Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • I-PAC: অবৈধ কয়লা খনন  ও আর্থিক দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে কীভাবে ইডির নজরে আই-প্যাক?

    I-PAC: অবৈধ কয়লা খনন ও আর্থিক দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরে কীভাবে ইডির নজরে আই-প্যাক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ও দিল্লিতে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে, তা নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। এই অভিযানের কেন্দ্রে নাম উঠে এসেছে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (I-PAC) এবং সংস্থার অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের নাম।

    ইডির বক্তব্য

    ইডি তাদের একটি প্রেস রিলিজে পরিষ্কার জানিয়েছে, এই তল্লাশি কোনও রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং অবৈধ কয়লা খনন ও অর্থপাচার (Coal Mining Corruption Cases) সংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি তদন্তের অংশ হিসেবেই চালানো হয়েছে। মামলাটি আর্থিক দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুযায়ী তদন্ত চলছিল। সকাল থেকেই শুরু হওয়া এই অভিযানে কলকাতা ও দিল্লির একাধিক স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। আই প্যাক (I-PAC) এর অফিস, প্রতীক জৈনের বাসভবন – সব মিলিয়ে প্রায় ন’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে ইডির এই অভিযান।

    অবৈধ কয়লা খননের সূত্রপাত (Coal Mining Corruption Cases)

    এই মামলার সূত্রপাত হয় কয়েক বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলা এবং তার সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (Coal Mining Corruption Cases)-এর খনন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন ও চোরাচালান চলছিল। এই চক্রে রেলওয়ে, সিআইএসএফ-সহ বিভিন্ন দফতরের কিছু অসাধু কর্মীর যোগসাজশ ছিল। অবৈধভাবে উত্তোলিত কয়লা পরে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বিক্রি করার চক্র চলত। হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ২,৭৪২ কোটি টাকার কয়লা এভাবে পাচার হয়েছে বলে অনুমান।

    এই সিন্ডিকেটের মূল মাথা হিসেবে একাধিকবার উঠে আসে অনুপ মজির নাম। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ২০০০ সাল থেকে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সিবিআই এই মামলায় হস্তক্ষেপ করে এবং তদন্ত আরও জোরদার হয়।

    অর্থপাচারের পথে আই প্যাক (I-PAC)-এর নাম

    তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে অর্থপাচারের জটিল নেটওয়ার্ক। ইডির দাবি, অবৈধ কয়লা বিক্রির টাকা বিভিন্ন হাওলা অপারেটরের মাধ্যমে ঘুরে বেড়িয়েছে এবং সেই লেনদেনের একটি বড় অংশ আই প্যাক (I-PAC)-এর কাছেও আসে। এই অবৈধ আর্থিক লেনদেনের কারণেই ইডির নজরে আসে। ইডির দাবি, এই অর্থ কীভাবে, কোন পরিষেবার বিনিময়ে এবং কোন চুক্তির আওতায়  প্রতীক জৈনের কাছে এসেছে – তা যাচাই করতেই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

    ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজনৈতিক বিতর্ক

    তল্লাশি চলাকালীন পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এবং তিনি প্রকাশ্যে এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজ্যের শাসক দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে। প্রতীক জৈন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত কাজ দেখতেন, ফলে ইডির তল্লাশি আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই প্রতিফলন।”

    ইডির পাল্টা অবস্থান

    ইডি অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ।  স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও প্রমাণনির্ভর। কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে না। তল্লাশির সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে।

    রাজনীতি ও তদন্ত – দুটোর মাঝখানে  আই প্যাক

    অবৈধ কয়লা খনন ও অর্থপাচার মামলার (Coal Mining Corruption Cases) তদন্ত থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনা এখন স্পষ্টভাবেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। একদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থার আর্থিক তদন্ত, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া-সব মিলিয়ে  আই প্যাক-এর নাম জড়িয়ে পড়ায় এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং এই অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রকৃত ছবি কতটা স্পষ্ট হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

  • JP Nadda: নতুন কমিটি ঘোষণার পর রাজ্যে দলীয় নেতাদের উজ্জীবিত করতে কলকাতায় সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা

    JP Nadda: নতুন কমিটি ঘোষণার পর রাজ্যে দলীয় নেতাদের উজ্জীবিত করতে কলকাতায় সর্ব ভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য কমিটি ঘোষণা করেছেন। হাতে গোনা কয়েকমাস পরেই নির্বাচন। তাই দলকে সম্পূর্ণ ভাবে লড়াইয়ের ময়দানে নামাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অত্যন্ত তৎপর। বিজেপির সর্বভারতীয় রাষ্ট্রীয় সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা (JP Nadda) বৃহস্পতিবার ৮ জানুয়ারি, কলকাতায় রাজ্য বিজেপির দলীয় নেতাদের উজ্জীবিত করতে শহরে এসেছেন। দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একটি বৈঠকও করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে পরাজিত করতে দলের প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করতে তিনি দুদিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন।

    স্বাগত জানান শুভেন্দু-শমীক (JP Nadda)

    বিজেপি বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal BJP) বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সাভপতি শমীক ভট্টাচার্য বিমানবন্দরে নাড্ডা স্বাগত জানান। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গতিশীল নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পশ্চিমবঙ্গ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য নাড্ডাজীর দূরদর্শিতা আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করবে।” উল্লেখ্য গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতা সফরে এসেছিলেন। তিনি বিজেপির নেতাদের ২০০ টি আসন জয়ের লক্ষ্য মাত্রা ঠিক করে দিয়েছেন।

    তাঁর সফরের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে

    • দলের (West Bengal BJP) পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটের কোর কমিটির বৈঠক।
    • বিভিন্ন জেলা-স্তরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়।
    • বিজেপির ডক্টরস সেলের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
    • নির্বাচনের আগে দলের মাঠ-স্তরের কর্মীদের কাছ থেকে মতামত (ফিডব্যাক) গ্রহণ এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা।

    দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ৯ই জানুয়ারি নাড্ডা (JP Nadda) তাঁর কেন্দ্রীয় মন্ত্রক-সম্পর্কিত সরকারি দফতরের বেশ কিছু বৈঠকগুলিতে যোগ দেবেন। এই দিন তিনি যে যে জায়গা পরিদর্শন করবেন তার মধ্যে হল–

    • কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট (CNCI) পরিদর্শন করবেন।
    • নদিয়া জেলার কল্যাণী এইমস-এ (AIIMS Kalyani) ডিপার্টমেন্ট অফ রেডিয়েশন অনকোলজি, ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রমা অ্যান্ড এমার্জেন্সি মেডিসিন, এবং নিউম্যাটিক টিউব সিস্টেমের উদ্বোধন করবেন।
  • I PAC ED RAID: ‘ক্ষমতার বলে নথি ছিনিয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী’, আই প্যাক দফতরে মমতার অভিযান নিয়ে হাইকোর্টে ইডি

    I PAC ED RAID: ‘ক্ষমতার বলে নথি ছিনিয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী’, আই প্যাক দফতরে মমতার অভিযান নিয়ে হাইকোর্টে ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আই প্যাকের অফিসে সরকারি ফাইল কেন? ইডির (I PAC ED RAID) হাত থেকে কী আড়াল করতে আই প্যাকের অফিসে ছুটে গেলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান? কীসের ভয়? সবুজ ফাইলে কী ছিল? বাংলা তথা সারা দেশের রাজনীতিতে বৃহস্পতিবার এমনই প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে দিল্লি থেকে কলকাতা। আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের ৭ নম্বর লাউড্রন স্ট্রিটের বাড়ি ও গোদরেজ ওয়াটার সাইডের অফিসে এদিন তল্লাশ চালায় ইডি। আর তল্লাশির মাঝেই সেখানে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অফিস থেকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। বাংলার বেনজির এই ঘটনা আজ গোটা দেশের নজর কেড়ে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, তাঁদের দলের স্ট্র্যাটেজি, ফাইল, হার্ড ডিস্ক, প্রার্থী তালিকা হাতানোর চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু ইডির দাবি এই তল্লাশির সঙ্গে নির্বাচনের কোনও যোগ নেই। কেন তল্লাশি, কোন মামলায় তল্লাশি, সবটাই পরিস্কার করা হল ইডির তরফে।

    আদালতে ইডি

    ইডির অভিযোগ, সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে তল্লাশির মধ্যেই নথি ছিনতাই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আই প্যাক দফতরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযান নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। মামলা দায়ের করতে চেয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা। অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা। আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী এদিন বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে আদালতের হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন৷ ইডির অভিযোগ, তল্লাশি ও তদন্ত চলাকালীন বাধা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি একজন সাংবিধানিক পদের অধিকারী হয়ে আইন লঙ্ঘন করেছেন৷ পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল৷ ইডি কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে৷ এ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা তল্লাশি চালানো হচ্ছে৷ পুলিশের উচিত ইডির তদন্তে সহযোগিতা করা৷ কিন্তু পুলিশ এখানে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় ছিল৷

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাব

    বৃহস্পতিবার সকালে কয়লা পাচার মামলায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা আই প্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে এবং সংস্থার সল্টলেক দফতরে ইডি’র তল্লাশি চালায়৷ এই দু’টি জায়গায় তল্লাশির সময় পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বেশ কিছু ফাইল, হার্ডডিস্ক ও ল্যাপটপ হাতে বেরিয়ে আসেন তিনি। মমতার অভিযোগ, ইডি তৃণমূলের আইটি সেলের হেড অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে৷ দলের প্রার্থিতালিকা ও রণকৌশল হাতিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের জবাব দেয় ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার আগে পর্যন্ত তল্লাশি প্রক্রিয়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল। তল্লাশির মাঝেই বিশাল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে ঢুকে পড়েন মমতা। প্রতীকের বাড়ি থেকে বেশ কিছু মূল নথি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ক্ষমতার বলে নিয়ে নেন বলে ইডির দাবি। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে যায়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সহকারি, রাজ্য পুলিশ জোর করে নথি, কাগজপত্র, ডিভাইস হাতিয়ে নিয়ে চলে যান বলে ইডির দাবি। ইডির বক্তব্য, কয়লা দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। এটা আর্থিক দুর্নীতি মামলায় স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ভোটের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশি করা হয়নি।

    অসাংবিধানিকভাবে ফাইল কেড়ে নেন মমতা

    বিবৃতি প্রকাশ করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট জানিয়েছে, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই এ দিন তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা ভোটের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। প্রসঙ্গত, কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি জায়গায় এবং দিল্লির চারটি জায়গায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের একাধিক দল। বাংলার মধ্যে দুটি হল প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিস। সেখানেই বেনজিরভাবে ঢুকে পড়েন মমতা। সেখানে সাংবিধানিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অসাংবিধানিকভাবে ফাইল কেড়ে নিয়ে এসেছেন। সূত্রের খবর, পদক্ষেপের রাস্তা খোলা রাখছে ইডি। সক্রিয়ভাবে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা তাঁর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারে ইডি।

    তল্লাশি অভিযান তথ্যপ্রমাণভিত্তিক

    ইডি সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘ইডির সদর দফতরের ইউনিট আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। অনুপ মাজি কয়লা পাচারের সিন্ডিকেট চালাতেন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি করে বেআইনি ভাবে কয়লা বাইরে পাঠাতেন। শান্তিপূর্ণ ভাবেই তল্লাশি অভিযান চলছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রশাসনের আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তাদের নিয়ে সেখানে চলে আসেন এবং জোর করে নথি, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ নিয়ে চলে যান।’’ ইডি আরও জানিয়েছে, তাদের তল্লাশি অভিযান তথ্যপ্রমাণভিত্তিক এবং কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে এর মাধ্যমে নিশানা করা হয়নি। কোনও পার্টি অফিসে তল্লাশি চালানো হয়নি। এই তল্লাশির সঙ্গে কোনও নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। সাধারণ আর্থিক তছরুপ মামলার বিরুদ্ধে এই অভিযান ছিল। আইন মেনে তল্লাশি‌ চলছে।

    অস্বস্তিতে মুখ্যমন্ত্রী!

    মমতা বিকেল ৪টে ২২ মিনিট নাগাদ সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরিয়ে যান। তার কিছু ক্ষণ আগেই প্রতীক দফতরে ঢুকেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে মমতা বেরিয়ে যান। মমতার গাড়িতে একাধিক ফাইল, নথি তোলা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় আইপ্যাক দফতরে ছিলেন মমতা। বিকেল ৩টের পর প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ইডি। আই প্যাক দফতরে ইডি হানার প্রতিবাদে শহর জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তৃণমূল। কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন, দলের গোপন নথি বেসরকারি কনসালট্যান্টের কাছে কীভাবে থাকে? ফাইলে কী রয়েছে? তার কোনও প্রামাণ্য নথি এখনও সামনে না এলেও, রাজনীতিতে ধারণাই সব। সেই ধারণা থেকেই বলা যায়, ফাইলে এমন কোনও তথ্য আছে, যা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে খুব একটা স্বস্তির নয়।

     

     

  • Election Commission: ভিন্‌রাজ্যে থাকা ভোটারদের আসতে হবে না শুনানিতে, নতুন পরিকল্পনা কমিশনের

    Election Commission: ভিন্‌রাজ্যে থাকা ভোটারদের আসতে হবে না শুনানিতে, নতুন পরিকল্পনা কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের এসআইআর-এর (SIR) কাজে শুনানি পর্বে এখন নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক ভোটারকে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত নথি নিয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও, বাইরের রাজ্য বা বিদেশে থাকা ভোটার এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শুনানিতে পরিযায়ী শ্রমিক-সহ রাজ্যের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের আসতে হবে না। এমনটাই জানালো নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

    হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নথি পাঠালেও তা গৃহীত হবে (Election Commission)

    কমিশনের তরফে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বাইরে থাকা শুনানিতে (SIR) নোটিশ দেওয়া ব্যক্তিদের আর আসতে হবে না। তাঁদের জন্য পোর্টাল বা হোয়াট্‌সঅ্যাপ নম্বর চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এসআইআর পর্বের দ্বিতীয় ধাপে কমিশন সূত্রে এমনটাই পরিকল্পনার কথা জানা গিয়েছে। পোর্টালে লগইন করে নথি আপলোড করলেই হবে। বিএলও-র হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নথি পাঠালেও তা গৃহীত হবে। পরের ধাপে প্রাপ্ত নথি খতিয়ে দেখা হবে। তারপর চূড়ান্ত তালিকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম তোলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    এফআইআর-ও করা হতে পারে

    একইভাবে রাজ্যের বাইরে থাকা ব্যক্তিরা অনলাইনে নাম তুলতে চাইলে ওই ব্যবহার করা হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোথায় কাজ করেন, কী কাজ করেন সেই তালিকাও দিতে হবে। তবে কাদের কাদের শুনানি হবে তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুথ লেভেল অফিসাররা এই সব ভোটারকে শুনানি কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করতে যেতে পারবেন না। এমনকি ভুল বার্তা দিলে পরে এফআইআর-ও করা হতে পারে।

    তবে এসআইআরের (SIR) শুনানি পর্বে বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। শুনানি পর্বের ক্ষেত্রে অনাবাসী কোনও ভারতীয়কে নোটিস পাঠানো হলে তিনি সেই দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে নিজের পাসপোর্ট ভিসা সংক্রান্ত তথ্য জমা দিলেই সমস্যার সমাধান হবে।

  • US Visa Bond: বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ড! আমেরিকায় যেতে গেলে দিতে হতে পারে ১৫০০০ ডলার

    US Visa Bond: বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ড! আমেরিকায় যেতে গেলে দিতে হতে পারে ১৫০০০ ডলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার ভিসা (US Visa Bond) পেতে এখন থেকে আরও বেশি অর্থ খরচ করতে হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের। এবার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি। সেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ। মার্কিন ভিসা বন্ড দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশ-সহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন বিদেশ দফতর। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

    কোন কোন দেশ ভিসা-বন্ডের আওতায়

    আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড (US Visa Bond) জমা দেওয়ার নিয়ম আগেই চালু করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ, ভেনেজুয়েলা-সহ আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মার্কিন বিদেশ দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজিরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা-সহ একাধিক দেশ। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনও অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

    ভিসা বন্ড কী

    ভিসা বন্ড (US Visa Bond) হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে কিছু দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়-যাতে তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা মেনে চলেন। প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো বিদেশি পড়ুয়া, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।

    কেন নেওয়া হয় ভিসা বন্ড

    ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ভিসার (Visa Bond For Bangladesh) মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও অনেকেই আমেরিকায় থেকে যাচ্ছেন। সেই প্রবণতায় রাশ টানতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি হোয়াইট হাউসের। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই তাঁর প্রশাসন আমেরিকায় থাকা বহু অবৈধবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে। তা ছাড়া এইচ-১বি ভিসা, গ্রিন কার্ডের জন্যও আরও কড়া নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এমনকি ভিসা আবেদনকারীর সমাজমাধ্যমের পোস্টের উপরেও নজর রাখছেন মার্কিন অভিবাসন দফতরের আধিকারিকরা।

    কীভাবে ফেরত পাওয়া যাবে ভিসা বন্ড

    এই ভিসা বন্ড (US Visa Bond) নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যে সব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সে সব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে বা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন অথবা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম), তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

    বাংলাদেশিদের জন্য মাত্র তিনটি বিমানবন্দর

    ভিসা বন্ড (US Visa Bond) প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি যাত্রীরা কেবল নিম্নোক্ত বিমানবন্দরগুলো দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সেগুলো হল- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনও পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা বন্ড ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে। এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Suvendu Adhikari: “ইডির উচিত আইন মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নেওয়া”, তোপ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “ইডির উচিত আইন মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নেওয়া”, তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের আই প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযানকে আটকাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই অভিযানের সময় একই ভাবে বাড়িতে যান সিপি মনোজ ভর্মা। এরপর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন সবুজ ফাইল হাতে মমতা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Suvendu Adhikari) বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। কিন্তু পাল্টা মমতার বিরুদ্ধ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    আগেও হস্তক্ষেপ করেছেন মমতা (Suvendu Adhikari)!

    দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলায় আই প্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশি করতে যান। এমন সময়ে আচমকা তদন্তকে আটকাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) উপস্থিত হন। এরপর সোজা ঢুকে সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেড়িয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অমিত শাহকে তোপ দেগে বলেন, “দলের রণনীতি, পরিকল্পনা, প্রার্থী তালিকা, হার্ডডিস্ক সব কিছুকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিজেপি।” এরপর পাল্টা মমতাকে আক্রমণ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “ইডির উচিত আইন মেনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নেওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে এর আগেও হস্তক্ষেপ করেছে। ২০২১ সালে তিনি নিজাম প্যালেসে ধরনা দিয়েছিলেন। ফিরাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্রদের গ্রেফতারির প্রতিবাদে। তারও আগে সারদা মামলায় রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। সিপিকে নিয়ে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছিলেন।”

    সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ!

    আর্থিক দুর্নীতি মামলা বিষয়ে মমতার সরাসরি হস্তক্ষেপর বিষয়ে তোপ দেগে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কাজ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ ও তদন্তে বাধা দেন। একজন মুখ্যমন্ত্রী কেবল রাজনৈতিক নেতানেত্রী নন, তিনি একজন প্রশাসনিক প্রধান। ইডির উচিত নিজের আইনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলা। মুখ্যমন্ত্রী এবং সিপির এই যাওয়াটা সম্পূর্ণ ভাবে অসাংবিধানিক, অনৈতিক এবং তদন্তে বাঁধা প্রধান করা।” তবে এদিনের তদন্তে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে।

  • Shikhar Dhawan: হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণ! বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অত্যাচারে মর্মাহত ধাওয়ান

    Shikhar Dhawan: হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণ! বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অত্যাচারে মর্মাহত ধাওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নিধনের ঘটনা যেন থামছেই না। কয়েকদিন আগেই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রকাশ্যে এসেছিল হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণের ঘটনা। কেবল তাই নয়, গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে নেওয়া হয় ৪০ বছরের ওই মহিলার। এই নারকীয় নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন শিখর ধাওয়ান (Shikhar Dhawan)। পৈশাচিক এই ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ আখ্যা দিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার।

    নৃশংস হামলার খবর পড়ে যন্ত্রণাবিদ্ধ

    ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার শিখর লেখেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু বিধবার উপর নৃশংস হামলার খবর পড়ে যন্ত্রণাবিদ্ধ হয়েছি। কোথাও, কারওর সঙ্গে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমার প্রার্থনা, নির্যাতিতা যেন ন্যায়বিচার ও সমর্থন পান।’ পুলিশের কাছে অভিযোগে ওই মহিলা জানিয়েছেন, আড়াই বছর আগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পুরসভার ৭নং ওয়ার্ড নদীপাড়ার বাসিন্দা শাহিন ও তাঁর ভাইয়ের কাছে ২০ লক্ষ টাকায় তিন শতক জমি-সহ একটি দোতলা বাড়ি কিনেছিলেন। এরপর থেকেই মূল অভিযুক্ত শাহিনের কুনজরে পড়েন তিনি। তাঁকে অতীতে একাধিকবার অশালীন প্রস্তাবও দিয়েছিল যুবক। তাতে রাজি না হওয়ায় নানাভাবে হয়রানি করা হয় ওই মহিলাকে। গত শনিবার সন্ধায় আচমকাই বাড়িতে ঢোকে শাহিন এবং তাঁর সঙ্গী হাসান। দু’জনে মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে। পাশাপাশি সেদিন ওই মহিলার কাছ থেকে আরও ৫০ হাজার টাকার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩৭ হাজার টাকা) দাবিও করে দুই অভিযুক্ত। তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা আত্মীয়দেরও পর্যন্ত নিগ্রহ করে বলে অভিযোগ। এরপর ওই বিধবা চিৎকার শুরু করলে মহিলাকে গাছে বেঁধে চুল কেটে দেয়। এই ঘটনা ভিডিও করে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। নৈরাজ্যের বাংলাদেশে গত তিন সপ্তাহে এখনও পর্যন্ত সাত জন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। ব্যবসায়ী থেকে দোকানদার, রোষের শিকার হয়েছেন প্রত্যেকেই।

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে সমস্যা

    বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রভাব দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কের উপরেও পড়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাঁটাই করে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তারপর থেকে এই বিষয়ে সুর চড়া করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এমনকী ঘুরপথে ‘প্রতিহিংসা’ চরিতার্থ করার চেষ্টা শুরু করে তারা। মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার ‘বদলা’ হিসেবে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না আসার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। এরপর দুই দেশের মধ্যে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। আইসিসি-কে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তবে, বিসিবি-র অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। বলা হয়েছে, ভারতে কোনও সমস্যা নেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেললে সেখানেই খেলতে হবে। তবে এই আবহে বিসিবি জানিয়েছে, দেশের সম্মান বা ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে তারা খেলতে যাবে না। বুধবার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ চাইছে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক।

    বিপিএল-ছাড়লেন ভারতীয় সঞ্চালিকা ঋধিমা

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অন্যতম উপস্থাপক হিসাবে কাজ করছিলেন ঋধিমা পাঠক। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর তাঁকে আর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে দেখা যাচ্ছে না। মনে করা হয়েছিল, মুস্তাফিজুর বিতর্কের জেরে ভারতীয় সঞ্চালিকাকে বাদ দিয়েছেন বাংলাদেশের সম্প্রচারকারী চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। ঋধিমা জানিয়েছেন, তিনি নিজেই বিপিএল থেকে বেরিয়ে এসেছেন। বিপিএল থেকে ঋধিমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। তৈরি হচ্ছিল নতুন বিতর্ক। তবে ঋধিমা নিজেই ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন। জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় বিপিএল থেকে সরে এসেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে সরিয়ে দেয়নি। বিবৃতি দিয়ে ঋধিমা বলেছেন, ‘‘আমাকে বিপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন একটা জল্পনা ছড়িয়েছে। এটা ঠিক নয়। আমি নিজেই সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমার কাছে আমার দেশ সব সময় সকলের আগে। যে কোনও ব্যক্তিগত দায়িত্বের চেয়ে ক্রিকেট খেলা অনেক বেশি মূল্যবান বলে মনে করি। বছরের পর বছর সততা, শ্রদ্ধা, আবেগের সঙ্গে ক্রিকেটের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। এটার কোনও পরিবর্তন হবে না। আমি সততা, স্বচ্ছতা এবং খেলার পাশেই থাকব।’’

  • Domicile Certificate: এসআইআর-এ ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই! জানাল কমিশন, কেন গ্রাহ্য নয়, ব্যাখ্যা শুভেন্দুর

    Domicile Certificate: এসআইআর-এ ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই! জানাল কমিশন, কেন গ্রাহ্য নয়, ব্যাখ্যা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট ভাবে এসআইআর-এর কাজে এই সার্টিফিকেট প্রয়োজন হবে, কখন‌ওই এমনটা বলা হয়নি। ওই সার্টিফিকেটের প্রয়োজনীয়তা অন্য জায়গায়। সাধারণত সেনাবাহিনীতে নিয়োগ এবং অন্য রাজ্যের বাসিন্দা, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই শংসাপত্রের প্রয়োজন হয়।

    ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কী, কোথায় লাগে

    ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) এমন একটি প্রমাণপত্র, যা নিশ্চিত করে যে একজন একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে (রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল) স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং সেই অঞ্চলের নাগরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। ডোমিসাইল সার্টিফিকেট নিয়ে কী নিয়ম রয়েছে রাজ্যের কাছে তা জানতে চেয়েছিল কমিশন। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, ১৯৯৯ সালের ২ নভেম্বর তারিখে জারি করা নির্দেশে বলা রয়েছে, প্রতিরক্ষা এবং আধা সামরিক বাহিনীর চাকরির জন্য ওই শংসাপত্র দেওয়া হয়, যা প্রদান করার ক্ষমতা একমাত্র জেলাশাসকদের রয়েছে। ঘটনাচক্রে কোনও ব্যাক্তির বাবা–মা সাধারণত ১৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে থাকলে, তখন তিনি এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারেন। এর পর আবেদনকারী বা তাঁর বাবা–মায়ের নামে পশ্চিমবঙ্গে বাড়ি বা জমি রয়েছে কি না, তা দেখা হয়। এ ছাড়া বা-বাবা ভিন্‌রাজ্যের হলে আবেদনকারীর জন্ম পশ্চিমবঙ্গে হয়েছে কিনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাজ্যের কোনও প্রাথমিক স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন কিনা সে বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। এর প্রামাণ্য নথি হিসাবে জন্ম সার্টিফিকেট বা স্কুলের পড়ার নথি জমা দিতে হবে। এর পর দেখা হয় আবেদনকারীর কোথায় বসবাস করেন। কোনও সরকারি কোয়ার্টার, না ভাড়াবাড়িতে, নাকি তাঁর নিজের বাড়ি রয়েছে। সেখানে তিনি কত দিন থাকছেন, এই সকল বিষয় খতিয়ে দেখার পর ‘পুলিশ ভেরিফেকশন’ হয়। সব ঠিকমতো হলে তবেই এই শংসাপত্র প্রদান করা হয়।

    ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কেন গ্রাহ্য নয়, জানালেন শুভেন্দু

    ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (Domicile Certificate) নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারা ইস্যু করা স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ভোটার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ না করার নির্দেশ অনানুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। তার পাল্টা চিঠি দিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। এবার এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যুতেই সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। শুভেন্দুর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর আইনের বই পড়া উচিত। ১০ বছর না হলে সেই সার্টিফিকেট গ্রাহ্য নয়।” তাঁর পাল্টা অভিযোগ, “আইপ্যাকের তৈরি করা ফর্মুলাতে অবৈধ ভোটার, মৃত ভোটার বাংলাদেশের অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের তালিকায় রাখার চেষ্টা চলছে।” তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুর্নীতিগ্রস্ত জেলাশাসক সুমিত গুপ্তকে কলকাতা পৌরসভার কমিশনার বানিয়ে বরো ভিত্তিক বার্থ সার্টিফিকেট দিতে চান, তাহলে তো অবৈধ হবেই। নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার অত্যন্ত আপডেটেড।”

  • West Bengal Youth Voters: এক দশক ধরে নিম্নমুখী রাজ্যে ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির গ্রাফ, নেপথ্যে কী কারণ?

    West Bengal Youth Voters: এক দশক ধরে নিম্নমুখী রাজ্যে ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির গ্রাফ, নেপথ্যে কী কারণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটার (West Bengal Youth Voters) সংখ্যা কি কমছে? গত ১০ বছরের নির্বাচনী পরিসংখ্যানে সেই তথ্যই স্পষ্ট হয়েছে। শুধু তাই নয় নির্বাচনী তথ্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে রাজ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও দিনকে দিন গতিহীন হয়ে পড়ছে। গত প্রায় দেড় দশক ধরে জনগণনার কাজ স্তব্ধ হয়ে থাকলেও নির্বাচনী পরিসংখ্যান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তথা নতুন প্রজন্মের ভোটার কমে যাওয়ার চিত্রটি স্পষ্ট করেছে। যদিও, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির আশা জাগালেও নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির (Youth Voter Enrolment) ক্ষেত্রে বড় কিছু পরিবর্তন আনতে পারবে বলে নিশ্চিত হতে পারছেন না নির্বাচনী কর্তারাই।

    আশনুরূপ নয় ফর্ম ৬ আবেদনের সংখ্যা

    চলতি এসআইআর পর্বে রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকায় ৫৮ লক্ষের কিছু বেশি মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, অস্তিত্বহীন এবং ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম বাদ গেলেও নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ আবেদনপত্রের সংখ্যা আশনুরূপ হয়নি এখনও। সিইও দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে প্রায় ২ লক্ষ এবং তালিকা প্রকাশের পর ( ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত) প্রায় ৩ লক্ষ ‘ফর্ম ৬’ এখনও পর্যন্ত কমিশনে জমা পড়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নতুনভাবে নাম অন্তর্ভুক্তি অথবা নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা যাবে। যার ভিত্তিতেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এমতাবস্থায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ২০২৪ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা করা আবেদনপত্র ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৮ থেকে বেশি হবে কিনা বা কতটা বেশি হবে তা নিয়ে সন্দিহান পদস্থ নির্বাচনী আধিকারিকরাই।

    বস্তুত, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী ফর্ম ৬ আবেদনপত্র পূরণের ক্ষেত্রে সংখ্যা ক্রমশ নিম্নমুখী। নির্বাচনী বছরগুলিতে এই সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পরবর্তী বছরে তার গ্রাফ নিম্নমুখী। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে নতুন প্রজন্মের ভোটার অর্থাৎ যারা নতুনভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন জানান তাদের সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে কমেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এখনো পর্যন্ত সেই ট্রাডিশনে বজায় রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের বছরে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৯৬ লক্ষ ৮১ হাজার যার মধ্যে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার এবং নাম বাদ গিয়েছে ৪ লক্ষ ৪১ হাজার।

    পরবর্তী বছর ২০১৫ সালে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা বাড়লেও নতুন ভোটার হিসেবে ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন ২১ লক্ষ ৫৩ হাজার। অর্থাৎ, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এক ধাক্কায় এক বছরে প্রায় ১১ লক্ষ নতুন প্রজন্মের ভোটার সংখ্যা কমে যায়। ২০১৬ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের বছরে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ৯৫ হাজার। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ক্ষেত্রে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার। অর্থাৎ নির্বাচনী বছরে নতুন প্রজন্মের ভোটার সংখ্যা তার পূর্ববর্তী বছর এর তুলনায় প্রায় ৫ লক্ষ বেড়ে যায়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের বছরেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ওই নির্বাচনী বছরে ভোটার তালিকা ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ২০১৭ এবং ২০১৮ সালের নতুন প্রজন্মের ভোটার তালিকা বৃদ্ধির থেকে ২০১৯-এর নির্বাচনী বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক।

    নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা নিম্নমুখী

    একুশের বিধানসভা নির্বাচনী বছরে খসড়া ভোটার তালিকায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৮ লক্ষ ৪৯ হাজার যেখানে নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ২০ লক্ষ ৪৫ হাজার। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ভোটার তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭ কোটি ৩২ লক্ষ এবং ৭ কোটি ৪২ লক্ষ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনী বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৫৩ লক্ষ ৮৬ হাজার। পাশাপাশি, ২০২২ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ১৬ লক্ষ ১৩ হাজার হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ লক্ষ ৮৩ হাজারে। যদিও ২০২৪ সালে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১৪ লক্ষ ৩০ হাজার।

    অর্থাৎ, সার্বিকভাবে নির্বাচনী তথ্যের বিচারে গত দশ বছরে রাজ্যে ভোটার তালিকায় নতুন প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা নিম্নমুখী হয়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এই অধোগতির চিত্র সর্বাধিক। ২০১৪ সাল থেকে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা বাড়লেও নতুন প্রজন্মের ভোটারের সংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে। ২০১৪ সালে যে সংখ্যা ছিল ৩২ লক্ষ ২৯ হাজার ২০২৪ সালে নতুন প্রজন্মের সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৪ লক্ষ ৩০ হাজারে।

    জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অধোগতির হার স্পষ্ট

    স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যা তত্ত্বের বিচারে পশ্চিমবঙ্গে জনসংখ্যার বিন্যাসে নতুন প্রজন্মের ভোটারের সংখ্যা যেমন কমছে তেমনি সার্বিকভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধোগতির হার স্পষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে এই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনীতি সচেতন রাজ্যে ভোট রাজনীতির পাকচক্র থেকে নতুন প্রজন্ম কি দূরে সরছে? নাকি সার্বিকভাবে রাজ্যের জনসংখ্যা কমছে? উল্লেখযোগ্য, ২০১১ সালের পর দেশে জনগণনা না হওয়ায় জনসংখ্যার তারতম্য বা হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারিভাবে কোন তথ্য বা যুক্তি না দেখানো গেলেও ভোটার তালিকার এই সংখ্যা তত্ত্ব কিন্তু রাজ্যের জনসংখ্যার তারতম্যের বিষয়টি যে স্পষ্ট করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    এসআইআর-এর সৌজন্যে রাজ্যের শাসকদল তথা মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ ভোটারদের কাছে বারংবার আবেদন জানিয়েছেন যে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ গেলেই সবাই অবশ্যই ফর্ম ৬ পূরণ করবেন। প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক পক্ষের এই আবেদন সমস্ত যোগ্য ভোটারের ভোটাধিকার রক্ষায় কমিশনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হলেও নির্বাচনী তথ্য অন্য ছবি তুলে ধরেছে। নির্বাচনী শুনানিতে যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা যদি ফের সং হয় পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চান সেক্ষেত্রে কমিশনের বিশেষ সফটওয়্যার সেই আশায় জল ঢালবে বলে জানিয়েছেন পদস্থ কর্তারা। আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যদি কোন যোগ্য ভোটার নতুন ভাবে নাম তুলতে চান অথবা বিদেশে বা ভিন রাজ্যে থাকার জন্য শুনানিতে হাজির হতে পারেননি এ ধরনের যোগ্য ভোটাররা নাম তোলার জন্য ফর্ম ছয় জমা দেন সে ক্ষেত্রে তা বিচার্য হলেও সেই সংখ্যাটা নগণ্যই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে রাজ্যের নির্বাচনী মানচিত্রে ফর্ম ৬ আবেদনপত্র জমার গ্রাফ নিম্নমুখী হওয়ায় রাজ্যে নতুন প্রজন্মের ভোটার তথা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে সংখ্যা তৈরি হয়েছে।

  • Union Budget 2026: বিমা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের আশা! বাজপেয়ী জমানার পর ফের রবিবারেই পেশ হবে বাজেট ২০২৬

    Union Budget 2026: বিমা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের আশা! বাজপেয়ী জমানার পর ফের রবিবারেই পেশ হবে বাজেট ২০২৬

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্মই-ধর্ম! হোক না রবিবার, রীতি মেনে ১ ফেব্রুয়ারিই পেশ করা হবে কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026)। প্রত্যেক বছরই ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হয়। চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার পড়লেও বাজেট পেশ হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ক্যাবিনেট কমিটি। এই নিয়ে নবমবার বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই বছরের কেন্দ্রীয় বাজেট (২০২৬-২৭) অত্যন্ত বিশেষ এবং ঐতিহাসিক বলে মনে করা হয়। এর সবচেয়ে বড় কারণ হল এটি বর্তমান আয়কর আইনের অধীনে উপস্থাপিত শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট হবে। সরকার ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে প্রায় ৬০ বছরের পুরনো কর আইন প্রতিস্থাপন করে নতুন আয়কর আইন ২০২৫ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে, এই বাজেট কেবল বর্তমান চাহিদা পূরণ করবে না বরং ভবিষ্যতের কর ব্যবস্থার ভিত্তিও স্থাপন করবে।

    কবে কখন থেকে বসবে অধিবেশন

    প্রত্যেক বছরই ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হয়। এই বছর ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার পড়ায়, জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে ওই দিন বাজেট পেশ হবে নাকি একদিন পিছিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করবেন। বুধবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে সংসদীয় বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে বাজেট অধিবেশনর দিন নির্দিষ্ট করা হয়। আর তারপরই সূত্রের খবর, ১ ফেব্রুয়ারিই বাজেট পেশ হবে। সূত্রের খবর, যুগ্ম সংসদীয় অধিবেশন হবে ২৮ জানুয়ারি। ওই দিন থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। জানা গিয়েছে, ২৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন যৌথ অধিবেশনে। পরের দিন অর্থনৈতিক সমীক্ষার (Economic Survey) রিপোর্ট পেশ হবে। কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, বাজেট অধিবেশনের প্রথম অংশ হবে ২৮ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয় অংশ হবে ৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই বাজেট প্রস্তুতির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।

    বাজপেয়ী আমলে বাজেট পেশ রবিবার

    অর্থমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষবার ১৯৯৯ সালে রবিবার বাজেট (Union Budget 2026) পেশ হয়েছিল। সেটাও ছিল এনডিএ জমানা। সেই বছর প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা রবিবার বাজেট পেশ করেছিলেন। তখন অবশ্য ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে বাজেট হতো। ২০১৭ সালের পর থেকে বাজেট পেশ শুরু হয় ১ ফেব্রুয়ারি। তার আগে প্রতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করা হত। অরুণ জেটলী অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন বাজেটের তারিখ পরিবর্তন করা হয়, যাতে নতুন অর্থবর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে নতুন বাজেট কার্যকর করা যায়।

    রবিবার সংসদের অধিবেশন

    এর আগে ২০১২ এবং ২০২০ সালে রবিবার সংসদের অধিবেশন হয়েছিল। ৬ বছর পর ফের রবিবারে বসতে চলেছে সংসদের অধিবেশন। রবিবারে সংসদ খোলা রাখাটা রীতিমতো বিরল। এর আগে ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে সংসদের অধিবেশন বসেছিল। তার আগে বসেছিল সেই ২০১২ সালে। সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১২ সালের ১৩ মে রবিবার বিশেষ অধিবেশন বসেছিল সংসদের।

    আয়কর নিয়ে প্রত্যাশা সীমিত

    কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ (Union Budget 2026) ঘিরে আয়কর সংক্রান্ত পরিবর্তন নিয়ে করদাতাদের আগ্রহ থাকলেও, প্রত্যাশা তুলনামূলকভাবে সংযত। বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা অমিত বাইদ জানান, “বাজেট ২০২৫ ভারতের ব্যক্তিগত কর কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছিল। নতুন কর ব্যবস্থায় স্ল্যাব পরিবর্তন ও উচ্চ রিবেটের মাধ্যমে কার্যত ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ধরলে বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে ১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত করা হয়েছিল।” তার মতে, ওই বাজেটের ফলে বেতনভোগী মধ্যবিত্তরা বড়সড় স্বস্তি পেয়েছেন এবং পুরনো ও নতুন কর ব্যবস্থার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। তবে বাজেট ২০২৬-এ বড় ধরনের করছাড়ের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অমিত বাইদ বলেন, “আগের বাজেটেই বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং সাম্প্রতিক জিএসটি হ্রাসে ভোক্তাদের খরচ কিছুটা কমেছে। তাই এ বছর আয়কর স্ল্যাবে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।” তাঁর দাবি, মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে নতুন কর ব্যবস্থায় স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সামান্য বাড়ানো হতে পারে। বিডিও ইন্ডিয়ার পার্টনার সন্তোষ শিবরাজ জানান, পুরনো কর ব্যবস্থার কিছু ছাড় ও ডিডাকশন নতুন করে পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।

    বিমা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রত্যাশা

    বাজেট ২০২৬ (Union Budget 2026) ঘিরে বিমা খাতও কেবল বরাদ্দ বৃদ্ধি বা করছাড়ের মতো স্বল্পমেয়াদি ঘোষণার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবন বিমা, স্বাস্থ্য বিমা এবং এমএসএমই-ভিত্তিক বিমা পণ্যে আরও গভীর কভারেজ নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট নীতিগত দিকনির্দেশ প্রয়োজন। এতে বিমার প্রসার, অবসরকালীন সুরক্ষা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। নতুন বিতরণ মডেল ও অর্থায়নের ব্যবস্থা সহজ করার দিকেও নজর দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে, যাতে বিমা পরিষেবা আরও সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হয়। বিমাপে ফিনসিওরের সিইও ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা হনুত মেহতা বলেন, “বাজেট ২০২৬ বিমা প্রিমিয়াম ফাইন্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। এটি কোনও একটি বড় ঘোষণার জন্য নয়, বরং গৃহস্থালি ঋণ ও বিমা বিস্তারের ক্ষেত্রে সরকারের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নীতিগত উদ্যোগ ভারতের বিমা খাতে সুরক্ষা ঘাটতি কমাতে এবং সামগ্রিকভাবে বিমা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

    চাকরিজীবীদের আশা

    সূত্রের খবর, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম বা ইপিএস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে মোদি সরকার। বিশেষ করে সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য পেনশনের আওতা বাড়ানো এবং মাসিক পেনশনের অঙ্ক বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, যদি মোদি সরকারের এই পরিকল্পনা (Budget 2026) বাস্তবায়িত হয়, তাহলে যাঁদের বেতন ১৫ হাজার টাকার বেশি, তাঁরাও সরকারি পেনশন প্রকল্পের সুরক্ষা পেতে পারেন। পাশাপাশি, অবসরের পর হাতে পাওয়া টাকাও আগের তুলনায় বাড়তে পারে। এই সম্ভাব্য বদল ঘিরে ইতিমধ্যেই চাকরিজীবী মহলে বাড়ছে কৌতূহল।

LinkedIn
Share