Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Manoj Agarwal: এসআইআর-এ ধরা পড়েছে ‘অনিয়ম’, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের নিয়মে বড় বদল! মুখ্যসচিবের কড়া বার্তা

    Manoj Agarwal: এসআইআর-এ ধরা পড়েছে ‘অনিয়ম’, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের নিয়মে বড় বদল! মুখ্যসচিবের কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রকে কেন্দ্র করে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। সম্প্রতি ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছিল, তারপরেই একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্ত নবান্নের (Nabanna)। এবার থেকে আর পুরপ্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধানরা জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না। সেই দায়িত্ব যাবে সরকারি আধিকারিকদের হাতে। একইসঙ্গে ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত সমস্ত শংসাপত্র পুনরায় যাচাই, রাজ্যজুড়ে পুলিশের অভিযান এবং অভিন্ন ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরির মতো একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়ালের (Manoj Agarwal)।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    নবান্নের (Nabanna) দাবি, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিতরণে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছিল। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন বিপুল সংখ্যক ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রশাসন ও পুলিশের কাছেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই পুরো ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যসচিবের বার্তা

    মুখ্যসচিবের (Manoj Agarwal) কথায়, “জন্ম শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি। নির্বাচনের পরে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। SIR করতে গিয়ে বহু ভুলভ্রান্তি ধরা পড়েছে। পুলিশের কাছেও অনেক অভিযোগ এসেছে। অনেক জায়গায় নকল জন্ম শংসাপত্র পাওয়া গিয়েছে। এই ভুয়ো নথির মাধ্যমে অনেকেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। নিয়ম থাকলেও বহু ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।”

    দায়িত্বে থাকবেন সরকারি আধিকারিক

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষমতা আর কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে থাকবে না। পুরপ্রধান, চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত প্রধানদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকরাই এই শংসাপত্র ইস্যু করবেন। স্বাস্থ্য দফতর খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তালিকা প্রকাশ করবে। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ অনেকটাই কমবে।

    ১৯৯৭ সাল থেকে সব নথির পুনর্যাচাই

    নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত হওয়া সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ধাপে ধাপে পুনরায় যাচাই করা হবে। সমস্ত তথ্য ডিজিটালভাবে স্ক্যান করে একটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার (ডেটাবেস) তৈরি করা হবে। পরে সেই তথ্যভান্ডার কেন্দ্রীয় পোর্টালের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে সহজেই নথির সত্যতা যাচাই করা যায়। এদিন মুখ্যসচিব (Manoj Agarwal) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই স্ক্যানিং ও ডিজিটাল রেকর্ড তৈরির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তথ্য যাচাই। তা শেষ হলেই সমস্ত রেজিস্টার সংশ্লিষ্ট দফতরে ফেরত দেওয়া হবে।

    বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা, শুনানির সুযোগও

    তবে, শুধু নথি যাচাই করেই থেমে থাকবে না প্রশাসন। প্রয়োজন হলে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষাও করা হবে। যাঁদের কাছে বৈধ জন্ম শংসাপত্র নেই, তাঁদের শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে। সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পর প্রয়োজন হলে নতুন করে শংসাপত্র দেওয়া হবে। অন্যদিকে, কোনও ভুয়ো বা বেআইনি শংসাপত্র ধরা পড়লে তা বাতিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কীভাবে সেই নথি পেয়েছেন? তা নিয়েও তদন্ত হবে।

    ‘কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক থাকতে পারবেন না’

    যাচাই অভিযানের প্রসঙ্গে মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল (Manoj Agarwal) বলেন, “কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক এখানে থাকতে পারবেন না। ভুয়ো নথির মাধ্যমে কেউ যাতে বেআইনিভাবে সরকারি সুবিধা নিতে বা পরিচয় গোপন করে থাকতে না পারেন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।”

    স্কুলের নথিতেও ভুয়ো শংসাপত্রের অভিযোগ

    মুখ্যসচিবের (Manoj Agarwal) অভিযোগ, শুধু সরকারি প্রকল্প নয়, স্কুলের নথিতেও বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত আবেদনকারীরা সমস্যার মুখে পড়েছেন। তাই সব তথ্য স্ক্যান করে পুনরায় যাচাই করা হবে।

    মুখ্যসচিবের আশ্বাস

    তবে সাধারণ মানুষের ভয়ের যে কোনও কারণ নেই, এদিন তাও আশ্বস্ত করলেন মুখ্যসচিব (Manoj Agarwal)। তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই এই যাচাই করবেন। কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে না।”

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের কড়া অভিযান

    মুখ্যসচিবের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার থেকেই কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি ও নথি যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। বীরভূম, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম-সহ একাধিক জেলার পুরসভা ও পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্টার পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এসআইআর চলাকালীন বেআইনিভাবে শংসাপত্র ইস্যুর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চলছে।

    সরকারের লক্ষ্য

    নবান্নের (Nabanna) স্পষ্ট বার্তা, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা নয়, বরং জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও দুর্নীতিমুক্ত করা। বৈধ নথি থাকা সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কোথাও কারচুপির প্রমাণ মিললে বা কোনও সরকারি আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে বেআইনি কাজ করে থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই উদ্যোগে আরও স্পষ্ট হল বিজেপি সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।

  • Weather Update: ১০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত বৃষ্টির মেঘ! ভারত সহ এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষার পূর্বাভাস

    Weather Update: ১০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত বৃষ্টির মেঘ! ভারত সহ এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষা যেন এবার নতুন রূপে ধরা দিল মহাকাশ থেকে। বঙ্গোপসাগর থেকে আরব সাগর, আর সেখান থেকে সোজা উত্তর ভারত পেরিয়ে সুদূর দক্ষিণ কোরিয়া- আকাশ জুড়ে যেন মেঘের এক সুবিশাল মহাসড়ক (Rain Cloud Band)! সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্রে (Satellite Image) এমনই এক বিরল ও অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ভারত থেকে শুরু করে হিমালয় পর্বতমালা, চিন এবং জাপান পার হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এক প্রকাণ্ড মেঘের বলয় (Rain Cloud Band)। দৈর্ঘ্য প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার। আবহাওয়ার এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘মনসুন কনভারজেন্স জোন’ (Monsoon Convergence Zone)। আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর এই তাণ্ডব আসলে এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষারই এক বড়সড় সংকেত।

    কীভাবে তৈরি হলো এই মেঘের সাগর?

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারত মহাসাগর থেকে উঠে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বাতাস এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের আবহাওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা খেতেই এই কাণ্ড! বায়ুমণ্ডলে বাতাসের প্রবল মেলবন্ধনের কারণে জলীয় বাষ্প দ্রুত উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধছে। আর তাতেই উত্তর ভারত, মধ্য ভারত, হিমালয় অঞ্চল, চিন হয়ে একেবারে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে বৃষ্টিবাহী ঘন মেঘের এক অবিচ্ছিন্ন করিডোর (Rain Cloud Band)।

    খরা কেটে বন্যার মেঘ! 

    এই সুবিশাল মেঘের সারণি (Rain Cloud Band) ভারতে যেন আক্ষরিক অর্থেই বর্ষার ‘অন্নপূর্ণা’ রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েক সপ্তাহে দেশের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির মারাত্মক ঘাটতি দেখা গিয়েছিল, তা এবার এক ঝটকায় উধাও হওয়ার মুখে! গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে গড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৭০% থেকে ১৮০% বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটিই চলতি বর্ষা মরশুমের সবচেয়ে জলীয় এবং আর্দ্রতম সময়। দাবি আবহাওয়া দফতরের।

    কোথায় কোথায় তাণ্ডব? উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি- এনসিআর এবং রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্নের সম্ভাবনা। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া জোড়া নিম্নচাপের টানে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতেও ঝরছে নাগাড়ে বৃষ্টি (Heavy Rainfall)।

    ধস আর ফ্ল্যাশ ফ্লাডের শঙ্কা! 

    তবে এই বাম্পার বৃষ্টি যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনই পাহাড়ি ও নিচু এলাকাগুলোতে বয়ে এনেছে মারাত্মক আশঙ্কার মেঘ! ইতিমধ্যেই পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে লাল সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

    বিপদের মেঘ কোথায় কোথায়? আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে টানা বর্ষণে নামতে পারে পাহাড়ি ধস (Landslides)। হতে পারে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা বা ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড’ (Flash Floods)। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে পারে পাহাড়ি নদীগুলো। উত্তর ভারতের একাধিক বড় শহরের নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা।

    চাষিদের মুখে হাসি, ভরছে জলাশয়!

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই বর্ষা দেশের কৃষির জন্য একপ্রকার বরদান হতে চলেছে। বর্ষার শুরুতে যেসব রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল, সেখানে খরিফ মরশুমের (Kharif Crop) চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা। এই লাগাতার বর্ষণে জলাশয় ও নদীগুলো যেমন দ্রুত কানায় কানায় পূর্ণ হচ্ছে, তেমনই ধানের চাষসহ অন্যান্য কৃষিকাজে এক অভূতপূর্ব গতি আসবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    শুধু ভারত নয়, জলচক্রে বাঁধা পুরো এশিয়া!

    সাধারণত ভারতের মৌসুমি বায়ুকে কেবল একটি আঞ্চলিক আবহাওয়া বলেই গণ্য করা হয়। কিন্তু মহাকাশ থেকে তোলা ১০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল মেঘের ছবি প্রমাণ করে দিল- আরব সাগর থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত পুরো এশিয়া মহাদেশের আবহাওয়া আসলে অদৃশ্য এক সুতোয় বাঁধা! আগামী গোটা সপ্তাহ জুড়ে এই মেঘের দাপট বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। অর্থাৎ, এশিয়া জুড়ে ব্যাপক বর্ষা এখনই যে থামছে না, তা আর বলার অপেক্ষা থাকে না।

  • ABVP at CJP Protest: সিজেপির আন্দোলনে সংঘর্ষের নিন্দা এবিভিপির, ছাত্রদের দাবি মেটাতে সংলাপ ও সংস্কারের আহ্বান

    ABVP at CJP Protest: সিজেপির আন্দোলনে সংঘর্ষের নিন্দা এবিভিপির, ছাত্রদের দাবি মেটাতে সংলাপ ও সংস্কারের আহ্বান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভকে ঘিরে ছাত্র ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি ঘটনায় জড়িত সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ছাত্রদের ন্যায্য দাবি শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এবিভিপি (ABVP at CJP Protest) তাদের বিবৃতিতে জানায়, নিট ইউজি (NEET-UG) এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ছাত্রদের উদ্বেগ ও ক্ষোভকে তারা সমর্থন করে। তবে যন্তর মন্তরে যে বিশৃঙ্খলা, জনজীবন ব্যাহত হওয়া এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, কিছু “অসামাজিক” এবং “রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী” গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছে, যার ফলে ছাত্রছাত্রী এবং নিরাপত্তারক্ষী—উভয় পক্ষেরই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    এবিভিপির দাবি

    সংগঠনটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি সংলাপ, সহমর্মিতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। কোনও অবস্থাতেই ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি, অরাজকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    যন্তর মন্তরে কী ঘটেছিল?

    গত ২০ জুলাই নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে সিজেপির (ABVP at CJP Protest) ডাকা ‘পার্লামেন্ট মার্চ’-এ হাজার হাজার ছাত্র অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে কিছু ছাত্রছাত্রীকে পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলতে দেখা যায়। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ হাইকোর্টে জানিয়েছে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল না এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর কিছু বিক্ষোভকারী পাথর ছোড়ে। পুলিশের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হয়। বর্তমানে সিজেপির আন্দোলন এবং জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা নিট ইউজি (NEET-UG) পুনঃপরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং একাধিক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।

  • Kolkata Metro: এ বার ভোর ৬টা থেকেই মেট্রো, রাতেও বাড়ছে পরিষেবার সময়! কলকাতার যাতায়াতে বড় স্বস্তি, বদল এই মাস থেকেই

    Kolkata Metro: এ বার ভোর ৬টা থেকেই মেট্রো, রাতেও বাড়ছে পরিষেবার সময়! কলকাতার যাতায়াতে বড় স্বস্তি, বদল এই মাস থেকেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার থেকে কলকাতার ব্যস্ত জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে মেট্রো পরিষেবা। অফিসগামী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে প্রতিদিনের হাজার হাজার যাত্রীর সুবিধার্থে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro)। এবার ব্লু ও গ্রিন- দুই গুরুত্বপূর্ণ করিডরেই প্রথম ও শেষ মেট্রোর সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। তবে শুধু সময়ই নয়, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যাও (Metro Service Increase)। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ২৭ জুলাই (সোমবার) থেকে এই নতুন সূচি কার্যকর হবে।

    ভোর ৬টা থেকেই প্রথম মেট্রো

    এখনও পর্যন্ত ব্লু লাইনে দক্ষিণেশ্বর-শহিদ ক্ষুদিরাম করিডরে দুই প্রান্ত থেকেই দিনের প্রথম মেট্রো ছাড়ে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে। নতুন সূচি অনুযায়ী, সোমবার থেকে সেই সময় এগিয়ে এসে হবে ভোর ৬টা। একই পরিবর্তন হচ্ছে হাওড়া ময়দান- সল্টলেক সেক্টর ফাইভ অর্থাৎ গ্রিন লাইনেও। বর্তমানে এই লাইনে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৬টা ৩৯ মিনিটে। ২৭ জুলাই থেকে এখানেও প্রথম মেট্রো পাওয়া যাবে সকাল ৬টায়।

    রাতেও বাড়ছে পরিষেবার সময় 

    শুধু সকালেই নয়, রাতেও যাত্রীদের জন্য বাড়ছে মেট্রোর সময়সীমা। বর্তমানে ব্লু লাইনে দক্ষিণেশ্বর ও শহিদ ক্ষুদিরাম- দুই প্রান্ত থেকেই শেষ মেট্রো ছাড়ে রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে। নতুন সূচিতে তা পিছিয়ে রাত ১০টা ৩০ মিনিট করা হচ্ছে। একইভাবে গ্রিন লাইনে এখন শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ১০টা ৫ মিনিটে। আগামী সোমবার থেকে হাওড়া ময়দান ও সল্টলেক সেক্টর ফাইভ- দুই প্রান্ত থেকেই শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।

    সপ্তাহের কোন দিন কী নিয়ম?

    নতুন সময়সূচি কার্যকর থাকবে সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত। তবে রবিবার কিছুটা আলাদা নিয়ম থাকবে। ওই দিন ব্লু ও গ্রিন- দুই লাইনেই প্রথম মেট্রো চলবে সকাল ৯টায়। তবে শেষ মেট্রোর সময় থাকবে রাত ১০টা ৩০ মিনিট।

    শুধু সময় নয়, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যাও (Metro Service Increase)

    যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে দুই লাইনেই পরিষেবার সংখ্যাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ব্লু লাইনে সোমবার থেকে শুক্রবার- ২৬০ থেকে বেড়ে ২৭২টি পরিষেবা। শনিবার- ২৪৬ থেকে বেড়ে ২৫৮টি ও রবিবার- ১৫২ থেকে বেড়ে ১৫৮টি মেট্রো চলবে। পাশাপাশি, গ্রিন লাইনে সোমবার থেকে শুক্রবার চলবে ২২৮ থেকে বেড়ে ২৩৬টি মেট্রো। শনিবার- ২০৪ থেকে বেড়ে ২১২টি ও রবিবার- ১০৮ থেকে বেড়ে ১১১টি মেট্রো চলবে।

    আপাতত পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা

    কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই সময়সূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। যাত্রীদের সাড়া, যাতায়াতের চাহিদা এবং পরিষেবার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে এই সময়সূচিকেই স্থায়ী করা হতে পারে। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায় কতদিন চলবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। কলকাতার জনজীবনে মেট্রো এখন শুধু একটি পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ। সেই কারণেই ভোরের পরিষেবা আরও আগে শুরু হওয়া এবং রাত পর্যন্ত ট্রেন চলার সময় বাড়ানো- দুই মিলিয়ে শহরের যাত্রীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর। অফিসের তাড়া হোক কিংবা রাতের বাড়ি ফেরা, নতুন সূচি কলকাতার চলার গতি আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেবে।

  • Delhi Protest Update: ইট-পাথর, কাচের বোতল, লাঠি…! দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আহত দুই এসিপি, নিশানায় র‌্যাফ-ও

    Delhi Protest Update: ইট-পাথর, কাচের বোতল, লাঠি…! দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আহত দুই এসিপি, নিশানায় র‌্যাফ-ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কার্যত অশান্ত রাজধানী (Delhi Protest)। টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভে একের পর এক হিংসার অভিযোগ সামনে আসছে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একাংশের ইট-পাথর, কাচের বোতল ও লাঠি দিয়ে হামলায় আহত হয়েছেন দিল্লি পুলিশের দুই এসিপি এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর দুই জওয়ান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লিতে মোতায়েন অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইতিমধ্যেই ১০টি এফআইআর দায়ের করে ২৫০-র বেশি সিসিটিভি ও মোবাইলের ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাহায্যে খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

    পুলিশের উপর হামলা (Connaught Place Violence)

    আন্দোলনের আঁচ এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছে যে পুলিশের উপরও হামলা চালানো হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ কনট প্লেসের টলস্টয় মার্গ এলাকার আচমকাই পুলিশের উপর হামলায় চালায় বেশ কিছু দুষ্কৃতী। পুলিশকে লক্ষ্য় করে ছোড়া হয় ইট-পাথর (Stone Pelting) ও কাচের বোতল। সেই হামলায় আহত হন কনট প্লেসের এসিপি বিবেক ভগত। তাঁকে দ্রুত ড. রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর হাত, পা ও কাঁধে একাধিক আঘাত রয়েছে। মাথার পিছনের অংশেও চোট লেগেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    যন্তর মন্তরেও সংঘর্ষ (Delhi Protest)

    এদিকে, এই ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভেও (Jantar Mantar Protest) পুলিশের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি হয় আন্দোলনকারীদের। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সংসদ মার্গের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এরপরই শুরু হয় ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি (Stone Pelting)। একটি পাথর এসে লাগে পাঞ্জাবি বাগের এসিপি জয় প্রকাশের কপালে। আহত অবস্থায় তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকেই এসিপি জয় প্রকাশ জানান, “পুলিশ মানবশৃঙ্খল তৈরি করে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের দিকে বোতল ও পাথর ছোড়া হয়।”

    র‌্যাফ-এর জওয়ানদের উপর হামলার অভিযোগ

    শুধু দিল্লি পুলিশই নয়, কনট প্লেসে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর দুই জওয়ানের উপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা থামাতে গেলে র‌্যাফ-এর জওয়ানদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা শুরু হয়। সেই সময় এক জওয়ান নিজের দলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অভিযোগ, এরপর তলোয়ার ও লাঠি হাতে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করে। তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে আরও এক জওয়ানও আক্রান্ত হন। এরইমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল বেশকিছু ভিডিও। সেখানেই না কি দেখা যাচ্ছে আক্রান্ত জওয়ান প্রাণ বাঁচাতে দৌড়চ্ছিলেন। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (নয়াদিল্লি) আনন্দ কুমার মিশ্র।

    ২৫০-র বেশি ভিডিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    গোটা ঘটনার তদন্তে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ২৫০-রও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়ার ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Investigation)-র সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন? কারা হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন? কোথা থেকে ভিড়কে উস্কানি দেওয়া হয়েছিল? সেই সব তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও, তদন্তকারীরা BitChat নামে একটি ইন্টারনেট ছাড়াই চলতে সক্ষম মেসেজিং অ্যাপের কথোপকথনও খতিয়ে দেখছেন। সংঘর্ষটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, সেই দিকটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    ১০টি এফআইআর, একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা

    ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। তার মধ্যে- ৪টি সংসদ মার্গ থানায়, ৩টি কনট প্লেস থানায়, এবং মন্দির মার্গ, বারাখম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে আক্রমণ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অস্ত্র আইনে অপরাধ, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো- সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

    রাজধানীতে বাড়ানো হল নিরাপত্তা

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দিল্লিতে অতিরিক্ত ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। ফলে আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের হাতে মোট ৪৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, অর্থাৎ প্রায় ৪,৫০০ জওয়ান থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে-  ২৪ কোম্পানি সিআরপিএফ, ১৫ কোম্পানি র‌্যাফ, ৩ কোম্পানি বিএসএফ, ১ কোম্পানি আইটিবিপি ও ২ কোম্পানি এসএসবি। পাশাপাশি পার্লামেন্ট স্ট্রিট, যন্তর মন্তর, কনট প্লেস-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ত্রিপুরা রাইফেলস এবং BSF-এর অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

    কেন এই আন্দোলন?

    নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরাও অংশ নিয়েছেন। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ মার্গের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে এবং বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। এরপর পুলিশের উপর ইট-পাথর, বোতল ও অন্যান্য বস্তু ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী ও আধিকারিক আহত হয়েছেন।

    কী বলছেন জে পি নাড্ডা?

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ জে পি নাড্ডা (J P Nadda) বলেন, ‘‘প্রশ্নফাঁসের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। এই ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় সরকার প্রস্তুত। আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সংলাপের পথ খোলা রয়েছে।’’

    সরকারের সাফ বার্তা

    এদিকে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং তা নিয়ে রাজনীতি না করে তথ্যভিত্তিক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকার এই ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় প্রস্তুত এবং আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সংলাপের দরজা খোলা রয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের স্পষ্ট বার্তা, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদের অধিকার সকলের থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলার মতো ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যারা হিংসায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    India Indonesia Relationship: চিনের ‘মুক্তোর মালা’ কৌশলের পাল্টা জবাব? ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দর ঘিরে ভারতের নতুন কৌশল, বাড়ছে দিল্লির সামুদ্রিক শক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত মহাসাগরকে ঘিরে গত কয়েক দশক ধরে ক্রমশ বেড়েছে চিন এবং ভারতের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা। একদিকে চিন বিভিন্ন দেশে বন্দর নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছে, অন্যদিকে ভারতও ধাপে ধাপে নিজের সামুদ্রিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্দোনেশিয়ার সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত- ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা (India Indonesia Relationship) নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।

    সাবাং বন্দর (Sabang Port)

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাবাং বন্দর (Sabang Port) শুধু একটি বন্দর নয়, বরং ভারত মহাসাগর ও পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও এটি ভারতের কোনও সামরিক ঘাঁটি নয়, তবুও এর ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কী এই ‘মুক্তোর মালা’ কৌশল?

    আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে ‘মুক্তোর মালা’ নামে পরিচিত একটি ধারণা রয়েছে। এই ধারণা অনুযায়ী, চিন ভারত মহাসাগর অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বন্দর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তুলে একটি বিস্তৃত সামুদ্রিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। পাকিস্তানের গওয়াদর বন্দর, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দর, মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ, আফ্রিকার জিবুতিতে নৌ-সুবিধা, সব মিলিয়ে চিন তার উপস্থিতি ক্রমশ বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, এগুলি মূলত বাণিজ্যিক প্রকল্প। তবে বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এই পরিকাঠামো ভবিষ্যতে কৌশলগত সুবিধাও দিতে পারে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর?

    সাবাং বন্দর (Sabang Port) ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের ওয়েহ দ্বীপে অবস্থিত। এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হল, এটি মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখের খুব কাছাকাছি। মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের সঙ্গে এশিয়ার বাণিজ্যের বড় অংশ এই পথ দিয়েই হয়। প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করে। এই কারণেই সাবাং বন্দরের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    ভারত-ইন্দোনেশিয়া সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সাবাং বন্দর (Sabang Port) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়। এরপর থেকে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় বন্দর উন্নয়ন, জাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সহযোগিতা ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ককে (India Indonesia Relationship) নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

    ভারতের কী লাভ?

    সাবাং বন্দরের (Sabang Port) অবস্থান ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের তুলনামূলক কাছাকাছি। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত সমন্বয় আরও শক্তিশালী হতে পারে। ভারতীয় জাহাজ প্রয়োজনে সেখানে পরিষেবা পেতে পারে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান এবং সমুদ্রপথে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগরে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে এমন সহযোগিতা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে।

    ভারতের অবস্থান

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত শুধু স্থল সীমান্ত নয়, সমুদ্র নিরাপত্তার উপরও বিশেষ জোর দিয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পরিকাঠামো উন্নয়ন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, একাধিক দেশের সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতা, সব মিলিয়ে ভারত ধাপে ধাপে নিজের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। জাপান, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামুদ্রিক সহযোগিতাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।

    চিনের সরাসরি জবাব?

    এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সাবাং বন্দরকে (Sabang Port) ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, সাবাং কোনও ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি নয় এবং এর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ইন্দোনেশিয়ার হাতেই।

    কেন বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এখন এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছে, যেখানে প্রতিবেশী ও অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সাবাং বন্দর সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি অংশ। ভারত মহাসাগরে নিরাপদ বাণিজ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়েও ভারত সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে এই অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।

    পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক

    সাবাং বন্দরকে ঘিরে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার (India Indonesia Relationship) সহযোগিতা শুধু একটি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কেরও প্রতীক। এটি ভারতের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে এটিকে চিনের বিরুদ্ধে সরাসরি পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নয়, বরং ভারতের বৃহত্তর সামুদ্রিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখাই তথ্যভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন।

  • Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২০৩১ সালে হিসেব মেটানোর’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার পাল্টা আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Abhishek)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়াই করুন অভিষেক। ২০৩১ সালে তিনি কোথায় থাকবেন, তা বিজেপিই ঠিক করবে বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির প্রশ্নে বিধানসভা থেকে বুধবার বাম-তৃণমূল দুই প্রাক্তন শাসক দলকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তবে তাঁর আক্রমণের ঝাঁঝ অনেক বেশি ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে।

    শুভেন্দুর আল্টিমেটাম

    স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর হুমকি, ‘‘ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।’’ তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়ে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালকে তো শহিদ দিবস হয়নি। কেউ বলছে, ভাইপো প্যারাশুটে নেমেছে। আর ভাইপো বলছে, নোট-খাতা খুলে রাখো, একত্রিশে হিসেব হবে। আরে তুমি বাইরে থাকলে তো হিসাব হবে।” রাজ্যে পালাবদলের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেককে কেন আর তাঁর কেন্দ্রে দেখা যায় না, তা নিয়ে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “৪ মের পর ডায়মন্ড হারবার গিয়েছ? জোকা পেরিয়েছ? যাও না ডায়মন্ড হারবার। পান্নালাল হালদার নিয়ে যান চ্যাম্পিয়ন এমপি-কে।”

    ৩১-এ কোথায় থাকে দেখব

    বুধবার ক্যাথিড্রাল রোডের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক। কর্মীদের সাহস ও উপস্থিতির প্রশংসা করে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “যাঁরা ভয় উপেক্ষা করে এসেছেন, তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে আজ নতুন করে তৃণমূলের জন্ম হল। এই নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ৩১ সালে সব হিসেব বুঝে নেবে।” মন্তব্যের পাল্টা শুভেন্দু বলেন, “গতকাল বড় বড় আওয়াজ দেওয়া হয়েছে। ও ৩১-এ কোথায় থাকে আমি দেখব।”

    ‘‘ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে’’

    অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটে লড়ুন, তারপর কোথায় থাকবেন, তা দেখবেন। ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। নির্বাচনের আগে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী, অমিত শাহ—সবাই বলেছিলেন, ডি-জে বাজাবেন। কিন্তু ৪ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষই ডি-জে বাজিয়ে দিয়েছেন।” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “এই সরকার ভদ্রতা বজায় রেখেছে বলেই এখনও কেউ ২ হাজার লোকের সামনে নায়কোচিত ভঙ্গিতে পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। প্রতিষ্ঠিত চোর ভিতরে থাকবেন না বাইরে থাকবেন, তা ভবিষ্যৎই বলবে।”

    ‘‘শওকত, পুষ্পার থেকেও অবস্থা খারাপ হবে’’

    ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডায়মন্ড হারবারে লড়ুন। সেখানে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। তারপরও আপনি যে ব্যবধানে জিতেছেন, সেই ব্যবধানেই যদি আপনাকে হারাতে না পারি, তাহলে আমার কথাই ভুল প্রমাণিত হবে। আপনার অবস্থা শওকত বা পুষ্পার থেকেও খারাপ হবে।’’ বিধানসভায় একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আগের রাজ্য সরকারেরও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘পুলিশকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন? এই ভাইপোপন্থী তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না, সেটাই আমার দায়িত্ব। ফলতা তো সবে শুরু, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম এখনও বাকি।’’

    ‘‘পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না’’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘তিনি বলছেন, আবার ফিরে আসবেন। সবাই নাকি গদ্দার, সব চোর নাকি অন্য দলে চলে গিয়েছে। এত বড় নেত্রী হয়েও মিত্র ইন্সটিটিউশনের চারটি বুথেই আমার কাছে হেরেছেন। পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না, অথচ নিজেকে জননেত্রী বলেন। একসময় অটল বিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ পেয়েছিলেন।’’

    আমফান দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে তোপ

    তার আগেই বিধানসভায় সিএজি (ক্যাগ) রিপোর্ট পেশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে আমফান নিয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। আমপানের পর কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে আসা বিপুল অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। এমনকি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনে জয়ের পর সভা করার সময়ও আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দুর্নীতি নিয়ে আগেও অভিষেককে নিশানা করেছেন তিনি। সেই আমফান দুর্নীতি নিয়ে সিএজি রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর করার অনুমতি চাওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    পুলিশের দুর্নীতি রুখতে দাওয়াই শুভেন্দুর

    পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘ওটা (অভিষেক) বাঘ না, বেড়াল। যত চুরি করেছে সব গর্ত খুঁড়ে বার করব।’’ ‘আঞ্চলিক দলের’ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলে অভিষেককে কটাক্ষ করে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতার দিকেও। তাঁর নাম না-করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘আপনি বেঁচে থাকতে থাকতে প্রমাণ করে দেব আপনি প্রতিষ্ঠিত চোর।’’পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পুলিশের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কিছুই করেনি। রাজ্য পুলিশে অনুমোদিত পদের এক তৃতীয়াংশই (৪৩ হাজার ৭৩) শূন্য রয়েছে বলে বিধানসভায় জানান শুভেন্দু। তবে আশ্বাস দেন পুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবল নিযুক্ত হবে। আরও ২০ হাজার পুলিশকর্মী অবিলম্বে নিয়োগ করা হবে বলেও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পুলিশের দুর্নীতি রুখতে তাঁর দাওয়াই, ‘‘হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছে। কোথাও কাউকে রাস্তায় হাত পাততে দেখলেই জানান।’’

    ‘জিরো টলারেন্সের’ নির্দেশ

    ধানতলা, বানতলা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনা বা সূচপুরের ঘটনা উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, যে ঘটনাগুলিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে মানুষকে বিচার পাইয়ে দিতে পারেননি তিনি। মহিলা এবং নারীদের উপর অপরাধের ক্ষেত্রে ফের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা বলে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন, ‘‘এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দেশের অপেক্ষা করবেন না। যা করার দরকার তাই করবেন। মনে রাখবেন আপনাদের সবচেয়ে বড় ঢাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।’’ বিগত সরকারের জমানায় ধর্ষণের ঘটনায় নিম্ন আদালত একের পর এক ফাঁসির সাজা দিলেও তা কার্যকর কেন হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মূলত তাদের গাফিলতিকেই দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বারুইপুরের শিশুকন্যা ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে কার্যত মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ঘটনা ঘটলে তা কী ভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা বারুইপুরের ঘটনায় প্রমাণ করে দিয়েছে আমাদের সরকার।’’

    দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা তৃণমূলকে

    এর পরেই দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। গত পনেরো বছরে যাঁরা অবৈধ সম্পত্তি করেছেন, সেই সব বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বামেদেরও বিঁধেছেন শুভেন্দু। সিপিএমকে চিটফান্ডের ‘ক্যাম্পেইনার’ বলে অভিযোগ করে, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে এ রাজ্যের সিপিএম নেতাদের একাংশের ফাইল খোলার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।

    ডায়মন্ড হারবারে লড়বেন!

    কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে ভিড় নিয়ে এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিড়লা তারামণ্ডলে ওইটুকু জায়গায় কত লোক হয়েছে? পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে। আড়াই হাজারের একটু বেশি হয়েছে।” মমতা অভিষেককে বাঘ বলে উল্লেখ করেছেন। এদিন তা নিয়েও কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওটা বাঘ না বিড়াল। ওকে আমি কাউন্টার করব না। ও অনেক বড়-বড় কথা বলে। তবে একটাই কথা বলব, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারে লড়বে। যত ভোটে জিতেছে, তত ভোটে হারাব। আপনার অবস্থা পুষ্পার চেয়েও খারাপ হবে।”

  • Typhoid Symptoms: বর্ষায় বাড়ছে টাইফয়েডের দাপট! কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?

    Typhoid Symptoms: বর্ষায় বাড়ছে টাইফয়েডের দাপট! কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কোথাও একনাগাড়ে বৃষ্টি, আবার কোথাও হঠাৎ বৃষ্টিতেই নাজেহাল পরিস্থিতি। আর এই আবহাওয়ায় বিপদ বাড়াচ্ছে টাইফয়েড। রাজ্য জুড়ে বাড়ছে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগ নিয়ে আগাম সচেতনতা না বাড়ালে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই টাইফয়েড রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকার পাশপাশি, কীভাবে এই সংক্রমণ আটকানো যাবে, আক্রান্ত হলে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন, সে সম্পর্কেও সতর্ক থাকা জরুরি। না হলে, বিপদ আরও বাড়বে।

    টাইফয়েড কী?

    পরজীবী রোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, টাইফয়েড একটা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ। সালমোনেলা টাইফি নামে এক ব্যাকটেরিয়া থেকে এই রোগ ছড়ায়।

    কীভাবে এই রোগ সংক্রমণ ঘটে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দূষিত জল এবং খাবার থেকেই এই রোগ সংক্রামিত হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার জেরে এই রোগ হতে পারে। বর্ষায় রাজ্য জুড়ে একাধিক জায়গায় জমা জলের ভোগান্তি রয়েছে। বৃষ্টির জেরে অনেক জায়গায় পরিশ্রুত খাওয়ার জল পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে অনেকেই অপরিচ্ছন্ন জল খাচ্ছেন। তার ফলে টাইফয়েডের মতো রোগের দাপট বাড়ছে। তাছাড়া, হাত ধুয়ে না খাওয়ার অভ্যাস যে কোনও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, এই আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার প্রবণতা স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। তাছাড়া খোলা জায়গায় রাখা খাবার থেকে টাইফয়েড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই বর্ষায় বাজার থেকে কেনা তেলেভাজা কিংবা মশলা মাখানো কাটা ফল খান। এই ধরনের খাবারে টাইফয়েড আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কীভাবে বুঝবেন টাইফয়েড আক্রান্ত হয়েছেন কিনা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টাইফয়েড আক্রান্ত হলে তার উপসর্গ স্পষ্ট হয়। তাই এই রোগের উপসর্গ সম্পর্কে জানতে পারলে রোগ চিহ্নিত করা সহজ হবে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, প্রবল জ্বর, মাথা ও পেটে ব্যথা, বারবার বমি হওয়া, খাবারের প্রতি তীব্র অনীহা, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ এবং একাধিকবার মলত্যাগের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এগুলো টাইফয়েডের লক্ষণ। তবে এর পাশপাশি টাইফয়েড আক্রান্ত হলে, অনেকের ত্বকে ছোটো ছোটো গোলাপি দাগ দেখা দেয়। তাই তাঁদের পরামর্শ, বর্ষার মরশুমে জ্বর হলে এবং ত্বকে কোনো রকম দাগ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যাতে পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে বাড়তি স্বাস্থ্য সচেতনতা জরুরি। জল পরিশ্রুত কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। পরিবারের শিশু সদস্যের জন্য প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের টাইফয়েডে দ্রুত সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই তাদের পানীয় জলের গুণমানের প্রতি বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। বাজার থেকে ফল ও সব্জি কিনে আনার পরে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। কাটা ফল কিংবা খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা যে কোনও রকম খাবার খাওয়া একেবারেই চলবে না। এগুলো থেকে দ্রুত টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িতে গরম রান্না করা খাবার খেলে এই ধরণের রোগের ঝুঁকি কমবে। শৌচালয় ব্যবহার নিয়েও সচেতনতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শৌচালয় নিয়মিত পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। টাইফয়েড, ডায়ারিয়ার মতো বর্ষার মরশুমে একাধিক সংক্রামক রোগ শৌচালয় থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই শৌচালয় ব্যবহারের পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এছাড়াও, খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত-মুখ ধোয়া জরুরি।‌ তাহলে টাইফয়েডের মতো রোগের ঝুঁকি কমবে।

    রোগে আক্রান্ত হলে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অবহেলা করলে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যেতে পারে। তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। টাইফয়েড আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করা দরকার। কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পরে, মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করে দিলে লিভার, অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। তাই আক্রান্ত সম্পূর্ণ চিকিৎসা করছেন কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। টাইফয়েড আক্রান্ত হলে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দেয়। ক্লান্তি বাড়ে। ঠিকমতো পুষ্টির জোগান না থাকলে সেরে ওঠা কঠিন হয়ে যাবে। তাই তাঁদের পরামর্শ, আক্রান্তকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, যাতে হজমের সমস্যা না হয়। তাই পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, টাইফয়েড আক্রান্ত হলে সিদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। ভাত, ডাল, সব্জি সিদ্ধ করে নিয়মিত খেতে হবে। যাতে শরীরে ভিটামিন, খনিজের চাহিদা পূরণ হয়। আবার ডিম, মাংসের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার দেওয়া যাবে। কিন্তু সিদ্ধ বা স্টু জাতীয় পদ দিতে হবে। যাতে প্রোটিন শরীরে গেলেও হজমে সমস্যা না হয়। তাছাড়া, ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। যাতে শরীরে বাড়তি ক্লান্তি গ্রাস না করে। তবেই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

  • Delhi Protest: মার্কিন দূতাবাসের আগাম বিক্ষোভ সতর্কতা ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনের ব্যাপারে এত নির্দিষ্ট তথ্য পেল কীভাবে?

    Delhi Protest: মার্কিন দূতাবাসের আগাম বিক্ষোভ সতর্কতা ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনের ব্যাপারে এত নির্দিষ্ট তথ্য পেল কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা বিক্ষোভকে ঘিরে মার্কিন দূতাবাসের জারি করা একটি আগাম নিরাপত্তা সতর্কতা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে, ১৭ জুলাই প্রকাশিত ওই সতর্কতায় ২০ ও ২১ জুলাই দিল্লিতে সম্ভাব্য বিক্ষোভ, ভিড়, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছিল। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন দূতাবাস এত আগে এবং এত নির্দিষ্ট তথ্য কীভাবে পেল। ঘটনার সূত্রপাত নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলেও, আন্দোলনে অ-ছাত্র গোষ্ঠী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং অন্যান্য স্বার্থান্বেষী মহলের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির পক্ষে কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

    মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতায় কী বলা হয়েছিল?

    ১৭ জুলাই প্রকাশিত মার্কিন দূতাবাসের “ডেমনস্ট্রেশন অ্যালার্ট”-এ মার্কিন নাগরিকদের ২০ জুলাই সংসদ ভবন ও যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। সতর্কতায় বলা হয়েছিল, ওই দিন বড় জমায়েত হতে পারে এবং দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক যানজট ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হতে পারে। এছাড়াও ২১ জুলাই কিষাণ ঘাটে আরেকটি বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে প্রায় ২৫০টি কৃষক সংগঠনের অংশগ্রহণ এবং মোটরসাইকেল মিছিলের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল।

    মার্কিন নাগরিকদের জন্য দূতাবাসের পরামর্শ ছিল—

    বড় জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন।
    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসরণ করুন।
    ট্রাফিক বিলম্ব ও রাস্তা বন্ধ থাকার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
    স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন।
    পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
    স্টেপ (Smart Traveler Enrollment Program)-এ নিবন্ধন করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট গ্রহণ করুন।

    বিতর্কের কারণ কী?

    দিল্লি পুলিশ ১৮ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন উপলক্ষে ট্রাফিক সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করে। তবে তার আগেই মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতায় বিক্ষোভের সম্ভাব্য স্থান, তারিখ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কৃষক সংগঠনগুলির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের মতো বিশদ তথ্য উল্লেখ থাকায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস নিয়মিতভাবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, প্রশাসনিক সূত্র, প্রকাশ্য তথ্য এবং নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করে থাকে। ফলে এমন সতর্কতা জারি করা কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

    ‘ডিপ স্টেট’ ও জর্জ সোরোস প্রসঙ্গ

    বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু রাজনৈতিক মহলে তথাকথিত “ডিপ স্টেট” বা মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরোস-এর নামও টানা হচ্ছে। তবে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা এবং এসব অভিযোগের মধ্যে কোনও সম্পর্কের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে সিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত অভিজিৎ দিপকে-র অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জানা গিয়েছে, তিনি আগে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত শিক্ষাগত বা রাজনৈতিক অতীতের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতার কোনও যোগসূত্র রয়েছে বলে কোনও সরকারি সংস্থা দাবি করেনি।

    সরকারি অবস্থান

    প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রস্তাবিত সংসদ অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক ছিল এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে মার্কিন দূতাবাসের আগাম সতর্কতা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, দূতাবাসের তথ্য সংগ্রহ বা এর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগ রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রত্যক্ষ ও প্রমাণিত তথ্য সামনে আসেনি।

  • Jammu And Kashmir: কাশ্মীরের অনন্তনাগে পুলিশ বাহিনীর উপর জঙ্গিদের গুলি, নিহত হেড কনস্টেবল

    Jammu And Kashmir: কাশ্মীরের অনন্তনাগে পুলিশ বাহিনীর উপর জঙ্গিদের গুলি, নিহত হেড কনস্টেবল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রক্তাক্ত কাশ্মীর (Jammu And Kashmir)। পুলিশবাহিনীর উপর জঙ্গি হামলা হল জম্মু ও কাশ্মীরে। গোলাগুলিতে এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। অনন্তনাগের (Attacks in Anantnag) লালচকে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ লালচকে টহল দিচ্ছিল পুলিশের একটি দল। আচমকাই সেই দলের উপর গুলি চলে। পুলিশকর্তাদের মতে, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা জঙ্গলের আড়াল থেকে গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় গুরুতর জখম হন হেড কনস্টেবল আশিক হুসেন।

    হামলাকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত পুলিশকর্মীকে দ্রুত অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (GMC) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আশিক হুসেনের বাড়ি বুদগাম জেলার বীরওয়াহ এলাকায়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনন্তনাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। ড্রোন দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে বার বার সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। জঙ্গি বা অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি লক্ষ করে জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনার দাবি, কঠোর নজরদারির জেরেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দিনচারেক আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের রজৌরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) অনুপ্রবেশ আটকেছে সেনা।

    নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

    উল্লেখ্য, অমরনাথ যাত্রা উপলক্ষে ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তার মধ্যেই অনন্তনাগে এই জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। সঙ্গে রয়েছে সেনাবাহিনীও।

LinkedIn
Share