Tag: Madhyom

Madhyom

  • BRICS Summit 2026: ব্রিকস সম্মেলনে কূটনীতির পাশাপাশি বন্ধুত্বের বার্তা দেবে ভারতের খাবার, জেনে নিন মেনু

    BRICS Summit 2026: ব্রিকস সম্মেলনে কূটনীতির পাশাপাশি বন্ধুত্বের বার্তা দেবে ভারতের খাবার, জেনে নিন মেনু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে শুরু হয়ে গিয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit 2026), ২০২৬। চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেই উপলক্ষে রাজধানীর তাজমহল হোটেলে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের খাদ্যঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের ঘরের স্বাদও ফিরিয়ে দেওয়ার বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে (India Friendship Menu)।

    এই বিশেষ খাদ্যপরিকল্পনার নেতৃত্বে রয়েছেন হোটেলটির প্রধান রন্ধনশিল্পী কৌশিক মিশ্র। কয়েক মাস ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর তৈরি হয়েছে এমন এক মেনু, যেখানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের আঞ্চলিক স্বাদ, পরিচিত ঘরোয়া খাবার এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির খাদ্যাভ্যাস—সব কিছুকে একসূত্রে বাঁধা হয়েছে।

    কৌশিকের কাছে এই আয়োজন শুধুমাত্র বিপুল সংখ্যক পদ সাজিয়ে পরিবেশন করার বিষয় নয়। তাঁর লক্ষ্য, খাবারকে বন্ধুত্বের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা। এর মাধ্যমে বিদেশি অতিথিদের ভারতীয় মশলা, ভেষজ উপাদান, ফুল, আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও ঘরোয়া রান্নার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব খাদ্যপছন্দকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’ (BRICS Summit 2026)

    কৌশিক বলেন, “এই ঐতিহ্য ৪৮ বছর ধরে চলে আসছে। আমাদের কাছে আসা এবং আসতে চলা অতিথিদের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্যভাবনা তৈরি করেছি। আমাদের দেশের নিজস্ব নানা স্বাদ—মশলা, ভেষজ উপাদান এবং ফুলকে মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রতিনিধিরা নিজেদের বাড়িতে যে ধরনের পরিচিত ও স্বস্তিদায়ক খাবার খান, তার সঙ্গে ভারতীয় স্বাদের সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা ঘরে বসে খাবারের জন্য ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’ তৈরি করেছি। এতে দিল্লি এবং গোটা ভারতের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী পদ রয়েছে। নল্লি নিহারি, বাদাম দিয়ে গোলমরিচের ঝাল ভাজা-সহ আরও বেশ কিছু পদ রাখা হয়েছে।”

    বিদেশি প্রতিনিধিদের পছন্দ ও তাঁদের দেশের খাদ্যসংস্কৃতিকেও এই আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত পদ্মফুল, অর্কিড-সহ নানা ফুল ও উপাদান থেকেও নেওয়া হয়েছে ভাবনা। সেই অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে বিশেষ ধরনের মিষ্টি, প্রালিন এবং নোনতা খাবার।

    কৌশিক বলেন, “এই উপাদানগুলিকে মাথায় রেখেই প্রালিন, মিষ্টি এবং নোনতা খাবারের সুন্দর নকশা তৈরি করা হয়েছে। আমরা ভারতের একটি মানচিত্রও তৈরি করেছি, যেখানে দেশের বিভিন্ন রাজধানী ও রাজ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব বিশেষ খাবার রয়েছে—যেমন বিভিন্ন ধরনের নোনতা পদ ও কাজুবাদামের মিষ্টি। এর মাধ্যমে প্রতিনিধিদের ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কী ধরনের খাবার পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।”

    এই আয়োজনের সঙ্গে একটি ব্যাখ্যামূলক নথিও রাখা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি খাবার ও উপাদান কেন বেছে নেওয়া হয়েছে এবং সম্মেলনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়েই ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি সম্পর্কে বিদেশি অতিথিদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

    এই সম্পূর্ণ আয়োজনের জন্য তিন থেকে ছ’মাস ধরে গবেষণা করেছে হোটেলের দল। প্রতিনিধিদের পছন্দ-অপছন্দ, তাঁদের পরিচিত খাবার এবং খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর চূড়ান্ত মেনু তৈরি করা হয়েছে।

    কৌশিক বলেন, “প্রতিটি প্রতিনিধির পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে আমরা অনেক গবেষণা করেছি, যাতে তাঁরা খাবার উপভোগ করতে পারেন। আমাদের টিম প্রচুর পরিশ্রম করেছে। ভারতীয় এবং তাঁদের নিজস্ব স্বাদের সমন্বয়ে এমন একটি বিস্তৃত আয়োজন করা হয়েছে, যাতে এখানে এসে তাঁরা দু’দেশের স্বাদই অনুভব করতে পারেন। আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত এবং আত্মবিশ্বাসী যে এই আয়োজন তাঁদের মনে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।”

    প্রধান রন্ধনশিল্পীর বাছাই

    শুধু খাবার পরিবেশন করেই থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে একটি বিশেষ রান্নার বই। তাতে প্রধান রন্ধনশিল্পীর বাছাই করা বিভিন্ন রান্নার প্রণালী রয়েছে। এর ফলে সম্মেলন শেষ হওয়ার পরেও ভারতীয় খাবারের স্বাদ ও স্মৃতি তাঁদের সঙ্গে দেশে ফিরে যাবে।

    ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’তে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় পদ রাখা হয়েছে। নল্লি নিহারি এবং বাদাম দিয়ে গোলমরিচের ঝাল ভাজার মতো পদ যেমন থাকছে, তেমনই থাকছে নানা ধরনের আঞ্চলিক খাবার।

    খাবার পরিবেশনেও ভারতীয় সংস্কৃতির ছাপ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পদ্মফুল, অর্কিড এবং অন্যান্য ফুল ও উপাদানের অনুপ্রেরণায় তৈরি করা হয়েছে নানা ধরনের মিষ্টি ও নোনতা খাবার। ফলে খাবার শুধু স্বাদের বিষয় থাকছে না, তার উপস্থাপনাও হয়ে উঠছে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।

    এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ভারতের বিশেষ খাদ্যমানচিত্র। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও রাজধানীকে কেন্দ্র করে তৈরি এই মানচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের ভৌগোলিক ও খাদ্যবৈচিত্র্য। দেশের একেক অঞ্চলের নিজস্ব খাবারের ঐতিহ্যকে ছোট ছোট বিশেষ পদ বা নোনতা খাবারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রধান রন্ধনশিল্পীর কথায়, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়ন করা নয়, তাঁদের ভারতের খাদ্যসংস্কৃতি সম্পর্কে জানানোও। খাবারের সঙ্গে দেওয়া ব্যাখ্যামূলক নথিতে প্রতিটি উপাদান ও রান্নার পেছনের ভাবনা এবং তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Summit 2026)।

    ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা

    এবারের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা, “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। উন্নয়ন, স্থায়িত্ব ও উদ্ভাবন সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।

    উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ তুলে ধরার ক্ষেত্রে ব্রিকস বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই জোটে আলোচনা হয়।

    ব্রিকসের সদস্য দেশ

    বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশ ১১টি—ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সম্মিলিতভাবে এই দেশগুলির হাতে রয়েছে বিশ্বের প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন এবং ২৬ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য।

    এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আবহে নয়াদিল্লির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হোটেলের রান্নাঘরও যেন কূটনীতির একটি নরম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। খাবারের মাধ্যমে ভারতের পরিচয়কে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের স্বাদ ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতিও সম্মান দেখানো হচ্ছে।

    ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ খাবারের সঙ্গে বিদেশি অতিথিদের পরিচিত স্বাদের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এমন এক অভিজ্ঞতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে নতুনত্বের পাশাপাশি থাকবে পরিচিতির স্বস্তিও (India Friendship Menu)।

    আর এই পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন সংযোজন সম্ভবত সেই রান্নার বই। কৌশিকের বক্তব্য, বইটিতে তাঁদের মায়েদের রান্নার প্রণালীও রয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি উপহার নয়, সম্মেলন শেষে প্রতিনিধিদের সঙ্গে (BRICS Summit 2026) দেশে ফিরে যাওয়া এক টুকরো স্মৃতিও।

     

  • XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার ভারতে পৌঁছলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (XI Jinping)। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। জিনপিংকে স্বাগত জানাতে উত্তর-পূর্ব ভারত-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক দল ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, “১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে আগত গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। ব্রিকস যখন সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিনিধিত্বশীল ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব গঠনে অবদান রাখছে, তখন আমরা গঠনমূলক আলোচনার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।”

    জিনপিংয়ের সঙ্গী (XI Jinping)

    জিনপিংয়ের সঙ্গে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ দফতরের পরিচালক ছাই ছি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক রয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন চিনের সাংবাদিক ওয়েনতিং শিয়ে। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে তা ভারত ও চিন—উভয়েরই স্বার্থ রক্ষা করবে।

    তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার জন্য এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। দুই দেশই বৃহৎ উন্নয়নশীল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আমার মনে হয়, চিন ও ভারত একসঙ্গে কাজ করলে দুই দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বিশ্ব দক্ষিণের উন্নয়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

    তিনি আরও বলেন, “চিন ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত। যোগাযোগ আরও জোরদার করা, সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, মতপার্থক্যগুলি যথাযথভাবে সামাল দেওয়া এবং একে অপরের সাফল্যে সহায়ক অংশীদার হিসেবে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। দুই দেশেরই উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। চিন ও ভারতের সহযোগিতা বিশ্ব দক্ষিণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। আর গ্লোবাল সাউথও সেটিই দেখতে চায় (XI Jinping)।”

    চিনা সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে যে ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জিনপিং, ব্রিকস সম্মেলনেও গ্লোবাল সাউথের সহযোগিতা নিয়ে একই ধরনের উদ্যোগের কথা তিনি তুলে ধরতে পারেন।

    দায়িত্বে চিন

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বের দায়িত্ব নেবে চিন। চিনা সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতার মাধ্যমে ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার বিভিন্ন মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় গড়ে তোলার চেষ্টা করবে চিন।

    একই সঙ্গে অভিন্ন উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্ব উন্নয়ন উদ্যোগ, বিশ্ব নিরাপত্তা উদ্যোগ, বিশ্ব সভ্যতা উদ্যোগ এবং বিশ্ব শাসন উদ্যোগের মতো কর্মসূচির উপরও জোর দেওয়া হবে। ডিজিটাল অর্থনীতি, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং কৃষির উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করবে চিন।

    এদিকে, ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা— “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। এই ভাবনায় বিদ্যমান সাফল্যগুলিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির উপর ভারতের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

    সম্মেলনের আলোচনায় উন্নয়ন, স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষাকেও সামনে রাখা হয়েছে। ভারত ব্রিকসকে (BRICS Summit) আরও গঠনমূলক এবং সমস্যা সমাধানমুখী আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে শক্তিশালী করতে চায় বলেই অভিমত (XI Jinping) বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Saudi Arabia: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, নিরাপত্তার কারণে বন্ধ সরবরাহ পথ

    Saudi Arabia: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, নিরাপত্তার কারণে বন্ধ সরবরাহ পথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ার মধ্যেই সৌদি আরবের (Saudi Arabia) গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্বের অন্যতম (Red Sea Island) গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথকে ঘিরে এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    আরব উপদ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহণ করে এই পাইপলাইন। বৃহস্পতিবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

    সৌদি জ্বালানিমন্ত্রকের বক্তব্য (Saudi Arabia)

    সৌদি জ্বালানিমন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, একাধিক হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি বিদেশমন্ত্রকের দাবি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সক্রিয়তার জন্য পরিচিত ইরাকের দিক থেকে একাধিক ড্রোন এসে এই হামলা চালায়। হামলার ফলে মানুষ আহত হয়েছেন এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সৌদি সরকার।

    তবে আপাতত পাল্টা হামলার পথে হাঁটেনি সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাগদাদকে কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই কারণে এই মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া না জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সৌদি আরব অবশ্য সতর্ক করে বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থাপনা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।

    চাপে রেড-সির পথও

    আটের দশকে নির্মিত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ইরান যুদ্ধের আবহে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এর মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রফতানি করতে পারে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল উৎপাদনকারী পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে সমুদ্রপথে তেল রফতানির জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করে।

    জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এবং বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হচ্ছিল। যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।

    জুনের শুরু নাগাদ ইয়ানবু বন্দর থেকে সৌদি আরবের তেল রফতানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছিল।

    মার্কিন আধিকারিকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গিয়েছে, পাইপলাইনের পাশে থাকা তেল পাম্প করার কেন্দ্রগুলিতে হামলা হয়েছে। উপগ্রহচিত্রে অন্তত একটি পাম্পিং কেন্দ্র থেকে আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। তবে পাইপলাইনের মূল অংশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মেরামতের কাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    ইরাকের মাটি ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ

    সৌদি বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পর এই পর্যায়ে পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

    ইরাক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাগদাদ জানিয়েছে, সৌদি আরব বা প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দফতর আরও জানিয়েছে, তদন্তে হামলার উৎস ইরাক বলে প্রমাণিত হওয়ার পর এক সামরিক কমান্ডারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরাকের নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিকের দাবি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরান সীমান্তের শালামচেহ সীমান্তপথও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদ। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে বড় আকারের অভিযান শুরু হয়েছে।

    লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ দখল হুথিদের

    সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করছে (Saudi Arabia)।

    ইয়েমেন সরকারের সূত্রের দাবি, বাব এল-মান্দেব প্রণালীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে হুথিরা। এর আগে তারা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহণ করা হত, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সেই পথ ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব তার পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং লোহিত সাগরীয় তেল রফতানির উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ

    হুথিদের হামলার আশঙ্কার কারণে বাব এল-মান্দেব দিয়ে সৌদি অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ আগেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। এবার আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তেলবাহী জাহাজগুলিকে অনেক দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতে পারে। এর ফলে পরিবহণের খরচ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির দামের উপর আরও চাপ তৈরি হবে।

    ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথগুলিতে একের পর এক অস্থিরতা তৈরি (Red Sea Island) হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং দামের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে (Saudi Arabia) উঠতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Suvendu Adhikari: বিতর্কিত সংস্থাকে রাজ্যে বিনিয়োগের ছাড়পত্র নয়, জুনপুটে বড় প্রকল্প করবে ডিআরডিও, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: বিতর্কিত সংস্থাকে রাজ্যে বিনিয়োগের ছাড়পত্র নয়, জুনপুটে বড় প্রকল্প করবে ডিআরডিও, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘রাজ্যে পালাবদলের পর বেসরকারি লগ্নির একাধিক প্রস্তাব এলেও আবেদনকারী সংস্থার বিস্তারিত তথ্য ও অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখেই বিনিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। বিতর্কে থাকা কোনও সংস্থাকে কোনওভাবেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।’ শুক্রবার ফের সরকারের এমন নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    এদিন সল্টলেকের একটি শপিং মলে বিপণির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সরকারের অবস্থান (DRDO Project) ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকও এ রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চলেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে সেই প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। শীঘ্রই প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা সরকারের তরফে জানানো হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু জানান, ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও রাজ্যে একটি বড় প্রকল্প তৈরি করতে চলেছে। তাঁর কথায়, “ডিআরডিওর তরফে পূর্ব মেদিনীপুর উপকূলের জুনপুটে একটি বড় প্রকল্প করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত ভাবে পরে জানাব।”

    উল্লেখ্য, বাম আমলে কাঁথি মহকুমার হরিপুরে সমুদ্রসৈকতের কাছে প্রস্তাবিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। সেই সময় তৎকালীন বিরোধী তৃণমূলের তরফে প্রকল্পটির বিরোধিতা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন হরিপুর থেকে অল্প দূরত্বে জুনপুটে ডিআরডিওর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরির কাজও ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

    এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হলেও, কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। আমি এসে তাদের সেই চিঠির জবাব দিয়েছি। ওখানে বড় প্রকল্প হবে। তাকে ঘিরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হবে সেখানে।”

    রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশের ভাবমূর্তি বদলাতে সরকার উদ্যোগী হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পায়নের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তবে শিল্প ও বাণিজ্য টানার ক্ষেত্রে অনিয়ম বা দুর্নীতিকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে এ দিন স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু।

    তিনি (Suvendu Adhikari) বলেন, “যেসব সংস্থা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আসছে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সংস্থাগুলি দুর্নীতির টাকায় চলছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও প্রতারণা বা তদন্তকারী সংস্থার কাছে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও দেখা হচ্ছে।”

    পূর্বতন সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে আক্রমণ

    এ দিন পূর্বতন সরকারের শিল্প নিয়ে অনীহার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে রাজ্যে বাণিজ্য ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে গত চার মাস ধরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    শুভেন্দুর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ঘটা করে শিল্প-বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও বাস্তবে সেই অনুপাতে বিনিয়োগ আসেনি। তাঁর দাবি, “তখন শুধুমাত্র ছবি তোলার পর্ব চলত।”

    বর্তমান সরকার (DRDO Project) সেই পরিস্থিতি বদলাতে প্রথমে জমির ব্যবস্থা, ব্যাঙ্কের অর্থায়ন এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে। এরপরই শিল্পসংস্থা ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    অনন্ত আম্বানির সঙ্গে লগ্নি নিয়ে কথা

    রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে শিল্পপতি অনন্ত আম্বানি এবং তাঁর বাবা মুকেশ আম্বানির সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে অনন্ত আম্বানির কথা হয়েছে। অনন্ত এবং ওঁর বাবা মুকেশ আম্বানি এখানে লগ্নি করা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ওঁরা আমাকে মুম্বইয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গণেশ চতুর্থীর পরেই ওঁদের সঙ্গে দেখা করতে যাব।”

    সরকারের দাবি (Suvendu Adhikari), জমি, অর্থায়ন ও পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো বিষয়গুলি আগে নিশ্চিত করে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার নীতিও বজায় রাখা হবে।

     

  • Migrants Controversy: ইউরোপে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নারীদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, অভিবাসন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

    Migrants Controversy: ইউরোপে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নারীদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, অভিবাসন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং বিশেষভাবে নির্ভরশীল মেয়েদের উপর ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের (Migrants Controversy) একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। কয়েকটি ঘটনায় তদন্ত চলছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে আদালতে বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এসব ঘটনা ঘিরে দুর্বল ও নির্ভরশীল মানুষদের নিরাপত্তা এবং পরিচর্যা ব্যবস্থায় নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    ফ্রান্সে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ফ্রান্সের তুলুজের কাছে একটি বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রে ২৩ বছরের পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৪০ বছরের এক মরক্কোর নাগরিক পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁর হয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ১ আগস্ট তুলুজের সরকারি কৌঁসুলির দফতর মামলাটি খারিজ করে দেয় বলে জানা গিয়েছে। তরুণীর মা নাথালি মুয়ে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর তাঁর মেয়ে ওই পরিচর্যা কেন্দ্রে ফিরতে ভয় পাচ্ছিলেন। অভিযুক্ত পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানে আরও দুই তরুণীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার কথাও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তদন্তের সময় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

    স্পেনে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    স্পেনের মানাকোরে ২০২০ সালের একটি ঘটনায় ৪০ বছরের এক সেনেগালের নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউশনের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাঁর প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি জানতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কিশোরীকে একটি গ্যারাজে ঢুকিয়ে বের হওয়ার পথ আটকে দেন এবং তাঁকে ও তাঁর বোনকে হুমকি দেন। এরপর ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি কখনও ওই গ্যারাজে ঢোকেননি। তাঁর বিরুদ্ধে নয় বছরের কারাদণ্ড এবং সাজা শেষে দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    স্ট্রাসবুর্গে ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ২০২৩ সালে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২৬ বছরের এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কিশোরীকে সামান্য প্রতিবন্ধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি একটি সুইমিং পুলে ঘটেছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও দুই কিশোরী এবং চল্লিশের কোঠার এক মহিলাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগও রয়েছে। একজন কিশোরী লাইফগার্ডকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্বল ব্যক্তিকে ধর্ষণ এবং একাধিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।

    ভিয়েনায় ৮২ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ

    অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ৮২ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ২৬ বছরের এক আফগান পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে ঘটেছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের তরফে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। পরিবারের এক সদস্য মোবাইল ফোনে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালীন অভিযোগ ও প্রমাণের আইনি মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

    ফ্রান্সে ৮০ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা

    ফ্রান্সের নিয়োরে ৮০ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ৫ থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে ঘটে। প্রায় দুই মাস পরে, ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ এক আফগান নাগরিককে গ্রেফতার করে। পোয়াতিয়ের সরকারি কৌঁসুলির দফতর জানিয়েছিল, অভিযুক্ত আফগানিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ২০০৫ সালে ফ্রান্সে এসেছিলেন। তাঁকে বিচার-পূর্ব হেফাজতে রাখা হয়। প্রবীণ এক মহিলার উপর যৌন সহিংসতার অভিযোগ এবং পরবর্তী মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করে।

    জার্মানিতে ৯০ বছরের প্রতিবন্ধী মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ

    জার্মানির ড্রেসডেনে ৩৩ বছরের এক ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে ৯০ বছরের এক প্রতিবন্ধী মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই মহিলা একটি হুইলচেয়ারে ছিলেন এবং পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে এক্স-রে করাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি শৌচাগারে ওই মহিলার উপর যৌন হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়।

    ফরাসি হাসপাতালে দুই প্রবীণ রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সের আর্জঁতুইয়ের ভিক্টর দুপুই হাসপাতালের জেরিয়াট্রিক বিভাগে ৯৩ এবং ৯৫ বছরের দুই রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৪৪ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়, অভিযুক্তকে ৯৩ বছরের এক মহিলার ঘর থেকে বের হতে দেখা যাওয়ার পর। তদন্তকারীরা তাঁর বিছানার চাদরে বীর্যের নমুনা পেয়েছিলেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়, যদিও সেটি অভিযুক্তেরই ছিল কি না তখনও নিশ্চিত হয়নি। পরে ৯৫ বছরের ওই রোগীও একই দিনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। ৯৩ বছরের মহিলা পরে জ্ঞান হারিয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং যৌন নির্যাতনের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা পৃথক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের বিষয় হয়ে ওঠে।

    অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

    এই ঘটনাগুলি ইউরোপে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং পরিচর্যার উপর নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন, একীকরণ, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (AfD)-সহ অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলি এই ধরনের ঘটনাকে কঠোর অভিবাসন নীতি (Migrants Controversy) এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও বেড়েছে। তবে কোনও ব্যক্তির অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা কোনও ধর্মীয়, জাতীয় বা অভিবাসী সম্প্রদায়কে দায়ী করা যায় না। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তদন্তের ফল এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ই বিচার্য। একই সঙ্গে পরিচর্যা কেন্দ্র, হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দুর্বল মানুষদের সুরক্ষায় কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

     

     

     

     

     

  • BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্যপদের (BRICS Membership) জন্য ২০২৩ সালেই আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু আবেদন করার প্রায় তিন বছর পরেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতির এই জোটে জায়গা হয়নি ইসলামাবাদের। মূলত ভারতের আপত্তিই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের পথে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস পরবর্তী সময়ে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বছর মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে জোটটি ‘ব্রিকস+’-এ পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আরও ২৯টি দেশ ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও।

    কেন ব্রিকসে যোগ দিতে চাইছে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পিছনে অন্যতম কারণ দেশের অর্থনৈতিক সংকট। পাকিস্তান ইকনমিক সার্ভে অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি বৃদ্ধির হার ৩.৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার বা আইএমএফ-এর উপর নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প অর্থের উৎস তৈরি করাও ইসলামাবাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাকিস্তান ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারিত্ব কিনেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের বিকল্প বাড়াতে চাইছে ইসলামাবাদ।

    ব্রিকস-এ ভারতের বাণিজ্যও বেড়েছে

    ব্রিকসের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে জোটটির বৈশ্বিক গুরুত্বও বেড়েছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা PPP-এর ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশের অংশীদার এই গোষ্ঠী। ব্রিকস দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। জোটের সদস্য দেশগুলিতে ভারতের রফতানি ৪৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে তা বেড়ে হয়েছে ৯৫.৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০২৩ সালেই সদস্যপদের আবেদন

    ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদ ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে আবেদন করেছে। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিকসের অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ ব্রিকসকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিতে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ব্রিকস পাকিস্তানের আবেদনকে তাদের ‘ইনক্লুসিভ মাল্টিল্যাটারালিজম’-এর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

    রাশিয়া-চিনের সমর্থন, তবুও থমকে পাকিস্তানের সদস্যপদ

    পাকিস্তানের রাশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মহম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সমর্থন আদায়ের জন্য যোগাযোগ করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও এখনও সদস্যপদ মেলেনি। কারণ ব্রিকসে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির নীতি কার্যকর। অর্থাৎ নতুন কোনও দেশকে সদস্য করতে হলে সমস্ত পূর্ণ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরোধিতাই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতদিন নয়াদিল্লি পাকিস্তানের সদস্যপদের বিরোধিতা করবে, ততদিন সর্বসম্মতির নিয়মে ইসলামাবাদের আবেদন কার্যত আটকে থাকবে। ফলে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। ভারতের আপত্তি কাটিয়ে ইসলামাবাদ শেষ পর্যন্ত এই জোটে জায়গা করে নিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

     

     

     

     

  • Modi Pezeshkian Meet: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নাবিকদের সুরক্ষায় জোর মোদির! ব্রিকসের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

    Modi Pezeshkian Meet: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নাবিকদের সুরক্ষায় জোর মোদির! ব্রিকসের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসানে ফের সংলাপ ও কূটনীতির উপর জোর দিল ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের (BRICS Summit New Delhi) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব সমস্যার সমাধান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ নৌ চলাচল, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দিল্লিতে পেজেশকিয়ান (Modi Pezeshkian Meet) পৌঁছনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এই বৈঠক হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে মোদি ও পেজেশকিয়ানের এটি দ্বিতীয় বৈঠক।

    পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা (India Iran Relations)। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ফের ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন—পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত সমস্যার সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে করতে হবে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘‘অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’’ পাশাপাশি নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। শুক্রবারের বৈঠকেও ভারতীয় পক্ষের তরফে জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার গুরুত্ব ফের তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা

    আলোচনায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ রক্ষা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং সাগরে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তার উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক প্রয়াসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল, আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য রক্ষা এবং জাহাজে কর্মরত নাবিকদের জীবন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” উল্লেখ্য, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বহু ভারতীয় নাবিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজ আন্তর্জাতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে। ফলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।

    ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

    বৈঠকে ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ব্রিকসের বিভিন্ন বৈঠকে ইরানের নিয়মিত ও উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণের জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান মোদি। তিনি ব্রিকস বিজনেস ফোরামের ‘লিডার্স সেশন’-এ অংশগ্রহণের জন্যও পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান। গ্লোবাল সাউথের (Global South) দেশগুলির মধ্যে সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের মানসিকতা গড়ে তুলতে ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বহুপাক্ষিক বিভিন্ন সংগঠনে, বিশেষ করে ব্রিকসের মতো মঞ্চে, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে চলমান সহযোগিতারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে বিশেষ আহ্বান পেজেশকিয়ানের 

    দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মোদি এবং পেজেশকিয়ানের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মোদি। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অবসানে সমস্ত প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারত ও ইরানের যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে পেজেশকিয়ান ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিস্তৃত যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে মোদিকে যুদ্ধ ও রক্তপাতের পথ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে সরিয়ে সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফেরাতে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    শান্তি ও কূটনীতির অনন্য ছবি

    নয়াদিল্লির ব্রিকস বিজনেস সামিট থেকে সামনে আসা একটি অনন্য ছবি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফ্রেমে দেখা গেছে, বিভক্ত ও সংঘাতপূর্ণ বিশ্বের মাঝে দাঁড়িয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে দেখা যায়, তিনি একহাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের হাত ধরে আছেন, আর তাঁদের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। ছবিটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হচ্ছে, আর অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে রাশিয়া। কিন্তু ভারত অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যেমন ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত মিত্রতা বজায় রেখেছে, তেমনই অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা শক্তিগুলির সঙ্গে নিজেদের সুদৃঢ় স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

    সমস্ত বিরোধী মেরুর দেশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা

    নয়াদিল্লি বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে – ভারত বিশ্বের কোনও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় বা নিষ্ফল নিরপেক্ষ নয়, বরং ভারত সবসময় সরাসরি ‘শান্তির পক্ষে’ দাঁড়ায়। কোনও বিশেষ শক্তিশালী বলয়ে বা ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে ভারত পৃথিবীর সমস্ত বিরোধী মেরুর দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংলাপের পথ খোলা রেখেছে। নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং মার্কিন বাণিজ্য ও শুল্কনীতির প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

  • BRICS Summit Modi Putin: রুশ সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের! ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’-এ জমল কূটনীতির উষ্ণতা

    BRICS Summit Modi Putin: রুশ সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের! ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’-এ জমল কূটনীতির উষ্ণতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতি সাধারণত বৈঠকের টেবিলেই হয়। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ছবিও। এবার সেই কূটনীতির সাক্ষী হল একটি বিলাসবহুল সাঁজোয়া গাড়ি। দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাঁজোয়া অরাস সেনেট লিমুজিনে একসঙ্গে সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পুতিন (BRICS Summit Modi Putin)। ১১ সদস্যের ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের এক দিন আগে এই দৃশ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই নেতা একই গাড়িতে করে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ইনোপ্রোম (INNOPROM) প্রদর্শনীতে যান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত গাড়ি-কে নিরাপত্তার কারণে প্রায়ই ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’ বা ‘চাকার উপর দুর্গ’ বলা হয়। গত বছর চিনে সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের সময়ও মোদিকে পুতিনের সঙ্গে এই গাড়িতে সফর করতে দেখা গিয়েছিল।

    মোদি-পুতিন বিশেষ বৈঠক

    ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষতা ও কর্মী চলাচল এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। চলতি বছরে এটি মোদি ও পুতিনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ৩১ অগস্ট ২০২৬-এ বিশকেকে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘INNOPROM India’-কে স্বাগত জানান দুই নেতা। ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ভারতে আয়োজিত এই শিল্প প্রদর্শনী দুই দেশের বাণিজ্যিক ও শিল্প সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তাঁরা। মোদি ও পুতিন দু’জনেই প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।

    বন্ধু পুতিনকে বিশেষ উপহার মোদির

    ইনোপ্রোম (INNOPROM) হল আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতা ও ক্রেতাদের একত্রিত করার পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এই প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য। এর আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পুতিনকে বিশেষ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন প্রাচীন তামিল শাস্ত্র ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ। তাঁতিবংশের সাধক ও কবি তিরুবল্লুভরের রচিত এই গ্রন্থে মানবজীবনের বিভিন্ন দিকের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পুতিনকে উপহার দেওয়ার সময় মোদি বলেন, প্রায় দু’হাজার বছর আগে তিরুবল্লুভর ‘তিরুক্কুরাল’ রচনা করেছিলেন। মানবজীবনের বিভিন্ন দিক এই গ্রন্থে উঠে এসেছে। রুশ ভাষায় এর অনুবাদ ভারত ও রাশিয়ার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াবে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। পরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে মোদি লেখেন, মহান তিরুবল্লুভরের চিরন্তন জ্ঞানকে ভাষা ও দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে দিতে পুতিনকে ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    ভারত ও রাশিয়া দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক

    ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির বৈঠকে দুই নেতাকে হাসিমুখে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেখা যায়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারত-রাশিয়ার ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Special and Privileged Strategic Partnership)-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে মোদি ও পুতিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তাঁরা। উল্লেখ্য, পুতিন শেষবার ভারত সফরে এসেছিলেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। তবে চলতি মাসের শুরুতেই কিরগিজস্তানে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ফের মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল মোদী-পুতিনের। এবার দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে তাঁদের বৈঠক এবং একই গাড়িতে সফর ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতার নতুন ছবি তুলে ধরল।

    পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে আলোচনা

    এছাড়াও পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রভাবিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিকেই এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে ভারত সমর্থন করে বলে ফের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    রাশিয়া সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের

    বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল রুশ প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ। পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। মোদী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও পুতিন। বিশেষ করে ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে দুই দেশের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। তিন দিনের ভারত সফরে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছন পুতিন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কে ভি সিং। পুতিনের সঙ্গে রয়েছেন উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধি দল। তাঁর এই সফরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

  • Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Modi-Xi Meet)। আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণেই তাঁর এই সফর। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৬৭ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে। এই দলে রয়েছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। পাশাপাশি পৃথক একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলও ভারতে আসবে।

    মোদির আমন্ত্রণেই ভারতে শি

    প্রায় ২৪ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে ভারতে থাকবেন শি। শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর ভারতে পৌঁছনোর কথা। পরদিন রবিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি ভারত ছাড়বেন। শনিবার দুপুর ২টা নাগাদ ভারত মণ্ডপমে তাঁকে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ব্রিকসের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া নৈশভোজের আগে দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। নৈশভোজেও উপস্থিত থাকবেন শি জিনপিং। গালওয়ান সংঘর্ষের পরে প্রথম ভারত সফরে আসছেন জিনপিং। গোটা বিশ্বের নজর থাকবে মোদি-জিনপিং বৈঠকের দিকে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর ভারত ও চিন উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে এই বৈঠকে।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন

    শেষ বার সাত বছর আগে ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। তার পরের বছরেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে চিনের ফৌজ। রক্তক্ষয়ী ওই সংগ্রামে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিন সরকারি ভাবে তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। ওই সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত এবং চিনের পারস্পরিক সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়। এই অবস্থায় দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে জিনপিংয়ের ভারত সফর তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ১৯৬২-র যুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া অবিশ্বাসের কাঁটা, যা ২০২০ সালে গালওয়ানে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অরুণাচল সীমান্তের অঞ্চলের দখলদারি নিয়েও দ্বন্দ্ব অব্যাহত। এর পরেও কি মধ্যপ্রাচ্যের একটানা চলা যুদ্ধের আবহে এশিয়ার দুই শক্তিশালী দেশ মধ্যবর্তী কোন সমঝোতায় আসবে?

    বাণিজ্যে ভারসাম্যের বার্তা দিতে পারেন মোদি

    ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির মধ্যেও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি চিনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য আরও ন্যায্য ও সমান সুযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশই অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। ফলে শি জিনপিংয়ের সফরকে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনায় সীমান্ত সমস্যাও

    বাণিজ্যের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতিও মোদি-শি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সামরিক সংঘাতের পর ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালে কাজানে মোদি-শি বৈঠকের পর তার বরফ গলতে শুরু করে। দুই দেশের সেনার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নকরণ এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কাজান বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের অবস্থান হল, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির পূর্বশর্ত। এরপর বিশেষ প্রতিনিধিরা তিন দফা সীমান্ত বৈঠক করেছেন। চলতি বছরের অগস্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির জন্য আলোচনার কাঠামো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত-সহ মোট আটটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

    সম্পর্কের বরফ গলাতে গুরুত্বপূর্ণ

    গত বছর সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিন সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই সফরেও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। দুই নেতার ধারাবাহিক বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। দুই দেশের নেতাই ভারত ও চিনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হিসেবে দেখার বার্তা দিয়েছেন। এবার শি জিনপিংয়ের ভারত সফর চিনের কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করবে চিন, ভারতের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবে তারা। ফলে ব্রিকসের পাশাপাশি ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চির সঙ্গেও এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক হয়েছে। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন কাই।

     

     

     

     

  • India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা। উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশ নজরদারি এবং মাইক্রোস্যাটেলাইট প্রযুক্তি—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করল দুই দেশের সংস্থাগুলি। প্যারিসে আয়োজিত প্রথম ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সামিট-এ এই চুক্তিগুলি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল ফ্রান্সের সাফরান স্পেস এবং ভারতের ধ্রুব স্পেস-এর মধ্যে ৫ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের চুক্তি। ভারতের পরিকল্পিত ৫২টি উপগ্রহের স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন তৈরিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর প্যারিসে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, শিল্পক্ষেত্র এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নেন। সম্মেলনে মোট ৫১টি ঘোষণা করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা)। সেই মঞ্চেই ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির সঙ্গে ফরাসি সংস্থাগুলির একাধিক নতুন অংশীদারিত্ব সামনে এসেছে।

    ৫২ উপগ্রহের নজরদারি ব্যবস্থা

    সাফরান স্পেস এবং ধ্রুব স্পেস-এর চুক্তিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতের এসবিএস-৩ স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন-এর জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৫২টি উপগ্রহের এই কনস্টিলেশন গড়ে তোলা হবে।

    চুক্তির আওতায় ভারতীয় সংস্থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন ইউনিট, অপটিক্যাল পেলোড এবং গ্রাউন্ড স্টেশন-সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করবে সাফরান স্পেস। এর ফলে কক্ষপথে থাকা বিভিন্ন মহাকাশযান ও অন্যান্য বস্তুর উপর নজরদারি এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়বে ভারতের।

    বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে উপগ্রহের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা মহাকাশ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এখন জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। পৃথিবীর কক্ষপথে কোন উপগ্রহ কোথায় রয়েছে, কোনও মহাকাশযানের গতিপথে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, কিংবা কোনও বস্তু সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার জন্য শক্তিশালী স্পেস-সার্ভেইলেন্স পরিকাঠামো প্রয়োজন। ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    সরকারি কর্মসূচির বাইরে বেসরকারি মহাকাশ শিল্প

    এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা ক্রমশ সরকারি মহাকাশ সংস্থার গণ্ডি ছাড়িয়ে নিউ স্পেস বা বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতার মূল স্তম্ভ ছিল ভারতের ইসরো এবং ফ্রান্সের সিএনইএস। কিন্তু সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি দেখাচ্ছে, এখন ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলিও আন্তর্জাতিক মহাকাশ সরবরাহ-শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

    ধ্রুব স্পেস-এর সঙ্গে সাফরানের চুক্তি সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ। পাশাপাশি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশি প্রযুক্তি এবং ভারতীয় শিল্প-উৎপাদন সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

    ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে আরও দুই চুক্তি

    প্যারিস সম্মেলনে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। ফরাসি লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থা রাইড এবং ভারতীয় সংস্থা টেকমিটুস্পেস-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় টেকমিটুস্পেস-এর দুটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। টেকমিটুস্পেস-কে ভারতের প্রথম অরবিটাল ডেটা সেন্টার-এর নকশাকারী সংস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির জন্য আন্তর্জাতিক উৎক্ষেপণ পরিষেবার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর আগে রাইড এবং ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতার নজির রয়েছে। সম্প্রতি একটি ইউরোপীয় অ্যাটমস্ফেরিক রি-এন্ট্রি ক্যাপসুল ভারতের পিএসএলভি-র মাধ্যমে উৎক্ষেপণ, কক্ষপথে সংযুক্তি এবং পরে পৃথিবীতে ফেরানোর কাজে দুই পক্ষের সহযোগিতা হয়েছে।

    অন্যদিকে ফরাসি মহাকাশ সংস্থা ইউ-স্পেস এবং ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাক্সিসকেডস একটি বাণিজ্যিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে। লক্ষ্য ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা মাইক্রোস্যাটেলাইট মার্কেট-এ একসঙ্গে কাজ করা। পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে এগোনোর কথা, যার অন্যতম ভিত্তি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতি। ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্প ও ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতাকে যুক্ত করাই এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।

    পাঁচ দশকেরও বেশি পুরনো সম্পর্ক

    ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে। ইসরো এবং সিএনইএস-এর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব সেই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, স্পেস জিওডেসি, মানব মহাকাশ অভিযান, পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি এবং গ্রহ অনুসন্ধান—একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ সহযোগিতা করেছে।

    দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক স্পেস ডায়ালগ বা কৌশলগত মহাকাশ সংলাপও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অসামরিক এবং প্রতিরক্ষা—দুই ধরনের মহাকাশ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের জুনে প্যারিসে। দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০২৪ সালের মার্চে নয়াদিল্লিতে।

    ইসরো-সিএনইএস সহযোগিতায় ত্রিশনা-সহ একাধিক প্রকল্প

    ইসরো এবং সিএনইএস ইতিমধ্যেই ভবিষ্যৎ লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি, যৌথ ত্রিশনা আর্থ অবজারভেশন মিশন, সামুদ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে নজরদারি এবং স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস-এর মতো বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    দুই দেশের লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থাগুলির মধ্যেও বহু বছরের সহযোগিতা রয়েছে। ভারতীয় পিএসএলভি বাণিজ্যিকভাবে ফরাসি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। আবার ফ্রান্সের এরিয়ানস্পেস ভারতীয় জিওস্টেশনারি উপগ্রহ উৎক্ষেপণে পরিষেবা দিয়েছে।

    ফলে মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক শুধু গবেষণা বা সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উৎক্ষেপণ, উপগ্রহ নির্মাণ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, মহাকাশ নজরদারি এবং বেসরকারি মহাকাশ ব্যবসা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই সহযোগিতার পরিধি বাড়ছে।

    চন্দ্রযান-৩ থেকে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ সহযোগিতা

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে ফরাসি শিল্পের অংশগ্রহণও দীর্ঘদিনের। সাফরানের ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ চন্দ্র অভিযানে তাদের অবদান ছিল। একই সঙ্গে ভারতে তাদের শিল্প পরিকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে।

    ফলে সাফরান-ধ্রুব স্পেস-এর নতুন চুক্তিকে বিচ্ছিন্ন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। বরং এটি ভারতীয় মহাকাশ পরিকাঠামো এবং ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির মধ্যে ক্রমশ গভীরতর শিল্প-সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ।

    প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    মহাকাশ এখন আর শুধুমাত্র বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্র নয়। যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন, আবহাওয়া, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ এবং সামরিক যোগাযোগ—আধুনিক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে মহাকাশ পরিকাঠামো সরাসরি যুক্ত।

    এই কারণেই ভারতের জন্য স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস এবং মহাকাশে নিজস্ব নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় সংস্থার দক্ষতার সমন্বয়ে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই ধরনের প্রকল্পে যুক্ত করার ফলে ভারতের মহাকাশ শিল্পে প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং গবেষণার পরিসরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় নিউ স্পেস সংস্থাগুলি বিশ্ববাজারে প্রবেশের আরও সুযোগ পাবে।

    মাক্রঁর ভারত সফরের পর আরও গতি

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরের সময়ও দুই দেশ অসামরিক উপগ্রহ নির্মাণ এবং মানব মহাকাশ অভিযান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করেছিল। তার পরেই প্যারিসের আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে একসঙ্গে তিনটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি সামনে আসা দুই দেশের মহাকাশ অংশীদারিত্বে নতুন গতি নির্দেশ করছে।

    সব মিলিয়ে, ভারত-ফ্রান্সের মহাকাশ সম্পর্ক এখন ইসরো-সিএনইএস-এর ঐতিহ্যবাহী সহযোগিতা থেকে বেরিয়ে সরকারি কর্মসূচি + প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতা + বেসরকারি শিল্প + আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়াচ্ছে। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত নজরদারি কনস্টিলেশন এবং নতুন বেসরকারি অংশীদারিত্বগুলি সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

LinkedIn
Share