Tag: madhyom news

madhyom news

  • Baloch liberation Army: নারী ফিদায়িন, আইআইডি হামলায় বালুচ বিদ্রোহীরা ২০০ পাকিস্তানি সেনা কর্মীকে হত্যা করেছে

    Baloch liberation Army: নারী ফিদায়িন, আইআইডি হামলায় বালুচ বিদ্রোহীরা ২০০ পাকিস্তানি সেনা কর্মীকে হত্যা করেছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী ফিদায়িন, আইআইডি হামলা, বালুচ বিদ্রোহীরা (Baloch liberation Army) ২০০ পাকিস্তানি (Pakistan) সেনা কর্মীকে হত্যা করেছে। বিএলএ তাদের নিজস্ব বাহিনীর ক্ষতি স্বীকার করে বলেছে, অভিযানের সময় তাদের ১৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে, যার মধ্যে মাজিদ ব্রিগেডের ১১ জন ‘ফিদায়েন’ বা আত্মঘাতী বোমারু, ফতেহ স্কোয়াডের চারজন যোদ্ধা এবং এসটিওএস ইউনিটের তিনজন যোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

    ৪০ ঘণ্টা ধরে অভিযান (Baloch liberation Army)

    বালুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (Baloch liberation Army) অপারেশন হেরোফ ফেজ আই নামে অভিযান চালায়। বালুচিস্তানের বেশ কয়েকটি জেলায় ৪০ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে এই অভিযান। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক হতাহতের অভিযোগ করেছে এবং একাধিক শহর ও গ্রামীণ স্থানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

    বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের যোদ্ধারা খারান, মাস্তুং, টুম্প এবং পাসনি সহ এলাকায় অভিযান সম্পন্ন করেছে। অন্যান্য স্থানে লড়াই এখনও সক্রিয় রয়েছে। আমাদের যোদ্ধারা কোয়েটা এবং নোশকির কিছু অংশে উপস্থিত ছিল, ইসলামাবাদের (Pakistan) সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে অনেকটাই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

    ২০০ জনের বেশি পাক সেনা নিহত

    বিএলএ-এর (Baloch liberation Army) দাবি অনুসারে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ২০০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে এবং কমপক্ষে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিসংখ্যানগুলির ভিত্তিতে প্রাথমিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেছেন, হামলায় ১৭ জন আইন প্রয়োগকারী কর্মী এবং ৩১ জন বেসামরিক লোক এখনও পর্যন্ত নিহত হয়েছেন।

    আরেকটি পৃথক ঘটনায় বিএলএ জানিয়েছে, নশকির ডেপুটি কমিশনার মুহাম্মদ হুসেন হাজারা এবং সহকারী কমিশনার মারিয়া শামুকে আটক করে পরে মুক্তি দিয়েছে। বিএলএ এই মুক্তিকে মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাঁদের দাবি, স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন এবং পুলিশকে সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না যদি না তারা আমাদের যোদ্ধাদের সক্রিয়ভাবে প্রতিরোধ করে। বালুচদের তরফে সতর্ক করে দিয়েছে স্থানীয় কর্মকর্তা এবং পুলিশ কর্মীদের। দখলদারিতে পাক সেনাবাহিনীকে সহায়তা করলে কেবল মাত্র শত্রু রূপেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

    বিএলএ যোদ্ধা নিহত

    এদিকে, পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ৯২ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে, শুক্রবার হয়েছিল ৪১ জন। বিএলএ (Baloch liberation Army) তাদের নিজস্ব বাহিনীর ক্ষতি স্বীকার করে বলেছে, অভিযানের সময় তাদের ১৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে, যার মধ্যে মাজিদ ব্রিগেডের ১১ জন ‘ফিদায়েন’ আত্মঘাতী বোমারু, ফতেহ স্কোয়াডের চারজন যোদ্ধা এবং এসটিওএস ইউনিটের তিনজন যোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    একটি পৃথক বিবৃতিতে জানা গিয়েছে, হামলায় মহিলা অপরাধীরা জড়িত ছিল। ফিদায়েনের মধ্যে ছিলেন আসিফা মেঙ্গাল, যিনি নোশকিতে আইএসআই ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স সদর দফতর লক্ষ্য করে ভিবিআইইডি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। আসিফা মেঙ্গল ২০২৩ সালের ২রা অক্টোবর বালুচ লিবারেশন আর্মির মাজিদ ব্রিগেডে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি ফিদাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। গত শুক্রবার হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গোয়াদর ফ্রন্টে তাদের মিশন, ফিদায়ি হাওয়া বালুচ, তার সহযোগী ফিদায়িনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন। তারা তার নিহত হওয়ার বারো ঘন্টা আগে পাঠানো শেষ বার্তার ভিডিওটিও পোস্ট করেছে।

    পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের মতে, অন্তত দুটি হামলায় নারী অপরাধীরা জড়িত ছিল। নিহতদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিবৃতিতে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকা, নিরাপত্তা বাহিনীর সান্নিধ্য এড়িয়ে চলা এবং যেসব অঞ্চলে অভিযান চলছে সেখানে বিএলএ যোদ্ধাদের সমর্থন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি

    পাকিস্তানের (Pakistan) বৃহত্তম কিন্তু কম জনবহুল প্রদেশ বালুচিস্তানে রাজনৈতিক প্রান্তিককরণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ (Baloch liberation Army) চালাচ্ছে। তাঁরা বিএলএ এই গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট এবং পাকিস্তান এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করেছে।

    যদিও পাকিস্তান প্রায়শই বিএলএ-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তবুও বেলুচ বিদ্রোহীদের প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত, বিএলএ কর্তৃক বর্ণিত সংঘর্ষের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যার ফলে পরিস্থিতি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। বালুচ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পাকিস্তান সরকার এবং সেনাবাহিনীর নীরবতাকে ব্যাখ্যা করে।

  • Jamaat-e-Islami: জামায়াতে ইসলামী নেতার নারী বিদ্বেষ ও অশ্লীল মন্তব্যে বাংলাদেশে তোলপাড়

    Jamaat-e-Islami: জামায়াতে ইসলামী নেতার নারী বিদ্বেষ ও অশ্লীল মন্তব্যে বাংলাদেশে তোলপাড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার, ৩১শে জানুয়ারি, বাংলাদেশ (Bangladesh) জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) আমির শফিকুর রহমান নেতৃত্বের পদে থাকা নারীদের পতিতাদের সাথে তুলনা করার পর বিক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই ঘটনাটি ভোটের প্রচার এবং রাজনীতির আঙিনায় ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে।

    পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ (Jamaat-e-Islami)

    যদিও বর্তমানে পোস্টটি ডিলিট করে ফেলা হয়েছে। তবুও এক্স হ্যন্ডেলে একটি পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) প্রধান শফিকুর রহমান মন্তব্য করে লিখেছিলেন, “নারীদের প্রশ্নে, জামায়াতের অবস্থান বিভ্রান্তিকর বা ক্ষমাপ্রার্থী নয়-এটি নীতিগত। আমরা মনে করি না, নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত। জামায়াতে এটা অসম্ভব। আল্লাহ এটার অনুমতি দেননি। আমরা বিশ্বাস করি যে যখন আধুনিকতার (Bangladesh) নামে নারীদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটি পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ ছাড়া আর কিছুই নয়।”

    নৈতিক পতনের লক্ষণ!

    জামায়াতে নেতা শফিকুর রহমান এখানেই থেমে থাকেননি এবং আরও দাবি করে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অশ্লীলতা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং নারীদের পণ্যে পরিণত করা অগ্রগতির লক্ষণ নয়-এগুলি নৈতিক পতনের লক্ষণ। অনৈতিকতা যতই ফ্যাশনেবল হোক না কেন, আমরা তার সাথে আপোষ করতে রাজি নই।” নারীদের সম্পর্কে তার অবমাননাকর মন্তব্যের পর, বাংলাদেশের (Jamaat-e-Islami) বেশ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

    তবে নিজের তাল সামাল দিতে এখন নিজের মুখ বাঁচাতে নতুন তত্ত্ব খাড়া করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রধান শফিকুর দাবি করেছেন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ার তাঁর এক্স হ্যান্ডলের অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমার মিথ্যা সংবাদ এবং সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাক করে আমাদের বিরুদ্ধে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। আজ যে দলটি আমাদের কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে, সেই একই দল যার কর্মীরা হিজাব নিয়ে আক্রমণ করেছে। নারীদের সম্মান করার, তাদের মর্যাদাকে সম্মান করার এবং সমাজে সমান অংশীদার হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমাদের নীতিমালা নারী সুরক্ষা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ (Bangladesh) গঠনে তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তৈরি। যে জাতি তার নারীদের অসম্মান করে, তারা এগিয়ে যেতে পারে না।”

    জামায়াতে ইসলাম রাজাকার!

    এটা উল্লেখ করা আবশ্যক যে, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের (Bangladesh) স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) নারীদের উপর, বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর, অকথ্য অত্যাচার সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের লড়াইতে তাঁদের সাফ অবস্থান ছিল পশ্চিমপাকিস্তানের দিকেই। তাঁদের বলা হতো রাজাকার।

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশ লাগাতর হিন্দু নির্যাতন অব্যাহত! বাংলাদেশের পরিস্থিতি কতটা খারাপ?

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশ লাগাতর হিন্দু নির্যাতন অব্যাহত! বাংলাদেশের পরিস্থিতি কতটা খারাপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং বিদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ওপর লাগাতার আক্রমণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে, এই নিপীড়ন আমাদের চোখের সামনে ধীরে ধীরে গণহত্যার মতো প্রকাশ পাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলি উপেক্ষা করে আসছে। অথচ হিন্দু-বিরোধী (Hindu Dharma) ধর্মান্ধতার কারণে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে আক্রমণ, মন্দির ও মূর্তি অপবিত্রকরণ, ঘৃণ্য বক্তব্য এবং যৌন সহিংসতা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, হিন্দুরা (Hindus Under Attack) তাদের অস্তিত্বের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের শিকার হয়েই চলছে। ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোথায় কোথায় আক্রমণ হয়েছে আসুন এক নজরে দেখে নিই।

    কোচবিহারে হিন্দু নির্যাতন (Hindus Under Attack)

    স্থানীয় ক্ষোভ ও বিক্ষোভের কারণে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের জামালদহ এলাকায়। মাত্র ১১ বছর বয়সী এক হিন্দু মেয়েকে (Hindus Under Attack) ধর্ষণের অভিযোগে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনামুল মিঞা নামে এক অভিযুক্ত ব্যক্তি হামলা চালানোর আগে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাবালিকা হিন্দু মেয়েটিকে মারার হুমকি দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

    দক্ষিণ ভারতে অবমাননা

    শবরীমালা সোনা চুরি মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কেরালা, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ু জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে। দেবস্বম বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান এবং সিপিআইএম নেতার সম্পত্তি সহ ২১টি স্থানে ইডি তল্লাশি চালিয়েছে।

    পালাক্কাদে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ মিছিলের দৃশ্যগুলি প্রতিবাদের আচরণ এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন একটি স্কুল হোস্টেলে একজন ছাত্রের মৃত্যুর পর এই বিক্ষোভটি হয়েছিল। এই প্রতিবাদটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI) দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এর সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠন পালাক্কাদের স্কুল পরিচালিত হতো। প্রতিবাদের সময়, ওম প্রতীক যুক্ত হিন্দু আস্থার (Hindus Under Attack) উপরে চরম আঘাত হানে বামপন্থীরা।

    ছত্তিশগড়ে লাভ জিহাদ

    ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলার পুলিশ বিহারের পাটনার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহফুজকে গ্রেফতার করেছে। যিনি জনজাতি মহিলাদের প্রতারণা ও শোষণের জন্য হিন্দু পুরুষ (Hindu Dharma)  সেজেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল এবং রেলওয়ে অফিসার হওয়ার মিথ্যা পরিচয়ের অভিযোগ রয়েছে। হিন্দু মেয়েদের লক্ষ্য করে প্রতারণামূলক সম্পর্কের বিষয়ে চলমান উদ্বেগকে তুলে ধরা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ভাবে লাভ জিহাদের ঘটনা।

    কাশ্মীরে হামলার ছক

    উত্তরপ্রদেশ সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড (ATS) এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ সন্দেহভাজন ইসলামী সন্ত্রাসী মোহাম্মদ উজাইদ কুরেশিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি মিরাটের বাসিন্দা এবং আল-কায়েদা দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আবিষ্কার করেছেন যেখানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর ফেদায়িন (আত্মঘাতী) হামলার অভিযোগ মিলছে।

    হরিয়ানায় ছক

    গুরুগ্রামের রাজীব নগর এলাকা থেকে লাভ জিহাদের মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। বিহারের এক হিন্দু মহিলা (Hindu Dharma) দাবি করেছেন, “এক ব্যক্তি মন্দিরের অনুষ্ঠানে তাকে বিয়ে করার জন্য তার মুসলিম পরিচয় গোপন করেছিলেন, পরে তাকে আক্রমণ করেছিল। ইসলামে ধর্মান্তরিত করার দাবি করেছিলেন। অভিযুক্তের নাম আরিফ খান, যিনি ভিকটিমকে প্রতারণা করার জন্য আরভের পরিচয় দিয়েছিলেন।

    মাদিকেরি গ্রামীণ পুলিশ নাপোকলু গ্রামের ২১ বছর বয়সী এক কলেজ ছাত্রকে একাধিক মহিলার সাথে যৌন কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার, তার মোবাইল ফোনে সেই কার্যকলাপ রেকর্ড করার এবং ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে । অভিযুক্ত ব্যক্তি বেঙ্গালুরুর একটি কলেজে অধ্যয়নরত একজন বিবিএ ছাত্র, পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের (Hindus Under Attack) উপর আক্রমণ অব্যাহত এবং ধীরে ধীরে দেশ থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্মূল করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাত-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির অপবিত্রকরণ, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম (Hindu Dharma) অবমাননার অভিযোগের পর জনতার আক্রমণ, নারীদের ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য হিন্দুদের ভয় দেখানো এবং তাড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার।

    বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায়, ২৩ বছর বয়সী এক হিন্দু মেকানিককে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, যেখানে তিনি ঘুমাচ্ছিলেন এমন সময়েই আগুন দেওয়া হয়। চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক নামে পরিচিত ওই যুবক তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন এবং নরসিংদী শহরের একটি স্থানীয় গাড়ি মেরামতের কারখানায় কাজ করতেন।

  • Ramakrishna 571: “সাত্ত্বিক আহার, রাজসিক আহার, তামসিক আহার, আবার সাত্ত্বিক দয়া, রাজসিক দয়া, তামসিক দয়া, সাত্ত্বিক অহং ইত্যাদি সব আছে”

    Ramakrishna 571: “সাত্ত্বিক আহার, রাজসিক আহার, তামসিক আহার, আবার সাত্ত্বিক দয়া, রাজসিক দয়া, তামসিক দয়া, সাত্ত্বিক অহং ইত্যাদি সব আছে”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর
    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শ্যামপুকুরের বাটীতে ভক্তসঙ্গে

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (মাস্টারকে)—তাহলেই বা। মা হৃদয়ে থাকুন!

    সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন।

    ঠাকুর সুরেন্দ্রকে দেখিতে দেখিতে অশ্রু বির্সজন করিতেছেন। মাস্টারের দিকে তাকাইয়া গদ্‌গদস্বরে বলিতেছেন (Kathamrita), কি ভক্তি! আহা, এর যা ভক্তি আছে!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—কাল ৭টা-৭৷৷টার সময় ভাবে দেখলাম, তোমাদের দালান। ঠাকুর প্রতিমা রহিয়াছেন, দেখলাম সব জ্যোতির্ময়। এখানে-ওখানে এক হয়ে আছে। যেন একটা আলোর স্রোত দু-জায়গার মাঝে বইছে!—এবাড়ি আর তোমাদের সেই বাড়ি!

    সুরেন্দ্র—আমি তখন ঠাকুর দালানে মা মা বলে ডাকছি, দাদারা ত্যাগ করে উপরে চলে গেছে। মনে উঠলো মা বললেন, ‘আমি আবার আসব’।

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও ভগবদ্‌গীতা

    বেলা এগারটা বাজিবে। ঠাকুর পথ্য পাইলেন। মণি হাতে আঁচাবার জল দিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) মণির প্রতি— ছোলার ডাল খেয়ে রাখালের অসুখ হয়েছে। সাত্ত্বিক আহার করা ভাল। তুমি গীতা পড় না?

    মণি—আজ্ঞা হাঁ, যুক্তাহারের কথা আছে। সাত্ত্বিক আহার, রাজসিক আহার, তামসিক আহার। আবার সাত্ত্বিক দয়া, রাজসিক দয়া, তামসিক দয়া। সাত্ত্বিক অহং ইত্যাদি সব আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—গীতা তোমার আছে?

    মণি—আজ্ঞা, আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—ওতে সর্বশাস্ত্রের সার আছে।

    মণি—আজ্ঞা, ঈশ্বরকে নানারকমে দেখার কথা আছে; আপনি যেমন বলেন, নানা পথ দিয়ে তাঁর কাছে যাওয়া—জ্ঞান, ভক্তি, কর্ম, ধ্যান।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita)—কর্মযোগ মানে কি জান? সকল কর্মের ফল ভগবানে সমর্পণ করা।

    মণি—আজ্ঞা, দেখছি, ওতে আছে। কর্ম আবার তিনরকমে করা যেতে পারে, আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—কি কি রকম?

    মণি—প্রথম — জ্ঞানের জন্য। দ্বিতীয় — লোকশিক্ষার জন্য। তৃতীয় — স্বভাবে।

    ঠাকুর আচমনান্তে পান খাইতেছেন। মণিকে মুখ হইতে পান প্রসাদ দিলেন (Kathamrita)।

  • Baloch liberation Army: বালুচ লিবারেশন আর্মির হাতে খতম ৮৪ জন পাকিস্তানি সেনা

    Baloch liberation Army: বালুচ লিবারেশন আর্মির হাতে খতম ৮৪ জন পাকিস্তানি সেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩১ জানুয়ারি জারি করা এক বিবৃতিতে বালুচ লিবারেশন আর্মি (Baloch liberation Army) (বিএলএ) দাবি করেছে, “অপারেশন হেরোফ ফেজ টু”-তে ৮০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি (Pakistan) জঙ্গি, পুলিশ কর্মী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের সদস্য নিহত হয়েছে। আমাদের যোদ্ধারা বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় আক্রমণ চালিয়েছে। আক্রমণগুলি দশ ঘণ্টা ধরে সংগঠিত হয়েছিল এবং প্রদেশের অসংখ্য শহরে নিরাপত্তা, সামরিক এবং প্রশাসনিক কাঠামোগুলিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও-র সত্যতা নিশ্চিত করেছে বিএলও।

    কোথায় কোথায় হামলা (Baloch liberation Army)?

    বিএলএ (Baloch liberation Army) মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, কোয়েটা (Pakistan), নোশকি, মাস্তুং, দালবান্দিন, কালাত, খারান, পাঞ্জগুর, গোয়াদার, পাসনি, তুরবাত, টুম্প, বুলেদা, মাঙ্গোচর, লাসবেলা, কেচ এবং আওয়ারান এবং এর আশেপাশের বেশ কিছু জায়গায় হামলা চালানো হয়। আমাদের যোদ্ধারা একই সঙ্গে শত্রু সামরিক, প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা কাঠামো-এ হামলা চালিয়েছে, এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করেছে।

    ৮৪ জন নিহত, ১৮ জন বন্দি!

    বিএলএর (Baloch liberation Army) তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানি (Pakistan) সামরিক বাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার ৮৪ জন সদস্য নিহত হয়েছে, সেই সঙ্গে শতাধিক আহত হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮ জনকে বন্দি করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে যে অফিস, ব্যাঙ্ক এবং কারাগার সহ ৩০ টিরও বেশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ২০ টিরও বেশি যানবাহন আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে তীব্র সংঘর্ষের সময় বিএলএ যোদ্ধারা কিছু নির্দিষ্ট পোস্ট এবং কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

    চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে হামলা বালুচদের

    বালুচিস্তানে (Baloch liberation Army) কর্মরত বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে বালুচ লিবারেশন আর্মি অন্যতম। এই প্রদেশটি রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়নের অভিযোগের কারণে কয়েক দশক ধরে বিদ্রোহ করেছে। এই গোষ্ঠীটি পূর্বে পাকিস্তানি (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনী, এবং বিদেশি স্বার্থ, বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকল্পগুলির ওপর একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে।

    পাকিস্তান বহুদিন ধরে বালুচদের ওপর ধর্মীয়, সামাজিক, আর্থিক এবং রাজনৈতিক শাসন চালাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে পাক সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বালুচরা। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পসকে প্রায়শই বেলুচ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত দমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, যার ফলে প্রায়শই জোরপূর্বক অপহরণের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি দাবি করেছে  কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান (Pakistan) সেনাবাহিনী বা তাদের মিলিশিয়ারা হাজার হাজার বালুচকে অবৈধভাবে হত্যা বা অপহরণ করেছে।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় ক্ষতি

    শুক্রবার শেষ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএলএ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আরও আপডেট জারি করবে। বালুচিস্তানের (Baloch liberation Army) পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল রয়েছে, রিপোর্ট করা ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Spiritual Winter: ভারতের আধ্যাত্মিক শীতকালের মহাসমাপ্তি ঘটে মাঘী পূর্ণিমায়

    Spiritual Winter: ভারতের আধ্যাত্মিক শীতকালের মহাসমাপ্তি ঘটে মাঘী পূর্ণিমায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার প্রধান আকর্ষণ মাঘপূর্ণিমার (Magha Purnima) মহাপুণ্যস্নান। আজ যখন ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষ মাঘী পূর্ণিমা—অর্থাৎ পবিত্র মাঘ মাসের সমাপ্তি সূচক পূর্ণিমা—উদযাপন করছেন, তখন দেশ এক শক্তিশালী আধ্যাত্মিক সঙ্গমের সাক্ষী থাকছে। সনাতন সংস্কৃতির প্রতি বিশ্বাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতা (Spiritual Winter) মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।

    স্নানের বিজ্ঞান (Magha Purnima)

    মাঘী পূর্ণিমার স্নান নিছক একটি স্নানই নয়, এটি শরীরের একটি ‘সিস্টেম রিবুট’। আমাদের পূর্বপুরুষরা কেবল গঙ্গা বা যমুনার কাব্যিক গুণগান করেননি, তাঁরা ছিলেন আদি ‘হাইড্রো-জিওলজিস্ট’। মাঘী পূর্ণিমায় (Magha Purnima) একটি বিশাল জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিন্যাস ঘটে। এই সময়  সূর্য মকর রাশিতে এবং চাঁদ কর্কট রাশিতে অবস্থান করে। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট মহাকর্ষীয় এবং চন্দ্রের সংযোগ পৃথিবীর জলভাগকে একটি অনন্য তড়িৎ-চৌম্বকীয় (Electromagnetic) শক্তিতে পূর্ণ করে তোলে। এই স্নান বা ‘ডুব’ দেওয়া আসলে আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে পুনর্গঠন করে এবং শরীরের ‘বায়ো-রিদম’-কে পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে। এটি আত্মার (Spiritual Winter) পক্ষে একটি হার্ডওয়্যার রিবুটের মতো।

    চৈতন্য ভূগোল

    সজীব মানচিত্র হিসেবে ভারত এই দিনটি প্রমাণ করে যে ভারত কেবল রাজনৈতিক সীমানা দিয়ে ঘেরা একটি ভূখণ্ড নয়—এটি একটি ‘চৈতন্য ভূগোল’। প্রয়াগরাজের মাঘ মেলা থেকে শুরু করে দক্ষিণের কোনও ছোট মন্দিরের পুকুর—পুরো দেশ আজ জলের দিকে ধাবিত হয়। এই ‘আধ্যাত্মিক পরিযান’ (Spiritual Winter) আমাদের সভ্যতার অদৃশ্য আঠা। আমাদের কোনও কেন্দ্রীয় সদর দফতর বা নির্দেশিকার প্রয়োজন নেই, আমাদের নদীগুলিই আমাদের শিরা, আর পূর্ণিমার স্পন্দনই আমাদের বলে দেয় কখন এগিয়ে যেতে হবে।

    দানের প্রোটোকল

    ‘আমি ও আমার’ অহং ত্যাগ করতে এই দিনে মানুষ তিল, কম্বল এবং খাবার অকাতরে দান করেন। এটি কোনও পশ্চিমি ‘দয়া’ বা ‘চ্যারিটি’ নয়, এটি হল ভারতের ‘নিষ্কাম কর্ম’। আমরা দান করি কারণ আমরা জানি আমাদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বা শরীর—সবই ‘বিরাট পুরুষ’-এর কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য পাওয়া। মাঘী পূর্ণিমায় (Magha Purnima) দান করা হল আসক্তি ত্যাগের একটি আচার। এটি মনের ভেতর থেকে ‘অহং’-এর সফটওয়্যার মুছে ফেলার মতো।

    পূর্ণত্ব

    ‘পূর্ণ’ ‘পূর্ণিমা’ (Magha Purnima) শব্দটি এসেছে ‘পূর্ণত্ব’ থেকে। বৈদিক বিশ্বদর্শন অনুযায়ী মানুষ ‘পাপী’ বা ‘ভাঙাচোরা’ কিছু নয়; আপনি ইতিমধ্যেই পূর্ণ। শান্তি মন্ত্রে বলা হয়েছে—“ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদম্ পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে… (সেই পরমাত্মাও পূর্ণ, এই জীবাত্মাও পূর্ণ; পূর্ণ থেকেই পূর্ণের উৎপত্তি)। পূর্ণিমার চাঁদ আসলে একটি বিশাল মহাজাগতিক আয়না, যা আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনার ভেতরের আলোও পূর্ণ। নিজেকে সম্পূর্ণ করার জন্য কোনও বাইরের ত্রাতা (Spiritual Winter) বা বিদেশী মতাদর্শের প্রয়োজন নেই।

    মূল কথা

    মাঘী পূর্ণিমা (Magha Purnima) আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা এই মাটি এবং জলের অংশ। ২০২৬ সালের পূর্ণিমা ব্যস্ততাময় আধ্যাত্মিক প্রবাহে নিজেকে যুক্ত করার দিন। যদি আপনি কোনও পবিত্র নদীতে যেতে না পারেন, তবে বাড়িতেই বালতির জলে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল মিশিয়ে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন: “গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরী সরস্বতী, নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেস্মিন সন্নিধিং কুরু।” ব্যস্ততা চলুক, কিন্তু আপনার হৃদয় (Spiritual Winter) যেন পূর্ণ থাকে।

  • Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav: ত্রিবেণীতে মুসলিম আক্রমণের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কুম্ভমেলা! ৭০০ বছর পর কীভাবে ফিরল?

    Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav: ত্রিবেণীতে মুসলিম আক্রমণের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কুম্ভমেলা! ৭০০ বছর পর কীভাবে ফিরল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়া সংলগ্ন ত্রিবেণীতে (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) রচিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ইসলামি আগ্রাসনের কারণে ৭০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এক প্রাচীন কুম্ভমেলা পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। একে বলা হচ্ছে “বঙ্গ ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসব।” বঙ্গের প্রাচীন সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছেন উদ্যোক্তারা।

    দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণী (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav)

    হুগলি জেলার ত্রিবেণীকে (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) ঐতিহাসিকভাবে ‘দক্ষিণ প্রয়াগ’ (Daksina Prayag) বলা হয়। এলাহাবাদের (প্রয়াগরাজ) মতো এখানেও রয়েছে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থল। তবে প্রয়াগরাজের ত্রিবেণীকে বলা হয় ‘যুক্তবেণী’, আর বাংলার ত্রিবেণীকে বলা হয় ‘মুক্তবেণী’। প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী, এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। সমুদ্র মন্থনের ফলে এখানেও অমৃতের ফোঁটা পড়েছিল। এখানে স্নান করলে এই স্নান অমৃত স্নানের সমান। সূর্য দেবতার দক্ষিণায়ণের ফলে যেমন সব কিছুর পরিবর্তন হয় ঠিক তেমনি মানুষের মনেরও পরিবর্তন হয়।

    মানবজাতির পাপ মুছে ফেলা হত

    বৈষ্ণব পণ্ডিত বৃন্দাবন দাস সপ্তগ্রাম ত্রিবেণী ঘাটকে সেই স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে সপ্তর্ষিরা তপস্যা করেছিলেন এবং যেখানে স্নানের মাধ্যমে মানবজাতির পাপ মুছে ফেলা যায়। ত্রিবেণীর ভিক্ষু এবং ঋষিরা সপ্তর্ষি (মৈত্রেয়ী, অত্রি, পুলস্ত, পুলহ, ব্যাস, বশিষ্ঠ এবং বিশ্বামিত্র নামে ৭ জন ঋষি তপস্যা করেছিলেন। এখানেই প্রতিবছর সমবেত হন লাখ লাখ ভক্ত। সাধু-সন্তদের নির্দেশনা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহায়তায়, মাঘী সংক্রান্তি ভৈমি-একাদশী উপলক্ষে কুম্ভমেলা এবং কুম্ভ স্নানের আয়োজন করা হয়।

    ত্রিবেণীর (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং কুম্ভ ঐতিহ্যের গর্ব পুনরুজ্জীবিত করতে গত বছর এখানে কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। ৭ শতাব্দী পর, তিন দিনের কুম্ভ মহাস্নান এবং মেলা এই অঞ্চলে এক নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে। ৩ দিন ধরে চলা গঙ্গা আরতি, রুদ্রাভিষেক এবং যজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছিলেন লাখ লাখ ভক্ত। এবার ৭০৩ বছর পর ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কুম্ভমেলাকে ২০২২ খ্রিস্টাব্দে আবারও পুনরুজ্জীবিত করা হল।

    কেন বন্ধ হয়েছিল এই মেলা?

    ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, ১২৯২-১২৯৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুসলমান আক্রমণকারী জাফর খান গাজির নেতৃত্বে ত্রিবেণী (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়। সেখানে থাকা পাল যুগের বিষ্ণু মন্দির ধ্বংস করা হয় এবং হিন্দুদের ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে প্রায় ৭০০ বছর আগে এই মেলা ও স্নানযাত্রা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে থাকা বহু মন্দির ও বিহার ধ্বংস করে তার উপরেই তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন মসজিদের ইমারত গড়ে তোলা হয়েছিল। মুসলিম শাসকরা যেভাবে যেদিকে এগিয়ে গিয়েছে সেখানকার পুরাতন সংস্কৃতিকে বরাবর ধ্বংস করেছে। ১২৮৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে, সপ্তগ্রাম এবং ত্রিবেণী (Daksina Prayag) দৃঢ়ভাবে ইসলামি আক্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ঐতিহাসিকদের একাংশের মতে, হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দির এবং মঠগুলি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং পূর্ববর্তী ধর্মীয় কাঠামোর ওপরেই মসজিদ এবং দরগা নির্মাণ করা হয়েছিল। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস ব্যানার্জি এবং প্রণব রায় জাফর খান গাজি দরগার স্তম্ভ, ভাস্কর্যের স্থাপত্যের টুকরো খুঁজে পেয়েছেন যা হিন্দু, জৈন এবং বৌদ্ধ চিত্রের বিকৃত রূপ ধারণ করে। বিশ্বাস করা হয় যে এই অঞ্চলে শেষ কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৩১৯ খ্রিস্টাব্দে।

    পুনরুত্থানের প্রচেষ্টা

    দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী পর, স্থানীয় কিছু সাধু, সন্ন্যাসী এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথমবার এই কুম্ভমেলা (Daksina Prayag) পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আন্দোলনের নেপথ্যে ছিলেন কাঞ্চন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবাসী গবেষক এবং স্থানীয় ‘ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালনা সমিতি’। তাঁদের গবেষণায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু রেফারেন্সও ব্যবহার করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে ১৩১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এখানে কুম্ভ মেলা হত। ফলে হুগলীর ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) করার ঘটনা কোনও বিছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সনাতনী সাংস্কৃতিক প্রবাহ।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ও বর্তমান চিত্র

    ২০২৩ সালের ‘মন কি বাত’ (Mann Ki Baat) অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মেলার পুনরুজ্জীবনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর যা হওয়া উচিত ছিল, তা হতে অনেক দেরি হয়ে গেল। ২০২৬ সালেও ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই উৎসব পালিত হতে চলেছে, যেখানে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ লাখ ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য

    বর্তমানে এই মেলায় কেবল পবিত্র স্নানই হয় না, বরং বাংলার লোকসংস্কৃতি যেমন—কীর্তন, বাউল গান, গৌড়ীয় নৃত্য, শ্রীখোল এবং গঙ্গাপুজোর মতো নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এটি এখন বাংলার হিন্দুদের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরেই ত্রিবেণী কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাধু, সন্ন্যাসী, নাগারা আসেন। একই ভাবে প্রচুর পর্যটক এবং ভক্ত সমাগমও হয়।

    প্রতি ৬ বছর অন্তর হরিদ্বার এবং প্রয়াগরাজে অর্ধকুম্ভ অনুষ্ঠিত হলেও, প্রতি ১২ বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতি, সূর্য এবং চন্দ্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে, পূর্ণকুম্ভ চারটি নির্ধারিত স্থানের একটিতে অনুষ্ঠিত হয়-প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী এবং নাসিক। প্রতি ১৪৪ বছরে একবার মহাকুম্ভ মেলা (Daksina Prayag) অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে সর্বশেষটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালে, প্রয়াগরাজে।

    কবে কোন উৎসব?

    বঙ্গো ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসবের (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) যাত্রাপথ নিম্নরূপ:

    ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    সূর্যোদয়, আদিত্য হৃদয় মন্ত্র ও শান্তি বচন

    নগর সংকীর্তন

    যোগ আসন (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    রুদ্রাভিষেক ও রুদ্র মহাযজ্ঞ, শিব সহস্র নাম পাঠ (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    শিশুদের বসে আঁক প্রতিযোগিতা

    ধর্মসভা

    গঙ্গা আরতি


    ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    শান্তি কুম্ভ শোভাযাত্রা এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী

    পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের ভাষণ

    গীতা পাঠ

    সাধু ভান্ডারা

    কালী কীর্তন

    গৌড়িয় নৃত্য

    গঙ্গা আরতি

    ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অমৃতা স্নানযাত্রা

    ধর্মসভা

    সাধু ভোজন

    ধর্মীয় অনুষ্ঠান / কীর্তন (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    গঙ্গা আরতি (সপ্তর্ষি ঘাট)

  • Guru Ravidas: চর্মকার থেকে মহাজাগতিক শিক্ষক- প্রাত্যহিক কাজকে ঈশ্বর সাধনায় রূপান্তর করেছিলেন রবিদাস

    Guru Ravidas: চর্মকার থেকে মহাজাগতিক শিক্ষক- প্রাত্যহিক কাজকে ঈশ্বর সাধনায় রূপান্তর করেছিলেন রবিদাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঘী পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে ভারত ও বিশ্বের অগণিত মানুষ সন্ত গুরু রবিদাসের (Guru Ravidas) জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary) পালন করছেন। তিনি মধ্য যুগের ভারতে ভক্তি আন্দোলনের একজন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, কবি এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন। বঙ্গে যেমন শ্রী চৈতন্য ভক্তিবাদের জোয়ার এনেছিলেন, তেমনি উত্তর ভারতে ভক্তিবাদের প্রবক্তাদের মধ্যে সন্ত রবিদাস অন্যতম। তাঁর জীবন ও দর্শন আজও আমাদের সাম্য, মানবতা এবং ভক্তি ও কর্মের মেলবন্ধনের পথ দেখায়।

    জন্ম ও পরিচয় (Guru Ravidas)

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) রায়দাস বা রোহিদাস নামেও পরিচিত। আনুমানিক ১৫শ শতাব্দীতে বারাণসীর নিকটবর্তী সীর গোবর্ধনপুর গ্রামে একটি দরিদ্র চর্মকার (মুচি) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়ে প্রচলিত কঠোর জাতিভেদ প্রথা উপেক্ষা করে তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন।

    কর্মই ধর্ম

    সন্ত রবিদাসের (Guru Ravidas) জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর পেশা ও সাধনার সমন্বয়। তিনি চটি বা জুতো তৈরির কাজকে কখনও হীন মনে করেননি। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “মন চাঙ্গা তো কঠোতি মে গঙ্গা” অর্থাৎ, যদি মন পবিত্র থাকে, তবে কাঠের তৈরি ছোট পাত্রের জলেই গঙ্গার পবিত্রতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনি শিখিয়েছেন, ভগবানকে পাওয়ার জন্য সংসার ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই; সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের কাজ করাই হল প্রকৃত উপাসনা। তাঁর লেখা দোহার মধ্যে হল-

    “রবিদাস জীবাত্মা প্রভু কি, হয় না দুজা কয়ে

    জিঁও জল মে জল মিল গয়া, তিওঁ হরি মে মিলনা হয়।”

    সামাজিক সংস্কার ও সাম্য

    গুরু রবিদাস (Guru Ravidas) জাতিভেদ প্রথা এবং অস্পৃশ্যতার তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘বেগম্পুরা’ (Begampura) নামক এক আদর্শ সমাজের স্বপ্ন দেখতেন—যেখানে কোনও দুঃখ, ভয় বা বৈষম্য থাকবে না। তিনি প্রচার করেছিলেন যে, মানুষ তাঁর জন্মের পরিচয়ে নয়, বরং তাঁর কর্মের মাধ্যমে মহান হন। তাঁর এই দর্শন কেবল নিচুতলার মানুষের মধ্যে নয়, বরং তৎকালীন সমাজের উঁচুতলার রাজকীয় ব্যক্তিদেরও আকৃষ্ট করেছিল। বিখ্যাত কৃষ্ণভক্ত মীরাবাঈ তাঁকে নিজের আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। জন্মদিনে (Birth Anniversary) রবিদাসের একটি দোহাকে স্মরণ করে বলা যায়-

    “তোহি মোহি, মোহি তোহি, অন্তর কায়সা, কনক কাটিক, জল লহর যাইসা।”

    আধ্যাত্মিক অবদান ও শিখ ধর্মে স্থান

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) রচিত ভজন ও পদাবলী আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। গুরু রবিদাসের ৪১টি পবিত্র বাণী বা স্তোত্র শিখদের ধর্মগ্রন্থ ‘গুরু গ্রন্থ সাহেবে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাঁর আধ্যাত্মিক উচ্চতার প্রমাণ দেয়। হরি ভজনের ওপর রবিদাস লিখেছেন-

    “হরি সা হীরা ছদ ক্যা, করহি আঁ কি আস,

    তে নর যমাপুর জাহিঙ্গে, সাত ভাখাই রবিদাস।”

    বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

    বর্তমান সময়েও তাঁর শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ঘৃণা ত্যাগ করে একে অপরকে ভালোবাসতে হয়। তাঁর জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary) উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বারাণসীতে, তাঁর জন্মস্থানে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) কেবল একজন ধার্মিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি জাতপাত বর্ণ বৈষম্য মানতেন না। সামাজিক ন্যায়, ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু প্রভেদগুলিকে ভুলে সমাজ জাগরণের কাজ করে গিয়েছেন। যিনি বিশ্বাস করতেন—সব মানুষের ভেতরেই ঈশ্বর বিরাজমান। তাই মানবসেবাই হল পরম ধর্ম।

  • US Embassy: বাংলাদেশে নির্বাচন ও গণভোটের আগে হিংসার সতর্কতা: নিরাপত্তা অ্যালার্ট জারি করল মার্কিন দূতাবাস

    US Embassy: বাংলাদেশে নির্বাচন ও গণভোটের আগে হিংসার সতর্কতা: নিরাপত্তা অ্যালার্ট জারি করল মার্কিন দূতাবাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh Election) আসন্ন সাধারণ নির্বাচন এবং প্রস্তাবিত গণভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য হিংসার আশঙ্কায় ঢাকায় (US Embassy) অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সে দেশে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

    অগ্নিগর্ভ হতে পারে বাংলাদেশ (Bangladesh Election)

    মার্কিন দূতাবাস (US Embassy) জানিয়েছে, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে অস্থিরতা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে মারামারি, সংঘর্ষে উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নাগরিকদের জন্য পরামর্শ

    মার্কিন বিদেশমন্ত্রক (US Embassy) নাগরিকদের বড় ধরনের জমায়েত, বিক্ষোভ মিছিল এবং রাজনৈতিক সমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় খবরের ওপর নজর রাখা এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গণভোট ও নির্বাচন

    বাংলাদেশে (Bangladesh Election) বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন এবং গণভোট নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। তাই আগে থেকেই গণভোট এবং নির্বাচন ঘিরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    সতর্কতামূলক পদক্ষেপ

    আমেরিকা দূতাবাসে (US Embassy) কর্মীদের চলাচলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি হলে দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশে (Bangladesh Election) নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে গণভোটের বিষয়টি সামনে আসায় রাজপথে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে এবার।

  • Ramakrishna 570: “মা হৃদয়ে থাকুন! সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন”

    Ramakrishna 570: “মা হৃদয়ে থাকুন! সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর
    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শ্যামপুকুরের বাটীতে ভক্তসঙ্গে

    শ্রীশ্রীবিজয়া দশমী। ১৮ই অক্টোবর, ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দ (৩রা কার্তিক, ১২৯২, রবিবার)। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) শ্যামপুকুরের বাটীতে আছেন। শরীর অসুস্থ — কলিকাতায় চিকিৎসা করিতে আসিয়াছেন। ভক্তেরা সর্বদাই থাকেন, ঠাকুরের সেবা করেন। ভক্তদের মধ্যে এখন কেহ সংসারত্যাগ করেন নাই—তাঁহারা নিজেদের বাটী (Kathamrita) হইতে যাতায়াত করেন।

    সুরেন্দ্রের ভক্তি—‘মা হৃদয়ে থাকুন’

    শীতকাল সকাল বেলা ৮টা। ঠাকুর অসুস্থ, বিছানায় বসিয়া আছেন। কিন্তু পঞ্চমবর্ষীয় বালকের মতো, মা বই কিছু জানেন না। সুরেন্দ্র আসিয়া বসিলেন। নবগোপাল, মাস্টার ও আরও কেহ কেহ উপস্থিত আছেন। সুরেন্দ্রের বাটিতে ৺দুর্গাপূজা হইয়াছিল। ঠাকুর যাইতে পারেন নাই, ভক্তদের প্রতিমা দর্শন করিতে পাঠাইয়াছিলেন (Kathamrita)। আজ বিজয়া, তাই সুরেন্দ্রের মন খারাপ হইয়াছে।

    সুরেন্দ্র—বাড়ি থেকে পালিয়ে এলাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (মাস্টারকে)—তাহলেই বা। মা হৃদয়ে থাকুন!

    সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন।

    ঠাকুর সুরেন্দ্রকে দেখিতে দেখিতে অশ্রু বির্সজন করিতেছেন। মাস্টারের দিকে তাকাইয়া গদ্‌গদস্বরে বলিতেছেন (Kathamrita), কি ভক্তি! আহা, এর যা ভক্তি আছে!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—কাল ৭টা-৭৷৷টার সময় ভাবে দেখলাম, তোমাদের দালান। ঠাকুর প্রতিমা রহিয়াছেন, দেখলাম সব জ্যোতির্ময়। এখানে-ওখানে এক হয়ে আছে। যেন একটা আলোর স্রোত দু-জায়গার মাঝে বইছে!—এবাড়ি আর তোমাদের সেই বাড়ি!

LinkedIn
Share