Tag: Madhyom

Madhyom

  • Income Tax Department: বিদেশে বিপুল অর্থ পাঠিয়েও নামমাত্র লেনদেন, ৩৯৪ সংস্থার বিরুদ্ধে আয়কর দফতরের যাচাই অভিযান

    Income Tax Department: বিদেশে বিপুল অর্থ পাঠিয়েও নামমাত্র লেনদেন, ৩৯৪ সংস্থার বিরুদ্ধে আয়কর দফতরের যাচাই অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নামমাত্র বা কোনও ব্যবসায়িক লেনদেন না দেখিয়েও, গত তিন বছরে বিদেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অভিযোগে একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিস্তারিত যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করল আয়কর দফতর (Income Tax Department)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন বেশ কিছু সংস্থার হদিশ মিলেছে, যাদের ঘোষিত ব্যবসার পরিমাণের সঙ্গে বিদেশে পাঠানো অর্থের চোখে পড়ার মতো কোনও সামঞ্জস্য নেই। ফিল্ড লেভেলের গোয়েন্দা তথ্য এবং বিদেশে পাঠানো অর্থ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেই খবর (Remittances)।

    আয়কর দফতরের তৎপরতার সূত্রপাত (Income Tax Department)

    আয়কর দফতরের এই পদক্ষেপের সূত্রপাত একটি ভুয়ো দাতব্য ট্রাস্টের গোষ্ঠীকে ঘিরে তল্লাশি অভিযান থেকে। অভিযোগ, ওই ট্রাস্টগুলির মাধ্যমে ভুয়ো অনুদান ও চাঁদার বিনিময়ে হিসাবের খাতায় সাজানো লেনদেন দেখানো হত। তল্লাশি অভিযানের পর তদন্তকারীদের নজরে আসে আরও বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্ক, যার সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাঠানোর মতো সন্দেহজনক লেনদেন জড়িয়ে রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে অর্থ পাঠানো সংস্থাগুলির একটি অংশ হয় আয়কর রিটার্নই জমা দেয়নি, নয়তো খুব সামান্য ব্যবসায়িক লেনদেন দেখিয়ে রিটার্ন জমা দিয়েছে। অথচ সেই সংস্থাগুলির মাধ্যমেই বিদেশে পাঠানো হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ঘোষিত ব্যবসার পরিমাণ এবং বিদেশে পাঠানো অর্থের মধ্যে কোনও সুস্পষ্ট সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    সন্দেহ যেখানে যেখানে

    শুধু অর্থের পরিমাণই নয়, বিদেশে টাকা পাঠানোর যে কারণগুলি দেখানো হয়েছিল, সেগুলিও তদন্তকারীদের সন্দেহের কারণ হয়ে উঠেছে। পণ্য পরিবহণের খরচ, সফটওয়্যার আমদানি এবং পরামর্শ পরিষেবার মূল্য মেটানোর মতো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেই লেনদেনগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যকলাপের সামঞ্জস্যও স্পষ্ট হয়নি। ফিল্ড লেভেলের আরও কিছু তথ্য আয়কর দফতরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তদন্তকারীদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির অনেকগুলিই তাদের নথিতে যে ঠিকানা উল্লেখ করেছিল, বাস্তবে সেখানে তাদের কোনও কার্যক্রম ছিল না। অর্থাৎ কাগজে-কলমে অস্তিত্ব থাকলেও, বাস্তবে সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

    তথ্য বিশ্লেষণের সময় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, তুলনামূলকভাবে অল্প সংখ্যক পেশাজীবীর কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক ১৫সিবি ফর্মের শংসাপত্র জারি করা হয়েছে। একই সময়ে বিদেশে পাঠানো অর্থের প্রাপক হিসেবেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সংস্থার নাম বারবার উঠে এসেছে। ফলে অর্থের উৎস, প্রেরক সংস্থা, শংসাপত্র প্রদানকারী পেশাজীবী এবং বিদেশি প্রাপকদের মধ্যে কোনও সংগঠিত যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে (Income Tax Department)। বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ১৫সিবি ফর্মের শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬২ সালের আয়কর বিধির ৩৭বিবি নিয়মের সঙ্গে পাঠযোগ্য ১৫সিবি ফর্মের বিধান অনুযায়ী, বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষককে হিসাবের খাতা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথির ভিত্তিতে ওই অর্থের উপর কর প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হয়। ২০২৬ সালের আয়কর বিধিতে এর সমতুল্য ব্যবস্থা রয়েছে ২২০ নম্বর নিয়মের সঙ্গে পাঠযোগ্য ১৪৬ নম্বর ফর্মে।

    দেশজুড়ে যাচাই অভিযান

    এই নিয়মের প্রেক্ষিতে তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষক কিংবা পেশাজীবীরা শংসাপত্র দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় মাত্রায় যাচাই-বাছাই এবং সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন কি না। কারণ, বিদেশে পাঠানো অর্থের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বাস্তবতা এবং কর সংক্রান্ত দায় সম্পর্কে যথাযথ পরীক্ষা না করে শংসাপত্র দেওয়া হয়ে থাকলে তা আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে (Remittances)। ১৮ অগাস্ট, মঙ্গলবার, আয়কর দফতর বিদেশে পাঠানো অর্থ সংক্রান্ত এই দেশজুড়ে বিস্তারিত যাচাই অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের আওতায় শুধু সন্দেহজনক সংস্থাগুলিই নয়, তাদের পিছনে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন। একই সঙ্গে যে পেশাজীবীরা ১৫সিবি ফর্মের শংসাপত্র জারি করেছেন, তাঁদের ভূমিকাও আলাদা করে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে (Income Tax Department)।

    বিদেশে পাঠানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ

    দেশের স্থলসীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবস্থিত এবং বিদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছে—এমন সংস্থাগুলিকেও এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে তদন্তের পরিধি শুধু বড় শহর বা আর্থিক কেন্দ্রগুলিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে থাকা সন্দেহজনক সংস্থাগুলির লেনদেনও একইভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আয়কর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে মোট প্রায় ৩৯৪টি সংস্থাকে এই যাচাইয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের স্থলসীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অবস্থিত প্রায় ১১৭টি সংস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি ৩৬ জন পেশাজীবীর ভূমিকা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাঁদের জারি করা শংসাপত্রের ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নথি এবং অর্থ পাঠানোর উদ্দেশ্য—সবই যাচাই করা হবে।

    হিসাবরক্ষকদের ভূমিকা

    দফতরের বক্তব্য, ১৫সিবি বা ১৪৬ নম্বর ফর্মে শংসাপত্র দেওয়ার সময় হিসাবরক্ষকদের যথাযথ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাগত বিচারবোধ প্রয়োগ করা প্রত্যাশিত। বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের মূল নথি, বাস্তব তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আয়কর দফতর জানিয়েছে, এই ধরনের শংসাপত্র আর্থিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শুধু নথি পূরণ বা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়, শংসাপত্র দেওয়ার আগে লেনদেনের প্রকৃত চরিত্র যাচাই করাও জরুরি।

    যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আয়কর দফতর

    প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখন আরও বিস্তৃত তদন্ত চালানো হচ্ছে। সন্দেহজনক সংস্থাগুলি আদৌ বাস্তবে ব্যবসা করত কি না, তাদের ঘোষিত লেনদেন এবং বিদেশে পাঠানো অর্থের মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, বিদেশি প্রাপকদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র কী, এবং শংসাপত্র প্রদানকারী পেশাজীবীরা কতটা যথাযথ যাচাই করেছিলেন—এই সব প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে আয়কর দফতর (Income Tax Department)। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাঠানোর এই নেটওয়ার্কের প্রকৃত পরিধি এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও (Remittances) স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত প্রায় ৩৯৪টি সংস্থা এবং ৩৬ জন পেশাজীবীকে ঘিরে চলা দেশজুড়ে এই যাচাই অভিযানের পরবর্তী ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে দেশবাসীর (Income Tax Department)।

     

  • Bastar Victims: “বস্তার ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে, আর সেই দিন চাই না” চিদম্বরমকে জবাব মাও-হিংসার শিকার পরিবারের

    Bastar Victims: “বস্তার ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে, আর সেই দিন চাই না” চিদম্বরমকে জবাব মাও-হিংসার শিকার পরিবারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমের ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যকে ঘিরে এবার সরব হলেন ছত্তিশগড়ের বস্তারে নকশাল হিংসার শিকার পরিবারগুলি। তাঁদের অভিযোগ, দিল্লিতে বসে এমন মন্তব্য করা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, কারণ বস্তারের বহু মানুষ নকশাল হামলায় তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত বস্তারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগঠন ‘বস্তার শান্তি সমিতি’ মঙ্গলবার রাজধানীতে সাংবাদিক বৈঠক করে চিদম্বরমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। তাঁরা জানান, নকশাল হামলা, অ্যামবুশ এবং আইইডি বিস্ফোরণে কেউ পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন, কেউ আবার নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন।

    বস্তারে এসে দেখুন!

    কাঁকেরের বাসিন্দা কামেশ্বর কুমার সিনহার বাবা ১৮ আগস্ট নকশালদের আইইডি বিস্ফোরণে নিহত হন। চিদম্বরমের ‘দিমাগি নকশাল’ সংক্রান্ত পোস্টে ক্ষুব্ধ কামেশ্বর বলেন, “আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। বস্তারে এসে দেখুন, এখানে কেউ এমন মন্তব্য করছে না। মানুষ আক্রান্ত পরিবার এবং জওয়ানদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। রাজধানী থেকে এমন কথা শুনে আমি খুবই ব্যথিত। তাই দিল্লিতে এসে তাঁকে প্রশ্ন করতে চেয়েছি, কীভাবে তিনি এমন কথা বলতে পারেন।”

    বহু মহিলা স্বামীকে হারিয়েছেন

    বস্তারের কাঁকেরের বাসিন্দা আরতিও চিদম্বরমের মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর স্বামী ছিলেন নিরাপত্তাবাহিনীর এসটিএফ জওয়ান। সুকমায় নকশালদের অ্যামবুশে তিনি নিহত হন। আরতি বলেন, “আমার স্বামী নিরাপত্তাবাহিনীতে ছিলেন। সুকমায় নকশালদের হামলায় তিনি নিহত হন। বস্তারে আমার মতো বহু মহিলা রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের স্বামীকে হারিয়েছেন। এখন বস্তার শান্তির পথে এগোচ্ছে। কিন্তু দিল্লিতে বসে রাজনৈতিক নেতারা এমন কথা বলছেন। আমরা চাই না অতীতের পরিস্থিতি আবার ফিরে আসুক।”

    ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে বস্তার

    নকশাল হামলায় দুই পা হারানো এবং মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া কাঁকেরের বাসিন্দা তরুণ কুমারও চিদম্বরমের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মানসিকতা বস্তারকে ফের কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। তরুণ বলেন, “বস্তার ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আজ যখন বস্তার উন্নতির পথে এগোচ্ছে, তখন কি তাকে আবার সেই নরকের দিকে ঠেলে দিতে চান? এই মানসিকতা বস্তারকে ৪০ বছর পিছিয়ে দেবে। আবার হিংসা, গুলির লড়াই শুরু হবে এবং জওয়ানরা প্রাণ হারাবেন।” বস্তারের আর এক নকশাল-হিংসার শিকার বাসিন্দা সিয়ারাম বলেন, শান্তির পথে এগিয়ে চলা বস্তারের মানুষ এমন মন্তব্যে ব্যথিত। তাঁর কথায়, “আমরা চেয়েছিলাম তিনি আমাদের পাশে দাঁড়ান। কিন্তু তিনি তাঁদের সমর্থনে কথা বলছেন। ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য আমরা পছন্দ করি না। তাই প্রতিবাদ জানাতেই দিল্লিতে এসেছি।”

    কোন প্রসঙ্গে এই মত

    প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, জঙ্গলে অস্ত্র হাতে নেওয়া নকশালদের পরাস্ত করা হয়েছে, তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও ‘দিমাগি নকশাল’ রয়েছে, যাদের “চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন” করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলগুলির একাংশ এর সমালোচনা করে। এরপর চিদম্বরম সমাজমাধ্যমে লেখেন, “দিমাগি নকশাল হিসেবে আমি গর্বিত!” কংগ্রেস এবং চিদম্বরমের বক্তব্য, ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি রাজনৈতিক অপমানসূচক শব্দ হিসেবে বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। তাঁদের মতে, এটি ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ এবং ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতোই একটি রাজনৈতিক তকমা।

    কী বলেছিলেন মোদি

    গত শনিবার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরে ভাষণে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সাফল্যের কথা জানিয়ে মোদী বলেছিলেন, ‘জঙ্গলে অস্ত্র হাতে লড়াই করা মাওবাদীদের অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও কিছু দিমাগি নকশাল রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন।’ ‘দিমাগি নকশাল’-রা নানা ভাবে ভুল বুঝিয়ে সমাজে সমাজে অশান্তি ও বিভাজনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।মাওবাদী চিন্তাধারার মানুষজন জনজীবনে তো বটেই, এমনকী বিভিন্ন সরকারি কমিটিতেও দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন মোদি। তাঁর কথায়, ‘সেই চিন্তাধারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগেও প্রভাব ফেলেছিল।’ এখানেই থামেননি তিনি। ‘দিমাগি নকশালরা’ এখনও সক্রিয় বলে অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘তারা এখন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। হিংসার রাস্তা খুঁজছে।’

    কিরেন রিজিজুর দাবি

    বিরোধীদের একাংশের দাবি, সমালোচকদের নিশানা করতে আগেও নানা তকমা ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি নেতারা। রিজিজুর দাবি, বিরোধীদের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনটি শ্রেণির কথা লিখেছেন তিনি। প্রথমত, যাঁরা মাওবাদীদের সমর্থন করার পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধানকে মানেন না। দ্বিতীয়ত, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ান এবং ৩৭০ ধারাকে সমর্থন করেন। তৃতীয়ত, যাঁরা ‘চিকেনস নেক’ কেটে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলেন। রিজেজুর কথায়, ‘তাঁরাই দিমাগি নকশাল।’

    কী বলেছিলেন চিদাম্বরম

    তবে বস্তারের নকশাল-হিংসার শিকার পরিবারগুলির বক্তব্য, রাজধানী থেকে রাজনৈতিক মন্তব্য করার আগে তাঁদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা এবং নকশাল হামলায় প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মীদের অভিজ্ঞতাকেও বিবেচনায় রাখা উচিত। এদিকে, ‘দিমাগি নকশাল’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে ১৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্রমশ একটি “মাওবাদী দলে” পরিণত হচ্ছে। ফলে চিদম্বরমের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

  • India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে শুধু যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কৌশলগত দায়িত্বেই ছিলেন না ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটরা। সরাসরি যুদ্ধ অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (PoJK) জঙ্গি ঘাঁটি এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোয় হামলার জন্য পরিচালিত একাধিক মিশনে মহিলা পাইলটরা অংশ নেন। প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে এমনই দাবি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় এক মহিলা ফাইটার পাইলট সুখোই সু-৩০ (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান উড়িয়েছিলেন। এই যুদ্ধবিমান ব্রহ্মোস (BrahMos) ও র‌্যামপেজ  (Rampage) -এর মতো অত্যাধুনিক এয়ার-টু-গ্রাউন্ড অস্ত্র বহনে সক্ষম। তবে ওই নির্দিষ্ট অভিযানে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা সূত্র। অস্ত্র ব্যবহারের বিস্তারিত এখনও গোপনীয় বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের দাবি, হামলার পর পাকিস্তান কয়েকটি জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে সেগুলির ধরন ও উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই ব্যবহৃত অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

    একাধিক মহিলা পাইলট ছিলেন অপারেশন সিঁদুরে

    সম্প্রতি ১৫ অগস্ট মুক্তি পেয়েছে  ডিসকভারির দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮৮ ঘণ্টার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের নেপথ্যের পরিকল্পনা ও সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে ওই তথ্যচিত্রে। সেখানে এক মহিলা অফিসারের বক্তব্যও রয়েছে, যদিও তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে একাধিক মহিলা ফাইটার পাইলট অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা সুখোই-৩০ এবং রাফাল (Rafale)— দুই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেন। কেউ ককপিটের সামনের আসনে বসে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আবার কেউ পিছনের আসনে বসে উইপন সিস্টেম অপারেটর (WSO) হিসেবে অভিযানে যুক্ত ছিলেন। প্রতিরক্ষা সূত্রের ব্যাখ্যা, ফাইটার স্ট্রিমে যোগ দেওয়ার পর পুরুষ ও মহিলা পাইলটের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য থাকে না। একই প্রশিক্ষণ, একই অপারেশনাল দায়িত্ব এবং একই ধরনের যুদ্ধ মিশনে তাঁদের নিয়োগ করা হয়।

    ৭ মে-র ব্রিফিংয়ের বাইরেও ছিল মহিলা অফিসারদের ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরের সময় মহিলা অফিসারদের ভূমিকা প্রথম থেকেই নজর কেড়েছিল। ৭ মে-র সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বায়ুসেনার হয়ে সামনে এসেছিলেন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তাঁরা অপারেশনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই তথ্য সামনে আসায় স্পষ্ট হচ্ছে, মহিলা অফিসারদের ভূমিকা শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা ভারতের প্রথম সারির যুদ্ধবিমান নিয়ে সরাসরি অপারেশনাল মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন।

    প্রথম দিনেই ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা

    ২০২৫ সালের ৭ মে ভোরে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। প্রথম দফায় মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিকে টার্গেট করে ভারত। এর মধ্যে পাকিস্তানের মুরিদকেতে থাকা মারকাজ তৈবা ছিল লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ সদর দফতর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাহাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহানাল্লা ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এছাড়াও মুজফফরাবাদ, কোটলি, শিয়ালকোট এবং ভিম্বরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের নয়টি টার্গেটের মধ্যে মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অন্য লক্ষ্যগুলিতে ভারতীয় সেনা লয়টারিং মিউনিশন এবং দূরপাল্লার আর্টিলারি ব্যবহার করে আঘাত হানে।

    বালাকোটের তুলনায় অনেক বড় অভিযান

    মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলার তাৎপর্য ছিল যথেষ্ট বেশি। মুরিদকে দীর্ঘদিন ধরেই লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বাহাওয়ালপুর ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছিল ভারত। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে একসঙ্গে নয়টি টার্গেটে হামলা চালানো হয়। এরপর অভিযান আরও বিস্তৃত হয়। পাকিস্তান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু করলে সংঘাত জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার গণ্ডি পেরিয়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে। ভারতীয় বায়ুসেনা বিভিন্ন পর্যায়ে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্রহ্মোস, স্ক্যাল্প-সহ একাধিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে।

    পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতেও ব্রহ্মোস হামলা?

    অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায়ে সুখোই-৩০ এমকেআই থেকে ব্রহ্মোস উৎক্ষেপণ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিও ছিল বলে জানা যায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পরে প্রকাশ্যে দাবি করেন যে ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির একটি সামরিক ঘাঁটিও ছিল।

    অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটদের ভূমিকা শুধুমাত্র প্রতীকী বা সহায়ক ছিল না। প্রতিরক্ষা সূত্রের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ অভিযানে সরাসরি অপারেশনাল কমব্যাট মিশনের অংশ ছিলেন। তবে কোন পাইলট কোন নির্দিষ্ট মিশনে কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, তার বিস্তারিত এখনও সামরিক গোপনীয়তার আওতায় রয়েছে।

  • India Beats Sri Lanka: নবাগত পাড়িক্কাল, সুথারের দাপটে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে জয় ভারতের

    India Beats Sri Lanka: নবাগত পাড়িক্কাল, সুথারের দাপটে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে জয় ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জয়ের জন্যই যেন অপেক্ষা করছিলেন বরুণ দেবতা! শ্রীলঙ্কার শেষ উইকেট পতনের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঝেঁপে বৃষ্টি নামল গলে। তার আগে অবশ্য প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেয় ভারত। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল শুভমন গিলরা। জয়ে বড় ভূমিকা রাখলেন তরুণ স্পিনার মানব সুতার। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ৬ উইকেট তুলে নিলেন। ফলে ৩৭২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২০৬ রানে গুটিয়ে গেল শ্রীলঙ্কার ইনিংস। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে মোট ১০ উইকেট নিলেন মানব।

    মানব-ম্যাজিক

    শুরু থেকেই ভাল খেলছিল তারা। প্রত্যাশামতোই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জিতে নিল ভারত। বুধবার টেস্টের পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের বাকি ছ’টি উইকেট ফেলে দিল তারা। টেস্ট জিততে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৩৭২ রান। তাদের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ২০৬ রানেই। ভারত জিতেছে ১৬৫ রানে। মানব সুতার এক ওভারে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শ্রীলঙ্কার শেষ চারটি উইকেট ফেলেন তিনিই। সারাংশ জৈন না মানব, কাকে প্রথম টেস্টে খেলানো হবে তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। শেষমেশ শিকে ছেঁড়ে মানবের। সুযোগ পেয়েই আস্থার দাম রাখলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিলেন তিনি। এক সময় গলে রাজ করেছেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। সোমবার গল দেখল আর এক বাঁহাতি স্পিনারের দাপট। পঞ্চম দিনে লড়াই করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু দু’ওভারে চারটি উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে একাই শেষ করে দেন মানব।

    ভারতের জয়ের কারিগর

    ভারতের জন্য এই টেস্টের জয়ের সবথেকে ইতিবাচক বিষয়টি হল জয়ের কারিগররা। গিল, রাহুল বা জাডেজার মতো প্রতিষ্ঠিত মহাতারকারা নন, বরং এই ম্যাচে ভারতের জয়ের কারিগর দ্বিতীয় টেস্ট খেলা সুথার ও তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামা দেবদত্ত পাড়িক্কাল (Devdutt Padikkal)। সুথার বোলিংয়ে ১০ উইকেট নেন, আর পাড়িক্কাল ব্যাট হাতে ম্যাচের দুই ইনিংসে ২০০-র অধিক রান করেন। তবে, টেস্ট জিতলেও ভারতের চিন্তা থাকবে শুভমন গিল এবং যশস্বী জয়সওয়ালের ফর্ম নিয়ে। শুভমন প্রথম ইনিংসে ১৬ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ রান করেন। যশস্বী দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৩২ এবং ০ রান করেছেন। দু’জনের খারাপ ফর্মের কারণে টপ অর্ডার বেশি অবদান রাখতে পারেননি। দেবদত্ত পডিক্কলের ইনিংসের সৌজন্যে বড় রান তোলা গিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংও ভাল হয়নি ভারতের।

  • RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা, যুবসমাজের মাদকাসক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা নিয়ে আগামী তিন দিন ধরে আলোচনা করবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার বিশাখাপত্তনমের কাছে গুড়িলোভায় বিজ্ঞান বিহার বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে আরএসএসের এই বার্ষিক সর্বভারতীয় সমন্বয় বৈঠক। মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠকের জায়গায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর। তিনি জানান, ১৯ অগাস্ট (বুধবার) সকাল ৯টায় বৈঠক শুরু হবে, চলবে ২১ অগাস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত। সঙ্ঘের ভাবধারায় প্রাণিত ৩২টি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা তিন দিনের এই বৈঠকে অংশ নেবেন। আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সহ-সরকার্যবাহ এবং কেন্দ্রীয় স্তরের অন্যান্য পদাধিকারীরাও উপস্থিত রয়েছেন।

    বৈঠকে যোগ দিয়েছেন যাঁরা (RSS)

    সংঘ সূত্রে খবর, এদিন শুরু হওয়া ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন (Demographic Imbalance) ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, ভারতীয় জনতা পার্টি, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, ভারতীয় কিষান সঙ্ঘ এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি-সহ বিভিন্ন সঙ্ঘ-প্রাণিত সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠন সম্পাদকরা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২৭ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগঠনগুলির ২৫৩ জন পদাধিকারী। এঁদের মধ্যে আবার রয়েছেন, ৪৯ জন মহিলা। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন আরএসএসের শীর্ষ নেতারাও।

    সুনীল আম্বেকরের বক্তব্য

    সুনীল আম্বেকর স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনও নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈঠক নয়। বিভিন্ন সংগঠনের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সমাজের কল্যাণে তাদের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। জনকল্যাণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের মতো বিষয় নিয়ে সঙ্ঘ ও তার অনুপ্রাণিত সংগঠনগুলি কাজ করে। সেই কাজের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে বৈঠকে আলোচনা হবে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সামাজিক পরিবর্তন এবং উদীয়মান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও পর্যালোচনা হবে, হবে আলোচনাও। বৈঠকে দেশের জনসংখ্যার পরিবর্তিত প্রবণতা, তার বৃহত্তর প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব

    তিন দিনের এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত রাখার বিষয়টি। ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে একটি সুসংবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে (RSS)।আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রাক্কালে সমাজে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘পঞ্চ পরিবর্তন’। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, পরিবারবোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধ, স্ব-বোধ বা দেশীয় চেতনা এবং নাগরিক কর্তব্য পালন। শতবর্ষের এই পর্বে দেশজুড়ে এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও প্রচার চালানো হচ্ছে। তিন দিনের এই সমন্বয় বৈঠকেও পঞ্চ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কর্মসূচি ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে (Demographic Imbalance)।

    ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’

    সুনীল আম্বেকর এও জানান, অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সামগ্রিক ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’ গড়ে তোলার বিষয়টিও রয়েছে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়নকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। সমাজের সব ক্ষেত্রে সামগ্রিক অগ্রগতিই প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি হওয়া উচিত। আরএসএসের শতবর্ষের এই পর্বে সংগঠনটির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। ‘আরএসএসে যোগ দিন’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪২৩ জন নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। ২০২৬ সালে ওই একই সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ২৮৭। নথিভুক্তদের মধ্যে ৬৫ শতাংশেরও বেশি ৩০ বছরের কম বয়সি এবং প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের কম (RSS)।

    এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সুনীল আম্বেকর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-মধ্য ক্ষেত্রের (Demographic Imbalance) সহ-সঙ্ঘচালক শ্রী দুঙ্গি রামকৃষ্ণ, সহ-প্রচারপ্রমুখ শ্রী প্রদীপ জোশী, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রান্তের প্রচারপ্রমুখ বায়্যা বাসু এবং সহ-প্রচারপ্রমুখ বাসুদেব রাও (RSS)।

     

  • Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়াদের আন্দোলনে (Recruitment Irregularities) এল বড়সড় সাফল্য। আন্দোলনকারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে হেমন্ত সোরেনের জোট সরকার। যদিও সরকারের ঘোষণার পরেও, আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল দাবি এখনও পূরণ হয়নি। নিয়োগ পরীক্ষায় তথাকথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর দাবিতে অনড় তাঁরা।

    ১৭ অগাস্ট ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল এবং রাজ্যে হওয়া নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত।

    এ ছাড়াও নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে এই কমিটি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করবে।

    তবে পড়ুয়াদের আন্দোলন এখনও চলছে। তাঁদের প্রধান দাবি, গোটা বিষয়টির তদন্ত করতে হবে সিবিআইকে দিয়ে।

    কীভাবে শুরু হয় ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন (Jharkhand)

    রাঁচিতে ২৫ জুলাই থেকে এই আন্দোলনের সূচনা। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়া এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীরা জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জড়ো হয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।

    চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা-সহ একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    ২০২৪ সালে সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের দাবি ছিল, অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সিবিআই তদন্ত।

    আন্দোলনের শুরু থেকেই পড়ুয়ারা জানিয়ে আসছেন, তাঁদের লড়াই ছাত্রছাত্রী এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাই এই আন্দোলনকে কোনও রাজনৈতিক দল বা বাইরের সংগঠনের প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও তাঁরা বারবার বলেছেন (Recruitment Irregularities)।

    বিধানসভা ঘেরাও ঘিরে পুলিশের লাঠিচার্জ

    ১০ অগাস্ট আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ে। সেদিন পড়ুয়ারা বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন।

    পুলিশি পদক্ষেপের পরেও আন্দোলন থামেনি। নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পড়ুয়ারা অবস্থান চালিয়ে যান। ফলে রাজ্য সরকারের উপরও চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বিষয়টি পরে রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্ব পায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি পড়ুয়াদের দাবিকে ন্যায্য এবং তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ফলে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ে (Jharkhand)।

    সরকারের একাধিক বড় সিদ্ধান্ত

    ১৭ অগাস্ট রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।

    প্রথমত, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলও এর আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে রাজ্য সরকার।

    শুধু স্নাতক স্তরের পরীক্ষা নয়, ২০১৪ সাল থেকে রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মেরও বিস্তৃত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই তদন্ত করবে। অনিয়ম বড় না ছোট—তা বিবেচনা না করে তদন্তের আওতায় সমস্ত অভিযোগ আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।

    এত কিছুর পরেও আন্দোলন কেন চলছে?

    সরকার একাধিক দাবি মেনে নেওয়ার পরেও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি পড়ুয়ারা। এর প্রধান কারণ সিবিআই তদন্তের দাবি (Recruitment Irregularities)।

    আন্দোলনকারীরা চাইছেন, রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা নয়, একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় সংস্থা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করুক। রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দিয়ে তদন্ত এবং পরীক্ষা সংস্কারের জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে তাঁদের কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও, সিবিআই তদন্তের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

    ফলে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরেই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। সরকার যদি সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেয়, তাহলে আন্দোলন প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। আর দাবি না মেনে নেওয়া হলে আন্দোলন আরও চলতে পারে।

    রাজনৈতিক ইস্যুর বদলে নিয়োগ পরীক্ষায়ই জোর

    ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, পড়ুয়ারা শুরু থেকেই একে নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

    তাঁদের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য আন্দোলন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ—এগুলিই তাঁদের মূল দাবি।

    বাইরের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সংগঠনগুলির প্রভাব থেকেও আন্দোলনকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন পড়ুয়ারা। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও, তাঁরা একে বৃহত্তর দলীয় বা মতাদর্শগত আন্দোলনে পরিণত হতে দেননি।

    বাইরের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরোধিতা

    ৭ অগাস্ট আন্দোলনে বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের হস্তক্ষেপ নিয়ে পড়ুয়াদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। সেদিন সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরারা আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

    কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁর উপস্থিতির বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, বক্তব্য রাখার সময় তাঁকে কটূক্তির মুখে পড়তে হয় এবং মঞ্চ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনাটি থেকে স্পষ্ট হয়, আন্দোলনকারীরা তাঁদের আন্দোলনের নেতৃত্ব, দিকনির্দেশ এবং বক্তব্য নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছেন। বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন হলেও, তাঁর হস্তক্ষেপকে তাঁরা স্বাগত জানাননি (Jharkhand)।

    শুধু হেমন্ত সরকারকে সমর্থনকারী বা বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন নয়, কোনও রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত সংগঠনের প্রভাব থেকেই আন্দোলনকে দূরে রাখার পক্ষেই পড়ুয়াদের একাংশ অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আন্দোলনের মূল বিষয় হওয়া উচিত নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ।

    উসকানিমূলক স্লোগান বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ নেই

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকে অন্যান্য কিছু বিতর্কিত ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হলেও, এখানে মূলত নিয়োগ পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির বিষয়গুলিই সামনে রয়েছে।

    আন্দোলন চলাকালীন “আজাদি” বা “ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে আজাদি”র মতো স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসেনি। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য, পাথর ছোড়া বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও এই আন্দোলনে শোনা যায়নি।

    পরীক্ষা সংস্কারকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যায়ে আন্দোলন

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করেছে, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল করেছে, অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং নিয়োগ পরীক্ষা সংস্কারের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

    একটি ছাত্র আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি ছিল নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

    অতঃপর?

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থানের উপর (Recruitment Irregularities)।

    সরকার এই দাবি মেনে নিলে আন্দোলন সমাধানের দিকে এগোতে পারে। কিন্তু দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে, সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন (Jharkhand) পড়ুয়ারা।

    এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে চলার পরেও তা মূলত নিয়োগ পরীক্ষা, সরকারি চাকরি এবং পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়েই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

    সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি এখনও পূরণ হয়নি। ফলে চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করা এই আন্দোলনের সামনে এখন প্রশ্ন একটাই—তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে বাকি মতপার্থক্য কি আন্দোলনকে আরও দীর্ঘায়িত না করেই মেটানো সম্ভব হবে (Jharkhand)?

     

  • Satyendar Jain: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র, জালে আরও ৫

    Satyendar Jain: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র, জালে আরও ৫

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের (Jal Board Corruption Case) অভিযোগে আম আদমি পার্টির নেতা এবং দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে (Satyendar Jain) গ্রেফতার করল দুর্নীতি দমন শাখা। অর্থ পাচার মামলায় ইতিমধ্যেই ১৮ মাস জেলে কাটিয়েছেন জৈন। তাঁর এই গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    যেসব অভিযোগে গ্রেফতার সত্যেন্দ্ররা (Satyendar Jain)

    এই মামলায় জৈন ছাড়াও আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক তথা আইএএস অফিসার উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব এবং তিন বেসরকারি ব্যক্তি নাগেন্দ্র যাদব, রাজা কুমার কুররা ও পঙ্কজ বর্মা। দিল্লি দুর্নীতি দমন শাখার দাবি, ২০২৪ সালের ১১ মে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের সরকারের নজরদারি অধিদফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার সূত্রপাত। অভিযোগ, দিল্লি জল বোর্ডের অধীনে নিকাশি জল শোধনাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য বিভিন্ন কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছিল। টেন্ডারের শর্ত বদলে দেওয়া, প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছে। মামলায় ঘুষ, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন শাখার বক্তব্য, তদন্তে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপির প্রাথমিক প্রমাণ সামনে আসার পরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    আপের প্রশ্ন

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হল সত্যেন্দ্র (Satyendar Jain)। দিল্লির জলমন্ত্রী থাকাকালীন জল বোর্ডের সঙ্গে তাঁর সরাসরি প্রশাসনিক যোগ ছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সময়কাল ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আম আদমি পার্টি। দলের নেতা ধান্ডা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “আর কত প্রমাণ দরকার যে বিজেপি আম আদমি পার্টিকে ভয় পায়?” তাঁর আরও প্রশ্ন, জৈন যখন ১৮ মাস জেলে ছিলেন, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া অনিয়মের জন্য তাঁকে কীভাবে দায়ী করা যায়? জৈনের গ্রেফতারির সঙ্গে আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকেও যুক্ত করেছে আম আদমি পার্টি। বর্তমানে পাঞ্জাবে দলের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে কাজ করছেন জৈন। দলের অভিযোগ, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এদিকে, দুর্নীতি দমন শাখা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও কারচুপির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তদের। মামলায় সত্যেন্দ্রকে দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী, উদিত প্রকাশ রাইকে দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক এবং অঙ্কিত শ্রীবাস্তবকে প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাগেন্দ্র, রাজা, এবং পঙ্কজকে এফআইআরে নাম থাকা সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    পুরো তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিকাশি জল শোধন পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ। ফলে অভিযুক্তদের (Satyendar Jain) রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ জনপরিকাঠামো প্রকল্পও (Jal Board Corruption Case) এই মামলাকে করে তুলেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

     

  • Jharkhand Recruitment Row: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগে বড়সড় পদক্ষেপ, বাতিল ৪৪ পরীক্ষা; অনিয়মের মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট

    Jharkhand Recruitment Row: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগে বড়সড় পদক্ষেপ, বাতিল ৪৪ পরীক্ষা; অনিয়মের মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলনের জেরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়খণ্ড সরকার (Jharkhand Recruitment Row)। মঙ্গলবার রাতে একসঙ্গে আটটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যে ২০১৪ সাল থেকে হওয়া ৪৪টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলির মধ্যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর পাশাপাশি আউটসোর্সিং সংস্থা টিডিপিএল (TDPL)-এর মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষাও রয়েছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছে ড্রাগ ইনস্পেক্টর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ডেপুটি কালেক্টর, ডেন্টাল ডাক্তার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল জজ, অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ পরীক্ষা। সরকারি পলিটেকনিকের লেকচারার, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার-সহ আরও বেশ কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগ পরীক্ষাও এই তালিকায় রয়েছে।

    ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের আবেদন

    শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের কাছে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের আবেদন জানাবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি জেপিএসসি এবং জেএসএসসি—দুই কমিশনেই একটি করে অভ্যন্তরীণ ভিজিল্যান্স সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেপিএসসি এবং জেএসএসসি (JPSC ও JSSC)-র নিয়োগ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করার জন্য গঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশল। ওই কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

    চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত সোমবারের রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে। সেখানে জেএসএসসি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (JSSC Combined Graduate Level বা CGL) পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল এই পরীক্ষা বাতিল করা। একইসঙ্গে টিডিপিএল-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষা এবং ওই সংস্থার প্রকাশিত ফলাফলও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তেই নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জেএসএসসি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষায় সফল হয়ে ইতিমধ্যেই সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া ২,০০০-এরও বেশি প্রার্থী তাঁদের চাকরি নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁরা রাজ্য সচিবালয় থেকে রাঁচির বিরসা চকের দিকে মিছিল করে তাঁদের নিয়োগ যাতে বহাল থাকে, সেই দাবি জানান।

    কেন এই দোলাচল

    পরীক্ষা পরিচালনাকারী এক বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। সিআইডি (CID) তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জানা যায়, পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের হাজারিবাগ, বোকারো, আসানসোল এমনকি নেপালের মতো বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রায় ১৫০টির মধ্যে ১২০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর মুখস্থ করানো হয়। এই নিয়ে মামলা গড়ায় ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। গত ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্ট সন্দেহজনকদের বাদ দিয়ে বাকিদের নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শীর্ষ আদালতও পরীক্ষা বাতিলের আর্জি খারিজ করে দেয়। সেই আইনি সুরক্ষার ভরসাতেই চাকরিপ্রার্থীরা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে সেই স্বস্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেছে।

    নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম

    গত কয়েক মাস ধরে ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি এবং জেএসএসসি (JPSC ও JSSC)-র নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছিল। পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর। বছরের পর বছর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের কাছে এই অভিযোগ ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। অনেকেই একাধিকবার পরীক্ষায় বসেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। ফলে কোনও পরীক্ষা বাতিল হলে তাঁদের বহু বছরের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আন্দোলনে মাথা নোয়াল সরকার

    ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Recruitment Row) এই আন্দোলন জাতীয় স্তরে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই আরও বড় আকার নেয়। দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি (CJP)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলনও দেশের তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভকে সামনে এনেছিল। ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকারীরাও ওই আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। দুই আন্দোলনের ইস্যু আলাদা হলেও মূল দাবিতে মিল রয়েছে—স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা। ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের সূচনা হয় ২৯ জুলাই, রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে। জেপিএসএসসি ও জেএসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার দাবিতে সেখানে আন্দোলনে বসেন চাকরিপ্রার্থীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা

    পরবর্তীতে আন্দোলনে রাজনৈতিক সমর্থনও বাড়ে। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো ২ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন, যার ফলে সরকারের উপর চাপ আরও বাড়তে থাকে। অবশেষে ৪৪টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, জেপিএসএসসি-জেএসএসসি-তে ভিজিল্যান্স সেল গঠন এবং অনিয়মের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথে হাঁটল ঝাড়খণ্ড সরকার। তবে বাতিল হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত চাকরিপ্রার্থী এবং ইতিমধ্যেই চাকরিতে যোগ দেওয়া সফল প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষার নিরাপত্তা ও প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর নির্দেশের পর পরীক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র খতিয়ে দেখতে চালু করা হচ্ছে চার স্তরের যাচাই ব্যবস্থা, যাতে ভুলের সম্ভাবনা আরও কমানো যায়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) পর্যালোচনা বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী আধিকারিকদের পরীক্ষার নিরাপত্তা, পরিকাঠামো এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র ডিরেক্টর জেনারেল সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য দেন।

    ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ

    নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এনটিএ-তে ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে। সংস্থার আরও নিয়োগ ও নতুন কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও পেশাদার করতে এনটিএ ইতিমধ্যেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার নেতৃত্বের পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চিফ টেকনোলজি অফিসার, চিফ ফিনান্স অফিসার, চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার, জেনারেল ম্যানেজার (টেস্ট সিকিউরিটি) এবং জেনারেল ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও সাইকোমেট্রিক্স)-এর মতো পদ। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি, সাইকোমেট্রিক্স এবং প্রশ্নপত্র তৈরির মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রের ডোমেন বিশেষজ্ঞদের এনটিএ-তে যুক্ত করা হচ্ছে।

    বহু কর্মীকে সরানোর সিদ্ধান্ত

    জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-তে বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। একধাক্কায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে দেওয়া হল এনটিএ থেকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এনটিএ-র পরীক্ষার টিমে ইতিমধ্যেই পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে এনটিএ-তে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    অফিস স্থানান্তর

    এনটিএ-র অফিসও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা হবে। পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর দল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৭ অগাস্ট এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অডিট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুনে হওয়া ইউজিসি-নেট পরীক্ষার তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির জেরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপরই এই সংস্কারের উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়েছে।

    চারটি স্তরে যাচাই

    এছাড়া পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে চারটি স্তরের যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র যাতে নির্ভুল হয়, তা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে চার স্তরের স্ক্রুটিনি। বর্তমানে এনটিএ-তে একাধিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। নতুন পদ্ধতিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষাসচিব এবং স্কুল শিক্ষা সচিব-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানেই এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার নানা গলদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কাজের পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই সংস্থায় ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে।

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় পদক্ষেপ

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায়ও একাধিক কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এনটিএ-কে কনফিডেনসিয়াল অপারেশন (CONOPS) আর্কিটেকচার সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে পৃথক ও সুরক্ষিত কক্ষ, ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন এয়ার গ্যাপ সিস্টেম এবং পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মোবাইল-সহ অন্যান্য ডিভাইস নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অস্বচ্ছতা, কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস তো কখনও প্রশ্নে ভুল। দু’বার করে একই পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। ফলত ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই নিয়ে দেশ জুড়ে আন্দোলনের জেরে এবার বড় পরিবর্তনের পথে পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকায় নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিবদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তাঁর মন্ত্রক জানিয়েছে, এনটিএ-র কাজের ধারায় আমূল পরিবর্তন করা হবে।

    সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ

    প্রহ্লাদ যোশী এনটিএ-কে পরীক্ষার সমস্ত নির্ধারিত প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংস্থার গোটা পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার একটি সমন্বিত অডিট করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, নিরাপত্তা ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করে পরীক্ষার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা আরও শক্তিশালী করা।

    সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা!

    প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি এবং নিরাপত্তার ফাঁকফোকর রুখতে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। ইতিমধ্যেই এ জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।এনটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দু’বছরের জন্য একটি পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দিল্লির মিন্টো রোডে এনটিএ-র প্রধান কার্যালয়, ওখলার আঞ্চলিক অফিস, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের স্ট্রং রুম, সার্ভার রুম, গুদাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। লক্ষ্য একটাই, কোনওভাবেই যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অন্য কোনও ধরনের জালিয়াতির সুযোগ না থাকে।

  • Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পুরোনো আতঙ্ক কি ফের ফিরে আসছে? এই নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকদের একাংশ। দিন কয়েক আগে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে! আর তারপরেই ফের আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না থাকলে ফের বিপদ বাড়তে পারে‌।

    কেন আবার করোনা নিয়ে উদ্বেগ?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সন্দীপ বাগ মারা যান। জানা যায়, তাঁর শরীরে করোনা সদৃশ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ওই চিকিৎসক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই চিকিৎসকের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। ডেথ সার্টিফিকেটে অবশ্য মৃত্যুর কারণ হিসাবে, ম্যাসিভ অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন’ অর্থাৎ গুরুতর হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্রমণ থেকে হার্টের একটি বড় অংশে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই এই পরিণতি ঘটে। তবে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে করোনার মতো ভাইরাস সক্রিয় ছিল বলেই জানা যায়। তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর। হঠাৎ এই মৃত্যুতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যুর পরে বাড়তি সতর্কতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ।

    করোনা পরিস্থিতি কতখানি উদ্বেগজনক?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে অবশ্যই সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাছাড়া করোনা টিকা করণ হয়ে গিয়েছে। ফলে, ২০১৯ সালের মতো পরিস্থিতি আর হয়তো তৈরি হবে না। সংক্রমণ ঘটলেও রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মৃত্যু মিছিল আটকানো যাবে। কারণ এই ভাইরাসের প্রতিষেধক নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সম্পর্কেও এখন ধারণা রয়েছে। তাছাড়া রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এমন কোনো তথ‌্য নেই। তাই অযথা উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু অবশ্যই সচেতনতা জরুরি।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    করোনা মহামারির দাপট যাতে ফের ফিরে না আসে, তার জন্য প্রথম থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ রুখতে সচেতনতা জরুরি। করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা জারি রাখতে হবে।

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, ফের মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ করেই এই ভাইরাস মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই মাস্ক করোনা রুখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে‌। হাতে তালু দিয়ে করোনা নাক ও মুখে প্রবেশ করে। আর সেখান থেকেই এই ভাইরাস শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই করোনা সংক্রমণ রুখতে অন্যতম হাতিয়ার মাস্ক। নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরে তবেই বাইরে যাওয়া উচিত। বিশেষত বয়স্কদের অবশ্যই বাইরে ভিড় এলাকায় যাওয়ার আগে মাস্ক পরা প্রয়োজন। বয়স্কদের করোনা বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই ষাটোর্ধ্বদের বেশি সচেতন থাকতে হবে।

    হাত পরিষ্কারের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের পরামর্শ, বাইরে থেকে ফিরলেই ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার খাওয়ার আগে এবং পরেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যাতে হাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না হয়। যাতে হাত থেকে শরীরের ভিতরে ভাইরাস সংক্রমিত না হতে পারে।

    তাছাড়া জ্বর, সর্দি-কাশি হলে একেবারেই অবহেলা করা উচিৎ নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে অনেকেই জ্বর-সর্দি-কাশিতে কাবু হচ্ছেন‌। অনেক সময়েই সেটা সাধারণ ভাইরাস ঘটিত জ্বর । কিন্তু দিন দুয়েক টানা জ্বর থাকলে সেটা অবহেলা করা যাবে না।‌ কারণ, তাতে করোনার মতো ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমেই রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলে বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে। পাশপাশি চিকিৎসা দ্রুত শুরু হলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।

LinkedIn
Share