Taratala Godown Collapse: ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ! তারাতলায় একটি কারখানার লোহার ছাদ ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

taratala godown collapse rescue operation going on

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তারাতলায় একটি কারখানার (Taratala Godown Collapse) শেড ভেঙে বিপত্তি। ভেঙে পড়ে লোহার বিম, টিন। আহত হয়েছেন একাধিক। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারোর হাত থেঁতলে গিয়েছে, কারোর মাথা। অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। অসমর্থিত সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪০-৪৫ জন ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে খবর। সূত্রের দাবি, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান।

কেন ভেঙে পড়ল এই গোডাউন?

প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, লোহার বীম বা পিলারের ধারণ ক্ষমতা ছিল না। বিপুল পরিমাণ কংক্রিটের ঢালাই ধরে রাখা বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। টিনের উপর কংক্রিটের ঢালাই করে তৈরি হচ্ছিল এই গোডাউনের ছাদ। সেটি উপরে থেকে সরাসরি নেমে দুমড়ে ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। লোহার বীমের উপর এই ঢালাই চাপানো হয়েছিল, তা ভার বহন করতে পারেনি। তাই দুমড়ে নীচে ঢুকে এসেছে। যাঁরা নীচে ছিলেন, তাঁদের চাপা দিয়ে দিয়েছে সেটি। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাকেশ সিং। তিনি বলেন, “পোর্ট ট্রাস্ট চেয়ারম্যান থেকে লিজ নিয়েছিলেন শম্ভু বেরা বলে একজন। কী বানানো হচ্ছিল, কী সিকিউরিটি ছিল, সেটা জানি না। তবে ৫০-৬০ জন শ্রমিক এর মধ্যে রয়েছেন।”

কাদের অনুমতিতে বেআইনি নির্মাণ?

স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজে দেওয়া হয়েছে। গুদামের ঠিকাদারও ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে খবর। কয়েক হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই গুদামের ভিতরে একটি জায়গায় ছিল শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা। এদিকে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ চলেছে। অবিলম্বে ঠিকাদার সংস্থার কর্তাকে গ্রেফতার করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। ইঞ্জিনিয়াররাও জানাচ্ছেন, এভাবে নির্মাণ করার ক্ষেত্রে কার অনুমোদন ছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত।

তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘাড়ধাক্কা

দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ, রয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তৃণমূল কাউন্সিলর সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, দেড় বছর ধরে নির্মাণকাজ চলছিল। আর তাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার খান ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলে একাংশের দাবি।

কাঠামোর নীচ থেকে মানুষের আর্তনাদ

তারাতলায় (Taratala Godown Collapse) ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর আটকে রয়েছেন এখনও বেশ কয়েক জন। তাঁরা সংখ্যায় কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গুদামের লোহা এবং কংক্রিটের কাঠামোর নীচ থেকে এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনা। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে তারা। আগে থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন দমকল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল বা এনডিআরএফ-এর সদস্যেরা। উদ্ধারকাজে গতি আনতে একাধিক ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে পারে, এমন হাইড্রোলিক ক্রেনও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ক্রেনের সাহায্যে ভেঙে পড়া কাঠামোটিকে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে সেটি নতুন করে আর ধসে যেতে না পারে। ড্রোন উড়িয়ে চলছে উদ্ধারকাজ।

দ্রুতগতিতে চলছে উদ্ধার

প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, গুদামটি প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকার উপর ছিল। মূল কাঠামোটির ভিতর কোনও দেওয়াল বা আলাদা কক্ষ না-থাকায় গোটা অংশটাই এক সঙ্গে ভেঙে পড়ে। প্রথমে ভেঙে পড়া কাঠামোর পিছন দিকে একটি জায়গা দিয়ে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তার পর হাইড্রলিক মই বেয়ে উপরে উঠেও ভিতরে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঢালাইয়ের পুরু স্তর এবং লোহার বিম ভেদ করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়। তবে কিছু অংশ ছিদ্র করে ভিতরে হাওয়া চলাচলের বন্দোবস্ত করা হয়। ভিতরে আটকদের চিহ্নিত করতেও কিছুটা সুবিধা হয়।

নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম 

এখনও পর্যন্ত ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের গুরুতর জখম অবস্থায় পাঠানো হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। বাকিদের সন্ধানে স্নিফার ডগ নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে বড় জেনারেটর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাতেও উদ্ধারকাজ চলতে পারে, এমনটা ধরে নিয়েই বিদ্যুতের জোগানের বন্দোবস্ত করে রাখছেন উদ্ধারকারীরা। ঘটনাস্থলে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। রয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই যাতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়, সময় যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত। নবান্নের তরফে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বরও (1070, 8697981070, 033 22143526 এবং 033 22535185)। মুখ্যমন্ত্রী গোটা ঘটনার উপর নজর রাখছেন।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share