Tag: Madhyom

Madhyom

  • Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১৮ জুলাই শনিবার, বিপত্তারিণী পুজো। প্রত্যেক বছর আষাঢ় মাসে রথযাত্রা এবং উল্টোরথের মধ্যে যে শনি এবং মঙ্গলবার পড়ে সেই দুই দিনেই পালিত হয় বিপত্তারিণী ব্রত উত্‍সব। কথিত আছে, এই ব্রত পালন করার সময় দেবীর চরণে উৎসর্গকৃত ‘লাল তাগা’ বা লাল সুতো হাতে বাঁধা থাকলে বিপদ ধারকাছেও ঘেঁষতে পারবে না। এবছর, আজ এবং ২১ জুলাই, মঙ্গলবার পালিত হবে বিপত্তারিণী ব্রত।

    যিনি বিপদকে তারণ করেন তিনিই বিপত্তারিণী

    দেবাদিদেব মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী, আদি শক্তি হলেন দেবী দুর্গা। অন্যান্য দেবী তাঁরই অবতার বা ভিন্ন রূপ। দেবী দুর্গার ১০৮ রূপের মধ্যে এক রূপ, দেবী বিপত্তারিণী। সঠিক অর্থে বিশ্লেষণ করলে ‘বিপত্তারিণী’ বা ‘সঙ্কটনাশিনী’ দেবীর নাম নয়, উপাধি। যিনি বিপদ তারণ করেন, তিনিই বিপত্তারিণী। আবার সব রকমের সঙ্কটকে বিনাশ করেন, তাই তিনিই সঙ্কটনাশিনী। আসলে, মহামায়ার আলাদা করে কোনও নাম হয় কি? ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ ইনিই। আবার ‘দশমহাবিদ্যা’ও তাঁরই রূপের প্রকাশ।

    স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় বিপত্তারিণী

    বাংলায় ঘরে ঘরে বিবাহিত মহিলারা স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় মা বিপত্তারিণী পুজো করেন। গ্রামাঞ্চলে বিপত্তারিণী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর আরাধনা করা হয়। মহিলারা গঙ্গা বা কোনও নদীতে স্নান করে দণ্ডী কাটেন। তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়। বিপত্তারিণী পুজো উপলক্ষে মেয়েরা উপবাস করেন। কিন্তু জানেন কি এই পুজোর মাহাত্ম্য? দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত রয়েছে। দেবীর বিপত্তারিণী রূপ নিয়ে ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কাহিনীটি বেশ জনপ্রিয়—

    ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কী বলা হয়েছে?

    কথিত আছে, শুম্ভ-নিশুম্ভ, অসুর ভ্রাতৃদ্বয়ের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে দেবগণ একবার মহামায়ার স্তব করছেন, এমন সময় শিবজায়া পার্বতী সেখানে হাজির হয়ে শুধালেন, “তোমরা কার স্তব করছ গো?” যাঁর স্তব, তিনি স্বয়ংই এ প্রশ্ন করছেন। কিন্তু দেবতারা তাঁকে চিনতে পারলেন না। তখন পার্বতী নিজের স্বরূপ দেখিয়ে বললেন, “তোমরা আমারই স্তব করছ।” এর পরবর্তীতে দেবী শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করেন। দেবতাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন। সেই থেকে বিপত্তারিণী পুজোর উৎস।

    দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত

    এই পুজোর একটি কাহিনি রয়েছে। ব্রতকথা অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের এক রানির এক নিম্নবর্ণের সখী ছিলেন। তিনি জাতে মুচি। এই মহিলা নিয়মিত গোমাংস খেতেন। রানিও একদিন কৌতূহলী হয়ে গোমাংস খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। প্রথমে তিনি নিমরাজি হন। পরে তিনি রানির আদেশ রক্ষার্থ গোমাংস আনেন। অন্তঃপুরে গোমাংস প্রবেশ করেছে— এই খবর রাজার কাছে পৌঁছে যায়। তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে রানিকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন। রানি গোমাংস তাঁর বস্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে রেখে বিপত্তারিণী মা দুর্গাকে স্মরণ করতে থাকেন। রানিকে তল্লাশি করে রাজা দেখতে পান তাঁর বস্ত্র আড়ালে গোমাংস নয়, রয়েছে একটি লাল জবা ফুল। লাল জবা কালী পুজোর অন্যতম উপকরণ। মায়ের এই পুষ্প দেখে রাজা তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। রানিকে ক্ষমা করে দেন। মা বিপত্তারিণী দুর্গার কৃপায় রানির বিপদ কেটে গেল। এরপর থেকে রানি নিষ্ঠা-সহকারে বিপত্তারিণীর ব্রত করতে থাকলেন। সেই থেকেই বিপত্তরিণীর পুজো প্রচলিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ব্রত পালনে কী কী লাগে?

    ঘট, আম্র পল্লব, শীষ সহ ডাব, একটি নৈবেদ্য, ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো (সঙ্গে ১ত টি দূর্বা বাঁধা), ১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি দূর্বা, ১৩টি পান ও ১৩টি সুপুরি।

    এই পুজোয় তেরো সংখ্যার তাৎপর্য

    এই পুজোর একটা বিশেষ নিয়ম হল সবকিছু ১৩টা করে উৎসর্গ করতে হয় দেবীকে। ব্রতর আচার হিসেবে সব কিছু দিতে হয় তেরোটি করে। যেমন— তেরোটি নৈবেদ্য সাজাতে হয়। ব্রত পালনে লাগে তেরো রকম ফুল, তেরো রকম ফল, তেরোটি পান, তেরোটি সুপুরি, তেরোটি এলাচ। এছাড়া, বিপত্তারিণী ব্রতপালনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে হাতে বাঁধতে হয় লাল ডুরি বা ডোর বা তাগা। এই ডোর তৈরির ক্ষেত্রেও তেরো সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। তেরো গাছা লাল সুতোর সঙ্গে তেরোটি দূর্বা রেখে তেরোটি গিঁট বেঁধে তৈরি হয় এই পবিত্র তাগা বা ডোর। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে তাঁকে কোনও বিপদ স্পর্শ করতে পরে না৷

    লাল রঙের তাগা কেন বাঁধা হয়

    বিপত্তারিণীর পুজো শেষে হাতে লাল তাগা বাঁধার চল রয়েছে। মেয়েরা এই তাগা বাঁ হাতে পরেন আর ছেলেরা ডান হাতে পরেন। সেই তাগাতেও ১৩টি গিঁট বাঁধা হয়। সেই ১৩টি গিঁটে দেবী দুর্গার ১৩টি রূপে বিরাজ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ১৩টি গিঁট ছাড়াও তাতে ১৩টি দূর্বাঘাস বাঁধা হয়। এই তাগা অনেকে সারা বছর ধরে পরে থাকেন, অনেকে আবার তিন দিন পরার পর নদী বা পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে বিপদ কোনও দিন আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

    খাবারেও ১৩ সংখ্যা আবশ্যিক

    বিপত্তারিণী পুজোর শেষে সকলেই হাতে ওই ডোর বেঁধে দেওয়া হয়৷ মেয়েরা বাম হাতে ও ছেলেরা ডান হাতে এটি পরেন৷ এটি শুধু ব্রত পালন যিনি করছেন তিনিই যে বাঁধেন তা নয়, পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাঁধেন বিপন্মুক্তির জন্য৷ ব্রতপালনের পর খাবার যা খেতে হয়, সেখানেও ১৩ সংখ্যা রাখা আবশ্যিক৷ মায়েরা প্রসাদ হিসেবে খান, তেরোটি লুচি বা পরটা সঙ্গে তেরো রকমের ফল। চাল-চিঁড়ে-মুড়ি এসব খাওয়া যায় না৷ ফল বা ময়দার রান্না যাই খাওয়া হোক না কেন সেটা ১৩ সংখ্যায় গ্রহণ করার কথাই ব্রতে বলা হয়৷ তবে যদি সেটা না হয় তাহলে পুজো মিটে যাওয়ার পর বিজোড় সংখ্যাতেও খাদ্যগ্রহণ করা যায়৷

    বিশ্বাস করা হয়, বিপত্তারিণী পুজো (Bipadtarini Puja) করলে শুধু বিপদই নয় অর্থ সঙ্কট থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। এবং ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ হয়। তবে, বিপত্তারিণী পুজোর বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে, যা নিয়ম নিষ্ঠা করে পালন করতে হয়। তবে না জেনে এই বিপত্তারিণী পুজো করলেই হতে পারে চরম বিপদ।

  • Suvendu in Bankura: “আপনার হাতে অনেক সময়, এসে দেখে যাবেন” বাঁকুড়ায় স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Suvendu in Bankura: “আপনার হাতে অনেক সময়, এসে দেখে যাবেন” বাঁকুড়ায় স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্যাম স্টিল প্ল্যান্টের সম্প্রসারণ ঘটলে ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পের উদ্বোধনে শুক্রবার বাঁকুড়ায় গিয়ে এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ফের রাজ্যের বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার শিল্পকে চূড়ান্ত অবহেলা করেছে। তারা কিছুই করে যায়নি শিল্পের জন্য। এমনকী রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেজিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এসেছে বলেই বিমুখ শিল্পপতিরা বাংলায় ফিরছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার বিজেপি সরকার না এলে শ্যাম স্টিল ওড়িশায় চলে যেত। বাংলার মানুষ বেঁচে গিয়েছে। তৃণমূল গিয়েছে বাংলা-বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। বাংলায় বন্ধ হয়েছে গুন্ডা ট্যাক্স। বাংলায় ফিরছেন বিমুখ শিল্পপতিরা।”

    কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে

    বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা এলাকার জমি সব বৃষ্টিনির্ভর ও একফসলি। সেখানেই মেজিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্যাম স্টিলের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কর্মসংস্থান আগেই হয়েছে। এখন কোম্পানির কর্তৃপক্ষ কারখানার সম্প্রসারণ করতে চলেছেন। কোম্পানি সূত্রে খবর, কোম্পানির ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টকে আরও বৃহৎ ও অত্যাধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে বাঁকুড়া জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এই প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এখানে বিনিয়োগের জন্য এসেছি। প্রচুর মানুষের কাজ হবে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম— এই সব জায়গায় শিল্প না আনতে পারলে, এখানকার উন্নয়ন হবে না। অনুসারী শিল্পের প্রসারও ঘটবে না। এখানকার প্রত্যেকটা গ্রাম থেকে হাজার হাজার ছেলেমেয়ে বাইরের রাজ্যে চলে গিয়েছেন কাজের জন্য। তারাও ফিরে আসবেন না। এখন যেটা হচ্ছে, সেটা বাংলার পক্ষে ভালো উদ্যোগ।’

    মমতাকে খোঁচা শুভেন্দুর

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেজিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনার হাতে অনেক সময় আছে। প্ল্যান্টের ভিতর এসে দেখে যাবেন। এতদিন কথায় কথায় বিশেষ করে মাড়োয়াড়ি, গুজরাতিদের বহিরাগত বলতেন। বলতেন উত্তর প্রদেশ করতে দেব না। আমি অভিভূত, প্ল্যান্টে মন্দির তো আছেই, নন্দী মহারাজ তো আছেই, গো শালা তো আছেই, সঙ্গে নেতাজি, রবীন্দ্রনাথের মূর্তিও রয়েছে। আপনি এসে দেখে যাবেন। সরকারি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেব।” এদিন তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, দশকের পর দশক ধরে বাংলা বঞ্চনার শিকার। আগের সরকার শিল্পকে অবহেলা করেছে। বর্তমান সরকার শিল্প আনতে চায়। এই সরকারের সঙ্গে শিল্পপতিদের সম্পর্ক প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ক নয়। বাংলার যে শিল্পায়নের কথা বলছি আমরা, তার তো পার্টনার শিল্পপতিরা। এত দিন যে বিজ়নেস সামিট হয়েছে, সে সব বোগাস। ও সব ঢক্কানিনাদ। আমি শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে দেখলাম, আমিই তো স্টার্ট আপ মন্ত্রী। আমার পূর্বসূরিরা কিছুই রেখে যাননি, কিছুই করে যাননি। এটা দুর্ভাগ্যজনক।’

    কারাখানা বন্ধ করলেই কড়া পদক্ষেপ

    কারখানায় তালা বন্ধ করলেই হাজতবাস। কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইন শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। এজন্য গুন্ডা দমন আইন আনা হয়েছে। কারখানার গেটে তালা লাগালে গ্রেফতার হবে। কারখানা ভেঙে দিলে তিনগুণ আদায় করব। কারখানায় ভাঙচুর করলেই অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব।”

    শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান

    শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “৩৪ বছর বামেদের আমলে গুলি করে জমি নিয়েছে। তৃণমূল গত ১৫ বছরে বলেছে আমরা জমি দিতে পারব না, শিল্পপতিরা নিজেরা জমি কিনে নিক। আমরা জমি কিনে শিল্পপতিদের দেব। রাজ্য সরকারের একটা দায়িত্ব আছে। পঞ্চায়েত পুরসভায় অনুমতি নিতে হলে আগে শুনতে হত আমাদের একটু দেখুন। ১০০ কোটির বেশি বিনিয়োগ করলে কোনও পঞ্চায়েত, পুরসভায় আপনাদের যেতে হবে না। এবং প্রথম ২ বছর জল, বিদ্যুৎ সব দেব। ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে কেউ আসবে না। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। এই সরকার পরিকাঠামোর জন্য এয়ারপোর্ট, রেল, সি-পোর্ট সব করে দেবে।”

  • BLA Attacks Pak Military Convoy: পাক সেনা কনভয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি জওয়ান! দাবি বিএলএ-র

    BLA Attacks Pak Military Convoy: পাক সেনা কনভয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি জওয়ান! দাবি বিএলএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশ আবারও যুদ্ধক্ষেত্র পরিস্থিতি। মাস্তুং জেলায় সেনা কনভয়ে অতর্কিত হামলা বালোচ লিবারেশন আর্মির (BLA Claims Attacks on Pakistani Military Convoy)। হামলায় নিহত ৪৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা জওয়ান। হামলাটির নেপথ্যে ছিল বিএলএ-এর বিশেষ কমান্ডো ইউনিট। অবশ্য এই হামলার খবরকে ভুয়ো ও অসত্য বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাক সেনা।

    কীভাবে হামলা (BLA Claims Attacks on Pakistani Military Convoy)?

    বিএলএ-এর দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, কোয়েটা-করাচি মহাসড়কের খাদকোচা (Khadkocha) এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। বিএলএ-এর দাবি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জওয়ানদের বহনকারী বাসের একটি বড় বহরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় বালোচ সেনার বিশেষ এলিট ফোর্স ‘ফাতাহ স্কোয়াড’। প্রাথমিক হামলার পর ঘটনাস্থলে যখন অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা (Reinforcements) উদ্ধারকাজের জন্য পৌঁছয়, তখন তাদের উপরও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।

    ক্ষয়ক্ষতি

    বিএলএ-এর দাবি, হামলায় সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি বাস সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা ৪৫ ছাড়িয়ে গেছে। অভিযানের তীব্রতা বিবেচনা করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি ও হাসপাতালের তৎপরতা

    হামলার পর থেকেই ওই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে তুমুল লড়াই শুরু হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও থমথমে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাস্তুঙের স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে জরুরি অবস্থা (Emergency Alert) জারি করা হয়েছে। সমস্ত ডাক্তার ও চিকিৎসা কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আহত সেনাদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। তবে বিএলএ-এর এই দাবিগুলো স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কেন অশান্ত বালোচিস্তান (Balochistan)?

    বালোচিস্তানে (Balochistan) এই ধরনের সংঘাত নতুন কিছু নয়। দশকের পর দশক ধরে এখানে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ চলছে। এর মূল কারণগুলো হল, বালোচিস্তান পাকিস্তানের আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট। এখানকার বালোচ জাতিগোষ্ঠী সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের বাকি অংশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর বালোচিস্তানের কালাত রাজ্য স্বাধীন থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জোরপূর্বক এই অঞ্চলটি পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করে। বালোচদের অভিযোগ, তখন থেকেই তাদের উপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে এবং তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা হচ্ছে। নিজেদের অধিকার আদায় ও স্বাধীনতার দাবিতে বিএলএ-সহ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এখন দেখার এই লড়াই আর কতদূর এগোয়?

  • Murshidabad Accident: ‘গাফিলতি মানব না, কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য

    Murshidabad Accident: ‘গাফিলতি মানব না, কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, মুর্শিদাবাদ দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারের বৃষ্টিভেজা সকাল, আর তাতেই নেমে এলো ঘন অন্ধকার। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণে লেভেল ক্রসিং খোলা থাকার খেসারত দিতে হলো স্কুলপড়ুয়াদের। ট্রেনের ধাক্কায় খেলনা গাড়ির মতো দুমড়ে-মুচড়ে গেল একটি স্কুলগাড়ি। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় (Murshidabad Accident) ৪ শিশু-সহ এখনও পর্যন্ত মোট ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহতদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা। মুর্শিদাবাদের ঘটনায় সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘটনার নেপথ্যে থাকা কোনও রকম প্রশাসনিক বা রেলের গাফিলতিকে রেয়াত করা হবে না। স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Murshidabad Accident)?

    প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, স্টেশন সংলগ্ন লেভেল ক্রসিংটি দুর্ঘটনার সময়ে খোলা ছিল। ক্রসিং খোলা দেখেই লাইনের উপর উঠে পড়েছিল স্কুলপড়ুয়া বোঝাই গাড়ি এবং এক সাইকেল আরোহী। ঠিক সেই মুহূর্তেই তীব্র গতিতে ছুটে আসে ট্রেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক বিপর্যয়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪ শিশু-সহ মোট ৫ জনের। ইতিমধ্যেই গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেল ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর। একই সঙ্গে কর্তব্যে গাফিলতি নিয়েও সুর চড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি লেখেন, “কোনও প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। রাজ্যের পুলিশ ইতিমধ্যেই রেলওয়ের গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। আমি কথা দিচ্ছি, যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা

    দুর্ঘটনার (Murshidabad Accident) খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসার নির্দেশ দেয় নবান্ন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত দায়ভার নিয়েছে রাজ্য। তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ও আহতদের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত হাসপাতালে যান মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। আহতের পাশে থাকার আশ্বাস মন্ত্রীর। এছাড়াও সকাল থেকেই ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল চত্বরে রয়েছেন জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপার (SP)।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তদারকি

    মুর্শিদাবাদের ঘটনার (Murshidabad Accident) তদারকিতে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি নিজে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।

    সুরক্ষায় তৎপর প্রশাসন

    এই কঠিন সময়ে কোনও রকম দোষারোপের রাজনীতিতে না গিয়ে, দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছে রেল ও রাজ্য সরকার। একদিকে যেমন রাজ্য সরকারের দ্রুত আর্থিক সাহায্য ও নিখরচায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা বিপর্যস্ত পরিবারগুলোকে বড় ভরসা জুগিয়েছে, অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষও দ্রুত তদন্ত শুরু করে সুরক্ষার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে। প্রশাসন ও রেলের এই যৌথ সংবেদনশীলতা এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দুই পক্ষই বদ্ধপরিকর। ঘরের সন্তানকে হারানোর এই ক্ষতি হয়তো পূরণ হওয়ার নয়, তবে সরকার ও রেলের এই সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যতের জন্য কঠোর নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসই এখন শোকস্তব্ধ এলাকায় সান্ত্বনার আলো দেখাচ্ছে।

  • Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস তৈরি করল ভারতীয় রেল। বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের (Hydrogen Train) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাথমিকভাবে হরিয়ানায় ৮৯ কিলোমিটার দূরত্বের জিন্দ-সোনিপত রুটে চলবে দূষণমুক্ত আধুনিক ইকো-ফ্রেন্ডলি প্রযুক্তির এই ট্রেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে সবুজ পতাকা নেড়ে ওই পরিবেশবান্ধব ট্রেন যাত্রার সূচনা করেন। এর ফলে, হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন পরিচালনাকারী দেশগুলির তালিকায় নাম জুড়ে গেল ভারতের। এদিন জিন্দের একলব্য স্টেডিয়ামে প্রায় ১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উদ্বোধনও করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন যাত্রার সূচনা করে এনডিএ সরকারের জমানায় নানা উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের সঙ্কট হলেও আমাদের কোনও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়নি। ২০১৪-র আগে হরমুজ সঙ্কট হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যেত!’’ পূর্বতন ইউপিএ সরকারের জমানায় জ্বালানি মজুত ও সরবরাহের বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল— এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেন মোদি।

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র উদাহরণ

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আদর্শ উদাহরণ বলেও চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মোদির দাবি, তাঁর ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশের ৯৯ শতাংশ রেলপথেরই বৈদ্যুতিকরণ হয়েছে। হাইড্রোজেন ট্রেনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার জিন্দের একলব্য স্টেডিয়াম থেকে কুরুক্ষেত্র অঞ্চলে নির্মিত এলিভেটেড রেলওয়ে ট্র্যাক জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। সেই সঙ্গে ১২,৪৭০ কোটি টাকার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ভিওয়ানির ‘পণ্ডিত নেকি রাম শর্মা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ’ এবং মহেন্দ্রগড়ের কোরিওয়াসে ‘মহর্ষি চ্যবন মেডিক্যাল কলেজ’ এবং ‘রাও তুলারাম হাসপাতাল’ হরিয়ানাবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। ঘটনাচক্রে, আর মাস সাতেক পরেই হরিয়ানার পড়শি রাজ্য পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মোদি শুক্রবার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শিখ ধর্মের ইতিহাস ও গুরুদের অবদান তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নেটমাধ্যমে কুরুক্ষেত্রের ‘শিখ মিউজিয়াম’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

    কী বিশেষত্ব হাইড্রোজেন ট্রেনের?

    গত ২২ মে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন–চালিত ট্রেনে যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় রেল বোর্ড। জানানো হয়েছিল, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন হতে চলেছে। হয়েছিল ট্রায়াল রানও। এ বার যাত্রী নিয়ে ট্র্যাকে ছুটবে রেল। হাইড্রোজেনকে বিশ্বের অন্যতম ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ হিসেবে ধরা হয়। তাই ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিবহণের দুনিয়ায় নতুন দিশা খুলে যেতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ। তা দিয়েই ছুটবে এই ট্রেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয় না। বেরয় শুধু জলীয় বাষ্প। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য বললেই চলে। এই কারণেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে ফসিল ফুয়েলের জায়গায় ধীরে ধীরে জায়গা নিচ্ছে হাইড্রোজেন জ্বালানি। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চিনের মতো দেশে ট্রেন-বাস চলছে হাইড্রোজেনে। এ বার এই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ভারতের নাম। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। রেল বোর্ডের তরফে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hydrogen for Heritage’।

    হাইড্রোজেন ট্রেনে নীল রঙের নকশা

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের নীল রঙটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন যাত্রীবাহী ট্রেনটি (যা ২০১৮ সাল থেকে জার্মানিতে চলছে) উজ্জ্বল নীল রঙের। কানাডা, জাপান এবং চীনে চলাচলকারী হাইড্রোজেন ট্রেনগুলোও নীল রঙের। আসলে, হাইড্রোজেন ট্রেন জলের (H₂O) সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সাধারণ ট্রেন ডিজেল বা বিদ্যুতে চলে, কিন্তু হাইড্রোজেন ট্রেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে কাজ করে। এর জন্য ট্রেনের বিশেষ ট্যাঙ্কে হাইড্রোজেন গ্যাস ভরা হয়। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেন + অক্সিজেন বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এবং শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। এতে কোনও ধোঁয়া বা দূষণ হয় না, এবং একে সবুজ বা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি বলা হয়। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে যখন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়, তখন শুধু জল (H₂O) উৎপন্ন হয়। নীল রঙকে জল, আকাশ এবং পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপানের হাইবারি ট্রেনটিও নীল রঙের এবং এতে জলের নকশা রয়েছে। জার্মানির হাইড্রোজেন ট্রেন, কোরাডিয়া আইলিন্ট, সেটিও উজ্জ্বল নীল রঙের। ফলস্বরূপ, ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনটিও নীল রঙের হবে।

    কোন কোন রুটে চলবে?

    হরিয়ানার জিন্দ (Jind) থেকে সোনিপত (Sonipat) পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে চলবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। পথে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা এবং বারওয়াসনি হল্ট-সহ একাধিক স্টেশনে থামবে। ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই রুটে সফল যাত্রার পরে কালকা-শিমলা রুটেও চালু হতে পারে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন।

    কত হবে ট্রেনের গতি?

    ভারতীয় রেল জানিয়েছে, ২৪০০ কিলোওয়াটের ইঞ্জিন নিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি বেগে ছুটতে পারবে এই ট্রেন। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। জিন্দে হাইড্রোজেল রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ভরা হবে। তবে শুধু গতি নয়, ট্রেনের ডিজ়াইন ও পরিষেবাতেও রয়েছে চমক। থাকছে দু’টি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রিবাহী কোচ। ২,৬০০ জন যাত্রী নিয়ে মোট ১০টি কোচ ছুটবে। প্রতিটি পাওয়ার কারে থাকছে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণের বিশেষ সিলিন্ডার। পাওয়ার কারগুলি ১,২০০ কিলোওয়াট (প্রায় ১,৬০০ হর্সপাওয়ার) শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।

  • Amit Shah WB Visit: চিকেনস নেক ও সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ জোর! ৩ দিনের মেগা সফরে বাংলায় অমিত শাহ

    Amit Shah WB Visit: চিকেনস নেক ও সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ জোর! ৩ দিনের মেগা সফরে বাংলায় অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের কৌশলগত ও ভৌগলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ (Chickens Neck Security)। এবার ‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah WB Visit)। তিন দিনের মেগা সফরে বাংলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ১৮ ও ১৯ জুলাই- ঠাসা প্রশাসনিক ও কৌশলগত কর্মসূচি রয়েছে শাহের। বঙ্গে নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও সীমান্ত সুরক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক মহল।

    ‘চিকেনস নেক’ (Chickens Neck Security) বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা

    ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি করিডর, জলপাইগুড়ি ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ছাড়াও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, সুশাসন এবং একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনা ও শিলান্যাস করবেন অমিত শাহ।

    উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও জমি জট

    শিলিগুড়ি সংলগ্ন দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া এবং রাজগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক অংশে কাঁটাতারের বেড়াহীন উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। জমি জটিলতা, মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা ও স্থানীয় আপত্তির কারণে দীর্ঘদিন কাজ আটকে থাকলেও, বঙ্গে সরকার বদলের পর দ্রুত জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সফরসূচিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে এই কাজের বর্তমান অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নতুন ওয়াচ টাওয়ার ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে জাতীয় সড়কসহ স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলিতে বিশেষ আধুনিক ক্যামেরা বসানোর কাজও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করেছে পুলিশ। উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা ও শিলিগুড়ি মহকুমা ও দার্জিলিং জেলা আদালতে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলির আইনি অগ্রগতি সম্পর্কেও খোঁজ নিতে পারেন শাহ।

    ‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষা ও জুম্মাগছ সীমান্ত পরিদর্শন

    উত্তরবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষাকে পাখির চোখ অমিত শাহের। রাজ্য সফরের (Amit Shah WB Visit) দ্বিতীয় দিন, শনিবার সকালেই পরিদর্শন করবেন জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জুম্মাগছ ও বিএসএফ-এর ১৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের সীমান্ত চৌকি (BOP)। উল্লেখ্য, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই জুম্মাগছ এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে এই এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তাই পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক রয়েছে শিলিগুড়ি করিডরের সার্বিক সুরক্ষা নিয়েও। বিএসএফ-এর পরিকাঠামো উন্নয়ন বৈঠকের পাশাপাশি, একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন শাহের। জুম্মাগছ এলাকায় বিএসএফ-সংক্রান্ত একাধিক নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন তিনি।

    সুশাসন ও নতুন তিন ফৌজদারি আইনের পর্যালোচনা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠকও। শনিবারই উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে দেশে কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন—’ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS), ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (BNSS) এবং ‘ভারতীয় সাক্ষ্য আইন’ (BSA)- রাজ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেও পর্যালোচনা বৈঠক করবেন শাহ। একইসঙ্গে রাজ্যের জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা নিয়েও একটি বিশেষ বৈঠকের সম্ভাবনা।

    কলকাতার সূচি (Amit Shah Kolkata Visit)

    ১৯ জুলাই, সফরের (Amit Shah WB Visit) শেষ দিনে কলকাতায় আসবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রবিবার সকালে কলকাতায় রাজ্যের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি। আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে নবনির্মিত ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ডস’ (Museum of Words)-এর প্রথম পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

    আমূল ডেয়ারির (Amul) শিলান্যাস

    এদিনই কলকাতার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে আমূল ডেয়ারির (Amul) মেগা প্রজেক্টের শিলান্যাস করবেন অমিত শাহ। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই প্ল্যান্টটি হতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম দই প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট (Curd Processing Plant)। এর মাধ্যমে রাজ্যে নতুন লগ্নির পরিবেশ নিয়ে শিল্পপতিদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড় কোনও বার্তা দিতে পারেন বলেও মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

    বিজেপির পাখির চোখ বাংলা

    বঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বুঝিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গ দিল্লির বিশেষ অগ্রাধিকারের তালিকায়। গত ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। সে সময় শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির ভিত্তি স্থাপন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ও সীমান্ত সুরক্ষার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এক সৌজন্য সাক্ষাতেও গিয়েছিলেন অমিত শাহ। যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। আর এবার চিকেনস নেকের (Chickens Neck Security) নিরাপত্তা পর্যালোচনা। সবমিলিয়ে রাজ্যের হাল ফেরাতে ডবল ইঞ্জিন সরকার কোনওকিছুতেই যে খামতি রাখতে নারাজ, তা বলাই বাহুল্য।

  • US Iran War: রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য, ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি? মার্কিন হামলায় কাঁপল ইরান, পাল্টা নিশানায় কুয়েত-বাহরাইন-কাতারের মার্কিন ঘাঁটি

    US Iran War: রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য, ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি চুক্তি? মার্কিন হামলায় কাঁপল ইরান, পাল্টা নিশানায় কুয়েত-বাহরাইন-কাতারের মার্কিন ঘাঁটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ছড়াচ্ছে আগুন। জর্ডান থেকে ওমান, কাঁপল একাধিক দেশ। সুইৎজারল্যান্ড বৈঠকের পরেই ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে নতুন করে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। ক্রমশ চরম আকার নিচ্ছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত। ষষ্ঠ রাতেও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন সামরিক বাহিনীর। মার্কিন হামলার পাল্টা হিসেবে বাহরাইন, কাতার, ওমান, কুয়েত, জর্ডান এবং সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। হামলা-পাল্টা (US Iran War) হামলায় পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য।

    হামলায় (US Iran War) এখনও পর্যন্ত নিহত

    গত ২২ জুন, সুইৎজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি আলোচনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সূত্র অনুযায়ী, তারপর থেকেই মার্কিন হামলায় ইরানে (US Iran War) এখনও পর্যন্ত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতের হামলায় নিহত ৮ জন।

    ইরানে কোথায় কোথায় হামলা আমেরিকার?

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইরানের উপর সর্বশেষ বড় মাপের হামলাটি চালানো হয়। আমেরিকা নির্দিষ্ট জায়গার নাম না জানালেও ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটির অন্তত ৬টি সেতু, একটি রেল স্টেশনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের যে সেতুগুলি ধ্বংস হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, বান্দার আব্বাস থেকে খেমির ও লারা সংযোগকারী গারিভেহ সেতু। লাতিদান গ্রামের কাছের একটি সেতু। কাহুরেস্তান-লার রুটের দুটি সেতু। বন্দর আব্বাস ও খেমির সংযোগকারী একটি নির্মাণাধীন সেতু ও খেমির জেলার মারু গ্রামের একটি সেতু। এছাড়াও বিদ্যুৎ লাইনে আঘাতের জেরে বান্দার আব্বাস ও তার আশেপাশের গ্রামগুলো পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। তবে বর্তমানে কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।

    ইরানের পাল্টায় কাঁপল কোন কোন দেশ?

    শুক্রবার সকালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (IRGC) আমেরিকার বিরুদ্ধে ১৩তম পাল্টা হামলা (US Iran War) চালায়। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে:

    • কাতার: শুক্রবার ভোরে কাতারে পরপর দুটি সতর্কতা জারি করা হয়। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো কাতারের আকাশেই ধ্বংস করে দেয় তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে দোহার আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পর তার ভাঙা টুকরো (Shrapnel) গায়ে পড়ে এক শিশু আহত হয়েছে।

    • বাহরাইন: এদিন সকালে বাহরাইনেও বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    • ওমান: ওমানের ঘানিম অঞ্চলে মার্কিন এয়ার কন্ট্রোল রেডার এবং হরমুজ প্রণালীতে একটি মেরিটাইম রেডার ধ্বংস করার দাবি ইরানের। এছাড়াও ওমানের খাসাব থেকে ৩৫ কিমি দূরে একটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র।

    • কুয়েত: কুয়েতের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ইরানের হামলায় আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রেডার, অস্ত্রাগার এবং দুটি হিমার্স (HIMARS) মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস হয়।

    • জর্ডান ও সিরিয়া: জর্ডানের সেনাবাহিনী তাদের আকাশে তিনটি ইরানি মিসাইল গুলি করে নামিয়েছে। যদিও এতে কোনও হতাহতের খবর নেই। অন্যদিকে, সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের কমান্ড সেন্টারেও হামলা ইরানের।

    আমেরিকা ও ইরানের নেতারা কী বলছেন?

    ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি সরাসরি আমেরিকাকে দোষারোপ করেছেন। তাঁর দাবি, ‘‘হরমুজ প্রণালী আর কোনওদিন আগের অবস্থায় ফিরবে না।’’ অন্যদিকে, এই যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিস্ফোরক দাবি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের (JD Vance)। ইজরায়েল সরকারের কিছু সদস্য আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যাতে আমেরিকা ইরানের সঙ্গে কোনও শান্তি চুক্তি না করে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। দাবি ভ্যান্সের।

    কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে গত ২২ জুন সুইৎজারল্যান্ডে উভয়পক্ষ ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা পর্বে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই মুহুর্মুহু হামলা ও পাল্টা হামলার (US Iran War) জেরে সেই শান্তি প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি খাদের কিনারায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আর কেবল ওয়াশিংটন ও তেহরানের দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ক্রমশ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শান্তি চুক্তির আশা ম্লান হয়ে আসায় এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে চরম উদ্বেগ। এখন দেখার, আলোচনার টেবিল ফের কার্যকর হয়, নাকি ধ্বংসের এই চাকা আরও ঘূর্ণায়মান রূপ নেয়।

  • Parliament Monsoon Session: সংসদের বাদল অধিবেশনে আসছে ৫টি নতুন বিল, কর ও বিচার ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের উদ্যোগ

    Parliament Monsoon Session: সংসদের বাদল অধিবেশনে আসছে ৫টি নতুন বিল, কর ও বিচার ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদ অধিবেশন নিয়ে টানটান উত্তেজনা। আসন্ন বাদল অধিবেশনে (Parliament Monsoon Session) গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস নিয়ে চরম তৎপরতা শুরু শাসক শিবিরে। অন্যদিকে, বিল নিয়ে অবস্থানের ইস্যুতে আরও ভাঙ্গনের মুখে ইন্ডিয়া জোট (INDIA Alliance)। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু সংসদের বাদল অধিবেশন। লোকসভার সচিবালয়ের জারি করা বুলেটিনে জানানো হয়েছে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ, আলোচনা ও পাশ করানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। শিক্ষা, কর ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, এমএসএমই (MSME) খাত, জাতীয় প্রশাসন ও বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মোট সাতটি বিল সংসদে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিল বিবেচনা ও পাসের জন্য, এবং পাঁচটি নতুন বিল উত্থাপনের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক আইন প্রণয়ন সূচি। অধিবেশন চলাকালীন প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বিল আনা হতে পারে।

    বাদল অধিবেশনে সংসদে কোন সাতটি বিল

    বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল ২০২৬ (FCRA): মূলত বেসরকারি এনজিও-গুলির সম্পদ এবং তাদের সাহায্যের নামে আসা বিদেশি অনুদানের উপরে নজরদারি আরও কড়া করতেই এই বিলের উদ্দেশ্য৷ গত মার্চ মাসেও বিলটি লোকসভায় পেশ করা হয়৷ প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, স্বেচ্ছায় সমর্পণ বা নবীকরণ না হলে, তাদের বিদেশি অনুদান ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ সরকার-নির্ধারিত একটি ‘অথরিটির অধীনে ন্যস্ত হবে।

    বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল ২০২৫: এই বিলটি আগেই যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল৷ তাদের রিপোর্ট জমা পড়লেই এই বিলটি সংসদে পেশ হতে পারে৷  এই বিলের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউজিসি, এআইসিটিই এবং এনসিটিু-এর পরিবর্তে একটি একক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠন করা হবে। জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো নিয়মকানুন সহজ করা, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাসনব্যবস্থা আরও কার্যকর করা। যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) রিপোর্ট জমা পড়ার পর বিলটি আলোচনায় আসতে পারে।

    সংসদে আসছে ৫টি নতুন বিল

    • ১. ইনকাম ট্যাক্স (সংশোধনী) বিল ২০২৬

    এই বিলের লক্ষ্য ভারতের সার্বভৌম ঋণ বাজারকে আরও শক্তিশালী করা, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যও রয়েছে।

    • ২. সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতিদের সংখ্যা সংক্রান্ত) সংশোধনী বিল ২০২৬

    সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব আনা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে ৩৭-এ নিয়ে যাওয়ার জন্য এই বিল আনা হচ্ছে ৷ এর মাধ্যমে বিচারাধীন মামলার চাপ কমানো এবং সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই সরকারের লক্ষ্য।

    • ৩. জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণ (সংশোধনী) বিল ২০২৬

    জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণের প্রক্রিয়ায় জোর দিতে আরও কড়া আইন আনতে চায় কেন্দ্র৷ যাতে জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়ায় দেরি না হয় এবং হলেও কড়া জরিমানা গুনতে হয়৷ এই লক্ষ্যেই জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণ (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পেশ করা হবে৷ জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও কার্যকর করতে এই সংশোধনী বিল আনা হচ্ছে।

    • ৪. জাতীয় সম্মানের অবমাননা (সংশোধনী) বিল ২০২৬

    ১৯৭১ সালের আইন সংশোধন করে সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় প্রতীক বা জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির বিধান আনতে চায় কেন্দ্র। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ব্যবস্থাও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    • ৫. এমএসএমই ডেভেলপমেন্ট (সংশোধনী) বিল, ২০২৬

    ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাকে আরও উৎসাহ দিতে রাজ্য সরকারগুলির হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার লক্ষ্য পেশ করা হবে এই বিল৷ ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-গুলিকে সময়মতো অর্থপ্রদান নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা আনা হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিকে এমএসএমই কাউন্সিল গঠনে আরও নমনীয়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে ব্যবসায়িক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।

    আর্থিক বিষয়েও আলোচনা

    আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের অতিরিক্ত ব্যয়ের (Demands for Excess Grants) অনুমোদন সংক্রান্ত আর্থিক বিষয়ও উত্থাপিত হবে।

    শৃঙ্খলাতেও থাকবে কড়া নজর

    অধিবেশন শুরুর আগেই সাংসদদের জন্য কড়া আচরণবিধিও জারি করেছে লোকসভার সচিবালয়। প্ল্যাকার্ড, বিক্ষোভ, সংসদ চত্বরে ধরনা, আগ্নেয়াস্ত্র বহন, ধর্মীয় আচার পালন, এমনকি এআই-নির্মিত ছবি বা অবমাননাকর পোস্টার ও স্লোগান ব্যবহার থেকেও সদস্যদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদের গেটের সামনে কোনও ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট— অধিবেশনে আইন পাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলাতেও থাকবে কড়া নজর।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

    আজ, ১৭ জুলাই এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সূত্রের খবর, নিট (NEET), ইথানল, রাম মন্দির-সহ একাধিক ইস্যুতে বিরোধী আক্রমণের মুখে এনডিএ শরিক দলের সাংসদের প্রতিরোধের এক সুর নিশ্চিত করতেই বৈঠক। একই সঙ্গে আলোচনা হবে একাধিক বিলের স্ট্র্যাটেজি নিয়েও। সংসদে অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। ইন্ডিয়া জোট ছেড়েছে ডিএমকে, আম আদমি পার্টি। এবার বর্ষীয়ান শরদ পাওয়ার হাত ছাড়লে বিরোধী বৃত্তে আরও একা হবে কংগ্রেস।

  • Rail Accident: লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলগাড়িতে ধাক্কা ট্রেনের! মৃত তিন পড়ুয়াসহ ৪, ‘মত্ত’ গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনা? তদন্তে রেল

    Rail Accident: লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় স্কুলগাড়িতে ধাক্কা ট্রেনের! মৃত তিন পড়ুয়াসহ ৪, ‘মত্ত’ গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে দুর্ঘটনা? তদন্তে রেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাতসকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মুর্শিদাবাদে (Murshidabad)। রেলগেট খোলা থাকায় লেভেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় (Rail Accident) পিষে গেল স্কুলগাড়ি। আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখার কর্ণসুবর্ণ স্টেশন এবং গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ডাউন লাইনে আসা একটি লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তিন স্কুলপড়ুয়া-সহ মোট চার জনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আরও চার পড়ুয়া এবং গাড়ির চালক। মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা। সিগন্যালের সমস্যা নেই, গেটম্যানের গাফিলতিতেই মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) বড় দুর্ঘটনা? তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ রেলের। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা রেলের।

    কীভাবে দুর্ঘটনা (Rail Accident)?

    স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনার ঠিক আগেই আপ লাইন ধরে হাওড়াগামী নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যায়। সেই সময় নিয়ম মেনেই গেট ফেলা ছিল। কিন্তু ট্রেনটি পার হওয়ার পরই কর্তব্যরত গেটম্যান রেলগেটটি তুলে দেন। সেইসময় নির্দিধায় রেল লাইন পেরোচ্ছিল একটি স্কুলগাড়ি। আর তখনই আচমকাই লাইনে চলে আসে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। লাইনের উপর গাড়িটি চলে আসায় চালক আর গাড়ি সরানোর সুযোগ পাননি। সরাসরি স্কুলভ্যান ও এক সাইকেল আরোহীকে সজোরে ধাক্কা মারে লোকাল ট্রেনটি (Rail Accident)। কার্যত দুমড়েমুচড়ে যায় পড়ুয়াভর্তি স্কুলভ্যান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিন পড়ুয়া এবং এক স্থানীয় বাসিন্দার। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িতে ছিল মোট ১০ জন পড়ুয়া। এই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় আরও চার পড়ুয়া এবং গাড়ির চালককে উদ্ধার করে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন পাঁচ জনের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    কাঠগড়ায় গেটম্যান: মদ্যপ থাকার অভিযোগ

    দুর্ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ট্রেনের সময়সূচি জানা থাকা সত্ত্বেও গেটম্যানের চরম অসতর্কতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটন। এমনকী পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই গেটম্যান মত্ত অবস্থায় ছিলেন। ইতিমধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেলের তরফে লেভেল ক্রসিং দুর্ঘটনার দায়ে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান এবং সুপারভাইজারকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ডও করা হয়েছে।

    রেলের অবস্থান- উচ্চপর্যায়ের তদন্ত

    পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে সিগন্যালের কোনও সমস্যা ছিল না। ট্রেন সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই আসছিল। যেহেতু এটি একটি ম্যানুয়ালি অপারেটেড ‘ইন্টারলকিং গেট’, তাই দুর্ঘটনার সময় গেটম্যানের ভূমিকা কী ছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রেল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। পূর্ব রেলের নির্দেশে ঘটনাস্থলে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তকারী দল। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য গঠন রেলের একটি মেডিক্যাল টিমও।

    শোকপ্রকাশ বিধায়কের

    মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে স্কুলগাড়িতে ট্রেনের ধাক্কার ঘটনায় (Rail Accident) তীব্র ক্ষোভ ও শোকপ্রকাশ বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্রের। তিনি বলেন, “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। এতগুলো স্কুল পড়ুয়ার এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঠিক কী কারণে? কার গাফিলতিতে এতগুলো তরতাজা প্রাণ চলে গেল? তা রেল কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা উচিত।”

    অধীর-রেলমন্ত্রী ফোনে কথা

    প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে যান বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সরাসরি রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধীর। এরপর ঘটনাস্থল থেকেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি জানান। এক লহমায় কয়েকটি পরিবারের সাজানো সংসার আর বুকভরা স্বপ্ন চুরমার। ভোরের আলো ফুটতেই যে তরতাজা হাসিমুখগুলো কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তাদের নিথর দেহ আর রক্তভেজা বইখাতাগুলো পড়ে রইল রেললাইনের ধারে। চারপাশে কান্নার রোল আর স্বজনহারা মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের আকাশ-বাতাস। কোনও সান্ত্বনা, কোনও ক্ষতিপূরণই যে আর এই শূন্য কোলগুলিকে ভরিয়ে তুলতে পারবে না- সেই চরম ও নির্মম বাস্তবকে সঙ্গী করেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা এলাকা।

  • India EU FTA: চূড়ান্ত পর্বে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, আগামী বছরের শুরুতেই খুলতে পারে নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত

    India EU FTA: চূড়ান্ত পর্বে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, আগামী বছরের শুরুতেই খুলতে পারে নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পরে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India EU FTA)। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, চুক্তির আইনি দিক যাচাইয়ের কাজ আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হবে (Trade Pact)। এরপর উভয় পক্ষের অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা। তাঁর দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দ্রুত অনুমোদিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলির অন্যতম হতে পারে।

    কী বললেন পীযূষ গোয়েল (India EU FTA)?

    ১৪ জুলাই স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে ভারত-স্পেন ব্যবসায়িক মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আইনি দিক যাচাই আগামী এক বা দু’সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে।”  তিনি এও জানান, ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে এবং তার কয়েক মাস পরেই ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তিও বাস্তবায়নের পথে এগোবে। মন্ত্রী জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। একইভাবে ভারতের মধ্যেও এই চুক্তিকে ঘিরে কোনও উল্লেখযোগ্য আপত্তি বা মতভেদ নেই। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য দেশ সম্পূর্ণ একমত। ভারতেও এই চুক্তি নিয়ে কোনও অসন্তোষ বা আপত্তির সুর শোনা যাচ্ছে না।”

    বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা

    প্রায় দু’দশক ধরে চলা আলোচনা ও একাধিক দফার দরকষাকষির পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। বর্তমানে চুক্তির আইনি ভাষা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। এরপর তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সরকারি ভাষায় অনুবাদ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনসভাগুলিতে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই চুক্তি কার্যকর হবে। গোয়েল জানান, বিশ্বের মোট অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেই কারণে এই চুক্তি শুধু দু’পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

    পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রভাব

    মন্ত্রী এই চুক্তিকে ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং উভয় পক্ষের স্বার্থরক্ষাকারী বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলিও ইউরোপের বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে পারবে (Trade Pact)। তিনি জানান, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, যাতায়াত ব্যবস্থা, রেলপথ, পরিকাঠামো, উদ্ভাবন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের মতো একাধিক ক্ষেত্রে এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি পণ্য, পরিষেবা এবং দক্ষ জনশক্তির যাতায়াতের ক্ষেত্রে নানা বাধা কমবে। সরকারে-সরকারে এবং ব্যবসায়-ব্যবসায় সহযোগিতাও আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁর আশা।

    স্রেফ শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নয়

    গোয়েলের মতে, এই চুক্তিকে শুধুমাত্র শুল্ক কমানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারস্পরিক স্বীকৃতি ব্যবস্থা, শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করবে এই চুক্তি (India EU FTA)। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতা, একাধিক যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত বিশ্বের দ্রুততম বিকাশমান প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, “দুটি যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মুক্ত ও উন্মুক্ত বাজার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ।”

    ভারত ও স্পেনের মধ্যে বাণিজ্য

    একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক গতি কিছুটা মন্থর হলেও, স্পেন তুলনামূলকভাবে ভালো অর্থনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। ফলে ভারত ও স্পেনের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য এটি একটি অনুকূল সময়। ভারত-স্পেন সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে গোয়েল একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনারও প্রস্তাব দেন। তিনি আগামী দশ বছরে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ দশ গুণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। বর্তমানে ভারত ও স্পেনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও কম (Trade Pact)। এই লক্ষ্য সামনে রেখে মন্ত্রী বলেন, “আগামী ১০ বছরে ভারত ও স্পেনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০ গুণ বাড়ানো কি সম্ভব নয়? দুই দেশের মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা ১০ গুণ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগও ১০ গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা কি করা যায় না?”

    অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী!

    তিনি এও বলেন, “এই লক্ষ্য হয়তো অনেকের কাছে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী মনে হতে পারে। কিন্তু বড় পরিবর্তন আনতে গেলে বড় লক্ষ্য স্থির করতেই হয়। ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা ছাড়িয়ে যাওয়া সহজ। প্রকৃত সাহস হল বড় স্বপ্ন দেখা এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা।” মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রায় ৩০০টি স্প্যানিশ সংস্থা ভারতে ব্যবসা করছে। আর ১০০টির মতো ভারতীয় সংস্থা স্পেনে ব্যবসা করছে। তাঁর মতে, দুই দেশেরই উচিত একে অপরের দেশে আরও বেশি করে বিনিয়োগ করা, মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানো, পর্যটন, শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তির আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এই প্রক্রিয়াকে আরও গতি দেবে বলেও মনে করেন তিনি।

    বৈঠকে গোয়েল

    এদিকে, ১৪ জুলাই ইউরোপীয় কমিশনের কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টোফ হ্যানসেনের সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। বৈঠকে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কৃষি ও খাদ্য খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয় (India EU FTA)। বিশেষ করে শক্তিশালী কৃষি-খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা, কৃষকদের সহায়তা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মত বিনিময় করে দু’পক্ষই। বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় গোয়েল লেখেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সফল সমাপ্তির ভিত্তিতে আমরা কৃষি অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার নানা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। শক্তিশালী কৃষি-খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলা, খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি, কৃষকদের সহায়তা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল।”

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক

    এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আর শুধু শুল্ক হ্রাস বা বাণিজ্য বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিক্ষা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো একাধিক ক্ষেত্রকে ঘিরে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার দিকেই এগোচ্ছে দুই পক্ষ। আইনি যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হলে এই (Trade Pact) চুক্তি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের (India EU FTA)।

     

LinkedIn
Share