Tag: Madhyom

Madhyom

  • Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    Kolkata Book Fair 2027: সুবর্ণজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক কলকাতা বইমেলা, ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে এল ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার (Kolkata Book Fair 2027) দিনক্ষণ। ২০২৭ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের আয়োজন (50th Kolkata Book Fair)। বই ও সংস্কৃতির এই মহোৎসব চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

    কলকাতা বইমেলার দীর্ঘ ইতিহাসে এবারের আয়োজন নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০২৭ সালে এই আন্তর্জাতিক বইমেলা পা রাখছে ৫০তম বর্ষে। তাই সুবর্ণজয়ন্তীর এই বইমেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

    সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে বইমেলা পরিচালনার জন্য গত মাসেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৪ জনের ওই কমিটিতে রয়েছেন রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ডের প্রতিনিধিরা। সেই সময়ই জানানো হয়েছিল, এবারের বইমেলার আয়োজন যৌথভাবে করবে প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতা গিল্ড, পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং জাতীয় পুস্তক ট্রাস্ট। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার নির্ঘণ্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    স্টল বণ্টনে আসছে ডিজিটাল ব্যবস্থা

    বিগত কয়েক বছরে কলকাতা বইমেলায় স্টল বণ্টন নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার বই প্রকাশকদের স্টল পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এবার স্টল বণ্টন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আয়োজকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্টল বণ্টনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বড় প্রদর্শনী ও মেলায় যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্টল বরাদ্দ করা হয়, এবার কলকাতা বইমেলাতেও (Kolkata Book Fair 2027) সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অনলাইনে আবেদন করে প্রকাশকেরা স্টলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    থিমের কেন্দ্রবিন্দুতে ইজরায়েল, বিকল্প ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ

    সুবর্ণজয়ন্তীর বইমেলার থিমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ইজরায়েলকে তুলে ধরার সম্ভাবনাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সবুজ সংকেত ও আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্রের অনুমোদন না মিললে ‘বন্দে মাতরমে’র সার্ধশতবর্ষ উদযাপনকেই এবারের বইমেলার মূল থিম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা

    এদিকে সাহিত্যপ্রেমীদের অন্যতম বড় প্রশ্ন, এবারের কলকাতা বইমেলায় (Kolkata Book Fair 2027) কি ফের দেখা যাবে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন? গত দু’বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের পৃথক প্যাভিলিয়ন বা স্টল থাকার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।

    বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজক কমিটি ও প্রকাশকদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে খবর। তবে প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে মেলায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    আয়োজকদের বক্তব্য, বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে বিদেশমন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদনের উপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। দুই মন্ত্রকের ছাড়পত্র মিললে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে ফের আলোচনা হতে পারে।

    ভারতীয়ত্বের’ ছাপ রাখার দাবি

    কলকাতা বইমেলাকে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে সমস্ত প্রকাশক, মুদ্রাকর এবং বই বিক্রেতার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত করার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে সাহিত্য মহলে।

    কিছুদিন আগে প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কলকাতা বইমেলা নিয়ে সরব হন। তাঁর দাবি, বইমেলায় স্পষ্টভাবে ‘ভারতীয়ত্বের’ ছাপ থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সব মত ও পথের মানুষের অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র হিসেবে কলকাতা বইমেলাকে গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

    বাংলাদেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলি গত দু’বছর ধরে কলকাতা বইমেলায় (50th Kolkata Book Fair) অংশ নিতে পারছে না কেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও প্রশাসনিক কমিটি ও প্রকাশকদের পক্ষ থেকে কিছু আপত্তি রয়েছে। ফলে কেন্দ্রের দুই মন্ত্রকের নির্দেশ এবং অনুমোদনের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (Kolkata Book Fair 2027)।

     

  • PM Modi in Vadodara: কিউআর কোড স্ক্যান করেই পরিচয় যাচাই! বুকমাইশো-তে এক ঘণ্টায় নিঃশেষ মোদির অনুষ্ঠানের টিকিট

    PM Modi in Vadodara: কিউআর কোড স্ক্যান করেই পরিচয় যাচাই! বুকমাইশো-তে এক ঘণ্টায় নিঃশেষ মোদির অনুষ্ঠানের টিকিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) ভাদোদরা সফর (PM Modi Vadodara Visit) ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা। অনুষ্ঠান উপলক্ষে বুকমাইশো-তে বিনামূল্যে দর্শক আসনের জন্য রেজিস্ট্রেশন শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত আসন সম্পূর্ণ বুকড্ হয়ে যায়। এরপর ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষকে ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি। বুকমাইশো-তে (BookMyShow) সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন করা দর্শকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে ডিজিটাল এম-টিকিট। সেই টিকিটে রয়েছে নিরাপদ লাইভ কিউআর কোড। অনুষ্ঠানের প্রবেশপথে ওই কিউআর কোড স্ক্যান করে দর্শকদের পরিচয় ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই করা হবে।

    এই প্রথম সরকারি অনুষ্ঠানে এইভাবে টিকিট

    সিনেমা বা কনসার্টের টিকিট কাটার কথা তো সবাই জানেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর জনসভার আসনও যদি মাত্র এক ঘণ্টায় ‘হাউসফুল’ হয়ে যায়, তবে তা সত্যিই নজিরবিহীন! তা-ও আবার বুক মাই শো ডট কম-এ! এই প্রথম কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য বেসরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন, পরিচয় যাচাই, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং আসন ব্যবস্থাপনার মতো গোটা প্রক্রিয়াকে একটি একক ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে বলে দাবি প্রশাসনের।

    ডিজিটাল এম-টিকিটেই মিলবে অনুষ্ঠানে প্রবেশ

    বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবেশপথে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দর্শকদের চলাচল এবং আসন ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্য নিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার গুজরাটের ভাদোদরায় মহারাজা সয়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘নমো ফর বিকশিত ভারত’ (NaMo for Viksit Bharat) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন।

    একাধিক বড় প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস

    মঙ্গলবার ভাদোদরায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস এবং জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের (WDFC) তিনটি অংশের কমিশনিং। সানন্দ (উত্তর)-মাকরপুরা, নিউ উমরগাঁও-নিউ সাফালে এবং নিউ সাফালে-জওহরলাল নেহরু পোর্ট ট্রাস্ট (JNPT)—এই তিনটি অংশের মোট দৈর্ঘ্য ৩২৬ রুট কিলোমিটার। প্রকল্পগুলির জন্য খরচ হয়েছে ২০,৭০০ কোটি টাকারও বেশি। এর ফলে শিল্পাঞ্চলগুলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলির সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহণে গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে পণ্য পরিবহণ খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমিয়ে দেবে।

    একাধিক পণ্যবাহী ট্রেনের পরিষেবা শুরু

    প্রধানমন্ত্রী নিউ সানন্দ (উত্তর), নিউ মাকরপুরা, নিউ উমরগাঁও এবং নিউ জেএনপিটি থেকে পণ্যবাহী ট্রেন পরিষেবারও সূচনা করবেন। এর ফলে শিল্পাঞ্চল থেকে বন্দর পর্যন্ত পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাদোদরা থেকে টান্ডা রোড পর্যন্ত নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবারও উদ্বোধন করবেন মোদি। এই পরিষেবা ভাদোদরা, ছোটাউদেপুর এবং আলিরাজপুর জেলার যাত্রীদের বিশেষভাবে উপকৃত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ৩২৯ কিলোমিটার রেল প্রকল্পের শিলান্যাস

    প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে রয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের শিলান্যাসও। মোট ৩২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পগুলির আনুমানিক ব্যয় ৯,৭০০ কোটি টাকার বেশি। প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ভাদোদরা-রতলাম রুটে তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইন নির্মাণ, মিয়াগাম করজন-চোরান্ডা-মালসর গেজ রূপান্তর এবং বিশ্বামিত্রী-দাভোই রেলপথ ডাবলিং। এই প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হলে গুজরাটে রেলপথের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    স্বাধীনতার পর প্রথম দেশের এই অংশে ছুটবে ট্রেন

    জানা গিয়েছে, প্রতাপনগর এবং ধরের টান্ডা রোড স্টেশনের মধ্যে একটি নতুন মেমু (MEMU) ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধন হবে প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)-র হাত ধরে। এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পশ্চিম রেলওয়ের রতলাম বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুকেশ কুমার জানিয়েছেন যে, নতুন মেমু ট্রেনটি ছোটা উদয়পুর-ধর সেকশনে চলবে। এই প্রথম কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন ধর জেলায় পৌঁছাবে। এর ফলে জুড়ে যাবে মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাট। তিনি বলেছেন যে এই রেল পরিষেবা মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটের মধ্যে রেল যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করবে , যা বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পর্যটনের প্রসার ঘটাবে। মুকেশ কুমার আরও বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি গুজরাটের ভাদোদারা এবং মধ্যপ্রদেশের রতলামের মধ্যে তৃতীয় ও চতুর্থ রেললাইনের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন, যেটিতে এই দুটি শহরের মধ্যে দুটি ‘আপ’ এবং দুটি ‘ডাউন’ লাইন থাকবে। ছোটা উদয়পুর-ধর রেল প্রকল্পের অধীনে, টান্ডা রোড রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত একটি নতুন রেললাইন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মালওয়া অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রেল সংযোগের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

    জাতীয় সড়ক ও রাজ্যের প্রকল্পও তালিকায়

    এদিন প্রধানমন্ত্রী তিনটি জাতীয় সড়ক প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। মোট প্রায় ১,৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই প্রকল্পগুলির পাশাপাশি গুজরাত সরকারের প্রায় ২,৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পও অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একদিকে বিপুল জনসমাগম সামলাতে অভিনব ডিজিটাল ব্যবস্থা, অন্যদিকে একগুচ্ছ বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস—সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাদোদরা সফর ঘিরে এখন উত্তেজনা তুঙ্গে।

  • Dhulian Murder Case: এসপি-কে শোকজ, শাস্তি চার পুলিশকর্মীর! ধুলিয়ান হত্যাকাণ্ডে তদন্তে সিআইডি, ঘোষণা শুভেন্দুর

    Dhulian Murder Case: এসপি-কে শোকজ, শাস্তি চার পুলিশকর্মীর! ধুলিয়ান হত্যাকাণ্ডে তদন্তে সিআইডি, ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে চার পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার কথা বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে (Dhulian Murder Case) এক যুবককে খুনের ঘটনায় ‘নিচুতলার’ পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। পুলিশ আধিকারিক এবং কর্মী মিলিয়ে চার জনকে শাস্তি দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। এই ঘটনায় জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরিন্দর সিংকে শোকজ করেছে স্বরাষ্ট্র দফতর। তাঁকে কারণ দর্শাতে বলার পাশাপাশি সতর্কও করা হয়েছে। গত ২৮ অগাস্ট মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তার পর তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। গত ২ সেপ্টেম্বর ফরাক্কার ফিডার ক্যানালের পাশ থেকে ৩৬ বছর বয়সি ওই যুবকের খণ্ডবিখণ্ড দেহ পাওয়া যায়।

    নিচুতলার পুলিশের কাজে গাফিলতি

    সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৮ তারিখেই পুলিশের কাছে মিসিং ডায়েরি করেছিলেন নিহত যুবকের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল। ৩০ অগাস্ট এফআইআর দায়ের করেন তিনি। সুমনার অভিযোগ, ২৮ অগাস্ট সকালে রিয়ান আখতার নামের এক যুবক ফোন করে ডেকে নিয়ে যান তাঁর স্বামীকে। তার পর আর খোঁজ পাওয়া যায়নি সুজিতের। ২ সেপ্টেম্বর তাঁর খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় সামিউল শেখ, তাজকিরা বিবি এবং জনি শেখ নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই খুনের ঘটনায় নিচুতলার পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন যে, নিহতের স্ত্রী পুলিশকে জানালেও নিচুতলার পুলিশের কাজে গাফিলতি ছিল। এই ঘটনার তদন্তভার সিআইডি-কে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ধুলিয়ান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ, এএসআই সুমন্ত দাস এবং শমসেরগঞ্জ থানার এসআই (সেকেন্ড অফিসার) সইফুল আলমকে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করা হয়েছে। থানার আইসি সুব্রত ঘোষকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। আর ফরাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

    প্রাণের ক্ষতি অর্থ দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়

    সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর শুভেন্দু এই ঘটনায় উদ্বেগপ্রকাশ করে বলেন, “হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসদের মতো করে খুন করা হয়েছে। পুলিশকে জানানো হলেও স্থানীয় পুলিশের তরফে গাফিলতি রয়েছে। নিচুতলার পুলিশ গুরুত্ব দেয়নি। তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাণের ক্ষতি অর্থ দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়, তবুও সরকারি কর্তব্যবোধ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিহতের স্ত্রী রাজি থাকলে এবং ন্যূনতম যোগ্যতা থাকলে তাঁকে রাজ্য সরকারের তরফে হোম গার্ডে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

     

  • Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্ত বাড়ছে। প্রশাসন সক্রিয়। স্বচ্ছ ভাবেই ডেঙ্গি মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে, প্রশাসনের পাশাপাশি ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ রুখতে সাধারণ মানুষের সাহায্য সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে কয়েকটি অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরের ডেঙ্গি আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বর মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। তবে অক্টোবরেও ডেঙ্গি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তবে, ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যু মিছিল কমাতে হলে, সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষার মরশুমে জল জমে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বছরের এই সময়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সব মিলিয়ে মশার বংশবিস্তার এই সময়ে সবচেয়ে বেশি‌ হয়। তাই মশাবাহিত রোগের দাপট বছরের এই সময়ে বাড়ে। সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে, তার প্রকোপ বাড়ে। তাই সেপ্টেম্বরে বাড়তি গুরুত্ব।

    সেপ্টেম্বরে মশার বংশবিস্তার কমাতে পারলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি সংক্রমণ আটকানোর দিকেও নজর দিতে হবে। ডেঙ্গি মোকাবিলার দুই অস্ত্র জরুরি। একদিকে মশার বংশবিস্তার কমাতে হবে, আরেকদিকে, রোগের সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ, এই দুই করতে পারলেই ডেঙ্গি প্রতিরোধ সহজ হবে। এই মাসে সেই দুই দিকেই প্রশাসন সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তাহলে, রোগ ছড়াতে পারবে না। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা কমবে এবং মৃত্যু মিছিল আটকানো‌ যাবে।

    কোন পাঁচ অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জল জমা কিংবা এলাকার অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে যেমন সচেতনতা জরুরি, তেমনি আরও কয়েকটি অভ্যাসে নজর দিতে হবে।

    পোশাকে বাড়তি নজরদারি!

    ডেঙ্গি রুখতে পোশাক খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মশার কামড়ের জেরেই ডেঙ্গির ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তাই হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক এই সময়ে পরে থাকা জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, ডেঙ্গি রুখতে শিশুদের পোশাক নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুরা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়। তাই শিশুরা যাতে, ডেঙ্গির কবল থেকে বাঁচে, সেদিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। বিশেষত বিকেলে পার্কে বা বাগানে খেলতে যাওয়ার সময় হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরাতে হবে। যাতে মশা কামড়ানোর সুযোগ কমে। রাতে ঘুমোনোর সময়েও হাত-পা ঢাকা‌ পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    মশারি টাঙানোর অভ্যাস!

    আধুনিক শহুরে বাঙালির অনেকেই মশারি টাঙানোর অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো রোগ থেকে বাঁচতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস থাকা জরুরি। ঘুমের মধ্যে যাতে মশা না কামড়ায়, সেই জন্য নিয়মিত রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশপাশি বাড়িতে সদ্যোজাত থাকলে, নবজাতক শিশুকে দিনের অধিকাংশ সময় মশারির‌ ভিতরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মশা দিনের বেলায় দাপট বেশি দেখায়। তাই নবজাতক শিশুদের দিনের বেলাতেও মশারির ভিতরে রাখতে পারলে ভালো হয়।

    জানলা খোলা ও বন্ধের সময়ে নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে ঘরের জানলা কখন খোলা আর বন্ধ করা হবে, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। বাড়ির আশপাশে পুকুর বা বাগান থাকলে জানলা খোলা নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। দিনের বেলা, সূর্যের আলোয় ঘরের জানলা খোলা রাখা যেতেই পারে। কিন্তু বিকেলের পরে জানলা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাহলে ঘরের ভিতরে মশার দাপট কমবে।

    বাড়ির শৌচলায় এবং ছাদ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা!

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রশাসন বাড়ির ভিতরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে পারবে না। সে নিয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। তাই নিজের বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং শৌচালয় নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। অনেকেই বাড়ির চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখেন। এই মাসে সেই কাজ করলে বিপদ বাড়বে। মশার বংশবিস্তার কমাতে নিয়মিত চৌবাচ্চা পরিষ্কার করতে হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পরে ছাদে জল জমে থাকছে কিনা, সে দিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেক সপ্তাহে ছাদ পরিষ্কার করতে হবে। অনেকেই বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় বাগান করেন। আবার কলকাতা সহ একাধিক শহরে ছাদে বাগান করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই বাগানের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি সক্রিয় থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, টবে জমা জল থাকছে কিনা দেখতে হবে। আগাছার জন্য মশার বংশবিস্তার হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বাগানে নিয়মিত মশানিধন তেল ও স্প্রে দিতে হবে।

    আক্রান্তের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ!

    ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখতে সবচেয়ে জরুরি আক্রান্তকে চিহ্নিত করা এবং তাঁর আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা। পাশপাশি তাঁর পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সেটা দ্রুত নিশ্চিত করা। আর এই সব কিছুতেই সাধারণ নাগরিকদের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা জরুরি। তবেই কোথায় ডেঙ্গি সংক্রমণ কতখানি গুরুতর, সেটা স্পষ্ট হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ টানা তিন দিন জ্বরে আক্রান্ত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। আবার রোগ নিশ্চিত হলে তাঁকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গি আক্রান্তকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে। যাতে তাঁর থেকে অন্যদের শরীরে সহজে সংক্রমণ না ছড়াতে পারে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তথ্য প্রশাসনকেও জানানো জরুরি। যাতে এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও মশানিধন নিয়ে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয় হতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    India: ইউরোপের ডিজেল ঘাটতি মেটাচ্ছে ভারত, অগাস্টে ৬০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি গেল দিল্লির শোধনাগার থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে ভারতের (India) গুরুত্ব আরও বেড়েছে। চলতি বছরের অগাস্টে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর মধ্যে দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাওয়া ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের ৬০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ভারতের শোধনাগারগুলি থেকে (Diesel Supplier)। রাশিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সেই ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ভারত।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ব্যারেলেরও বেশি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল পরিবহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ ছিল ভারতীয় জ্বালানি। ফলে ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    রাশিয়ার রফতানি কমতেই বাড়ল ভারতের গুরুত্ব (India)

    ভারত থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ রাশিয়ার রফতানিতে বড়সড় পতন। অগাস্টের প্রথম ২৫ দিনে রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি নেমে এসেছে দৈনিক গড়ে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। এক বছর আগে একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় রফতানি প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে এবং পাঁচ বছরের ঋতুভিত্তিক গড়ের তুলনায় পতন হয়েছে প্রায় ৮১ শতাংশ।

    এদিকে, ইউরোপের বাইরে থেকে ইউরোপে মার্কিন সমুদ্রপথে ডিজেল রফতানি অগাস্টে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় ইউরোপের মোট আমদানিতে এর অংশও বেড়েছে। তবে মাসের প্রথমার্ধে দৈনিক প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলের শীর্ষে পৌঁছনোর পর দ্বিতীয়ার্ধে তা কমে নেমে আসে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।

    ভারতের শোধনাগারগুলির সুবিধা

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল পরিশোধনকারী দেশ। দেশে বছরে প্রায় ২৫ কোটি ৮১ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে।

    দেশের জটিল এবং রফতানিমুখী শোধনাগারগুলির অন্যতম সুবিধা হল, তারা বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গুজরাতের জামনগরে রিলায়েন্সের শোধনাগারের মতো বড় পরিশোধনাগারগুলিতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। ফলে যে বাজারে দাম বেশি, সেখানে দ্রুত পরিশোধিত জ্বালানি পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে ভারত (India)।

    তবে পরিসংখ্যান বলছে, অগাস্টে ভারতের অপরিশোধিত তেল ও ঘনীভূত তরল হাইড্রোকার্বন আমদানি কমেছে। এক বছর আগে যেখানে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮ লাখ ব্যারেল, অগাস্টে তা কমে প্রায় দাঁড়িয়েছে ৩৮ লক্ষ ব্যারেলে। লোহিত সাগরের পথ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ

    বাব-এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে ভারতীয় ডিজেল ইউরোপে পৌঁছনোর বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে ইউরোপের দিকে জ্বালানি পরিবহণের প্রচলিত পথগুলির উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী জ্বালানি পরিবহণে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেবের গুরুত্ব বেড়েছে।

    তবে এই পথ পুরোপুরি নিরাপদ নয়। অতীতে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে একাধিক বাধা তৈরি হয়েছিল। ফলে এই জলপথ ব্যবহার করে ইউরোপে জ্বালানি পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় ও নিরাপত্তা—দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    ইউক্রেনের হামলায় চাপে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামো

    রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি কমে যাওয়ার পিছনে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলাও বড় কারণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার শোধনাগার এবং জ্বালানি রফতানির পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে মস্কোর অর্থনৈতিক আয় এবং যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতার উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে কিয়েভ (ইউক্রেনের রাজধানী)।

    অগাস্টের ২১ তারিখে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পাম তেল শোধনাগারের প্রযুক্তিগত ইউনিটগুলির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। এর পর শোধনাগারটির কার্যক্ষমতা কমে প্রায় ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। মে মাসে হামলার পর থেকে তুয়াপসে বন্দর থেকেও কোনও ডিজেলবাহী জাহাজ ছাড়েনি।

    ফলে রাশিয়ার সরবরাহ কমার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ পাচ্ছে (Diesel Supplier) ভারত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং রাশিয়ার রফতানি সংকট যতদিন চলবে, ইউরোপের পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে (India)।

     

  • West Bengal Pension: বিধবা, বার্ধক্য ও দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ বাড়ল রাজ্যে, বাতিল হচ্ছে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট!

    West Bengal Pension: বিধবা, বার্ধক্য ও দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ বাড়ল রাজ্যে, বাতিল হচ্ছে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, সোমবার থেকেই বেড়ে গেল বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য দেয় দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ। আগের ঘোষণা অনুযায়ী (West Bengal Pension), এদিন নবান্ন সভাঘর থেকে এই বর্ধিত হারে ভাতা চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন এই প্রকল্পগুলির আওতায় ভাতা বাবদ মিলত ১০০০ টাকা। এদিন (Widow Old Age Allowance) থেকে সেই ভাতার পরিমাণ বেড়ে হল ১৫০০ টাকা।

    এদিনই রাজ্যের মোট ৮২ লাখের অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে ১৫০০ করে টাকা। আজকের মধ্যে সবার অ্যাকাউন্টে না পৌঁছলেও, আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বলে জানান রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে বাংলায় বার্ধক্য, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। আপাতত সেই লক্ষ্যেই একধাপ এগোল নতুন সরকার। পরবর্তীতে এই টাকা ২০০০ টাকা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যাঁরা জুলাই মাস পর্যন্ত ১০০০ টাকা করে পেতেন। তাঁরা আজ থেকে অগাস্টের টাকা হিসেবে ১৫০০ করে টাকা পাবেন।” তিনি বলেন, “এই রাজ্য কার্যত অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া অবস্থায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এখনও অবস্থা বেহাল রয়েছে। এই অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে কমপক্ষে ১ বছর সময় লাগবে।”

    বাতিল হচ্ছে আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট (West Bengal Pension)

    পুরনো তালিকা নিয়ে বড় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগের সরকারের আমলে যাবতীয় ওয়েটিং লিস্টে থাকা আবেদন আজ থেকে বাতিল করা হচ্ছে। এর পরে যাঁরা বর্তমান সরকারের জনকল্যাণ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের ভেরিফিকেশন করে আগে টাকা দিতে হবে। এর বাইরে রাজ্য সরকারের চালু করা ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ সেখানে যাঁরা নাম লিখিয়েছেন, আবেদন করেছেন, তাঁদেরও ভেরিফিকেশন করে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিগত সরকারের ওয়েটিং লিস্ট আজ থেকে বাতিল করা হল। বর্তমান সরকারের আমলে নতুন করে প্রাপকদের ওয়েটিং লিস্টের তালিকা তৈরি করা হবে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ

    স্বামীহীনা প্রাপকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, যে স্বামীহীনারা ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন, তাঁরা যদি এই প্রকল্প ছেড়ে দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা গ্রহণ করেন, তবে তাঁরা ৩০০০ টাকা করে পাবেন। এতে তাঁদের আর্থিকভাবে সুবিধা হবে (West Bengal Pension)।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিন প্রায় মোট ৮২ লাখ ৫ হাজার ৯১৯ জন প্রাপকের হাতে এই টাকা তুলে দেওয়া হল। এই প্রকল্পের জন্য মোট খরচ হবে ১৪,৭৭১ কোটি টাকা। এই বরাদ্দের একটি বড় অংশ রাজ্য সরকার নিজেই বহন করবে বলে জানান তিনি।

    আর্থিক সংস্কারের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বার্ধক্য ভাতার ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে এবং ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করে অনেকে অন্যায়ভাবে ভাতা পাচ্ছিল। সেই সমস্ত ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে, যাতে প্রকৃত যোগ্য মানুষের হাতেই সামাজিক কল্যাণের টাকা পৌঁছয় (Widow Old Age Allowance)। তিনি মনে করিয়ে দেন, নতুন সরকারের আমলে ইতিমধ্যেই রাজ্যের কোষাগারের আয় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে (West Bengal Pension)।

     

  • India U20 Football: বাংলাদেশকে হারিয়ে ২০ বছর পর অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ভারত

    India U20 Football: বাংলাদেশকে হারিয়ে ২০ বছর পর অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিল ভারত (India U20 Football)। রবিবার তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামে যোগ্যতা অর্জন পর্বের গ্রুপ-বি-র শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখান ভারতের তরুণ ফুটবলাররা (AFC Asian Cup)। দানি মিতেই লাইশরাম, বিশাল যাদব এবং পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা মহম্মদ আরবাসের গোলে অনায়াস জয় তুলে নেয় মহেশ গাউলির দল।

    এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-বি-তে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে ভারত। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন উজবেকিস্তান তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। তবে আটটি গ্রুপের সেরা সাত রানার্স-আপ দল মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাওয়ায় সেই তালিকায় জায়গা করে নেয় ভারত। ফলে ২০০৬ সালের পর এই প্রথম অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলবে ভারত।

    প্রথমার্ধেই এগিয়ে ভারত (India U20 Football)

    ম্যাচের শুরুতে দু’দলই সমানে সমানে লড়াই করে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারত। ২৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাংলাদেশের রক্ষণভাগের উপর প্রবল চাপ তৈরি করেন দানি মিতেই লাইশরাম। তাঁর চাপে বল পেয়ে যান হাতেম আলি। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনি বল বাড়িয়ে দেন ফাঁকায় থাকা দানির দিকে। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ভারতকে এগিয়ে দেন তিনি।

    এরপরও একাধিক আক্রমণ তৈরি করে ভারত। ৩৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও এসেছিল। দানির ভাসানো ফ্রি-কিক দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক রাজ চৌধুরি। ফলে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলেই এগিয়ে থাকে ভারত।

    দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের দাপট

    বিরতির পর আরও আগ্রাসী মেজাজে খেলতে শুরু করে ভারত। ৬০ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। বক্সের মধ্যে লম্বা থ্রো-ইন থেকে বল পেয়ে তা মাথা ছুঁইয়ে বিশাল যাদবের দিকে পাঠান ঋষিকান্ত। শূন্যে শরীর ছুড়ে অ্যাক্রোব্যাটিক শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বিশাল।

    দুই গোল হজম করার পর জোরালো আক্রমণের চেষ্টা করে বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের জমাট রক্ষণভাগের সামনে তাদের আক্রমণ বারবার থেমে যায়। বাংলাদেশের ফুটবলাররা কোনও পরিষ্কার গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেননি (India U20 Football)।

    মাঠে নেমেই গোল আরবাসের

    ম্যাচের ৭২ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন ভারতের কোচ মহেশ গাউলি। দানি ও বিশালের জায়গায় মাঠে নামেন মহম্মদ আরবাস ও প্রশান্ত জাজো। মাঠে নামার মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন আরবাস।

    ইয়াইফারেম্বা চিঙ্গাকহামের পা থেকে শুরু হওয়া আক্রমণ বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভেদ করে পৌঁছে যায় আরবাসের কাছে। বাঁ পায়ের জোরালো শটে বাংলাদেশের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ভারতের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। এরপর আর ম্যাচে ফেরার কোনও সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ।

    শেষদিকে অনিকেত যাদব, ওমাং দোদুম এবং দানিয়াল মাকাকমায়ুমকে মাঠে নামিয়ে বাকি সময়টা নিয়ন্ত্রণে রাখে ভারত। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মহেশ গাউলির দল।

    ২০২৭ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চিনে অনুষ্ঠিত (AFC Asian Cup) হবে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্ব। এই প্রতিযোগিতার প্রথম চারটি দল ২০২৭ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ (India U20 Football) বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে।

     

  • ISRO privatisation: ইসরো কি বেসরকারি হাতে যাচ্ছে? সব জল্পনায় জল ঢেলে বড় বার্তা মহাকাশ গবেষণা সংস্থার

    ISRO privatisation: ইসরো কি বেসরকারি হাতে যাচ্ছে? সব জল্পনায় জল ঢেলে বড় বার্তা মহাকাশ গবেষণা সংস্থার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) কি ধীরে ধীরে বেসরকারি সংস্থার হাতে চলে যাচ্ছে? মহাকাশ ক্ষেত্রে চলতে থাকা সংস্কারের জেরে কি ইসরোর গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এই ধরনের জল্পনা এবং রিপোর্টকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল বলে সরাসরি খারিজ করল ইসরো। রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর এক সরকারি বিবৃতিতে দেশের শীর্ষ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসরোকে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও তার গুরুত্ব কমানো হবে না।

    ইসরোকে ঘিরে জল্পনা কেন?

    ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্যাটেলাইট তৈরি, উৎক্ষেপণযান, প্রোপালশন সিস্টেম, গ্রাউন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার থেকে শুরু করে মহাকাশ-ভিত্তিক পরিষেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন বেসরকারি সংস্থা এবং স্টার্ট-আপগুলি কাজ করছে।

    এই পরিবর্তনের জেরে ইসরোর কর্মী এবং বিজ্ঞানীদের একাংশের মধ্যে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। বিশেষ করে ইসরোর পরিণত প্রযুক্তি শিল্পের হাতে তুলে দেওয়া, উৎপাদন ও কিছু পরিচালনমূলক দায়িত্ব বেসরকারি বা অন্যান্য সংস্থার হাতে দেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই ইসরোর এই স্পষ্টীকরণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    ‘ইসরোর ভূমিকা কমছে না’

    ইসরো জানিয়েছে, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর অর্থ কোনওভাবেই ইসরোর ভূমিকা কমিয়ে দেওয়া নয়। বরং সরকারের মহাকাশ সংস্কারের মূল লক্ষ্য হল একটি বৃহত্তর, শক্তিশালী এবং বহুমুখী ভারতীয় মহাকাশ-ইকোসিস্টেম তৈরি করা। এই ব্যবস্থায় ইসরো, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, স্টার্ট-আপ এবং শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

    ইসরোর বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নত মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি বিকাশ, জাতীয় ও কৌশলগত মিশন, মহাকাশবিজ্ঞান ও অনুসন্ধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাধুনিক মহাকাশ সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরোর মূল ভূমিকা অক্ষুণ্ণ থাকবে। অর্থাৎ, বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণকে ইসরোর বিকল্প হিসেবে নয়, বরং ভারতের সামগ্রিক মহাকাশ ক্ষমতা বাড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    কেন বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হচ্ছে পরিণত প্রযুক্তি?

    এই সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ম্যাচিওর বা পরিণত প্রযুক্তি শিল্পের হাতে তুলে দেওয়া। কোনও প্রযুক্তি যখন গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায় পেরিয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের উপযোগী হয়ে ওঠে, তখন সেটি বেসরকারি শিল্পের মাধ্যমে আরও বেশি পরিমাণে তৈরি ও বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ইসরোর যুক্তি, এর অর্থ সেই প্রযুক্তির ক্ষেত্র থেকে সংস্থা সরে যাচ্ছে না।

    বরং বেসরকারি সংস্থা উৎপাদন, বিনিয়োগ, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছনোর কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। অন্যদিকে ইসরোর বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা নিজেদের আরও বেশি সময় দিতে পারবেন নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং এখনও গবেষণার সীমান্তে থাকা জটিল মহাকাশ প্রকল্পে। সহজ কথায়, পুরনো ও পরিণত প্রযুক্তির বৃহৎ উৎপাদনের দায়িত্ব শিল্পের হাতে দিয়ে ইসরো আরও উন্নত প্রযুক্তির গবেষণায় মনোনিবেশ করতে চাইছে।

    ২০২০ থেকেই শুরু মহাকাশ ক্ষেত্রে বড় সংস্কার

    ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সূচনা হয় ২০২০ সালে। এরপর Indian Space Policy 2023-এর মাধ্যমে সংস্কারের কাঠামো আরও স্পষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক করা হয়। পাশাপাশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা FDI-এর নিয়মও শিথিল করা হয়েছে। এই নীতির মাধ্যমে মহাকাশ ক্ষেত্রের প্রায় গোটা ভ্যালু চেনেই বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● স্যাটেলাইট তৈরি
    • ● উৎক্ষেপণযান নির্মাণ
    • ● প্রোপালশন প্রযুক্তি
    • ● গ্রাউন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার
    • ● মহাকাশ-ভিত্তিক পরিষেবা
    • ● পৃথিবী পর্যবেক্ষণ
    • ● যোগাযোগ ব্যবস্থা
    • ● মহাকাশ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার

    ইসরোর ভাষায়, এই পরিবর্তনকে ‘বেসরকারিকরণ’ নয়, বরং ‘ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণ এবং সক্ষমতার বহুগুণ বৃদ্ধি’ হিসেবে দেখা উচিত।

    ২০২০-তে হাতে গোনা স্টার্ট-আপ, এখন ৪৫০-এর বেশি

    সংস্কারের ফলে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ইসরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্ট-আপের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৪৫০-এর বেশি। এই সংস্থাগুলি উৎক্ষেপণযান, স্যাটেলাইট, প্রোপালশন, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মহাকাশ-ভিত্তিক পরিষেবা নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে ভারতীয় মহাকাশ ক্ষেত্র এখন শুধুমাত্র সরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি বড় শিল্প ও প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে পরিণত হচ্ছে।

    কৌশলগত পরিকাঠামো থাকবে সরকারের নিয়ন্ত্রণেই

    তবে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লেও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনও আপস করা হচ্ছে না বলে ইসরো স্পষ্ট করেছে। সংস্থার বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাকাশ পরিকাঠামো এবং কৌশলগত সক্ষমতার মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে।

    কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাকে পরিষেবা বা পরিচালনমূলক কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তা জাতীয় নিরাপত্তা, নিরাপত্তা বিধি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনেই হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন বেসরকারি বিনিয়োগ ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো হবে, অন্যদিকে দেশের কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতার উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

    ইসরোর কর্মীদেরও বার্তা

    ইসরোর এই বিবৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সংস্থার কর্মী ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা। সংস্কারের ফলে ইসরোর দায়িত্ব ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি সেই জায়গা দখল করবে—এমন আশঙ্কা যে তৈরি হয়েছিল, তা দূর করার চেষ্টা করেছে ইসরো। বরং সংস্থার বক্তব্যের সারমর্ম হল—বেসরকারি শিল্প যত বেশি পরিণত প্রযুক্তির উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা সামলাবে, ইসরো তত বেশি মনোযোগ দিতে পারবে কঠিন, কৌশলগত এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির গবেষণায়।

    আসলে ‘ইসরোর জায়গা নেওয়া’ নয়, ‘ইসরোর কাজের পরিধি বাড়ানো’

    বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের মহাকাশ সংস্কারের লক্ষ্য মূলত সরকারি সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং ইসরোর গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে দেশের শিল্পশক্তি, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমকে যুক্ত করা। এর ফলে ইসরোর সামনে আরও জটিল মহাকাশ অভিযান, উন্নত উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি, মহাকাশ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।

    একই সঙ্গে শিল্পের মাধ্যমে পরিণত প্রযুক্তির উৎপাদন বাড়লে ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে। তাই ইসরোর সাম্প্রতিক বার্তাটি মূলত একটি বিষয় পরিষ্কার করছে—ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ ইসরোর অবসান বা বেসরকারিকরণ নয়। বরং লক্ষ্য হল ইসরোকে তার মূল গবেষণা ও কৌশলগত দায়িত্বে আরও বেশি মনোনিবেশ করার সুযোগ দিয়ে গোটা ভারতীয় মহাকাশ ব্যবস্থাকে আরও বড় করে তোলা।

  • Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি, এমনকী রাঁচিতেও একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। অভিযানের কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত টাকা লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগানের অভিযোগের তদন্তেই এই অভিযান।

    কলকাতা, দিল্লি ও রাঁচিতে একযোগে অভিযান

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত মোট সাতটি ঠিকানায় এদিন তল্লাশি চালানো হয়। কলকাতার পার্ক সার্কাস, দিল্লির একাধিক ঠিকানা এবং রাঁচির একটি ঠিকানাও রয়েছে এই তালিকায়। তাঁর সঙ্গে যুক্ত উর্দু সংবাদপত্রের দফতর এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি জায়গাতেও ইডির আধিকারিকরা পৌঁছন।

    কলকাতায় পার্ক সার্কাসের ১২, দরগা রোডে অবস্থিত ‘আখবার-এ-মাশরিক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দফতরে সকালে ইডির একটি দল যায়। দফতরটি তালাবন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা সেখানে প্রবেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অফিসের বিভিন্ন নথি, আর্থিক কাগজপত্র এবং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়।

    সংবাদপত্রের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নজর

    ইডি সূত্রের দাবি, ওই উর্দু সংবাদপত্রের দফতর থেকে একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে কিছু লেনদেনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর।

    কোন উৎস থেকে টাকা এসেছে, কার সঙ্গে কী উদ্দেশ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের পক্ষে যথাযথ নথি রয়েছে কি না—মূলত এই বিষয়গুলিই তদন্তকারীদের নজরে বলে জানা গিয়েছে। বেনামি বা সন্দেহজনক উৎস থেকে কোনও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    দিল্লিতেও নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি

    কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও তল্লাশি চালায় ইডি। রাজধানীর ৬১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নাদিমুল হকের একটি অফিস রয়েছে। ওই দফতর তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লিকেন্দ্রিক সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। সোমবার সকাল থেকেই সেখানে ইডির আধিকারিকরা নথিপত্র পরীক্ষা করেন।

    এর পাশাপাশি দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদের সরকারি বাংলোতেও তদন্তকারীরা পৌঁছন বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিভিন্ন দফতর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গিয়েছে।

    তল্লাশির সময় বেশ কিছু নথি এবং আর্থিক রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, অভিযানের শেষে ঠিক কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও ইডির তরফে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিধাননগর থানার মামলার সূত্রেই তদন্ত?

    ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতেই এই তদন্তের সূত্রপাত। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট একটি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ECIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগান। সেই সূত্র ধরে নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও সম্পত্তির আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    ফের সক্রিয় ইডি, নজরে একাধিক আর্থিক মামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তে ফের সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারই মধ্যে নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় এই তল্লাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

    এর আগে রবিবার সকালে উত্তর কলকাতায় স্টক ট্রেডিং এবং মানি মার্কেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যবসায়ী পরিবারের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ওই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা ইডির আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইডির পূর্বাঞ্চলীয় দফতরের একটি দল প্রথমে ফুলবাগান থানায় যায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে তদন্তকারীরা ফুলবাগান থানার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কাঁকুড়গাছির ‘শিবম’ ভবনে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন।

    ২৯০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলাতেও তল্লাশি

    অন্যদিকে, প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তেও গত ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল।

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঋণের একটি অংশ নির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহার না করে অন্য গ্রুপ সংস্থা এবং ব্যক্তিগত কাজে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল

    নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত ঠিকানা, সংবাদপত্রের দফতর এবং তৃণমূলের রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত অফিস—একাধিক জায়গা এই তদন্তের আওতায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের দফতর থেকে হওয়া আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    তবে এখনও পর্যন্ত ইডির তল্লাশি থেকে কী কী তথ্য বা নথি পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে, তদন্তের ভিত্তিতে নাদিমুল হক বা অন্য কোনও ব্যক্তি কিংবা সংস্থার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

    এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাদিমুল হকও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য দেননি। ফলে ইডির অভিযোগ, তল্লাশিতে পাওয়া তথ্য এবং তদন্তের পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

LinkedIn
Share