Tag: Madhyom

Madhyom

  • Nepal Floods: নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়-সহ ৩৮৪ পর্যটক

    Nepal Floods: নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়-সহ ৩৮৪ পর্যটক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Floods) অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিদেশিদের তালিকায় রয়েছেন ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ভোতে কোশি নদীর জল আচমকা বেড়ে গিয়ে রাসুয়া, ধাদিং এবং কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নুয়াকোট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াল বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতে নদীর আশপাশের (Indians Missing) বহু বসতি, বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেসে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, নদীতীরবর্তী একাধিক এলাকায় যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্যায় নেপালে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্তারা। নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের পাশাপাশি রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকও। ফলে এই বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু নেপালের পর্যটন ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, একাধিক দেশের নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    নদীর জল বাড়তেই তছনছ বিস্তীর্ণ এলাকা (Nepal Floods)

    স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোতে কোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার পর প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ে রাসুয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। নদী তীরবর্তী বসতিগুলির বহু বাড়িঘর মুহূর্তের মধ্যে জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু যানবাহন স্রোতে ভেসে যায়, ভেঙে পড়ে একটি আস্ত ধাতব সেতু। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নদীর দু’পাশে থাকা গোটা গোটা বসতি বানের জলে তলিয়ে যায়। টেলিভিশন সম্প্রচারে দেখা গিয়েছে, বহু বাড়ি চারদিক থেকে বন্যার জলের মধ্যে আটকে গিয়েছে। কোথাও আবার প্রবল স্রোতে যানবাহন ভেসে যাচ্ছে, কোথাও ভেঙে পড়ছে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ (Indians Missing) সেতু। রাসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নদীর আশপাশে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখানে ব্যাপক প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।” তাঁর এই সতর্কবার্তার পর নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে (Nepal Floods)।

    আত্মীয় নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আতঙ্ক

    বন্যার ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে রাসুয়ার এক স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বি কে জানিয়েছেন, নদীর পাশের বহু বসতি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “যেদিকেই তাকাই, সর্বত্র ধ্বংসের চিত্র দেখতে পাচ্ছি। নদীর পাশের বসতিগুলি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। আমার নিজের পাঁচজন আত্মীয়ও নিখোঁজ।” এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন তাঁদের পরিবারগুলি। বিশেষ করে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসার পর তাঁদের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজে বাধা

    নেপালের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন জলস্তর ক্রমেই বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছতে পারছে না। নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, শিয়াপ্রু বেসি এবং তিমুরে এলাকায় বন্যার জল না কমা পর্যন্ত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আকাশপথে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে (Nepal Floods)। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকস্মিকভাবে এতটা বন্যা কেন হল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই একই নদীতে গত বছরও ভয়াবহ হড়পা বান হয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে সেই বন্যার সঙ্গে একটি হিমবাহ-হ্রদের জল বেরিয়ে যাওয়ার যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল। এবারের ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রাকৃতিক কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    নেপালের পাশাপাশি প্রতিবেশী তিব্বতেও বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। নেপাল সীমান্তের কাছে গিরং এলাকায় প্রবল বন্যার সঙ্গে কাদামাটির ধস নামে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করেছেন (Indians Missing)। কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। ফলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি।

    ভারতীয় পর্যটকদের খোঁজে জরুরি সহায়তা

    নিখোঁজদের তালিকায় ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় থাকায় তাঁদের পরিবারগুলির জন্য জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। কোনও পর্যটকের বিষয়ে তথ্য জানতে বা সহায়তা চাইতে সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

    নেপাল পর্যটন বোর্ডের জরুরি সহায়তা নম্বর: ১২৩৪

    পর্যটক সহায়তা নম্বর: ১১৪৪

    পর্যটক পুলিশের নম্বর: ৯৮৫১২৮৯৪৪৫

    নেপাল প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গমতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় এখনও পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে (Nepal Floods)।

    নিখোঁজ ৩৮৪ জন

    নেপালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চলগুলির মধ্যে রাসুয়া ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই বন্যা শুধু স্থানীয় জনজীবনেই আঘাত করেনি, পর্যটন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষতির কারণে আগামী দিনে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে (Indians Missing)। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ ৩৮৪ জনকে নিরাপদে খুঁজে বের করা। বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটক ও অনাবাসী ভারতীয়দের পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জলস্তর কমার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে (Nepal Floods)।

     

  • UN Report: ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’! রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য কমিটির মন্তব্য খারিজ ভারতের

    UN Report: ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’! রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য কমিটির মন্তব্য খারিজ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (CERD)-র সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে কড়া ভাষায় খারিজ করল কেন্দ্র। বুধবার বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, কমিটির কিছু মন্তব্য “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ”। ভারতের বক্তব্য, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে একতরফা সাধারণীকরণ করা হয়েছে। জেনেভায় গত ১১ ও ১২ আগস্ট ভারতের ১১তম পর্যায়ের পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি। এই পর্যালোচনা ছিল আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ সনদ (ICERD)-এর অধীনে একটি নিয়মিত চুক্তিভিত্তিক পর্যালোচনা। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত গঠনমূলক মনোভাব নিয়েই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল এবং বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের প্রতিশ্রুতি “দৃঢ় ও অবিচল”।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিদ্বেষপূর্ণ

    পর্যালোচনার সময় ভারত তার সংবিধানপ্রদত্ত সুরক্ষা, বিস্তৃত আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদী সামাজিক চরিত্র এবং পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। পর্যালোচনা বৈঠকেই ভারতীয় প্রতিনিধিদল কমিটির কিছু “বিস্তৃত সাধারণীকরণ”, “প্রমাণহীন অভিযোগ” এবং আইসিইআরডি-এর নির্ধারিত সীমার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া মেনেই কমিটির পর্যবেক্ষণের জবাব দেবে ভারত। তবে বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ” মন্তব্য ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

    কী অভিযোগ তুলেছে সিইআরডি?

    ভারতকে নিয়ে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (CERD) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উপর “বড় আকারের লঙ্ঘন”-এর অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে জাতিগত ও জাতি-ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও উপজাতি জনগোষ্ঠী, তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত—এবং অ-নাগরিকদের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (UNCERD-UN Committee on the Elimination of Racial Discrimination)-র তাদের সর্বশেষ রিপোর্টে বলেছে ভারতে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম এবং তফশিলি জাতি, উপজাতি ও রোহিঙ্গা জনজাতিদের উপর আক্রমণ নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। ভারতে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ (hate speech) এবং ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ (hate crimes) মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশিত প্রেস নোটে ওই সংস্থা বলেছে, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এসব বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিত’ করতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই নয়া দিল্লির তরফে প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রিপোর্টটি প্রত্যাখ্যান করার কথা ঘোষণা করেন।

    সিইআরডি কী

    সিইআরডি হল একটি রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি, যার মূল কাজ রাষ্ট্রপক্ষগুলি আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ সনদ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে তা পর্যবেক্ষণ করা। রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ‘বিশেষ করে ২০১৭ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরে সংঘটিত পহেলগাঁও হামলার পর’ রোহিঙ্গা, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বেড়েছে। কমিটির মতে, পুলিশি তল্লাশি চৌকি গুলিতে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রোফাইলিং বা (racial profiling) করা হচ্ছে, যার ফলে ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক’ করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ অসম সহ বিভিন্ন রাজ্যে থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাকের (pushback)-এর বিষয়টি সরাসরি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। কমিটি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘রোহিঙ্গা, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ জরুরিভাবে মোকাবিলা করতে, তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে, সম্মিলিতভাবে বহিষ্কার থেকে বিরত থাকতে এবং অ-প্রত্যাবর্তনের‌ (non-refoulement) নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।

    ভারতের পাল্টা বক্তব্য

    জেনেভায় ভারতের স্থায়ী মিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় ভারতের ২০২৩ সালে জমা দেওয়া ১২তম ও ২১তম পর্যায়ের সম্মিলিত রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইসিইআরডি বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে নীতিগত পদক্ষেপ-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। ভারতীয় প্রতিনিধিদল দেশের বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা, ইতিবাচক পদক্ষেপ, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিকার এবং লক্ষ্যভিত্তিক জনকল্যাণমূলক নীতি তুলে ধরে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সমস্ত নাগরিকের সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত ধারাবাহিকভাবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কাজ করে চলেছে। উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশকে ঔপনিবেশিকতা, বর্ণবৈষম্য ও অ্যাপারথেইডের বিরুদ্ধে উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সময় ICERD-এর আলোচনা ও খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।

  • Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। জেলার জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে (Chhattisgarh) উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী (Maoist Arms)। গত ২৪ অগাস্ট ভেজ্জি থানার ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা জঙ্গল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর জেলা বাহিনী, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং বস্তার ফাইটার্সের যৌথ দল সোমবার সকালে ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডার জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

    গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান (Chhattisgarh)

    তল্লাশির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান পান। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৯২টি তাজা গুলি, ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড। বিপুল পরিমাণ বিজিএল গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।উদ্ধার হওয়া ২৩টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি দশমিক ৩১৫ বোরের রাইফেল, একটি দশমিক ৪১০ মাসকেট রাইফেল, ছ’টি বিজিএল লঞ্চার, একটি একনলা রাইফেল, একটি দেশীয় দশমিক ৩১৫ বোরের আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ১২ বোরের রাইফেল এবং সাতটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র। এসএলআর এবং দশমিক ৩০৩ রাইফেলের ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ বিজিএল সেল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৪৯২টি গুলির মধ্যে একে-৪৭, এসএলআর, ইনসাস, দশমিক ৩০৩, দশমিক ৩১৫ এবং ১২ বোরের বিভিন্ন ধরনের গুলি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, দীর্ঘ সময় ধরে মাওবাদী সংগঠনের ব্যবহারের জন্য ওই গোপন ভান্ডারে ধাপে ধাপে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।

    বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার, ৬৬টি বিজিএল কার্তুজ, আতসবাজির মতো ৪০টি বিস্ফোরক যন্ত্র এবং ছ’টি অ্যাক্সিলারেটর প্লাগ। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ৮৯টি বিজিএল সেল এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে (Maoist Arms)। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। অস্ত্র-বিস্ফোরকের পাশাপাশি ওই গোপন ভান্ডার থেকে মাওবাদী সদস্যদের দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাত জোড়া কালো পোশাক, ৩২টি কালো ও ২২টি সবুজ কোমরবন্ধ, ১১টি বাঁশি-রক্ষাকবচ, সাতটি বাঁদরটুপি, দুটি ওয়েল্ডিং ঢাল, দু’টি সৌর প্যানেল এবং সাতটি পিঠের ব্যাগ। এছাড়া ম্যাগাজিন রাখার ব্যাগ, অন্যান্য ব্যাগ এবং ওষুধও উদ্ধার হয়েছে (Chhattisgarh)।

    ভান্ডারপদর দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকা

    ভান্ডারপদর জঙ্গল এলাকায় এর আগেও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২৪ সালে ওই এলাকায় সংঘর্ষে ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল বলে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এটা স্পষ্ট, ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্য পুরানো অস্ত্রভান্ডারের অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

    শুধু অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার নয়, এই ধরনের অভিযান থেকে মাওবাদীদের সংগঠন, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জঙ্গলে থাকা পুরানো পরিকাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে বলে মনে করছে প্রশাসন (Chhattisgarh)।

    পুরনো অস্ত্রভান্ডার খুঁজতে জোর তল্লাশি

    সুকমার পুলিশ সুপার ময়াঙ্ক গুর্জর জানিয়েছেন, জঙ্গল এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় মাইনমুক্ত করার কাজও ধারাবাহিকভাবে চলছে। কোথাও বিস্ফোরক যন্ত্র বা অন্য কোনও বিস্ফোরক সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেলে নিরাপত্তা বিধি মেনে সেগুলি দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    পুলিশ সুপারের দাবি, গত ৩১ মার্চ থেকে মাওবাদীদের পুরানো অস্ত্র ও বিস্ফোরকের গোপন ভান্ডার উদ্ধারের পাশাপাশি মাইনমুক্ত করার অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দুর্গম জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা সামগ্রী খুঁজতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা বিস্ফোরকগুলি নিষ্ক্রিয় করছেন।

    এই অভিযানে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বহু পুরনো ও গোপন অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অগাস্টে সুকমায় তৃতীয় বড় অস্ত্রভান্ডারের খোঁজ

    চলতি অগাস্ট মাসে সুকমা জেলায় মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভান্ডার উদ্ধারের এটি তৃতীয় বড় ঘটনা (Chhattisgarh)। এর আগে ১৮ অগাস্ট চিন্তলনার থানার ইট্টালঙ্কা গ্রামের কাছে একটি গোপন ভান্ডার থেকে বিস্ফোরক, গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। তারও আগে ৩ অগাস্ট ভেজ্জি থানার বোধরাজপদর জঙ্গলে একটি মাওবাদী অস্ত্রভান্ডারের হদিশ পায় নিরাপত্তা বাহিনী।

    একই মাসে পরপর এই ধরনের উদ্ধার অভিযান থেকে স্পষ্ট, সুকমার দুর্গম জঙ্গলগুলিতে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জোর দিয়েছে। জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় অস্ত্রভান্ডারের সন্ধানে এলাকা দখল ও তল্লাশি অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছে সুকমার পুলিশ।

    প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক অভিযানের লক্ষ্যই হল মাওবাদীদের অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার পাশাপাশি জেলার নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা এবং উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা (Maoist Arms)। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় শুরু হয়েছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও (Chhattisgarh)।

     

  • Kangana Attacks Rahul: ‘ব্রো, দাঁড়াও… ভারত মাতা কি জয়’— কৃতি অভিনীত রাখির বিজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা কঙ্গনার

    Kangana Attacks Rahul: ‘ব্রো, দাঁড়াও… ভারত মাতা কি জয়’— কৃতি অভিনীত রাখির বিজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা কঙ্গনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের নিশানায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Kangana Attacks Rahul)। রাখির বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল রাজনৈতিক তরজায়। অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে মহিলাদের পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বার্তা দিয়েছিলেন রাহুল। ‘পিতৃতন্ত্র ভাঙার’ সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। বিজেপির একটি পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে রাহুলকে নিশানা করে কঙ্গনার মন্তব্য, “ভাই, একটু দাঁড়াও। ভারতমাতার জয়। চলো শুরু করি।”

    ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুলকে আক্রমণ

    বিজেপির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুল গান্ধীর নারী অধিকার ও পিতৃতন্ত্র-বিরোধী অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। পোস্টটির একটি ছবিতে রাহুলকে বলতে দেখা যায়, “স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি!” এর জবাবে এক নারী বলেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়।” বিজেপির বক্তব্য, সেখানে রাহুলের মন্তব্যকে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। পরের ছবিতে প্রশ্ন তোলা হয় মহিলা সংরক্ষণ বিলের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের পুরনো অবস্থান নিয়ে। আরও একটি ছবিতে শাহ বানো মামলার প্রসঙ্গও আনা হয়। বিজেপির পোস্টের শেষের দিকে কর্নাটক মন্ত্রিসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় একজনও মহিলা নেই—এমন দাবি তুলে রাহুলের প্রতিক্রিয়াকে ব্যঙ্গাত্মক ভাবে দেখানো হয়। কঙ্গনা এই পোস্ট শেয়ার করেন ও ব্যঙ্গচিত্রটি তুলে ধরেন।

    কৃতি-কঙ্গনা বিতর্ক

    এই বিতর্কের সূত্রপাত কৃতি শ্যাননের একটি রাখি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। গয়না সংস্থা জিভার ৩৬ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে অফ-হোয়াইট ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। বিজ্ঞাপনে ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার পাশাপাশি পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরাতে দেখা যায় তাঁকে। পোশাক এবং বিজ্ঞাপনের উপস্থাপনা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। কঙ্গনা এর আগে পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলে প্রশ্ন করেছিলেন, রাখি বাঁধার সময় কেন এমন পোশাক বেছে নেওয়া হল। বিজ্ঞাপনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অস্বস্তিকর। এর জবাবে কৃতি পোশাকের সঙ্গে সংস্কৃতি ও নারী স্বাধীনতাকে এক করে দেখার কথা তোলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, কোনও মহিলার সংস্কৃতির প্রতি সম্মান তাঁর পোশাক দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। পোশাক নিয়ে মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। কৃতির বোন নূপুর শ্যাননও কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

    কৃতির পাশে রাহুল

    কৃতি-কঙ্গনা বিতর্কের আবহে নারী স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে কৃতি শ্যাননের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। কৃতির বক্তব্য শেয়ার করে রাহুল লেখেন, ‘কোনও মহিলা কী পরবেন, কী করবেন বা কোথায় যাবেন, তা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। মহিলারা স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দ প্রকাশ করলে তাঁদের ট্রোল করা বন্ধ করা হোক।’ রাহুলের এহেন মন্তব্য ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী শিবিরের তারকা সাংসদ কঙ্গনাকেই কি খোঁচা দিলেন তিনি? যদিও রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে কারও নামোল্লেখ করেননি, কিন্তু কংগ্রেস সাংসদের এহেন শব্দবাণ যে কঙ্গনার উদ্দেশেই, তেমনটাই অনুমান নেটভুবনের একাংশের।

    ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ

    রাহুল তাঁর পোস্টে ব্যবহার করেন ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ। এরপরই বিজেপির পোস্টে রাহুলের ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ বার্তাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। কঙ্গনা সেই পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়। কঙ্গনার দাবি রাহুল মুখে নারী অধিকারের কথা বললেও, তাঁর দল কংগ্রেস আদতে নারীদের সমানাধিকার নিয়ে চিন্তিত নয় তাহলে তারা মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন করত। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করানো যায়নি। একযোগে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূলের মতো বিরোধী দলগুলিকে এই বিল সমর্থন করেনি। স্বার্থপর রাজনীতির জন্য দেশের নারীশক্তির ক্ষতি করেছে তারা।

    রাহুল-কঙ্গনা বিতর্ক নতুন মাত্রা

    এর আগে পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতেও রাহুল পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল। মেয়েরা নিজেদের, বাবার, স্বামী বা ছেলের অধীন নন—এমন বার্তা দিয়ে এই ধরনের মানসিকতার সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যের আবহেই এবার কৃতিকে ঘিরে বিতর্কে রাহুল-কঙ্গনা সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। এই আবহে  বিতর্কের সূত্রপাত যে বিজ্ঞাপনকে ঘিরে গয়না সংস্থা জিভা তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা জানায়, বিজ্ঞাপনটি সমাজের কোনও অংশের মানুষের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত করুক, তারা তা চায় না। একটি সরকারি বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও গভীর সম্মান রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা সবসময় পরিবারের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত উদযাপনে বিশ্বাস করি। এবার আমরা সেই ভালোবাসা ও উদযাপনের পরিসরে পোষ্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমাদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনও অংশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে, তা কখনওই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মানের কথা মাথায় রেখে আমরা সমস্ত মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

  • India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও কানাডার (India Canada) মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই। মঙ্গলবার কানাডার টরন্টোয় এক অনুষ্ঠানে এই আশার কথা শুনিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিন দিনের (Investment Protection Pact) কানাডা সফরের প্রথম দিনেই টরন্টোয় পৌঁছন তিনি। তাঁর এই সফর গত দশ বছরে কানাডায় প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফর। টরন্টোয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সীতারামন জানান, দুই দেশ চলতি বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনা শেষ করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “আমরা চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা চুক্তিটি শেষ করার চেষ্টা করব।”

    বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি (India Canada)

    তবে চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ভর করবে কানাডার অর্থ ও জাতীয় রাজস্বমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সম্মতির উপর। সীতারামনের সফরে তাঁর সঙ্গে একদল আধিকারিকও রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার টরন্টোয় দুই দেশের অর্থমন্ত্রীরা প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংলাপের সূচনা করবেন। মঙ্গলবার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার সময় কানাডার অর্থমন্ত্রী শ্যাম্পেনও জানিয়েছিলেন যে তিনি সীতারামনকে আতিথ্য দেবেন। টরন্টোয় ভারতের কনসুলেট জেনারেল আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের কর্পোরেট ও পেশাজীবী মহলের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন সীতারামন। তাঁর বক্তব্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে।

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি

    যদিও সীতারামন সরাসরি উল্লেখ করেননি, তাঁর বলা বছরের শেষের সময়সীমাটি ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সময়সীমার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই চুক্তি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসে কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথভাবে বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা রয়েছে। সীতারামন জানান, ২০১৬ সালে বিনিয়োগ সুরক্ষা সংক্রান্ত যে কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছিল, তার পর থেকে ভারত সরকার এই বিষয়ে আরও উদার, অগ্রসর এবং বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “বিনিয়োগের আর্থিক সুরক্ষা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় (India Canada)।”

    কী বলছেন সীতারামন

    অনুষ্ঠানে সীতারামনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রকের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনও। ভারত-কানাডা সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও (Investment Protection Pact) তুলে ধরেন সীতারামন। ২০২৫ সালের মার্চে কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সীতারামনের কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের মতো অভিন্ন মূল্যবোধ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের অভূতপূর্ব গতিশীল পারস্পরিক সফর ও আলোচনার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।” ভারত ও কানাডাকে বিশ্বের স্বাভাবিক অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আমি বিশ্বাস করি, ভারত ও কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক অংশীদার। আমরা দু’টি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসনের প্রতি গভীর আস্থা রয়েছে। আমাদের মধ্যে কমনওয়েলথের ঐতিহ্য, একই ধরনের সংসদীয় কাঠামো এবং একই সরকারি ভাষার ঐতিহ্য রয়েছে (India Canada)।”

    ভারত-কানাডার সম্পর্ক

    এদিকে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডার অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়েও পরোক্ষভাবে মন্তব্য করেন সীতারামন। মঙ্গলবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছে কানাডা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে পুঁজি যখন নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সন্ধান করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ওঠানামা সামলানোর পথ খুঁজছে, তখন ভারত ও কানাডার সামনে আরও গভীর এবং বহুমুখী আর্থিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সীতারামন বলেন, এই সম্ভাবনা কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকাঠামো, আর্থিক পরিষেবা, আর্থিক প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন শক্তি, উদ্ভাবন এবং বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভারত ও কানাডার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সময়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে তা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই এগিয়ে নিতে পারে (India Canada)।

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

    এদিকে টরন্টোয় সীতারামনের বুধবারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কানাডার কর্পোরেট জগতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। কানাডা-ভারত ব্যবসায়িক পরিষদ এবং ভারতের শিল্প মহলের শীর্ষ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আর্থিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভারত ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি—দু’টি উদ্যোগই বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, শক্তি এবং আর্থিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হতে পারে (Investment Protection Pact)। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, শুল্কনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে, তখন ভারত-কানাডা সম্পর্কের এই নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অগ্রগতি কতটা হয়, এখন সেটাই দেখার (India Canada)।

    ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার

    অন্যদিকে, কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ভারত-কানাডা (India Canada) আর্থিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গিফট সিটি এবং ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বুধবার টরন্টোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন সীতারামন। সেখানে তিনি বলেন, পরিসর, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, তরুণ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয় এবং দ্রুত সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার—এই সবকিছুর এমন সমন্বয় ভারতকে তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা অন্যদের পক্ষে কঠিন (Investment Protection Pact)।ভারতের আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা কেন্দ্র গিফট সিটির গুরুত্ব তুলে ধরে সীতারামন বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এটি ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে উঠে আসছে। সীমান্তপারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের কথা মাথায় রেখে তৈরি নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং করব্যবস্থা গিফট সিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তিনি বলেন, “কানাডার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি শুধু ভারতের প্রবৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে না, ভারতকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে।”

    ইউপিআই

    ভারত-কানাডা সহযোগিতার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইউপিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India Canada)। সীতারামন বলেন, “এখানে কানাডার ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। শুধু অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, আগামী প্রজন্মের ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে (Investment Protection Pact)।”

     

  • Kolkata Book Fair: কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ঢাকে কাঠি, কবে শুরু হবে মেলা?

    Kolkata Book Fair: কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ঢাকে কাঠি, কবে শুরু হবে মেলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়ে গেল কলকাতা বইমেলার সলতে পাকানোর কাজ। ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, ২০২৭’ (Kolkata Book Fair) আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে নবান্নের চোদ্দতলার কনফারেন্স হয়ে গেল বৈঠক (Meeting)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশন, এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের প্রতিনিধিরা। গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের প্রধান সচিবও উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। জানা গিয়েছে, আসন্ন বইমেলায় আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে চাইছে সরকার। পূর্বে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বইমেলা কমিটিকে দিকনির্দেশনা দেবে একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড। এই বোর্ড গঠিত হবে প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে পরিচিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে।

    কারা ছিলেন সভায়? (Kolkata Book Fair)

    রামকৃষ্ণ মিশনের বই প্রকাশিত হয় উদ্বোধন কার্যালয় থেকে। এই প্রকাশনা সংস্থার তরফে বক্তব্য রাখেন স্বামী আর্যেশানন্দ। ভারত সেবাশ্রম সংঘের তরফে বক্তব্য রাখেন স্বামী সরস্বতানন্দ মহারাজ। এঁরা প্রত্যেকেই নিজস্ব মতামত দেন। নানা বিষয়ে পরামর্শও দেন। পরামর্শদাতা বোর্ডে কারা থাকবেন তা নিয়েও সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে। এঁরা হলেন, স্বামী আর্যেশানন্দ, প্রকাশনা প্রধান, উদ্বোধন (রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতিনিধি), স্বামী সরস্বতানন্দ, প্রকাশনা প্রধান (ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিনিধি), শ্রী দেবজ্যোতি দত্ত (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি) (Kolkata Book Fair), শ্রী অনিল আচার্য (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি), শ্রী মিলিন্দ দে (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি), শ্রী রাজকুমার বর্মন (পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধি), শ্রীমতী তনুজা চক্রবর্তী (সমাজকর্মী), অ্যাডভোকেট দেবজিৎ সরকার (আইনজীবী ও সম্পাদক, দেশের ডাক), শ্রী সপ্তর্ষি চৌধুরী (সমাজকর্মী), শ্রীমতী অফেলিয়া সিং (শিক্ষক), শ্রী প্রসেনজিৎ বক্সী (পরামর্শদাতা সম্পাদক, দূরদর্শন), শ্রী অনির্বাণ দে (গ্রন্থ বিকাশ পরিষদ), ড. অরিন্দম ভট্টাচার্য (অধ্যাপক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়), শ্রী বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় (কবি), শ্রী সুকেশ মণ্ডল (স্বস্তিকা), শ্রী জয়ন্ত বিশ্বাস (ভিএইচ বার্তা), ড. রবিরঞ্জন সেন (কলামিস্ট), ড. মোহিত রায় (লেখক), শ্রী অমিতাভ রায় (ভারতীয় জন বার্তা), অ্যাডভোকেট ওসমান গণি (সেক্যুলার ফাউন্ডেশন), এনবিটি (ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট)-এর একজন প্রতিনিধি, শ্রী আশিস গিরি, নির্দেশক, ইজেডসিসি (ইস্টার্ন জোনাল কালচারাল সেন্টার-এর প্রতিনিধি), মাকাইয়াস (MAKAIAS)-এর একজন প্রতিনিধি, এবং রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিনিধি (Meeting)।

    বৈঠকের সিদ্ধান্ত

    এই বৈঠকে আরও বিষয়গুলিও সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়েছে, সেগুলি হল ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা, ২০২৭’ (Kolkata Book Fair) ইস্ট জোন কালচারাল সেন্টার (ইজেডসিসি) এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট (এনবিটি)-এর সহযোগিতায়, উপদেষ্টা বোর্ডের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ী পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড দ্বারা আয়োজিত হবে। সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে উপদেষ্টা বোর্ড প্রয়োজন অনুযায়ী সভা করবে এবং গিল্ডের অন্যান্য সদস্য ও আয়োজকদের আমন্ত্রণ জানাতে পারবে।

    ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কাজ

    বইমেলা সংক্রান্ত বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত কাজের দায়িত্বে থাকা সাব-কমিটিগুলি প্রয়োজন (Kolkata Book Fair) অনুযায়ী উপদেষ্টা বোর্ড থেকে সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারবে। উপদেষ্টা বোর্ডের বৈঠকগুলি ইজেডসিসি (EZCC)-তে অথবা উপদেষ্টা বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য কোনও সুবিধাজনক স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। বইমেলা শুরু হবে আগামী ২২ জানুয়ারি, চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধিরা জানান, মেলার জন্য নির্দিষ্ট মাঠ অর্থাৎ সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক বরাদ্দের অনুরোধ ইতিমধ্যেই নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক বিভাগের মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। গিল্ডকে এই বিষয়টি নিয়ে নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক (UDMA) বিভাগের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা ও তদারকি চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে উদ্যোক্তাদের তরফে। বৈঠক শেষে তৈরি (Meeting) হয় সভার কার্য বিবরণী। তাতে স্বাক্ষর করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস ড. সুব্রত গুপ্ত (Kolkata Book Fair)।

  • Rafale vs J-16: রাফাল বনাম জে-১৬! চিনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মিশরের রাফালের ‘ডগফাইট’, কেন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত?

    Rafale vs J-16: রাফাল বনাম জে-১৬! চিনা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে মিশরের রাফালের ‘ডগফাইট’, কেন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    চিন ও মিশরের যৌথ বিমান মহড়া  ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’ (Eagles of Civilisation) ঘিরে নতুন করে নজর পড়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমানকে নিয়ে। ২২ অগাস্ট শুরু হওয়া এই মহড়ায় প্রথমবারের মতো চিনের অত্যাধুনিক জে-১৬ (J-16) ফাইটার জেট মিশরের রাফালের বিরুদ্ধে সরাসরি সিমুলেটেড এয়ার কমব্যাটে অংশ নিয়েছে। ফলে চিনা পাইলটদের সামনে এমন একটি পশ্চিমী নকশার যুদ্ধবিমানকে কাছ থেকে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যে ধরনের যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনাও ব্যবহার করে। তবে এই মহড়াকে সরাসরি ভারতীয় বায়ুসেনার রাফালের বিরুদ্ধে চিনা জে-১৬-এর পরীক্ষা হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিরঞ্জিত হবে। কারণ মিশরীয় ও ভারতীয় রাফালের অস্ত্র, সেন্সর, সফটওয়্যার, মিশন কনফিগারেশন এবং অপারেশনাল ডকট্রিন এক নয়। তা সত্ত্বেও চিনের জন্য এই মহড়া যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের কাছেও বিষয়টি নজর রাখার মতো।

    কী ঘটছে চিন-মিশরের বায়ুসেনা মহড়ায়?

    চিন ও মিশরের বিমানবাহিনী যৌথভাবে এই মহড়া পরিচালনা করছে। মহড়ার প্রথম পর্যায়ে মূলত এক বনাম এক বিমানযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। চিনা ও মিশরীয় পাইলটরা একে অপরের যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করছেন। এর পাশাপাশি বিমান নিরাপত্তা বিধি, আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম, টেক-অফ ও ল্যান্ডিং পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, সেই বিষয়গুলিও অনুশীলন করা হচ্ছে। চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) এয়ার ফোর্স জানিয়েছে, মহড়া ধাপে ধাপে আরও জটিল হবে। প্রথমে এক বনাম এক লড়াইয়ের পর দুই বনাম দুই এয়ার কমব্যাট এবং পরে আরও জটিল যৌথ বিমান অভিযান অনুশীলন করা হবে।

    প্রথমবার রাফালের বিরুদ্ধে জে-১৬

    এই মহড়ার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, চিনা জে-১৬ প্রথমবার রাফালের সঙ্গে সিমুলেটেড কমব্যাট পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পেল। চিন সাধারণত নিজেদের তৈরি বিভিন্ন যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রশিক্ষণ এবং ডগফাইট অনুশীলন করে। কিন্তু পশ্চিমী প্রযুক্তি ও নকশার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। সেই জায়গা থেকেই মিশরের রাফাল চিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সিমুলেটেড এয়ার কমব্যাটের মাধ্যমে চিনা পাইলটরা রাফালের উড়ানগত বৈশিষ্ট্য, ম্যানুভারিং ক্ষমতা এবং সম্ভাব্য কৌশলগত আচরণ সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পেতে পারেন। অর্থাৎ, শুধু জে-১৬ কীভাবে উড়বে বা আক্রমণ করবে, তা নয়— প্রতিপক্ষ হিসেবে রাফালকে সামনে রেখে চিনা পাইলটদের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    ভারতের রাফালের সঙ্গে এর সম্পর্ক কোথায়?

    এখানেই বিষয়টি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান আধুনিক যুদ্ধবিমান হল দাসো রাফাল। ফলে মিশরের রাফালের বিরুদ্ধে চিনা জে-১৬-এর প্রশিক্ষণকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ঘটনা হিসেবে দেখা কঠিন। চিনা বিমান বিশেষজ্ঞ ওয়াং ইয়ানানও উল্লেখ করেছেন, রাফাল সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই মহড়া চিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে। কারণ ভারত ও মিশর—দুই দেশই রাফালের প্রধান ব্যবহারকারী। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। মিশরের রাফাল এবং ভারতের রাফাল একই পরিবারের যুদ্ধবিমান হলেও তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, সেন্সর, সফটওয়্যার, ডেটা-লিঙ্ক, মিশন সিস্টেম এবং অপারেশনাল ব্যবহারে পার্থক্য থাকতে পারে। ফলে মিশরীয় রাফালের বিরুদ্ধে জে-১৬-এর অভিজ্ঞতাকে সরাসরি ভারত-চিন আকাশযুদ্ধের মহড়া বলা ঠিক হবে না।

    জে-১৬ বনাম রাফাল: চিন কী শিখতে পারে?

    চিনা পাইলটদের জন্য এই ধরনের প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল প্রতিপক্ষের যুদ্ধবিমানের আচরণ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা তৈরি করা। রাফালের বিরুদ্ধে সিমুলেটেড কমব্যাটে চিনা পাইলটরা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন—

    • ● রাফাল কীভাবে আক্রমণাত্মক ম্যানুভার করে
    • ● কাছাকাছি আকাশযুদ্ধে তার গতিবিধি কেমন
    • ● বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রাফালের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে
    • ● জে-১৬-এর কৌশলগত অবস্থান কীভাবে পরিবর্তন করা যায়
    • ● কোন ধরনের পরিস্থিতিতে জে-১৬ পাইলটদের কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করা উচিত

    এই অভিজ্ঞতা শুধু পাইলটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রশিক্ষক, কৌশলবিদ এবং সামরিক পরিকল্পনাকারীরাও এই মহড়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে ভবিষ্যতের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং এয়ার-কমব্যাট ট্যাকটিক্স আরও উন্নত করতে পারেন।

    কতটা শক্তিশালী চিনের জে-১৬?

    জে-১৬ চিনা বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভারী শ্রেণির, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট মাল্টিরোল ফাইটার। বিভিন্ন ধরনের আকাশযুদ্ধ এবং স্ট্রাইক মিশনে ব্যবহারের জন্য বিমানটিকে তৈরি করেছে চিন। অন্যদিকে রাফালও একটি অত্যাধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল ফাইটার, যা আকাশ প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড অ্যাটাক—বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহার করা যায়। তাই জে-১৬ ও রাফালের মধ্যে সিমুলেটেড কমব্যাট চিনা পাইলটদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে এই ধরনের মহড়ার ফলাফল দেখেই কোনও একটি যুদ্ধবিমান অন্যটির তুলনায় নিশ্চিতভাবে শ্রেষ্ঠ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। কারণ আধুনিক আকাশযুদ্ধে শুধু বিমানটির ক্ষমতাই নয়, পাইলটের দক্ষতা, অস্ত্র, সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ডেটা-লিঙ্ক, এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম এবং সামগ্রিক যুদ্ধকৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই মহড়া?

    ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল উদ্বেগের জায়গা হল—চিনা বায়ুসেনা এমন একটি যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে, যার একটি সংস্করণ ভারতীয় বায়ুসেনার হাতেও রয়েছে। ভারত-চিন সীমান্তে ভবিষ্যতে আকাশযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে রাফাল চিনা বিমানবাহিনীর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে। সেই কারণে চিনা পাইলটদের রাফালের উড়ানগত আচরণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তৈরি হওয়া ভারতের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের নজর এড়াবে না।

    তবে মিশরীয় রাফালের বিরুদ্ধে মহড়া মানেই চিন ভারতীয় রাফালের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে—এমনটা বলা যাবে না। কারণ ভারতীয় রাফাল শুধু একটি বিমান নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভারতীয় অস্ত্রব্যবস্থা, সেন্সর, সফটওয়্যার, ডেটা-লিঙ্ক, প্রশিক্ষণ ও নিজস্ব অপারেশনাল কৌশল। ফলে মিশরীয় রাফালকে সামনে রেখে চিন যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তা ভারতের ক্ষেত্রে আংশিকভাবে প্রাসঙ্গিক, কিন্তু সম্পূর্ণ সমতুল্য নয়।

    ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’ কেন নজরে রাখছে নয়াদিল্লি?

    এই মহড়ার তাৎপর্য শুধু চিন-মিশরের সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ নয়। চিনের জন্য এটি পশ্চিমী নকশার একটি উন্নত যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের বিরল সুযোগ। আর ভারতের জন্য এর গুরুত্ব অন্য জায়গায়। চিনা বায়ুসেনা যত বেশি রাফালের মতো যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ করবে, তত বেশি তাদের পাইলট ও প্রশিক্ষকদের কাছে এই প্ল্যাটফর্মের আচরণ পরিচিত হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে ভারত-চিন উত্তেজনা বাড়লে এই অভিজ্ঞতা চিনা কৌশল নির্ধারণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, ভারতের কাছেও এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে—আধুনিক আকাশযুদ্ধে শুধু উন্নত যুদ্ধবিমান হাতে থাকলেই হবে না, সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সেই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে কতটা জানে এবং তার মোকাবিলায় কী ধরনের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ‘ঈগল্স অফ সিভিলাইজেশন’-এ জে-১৬ ও রাফালের মুখোমুখি হওয়া কোনও সরাসরি ভারত-চিন যুদ্ধের মহড়া নয়। কিন্তু এটি এমন একটি প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা, যা চিনা বায়ুসেনাকে রাফাল সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে। আর সেই কারণেই ভারতীয় বায়ুসেনার রাফালকে ঘিরে এই চিন-মিশর মহড়ার দিকে কৌশলগত নজর রাখা স্বাভাবিক।

  • Mohan Bhagwat in US: গোটা বিশ্ব একটি পরিবার! ম্যাডিসন স্কোয়্যারে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিউইয়র্কে মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat in US: গোটা বিশ্ব একটি পরিবার! ম্যাডিসন স্কোয়্যারে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিউইয়র্কে মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্কে পা রাখলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat in US)। সংগঠনের শতবর্ষ উদযাপনে তিনটি দেশে সফর করছেন তিনি। তাঁর ১৭ দিনের সফরের প্রথম পর্বে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে পৌঁছলেন ভাগবত। ‘তিলক’ পরিয়ে আমেরিকার মাটিতে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাঁকে। আমেরিকা ছাড়াও কানাডা এবং ইউকে-তেও যাবেন তিনি। আগামী শনিবার নিউ ইয়র্কের ‘ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন’-এ ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলেব্রেশনস’ (Universal Oneness Celebrations) নামে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মোহন ভাগবত। সংঘের তরফে জানানো হয়েছে, আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে আয়োজিত নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ভাগবতের এই সফর। সফরকালে তিনি প্রবাসী ভারতীয় এবং বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

    রাখি বন্ধনের আবহে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠান

    ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ (AHEAD) ফোরাম’-এর তরফে রাখিবন্ধন উৎসবের প্রেক্ষাপটে এক বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেওয়া হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বিষয়েও বক্তব্য রাখবেন অনেকে। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকবে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব এবং বিশ্বশান্তির বার্তা তুলে ধরা হবে বলে আয়োজকদের দাবি।

    ভাগবতের সফরের উদ্দেশ্য

    আরএসএস-এর (RSS Chief Event in US) প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর ‘এক্স’-এ পোস্ট করে জানান যে, প্রবাসীদের আমন্ত্রণে ২৫ অগাস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে সফর করছেন আরএসএস প্রধান। আরএসএস সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হল, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত, হিন্দু সমাজ এবং আরএসএস সম্পর্কে সঠিক ও ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরা। ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ (AHEAD) ফোরাম’-এর দাবি, গোটা বিশ্ব একটি পরিবার, এই কালজয়ী এবং সর্বজনীন বার্তা দিতেই তরা নিউ ইয়র্কের সভাটি করছে। কৃত্রিম বিভাজন, ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বন্ধন, পারস্পরিক সম্মান, সম্প্রীতি এবং ঐক্যের চেতনাকে জোরাল করে তোলাই লক্ষ্য।

    ভাগবতের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি মেয়র মামদানির

    তবে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়্যারের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আরএসএস-এর অনুষ্ঠানের প্রতি তাঁর সমর্থন নেই এবং তিনি ‘বিভাজনমূলক মতাদর্শ’-এর বিরোধী। অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মামদানি বলেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষমতা শহর প্রশাসনের রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মামদানির বক্তব্য, তিনি নিউইয়র্কের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র। তাঁর পরিবার তাঁকে এমন একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণা দিয়েছে, যেখানে সকলের জন্য জায়গা রয়েছে। কোনও মানুষ বা গোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে এমন মতাদর্শের তিনি বিরোধিতা করেন বলেও জানান। বিখ্যাত পরিচালক মীরা নায়ার এবং শিক্ষাবিদ মেহমুদ মামদানির ছেলে জোহরান। তাঁর মতে, নিউইয়র্কও জাতি, ধর্ম ও পরিচয় নির্বিশেষে সকলকে সমান সুযোগ দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী।

    আরএসএস নিয়ে ইউএসসিআরএফ-এর মন্তব্য

    ভাগবতের আমেরিকা সফরের আগে ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (USCIRF) আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানায়। গত ১৯ অগাস্ট সংস্থাটি মার্কিন সরকারকে আরএসএস নেতাদের সরকারি পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানো এবং তাঁদের সঙ্গে সরকারি বৈঠক না করারও পরামর্শ দেয়। ইউএসসিআরএফ-এর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত। ২০ অগাস্ট বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট সংগঠন’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সংস্থাটি ভারত সম্পর্কে ভুল ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছে। ফলে তাদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।

    মার্চের রিপোর্টেও আরএসএস নিয়ে সুপারিশ

    ইউএসসিআরএফ-এর মার্চ মাসে প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে আরএসএস এবং র (R&AW)-সহ কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে ভারত সরকার সেই রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বেছে নেওয়া তথ্যনির্ভর’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। সরকারের বক্তব্য ছিল, রিপোর্টটি এমন কিছু সূত্রের উপর নির্ভর করেছে যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং ভারতের পরিস্থিতির একটি একপেশে ছবি তুলে ধরা হয়েছে।

    ২০১৮ সালেও আমেরিকা সফর করেছিলেন ভাগবত

    এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেও আমেরিকা সফর করেছিলেন মোহন ভাগবত। সে সময় শিকাগোয় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ৬০টি দেশের প্রায় ২,৫০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্যও রাখেন ভাগবত। এবারও আগামী ২৯ অগাস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে সভা রয়েছে ভাগবতের। সেখানে ৫০০০ মানুষের সামনে বক্তৃতা করার কথা তাঁর।

  • Kolkata Municipal Election: কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে কোমর বাঁধছে বিজেপি, সুকান্ত-রাহুলের হাতে বড় দায়িত্ব

    Kolkata Municipal Election: কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে কোমর বাঁধছে বিজেপি, সুকান্ত-রাহুলের হাতে বড় দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার নির্বাচন কবে হবে, তার সরকারি দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে সম্ভাব্য নভেম্বরের পুরভোটকে সামনে রেখে আর অপেক্ষা করতে চাইছে না বঙ্গ বিজেপি। নির্বাচনী সূচি ঘোষণার আগেই সংগঠনকে মজবুত করা, ওয়ার্ডভিত্তিক সমীকরণ খতিয়ে দেখা, বুথস্তরের প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছে পদ্ম শিবির। একইসঙ্গে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের জন্য পৃথক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নামও ঘোষণা করেছে দল।

    মঙ্গলবার সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির দফতরে কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ অংশের বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বৈঠকে কলকাতা পুরভোটের সম্ভাব্য পরিস্থিতি, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটের রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, বিধায়কদের কাছ থেকে তাঁদের নিজ নিজ এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংগঠনের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট এবং ফিডব্যাক নেওয়া হয়েছে।

    কলকাতা পুরভোটে সুকান্ত, হাওড়ায় রাহুল

    পুরনির্বাচনের প্রস্তুতিকে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে মঙ্গলবারই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী প্রস্তুতির ইনচার্জ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারকে। তাঁর সঙ্গে কো-ইনচার্জ হিসেবে থাকছেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় (রাজু)। কলকাতা পুরভোটের কনভেনরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাপস রায়কে। কো-কনভেনর হয়েছেন কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি। অন্যদিকে, হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচনী প্রস্তুতির ইনচার্জ হয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। বালির বিধায়ক সঞ্জয় কুমার সিংকে হাওড়ার কনভেনর করা হয়েছে। বিকেলে এ বিষয়ে দলের তরফে পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

    কলকাতার জন্য পৃথক কমিটি

    কলকাতা পুরভোটকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যেই পৃথক কমিটি গঠন করেছে বিজেপি। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন তাপস রায়। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সজল ঘোষ, ঋতেশ তিওয়ারি, স্বপন দাশগুপ্ত-সহ দলের একাধিক নেতা ও কর্মকর্তা। দলীয় সূত্রে খবর, কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাজনৈতিক সমীকরণ, স্থানীয় সংগঠন এবং ভোটারদের মনোভাব সম্পর্কে যাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদেরই কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এই কমিটির দায়িত্বও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পুরভোটের প্রচারের বিষয়বস্তু নির্ধারণ, জনসংযোগের কৌশল তৈরি, কোন ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার চালানো হবে তা ঠিক করা এবং বিজেপির সংকল্পপত্র তৈরির মতো বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করবে কমিটি। পাশাপাশি, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও এই কমিটির মতামত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    বিধায়কদের থেকে নেওয়া হল ওয়ার্ডভিত্তিক রিপোর্ট

    সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে হওয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনীল বনসল, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী। বৈঠকে স্বপন দাশগুপ্ত, সজল ঘোষ, ঋতেশ তিওয়ারি, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিধায়ক ও শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল কলকাতা পুরসভার সম্ভাব্য নির্বাচনী পরিস্থিতি। কোন ওয়ার্ডে সংগঠনের শক্তি কতটা, কোথায় সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে, বুথস্তরে প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে এবং সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কারা গ্রহণযোগ্য—এই বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিধায়কদের কাছ থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    নভেম্বরেই কি কলকাতা পুরভোট?

    কলকাতা পুরসভার ভোটের সরকারি সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে বিজেপি-সহ রাজনৈতিক মহলে নভেম্বর মাসে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফেও ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নতুন পুরবোর্ড গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে একাধিকবার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই আগেভাগে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। কারণ অক্টোবর মাসে দুর্গাপুজো এবং পরবর্তী সময়ে দীপাবলির মতো উৎসব থাকায় নির্বাচনের ঠিক আগে হাতে সময় কমে যেতে পারে। ফলে এখন থেকেই বুথ, ওয়ার্ড এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করতে চাইছে দল।

    বদলেছে কলকাতা-হাওড়ার ওয়ার্ডের সমীকরণও

    আসন্ন পুরভোটের আগে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়েও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। রাজ্য বিধানসভায় ইতিমধ্যেই দুটি বিল পাশ হয়েছে। তার মধ্যে হাওড়া পুরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করার প্রস্তাব রয়েছে। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত খসড়া রিপোর্ট ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে। ফলে দুই পুরনিগমের ক্ষেত্রেই নতুন আসন বিন্যাস অনুযায়ী সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলিকে।

    প্রার্থী বাছাইয়ে বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

    কলকাতা ও হাওড়া—দুই পুরনিগমের ক্ষেত্রেই বিপুল সংখ্যক আসনে প্রার্থী দিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে। বিজেপি সূত্রের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দলীয় সংগঠনের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। ফলে সম্ভাব্য আসনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টিকিটপ্রার্থী রয়েছে দলের অন্দরে। তাঁদের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, স্থানীয় পরিচিতি এবং জয়ের সম্ভাবনা—একাধিক মাপকাঠিতে প্রার্থী বাছাই করতে চাইছে নেতৃত্ব। সেই কারণেই নির্বাচন ঘোষণার আগেই প্রাথমিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটকে সামনে রেখে বঙ্গ বিজেপির প্রস্তুতি এখন আর শুধু বৈঠক বা সাংগঠনিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ঘোষণা, বিশেষ কমিটি গঠন, বিধায়কদের কাছ থেকে ওয়ার্ডভিত্তিক রিপোর্ট সংগ্রহ এবং বুথস্তরের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে পুরভোটের ময়দানে আগেভাগেই সংগঠনকে নামিয়ে দিতে চাইছে বিজেপি।

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরে মুছল ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari on Jadavpur) নির্দেশ মতো যাদবপুর ক্যাম্পাসে (Jadavpur University) থাকা একাধিক ‘দেশবিরোধী’ ও ‘আপত্তিকর’ দেওয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি (Jadavpur University Graffiti) মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশাসনের সেই কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার তড়িঘড়ি বিতর্কিত কিছু দেওয়াল লিখন নিজেদের উদ্যোগে মুছে দিল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল (আর্টস হস্টেল) চত্বরে থাকা এই ধরনের বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কড়া আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    রাখিবন্ধন উৎসবে যাদবপুরে মুখ্যমন্ত্রী!

    সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই অভিযান পুরোদমে শুরু হতে পারে। কিন্তু সেই সরকারি কাজ শুরু হওয়ার আগেই মঙ্গলবার অলক্ষ্যে বেশ কিছু বিতর্কিত দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি ঢেকে ফেলা হল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাবিত সাফাই অভিযানে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও হস্টেল চত্বরে স্থান পাওয়া যাবতীয় ‘আপত্তিকর’ ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও গ্রাফিতি একে একে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংকট ও তর্কের মাঝে নতুন জল্পনা ছড়িয়েছে যে, আসন্ন রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সশরীরে পরিদর্শনে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    আপত্তিকর গ্রাফিতি

    সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শেয়ার করা ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল ও আশেপাশের দেওয়ালে চরম বিতর্কিত একাধিক স্লোগান রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য – ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ব্রেক ফ্যাসিস্ট উইথ রেড’, ‘নক্সালবাড়ি’, এবং ‘ফ্যাসিস্ট ডু নট ডিসার্ভ ডেমোক্রেসি, দে ডিসার্ভ আ বুলেট ইন দ্য হেড’ (অর্থাৎ ফ্যাসিস্টরা মাথায় গুলি খাওয়ার যোগ্য)। এই সমস্ত বিতর্কিত বার্তা ও লেখা নিয়ে সর্বস্তরে তীব্র আপত্তি উঠতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় জরুরি বৈঠক ডাকে। সেই বৈঠকেই প্রাথমিক পর্যায়ে সব আপত্তিকর গ্রাফিতি ও স্লোগান মুছে ফেলার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

LinkedIn
Share