Tag: India

India

  • India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পাঞ্জাব সীমান্তে শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে। এর (India) ফলে রাভি (সংস্কৃত নাম ইরাবতী) নদীর অতিরিক্ত জল আর প্রবাহিত হবে না পাকিস্তানে (Pakistan)। এমনই জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা। গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে  জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় গাইড নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন, যার মধ্যে ১৯৬০ সালের ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ছিল।

    কী বললেন জাভেদ আহমেদ রানা? (India)

    একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রানা বলেন, “হ্যাঁ, রাভি নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করা হবে। এটি বন্ধ করতেই হবে।” তিনি এও বলেন, “কাঠুয়া ও সাম্বা জেলা খরাপ্রবণ এলাকা, কান্দি অঞ্চলের জন্য এই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।” নদীর জল সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদি জম্মু অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। শাহপুর কান্দি ব্যারাজ, যা একটি জাতীয় প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চার দশক পর সংশোধিত হয়। গত বছর পহেলগাঁওয়ের বৈসরান উপত্যকায় জঙ্গি হামলার পর চেনাব নদীর ওপর জম্মু ও কাশ্মীরে চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, এবং সেগুলি ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (India)।

    সিন্ধু জলচুক্তি

    বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ত্রুটিপূর্ণ সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী ছ’টি নদী দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল। পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলি (ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু) ভারতের জন্য বরাদ্দ করা হয় এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলি (সিন্ধু, ঝিলম, চন্দ্রভাগা) পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলির জল সীমিত ব্যবহারের অনুমতি ভারতকে দেওয়া হয়েছিল (Pakistan)। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা শাহপুর কান্দি প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয় এবং সেচ অংশের জন্য ৪৮৫.৩৮ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সহায়তা মঞ্জুর করে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পাঞ্জাবে ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া ও সাম্বা জেলায় ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা হবে। পাঞ্জাবের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মাধোপুর হেডওয়ার্কসের নিম্নপ্রবাহ দিয়ে পাকিস্তানে অপচয় হওয়া রাভি নদীর জল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (India)। এছাড়াও, পাঞ্জাবের ১.১৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য যে জল ছাড়া হয়, তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে। প্রকল্পটি রূপায়ন হলে পাঞ্জাব ২০৬ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও সক্ষম হবে।

    দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল আগেই

    এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৭৯ সালে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে রণজিৎ সাগর বাঁধ (থেইন বাঁধ) ও শাহপুর কান্দি বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পাঞ্জাবের ওপর ন্যস্ত হয়। ২০০১ সালে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত ব্যয় অনুমোদন করে। তবে বিদ্যুৎ অংশের জন্য পাঞ্জাব সরকারের অর্থাভাব এবং পরে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সমস্যার কারণে (India) কাজ বিশেষ এগোয়নি। একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে ২০১৮ সালে দিল্লিতে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন (Pakistan)। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রক প্রকল্পটিকে জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করে। ব্যারাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বহু বছর আগে নির্মিত প্রায় ৮০ কিমি রাভি খাল এবং জম্মু-কাশ্মীরে ৪৯২.৫ কিমি জলবণ্টন নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন অব্যবহার্য অবস্থায় ছিল।

     

  • Uranium Supply Deal: মার্চে কার্নির দিল্লি সফরে ইউরেনিয়াম নিয়ে ১০ বছরের চুক্তি হতে পারে ভারত-কানাডার

    Uranium Supply Deal: মার্চে কার্নির দিল্লি সফরে ইউরেনিয়াম নিয়ে ১০ বছরের চুক্তি হতে পারে ভারত-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই গলছে ভারত-কানাডা সম্পর্কের বরফ। ভারতে ইউরেনিয়াম সাপ্লাই নিয়ে ১০ বছরের একটি চুক্তি হতে পারে নয়াদিল্লি ও অটোয়ার মধ্যে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নির (Canadian PM India Visit) প্রস্তাবিত মার্চের প্রথম সপ্তাহে (Uranium Supply Deal) ভারত সফরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হতে পারে এই চুক্তি। এই সফরে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিও (India Canada Trade) চূড়ান্ত হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (Uranium Supply Deal)

    তবে ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিটিই সফরের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে। এই সফরের লক্ষ্য হবে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করা, যা জাস্টিন ট্রুডোর প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরেনিয়াম উৎপাদক দেশ। বিশ্বে উৎপাদনের প্রায় ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ জোগান দেয় এই দেশ। উৎপাদিত ইউরেনিয়ামের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে জ্বালানি হিসেবে রফতানি করা হয়। কানাডায় রয়েছে বিশ্বের তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত কেন্দ্র, মূলত আলবার্টার বিস্তীর্ণ অয়েল স্যান্ডস অঞ্চলে, যার পরিমাণ ১৬৩ থেকে ১৭০ বিলিয়ন ব্যারেলের কাছাকাছি। দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতও উল্লেখযোগ্য। এদিক থেকে বিশ্বে ১৬তম স্থানে রয়েছে দেশটি, যার পরিমাণ এক হাজার ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি (Uranium Supply Deal)।

    কানাডা সফরে  ডোভাল

    কার্নির সফরের আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রবীণ মন্ত্রী অটোয়া (কানাডার রাজধানী) সফরে যান। কার্নির সফরের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (India Canada Trade)। এদিকে, গত সপ্তাহে ভারতে সফরে এসে কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসন জানান, আলোচনায় ভারত-কানাডা পারমাণবিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, “জ্বালানি ও খনি খাত হবে দুই দেশের সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্র, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি লেনদেনের সম্ভাবনাও রয়েছে।” ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (CEPA) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মার্চ মাসে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়ক। তাঁর দাবি, আলোচনা শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব। উল্লেখ্য, প্রায় দু’বছর ধরে এই বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত ছিল, যা গত নভেম্বর মাসে পুনরুজ্জীবিত করতে উভয় দেশ রাজি হয় (Uranium Supply Deal)।

    অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

    হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যা মামলার প্রসঙ্গে পট্টনায়ক জানান, কানাডায় এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তিনি বলেন, “যদি কোনও ভারতীয় নাগরিকের জড়িত থাকার প্রমাণ উঠে আসে, তাহলে ভারত উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।” প্রসঙ্গত, এই সফরের পরিকল্পনা এমন একটা সময়ে করা হচ্ছে, যখন কানাডা ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কার্নি ভারত ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে আগ্রহী, যাতে রফতানি ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কানাডার অর্থনীতিকে চাঙা করা যায় (Uranium Supply Deal)। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সমালোচনার সুর আরও চড়িয়ে কার্নি বলেন, “সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপগুলি বৈশ্বিক বাণিজ্যের বাস্তবতাকে নতুন করে গড়ে তুলেছে।”

    বাড়ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ 

    এদিকে, কানাডা দশকের শেষ নাগাদ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য (India Canada Trade) ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। এই লক্ষ্য নির্ধারণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, যখন অটোয়া নয়াদিল্লিতে একটি উচ্চপর্যায়ের সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনশীল সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রতিফলনও এতে দেখা যাচ্ছে (Uranium Supply Deal)। ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হজসন বলেন, এই বাণিজ্য লক্ষ্যটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। অংশীদারিত্বের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য কর্মদক্ষতা সূচকও নির্ধারিত হয়েছে।

    ভারত–কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক

    তিনি জানান, প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পারস্পরিক পরিপূরকতা থাকা সত্ত্বেও ভারত–কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক তার সম্ভাবনার তুলনায় এখনও যথেষ্ট বিকশিত নয়। প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য সম্প্রসারণকে উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই নয়া অংশীদারিত্বের মূল স্তম্ভ হিসেবে জ্বালানি খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কানাডা বিশ্বের প্রায় ৬ শতাংশ তেল উৎপাদন করলেও, ভারতের মোট তেল আমদানির এক শতাংশেরও কম আসে কানাডা থেকে। হজসনের মতে, বৈশ্বিক গড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্য (India Canada Trade) প্রবাহ পুনর্বিন্যাস করা গেলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং একই সঙ্গে (Uranium Supply Deal) কানাডার রফতানি বাজারের বৈচিত্র্যও বাড়বে। বর্তমানে ভারত কানাডা থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানি করে।

     

  • Critical Minerals Deals: বিরল খনিজের জোগান নিশ্চিত করতে বহু দেশের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ভারত

    Critical Minerals Deals: বিরল খনিজের জোগান নিশ্চিত করতে বহু দেশের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন। তাই ব্রাজিল, কানাডা, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে অনুসন্ধান, উত্তোলন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুনর্ব্যবহারের চুক্তি নিয়ে আলোচনা (India) করছে ভারত (Critical Minerals Deals)। খনন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে আধিপত্য এবং উন্নত খনন ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির কারণে চির-প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের ওপর ভারতের অতিরিক্ত নির্ভরতা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভারতের জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

    কোন কোন দেশের সঙ্গে আলোচনা (Critical Minerals Deals)

    তবে আবিষ্কার থেকে উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছতে খনিশিল্পে সময় লাগে বিস্তর। শুধু অনুসন্ধান কাজই পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত চলে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা খনি প্রতিষ্ঠায় গিয়ে শেষ হয় না। সূত্রের খবর, “অনুরোধ এসেছে এবং আমরা ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনা করছি। অন্যদিকে কানাডার সঙ্গে চুক্তিটি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।” সূত্রের মতে, এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারতের খনিমন্ত্রক। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্চের শুরুতে ভারত সফর করতে পারেন এবং ইউরেনিয়াম, জ্বালানি, খনিজ এবং এআই সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন। কানাডার প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ জানুয়ারি মাসে এক বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করে জানিয়েছে, উভয় পক্ষ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা করার বিষয়ে রাজি হয়েছে (India)।

    মন্তব্য করেনি কোনও দেশই

    নয়াদিল্লিতে ব্রাজিলের দূতাবাস, ভারতের খনিমন্ত্রক ও বিদেশমন্ত্রক সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। নেদারল্যান্ডসের দূতাবাসের তরফেও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। মন্তব্য করতে চায়নি ফ্রান্সের দূতাবাসও। ভারত বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সন্ধান জোরদার করেছে এবং ইতিমধ্যেই আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পেরু ও চিলির সঙ্গে বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে, যার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে (Critical Minerals Deals)। ভারতের এই আন্তর্জাতিক তৎপরতা এমন একটা সময়ে বাড়ছে, যখন গত মাসে ওয়াশিংটনে জি-৭ ও অন্যান্য বড় অর্থনীতির অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে চিন থেকে ‘রেয়ার আর্থ’ নির্ভরতা কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে (India)। ২০২৩ সালে ভারত লিথিয়াম-সহ ২০টির বেশি খনিজকে “গুরুত্বপূর্ণ” বলে চিহ্নিত করেছে, যা তার জ্বালানি রূপান্তর এবং শিল্প ও পরিকাঠামো খাতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য অপরিহার্য (Critical Minerals Deals)।

     

  • India: রিফান্ড কমে যাওয়ায় ভারতের নিট প্রত্যক্ষ কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, পরিমাণ কত জানেন?

    India: রিফান্ড কমে যাওয়ায় ভারতের নিট প্রত্যক্ষ কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, পরিমাণ কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের (India) নিট প্রত্যক্ষ কর আদায়ে ৯.৪০ শতাংশের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯,৪৩,৭৪৩.৯৭ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে এই একই সময়ের ১৭,৭৬,৭২৮.১১ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। বুধবার আয়কর দফতর প্রকাশিত তথ্যে এ খবর জানানো হয়েছে (Direct Tax Collections)।

    গ্রস প্রত্যক্ষ কর আদায় (India)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রস প্রত্যক্ষ কর আদায় হয়েছে ২২,৭৮,০৬৮.৬০ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের ২১,৮৮,৫৫৪.৮৬ কোটি টাকার তুলনায় ৪.০৯ শতাংশ বেশি। এই সময়ে জারি করা কর ফেরতের পরিমাণ ১৮.৮২ শতাংশ কমে ৩,৩৪,৩২৪.৬৩ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে গত অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ৪,১১,৮২৬.৭৫ কোটি টাকা। কর্পোরেট করের (নিট) আদায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৮৯,৭৫২.৯০ কোটি টাকা। আগের বছরের এই একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭,৭৭,০৪৭.৬৩ কোটি টাকা। অ-কর্পোরেট কর আদায়, যার মধ্যে ব্যক্তি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF), সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত কর অন্তর্ভুক্ত, বেড়ে হয়েছে ১০,০৩,৩৮৫.৫২ কোটি টাকা। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৯,৪৭,৪৭৭.৩০ কোটি টাকা। সিকিউরিটিজ লেনদেন কর আদায় প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে ৫০,২৭৯.১৭ কোটি টাকায়। গত অর্থবর্ষে ছিল ৪৯,২০১.৪০ কোটি টাকা (India)।

    নির্মলা সীতারামনের আশ্বাস

    লোকসভায় ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে আলোচনার জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আশ্বাস দেন, করের ৪১ শতাংশ অংশ রাজ্যগুলির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা বিভাজ্য করের তহবিলের ৪১ শতাংশ রাজ্যগুলির কাছে হস্তান্তর করেছি। কোনও রাজ্যের অংশ কমানো হয়নি (Direct Tax Collections)।” তিনি আরও বলেন, “আগামী বছরে রাজ্যগুলির অংশ আনুমানিক ২৫.৪৪ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তাদের দেওয়া হবে। এটি গত বছরের তুলনায় ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা বেশি।” তিনি ১৬তম অর্থ কমিশনের কথা উল্লেখ করে জানান, কমিশনটি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তহবিল বণ্টন বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে প্রতিটি বছরে কেন্দ্র থেকে রাজ্যগুলিতে অর্থ হস্তান্তর হয়েছে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ীই (India)।

     

  • India: চেনাব নদীর ওপর সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু ভারতের, সিঁদুরে মেঘ দেখছে পাকিস্তান

    India: চেনাব নদীর ওপর সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু ভারতের, সিঁদুরে মেঘ দেখছে পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের চেনাব নদীর ওপর ৫,১২৯ কোটি টাকার সাওয়ালকোট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করে দিল ভারত (India)। সংবাদ সংস্থার খবর, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের অনুমোদন পাওয়া এটিই প্রথম নতুন প্রকল্প। জাতীয় জলবিদ্যুৎ শক্তি নিগম (NHPC) ৫ ফেব্রুয়ারি উধমপুর ও রামবান জেলাজুড়ে এই (Pakistan) বৃহৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে দরপত্র চেয়েছে।

    সাওয়ালকোট প্রকল্প (India)

    জানা গিয়েছে, সাওয়ালকোট প্রকল্পটি দুটি ধাপে গড়ে তোলা হবে। প্রথম ধাপে ১,৪০৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ধাপে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এতে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ১,৮৫৬ মেগাওয়াট। চেনাব নদীর উজানে বাগলিহার প্রকল্প এবং ভাটিতে সালাল প্রকল্পের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা এই প্রকল্পটি রান-অব-দ্য-রিভার পদ্ধতিতে নির্মিত হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্রুততম সময়ে প্রকল্প চালু করার লক্ষ্যে নির্মাণ পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতি নির্বাচন করা হয়েছে, যা প্রকল্পটির জরুরি গুরুত্বকে তুলে ধরে।
    সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরে পরিবেশমন্ত্রকের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রকল্পটিকে ছাড়পত্র দেয়। এরপরই এনএইচপিসি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়। নথিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক প্রস্তুতির পর বড় আকারের নির্মাণকাজ শুরু হবে। ভূগর্ভস্থ কাজ সারা বছর চলবে, তবে ভূপৃষ্ঠে নির্মাণকাজ বর্ষাকালের পরে পূর্ণগতিতে এবং বর্ষাকালে প্রায় ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় চলবে। পুরো প্রকল্পটি শেষ হতে বছর নয়েক লাগবে (India)।

    ভারতের বৃহত্তর জলবিদ্যুৎ কৌশলের অংশ

    সাওয়ালকোট প্রকল্পটি চেনাব নদীকে ঘিরে ভারতের বৃহত্তর জলবিদ্যুৎ কৌশলের অংশ। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে (Pakistan)। সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাকাল দুল ও কিরু প্রকল্প চালু করতে, ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে কোয়ার প্রকল্প শেষ করতে এবং
    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাটলে বাঁধ নির্মাণের কাজ আরও দ্রুত করতে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে কিস্তওয়ারে অবস্থিত ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পাকাল দুল প্রকল্পটি সবচেয়ে বড়। এতে ১৬৭ মিটার উঁচু বাঁধ রয়েছে, যা ভারতের সর্বোচ্চ। এটি পাকিস্তানে প্রবাহিত কোনও পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীতে ভারতের প্রথম জলাধার প্রকল্প, যা নয়াদিল্লিকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাই নয়, জলপ্রবাহের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণের সুযোগও দেয়, যা নিয়ে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন।

    প্রকল্পের উদ্বোধন ২০১৮ সালে

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৮ সালের মে মাসে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। এটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা (India)। কিস্তওয়ারের আর একটি রান-অব-দ্য-রিভার প্রকল্প কিরু, যার বাঁধের উচ্চতা ১৩৫ মিটার। উজান ও ভাটির একাধিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। সরকার কিরুর ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে (Pakistan)। চেনাব নদীর ওপর ১০৯ মিটার উঁচু বাঁধযুক্ত কোয়ার প্রকল্প ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বড় সাফল্য অর্জন করে, যখন নির্মাণের সুবিধার্থে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়—যা পাকিস্তানে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী, এটি ২০২৮ সালের মার্চে চালু হওয়ার কথা। ৮৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রাটলে প্রকল্পটি সবচেয়ে বিতর্কিত। এতে ১৩৩ মিটার উঁচু বাঁধ রয়েছে এবং স্পিলওয়ে নকশা নিয়ে পাকিস্তান বারবার আপত্তি জানিয়েছে। গত বছর সুড়ঙ্গের মাধ্যমে চেনাব নদীর প্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়ার পর নির্মাণকাজে গতি আসে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।

    উদ্বেগ বেড়েছে পাকিস্তানের

    এছাড়া, গত ডিসেম্বরে পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার পর ভারত চেনাব নদীর ওপর দুলহস্তি স্টেজ-২ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। পাকিস্তানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত। দ্রুতগতিতে এই প্রকল্পগুলি এগোনোর ফলে পাকিস্তানের উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ চেনাব নদী সিন্ধু অববাহিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং দেশটির কৃষি ও জলপরিকাঠামোর বড় অংশ এই নদীর ওপর নির্ভরশীল (India)। পাকিস্তানের মোট জলসম্পদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভারত হয়ে প্রবাহিত পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলি থেকে আসে, ফলে উজানে ভারতের প্রকল্পগুলি (Pakistan) রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
    পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তির সব ধরনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বন্ধ রেখেছে, যার ফলে এই প্রকল্পগুলিকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।

  • Maritime Security: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনকে টেক্কা দিতে সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা মোদির

    Maritime Security: ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনকে টেক্কা দিতে সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Maritime Security) সহযোগিতা আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিল ভারত (Indian Ocean Region)। এই লক্ষ্যে সেশেলসের জন্য ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার কথাও জানিয়েছে নয়াদিল্লি। অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদির দেশ।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (Maritime Security)

    সেশেলসের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণাটি করা হয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মরিশাস ও কোমোরো-সহ এই অঞ্চলের একাধিক দেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। একই সময়ে অঞ্চলটিতে বেজিংয়ের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেশেলসের রাষ্ট্রপতি প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব ভারত–সেশেলস সম্পর্কের একটি শক্তিশালী ভিত্তি। আমাদের সব উদ্যোগ সেশেলসের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে নেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এই প্যাকেজ সামাজিক আবাসন, ই-মোবিলিটি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলিতে নির্দিষ্ট প্রকল্পকে সাহায্য করবে।”

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা আমাদের অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের পূর্ণ সদস্য হিসেবে সেশেলসকে আমরা স্বাগত জানাই। এর ফলে পারস্পরিক সমন্বয় আরও মজবুত হবে এবং ভারত মহাসাগরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা জোরদার হবে (Maritime Security)।” আফ্রিকার এই দ্বীপপুঞ্জ রাষ্ট্রে প্যাট্রিক হারমিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি তাঁর প্রথম সরকারি ভারত সফর। ছ’দিনের এই সফরে তিনি ইতিমধ্যেই চেন্নাই ও মুম্বই সফর করেছেন এবং পরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছন। মঙ্গলবার তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং এরপর আগ্রা সফর শেষে তাঁর দেশে ফিরে যাওয়ার কথা। পশ্চিম ভারত মহাসাগরের একটি (Indian Ocean Region) গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে অবস্থিত সেশেলস দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে গত দু’দশকে চিনও এই অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি কলেজের গবেষণা সংস্থা এইডডেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চিন সেশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় মোট ১৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য পাঠিয়েছে।

    নয়াদিল্লির কৌশল

    সেশেলসে চিনের আর্থিক সহায়তা অনুদান ও ঋণের সমন্বয়ে গঠিত। ২০১১ সালে লেস মামেলেস এলাকায় ২৪টি আবাসন ইউনিট নির্মাণে চিন ১৮ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অনুদান দেয়। এই এলাকায় ১৮৬৪ সালের ঐতিহাসিক বাতিঘর ‘ফারে দে মামেলেস’ এবং ৫২ মিটার উচ্চ আফ্রিকান রেনেসাঁ স্মৃতিস্তম্ভ অবস্থিত। পরবর্তী সময়ে দ্বীপজুড়ে আরও একাধিক সামাজিক আবাসন প্রকল্পে চিন অনুদান দিয়েছে (Indian Ocean Region)। ভারতের সাম্প্রতিক এই ঘোষণা এবং সোমবার স্বাক্ষরিত মউ – যার আওতায় সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, সমুদ্র পরিষেবা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং সামুদ্রিক গবেষণা পরিচালনার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত, এই অঞ্চলের প্রতি নয়াদিল্লির কৌশলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে (Maritime Security)। সেশেলসে আবাসন প্রকল্প, শিক্ষা, যোগাযোগ, পরিবহণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সরকারি ও নাগরিক সমাজভিত্তিক প্রকল্পে বিনিয়োগে চিন দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। পাশাপাশি দেশটিকে সার্বিক সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে বেজিং (Indian Ocean Region)।

     

  • India Canada Relation: ক্রমেই কাছাকাছি আসছে ভারত-কানাডা, উদ্বেগ ঠেকাতে নিয়োগ করা হবে লিয়াজোঁ অফিসার!

    India Canada Relation: ক্রমেই কাছাকাছি আসছে ভারত-কানাডা, উদ্বেগ ঠেকাতে নিয়োগ করা হবে লিয়াজোঁ অফিসার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার (Work Plan) করতে ভারত ও কানাডা একটি শেয়ার্ড ওয়ার্ক প্ল্যান করছে (India Canada Relation)। উভয় দেশই পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়, যেমন মাদক পাচার ও আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ চক্র, মোকাবিলার জন্য নিরাপত্তা ও আইন-প্রয়োগ সংস্থার লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ করবে।

    বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি (India Canada Relation)

    শনিবার অটোয়ায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কানাডার নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাথালি দ্রুইনের মধ্যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে খালিস্তানপন্থী এক বিচ্ছিন্নতাবাদীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ডোভালের এই সফর ছিল নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপের অংশ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় দেশ তাদের দেশ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলিতে অগ্রগতির বিষয়টি স্বীকার করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পরিচালনার জন্য একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনায় একমত হয়েছে (India Canada Relation)। পাশাপাশি উভয় পক্ষ নিজ নিজ অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সক্ষম করার এবং নিরাপত্তা ও আইন-প্রয়োগ সংক্রান্ত লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কার্যকর সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলেও জানানো হয়েছে।

    দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ

    বিবৃতিতে এও বলা হয়, “এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারত ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগকে আরও সুসংগঠিত করবে এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়, যেমন অবৈধ মাদক প্রবাহ, বিশেষ করে ফেন্টানিলের উপাদান পাচার, এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত (Work Plan) অপরাধ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সময়োচিত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করবে (India Canada Relation)।” ভারত ও কানাডা সাইবার নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত সহযোগিতা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় আইন ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

    কানাডার জননিরাপত্তা

    শনিবার ডোভাল কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দাসাঙ্গারির সঙ্গেও বৈঠক করেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ওই বছরের শুরুতে খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় সরকারি এজেন্টদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। নয়াদিল্লি এই অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে খারিজ করে দেয় (India Canada Relation)।এই ঘটনার পর ভারত-কানাডা সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। উভয় দেশ একে অপরের কূটনীতিক বহিষ্কার করে এবং কানাডায় খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধচক্রের কার্যকলাপ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে উভয় পক্ষ ধীরে ধীরে নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে, যার মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে যোগাযোগও ছিল। মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে (Work Plan), যার মধ্যে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পারস্পরিক যোগাযোগ অন্যতম (India Canada Relation)।

     

  • India: এবার শত্রুদেশের উপগ্রহের ওপর নজরদারি করতে পারবে ভারত, জানুন কীভাবে?

    India: এবার শত্রুদেশের উপগ্রহের ওপর নজরদারি করতে পারবে ভারত, জানুন কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের (India) দ্রুত বিকাশমান বেসরকারি মহাকাশ খাতে সৃষ্টি হল গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আহমেদাবাদভিত্তিক আজিস্তা ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড তাদের এয়ারোস্পেস শাখার মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ দেশীয় ক্ষমতা (Orbit Spying Capability) প্রদর্শন করল। তারা এক উপগ্রহ থেকে অন্য একটি কক্ষপথে থাকা বস্তুর ছবি তুলতে পেরেছে, যা ভারতের বেসরকারি খাতে এই প্রথম এবং ভারতের স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস (SSA) জোরদার করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ক্ষমতাকে সাধারণভাবে ‘ইন-অরবিট স্নুপিং’ বলা হয়।

    পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ (India)

    নিজেদের ৮০ কিলোগ্রাম ওজনের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ এএফআর ব্যবহার করে আজিস্তা ৩ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পিত দুটি পরীক্ষায় সফলভাবে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (ISS)-এর ছবি তোলে। আইএসএস একটি বড় ও তুলনামূলকভাবে সহজে অনুসরণযোগ্য কক্ষপথীয় বস্তু। যদিও এটি লো-আর্থ অরবিটে (LEO) অন্যতম দৃশ্যমান ও সহযোগিতাপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু, তবুও এই সাফল্য ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের জন্য এক নতুন ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কঠিন পরিস্থিতিতে, দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থান ও সূর্যালোকপূর্ণ পরিবেশে, আজিস্তা দুটি স্বতন্ত্র ইমেজিং প্রচেষ্টা চালায়। প্রথমবার আইএসএসের সঙ্গে দূরত্ব ছিল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয়বার প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার। উভয় ক্ষেত্রেই এএফআর উপগ্রহের সেন্সর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দ্রুতগতির আইএসএসকে অনুসরণ করে মোট ১৫টি আলাদা ফ্রেম ধারণ করে, যেখানে ইমেজিং স্যাম্পলিং ছিল প্রায় ২.২ মিটার। সংস্থার দাবি, দুটি প্রচেষ্টাই একশো ভাগ সফল হয়েছে, যা তাদের ট্র্যাকিং অ্যালগরিদম এবং ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ইমেজিংয়ের নির্ভুলতাই প্রমাণ করে।

    আজিস্তার সাফল্য

    আজিস্তার কাছে এই সাফল্য শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে ভারতে সম্পূর্ণভাবে উন্নত দেশীয় অ্যালগরিদম, ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সিস্টেম ও স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে কক্ষপথে থাকা বস্তু শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব। সফল পরীক্ষার পর আজিস্তার ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি জানান, এএফআর ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রাহককে উন্নত ইমেজিং ও রিমোট সেন্সিং পরিষেবা দিচ্ছে এবং এবার সম্পূর্ণ দেশীয় ব্যবস্থায় নন-আর্থ ইমেজিং (NEI) ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তাঁর কথায়, “এই প্রযুক্তিগুলিই আমাদের এনইআই এবং এসএসএ পেলোডের মূল ভিত্তি, যা কক্ষপথে থাকা বস্তু নিখুঁতভাবে ট্র্যাক ও চরিত্রায়িত করতে সাহায্য করে (India)।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আয়ত্তে এলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণেও তা ব্যবহার করা যেতে পারে (Orbit Spying Capability)। স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস, অর্থাৎ মহাকাশে থাকা বস্তু শনাক্ত করা, তাদের গতিবিধি অনুসরণ করা ও আচরণ বোঝার ক্ষমতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ বহু দেশ এখন এমন উপগ্রহ মোতায়েন করছে, যেগুলি অন্য মহাকাশ সম্পদের খুব কাছাকাছি গিয়ে হস্তক্ষেপ, জ্যামিং বা কৌশলগত ম্যানুভার করতে পারে। লো-আর্থ অরবিটে ভিড় ও প্রতিযোগিতা বাড়ায়, পৃথিবীপৃষ্ঠে কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণের মতোই এখন আকাশে কী ঘটছে, সেটিও জানা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    উপগ্রহের সংখ্যা

    বর্তমানে ভারতের হাতে যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ও কৌশলগত কাজে ব্যবহৃত ৫০টিরও বেশি উপগ্রহ রয়েছে, যাদের সম্মিলিত মূল্য ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই সম্পদগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে (India) কক্ষপথে থাকা অন্যান্য উপগ্রহ কী করছে, সে সম্পর্কে সময়মতো তথ্য পাওয়া অত্যন্ত জরুরি, বিশেষত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে। যদিও ইসরো (ISRO) আগেও এই ধরনের ক্ষমতা দেখিয়েছে, যেমন সাম্প্রতিক এসপিএডিইএক্স (SPADEX) ইন-অরবিট পরীক্ষায় নিখুঁত রেন্ডেভু ও ম্যানুভারিং দেখানো হয়েছে, আজিস্তার উদ্যোগটি বেসরকারি খাতনির্ভর এক নতুন পথ খুলে দিয়েছে। আইএসএসের ছবি ধারণের মাধ্যমে এএফআর এমন একটি ভিত্তিমূলক সক্ষমতা দেখিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল বা কম সহযোগিতাপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর নজরদারিতে কাজে লাগতে পারে (Orbit Spying Capability)। আজিস্তার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ব্রিগেডিয়ার আদর্শ ভরদ্বাজ বলেন, “এই প্রদর্শন এমন একটা সময়ে ভারতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সক্ষমতা এনে দিয়েছে, যখন মহাকাশ প্ল্যাটফর্মগুলি ক্রমেই হস্তক্ষেপের ঝুঁকিতে পড়ছে।” আইএসএসের ছবিগুলিকে তিনি “ভবিষ্যতে কী অর্জন সম্ভব, তার প্রথম প্রমাণ” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “ভারত এখন এমন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, যা মহাকাশে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।”

    এএফআর

    এএফআর নিজেই একটি মাইলফলক। মাত্র ৮০ কিলোগ্রাম ওজনের এই উপগ্রহটি তার আকার ও কর্মক্ষমতা শ্রেণিতে (India) ভারতে প্রথম, যা সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি শিল্প দ্বারা নকশা, নির্মাণ ও পরিচালিত। ২০২৩ সালের ১৩ জুন স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে করে ট্রান্সপোর্টার-৮ মিশনের অংশ হিসেবে এটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। কক্ষপথে ২.৫ বছর পূর্ণ করে এটি এখনও স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে এবং আরও ২.৫ বছর মিশন আয়ু বাকি রয়েছে। এসএসএর বাইরে, এএফআর ইতিমধ্যেই নৌবাহিনীর ইমেজিং, নাইট ইমেজিং ও ভিডিও ইমেজিং মোডে বিশ্বজুড়ে বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা গ্রাহকদের পরিষেবা দিচ্ছে। আজিস্তা স্পেস জানিয়েছে, আহমেদাবাদে তাদের আসন্ন ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল পেলোড উৎপাদন কেন্দ্রে এমন পরবর্তী প্রজন্মের দেশীয় পেলোড তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আইএসএসের ছবি ২৫ সেন্টিমিটার রেজোলিউশনে তুলতে পারবে। আইএসএসের ছবি তোলা হয়তো মাত্র একটি সূচনা, কিন্তু এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্প ধীরে ধীরে এমন এক কৌশলগত ক্ষেত্রে প্রবেশ করছে, যা এতদিন শুধুমাত্র সরকারের দখলে ছিল, নীরবে দেশের কক্ষপথ পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ (India) ও সুরক্ষার ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলছে (Orbit Spying Capability)।

     

  • PM Modi: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন মোদি

    PM Modi: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পর এবার মালয়েশিয়ার (Malaysia) প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একই গাড়িতে সফর করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দু’দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার সেখানেই দেখা গেল দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে একটি কমিউনিটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান। যাত্রাপথের একটি ছবি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এই মুহূর্তটি ভারত ও মালয়েশিয়ার জনগণের মধ্যে দৃঢ় পারস্পরিক সম্পর্কের উদযাপন।”

    প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা (PM Modi)

    এর আগে, বিমানবন্দরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিশেষ সৌজন্য প্রদর্শন করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিজে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাঁকে স্বাগত জানান। এই আন্তরিক অভ্যর্থনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমি এতে গভীরভাবে আপ্লুত এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।” ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো’ সেরি আর রামানন এবং উপ-বিদেশমন্ত্রী দাতো’ লুকানিসমান বিন আওয়াং সাউনি। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) বিবৃতি অনুযায়ী, আগমনের পর ভারত ও মালয়েশিয়ার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় (Malaysia)।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’

    এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বিদেশমন্ত্রক জানায়, ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’, ‘ভিশন মাহাসাগর’ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ ও বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘সেলামাত দাতাং মোদিজি’ শীর্ষক একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে প্রবাসী ভারতীয়রা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লোকনৃত্যের নানা ধারার সমন্বয়ে একটি বৃহৎ দলগত নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে মালয়েশিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম তোলারও প্রচেষ্টা থাকবে (PM Modi)।

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ৭–৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই সফরের মূল লক্ষ্য ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারত–মালয়েশিয়া ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে ভারতীয় সম্প্রদায় ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করবেন (Malaysia)। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয়বার মালয়েশিয়া সফর, যা দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততারই ইঙ্গিত বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

     

  • India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং আমেরিকার অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য আগের থেকে অনেকাংশেই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। হবে নতুন কর্মসংস্থান। এমনকী কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বিরাট লাভ করবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি ডলারের মার্কিন বাজার উন্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। শনিবারই ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি দু’দেশের সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    যৌথ বিবৃতিতে কী বলা হল

    ভারত ও আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘পারস্পরিক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য’ ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৃহত্তর ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা বিটিএ (BTA) নিয়ে চলা আলোচনায় দু’দেশের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হল। এই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার মিলবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে। ভারতের পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্কে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, ভবিষ্যতে আরও ছাড় বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি । ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি আমাদের অংশীদারিত্বে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠবে। পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রতি উভয় দেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাবে এই চুক্তি।” দু’দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে এই অন্তবর্তী চুক্তি ভারসাম্য রক্ষা করবে বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে এই চুক্তির সূত্রপাত করবেন, তাও এই বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চুক্তি কাঠামো অনুযায়ী ভারত আমেরিকার বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিলোপ করবে। ভারতের উপর চাপানো বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কও আমেরিকার বিলোপ করবে, তা নেমে আসবে ১৮ শতাংশে। যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে, ভারত আমেরিকা থেকে পশুখাদ্য আমদানি করবে। পশুখাদ্যের মধ্যে সয়াবিন, ভুট্টা, গম, বার্লি, মাছের মতো বহু উপাদান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

    দেশবাসীর কত লাভ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোক্তা, এমএসএমই, স্টার্টআপ ইনোভেটর এবং মৎস্যজীবীদের নতুন সুযোগ এনে দেবে। শুধু তাই নয়, এই চুক্তির জন্য প্রচুর চাকরি হবে। তার ফলে যুব সমাজ-মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও আমেরিকার জন্য দারুণ খবর! আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মতি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের পরিশ্রমী কৃষক, উদ্যোগপতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), স্টার্টআপ উদ্ভাবক, মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।

    বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ

    মোদি বলেন, ভারত ও আমেরিকা উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এই বাণিজ্য কাঠামো দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। পাশাপাশি, এটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, “একটি বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে, আমরা ভবিষ্যতমুখী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা আমাদের জনগণকে ক্ষমতায়িত করবে এবং যৌথ সমৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোগপতি ও নতুন স্টার্টআপগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং নারী ও যুবসমাজের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

    ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার

    এই চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার। তাঁর আরও বিশ্বাস এই রফতানি বৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প এবং কৃষকদের বেশি লাভ হবে। যার ফলে সারা দেশে কোটি কোটি চাকরি তৈরি হতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমেরিকার সঙ্গে অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্কও তৈরি করে ফেলেছে ভারত। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে মহিলা ও যুবকদের জন্য। তাঁর দাবি, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত পালটা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাবে। এর ফলে টেক্সটাইল ও পোশাক, চামড়া ও জুতো, প্লাস্টিক ও রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে বড় সুযোগ তৈরি হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন

    যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি-কেন্দ্রিক উদ্যোগের ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দরজা মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকদের জন্য খুলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, এতে সমস্ত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমবে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীরতর সম্পর্কেরই প্রতিফলন, যার মাধ্যমে উভয় দেশের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল-কে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের লক্ষ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    চুক্তির মূল শর্তগুলি

    এই চুক্তি-কাঠামোর আওতায় ভারত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং একাধিক কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিডিজি, পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, বিভিন্ন বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, মদ ও স্পিরিট। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পালটা শুল্ক আরোপ করবে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, প্লাস্টিক, রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং কিছু যন্ত্রাংশ।চুক্তি চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরে এবং বিমান যন্ত্রাংশের মতো একাধিক ভারতীয় রফতানির উপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে আরোপিত কিছু বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত বিশেষ শুল্ক কোটার সুবিধা পাবে। জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান নিয়েও আলোচনা চলবে।

    ‘রুলস অব অরিজিন’- যৌথ বাণিজ্যের নানা নিয়ম

    ভারত-আমেরিকা যৌথ বাণিজ্যে দু’দেশ একে অপরকে অগ্রাধিকারমূলক বাজারে প্রবেশাধিকার দেবে। ‘রুলস অব অরিজিন’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে সব নিয়ম। ভারত মার্কিন চিকিৎসা যন্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া এবং কৃষিপণ্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি মান ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে নিয়ম মেনে চলা সহজ হয়। ভবিষ্যতে যদি কোনও পক্ষ শুল্ক পরিবর্তন করে, তবে অন্য পক্ষও তার প্রতিশ্রুতি সমন্বয় করতে পারবে। বৃহত্তর বিটিএ-র আওতায় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াতে আলোচনা চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ আলোচনায় ভারতীয় রফতানির উপর শুল্ক কমানোর অনুরোধও বিবেচনা করবে। বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার অংশ হিসেবে দু’দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করবে। বিনিয়োগ পর্যালোচনা ও রফতানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বাড়াবে দুই দেশ। ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের শক্তি, বিমান, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য ও কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি জিপিইউ ও ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম-সহ প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক নীতি তুলে নেওয়া এবং বিটিএ-র আওতায় পারস্পরিকভাবে লাভজনক ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ম তৈরির বিষয়ে দু’দেশ একমত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই কাঠামো শীঘ্রই কার্যকর করা হবে এবং একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও চলতে থাকবে।

     

     

     

     

LinkedIn
Share