Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Mamata as Lawyer: আদৌ লাইসেন্স আছে তো! ‘আইনজীবী’ মমতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, সত্যতা জানতে চেয়ে চিঠি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার

    Mamata as Lawyer: আদৌ লাইসেন্স আছে তো! ‘আইনজীবী’ মমতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, সত্যতা জানতে চেয়ে চিঠি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata as Lawyer) আদালতে সওয়াল করার পর পশ্চিমবঙ্গের বার কাউন্সিলে চিঠি দিল বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI)। প্র্যাকটিস করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈধ এনরোলমেন্ট আছে কি না, কবে সাসপেন্ড করা হয়েছে, কবে রিজাম্পসান (পুনর্বহাল) হয়েছে, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। দুদিনের মধ্যে সব তথ্য জানাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী পদ চলে যাওয়ার পর কীভাবে হঠাৎ সওয়াল করলেন, প্রশ্ন উঠেছে আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে। এরপরই দু’দিনের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী পরিচয় সবিস্তার জানতে চাইল দেশে আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ৷

    মমতার আইনি পেশার বৈধতা কী

    বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আইনজীবীর চিরাচরিত কালো পোশাকে আদালত কক্ষে উপস্থিত হন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যে ‘বিজেপি আশ্রিত’ দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব রুখতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেই মামলাতেই এদিন সওয়াল করেন তিনি। তবে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মমতার আইনি পেশার বৈধতা ও স্টেটাস নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে কড়া চিঠি দিয়েছেন ভারতের বার কাউন্সিল-এর (Bar Council Of India) প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শ্রীমন্ত সেন ৷

    কী জানতে চাইল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া

    বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া তাদের চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে মমতার ‘লিগ্যাল প্র্যাকটিস স্টেটাস’ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছে – ঠিক কবে আইনজীবী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল? আর পেশা স্থগিত রাখা এবং পুনরায় শুরু করার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। তাঁর আইনি পেশার শংসাপত্র বা ‘সার্টিফিকেট অফ প্র্যাকটিস’ দেখতে চেয়েছে বিসিআই। আগামী দুই দিনের মধ্যে এই সমস্ত তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চিঠিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর গাউন পরে নিজেকে আইনজীবী দাবি করে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় সওয়াল করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কিন্তু তিনি ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ৷ সেই জন্য তাঁর আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্ট নম্বর যাচাই করা প্রয়োজন ৷ কবে তিনি বার কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন এবং তাঁর লাইসেন্স বাতিল হয়েছিল কি না, তিনি লাইসেন্স জমা রেখেছিলেন কি না এবং কবেই বা ফেরত পেয়েছেন ৷ এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে ৷

    উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আহ্বান

    আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর লাইসেন্সটি সাসপেন্ড ছিল ৷ রিজাম্পশন সার্টিফিকেট না-পেয়ে এভাবে আইনজীবী হিসেবে আদালতে কি হাজির হতে পারেন ?’’ এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্বদল হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর উদাহরণ দেন ৷ আইনজীবী জানান, প্রাক্তন বিচারপতি কয়েক মাস আগে বিচারপতি হিসেবে অবসর নিয়েছেন ৷ বিচারপতি থাকাকালীন তাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ডেড ছিল ৷ চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি অবসর নেন ৷ এই চার মাসেও সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার রিজাম্পশন সার্টিফিকেট পাননি ৷ বার কাউন্সিল এখনও দেয়নি ৷ এই অবস্থায় বিল্বদল ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদ্য নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এখনই হঠাৎ বার কাউন্সিলের কাছ থেকে তিনি রিজাম্পশন সার্টিফিকেট পেতে পারেন না ৷ যদি এই সার্টিফিকেট ছাড়া তিনি আইনজীবী হিসেবে এসে থাকেন, তাহলে বার কাউন্সিলের কাছে আমরা অনুরোধ করব, উপযুক্ত পদক্ষেপ করার ৷’’

    বার কাউন্সিলের নিয়ম

    কোনও আইনজীবী আইনি পেশায় থাকাকালীন তিনি যদি মন্ত্রিত্বের পদ, চাকরি, বিচারক বা বিচারপতি হিসাবে কাজ করেন তাহলে তাঁকে চিঠি দিয়ে বার কাউন্সিলকে জানাতে হয় তিনি আইনি পেশা থেকে কার্যকালের মেয়াদ পর্যন্ত অব্যাহতি নিচ্ছেন। যদি ওই আইনজীবী বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে না জানান তাহলে বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তাকে আইনি পেশা সাসপেনশন করা হয়। পরবর্তীকালে ওই আইনজীবী যখন মন্ত্রিত্বের পদ থেকে সরে যান, চাকরি থেকে অবসর, বিচারক বা বিচারপতির পথ থেকে অবসর নেন, তখন যদি তিনি পুনরায় আইনি পেশায় ফেরত আসতে চান তখন তাকে বার কাউন্সিলে পুনর্নবীকরণের জন্য আবেদন জানাতে হয় এবং নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হয়। তবে শুধুমাত্র বিধায়ক বা সাংসদ পদে থাকাকালীন আইনজীবীরা আইনি পেশায় নিযুক্ত থাকতে পারেন।

    আইনজীবী মমতাকে নিয়ে প্রশ্ন কেন

    ২০২৬ সালের নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল ৷ মাত্র ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে ঘাসফুল শিবির ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৷ গত বছর সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) নিয়ে সওয়াল করেছেন তিনি, তাও আম জনতা হিসাবে, আইনজীবীর কালো গাউন তাঁর গায়ে ছিল না ৷ এরপর ভোট মিটতে এদিন আইনজীবী অবতারে অবতীর্ণ হন তৃণমূল সুপ্রিমো ৷ তিনি আইনজীবীর ডিগ্রি অর্জন করলেও মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দীর্ঘ সময় তাঁকে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে দেখা যায়নি ৷ ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কীভাবে তিনি আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেন, এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইনজীবীদের একাংশও ৷ বৃহস্পতিবার সকালেই রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় সওয়াল করতে কলকাতা হাইকোর্টে আসেন রাজ্যের সদ্য-প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কোর্ট গাউন পরে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তিনি প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে সওয়াল করেন ৷ এই ঘটনার পরই সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিল্বদল ভট্টাচার্য, সূর্যনীল দাস-সহ বিজেপি লিগাল সেলের একাধিক আইনজীবী ৷

  • NEET CBT Mode: আগামী বছর থেকে অনলাইনে হবে নিট পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের পর কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    NEET CBT Mode: আগামী বছর থেকে অনলাইনে হবে নিট পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের পর কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস বিতর্কে উত্তাল দেশজুড়ে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026)। এই আবহেই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। শুক্রবার তিনি জানান, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ থেকে নিট পরীক্ষা সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক (Computer-Based Test বা CBT) ফরম্যাটে নেওয়া হবে। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় কথিত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, সুরক্ষিত এবং জবাবদিহিমূলক করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকার ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে, বাতিল হওয়া নিট-ইউজি (NEET UG 2026)-এর পুনঃপরীক্ষা আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের জেরে বাতিল করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে চেয়েছে কেন্দ্র।

    আগামী বছর থেকে বদলাচ্ছে নিট-এর ফরম্যাট

    মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে ধমেন্দ্র প্রধান জানান, আগামী বছর থেকে নিট-ইউজিকে ওএমআর (OMR) ভিত্তিক পেন-পেপার মোড থেকে সরিয়ে সিবিটি ফরম্যাটে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর কথায়, “দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থাই এখন সময়ের দাবি।” যদিও ২০২৬ সালের পুনঃপরীক্ষা এখনও ওএমআর শিটের মাধ্যমেই হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ওএমআর শিট পূরণে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

    সিবিআই-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গোড়া পর্যন্ত খতিয়ে দেখা হবে

    প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিবিআই (CBI)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধমেন্দ্র প্রধান জানান, এই তদন্তে শুধু দোষীদের চিহ্নিত করাই নয়, কীভাবে প্রশ্ন বাইরে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কোনও সংঘবদ্ধ শিক্ষা মাফিয়া বা প্রতারণা চক্র সক্রিয় ছিল কি না—সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, “এই অনিয়মের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনো হবে। কোনও যোগ্য ছাত্রছাত্রী যেন প্রতারণার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাই সরকারের অগ্রাধিকার।”

    ‘গেস পেপার’ অভিযোগ থেকেই শুরু তদন্ত

    ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে বিস্তারিত জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, ৩ মে পরীক্ষা হওয়ার পর ৭ মে এনটিএ-র (NTA) কাছে একটি অভিযোগ আসে, যেখানে দাবি করা হয়, বাজারে ছড়িয়ে পড়া একটি তথাকথিত ‘গেস পেপার’ (Guess Paper)-এর কিছু প্রশ্ন হুবহু মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ধমেন্দ্র প্রধান বলেন, “৭ মে অভিযোগ পাওয়ার পরই এনটিএ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে।” পরে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হয়। ১২ মে-র মধ্যে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ‘guess paper’-এর আড়ালে আসলে পরীক্ষার প্রকৃত প্রশ্নই ফাঁস হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, “১২ মে-র মধ্যে আমরা নিশ্চিত হই যে, গেস পেপারের নামে আসল প্রশ্নপত্র বাইরে চলে গিয়েছিল।”

    কেন বাতিল করা হল পরীক্ষা?

    পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ধমেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, সৎ ও মেধাবী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা চাইনি কোনও যোগ্য ছাত্রছাত্রী ভুয়ো পরীক্ষার্থী, প্রতারণা চক্র বা শিক্ষা মাফিয়ার ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক।” এই সিদ্ধান্তের পর বহু পরীক্ষার্থী প্রথমে মানসিক চাপে পড়লেও, নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ধমেন্দ্র প্রধান জানান, অতীতে বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল। সেই রাধাকৃষ্ণন কমিটি-র সুপারিশ ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পরীক্ষায় কার্যকরও করা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, “রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করার পরেও এই ঘটনা ঘটেছে। তাই আমাদের প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল পরীক্ষা বাতিল করা।” এতে স্পষ্ট, ভবিষ্যতে পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও বাড়াতে সরকার অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে চলেছে।

    পুনঃপরীক্ষায় লাগবে না অতিরিক্ত ফি

    পুনঃপরীক্ষা নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। অর্থাৎ যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছিলেন, তাঁরাই বিনামূল্যে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে পারবেন। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার্থীদের নিজেদের পছন্দের পরীক্ষাকেন্দ্রের শহর বেছে নেওয়ার সুযোগ আবার দেওয়া হবে, এবং এই প্রক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা রাখা হয়েছে। সংশোধিত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি আজ সন্ধ্যার মধ্যেই প্রকাশ করবে এনটিএ (NTA)। পাশাপাশি, পুনঃপরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ১৪ জুন প্রকাশ করা হবে।

    উদ্বেগে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া

    নিট-ইউজি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এমবিবিএস, বিডিএস এবং অন্যান্য মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি হতে এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলে পরীক্ষা বাতিল এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন নজর ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষার দিকে। একইসঙ্গে আগামী বছর থেকে সিবিটি ফরম্যাট চালু হলে নিট পরীক্ষার ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, যা পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • NEET-UG 2026 Re-Exam: ২১ জুন ফের পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর নতুন করে নিটের দিন ঘোষণা এনটিএ-র

    NEET-UG 2026 Re-Exam: ২১ জুন ফের পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর নতুন করে নিটের দিন ঘোষণা এনটিএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA) অবশেষে নিট-ইউজি পরীক্ষা (NEET-UG 2026) পুনরায় পরীক্ষার নতুন দিন ঘোষণা করল। প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে আগের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর দেশজুড়ে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ জুন ২০২৬, রবিবার অনুষ্ঠিত হবে নিট-এর পুনরায় পরীক্ষা। সরকারি অনুমোদন নিয়ে জারি করা এনটিএ-র সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

    প্রশ্নফাঁস বিতর্কে দেশজুড়ে ক্ষোভ

    এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লক্ষাধিক মেডিক্যাল পড়ুয়া, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষায় নিরাপত্তার এমন গাফিলতি গোটা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাস্তায় নেমেও বহু জায়গায় বিক্ষোভ দেখা যায়।

    ২১ জুন ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর জন্য

    নতুন সূচি ঘোষণার ফলে এমবিবিএস (MBBS), বিডিএস (BDS) এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পরীক্ষার্থীরা ফের একটি ন্যায্য সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর বহু পড়ুয়া মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা এবং অল্প সময়ের মধ্যে ফের প্রস্তুতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার পরীক্ষার দিকে গোটা দেশের নজর থাকবে, কারণ এই পরীক্ষা শুধু ভর্তি-পর্ব নয়, এনটিএ-র বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক শিক্ষা বিশ্লেষকের কথায়, “এই পুনঃপরীক্ষা শুধুমাত্র আরেকটি পরীক্ষা নয়, বরং পরীক্ষাব্যবস্থার উপর ছাত্রদের আস্থা ফেরানোর পরীক্ষা।”

    শুধুমাত্র সরকারি তথ্যেই ভরসা করার পরামর্শ

    এনটিএ তাদের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) সংক্রান্ত সমস্ত আপডেট শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকেই দেখতে হবে। পরীক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা অন্যান্য মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও যাচাইহীন তথ্য থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন থাকলে এনটিএ-র হেল্পলাইন নম্বর ০১১-৪০৭৫৯০০০ এবং ০১১-৬৯২২৭৭০০-এ যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়াও neet-ug@nta.ac.in আইডিতে ইমেল আইডিতে প্রশ্ন পাঠানো যাবে।

    এবার আরও কড়া নিরাপত্তা?

    প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর ২১ জুনের পুনরায় পরীক্ষায় নিরাপত্তা অনেক বেশি কড়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, পরীক্ষাকেন্দ্রে উন্নত ডিজিটাল নজরদারি, শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা, গোপন নথি পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল চালু হতে পারে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

    নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন সুযোগ

    লক্ষাধিক নিট পরীক্ষার্থীর কাছে ২১ জুন এখন শুধুই আরেকটি পরীক্ষার দিন নয়—এটি নতুন করে লড়াই শুরু করার দিন। কয়েক সপ্তাহের বিতর্ক, হতাশা এবং উদ্বেগের পর আবারও প্রস্তুতিতে ফিরতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। এখন সকলের একটাই আশা—এইবারের নিট পরীক্ষা যেন কোনও বিতর্ক ছাড়াই, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।

  • Jyotipriya Mallick: পদত্যাগে নারাজ! উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল জ্যোতিপ্রিয়ের কন্যাকে

    Jyotipriya Mallick: পদত্যাগে নারাজ! উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল জ্যোতিপ্রিয়ের কন্যাকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর এবার পদ গেল বালু-কন্যার। তৃণমূল আমলে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী। বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে। স্কুল শিক্ষা দফতরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে কার্যকরী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে ওয়েস্ট বেঙ্গল কাউন্সিল অফ হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশনের সচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।

    কী বলা হল সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে

    সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলের পর তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। এরপরই শিক্ষা দফতর সরাসরি তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রশাসনিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রিয়দর্শিনীকে তাঁর মূল পদ অর্থাৎ কলকাতার আশুতোষ কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের ডেপুটি সেক্রেটারির স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে। পাশাপাশি কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশন, ডিপিআই এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    রেশন দুর্নীতিতেও জড়িয়েছিল প্রিয়দর্শিনীর নাম

    বৃহস্পতিবার সকালে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের সময়ও তাঁকে স্বমহিমায় দেখা গিয়েছে সাংবাদিক বৈঠকে। আর এদিন বিকেলেই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল প্রিয়দর্শিনীকে। জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টের সময় তাঁকে তলব করা হয়েছিল বিকাশ ভবনে। সেখানেই তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে রেশন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই সময় বাবার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন প্রিয়দর্শিনী। পরে ইডি-র তদন্তে প্রিয়দর্শিনীর নামও সামনে আসতে শুরু করে। ইডি দাবি করে, যে সব ভুয়ো সংস্থায় লেনদেন হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে ডিরেক্টর হিসেবে নাম ছিল প্রিয়দর্শিনীর। যদিও তল্লাশি চালানোর সময় ওই বিষয়ে কিছু জানেন না বলেই উল্লেখ করেছিলেন তিনি। রেশন দুর্নীতিতে ইডি যে তদন্ত শুরু করে, তার সূত্র ধরেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল, টিউশন পড়িয়ে কীভাবে ৩.৩৭ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন প্রিয়দর্শিনী। তাঁকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে সচিব পদে বসানো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সেই সময়ও। আর এবার পদ থেকে সরানো হল তাঁকে।

  • Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠে পৌঁছনোর আগেই নিঃশব্দে শরীরে প্রবেশ করছে। গড়ে প্রতি ৩ জন ভারতীয়দের মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। আবার বহু মানুষ জানতেও পারেন না, তার শরীরে নিরবে এই সমস্যা বাসা বেঁধেছে। তাই সতর্কতাও অবলম্বন করতে পারেন না। ভারতীয়দের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে উঠছে হাইপারটেনশন (High Blood Pressure)। ১৭ মে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে (World Hypertension Day)। ভারতীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাইপারটেনশনকে ভারতীয়দের ‘নিরব ঘাতক’ বলেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়স থেকেই ভারতীয়রা এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আর হৃদরোগ, স্ট্রোক সহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই হাইপারটেনশন (Hypertension) ভারতের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে।

    কোন বয়সে বিপদ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণত পঞ্চাশ বছরের পরে হাইপারটেনশনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। কিন্তু ভারতের চল্লিশের আশপাশেই এই সমস্যা বাড়ছে। ভারতীয়দের জীবন যাপনের ধরনের জন্য এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ নুন এবং তেল খাওয়া, বাড়তি ওজন এবং অনিদ্রা সমস্যা বাড়াচ্ছে। এছাড়াও হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ হলো মানসিক চাপ এবং অবসাদ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে প্রচন্ড মানসিক চাপ এবং অবসাদের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে অনিদ্রা এবং হাইপারটেনশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ কী?

    অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সবকিছুই জীবন যাপনের ধরনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ মানুষের খাদ্যাভাস অস্বাস্থ্যকর। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়। এই খাবারে একাধিক ক্ষতিকারক রাসায়নিকের পাশাপাশি থাকছে অতিরিক্ত নুন। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়রা গড়ে প্রতিদিন ৫ গ্রাম অতিরিক্ত নুন খায়। এই বাড়তি নুন হাইপারটেনশনের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ভারতীয়দের একাংশ অতিরিক্ত চটজলদি খাবার খাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শারীরিক কসরত করছে না। তাই দেহের ওজন বাড়ছে। এই অতিরিক্ত ওজনের জেরে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    অনিদ্রা, জীবনে জটিলতা, মদ্যপান এবং ধূমপান

    এছাড়া ভারতীয়দের বড় অংশ অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। তাই হাইপারটেনশনের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরে রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় থাকে না। তাই হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ অনিদ্রা। এছাড়াও পেশাগত জীবনের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা বাড়ছে। এর ফলেও হাইপারটেনশনের সমস্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ মদ্যপান এবং ধূমপানে আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্যান্সার এবং একাধিক সংক্রামক রোগের কারণ হওয়ার পাশপাশি হাইপারটেনশনে আক্রান্ত হওয়ার কারণ। তাই এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

    কেন হাইপারটেনশন উদ্বেগজনক সমস্যা? কেন একে নিরব ঘাতক বলা হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় জানেন না তিনি হাইপারটেনশন আক্রান্ত কিনা। নিয়মিত অধিকাংশ ভারতীয় রক্তচাপ মাপেন না। এর ফলে শরীরে এই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই এই রোগকে নিরব ঘাতক বলা যেতে পারে। এই সমস্যা থাকলে স্ট্রোক এবং হৃদরোগের জটিলতা বাড়তে পারে। ভারতে হঠাৎ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক। আর এই হার্ট অ্যাটাকের নেপথ্যে রয়েছে হাইপারটেনশন। রক্তচাপের ভারসাম্য না থাকলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে স্ট্রোকের দাপট দেখা দিচ্ছে। স্ট্রোকের ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। কর্ম ক্ষমতা কমছে। আবার প্রাণ সংশয় হচ্ছে। তাই এই রোগ রুখতে হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা কমানো দরকার। হাইপারটেনশন বন্ধ্যাত্ব এবং অন্যান্য হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি করে।

    কী পরামর্শ চিকিৎসকদের?

    এই বিপদ কমাতে চিকিৎসকদের পরামর্শ, অতিরিক্ত নুন খাওয়া কমানো জরুরি। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চটজলদি খাওয়া কমালেই বাড়তি নুন খাওয়ার প্রবণতা কমবে। তাছাড়া নিয়মিত শরীরিক কসরত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে। এগুলো হাইপারটেনশন রুখতে সাহায্য করে। ঘুম নিয়েও সচেতনতা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম একাধিক রোগ রুখতে সাহায্য করে। অনিদ্রা হাইপারটেনশনের নেপথ্যে কাজ করে। তাই অনিদ্রার সমস্যা কমলে হাইপারটেনশনের ঝুঁকিও কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • BRICS Meet 2026:  দিল্লিতে মোদি-লাভরভ-আরাঘচি সাক্ষাৎ, যুদ্ধের আবহে ব্রিকস মঞ্চে বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব

    BRICS Meet 2026: দিল্লিতে মোদি-লাভরভ-আরাঘচি সাক্ষাৎ, যুদ্ধের আবহে ব্রিকস মঞ্চে বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহেই দিল্লিতে শুরু হলো ব্রিকস (BRICS Meet 2026) গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলির দুই দিনের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। তবে সব ছাপিয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে হয়ে উঠল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সঙ্গে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লেভরভ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ (PM Modi meets Araghchi and Lavrov)। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম দুই শক্তিশালী বন্ধু দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মোদির এই বৈঠক আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, এই দুই দেশের সঙ্গেই ‘আদায়-কাঁচকলায়’ সম্পর্ক আমেরিকার।

    লাভরভের সঙ্গে পৃথক বৈঠক মোদির

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ব্রিকসের (BRICS Meet 2026)  সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ভারত। এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে ভারত ব্রিকসের নেতৃত্ব দিয়েছিল। ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের রূপরেখা তৈরি এবং সম্প্রসারিত ব্রিকস গোষ্ঠীর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতেই এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পরে এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের “বিশেষ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব”-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাতের সমাধানের পক্ষে ভারতের অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    ইরান-সহ অন্যান্য দেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত

    ইরানের বিদেশমন্ত্রী বুধবার গভীর রাতে দিল্লি পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার মোদির সঙ্গে দেখা করেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই ভারতের সঙ্গে প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক ইরানের।চলতি বছর ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। ১৪ ও ১৫ মে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রিকস দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে যোগ দিতেই রাশিয়া, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং ইন্দোনেশিয়ার বিদেশমন্ত্রীরা ভারতে এসেছেন। এদিন রুশ ও ইরান ছাড়াও অন্য দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে সমবেতভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ‘ব্রিকস ফ্যামিলি ফোটো’-তেও অংশ নেন।

    আমেরিকার বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা

    বৃহস্পতিবার সম্মেলনের (BRICS Meet 2026) প্রথম দিনেই নিজের ভাষণে আমেরিকার বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি মার্কিন নীতিকে ‘গুন্ডামি’ বলে অভিহিত করেন। আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ বিশ্ববাসীর অজানা নয়। এই কক্ষে উপস্থিত অনেকেই একইভাবে ঘৃণ্য জবরদস্তির শিকার হয়েছেন।” অন্যান্য দেশের প্রতি তাঁর আহ্বান, একজোট হয়ে মার্কিন আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। আরাঘচির কথায়, “এখনই সময় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে এসে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার যে, এই ধরনের নীতি ইতিহাসের আবর্জনার স্তূপেই জায়গা পাবে।” পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা অস্থিরতা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু দেশ হয়ত মনে করে বেপরোয়া সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে আঞ্চলিক অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত সকল পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।

    আঞ্চলিক অস্থিরতা সবার জন্যই ক্ষতির

    আরাঘচি বলেন, “যাঁরা বেপরোয়া অভিযানে নামছেন, তাঁরা হয়তো ভাবছেন এতে তাঁদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং সরকারগুলি এখন বুঝতে পারছে যে, আঞ্চলিক অস্থিরতা সবার জন্যই ক্ষতির— এমনকি আগ্রাসনকারীদের জন্যও।”আরও এক তীব্র মন্তব্যে তিনি বলেন, ইতিহাস দেখিয়েছে পতনের মুখে থাকা সাম্রাজ্যগুলি নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তাঁর ভাষায়, “ইতিহাস সাক্ষী, পতনশীল সাম্রাজ্য নিজেদের অনিবার্য পরিণতি ঠেকাতে সবকিছু করতে পারে। আহত পশু যেমন শেষ মুহূর্তে মরিয়া হয়ে থাবা মারে ও গর্জন করে, তেমনই আচরণ করে তারা।” যদিও ব্রিকস এখনও এই যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি কোনও কড়া বার্তা দেয়নি, তবে তেহরান চাইছে এই জোট যেন পশ্চিমী আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়।

    দিল্লি মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সুপ্রাচীন সম্পর্ক

    ব্রিকসের (BRICS Summit 2026) মূল অনুষ্ঠানের ফাঁকে মোদি, রুশ ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেন। ভারতের এই সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পশ্চিমী চাপ থাকা সত্ত্বেও দিল্লি মস্কো ও তেহরানের সঙ্গে তার সুপ্রাচীন সম্পর্ক রক্ষায় অনড়। যুদ্ধের অস্থিরতার মাঝে দিল্লিতে এই মেগা বৈঠক প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা আরও জোরালো হচ্ছে। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, অন্যদিকে ইরান-রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব— এই দুইয়ের ভারসাম্যে ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে চলাই শ্রেয় বলে মনে করছে, অভিমত কূটনীতিকদের। ব্রিকস বৈঠকে সদস্য দেশগুলির শীর্ষ কূটনীতিকরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন।

  • Vaibhav Sooryavanshi: সচিনের রেকর্ড ভাঙার হাতছানি, ভারত ‘এ’ দলে সুযোগ পেলেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী

    Vaibhav Sooryavanshi: সচিনের রেকর্ড ভাঙার হাতছানি, ভারত ‘এ’ দলে সুযোগ পেলেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটের উদীয়মান নক্ষত্র বৈভব সূর্যবংশীর (Vaibhav Sooryavanshi) মুকুটে যুক্ত হল নতুন পালক। অনূর্ধ্ব-১৯ ও এমার্জিং দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার বড়দের ক্রিকেটে পা রাখলেন ১৫ বছর বয়সি এই বাঁহাতি ওপেনার। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে নজরকাড়া ব্যাটিংয়ের পুরস্কার হিসেবে তাঁকে ভারত ‘এ’ (India A Team) দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    আইপিএলের বিধ্বংসী ফর্ম ও জাতীয় দলের হাতছানি (Vaibhav Sooryavanshi)

    চলতি আইপিএলে রাজস্থানের জার্সি গায়ে বৈভবের (Vaibhav Sooryavanshi) ব্যাটে রানের বন্যা বয়ে গিয়েছে। মাত্র ১১ ম্যাচে ৪০ গড় এবং ২৩৬.৫৫-এর অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেটে তিনি ৪৪০ রান সংগ্রহ করেছেন। টুর্নামেন্টে একটি শতরান (১০৩ রান) ও দুটি অর্ধশতরান করে কমলা টুপির লড়াইয়েও প্রথম সারিতে রয়েছেন তিনি। বৈভবের (India A Team) এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলী দেখে বিশেষজ্ঞরা এখনই তাঁকে ভারতীয় জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ সম্পদ হিসেবে গণ্য করছেন।

    তিলক বর্মার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা সফর

    আগামী জুন মাসে শ্রীলঙ্কার মাটিতে একটি ত্রিদেশীয় এক দিনের সিরিজ খেলতে যাবে ভারত ‘এ’ দল। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের পাশাপাশি এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে আফগানিস্তান। তিলক বর্মার নেতৃত্বাধীন ১৫ জনের এই দলে বৈভবকে (India A Team) সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া এই সিরিজ চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এরপর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুটি চার দিনের ম্যাচও খেলবে ভারত, যার দল পরে ঘোষণা করা হবে।

    সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড কি বিপন্ন?

    ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, ভারত ‘এ’ দলের হয়ে এই সফরে বৈভব (Vaibhav Sooryavanshi) যদি নিজের ফর্ম বজায় রাখতে পারেন, তবে খুব দ্রুতই জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর অভিষেক হতে পারে। আর তেমনটা হলে কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভেঙে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় ক্রিকেটার (India A Team) হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদার্পণ করবেন তিনি।

    অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক

    উল্লেখ্য, চলতি বছরে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ে বৈভবের (Vaibhav Sooryavanshi) অবদান ছিল অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে তাঁর ১৭৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে। সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এবার শ্রীলঙ্কার চ্যালেঞ্জ সামলাতে প্রস্তুত বিহারের এই তরুণ তুর্কি।

    ভারত ‘এ’ স্কোয়াড

    ভারত এ স্কোয়াড টিমে রয়েছে (India A Team) তিলক বর্মা (অধিনায়ক), রিয়ান পরাগ (সহ-অধিনায়ক), প্রিয়াংশ আর্য, বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ বদোনি, নিশান্ত সিন্ধু, হর্ষ দুবে, সূর্যাংশ শেরগে, প্রভসিমরন সিংহ (উইকেটরক্ষক), কুমার কুশাগ্র (উইকেটরক্ষক), বিপরাজ নিগম, যশ ঠাকুর, যুদ্ধবীর সিংহ, অংশুল কম্বোজ ও আরশাদ খান।

  • BJP Government: বাঙালির পাতে পাঁচ টাকায় মাছ-ভাত, নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে মাস্টারস্ট্রোক রাজ্য বিজেপির

    BJP Government: বাঙালির পাতে পাঁচ টাকায় মাছ-ভাত, নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে মাস্টারস্ট্রোক রাজ্য বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাঙালির চিরন্তন ‘মাছ-ভাত’ (Fish and Rice Meal)। তৃণমূলের মতো বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে বিজেপি-কে ‘বাঙালি সংস্কৃতি বিরোধী’ এবং ‘নিরামিষাশী দল’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর এক অভাবনীয় প্রকল্পের মাধ্যমে তার যোগ্য জবাব দিল বর্তমান রাজ্য সরকার (BJP Government)। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি, এবার মাত্র ৫ টাকায় সাধারণ মানুষের থালায় মিলবে মাছ-ভাত। সরকারের এই ঘোষণায় খুশির হাওয়া রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে।

    অপপ্রচারের অবসান ও পাল্টা কৌশল (BJP Government)

    রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “মা ক্যান্টিন প্রকল্পেও বড় বদল ঘটবে। এখন যেখানে ডিম-ভাত দেওয়া হয়, সেখানে ভবিষ্যতে মাছ-ভাতও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ৫ টাকায় খাবারের সুবিধা আগের মতোই থাকবে।”

    নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে, বিজেপি (BJP Government) ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে (Fish and Rice Meal) হস্তক্ষেপ করা হবে এবং মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে হাতিয়ার করে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি না বোঝার অভিযোগও তোলা হয়েছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্ব প্রথম থেকেই এই অভিযোগকে খণ্ডন করে আসছিল। নির্বাচনী লড়াই চলাকালীন অনুরাগ ঠাকুর থেকে শুরু করে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বা ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনের মতো নেতাদের মাছ-ভাত খাওয়ার ছবি ও ভিডিও জনমানসে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল।

    মাছ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা ও তাপস রায়ের দাবি

    খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (BJP Government) নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের মৎস্য (Fish and Rice Meal) সংকটের বিষয়ে। তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল সরকার মাছের মতো একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে এবং বাংলাকে ভিনরাজ্যের মাছের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। অন্যদিকে, তাপস রায়ের মতো নেতারা দাবি করেছিলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের পাতের মাছ ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠেছিল।

    ৫ টাকায় মাছ-ভাত: অবিশ্বাস্য বাস্তবায়ন

    সাধারণত বাজারে এক থালা মাছ-ভাতের (Fish and Rice Meal) দাম যেখানে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার নিচে নয়, সেখানে মাত্র ৫ টাকায় এই আহার পরিবেশন করার সিদ্ধান্তকে একটি বড় ধরনের জনকল্যাণমূলক বিপ্লব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যও একাধিকবার তাঁর বক্তব্যে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের অধিকারকে সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকারের (BJP Government) এই নয়া পরিকল্পনা সেই প্রতিশ্রুতি পালনেরই এক বাস্তব প্রতিফলন।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ টাকায় মাছ-ভাত দেওয়ার এই পদক্ষেপ কেবল একটি কল্যাণমূলক প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও। এর মাধ্যমে বিজেপি (BJP Government) প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রাকে আরও সহজলভ্য করতে বদ্ধপরিকর। মাছ-মাংস (Fish and Rice Meal) বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ভ্রান্ত ধারণাকে সমূলে বিনাশ করে এই প্রকল্প এখন রাজ্যবাসীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

    বাঙালির রসনাতৃপ্তির এই নজিরবিহীন উদ্যোগ আগামী দিনে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

  • Speaker in Bengal Assembly: শুক্রবার নির্বাচন! দলের স্পিকার পদপ্রার্থী হিসেবে রথীন্দ্রনাথ বসুকে বেছে নিল বিজেপি

    Speaker in Bengal Assembly: শুক্রবার নির্বাচন! দলের স্পিকার পদপ্রার্থী হিসেবে রথীন্দ্রনাথ বসুকে বেছে নিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভার স্পিকার হচ্ছেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু (Rathindra Bose)। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম স্পিকার (Speaker in Bengal Assembly) হচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নাম জানান। এ দিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘রাজ্য সভাপতি-সহ বিধায়ক দলের সকলের সঙ্গে পরামর্শ করে জাতীয় সভাপতির অনুমোদন নিয়ে আমরা দলের অত্যন্ত বলিষ্ঠ, নিষ্ঠাবান নেতা রথীন্দ্র বসুকে স্পিকার পদের জন্য মনোনীত করেছি। এই পদ চালানোর জন্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও উচ্চ শিক্ষার দরকার। তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। আগামিকাল সকাল ১১টায় স্পিকার নির্বাচন হবে।’

    শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন

    শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার (Speaker in Bengal Assembly) নির্বাচন হবে। বিরোধী দলগুলি এই নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে সংখ্যার নিরিখে স্পিকার নির্বাচনে বিজেপির জয় কার্যত নিশ্চিত। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অষ্টাদশ বিধানসভার অধ্যক্ষ বা স্পিকার পদপ্রার্থী হিসাবে রথীন্দ্র বসুকে মনোনীত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আমার স্থির বিশ্বাস, তিনি (রথীন্দ্র) সর্বসম্মতিক্রমে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মাননীয় অধ্যক্ষ হিসাবে নির্বাচিত হবেন।” বিজেপির স্পিকার পদপ্রার্থী হিসাবে মনোনীত হওয়ার পর রথীন্দ্র বলেন, “দল যা দায়িত্ব দিয়েছে, তা পালন করব। প্রয়োজনে বিধানসভার অভিজ্ঞ সদস্যদের পরামর্শ নেব।” বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য বিজেপি বিধায়কদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন রথীন্দ্র। মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন রাজ্যে সংগঠনের ভরকেন্দ্র উত্তরবঙ্গের কথা মাথায় রেখেই স্পিকার বেছে নিল বিজেপি।

    প্রথা ভাঙছে বিজেপি

    প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, রথীন্দ্র (Rathindra Bose) পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। দীর্ঘ দিন তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিককে ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। রথীন্দ্র প্রথম বারের বিধায়ক। তৃণমূল আমলে রাজ্য বিধানসভার স্পিকার ছিলেন বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বারও ওই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বাম আমলে বিধানসভার স্পিকার হয়েছিলেন যথাক্রমে সৈয়দ আব্দুল মনসুর হবিবুল্লাহ এবং হাসিম আব্দুল হালিম। সাধারণত স্পিকার হিসাবে আইনজ্ঞ বা পেশায় আইনজীবী কাউকেই মনোনীত করে রাজনৈতিক দলগুলি। সেই হিসাবে এ বার অলিখিত এই প্রথা ভাঙতে চলেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে স্পিকার নির্বাচিত হতে চলেছেন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রথীন্দ্রই।

  • Araghchi in India: হরমুজ থেকে চাবাহার, ব্রিকস বৈঠকে ভারতের গুরুত্ব বাড়াল ইরানের বিশেষ বার্তা

    Araghchi in India: হরমুজ থেকে চাবাহার, ব্রিকস বৈঠকে ভারতের গুরুত্ব বাড়াল ইরানের বিশেষ বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও একবার সামনে এল। ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে এসেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তাঁর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান-ইজরায়েল সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর শুধু একটি বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ নয়, বরং ভারতের প্রতি ইরানের কৌশলগত বার্তা বহন করছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও মেরুকরণের আবহেও ভারত যে তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বজায় রাখা পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, তা প্রকাশ্যেই প্রশংসা করেছে তেহরান।

    ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ঘনীভূত হওয়ার পর বহু দেশকে একপক্ষ বেছে নেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু ভারত এখনও পর্যন্ত কোনও সংঘাতে সরাসরি পক্ষ না নিয়ে কূটনৈতিক সংলাপ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার নীতিতে অটল রয়েছে। ইরান এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে অতিরিক্ত ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সামুদ্রিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমানো, পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও ভারত-ইরান কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    কেন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ করিডর হল হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহণের বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথের মাধ্যমে হয়। ভারতের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই রুট দিয়েই আসে। ফলে হরমুজে কোনও অস্থিরতা দেখা দিলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে—

    আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামে

    • ● ভারতের জ্বালানি ব্যয়ে
    • ● শিপিং খরচে
    • ● সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি স্থিতিশীলতায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই আশ্বাস ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    চাবাহার বন্দর নিয়ে ফের জোর ভারত-ইরান সম্পর্কে

    বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল চাবাহার বন্দর প্রকল্প। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই বন্দরকে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে দেখছে।

    চাবাহারের মাধ্যমে ভারত—

    • ● পাকিস্তানকে বাইপাস করে আফগানিস্তানে প্রবেশাধিকার পায়
    • ● মধ্য এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বাজারের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে পারে
    • ● আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডর শক্তিশালী করতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও চাবাহার নিয়ে ভারত-ইরান সহযোগিতা অব্যাহত থাকা প্রমাণ করে যে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী।

    একদিকে ইরান, অন্যদিকে ইউএই—ভারতের ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’ কৌশল

    ভারত বর্তমানে শুধু ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে না, একইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), সৌদি আরব-সহ উপসাগরীয় শক্তিগুলির সঙ্গেও কৌশলগত ও জ্বালানি সম্পর্ক জোরদার করছে। নয়াদিল্লি খুব সচেতনভাবে এমন এক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে কোনও এক ব্লকের উপর নির্ভরশীল না হয়ে একাধিক শক্তির সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক রক্ষা করা হচ্ছে। কূটনীতিকদের মতে, ভারতের এই বহুমুখী কৌশলের মূল লক্ষ্য—

    • ● দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
    • ● গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট সুরক্ষিত রাখা
    • ● আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়ে কৌশলগত সুবিধা ধরে রাখা
    • ● ব্রিকস মঞ্চে ভারতের বাড়তি প্রভাব

    ভারত এখন স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী কূটনৈতিক শক্তি

    বিশ্ব রাজনীতিতে যখন আমেরিকা, চিন, রাশিয়া-সহ বড় শক্তিগুলির প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, তখন ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কৌশলগত পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক স্পষ্ট করেছে যে ভারত এখন শুধু দক্ষিণ এশিয়ার শক্তি নয়, বরং পশ্চিম এশিয়া ও ইউরেশিয়ার ভূরাজনীতিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর এই সফর আরও একবার তুলে ধরল, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় ভারতকে ক্রমশ একটি স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে—যে দেশ একইসঙ্গে সংলাপ, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

LinkedIn
Share