Tag: Madhyom

Madhyom

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) ভারতের বিজয়রথ এগিয়ে চলেছে। বুধবার, চলতি গেমসের তৃতীয় সোনা এল ভারতের ঝুলিতে। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে নজির গড়ে সোনা জিতলেন দিলীপ মহাদু গাভিত। মহম্মদ বাসিল রুপোর পদক জিতলেন। অন্যদিকে, লং জাম্পে মুরলি শ্রীশঙ্কর টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর পদক জিতেছেন। এখানেই শেষ নয়, কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় বক্সারেরা বুধবার পাঁচটি পদক নিশ্চিত করলেন। সব মিলিয়ে বক্সিংয়ে ভারতের ন’টি পদক নিশ্চিত হল। বুধবার বক্সিংয়ের পাঁচটি কোয়ার্টার ফাইনালেই জয় পেলেন ভারতীয়েরা। পদকজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    গাভিত ও বাসিলের ঐতিহাসিক সাফল্য

    বুধবার প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের অন্যতম সেরা সাফল্য আসে। পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ বিভাগে দিলীপ মহাদু গাভিত সোনা জিতে নিয়েছেন। আবার তাঁরই সতীর্থ মহম্মদ বাসিল মোরসিংগানাকাথ রুপোর পদক জিতে ভারতের ঐতিহাসিক ১-২ ফিনিশ নিশ্চিত করেন। গাভিত ১০.৭১ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন। একইসঙ্গে এটি ছিল তাঁর মরসুমের সেরা পারফরম্যান্স। অন্যদিকে বাসিল ১০.৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের মরসুমের সেরা টাইমিং করে রুপো জেতেন। এই সোনার পদকের মাধ্যমে গ্লাসগো গেমসে ভারতের তৃতীয় সোনা এল। এর আগে মহিলাদের ৪৮ কেজি ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানু এবং মহিলাদের এফ৫৭ শট পুটে শর্মিলা ধানকর সোনা জিতেছিলেন।

    গুরু পূর্মিমায় কোচকে পদক উৎসর্গ গাভিতের

    গুরু পূর্ণিমার দিন নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোচকে উৎসর্গ করলেন ভারতের প্যারা স্প্রিন্টার দিলীপ মাহাদু গাভিত। কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ পুরুষদের টি৪৭ বিভাগের ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা জয়ের পর তিনি এই পদক তাঁর কোচ বৈজনাথ কালের হাতে উৎসর্গ করেন। গ্রামের খামারে কাজ করার সময় তাঁর প্রতিভা চিনে নিয়ে যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই গুরুকেই কৃতজ্ঞতা জানালেন গাভিত। সোনা জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ বলেন, “শুরুরটা একটু ধীর ছিল। পরে গতি বাড়াতে পেরেছি। আগামীবার আরও ভালো করব। সাধারণত আমি ৪০০ মিটার দৌড়াই, সেটাই আমার মূল ইভেন্ট। কিন্তু এখানে শুধু ১০০ মিটার দৌড়ানোর সুযোগ ছিল এবং আমি দারুণ উপভোগ করেছি। আমি নাসিকের তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের ছেলে। আগে গ্রামের খামারে কাজ করতাম। তখনই আমার স্যার বৈজনাথ কালে আমাকে দৌড়তে দেখে নাসিকে প্রশিক্ষণের জন্য ডাকেন। তিনি বলেছিলেন, সমস্ত খরচ তিনিই বহন করবেন। আজ গুরু পূর্ণিমা, তাই এই পদক আমার গুরুকে উৎসর্গ করলাম।”

    গুরু-শিষ্যের প্রেরণার সম্পর্ক

    মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম দিলীপের। পাঁচ সদস্যের আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারে বড় হওয়া এই অ্যাথলিটের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে পৌঁছনোর স্বপ্ন একসময় ছিল অনেক দূরের। কিন্তু কোচ বৈজনাথ কালের নজরে পড়ার পরই বদলে যায় তাঁর জীবন। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সমস্ত খরচের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন কালে। ডান হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ হারিয়েও নিজের লড়াই থামাননি দিলীপ। সুরগানা তহসিলের শহিদ ভগৎ সিং স্কুলে পড়াশোনা করার পর সম্পূর্ণভাবে অ্যাথলেটিক্সে মনোনিবেশ করেন তিনি। বর্তমানে অলিম্পিক গোল্ড কোয়েস্টের সহায়তায় ভারতের অন্যতম সফল প্যারা স্প্রিন্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দিলীপের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কোচ বৈজনাথ কালে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল রেকর্ড গড়া। আবহাওয়ার কারণে শুরুটা পরিকল্পনামতো হয়নি। কিন্তু ঠিক কৌশল মেনে প্রথম ৫০ মিটারের পর দিলীপ দুর্দান্তভাবে গতি বাড়ায়। আসলে ওর মূল ইভেন্ট ৪০০ মিটার। দুর্ভাগ্যবশত, কমনওয়েলথ গেমসে ৪০০ মিটার ছিল না। তাই আমরা ১০০ মিটারে নামার সিদ্ধান্ত নিই। সেই ইভেন্টেই যোগ্যতা অর্জন করে শেষ পর্যন্ত সোনা জিতে নিল।” গুরু পূর্ণিমার দিনে শিষ্যের এই সাফল্য শুধু ভারতের পদক তালিকায় আর একটি সোনা যোগ করেনি, বরং একজন কোচ ও তাঁর ছাত্রের অনন্য সম্পর্কের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছে।

    ভারতীয় বক্সারদের দাপট

    পুরুষ এবং মহিলা বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৪ জন বক্সারের দল পাঠিয়েছে ভারত। চার জন হেরে গিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই। নিজেদের বিভাগের শেষ চারে পৌঁছে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন অঙ্কুশ যাদব, সাক্ষী চৌধরী, অরুন্ধতী চৌধরী, সচিন সিওয়াচ এবং নরেন্দ্র বেরওয়াল। পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন সেশেলসের জেড মিকককে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জোসুয়া ওফোরি। সচিন ৬০ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন বতসোয়ানার ট্রেসর মোরেমিকে। সচিনের পক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ফল ৫-০। শেষ চারের লড়াইয়ে তাঁর প্রতিপক্ষ ওয়েলসের হ্যারিস অ্যালান। নরেন্দ্র ৯০+ কেজি বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছেন সামোয়ার মাইকেল সেকোকে। সেমিফাইনালে তাঁকে লড়াই করতে হবে ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর নিগেল পলের বিরুদ্ধে।

    নারীশক্তির প্রভাব

    মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে উঠেছেন সাক্ষী। তিনি ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্যাটলিন ফ্রায়ার্সকে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জেন ওয়াল। অরুন্ধতী জয় পেয়েছেন মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগে। তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের মরগ্যান হেন্ডারসনকে। সেমিফাইনালে তাঁর লড়াই ওয়েলসের রোজি একসেলের সঙ্গে। সেমিফাইনালে উঠে আগেই পদক নিশ্চিত করেছেন আরও চার জন। তাঁরা হলেন লভলীনা বরগোহাঁই (৭৫ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি) এবং যদুমণি সিং (৫৫ কেজি)।

    ভারতের ঝুলিতে পদকের সম্ভাবনা!

    এছাড়া অ্যাথলেটিক্সে অনিমেষ কুজুর ২০০ মিটারের সেমিফাইনালে উঠেছেন। আর শট পুটে তাজিন্দরপাল সিং তুর ও সমরদীপ সিং গিল ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। লন বোলসেও ভারত দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। নবনীত সিং ও দিনেশ কুমারের জুটি নামিবিয়াকে হারিয়ে এগিয়ে চলেছে। যার ফলে ভারতের মেডেলের ঝুলি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুরুষদের ৪০০ মিটার হার্ডলসেও এগিয়ে চলেছে ভারত। এক্ষেত্রে যশস পালক্ষা ও সন্তোষ কে তামিলারাসান ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। হিট-২-এ সন্তোষ ৪৯.৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন। হিট-১-এ যশস ৪৯.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন।

    আজ নামছেন নীরজ

    কমনওয়েলথ গেমসে আজ অভিযান শুরু নীরজ চোপড়ার। জ্যাভলিনের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে নামছেন ২০২০ সালের অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন নীরজ। দু’বছর আগের অলিম্পিক্সে অবশ্য রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৮ সালের কমনওয়েলথ গেমস চ্যাম্পিয়ন নীরজ এ বার কি পারবেন? যোগ্যতা অর্জন পর্ব দুপুর ২:৫৫ থেকে। সম্প্রচারিত হবে সোনি স্পোর্টস চ্যানেল ও সোনি লিভ অ্যাপে।

  • Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের (Pavel Durov) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে রাশিয়ার ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি)। একই সঙ্গে তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় তোলার প্রক্রিয়াও শুরু (Terrorism Arrest Warrant) হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস। এফএসবি জানিয়েছে, টেলিগ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দুরভের বিরুদ্ধে রুশ ফৌজদারি আইনের ২০৫.১ ধারার ১.১ অংশে মামলা করা হয়েছে। ওই ধারাটি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সাহায্যেপ সঙ্গে সম্পর্কিত। তাসের প্রতিবেদনে এফএসবির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “টেলিগ্রাম প্রশাসনের প্রধান পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন একটি ফৌজদারি মামলার অংশ হিসেবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির জন্য আন্তর্জাতিক পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।”

    স্পুটনিকের বক্তব্য (Terrorism Arrest Warrant)

    রুশ আইনজীবী ভ্লাদিমির ঝেরেবেনকভ জানিয়েছেন, দুরভের অনুপস্থিতিতেও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাসকে ঝেরেবেনকভ বলেন, “রাশিয়ায় কোনও ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য এটি একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। রুশ আদালত কারও অনুপস্থিতিতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর রুশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ওই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমও রয়েছে। দুরভের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।” আইনি প্রতিনিধির বক্তব্য দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক জানিয়েছে, দুরভের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে, এফএসবির তথ্য উদ্ধৃত করে স্পুটনিক দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলা এবং ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা সমন্বয়ের জন্য টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করলেও, সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি টেলিগ্রাম।

    রাশিয়ার দাবি

    রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নারী এবং শিশুও রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকশ’ কোটি ডলারের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা (Terrorism Arrest Warrant)। স্পুটনিক আরও জানিয়েছে, এফএসবির অভিযোগ অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা টেলিগ্রামের পরিচয়-পরিচয় সেবা ব্যবহার করে তরুণী সেজে রুশ পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে তাঁদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হত। এফএসবির আরও দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চলে ওই পরিচয়-পরিচয় সেবার ৪৬ জন তরুণ ব্যবহারকারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মতো কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ফরাসি কৌঁসুলিদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৪১ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম-সংক্রান্ত একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া, প্রতারণা এবং মাদক বিক্রির অভিযোগও ছিল। সেই সময় দুরভ বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের একটি মঞ্চ পরিচালনার ক্ষেত্রে (Pavel Durov) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশে সরকারি দাবি মেনে নেওয়ার চেয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়াকেই (Terrorism Arrest Warrant) তাঁর সংস্থা বেছে নিতে প্রস্তুত ছিল।

  • US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতির পর বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন টার্গেটে ফের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা (US Resumes Airstrikes)। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পর তার জবাবেই এই অভিযান (Missile Attack) শুরু করা হয়েছে। হামলা শুরুর পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে হামলা (US Resumes Airstrikes)

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, “আজ রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের গতকালের হামলার চেষ্টার জোরালো জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।” মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। দ্বীপটির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি বুশেহর-সহ দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    এর কয়েক দিন আগে ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, সবক’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়। ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে মার্কিন কমান্ড বিস্তারিত কিছু না জানালেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও জানিয়েছে, তারা জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং আরও একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এটিই ছিল ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা। ওই বিরতির উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এবার আমাদের পালা। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব।” তবে সামরিক পাল্টা জবাবের কথা বললেও কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, সংঘাত শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক সমঝোতার এখনও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের সামরিক অভিযান (Missile Attack) শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ভালো আলোচনা করছি। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দু’দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব (US Resumes Airstrikes)।”

    মার্কিন সেনার দাবি

    গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার জন্যই ওই বিরতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল। ওই বৈঠকে ইরান ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে (US Resumes Airstrikes)। এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ হামলা চালায়। মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, তিন দিনে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ওয়াশিংটন ওই হামলাগুলির জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে দায়ী করেছে। ইরাকের জনপ্রিয় জনসমাবেশ বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন (US Resumes Airstrikes)।

    ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা!

    এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল কারখানাগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রিয়াধের অভিযোগ, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ওই হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের ক্ষেত্রে এই পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে (Missile Attack)। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে বলে জানা গেলেও, ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ফের শুরু হওয়া এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর নতুন করে তৈরি করেছে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা (US Resumes Airstrikes)।

     

  • UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    UV Rays: শুধু গরম নয়, ভয় অতিবেগুনি রশ্মিরও! রোদে বেরোলে কেন ইউভি ইনডেক্স দেখা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঝকঝকে সূর্যের আলোতেও লুকিয়ে রয়েছে বিপদ! দিনের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। সতর্কতা অবলম্বন করে চললে বড় বিপদ এড়ানো সহজ হবে। চিকিৎসকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যদি এখন থেকেই ত্বকের স্বাস্থ্য এবং সূর্যরশ্মি নিয়ে সচেতনতা, না বাড়ে, তাহলে আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে ত্বকের ক্যান্সার সহ একাধিক জটিল রোগের প্রকোপ বাড়বে। বিশেষত ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, যে হারে সূর্যের তেজ বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। জুলাই মাস জুড়ে চিকিৎসকেরা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পালন করছেন। দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্কুল পড়ুয়া থেকে কর্মরত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। কীভাবে কয়েকটি অভ্যাস তৈরি করলে ত্বকের একাধিক সমস্যা কমানো যাবে, সে দিকগুলো চিকিৎসকেরা তুলে ধরেছেন।

    কেন সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি নিয়ে সচেতনতা জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের আলো যেমন স্বাস্থ্যের একাধিক উপকার করে, তেমনি কিছু কিছু ক্ষতিকারক রশ্মি ও রয়েছে। যার জন্য ত্বকে চিরস্থায়ী গভীর ক্ষতি হতে পারে। এই দিক সম্পর্কে এখনো সচেতনতার হার কম। তাই নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি বা UV রশ্মি ত্বক ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করে। লাগাতার এই আলো শরীরে স্পর্শ করলে ত্বকের কোষগুলো নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ত্বকের ক্যান্সারের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার চোখের কর্নিয়ার ক্ষতিও করে। ফলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা হয়।

    ভারতে কি এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির জেরে বিশ্ব জুড়ে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত ত্বক ও চোখের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারতেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কয়েক দশক আগেও ভারতে এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা অত্যন্ত ব্যতিক্রম ছিলো। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের জেরে এখন ভারতেও এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর ত্বকের ক্যান্সার, দীর্ঘমেয়াদি সান বার্নের সমস্যা, চোখের ক্ষতি হচ্ছে, এমন সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাছাড়া এখন বাইরে কাজ করেন, এমন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এখন সকলেই বাইরে যান। কাজ করেন। দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্য রশ্মির স্পর্শে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই ধরনের সমস্যাও বাড়ছে।
    তাছাড়া, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ভারতেও রোদের দাপট বাড়ছে। সূর্যের তেজ বাড়ছে। তেমনি গরম দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতের অধিকাংশ জায়গায় ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকেই রোদের দাপট দেখা দিচ্ছে। জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় তীব্র গরম থাকছে। এমনকি বর্ষার পরেও সূর্যের দাপট চলে। ফলে এই বাড়তি গরমে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

    কীভাবে সুরক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ, আবহাওয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। তবেই এই পরিবর্তিত জলবায়ুতে সুস্থ থাকতে পরিবেশ সচেতন হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাঁদের পরামর্শ , সূর্যরশ্মির প্রকোপ কতখানি অর্থাৎ ইউভি ইন্ডেক্স (UV Index) দেখে আগাম সতর্কতা নিয়ে বাইরে যেতে হবে। অর্থাৎ আকাশ মেঘলা, বৃষ্টি হবে নাকি ঝড় হবে, এগুলোর যেমন পূর্বাভাসের খবর নেওয়া হয়, তেমনি প্রত্যেক দিনের  ইউভি ইন্ডেক্স সম্পর্কেও সজাগ থাকতে হবে। যদি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রকোপ যেদিন বেশি থাকবে, সেদিন শরীর সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরা প্রয়োজন। তবে প্রত্যেক দিন বাইরে যাওয়ার আগে মুখ এবং শরীরের যে অংশ পোশাকে ঢাকা থাকছে না, সেই সব অংশে সান স্ক্রিন লাগানো জরুরি। শিশু হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক, নিয়মিত সান স্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস জরুরি। ত্বকের একাধিক সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে। প্রয়োজন না হলে বেলা বারোটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলতে পারলেই ভালো। কারণ এই সময়ে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির দাপট সবচেয়ে বেশি। তবে, সবচেয়ে জরুরি পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শরীরে জলের ঘাটতি না হলে সূর্যের প্রকোপে ঘটা একাধিক রোগের দাপট কমানো সহজ হয়। তাই বাইরে যাওয়ার আগে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। সঙ্গে জল রাখার অভ্যাস থাকা দরকার। যাতে বারেবারে জল খাওয়া হয়। শরীরে কখনোই জলের ঘাটতি না দেখা দেয়।

  • NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    NTPC: ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এনটিপিসি, নবীকরণযোগ্য-পারমাণবিক বিদ্যুতে বড় বাজি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা এনটিপিসি আগামী ১১ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকা (প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা  ঘোষণা করেছে। সংস্থার ইতিহাসে এটিই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় মূলধনী বিনিয়োগ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি বহুমুখী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সংস্থায় রূপান্তরই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

    বড় লগ্নির পরিকল্পনা (NTPC)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৭ সালের মধ্যে এনটিপিসি তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ২৫০ গিগাওয়াটে নিয়ে যেতে চায়। পাশাপাশি, ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ু-সহ ১০টি রাজ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এনটিপিসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুরদীপ সিং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা যদি ২০৩৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত হিসাব করি, তাহলে আগামী প্রায় ১০ বছরে ১৬.৬৮ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বিনিয়োগ করব। বিনিয়োগের পরিমাণ এই স্তরেই পৌঁছবে।” তিনি জানান, ২০৩২ অর্থবর্ষের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ হবে সংস্থার সম্প্রসারণের পরবর্তী বড় ধাপ। প্রচলিত চাপযুক্ত ভারী জলচালিত পারমাণবিক চুল্লির পাশাপাশি আধুনিক চুল্লি প্রযুক্তির উন্নয়নেও কাজ করছে এনটিপিসি।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা

    তিন ধাপে এই বিপুল বিনিয়োগ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.০৮ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এরপর ২০২৮ থেকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৫.৯৭ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার বড় অংশ যাবে নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতে। ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আরও ৯.৬৩ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এনটিপিসি বছরে গড়ে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা মূলধনী ব্যয় করে। গুরদীপ বলেন, “নবীকরণযোগ্য জ্বালানিই ভবিষ্যতে এনটিপিসির প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে।” তাঁর মতে, বর্তমানে সংস্থার নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২ গিগাওয়াট। সেটিকে ২০৩২ অর্থবর্ষের মধ্যে ৬০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৭ অর্থবর্ষের মধ্যে ১৩৬ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা

    এই সম্প্রসারণে সহায়তা করবে ৩৮.৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারি জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ৮০ গিগাওয়াটেরও বেশি পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্প। পাশাপাশি, বিশাখাপত্তনমের কাছে পুদিমাদকায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সবুজ হাইড্রোজেন কেন্দ্র গড়ে তুলছে এনটিপিসি। সেখানে সবুজ হাইড্রোজেনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও রাসায়নিক উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। নীতি আয়োগের পূর্বাভাস, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৭৫০ গিগাওয়াটে পৌঁছতে পারে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা রেকর্ড ২৭১ গিগাওয়াটে পৌঁছেছিল। নবীকরণযোগ্য জ্বালানির প্রসারের ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমলেও, এনটিপিসির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন বছরে ২৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে গুরদীপ বলেন, “আমাদের পিছিয়ে পড়ার কোনও কারণ নেই।” এদিকে, এনটিপিসি এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ ‘অনুশক্তি বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (অশ্বিনী)’ রাজস্থানের মাহি বানসওয়ারায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করছে।

     

  • Public Examination Amendment Bill 2026: দীর্ঘ বিতর্কের পর লোকসভায় পাশ সরকারি পরীক্ষা সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে আরও কড়া শাস্তি

    Public Examination Amendment Bill 2026: দীর্ঘ বিতর্কের পর লোকসভায় পাশ সরকারি পরীক্ষা সংশোধনী বিল, প্রশ্নফাঁসে আরও কড়া শাস্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানা আলোচনা, সরকার ও বিরোধী পক্ষের তীব্র বাকযুদ্ধ এবং একাধিক বিতর্কের পর বুধবার লোকসভায় (Lok Sabha) পাশ হল সরকারি পরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল (Public Examination Amendment Bill 2026), ২০২৬। মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত বিল নিয়ে আলোচনা চলে। বুধবার ফের আলোচনা শুরু হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিলটি (Public Examination Amendment Bill 2026) পাশ হয়।

    আরও কঠোর শাস্তি

    নতুন সংশোধনী (Public Examination Amendment Bill 2026) অনুযায়ী, পরীক্ষায় অসাধু উপায়ে জড়িতদের ন্যূনতম কারাদণ্ড তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হবে দশ বছর পর্যন্ত। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    সংগঠিত চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা

    সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত চক্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেই সাজা দশ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ জরিমানা এক কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে দশ কোটি টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে।

    পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার জন্যও কড়া নিয়ম

    যে সব সংস্থা পরীক্ষার কাজ পরিচালনা করে, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ জরিমানা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি সরকারি পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    বিশেষ তদন্তকারী দল ও দ্রুত বিচার

    বিলে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের ক্ষমতা কেন্দ্রকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অভিযোগপত্র জমা পড়ার পর ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে প্রতিদিন শুনানি চালিয়ে তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করারও প্রস্তাব রয়েছে। প্রতিটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের জন্য বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    লোকসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক

    বিল নিয়ে আলোচনায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্রদের আন্দোলন কোনও হিংসা নয়, বরং দেশের তরুণদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু একটি প্রতীক; দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অন্য শক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ঠুর এবং তরুণদের স্বাধীনভাবে ভাবার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সময় শাসক দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তাঁর বক্তব্যের একটি শব্দের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলেন। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা রাহুলকে ভাষা ও অভিযোগের ক্ষেত্রে সংযত থাকার পরামর্শ দেন।

    সরকারের পাল্টা জবাব

    জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা না করে বিরোধীরা রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন। দেশের যুব সমাজকে অপমান করে সংসদীয় ভাষার সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর অভিযোগও খারিজ করেন তিনি। জিতেন্দ্র সিং বলেন, কোথাও গুলি চালানো হয়নি, কেবল কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কোনও মন্ত্রীর নয়, সেই সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারিক আধিকারিক।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিল?

    গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি চাকরি ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে, প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। লোকসভায় (Lok Sabha) পাশ হওয়ার পর এবার বিলটি (Public Examination Amendment Bill 2026) রাজ্যসভায় তোলা হবে।

  • Bareilly Businessman Murder: ‘জিনে’র নির্দেশে খুন! সকালে হাঁটতে বেরিয়ে নৃশংসভাবে খুন ব্যবসায়ী , গ্রেফতার তরুণ-সহ ২

    Bareilly Businessman Murder: ‘জিনে’র নির্দেশে খুন! সকালে হাঁটতে বেরিয়ে নৃশংসভাবে খুন ব্যবসায়ী , গ্রেফতার তরুণ-সহ ২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে বছর সত্তরের এক ব্যবসায়ীকে (Bareilly Businessman Murder) নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বছর উনিশের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে (Mohammad Arman)। ধৃতের দাবি, একটি “জিন” তাকে রক্ত ঝরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই সামনে যাকে প্রথম সে পেয়েছিল, তাকেই হত্যা করে বলে জেরায় জানিয়েছে অভিযুক্ত। যদিও পুলিশ স্পষ্ট করেছে, অভিযুক্তের এই দাবি এখনও প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না। ফরেন্সিক ও অন্যান্য প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হাঁটতে বেরিয়ে খুন (Bareilly Businessman Murder)

    নিহত সিয়ারাম শ্রীবাস্তব গত ২৪ জুলাই সকালে প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। বেরেলির ভোজিপুরা এলাকার ধৌরাতান্ডা জাতীয় সড়কের কাছে হাঁটতে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজখবর শুরু করেন। পরে রাস্তার ধারে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক ডজনেরও বেশি বার কোপানো হয়েছিল। বেরেলির প্রবীণ পুলিশ সুপার অনুরাগ আর্যের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। প্রথমে প্রতিবেশীদের দিকটি খতিয়ে দেখা হলেও, তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ মেলেনি। এরপর বিশেষ অভিযানকারী দল, স্থানীয় পুলিশ এবং অপরাধ দমন শাখা এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে। তদন্তের সূত্র ধরে মহম্মদ আরমানকে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণের সঙ্গে অভিযুক্তের গতিবিধি এবং তার গাড়ির মিল পাওয়া যায়। এরপর গ্রেফতার করা হয় তাকে।

    রক্ত চাইত জিন!

    জেরায় আরমান জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সে একটি “জিনে”র কণ্ঠস্বর শুনতে পেত। তার দাবি, ওই অদৃশ্য সত্তা বারবার রক্ত চাইত এবং শেষ পর্যন্ত সামনে যাকে প্রথম দেখবে, তাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়। পুলিশের দাবি, সেই নির্দেশ মেনে আরমান প্রথমে নিজের গাড়ি দিয়ে সিয়ারামকে ধাক্কা মারে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরপর আঘাত করে তাঁকে খুন করে। তবে এই বর্ণনা মূলত অভিযুক্তের জবানবন্দির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে তা মেলে কি না, তা ফরেন্সিক ও অন্যান্য প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে (Bareilly Businessman Murder)। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর আরমান একটি ধর্মীয় স্থানে গিয়ে ধূপ জ্বালায়। তার বিশ্বাস ছিল, সে “জিনে”র রক্তের চাহিদা পূরণ করেছে। পরে বাড়ি ফিরে বাবাকে পুরো ঘটনাটি জানায়। পুলিশের অভিযোগ, ছেলে খুন করার কথা স্বীকার করার পরেও তার বাবা ইমতিয়াজ আহমদ পুলিশকে খবর দেননি। বরং প্রমাণ নষ্ট করতে এবং অপরাধের তথ্য গোপন করতে ছেলেকে সাহায্য করেন। এই অভিযোগে ইমতিয়াজ আহমদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা (Mohammad Arman) ধারালো অস্ত্র এবং সেই গাড়িটিও উদ্ধার করেছে, যেটি দিয়ে প্রথমে সিয়ারামকে ধাক্কা মারা (Bareilly Businessman Murder) হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

     

  • Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রথম বার জনগণনা শুরু হচ্ছে ভারতে। শনিবার জনগণনার (Census) প্রথম ধাপ শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal Census)। রয়েছে সেল্‌ফ এনুমারেশন বা স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া (Digital Census), যাতে নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিবদ্ধ করতে পারবেন নাগরিকেরা। আগামী ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত প্রথম ১৫ দিন স্ব-শুমারির জন্য নির্দিষ্ট করেছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে নাগরিকেরা অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সে জন্য তাঁদের জনগণনা সম্পর্কিত পোর্টাল https://se.census.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে প্রথমে। জনগণনার প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য সেখানেই পূরণ করা যাবে।

    কী ভাবে, কোথায় তথ্য নথিভুক্ত করবেন

    সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগ ইনের পর দেখা যাবে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিকল্প। যিনি যে রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁকে সেই রাজ্য ‘সিলেক্ট’ করতে হবে। তার পর দিতে হবে ক্যাপচা (বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারী আসলে মানুষ, না কোনও ক্ষতিকর কম্পিউটার বট, তা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়)। পরের ধাপে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম প্রদান করতে হবে। পাশেই থাকবে মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দেওয়ার জায়গা। এটি ঐচ্ছিক। তৃতীয় ধাপে থাকছে ভাষা পছন্দের বিষয়। তাতে ‘ক্লিক’ করার পর ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে। চতুর্থ ধাপে দিতে হবে জেলা, পিন নম্বর, গ্রাম/শহর/এলাকার নাম। ওই ধাপ সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখাবে। যা থেকে নিজের বাড়ির অবস্থান দেখাতে পারবেন নাগরিক। ষষ্ঠ ধাপে হাউসলিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে। এই ঘর ও তার ব্যবহার সংক্রান্ত ৩৩টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর জমা দিতে হবে। ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে রয়েছে, বাড়ির ধরন; মেঝে ও দেয়ালে ব্যবহৃত উপকরণ, ঘরের সংখ্যা, মালিকানাধীন বা ভাড়া এবং বাড়ির অবস্থা, বাসিন্দার সংখ্যা, পানীয় জল ও বিদ্যুতের উৎস। প্রদত্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখে নিন, প্রয়োজনে সংশোধন করুন এবং তথ্য সেভ করে রাখুন। যদি কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন না থাকে, তবে নির্ধারিত সময়সীমার আগে তথ্য জমা দিন।সেটি দেওয়ার পর আসবে ‘প্রিভিউ স্ক্রিন’। সব তথ্য ঠিকঠাক দিয়েছেন কি না, মিলিয়ে দেখে নিতে হবে। এর পর শেষ ধাপ— ‘ফাইনাল সাবমিট’। সেখানে ক্লিক করলে এগারো অঙ্কের একটি স্বতন্ত্র নম্বর বা ‘এসই* আইডি’ চলে যাবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বা ইমেলে। জনগণনার দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকেরা যখন বাড়িতে যাবেন, ওই নম্বরটি তাঁদের দেখাতে হবে। তথ্য যাচাই করার পর নির্দিষ্ট সার্ভারে আপলোড করা হবে।

    ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত

    অনলাইন স্ব-গণনা পর্ব শেষ হওয়ার পর, ১৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা করা হবে। এই সময়, অবশ্যই অনলাইনে স্ব-গণনা সম্পন্ন করার সময় প্রাপ্ত ১১ সংখ্যার নম্বরটি দেখাতে হবে। অনলাইনে সেল্ফ এনুমারেশন না করলেও, বাড়িতে আসা গণনাকারীর কাছে বিবরণ নথিভুক্ত করা যাবে। ১১ সংখ্যার নম্বরটি হারিয়ে ফেললেও চিন্তা নেই। গণনাকারীরা তা খুঁজে নিয়ে জনগণনার কাজ করতে পারবেন। গণনাকারীদের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য স্মার্টফোন এবং বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই বিশাল দেশব্যাপী প্রকল্পে ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত এবং এর আনুমানিক ব্যয় ১১,৭১৮ কোটি টাকা।

    জনগণনা দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে

    এ বারের জনগণনা (Digital Census) দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনা হবে। যেখানে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের বৈশিষ্ট্য, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রেডিয়ো, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দুই এবং চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্যও নেওয়া হবে। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ওই পর্ব। এই সময়ের মধ্যেই বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। তার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়। তাতে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি ও ধর্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা

    ২০১১ সালে শেষবার জনগণনা হয়েছিল দেশে। সাধারণত ১০ বছর অন্তর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেই হিসেবে ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে কোভিড অতিমারীর প্রকোপ থাকায় কা‌শ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কোহিমা এই বিপুল ভারতে জনগণনার মতো কর্মযজ্ঞ করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা হতে চলেছে দেশে। প্রসঙ্গত, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি হিসাবে কলকাতা শহরকে মোট ৮,১১২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাসিন্দা থাকছেন। গণনার কাজ সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভাবে যাতে সম্পন্ন করা যায়, তার সমস্ত রকম উদ্যোগ এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

     

     

     

     

  • PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া (Derogatory Posts) আপত্তিকর ও অবমাননাকর পোস্টের ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সরকারি অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশের একটি সাংবিধানিক পদাধিকারীকে উদ্দেশ্য করে “অপমানজনক, বিদ্বেষমূলক এবং মানহানিকর” বিষয়বস্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পরিচয় জানাও (PM Modi)

    এই ঘটনার তদন্তে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সকে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলি আপলোড করা অ্যাকাউন্টগুলির পরিচয় জানাতে এবং দ্রুত ছবি ও ভিডিওগুলি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, যেসব এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট করা হয়েছে, সেগুলির পুরো নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ই-মেল আইডি-সহ বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে পুলিশ। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির লগ-ইন ও লগ-আউট সংক্রান্ত তথ্য, তারিখ ও সময়ের বিবরণ এবং তদন্তে সহায়ক হতে পারে এমন অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়মের ৬৩(৪) ধারার অধীনে একটি শংসাপত্র জমা দিতে এবং ভবিষ্যৎ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পোস্ট এবং ভিডিওগুলির সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ করতেও এক্স-কে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সিজেপির বিক্ষোভ এবং চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত অশান্তির সময় প্রকাশিত একাধিক ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, ওই পোস্টগুলিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি

    দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ ও অশান্তির সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় একাধিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালাচ্ছে। কোথাও আপত্তিকর বা উসকানিমূলক বিষয়বস্তু নজরে এলেই সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে তা সরিয়ে নিতে বলে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে করা একাধিক অশালীন মন্তব্য ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সাইবার শাখা এবং সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল বিক্ষোভ সংক্রান্ত সমস্ত অনলাইন কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছে (PM Modi), যাতে কোনও উসকানিমূলক বা আইনভঙ্গকারী বিষয়বস্তু দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর আগে দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি (Derogatory Posts) সিজেপির বিক্ষোভকে সমর্থন করে ভুয়ো তথ্য, ডিপফেক ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছিল (PM Modi)।

     

  • ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    ED Raid: বীরভূমে ইডির মেগা রেড, উদ্ধার ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা! তদন্তের কেন্দ্রে টুলু-ঘনিষ্ঠ মিনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে (Birbhum) ফের কোটি কোটি টাকার গন্ধ। মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় বুধবার ভোররাত থেকে বড়সড় অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচিত মিনার মণ্ডলের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি (ED Raid)। আর সেই অভিযানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।

    ৫ কোটি টাকা নগদ, ১৫ কেজি সোনা

    ইডি সূত্রের খবর, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গোনার জন্য ঘটনাস্থলে আনা হয় একাধিক টাকা গোনার মেশিন। উদ্ধার হওয়া নগদ, সোনা এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করতে ব্যবহার করা হয় বড় লোহার ট্রাঙ্ক। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাড়ির প্রতিটি অংশে তল্লাশি (ED Raid) চালান তদন্তকারীরা।

    সরকারি বাসচালক থেকে কোটি টাকার মালিক?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডল পেশায় সরকারি বাসের চালক ছিলেন। তাই তাঁর বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। তবে স্থানীয়দের দাবি তিনি দীর্ঘদিন ধরে টুলু মণ্ডলের পাথর খাদান, ক্রাশার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (ED)।

    ফের আলোচনায় টুলু মণ্ডল

    এই অভিযানের পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বীরভূমের (Birbhum) প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের নাম। এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত টুলু। জেলার পাথর খাদান, ক্রাশার ও বালি ব্যবসায় দীর্ঘদিন তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। অতীতে বেআইনি পাথর খাদান, গরু পাচার-সহ একাধিক মামলায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তাঁর বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশিও চালিয়েছিল। পরে একটি খুনের মামলায় টুলু মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ইডির (ED) নজরে আর্থিক লেনদেন

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, সোনা, সম্পত্তির নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই সম্পদের উৎস কী? তা বৈধ আয় থেকে এসেছে নাকি অন্য কোনও অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত? সেই বিষয়েই জোর দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট

    ঘটনায় সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন তিনি। পুলিশের অভিযানের প্রশংসার পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনেই এই অভিযান চলবে, বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    এখন নজর তদন্তের দিকে

    যদিও এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার সঙ্গে টুলু মণ্ডলের সরাসরি আইনি যোগ রয়েছে বলে ইডি (ED) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে এই বিপুল সম্পদের উৎস, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরকদমে চলছে। বীরভূমের এই মেগা রেডে আগামী দিনে আরও বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

LinkedIn
Share