Tag: Madhyom

Madhyom

  • FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্লাব ফুটবলে তাঁরা দীর্ঘদিন সতীর্থ ছিলেন। সবুজ ঘাসে ফুল ফুটিয়েছে তাঁদের যুগলবন্দি। মাঝমাঠে লুকা মদ্রিচ আর আক্রমণে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সেই বোঝাপড়ার ফসল ছ’বছর তুলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। পরে তাঁদের ক্লাব আলাদা হয়ে যায়। তবে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার মুখোমুখি হলেন দুই তারকা। তাদের লড়াই দেখতে শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটেয় (ভারতীয় সময়) টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিল ফুটবলপ্রেমীরা (FIFA World Cup 2026)। ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে টরন্টোয় মুখোমুখি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। এই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পর্তুগাল। মদ্রিচের দলকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন রোনাল্ডো। অন্যদিকে প্রায় একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে স্পেন জিতল ৩-০ গোলে। জোড়া গোল মিকেল ওয়ারজাবালের। একটি গোল পেদ্রো পোরোর।

    রোনাল্ডো বনাম মদ্রিচ

    রোনাল্ডো ও মদ্রিচ দু’জনেরই বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। গোলরক্ষকদের বাদ দিলে, এই প্রথম দুই চল্লিশোর্ধ্ব খেলোয়াড় বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হলেন। সাফল্যের খতিয়ানে রোনাল্ডো এবং মদ্রিচ পরস্পরকে টেক্কা দিতে পারেন। ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে খেলেছেন দু’জন। দুই প্রাক্তন সতীর্থের কাঁধেই গুরু দায়িত্ব ছিল। একসঙ্গে ২২২টি ম্যাচে খেলেছেন দু’জন। মাঝমাঠ থেকে মদ্রিচের দেওয়া পাস থেকে রোনাল্ডোর বেশ কিছু গোল রয়েছে রিয়ালের হয়ে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অবশ্য সেই বোঝাপড়া দেখার সুযোগ ছিল না। এই ম্যাচ ছিল মুখোমুখি বোঝাপড়ার। সেই লড়াইয়ে প্রথমার্ধে কেউই দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে ইভান পেসিরিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইয়োসিপ স্তানিশিচের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান পেরিচিস। বাঁ পায়ের শটে দলকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার।

    রোনাল্ডোর গোলে সমতা

    পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। চাপ বাড়তে শুরু করে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্সে। ৫৮ মিনিটে লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ঠিক ২ মিনিট পরেই রোনাল্ডো ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়ে গোল করেন। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় তাঁর গোল। গোল বাতিল হলেও পর্তুগালকে আটকে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। রোনাল্ডোদের একের পর এক আক্রমণ চাপে ফেলে দেয় ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে। ৬৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে ফাউল করেন রেনাতো ভেগাকে। পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। গোল করতে ভুল করেননি সিআর সেভেন। দলকে সমতায় ফেরালেও রোনাল্ডোর খেলার মধ্যে এ দিন পরিচিত ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৮১ মিনিটে তাঁকে তুলে নিয়ে রুবেন নেভেসকে নামান পর্তুগিজ কোচ। যখন মনে হচ্ছে, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে তখনই পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গন্সালো রামোস। সংযুক্ত সময়ে লিয়াওয়ের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়েই জয়সূচক গোল করেন রামোস।

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি সি আর সেভেনের

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে একটি বিশ্বরেকর্ডও গড়লেন। টপকে গেলেন লিয়োনেল মেসিকে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে রোনাল্ডো খেলতে নেমেছিলেন ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে। গোলও করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বের গোলদাতাদের মধ্যে সিআর সেভেনই এখন সবচেয়ে ‘বুড়ো’ ফুটবলার। এত বয়সে আর কেউ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করতে পারেননি। মেসির নজির টপকে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। গত ২৮ জুন জর্ডনের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর ৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন মেসি। বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে ২৫টির বেশি গোল হয়ে গেল রোনাল্ডো। এমন কৃতিত্ব বিশ্বের আর কোনও ফুটবলারের নেই। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচ খেললেন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এখন তৃতীয় স্থানে। এই রেকর্ড মেসির দখলে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এখনও পর্যন্ত ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির প্রাক্তন অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। তিনি ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাথিউসকে ছুঁয়ে ফেলবেন সিআর সেভেন। এদিন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, যাতে এমন তিন জন খেললেন যাঁদের অন্তত ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। রোনাল্ডো খেললেন ২৬তম ম্যাচ। মদ্রিচ খেললেন ২৩তম ম্যাচ। ইভান পেরিসিচ খেললেন ২১তম ম্যাচ।

    একপেশে জয় স্পেনের

    অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এত সহজ হবে ম্যাচটা, এটা হয়তো ভাবতেও পারেননি স্পেনের ফুটবলারেরা। বৃহস্পতিবার রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়া লড়াই করল বটে, তবে স্পেনের মতো দলকে আটকানোর জন্য তা কখনওই যথেষ্ট ছিল না। ভাগ্য সহায় হলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচ গোলে জেতার কথা স্পেনের। বাধা হয়ে দাঁড়ালেন গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাগার। তিনি অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে ম্যাচ অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অস্ট্রিয়া যে রক্ষণ জমাট রেখে এগোবে, এ কথা জানতেন স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তাই তিনি মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করার বদলে, দুই উইং দিয়ে আক্রমণ চালাতে চেয়েছিলেন। উইং এমনিতে স্পেনের খুব শক্তির জায়গা নয়। তবে এ দিন সাফল্য মিলল। বাঁ দিকে আলেক্স বায়েনা এবং মার্ক কুকুরেয়ার জুটি তো ছিলই। ডান দিক থেকে ক্রমাগত অস্ট্রিয়া রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেন লেমিনে ইয়ামাল। দুই প্রান্ত থেকে একটানা আক্রমণ সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল অস্ট্রিয়া। এক সময় তা ভেঙে পড়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে শট, সব বিভাগেই স্পেন অনেকটা এগিয়েছিল ম্যাচে।

    বিশ্বকাপের দাবিদার স্পেন

    যে গতিতে স্পেন এগোচ্ছে তাতে ট্রফির দৌড়ে যে তারা ভাল ভাবে রয়েছে তা বলাই যায়। এই স্পেনকে আটকানোর সাধ্য খুব কম দেশের মধ্যেই রয়েছে। বলের নিয়ন্ত্রণ, কৌশল, ব্যক্তিগত দক্ষতা— সব বিভাগেই স্পেন বাকি দলগুলিকে টেক্কা দিতে পারে। এই স্পেন দলে তারকার এতটাই ছড়াছড়ি যে ওয়ারজাবালের মতো ফুটবলারেরা ঢাকাই পড়ে যান। রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা ফুটবলারকে নিয়ে খুব বেশি চর্চাও হয় না। কিন্তু নিজের কাজটা ঠিক করে যান। এদিন জোড়া গোল করে লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো সোনার বুটের দৌড়ে ঢুকে পড়লেন তিনিও। ওয়ারজাবালে গোল করলেও এদিন স্পেনের হয়ে গতিতে মাতালেন ইয়ামাল। এ দিন শুধু তিনি গোলটাই করেননি। বাকি সব কাজ করেছেন। গোলটাও হয়ে যেত অস্ট্রিয়ার গোলকিপার শ্লাগার দু’টি দুর্দান্ত সেভ না করলে। এ দিন নিজেকে শুধু ডান প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখেননি ইয়ামাল। তিনি ফ্রি ফ্লোইং ফুটবল খেলেছেন। অর্থাৎ মাঠের চারদিক জুড়ে খেলতে দেখা গিয়েছে। কখনও ডান দিকে, কখনও বাঁ দিকে, কখনও মাঝে— বিপক্ষের রক্ষণের নজর এড়ানোর জন্য সব ধরনের রাস্তা খুঁজে বার করেছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। দুই দেশই বিশ্বকাপ জেতার ব্যাপারে হট ফেভারিট। ফলে ফাইনালের আগেই ফাইনাল হয়ে যাওয়ার কথা।

     

     

     

     

     

  • Daily Horoscope 03 July 2026: শরীরে ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধি পাবে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 03 July 2026: শরীরে ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধি পাবে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

     

     

    মেষ

    ১) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি হতে পারে।

    ২) কাজের জায়গায় কথার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারলে ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    বৃষ

    ১) দূরে ভ্রমণের জন্য বাড়িতে আলোচনা হতে পারে।

    ২) একাধিক পথে আয় বাড়তে পারে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    মিথুন

    ১) আগুন থেকে বিপদের আশঙ্কা।

    ২) সংসারের জন্য অনেক করেও বদনাম হবে।

    ৩) প্রতিকূল কাটবে দিনটি।

     

    কর্কট

     

    ১) ব্যবসায় বাড়তি লাভ হতে পারে।

    ২) প্রিয়জনের কাছ থেকে আঘাত পেতে পারেন।

    ৩) নিজেকে সময় দিন।

    সিংহ

    ১) ব্যবসায় দায়িত্ব বাড়তে পারে।

    ২) নেশার প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

     

    কন্যা

     

    ১) বন্ধুদের দিক থেকে খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

    ২) প্রেমে বিবাদ বাধতে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরুন।

    তুলা

    ১) ব্যবসায় চাপ বাড়লেও আয় বৃদ্ধি পাবে।

    ২) বুদ্ধির দোষে কোনও কাজ পণ্ড হতে পারে।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করবেন।

    বৃশ্চিক

    ১) কর্মক্ষেত্রে সুনাম বাড়তে পারে।

    ২) ব্যবসায় নিজের বুদ্ধিতেই আয় বাড়বে।

    ৩) গুরুজনের পরামর্শ মেনে চলুন।

    ধনু

     

    ১) চাকরির স্থানে উন্নতির সুযোগ পেতে পারেন।

     

    ২) ব্যবসায় মহাজনের সঙ্গে তর্ক বাধতে পারে।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    মকর

    ১) দাম্পত্য সম্পর্কে উন্নতির সময়।

    ২) ব্যবসায় বিবাদ থেকে সাবধান থাকা দরকার।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কুম্ভ

     

    ১) বন্ধুদের সঙ্গে বিবাদের যোগ রয়েছে।

     

    ২) কর্মস্থানে সম্মানহানির সম্ভাবনা।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মীন

    ১) খেলাধুলায় নাম করার ভালো সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

    ২) পেটের ব্যথায় কষ্ট পেতে পারেন।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • RG Kar: আরজি করকাণ্ডে বদলে ফেলা হয়েছিল তিলোত্তমার সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা!

    RG Kar: আরজি করকাণ্ডে বদলে ফেলা হয়েছিল তিলোত্তমার সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের নয়া বিতর্ক তিলোত্তমা ধর্ষণ ও খুন মামলায়। রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট বা বদলে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আরজি করকাণ্ডে (RG Kar) নির্যাতিতার পরিবার। প্রাক্তন এক ফরেনসিক আধিকারিকের পাঠানো চিঠির ভিত্তিতেই এই অভিযোগ (Rape Murder Case) প্রকাশ্যে এসেছে। পরিবারের দাবি, চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিক গুরুত্বপূর্ণ নমুনা পরিবর্তন বা নষ্ট করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    বদলে ফেলা হয়েছিল ভিসেরা নমুনা! (RG Kar)

    পরিবারের বক্তব্য, কয়েক দিন আগে নির্যাতিতার বাবার নামে ওই চিঠি পৌঁছয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর ভিসেরা নমুনা পরে বদলে ফেলা হয়। সাধারণত মৃত্যুর আগে কোনও বিষাক্ত পদার্থ বা ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে এই নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়। অভিযোগ, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণই পরে বদলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের আরও অভিযোগ, শুধু রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারেই নয়, সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর সময়ও নমুনা বদল করা হয়েছে। তাই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নথি বা স্বাধীন তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি।

    সিবিআই তদন্তের দাবি

    এই পরিস্থিতিতে প্রাপ্ত চিঠিটি শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিলোত্তমার পরিবার। আদালতের কাছে তাদের আবেদন, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। পরিবারের দাবি, “এত গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না এবং (RG Kar) বিচারপ্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়বে।” চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বিজেপি এবং সিপিএম কর্মীদের একাধিক মামলায়ও ওই তিন ফরেনসিক কর্মী ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছিলেন। যদিও এই দাবির পক্ষেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পেশ করা হয়নি। এদিকে, তিলোত্তমার পরিবারের করা অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুললেও, সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিভাগ বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ (Rape Murder Case) বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন রাজ্যবাসী তাকিয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে (RG Kar)।

     

  • TMC Update: তৃণমূলে ‘আসল’ কারা? দলের নাম-প্রতীক ও তহবিল কার হাতে থাকবে? নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রত শিবির

    TMC Update: তৃণমূলে ‘আসল’ কারা? দলের নাম-প্রতীক ও তহবিল কার হাতে থাকবে? নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রত শিবির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC Update) অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার পৌঁছল জাতীয় স্তরে। দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এবং দলীয় তহবিলের আসল মালিকানার দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার নতুন দিল্লিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) সদর দফতরে দেখা করল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারাই ‘আসল তৃণমূল’ এবং এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রত ছাড়াও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, অরূপ রায়, শুভাশিস দাস, গোলাম রব্বানি-সহ ১০ জন।

    ‘আমি’ নয়, এখানে সবাই ‘আমরা’

    গত ২২ জুন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ডাকা একটি বিশেষ অধিবেশনের পর থেকেই এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূত্রপাত। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “গত ২২ জুন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরপরই আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাই এবং কলকাতায় সশরীরে দেখা করি। আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনাররা আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শুনেছেন। আমরা আমাদের যুক্তিগুলো তুলে ধরেছি এবং আশা করছি কমিশন খুব দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।” একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন, “আমি কোনও দাবিতে যেতে চাই না। তবে ২৯১টি বিধানসভা কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল, তা সত্ত্বেও তৃণমূল হেরেছে। বাংলার জনমত স্পষ্টভাবেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়েছে। দলটা আসলে একটা পারিবারিক পার্টিতে পরিণত হয়েছিল। তবে আমাদের এখানে কেউ ‘আমি’ নয়, এখানে সবাই ‘আমরা’।”

    প্রতীক ও তহবিলের দখল নেওয়ার জন্য কমিশনের দরবারে

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের হাত ছেড়ে বেরিয়ে আসায় দলের অন্দরে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি পরবর্তীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানায় এবং একটি নতুন ৩০ সদস্যের জাতীয় কর্মসমিতি (NWC) ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে এই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের বিষয়টিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দলীয় প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরেই মূল লড়াই—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, ঋতব্রতরা মূলত কালীঘাট শিবিরের হাত থেকে দলের প্রতীক এবং তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছেন। বিশেষ করে তাঁদের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামানের হাতে দলীয় তহবিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার দাবিই কমিশনের কাছে জানানো হয়ে থাকতে পারে।

    তৃণমূল কংগ্রেস দলটি কার

    আসলে তৃণমূল কংগ্রেস দলটি কার, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। আর এমন পরিস্থিতিতেই ঋতব্রতর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধি দল আজ নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঋতব্রত জানান, তাঁরা কমিশনকে দাবি করেছেন যে তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, সংসদীয় দল, বিধায়ক দল, জেলার স্তরের অধিকাংশ সংগঠন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। তারপর তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই আমাদের দাবি এবং জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।’

    তৃণমূলের দ্বৈরথে এখন সংকটে নির্বাচন কমিশন

    হাত গুটিয়ে বসে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও। ঋতব্রতরা যখন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি তৈরির তোড়জোড় করছিলেন, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ আলাদা একটি নতুন কমিটির তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজেই সই করেছেন নেত্রী। স্বাভাবিকভাবেই জোড়া কমিটির এই দ্বৈরথে এখন সংকটে নির্বাচন কমিশন। একই দলের সমান্তরাল দুটি দাবি জমা পড়ায় কমিশন শেষ পর্যন্ত কাকে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, আর কার হাতে উঠবে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলের রাশ কার হাতে থাকবে সেই লড়াই আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, যদি নির্বাচন কমিশন দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের প্রশ্নে কোনও পদক্ষেপ নেয়, তবে তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।  সূত্রের খবর, ঋতব্রতপন্থীদের সঙ্গে কথা বলার পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে চাইবে।

  • Modi Takaichi Meet: ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-জাপানের! এআই থেকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি, একসঙ্গে বড় বাজি মোদি-তাকাইচির

    Modi Takaichi Meet: ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-জাপানের! এআই থেকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি, একসঙ্গে বড় বাজি মোদি-তাকাইচির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সূর্যোদয়ের দেশের হাত ধরে ভারতে বিনিয়োগের নতুন সকাল! ভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আগামী ১০ বছরে ভারতের জন্য ১০ লক্ষ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করতে সম্মত হল দুই দেশ।

    হাজার বছরের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দুই দেশের

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি এবং উন্নত প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতার ঘোষণা করেছে দুই দেশ। ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, ভারত ও জাপানের সম্পর্কের ভিত্তি শুধু কৌশলগত নয়, দুই দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গেও তা গভীরভাবে যুক্ত।

    এআই ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় বড় জোর

    এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা। দুই দেশ যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পাশাপাশি ভারত ও জাপানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এআই সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোদির কথায়, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বই আগামী দিনে ভারত-জাপান সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে। তাঁর দাবি, জাপানের নিখুঁত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের সফটওয়্যার সক্ষমতার সমন্বয় বিশ্বব্যাপী এআই উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
    এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা (Advanced Manufacturing) এবং পরবর্তী প্রজন্মের পরিবহণ প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    প্রতিরক্ষায় নতুন অধ্যায়

    শীর্ষ বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাতেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। ভারত ও জাপান প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে। ‘নেভাল রেডিও অ্যান্টেনা ইউনিকর্ন’ (Naval Radio Antenna ‘Unicorn’) প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করবে। মোদির বক্তব্য, এই প্রকল্প শুধু দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

    স্বাস্থ্য ও বায়োটেক ক্ষেত্রেও জোর

    ওষুধ শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা এবং জাপানের উচ্চমানের প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিশ্বের জন্য আরও সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা তৈরি করা সম্ভব হবে।

    বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশ

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যও স্পষ্ট করেছে ভারত ও জাপান। আগামী এক দশকে ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন (১০ লক্ষ কোটি) ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। পাশাপাশি ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মোদি জানান, গত এক বছরে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রায় ১২০টি নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ ভারতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ

    দুই দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি নতুন রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া-জাপান বায়োগ্যাস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এক হাজার বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকেও নতুন গতি দেবে বলে মনে করছে দুই দেশ।

    ইন্দো-প্যাসিফিকে যৌথ কৌশল

    শীর্ষ বৈঠকের শেষে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বর্তমানে ভারত ও জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি। তাই একটি মুক্ত, সমৃদ্ধ ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলাই দুই দেশের যৌথ অগ্রাধিকার। তাঁর কথায়, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও বাজারভিত্তিক অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম ভারত ও জাপান। এদিন ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করবে। একসময় যে ভারত-জাপান সম্পর্ক মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতার বিস্তৃত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। এবারের শীর্ষ বৈঠকের একাধিক চুক্তি সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।

  • Whatsapp Username: মেটা-কে নোটিস কেন্দ্রের! ভারতে এখনই চালু করা যাবে না হোয়াটসঅ্যাপ-এর ইউজারনেম ফিচার

    Whatsapp Username: মেটা-কে নোটিস কেন্দ্রের! ভারতে এখনই চালু করা যাবে না হোয়াটসঅ্যাপ-এর ইউজারনেম ফিচার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপ-এ ইউজারনেম (Whatsapp Username) ফিচার এখনই ভারতে চালু করা যাবে না৷ এই মর্মে মেটা-কে নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ হোয়াটসঅ্যাপ-এ নতুন ইউজারনেম ফিচার চালু করার কথা জানিয়েছিল মেটা৷ ভারতেও এই ফিচার চালু হওয়ার কথা ছিল৷ সূত্রের খবর, হোয়াটসঅ্যাপ-এর এই নতুন ফিচারের কথা সামনে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে মেটা-কে বিষয়টি নিয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে৷ সরকারের সাথে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি চালু না করার জন্য মেটাকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, আগামী ৩ দিনের মধ্যে এই ফিচারের যাবতীয় খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার জন্য মেটাকে নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    কেন এই নির্দেশ

    সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ফিচারটির সুবিধা নিয়ে অপরাধীরা সহজেই ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। এর ফলে অনলাইন জালিয়াতি, ফিশিং এবং বিপজ্জনক ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’এর মতো কেলেঙ্কারি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন সরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা নামী ব্যক্তিত্বের আসল ইউজারনেমের নকল তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং পরিচয় জালিয়াতি করা আরও সহজ হয়ে উঠবে। কেন্দ্রীয় সরকারের আশঙ্কা, হোয়াটসঅ্যাপ-এর ব্যবহার নম্বরের বদলে ইউজারনেম ভিত্তিক হয়ে গেলে টেলিগ্রাম অ্যাপ ঘিরে যে ধরনের নিরাপত্তার ফাঁক বা ঝুঁকির অভিযোগ উঠেছিল, সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে৷ ইউজারনেম ফিচার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন দিনের মধ্যে জানানোর জন্যও মেটা-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ-এ ইউজারনেম ফিচার চালু না করার জন্যও মেটা-কে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র৷

    হোয়াটসঅ্যাপ-এ ইউজারনেম ফিচার

    ২০২৬ সালের ২৯শে জুন প্রকাশ্যে আসা এই ফিচারের মূল আকর্ষণ হলো, এবার থেকে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর গোপন রেখেই শুধু একটি স্বতন্ত্র ‘ইউজারনেম’ ব্যবহার করে চ্যাট করা যাবে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দমতো ইউজারনেম বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ইউজারনেম ফিচার চালু হলে ফোন নম্বরের গোপনীয়তা রক্ষা হবে বলেও দাবি করেছিল মেটা৷ এতদিন ফোন নম্বরের উপর নির্ভর করেই হোয়াটসঅ্যাপে একজনের সঙ্গে অন্যজন ব্যবহারকারী যোগাযোগ করতে পারতেন৷ হোয়াটসঅ্যাপে যে কোনও ব্যবহারকারী যে কারও মোবাইল নম্বর দেখতে পারতেন৷ কিন্তু ইউজারনেম ফিচার চালু হলে আর সেই সুযোগ থাকবে না৷ একজন ব্যবহারকারী চাইলে তবেই অন্য আর একজন ব্যবহারকারীর সঙ্গে নিজের মোবাইল নম্বর শেয়ার করতে পারবেন৷ নতুন নিয়মে একজন ব্যবহারকারী একটি ইউনিক ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন৷ সেই ইউজারনেম দিয়েই অন্যরা হোয়াটসঅ্যাপ-এ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন৷ ইউজারনেম-এর দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ৩৫ ক্যারেক্টার-এর মধ্যে হতে হবে৷ যা প্রথম দেখায় দারুণ মনে হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা বড়সড় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক।

     

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেতা ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) থেকে বিদায় নিল সেনেগাল। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ামকে দাঁড়াতে দেয়নি তারা। কিন্তু তার পরেই হঠাৎ তিন মিনিটের ঝড়ে ০-২ থেকে ২-২ করল বেলজিয়াম। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। যখন দেখে মনে হচ্ছে খেলা টাইব্রেকারে যাবে তখনই নাটক। শেষ মিনিটে পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। ঠান্ডা মাথায় গোল করলেন অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেম্যানস। ৩-২ গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম। অন্য ম্যাচে হ্যারি কেনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছল ইংল্যান্ড। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে দাপট দেখাল আমেরিকাও। গোটা ম্যাচ জুড়ে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা তাদের তাড়া করে গেল। এমনকি, ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও আমেরিকাকে হারাতে পারল না তারা। বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশও উঠল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে।

    মন জিতলেও স্বপ্নভঙ্গ সেনেগালের

    সাইডলাইনের পাশে বসে থাকা সাদিয়ো মানেকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না আর বিশ্বকাপে নেই তাঁর দেশ। হয়তো শেষ বারের মতো তিনিও বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। বিশ্বাস হচ্ছিল না সিয়াটলের স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকের অর্ধেকের। যাঁদের গায়ে ছিল সবুজ জার্সি। হাতে সিংহ। আফ্রিকার এই দেশের ফুটবল দলকে বলা হয় ‘দ্য লায়ন্স’। সেই সিংহ হুঙ্কার দিলেও শিকার করতে পারল না। ৮৫ মিনিটের আগে সেনেগালের সমর্থকদের অনেকেই শেষ ষোলোর ম্যাচের টিকিট কাটতেও হয়তো শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার দেশে ফেরার বিমানের টিকিট কাটতে হবে তাঁদের। প্রথম ৮৫ মিনিট বোঝা যায়নি সেনেগালের প্রতিপক্ষ দলের নাম বেলজিয়াম। যে দলটা কয়েক বছর আগেও ফিফা ক্রমতালিকায় এক নম্বরে ছিল। অবশ্য দলটার সোনালি প্রজন্ম প্রায় শেষের পথে। দেখে মনে হচ্ছিল, কেভিন দ্য ব্রুইন, থিবো কুর্তোয়ারা শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজা না পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে হালকা নিতে নেই। সেই ভুলটাই করল সেনেগাল। ৮৬ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে ট্রসার্ডের ক্রস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন লুকাকু। প্রথম পোস্টেই ছিলেন গোলরক্ষক দিয়াও। গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। কিন্তু সেই শট বাঁচাতে পারলেন না। ৮৯ মিনিটের মাথায় আবার ট্রসার্ডের ক্রস। এ বার বেরিয়ে পাঞ্চ করার চেষ্টা করেন দিয়াও। কিন্তু তিনি হাত লাগানোর আগেই হেড করেন টিয়েলেম্যানস। বল গোলে ঢোকে। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই সেনেগালের রক্ষণ দায়ী। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষে আরও একটি ভুল করল সেনেগালের রক্ষণ। বল বার করতে গিয়ে টিয়েলেম্যানসকে ফাউল করেন কামারা। ভার রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। সকলে ভেবেছিলেন লুকাকু শট মারবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেন অধিনায়ক। ঠান্ডা মাথায় গোল করে বেলজিয়ামকে পরের রাউন্ডে তোলেন তিনি।

    ভালো খেলেও ইংল্যান্ডের কাছে হার কঙ্গোর

    ফুটবল বিশ্বের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে এ বারের বিশ্বকাপ। বুধবারের ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো ম্যাচ সেই পরিবর্তনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের বাড়তি সমীহ করেনি প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কঙ্গো। বরং আগ্রাসী ফুটবল খেলছে। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ডিফেন্সকে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেছে। আফ্রিকার দেশের রক্ষণও পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে। গোলরক্ষক লিয়োনেল এমপাসি দুরন্ত খেললেন। বেশ কয়েকটা ভাল সেভ করলেন। কঙ্গোর রক্ষণের প্রাচীর ভাঙতে হিমশিম খেলেন জুড বেলিংহ্যাম, মার্কাসরা। ম্যাচের ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেনগার দুরন্ত গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান সিপেনগা। তাঁর ডান পায়ের শক্তিশালী শট আটকাতে পারেননি জর্ডন পিকফোর্ড। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে আটকে রেখেছিল কঙ্গো। সমতা ফেরান সেই কেন। ৭৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে অ্যান্টনি গর্ডনের ভাসিয়ে দেওয়া বলে হেড দিয়ে গোল করেন কেন। এমপাসি চেষ্ট করেও আটকাতে পারেননি। কেনই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ৮৬ মিনিটে। সেই গর্ডনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ডান পায়ের জোরাল শটে পরাস্ত করেন কঙ্গোর গোলরক্ষককে।

    শেষ ষোলোয় আয়োজক আমেরিকা

    মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও পৌঁছল শেষ ষোলোয়। ১০ জনের আমেরিকাকেও হারাতে পারল না বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে বিপুল জনসমর্থন নিয়েই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র আদায় করে নিল আমেরিকা। ২০০২-এর পর আবার বিশ্বকাপের নক-আউটে এগোল তারা। প্রথম থেকেই আক্রমণে যাচ্ছিল আমেরিকা। টিলমানের ক্রস ধরে গোল করেও ফেলেছিলেন বালোগুন। কিন্তু অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বসনিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে গোল করেন বালোগুন। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই, ৬৪ মিনিটে সেই বালোগুনই লাল কার্ড দেখেন। বিশ্বকাপের নক-আউটে গোল ও লাল কার্ড, এর আগে শুধু ছিল জিনেদিন জিদানের। ২০০৬-এর সালের ফাইনালে ইটালির বিরুদ্ধে। বালোগুন উঠে যাওয়ার পর থেকে ১০ জনে খেলতে হয় আমেরিকাকে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে তাঁর তিনটি গোল হয়ে গেলেও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না তিনি। ১০ জনের আমেরিকাকে বেশ কিছুক্ষণ চাপে রেখেছিল বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। কিন্তু দশ জনেও পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় আমেরিকা। তারা আরও একটি গোল করলেও তা অফসাইডে বাতিল হয়। তবে ৮২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আমেরিকাকে ২-০ এগিয়ে দেন টিলমান। তখনই আমেরিকার জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

     

     

     

  • Sanae Takaichi in India: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা, মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

    Sanae Takaichi in India: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা, মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ভারত সফর ঘিরে আরও একবার উষ্ণ হল নয়াদিল্লি-টোকিও সম্পর্ক। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এই সফরকে ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত সফরে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে জাপানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জাপান সরকারের ক্যাবিনেট পাবলিক রিলেশনস অফিসার লিখেছেন, “উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ভারত সফর নিয়ে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ সানায়ে তাকাইচিকে স্বাগত জানিয়ে লেখেন, “ভারতে আপনাকে আন্তরিক স্বাগত, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।” তিনি জানান, এই সফরে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং ভারত-জাপান ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ’-কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি, মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করবেন।

    তিন দিনের সরকারি সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    বুধবার তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। পালাম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তাকাইচি। বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক ফোরামেও অংশ নিচ্ছেন ১০০-রও বেশি জাপানি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী। এই ফোরামের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা।

    বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগে জোর

    দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব চলমান দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয়। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের (Supply Chain) স্থিতিস্থাপকতা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

    আরও মজবুত হবে ভারত-জাপান সম্পর্ক

    ভারত ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে জাপান ইতিমধ্যেই বুলেট ট্রেন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পোন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া এবং নিয়মিত কৌশলগত সংলাপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এই সফর ভারত-জাপান সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করবে।

  • Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। এ নিয়ে বুধবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সন্ধ্যায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অধীন বিষ্ণুপুরের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের হাসপাতালের একটি ইউনিটের উদ্বোধন করতে যান তিনি। সেখানেই তাঁকে সেবাশ্রয় সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তদন্তের কথা জানিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ যখন এসেছে, তখন পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে।’’

    সেবাশ্রয় কী

    পুরো ডায়মন্ড হারবার জুড়ে পোস্টার লাগানো হয়েছিল। ‘সেবাশ্রয়ে’ চিকিৎসা পাওয়ার জন্য ভিড় করতেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ। মাঝেমধ্য়েই ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলতেন। সে সব ছবি পোস্ট করা হত তৃণমূল ও অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। সেই সেবাশ্রয় নিয়েই এবার উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। বিষ্ণুপুর থানা সূত্রে খবর, ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অননুমোদিত চিকিৎসার পাশাপাশি ভুয়ো নথি ব্যবহার, বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করা হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এছাড়াও দাবি, চিকিৎসক পড়ুয়াদের এনে চিকিৎসা করানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিজিৎ দাস। অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে প্রচারপত্র, নথি, ছবি, ভিডিয়ো দেওয়া হয়েছে। ববির আরও অভিযোগ, ওই ক্যাম্পগুলিতে আল্ট্রাসাউন্ড, পোর্টেবল এক্স-রের মতো নিয়ন্ত্রিত ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে বিধি ভাঙা হয়েছে। বিজেপি নেতার দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে জোর করে বিভিন্ন মেশিনপত্র সেবাশ্রয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হত।

    কী কী অভিযোগ?

    বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাবি করেছেন, ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্যশিবিরে আলট্রাসনোগ্রাফি, পোর্টেবল এক্সরে-সহ একাধিক আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওই স্বাস্থ্যশিবিরের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। বিজেপি নেতার দাবি, অযোগ্যদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হত ‘সেবাশ্রয়ে’। অভিযোগ, ওই শিবিরে ভুয়ো প্রেসক্রিপশন দেওয়া হত। এ ছাড়াও, স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, ওই স্বাস্থ্যশিবিরে বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি ছিল। এ ছাড়াও, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কথাও রয়েছে অভিজিতের অভিযোগপত্রে। তাঁর আরও দাবি, সরকারি প্রচারপত্র, কনসালটেশন শিট, রেফারেল স্লিপ, ছবি, ভিডিয়ো যাচাই করে এবং সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরই অভিযোগ করা হয়েছে।

    তদন্তে অনেক কিছু বেরোবে

    সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক চিকিৎসক দাবি করেছেন, তদন্ত করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ এমবিবিএস চিকিৎসক ছিল, ৯০ শতাংশই হোমিওপ্যাথি বা আয়ুর্বেদ চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা করানো হত। বুধবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিষেক, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় ও সুমিতের ঘনিষ্ঠ অয়ন ঘোষদস্তিদার-সহ সমস্ত সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্তির দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ববি। তাঁর অভিযোগ, “ডায়মন্ডহারবারবাসীর স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কত মানুষের ক্ষতি করে দিয়েছেন তদন্ত করলেই তা বোঝা যাবে। ‘সেবাশ্রয়’ থেকে স্থানান্তরিত হওয়া একজন সুস্থ মহিলার অপারেশনের নামে পা কেটে বাদ দেওয়াও হয়। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রে অভিষেকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপি নেতা অভিজিতের অভিযোগ, “হোমিওপ্যাথির ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের সাদা অ্যাপ্রন পরিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক সাজিয়ে আনা হয়েছিল শিবিরগুলিতে। রোগীদের যে সমস্ত প্রেসক্রিপশন করা হয়েছিল সেগুলি দেখলেই বোঝা যাবে এমন প্রেসক্রিপশন কোনও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের হতে পারে না।”

    তদন্তের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ এসেছে। আমি দেখেছি, এখানে এসপি আছেন, তিনি তদন্ত করবেন। জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের যা সাহায্য লাগবে, তা করা হবে। ইটস আ ক্রাইম। আর ক্রাইম হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতে যা করার করা হবে।’’ জোকায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতালের অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের পাশে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যাবেলা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেবাশ্রয়-এ অনিয়ম নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেন মুখ্যুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা অভিযোগকারীদের

    বিজেপির পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের জোরাল দাবিও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে সেবাশ্রয় শিবির বিতর্ক ইসুতে ‘এটা ক্রাইম’ বলে পুলিশি তদন্তের কথা বলাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। খোদ পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ‍্যমন্ত্রীর মুখে এদিন পুলিশি তদন্তের বিষয়টি উঠতেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের সেবাশ্রয় নিয়ে পুলিশের তদন্তে আরও গতি পাবে বলেও মত অনেকেরই। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্সের নীতিতে সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগকারীরাও বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের ভরসা আছে।’’ বলছেন অভিযোগকারীরা।

     

     

     

     

  • Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। শেষ পর্যন্ত সেই লুকিয়ে থাকাও কাজে এল না। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

    কীভাবে ধরা হল অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেরবাজকে?

    পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে তদন্তকারীরা। এরপর বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দেবরাজ চক্রবর্তীকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি সম্পত্তি লেনদেন এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ।

    আগাম জামিন খারিজ হতেই গা-ঢাকা

    এর আগে হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা পেলেও দ্বিতীয় দফার শুনানিতে আদালত দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী তথা গায়িকা ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি আগাম জামিন পেলেও দেবরাজের ক্ষেত্রে আদালত সেই সুবিধা দেয়নি। এরপর থেকেই তাঁর গ্রেফতার প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছিল। এর পরেই, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী।

    দেবরাজ গ্রেফতার হতেই উচ্ছ্বাস বাগুইআটিতে

    দেবরাজ গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগুইআটি এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়-পরিজন ও বেনামি ব্যক্তিদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যাতে প্রকৃত সম্পদের হিসাব গোপন রাখা যায়।

    ভয় দেখানো, তোলাবাজি, জমি দখলের অভিযোগ

    হাইকোর্টে জামিন শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকেও একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, রাজারহাট-নিউটাউন এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটারদের ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং জোর করে জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। আদালতে আরও দাবি করা হয়, ভোটের আগে কালিম্পংয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

    জমি কেনাবেচায় ভয়ঙ্কর কারচুপি!

    তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুপরিকল্পিত আর্থিক কারচুপির প্রমাণ মিলছে। অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্য দেখিয়ে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তর করা হত। পরে নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সেই জমিতে আবাসন প্রকল্প তৈরি করে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো। আদালতে এমনও দাবি করা হয়, প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের একটি জমি নথিতে মাত্র ১০ লক্ষ টাকায় দেবরাজের নামে হস্তান্তর দেখানো হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলেও তদন্তকারীদের অনুমান।

    রাজনীতিতে আচমকা উত্থান….

    দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৫ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন। পরে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সি ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং অর্থপাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। আদালতের রক্ষাকবচ সরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধরতে তল্লাশি শুরু করেছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া থেকে তাঁর গ্রেফতার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

LinkedIn
Share