Tag: Madhyom

Madhyom

  • Madras High Court: সংরক্ষিত আসনে অহিন্দুদের প্রার্থী বাতিলের দাবি, মাদ্রাজ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের

    Madras High Court: সংরক্ষিত আসনে অহিন্দুদের প্রার্থী বাতিলের দাবি, মাদ্রাজ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তফশিলি জাতির (SC) জন্য সংরক্ষিত নির্বাচনী আসনগুলোতে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে ভারতের বিচারব্যবস্থায় এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্টে (Madras High Court) একটি আবেদন জমা পড়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, কেবল হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী তফশিলি জাতির ব্যক্তিরাই সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হোক। ধর্মান্তরিত হওয়া কোন ব্যক্তিকে যেন এসসি হওয়ার সংরক্ষণ না মেলে সেই দিকের কথা ভেবে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হোক।

    হিন্দু ধর্মের অন্তর্গত পিছিয়ে পড়া মানুষের সংরক্ষণ (Madras High Court)

    জনস্বার্থ মামলায় (PIL) আবেদনকারী দাবি করেছেন যে, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী তফশিলি জাতির বিশেষ সুবিধাগুলি মূলত হিন্দু ধর্মের অন্তর্গত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য সংরক্ষিত। পরবর্তীতে শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মকেও এর আওতায় আনা হলেও, ইসলাম বা খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিরা এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী নন।

    ধর্মান্তর ও সংরক্ষিত আসন

    আবেদনে (Madras High Court) অভিযোগ করা হয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে তফশিলি জাতির ব্যক্তিরা অন্য ধর্মে বিশেষত খ্রিস্টধর্মে বা মুসলিম ধর্মে রূপান্তরিত হওয়ার পরেও কাগজে-কলমে তফশিলি পরিচয় বজায় রেখে সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচন লড়ছেন। এটি প্রকৃত হিন্দু তফশিলি প্রার্থীদের অধিকার হরণ করছে বলে দাবি জানানো হয়েছে।

    আইনি যুক্তি

    আবেদনকারী ১৯৫০ সালের সংবিধান (তফশিলি জাতি) আদেশ-এর উল্লেখ করেছেন। ওই আদেশ অনুযায়ী, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিকে তফশিলি জাতির সদস্য হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এই মামলাটি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এবং সাংবিধানিক ব্যাখ্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (Madras High Court) এবং অন্যদিকে সংরক্ষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা—এই দুইয়ের ভারসাম্য নিয়ে আদালত কী অবস্থান নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। মামলাটি গৃহীত হলে এটি সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

    আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা

    মামলাটিতে নির্বাচন কমিশনকে (SC) নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে তারা প্রার্থী বাছাইয়ের সময় বিষয়টি কঠোরভাবে যাচাই করে। অন্য ধর্মে বিশ্বাসী কেউ যাতে তফশিলি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দাখিল করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

  • US Iran Conflict: পারস্য উপসাগরে ফের ভেঙে পড়ল এক জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান! পাইলট উদ্ধার না ইরানের হাতে বন্দি? বাড়ছে উত্তেজনা

    US Iran Conflict: পারস্য উপসাগরে ফের ভেঙে পড়ল এক জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান! পাইলট উদ্ধার না ইরানের হাতে বন্দি? বাড়ছে উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পারস্য উপসাগর এলাকায় আবারও ভেঙে পড়ল মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান (US Iran Conflict)। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। সেই বিমানের দুই পাইলট ঝাঁপ দেন। এর পরেই মার্কিন বায়ুসেনার এ-১০ ওয়ারথগ (Fairchild Republic A-10 Thunderbolt II/ A-10 Warthog) বিমানও দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমানে থাকা দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, বিমানটি হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) কাছাকাছি এলাকায় ভেঙে পড়ে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শুধু তাই নয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত এফ-১৫ই বিমানের নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজতে বের হওয়া দুই ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।

    দুর্ঘটনা না ধ্বংস!

    আল জাজিরা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকায় একটি মার্কিন এ-১০ বিমান ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান (US Iran Conflict)। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি কৌশলগত সামুদ্রিক করিডরের কাছে ঘটেছে। বর্তমানে আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই হরমুজ প্রণালী। উল্লেখ্য, এই এ-১০ ওয়ারথগ বিমান জমিতে লড়াইয়ের সময় সাহায্যের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “শত্রু” এ-১০ বিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। তাতেই ভেঙে পড়ে মার্কিন বিমান (US Jet Crash)। তবে, বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, নাকি গুলি করে নামানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    এফ-১৫ ভেঙে পড়েছিল আগেই

    এই ঘটনার আগে ইরানের আকাশসীমায় একটি এফ-১৫ (F-15E Strike Eagle) যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে আমেরিকার একটি যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছিল তেহরান। তাতে দু’জন পাইলট ছিলেন। এক জনকে উদ্ধার করা গেলেও আর এক জনের খোঁজ এখনও পায়নি মার্কিন সেনা। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান জুড়ে ‘শত্রু’ পাইলটকে জীবন্ত ধরে আনার ডাক দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম এই কাজে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে। বলা হচ্ছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানের (US Jet Crash) ওই পাইলটকে যদি জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ইরানি সেনার হাতে তুলে দেওয়া যায়, সেনা উপযুক্ত সম্মান এবং পুরস্কার দেবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স জানিয়েছে, ইরানে ভেঙে পড়া বিমানটি এফ-১৫ই। এতে এক জন পাইলট থাকেন। পিছনের আসনে থাকেন এক জন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী অফিসার। সংবাদসংস্থা এপি-র রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে পাইলট বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি কী অবস্থায় আছেন, এখনও স্পষ্ট নয়। ওই বিমানের আর এক অফিসারকে উদ্ধার করেছে মার্কিন সেনা। দ্বিতীয় জনের খোঁজ চলছে। কিছু প্রতিবেদনে আবার বলা হচ্ছে তিনি ইরানের হেফাজতে।

    পাইলট ধরতে পুরস্কার ঘোষণা

    ইরানের (US Iran Conflict) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক প্রাদেশিক গভর্নর দাবি করেছেন, যে কেউ মার্কিন পাইলটকে ধরতে বা হত্যা করতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে। এমনকি স্থানীয় মানুষদের পাইলট খোঁজার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে বলেও খবর। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কোহ্‌গিলুয়ে এবং বয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভেঙে পড়ে। এটি দুর্গম পার্বত্য এলাকা। ইরানের সংবাদমাধ্যম এবং টিভি চ্যানেলে এই সমস্ত এলাকার মানুষদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, ‘‘আমেরিকান পাইলটকে খুঁজতে আমাদের সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। আপনারা যদি শত্রু দেশের ওই পাইলটকে ধরতে পারেন এবং সেনার হাতে তুলে দেন, অনেক পুরস্কার ও বোনাস পাবেন।’’ কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন পাইলটকে খুঁজে পেলেই গুলি করে দেওয়া হোক। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিবৃতি দিয়ে অনুরোধ করেছে, আমেরিকান পাইলটকে খুঁজে পেলে কেউ যেন তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না-করেন। তাঁকে যেন সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমে আরও দাবি, মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে ইরানের ওই দুর্গম এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করেছে। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন।

    ইরানের দাবি

    শুক্রবারই ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর তরফে আবার দাবি করা হয়েছিল, মধ্য ইরানে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে তারা। খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র ইরানের প্রেস টিভিকে জানান, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে পাইলটের জীবিত থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। মার্কিন বিমান ধ্বংসের পর ইরান গোটা ঘটনাকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন। মুম্বইয়ে ইরানের দূতাবাসের তরফে এই বিষয়ে এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। একইসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বিতীয় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হল। ইরান একটি শক্তিশালী দেশ। কারও সামনে মাথানত করে না।’

    ট্রাম্পের অসন্তোষ

    ইরান যুদ্ধ (US Iran Conflict) শুরু হওয়ার পর থেকে এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও পুরোদমে লড়ছে ইরান। শুক্রবারই দুটি মার্কিন যুদ্ধ বিমান গুলি করে নামানোর দাবি করে ইরানি সেনা। তবে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার রাতে প্রথমবার মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এই ঘটনাগুলির কোনও প্রভাব ইরানের সঙ্গে চলা কূটনৈতিক আলোচনায় পড়বে না। এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এই ঘটনাগুলির কূটনীতি বা আলোচনার উপর কোনও প্রভাব পড়বে না। এটা যুদ্ধ। আমরা যুদ্ধের মধ্যেই আছি।” এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে ট্রাম্প দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তবে তাঁর কথায়, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। তবে, ইরানের দাবি, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের ২ ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারকেও তারা গুলি করে নামিয়েছে।

    ইসলামাবাদে আলোচনায় বসছে না ইরান

    ট্রাম্পের দাবি সত্ত্বেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাপক ভাবে ধাক্কা খেয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা আপাতত স্থগিত হয়ে রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশের মধ্যস্থতার পরেও আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি নয়।

    ক্ষয়ক্ষতির হিসেব

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-র বেশি আহত হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও মার্কিন সেনা ইরানের হাতে বন্দি হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। ক্রমাগত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার ঘটনা এবং ইরানের US Iran Conflict) পাল্টা দাবিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।

  • Election Commission India: ভোট মিটলেও রাজ্যে থাকবে ৫০০ কোম্পানি বাহিনী, নির্বাচনোত্তর হিংসা রুখতে কড়া কমিশন

    Election Commission India: ভোট মিটলেও রাজ্যে থাকবে ৫০০ কোম্পানি বাহিনী, নির্বাচনোত্তর হিংসা রুখতে কড়া কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী (Election Commission India) ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। সাধারণত নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হলেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য ত্যাগ করে, কিন্তু বিগত বছরগুলোর তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং কালিয়াচকের সাম্প্রতিক অশান্তির কথা মাথায় রেখে কমিশন (West Bengal Elections 2026) এবার বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজ্যে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও অন্তত ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) পশ্চিমবঙ্গে থেকে যাবে। ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

    হিংসা দমনে জিরো টলারেন্স(Election Commission India)

    বিগত নির্বাচনগুলোতে (Election Commission India) ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে অশান্তির চিত্র দেখা গিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রোধ করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ফল প্রকাশের পর কোনও ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা গোলমাল বরদাস্ত করা হবে না।

    কালিয়াচককাণ্ডের প্রভাব

    মালদার কালিয়াচকে সরকারি আধিকারিকদের হেনস্থা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ত্বরান্বিত করেছে। নিরাপত্তার পরিবেশ এতটাই অটুট রাখতে চায় কমিশন, যাতে ভোটার ও গণনার (West Bengal Elections 2026) কাজে নিযুক্ত কর্মীরা নির্ভয়ে থাকতে পারেন।

    রাজ্য প্রশাসনের সাথে সমন্বয়

    কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও তারা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। তবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে টহলদারি এবং নজরদারির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতেই। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে তারা কোনও প্রকার ঝুঁকি নিতে নারাজ। ভোটের ফলাফল (West Bengal Elections 2026) পরবর্তী সময়কালকে শান্তিময় রাখতে এই অতিরিক্ত সুরক্ষা কবচ রাজ্যবাসীর মনে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Suvendu Adhikari: “সাম্প্রদায়িক উস্কানির পিছনে মমতা”, কালিয়াচকের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ শুভেন্দু অধিকারীর

    Suvendu Adhikari: “সাম্প্রদায়িক উস্কানির পিছনে মমতা”, কালিয়াচকের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে নির্বাচন কমিশনের (West Bengal Elections 2026) আধিকারিকদের ঘেরাও এবং হেনস্থার ঘটনায় সরব হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই ঘটনার জন্য তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাজ্যে এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের তরফে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আগেও উত্তেজক ভাষণ দিয়ে হিংসার বাতাবরণ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ বিজেপির। অপর দিকে কালিয়াচকের ঘটনা অমিত মালব্যের শেয়ার করা ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে যে, যখন বিচারবিভাগের আধিকারিকদের ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল, তখন নেপথ্যে থেকে তৃণমূলের একজন মন্ত্রী ও স্থানীয় নেতৃত্ব ইন্ধন জোগাচ্ছিলেন। মালব্যের মতে, এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভ ছিল না, বরং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। অভিযুক্ত মন্ত্রীর নাম এবং ছবি প্রকাশ করেছেন একটি বার্তায়।

    উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভা থেকে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে প্ররোচিত করছেন। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সেই সব বক্তব্যের কারণেই কালিয়াচকের মতো জায়গায় সরকারি আধিকারিকদের ওপর হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে দুষ্কৃতীরা।

    আইন-শৃঙ্খলার অবনতি

    বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, “মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখেছেন,” যার ফলে নির্বাচন কমিশনের কাজ পরিচালনা করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কালিয়াচকের ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং এর নেপথ্যে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিনি ইতিমধ্যেই এনআইএ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।

    নির্বাচন কমিশনকে বার্তা

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন রাজ্যে আরও কঠোরভাবে আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) প্রয়োগ করা হয় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে এলাকা দখলমুক্ত করা হয়। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কালিয়াচকের ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বিশৃঙ্খলা নয়, বরং এটি রাজনৈতিক মদতপুষ্ট একটি পরিকল্পিত বাধা। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের ওপর ভরসা না করে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপই একমাত্র পথ।” মালদার কালিয়াচকে নির্বাচন কমিশনের (West Bengal Elections 2026)  আধিকারিকদের পণবন্দি করে রাখার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) পোস্ট করে তিনি রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

    নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ

    বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং বেআইনি ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতেই আধিকারিকদের ওপর ভয় দেখানো ও মানসিক চাপ সৃষ্টির এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। অমিত মালব্য প্রশ্ন তুলেছেন যে, যখন আধিকারিকদের কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হল, তখন স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন কেন নিষ্ক্রিয় ছিল? তাঁর মতে মন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া পুলিশের এই নীরবতা সম্ভব নয়।

    গণতন্ত্রের ওপর আঘাত

    এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের লজ্জা হিসেবে অভিহিত করে বিজেপি দাবি করেছে যে, রাজ্যে অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য শাসক দল পেশিশক্তি ব্যবহার করছে। কালিয়াচকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশন প্রশাসনিক (West Bengal Elections 2026) স্তরে কড়াকড়ি শুরু করেছে, অন্যদিকে অমিত মালব্যের এই অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ভিডিওটিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • Daily Horoscope 04 April 2026: কাজের ক্ষেত্রে হঠাৎ পরিবর্তন আসতে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 04 April 2026: কাজের ক্ষেত্রে হঠাৎ পরিবর্তন আসতে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ
    ১) হঠাৎ কোনও অপ্রত্যাশিত খবর চমকে দিতে পারে।
    ২) নিজের উপর ভরসা রাখলে জটিল কাজও সহজ হবে।
    ৩) পুরনো ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার দিন।

    বৃষ
    ১) আজ কিছুটা অলসতা গ্রাস করতে পারে, সাবধান থাকুন।
    ২) কাছের কারও পরামর্শ কাজে লাগতে পারে।
    ৩) ছোটখাটো লাভে মন খুশি হবে।

    মিথুন
    ১) একাধিক কাজ একসঙ্গে সামলাতে হতে পারে।
    ২) নতুন পরিচয় ভবিষ্যতে উপকারে আসবে।
    ৩) অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন।

    কর্কট
    ১) পারিবারিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
    ২) আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখলে লাভবান হবেন।
    ৩) দিনের শেষে স্বস্তি ফিরে পাবেন।

    সিংহ
    ১) নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আসতে পারে।
    ২) কারও ঈর্ষা আপনার পথে বাধা হতে পারে।
    ৩) ধৈর্য রাখলে পরিস্থিতি নিজের পক্ষে যাবে।

    কন্যা
    ১) হঠাৎ করে কাজের চাপ বেড়ে যেতে পারে।
    ২) কোনও নতুন দক্ষতা শেখার সুযোগ মিলবে।
    ৩) স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা করবেন না।

    তুলা
    ১) সম্পর্কের টানাপোড়েন মিটে যেতে পারে।
    ২) নিজের মতামত স্পষ্টভাবে জানানো দরকার।
    ৩) নতুন পরিকল্পনা মাথায় আসবে।

    বৃশ্চিক
    ১) গোপন কোনও বিষয় প্রকাশ পেতে পারে।
    ২) আর্থিক বিষয়ে সতর্কতা জরুরি।
    ৩) ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলান।

    ধনু
    ১) নতুন জায়গা বা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হতে পারে।
    ২) পুরনো বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ হতে পারে।
    ৩) আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

    মকর
    ১) কাজের ক্ষেত্রে হঠাৎ পরিবর্তন আসতে পারে।
    ২) দায়িত্ব বাড়লেও সাফল্যের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
    ৩) নিজের সময় বের করা জরুরি।

    কুম্ভ
    ১) নতুন আইডিয়া আপনাকে এগিয়ে দেবে।
    ২) আর্থিক দিক থেকে সামান্য উন্নতি হবে।
    ৩) কাছের মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি মিটবে।

    মীন
    ১) কল্পনাশক্তি আজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকবে।
    ২) সৃজনশীল কাজে সাফল্য পেতে পারেন।
    ৩) বাস্তবতা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • India Russia Relation: ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতকে তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলি পুরোপুরি তৈরি

    India Russia Relation: ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতকে তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলি পুরোপুরি তৈরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা। যুদ্ধ আবহ। জ্বালানি সংকটের মধ্যে ফের পাশে থাকার বার্তা দিল বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া (India Russia Relation)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরোভ। জানা গিয়েছে, বর্তমান সঙ্কটে ভারতকে আরও বেশি করে খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মস্কো। পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাতের জেরে বর্তমানে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পণ্য আনা কার্যত বন্ধ। এর ফলে ভারত জ্বালানি ও সার আমদানিতে বিপুল সমস্যায় পড়ছে৷ ঠিক এই সময়েই ফের এগিয়ে এল রাশিয়া।

    ভারতকে আরও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ

    মোদি ও মানতুরোভের বৈঠকে মূলত বাণিজ্য, সংযোগ রক্ষা এবং প্রযুক্তির আদানপ্রদান নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী মোদি সমাজমাধ্যমে জানান, গত বছর ডিসেম্বরে পুতিনের সফরের সময় যে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে দুই দেশই সফল। ২০২৫ সালের শেষে ভারতে সারের জোগানও ৪০ শতাংশ বাড়ান হয়েছে। চাষিদের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বামাইড তৈরির লক্ষ্যে ভারত ও রাশিয়া দুই দেশ যৌথ ভাবে একটি প্রকল্প গড়ার কাজও শুরু করেছে। যুদ্ধ আবহে ভারতকে আরও তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের কথা বলেছে পুতিন-প্রশাসন। রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতকে তেল ও গ্যাস জোগাতে রাশিয়ার সংস্থাগুলি পুরোপুরি তৈরি।

    ভারতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল

    কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না। একে অপরকে শুধু হুমকিই নয়, হামলা-পাল্টা হামলাও চালাচ্ছে সমানে। এখনই এখনই মেটার কোনও লক্ষণ নেই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ। এই পরিস্থিতির চাপও বাড়ছে উত্তরোত্তর হারে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত চরম সংকট দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি সংকট দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ফলে, আর্থিক চাপও বাড়ছে বিভিন্ন দেশে। কারণ, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে, স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়বে জিনিসপত্রে। ফলে, এই যুদ্ধের জেরে পরোক্ষে ভুক্তভোগী অনেক দেশ। যদিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে একে একে জাহাজ আসছে ভারতে। ফলে, ভারতের পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

    গুজবে কান না দেওয়ার আর্জি বিদেশমন্ত্রকের

    কিন্তু হরমুজ দিয়ে জাহাজ আনতে কি টোল দিতে হচ্ছে ইরানকে? বেশ কিছু দিন ধরেই সেই নিয়ে চর্চা চলছে। জাহাজ পিছু ইরান ২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১৮.৮ কোটি টাকা টোল ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর আসে সম্প্রতি। ভারতকেও চড়া টোল দিতে হচ্ছে কি না, উঠছিল প্রশ্ন। এবার সেই নিয়ে মুখ খোলে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।ভারত টোল ফি দিয়ে হরমুজ থেকে জাহাজ বের করছে কি না, বৃহস্পতিবার জানতে চাওয়া হয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে এমন কোনও আলোচনা হয়নি। অর্থাৎ কোটি কোটি টাকা দিয়ে জাহাজ বের করে আনতে হচ্ছে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা কার্যত খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।

    রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বাড়ল

    পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের মধ্যেই মার্চ মাসে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা প্রায় ৯০% বাড়িয়েছে ভারত। একই সময়ে মোট তেল আমদানি প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এর প্রধান কারণ পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের তেল আমদানিতে। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সমস্যা তৈরি হওয়ায় ভারতের এলপিজি আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহেও পতন দেখা গিয়েছে। ফলে বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়েছে ভারত। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার তেল আমদানি কিছুটা কম ছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ দিনের ছাড়ের সিদ্ধান্তের পর মার্চে আমদানি আবার বেড়েছে। এই ছাড়ের ফলে সমুদ্রে থাকা নিষিদ্ধ তেল কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।

    এপ্রিল মাসেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলতে পারে

    এ ছাড়া আফ্রিকার কিছু দেশ— অ্যাঙ্গোলা (Angola), গ্যাবন (Gabon), ঘানা (Ghana) এবং কঙ্গো (Congo) থেকেও আমদানি বেড়েছে। যদিও মোট আমদানিতে তাদের অবদান এখনও কম। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি নিয়ে গ্লোবাল অ্যানালিটিক্স সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিতোজা বলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার উৎপাদকরা পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু সরবরাহ ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সমুদ্রপথে সমস্যা থাকলেও ভারত কিছুটা তেল সংগ্রহ চালিয়ে যেতে পারছে।’ তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাসেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলতে পারে। পাশাপাশি ইরান এবং ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সরবরাহের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে, কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ মার্চে ৯২% কমেছে। এই ঘাটতি আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে আমেরিকা, ওমান, অ্যাঙ্গোলা, এবং নাইজেরিয়া থেকে বাড়তি আমদানির মাধ্যমে।

    নানা ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া পাশাপাশি 

    তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিনিময় ছাড়াও, মানতুরোভের এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় রাশিয়ার তৈরি ‘এস-৪০০’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখেছিল দিল্লি। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী যে পাঁচটি সিস্টেম আসার কথা ছিল, তার মধ্যে তিনটি চলে এলেও বাকি দু’টি ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আটকে আছে। তবে মানতুরোভের আশ্বাস, কুডানকুলাম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজও নির্দিষ্ট সময়েই শেষ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার প্রভাব কমানো, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়া পাশাপাশি রয়েছে।

  • Kaliachak Incident: কালিয়াচক-কাণ্ড নিয়ে সরগরম লোকসভা! তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি সাংসদ বাঁশরীর

    Kaliachak Incident: কালিয়াচক-কাণ্ড নিয়ে সরগরম লোকসভা! তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি সাংসদ বাঁশরীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদার পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসক—সবার কাছেই শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনায় ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করে আটকে রাখার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ বাঁশরী স্বরাজ (Bansuri Swaraj)। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে বলেন, এসআইআর (Special Intensive Revision) কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি একটি সাংবিধানিক প্রয়োজন।

    গণতন্ত্র পদদলিত

    লোকসভার জিরো আওয়ারে বিষয়টি উত্থাপন করে বাঁশরী দাবি করেন, এই ঘটনায় “গণতন্ত্রকে পদদলিত করা হয়েছে”। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা মালদায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখে। বিশেষ করে মহিলা কর্মকর্তাদের আটকে রাখার তীব্র নিন্দা জানান বাঁশরী। তিনি এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এমন নৈরাজ্য মেনে নেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্টও এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, দ্রুত এই ঘটনা নিয়ে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট

    অন্যদিকে কমিশনকে একহাত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, জুডিশিয়াল আধিকারিকদের নিরাপত্তা কমিশনের দায়িত্ব। এজন্য যা যা পদক্ষেপ করা দরকার, তা কমিশনকে করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা সরাসরি পর্যবেক্ষণে জানান, পশ্চিমবঙ্গের মতো এতটা ‘রাজনৈতিকভাবে মেরুকরণ’ আগে কখনও দেখেনি। সুপ্রিম কোর্টের এও পর্যবেক্ষণ, এ রাজ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে প্রায় সব কিছুই রাজনৈতিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, এমনকি আদালতের নির্দেশ পালন নিয়েও রাজনীতির ছাপ স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে শুনানি শুরু করে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো চিঠির ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি হাতে নেয়।

  • Indian Navy: ৭ দিনে যোগ দিল ৫ যুদ্ধজাহাজ, ১ পারমাণবিক সাবমেরিন! নজিরবিহীন তৎপরতা ভারতীয় নৌসেনায়, কারণ কী?

    Indian Navy: ৭ দিনে যোগ দিল ৫ যুদ্ধজাহাজ, ১ পারমাণবিক সাবমেরিন! নজিরবিহীন তৎপরতা ভারতীয় নৌসেনায়, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুড ফ্রাইডে-র সকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের একটা ছোট্ট টুইট আলোড়ন ফেলে দিয়েছে দেশে। নিজের এক্স হ্যান্ডলে রাজনাথ লেখেন, ‘‘শব্দ নয়, এটি শক্তি—‘অরিধমান’’’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই ক্রিপ্টিক (ইঙ্গিতবাহী) পোস্ট দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাহলে কি ভারতীয় নৌসেনায় চুপিসাড়ে তৃতীয় পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক সাবমেরিনকে কমিশনড্ বা অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে গেল? অবিশ্বাস্য নয় এটা। কারণ, ‘অরিধমান’-এর দুই পূর্বসূরি যথা ‘অরিহন্ত’ ও ‘অরিঘাত’-এর ক্ষেত্রেও চুপিসাড়ে অন্তর্ভুক্তির ঘটনা ঘটেছিল। ফলে, এক্ষেত্রেও যে ব্যতিক্রম হবে না, তা ধরে নেওয়া যায়। কারণ, এসএসবিএন (পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন)-এর বিষয়ে বরাবরই মুখে কুলুপ কেন্দ্রের। এই সাবমেরিন হচ্ছে ভারতের অত্যন্ত গোপন বিষয়। কাকপক্ষীও টের পায় না। এমনকী, অন্তর্ভুক্তির পর অরিধমান ঠিক কোথায় করছে, তা সরকারেরও সকলে জানে না। তবে, সাবমেরিনের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখলেও জাহাজের ক্ষেত্রে ঘটে ঠিক তার উল্টো। একেবারে ঢাকঢোল পিটিয়ে জাহাজের অন্তর্ভুক্তির কথা জানানো হয়। কারণ, সাবমেরিন যেখানে অতল সমুদ্রতলে ঘাপটি মেরে থাকে, জাহাজ তো ভাসমান।

    কী ঘটে চলেছে নৌসেনায়?

    এদিকে, এক সপ্তাহে ভারত যা করে দেখাল, তা বোধহয়, বিশ্বের কোনও নৌসেনা করে দেখাতে পারেনি। গত সাত দিনে ভারতীয় নৌসেনায় এমন কিছু ঘটেছে, যা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আক্ষরিক অর্থে! কী সেটা? খোলসা করা যাক— গত সাত দিনে, ভারতীয় নৌসেনায় ৫টি রণতরী এবং একটি পারমাণবিক সাবমেরিনকে অন্তর্ভুক্ত করে এক নজির সৃষ্টি করেছে। এই অন্তর্ভুক্তি ধারার শুরুটা হয়েছিল ৩০ মার্চ। সেদিন কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) একদিনে তিন-তিনটি রণতরীকে ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দিয়েছিল। জাহাজগুলি হল— অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘দুনাগিরি’, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ‘সংশোধক’ এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট ‘অগ্রয়’। ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ, ৩১ মার্চ নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয় কোচিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত আরও একটি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট ‘মালওয়ান’। এর পর মাঝে ২ দিনের বিরতি। ফের শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ভারতীয় নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত এক জোড়া নৌযানের অন্তর্ভুক্তি হল। এদিন নৌসেনার পরিবারে আরও একটি অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘তারাগিরি’ এবং এসএসবিএন ‘অরিধমান’ প্রবেশ করল। বিশাখাপত্তনমে তারাগিরি-র অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদ রাজনাথ সিং। কাকতালীয়ভাবে, এই ভাইজ্যাগই হল ভারতের পারমাণবিক সাবমেরিনের নির্মাণের হাব এবং নৌসেনার সাবমেরিন ফ্লিটের সদর। ফলে, দুয়ে-দুয়ে চার করা সহজ। ভারতের এই যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ দেখে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, নৌসেনায় ঠিক কী ঘটে চলেছে? কেন নৌসেনায় এত তৎপরতায় পর পর রণতরীর অন্তর্ভুক্তি হয়ে চলেছে?

    ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গড়ে তোলার লক্ষ্য

    অল্প সময়ের ব্যবধানে এতগুলি রণতরীর অন্তর্ভুক্তির ঘটনা শুধু বিরল নয়, কার্যত নজিরবিহীন। এর থেকে পরিষ্কার, ভারতীয় নৌসেনায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নীল-জলে নিজেদের শক্তি-বৃদ্ধি করার পণ নিয়েছে এবং তা পূরণ করে চলেছে। এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরে ভারতীয় নৌসেনায় আরও একাধিক যুদ্ধজাহাজ যোগ দিতে চলেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০২৬ সালে ১৫ থেকে ১৯টি জাহাজ নৌসেনায় যোগ দিতে চলেছে, যা কিনা একটা রেকর্ড হতে পারে। অর্থাৎ, প্রতি ছয় সপ্তাহে একটি করে জাহাজের অন্তর্ভুক্তি হবে। কী প্রচণ্ড গতিতে দেশে জাহাজ নির্মাণের কাজ হচ্ছে, তা এই ছোট্ট পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে ১৩০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং প্রায় ২৫১টি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ নৌ কমান্ডের অধীনে বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, করভেট, সাবমেরিন ও অ্যামফিবিয়াস জাহাজ মোতায়েন রয়েছে দেশের বিস্তৃত সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায়। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নৌবহর ১৫৫-১৬০টি যুদ্ধজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। দীর্ঘমেয়াদে ২০০-রও বেশি জাহাজ নিয়ে একটি শক্তিশালী ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভারত মহাসাগর অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক জলসীমায় কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

  • Kaliyachak Incident: পালানোর সময় বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার কালিয়াচক-কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল

    Kaliyachak Incident: পালানোর সময় বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার কালিয়াচক-কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার কালিয়াচকে (Kaliyachak Incident) অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল (Mofakkarul Islam) পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে প্রথমে বাগডোগরা থানায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরু যাওয়ার বিমানের টিকিট ছিল মোফাক্কেরুলের। গ্রেফতারের পরে সমাজমাধ্যমে লাইভ করেন তিনি। সেখানে দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন এবং কাউকে উস্কানিও দেননি। তাঁর দাবি, তিনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এসআই নিয়ে বিক্ষোভ-অবরোধ দেখে তাঁর বক্তব্য রেখেছিলেন। মোফাক্কেরুলের সঙ্গে আকরামুল বাগানি নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    প্ররোচনামূলক পোস্ট মোফাক্কেরুলের

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন মোফাক্কেরুলের নামে বৃহস্পতিবারই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। তার পর থেকে পুলিশ তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছে। বৃহস্পতিবার মোফাক্কেরুলকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। জবাব দেননি মোবাইল-বার্তারও। তবে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে গ্রেফতার হওয়ার আগে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মোফাক্কেরুল লিখেছেন, ‘ভাল থাকুন আপনারা।’ গ্রেফতারির পর ফেসবুকে লাইভ ভিডিও পোস্ট তিনি বলেন, “নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের প্রতিবাদে ছিলাম বলে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে অ্যারেস্ট হলাম।” পরে অবশ্য ভিডিওটি মোফাক্কেরুলের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেখা যায়নি।

    বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা

    উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, মালদার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন মোট ৩৫ জন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মোফাক্কেরুলকে ‘মূল প্ররোচনাকারী’ হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছিল। জয়রামন জানান, মোফাক্কেরুলকে খুঁজে বার করতে সিআইডি-র সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুলিশ মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করে তাঁকে মালদা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানতে পেরেছে মালদা কাণ্ডের ‘মূলচক্রী’ বেঙ্গালুরুতে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

    কে এই মোফাক্কেরুল

    ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব মোফাক্কেরুল এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করতেন। হাইকোর্টের কাছেই তাঁর চেম্বার। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কলকাতায় থাকেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এমআইএম (মিম)-এ যোগ দেন। প্রার্থীও হন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহারের এমআইএম প্রার্থী হিসাবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন মোফাক্কেরুল। কিন্তু সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর।

    মূলচক্রী মোফাক্কেরুল

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখে উত্তেজিত জনতা। বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে থাকার পর পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকালে এসআইআর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কালিয়াচকের ঘটনার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে। এনআইএ বা সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিতে বলা হয়। তদন্তকারী সংস্থাকে আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়। তার পরেই নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে। জ্ঞানেশের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন পুলিশ আধিকারিকেরা। শেষপর্যন্ত মালদা কাণ্ডে এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ইতিমধ্যেই,মালদা কাণ্ডের তদন্তে শুক্রবার সকালেই কলকাতায় এসেছেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র (NIA) আইজি সনিয়া সিং। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার বেশ কয়েক জন নেতা স্থানীয় মানুষদের প্ররোচিত করেছিলেন। তার পরেই উত্তেজিত জনতা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার ‘মূলচক্রী’ হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে।

    প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

    শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাত থেকেই ভাইরাল হয়ে কালিয়াচকের বিক্ষোভের একটি ছবি। সেখানে দেখা যায়, বিপুল জমায়েতের মাঝে গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে কিছু বক্তব্য রাখছেন ওই ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। বাড়িতে গিয়েও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। অবশেষে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে। কালিয়াচকের ঘটনায় উত্তেজিত জনতাকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে। উস্কানিমূলক মন্তব্য করার পাশাপাশি প্রশাসনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

    এই ঘটনায় বিজেপির দাবি, কেউ কেউ ভারতে বসেই দেশের ক্ষতি করছেন। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “যাঁরা এই ঘটনার পিছনে আছেন, যাঁরা কার্যত ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, যাঁরা জনবিন্যাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের খুঁজে খুঁজে আইনের অধীনে আনতে হবে। ভারতে বসে ভারতের ক্ষতি করা হচ্ছে।” মোফাক্কেরুলের গ্রেফতারির পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘রাজ্যে পুলিশের সিআইডি শাখা নেপালে পালানোর সময় মোফাক্কেরুলকে গ্রেফতার করেছে। মোফাক্কেরুল আদতে কার হয়ে কাজ করে তা ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত। এই ইটাহারে তৃণমূলের সংখ্যালঘু মোর্চার প্রধানের সঙ্গে মোফাক্কেরুলের যোগাোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কী যোগসূত্র রয়েছে, কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’

  • Election Commission: রাজ্য জুড়ে বেআইনি জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা, কালিয়াচক কাণ্ডের জেরে কঠোর অবস্থান কমিশনের

    Election Commission: রাজ্য জুড়ে বেআইনি জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা, কালিয়াচক কাণ্ডের জেরে কঠোর অবস্থান কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা কালিয়াচকে ভোটার তালিকা সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানি চলাকালীন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কমিশন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে।

    বেআইনি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা (Election Commission India)

    কালিয়াচকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে রাজ্যজুড়ে যে কোনও ধরনের বেআইনি জমায়েত বা উস্কানিমূলক বিক্ষোভের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্য জুড়ে বেআইনি জমায়েতের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনও মিছিল, সভা বা জমায়েত করা যাবে না। যদি কেউ এই নির্দেশ অমান্য করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এমনকী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও আগে থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    স্টেটাস রিপোর্ট তলব কমিশনের

    নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিকের কাজে বাধা দিলে বা তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। পাশাপাশি, জামিন বা প্যারোলে জেলের বাইরে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বা যাঁদের অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে স্টেটাস রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে, জামিনঅযোগ্য মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের (যাঁরা এখনও গ্রেফতার হননি) নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পাশাপাশি আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের গ্রেফতার করারও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে (SIR) এবং যেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনের (Election Commission India) কাজ চলছে, সেখানে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতের মালদার কালিয়াচকের ঘটনার পর কড়া নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জরুরি ভিত্তিতে যে ভিডিও কনফারেন্সের ডাক দিয়েছিলেন, সেখানে অন্যতম মূল প্রসঙ্গ ছিল মালদার কালিয়াচকের অশান্তি। এই বৈঠকেই আজ নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। প্রত্যেককে গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘটনাস্থলে যে এসপি অনেক দেরিতে পিছিয়েছেন, সেই বিষয়টিও নজরে রয়েছে কমিশনের। ইতি মধ্যে এসপি- জেলা শাসককে শোকজ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কালিয়াচকের ঘটনার গভীরতা ও ষড়যন্ত্রের দিকটি খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশন (SIR) এই মামলার তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    প্রশাসনের তৎপরতা

    রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজিপিকে (DGP) তলব করে কমিশন (Election Commission India) আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের সরাসরি দায়ী করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করে এফআইআর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সান্তি রঞ্জন কুণ্ডু (ওয়ার্ড ৩২-এর কাউন্সিলর), সচিন সিং (ওয়ার্ড ৩৬-এর কাউন্সিলর), মহম্মদ ওয়াসিম, মইদুল, চন্দ্রকান্ত সিংহ এবং মহম্মদ রিজওয়ান আলি-সহ আরও বেশ কয়েকজন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে অবৈধ জমায়েত, সরকারি কর্মীর কাজে বাধা এবং জনপথ অবরোধের মতো অভিযোগ রয়েছে।

    শূন্য সহনশীলতা

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) মূল লক্ষ্য হল ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোট পরিচালনা করা। কালিয়াচককাণ্ড (SIR) থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর যে কোনও প্রচেষ্টাকে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (Zero Tolerance) নীতিতে দেখা হবে।

LinkedIn
Share