Tag: Madhyom

Madhyom

  • Weather Update: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা! আগামী চার দিন দুর্যোগের সতর্কবার্তা হাওয়া অফিসের

    Weather Update: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা! আগামী চার দিন দুর্যোগের সতর্কবার্তা হাওয়া অফিসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতি থেকে শুক্র একটানা বৃষ্টিতে ভিজল শহর কলকাতা। মাঝেমধ্যে বৃষ্টির দাপট বাড়ছে। ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে একাধিক রাস্তাঘাট। খুব শীঘ্র এই পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনা নেই, জানিয়ে দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আরও অন্তত চার দিন কলকাতায় এমন বৃষ্টি চলবে। দক্ষিণের ছয় জেলায় ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি চলতে পারে। সকাল থেকেই বৃষ্টিতে শহরে যান চলাচলের গতি ধীর। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, হলদিরাম, সেক্টর ৫ মেট্রোর মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জমেছে জল।

    কেন এই অঝোরে বৃষ্টি

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। তার প্রভাবে আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। সঙ্গে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো বাতাস। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দক্ষিণ-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয়। এই দুইয়ের টানে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তাই উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

    বর্ষণমুখর রাত দেখল কলকাতা

    বর্ষণমুখর রাত দেখল কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। বৃষ্টির সতর্কবার্তা (Rain Alert) জারি করা হয়েছিল আগেই। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বেশ বোঝা গেল বৃষ্টির দাপট। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। তারপর কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে রাতভর মুষলধারায় বৃষ্টি চলতে থাকে। কলকাতা ও লাগোয়া জেলায় বৃষ্টির প্রবল দাপট জারি আছে সকালেও। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে শহরে। একই পূর্বাভাস হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে।  শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দমদমে বৃষ্টি হয়েছে ৯৬.৬ মিলিমিটার, আলিপুরে বৃষ্টির পরিমাণ ৩৬.৭ মিলিমিটার। শুক্রবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.১ ডিগ্রি কম। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৩০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ২.১ ডিগ্রি কম।

    টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা

    রাতভর টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত কলকাতা (Kolkata)। শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙতেই শহরের একাধিক এলাকায় জল জমে যাওয়ায় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। স্ট্র্যান্ড রোড-সহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। অফিসযাত্রী থেকে স্কুলপড়ুয়া, সকলেরই নিত্যযাত্রায় বিঘ্ন ঘটেছে প্রবল বর্ষণের জেরে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, আমহার্স্ট স্ট্রিট, ঠনঠনিয়া, উল্টোডাঙা আন্ডারপাস ছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ ও ঢাকুরিয়ার মতো এলাকাতেও গোড়ালি সমান জল জমেছে। এর ফলে শহরের প্রধান সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে গাড়ির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। সাঁতরাগাছিতে নতুন রেল সেতুর কাজের জেরে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে একটি ট্রাক খারাপ হয়ে যাওয়ায় হাওড়ামুখী লেনে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল থমকে ছিল। ইএম বাইপাস, মা ফ্লাইওভার ও এজেসি বোস রোডেও গাড়ির সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। আধ ঘণ্টার রাস্তা পেরোতে সময় লাগছে দেড় থেকে দু’ঘণ্টা। প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের জল নিকাশির জন্য পাম্পিং স্টেশনগুলিকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। ট্র্যাফিক পুলিশের দাবি, শহরে বড় ধরনের জলজমার কোনো খবর নেই এবং যান চলাচল মোটের ওপর স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বৃষ্টির তোড় না কমলে দিনভর এই দুর্ভোগের রেশ থাকতে পারে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। সব মিলিয়ে শুক্রবারের বৃষ্টিতে নাজেহাল মহানগরী।

    দিঘার সমুদ্রে নিষেধাজ্ঞা

    উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর জন্য রয়েছে বিশেষ সতর্কবার্তা। ১২ই জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের জন্য। মাইকিং করে সতর্ক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। দিঘার সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। তৈরি হতে পারে জলোচ্ছ্বাস। সমুদ্র ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দিঘা, দিঘা মোহনা, মন্দারমণি সহ উপকূল মাইকিং করা হচ্ছে।

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা 

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় প্রতি দিনই ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হতে পারে এই জেলাগুলিতে। বৃষ্টি চলছে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামেও।

    জল বাড়ছে দক্ষিণের নদীগুলিতে

    টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে সুবর্ণরেখা নদী। জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুবর্ণরেখার প্রবল স্রোতে দেউলবাড় ও গড়ধরা গ্রামের সংযোগকারী ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল। ফলে নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া, কৃষক, ব্যবসায়ী-সহ হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা অন্যদিকে, অজয় নদীর জল বাড়লেই প্রত্যেকবার বর্ষায় প্লাবিত হয় গোটা গ্রাম। বিগত প্রায় ২০ বছরে বাঁধে নতুন করে মাটি পড়েনি। কোথাও বাঁধের উচ্চতা কমে গিয়েছে, কোথাও আবার ভাঙা অংশ আজও মেরামত হয়নি। ফলে বর্ষাকালে নদীর জল বাড়লেই বাঁধ উপচে বা ভাঙা অংশ দিয়ে জল ঢুকে প্লাবিত হয় গ্রাম। এবারও সেই আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

    অতি ভারী বৃষ্টি উত্তরবঙ্গেও

    অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গেও। কোচবিহারে ১৪৩ মিমি ও আলিপুরদুয়ারে ১১২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে আগামী সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) চলতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও আগামী কয়েক দিনে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলিতে জল বাড়বে। ধসও নামতে পারে পাহাড়ি রাস্তায়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছে হাওয়া অফিস।

  • International Yoga Day: জার্মানির সংসদে যোগ-মেডিটেশন অধিবেশন, ভারতের বিশ্বজয়!

    International Yoga Day: জার্মানির সংসদে যোগ-মেডিটেশন অধিবেশন, ভারতের বিশ্বজয়!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জার্মানির সংসদ বুন্ডেসটাগে (Bundestag) এই প্রথমবারের মতো হল যোগ ও মেডিটেশন অধিবেশন (International Yoga Day)। ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত এই বিশেষ কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে জার্মানিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন ইন্দো-জার্মান পার্লামেন্টারি গ্রুপের (German Parliament) ডেপুটি চেয়ারম্যান হেনরি শ্মিট (Henri Schmidt)। উপস্থিত ছিলেন জার্মানিতে ভারতের রাষ্ট্রদূত অজিত গুপ্তে (Ajit Gupte), জার্মানির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যোগ অনুশীলনকারী এবং প্রবাসী ভারতীয়রা।

    স্বাস্থ্য ও সুস্থতা রক্ষায় যোগব্যায়াম (International Yoga Day)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অজিত গুপ্তে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা রক্ষায় যোগব্যায়ামের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর পাশাপাশি তিনি ট্র্যাডিশনাল চিকিৎসা ব্যবস্থায় ভারতের নেতৃত্ব এবং জার্মানিতে আয়ুর্বেদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোকপাত করেন।প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলেই জার্মান সংসদে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই উদযাপন সম্ভব হয়েছে। সিডিইউ (CDU)-এর সাংসদ হেনরি শ্মিট, বার্লিনে ভারতীয় দূতাবাস এবং ভারতীয় কমিউনিটির সদস্যদের সহযোগিতায় উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়। হামবুর্গের সিডিইউ নেতা রাকেশ ভেউলি (Rakesh Veuli) ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    বিশ্বজুড়ে যোগচর্চার প্রসার

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওভারসিজ বিজেপি ইউরোপের ইন-চার্জ কুলদীপ শেখাওয়াত (Kuldeep Shekhawat) এবং প্রবাসী ভারতীয় সমাজের প্রতিনিধিরা। এই অনুষ্ঠানের (International Yoga Day) আয়োজনকে ভারত-জার্মানি সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে রাষ্ট্রসঙ্ঘে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের স্বীকৃতি পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে যোগচর্চার প্রসার আরও জোরদার হয়েছে। জার্মান বুন্ডেসটাগে এই প্রথম যোগ ও মেডিটেশন সেশন সেই বৈশ্বিক উদ্যোগেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। এদিকে, ২০২৬ সালের ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়েছে ‘যোগ ফর হেলদি এজিং’ (Yoga for Healthy Ageing)’ কনসেপ্ট সামনে রেখে। এর মূল লক্ষ্য ছিল জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সুস্থ (German Parliament), সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে যোগব্যায়ামের ভূমিকা তুলে ধরা। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যার বার্ধক্য বৃদ্ধি, অসংক্রামক রোগ এবং জীবনযাত্রাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে থাকায় এখন শুধু আয়ু বৃদ্ধি নয়, বরং সুস্থ জীবনকাল (Health Span), জীবনমান এবং সামগ্রিক কল্যাণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (International Yoga Day)।

     

  • West Bengal BJP: তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদের উপর বড় ভরসা বিজেপির, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা

    West Bengal BJP: তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদের উপর বড় ভরসা বিজেপির, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় রাজনৈতিক চমক। সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার রাতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তরফে তিন জনের নাম অনুমোদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিজেপির প্রার্থী তালিকায় সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশ

    বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের নাম অনুমোদন করা হয়েছে। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংহের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, এই তিন নেতাই সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেই শূন্য হওয়া তিনটি আসনেই এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়বেন তাঁরা। অর্থাৎ, প্রার্থী একই থাকলেও বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।

    কেন নেওয়া হল তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদদের?

    তৃণমূলের প্রাক্তন তিন সাংসদকে বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল যেখানে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে সংঘাতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শমীক জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই এই তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

    ‘সাধুরও একটা অতীত থাকে’

    তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের দলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ব্যতিক্রম তো থাকবেই। ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতিক্রমী চরিত্রের সঙ্গে দলও নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। পার্টির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও বলেন, যারা দুর্নীতি, চাকরি বিক্রি, সিন্ডিকেট রাজ বা সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “এদের নামের আগে দলত্যাগী বা তৃণমূলী শব্দ ব্যবহার করবেন না। প্রত্যেকেরই একটা অতীত আছে। সাধুরও একটা অতীত থাকে। এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়, তারা বিজেপি করবে।”

    বিজেপিতে যোগ দিয়েই মমতাকে নিশানা সুখেন্দুর

    দলে যোগ দেওয়ার পরই তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তিনি বলেন, “শি ইজ ফিনিশড, ওই দল শেষ। এখন বেকার চর্চার দরকার নেই।” একই সঙ্গে বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল— দুই সরকারেরই সমালোচনা করে সুখেন্দু বলেন, “আগের সরকারগুলি, বিশেষ করে ৩৪ বছরের বাম সরকার এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকার মিলে ৪৯ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে মরুভূমি বানিয়ে গিয়েছে।” কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক নিয়েও তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “কেন্দ্রবিরোধী জিহাদ মেন বসে গিয়েছিল। সেটাই রাজনীতিতে পরিণত হয়েছিল। যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, ভারতের মানচিত্র থেকে বাংলা বাইরে বলে মনে হচ্ছিল।”

    নবান্নে ইউসুফ পাঠান, শতাব্দী-সহ একাধিক নেতা

    অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শতাব্দী রায়, খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খানও। এদিনই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক দিন আগেই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রসেনজিতের বৈঠক ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে বিশতম গোল এমবাপের! মরক্কোকে হারিয়ে টানা ৩ বার সেমি-ফাইনালে ফ্রান্স

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে বিশতম গোল এমবাপের! মরক্কোকে হারিয়ে টানা ৩ বার সেমি-ফাইনালে ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফুটবলের (FIFA World Cup 2026) সেমি-ফাইনালে ফ্রান্স। কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলের রেকর্ডে ভাগ বসাল এমবাপের ফ্রান্স। পেনাল্টি মিস করেও নায়ক সেই এমবাপে। বিশ্বকাপ ফুটবলে কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe) এমন একটি নাম, যিনি প্রায় সব ম্যাচেই গোল করছেন। তাঁর পেনাল্টি বাঁচাও, তাঁকে ডিফেন্ডার দিয়ে ঘিরে রাখ, রাফ ফুটবল খেল, কিন্তু দিনের শেষে কীভাবে বলটা জালে জড়ানো যায়, তিনি ঠিক সেই পথ খুঁজে বের করবেনই। মরক্কোর বিরুদ্ধে (France vs Morocco) কোয়ার্টার ফাইনাল ম্য়াচেও তেমনটাই তো করলেন এমবাপে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি নিলেও গোল করতে পারলেন না। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটের মাথায় ফ্রান্সের হয়ে প্রথম গোল তাঁর। প্রথমার্ধে লড়াই করলেও, দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের গতি, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কাছে পরাস্ত হল মরক্কো।

    ব্রাজিলের রেকর্ডে ভাগ

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও রেকর্ড বইয়ের পাতায় স্বস্তিতে নেই ব্রাজিল। মাঠের লড়াইয়ে সেলেসাওরা ছিটকে গেলেও এবার তাদের এক অনন্য ও ঐতিহাসিক গর্বের রেকর্ডে ভাগ বসাল কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স। ফুটবল বিশ্বকাপে টানা তিনবার সেমিফাইনাল খেলার যে গৌরব এতকাল লাতিন আমেরিকার দলটির একচেটিয়া ছিল, বৃহস্পতিবার রাতে মরক্কোকে হারিয়ে সেই একই কীর্তি ছুঁয়ে ফেলল ফরাসিরা। ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালে টানা তিনটি বিশ্বকাপের শেষ চারে খেলেছিল ব্রাজিল; আর এবার ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালেও সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ফরাসিরা। তবে এই তালিকার শীর্ষে এখনও রয়েছে জার্মানি, যারা ২০০২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত টানা চারবার সেমিফাইনাল খেলেছে।

    দুরন্ত ফ্রান্সকে আটকানো মুশকিল

    অঘটন না হলে, আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারে ফ্রান্স। তার জন্য অবশ্য সেমিফাইনালে স্পেনের মতো কঠিন বাধা পেরোতে হতে পারে। সেই বাধা টপকে গেলে ফ্রান্সকে ট্রফি জয় থেকে আটকানো মুশকিল। কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে খেলেছিল ফ্রান্স। সে বার জিতেছিল ২-০ গোলে। এ বারও ম্যাচের ফল ঠিক তাই। ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলছিল দুই দলই। তবে মরক্কোর থেকে ফ্রান্সের আক্রমণের ঝাঁঝই ছিল বেশি। চার মিনিটের মাথায় দায়োত উপামেকানোর জোরালো হেড বাঁচিয়ে দেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বোনো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সের আক্রমণ বাড়তে থাকে। ২৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। নিজেদের অর্ধে মরক্কোর আশরফ হাকিমির থেকে বল কেড়ে নেন ডেজিরে ডুয়ে। তিনি পাস দেন এমবাপেকে। একাই অনেকটাই দৌড়ে মরক্কোর বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। সেখানে তাঁকে ফাউল করেন নৌসের মাজরাউই। এতটাই স্পষ্ট ছিল সেই ফাউল যে রেফারির সিদ্ধান্তে মাজরাউই নিজেই বিশেষ প্রতিবাদ জানাননি। তবে, সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে খারাপ পেনাল্টি এদিন মারলেন এমবাপে। মরক্কোর গোলকিপার বোনো এমনিতেই পেনাল্টি বাঁচানোর ব্যাপারে প্রসিদ্ধ। গোলকিপারের বাঁ দিকে এমবাপের নিচু শট এতটাই ধীরগতির ছিল যে বোনোর হাত থেকে বল বেরিয়ে পর্যন্ত যায়নি। সরাসরি তাঁর হাতে জমা পড়ে।

    এমবাপের ডান পা-এর ছোঁয়া

    দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী দেখায় ফ্রান্সকে। ৬০ মিনিটের মাথায় মরক্কোর বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়েছিলেন এমবাপে। আশেপাশে বেশ কয়েকজন মরক্কোর ফুটবলার ছিলেন। ডান দিকে সামান্য কাট করে চকিতে শট মারেন এমবাপে। বোনো উড়ে গিয়েও বাঁচাতে পারেননি। এমবাপের ডান পা-এর ছোঁয়া যেন শিল্প। তাঁর ডান পায়ের জাদুতেই মোহিত গোটা ফুটবলবিশ্ব। চার মিনিট পরে আবার গোল করে ফ্রান্স। এই গোলের ক্ষেত্রেও এমবাপের প্রশংসা প্রাপ্য। বল নিয়ন্ত্রণ করতে করতে মরক্কোর ফুটবলারদের নিজের দিকে টেনে এনেছিলেন এমবাপে। ফলে ফাঁকা হয়ে যান দেম্বেলে। তাঁকে পাস দেন এমবাপে। কিছুটা সময় নিয়ে ডান পায়ের নিচু শটে গোল করেন দেম্বেলে। বোনো আরও একটু চেষ্টা করতে পারতেন শটটি বাঁচানোর। তিনি কিছুটা এগিয়ে থাকায় শট বাঁচানো আরও সমস্যার হয়ে যায়। এই দুই গোলেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ফ্রান্স।

    মেসির সঙ্গে কঠিন লড়াই

    কাতারে চার বছর আগে আধুনিক ফুটবলের সম্রাট মেসির (Lionel Messi) বিশ্বজয়ের পথে সবথেকে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এমবাপে। চার বছর পরে ফের একবার মেসিদের পথের সবথেকে বড় কাঁটা মনে করা হচ্ছে তাঁকেই। শুধু তাই নয়, মেসির সম্ভবত একমাত্র অধরা বড় কৃতিত্ব, বিশ্বকাপের ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের পথেও তিনিই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, প্রতিনিয়ত ‘এলএম১০’-র ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। মেসির মতোই এমবাপেও এ বিশ্বকাপে আটটি গোল করে গোলদাতার তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে। এই ম্য়াচের গোল মিলিয়ে বিশ্বকাপে ২০ ম্য়াচে ২০টি গোল করে ফেললেন এমবাপে, এর মধ্যে ১২টিই আবার নক আউটে।

    এমবাপের চোট!

    এদিন ম্যাচ শেষে ফ্রান্সের চিন্তা দলের মহাতারকা এমবাপের পায়ের পাতার চোট। ম্যাচের শেষের দিকে তাঁর এক সময়ের ফরাসি বয়সভিত্তিক দলের সতীর্থ, কিন্তু এদিনের প্রতিপক্ষ ইসা ডিয়পের এক কড়া চ্যালেঞ্জে এমবাপেকে ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ খেলার চেষ্টা করার পর তিনি মাঠ ছাড়েন, ডাগ আউটে পায়ের পাতায় বরফ লাগিয়েও বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে।

    ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কারা

    দিয়েগো মারাদোনার জাদুতে আচ্ছন্ন ছিয়াশির মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। বেলজিয়ামের কাছে টাইব্রেকারে হেরে সেদিন স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল স্পেনের। চল্লিশ বছর পরে ফের বিশ্বকাপের শেষ আটের দ্বৈরথে মুখোমুখি দুই দল। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন (Spain vs Belgium) এবং রুডি গার্সিয়ার বেলজিয়ামের এই ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের তরুণ ও প্রতিভাবান স্পেন, অন্যদিকে অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে গড়া বেলজিয়াম। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে কোনো গোল হজম করেনি। অন্যদিকে রুডি গার্সিয়ার বেলজিয়াম শেষ দুই ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে আত্মবিশ্বাসী। তবে, মরক্কোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের কণ্ঠে ঝরল আত্মবিশ্বাস। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ কে হচ্ছে—স্পেন নাকি বেলজিয়াম, তা নিয়ে একেবারেই ভাবছেন না এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন, সেমিফাইনালের মঞ্চে কোনো ম্যাচই সহজ হবে না, তাই প্রতিপক্ষ হিসেবে কে সামনে আসছে তা তার কাছে কোনো বিষয় নয়। ফরাসি শিবিরের লক্ষ্য কেবল সামনের ম্যাচটি জিতে ফাইনালে পা রাখা।

     

     

     

     

     

  • Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কেউ শ্বাসকষ্টের জেরে বছরের বিভিন্ন সময়েই ভোগেন, আবার কেউ পেটের সমস্যায় কাবু! সমস্যার জেরে বাইরে যাওয়ার আগেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপকেই নিত্যসঙ্গী করে চলছেন। বিশ্বের অন‌্যান্য দেশের মতো ভারতেও বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও এই ক্রনিক রোগের দাপট বাড়ছে। ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে চিকিৎসক মহল জানাচ্ছেন, মনের জোরেই এই রোগ মোকাবিলার পথ সহজ হবে। মানসিক শক্তিই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেও সাহায্য করবে।

    ক্রনিক ডিজিজ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো রোগে তিন মাসের বেশি সময় আক্রান্ত থাকলে, তাকে ক্রনিক ডিজিজ বলা যেতে পারে। তবে, আরও কয়েকটি দিক সেক্ষেত্রে দেখতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে দীর্ঘ সময় এই রোগের উপস্থিতি থাকার পাশপাশি এই রোগ অনেকক্ষেত্রেই পুরোপুরি সেরে যায় না। বারবার ফিরে আসার ঝুঁকিও থাকে। কখনো রোগের দাপট বাড়ে। আবার কখনো কমে।

    ভারতে কোন ক্রনিক রোগের দাপট বেশি?

    গত কয়েক দশকে ভারতে উদ্বেগজনক হারে ক্রনিক রোগের দাপট বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিছু রোগ সংক্রামক হয় না। কিন্তু সেই রোগে আক্রান্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি চলে। রোগের বোঝা জনজীবনে গভীর ভাবে পড়ে। গত কয়েক দশকে ভারতে এমন কিছু রোগের দাপট বাড়ছে, যা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

    সিওপিডি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। শ্বাসকষ্টজনিত এই রোগে কাবু শিশু থেকে বয়স্ক অনেকেই। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশপাশি ফুসফুসের আরও একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হয়‌।

    পেটের সমস্যা

    এছাড়াও ভারতের অন্যতম বড় ক্রনিক রোগ হলো পেটের সমস্যা। অধিকাংশ ভারতীয় পেটের সমস্যায় কাবু। অন্ত্রের একাধিক সমস্যার জেরে হজমের গোলমাল এবং পেটের সমস্যা দেখা দেয়। বারবার মলত্যাগ, পেট ব্যথার মতো সমস্যার জেরে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিরাও এই পেটের সমস্যায় কাবু হন।

    অস্টিওপোরোসিস

    ভারতে বাড়ছে হাড়ের ক্রনিক রোগ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তিরিশের চৌকাঠ পার করার পরেই ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে হাড় ক্ষয়ের রোগ বাড়ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অস্টিওপোরোসিস বলা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে বিশেষত হাঁটু, কোমড় এবং অন্যান্য জয়েন্টে তীব্র যন্ত্রণা, দীর্ঘসময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকায় মুশকিল হয়।

    ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে কিডনি ও হৃদরোগের ক্রনিক  ডিজিজ

    এছাড়াও ভারতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির ক্রনিক অসুখ এবং হৃদরোগ ক্রনিক ডিজিজ হিসাবে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোনোর পরেই বহু ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন যাপন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কর্মদক্ষতা কমছে। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব হচ্ছে না।

    কেন ক্রনিক রোগের মোকাবিলায় মনের জোরকেই হাতিয়ার করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ২০২৬ সালের ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে বিশ্ব জুড়ে পালন হবে I stay strong! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ক্রনিক রোগ মোকাবিলায় মূল হাতিয়ার মনের জোর। ক্রনিক রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। একাধিক বার এই রোগে আক্রান্তের ভোগান্তি বাড়ে। সুস্থ থাকতে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানান চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয়‌। অনেক খাবার খাওয়া এবং অন্যান্য একাধিক অভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি হয়। ফলে জীবন যাপনেও নিয়ন্ত্রণ থাকে। অনেকক্ষেত্রেই রোগীর একঘেয়েমি লাগতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘকাল শরীরে উপস্থিত থাকা রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক জোর জরুরি। পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়, জেনেও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, তবেই রোগের দাপট নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার রোগের প্রকোপ বাড়লেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। বছরের কিছু সময়ে, শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের সমস্যার মতো ক্রনিক রোগ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হলে বিপদ বাড়বে। বরং কীভাবে বাড়তি ভোগান্তি কমানো যাবে, সে সম্পর্কে রোগীকে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। আর এই সবকিছু দীর্ঘদিন ধরে চলবে। তাই মানসিক শক্তি জরুরি। মনের জোর না থাকলে ক্রনিক রোগের মোকাবিলা কঠিন।

    ক্রনিক রোগ ঠেকাতে কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন মনের জোর। আর দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা। শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের গোলমালের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা জরুরি। বায়ুদূষণ, জল দূষণের মাত্রা কমলেই এই ধরনের জটিল ক্রনিক রোগের দাপট কমবে। সকলের জন্য পরিশ্রুত পানীয় জল জরুরি। যথেচ্ছ বাজি পোড়ানো, গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। সরকারের পাশপাশি জনসমাজেও পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তবেই রোগের বোঝা কমবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাস ও শরীর চর্চা নিয়ে আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে। নিয়মিত শারীরিক কসরত করতে হবে। যাতে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি না হয়। তাছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। তাহলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, হৃদরোগের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমানো যাবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • PM Modi in Australia: ‘দুধে চিনির মতো মিশে সমাজকে আরও মিষ্টি করে তোলেন ভারতীয়রা’ মেলবোর্নে প্রবাসীদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi in Australia: ‘দুধে চিনির মতো মিশে সমাজকে আরও মিষ্টি করে তোলেন ভারতীয়রা’ মেলবোর্নে প্রবাসীদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয়রা ‘দুধে চিনির মতো’ মিশে গিয়ে সেই সমাজকে আরও সমৃদ্ধ ও মধুর করে তোলে। অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ দিনে মেলবোর্নে প্রবাসী ভারতীয়দের এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Australia)। ভারতীয় সম্প্রদায়ের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে প্রবাসীদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Praises Indian Diaspora) বলেন, “আমরা ভারতীয়রা দুধে মিশে যাওয়া চিনির মতো। আমরা যেখানে যাই, সেখানে ভালোবাসা, সংস্কৃতি ও ঐক্যের মাধুর্য ছড়িয়ে দিই। বাড়ির দুধ অস্ট্রেলিয়ার হতে পারে, কিন্তু সেই দুধের চা ভারতীয়। ডাল-সবজি অস্ট্রেলিয়ার হলেও তার ফোড়ন ভারতীয় মশলার।”

    ‘হাউসফুল, একেবারে ব্লকবাস্টার’ অনুষ্ঠান

    মেলবোর্নের প্রবাসী ভারতীয়দের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি দেখে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানটিকে ‘হাউসফুল’ এবং ‘ব্লকবাস্টার’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, এর আগে দু’বার সিডনিতে ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা হলেও এবার মেলবোর্নবাসীদের সঙ্গে ‘ফ্ল্যাট হোয়াইট কফি’ পান করার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রী জানান সেন্টার ফর অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া রিলেশন-এর মৈত্রী গ্র্যান্ট কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার ১০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বরাদ্দের ঘোষণা করেছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নেপথ্যে প্রবাসীরাই

    মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে তাঁর প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় ২৮ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সে দেশে গিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, পরবর্তী সফরের জন্য আর ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। সেই প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১২ বছরে এটি তাঁর তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। তিনি বলেন, “অনেকে ভাবতে পারেন এই সম্পর্কের উন্নতির কৃতিত্ব আমার। কিন্তু না, এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব আপনাদের, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের।” প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফারদার এডুকেশন -এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় ভুবনেশ্বরে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ইন মাইনিং ইকুইপমেন্ট, টেকনোলজি সার্ভিস গড়ে তোলা হবে। ভারতের জাতীয় ভোকেশনাল কাউন্সিল ও অস্ট্রেলিয়ার স্কিলস কোয়ালিটি অথরিটির মধ্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে সহযোগিতা শুরু হবে। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার বিশ্ববিদ্যালয় বেঙ্গালুরুতে এবং ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরগাঁওয়ে ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য অনুমোদনপত্র প্রদান করা হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষায় দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে। বিজ্ঞান-গবেষণা উদ্ভাবন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে যাতে প্রবাসীদের ভূমিকা রয়েছে। জিও সায়েন্স অস্ট্রেলিয়া ও জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে ভূ-বিজ্ঞান গবেষণা ও খনিজ অনুসন্ধানে সহযোগিতার চুক্তি হয়েছে।

    ‘লিটল ইন্ডিয়া’য় ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া

    মেলবোর্ন ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় সংস্কৃতির বিস্তারের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন বাজার ও এলাকাকে কেউ ‘লিটল ইন্ডিয়া’, আবার কেউ ‘মিনি ইন্ডিয়া’ নামে চেনেন। সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি, ব্যবসা এবং উৎসবের আবহ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। হাস্যরসের ছলে তিনি বলেন, একটি বাজারের ভিডিওতে দেখেছেন সেখানে সারা বছরই ছাড়ের অফার চলে। “সেলের চক্রে পড়ে মানুষ ঘ্যাঁচাক্কর হয়ে যায়” মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর। অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয়দের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সপ্তাহান্তে কোথাও সত্যনারায়ণ পূজা, কোথাও গুরুদ্বারে অরদাস, কোথাও শিশুদের ভাংড়া বা ভরতনাট্যম পরিবেশনা, আবার কোথাও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট—সব মিলিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি জীবন্ত হয়ে রয়েছে মেলবোর্নে। এছাড়া কয়েক দিনের মধ্যেই মেলবোর্নে শুরু হতে চলা ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জন্যও শুভেচ্ছা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী ভারতীয়রাই অস্ট্রেলিয়দের মধ্যে ভারতীয় চলচিত্র ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছে। তারই ফলে কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের মধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষা, যৌথ কর্মশালা, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোয় ভারতের অগ্রগতি

    এদিন প্রবাসীদের সামনে ভারতের উন্নয়নের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ৫জি বাজারে পরিণত হয়েছে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে ৬জি উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তিনি জানান, গত ১২ বছরে ভারতের মেট্রো পরিষেবা দুই ডজনেরও বেশি শহরে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১ কোটি ২৫ লক্ষের বেশি মানুষ মেট্রোয় যাতায়াত করেন। এছাড়া নমো ভারত র‌্যাপিড রেল এবং বন্দে ভারত ট্রেনের মতো আধুনিক রেল পরিষেবাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভাষণের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারত এখন ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। তাঁর কথায়, “একটি স্বপ্ন পূরণ হলে আরেকটি নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। একটি লক্ষ্য অর্জিত হলে আরও বড় লক্ষ্য সামনে আসে। ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্প নিয়ে ভারত আজ ‘গ্রো মোর, অ্যচিভ মোর’-এর মন্ত্রে এগিয়ে চলেছে।”

  • PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Australia)। মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খনিজ (Critical Minerals), বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলি ভারত-অস্ট্রেলিয়ার কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-কে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতা

    সূত্রের খবর, জ্বালানি ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত-অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিভিল নিউক্লিয়ার এগ্রিমেন্ট-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ায় এবার শান্তিপূর্ণ কাজে ভারতের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে খুলে গেল। ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ভারত অস্ট্রেলিয়ার থেকে এলএনজি (LNG), কয়লা এবং ডিজেল আমদানিও বাড়াবে।

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তি

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, অস্ট্রেলিয়া শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্যে নতুন গতি আনবে। মেলবোর্নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত শুধু ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে অস্ট্রেলীয় ইউরেনিয়াম। দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সরবরাহের উৎস আরও বহুমুখী হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সময় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার।

    শুধু জ্বালানি নয়, কৌশলগত বার্তাও

    ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ খাতের জন্যও এটি নতুন বাজার সৃষ্টি করবে। বাণিজ্যে চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিল্লিকেই নতুন বাজার হিসেবে বেছে নিল ক্যানবেরা। ২০১৪ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহ করা জ্বালানি যাতে শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরেনিয়াম চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি

    প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে তৎপর দুই দেশই। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ডিফেন্স ইনোভেশন করিডর গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের সহযোগিতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছ। সূত্রের খবর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে মেরিটাইম সিকিউরিটি রোডম্যাপ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি ও উপকূলীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ শিক্ষাবর্ষে একজন ভারতীয় সেনা আধিকারিককে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স কলেজে নিয়োগ করা হতে পারে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জয়েন্ট ডিক্লারেশন অন ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কোঅপারেশন ঘোষণা করেছে, যা ২০০৯ সালের নিরাপত্তা ঘোষণার নবীকরণ। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক শিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও বাড়বে। ভারতের কোস্ট গার্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ড-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল

    এছাড়াও ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিটিক্যাল মিনারেল করিডর গড়ে তোলা হবে। সূত্রের খবর, ভারত-অস্ট্রেলিয়া PACTS চুক্তির আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি-সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বাড়াতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাকে নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক প্রযুক্তি অংশীদারিত্বে সম্মতি জানানো হয়েছে। ভারতের গগনযান কর্মসূচিকে সমর্থন করতে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে একটি অস্থায়ী স্পেস ট্র্যাকিং টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশই পরিচ্ছন্ন শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেরত

    অস্ট্রেলিয়া ভারতের হাতে তিনটি মূল্যবান প্রত্নবস্তু ফিরিয়ে দিয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর ১১-১২ শতকের গ্রানাইটের নন্দী মূর্তি, ১১ শতকের ভদ্রকালীর ত্রিশূল এবং ১২ শতকের ষড়ানন কার্তিকেয়ের বাসাল্ট মূর্তি। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের মধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষা, যৌথ কর্মশালা, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইকোনমিক কর্পোরেশন অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ECTA)-এর ইতিবাচক ফলাফলকে স্বাগত জানান। এই সফরে অনুষ্ঠিত সিইও ফোরামে- প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে সবুজ হাইড্রোজেন, সৌর প্যানেল, বায়ু শক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। গান্ধীনগরের পণ্ডিত দীনদয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় রুফটপ সোলার ট্রেনিং অ্যাকাডেমি চালু হচ্ছে যেখানে ২,০০০ মহিলা ও যুবক-যুবতীকে সৌর প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকর করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে যাওয়ার পথে আচমকাই স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা, পরিকাঠামো, রোগী পরিষেবা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৫ থেকে ১৬টি সরকারি ও জেলা হাসপাতালকে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (ওপিডি), ওয়ার্ড, এমনকি রান্নাঘর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত অংশে নজরদারি চালানো হবে। তিনি বলেন, “রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না।”

    স্বাস্থ্যভবনে অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম

    হাসপাতালগুলির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য স্বাস্থ্যভবনে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ ফিডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসেন না। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি বারবার একই হাসপাতালে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তাঁকে সহজেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    কর্মীদের জন্য আলাদা রঙের পরিচয়পত্র

    রোগী ও তাঁদের পরিবারের সুবিধার্থে হাসপাতালের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের জন্য পৃথক রঙের ল্যামিনেটেড পরিচয়পত্র চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নার্স, নিরাপত্তারক্ষী, ট্রলি চালক-সহ বিভিন্ন কর্মীর আলাদা ব্যাজ থাকলে সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের পরিচয় বুঝতে পারবেন এবং বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে।

    প্রতিটি বড় হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার

    দুর্ঘটনা বা বড়সড় বিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিটি বড় সরকারি হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই কেন্দ্রগুলিতে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের পরিজনদের কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল চত্বরে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে রাত্রিযাপনের আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইউনিটের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে।

    এসএসকেএমে বাড়ছে বেড ও আইসিইউ

    এসএসকেএম হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে ইতিমধ্যেই ১০০টি নতুন বেড চালু হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই আরও ২৫০টি বেড যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের আইসিইউ বেড ১১২ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০০ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ন ইউনিটেও দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ করে পরিষেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

    রোগীদের খাবারের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ

    সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে ২০১৭ সালের পর থেকে রোগীদের খাদ্য বরাদ্দ আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমান সরকার সেই বরাদ্দ ৫৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করেছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল, আইসিইউ-তে ভর্তি শিশু এবং আইসিডিএস প্রকল্পের অন্তর্গত গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টি সংক্রান্ত বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    বেসরকারি হাসপাতালের ফ্রি বেড নিয়ে কড়া বার্তা

    সরকারি জমিতে তৈরি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চুক্তি অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের জন্য ১৫ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের চাপের মুখে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলি আপাতত ১০ শতাংশ বিনামূল্যের বেড চালু করতে সম্মত হয়েছে।

    নিউটাউনে ২,০০০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল

    স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ২,০০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই হাসপাতালের ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

    দুর্নীতির তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ

    স্বাস্থ্য দফতরের অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি আইন মেনে দ্রুত সরবরাহ করতে হবে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই এগোবে প্রশাসন।

  • Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শরিয়ত আইন বা মুসলিম ব্যক্তিগত আইন কখনওই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন (Prohibition of Child Marriage Act, 2006) এবং পকসো আইন (Protection of Children from Sexual Offences Act, 2012)-কে অগ্রাহ্য করতে পারে না। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি এক মামলায় এই রায় দিয়েছে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad HC)। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়স সবার জন্য একই। মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বিচারপতি জেজে মুনির এবং আচল সচদেব-এর ডিভিশন বেঞ্চ ১ জুলাই ২০২৬ এই রায় দেয়। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের কাকোর থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর খারিজের আবেদনও আদালত খারিজ করে দেয়।

    কোন মামলার প্রেক্ষাপটে এই রায়

    মামলার সূত্রপাত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ। অভিযোগ, বুলন্দশহরের সুনপেদা বক্সুয়া গ্রামে ১৬ বছরের এক মুসলিম কিশোরীর বিয়ের খবর পেয়ে পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা সেখানে পৌঁছে বাল্যবিবাহ (Child Marriage Acts) রুখতে উদ্যোগ নেন। কিশোরীকে অস্থায়ীভাবে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র সামনে পেশ করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা ওই কিশোরীকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান এবং সরকারি কর্মীদের হুমকি ও বাধা দেন বলে অভিযোগ। পরে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী কোনও মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছলে, অর্থাৎ সাধারণভাবে ১৫ বছর বয়সের পর, তার বিয়ে বৈধ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭ এবং ইন্ডিয়ান মেজরিটি অ্যাক্ট, ১৮৭৫-এ সেই অবস্থান স্বীকৃত রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন তাদের ব্যক্তিগত আইনের ওপর প্রাধান্য পায় না।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    অভিযুক্তদের এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে হাইকোর্ট জানায়, ব্যক্তিগত আইন কোনওভাবেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন বা পকসো আইনের বিধানকে খর্ব করতে পারে না। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক পকসো আইনে অপরাধ। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে অনুমোদন করলে তা কার্যত পকসো আইনের লঙ্ঘনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সামিল হবে। রায়ে বিচারপতি জেজে মুনির বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিয়ের বৈধ বয়স নির্ধারণ করেছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন। ধর্মের ভিত্তিতে এর কোনও ব্যতিক্রম হতে পারে না। শরিয়ত আইনে বয়ঃসন্ধিকে বিয়ের উপযুক্ত বয়স হিসেবে ধরা হলেও, তা বর্তমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    ধর্মীয় আইন পকসো-র ওপরে নয়

    আদালত আরও জানায়, পিসিএমএ (PCMA) এবং পকসো (POCSO)—দুই আইনই জনস্বাস্থ্য, শিশু সুরক্ষা এবং জাতীয় নীতির ভিত্তিতে প্রণীত বিশেষ আইন। তাই কোনও ব্যক্তিগত আইন, প্রথা বা ধর্মীয় রীতিনীতি এই আইনগুলির প্রয়োগে বাধা হতে পারে না। পরবর্তী সময়ে প্রণীত এবং সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য আইন হিসেবে পিসিএমএ-ই কার্যকর হবে। একইসঙ্গে আদালত জানায়, পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ রুখতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কাজে বাধা, হামলা ও সরকারি কর্তব্যে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে প্রাথমিকভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধের উপাদান রয়েছে। তাই তদন্ত বন্ধ করার কোনও কারণ নেই। আদালত তদন্তের ওপর জারি থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করে দেয়।

    ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে নাবালকদের সুরক্ষা

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন হাইকোর্টে এ বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও ইলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় শিশু অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ধর্ম বা ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে রয়েছে নাবালকদের সুরক্ষা এবং দেশের শিশু সুরক্ষা আইন। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, নাবালিকাদের নিরাপত্তা ও বাল্যবিবাহ রোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে প্রশাসনকে। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নাবালিকারা নিজেরাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় না। সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে বিষয়টি ধরা পড়ে। আদালত জানায়, বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্রই তা আটকাতে হবে। পাশাপাশি বিয়ের পরও যদি কোনও নাবালিকার ঘটনা সামনে আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্তে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

    বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন

    ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনটির নানা ধারা ২০০৬ সালে সংশোধন করা হলেও এখনও কিছু ফাঁক রয়ে গিয়েছে বলে আগে বহুবার জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই ফাঁকগুলি মেরামতের পাশাপাশি আইন প্রযুক্তকারীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলেছে শীর্ষ আদালত। বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলি চিহ্নিত করে তার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে। ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের ‘মূল ভাবনা’র কথাও সময় বিশেষে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি শেষ পন্থা হিসেবে অবলম্বন করতে হবে। এমনকী অপ্রাপ্তবয়স্কদের পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ইচ্ছাও এই আইনের পথে অন্তরায় হতে পারে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের পথ রোধ করতে পারে না ব্যক্তি অধিকারের আইন। বাল্যবিবাহের পাশাপাশি নাবালিকাদের বাগ্‌দান বন্ধ করা প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে আদালত।

  • Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রকৃত মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতেই এই ‘এনকাউন্টার’ ঘটানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

    ‘অপরাধীর ঠাঁই জেল বা মৃত্যু’— শমীকের কড়া বার্তা

    বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, খুন বা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। শমীকের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে অপরাধচক্র ও দৌরাত্ম্য চলছিল, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। কোনও রাজনৈতিক নেতার আশ্রয় বা প্রভাব খাটিয়ে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিল বিজেপি

    তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মূল অভিযুক্তকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশের এই পদক্ষেপ। সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তৃণমূলের বক্তব্যের আর জনসমর্থন বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। গত ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের মানুষ তাদের কার্যকলাপ দেখেছেন।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কামদুনি-সহ অতীতের একাধিক ঘটনায় তৃণমূলের ভূমিকা মানুষ ভোলেনি। তাই এই ধরনের অভিযোগকে সাধারণ মানুষ গুরুত্ব দেবে না।’’

    কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবি

    বারুইপুর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে কামদুনি গণধর্ষণ মামলারও উল্লেখ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কামদুনি মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হোক এবং সেই মামলার তদন্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হোক।’’ তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনায় নির্যাতিতারা পূর্ণ বিচার পাননি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখেই সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছেন। ফলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।’’

    পুলিশের পদক্ষেপের পাশে সুকান্ত মজুমদার

    ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার পক্ষেই সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তার বক্তব্য, কোনও অভিযুক্ত যদি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়, তাহলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতেই বাধ্য। সুকান্ত বলেন, ‘‘পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে পুলিশ তো আর জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না, পাল্টা গুলিই চালাবে।’’

    কী দাবি পুলিশের?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলে ঘটনাক্রমের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সে আচমকা এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিশের দিকেই গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হলে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে শাসক বিজেপি।

LinkedIn
Share