Tag: Madhyom

Madhyom

  • Khaleda Zia: প্রয়াত খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেমন ছিল ভারতের সম্পর্ক?

    Khaleda Zia: প্রয়াত খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেমন ছিল ভারতের সম্পর্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি-এর চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮০। অশীতিপর বিএনপি নেত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি গত কয়েক দিন ধরেই সঙ্কটজনক ছিল। রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে সিসিইউ-তে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলাদেশে।

    বাংলাদেশ প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী

    শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসাবে যেমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন হাসিনা, তেমনই খালেদার পরিচিতি ছিল জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসাবে। স্বামীর মৃত্যুর পর অবশ্য নিজেই নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন খালেদা। হাল ধরেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)-র। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা। তাঁর কিডনির সমস্যা অনেক পুরনো। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্টের কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরীক্ষার পর ফুসফুসে সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। সূত্রের খবর, বয়সজনিত কারণে পরিস্থিতি অনেক জটিল হয়ে উঠেছিল। কারণ, তাঁর শরীরে আগে থেকেই একাধিক সমস্যা ছিল। একটির চিকিৎসা করতে গেলে অন্য রোগের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। কিডনির কার্যকারিতাও অনেকটা কমে গিয়েছিল খালেদার।

    ছোটবেলায় খালেদা

    ১৯৪৫ সালের ১৫ অগাস্ট দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন খালেদা। নাম ছিল খালেদা খানম পুতুল। তাঁর বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা বেগম তৈয়বা মজুমদার। তাঁরা তিন বোন এবং দুই ভাই। জনাব ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। খালেদা একদম ছোট বয়সে মিশন স্কুলে পড়াশোনা করেন। ৫ বছরেই সেখানে ভর্তি হন। এরপর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করেন ১৯৬০ সালে। সেই বছরই তাঁর বিয়ে হয় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। তখনই তাঁর নাম হয় খালেদা জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। পরবর্তী সময় তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।

    স্বামীর হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ

    ১৯৮১ সালে খালেদার জীবন এক কঠিন সময় আসে। সেই বছর ৩০ মে সামরিক অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান জিয়াউর রহমান। এরপরই খালেদার রাজনীতিতে প্রবেশ। তিনি ১৯৮২ সালে বিএনপি-তে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। এরপরই তাঁর জীবন নতুন মোড় নেয়। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলনের জেরে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নেন তিনি।

    ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী

    সালটা ছিল ১৯৯১। সেই বছরই প্রথমবারের জন্য নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। তারপর আবার ১৯৯৬ সালে তাঁর মাথায় চাপে একই দায়িত্ব। তবে সেই দফায় রাজনৈতিক চাপে তিনি প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এরপর আবার তিনি ২০০১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ২০০৭ সাল থেকে খালেদা জিয়ার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। এই সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। ১ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তাঁকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। এই সময় তিনি এক বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান। শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জিয়াকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী এবং বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব খালেদা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হাত ধরেই জমি শক্ত করেছিল তাঁর দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)। তাঁর আমলেই মহাশক্তিশালী হয়ে ওঠে জামাত-ই-ইসলামি-সহ অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠন। ভারতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক যে খুব একটা মধুর ছিল না তা সবার জানা। মুজিব হত্যার পর রাজাকারদের আশ্রয় দিয়েছিলেন তাঁর স্বামী সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান। তাঁর মৃত্যুর পর একই কাজ করে গিয়েছেন খালেদা। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বাংলাদেশে বিএনপি সরকারের আমলে আরও অশান্ত হয়ে উঠেছিল ভারতের ‘সেভেন সিস্টারস’ বা ‘সাত বোন’। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অশান্তির মূল কারিগর ছিলেন তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জানা যায়, উত্তর–পূর্ব ভারতে আলফা, এনডিএফবি, এনএলএফটি, এটিটিএফ–এর মতো সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি সেই সময়ে অনেকটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই সংগঠনগুলির নেতাদের বেশিরভাগই আশ্রয়স্থল ছিল বাংলাদেশ। সেদেশের মাটি ব্যবহার করেই ভারতে একের পর এক হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল তারা।

    দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয় খালেদার দল বিএনপি। প্রথমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন জিয়াউর পত্নি খালেদা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে এসেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে খালেদা নজর দেন কিন্তু বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। তাঁর শাসনে বাংলাদেশে মৌলবাদ চরম আকার নেয়। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, হিংসা মাত্রাছাড়া হয়ে ওঠে। যার ফলস্বরূপ পরের নির্বাচনে আওয়ামি লিগের কাছে হারের মুখ দেখতে হয় মুজিব চেতনাকে দুরমুশ করা পাকপন্থী বিএনপিকে। ক্ষমতা হারালেও বিরোধী নেত্রী হিসেবে দাপটের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ২০০১ সালে ফের ক্ষমতায় আসে তার দল। আবারও প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি। সমস্ত ক্ষমতার রাশ নিজের হাতে নিয়ে ফের শুরু হয় খালেদার দাপট। গণআন্দোলন, জনমত এবং জনপ্রিয়তাকে ভিত্তি করে ক্ষমতায় এলেও অচিরেই তাঁর শাসনে অরাজকতা ও দুর্নীতি ভয়াবহ আকার নেয়। সাম্প্রদায়িক হিংসা ব্যাপক বাড়ে বাংলাদেশে। মৌলবাদ ও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাও লাগামছাড়া আকার নেয়। তার মেয়াদকালে দুর্নীতির সূচকে (২০০১-২০০৫) বাংলাদেশ টানা পাঁচ বছর বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে উঠে আসে।

     

     

     

     

     

  • Daily Horoscope 29 December 2025: শত্রুভয় কাটাতে পারবেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 29 December 2025: শত্রুভয় কাটাতে পারবেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) যে কোনও কাজে সুনাম পেতে পারেন।

    ২) ব্যবসায় সহকর্মীর দ্বারা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) দিনটি ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে।

    বৃষ

    ১) স্ত্রীর কারণে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে।

    ২) কোনও ঝুঁকিপ্রবণ কাজ করতে হতে পরে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মিথুন

    ১) প্রিয়জনের সঙ্গে বিবাদ নিয়ে চিন্তা হতে পারে।

    ২) গরিব মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন।

    ৩) ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    কর্কট

    ১) শত্রুভয় কাটাতে পারবেন।

    ২) ব্যবসায় ফল নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে আরও বেশি।

    সিংহ

    ১) কাজের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা থাকবে।

    ২) ব্যবসার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকুন, বুদ্ধিভ্রংশ ঘটতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কন্যা

    ১) বাড়িতে অশান্তির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

    ২) আপনার বক্তব্য সকলের মন জয় করতে পারবে না।

    ৩) বিবাদে জড়াবেন না।

    তুলা

    ১) আর্থিক টানাটানির যোগ।

    ২) কর্মস্থলে পদন্নোতির যোগ রয়েছে।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

    বৃশ্চিক

    ১) কোনও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করাই ভাল হবে।

    ২) ভ্রমণে গেলে সমস্যা হতে পারে।

    ৩) সতর্কতা অবলম্বন করুন সব কাজে।

    ধনু

    ১) অতিরিক্ত বিলাসিতার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ২) গুরুজনদের উপদেশে কর্মে উন্নতি।

    ৩) অলসতা ত্যাগ করুন।

    মকর

    ১) নিজের ভুল সংশোধন করার ফলে ব্যবসায় উন্নতি ও দারুণ অর্থপ্রাপ্তির যোগ।

    ২) গুরুজনের শরীর নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    কুম্ভ

    ১) কাজের চাপ বাড়তে পারে।

    ২) ব্যবসায় শুভ ইঙ্গিত।

    ৩) বড়দের কথা মেনে চলুন।

    মীন

    ১) সহকর্মীরা ক্ষোভপ্রকাশ করায় মানসিক চাপ বাড়বে।

    ২) প্রেমে একটু কষ্ট বাড়তে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • National Security Cess Bill 2025: আসছে জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল! ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    National Security Cess Bill 2025: আসছে জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল! ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল ২০২৫, যা ‘হেলথ সিকিউরিটি সেস’ নামেও পরিচিত, ভারতের জনস্বাস্থ্য অর্থায়নের কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বিলের মাধ্যমে স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতা ও শাসনগত সীমাবদ্ধতা সামনে আসার পর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নীতি বিশেষজ্ঞরা। এই বিলে পান মসলা, তামাকজাত দ্রব্য-সহ ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদনের উপর বিশেষ সেস আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও স্বাস্থ্য-ক্ষতিকর পণ্যকে এর আওতায় আনতে পারবে। এই সেস থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, রোগ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হবে।

    উৎপাদন ক্ষমতা নির্ভর কর: একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ

    এই বিলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কর আরোপের ক্ষেত্রে বিক্রয় নয়, বরং উৎপাদন ক্ষমতাকে ভিত্তি ধরা। সাধারণ পরোক্ষ কর যেখানে বিক্রয়ের উপর নির্ভরশীল, সেখানে এই সেস ধার্য হবে উৎপাদন যন্ত্রের সক্ষমতার উপর। এর ফলে আয় লুকোনো, আংশিক রিপোর্টিং এবং খণ্ডিত বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফাঁকির প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে সরকারের দাবি। যন্ত্রচালিত উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে উৎপাদিত পাউচ বা টিনের সংখ্যা এবং প্রতিটির ওজন অনুযায়ী সেস নির্ধারিত হবে। বিল অনুযায়ী, যন্ত্রচালিত প্রক্রিয়ার জন্য মাসিক সেসের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০১ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, ম্যানুয়াল উৎপাদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্ষমতার জন্য মাসিক প্রায় ১১ লক্ষ টাকা সেস ধার্য হবে।

    রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থায়িত্ব

    এই সেস থেকে প্রাপ্ত অর্থ তহবিলে জমা হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ বাধ্যতামূলক নয়, তবুও নীতিগতভাবে ক্ষতিকর ভোগের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করার কথাই বলা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎপাদন ক্ষমতা নির্ভর কর ব্যবস্থা বিক্রয় বা চাহিদার ওঠানামার উপর কম নির্ভরশীল হওয়ায় রাজস্ব প্রবাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধরনের পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন বিশেষভাবে কার্যকর।

    নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থা

    বিলে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োগ ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। উৎপাদন যন্ত্রের নিবন্ধন, ক্ষমতার ঘোষণা, নিয়মিত রিটার্ন দাখিল এবং পরিদর্শনের মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা হবে। অনিয়মের ক্ষেত্রে জরিমানা, পণ্য ও যন্ত্র বাজেয়াপ্তকরণ, এমনকি গ্রেফতার ও কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আপিল ও বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ থাকায় প্রক্রিয়াগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার সংযোগ

    এই বিলের মূল দর্শন হলো—স্বাস্থ্য নিরাপত্তা আর জাতীয় নিরাপত্তা আলাদা বিষয় নয়। উচ্চ রোগপ্রবণতা, জীবনধারা-জনিত অসুস্থতা এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার দেশের স্বাস্থ্য ব্যয় ও জরুরি প্রস্তুতির উপর দীর্ঘদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি করে আসছে। ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায়ের মাধ্যমে সরকার সামাজিক খরচকে আংশিকভাবে অভ্যন্তরীণ করার চেষ্টা করছে। এটি একদিকে ভোক্তা আচরণের সামাজিক প্রভাবের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই উৎস থেকেই জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির জন্য অর্থ সংগ্রহের পথ খুলে দিচ্ছে।

    চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন

    তবে এই বিল কার্যকর হলে একাধিক প্রশ্নও উঠছে। ভবিষ্যতে কোন কোন পণ্য এর আওতায় আসবে, সংগৃহীত অর্থের ব্যবহারে কতটা স্বচ্ছতা থাকবে, এবং কঠোর নিয়ম ছোট ও ম্যানুয়াল উৎপাদকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে কি না—এসব বিষয় বাস্তবায়নের সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা সেস বিল ২০২৫ কেবল একটি কর নীতি নয়, বরং ভারতের নিরাপত্তা ভাবনায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। মহামারির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্যকে জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রে আনার এই উদ্যোগের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে—এই সেস থেকে সংগৃহীত অর্থ দেশের স্বাস্থ্য সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতায় কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে তার উপর।

  • Operation Sindoor: ‘সিঁদুরে’ মেঘ!‘ভারত আমাদের বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল’, মানলেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী

    Operation Sindoor: ‘সিঁদুরে’ মেঘ!‘ভারত আমাদের বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল’, মানলেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) ফলে অসহায় বোধ করেছিল পাকিস্তান। আট মাস নীরবতার পর অবশেষে একথা মানল ইসলামাবাদ। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় চালানো নির্ভুল ও কৌশলগত হামলার প্রভাব স্বীকার করলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। দিলেন পরিসংখ্যানও। দাবি, সিঁদুর অভিযানের সময় টানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে ৮০টি ড্রোন হামলা করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেসে আঘাত লেগেছিল, ক্ষতি হয়েছিল পরিকাঠামোর, আহত হয়েছিলেন পাক বায়ুসেনার একাধিক জওয়ান, এ কথা প্রথমবার সরকারি ভাবে মেনে নিলেন ইশাক।

    ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮০টি ড্রোন হামলা

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, মে মাসের শুরুতে ভারত পাকিস্তানের ভিতরে একাধিক ড্রোন পাঠিয়েছিল। তাঁর দাবি, ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮০টি ড্রোন ঢুকেছিল পাকিস্তানের আকাশসীমায়। তার মধ্যে ৭৯টি তারা ভূপাতিত করতে পেরেছে বলে দাবি করলেও, একটি ড্রোন নূর খান এয়ারবেসে আছড়ে পড়ে। তাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাকিস্তান বায়ুসেনার এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। দারের কথায়, ওই ঘটনায় কয়েক জন পাক সেনা জওয়ান আহতও হন। মে মাসে ভারতের হামলায় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা এত দিন কার্যত অস্বীকারই করে এসেছে ইসলামাবাদ। কিন্তু হঠাৎ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল পাকিস্তান। প্রকাশ্যেই পুরোটা স্বীকার করল পাকিস্তান সরকার।

    ভারতের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কার্যত স্বীকার

    উল্লেখ্য, ভারত ২০২৫ সালের ৭ মে ভোররাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এর পেছনে ছিল ২৬ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাওঁ-এ সন্ত্রাসীদের হাতে ২৬ জন নিরীহ নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ওই হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ইশাক দারের এই বক্তব্য পাকিস্তানের পূর্ববর্তী অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী। এতদিন ইসলামাবাদ ভারতের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি কার্যত অস্বীকার বা খাটো করে দেখিয়ে এসেছে। কিন্তু এবার নূর খান বিমানঘাঁটিতে ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল। তবে এই স্বীকারোক্তির মধ্যেও দার বিতর্কিত দাবি তুলতে ভোলেননি। তিনি আবারও বলেন যে, ৭ মে’র আকাশযুদ্ধে পাকিস্তান সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে যার পক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি দেননি। পাশাপাশি তিনি পুনরায় পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি আসতে পারে কেবল জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের মাধ্যমেই।

    নূর খান বিমানঘাঁটিতে পুনর্গঠনের কাজ চলছে

    সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নূর খান বিমানঘাঁটিতে পুনর্গঠনের কাজ চলছে। যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ঘাঁটিটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ মজুত থাকে। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করেনি। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নূর খান ঘাঁটিতে আঘাত হানতে ভারত সম্ভবত ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, ফরাসি তৈরি স্কাল্প (SCALP) এয়ার-লঞ্চড ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল, অথবা উভয়ই ব্যবহার করেছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ব্রহ্মোস নিক্ষেপ করা হয় ভারতীয় বায়ুসেনার সু-৩০ যুদ্ধবিমান থেকে এবং স্কাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে। সব মিলিয়ে, ইশাক দারের স্বীকারোক্তি শুধু পাকিস্তানের সরকারি অবস্থানের বড় পরিবর্তনই নয়, বরং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব যে ইসলামাবাদ গভীরভাবে অনুভব করেছে, তারও স্পষ্ট প্রমাণ।

    ভয় পেয়েছে পাকিস্তান

    ইশাক দার আরও দাবি করেন, এই সংঘর্ষ থামাতে আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও তাঁর সংযোজন, ‘আমরা কখনও যুদ্ধ চাইনি।’ নূর খান এয়ারবেস পাকিস্তান বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। রাওয়ালপিন্ডির চাকলালা এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি কার্যত ইসলামাবাদের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই ঘাঁটির পাশাপাশি সরগোধার মুশাফ, জ্যাকবাবাদের শাহবাজ, করাচির ভোলারি, মুরিদকে ও রফিকি এয়ারবেসও ভারতীয় হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি।

    পাল্টা প্রতিক্রিয়া ভারতের

    পাকিস্তানের এই স্বীকারোক্তির পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে ভারত থেকেও। সেনাবাহিনীর প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল কনওয়ালজিৎ সিং ধিলোঁ ইশাক দারের বক্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ইশাক দার মিথ্যা বলতেই অভ্যস্ত। তবে শেষ পর্যন্ত সত্যটাই বেরিয়ে আসে।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভি নিজেই ১৪ অগস্ট, পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে, ১৩৮ জন সেনাকে মরণোত্তর বীরত্ব পদক দেওয়ার খবর প্রকাশ করেছিল। ধিলোঁর দাবি, এই সংখ্যা থেকেই বোঝা যায়, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০-র মধ্যে। এর আগেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বীকার করেছিলেন, ৯-১০ মে রাত আড়াইটে নাগাদ সেনাপ্রধান আসিম মুনির তাঁকে ফোন করে নূর খান এয়ারবেসে হামলার কথা জানিয়েছিলেন। জুলাই মাসে তাঁর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ আরও এক ধাপ এগিয়ে জানান, ভারতের ছোড়া ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল নূর খান এয়ারবেসের দিকেই আসছিল। ইসলামাবাদের হাতে তখন মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড ছিল বোঝার জন্য, ওই ক্ষেপণাস্ত্রে কোনও নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড রয়েছে কি না।

    স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের

    এই সব দাবির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে স্যাটেলাইট ছবিও। মার্কিন সংস্থা ম্যাক্সার টেকনোলজির ১৩ মে তোলা ছবিতে নূর খান, মুশাফ, ভোলারি ও শাহবাজ; এই চারটি পাকিস্তানি এয়ারবেসে স্পষ্ট ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়। হামলার আগে ২৫ এপ্রিল এবং হামলার পরে ১০ মে তোলা ছবির তুলনায় ধ্বংসের মাত্রা চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে, ইশাক দারের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের এত দিনের বয়ানকে কার্যত উল্টে দিল বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

  • Mohan Bhagwat: ‘বিশ্বের প্রয়োজনেই ভারত বিশ্বগুরু’, হিন্দু জীবনধারা-র আদর্শ স্থাপনের আহ্বান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘বিশ্বের প্রয়োজনেই ভারত বিশ্বগুরু’, হিন্দু জীবনধারা-র আদর্শ স্থাপনের আহ্বান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে হিন্দু সমাজকে তাঁদের আচরণ, মূল্যবোধ ও জীবনযাপনের মাধ্যমে আদর্শ স্থাপনের আহ্বান জানালেন আরএসএস প্রধান (সরসংঘচালক) ড. মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, শক্তি বা সম্পদের মাধ্যমে নয়, বরং ধর্ম, করুণা ও নিঃস্বার্থ সেবার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ‘হিন্দু জীবনধারা’-র অনুপ্রেরণাই আজ বিশ্বের প্রয়োজন। তাঁর দাবি, ভারতকে অবশ্যই আবার ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার জন্য কাজ করতে হবে, কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, বরং এটি বিশ্বের প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এখন এসেছে। হায়দ্রাবাদে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, মোহন ভাগবত এক শতাব্দী আগের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন যে প্রায় ১০০ বছর আগে, যোগী অরবিন্দ ঘোষণা করেছিলেন যে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান ঈশ্বরের ইচ্ছা এবং সেই পুনরুত্থানের জন্য হিন্দু রাষ্ট্রের উত্থান অপরিহার্য।

    ধর্ম থেকে বিচ্যুতি বিশ্ব সংকটের মূল কারণ

    হায়দ্রাবাদের নিকটবর্তী ভাগ্যনগরের কানহা শান্তি বনমে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সংঘ শিবির (VSS) ২০২৫-এর মঞ্চে মূল বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। পাঁচদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্তির সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ভাগবত তাঁর ভাষণে বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহু সংকটের মূল কারণ হলো ধর্ম থেকে বিচ্যুতি। তিনি বলেন, “ধর্মকে উপেক্ষা করার ফলেই ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, চরমপন্থা বেড়েছে, ইতিহাস ভুল পথে গিয়েছে এবং করুণা হারিয়েছে।” যদিও বিশ্বজুড়ে ভারসাম্য ফেরানোর আলোচনা চলছে, তবুও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কে শুরু করবে এবং কীভাবে। কলম্বাসের ‘ডিম দাঁড় করানো’ গল্প এবং ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধা’ উপকথার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভাবনা নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগই পরিবর্তনের সূচনা করে।

    ভারত বিশ্বগুরু, সারা বিশ্বের প্রয়োজনেই

    আরএসএস প্রধান বলেন, “সেই সময় এখন এসেছে, ১০০ বছর আগে, যখন যোগী অরবিন্দ ঘোষণা করেছিলেন যে সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান ঈশ্বরের ইচ্ছা, এবং সনাতন ধর্মের পুনরুত্থানের জন্যই হিন্দু রাষ্ট্রের উত্থান।” ভাগবত আরও জোর দিয়ে বলেন যে ভারত, হিন্দু রাষ্ট্র, সনাতন ধর্ম এবং হিন্দুত্ব সমার্থক। “ভারত বা হিন্দু রাষ্ট্র, এবং সনাতন ধর্ম, হিন্দুত্ব সমার্থক। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমাদের এখন সেই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে… আমরা দেখছি যে ভারতে সংঘের প্রচেষ্টা এবং নিজ নিজ দেশে হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচেষ্টা একই: হিন্দু সম্প্রদায়কে সংগঠিত করা। সমগ্র বিশ্বে ধার্মিক জীবনযাপনকারী একটি সমাজের উদাহরণ স্থাপন করা, ধার্মিক জীবনযাপনকারী মানুষের উদাহরণ স্থাপন করা…” এরপর, আরএসএস প্রধান বলেন যে ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার জন্য সংঘের প্রচেষ্টা সহ বিভিন্ন ধারায় ক্রমাগত কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমাদের আবার ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার কাজ করতে হবে। ‘বিশ্বগুরু’ হওয়া আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। এটা বিশ্বের প্রয়োজন যে আমরা ‘বিশ্বগুরু’ হই। কিন্তু এটা এভাবে হয় না। এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এই কঠোর পরিশ্রম অনেক ধারা থেকে চলছে। তার মধ্যে একটি হলো সংঘ।”

    ব্যক্তি থেকেই জাতি গঠনের ভাবনা

    আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের দর্শনের কথা স্মরণ করে মোহন ভাগবত বলেন, জাতির কাজ শুরু হয় ব্যক্তিগত আত্মপরিবর্তন থেকে। তাঁর কথায়, “যাঁরা নিজের থেকে কাজ শুরু করেন, তাঁদের গড়েই তোলা হয়—তাঁরাই স্বয়ংসেবক। যাঁদের কাছে সেবাই চূড়ান্ত লক্ষ্য, তাঁরাই প্রকৃত স্বয়ংসেবক।” তিনি সেবার প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন, ভয়, বাধ্যবাধকতা, পুরস্কারের প্রত্যাশা বা স্বীকৃতির লোভ থেকে করা কাজ প্রকৃত সেবা নয়। আরএসএস-এর বিস্তার বিশ্বজুড়ে হলেও স্বয়ংসেবকেরা হিন্দু সমাজের কল্যাণ ও হিন্দু ধর্ম রক্ষার প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভাগবত জোর দিয়ে বলেন, ভারত বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে সামরিক বা অর্থনৈতিক আধিপত্যের মাধ্যমে নয়, বরং জীবনধারার উদাহরণের মাধ্যমে। তাঁর কথায়, “আমরা অন্যদের দমন করতে চাই না। আমরা আমাদের জীবনযাপনের আদর্শ বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।”

    প্রযুক্তি মানবতার প্রভু নয়, বিশ্ব কল্যাণের জন্য বিজ্ঞান

    ব্যক্তিত্ব বিকাশের ভূমিকার উপর আলোকপাত করে ভাগবত বলেন, সংঘ ব্যক্তিদের বিকাশ এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য তাদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে স্থাপন করার উপর মনোযোগ দেয়। তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপর মনোযোগ দিয়ে, আমরা মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ করি এবং সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য তাদের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে পাঠাই। আজ সর্বত্র তাদের কাজের প্রশংসা করা হয়। তারা সমাজের বিশ্বাস অর্জন করে।” প্রযুক্তির প্রভাব তুলে ধরে আরএসএস প্রধান জোর দিয়ে বলেন যে সোশ্যাল মিডিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অগ্রগতি অনিবার্য হলেও, মানবতাকে নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। তিনি বলেন, “আজ আমাদের বিশ্বকে দেখাতে হবে যে প্রযুক্তি আসবে, সোশ্যাল মিডিয়া থাকবে, এআই আসবে, সবকিছু আসবে। কিন্তু প্রযুক্তির কোনো নেতিবাচক পরিণতি হবে না। প্রযুক্তি মানবতার প্রভু হয়ে উঠবে না। মানবতা প্রযুক্তির প্রভু থাকবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব কল্যাণের জন্য প্রযুক্তিকে পথ দেখাবে এবং এর অপব্যবহার রোধ করবে। তিনি আরও বলেন, “মানুষের বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশ্বের কল্যাণের দিকে পরিচালিত করবে। এটি আসুরিক প্রবৃত্তির দিকে যাবে না। এটি দৈব প্রবৃত্তির দিকে যাবে। এটা কীভাবে হবে? আমরা এটা কীভাবে করব? আমাদের কাজের মাধ্যমে এটা প্রমাণ করতে হবে। আমাদের জীবনযাপনের মাধ্যমে এটা দেখাতে হবে।”

    কৃষ্ণা এল্লার বক্তব্য

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ভারত বায়োটেক-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষ্ণা এল্লা ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। মোহন ভাগবতকে “সত্যের প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের গণতন্ত্র কেবল প্রতিষ্ঠান নির্ভর নয়। তিনি বলেন, “ভারত গণতন্ত্রের চেয়েও বড়। এখানে মুক্তভাবে কথা বলা যায়, বিতর্ক করা যায়, তবুও ধর্মের ভিত্তিতে স্থির থাকা যায়।” ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের ইতিহাস অন্য দেশ আক্রমণ করতে শেখায় না। ভারতের ইতিহাস সাংস্কৃতিক গভীরতা ও সভ্যতার বিকাশকে ধরে রাখে।

  • BMJP: ৪০–৪৫টি আসনে জয়ের আশা! বাংলাদেশে নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে হিন্দুদের দল বিএমজেপি

    BMJP: ৪০–৪৫টি আসনে জয়ের আশা! বাংলাদেশে নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে হিন্দুদের দল বিএমজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্থির বাংলাদেশ। মহম্মদ ইউনূসের জমানায় প্রতিদিন পদ্মাপারে অত্যাচারিত হচ্ছেন হিন্দুরা (Hindus in Bangladesh)। এই আবহে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে তৈরি হল বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (BMJP)। হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই নতুন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে লড়াই করতে যাচ্ছে বিএমজেপি।

    সংখ্যালঘুদের একমাত্র কণ্ঠস্বর বিএমজেপি

    বিএমজেপির (BMJP) সভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল জানান, দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে ৯১টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫টি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমরা এমন সব কেন্দ্র বেছে নিয়েছি যেখানে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু ভোটব্যাংক ২০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।” বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা সোমবার। এর আগেই সব প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান মণ্ডল। তাঁর মতে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা ভোট দিতে বেরোতে ভয় পাবে। সে ক্ষেত্রে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামির মতো মূলধারার কোনো দলের সঙ্গে জোট হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিরাপদ হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আওয়ামী লিগ আমাদের বিবেচনায় নেই। নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের একমাত্র কণ্ঠস্বর বিএমজেপি।”

    বিএমজেপির পাঁচ দফা কর্মসূচি

    মণ্ডল আরও বলেন, “ভারতকে বাংলাদেশের বিষয়ে তার অবস্থান বদলানো উচিত। আওয়ামী লিগকে সমর্থন না করে শুধু হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থে কথা বলা উচিত। ভারত যদি আওয়ামী লিগপন্থী অবস্থান থেকে সরে আসে, তাহলে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেবে।” বিএমজেপির পাঁচ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গঠন, পাঁচটি প্রদেশ নিয়ে একটি ফেডারেল ব্যবস্থা চালু, প্রতিটি রাজ্যের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা, পাঠ্যবইয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংখ্যালঘুদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা।

    বিএমজেপির ভিশন ডকুমেন্ট

    দলের(BMJP) ভিশন ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, কিন্তু বাস্তবে সাম্প্রদায়িকতা কমেনি। বিশেষ করে পাকিস্তান আমলে প্রণীত ‘শত্রু সম্পত্তি আইন’ এখনও হিন্দুদের (Hindus in Bangladesh) বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ একর জমি হাতছাড়া হয়েছে এবং বহু পরিবার সম্পত্তি দখল, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও উপাসনালয়ে হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন মণ্ডল। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ২.৫ কোটি হিন্দু বসবাস করছেন এবং তাঁরা দেশ ছেড়ে যাবেন না। মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণই সমস্যার সমাধান হতে পারে। আগে হিন্দুরা মূলত আওয়ামী লিগের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু এখন বিএমজেপির পক্ষে ভোট দিতে হলে মূলধারার কোনো দলের সঙ্গে জোট ঘোষণা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

  • Daily Horoscope 29 December 2025: অর্থ সম্পর্কিত যে কোনও সমস্যা আজই সমাধান হতে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 29 December 2025: অর্থ সম্পর্কিত যে কোনও সমস্যা আজই সমাধান হতে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

     

     

     

    মেষ

    ১) আপনার সঠিক মনোভাব ভুল মনোভাবকে টেক্কা দেবে।

    ২) অর্থ সম্পর্কিত যে কোনও সমস্যা আজই সমাধান হতে পারে।

    ৩) নতুন জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে।

    বৃষ

    ১) অপ্রয়োজনীয় ভাবনায় শক্তিক্ষয় না করে একে সঠিক দিশা দিন।

    ২) প্রেমের জন্য আজকের দিনটি খুব ভাল।

    ৩) আপনি আজকে মানসিক শান্তি বোধ করবেন।

    মিথুন

    ১) কাজের ক্ষেত্রে আজ ভালো দিন, প্রচুর সুযোগ আসবে।

    ২) প্রেমে কষ্ট বাড়তে পারে।

    ৩) বুঝে, শুনে কথা বলুন।

    কর্কট

    ১) সব কাজেই সুনাম পেতে পারেন।

    ২) জীবনে নতুন প্রেম আসবে।

    ৩) ধৈর্য ধরে কাজ করুন, আপনার আশা পূরণ হবে।

    সিংহ

    ১) আর্থিক দিক থেকে আজকের দিনটি খুব ভালো।

    ২) অফিসে কাজের জন্য সুনাম পাবেন।

    ৩) অকারণ চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।

    কন্যা

    ১) বিবাহিত জীবনের জন্য আজকের দিনটি দারুণ।

    ২) আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

    ৩) আজ একটু চাপে থাকবেন।

    তুলা

    ১) আজ শরীর ভালো থাকবে।

    ২) পড়াশোনা বা নিজের কাজে মন দিন।

    ৩) বন্ধুদের এড়িয়ে চলুন।

    বৃশ্চিক

    ১) মূল্যবান জিনিস চুরি যাওয়ার সম্ভাবনা।

    ২) সঙ্গিনীর সঙ্গে ভালো সময় কাটান।

    ৩) ভ্রমণে সমস্যা বাড়তে পারে, একটু সাবধান থাকুন।

    ধনু

    ১) সামান্য জিনিসে সময় নষ্ট করবেন না।

    ২) সন্তানের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন।

    ৩) বাড়িতে অশান্তির সম্ভাবনা।

    মকর

    ১) নম্র স্বভাবের জন্য কর্মস্থলে পদন্নোতি।

    ২) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    ৩) স্বাস্থ্য নিয়ে যত্নশীল হন।

    কুম্ভ

    ১) স্বামী-স্ত্রীয়ের মধ্যে ভালো সম্পর্ক।

    ২) কাউকে ঋণ দেবেন না।

    ৩) শরীর নিয়ে সতর্ক হোন, ভ্রমণে যেতে পারেন।

    মীন

    ১) জীবনে প্রকৃত ভালোবাসার অভাব বোধ করবেন।

    ২) সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবুন।

    ৩) সময়ের সঙ্গে ভালো দিন আসছে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই (AI) সক্ষমতা গড়ে (AI Models) তোলার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “বিদেশি প্রযুক্তির ওপর লাগামছাড়া নির্ভরতা দেশের জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।” তিনি এও (India) জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নির্ধারক শক্তি হিসেবে এআই ইতিমধ্যেই আবির্ভূত হয়েছে।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি (AI Models)

    পুণে জেলার বারামতিতে বিদ্যা প্রতিষ্ঠানে শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্বোধনের পর ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে গৌতম আদানি বলেন, “সার্বভৌমত্ব ছাড়া উন্নয়ন নির্ভরতা সৃষ্টি করে। আর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অগ্রগতি ঝুঁকি ডেকে আনে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি হলেও, ১৪০ কোটির জনসংখ্যার একটি দেশ তার কর্মসংস্থান, তথ্য, সংস্কৃতি ও সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তাকে বিদেশি অ্যালগরিদম ও বিদেশি ব্যালান্স শিটের হাতে তুলে দিতে পারে না।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা

    আদানি গ্রুপের অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই এআই কেন্দ্রটি পাওয়ার পরিবারের পরিচালনাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্থাপিত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং এনসিপি-এসসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার উপস্থিত ছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা, টেকনোলজি ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা আরও গভীর করতে আদানি গ্রুপ বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করেছে। ভাষণের শুরুতে প্রযুক্তির ইতিহাসজুড়ে তার রূপান্তরকারী চরিত্রের কথা তুলে ধরে আদানি বলেন, “গতকালের বীজ যেখানে মাটিতে বপন করা হয়েছিল, আগামী দিনের বীজ সেখানে অ্যালগরিদমে বপন করা হবে।” তিনি জানান, মানব অগ্রগতি কখনও সরলরৈখিক ছিল না, বরং প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দ্বারা চালিত শক্তিশালী লাফের মাধ্যমেই তা এগিয়েছে।

    অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না

    আদানি (India) বলেন, “মানব অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না। তা এগোয় বড় বড় লাফে। প্রতিটি লাফই এমন এক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ফল, যা প্রথমে সমাজকে অস্থির করে তোলে এবং তারপর অনেক বেশি সক্ষমতার এক উচ্চতর স্তরে সমাজকে পুনর্গঠন করে।” তিনি বাষ্পশক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ থেকে বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাল কম্পিউটিং এবং বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত এই যাত্রাপথের কথা তুলে ধরেন (AI Models)। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সংজ্ঞায়ক শক্তি হিসেবে এআইয়ের উল্লেখ করে আদানি স্বীকার করেছেন, বড় ধরনের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ জড়িয়ে থাকে।

    দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে

    তিনি বলেন, “ইতিহাস আমাদের শেখায় যে এ ধরনের প্রতিটি রূপান্তরের সঙ্গে দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে—একদিকে অসাধারণ সুযোগ, অন্যদিকে গভীর উদ্বেগ। কর্মচ্যুত হওয়ার ভয়, অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার আশঙ্কা, এবং এমন সব ব্যবস্থার হাতে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার ভয়, যেগুলোকে আমরা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।” তিনি (India) বলেন, “এই ভয়গুলো দুর্বলতার লক্ষণ নয়। এগুলো গভীরভাবে মানবিক। এই উদ্বেগগুলোর দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।” ঐতিহাসিক তথ্যের উল্লেখ করে আদানি যুক্তি দেন, প্রযুক্তি ধারাবাহিকভাবে কর্মসংস্থান ধ্বংস না করে বরং তা বিস্তৃত করেছে (AI Models)।
    তিনি বলেন, “প্রযুক্তি কাজ ধ্বংস করে না। প্রথমে এটি ভূমিকা ও কাজের ধরনে বিঘ্ন ঘটায়, তারপর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে।”

    তৃতীয় শিল্পবিপ্লব

    নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি বৈশ্বিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, প্রথম শিল্পবিপ্লব ব্রিটেনে কর্মসংস্থান পাঁচ গুণেরও বেশি বাড়িয়েছিল, আর দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব গণউৎপাদন ও একটি নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম দিয়েছিল। আদানি বলেন, “তৃতীয় শিল্পবিপ্লব- ডিজিটাল বিপ্লব – কাজ বিলুপ্ত করেনি। বরং এটি উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করেছে এবং সফটওয়্যার, পরিষেবা, প্ল্যাটফর্ম ও উদ্যোক্তাদের জন্ম দিয়েছে, যা আজ বিশ্বজুড়ে কয়েক শত মিলিয়ন মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে (India)।” ভারতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মোবাইল বিপ্লব তৃণমূল স্তরে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক শক্তির সঞ্চার করেছে। আদানি বলেন, “ভারতের নিজস্ব অভিজ্ঞতাই এর স্পষ্ট প্রমাণ। মোবাইল বিপ্লব – যা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, চাকরি ধ্বংস করেনি। বরং বিপুল পরিসরে কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়িয়েছে। স্মার্টফোন ও স্বল্পমূল্যের ডেটা যখন সাধারণ ভারতীয়দের হাতে পৌঁছায়, তখন তৃণমূল স্তরে বিপুল অর্থনৈতিক শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে (AI Models)।”

    ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ

    তিনি তথ্য তুলে ধরে জানান, ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে ২৩ কোটিরও বেশি অ-কৃষি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার বড় অংশই ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পর তৈরি হয়েছে। এই সুযোগগুলো কেবল নীতি বা পুঁজি থেকে আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “এই সম্ভাবনাগুলি তখনই বাস্তব হয়েছে, যখন সক্ষমতা সাধারণ নাগরিকের হাতে পৌঁছেছে।” তিনি বলেন, “সেই কারণেই আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এআই এখন পরবর্তী এবং আরও অনেক বেশি শক্তিশালী এক লাফের প্রতিনিধিত্ব করবে। মোবাইল যদি ভারতকে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিয়ে থাকে, তবে এআই ভারতকে দেবে আরও বৃহত্তর সক্ষমতা (India)।” এআই-সক্ষম ভবিষ্যতের একটি চিত্র তুলে ধরে আদানি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিটি খাতে সক্ষমতা, সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং উৎপাদনশীলতাকে গভীরভাবে সংযুক্ত করবে। তিনি বলেন, “কল্পনা করুন, আগামী এক দশকে যখন ১৪০ কোটি ভারতীয় তাঁদের হাতের তালুতেই এআই-চালিত বুদ্ধিমত্তা বহন করতে শুরু করবেন, তখন অগ্রগতি আর সরলরৈখিক থাকবে না। তা বহুগুণে বাড়বে, দ্রুততর হবে এবং বিস্ফোরণের মতো প্রসারিত হবে।”

    তাৎক্ষণিক ঝুঁকি

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে এআই দৈনন্দিন জীবনকে রূপান্তরিত করতে পারে,ফসলের সর্বোত্তম উৎপাদন ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষকদের এআই ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন, পাশাপাশি টিয়ার-থ্রি শহরের গৃহিণীরা কীভাবে বৈশ্বিক মাইক্রোব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারেন, তার উদাহরণও দেন। আদানি সতর্ক করে বলেন, এআই একটি দুই ধারবিশিষ্ট ছুরিও বটে (AI Models)। এই প্রেক্ষাপটে আদানি বলেন, ভারতকে এআইকে একটি কৌশলগত জাতীয় সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, যা ভারতেই নির্মিত হবে, ভারতেই শাসিত হবে এবং ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে (India)।” তিনি বলেন, “শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন এআই এমন এক সময়ে আত্মপ্রকাশ করছে, যা জাতীয় গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—যখন ভারত বৈশ্বিক এআই বিপ্লবের অগ্রভাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এআই-এর ভবিষ্যৎ এমন কিছু নয় যা আপনাআপনি ভারতে এসে পৌঁছাবে। এটি এমন এক ভবিষ্যৎ, যা আমাদের দেশকেই গড়ে তুলতে হবে।”

    এছাড়াও আদানি এআই পরিকাঠামোয় আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন—যার মধ্যে রয়েছে ডেটা সেন্টার ও গ্রিন এনার্জি। তিনি এগুলিকে বুদ্ধিমত্তার কারখানা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সার্বভৌমত্ব, উৎপাদনশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য (AI Models)।

  • PM Modi: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে। এর প্রধান কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি বাড়াচ্ছে, পাশাপাশি ভারতের সাংস্কৃতিক শেকড়কেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” নাগাড়ে কথাগুলি বলে চললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁর মন কি বাত-এর ১২৯তম পর্বে (PM Modi)। তিনি এও বলেন, ভারতের তরুণরা সব সময় নতুন কিছু করার প্রতি আগ্রহী এবং একই সঙ্গে তারা সচেতন ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    তরুণদের নিজেদের ভাবনা তুলে ধরার সুযোগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে জানতে চান, কীভাবে তারা তাদের ভাবনার উপস্থাপনা আমার কাছে দিতে পারেন? আমাদের তরুণ বন্ধুদের এই কৌতূহলের সমাধান হল ‘বিকশিত ভারত ইয়াং লিডার্স ডায়ালগ’। গত বছর এই কর্মসূচির প্রথম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর কয়েক দিনের মধ্যেই এর দ্বিতীয় সংস্করণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, ১২ জানুয়ারি, জাতীয় যুব দিবসে। এই দিনটি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পালিত হয়। আমিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেব।” তিনি বলেন, এই আলোচনা চলাকালীন যুবসমাজ উদ্ভাবন, ফিটনেস, স্টার্টআপ এবং কৃষি, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নিজেদের ভাবনা ও মতামত ভাগ করে নেবে। এই উদ্যোগে তরুণদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দেখে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশও করেন।

    পিচ প্রতিযোগিতা

    তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে এ সংক্রান্ত একটি পিচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ৫০ লাখেরও বেশি তরুণ অংশগ্রহণ করেছিল। পাশাপাশি একটি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়, যেখানে পড়ুয়ারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করে। এই প্রতিযোগিতায় তামিলনাড়ু প্রথম স্থান এবং উত্তরপ্রদেশ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে (PM Modi)।” তিনি আরও বলেন, “দেশের যুবসমাজ তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য নতুন নতুন সুযোগ পাচ্ছে। এমন বহু প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠছে, যেখানে তরুণরা তাদের দক্ষতা ও আগ্রহ তুলে ধরতে পারছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদি এ মাসের শুরুতে সমাপ্ত হওয়া ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন ২০২৫’-এর কথাও উল্লেখ করেন।

    বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান

    তিনি বলেন, “এই হ্যাকাথনের সময় পড়ুয়ারা ৮০টিরও বেশি সরকারি দফতরের দেওয়া ২৭০টিরও বেশি সমস্যার ওপর কাজ করেছে। ছাত্ররা বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান তুলে ধরেছে। উদাহরণস্বরূপ, যানজট সমস্যার ক্ষেত্রে যুবসমাজ ‘স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’-সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে (PM Modi)।” তিনি জানান, আর্থিক জালিয়াতি ও ডিজিটাল গ্রেফতারের মতো সমস্যার মোকাবিলায়ও যুবসমাজ

    তরুণ কৃষি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধানে

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক তরুণ কৃষি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। বন্ধুরা, গত ৭ থেকে ৮ বছরে ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন’-এ ১৩ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী এবং ৬,০০০-এর বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। যুবসমাজ শত শত সমস্যার যথাযথ সমাধান দিয়েছে। এ ধরনের হ্যাকাথন নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয়। আমি আমার তরুণ বন্ধুদের আহ্বান জানাই, তারা যেন অবশ্যই এই হ্যাকাথনগুলিতে অংশ নেয় (PM Modi)।”

    প্রযুক্তিনির্ভর জীবন

    জীবন ক্রমশ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে, এ কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কখনও কখনও মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে রোবট হয়তো মানুষের জায়গা নিয়ে নেবে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে মানব উন্নয়নের জন্য নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতির শেকড়কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।” তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি)-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, “নতুন চিন্তাভাবনা ও নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে—বন্ধুরা, আপনারা নিশ্চয়ই ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের কথা শুনেছেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনই এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।” তিনি মনে করিয়ে দেন, কীভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা ও গবেষণার মধ্যেও সঙ্গীতের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন।

    সঙ্গীত ক্লাসের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কয়েক বছর আগে সেখানে কিছু ছাত্রছাত্রী অনুভব করেছিলেন যে পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি সঙ্গীতেরও একটি জায়গা থাকা উচিত। সেখান থেকেই একটি ছোট সঙ্গীত ক্লাসের সূচনা হয়। না ছিল বড় মঞ্চ, না ছিল বড় বাজেট। ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ বড় হয়ে ওঠে, আর আজ আমরা একে ‘গীতাঞ্জলি আইআইএসসি’ নামে চিনি। এখন এটি আর শুধু একটি ক্লাস নয়, বরং ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (PM Modi)।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গীতাঞ্জলি আইআইএসসিতে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, লোকসঙ্গীত ও অন্যান্য শাস্ত্রীয় ধারার চর্চা হয়, যেখানে ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক এবং তাঁদের পরিবার এক সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জানান, এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা এখন ২০০-এরও বেশি, এবং যাঁরা বিদেশে চলে গিয়েছেন, তাঁরাও অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত থেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংস্কৃতির শেকড়ে যুক্ত থাকার এই প্রচেষ্টা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়রাও তাঁদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দুবাইয়ে বসবাসকারী কন্নড় পরিবারগুলির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে থাকা পরিবারগুলি নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন, আমাদের সন্তানরা প্রযুক্তির দুনিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তারা কি তাদের ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে না? এখান থেকেই ‘কন্নড় পাঠশালা’র জন্ম। এটি এমন একটি উদ্যোগ, যেখানে শিশুদের কন্নড় ভাষায় পড়া, লেখা, শেখা ও কথা বলা শেখানো হয়। আজ এর সঙ্গে এক হাজারেরও বেশি শিশু যুক্ত রয়েছে (PM Modi)।”

  • Fake GDP: ভুয়ো জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নাড়িয়ে দিল চিনকে, কেন মিথ্যে বলল জিনপিং সরকার?

    Fake GDP: ভুয়ো জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নাড়িয়ে দিল চিনকে, কেন মিথ্যে বলল জিনপিং সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে চিনে। তার সঙ্গেই লড়াই করতে হচ্ছে শি জিনপিংয়ের সরকারকে। এমতাবস্থায় ভুয়ো জিডিপি (Fake GDP) প্রবৃদ্ধির অভিযোগ দেশটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দাবি, ২০২৫ সালের শেষ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত চিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.২ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এখন চিনের এই দাবি নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলছেন।

    চিনের প্রকৃত অর্থনৈতিক সূচক (Fake GDP)

    বিশ্ব বিখ্যাত পরামর্শক সংস্থা রোডিয়াম গ্রুপের অভিযোগ, সরকারি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান অত্যন্ত অতিরঞ্জিত এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তথ্য প্রকাশ করে বেইজিং সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। সংস্থাটির মতে, চিনের (China) প্রকৃত অর্থনৈতিক সূচকগুলির সঙ্গে সরকারের ঘোষিত শীর্ষ প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের কোনও সামঞ্জস্য নেই। চিন টানা ১০টিরও বেশি ত্রৈমাসিক ধরে তীব্র মুদ্রাস্ফীতিহীনতার শিকার। ডিফ্লেশন ঘটে যখন মুদ্রাস্ফীতি শূন্যের নীচে নেমে যায়। ফলে পণ্যের দাম কমতে থাকে, চাহিদা কমে যায় এবং কর্পোরেট লাভ হ্রাস পায়। এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তারা খরচ করতে দেরি করেন, সংস্থাগুলি লাভ করতে হিমশিম খায় এবং অর্থনৈতিক গতি তীব্রভাবে মন্থর হয়ে পড়ে।

    চিনে কর্পোরেট মুনাফা

    চিনে কর্পোরেট মুনাফা নভেম্বর মাসে ১৩.১ শতাংশ কমেছে, যা অক্টোবরে ৫.৫ শতাংশ পতনের পর আরও গভীর মন্দার ইঙ্গিত দেয়। রোডিয়াম গ্রুপ জানিয়েছে, এত দীর্ঘ সময় ধরে ডিফ্লেশনের মুখে পড়েও কোনও বড় অর্থনীতি কখনও প্রায় ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ, যা দীর্ঘদিন ধরে চিনের অর্থনৈতিক মডেলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়, সেটাই জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে কমেছে ১১ শতাংশ (China)। একাধিক সূচকের ভিত্তিতে বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৫ সালে চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখনও ৩ শতাংশের বেশি হয়নি (Fake GDP)।

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরা

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাইওয়ানের তামকাং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাই মিং-ফাং এবং চুং-হুয়া ইনস্টিটিউশন ফর ইকোনমিক রিসার্চের লিউ মেং-চুন অভিযোগ করেছেন, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও শক্তি ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি তুলে ধরতে বেইজিং রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে জিডিপি পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধ চিনের একসময়ের প্রভাবশালী রফতানি খাতকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাণিজ্য নীতিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত চিনের পক্ষেই বুমেরাং হয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় চিন এখন বিকল্প বাজারের সন্ধান করতে বাধ্য হচ্ছে (China)।

    ভোগব্যয়ের সূচকগুলি

    দেশীয় ভোগব্যয়ের সূচকগুলিও সমানভাবে হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরছে (Fake GDP)। জিডিপি হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান খুচরো বিক্রির প্রবৃদ্ধি নভেম্বরে নেমে এসেছে মাত্র ১.৩ শতাংশে, যেখানে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ২.৮ শতাংশ। একই সময়ে শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৮ শতাংশে। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিও কোভিড মহামারির পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। চিনের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় সরকারি প্রবৃদ্ধির বর্ণনার ওপর আস্থা আরও দুর্বল হয়েছে।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি

    এই প্রেক্ষাপটে বহু অর্থনীতিবিদের মতে, ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি বিশ্বাসযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এদিকে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ছে। তাইওয়ানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের মার্কিন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বেইজিং (China)। কারণ তারা তাইওয়ানকে চিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেই দাবি করে (Fake GDP)। ‘এক চিন নীতি’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বেইজিং ২০টি মার্কিন প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ঘোষণা করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান সিস্টেমস, এল৩ হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস, বোয়িং, গিবস অ্যান্ড কক্স, সিয়েরা টেকনিক্যাল সার্ভিসেস, টিল ড্রোনস, ভেন্টার এবং রেডক্যাট হোল্ডিংস।

    অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে, আগামী মাসগুলিতে চিনের সরকারি অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হবে বলেই অনুমান (Fake GDP)।

LinkedIn
Share