Tag: Madhyom

Madhyom

  • Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—যাদবপুরে গেরুয়া (Saffron) সম্মান যাত্রা শেষে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি। মিছিল শেষে এইট বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেরুয়াকে অপমানকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া ও দেশের মর্যাদাকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    গেরুয়াময় যাদবপুর (Suvendu Adhikari)

    বুধবার দুপুর থেকেই যাদবপুর কার্যত গেরুয়া রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। গেরুয়া পোশাক পরে এবং হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন বহু সাধু-সন্ত। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে মিছিল। আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রায় বিভিন্ন সময়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও ওঠে। কপালে গেরুয়া তিলক, হাতে ডমরু নিয়ে সাধু-সন্তদের অংশগ্রহণে মিছিলের আবহ ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবধারায় পরিপূর্ণ।

    গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু হয়ে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয়। সেখানে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরের মতো জায়গায় দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা গেরুয়ার অবমাননা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “আমি শপথ নিয়েছি এই যাদবপুরে, যেখানে উৎকর্ষের কেন্দ্র, যেখানে ঋষি অরবিন্দের ভূমি, এখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাংকে আর কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের এবং যাঁরা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন, তাঁদের শিকড়-সহ তুলে ফেলব আমি।”

    তবে বক্তব্যের এই অংশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, যাদবপুর দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র। সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    শুভেন্দুর ‘তিন সত্যি’

    মঞ্চ থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। বলেন, “আপনারা জানেন, ২০১১-য় পণ করেছিলাম কমিউনিস্টকে সরাব। আমি পণ করেছিলাম মোদিজির নেতৃত্বে ছাব্বিশে জামাতি সরকারকে সরাব। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।”

    এর পরেই স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং স্বামী প্রণবানন্দের প্রসঙ্গ তুলে গেরুয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আপনারা সঙ্গে থাকুন স্বামী বিবেকানন্দের মাটি, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে।”

    শুধু বুধবারের কর্মসূচি নয়, আগামী দিনেও যাদবপুরে একাধিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে আরও দু’বার যাদবপুরে আসার কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, একবার বেদপাঠের আসরে এবং অন্যবার হনুমান চল্লিশা পাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। যাদবপুরে তিন দিন ধরে বেদপাঠের আয়োজন করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    তিনি বলেন, “এখানে পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে দু’বার আসব। দেশ ও গেরুয়াকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার বেদপাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে আসব।”

    যাদবপুরে আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবাদী মানুষদের যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আশা করব, সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।” তিন দিন ধরে বেদপাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    গুরুত্বপূর্ণ বিল

    এদিনের সভায় উচ্চশিক্ষা দফতর সংক্রান্ত বিষয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করার কথা জানান (Saffron) তিনি। তাঁর দাবি, পরের দিন বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আসতে চলেছে এবং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করার বিষয়েও তিনি বক্তব্য রাখবেন বলে জানান।

    শুভেন্দু বলেন, “উচ্চশিক্ষা দফতর যা করছে, তা এখন বলব না। কাল বিধানসভায় বলব। কাল ঐতিহাসিক বিল আসতে চলেছে। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করছে সরকার। আমি বলেছি, আমাকে ১০-১৫ মিনিট কথা বলার সময় দিতে হবে।”

    এদিনের মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ। শুভেন্দু অধিকারীর পাশে তাঁকে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন কয়েকশো সাধু-সন্ত। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী তাপস রায়ও মিছিলে শুভেন্দুর পাশে ছিলেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    ‘বন্দে মাতরম’

    মিছিল এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর পর সকলে ‘বন্দে মাতরম’ গান। এরপর মঞ্চ থেকে ফের যাদবপুরকে স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই ভূমিতে গেরুয়ার উপস্থিতিই থাকবে।

    শুভেন্দু বলেন, “গেরুয়ার অপমান সহ্য করব না। পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলাম। যাদবপুর থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, রেড স্যালুট কী করে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তা জানে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুরে, যা ঋষি অরবিন্দের ভূমি, সেখানে কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকদের শিকড়-সহ তুলব।”

    এর আগে ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি (Suvendu Adhikari)। কমিউনিস্টদের সরানোর পাশাপাশি জামাতের সরকার সরানোর সংকল্পের কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ ও সহযোগিতাতেই সেই রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

    গেরুয়া সম্মান যাত্রা

    এদিনের গেরুয়া সম্মান যাত্রাকে কেন্দ্র করে যাদবপুরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে সাধু-সন্তদের উপস্থিতি, বেদপাঠ, হনুমান চল্লিশা পাঠ এবং গেরুয়া পতাকা—অন্যদিকে দেশবিরোধী স্লোগান ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ, সব মিলিয়ে এদিনের কর্মসূচিটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    শুভেন্দুর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে গেরুয়ার মর্যাদা রক্ষা (Saffron), সনাতন সংস্কৃতির প্রসার এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধিতার বিষয়। যাদবপুরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তাই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। আগামী দিনে বেদপাঠ ও হনুমান চল্লিশা পাঠের কর্মসূচি ঘিরে যাদবপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

  • Jadavpur University: মেয়াদ শেষের আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে

    Jadavpur University: মেয়াদ শেষের আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে বড়সড় বদল। রাজ্যপাল তথা আচার্যের নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে। তার জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুই আধিকারিককে ৷ ছ’মাসের জন্য অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁদের। যাদবপুরের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের জায়গায় নয়া রেজিস্ট্রার (JU Registrar Removed) হলেন দেবজিৎ দত্ত। তিনি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক। একই ভাবে সরানো হল ফাইন্যান্স অফিসারকেও। তাঁর জায়গায় এসেছেন কলা বিভাগের সচিব ইন্দ্রজিৎ দত্ত। ৮ সেপ্টেম্বর উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

    আচার্যের নির্দেশ মতো কাজ

    নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দেবজিৎ দত্তকে রেজিস্ট্রার এবং ফ্যাকাল্টি অফ আর্টসের সচিব ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফাইন্যান্স অফিসার হিসেবে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দু’জনকেই তাঁদের স্বাভাবিক দায়িত্বের পাশাপাশি ছ’মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই এই মেয়াদ কার্যকর হবে, অথবা পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত-যেটি আগে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে শোনা যাচ্ছে, বুধবারই তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, রাজ্যপাল তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আরএন রবির ২৬ অগাস্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে । নির্দেশে বলা হয়েছে, তাঁদের দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ হবে। আচার্যের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে স্থায়ী নিয়োগের জন্য যে বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা শুরু করা যেতে পারে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের কার্যকালের মেয়াদ ছিল আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত পদের মেয়াদ ছ’মাসের বেশি দীর্ঘায়িত করা যায় না। কিন্তু কর্মসমিতি (ইসি) স্থায়ী আধিকারিক নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া চালুর বদলে অস্থায়ী আধিকারিকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল মনে করেছেন, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়মানুবর্তিতার পরিপন্থী। সেই কারণেই ১৯৮১ সালের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১৭(৩) ধারায় নিজের পর্যালোচনা ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সরিয়ে নতুন নিয়োগের নির্দেশ জারি করেছেন তিনি।

    আচার্যের পর্যবেক্ষণ

    আচার্যের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল স্থায়ী রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া শুরু করেনি। পাশাপাশি, ‘অ্যাক্টিং’ বা ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাও আইনে নির্ধারিত সময়সীমার বেশি চালু রাখা হয়েছিল বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম, অ্যাকাডেমিক গভর্ন্যান্স এবং আর্থিক শৃঙ্খলার স্বার্থের পরিপন্থী। সেই কারণেই এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ বা নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে আচার্য নতুন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থায়ী পদাধিকারী নিয়োগের আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ছ’মাসের জন্য অথবা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নতুন দুই আধিকারিককে এই দায়িত্ব সামলাতে হবে। মূল কাজের অতিরিক্ত হিসেবেই তাঁরা এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে নির্দেশ

    নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে পুরনো রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে সমস্ত সরকারি নথি, ফাইল, ডকুমেন্ট, রেজিস্টার, আর্থিক রেকর্ড, ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল, সরকারি সিল, চাবি, সম্পত্তি-সহ তাঁদের কাছে থাকা যাবতীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য পৃথক হ্যান্ডওভার-টেকওভার স্টেটমেন্ট তৈরি করে তা রেকর্ডে রাখার কথাও বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যকে বলা হয়েছে, সমস্ত বিধিবদ্ধ নথি, গোপনীয় কাগজপত্র, আর্থিক ও ব্যাংক সংক্রান্ত নথি, ডিজিটাল সিস্টেম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সম্পত্তি নিরাপদ রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত আধিকারিকদেরই সেগুলিতে প্রবেশাধিকার থাকবে। প্রসঙ্গত, একাধিকবার দক্ষিণপন্থী অধ্যাপক সংগঠনের তরফে এই দাবি তোলা হয়েছিল। তাদের প্রশ্ম ছিল, এই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাহলে কীভাবে তাঁরা এখন সেই পদে রয়েছেন।

    উত্তপ্ত যাদবপুর

    এ দিকে, বুধবার অর্থাৎ আজ গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ রয়েছে। এই আবহের মধ্যেই এমন পরিবর্তন। বস্তুত, বিগত কয়েকদিন ধরেই তপ্ত রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, এখানে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বেন। সম্প্রতি তিনি যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার কর্মসূচিও নিয়েছিলেন। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে আবার দেশবিরোধী স্লোগান মুছে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই তা করা হয়েছে পুরসভার তরফে। এবার বদল করা হল রেজিস্ট্রারকে।

  • NCPCR Summons Meta: ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী নিয়ে প্রচার! মেটা ইন্ডিয়ার কর্তাদের তলব এনসিপিসিআর-এর

    NCPCR Summons Meta: ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী নিয়ে প্রচার! মেটা ইন্ডিয়ার কর্তাদের তলব এনসিপিসিআর-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতন ও শোষণের সামগ্রী (Child Sexual Exploitation and Abuse Material বা CSEAM) প্রচার এবং তা কেনাবেচার পথ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তদন্তে এবার মেটা ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তাদের তলব করল জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন (NCPCR)। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মেটা ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং প্রধানকে কমিশনের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু পেইড বিজ্ঞাপনের উপস্থিতির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) গ্রহণ করে এনসিপিসিআর (NCPCR Summons Meta )। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ৩ জুলাই ২০২৬ মেটা প্ল্যাটফর্মস, ইনকর্পোরেটেডকে নোটিস পাঠিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল কমিশন। মেটার পক্ষ থেকে প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সেই নোটিসের জবাব দেওয়া হয়। তবে মেটার জবাব পর্যালোচনা করার পর এনসিপিসিআর মনে করেছে, অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা এবং এর পিছনের পরিস্থিতি নির্ধারণের জন্য আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। সেই কারণেই মেটা ইন্ডিয়ার শীর্ষ কর্তাদের সরাসরি হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিবিসির অনুসন্ধানে কী অভিযোগ?

    বিবিসি আই-এর অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামে কিছু পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ওই বিজ্ঞাপনগুলিতে ‘রেপ ভিডিও’ এবং ‘চাইল্ড ভিডিও’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ, বিজ্ঞাপনগুলিতে আগ্রহী ব্যবহারকারীদের ইনস্টাগ্রামের বাইরে টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে ওই ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী অর্থের বিনিময়ে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমনকি কিছু সামগ্রীর দাম মাত্র ৯৯ টাকা থেকেও শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এগুলি শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির আপলোড করা সাধারণ পোস্ট ছিল না। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পেইড বিজ্ঞাপন। অর্থাৎ, বিজ্ঞাপনগুলি ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা এবং কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ব্যবহারকারীদের সামনে পৌঁছেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    মেটার কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

    বিবিসির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে সেগুলি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু একটি অভিযোগযুক্ত বিজ্ঞাপন বিবিসির পক্ষ থেকে ইনস্টাগ্রামের নজরে আনার পরও পরদিন প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছিল যে বিজ্ঞাপনটি তাদের ‘কমিউনিটি গাইডলাইন’ লঙ্ঘন করেনি। এর ফলে মেটার স্বয়ংক্রিয় মডারেশন ব্যবস্থা এবং বিজ্ঞাপন যাচাইয়ের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে শিশুদের যৌন শোষণ সংক্রান্ত নিষিদ্ধ সামগ্রী কীভাবে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার ফাঁক গলে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছতে পারে, তা নিয়েই তদন্তকারীদের আগ্রহ। এনসিপিসিআর (NCPCR)-এর তদন্তে তাই খতিয়ে দেখা হতে পারে—কীভাবে ওই বিজ্ঞাপনগুলি অনুমোদিত হয়েছিল, মেটার কোন কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছিল, কোনও সতর্কবার্তা বা রিপোর্ট তৈরি হয়েছিল কি না এবং অভিযোগ সামনে আসার পর সংস্থাটি কী পদক্ষেপ নিয়েছিল।

    মেটার কাছে একাধিক প্রশ্নের উত্তর চাইবে কমিশন

    এনসিপিসিআর (NCPCR)-এর সামনে মেটা ইন্ডিয়ার কর্তাদের হাজিরার সময় বিজ্ঞাপনগুলির উৎস, মডারেশন প্রক্রিয়া, সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিবিসির অনুসন্ধানের পর নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনায় শুধু নিষিদ্ধ সামগ্রী শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়। যে নেটওয়ার্ক, নির্দিষ্ট শব্দ, বিজ্ঞাপন এবং ব্যবহারকারীর আচরণকে কাজে লাগিয়ে শিশু যৌন শোষণের সামগ্রী ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে, সেগুলিও শনাক্ত করা জরুরি।

    দিল্লি পুলিশকেও তদন্তের নির্দেশ

    একই অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)-ও পদক্ষেপ করেছে। ইনস্টাগ্রামের পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভারতে শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী প্রচারের অভিযোগ নিয়ে দিল্লি পুলিশকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। বিশেষ করে, মেটা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা পসকো (POCSO) আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রতিবেদনগুলির ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি গ্রহণ করে। পাশাপাশি ৬ জুলাই তারিখের একটি অভিযোগও কমিশনের কাছে জমা পড়েছিল। এরপর ৮ জুলাই দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে একই অভিযোগকে ঘিরে এখন দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থা পৃথকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এনসিপিসিআর মূলত অভিযোগের সত্যতা, মেটার ভূমিকা এবং সংস্থার জবাব পরীক্ষা করছে। অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-এর নির্দেশে দিল্লি পুলিশও এই বিষয়ে তদন্ত করবে।

    তদন্তের মুখে মেটার নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    এই ঘটনা ফের বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বিশ্বের অন্যতম বড় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থাকে। বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী এবং বিশাল বিজ্ঞাপন পরিকাঠামোর কারণে অপরাধী চক্রগুলি সেই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যদি নিষিদ্ধ সামগ্রী বা তার লিঙ্ক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে বিজ্ঞাপন যাচাইয়ের প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযোগগুলি তদন্তাধীন এবং মেটা বা সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির দায় সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।

     

     

     

     

  • Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য, ‘বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে’ বললেন শমীক

    Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য, ‘বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে’ বললেন শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর সময় বাঙালির আমিষ খাওয়ার রীতি নিয়ে বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাংলায়। হাওড়ার লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসে দুর্গাপুজোর সময় বাঙালিদের মাছ-মাংস খাওয়ার রীতির সমালোচনা করেছিলেন তিনি। আমিষভোজীদের ‘পাখণ্ডী’ বলেও মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই বাঙালি সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।

    বিরোধীদের আক্রমণের মুখে এবার কার্যত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বঙ্গ বিজেপি। সরাসরি বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের বিরোধিতা না করলেও একের পর এক বিজেপি নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। বরং তাঁরা নিজেরাও আমিষভোজী এবং বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে বাইরের কোনও ‘প্রেসক্রিপশন’ চলবে না বলেই বার্তা দিয়েছেন।

    ‘বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না?’: শমীক

    রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর অবস্থান। তাঁর কথায়, দুর্গাপুজোর সময় বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কেউ নির্দেশ দিতে পারেন না। শমীক বলেন, “আমাকে আমার মতো থাকতে দাও! বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে। বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না? স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন, তাঁর ওপরে আবার কে আছে? মা কালী এখানে পাঁঠা খাবেন!”

    তাঁর সংযোজন, “অষ্টমীর দিন লুচি আর নবমীর দিন কচি পাঁঠার মাংস খাওয়া বাঙালির খাঁটি রীতিনীতি, আর বাঙালি সেই ঐতিহ্যই লালন করবে। কোনও সন্ত বা চিকিৎসকের নিরামিষাশী হওয়ার আহ্বান বা পরামর্শ দেওয়ার অধিকার থাকতেই পারে, কিন্তু বাংলায় বসে কে কী খাবে আর কে কী পরবে, তা বাইরে থেকে এসে কেউ ঠিক করে দেবে না।” ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সৌজন্য বজায় রেখেই শমীক বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মদর্শনের ওপরে অন্য কোনও মত চাপিয়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। বাংলায় মা কালীকে পাঁঠার মাংস নিবেদন করার যে সুপ্রাচীন প্রথা রয়েছে, তাকে অস্বীকার করার কোনও কারণ নেই।”

    তবে আমিষভোজীদের ‘পাষণ্ড’ বা ভণ্ড বলে উল্লেখ করার বিষয়টি সমর্থন করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্য নয়, একজন সন্তের ব্যক্তিগত মতামত। তাই বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সংঘাতেও যেতে চান না তিনি। শমীকের কথায়, “যার ধুতি পরার ইচ্ছে সে ধুতি পরবে, যে লুঙ্গি পরে সে লুঙ্গি পরবে—বাঙালির নিজস্ব জীবনযাত্রা ও রুচিবোধের ওপর রাজনীতি বা অন্য কোনও প্রেসক্রিপশন খাটবে না।”

    ‘রাজ্যের সংস্কৃতি আলাদা’, বললেন অগ্নিমিত্রা

    বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলার দুর্গাপুজোর খাদ্যসংস্কৃতির পার্থক্য রয়েছে।

    অগ্নিমিত্রা বলেন, “অন্য রাজ্যে এই দুর্গাপুজোর সময় এই দশ দিন যে পুজো হয়, সেখানে অন্য রাজ্যের সবাই মিলে নিরামিষ খায়। এখন তিনি যদি মনে করে থাকেন যে এখানেও সেই কালচার, এখানে তো সেই কালচারটা নয়। আমরা সারা বছর টাকা পয়সা জমাই দিয়ে আমরা পুজোর চার দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে কবজি ডুবিয়ে মাংস খাব, ইলিশ মাছ খাব। সুতরাং রাজ্যে রাজ্যে কালচারটা আলাদা। উনি ওনার মতো করে বলেছেন, যেটা উনি জানেন। উনি হয়ত জানেন না যে, এখানে কালচারটা ওইটা নয়।” অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “আমরা কী খাবো, কী পোশাক করবো, কখন বেরবো, কখন বাড়ি ঢুকবো এটা কেউ বলে দেবে না। যারা রাজনীতি করছেন… রাজনীতি করবেন না। রাজনীতির আগুনে আবার রুটি সেঁকবেন না।”

    ‘আমার নিয়মিত মাছ দরকার’: দিলীপ ঘোষ

    বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও একই সুরে বাঙালির আমিষ খাওয়ার রীতিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কে কী খাবেন, সেটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমার নিয়মিত মাছ দরকার। তবে সেটা বড় কথা নয়। যাঁরা যা খেতে চান, তাঁরা তাই খাবেন। দুর্গাপুজোয় পাঁঠা বলি হয়। পাঁঠার মাংস প্রসাদ হিসেবে খাওয়া হয়।” তাঁর সংযোজন, “কোনও কোনও সাধুসন্ত নিরামিষ খেতে বলেন, কিন্তু সেটা বাধ্যতামূলক হতে পারে না।”

    বাগেশ্বর বাবার উদ্দেশেও প্রশ্ন ছুড়ে দেন দিলীপ। তাঁর প্রশ্ন, “বাগেশ্বর বাবার কাছে যে ভক্তরা যান, তাঁরা কেউ আমিষ খান না, সেটা উনি হলফ করে বলতে পারবেন?” দিলীপের বক্তব্য, “বিবেকানন্দ বলেছিলেন, যতদিন দেশ থাকবে, ততদিন শিব ডমরু বাজাবেন আর মা কালী পাঁঠা খাবেন। এটাই বাংলার সংস্কৃতি।” তাঁর আরও অভিযোগ, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ‘ফতোয়া’র রাজনীতি তৃণমূলই শুরু করেছিল।

    ‘কবজি ডুবিয়ে মাছ-মাংস খাব’, বার্তা লকেটের

    বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় অবশ্য গোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে না টেনে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরম্পরার সঙ্গে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। লকেট বলেন, “বাগেশ্বর বাবা তাঁর মতো বলেছেন, এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনও কারণ নেই। বাঙালিরা যেভাবে পুজো করে আসছেন সেভাবেই পুজো করবে।”

    তাঁর কথায়, “বিরোধীরা সবকিছুতেই বলতে চায় বিজেপি এলে নিরামিষ করে দেবে রাজ্যকে, পুজোয় অনুদান দেবে না কিন্তু পুরোটাই ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেটা প্রমাণিত পুজোতেও অনুদান হবে এবং বাঙালিরা কব্জি ডুবিয়ে মাছ মাংস সব কিছুই খাবে।”

    লকেট আরও বলেন, “আমরা আমাদের পরম্পরাকে ভাঙতে পারি না। মা আসছেন তার বাপের বাড়ি চার দিনের ছুটিতে। মা সবার সঙ্গে সিঁদুর খেলে। আমরা অষ্টমীতে অঞ্জলি দিই। খিচুড়ি খাই। নবমীতে নন ভেজ খাই। এটা আমাদের পরম্পরাতেই আছে। এটাকে ওনার বক্তব্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কোন দরকার নেই।”

    ‘ইনি বাংলার বাবা নন’, সজল ঘোষের কটাক্ষ

    বিজেপি নেতা সজল ঘোষ অবশ্য বাগেশ্বর বাবাকে সরাসরি নিশানা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাঙালিরই। সজল বলেন, “বাগেশ্বর বাবার কথা ছাড়ুন। ইনি বাংলার বাবা নন। আমার বাবা আমি যা শিখিয়েছে, সেটাই পালন করব। আমরা বাঙালিরা জানি পুজোর নিয়ম কী। ওঁরা উত্তর ভারতের মানুষ। তাই উনি এ কথা বলেছেন। বাগেশ্বর বাবা বিজেপি নয়। আমাদের দল পরিষ্কার করে বলেছে।”

    ‘আমরা আমিষ খাব, ১০০ শতাংশ খাব’: সুকান্ত

    এই বিতর্কে নিজের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর কথায়, বাঙালির আমিষ খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না। সুকান্ত বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সবকিছুতে রাজনীতি খোঁজে। আমরা আমিষ খাব। আমরা আমিষ খাব, ১০০% খাব। আমি আজ দু’পিস ইলিশ মাছ খেয়ে এসেছি। আমরা নিজেরা আমিষভোজী। আমরা আমিষ বন্ধ করে দিলে খাব কী?”

    ফলে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতার বক্তব্যে কার্যত একটি বিষয়ই স্পষ্ট—বাঙালির দুর্গাপুজোর খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা বা ‘ফতোয়া’ তাঁরা মানতে নারাজ। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই বিতর্ককে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা কতটা বাড়ে, সেদিকেই।

  • Defence Acquisition Council: ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সায়! ৯৮% সরঞ্জামই তৈরি হবে ভারতে, বড় সিদ্ধান্ত ডিএসির

    Defence Acquisition Council: ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সায়! ৯৮% সরঞ্জামই তৈরি হবে ভারতে, বড় সিদ্ধান্ত ডিএসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে সোমবার বৈঠকে বসে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি)। সেই বৈঠকেই ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার জন্য প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি (এওএন) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অনুমোদিত ক্রয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশই ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন তিন বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা ও অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও বড় অর্ডার পাবে।

    সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক অত্যাধুনিক সরঞ্জাম

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এর মধ্যে রয়েছে কেমিক্যাল, বায়োলজিক্যাল, রেডিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার (সিবিআরএন) রিকনেসান্স ভেহিকল, হাই মোবিলিটি ভেহিকল, সেল্ফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (এএলএইচ), ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম।

    সিবিআরএন রিকনেসান্স ভেহিকলের সাহায্যে রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় এবং পরমাণু উপাদানে দূষিত এলাকা দ্রুত শনাক্ত, চিহ্নিত, পর্যবেক্ষণ ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া সম্ভব হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও অঞ্চল সিবিআরএন উপাদানে আক্রান্ত হলে সেনার জন্য নিরাপদ পথ নির্ধারণ এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে এই যানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অন্যদিকে, হাই মোবিলিটি ভেহিকল কঠিন ও দুর্গম ভূখণ্ডে সেনার দ্রুত গতিশীলতা এবং রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে প্রতিকূল সীমান্ত অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সেল্ফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার সেনাবাহিনীকে দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকরভাবে মাইন পাতা বা মাইনফিল্ড তৈরি করার সক্ষমতা দেবে। বিশেষ করে দুর্গম ভূখণ্ডে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা সেনার প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে আরও নমনীয় করবে।

    এএলএইচ থেকে সর্বত্র ব্রিজ—যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়বে সক্ষমতা

    ডিএসির অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার বা এএলএইচ-ও। বিভিন্ন ভূপ্রকৃতি এবং জটিল অপারেশনাল পরিস্থিতিতে সেনা ও বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ মিশনে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। দুর্গম এলাকায় সেনা মোতায়েন, সরঞ্জাম পরিবহণ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে এএলএইচ-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    এছাড়া ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম-এর অনুমোদনও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধক্ষেত্রে নদী, খাল বা অন্যান্য জলপথ এবং দুর্গম ভূখণ্ড অতিক্রম করে সেনার যুদ্ধবিন্যাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাগুলি সাহায্য করবে। অর্থাৎ, শুধু অস্ত্রশক্তি নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত গতিশীলতা এবং বাধা অতিক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিয়েছে ডিএসি।

    নৌসেনায় অরুধ্র রেডার, দেশীয় মেরিন গ্যাস টারবাইন

    ভারতীয় নৌসেনার জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এর মধ্যে রয়েছে অরুধ্র রেডার সংগ্রহ এবং মেরিন গ্যাস টারবাইন (এমজিটি)-এর নকশা, উন্নয়ন ও পরবর্তী পর্যায়ে সংগ্রহের প্রস্তাব।নৌসেনার বিভিন্ন নেভাল এয়ার স্টেশনে বর্তমানে ব্যবহৃত এয়ার রুট সার্ভেল্যান্স রেডার-এর পরিবর্তে অরুধ্র রেডার বসানো হবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রেডার নৌসেনার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

    আরও গুরুত্বপূর্ণ হল মেরিন গ্যাস টারবাইন। যুদ্ধজাহাজের প্রোপালশন সিস্টেম বা চালনা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। দেশেই মেরিন গ্যাস টারবাইন তৈরি ও উন্নয়নের উদ্যোগ ভবিষ্যতে যুদ্ধজাহাজের প্রপালশন প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

    বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে একাধিক অনুমোদন

    ভারতীয় বায়ুসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে ডিএসি। ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট এবং হেলিকপ্টার-এর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এর পাশাপাশি বায়ুসেনার জন্য গ্রাউন্ড-বেসড মাল্টি-পারপাস জ্যামার (জিবিএমপিজে) সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিন যুদ্ধব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। শত্রুপক্ষের রেডার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত করতে জিবিএমপিজে ব্যবহার করা যাবে। কার্যকর জ্যামিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের নজরদারি ও লক্ষ্য শনাক্তকরণের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কাগজের পরিচয়পত্রের বদলে স্মার্ট কার্ড

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডিফেন্স ফোর্সেস সিকিওর অ্যাকসেস কার্ড (ডিইএফএসিএসি) ব্যবস্থা। ডিএসি এই ব্যবস্থাও অনুমোদন করেছে। বর্তমানে ব্যবহৃত কাগজের পরিচয়পত্র, প্রবেশপত্র এবং অনুমতিপত্রের পরিবর্তে ইন্টারঅপারেবল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি)-ভিত্তিক স্মার্ট কার্ড চালু করা হবে। এর ফলে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ আরও আধুনিক, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অ্যাকসেস-কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    ৯৮ শতাংশ দেশীয় ক্রয়—কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এই ডিএসি বৈঠকের সবচেয়ে বড় বার্তা সম্ভবত প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্রয় ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে করার পরিকল্পনা। অর্থাৎ, ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার এই বিপুল প্রতিরক্ষা বরাদ্দের বড় অংশই দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পে প্রবাহিত হবে।

    এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশীয় প্রতিরক্ষা নির্মাতা সংস্থা, প্রযুক্তি সংস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্র এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের উপর। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদন ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে মেরিন গ্যাস টারবাইনের মতো জটিল প্রযুক্তি দেশেই তৈরি করার উদ্যোগ দেখাচ্ছে, ভারত শুধু অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম আমদানি কমানোর দিকেই নয়, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মূল ভিত্তি দেশেই গড়ে তুলতে চাইছে।

    সব মিলিয়ে, প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার ডিএসি অনুমোদনকে শুধু একটি বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় হিসেবে দেখলে বিষয়টির পূর্ণ তাৎপর্য ধরা পড়বে না। সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যকে একই সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।

  • Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে আসছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit) জীবনে! সেই সময় হুমকি-বার্তা আসত দেওয়ালে টাঙানো তালিকা কিংবা ছাপা কাগজের মাধ্যমে (Jammu Kashmir)। এখন সেসবই আসছে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে। কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে লক্ষ্য করে নতুন করে হুমকি জারি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য পর্যন্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বক্তব্য (Kashmiri Pandit)

    মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত, যাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও শ্রীনগরে রয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও এটাই ছিল তাদের কাজের ধরন। শুধু তখন ইন্টারনেট ছিল না। তালিকা টাইপ করে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হত।”

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অভিযোগ, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) এর নামে জারি করা একাধিক হুমকিপত্রের জেরে উপত্যকায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ হুমকিতে সরকারি চাকরিতে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে প্রাণঘাতী পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন সংগঠন এবং উপত্যকায় পরিবারের সদস্যদের রেখে মুম্বই ও দিল্লিতে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া কাশ্মীরি সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে উপত্যকায় এখনও পরিবারের সদস্য রয়েছেন এমন একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইনজীবী, যাঁর পরিবারের সদস্যরা জম্মুতে থাকেন, বলেন, “আমার পরিবার সরকারি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। এবার হুমকির লক্ষ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা নিরাপদ। উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি এখন যথেষ্ট সাধারণ হয়ে উঠেছে।”

    বিপুল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

    ৭ সেপ্টেম্বর সমাজের পক্ষের এক কণ্ঠস্বর সাবা কৌল সোশ্যল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে “বিরাট এবং উদ্বেগজনক নিরাপত্তা সংকট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএলসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য অনলাইনে ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    কৌল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের দফতরের কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন (Jammu Kashmir)।

    শ্রীনগরভিত্তিক এক প্রবীণ সাংবাদিকও জানিয়েছেন, হুমকিপত্রগুলি প্রথমে গোপন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো বার্তাবাহক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উপত্যকায় থাকা কর্মীদের পাশাপাশি জম্মু এবং দেশের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    এক মাসে পঞ্চম হুমকি

    ১ সেপ্টেম্বর ইউএলসির নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসে। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পরে প্রশাসন অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

    এর আগে ৭ অগাস্টের একটি হুমকিপত্রেও কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার, অবস্থান এবং কর্মস্থলের বিবরণ সংগঠনের হাতে রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কর্মীরা জম্মুতে চলে গেলেও তাঁদের নিশানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও সমাজকর্মী রাকেশ হান্ডুর দাবি, প্রায় ৬ হাজার প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রীনগরের জেওয়ান, অনন্তনাগের মাট্টান এবং ভীরিনাগে মোট ৬ হাজার ৪২টি আবাসন নির্মাণ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র প্রায় ৮০০টি আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে।

    হান্ডু অবিলম্বে বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসন ও ভাড়াবাড়ির নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং “ফিরে আসা ও পুনর্বাসনের অধিকার” নিশ্চিত করার জন্য একটি নীতির দাবিও তুলেছেন। তাঁর মতে, সেই নীতিতে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি জমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে (Kashmiri Pandit)।

    আবাসন নিয়েও প্রশ্ন

    ৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি বার্তায় হান্ডু কুলগামের চৌগাম সড়কের নওয়া এলাকায় সংখ্যালঘু প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ কর্মীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী আবাসনের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু আবাসন বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কোথাও সঠিক রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কোথাও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ঘেরাও নেই।

    কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে এই বাস্তবতার তুলনা করে হান্ডু প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিকতা কার জন্য?” তাঁর যুক্তি, যে কর্মী হুমকিপত্র পেয়েছেন, তাঁর কাছে স্বাভাবিকতার অর্থ শুধু চাকরিতে থাকা নয়। তাঁর প্রয়োজন নিরাপদ ছাদ, সুরক্ষিত আবাসন এবং সম্পূর্ণ পরিকাঠামো।

    ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখার কাছে দেওয়া অভিযোগে হান্ডু ৫ সেপ্টেম্বরের হুমকিপত্রের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তাঁর দাবি, চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে তাঁদের নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে “তাদের মরদেহের ব্যাগ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে”—এমন ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (Jammu Kashmir) বলেও জানান তিনি।

    পুনর্বাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ৩ হাজার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে আরও ৩ হাজার সরকারি চাকরি অনুমোদন করা হয়। ফলে দুই প্রকল্প মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার।

    তবে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের হুমকিপত্র প্রকাশ্যে এলে শুধু উপত্যকায় কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, জম্মু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।

    অগাস্টের একটি হুমকিতে ছ’জন সরকারি কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হলেও, বাস্তবে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী পানুন কাশ্মীর ওই ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে নিরাপত্তা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক অগ্নিশেখর বলেন, হুমকির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত “গুরুতর উদ্বেগের” বিষয় (Kashmiri Pandit)।

    হুমকি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রবীণ হিন্দু আধিকারিকরা একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই হুমকি উপরাজ্যপাল-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয় তৈরি করে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার একটি “ষড়যন্ত্রের” অংশ হতে পারে।

    বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেছে। দলের জাতীয় গণমাধ্যমের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রতি “নরম মনোভাব” নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও নিরাপত্তা-সংকটকে খাটো করে দেখায়।

    অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা তাঁর বাবার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। অগাস্টে প্রথম হুমকি সামনে আসার পর তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং নতুন হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় হুমকির পরও ওমর জানান, হুমকির উৎস কোথায়, তা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ফিরছে নয়ের দশকের স্মৃতি?

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের গোড়ায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিস্তারের সময় লক্ষ্য করে হত্যা, হুমকি এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে সতর্কবার্তার পর বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে জম্মু এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন (Kashmiri Pandit)।

    সরকারি চাকরির মাধ্যমে তাঁদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ তারই অন্যতম অংশ। কিন্তু ২০২২ সালে চাদুরার তহসিল দফতরের ভিতরে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী রাহুল ভাটের হত্যাকাণ্ড এখনও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়াবহ স্মারক হয়ে রয়েছে।

    তাই বর্তমান হুমকিগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সাফল্য কি শুধু কতগুলি চাকরি দেওয়া হয়েছে বা কতগুলি বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁরা উপত্যকায় নিরাপদে বসবাস ও কাজ করতে পারছেন কি না?

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য প্রত্যাবর্তন তখনই অর্থবহ হবে (Jammu Kashmir), যখন চাকরি ও আবাসনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও ফিরবে। সাম্প্রতিক হুমকি সেই আস্থার জায়গাটিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বই কি! (Kashmiri Pandit)।

     

  • NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (PNB) এক কর্তাকে গ্রেফতার করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। তার জেরে উত্তরপ্রদেশে জাল নোট উদ্ধারের অন্যতম বড় ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার এনআইএর শীর্ষ আধিকারিকরা জানান, ব্যাঙ্কের একটি কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৭.২৯ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট (Fake Currency Case) বৃহত্তর কোনও চক্রের অংশ কি না, এবং সেই চক্র আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কাজ করছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে গ্রেফতার পিএনবির ম্যানেজার (NIA)

    সোমবার জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমারকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই মামলায় নাম থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত তিনি। সাহারানপুরের সোফিয়া মার্কেট এলাকার ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টে ভারতীয় জাল নোট শনাক্ত হওয়ার পর পিএনবির যে তিন আধিকারিক তদন্তকারীদের নজরে আসেন, অমিত তাঁদের অন্যতম।

    পিএনবি কর্তার এই গ্রেফতারি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সন্দেহভাজন জাল নোট কোনও ব্যক্তিগত বাহক, গোপন আস্তানা বা সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়নি; বরং তা উদ্ধার হয়েছে ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকেই। তাই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে জাল নোটগুলি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ঢুকল এবং তার কোনও অংশ পরবর্তী কালে বৈধ ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল কি না।

    এনআইএ জানিয়েছে, মামলাটি পিএনবির কারেন্সি চেস্টে জাল নোট সংক্রান্ত একটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তের মাধ্যমে পুরো “ষড়যন্ত্রের সম্পূর্ণ চিত্র” উদঘাটন এবং অন্যান্য অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    তদন্তে তিন পিএনবি আধিকারিক

    তদন্তে চিহ্নিত তিন পিএনবি আধিকারিক হলেন— সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, সোফিয়া মার্কেট কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমার। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের তথাকথিত যোগসূত্র সামনে আসার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করেন তিনজনকেই।

    পরবর্তী কালে এসআইটি (SIT) এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ তিন আধিকারিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করে। তাঁদের যোগাযোগ, গতিবিধি এবং অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করতে ওই সব সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে তদন্তভার

    ৩ সেপ্টেম্বর তদন্তভার নেওয়ার পর এনআইএ মামলাটি নতুন করে নথিভুক্ত করেছে। এর আগে ২৯ অগাস্ট সদর বাজার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ধারা ১৭৮-এর অধীনে মূল এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। জাল নোট উদ্ধারের আগে মুদ্রাগুলি কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়েছিল, সেই গোটা গতিপথ পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন (Fake Currency Case) তদন্তকারীরা।

    কীভাবে জাল নোট ঢুকল মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায়?

    তদন্ত থেকে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই সাহারানপুর থেকে ১১১ কোটি টাকা মূল্যের মুদ্রা কারেন্সি-হ্যান্ডলিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) জয়পুর দফতরে পাঠানো হয়েছিল। ওই চালানে লেখা ছিল— ৫০০ টাকার নোটের ১,৯০০ বান্ডিল এবং ২০০-এর ৮০০ বান্ডিল।

    চালানটির প্যাকিং ও পাঠানোর প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এক গৃহপরিচারকের হাতে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে সন্দেহের তালিকায় থাকা জাল নোটগুলি মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকেছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    জাল নোটের অনিয়ম ধরা পড়ার আগে কারেন্সি চেস্ট থেকে ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখা এবং এটিএম-এ ওই নোটগুলির কিছু অংশ পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (NIA)। এই তদন্তের অন্যতম বড় প্রশ্ন হল—সন্দেহমূলক জাল নোটের কতটা ইতিমধ্যেই বাজারে ঢুকে পড়েছে। কারেন্সি চেস্টের বাইরে কত পরিমাণ নোট গিয়েছিল, আদৌ গিয়েছিল কি না—তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    নেপালের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের তদন্ত

    তদন্তে সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্রের দিকটিও সামনে এসেছে। তিন অভিযুক্তের যোগাযোগ ও গতিবিধি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি বা সীমান্তের ওপারে সক্রিয় (Fake Currency Case) কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এই আশঙ্কার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

    তবে নেপালের সঙ্গে কোনও নিশ্চিত যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকারীরা আপাতত একে তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক হিসেবেই দেখছেন। সাহারানপুরের এসএসপি অভিনন্দন এর আগে তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারির কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের আশঙ্কা ছিল, অভিযুক্তরা নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন। সেই (NIA) কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়।

     

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসে পাঁচতারা হোটেল নয়, নাগোয়ায় নির্ধারিত আবাসনেই থাকবেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসে পাঁচতারা হোটেল নয়, নাগোয়ায় নির্ধারিত আবাসনেই থাকবেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশ সফরে সাধারণত পাঁচতারা হোটেলেই থাকার অভ্যাস ভারতীয় ক্রিকেট দলের। কিন্তু ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) সেই চেনা ছবি দেখা যাবে না। জাপানের নাগোয়ায় আয়োজকদের নির্ধারিত আবাসনেই থাকবেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তবে হোটেল পাঁচতারা না হলেও সেখানে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে আপাতত সন্তুষ্ট ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের হোটেল নিয়ে এর আগে তৈরি হয়েছিল কিছুটা ধোঁয়াশা। আয়োজকদের দেওয়া আবাসন নিয়ে বিসিসিআই-এর অসন্তোষ রয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন, নাগোয়ায় আয়োজকদের নির্ধারিত হোটেলেই থাকবেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা এবং থাকার ব্যবস্থা নিয়ে বোর্ড সন্তুষ্ট।

    পাঁচতারা হোটেল না হলেও আলাদা ঘর ক্রিকেটারদের

    রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন, ভারতীয় দলের প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা সাধারণত ভারতীয় ক্রিকেটাররা পান, তার সবটা না থাকলেও অন্তত টুইন-শেয়ারিং বা দু’জনের সঙ্গে একই ঘরে থাকার প্রয়োজন হবে না। বোর্ডের পক্ষ থেকে হোটেলের ছবি ও ভিডিও আগেই দেখে নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজীব শুক্ল।

    কেন টোকিও বা ওসাকায় নয়

    ভারতীয় দলকে টোকিও কিংবা ওসাকায় রাখার পরিবর্তে নাগোয়াতেই রাখার সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে মূলত যাতায়াতের বিষয়টি। নাগোয়া থেকে টোকিও কিংবা ওসাকা—দুই শহরই বুলেট ট্রেনে প্রায় দেড় ঘণ্টা দূরে। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ যাতায়াত করলে ক্রিকেটারদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। রাজীব শুক্লা বলেন, আয়োজকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া সমস্ত দলকে একই জায়গায় রাখা। কিছু দল টোকিও এবং কিছু দল ওসাকায় থাকলে গোটা আয়োজনের সমন্বয়ও কঠিন হয়ে যেত। তাই নাগোয়াতেই থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    হোটেলের চেয়ে বেশি চিন্তা মাঠ নিয়ে

    ভারতীয় দলের আবাসন নিয়ে আলোচনা হলেও বিসিসিআই-এর কাছে আসল উদ্বেগ ছিল মাঠ, উইকেট এবং ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থা নিয়ে। রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন, সেই সমস্যাগুলিও ইতিমধ্যে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) একটি দল নাগোয়ায় গিয়ে মাঠ ও অন্যান্য পরিকাঠামো পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনের পর মাঠ, উইকেট এবং ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থা নিয়ে এসিসি-ও সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন বিসিসিআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট। ভারতীয় ক্রিকেট দলের আবাসন ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, এশিয়ান গেমসের আয়োজক কমিটি এবং জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। বিসিসিআই-ও গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখছে। অর্থাৎ, পাঁচতারা হোটেল না হলেও ক্রিকেটারদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং খেলার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করার দিকেই আপাতত বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় বোর্ড। ফলে এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ নাগোয়াতেই দেখা যাবে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অভিযান।

  • Nitin Nabin: নয়া কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর প্রথম বঙ্গ সফরে নিতিন নবীন, যোগ দেবেন সাংগঠনিক বৈঠকে

    Nitin Nabin: নয়া কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর প্রথম বঙ্গ সফরে নিতিন নবীন, যোগ দেবেন সাংগঠনিক বৈঠকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। ১৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনের সফরে বাংলায় আসার কথা তাঁর। সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ (BL Santosh)। দলীয় সূত্রে খবর, এই সফরে মূলত সাংগঠনিক বৈঠকেই জোর দেওয়া হবে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দলের সাংগঠনিক অবস্থান—সব কিছুই খতিয়ে দেখবেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

    সাংগঠনিক বৈঠক (Nitin Nabin)

    দলীয় সূত্রের খবর, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর টানা দু’দিন বিভিন্ন স্তরের সাংগঠনিক বৈঠক করবেন নিতিন নবীন। রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি জেলা নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। সংগঠনের কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, বুথস্তরে দলের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, ঘাটতিই বা কোথায়—সেই সব বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট নেওয়া হবে বলে খবর।

    এই সফরে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন এবং পুরসভা নির্বাচন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করা, তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে সক্রিয় করা এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই মূল লক্ষ্য বলে বিজেপি সূত্রে খবর। এর পাশাপাশি জনসংযোগ কর্মসূচি কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সেই বিষয়েও রাজ্য নেতৃত্বকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন নিতিন নবীন।

    ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির নিরবচ্ছিন্ন কার্যকালের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচি পালিত হবে। নিতিন নবীনের বঙ্গ সফরে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    দু’দিনের সফরসূচি চূড়ান্ত

    উল্লেখ্য, গত অগাস্টেই জানা গিয়েছিল, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলায় আসতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। প্রথমে তাঁর তিন দিনের সফরের কথা থাকলেও, পরে কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দু’দিনের সফরসূচি চূড়ান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    এর আগে নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) সফর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাংগঠনিক কর্মসূচি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানা গিয়েছিল। তবে বর্তমান সফরসূচিতে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাংগঠনিক বৈঠককে।

    দলীয় সূত্রে খবর, বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নিতিন নবীনকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে। রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট নেওয়ার পাশাপাশি কার্যকর্তাদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলবেন তিনি। বুথস্তরে দলের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে তাঁদের মতামত শোনার কথা রয়েছে।

    শুধু রিপোর্ট নেওয়াই নয়, দলের কর্মীদের উদ্দেশেও প্রয়োজনীয় বার্তা দিতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। নির্বাচনের আগে কীভাবে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা যায়, কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো সম্ভব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ আরও নিবিড় করার কৌশল কী হবে—সেই বিষয়েও দিকনির্দেশ দিতে পারেন তিনি।

    দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) এই বঙ্গ সফরকে তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর রাজ্যে তাঁর প্রথম সফরে সাংগঠনিক বৈঠকের পাশাপাশি (BL Santosh) নির্বাচনী প্রস্তুতিও যে বিশেষ গুরুত্ব পাবে, তা বলাই বাহুল্য।

  • Kolkata Guest Houses: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনের জের! কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস পুরনিগমের

    Kolkata Guest Houses: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনের জের! কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস পুরনিগমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে কলকাতায় বন্ধ হতে পারে ৯১৯টি গেস্ট হাউস! মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গেস্ট হাউসগুলি (Kolkata Guest Houses) পরিদর্শনে গিয়ে হতচকিত হয়ে গিয়েছে কলকাতা পুরনিগমের প্রতিনিধি দল। কোথাও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ নেই। কোথাও গেস্ট হাউস চালানোর বৈধ লাইসেন্সই নেই। এর পরেই পুর কমিশনারকে এই গেস্ট হাউসগুলি বন্ধ করার সুপারিশ (KMC Send Notice) করেছে দলটি। মাপকাঠি পূরণ করলে তবেই আবার গেস্ট হাউস খোলার ছাড়পত্র দেওয়া হবে। পুরসভার পরীক্ষায় পাশ করেছে মাত্র ৪১টি গেস্ট হাউস। কলকাতায় মোট ৩ হাজার ৭০০ গেস্ট হাউস রয়েছে।

    কেন নোটিস গেস্টহাউসগুলিকে

    বীরভূমের তারাপীঠ এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর হোটেলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৯৬০টি গেস্ট হাউসে এখনও পর্যন্ত পরিদর্শনে গিয়েছে পুরনিগম, দমকল, সিইএসসি-র যৌথ দল। ৯৬০টি গেস্ট হাউসের মধ্যে ৯১৯টি গেস্ট হাউজকে বন্ধ করে দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছে। ৪১টি গেস্ট হাউস ঠিক আছে বলে মনে করছে কলকাতা পুরনিগম। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, যে গেস্ট হাউসগুলিকে নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। শুধু তাই নয়, কিছু হোটেল বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চালানো হচ্ছিল। সেই বাড়িগুলির অবস্থা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, আবাসিরকদের থাকার ঘরের অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রবেশ-প্রস্থানের পথ, বিদ্যুতের সংযোগ খতিয়ে দেখেছেন আধিকারিকেরা। তবে, সামনে উৎসবের মরশুম। তাই পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে পৌরনিগম বার্তা দিয়েছে, শর্তাবলী মেনে এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আধুনিক ও ত্রুটিমুক্ত করে আবেদন জানালে পুনরায় হোটেল খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।

    অগ্নি নির্বাপণ দফতরের সচিব বদল

    রাজ্যে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মধ্যেই অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিব বদল করেছে নবান্ন। অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিবের পদ থেকে খলিল আহমেদকে সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় ওঙ্কার সিং মীনাকে অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন কৃষি দফতরের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ওঙ্কার সিং মীনা। দেবীপ্রসাদ করণমকে কৃষি দফতরের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরপর অগ্নিকাণ্ড ও অগ্নি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্নের আবহে দমকল দফতরের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে এই বদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিউ মার্কেট এলাকায় ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগার পরে ওই এলাকা-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় হোটেল, গেস্ট হাউসগুলিকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কেন হোটেলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করে শনিবারের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে হবে।

LinkedIn
Share