Tag: India

India

  • EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি (EU Trade Agreement) শুধু প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যেই নয়, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভারত–ইইউয়ের (India) এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আমেরিকা এবং তুরস্কের গায়েও লাগবে এর আঁচ।

    ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার (EU Trade Agreement)

    এই চুক্তির আওতায় ইইউ থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতির ওপর সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ২২ শতাংশ এবং ওষুধে ১১ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক—যেগুলি ধাপে ধাপে প্রায় পুরোপুরিই তুলে নেওয়া হবে। ইউরোপীয় বিয়ারের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। পাশাপাশি রাসায়নিক দ্রব্য, বিমান ও মহাকাশযানের ক্ষেত্রে প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে। ইইউয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউয়ের রফতানি দ্বিগুণ হতে পারে এবং ইউরোপীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে। অবশ্য এই চুক্তি ভারতের প্রতিপক্ষ দেশগুলির জন্য নেতিবাচক প্রভাবও বয়ে আনবে।

    তুরস্কে তোলপাড়

    অপারেশন ‘সিঁদুরে’র পর ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই অভিযানের সময় আঙ্কারা পাকিস্তানকে ড্রোন ও লয়টারিং অ্যামুনিশন সরবরাহ করেছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি তুরস্কের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, ইইউ–তুরস্ক কাস্টমস ইউনিয়নের চুক্তি অনুযায়ী, ইইউ যে কোনও অংশীদার দেশের সঙ্গে যে অভিন্ন বহির্শুল্ক নির্ধারণ করে, তা অনুসরণ করতে হয় তুরস্ককে। এ নিয়ে তুরস্ক আগে থেকেই ইইউর কাছে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যদিও এখনও কোনও রফাসূত্র বের হয়নি। তাই সমাধান হয়নি সমস্যারও। ইইউ যখন কোনও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অংশীদার—যেমন ভারতের—জন্য শুল্ক কমায়, তখন তুরস্ককেও সেই দেশের জন্য একই শুল্কছাড় দিতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু ভারত তুরস্কের ক্ষেত্রে পাল্টা কোনও শুল্কছাড় দিতে বাধ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই দেখার (EU Trade Agreement)।

    বিপাকে বাংলাদেশ

    তুরস্কের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়বে ভারতের পড়শি বাংলাদেশের ওপরও। কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর বেশি এবং বাংলাদেশের ওপর কম শুল্ক আরোপের কারণে ভারতীয় কোম্পানিগুলি তাদের উৎপাদন ঘাঁটি বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে পারে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হওয়ায় বাংলাদেশ ইইউতে রফতানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়, যেখানে ভারতকে তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক দিতে হত (India)। এর ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল (EU Trade Agreement)। ইইউয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “ভারত খুব দ্রুত ইউরোপে বস্ত্র রফতানি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩০–৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারে। আমাদের সবসময় প্রশ্ন করা হত, বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপে এত বেশি রফতানি করে। তারা শূন্য-শুল্ক সুবিধা পেয়েছে এবং ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার দখল করেছে।” ইইউয়ের বাজারে ভারতীয় পোশাক রফতানি যখন বাংলাদেশের পণ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে, তখন মূল্য ও মানের দিক থেকে বাংলাদেশের বাজারের অংশীদারিত্ব যে কমবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত (EU Trade Agreement)।

     পাকিস্তান কুপোকাত

    টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা দুর্বল অর্থনীতির পাকিস্তানও ইইউয়ের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ। ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পাকিস্তান-সমর্থিত খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দিল্লিকে খালিস্তানি তৎপরতার বিরুদ্ধে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ করে দেবে (India)। কানাডা, জার্মানি ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলিকে ঘাঁটি করে গড়ে ওঠা খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলির ধারণা, ইইউ এবং ভারতের এই ঘনিষ্ঠতা তাদের আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর হবে। ভারত–ইইউ প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের আওতায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাও রয়েছে, যা খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে (EU Trade Agreement)।

    এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও অসন্তুষ্ট। ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও ভারত নতি স্বীকার না করায় ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য সত্ত্বেও নয়াদিল্লি তার অবস্থান বদলায়নি। এখন ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি ট্রাম্পের ওপর তার সমর্থক ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপ আরও বাড়াবে। কারণ আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ (India) কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি হাতছাড়া করছে (EU Trade Agreement)।

     

  • US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনা (US Trade Deal) ডকুমেন্টেশনের পর্যায়ে এগোচ্ছে। তবে কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজেদের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানই বজায় রাখবে ভারত, এমনটাই (Agriculture Dairy) ইঙ্গিত মিলল সরকারের শীর্ষ কর্তাদের তরফে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে বড় ধরনের বাজার উন্মুক্তকরণ সংক্রান্ত কোনও প্রতিশ্রুতির আওতায় আনা হবে না।

    কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাত (US Trade Deal)

    সংবেদনশীল কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাতকে চুক্তির আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান অপরিবর্তিতই রয়েছে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “যে অবস্থান ছিল, সেটাই রয়েছে।” তিনি বলেন, “কৃষি ও দুগ্ধ খাতে সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত অবস্থানই বজায় থাকবে। আমাদের কৃষকদের স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ করা হবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ওই খাতগুলির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

    বাণিজ্য চুক্তি

    প্রসঙ্গত, এই বক্তব্যটি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কার্যকর হতে চলা পারস্পরিক শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামবে এবং ভারতের বাজারে প্রবেশকারী মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। তবে নয়াদিল্লির কর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উভয় পক্ষের আলোচকরা এখনও চুক্তির সূক্ষ্ম শর্তাবলি ও আনুষ্ঠানিক নথি চূড়ান্ত করার কাজেই ব্যস্ত রয়েছেন (Agriculture Dairy)।

    দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন

    ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা কৃষি ও দুগ্ধ খাতের সঙ্গে যুক্ত। লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এই খাতগুলির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দুগ্ধ খাত মূলত ছোট, পারিবারিক স্তরের উৎপাদকদের দখলে—বড় কর্পোরেট খামার নয়। নীতিনির্ধারক ও মুক্ত বাণিজ্যের সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে— যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলির ভর্তুকিপ্রাপ্ত, বৃহৎ আকারের কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় বাজার খুলে দিলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে ধস নামতে পারে (US Trade Deal)। কৃষি খাতে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিতে ভারতের অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বারবার সংঘাতের কারণ হয়েছে। দুগ্ধ ও সয়াবিনের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল খাত খুলে দিতে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে, যদিও অন্যান্য আলোচনায় নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। সূত্রের খবর, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে (Agriculture Dairy)।

    চুক্তির অংশ

    এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে—এমন দাবিও করেছেন ট্রাম্প। তবে ভারতীয় সরকারি সূত্র এই দাবি খারিজ করে ‘মানুষ-প্রথম’ এবং বাজারনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তা নীতির কথা আবারও একবার জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন কর্তাদের। সরকারি এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “যে বাজারে সবচেয়ে ভালো চুক্তি পাওয়া যাবে এবং যেসব সংস্থা নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই, সেখান থেকেই আমরা তেল কিনব। আমাদের কৌশল নির্ধারিত হবে বাজারদরের ভিত্তিতে।” বিশ্বের তৃতীয় (US Trade Deal) বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ ভারত বর্তমানে রুশ অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। অন্তত এমনটাই জানিয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষক সংস্থা ক্লেপলারের তথ্য।

    ভারতের অবস্থান

    এই অবস্থান ভারতের পরিশোধন শিল্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপেও প্রতিফলিত হয়েছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিষেধাজ্ঞামুক্ত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ছাড়ে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা আবার শুরু করেছে এবং সেই তেল গুজরাটের জামনগর শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম রিফাইনারি সংস্থাটি আফ্রাম্যাক্স ট্যাঙ্কার ভাড়া করেছে এবং রুশ এক্সপোর্টের মতো সংস্থা থেকে তেল সংগ্রহ করে দৈনিক ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটে সরবরাহ করছে, যা মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায় (Agriculture Dairy)। আধিকারিকরা বলেন, “নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলি থেকে ভারত তেল কিনবে না, তবে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সেখান থেকে আমদানি পুনরায় শুরু হবে।” এক আধিকারিক বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন আমরা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনিনি। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, তাই আমরা কিনব (US Trade Deal)।”

    ট্রাম্পের দাবি

    ট্রাম্পের আরও দাবি, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—যার মধ্যে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা ও অন্যান্য খাত অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি শুল্ক ও অশুল্ক বাধা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য, এই বিপুল অঙ্কটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিমান কেনা এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকে নির্দেশ করে, তাৎক্ষণিক আমদানির বাধ্যবাধকতাকে নয় (Agriculture Dairy)। এর আগে এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, “মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি ওষুধ, টেলিকম, প্রতিরক্ষা, পেট্রোলিয়াম ও বিমান খাতের মতো ক্ষেত্রগুলির অন্তর্ভুক্ত। এটি বহু বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।” সরকারের দাবি, প্রস্তাবিত এই চুক্তি ভারতের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি বছরে প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ৮৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি হয়েছে ৪৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (US Trade Deal)।

    তবে আপাতত নয়াদিল্লি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে আলোচনার টেবিলের বাইরে রাখা হবে। বার্তা পরিষ্কার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে ভারত আগ্রহী হলেও, দেশের কৃষকদের জীবিকার (Agriculture Dairy) সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা হবে না।

     

  • T-20 World Cup 2026: ভারত ম্যাচ বয়কট, পাশে নেই বাকি বোর্ড! আইসিসির সঙ্গে সংঘাতে বিপাকে পাকিস্তান

    T-20 World Cup 2026: ভারত ম্যাচ বয়কট, পাশে নেই বাকি বোর্ড! আইসিসির সঙ্গে সংঘাতে বিপাকে পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের পাশে নেই অন্য কোনও ক্রিকেট বোর্ড। আইসিসির বিরুদ্ধে অসহায় পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T-20 World Cup 2026) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে বিপাকে পড়েছে পিসিবি। টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও ভারত ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু সরাসরি আইসিসিকে কিছু জানায়নি। নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু তারপরই রক্তচক্ষু রাঙায় আইসিসি। এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ডের দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান। কিন্তু কোনও সাপোর্ট মেলেনি। পাশে দাঁড়ায়নি অন্য কোনও ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ম্যাচ বয়কটের কথা আইসিসিকে জানায়নি। যার ফলে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

    কোনও আইনি অবস্থানও নেই পাকিস্তানের

    সূত্রের খবর, পিসিবির পাশে দাঁড়াতে চায়নি অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তানের কোনও লোকাস স্ট্যান্ডি নেই। কোনও আইনি অবস্থানও নেই। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বাকি ক্রিকেট বোর্ডগুলো। পাকিস্তানের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সেখানে বয়কটের প্রসঙ্গ ওঠেনি। পাকিস্তানের মেয়েদের দলের ভারতীয় এ দলের বিরুদ্ধে খেলার কথা। এইক্ষেত্রে কোনও আপত্তি জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট কেন? আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তান সব ম্যাচ কলম্বোয় খেলবে। শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু। তাই কোনও সমস্যা হওয়ার কথা না পাকিস্তানের। বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের এই অবস্থান মানতে পারছে না বাকি বোর্ডগুলো।

    পাকিস্তানের ওপর কী কী শাস্তি

    পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে মাঠে না নামে তাহলে আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচটি ভারতকে ওয়াকওভার হিসেবে দেওয়া হবে। ভারতকে পয়েন্ট পেতে হলে তাদের মাঠে উপস্থিত থাকতে হবে। যদি ভারতের অধিনায়ক (Suryakumar Yadav) টসের জন্য মাঠে আসেন এবং পাকিস্তান অধিনায়ক (Salman Ali Agha) না আসেন, তাহলে ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ এবং ২ পয়েন্ট ভারতকে দিয়ে দেবে। ডিফল্ট করা দল (পাকিস্তান) কে ২০ ওভারের পুরো ইনিংস খেলেছে কিন্তু ০ রান করেছে বলে ধরা হবে। এতে তাদের নেট রান রেট অনেক কমে যাবে, ফলে তারা অন্য ম্যাচগুলো জিতলেও শেষ ৮-এ ওঠা খুব কঠিন হবে। তবে, আর্থিক ও বাণিজ্যিক শাস্তিই পিসিবি-র আসল সমস্যা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু টুর্নামেন্ট নয়, পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমে টাকা রোজগারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রচারকারী সংস্থা আনুমানিক $২৫ মিলিয়ন থেকে $৩০ মিলিয়ন বিজ্ঞাপন আয় হারাবে। তারা আইসিসি-র কাছে ছাড় চাইতে পারে। আইসিসি এই আইনি দাবি ও আর্থিক ক্ষতি সরাসরি পিসিবি-র ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। আইসিসি পিসিবি-র বার্ষিক আয়ের অংশ আটকে রাখতে পারে, যা পাকিস্তানের ক্রিকেট বাজেটের প্রায় ৭০-৮০%। এতে বোর্ড আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।

    আইসিসি সংবিধানের লঙ্ঘন

    আইসিসির “সরকারি হস্তক্ষেপ” ধারা অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, সরকারি হস্তক্ষেপ এড়াতে হবে। যদিও প্রাক্তন পিসিবি চেয়ারম্যান এহসান মানি বলেছেন, সরকারি নির্দেশ মানলে পাকিস্তান আইসিসি-র শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে, কিন্তু পাকিস্তানের “নির্বাচিত অংশগ্রহণ” এখনও টুর্নামেন্টের সততার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে (১৯৯৬ ও ২০০৩)-এ নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে দলগুলো ম্যাচ বয়কট করেছিল (যেমন Australia, Sri Lanka-র ম্যাচ বাদ দিয়েছিল)। তবে, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা-তে, যেটা নিরপেক্ষ ভেন্যু, ম্যাচ বয়কট করছে, তাই সরকারি হস্তক্ষেপের কোনো কারণ নেই। তাই, এই পদক্ষেপ সরাসরি আইসিসি সংবিধানের লঙ্ঘন।

  • India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য চুক্তিতে সহমত হয়েছে ভারত এবং আমেরিকা (India US Trade Deal)। যার ফলে ভারতের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে বলে খবর। আর তাতেই ফাঁপড়ে পড়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিন। কারণ, তাদের থেকে ভারতের শুল্ক অনেকটাই কম। যার ফলে ভারতের বাণিজ্য বাড়বে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে এবং প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানি করতে পারে।

    স্বাগত বার্তা মোদির

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দারুণ আনন্দিত। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার এই ঘোষণায় আমি অত্যন্ত খুশি। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্র ও অর্থনীতি একসঙ্গে কাজ করলে তা সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

    ঐতিহাসিক চুক্তি, শাহ

    অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর পোস্টে এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ (Historic Deal) বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক ১৮ শতাংশে নামায় ভারত–মার্কিন বাণিজ্য (India-US Trade) নতুন মাত্রা পাবে। উভয় দেশের মানুষই এর সুফল পাবেন।’ দুই দেশের তুলনামূলক শুল্ক নিয়ে সরকারি সূত্র জানায়, এখন ভারতের শুল্ক ইন্দোনেশিয়া (১৯%), ভিয়েতনাম (২০%), বাংলাদেশ (২০%), এবং চিনের (৩৪%) চেয়ে কম। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে।

    ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    ভারত-মার্কিন বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) সম্পন্ন হওয়ায় আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০% শুল্ক কমে ১৮%-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অটোমোবাইল (Auto Stocks), আইটি (IT Stocks), ডিফেন্স (Defence Stocks) এবং ফার্মার (Pharma Stocks) মতো রফতানি-নির্ভর সেক্টরগুলি বিনিয়োগকারীদের (Investment) নজরে রয়েছে।ভারত-আমেরিকা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে রফতানি বাণিজ্যে নতুন জোয়ার আসবে। বিশেষ করে আইটি এবং ডিফেন্স স্টকগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান

    এই চুক্তির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারত এখন এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে পড়ল, যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক আরোপ করছে। চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের শুল্কহার কম। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় ভারতের শুল্ক সামান্য বেশি। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা আগের ২৫ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’-এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল। নতুন চুক্তির ফলে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

    বেশি ট্যারিফ যাদের উপর

    চিন- ৩৭ শতাংশ

    ব্রাজিল- ৫০ শতাংশ

    দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩০ শতাংশ

    মায়ানমার- ৪০ শতাংশ

    লাওস- ৪০ শতাংশ

    কম ট্যারিফ রয়েছে যাদের উপর

    ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন- ১৫ শতাংশ

    জাপান ১৫ শতাংশ

    দক্ষিণ কোরিয়া- ১৫ শতাংশ

    সুইৎজারল্যান্ড- ১৫ শতাংশ

    ইউকে- ১০ শতাংশ

    দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন শুল্ক

    বাংলাদেশ- ২০ শতাংশ

    ভিয়েতনাম- ২০ শতাংশ

    মালেয়শিয়া- ১৯ শতাংশ

    কম্বোডিয়া- ১৯ শতাংশ

    থাইল্যান্ড- ১৯ শতাংশ

    পাকিস্তান- ১৯ শতাংশ

    ভারত-মার্কিন চুক্তির শর্ত

    সূত্রের খবর, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়েছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মোট মার্কিন জ্বালানি ক্রয় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যের দিকে নিয়ে যাবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের গড় শুল্কহার ছিল বিশ্বের অন্যতম উচ্চ—সাধারণভাবে প্রযোজ্য হার ১৫.৬ শতাংশ এবং কার্যকর হার ৮.২ শতাংশ।

    রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ায় ভারতের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। বাণিজ্যে আরও সুবিধা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুল্ক কমার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভারত এবার থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। তার বদলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে তেল কিনবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টে এ কথা উল্লেখ নেই।

    এখনো যেসব বিষয় স্পষ্ট নয়

    এই চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের সময়সীমা কী, কিংবা কোন কোন মার্কিন পণ্য ভারত কিনবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি বা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিস জারি করেনি। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই এখনো চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে রাশিয়াও ভারতের তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে ভারতের সঙ্গে ঘোষিত এই চুক্তিতে তেমন কোনো বিনিয়োগের উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, গত এক বছরে দু’দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও উচ্চ শুল্ক এবং কূটনৈতিক মতবিরোধে সম্পর্ক কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল। শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতাকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

  • Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেগের সালিশি আদালত (কোর্ট অফ আরবিট্রেশন) ইন্দাস জলচুক্তির (Indus Waters Treaty) কাঠামোর আওতায় নতুন শুনানি ও নথি তলবের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে গেলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার বৈধতা তারা স্বীকার করে না এবং এতে অংশও নেবে না (India)। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হল, গত সপ্তাহে ইন্দাস জলচুক্তির (IWT) অধীনে গঠিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন (CoA)-এর জারি করা একটি নির্দেশ। ওই নির্দেশে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির পরিচালনাসংক্রান্ত ‘পন্ডেজ লগবুক’ জমা দিতে বলা হয়েছে, যা আদালত ‘মেরিটস সংক্রান্ত দ্বিতীয় ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছে।

    হেগের পিস প্যালেসে শুনানি (Indus Waters Treaty)

    আদালত জানিয়েছে, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি হেগের পিস প্যালেসে শুনানি হবে। একই সঙ্গে আদালত নথিভুক্ত করেছে যে, ভারত এখনও কোনও কাউন্টার-মেমোরিয়াল জমা দেয়নি এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের কোনও ইঙ্গিতও দেয়নি। তবে নয়াদিল্লির কাছে এই পুরো প্রক্রিয়াটাই অর্থহীন। সরকারি সূত্রের খবর, ‘অবৈধভাবে গঠিত’ এই তথাকথিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ‘সমান্তরাল শুনানি’ চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের ভাষায়, “আমরা যেহেতু এই আদালতের বৈধতা স্বীকার করি না, তাই তাদের কোনও যোগাযোগেরই জবাব দিই না। তাছাড়া ইন্দাস জলচুক্তি বর্তমানে স্থগিত থাকায়, ভারতের পক্ষে কোনও জবাব দেওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। এটি পাকিস্তানের একটি কৌশল—আমাদের টেনে এনে দেখানোর চেষ্টা যে আমরা এখনও প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছি।”

    পহেলগাঁওকাণ্ড

    এই নজিরবিহীন অচলাবস্থার নেপথ্যের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল, যখন পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ওই ঘটনার একদিন পরেই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দাস জলচুক্তিকে ‘স্থগিত’ ঘোষণা করে। ১৯৬০ সালের পর এই প্রথমবার ভারত জল সহযোগিতাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করল (India)। এই সিদ্ধান্ত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সঙ্গেও যুক্ত ছিল এবং ভারতের পাকিস্তান নীতিতে এক সুস্পষ্ট মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দেয়। এটি জানিয়ে দেয়, শত্রুতার আবহে সহযোগিতা কখনওই চলতে পারে না। ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। পরবর্তী ন’মাসে পাকিস্তান কূটনীতিকদের তলব করেছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘে চিঠি দিয়েছে, ১০টিরও বেশি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন (Indus Waters Treaty) করেছে। এসব কিছুর কেন্দ্রীয় বক্তব্য একটাই, ভারত তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল দুর্বল জায়গায় আঘাত হেনেছে।

    ইন্দাস নদী

    পাকিস্তানের কৃষির প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ ইন্দাস নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। দেশটির জলাধার সক্ষমতা এক মাসের প্রবাহও ধরে রাখতে পারে না। তাদের প্রধান জলাধার, তারবেলা ও মাঙ্গলা নাকি প্রায় ‘ডেড স্টোরেজে’ পৌঁছে গিয়েছে। একসময় যা ছিল নিছক একটি প্রযুক্তিগত চুক্তি, তা এখন পরিণত হয়েছে কৌশলগত চাপের হাতিয়ারে (India)। ভারতের অবস্থান সত্ত্বেও হেগ-ভিত্তিক আদালত এমনভাবে এগোচ্ছে, যেন চুক্তির কাঠামো এখনও পুরোপুরি কার্যকর। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির এক নির্দেশে আদালত ২–৩ ফেব্রুয়ারির শুনানির বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করে এবং জানায়, ভারত উপস্থিত না থাকলে পাকিস্তান একাই পিস প্যালেসে সশরীরে যুক্তি উপস্থাপন করবে। এর পাঁচ দিন পর, পাকিস্তানের অনুরোধে জারি করা আর এক নির্দেশে আদালত ভারতকে বাগলিহার ও কিষানগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ পরিচালন লগবুক জমা দিতে বলে। উদ্দেশ্য, ভারত ঐতিহাসিকভাবে পন্ডেজের হিসেব ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখিয়েছে কি না, তা যাচাই করা। আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত সহযোগিতা না করলে তারা ‘প্রতিকূল অনুমান’ টানতে পারে অথবা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান যে নথি পাবে, তা গ্রহণ করতে পারে (Indus Waters Treaty)।

    ভারতের অবস্থান

    আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান তাদের বিচার করার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে না (India)। এটাই সেই অবস্থান, যা ভারত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইন্দাস জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত মতপার্থক্য নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের কাছে যায়, আর আইনি বিরোধ যায় সালিশি আদালতে। ভারতের ধারাবাহিক দাবি, বর্তমান বিরোধগুলি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের এক্তিয়ারভুক্ত, আর পাকিস্তানের সালিশি আদালত সক্রিয় করার চেষ্টা ‘ফোরাম শপিং’য়ের শামিল। এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকার করছে নয়াদিল্লি। শুধুমাত্র নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারত ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাকিস্তানকে এই বিরোধকে বৃহত্তর আইনি ও রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ দিতে দেওয়া হবে না (Indus Waters Treaty)। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশগুলি দেখাচ্ছে, তারা দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়ার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করার চেষ্টা করছে, যাকে ভারত সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মনে করছে (India)।

    আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা

    হেগে যা ঘটছে, তা কেবল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হিসেবনিকেশ নিয়ে আইনি বিরোধ নয়। এটি সংযমের দীর্ঘ দশকের পর কূটনৈতিকভাবে চুক্তিকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের ভারতের সিদ্ধান্তের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা। পাকিস্তানের কাছে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানো অস্তিত্বের প্রশ্ন। আর ভারতের কাছে সরে দাঁড়ানো একটি কৌশলগত পছন্দ। কোর্ট অব আরবিট্রেশন আদেশ জারি করতে পারে, শুনানির দিন ঠিক করতে পারে, প্রক্রিয়াগত নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া এবং চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত থাকায়, এই কার্যক্রম একতরফা আইনি নথি হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে রয়েছে, বাধ্যতামূলক রায়ের নয় (India)।

    সাউথ ব্লকের দৃষ্টিতে, সেটাই আসলে উদ্দেশ্য। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর থেকে ভারতের বার্তা স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক—ভূমির বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনও চুক্তি টিকে থাকতে পারে না। আর পাকিস্তান যতদিন না নয়াদিল্লির ভাষায় ‘অস্বাভাবিক শত্রুতা’ বন্ধ করছে, ততদিন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জলবণ্টন চুক্তিটিও একাধিক অর্থে স্থগিতই থাকবে (Indus Waters Treaty)।

     

  • Budget 2026: বাংলাদেশে অশান্তির জের, বিদেশি অনুদানে ভারত কমাল বরাদ্দ

    Budget 2026: বাংলাদেশে অশান্তির জের, বিদেশি অনুদানে ভারত কমাল বরাদ্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিরার সংসদে বাজেট (Budget 2026) পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই বাজেটে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে বিদেশি দেশগুলির জন্য অনুদান বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছে ৫,৬৮৫.৫৬ কোটি টাকা। এই তালিকায় ভুটান-ই সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া দেশ হিসেবে (Bangladesh Aid Cut) উঠে এসেছে। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে বিদেশমন্ত্রক (MEA)-এর জন্য মোট ২২,১১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষে বাজেট অনুমানের ২০,৫১৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত অনুমানের ২১,৭৪২ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। মোট বরাদ্দের মধ্যে ‘কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের প্রকল্প দেশগুলিকে সহায়তা’ খাতে রাখা হয়েছে ৫,৬৮৫.৫৬ কোটি টাকা।

    উন্নয়ন সাহায্য (Budget 2026)

    উন্নয়ন সাহায্য হিসেবে ভুটান পেয়েছে সর্বোচ্চ ২,২৮৮ কোটি টাকা, যা ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর প্রতি দেশের অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে। নেপাল পেয়েছে ৮০০ কোটি টাকা, আর মলদ্বীপ এবং মরিশাস পেয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা করে। বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। এটি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের বাজেট অনুমানের ১২০ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যদিও চলতি অর্থবর্ষের সংশোধিত অনুমান ৩৪.৪৮ কোটি টাকার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ভারতীয় কূটনৈতিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে হওয়া বিক্ষোভের জেরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেই এই বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Budget 2026)। সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য এ বার কানাকড়িটিও বরাদ্দ করা হয়নি। অথচ ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা পরে সংশোধিত অনুমানে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।

    ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

    এই সিদ্ধান্ত এমন একটা সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে এবং চাবাহার প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত ওয়াশিংটনের ছাড় (waiver) অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৬ এপ্রিল (Budget 2026)। ভারত ও ইরানের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা চাবাহার বন্দরকে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। এটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উত্তর–দক্ষিণ পরিবহণ করিডরের (INSTC) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার বন্দরের জন্য কোনও বরাদ্দ না রাখায় কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। কংগ্রেসের এই নেতার অভিযোগ, সরকার “কারও চাপে নতি স্বীকার করছে”। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারতের বিদেশি উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির মোট পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬,৯৯৭ কোটি টাকা, যা বিদেশমন্ত্রকের মোট বরাদ্দের ৩১ শতাংশের কিছু বেশি।

    কোন দেশ কত পেল

    সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই অর্থ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, আবাসন, সড়ক ও সেতুর মতো বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প থেকে শুরু করে তৃণমূল স্তরের সমাজ উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে শ্রীলঙ্কার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা, আর মায়ানমার পেয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। আফগানিস্তানের জন্য সাহায্যের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষে ছিল ১০০ কোটি টাকা, ফলে দেশটির সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক সহযোগিতা অব্যাহত থাকছে। আফ্রিকার দেশগুলির জন্য বরাদ্দ অপরিবর্তিত রেখে ২২৫ কোটি টাকাই রাখা হয়েছে (Bangladesh Aid Cut)। আর লাতিন আমেরিকার দেশগুলির জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। বিদেশি দেশগুলিতে দুর্যোগ ত্রাণ সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা (Budget 2026)।

     

  • India AI Impact Summit: ‘সবার জন্য এআই’ এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট

    India AI Impact Summit: ‘সবার জন্য এআই’ এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘সবার জন্য এআই’ (AI for All) এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-এর উদ্যোগে আগামী ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬। এই সম্মেলন বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। এটি এখনও পর্যন্ত আয়োজিত সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক এআই সম্মেলনে পরিণত হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি, ২০২৬) এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রতিক কালে এআই নিয়ে বিভিন্ন শিল্পনেতা, ডেভেলপার ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করেছেন। ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইকোসিস্টেমের সুসংগঠিত অগ্রগতির লক্ষ্যে এই বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ।

    এআই নিয়ে ভারতের ভাবনা

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই ২০০-র বেশি খাতভিত্তিক ও নির্দিষ্ট এআই মডেল তৈরি করেছে, যা এই সম্মেলনের সময় উদ্বোধন করা হবে। এআই পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। সম্মেলন শেষে এই অঙ্ক দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এআই প্রতিভা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, শিল্প-সম্মত পাঠক্রম ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৫০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ চালু করা হবে। শক্তি চাহিদা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তির জন্য বিপুল শক্তি প্রয়োজন হওয়ায় পারমাণবিক শক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫০ শতাংশই সবুজ শক্তি, যা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

    সবার জন্য এআই-এটাই লক্ষ্য

    এই উপলক্ষে প্রায় ৬০ জন বিশিষ্ট শিল্প বিশেষজ্ঞের মতামত সংকলিত একটি কম্পেন্ডিয়াম — ‘দ্য ইমপ্যাক্ট এজেন্ডা: লিডারশিপ রিফ্লেকশনস’ — প্রকাশ করা হয়, যেখানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও সমাজে এআই-এর প্রভাব সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইলেকট্রনিক্স ও আইটি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অজয় সুদ, এবং মেইটি-র শীর্ষ আধিকারিকরা। মেইটি সচিব এস. কৃষ্ণন জানান, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির গণতান্ত্রিকীকরণ, বিশেষ করে এআই, যাতে এর সুফল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

    সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টা

    সম্মেলন সপ্তাহে ভারত মণ্ডপম ও সুষমা স্বরাজ ভবনে প্রায় ৫০০টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপো-তে থাকবে ৮৪০টিরও বেশি প্রদর্শনী, যার মধ্যে বিভিন্ন দেশের প্যাভিলিয়ন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার, শিল্প সংস্থা, স্টার্টআপ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। এই সম্মেলনে ১৫ জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, ৪০ জনের বেশি মন্ত্রী, ১০০-রও বেশি শীর্ষস্থানীয় সিইও ও সিএক্সও, এবং ১০০ জনের বেশি খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণ করতে চলেছেন। জিও, কোয়ালকম, ওপেনএআই, এনভিডিয়া, গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাডোব এবং গেটস ফাউন্ডেশন-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক শিল্প অংশীদারের উপস্থিতিও প্রত্যাশিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করতে ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম সারির প্রযুক্তি সংস্থার সিইও এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামনেই আসছে ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’। তার আগে এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী প্রযুক্তিবিদরা ভারতকে এআই প্রযুক্তির হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারের এই নিরন্তর প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন।

  • Wings India 2026: ভারতেই তৈরি হবে সুখোই সুপারজেট ১০০! হ্যালের সঙ্গে চুক্তি রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের

    Wings India 2026: ভারতেই তৈরি হবে সুখোই সুপারজেট ১০০! হ্যালের সঙ্গে চুক্তি রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত উইংস ইন্ডিয়া ২০২৬ আন্তর্জাতিক বিমান প্রদর্শনীতে (Wings India 2026) ভারত–রাশিয়া মহাকাশ সহযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হলো। রাশিয়ার ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন (UAC) এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) ভারতে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমানের লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদনের জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ (Joint Venture) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ২৮ জানুয়ারি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন-এর জেনারেল ডিরেক্টর ভাদিম বাদেখা এবং হ্যাল-এর চেয়ারম্যান ড. ডি. কে. সুনীল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী গেন্নাদি আব্রামেনকভ, ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপভ, বাণিজ্য প্রতিনিধি আন্দ্রেই সোবোলেভ এবং রোসাভিয়াতসিয়ার এভিয়েশন ইকুইপমেন্ট সার্টিফিকেশনের প্রধান দিমিত্রি কোপিসভসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

    নয়া চুক্তির কী কী শর্ত

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সুখোই সুপারজেট ১০০ বিমানের টাইপ সার্টিফিকেট ভারতে স্বীকৃতি ও বৈধকরণ (Certification and Validation) প্রক্রিয়ায় হ্যাল, ইউএসি-কে সহায়তা করবে। এর বিনিময়ে হ্যাল ভারতে এই বিমান তৈরি, বিক্রি এবং রক্ষণাবেক্ষণের লাইসেন্স পাবে। পাশাপাশি, মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও উপাদান উৎপাদনের অধিকারও থাকবে হ্যাল-এর হাতে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংস্থা রোস্তেকের অধীনস্থ ইউএসি, হ্যাল-কে প্রযুক্তিগত পরামর্শ, নকশা সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পরিষেবা দেবে, যাতে ভারতে সুখোই সুপারজেট ১০০-এর অ্যাসেম্বলি লাইনের জন্য উৎপাদন পরিকাঠামো পুনর্গঠন করা যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে মস্কোতে দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। নতুন এই চুক্তি সেই আলোচনাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিল।

    কীভাবে কাজের বণ্টন হবে

    এই চুক্তিকে একটি বিস্তৃত ‘মাস্টার এগ্রিমেন্ট’-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভবিষ্যতের সময়সূচি, আর্থিক কাঠামো এবং দুই পক্ষের মধ্যে কাজের বণ্টন বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত হবে। সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) হলো মূল সুখোই সুপারজেটের একটি আধুনিক ও পুনর্নকশাকৃত সংস্করণ, যা সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ায় তৈরি উপাদান ও সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্বে ব্যবহৃত ফ্রাঙ্কো-রুশ ইঞ্জিনের পরিবর্তে এতে ব্যবহার করা হয়েছে রাশিয়ায় নির্মিত পিডি৮ ইঞ্জিন। ফলে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) বর্তমানে একটি সম্পূর্ণ ‘ইমপোর্ট-সাবস্টিটিউটেড’ রাশিয়ান আঞ্চলিক জেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এর সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দুটি সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) প্রোটোটাইপ ১০টি দেশের আকাশসীমা পেরিয়ে হায়দ্রাবাদে পৌঁছয়। ভারতের ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব সরকারের ‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক’ (UDAN) কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার লক্ষ্য সাশ্রয়ী বিমান পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলির উন্নয়ন। ভারতে স্থানীয় উৎপাদন শুরু হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে সুখোই সুপারজেট ১০০ (SJ-100) -এর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর ও রফতানির সুযোগও বাড়বে।

  • India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেমিট্যান্স (India Remittances) বা প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত (India)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২০২৫–২৬ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) এই তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ পৌঁছেছে ১৩৫.৪ বিলিয়ন ডলারে, যা দেশের বৈদেশিক হিসেবের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেশ করা সমীক্ষায় জানিয়েছেন, উন্নত দেশগুলি থেকে রেমিট্যান্সের (India Remittances) অংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। রফতানিতে ভারতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই সমীক্ষায়।

    উৎপাদনভিত্তিক রফতানি (India)

    সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, উৎপাদনভিত্তিক রফতানি ক্ষমতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক স্থিতিশীলতা এবং মুদ্রার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে। এ জন্য প্রয়োজন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও উৎপাদনশীলতাভিত্তিক শিল্পনীতি, ভ্যালু চেইনজুড়ে কাঁচামাল ও উপকরণ ব্যয়ের সতর্ক ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চ-মূল্য সংযোজিত পরিষেবা খাতের সমান্তরাল বৃদ্ধি। বিশ্বজুড়ে আর্থিক পরিস্থিতি কড়াকড়ি হলেও ভারত ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের মোট বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে মোট বিনিয়োগ প্রবাহ জিডিপির হার পৌঁছেছে ১৮.৫ শতাংশে। রাষ্ট্রসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) গ্রহণে ভারত শীর্ষস্থানে (India Remittances) রয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো বড় এশীয় অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে (India)।

    গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ

    ২০২৪ সালে গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারত চতুর্থ স্থানে ছিল। ওই বছরে এক হাজারের বেশি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, ২০২০–২৪ সময়কালে গ্রিনফিল্ড ডিজিটাল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে মোট ১১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর – এই পর্বে মোট এফডিআই প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৫.৮ বিলিয়ন ডলার। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “ভারতে বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) বারবার প্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। এই ওঠানামা অনেক সময় বৈশ্বিক আর্থিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। চলতি অর্থবর্ষে ছ’মাস নিট বহিঃপ্রবাহ এবং তিন মাস নিট প্রবাহ দেখা গেছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে নিট অবস্থান তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে।”

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

    এছাড়া, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার (India Forex) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০১.৪ বিলিয়ন ডলারে (১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত), যা মার্চের শেষে ছিল ৬৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রিজার্ভের পর্যাপ্ততার দিক থেকে বলা হয়েছে, এই সঞ্চয় প্রায় ১১ মাসের পণ্য আমদানি এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে থাকা মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশ মেটাতে সক্ষম। ফলে এটি একটি স্বস্তিদায়ক বাফার হিসেবে কাজ করছে (India)। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি দেশের মুদ্রার কার্যকারিতা নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় সৃষ্টি, বৈদেশিক ভারসাম্য রক্ষা, স্থিতিশীল এফডিআই আকর্ষণ এবং উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রফতানি প্রতিযোগিতার ক্ষমতার ওপর (India Remittances)। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে ভারতের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা মার্চ ২০২৫ শেষে ছিল ৭৩৬.৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত ছিল ১৯.২ শতাংশ। তবে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের মোট ঋণের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অংশ ৫ শতাংশেরও কম। এর ফলে বৈদেশিক খাতজনিত ঝুঁকি অনেকটাই সীমিত রয়েছে ।

     

  • Israel: নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে ফেব্রুয়ারি মাসে ইজরায়েলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, কী কী বিষয়ে আলোচনা?

    Israel: নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে ফেব্রুয়ারি মাসে ইজরায়েলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, কী কী বিষয়ে আলোচনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইজরায়েলের (Israel) মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আগামী ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল সফর করতে চলেছেন। তাঁর তৃতীয় মেয়াদে এটিই হবে প্রথম ইসরায়েল সফর এবং ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের প্রায় নয় বছর পর তিনি দেশটিতে যাচ্ছেন।

    ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি (Israel) রাষ্ট্রদূত রুবেন আজার নিশ্চিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং এই সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি এখন চলছে।” দুই দেশের সম্পর্কের মাত্রাকে আরও উন্নত এবং সুরক্ষিত করতে বিশেষ ভাবে উভয়দেশ দায়িত্বশীল থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সফরের মূল লক্ষ্য ও ক্ষেত্রসমূহ (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নিচের ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে:

    • প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা: সামরিক সরঞ্জাম এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা।
    • প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা: উন্নত প্রযুক্তির আদান-প্রদান।
    • কৃষি ও বাণিজ্য: কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত করা।

    ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য

    পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন কথোপকথনে উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা শূন্য-সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় দেশ নিজেদের মত নিয়ে এক এবং অবিচল।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল গত কয়েক মাসে ইজরায়েল (Israel) সফর করেছেন। অন্যদিকে, ইজরায়েলের পর্যটন, অর্থনীতি, কৃষি ও অর্থমন্ত্রীরাও গত বছর ভারত সফর করেছেন। এই উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোই মূলত মোদির আসন্ন সফরের ভিত্তি তৈরি করেছে।

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ইতিহাস

    ২০১৭ সালের সফর: প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) ছিলেন প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি ইজরায়েল সফর করেছিলেন।

    প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব: বর্তমানে ভারত ইজরায়েলি (Israel) সামরিক সরঞ্জামের বৃহত্তম ক্রেতা। এছাড়াও যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে উভয় দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।

    সাম্প্রতিক চুক্তি: সম্প্রতি উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

    এই সফর শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাই নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইজরায়েলের গভীর বন্ধুত্বের প্রতিফলন ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share