Tag: Madhyom

Madhyom

  • Baruipur Incident: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর হিংসায় উসকানির অভিযোগ, ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলি

    Baruipur Incident: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর হিংসায় উসকানির অভিযোগ, ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুর কাণ্ডে (Baruipur Incident) অশান্তিতে উস্কানির অভিযোগে গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি। সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম থেকে প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি। রবিবার ১২ জুলাই রাতে বারুইপুরে বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয় লাহেক আলিকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। সেই ঘটনার জেরে হওয়া বিক্ষোভে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে এবার গ্রেফতার হলেন স্থানীয় সিপিএম নেতা। এই ঘটনায় এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত বাম নেতাকে আজ, সোমবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।

    তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার

    পুলিশ সূত্রে খবর, সূর্যপুরের ঘটনার পর গত রবিবার এলাকায় তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করেন এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর চড়াও হন। দফায় দফায় ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও এই হামলায় জখম হন। অভিযোগ, ঘটনার দিন আন্দোলনের নামে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানো এবং পুলিশের ওপর হামলায় সরাসরি উস্কানি দিয়েছিলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি। ঘটনার সময় তিনি সশরীরে সেখানে উপস্থিতও ছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার দিনের বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রাথমিক তদন্তে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার (Baruipur violence) দিন আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্করপ্রসাদ বারুইের পাশেও দেখা যায় এই লাহেক আলিকে। ঘটনার পর পুলিশ একটি এফআইআর করে। যেখানে সুজন চক্রবর্তী ও লাহেক আলি-লহ চারজনের নাম ছিল।

    কোন কোন ধারায় মামলা রুজু

    ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধে বিএনএস- এর ২০টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। উস্কানি, প্ররোচনা, গন্ডগোল পাকানো, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ধারায় মামলা হয়েছে লাহেক আলির বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, লাহেক আলির বিরুদ্ধে রেলওয়ে অ্যাক্টেও মামলা দায়ের হয়েছে। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গণপিটুনিতে খুন, প্ররোচনা দেওয়া, বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে আসা, উস্কানি দেওয়া, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা-বিদ্বেষ ছড়ানো, জনসাধারণের সম্পত্তি নষ্ট করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীর উপর হামলা, অপরাধমূলক ভয় দেখানো, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সংরক্ষিত সম্পত্তি নষ্ট করা, অবৈধ কাজ করা, রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করা, রেলকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত – এই ধারাগুলিতে মামলা রুজু হয়েছে ধৃত লাহেক আলির বিরুদ্ধে।

  • FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ফিফা (FIFA) র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারটি দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠল। ৪৮ দলের লড়াই, একাধিক আনকোরা দলের সঙ্গে ছিল রাউন্ড অফ ৩২-এর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে কোনও অঘটন ঘটল না বিশ্বকাপে। সেমি ফাইনালে প্রবেশ করল ফিফা (FIFA World Cup 2026) র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড। সেমি ফাইনালে ওঠা চার দলই অতীতে অন্তত একবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। অর্থাৎ, এ বারও কোনও নতুন দল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না। চারটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবার শেষ চারে লড়বে শিরোপার জন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি বিশ্বকাপজয়ী দেশ। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

    সেমিফাইনালের সূচি (ভারতীয় সময়)

    প্রথম সেমিফাইনাল:

    ফ্রান্স বনাম স্পেন

    তারিখ : ১৫ জুলাই (বুধবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম

    দ্বিতীয় সেমিফাইনাল:

    ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

    তারিখ : ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম

    বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

    ৬০ বছর পর কেন, বেলিংহ্যামদের পায়ে আবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, সুইৎজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন লিয়োনেল মেসিরা। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কথায়, “জয়ের পর সত্যিই খুব ভাল লাগছে। পরিশ্রম করে জিততে হয়েছে। আমরা জানতাম খুব কঠিন ম্যাচ হবে। কিন্তু এই ম্যাচ জেতার দরকার ছিল। আরও এক বার আমাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু এই দলটা কখনও বিশ্বাস করা থামায় না। আরও এক বার আমরা বিশ্বের সেরা চার দলের একজন।” মেসির সংযোজন, “জানি না আবার বিশ্বকাপ জিতব কি না। হওয়ার থাকলে নিশ্চয়ই হবে। গত বার জেতার আগে অনেক দিন বিশ্বকাপ পাইনি। তাই এখনকার প্রতিটা মুহূর্তকে উপভোগ করা দরকার।”

    বিশেষ নজরে কারা

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। দুই দেশের নকআউট ম্যাচের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ম্যাচেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার। পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে মেসি বলেছেন, “ওই গোলের (মারাদোনা) সম্পর্ক যা কিছু জেনেছি তা সবই ভিডিয়ো বা ছবি দেখে। আর্জেন্টিনীয়রা নিয়মিত সেই ছবি দেখেন। তবে এই দলটা প্রতিপক্ষের কথা না ভেবেই ফুটবল খেলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। কারণ ওরা ফুটবলের মহাশক্তি। সেই রকম দলের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। প্রথম বার ওদের বিরুদ্ধে খেলব। ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশের বিরুদ্ধে খেলেছি। সেরা ছন্দে থেকে খেলার চেষ্টা করব।” বিশেষ নজর থাকবে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম এবং লামিনে ইয়ামাল-এর মতো তারকাদের ওপর। বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চার দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

  • Dhamrai Rath: পাক বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছিল ৫০০ বছরের ইতিহাস, তবু আজও স্বমহিমায় বর্তমান ধামরাই-এর রথযাত্রা

    Dhamrai Rath: পাক বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছিল ৫০০ বছরের ইতিহাস, তবু আজও স্বমহিমায় বর্তমান ধামরাই-এর রথযাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগুনে পুড়েও, ফুরিয়ে যায়নি ৫০০ বছরের ঐতিহ্য। প্রতি বছর রথযাত্রার সময় প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ টানার উৎসবে মেতে ওঠেন ভক্তরা। পুরী বা আমেদাবাদের রথযাত্রার কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, একসময় পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও বিশাল রথযাত্রা হত বাংলাদেশের ঢাকার কাছে ধামরাইয়ে (Dhamrai Rath Yatra)। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই রথযাত্রার ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনই কষ্টেরও। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এর ওপর নির্মম আঘাত হেনেছিল। তার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিল রথ, যদিও মুছে ফেলা যায়নি ভক্তদের মনের বিশ্বাসকে।

    ৫০০ বছরের পুরানো উৎসব

    ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ধামরাই জনপদ। এখানকার রথযাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ৫০০ বছর আগে (500 Year Old Rath Yatra Bangladesh)। পুরানো ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৬৭২ সালেও এই রথযাত্রা উৎসব হত খুব ধুমধাম করে। উৎসব দেখতে একসময় শুধু বাংলা নয়, ওড়িশা, অসম, মায় নেপাল থেকেও হাজার হাজার মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতেন। টানা এক মাস ধরে চলত মেলা। হত নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ধামরাইয়ের বিখ্যাত যশোমাধব মন্দির থেকে যাত্রা শুরু করত রথ। শেষ হত আধ কিলোমিটার দূরের গোপীনগর মন্দিরে গিয়ে।

    পুরীর রথের চেয়েও বড় ধামরাইয়ের রথ (Dhamrai Rath Yatra)!

    উনিশ শতকের শুরুর দিকে ধামরাইয়ের জমিদাররা মিলে একটি বিশাল কাঠের রথ তৈরি করেন। এলাকার সেরা কাঠমিস্ত্রিরা প্রায় এক বছর ধরে এই রথটি বানিয়েছিলেন। রথটি ছিল প্রায় ৬০ ফুট উঁচু (60 feet tall Dhamrai Rath)। পুরীর বর্তমান রথটি ৪৪ ফুট উঁচু, অর্থাৎ ধামরাইয়ের রথটি ছিল তার চেয়েও ঢের বড়। রথে ছিল ৩২টি বিশাল কাঠের চাকা। রথটি টানার জন্য প্রায় ১,০০০ কেজি ওজনের মোটা দড়ি ব্যবহার করা হত।

    দানবীর রণদাপ্রসাদ সাহা ও ১৯৭১-এর কালো অধ্যায়

    ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর জমিদারি প্রথা লোপ পেলে রথযাত্রার আয়োজকরা পড়েন ঘোর সঙ্কটে। তখন গর্বের এই ঐতিহ্য বাঁচাতে এগিয়ে আসেন টাঙ্গাইলের বিখ্যাত দানবীর তথা সমাজসেবক রণদাপ্রসাদ সাহা (আরপি সাহা)। তিনি নিজের খরচে এই রথ ও উৎসবের সব দায়িত্ব নেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের (Bangladesh) মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সব ওলটপালট হয়ে যায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী রণদাপ্রসাদ ও তাঁর ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর আর খোঁজ মেলেনি তাঁদের।

    রথ পুড়িয়ে দিল পাক বাহিনী

    পাক হানাদারদের অত্যাচারের জেরে যে কেবল রণদাপ্রসাদ ও তাঁর জওয়ান ছেলে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন তা নয়, দুষ্কৃতীরা ইতিহাসখ্যাত এই রথে আগুন লাগিয়ে দেয়। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ১০ জুন। রোষের আগুনে সপ্তাহখানেক ধরে ধিকধিক করে পুড়ে গিয়েছিল ধামরাই তথা তামাম বাংলার এই গর্ব। রথ পুড়ে যাওয়ায় ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে ধামরাইয়ে রথযাত্রা হয়নি। বাংলাদেশের ৫০০ বছরের এই রথযাত্রার ইতিহাসে (500 Year Old Rath Yatra Bangladesh) এটি ছিল একটি বড় আঘাত।

    নতুন করে পথ চলা ও ভারতের সাহায্য

    স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পর ১৯৭৩ সালে একটি ছোট রথ বানিয়ে ফের শুরু হয় উৎসব। যদিও আগের সেই জাঁকজমক আর ছিল না। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের আসাও অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এরপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। ২০০৯ সালে ভারত সরকার (Indian govt) ধামরাইয়ের এই ঐতিহ্য বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় ২০১০ সালে একটি নতুন রথ নির্মাণ করে শুরু হয় উৎসব। এই নতুন রথটি ৪০ ফুট উঁচু, চাকা রয়েছে ১৬টি। সেই থেকে ফি বছর উৎসবে টানা হয় এই রথটিই। আজও ধামরাইয়ে প্রতি বছর রথযাত্রা হয়। বসে মেলাও। রথের রশি ছুঁয়ে পুণ্য অর্জন করে হাজারো ভক্ত। আগের সেই অতিকায় রথ আর নেই, ফুরিয়ে গিয়েছে সেদিনের সেই জাঁকও। তবে ধামরাইয়ের বাসিন্দাদের মন থেকে মুছে ফেলা যায়নি সেই ৬০ ফুটের কাঠের রথ এবং তাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহভর উৎসবের ছবি। বস্তুত, এটাই ধামরাইয়ের রথযাত্রার আসল শক্তি।

  • Ram Mandir: ‘মন্দিরের টাকায় মসজিদের পাঁচিল!’, রাম মন্দির বিতর্কে সপা-কে নজিরবিহীন তোপ যোগী আদিত্যনাথের

    Ram Mandir: ‘মন্দিরের টাকায় মসজিদের পাঁচিল!’, রাম মন্দির বিতর্কে সপা-কে নজিরবিহীন তোপ যোগী আদিত্যনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি বিতর্ককে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তুমুল পারদ চড়ল। দানবাক্স থেকে টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিজেপি সরকারকে যখন সমাজবাদী পার্টি (SP) ও কংগ্রেস কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই অযোধ্যার মাটি থেকে বিরোধীদের অতীত মনে করিয়ে দিয়ে পাল্টা নজিরবিহীন আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের।

    যোগীর বিস্ফোরক অভিযোগ (Ram Mandir)

    অযোধ্যার এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) বলেন, “সমাজবাদী পার্টির নেতারা একসময় মন্দিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা পকেটে পুরতেন। এরপর সেই মন্দিরের অনুদানের টাকা ডাইভার্ট করে মসজিদের পাঁচিল তৈরিতে ব্যবহার হত।”

    বিরোধীদের গিরগিটির সাথে তুলনাও করলেন ইউপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য়নাথ। “কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি এখন অযোধ্যার প্রতি ভক্তির কথা বলছে! অথচ এই কংগ্রেসই একসময় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে বলেছিল ভগবান রামের কোনও অস্তিত্ব নেই। আর সমাজবাদী পার্টি তো রামভক্ত কারসেবকদের উপর গুলি চালিয়েছিল। আজ হঠাৎ তাদের রামভক্তি জেগে উঠল কী করে?” প্রশ্ন যোগীর।

    ‘সনাতন ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত!’ সুর চড়াল সমাজবাদী পার্টি

    অন্যদিকে, রাম মন্দিরের (Ram Mandir) দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকার অনুদান এবং সোনা-রুপোর গয়না গায়েব হওয়ার ঘটনাকে  ‘বিরাট কেলেঙ্কারি’ বলে উল্লেখ সমাজবাদী পার্টির (SP)। সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের কাঠগড়ায় যোগী সরকার। অভিযোগ,”সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগের দান ও কোটি কোটি টাকার অনুদান ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেনি মন্দির ট্রাস্ট। দানবাক্স থেকে টাকা গায়েব হয়ে যাওয়া আসলে কোটি কোটি সনাতনীদের ভাবাবেগে বড় আঘাত। রাজ্যের বিজেপি সরকার বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলার মতো আসল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিরোধীদের উপর উল্টে আক্রমণ করছে। মেরুকরণের রাজনীতি করছে।”

    চুরির ঘটনায় যোগীর কঠোর অবস্থান

    রাম মন্দিরের (Ram Mandir) অনুদান চুরি নিয়ে নিজের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। তাঁর সাফ বার্তা, “কাউকেই রেয়াত করা হবে না। মন্দিরের ট্রাস্ট নিজেই চুরির ঘটনাটি সরকারের নজরে এনে তদন্ত চেয়েছিল। সরকার অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে শনাক্ত করে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে ও তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে।” উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “অপরাধীদের যখন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তখন গুটি কয়েক মানুষের পাপের জন্য পুরো রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে বদনাম করার এবং অযোধ্যাকে অপমান করার কোনও অধিকার বিরোধীদের নেই।”

    এদিকে, ২০২৭-এই রয়েছে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজনীতি। উত্তরপ্রদেশে নিজেদের ঘাঁটি শক্ত করতে মরিয়া বিরোধীরা, বারাবার সরকারের দিকেই আঙুল তুলছে। যদিও বিরোধীদের চক্রান্তে একেবারেই কান দিতে নারাজ যোগী সরকার। বিরোধীদের বারবার নিজেদের জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন ‘বুলডোজার বাবা’। এখন দেখার কোন দিকে মোড় নেয় এই বিতর্ক?

  • Puri Rath Yatra: পুরীর রথযাত্রা উৎসব বিঘ্নহীন করতে মোতায়েন ১২ হাজার পুলিশ, ভক্তদের নিরাপত্তায় উড়বে ড্রোনও

    Puri Rath Yatra: পুরীর রথযাত্রা উৎসব বিঘ্নহীন করতে মোতায়েন ১২ হাজার পুলিশ, ভক্তদের নিরাপত্তায় উড়বে ড্রোনও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ জুলাই শুরু হচ্ছে পুরীর রথযাত্রা উৎসব। এই উপলক্ষে প্রতি বছর লাখ লাখ ভক্ত সমাগম ঘটে ওড়িশার এই শহরে। বিশ্বখ্যাত পুরীর রথযাত্রাকে (Puri Rath Yatra) ঘিরে এবার আরও কড়া প্রশাসন। রথযাত্রা উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরী জুড়ে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জল, স্থল এবং আকাশ-তিন ক্ষেত্রেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয় তৈরি করছে ওড়িশা পুলিশ।

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ড্রোন প্রযুক্তি (Rath Yatra Security)

    ওড়িশা পুলিশের ডিজিপি (DGP) ওয়াই বি খুরানিয়ার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকে ভক্তদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আকাশপথে কড়া নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হবে ড্রোন। অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোনের উড়ান রুখতে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে অ্যান্টি-ড্রোন (anti-drone)  প্রযুক্তির সাহায্যও। সমুদ্রে ও উপকূলীয় এলাকায় কড়া নজরদারির জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy), কোস্ট গার্ড এবং ওড়িশা মেরিন পুলিশ একযোগে কাজ করবে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য জাহাজে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) মোতায়েন থাকবে। রথে রশিতে টান পড়ার সময় ভক্তদের হুড়োহুড়ি (stampede) এড়াতে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ব্যারিকেড ও সুশৃঙ্খল দেবদর্শনের ব্যবস্থা।

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা

    মেলা প্রাঙ্গণের পাশাপাশি গোটা পুরী শহরকে সুরক্ষিত রাখতে প্রায় ১২,০০০ পুলিশ কর্মী দিনরাত ডিউটি করবেন। ওড়িশা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF, BSF) এবং আরপিএফও। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় হাই অ্যালার্টে থাকবে বেশ কিছু বিশেষ দল, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল (Bomb Disposal Squad), স্নিফার ডগ বা কে-৯ স্কোয়াড (Sniffer Dogs / K-9 Squad), এনএসজি (NSG) প্রশিক্ষিত বিশেষ কমান্ডো বাহিনী (SOG), এবং স্পেশাল টেকনিক্যাল ইউনিট (STU)।

    অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা

    উৎসবে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পকেটমার, ছিনতাইকারী বা ট্রেনের ভেতরে দুষ্কর্ম করা দুষ্কৃতীরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্যও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত ও দাগী অপরাধীদের ছবি বড় বড় পাবলিক প্লেস, রেল স্টেশন ও থানায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও আরপিএফ (RPF) তাদের সহজেই শনাক্ত করতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে পুরী শহরের সমস্ত হোটেল, লজ, ধর্মশালা, মঠ এবং বাস স্ট্যান্ডগুলিতে নিয়মিত তল্লাশি ও চেকিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব (Puri Rath Yatra) যাতে শান্তিপূর্ণ এবং বিঘ্নহীনভাবে শেষ হয়, তাই সবরকম প্রস্তুতি সেরে রেখেছে ওড়িশা প্রশাসন।

  • FIR Against Abhishek: ‘সেবাশ্রয়’ নাকি সর্বনাশের আখড়া? অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের তৃতীয় এফআইআর

    FIR Against Abhishek: ‘সেবাশ্রয়’ নাকি সর্বনাশের আখড়া? অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের তৃতীয় এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞাপনের চোখা চমক বনাম বাস্তবের করুণ ছবি! বিনামূল্যে চিকিৎসারই পুরস্কার? সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার বদলে আস্ত পা-টাই খোয়ালেন অসহায় মহিলা। প্রশ্নের মুখে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’। সেবাশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যেই এবার আরও চাপ বাড়ল তৃণমূলের এই নেতার। পা খুইয়ে রবীন্দ্রনগর থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR Against Abhishek) দায়ের দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের। ‘সেবাশ্রয়ে’র অনিয়ম ও গাফিলতি নিয়ে সাংসদের বিরুদ্ধে এটি তৃতীয় এফআইআর (FIR Against Abhishek)। পাশাপাশি, অভিষেকের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধেও দায়ের হয়েছে এফআইআর (FIR)।

    ‘সেবাশ্রয়ে’র ভুল ওষুধেই মর্মান্তিক পরিণতি?

    রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘সেবাশ্রয়ে’র বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ সামনে আসছে। হাতুড়ে কিংবা মেডিক্যাল পড়ুয়াদের দিয়ে চিকিৎসা থেকে করানো থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) ওষুধ বিলি করার মতো মারাত্মক সব অভিযোগ রয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। মালতীর ঘটনাই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ঘটনার সূত্রপাত মাস দু’য়েক আগেই। হাঁটুর তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে এলাকার একটি ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে গিয়েছিলেন মালতী। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কিছু ওষুধ দেন। অভিযোগ, সেই ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই তাঁর পায়ের অবস্থার চরম অবনতি হয়, যন্ত্রণা আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে।

    বিনামূল্যে চিকিৎসার নামে মোটা টাকা দাবি!

    শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে মালতি বাধ্য হন অন্য একটি সেবাশ্রয় ক্যাম্পে। অভিযোগ, সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা চান। তাহলে, সাংসদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ক্যাম্পেনিংয়ের কী হল? অভিযোগ, টাকা দিতে না চাওয়ায় মালতীকে সরকারি হাসপাতালে রেফার করে দেন ওই ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের কর্তারা। এরপর মালতি ছুটেছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। প্রথমে এমআর বাঙুর (M.R. Bangur), পরে সেখান থেকে চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল ও শেষে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। সেখানেই মালতীর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, সংক্রমণ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়া আটকাতে ডান পা-টি কেটে বাদ দেওয়া (Amputation) ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।

    বাদ পড়ল পা, তাও মুখে কুলুপ ‘সেবাশ্রয়’

    মালতির করুণ পরিণতির পর বহুবার অভিষেক ও সেবাশ্রয় ক্যাম্পের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, তাঁরা বিষয়টি পাত্তাই দিতে চাননি বলে অভিযোগ। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের উপস্থিতিতে পুলিশের দ্বারস্থ হন অসহায় মালতির পরিবার।

    স্বাস্থ্যভবনের ভূমিকা

    এদিকে ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে। নড়েচড়ে বসেছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। ভুক্তভোগী মহিলা ও তাঁর পরিবারকে সমস্ত নথিপত্র-সহ সোমবার সকাল ১১টায় সরাসরি স্বাস্থ্যভবনে (Swasthya Bhawan) ডেকে পাঠানো হয়েছে। এবার তাঁদের মুখেই পুরো অভিযোগ শুনবেন স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।

    চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ধুমধাম করে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু বাস্তবে একের পর এক ক্যাম্পে অনিয়ম, চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। খোদ সাংসদ এবং তাঁর পিএর নামে এফআইআর দায়ের হওয়ায় এই প্রকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন খাদের কিনারে। রাজ্যে পালাবদলের পর যেভাবে একের পর এক মামলায় জর্জরিত হচ্ছেন অভিষেক, তাতে তাঁর চাপ যে আরও কয়েকগুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

  • MHA order on National Anthem and National Song: ‘একটুও ভুল উচ্চারণ চলবে না’, কেন্দ্রীয় দফতর থেকে লোকভবন, দেশের গানের মর্যাদা রক্ষায় নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

    MHA order on National Anthem and National Song: ‘একটুও ভুল উচ্চারণ চলবে না’, কেন্দ্রীয় দফতর থেকে লোকভবন, দেশের গানের মর্যাদা রক্ষায় নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গীতের অবমাননা রুখতে এবার কড়া কেন্দ্রীয় সরকার। ‘আর চলবে না কোনও ভুল উচ্চারণ’, একেবারে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিল সরকারি নির্দেশিকা। দেশের জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গীত (National Song) ‘বন্দে মাতরম্‌’ গাওয়া বা বাজানোর ক্ষেত্রে সুর এবং উচ্চারণে যাতে কোনও ভুল না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। গত ৯ জুলাই দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস এবং লোকভবনে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে।

    কী রয়েছে নির্দেশিকায় (MHA order on National Anthem and National Song)?

    আর ভুল উচ্চারণ ও শব্দ বদল করা চলবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) এবং জাতীয় গীত (National Song) গাওয়ার সময় ভুল উচ্চারণ করা বা শব্দের হেরফের করা চলবে না। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাদের ওয়েবসাইটে সঠিক শব্দ এবং উচ্চারণের একটি গাইডলাইনও প্রকাশ করেছে।

    সঠিক নিয়ম

    আমাদের দেশের কিছু রাজ্যে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি নিজস্ব ‘রাজ্য সঙ্গীত’ (State Song) গাওয়ারও চল রয়েছে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যদি কোনও অনুষ্ঠানে রাজ্য সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় গীত বাজানো হয়, তবে জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গীত-দুটিই একসঙ্গে গাইতে বা বাজাতে হবে। প্রথমে গাইতে হবে জাতীয় গীত (বন্দে মাতরম্‌), আর ঠিক তারপরেই গাইতে হবে জাতীয় সঙ্গীত (জন গণ মন)। গত জানুয়ারি মাসের একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গীতের ছয়টি স্তবক বা প্যারা গাইতেই হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।

    কোন কোন অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক?

    নতুন নির্দেশিকায় (MHA Order) বেশ কিছু বিশেষ অনুষ্ঠানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতীয় গীত (বন্দে মাতরম্‌), আর জাতীয় সঙ্গীত (জন গণ মন) বাধ্যতামূলক। এগুলি হল, রাষ্ট্রপতি যখন কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে আসবেন এবং অনুষ্ঠান শেষে চলে যাবেন, রেডিও (AIR) এবং দূরদর্শনে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ঠিক আগে এবং পরে, নিজ নিজ রাজ্যে রাজ্যপাল বা লেফটেন্যান্ট গভর্নর (LG) যখন কোনও বড় সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং বিদায় নেবেন, এবং প্যারেডের সময় যখন জাতীয় পতাকা সম্মানসহকারে সামনে নিয়ে আসা হবে।

    সোজা কথায়, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গীত গাওয়ার সময় উচ্চারণ একদম নিখুঁত হওয়া বাধ্যতামূলক। আর কোনও অনুষ্ঠানে দুটিই থাকলে, প্রথমে বন্দে মাতরম্‌ (জাতীয় গীত) এবং তার ঠিক পরেই জন গণ মন (জাতীয় সঙ্গীত) গাইতে বা বাজাতে হবে।

  • One Tunnel, One Highway: ১৪,১১৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যানে আমূল বদলে যাচ্ছে দিল্লি-এনসিআর, যোগীরাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা

    One Tunnel, One Highway: ১৪,১১৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যানে আমূল বদলে যাচ্ছে দিল্লি-এনসিআর, যোগীরাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির বুকে এক অভূতপূর্ব পরিকাঠামো উন্নয়নের জোয়ার আসতে চলেছে। যাতায়াতের কষ্ট দূর করতে এবং বাণিজ্যকে এক ধাক্কায় রকেটের গতি দিতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট প্রায় ১৪,১১৫ কোটি টাকার দুটি মেগা সড়ক প্রকল্পের (One Tunnel, One Highway) সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। এই প্রকল্পের হাত ধরে একদিকে যেমন দিল্লির যানজট কমবে, তেমনই উত্তরপ্রদেশের (UP) বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের অর্থনীতিতে ঘটতে চলেছে বিরাট বিপ্লব। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সময় বাঁচবে, ব্যবসার লজিস্টিক খরচ কমবে, তেমনি চোখ ধাঁধানো উন্নতি দেখা যাবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়।

    কানপুর-কাবরাই গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে (Kanpur Kabrai Greenfield Highway Cabinet)

    উত্তরপ্রদেশবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর হলো, যোগী রাজ্য পেতে চলেছে এক দুর্দান্ত অর্থনৈতিক করিডর। এই প্রজেক্টের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭,১৪৫.১৪ কোটি টাকা। ১১৭.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাইওয়েটি হবে সম্পূর্ণ ‘অ্যাক্সেস-নিয়ন্ত্রিত গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে’। যার ফলে সাড়ে ৩ ঘণ্টার রাস্তা পার হতে সময় লাগবে মাত্রই ৯০ মিনিট।

    অর্থনৈতিক বিপ্লব

    কানপুর-কাবরাই গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে করিডরটি ভোপাল-কানপুর ইকোনমিক করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। এর ফলে বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ে, কানপুর রিং রোড, NH-34 এবং NH-35-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠবে। মধ্যপ্রদেশের খনি ও কৃষি অঞ্চলের পণ্য সরাসরি পৌঁছে যাবে উত্তরপ্রদেশের শিল্পতালুকে।

    ৬ লেনের আধুনিক সুড়ঙ্গ (6 Lane Modern Tunnel)

    দিল্লি-এনসিআর এবং গুরুগ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিনের ট্রাফিক জ্যামের নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে তৈরি হচ্ছে ৬ লেনের আধুনিক টানেল। আনুমানিক ৬,৯৬৯.৬৭ কোটি টাকা খরচে তৈরি হচ্ছে ৮.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ লেনের এই টানেলটি। এই সুড়ঙ্গ দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে দক্ষিণ দিল্লির নেলসন ম্যান্ডেলা মার্গকে সরাসরি যুক্ত করবে। আইজিআই (IGI) বিমানবন্দর, বসন্ত কুঞ্জ এবং দ্বারকার মধ্যে যাতায়াত হবে জলভাত। এর সঙ্গেই তৈরি হতে চলা ‘এমস-মহিপালপুর এলিভেটেড করিডর’ যুক্ত হলে নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং পূর্ব দিল্লির দিকে যাওয়া আরও সহজ হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই টানেলটি তৈরির সময় কাজ পাবেন প্রায় ১৭.৩৪ লাখ মানুষ (UP Government)।

    শিল্পে ব্যাপক উন্নতি!

    পরিকাঠামো ও আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই প্রকল্প (One Tunnel, One Highway) উত্তরপ্রদেশের ভোল বদলে দেবে। দ্বারকা টানেলের ফলে দক্ষিণ দিল্লি ও গুরুগ্রাম সংলগ্ন এলাকার ফ্ল্যাট ও জমির দাম এবং ভাড়া বাড়বে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ঘরবাড়ি কেনার জন্য সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের ঢল নামবে। কানপুর-কাবরাই হাইওয়ের কারণে লজিস্টিক ও পণ্য পরিবহণের খরচ এক ধাক্কায় অনেকখানি কমে যাবে, যা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত ডেলিভারি দিতে সাহায্য করবে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে নতুন গুদামঘর (Warehousing), বড় বড় হোটেল, মল এবং লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে, যা কর্পোরেট দুনিয়াকে এখানে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করবে। কেন্দ্রের এই ১৪,১১৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান শুধু রাস্তাই তৈরি করছে না, বরং দিল্লি-এনসিআর এবং উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের ভাগ্য বদলে এক নতুন অর্থনৈতিক করিডর তৈরি করছে। এবার যাতায়াত হবে সুপারফাস্ট, আর ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে আসবে জোয়ার!

  • Uniform Civil Code: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে বাংলা, গঠিত হল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

    Uniform Civil Code: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে বাংলা, গঠিত হল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের দিকে আরও একধাপ এগোল পশ্চিমবঙ্গ। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও অসমের পর, এবার সেই পথেই হাঁটছে বাংলা (UCC In West Bengal)। ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ৯ জনের একটি বিশেষ কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বিলের খসড়া তৈরি করতে কমিটি গঠন করা হবে। সেইমতোই জারি হয়েছে কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি।

    কারা রয়েছেন কমিটিতে?

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর বিষয়ে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের (UCC In West Bengal)। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে রয়েছেন, মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় (Tathagata Roy), আবাসিক কমিশনার দুষ্যন্ত নারিয়ালা, আইএএস অফিসার শত্রুঘ্ন সিং, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, বঙ্গবাসী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা রত্না ভট্টাচার্য, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন গোপাল চন্দ্র মিশ্র, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং বেঙ্গল সম্ভোগের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নির্মাল্য ভট্টাচার্য।

    ঠিক কী কাজ করবে কমিটি?

    কমিটির কাজ বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মতামত নেওয়া। নবান্ন সূত্রে খবর, এই আইনের রূপরেখা ঠিক করতে যে কমিটি গঠন করা হচ্ছে, তার সদস্যরা এবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সরাসরি সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করবেন। এক্ষেত্রে মূল বিলের খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে আমজনতার মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

    ইতিমধ্যেই অসম এবং উত্তরপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করে একটি প্রাথমিক ড্রাফট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এই আইন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকায় তাড়াহুড়ো করতে চায় না প্রশাসন। সেই কারণেই কমিটি দেড় মাসের মধ্যে সব পক্ষের মতামত যাচাই করে রাজ্যের কাছে জমা দেবে চূড়ান্ত সুপারিশপত্র। এই কমিটি গঠনের জন্য রাজ্যের আইন দফতর ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে, দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন কমিটির প্রধান রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। বৈঠকে মূলত এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি রাজ্যে কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় চালু করা যায়, তার আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে।

    কী এই ইউসিসি (Uniform Civil Code)?

    বর্তমানে আমাদের দেশে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি বণ্টন, সন্তান দত্তক নেওয়া বা উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলি বিভিন্ন ধর্মের মানুষ তাঁদের নিজস্ব ধর্মীয় আইন অনুযায়ী পালন করেন। কিন্তু অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু হয়ে গেলে দেশের সমস্ত নাগরিক–তিনি যে ধর্ম, জাতি কিংবা লিঙ্গেরই হোন না কেন, সবার জন্য একটিই মাত্র আইন কার্যকর হবে।

    মূল উদ্দেশ্য (UCC In West Bengal)

    এই বিধি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হল, আইনের চোখে সমতা – ধর্ম কিংবা জাতি নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে একই আইনের ছায়ায় নিয়ে আসা। এবং নারীর অধিকার রক্ষা। বিভিন্ন ধর্মীয় নিয়মে নারীরা সম্পত্তি বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে যে বৈষম্যের শিকার হন, তা দূর করে পুরুষ ও নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাও এই বিধি প্রণয়নের উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সব ধর্মের আলাদা আইন বন্ধ হয়ে যাবে। তখন দেশ বা রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিকের বিয়ে, ডিভোর্স কিংবা সম্পত্তির অধিকার, একটি মাত্র সরকারি আইন দিয়েই পরিচালিত হবে। এক কথায়, চালু হয়ে যাবে “এক দেশ, এক আইন”।

  • Baruipur Incident: ‘ছোট ঘটনা, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না সরকার!’, বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Baruipur Incident: ‘ছোট ঘটনা, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না সরকার!’, বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ বারুইপুরে গণপিটুনি কাণ্ডে (Baruipur Incident) নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের বাড়িতেও শনিবার যান মুখ্যমন্ত্রী৷ গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন তিনি। যুবকের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছে সরকার। তবে সেখানে কোনও আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে কি না, কী ভাবে পাশে দাঁড়ানো হয়েছে, তা খোলসা করতে চাননি। জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তা পরিবার জানাবে।

    নির্যাতিতার পরিবারের আবেদন মেনে পুলিশ ফাঁড়ি

    শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। গত মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে এই পুলিশ ফাঁড়ির আবেদন জানিয়েছিল। চার দিনের মধ্যেই তা প্রস্তুত করা হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দু’টি ঘটনাতেই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সূর্যপুর থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এখানে একটি একরত্তি মেয়েকে যে ভাবে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে, পরিবারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ যে ওঁরা তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। প্রথম থেকেই পরিবারের পাশে আছি। যে চার জনের নামে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কেউ কেউ বসিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্তও পালিয়ে গিয়েছিল। ধরে আনা হয়েছে। বারুইপুর জেলা পুলিশ ভাল কাজ করেছে। বাকি যা ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে। আমি কিছু বলব না।’’

    কামদুনির নির্যাতিতার পাশে সরকার

    বারুইপুরে ঘটনায় সুবিচারের আশ্বাস দেওয়ার মাঝেই ফের কামদুণি কাণ্ড নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ নির্যাতিতার পরিবারকে সরকারি আইনজীবী দিয়ে সহায়তা করা হবে, জানালেন তিনি৷ কামদুনির বিচার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল৷ নির্যাতিতার পরিবারকে সরকার সরকারি আইনজীবী দিয়ে সহায়তা করবে৷ এবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের হাতে৷ কারণ আদালতের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারি না৷ বারাসাত আদালতের রায়কে বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ শীর্ষ আদালতে এতদিন রাজ্য সরকার বিরোধিতা করেছিল৷ কিন্তু এবার আর রাজ্য বিরোধিতা করবে না৷’’

    তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ

    পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘এসব ক্ষেত্রে সরকার কোনও ত্রুটি রাখবে না৷ ছোট ঘটনা বলবে না, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না, মহিলা অন্ত:স্বত্তা বলবে না, ১০ লক্ষ দেওয়া যেতেই পারে, এমন কথা কেউ বলবে না৷’’ শনিবার সকাল ১১টা বেজে ৩২ মিনিট নাগাদ নির্যাতিতার বাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারী৷ কিশোরীর বাবা-মায়েরা সঙ্গে ১০ মিনিট কথা বলেন শুভেন্দু৷ নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি পরিবারকে বলে এসেছি, দোষীদের কাস্টডি ট্রায়াল হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে কনভিকশন হবে। সরকারের তরফে আমাদের কিছু দায়িত্ব ছিল। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। সেটা আমি বলব না। পরিবার চাইলে বলবে।’’

    গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে শুভেন্দু

    এদিন ১১টা বেজে ৪৭ মিনিট নাগাদ তিনি যান, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে৷ সেখানেও তাঁর বাবা-মায়েরা সঙ্গে কথা কথা বলেন তিনি৷ পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, তাঁদের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে৷ তাঁর দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে৷ সূর্যপুরের আউটপোস্টে তাঁর পোস্টিং হয়েছে৷ এই সব কিছুর জন্য পুলিশ এবং জেলাশাসকের প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করেন শুভেন্দু ৷ বলেন, ‘‘নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, এর পিছনে তাঁদের উস্কানি রয়েছে। ভিডিয়োতে যত জনের ছবি দেখা গিয়েছে, সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকখালি, দিঘা থেকেও অভিযুক্তদের ধরে এনেছে পুলিশ।’’ নিহত ইন্দ্রজিতের দাদাকে সূর্যপুরের পুলিশ ফাঁড়িতেই সিভিক ভলান্টিয়ার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে, জানিয়েছেন শুভেন্দু। ওই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তাঁদের বাড়ি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। বাবার বার্ধক্য ভাতা এবং মায়ের অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু করা হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ছেলেটাকে তো আমরা ফেরাতে পারব না। তবে এই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছি। ইন্দ্রের খুনিরা আইন অনুযায়ী চরম শাস্তি পাবে।’’

    ভয়ের কারণ নেই, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে গণধর্ষণ এবং খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সে দিন নাবালিকার দেহ ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয় এলাকায়। রেল অবরোধও করা হয়েছিল। পুলিশকে মারধর এবং রেল অবরোধের ঘটনায় পৃথক মামলা করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকায় ধরপাকড় চলছে। নির্যাতিতার পরিবারের কাছে স্থানীয়েরা অনেকেই তা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। শুভেন্দুকে শনিবার সে কথা বলেন নির্যাতিতার বাবা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রেললাইনের ক্ষতি করেছেন যাঁরা, তাঁরা দেশবিরোধী। তাঁদের শাস্তি পেতে হবে। তবে নিরীহ কেউ যাতে পুলিশি হেনস্থার শিকার না-হন, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘খুনি, ধর্ষক, ভাঙচুরকারীরা ভয়ে থাকুক। বাকিদের ভয়ের কারণ নেই।’’

LinkedIn
Share