচনায় থাকা প্রয়োজন। যাতে মানুষ‌ এই সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়। তাহলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি (Fight Against Cancer) অনেকটা কমবে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকে ‘উদযাপন’ কিংবা ‘প্রমোশন’-র পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকেই উদযাপনের মাপকাঠি করার কথাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কু-অভ্যাস ত্যাগ

    ওজনের পাশপাশি ধুমপানের মতো খারাপ অভ্যাস নিয়েও সামাজিক সচেতনতা (Fight Against Cancer) জরুরি। মদ্যপান, ধুমপানের অভ্যাস কখনোই কোনো আনন্দ উদযাপনের অংশ নয়। বরং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। ফুসফুস, গলা রং, মুখ , লিভার সহ একাধিক ক্যান্সারের কারণ। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা (Cancer Awareness) জরুরি। তাই আক্রান্তের পাশে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার রুখতে সামাজিক জোটবদ্ধ সচেতনতাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    ভারতে কোন কোন ক্যান্সার বিপজ্জনক? কোন ক্যান্সার আটকানো সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত কয়েক বছরে অগ্নাশয়, লিভার রং, ফুসফুসের ক্যান্সার মারাত্মকভাবে বেড়েছে। তবে সতর্কতাকে হাতিয়ার করে এই ক্যান্সার আক্রান্তের পরিসংখ্যান পরিবর্তন সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ক্যান্সার চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, লিভার, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপান। এই দুই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমবে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ ধূমপান ও মদ্যপানে আসক্ত। এই আসক্তি অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গলা ও মুখের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ ধূমপানে অভ্যস্ত। লিভারের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীরা মদ্যপানে আসক্ত। তাই এই দুই অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের বোঝা (Fight Against Cancer) কমবে।

    সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার

    এছাড়া পরিবেশ দূষণ নিয়েও সচেতনতা জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে কলকাতা, দিল্লি সহ দেশের একাধিক বড়‌ শহরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বায়ুদূষণ বেড়েছে। এই নিয়ে প্রশাসনের তরফেও আরও বেশি সক্রিয়তা জরুরি। সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশপাশি প্রশাসনের সক্রিয়তা থাকলে তবেই দূষণ রোধ সম্ভব। বায়ুদূষণ ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই দিকেও নজরদারি জরুরি। তাছাড়া ঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হলে ক্যান্সারের জটিলতা এড়ানো সহজ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন ক্যান্সার এবং জরায়ুর ক্যান্সার অনেক সময়েই দেরিতে নির্ণয় হয়। তাই জটিলতা বাড়ে। তাঁদের পরামর্শ, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা (Cancer Awareness) থাকা প্রয়োজন। তাহলে এই দেশে এই রোগ আটকানো (Fight Against Cancer) আরও সহজ হবে।

     

  • Bengali Spices: বাঙালি মশলা আর পদেই নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রণা! রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস আক্রান্তদের জন্য উপকারি কোন খাবার?

    Bengali Spices: বাঙালি মশলা আর পদেই নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রণা! রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস আক্রান্তদের জন্য উপকারি কোন খাবার?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাতের কব্জি, পায়ের পাতা কিংবা হাঁটু হঠাৎ করেই ফুলতে শুরু করে।‌ যন্ত্রণার তীব্রতার জেরে সামান্য কয়েক লাইন লেখা কিংবা ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন হয়ে যায়‌। বয়স এই রোগের সীমারেখা মানে না। পরিস্থিতি অনেক সময়েই এমন হয়ে যায় যে স্বাভাবিক জীবন‌যাপন বেশ কঠিন হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সাধারণ হাড়ের সমস্যা নয়। এই রোগের নাম রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোনও বয়সেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। জীবন যাপনের সামান্য কিছু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবশ্য যন্ত্রণাকে কাবু করে স্বাভাবিক জীবন যাপনে সাহায্য করতে পারে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হল একধরনের অটোইমিউন রোগ। অর্থাৎ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি নিজের শরীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ শক্তি শরীরের বিভিন্ন সংযোগস্থলের আস্তরণের উপরে হানা দেয়। সেই আস্তরণে ক্ষয় তৈরি করে। এর ফলে হাত, পা, কনুই, হাঁটু, কোমর দুর্বল হয়ে যায়। যন্ত্রণা হয়। হাত-পা অসাড় হয়ে যায়। স্বাভাবিক কাজ করতেও কষ্ট হয়।

    কেন হয় রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও একটি কারণ নেই। তবে মূলত জিনঘটিত কারণে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দেখা যায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে বংশানুক্রমিক ভাবে এই রোগ পরবর্তী প্রজন্মের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। জিন ঘটিত কারণের পাশপাশি ধূমপানের অভ্যাস এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও জানাচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ধূমপানের অভ্যাস শরীরে একাধিক পরিবর্তন ঘটায়। হরমোনের ভারসাম্যের পরিবর্তনের পাশপাশি রক্ত ও স্নায়ুর উপরেও এই অভ্যাস গভীর প্রভাব ফেলে। এর জেরেও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এই‌ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। হরমোন ঘটিত কারণেই মহিলাদের এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে তাঁরা জানাচ্ছেন।‌

    কেন এই রোগ বাড়তি উদ্বেগজনক?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ সেরে ওঠা সম্ভব নয়। এই রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। এই রোগে আক্রান্ত হলে স্বাভাবিক জীবন যাপন অনেক সময়েই ব্যহত হতে পারে। দীর্ঘ সময় তীব্র যন্ত্রণায় ভোগার জেরে মানসিক স্বাস্থ্য ও ভেঙে পড়ে। অনেক সময়েই অবসাদ গ্রাস করে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকী, বন্ধ্যত্বের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

    কোন বাঙালি মশলা আর পদ কাবু করতে পারে যন্ত্রণা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বেশ‌ কিছু ঘরোয়া মশলা আর খাবার। আর সেই তালিকায় প্রথমেই থাকছে হলুদ এবং আদার মতো মশলা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হলুদ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপরে প্রভাব ফেলে। তাই রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে রান্নায় নিয়মিত হলুদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। আদা ব্যথা কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আদা প্রদাহ কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই তীব্র যন্ত্রণা হলে রান্নায় আদা বাটা মেশানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত আদা খেলে যেকোনও ধরনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

    নিয়মিত বাদাম খান…

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অটো ইমিউন ডিজিজ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি যাতে শরীরের শত্রু না হয়ে ওঠে সেটা নিয়ন্ত্রণ করাই এই রোগের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আর সেই কাজে সাহায্য করে কাঠবাদাম, আখরোটের মতো বাদাম জাতীয় খাবার। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া সিডের মতো খাবার খেলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার সংযোগস্থলের আস্তরণের ক্ষয় কমবে।

    পালং শাক

    বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত পদ হল পালং শাকের তরকারি। আর এই খাবার শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। একাধিক ভিটামিন ও খনিজ পদার্থে ভরপুর থাকার জেরেই এই উপকার হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, পালং শাক রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ সাহায্য করে।

    পাতিলেবু

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কাবু রাখতে যে কোনও ধরনের লেবু নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, খাবার পাতে পাতিলেবু রাখা বাঙালির চিরকালীন অভ্যাস।‌ গরমে আবার অনেকেই লেবুর সরবত খান। এই ধরনের অভ্যাস রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে বাড়তি উপকার দেবে। পাতিলেবুর পাশপাশি কমলালেবু খেলেও সমান উপকার পাওয়া যাবে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • World Leprosy Day 2026: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিশু কুষ্ঠ রোগী! রাজ্যের জন্য কেন বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    World Leprosy Day 2026: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিশু কুষ্ঠ রোগী! রাজ্যের জন্য কেন বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রোগ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু রোগীর সামাজিক হেনস্থা হয়ে উঠছে মূল চ্যালেঞ্জ। ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব কুষ্ঠ রোগ সচেতনতা দিবসে (World Leprosy Day 2026) তাই রোগ ও রোগ সংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারণা রোধেই জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে কুষ্ঠ রোগ শুধুই স্বাস্থ্য সমস্যা নয়। এই রোগ সামাজিক জটিলতাও তৈরি করে। তাই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি কুষ্ঠ নিয়ে যে সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, সে সম্পর্কেও আরও বেশি আলোচনা জরুরি। যাতে ভুল ধারণা নষ্ট হয়। রোগীর সামাজিক হেনস্থা বন্ধ হয়। ভারতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিশু কুষ্ঠ রোগী। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal Child Leprosy Cases) সহ একাধিক রাজ্যে শিশুদের কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যা এই রোগের প্রবল উপস্থিতির জানান দিচ্ছে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত কুষ্ঠ মুক্ত হওয়ার পথে। তবে শিশুদের মধ্যে কুষ্ঠ রোগের উপস্থিতি বাড়তি উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে নতুন করে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে ৪.৬৮ শতাংশ শিশু। যদি তুলনামূলক ভাবে শিশু আক্রান্তের সংখ্যা ২০১৪-১৫ সালের তুলনায় কম। তবুও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু কুষ্ঠ রোগীর পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে সমাজে এই রোগের গভীর উপস্থিতি। তাই এ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হয়।

    রাজ্যের জন্য কেন বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সাতটি রাজ্যে কুষ্ঠ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। আর সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তাই এই রাজ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (West Bengal Child Leprosy Cases)। তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট কুষ্ঠ আক্রান্তের ৭৩ শতাংশ রোগীই ভারতের এই সাত রাজ্যে থাকে। যাকে ‘উচ্চ প্রাদুর্ভাব’ রাজ্য হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্রে কুষ্ঠ রোগের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় কুষ্ঠ রোগ যথেষ্ট উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।‌ বিশেষত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরের কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (West Bengal Child Leprosy Cases)। শুধু মাত্র পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রতি বছর কমবেশি ৫৫০ জন নতুন করে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যার মধ্যে ৩০ জন শিশু। এছাড়াও ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলেই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কুষ্ঠ রোগ প্রকোপ কমানোর মূল হাতিয়ার সম্পূর্ণ চিকিৎসা করানো। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই রোগের চিকিৎসা করানো হয়। মাল্টি ড্রাগ থেরাপির মাধ্যমে এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগী সম্পূর্ণ চিকিৎসা করান না। সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগী চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। এর ফলে জীবাণু সক্রিয় থাকে। সংক্রমণের ঝুঁকিও বজায় থাকে। চিকিৎসা সম্পূর্ণ করালে রোগ নির্মূল হওয়া সম্ভব। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুদের কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। শিশুর ত্বকে কোনও বিশেষ‌ দাগ থাকলে, কোনও নির্দিষ্ট অংশে অনুভূতিহীন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় হলে তবেই চিকিৎসা সম্ভব। দ্রুত স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব।

    কুষ্ঠ নিরাময়ে কোন দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কুষ্ঠ রোগের মূল চ্যালেঞ্জ সামাজিক হেনস্থা বন্ধ করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা (World Leprosy Day 2026) বৃদ্ধি জরুরি। পাশপাশি রোগীর সামাজিক হেনস্থা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। যাতে রোগী রোগ লুকিয়ে না রাখেন।‌ বিশেষত শিশুরা আক্রান্ত হলে , পরবর্তীতে যাতে তাদের কোনো রকম সামাজিক হেনস্থার সম্মুখীন না হতে হয়, সে দিকে প্রশাসনের নজরদারি জরুরি। কুষ্ঠ ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ। এই রোগ কোনও বংশানুক্রমিক রোগ নয়। কোনো পাপের ফল কুষ্ঠ নয় (West Bengal Child Leprosy Cases)। জীবাণু সংক্রমণের দ্বারা এই রোগ হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সেই সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা কর্মসূচি জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • Kolkata Air Pollution: ধূলিকণার সঙ্গে মিশছে বিষাক্ত গ্যাস! কেন কলকাতায় বায়ুদূষণ লাগামহীন?

    Kolkata Air Pollution: ধূলিকণার সঙ্গে মিশছে বিষাক্ত গ্যাস! কেন কলকাতায় বায়ুদূষণ লাগামহীন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নতুন বছরের প্রথম মাসেই বারবার কলকাতার বাতাস উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। রাজ্যের রাজধানীর বাতাসে যে হারে দূষণ বাড়ছে, তাতে স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। কলকাতার বাতাসে শুধুই ধূলিকণা নয়, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিষাক্ত গ্যাসের দাপট। যা আরও বড় বিপদ তৈরি করতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। বারবার কেন কলকাতার বায়ুদূষণ লাগামহীন হয়ে উঠছে সে নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আর প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের সক্রিয়তা নিয়েও। সাম্প্রতিক এক গবেষণা কলকাতার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ না নিলে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংস্থা কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরের বায়ুদূষণ নিয়ে সমীক্ষা ও গবেষণা চালায়। সেই গবেষণাতেই কলকাতার বায়ুদূষণ নিয়ে মারাত্মক তথ্য উঠে‌ আসছে। দেখা গিয়েছে, এই শহরের বাতাসের গুণমান খারাপ হওয়ার নেপথ্যে শুধুই ধূলিকণা নেই। বরং রয়েছে বিষাক্ত গ্যাস। শীতের মরশুমে কলকাতার বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের দাপট বেড়েছে। আর তাই নতুন বছরের প্রথম মাসেই বারবার লাগামহীন বায়ুদূষণ জানান দিচ্ছে। কলকাতার বাতাসে অতিরিক্ত পরিমাণ নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মোনো অক্সাইড, গ্রাউন্ড লেভেল ওজোন, কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে। যা কলকাতার বায়ুদূষণ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হয় বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। কিন্তু কলকাতায় বায়ুদূষণের কারণ শুধুই ধূলিকণা নয়। বরং এই বিষাক্ত গ‌্যাসের দাপট। ফলে, জনস্বাস্থ্যে এর প্রভাব আরও গভীর ও ক্ষতিকারক।

    কেন কলকাতার বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের দাপট বেড়েছে?

    বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ জানাচ্ছেন, কলকাতার বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিত ভাবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো। চলতি শীতের মরশুমে তাপমাত্রার পারদ পতন অনেকখানি হয়েছিল। আর শীতের হাত থেকে রেহাই পেতে শহর জুড়ে একাধিক জায়গায় বর্জ্য জ্বালানো হয়েছে। এর ফলে বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মোনো অক্সাইড, গ্রাউন্ড লেভেল ওজোন গ্যাসের মতো বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে। এমনকি একটি বিষাক্ত গ‌্যাসের সঙ্গে আরেকটি গ্যাস মিশে আরও ক্ষতিকারক উপাদান তৈরি হয়েছে। ফলে কলকাতার বায়ুদূষণ লাগামহীন হয়ে উঠছে।

    কলকাতার বায়ুদূষণ কেন বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দূষণের জেরে স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হয়। কলকাতায় যে হারে বায়ুদূষণ বাড়ছে তা স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। বিশেষত শুধু ধূলিকণা নয়। বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের যে হারে উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। বাতাসের বিষাক্ত গ্যাস শ্বাসনালী, বক্ষঃনালী, ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াবে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেবে। হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের মতো রোগের দাপট বাড়বে। এমনকি ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকিও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এই পরিস্থিতির জেরে শিশুদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি হবে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। খুব কম বয়স থেকেই শ্বাসকষ্ট, সিওপিডি-র মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। এমনকি নিউমোনিয়ার মতো রোগের দাপট ও বাড়বে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    প্রশাসনের ভূমিকা কেন প্রশ্নের মুখে?

    পরিবেশবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, কলকাতার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। শহর জুড়ে নির্মাণ কাজ চলে। বড় বড় বহুতল তৈরি হয়। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় সেই নির্মাণ কাজে কিছুই ঢাকা দেওয়া থাকে না। এমনকি পুরসভাও সে নিয়ে নজরদারি চালায় না।‌ ফলে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। যা বাতাসকে দূষিত করে। আবার যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানো নিয়েও পুর কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপ নজরে পড়ে না।‌ দেশের বিভিন্ন বড় শহরের বর্জ্য পুনঃব্যবহারযোগ্য করার জন্য নানান প্রক্রিয়া চলে। কলকাতায় এখনো যত্রতত্র বর্জ্য পোড়ানোর ঘটনা জানান দিচ্ছে, এই শহরে রিসাইকেল প্রক্রিয়া একেবারেই ঠিকমতো চলে না। ফলে, শহর জুড়ে বিষাক্ত গ্যাসের দাপট বাড়ছে। যা রাজ্যবাসীর বিপদের কারণ হতে পারে। সাধারণ মানুষকে বায়ুদূষণ নিয়ে সতর্ক করার পাশপাশি বায়ুদূষণ রুখতে প্রশাসনের সক্রিয়তা জরুরি। তবেই কলকাতার বাতাস ‘শুদ্ধ’ হয়ে উঠতে পারবে।

  • Asha Workers Shortage: আশাকর্মীর অভাবে ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়’-র মুখে রাজ্য! আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

    Asha Workers Shortage: আশাকর্মীর অভাবে ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়’-র মুখে রাজ্য! আশঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

     

    অতিমারির সংক্রমণ রুখতে কিংবা মায়ের প্রসবের জটিলতা কমাতে, প্রথম সারির স্বাস্থ্য ‘যোদ্ধা’ আশা কর্মী। রাজ্য জুড়ে প্রাথমিক পর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবা তাঁরাই দেন।‌ গ্রাম হোক‌ বা শহর, আশা কর্মীদের উপরেই জনস্বাস্থ্য পরিষেবা অনেকটাই নির্ভর করে আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেও রাজ্যজুড়ে আশা কর্মীদের সঙ্গে মমতার সরকারের বেনজির সংঘাত (ASHA workers vs Mamata Government) শুরু হয়েছে। নিয়মিত ভাতা পাওয়া সহ কয়েক দফা দাবিতে বারবার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আবেদন জানানো সত্ত্বেও আশা কর্মীদের সমস্যা সমাধান নিয়ে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এমনটাই অভিযোগ রাজ্যের অধিকাংশ আশা কর্মীর। আলোচনার আশ্বাস পেয়ে স্বাস্থ্য ভবন যাওয়ার পথেও তাঁরা দিনভর হয়রানির শিকার হন। টানা ৩০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি (Asha Workers Shortage) পালন করছেন আশা কর্মীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধের কথাও তাঁরা জানিয়েছেন‌। আর এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্য আজ ‘স্বাস্থ্য বিপর্যয়’-র (Public Health Crisis) মুখে দাঁড়িয়ে।

    আশা কর্মীদের অনুপস্থিতি কেন রাজ্যে স্বাস্থ্য বিপর্যয় তৈরি করতে পারে?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের প্রাথমিক পর্বের স্বাস্থ্য পরিষেবায় আশা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মূলত মহিলাদের সন্তান প্রসবকালে আশা কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আশা কর্মীরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী। টিকাকরণ, প্রসবকালীন প্রয়োজনীয় সাহায্য তাঁরা করেন। তাছাড়া কোনও এলাকায় সংক্রামক রোগ হচ্ছে কিনা সেই তথ্য সংগ্রহ করা, কীভাবে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা যাবে সেই সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা আশা কর্মীদের কাজ। তাঁরা প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে সেতু নির্মাণ করেন। জনস্বাস্থ্যে তাই আশা কর্মীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব অর্থাৎ বাড়িতে নয়, হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান প্রসব এবং মায়ের মৃত্যুরোধে আশা কর্মীদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ থাকে। গর্ভাবস্থায় মায়ের জরুরি আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন আশা কর্মী। আবার নবজাতকের কোন কোন টিকা প্রয়োজন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই টিকাকরণ হচ্ছে কিনা, সেই সম্পর্কে সমস্ত তথ্য আদানপ্রদান হয় আশা কর্মীর মাধ‌মেই। আশা কর্মীর হাত ধরেই রাজ্যের কয়েক কোটি শিশু সময় মতো পোলিও, রুবেলা, মিজেলস ভ্যাকসিন পায়। রোগ প্রতিরোধ হচ্ছে। আশা কর্মীর অনুপস্থিতি তাই শিশুদের সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    যক্ষ্মা থেকে করোনা, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া থেকে নিপায় দরকার আশা কর্মীদের

    নবজাতক, গর্ভবতী ও শিশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার পাশপাশি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আশা কর্মীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার কোথায় যক্ষ্মা রোগী আছে, আক্রান্ত সম্পূর্ণ চিকিৎসা করাচ্ছেন কিনা, রোগ ছড়িয়ে যাতে না পড়ে সে দিকে নজর দেওয়া, সবটাই করেন আশা কর্মী। ভারতে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে মূল প্রতিবন্ধকতা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা। যা আশা কর্মীরা নজরদারি করেন। আক্রান্ত যাতে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করান, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রয়োজনে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। আশা কর্মীর অভাবে সেই কাজেও ছেদ পড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

    করোনা, নিপার মতো জটিল ভাইরাস ঘটিত সংক্রামক রোগ কিংবা ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত সংক্রামক রোগ, যেকোনও স্বাস্থ্য সঙ্কট রুখতে আশা কর্মীদের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ। এমনটাই জানাচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার জনসচেতনতা। আর এই জনসচেতনতার কাজ চালান আশা কর্মীরা। দিন কয়েক আগেই রাজ্যে নিপা ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছিলো। করোনা মহামারির স্মৃতি এখনো তাজা। তাছাড়া বছরভর ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার দাপট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আশা কর্মী কতখানি জরুরি তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এলাকায় কোথায় কে কোন ধরনের অসুখে আক্রান্ত প্রশাসন সেই খবর আশা কর্মীদের থেকেই পায়। তাঁদের অনুপস্থিত কার্যত প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছেদ ঘটালো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পথে আশা কর্মীরা?

    রাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার আশা কর্মী রয়েছেন‌। কয়েক মাস ধরেই তাঁরা নিজেদের নানান দাবিতে সরব হয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবার পুরুলিয়া, আসানসোল থেকে শিয়ালদা, নিউটাউন— রাজ্যের একাধিক জায়গায় আশা কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বেনজির সংঘাত সামনে এল। আশা কর্মীদের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন তাঁরা নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। তাঁরা পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পান। কিন্তু কয়েক মাস ধরে সেই টাকাও অনিয়মিত পান। স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার পাশপাশি রাজ্য সরকারের আয়োজিত সমস্ত মেলা এবং অনুষ্ঠানে তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হয়। অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। কিন্তু পরিবর্তে তাঁরা কোনও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পান না। ছুটির অধিকার তাঁদের নেই। ছুটি নিলেই কাজ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি টাকাও কেটে নেওয়া হয়। আশা কর্মীদের দাবি, তাঁদের নিয়মিত পারিশ্রমিক দেওয়া হোক। তাঁদের বেতন অন্তত ১৫ হাজার টাকা করা হোক। এছাড়াও তাঁদের ছুটির অধিকার রাজ্য সরকার নিশ্চিত করুক। অতিরিক্ত কাজ করলে অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের দাবি তাঁরা করেছেন।

    কেন রাজ্য সরকারের সমালোচনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মহল?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের ৮০ হাজার আশা কর্মী দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়বে। আর তার ফলে কয়েক কোটি সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হবেন। রাজ্য জুড়ে মা ও শিশু মৃত্যুর হার বাড়তে পারে। সংক্রামক রোগের দাপট ও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। রাজ্য সরকার আশা কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারত। মঙ্গলবার আলোচনার আশ্বাস দেওয়ার পরেও যেভাবে কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় আশা কর্মীদের হেনস্থা করা হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দ্রুত আশা কর্মীদের দাবি নিয়ে আলোচনা করে, পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে, রাজ‌্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

  • Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    Brain Power: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে! নেপথ্যে কোন খনিজের অভাব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাড় কিংবা পেশির পাশপাশি মস্তিষ্কের শক্তি (Brain Power) কতখানি রয়েছে! বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো থাকছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত চল্লিশ বছরের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বাড়তি নজরদারি জরুরি। না হলেই বাড়বে বিপদ! অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ইংল্যান্ডের একদল চিকিৎসক গবেষক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখেছেন, বিশ্বজুড়ে কমছে স্মৃতিশক্তি। বিশেষত চল্লিশ বছরের পরে মনে রাখার ক্ষমতা হ্রাস (Memory Problems After 40) পাচ্ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। অ্যালজ্যাইমার (Alzheimer’s Disease) কিংবা ডেমেনশিয়ার (Dementia) মতো নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসের (Brain Function Slowing Down) একাধিক কারণের মধ্যে অন্যতম হলো উপযুক্ত খনিজ পদার্থের সরবরাহের অভাব। ফলে মস্তিষ্কের স্নায়ুর ক্ষমতা কমতে থাকে।

    কোন খনিজের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের (Magnesium Benefits Brain) অভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে ম্যাগনেশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশি এবং হাড় মজবুত রাখতে এই খনিজ পদার্থ খুব জরুরি। তবে হাড়-পেশির পাশাপাশি মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতেও এই খনিজ খুব জরুরি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমছে।

    মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে ম্যাগনেশিয়াম কীভাবে সাহায্য করে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের একাধিক জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া ঠিকমতো ভাবে চলতে সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম। এই খনিজ পদার্থের জোগান ঠিকমতো থাকলেই জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া হবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তার উপরেও এর প্রভাব পড়বে।
    ম্যাগনেশিয়াম ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম এই ক্লান্তিবোধ কমায়। ফলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
    মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে উত্তেজনা প্রশমন জরুরি। অতিরিক্ত জেলা উত্তেজিত হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুর উপরে বিশেষ প্রভাব ফেলে। এই উত্তেজনা প্রশমনে বিশেষ সাহায্য করে। তাই স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকিও কমে।

    কেন চল্লিশের চৌকাঠে স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৬ কোটি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ অ্যালজাইমারের শিকার। ভারতেও এই সমস্যা বাড়ছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন‌। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স ৬০-র চৌকাঠ ছুঁলেই অনেকেই এই রোগে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু রোগের জানান পাওয়া যেতে পারে চল্লিশের পরেই। নানান উপসর্গ সম্পর্কে সতর্ক হলেই পরিস্থিতি বোঝা সহজ হয়। আর রোগের ঝুঁকি কমাতে তাই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। চল্লিশ বছরের পর থেকেই তাই স্মৃতিশক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বিশেষত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা যাতে না কমে সেদিকে নজরদারি জরুরি।

    কীভাবে সহজে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কিছু খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে। শরীরের প্রয়োজনীয়তা চাহিদা মেটাতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও বাদাম জাতীয় খাবার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দেয়। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কাজুবাদাম যে কোনও একধরনের বাদাম নিয়মিত খেলেই ম্যাগনেশিয়ামের জোগান সহজ হবে। ম্যাগনেশিয়ামের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে নিয়মিত যে কোনও ধরনের ডাল‌ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডালে প্রোটিনের পাশপাশি প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। ডালের পাশাপাশি ছোলা, মটরের মতো দানাশস্য নিয়মিত খাওয়া জরুরি। সব্জির মধ্যে পালং শাক ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সহজেই পূরণ করে‌। এছাড়া কুমড়োর বীজ, অ্যাভোকাডো, টক দই ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। এগুলো নিয়মিত খেলে ম্যাগনেশিয়াম জোগান ঠিকমতো হয়‌।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা হোক কিংবা অন্ত্রের সমস্যা, মানসিক অবসাদ-বিষন্নতার মতো জটিল সমস্যা, সবটাই নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে একটি হরমোন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ডোপামিন হরমোন নামে একটি হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমানো সহজ হয়। ডোপামিন হরমোনকে ‘সুখ’ হরমোন বা ‘feel good’ হরমোন বা ‘happy’ হরমোন বলা হয়ে থাকে। এই সুখ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কয়েকটি বিষয়ে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।

    কোন কোন রোগ নিয়ন্ত্রণে ডোপামিন হরমোন সাহায্য করে?

    রোগ নিরাময়ে সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও ডোপামিন হরমোন একাধিক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা স্বাভাবিক রাখে এই হরমোন। হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে হৃদপিন্ড, ফুসফুস, অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ডোপামিন হরমোন স্ট্রেস হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই জটিল অস্ত্রোপচারের পরে শরীরে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম ডোপামিন হরমোন দেওয়া হয়। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরের নিজস্ব উপায়ে এই হরমোন ক্ষরণ ঠিকমতো হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

    অন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই হরমোন বিশেষ উপকারি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই বারবার মলত্যাগ করার প্রবণতা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমের মতো উপসর্গ কমাতে এই সুখ হরমোন বিশেষ সাহায্য করে। বিপাক ক্রিয়া যাতে ঠিকমতো হয়, সেই কাজেও এই হরমোন বিশেষ উপকারি। ডোপামিন হরমোন সবচেয়ে বেশি উপকারি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে অবসাদ, বিষন্নতা, উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে কোন খাবার সাহায্য করে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখার চাবিকাঠি খাবারের মধ্যেই রয়েছে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক ভাবে হরমোন ক্ষরণ করার জন্য খাবারেই ভরসা রাখছেন তাঁরা।

    • ● পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম, চিকেন, মাছ কিংবা মাংসের পদ খেলে শরীরে এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। টাইরোসিন নামে অ‌্যামিনো অ্যাসিড এই হরমোন উৎপাদনে বিশেষ সাহায্য করে। আর প্রাণীজ প্রোটিনে এই অ্যাসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
    • ● কলা, অ্যাভোকাডো, ব্রোকলি, পালং শাকের মতো সব্জি ও ফল ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে‌। খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিনে ভরপুর এই সব্জি ও ফল বিশেষ উপকারি।
    • ● কাঠবাদাম ও কুমড়োর বীজ ম্যাগনেশিয়াম ও টাইরোসিন ভরপুর। তাই ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য রাখতে বিশেষ সাহায্য করে।
    • ● টক দই, পনীরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে টাইরোসিন থাকে। এই খাবারগুলো ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে।
    • ● তবে খাবারের পাশপাশি শরীরে ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত শারীরিক কসরত করা, ভালো গান শোনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Postpartum Depression: দেশের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার! কেন এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে?

    Postpartum Depression: দেশের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার! কেন এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেই নিঃশব্দে হানা দিচ্ছে। চারপাশের আনন্দের মাঝেও মায়ের মনের গভীরে ক্ষত তৈরি করছে। আর বেশিরভাগ সময়েই সেই রোগের টের পাওয়া যাচ্ছে না। অসচেতনতার জেরেই সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে। রোগ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং রোগের চিকিৎসা না করলে পরবর্তীতে মা, সন্তান ও পরিবারের জন্য বড় সঙ্কট হয়ে উঠতে পারে। এমনটাই জানালেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। দেশজুড়ে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (Postpartum Depression) বা প্রসবোত্তর অবসাদ বা মাতৃত্বকালীন বিষণ্ণতায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সেই রকম তথ্য উঠে এসেছে। জানুয়ারি মাসে ম্যাটারনাল মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস (Maternal Mental Health Awareness) মাস পালন করা হয়। আর চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মায়েদের এই সমস্যা নিঃশব্দে ‘মহামারি’-র আকার ধারণ করছে‌।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য? কোন রাজ্যে সমস্যা বেশি?

    সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম অবসাদের (Depression in New Mothers) শিকার হন।‌ তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে, কর্নাটকের মতো রাজ্যে এই অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে মাতৃত্বকালীন অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। উত্তর ভারতে ১৫ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার হন।‌ দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে সেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক শহুরে জীবন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছোটো পরিবার এবং কাজ-পরিবার ব্যালেন্সের চাপ এই ধরনের অবসাদের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। অত্যাধিক সামাজিক প্রত্যাশা মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করছে।

    কেন পোস্টপার্টাম অবসাদ হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মা হওয়ার পরবর্তী কালে এই অবসাদ খুবই স্বাভাবিক একটি সমস্যা। বহু নতুন মা এই ধরনের সমস্যায় ভোগেন। সন্তানের জন্ম দেওয়ায় পরে মায়ের শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও‌ গভীর প্রভাব পড়ে। তাছাড়া সামাজিক পরিবর্তন মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলে। এই ধরনের অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পিছনে এই সামাজিক কারণকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মহিলা এখন কর্মজীবী। পরিবার ও কাজের মধ্যে ব্যালেন্স করা অনেক সময়েই কঠিন হয়ে পড়ে। সন্তান জন্মের পরে মায়েদের পরিবারে অনেকটাই দায়িত্ব বেড়ে যায়। অনেক সময়েই সেই দায়িত্ব পালনে নানান ত্রুটি হয়। যা তাকে সামাজিক হেনস্থার শিকার করে। ফলে নতুন মায়ের মধ্যে হতাশা জন্মায়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোর্টপার্টাম অবসাদের নেপথ্যে থাকে ‘ভালো মা’ হয়ে ওঠার প্রতিযোগিতা।

    কেন‌ পোস্টপার্টাম অবসাদ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে পোস্টপার্টাম অবসাদের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো এই রোগ সম্পর্কে অবহেলা এবং অসচেতনতা। সন্তানের জন্মের পরে নবজাতকের মতো নতুন মায়ের যত্ন প্রয়োজন। শারীরিক যত্নের পাশপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া জরুরি এই সম্পর্কে সচেতনতা খুব কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন‌ মা অবসাদের শিকার হলে তাকে নানান কটুক্তির শিকার হতে হয়। যা তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। পোস্টপার্টাম অবসাদ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।‌ এর ফলে মায়ের স্নায়ু ও হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা কমতে পারে। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বেড়ে‌ যায়। এমনকি মাতৃত্ব পরবর্তীতে আত্মহত্যার অন্যতম কারণ পোর্স্টপার্টোম অবসাদ‌ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের পাশপাশি আমেরিকা সহ বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশেও সম্প্রতি এই অবসাদ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আমেরিকান কলেজ অফ গাইনোকোলজি (ACOG) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পোস্টপার্টাম অবসাদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ালে নতুন মায়েদের ৬০ শতাংশ মৃত্যু হার কমানো‌ যাবে। তাই ২৩ জানুয়ারি বিশ্ব জুড়ে এই নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি পালনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া গেলে তবেই রোগ নির্ণয় সম্ভব। সন্তান জন্মের পরে সন্তানের দেখভালের সবটুকু মায়ের দায়িত্ব বলে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের দায়িত্ব মা ও বাবা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। পরিবারের অন্যান্যদের মায়ের যত্ন নেওয়া দরকার। নতুন মায়ের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। মা ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে না পারলে তার মানসিক চাপ তৈরি হবে। তাই নবজাতকের পাশপাশি মায়ের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া নতুন মা ছোটো ছোটো কারণে অতিরিক্ত রেগে গেলে, বিরক্ত হলে, একা থাকতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। কারণ পোস্টপার্টাম অবসাদের রুখতে প্রয়োজনীয় থেরাপি প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করলে সেই অবসাদ দীর্ঘমেয়াদি হবে না।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Dengue: নিপা ভাইরাসের মাঝেই রাজ্যে দাপট ডেঙ্গির! তীব্র শীতেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    Dengue: নিপা ভাইরাসের মাঝেই রাজ্যে দাপট ডেঙ্গির! তীব্র শীতেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নিপা সংক্রমণ (Nipah Virus) নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।‌ রাজ্যের একাধিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের শারীরিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নিপা ভাইরাস আক্রান্ত নার্সের শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।‌ তারমধ্যেই বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে ডেঙ্গি (Dengue)। এমনটাই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, জানুয়ারি মাসে রাজ্য জুড়ে শীতের দাপট অব্যহত ছিল। কিন্তু এই আবহাওয়াতেও ডেঙ্গি তার উপস্থিতি জানান দিয়েছে। মশাবাহিত এই রোগ থেকে রাজ্যবাসীর রেহাই নেই। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    নতুন বছরে ডেঙ্গি পরিস্থিতি কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হয়েছে। শুধুমাত্র কলকাতাতেই ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩১৬ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতাতে ১ হাজার ৭৩৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি এবং হাওড়াতেও এক রকম ভাবে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেড়েছিলো। নতুন বছরে অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গোটা রাজ্যে প্রায় শতাধিক মানুষ নতুন করে ডেঙ্গি আক্রান্ত (West Bengal Dengue Cases) হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে ডেঙ্গি থেকে রেহাই পাওয়ার আশা করা যায়। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি অন্যরকম। জানুয়ারি মাসে রাজ্যে শীতের ঝড়ো ব্যাটিং চললেও ডেঙ্গির দাপট কমেনি। কারণ রাজ্যের একাধিক জায়গায় ঠিকমতো মশানিধন প্রক্রিয়া হয়নি। তাই শীতের মরশুমেও রাজ্যবাসী মশাবাহিত রোগে কাবু হচ্ছেন।

    নিপা ভাইরাসের আবহে কেন ডেঙ্গি বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রাজ্যে নতুন দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। নিপা ভাইরাসের আক্রান্তের মৃত্যু হার অনেক বেশি। সুস্থ হলেও আক্রান্তের শরীরে নানান জটিলতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি বাড়তি বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি আক্রান্ত নিপা ভাইরাসে সংক্রামিত হলে তাঁর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আবার ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরে নিপা ভাইরাস সংক্রামিত হলে, ভাইরাসের প্রকৃতি পরিবর্তনও ঘটতে পারে। সেই পরিবর্তন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মহল একেবারেই ওয়াকিবহাল নন। ফলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিপা কিংবা ডেঙ্গি, এই দুই সংক্রমণের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। ফলে চিকিৎসা খুবই জটিল। মৃত্যু আটকানোও কঠিন। তাই এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে যাতে সংক্রামক রোগ দাপট বাড়াতে না পারে‌ সেই নিয়ে সব মহলের তৎপরতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কী বলছেন স্বাস্থ্য কর্তারা?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি মোকাবিলায় জানুয়ারি মাস থেকেই নানান পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা নজরদারি করবেন। এলাকায় জল জমছে কিনা, অপরিচ্ছন্ন আছে কিনা সেদিকে নজরদারি চালানো‌ হবে। আবার, নিপা নিয়েও সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার করা হয়েছে, যাতে খেজুর রস না খাওয়া হয়। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা কিংবা জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। আবার ডেঙ্গি হচ্ছে কিনা সে নিয়েও খোঁজ রাখা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি প্রচার করা হচ্ছে।

    যদিও চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে বছরভর প্রচার কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেও রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণে নেই, তা জানান দিচ্ছে পরিসংখ্যান। তাই ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা অধিকাংশ জেলায় বেড়েছে। নতুন বছরে জানুয়ারি মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শুধু সচেতনতা প্রসার নয়। সংক্রামক রোগ রুখতে প্রশাসনিক সক্রিয়তাও সমানভাবে জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

LinkedIn
Share