Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • India Missile Launch: অনামী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত, আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ দেখে তোলপাড় বাংলাদেশে

    India Missile Launch: অনামী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল ভারত, আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ দেখে তোলপাড় বাংলাদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) শুক্রবার সন্ধ্যায় ওড়িশা উপকূল থেকে একটি পরমাণু অস্ত্রবহন সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) শ্রেণির মিসাইলের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ডিআরডিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার ঘোষণা করেনি, তবে এক প্রতিরক্ষা সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, “এই উৎক্ষেপণটি দেখতে অগ্নি-৬ মিসাইলের মতো না হলেও, আজ যে ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটি আইসিবিএম ক্যাটেগরির।”

    এলিট গ্রুপে ভারত…

    কয়েকদিন আগেই জাতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, ডিআরডিও খুব শীঘ্রই আইসিবিএম শ্রেণির একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে চলেছে। শুক্রবারের উৎক্ষেপণের পর সেই জল্পনাই আরও জোরালো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশই আইসিবিএম প্রযুক্তির অধিকারী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ১২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার আইসিবিএম রয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের কাছে রয়েছে কার্যকরী পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (SLBM) প্রযুক্তি। ভারত যদি সফলভাবে আইসিবিএম প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে বিশ্বের যে কোনও দেশ, এমনকি আমেরিকাও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে আসবে।

    অগ্নি-৬ ঘিরে ভারতে কৌতুহল তুঙ্গে

    এই উৎক্ষেপণের কয়েকদিন আগেই ডিআরডিও চেয়ারম্যান সমীর ভি কামাথ এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে অগ্নি-৬ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “সরকার অনুমতি দিলেই আমরা এগোতে প্রস্তুত। সমস্ত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ।” অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে বিজেপি তাদের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানায়, “অগ্নি-৬: ভারত সুপারপাওয়ার হওয়ার পথে! ১০,০০০+ কিমি স্ট্রাইক রেঞ্জ এবং মার্ভ প্রযুক্তি সহ অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত।” পাশাপাশি একটি ভিডিও-ও পোস্ট করা হয়, যেখানে বলা হয়, “এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি দেশের হাতে আইসিবিএম ক্ষমতা রয়েছে। ভারত খুব শীঘ্রই সেই শক্তিধর দেশগুলির তালিকায় জায়গা করে নিতে চলেছে।”

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ

    অগ্নি-৬ বা আইসিবিএম প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় কৌশলগত গুরুত্ব হল পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা। অর্থাৎ, কোনও দেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রথমে পরমাণু হামলা চালানোর আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হবে, কারণ ভারত পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। শুধু সামরিক শক্তির দিক থেকেই নয়, আইসিবিএম প্রযুক্তি আয়ত্ত করা মানে জটিল রকেট প্রপালশন, অত্যাধুনিক গাইডেন্স সিস্টেম, মাল্টিপল ইনডিপেনডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল (MIRV), এবং রি-এন্ট্রি প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ইতিমধ্যেই অগ্নি সিরিজের মাধ্যমে মধ্য ও দীর্ঘ পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছে। অগ্নি-৬ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষিত ও সফল ঘোষণা করা হয়, তাহলে তা ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

    বাংলাদেশের আকাশে ‘রহস্যময় আলো’ 

    বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের এই পরীক্ষা, গোটা অঞ্চলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে। এই পরীক্ষা দেখা গিয়েছে। অনেকেই মোবাইলে সেই ছবি তুলে ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেন। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম)। কক্সবাজার থেকে নোয়াখালি— ৮ মে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সন্ধ্যার আকাশে একটি ‘রহস্যময় আলো’ দেখা যায়। অনেকেই দাবি করেন, এটি মিসাইল। এই আবহে সেই মিসাইলটি অগ্নি ৬ কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

    মিসাইলের ধরণ নিয়ে নীরব ভারত

    ডিআরডিওর তরফে সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রকৃত পরিচয়, রেঞ্জ এবং প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় থাকছে। তবে বঙ্গোপসাগরে আগে থেকেই নোটাম জারি করে রেখেছিল ভারত। রিপোর্ট অনুযায়ী, মিসাইলের পরীক্ষা চালাতে ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ভারত। এই আবহে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— এটাই কি অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম গোপন পরীক্ষা, না হাইপারসনিক গ্লাইড ক্ষেপণাস্ত্র, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনও আইসিবিএম প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ? সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করেনি ভারত। আর এই কৌশলগত নীরবতাই সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত এটি একটি নিয়মিত কৌশলগত সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষাও হতে পারে, কিন্তু তার আগেই আন্তর্জাতিক মহলে তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

    পরীক্ষা ঘিরে তুমুল জল্পনা

    বিশেষ করে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অংশ থেকে উৎক্ষেপণটি দৃশ্যমান হওয়ায় এই পরীক্ষার বার্তাবাহী গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষের নজরে আসার ফলে একটি প্রযুক্তিগত সামরিক ঘটনাই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ফলে এটি শুধু প্রতিরক্ষা মহলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং জনপরিসরেও ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত প্রতিরোধক্ষমতার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সক্ষমতা অর্জনই যথেষ্ট নয়। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে সেই সক্ষমতা বাস্তব সময়ে উপলব্ধি করানো এবং তার বার্তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই সাম্প্রতিক উৎক্ষেপণের দৃশ্যমানতা ও তা ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা কৌশলগত দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • PM Modi Tribute to Rabindranath Tagore: শুভেন্দুর শপথগ্রহণের মঞ্চে কবিগুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মোদির, রবীন্দ্র জয়ন্তীতে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    PM Modi Tribute to Rabindranath Tagore: শুভেন্দুর শপথগ্রহণের মঞ্চে কবিগুরুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মোদির, রবীন্দ্র জয়ন্তীতে কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঁচিশে বৈশাখ কবিগুরুর জন্মবার্ষিকীর দিন ব্রিগেডে বিশাল মঞ্চ করে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ কেন্দ্রের ও দেশের তাবড় তাবড় নেতৃবৃন্দ। রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন শপথগ্রহণ, তাই মঞ্চের একদিকে বসানো হয়েছিল কবিগুরুর বিশাল ছবি। ব্রিগেডে উপস্থিত হয়েই প্রথমে এদিন তাই শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীতে বিশ্বকবির ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শ্রদ্ধা জানান শুভেন্দু অধিকারীও।

    কবিগুরুর জন্মবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    এর আগে, এদিন সকালেও সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় কবিগুরুর বহুমুখী প্রতিভা এবং ভারতের আত্মিক জাগরণে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় কবিগুরুকে একাধারে কালজয়ী লেখক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লেখেন, ‘‘পঁচিশে বৈশাখের এই পুণ্য লগ্নে আমি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরণে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অসাধারণ মেধা ও মননশীল এক চিন্তাবিদ। ভারতের শাশ্বত সভ্যতার কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।’’ মোদি আরও উল্লেখ করেন যে, রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিতে একদিকে যেমন মানবহৃদয়ের নিগূঢ় অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে, তেমনই অন্যদিকে আমাদের সংস্কৃতির মহান আদর্শগুলো ফুটে উঠেছে। সমাজের চিন্তাধারায় নতুন প্রাণ সঞ্চার এবং সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কবিগুরুর অবদান অতুলনীয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে কবিগুরুকে স্মরণ করছি। তাঁর দর্শন ও আদর্শ আগামী দিনেও আমাদের পথ চলতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।’’

    বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে রবীন্দ্র জয়ন্তী

    আজ কেবল বাংলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে রবীন্দ্র জয়ন্তী। সেই আবহেই প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধার্ঘ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর মতো আবেগঘন সাংস্কৃতিক দিনকে কেন্দ্র করে বিজেপির এই বৃহৎ কর্মসূচি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধাজ্ঞাপন নয়, বরং নতুন সরকারের সূচনার আগে একটি শক্তিশালী জনসংযোগ কৌশলও। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে বেছে নেওয়ার মধ্যেও রয়েছে প্রতীকী গুরুত্ব—একদিকে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান, অন্যদিকে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র দখলের বার্তা।

    পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সুবিধাগুলি এবার দ্রুত বাস্তবায়িত হবে

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক ফলাফল করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির, অন্যদিকে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেমন আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, কৃষক কল্যাণ প্রকল্প-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় সুবিধা এবার পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মুহূর্তকে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বাম ও তৃণমূল শাসনের পর প্রথমবার রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পথে। এখন নজর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মন্ত্রিসভার দিকে—যা আগামী পাঁচ বছরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণ করবে।

  • Suvendu Adhikari: ‘সোনার বাংলার সূচনা’, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: ‘সোনার বাংলার সূচনা’, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা বাংলার ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা হল। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দুকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল আরএন রবি। শপথবাক্য পাঠের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর মুখেও চওড়া হাসি। পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। এর পরে একে একে রাজ্যপাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সহ মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি।

    শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন কারা

    এদিন শুভেন্দুর পর মন্ত্রী হিসবে একে একে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আরও পাঁচ জন বিধায়ক এদিন শপথ নেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে। যদিও এখনও কারও দফতর ঘোষণা হয়নি।

    শপথ অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী। ছিলেন নিতিন গড়কড়ি। তালিকায় রয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্দু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা এবং নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। এছাড়াও মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী খেম চন্দ সিং ও উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপজেনও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারী এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও ছিলেন। মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু।

    নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা কলকাতা

    অনুষ্ঠান উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে কলকাতাকে। প্রায় ৪০০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২০টি প্রবেশদ্বার তৈরি করা হয়েছে। তবে খুশির আবহাওয়ার মাঝেও উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি কর্মী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কর্মীদের আপাতত বিজয় মিছিল থেকে বিরত থেকে সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ থেকেই বাংলায় শুরু হচ্ছে এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়।

    শপথের সকালে শুভেন্দুর বার্তা

    এদিন শপথের সকালেই তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু লিখলেন ‘‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ভোর। আজ, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বপ্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন পূরণ করছি। আজকের দিনটি দশকের পর দশকের দুঃশাসনের অবসান এবং উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ যুগের সূচনা করল। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনার বাংলা’ যুগের সূচনা হল।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘এই ঐতিহাসিক রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রাখা অটল আস্থারই প্রমাণ। অঙ্গ-কলিঙ্গ-বঙ্গ অঞ্চল জুড়ে জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকারের পক্ষে নির্ণায়ক জনরায়ের মাধ্যমেই এখন বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। আমাদের কর্মীরা তাঁদের রক্ত ​​ও ঘাম দিয়ে এই বিজয়কে সিক্ত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই এটিকে সম্ভব করেছে। ভয়ের পরিবর্তে অগ্রগতিকে বেছে নেওয়ায় আমি পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে প্রণাম জানাই। আমরা একসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে পুনর্গঠন করব।’’

  • Indian Railways: বঙ্গে বিজেপি সরকার আসতেই বড় উপহার রেলের! রাজ্যে জোড়া প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত, বরাদ্দ ৮৯৫ কোটি

    Indian Railways: বঙ্গে বিজেপি সরকার আসতেই বড় উপহার রেলের! রাজ্যে জোড়া প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত, বরাদ্দ ৮৯৫ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই বড় ঘোষণা ভারতীয় রেলের। রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতা মেট্রো আপগ্রেড এবং পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য মোট ₹৮৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন দিল ভারতীয় রেল। এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের নগর পরিবহণ ও শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই বিনিয়োগের লক্ষ্য একদিকে কলকাতা মেট্রোর যাত্রী পরিষেবা উন্নত হবে, অন্যদিকে পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মালবাহী রুটকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তোলা হবে।

    কলকাতা মেট্রোর নর্থ-সাউথ করিডরে ৬৭১ কোটি বিনিয়োগ

    কলকাতা মেট্রোর ব্যস্ততম নর্থ-সাউথ করিডর আপগ্রেড করতে বরাদ্দ হয়েছে ৬৭১.৭২ কোটি। ১৯৮০-র দশকে তৈরি এই মেট্রো ব্যবস্থা মূলত ৫ মিনিট অন্তর ট্রেন চালানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। কিন্তু ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপের কারণে পরিকাঠামোর উপর চাপ বাড়তে বাড়তে একাধিক সাবস্টেশন প্রায় স্যাচুরেশন পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছিল। পুরনো যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা এবং স্পেয়ার পার্টসের অভাবও পরিষেবায় চাপ তৈরি করছিল।

    আপগ্রেড প্রকল্পে কী কী থাকছে?

    • ৭টি নতুন ট্র্যাকশন সাবস্টেশন তৈরিতে খরচ হবে ২৯১.০৬ কোটি
    • এসপ্ল্যানেড থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত অক্সিলিয়ারি ও ট্র্যাকশন সাবস্টেশন শক্তিশালীকরণ
    • বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ১১ কেভি থেকে ৩৩ কেভি-তে আপগ্রেড, ব্যয় ৩৮০.৬৬ কোটি
    • নেতাজি থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত উড়াল অংশের অতিরিক্ত স্ট্রাকচারাল শক্তিবৃদ্ধি

    যাত্রীদের কী সুবিধা হবে?

    প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে কলকাতা মেট্রোতে ট্রেন চলাচলের ব্যবধান কমে হবে আড়াই মিনিট। ফলে—

    • পিক আওয়ার বা ব্যস্ত সময়ে অপেক্ষা কমবে
    • ভিড়ের চাপ অনেকটাই হালকা হবে
    • পরিষেবা হবে আরও নির্ভরযোগ্য ও মসৃণ

    দৈনিক অফিসযাত্রীদের জন্য এটি বড় স্বস্তি বলে মনে করছেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা।

    আদ্রা ডিভিশনে ৫২০ নম্বর রেলসেতু পুনর্নির্মাণে ২২৩ কোটি

    মেট্রোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের মধুকুণ্ডা-দামোদর সেকশনে ৫২০ নম্বর রেলসেতুর আপ ও ডাউন লাইন পুনর্নির্মাণে বরাদ্দ হয়েছে ২২৩.৫৮ কোটি।

    এই প্রকল্পের আওতায়:

    • পুরনো সেতুর সম্পূর্ণ পুনর্গঠন হবে
    • ইয়ার্ড রিমডেলিং হবে
    • ট্র্যাক আপগ্রেডেশন হবে

    বর্তমান সেতুর ডাউন লাইন তৈরি হয়েছিল ১৯০৩ সালে, আর আপ লাইন ১৯৬৫ সালে। দীর্ঘ ব্যবহারে সেতুতে কাঠামোগত ক্ষয়ের লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ায় নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতার জন্য পুনর্নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছিল।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রুট?

    মধুকুণ্ডা-দামোদর অংশটি আসানসোল-টাটানগর সংযোগকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ।

    এই রুটের বিশেষ গুরুত্ব:

    • এটি ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের ফিডার রুট
    • প্রধান কয়লা পরিবহণ করিডর
    • বছরে প্রায় ৬৭ মিলিয়ন টন (Gross Million Tonnes) ট্রাফিক বহনকারী উচ্চ-ঘনত্ব রুট
    • শিল্পাঞ্চলে ইতিবাচক প্রভাব

    সেতু পুনর্নির্মাণের ফলে দুর্গাপুর-আসানসোল শিল্পাঞ্চল উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।

    উপকৃত হতে পারে:

    • ইসকো (IISCO)-র মতো স্টিল প্ল্যান্ট
    • এসিসি (ACC)-র মতো সিমেন্ট ইউনিট
    • কয়লার উপর নির্ভরশীল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

    রেলের উন্নত পরিকাঠামো কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যের দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহণ নিশ্চিত করবে।

    রিয়েল এস্টেটেও বড় প্রভাবের সম্ভাবনা

    মেট্রো আপগ্রেডের ফলে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক এলাকায় সম্পত্তির দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    সম্ভাব্য প্রভাব:

    • গড়িয়া, কবি সুভাষ ও নেতাজি নগর এলাকায় আগামী ২-৩ বছরে ১৫-২৫% পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি
    • এসপ্ল্যানেড ও রবীন্দ্র সদন ট্রানজিট হাবে অফিস ও রিটেল স্পেসের চাহিদা বৃদ্ধি
    • দোকান ও কো-ওয়ার্কিং স্পেসে ১০-১৫% পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির সম্ভাবনা

    উন্নত সংযোগ ব্যবস্থার ফলে সল্টলেক ও নিউটাউন-এর চাপ ছড়িয়ে পড়ে নতুন আবাসন ও প্লট ডেভেলপমেন্ট বাড়তে পারে।

    বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে কোন বার্তা?

    ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ, পুরনো পরিকাঠামো এবং শিল্প পরিবহণের চাহিদা মাথায় রেখে এই ৮৯৫ কোটির বিনিয়োগকে সময়োপযোগী বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে কলকাতার নাগরিকদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক মেট্রো পরিষেবা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মালবাহী করিডর আরও শক্তিশালী হবে। রেল মন্ত্রকের এই দ্বিমুখী বিনিয়োগ স্পষ্ট করছে—নগর পরিবহণ ও শিল্প বৃদ্ধিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে ভারতীয় রেল।

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (West Bengal CM) এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে চলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর হিসেবে তাঁর এই উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীকাল ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে শপথ নেবেন।

    সূচনা ও তৃণমূল পর্ব (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরে। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু এরপর ২০২১ সালের বিধানসভার নির্বাচনের আগে নিজের মন্ত্রীসভার পদ আর দায়িত্ব ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। এরপর  নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় কাজ করেন। অবশেষে দুই বার মমতাকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন বিজেপির এই বিধায়ক (West Bengal CM)।

    সাংসদ থেকে মন্ত্রী

    আসুন এক নজরে দেখে নিই তাঁর রাজনৈতিক জীবন –

    ১৯৯৫: রাজনৈতিক সূচনা

    পারিবারিক ঐতিহ্যের হাত ধরে রাজনীতিতে অভিষেক। কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় প্রথম পদার্পণ করেন।

    ১৯৯৯: তৃণমূলের সংগঠক হিসেবে উত্থান

    কংগ্রেস ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। সে বছর লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্রে দলের জয়ের নেপথ্য কারিগরের ভূমিকা পালন করেন শুভেন্দু।

    ২০০১ – ২০০৪: প্রাথমিক চড়াই-উতরাই

    ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুগবেড়িয়া এবং ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বামফ্রন্ট প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন।

    ২০০৬: প্রথম বিধানসভা জয়

    দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

    ২০০৭ – ২০০৮: নন্দীগ্রাম আন্দোলন ও সাংগঠনিক ম্যাজিক

    ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের ভূমি রক্ষা আন্দোলনে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। এর সুফল মেলে ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে, যেখানে তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ বামমুক্ত হয়। ওই বছরই তিনি যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব পান।

    ২০০৯: লোকসভায় জয় ও দিল্লি যাত্রা

    তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে বাম দুর্গ ধসিয়ে দিয়ে বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হন। পাশাপাশি কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

    ২০১১ – ২০১৪: ক্ষমতার কেন্দ্রে পদার্পণ

    রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর মেদিনীপুর অঞ্চলে তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৪ সালে পুনরায় তমলুক থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে এই সময়েই দলের মধ্যে সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে তাঁর কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ২০১৬: মন্ত্রী হিসেবে অভিষেক

    নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। পরিবহণ এবং সেচ দফতরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার সফলভাবে সামলান।

    ২০১৯ – ২০২০: দূরত্ব ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

    দলের অভ্যন্তরীণ রদবদল এবং পর্যবেক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদান করেন।

    ২০২১: নন্দীগ্রামের যুদ্ধ ও বিরোধী দলনেতা

    বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে এক অভাবনীয় জয় হাসিল করেন। ফলস্বরূপ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে বর্তায়।

    ২০২৬: বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন।

    ২০২৬-এর ঐতিহাসিক জয়

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে (West Bengal CM) লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে তিনি হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে।

    বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে লক্ষ্য

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের সরকারের মূল মন্ত্র হবে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং সবকা বিশ্বাস’। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বাংলাকে পুনরায় সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করাই  প্রশাসনের অগ্রাধিকার হবে। বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি যারা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কমিশন গঠন করা হবে। যারা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। আগামী দিনে সংকল্পপত্রের প্রত্যেকটা সংকল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করা হবে।”

    তৃণমূল নেত্রীর একসময়ের প্রধান সহযোগী থেকে আজ তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মসনদে আসীন হওয়া— শুভেন্দু অধিকারীর এই রাজনৈতিক বিবর্তন বাংলার ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

  • Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কথা কম, কাজ বেশি’- পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি তাঁর নামে সিলমোহর দেওয়ার পরই সেই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির নব-নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পরে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য় বিজেপির সংকল্পপত্রে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পূরণ করা হবে। বন্ধ করা হবে অনুপ্রবেশ। নিশ্চিত করা হবে মহিলাদের সুরক্ষা। সেইসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট পেতে হবে বিজেপিকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর, নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব

    রাজ্যে সরকার গঠনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব। সব দুর্নীতির তদন্ত হবে।” তিনি জানান, এই সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অপরাধ বা নারী নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, প্রশাসনিক স্তরে হওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “যাঁরা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।”

    বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ

    এদিন বক্তব্যের শুরুতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য, মঙ্গল সিং সকলকে ধন্যবাদ। মোদিজি জিন্দাবাদ।” এরপরই আবেগঘন সুরে বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি স্মরণ করতে চাই ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। যাঁরা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, তাঁদের সব স্বপ্ন পূরণ হবে।” রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘পরিবর্তন’ এবং ‘ন্যায়বিচার’-এর প্রসঙ্গ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক পুরনো অভিযোগ ও মামলার তদন্তে গতি আসতে পারে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা।

    রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে

    মুখ্যমন্ত্রী যে শুভেন্দুই হচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও খুব একটা সংশয় ছিল না পদ্মশিবিরে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাঁকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, তিনি পর পর দু’বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটের লড়াইয়ে পরাস্ত করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে শুভেন্দু হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। এবার তাঁর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে বসার পালা।

  • India-Iran Relation: বাড়ছে ব্রিকসের গুরুত্ব, চলতি মাসেই ভারতে আসতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

    India-Iran Relation: বাড়ছে ব্রিকসের গুরুত্ব, চলতি মাসেই ভারতে আসতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি মাসেই ভারতে (India-Iran Relation) আসতে পারেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সূত্রের খবর, আগামী ১৪-১৫ মে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতেই তাঁর এই সফর। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা তীব্র সংঘাতের আবহে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরান-আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের প্রেক্ষিতে ব্রিকস মঞ্চকে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় করতে চাইছে তেহরান। সূত্রের দাবি, ব্রিকসে যোগদানের পর থেকেই ইরান এই গোষ্ঠীকে “গুরুত্ব” দিয়ে এসেছে এবং বিভিন্ন বৈঠকে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে।

    ভারতের প্রতি তেহরানের বার্তা, ব্রিকসের গুরুত্ব

    পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটাই হবে আব্বাস আরাঘচির প্রথম ভারত সফর। জানা গিয়েছে, ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময় ইরান চাইছে এই গোষ্ঠী আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে “গঠনমূলক ভূমিকা” নিক। এর আগেও মার্চ মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথোপকথনে ব্রিকসের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন আরাঘচি। ইরান সরকারের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিকসের মতো মঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাদের গঠনমূলক অবদান রাখা উচিত।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ব্রিকস গোষ্ঠীতে ভারত, রাশিয়া ও চিনের মতো শক্তিধর দেশের পাশাপাশি ইরান নিজেও রয়েছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস কাঠামোয় সংযুক্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবও—যাদের নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তেহরান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে। কারণ বর্তমানে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এ বছর নয়াদিল্লিতেই আয়োজিত হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মাঝে তাই নয়াদিল্লির প্রতি তেহরানের এই বার্তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভারত-ইরান আলোচনা

    এই আবহে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সংলগ্ন এলাকায় আটকে থাকা ভারতের ১৩টি জাহাজ নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত ও ইরান কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ১১টি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করে বেরিয়ে এসেছে। বাকি ১৩টি এখনও পারস্য উপসাগর এলাকায় রয়েছে এবং তাদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের তেল ও গ্যাস আমদানির বড় অংশ এই সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই রুটের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

  • Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অমিত শাহের বৈঠকের পরই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হল। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতাই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ভবানীপুর আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান কাঁথির ছেলে শুভেন্দু। বর্তমানে তাঁর কাছে রয়েছে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই বিধানসভা আসনই। তবে বিধায়ক হিসেবে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে।

    শুভেন্দুতেই স্বীকৃতি

    বিজেপির বাংলা জয়ে মোদী-শাহ জুটির ক্যারিশ্মা যেমন ম্যাজিক দেখিয়েছে, তেমনই কামাল করেছেন বাংলার ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীও। পরপর দু’বার দুটি বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি এখন ‘জায়ান্ট কিলার’। শুক্রবার সকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছে জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে শুভেন্দুর নামই আগে রেখেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। কলকাতায় আসার আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। এরপর এদিন পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্সম্মতিক্রমে শুভেন্দুকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

    শুভেন্দুর বিপরীতে কোনও নামই ওঠেনি

    জল্পনা ছিলই। শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’’ শুভেন্দুর নেতৃত্বেই আগামী পাঁচ বছর রাজ্য চালাবে নির্বাচিত বিজেপি সরকার। শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর তাঁর হাত পদ্মফুল তুলে দিয়েও সংবর্ধনা জানান অমিত শাহ৷

    কীভাবে বাছা হল পরিষদীয় দলনেতা

    যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল শাহকে। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন পড়শি রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে হবু বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম স্থির হয়েছে। বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে শুভেন্দু এ বার লোক ভবনে যাবেন এবং রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন।

    বাংলার মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ হবে না

    শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর শাহ বলেন, ‘‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সর্বত্র বিজেপি-র সরকার গঠিত হল। শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের অনুসারী সরকার তৈরি হয়েছে।’’ বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভ কামনা জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দুকে অনেকদিন চিনি, তিনি খুব লড়াকু ব্যক্তি। প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন। আশা করি তাঁর নেতৃত্বে সোনার বাংলা গঠিত হবে।’’ নয়া মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়কদের অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কমিউনিস্টরা যা পরিস্থিতি করে গিয়েছিল, মমতা আরও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছিল তার মধ্যে বিজেপি আর আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদির ওপর ভরসা করে বাংলার মানুষ যে বিপুল বিজয় দিয়েছে সেজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমরা পুরো চেষ্টা করব আপনাদের বিশ্বাস ভঙ্গ না হয়। সব বিজেপি কার্যকর্তার দায়িত্ব সোনার বাংলার লক্ষ্য নিয়ে চলুক। সমস্ত দায়িত্ব পালন করুক।’’

    সুরক্ষিত বাংলা গড়ার আশ্বাস শাহ-এর

    দেশের সুরক্ষা প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সীমানা সুরক্ষিত করে পুরো দেশকে সুরক্ষিত করব।’’ দেশে থাকা সব অনুপ্রবেশকারীদের বের করা হবে বলে দাবি করেন তিনি। এও বলেন, গণতন্ত্রে হিংসাকে জায়গা দেওয়া হবে না। পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ প্রসঙ্গে শাহের মন্তব্য,‘‘বাংলা জুড়ে মা-বোনদের অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।’’ কলিতা মাঝি বাংলার সমস্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সকলের প্রতিনিধি বলে অভিহিত করেন। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ-অসম আজ বিজেপির ছাতার তলায় এসে গেল। গুন্ডাগিরি, ভ্রষ্টাচার, দুর্নীতি বন্ধ হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার সুরক্ষিত বাংলা গড়বে। কলা-সাহিত্য-সংস্কৃতি আর শিক্ষার নেতৃত্ব করবে বাংলা। এখানে থিয়েটারে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট তৈরি হবে।

    শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা

    শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড ময়দানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন। থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশের ২০টি রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন। সমস্ত দলকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এককথায় জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান। আর আগামিকাল সেই শপথ অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তাঁর শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।

  • Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী (West Bengal Election 2026) রেশ কাটতে না কাটতেই নিউটাউনের (Newtown BJP Worker) এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপরদিকে মালাদায় বিজেপি কর্মী খুনে এবার ২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিজেপির অভিযোগ দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বিজেপি কর্মীদের।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (Newtown BJP Worker)

    ৫ মে নিউটাউন থানা এলাকায় এক বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায়।  অভিযোগ, তৃণমূল নেতা কমল মণ্ডল এবং তার অনুগামীরা ওই বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের (West Bengal Election 2026) ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত তৃণমূল নেতার নাম কমল মণ্ডল। টেকনো সিটি থানার পুলিশ বুধবার ভোরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মহিলাদের উপর মারধরও করা হয়। তবে ব্যাপক মারধরের কারণেই মধু মণ্ডলের মতো বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    রাজনৈতিক তরজা

    নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। বিজেপির (Newtown BJP Worker) অভিযোগ, জয়লাভের পর তৃণমূল কর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, এটি একটি ব্যক্তিগত বিবাদের ফল এবং আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।

    পুলিশি পদক্ষেপ

    এলাকা শান্ত রাখতে এবং আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ (West Bengal Election 2026) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে নিউটাউন (Newtown BJP Worker) থানার পুলিশ। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় থাকলেও পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী পক্ষ।

    ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা

    অন্যদিকে, মালদা জেলায় এক বিজেপি সমর্থককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওই ব্যক্তির ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়

    বুধবার গভীর রাতে ইংরেজ বাজার পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাদুয়া মোড় এলাকায় হত্যা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বুধবার রাতে কয়েকজন যুবক প্রথমে কিশানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে মহেশপুরের বাগানপাড়া এলাকা থেকে, কিশানের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহের পাশ থেকে একটি বড় ছুরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ বা উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

  • ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    ISI Terror Module: ভারতে বড় নাশকতার পরিকল্পনা পাক আইএসআই-এর! দিল্লির মন্দির, সেনা ক্যাম্পে হামলার ছক ফাঁস, ধৃত ৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি বড়সড় অভিযানে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল পাকিস্তান-সমর্থিত একটি জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস করে সেটিকে ধ্বংস করেছে। অভিযোগ, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অপারেটিভদের মাধ্যমে এই মডিউলটি পরিচালনা করছিল। “গ্যাং বাস্ট অপারেশন ২.০”-এর আওতায় একাধিক রাজ্য থেকে ৯ জন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, এই জঙ্গি মডিউলটি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর) এবং উত্তরপ্রদেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় ছিল বেশ কয়েকটি হিন্দু মন্দিরও।

    দিল্লির ঐতিহাসিক মন্দিরে রেকি, ছবি যায় পাকিস্তানে…

    সূত্রের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজন অভিযুক্ত দিল্লির ওই ঐতিহাসিক মন্দির এলাকায় রেকি চালিয়েছিল। মন্দির চত্বর ও আশপাশের ছবি তুলে তা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, মন্দিরে মোতায়েন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা ছিল। শুধু মন্দির নয়, দিল্লি-সোনিপত হাইওয়ের একটি ব্যস্ত ধাবাতেও গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা থাকায় এই হামলা সফল হলে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, জনবহুল জায়গাকে টার্গেট করে আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।এছাড়াও হরিয়ানার হিসারের একটি সামরিক শিবিরও জঙ্গিদের নিশানায় ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ওই সেনা ছাউনির আশপাশের ভিডিও তৈরি করে সীমান্তের ওপারে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি থানাকেও টার্গেট তালিকায় রাখা হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে দাবি।

    পাকিস্তানের শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের অংশ

    বৃহস্পতিবার এই ৯ জনকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। মডিউলটির সঙ্গে আইএসআই এবং হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থা। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় বা দিল্লির যে মন্দিরটিকে টার্গেট করা হয়েছিল তার সঠিক নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গোটা নেটওয়ার্কের শিকড় খুঁজে বের করতে তৎপর। ধৃতদের ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ফোন, চ্যাট হিস্ট্রি ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে অর্থ জোগান আসছিল, কারা স্থানীয় যোগাযোগ রক্ষা করছিল এবং আর কোনও ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। জেরা যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    এপ্রিল-মে মাসে আরও জঙ্গির ধরপাকড়

    বৃহস্পতিবারই উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-ও পাকিস্তান-যোগ থাকা একটি জঙ্গি ষড়যন্ত্র ফাঁস করার দাবি করেছে। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম বরাবাঁকির বাসিন্দা দানিয়াল আশরাফ ও গোরক্ষপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণ মিশ্র। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, জীবন্ত কার্তুজ এবং একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, ধৃতরা পাকিস্তানভিত্তিক শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের নির্দেশে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ছক কষছিল। সাম্প্রতিক গ্রেফতারি ও তদন্তে উঠে আসা তথ্যকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এর আগে ২৪ এপ্রিল আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশ এটিএস। ধৃতরা হল তুষার চৌহান ওরফে হিজবুল্লাহ আলি খান এবং সমীর খান। অভিযোগ, তারা পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল। অভিযানের সময় ওই দু’জনের কাছ থেকে একটি পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত ‘হাইব্রিড টেরর’ মডিউলের মাধ্যমে স্থানীয় অপরাধী চক্র ও গ্যাংস্টারদের ব্যবহার করে হামলার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ফলে আন্তঃরাজ্য সমন্বয় ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

LinkedIn
Share