Tag: Madhyom

Madhyom

  • TMC Rebel MP: অবশেষে প্রকাশ্যে এল নথি! ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের চিঠিতে তৃণমূলের কে কে সই করেছেন?

    TMC Rebel MP: অবশেষে প্রকাশ্যে এল নথি! ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের চিঠিতে তৃণমূলের কে কে সই করেছেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর কোনও জল্পনা নয়। প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের (TMC Rebel MP) চিঠির সই করা অংশ। সেই কাগজের ছবি দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, কোন কোন তৃণমূল সাংসদ সই করেছেন বিক্ষুব্ধ হিসেবে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সেই চিঠি লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার ঘরে জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। গত সোমবার থেকে দফায় দফায় দিল্লিতে বৈঠক বসছে। তৃণমূলের একাধিক সাংসদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোনও কোনও সাংসদ সরাসরি বিষয়টি স্বীকার করলেও, অনেকেই মুখ বন্ধ রেখেছিলেন। কাউকে মুখ ঢেকে চলাফেরা করতেও দেখা যায়। আবার কেউ মুখে বলেছেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছেন, অথচ তাঁর সইও দেখা যাচ্ছে চিঠিতে।

    কবে জমা পড়ে চিঠি

    গত সোমবার, ৮ জুন এই চিঠি জমা পড়ার কথা জানান বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তবে চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, ১৮ মে তারিখের উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৮ মে পর্যন্ত লোকসভার দলনেতা ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ১৯ মে তাঁকে সরিয়ে দলনেতা করা হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। এ ক্ষেত্রে মমতা-পন্থী সাংসদদের তরফে সাংসদদের এই সই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, ১৯ জন সংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি গত ১৮মে স্পিকার অফিসে জমা দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, অফিশিয়ালি তিনিই চিফ হুইপ। অর্থাৎ কল্যাণকে চিফ হুইপ করার আগেই কাকলি চিফ হুইপ হিসেবে ওই চিঠি জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল সূত্রের দাবি, তৃণমূলের তরফে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিফ হুইপ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়, তা স্পিকারের কাছে জমা পড়ে ২০মে। সেই চিঠি গৃহীত হয় ২৯ মে।

    কে কে সই করেছেন চিঠিতে?

    খবর ছড়িয়েছিল, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে কয়েক দিন আগে চিঠি দিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদেরা। তাঁরা এনডিএ ব্লকের সদস্য হতে চান বলেও জানা গিয়েছিল। সেই চিঠিতে কারা সই করেছেন, তা নিয়ে জল্পনা ছিল। এ বার ১৯ জনের সই করা চিঠির ছবি সামনে এসেছে। যাতে স্পষ্ট কারা মমতার থেকে দূরত্ব তৈরি করেছেন। তালিকায় রয়েছেন, দেব, রচনা, জুন থেকে শুরু করে অভিষেক ঘনিষ্ঠ সায়নী ঘোষ, বাপি হালদাররাও। শোনা যাচ্ছিল, ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। সেই তালিকায় কারা রয়েছেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিস্তর জল্পনা চলছিল। শুক্রবার প্রকাশ্যে এল সাংসদদের সই করা চিঠি। নথি অনুযায়ী, সই করেছেন ১৯ সাংসদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রয়েছেন দীপক অধিকারী ও ওরফে দেব। সায়নী ঘোষও সই করেছেন। এছাড়া রয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়। দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ মালা রায়, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান, কালীপদ সোরেন, পার্থ ভৌমিক, মিতালি বাগ, অরূপ চক্রবর্তী, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, ইউসুফ পঠান।

  • Narendra Modi: ২০ জুন রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের নির্দেশ নবান্নের

    Narendra Modi: ২০ জুন রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের নির্দেশ নবান্নের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০ জুন রাজ্যে (Paschimbanga Diwas 20 June) আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে যোগদান করবেন বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি, সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং ঐতিহ্যগত গৌরবকে নতুন করে উজ্জীবিত করতে এক যুগান্তকারী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজ্যের সমস্ত স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের জন্য নবান্নের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর এবং শিক্ষা দফতরের যৌথ সমন্বয়ে প্রস্তুত এই নির্দেশিকাটি ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলার শিক্ষা আধিকারিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ গঠনমূলক ইতিহাস চেতনা জাগ্রত করা এবং রাজ্যের নিজস্ব আত্মপরিচয়কে সুদৃঢ় করা।

    প্রশাসনিক নির্দেশিকার মূল রূপরেখা (Paschimbanga Diwas 20 June)

    নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই বিশেষ দিনে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি, সরকার-পোষিত এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে বিশেষ কর্মসূচির (Paschimbanga Diwas 20 June) আয়োজন করতে হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, উদযাপনটি যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক নিয়মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা যেন হয়ে ওঠে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা। এই লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা সভা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে দিনটির সূচনা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলার সমাজ গঠনে এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গের যে অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের সামনে সহজ ও আকর্ষণীয় উপায়ে তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০ শে জুন বঙ্গবাসীর কাছে একটি ঐতিহাসিক দিন। এদিনে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)।

    শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির পরিধি

    রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “২০ জুন (Paschimbanga Diwas 20 June) প্রধানমন্ত্রী আসছেন। যেহেতু তারকেশ্বরের সম্মেলন থেকেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলা ভাগ নিয়ে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন, তাই তারকেশ্বরকে বেছে নিয়ে সেখানেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে। অত্যন্ত সুচারুভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য, কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হলো, হিন্দু-বাঙালির শেষ হোমল্যান্ড হিসেবে ১৯৪৭-এ কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিয়েশন হয়েছিল—তা নিয়ে আলোচনা হবে।”

    শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বৌদ্ধিক বিকাশকে (Paschimbanga Diwas 20 June) উৎসাহিত করতে এই দিনটিতে নানাবিধ প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করেছে শিক্ষা দফতর। নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজগুলিতে নিম্নলিখিত কর্মসূচিগুলি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:

    • আলোচনা সভা ও সেমিনার: বাংলার ইতিহাসবিদ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের গঠন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী বিবর্তনের ওপর বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন।
    • প্রবন্ধ ও কুইজ প্রতিযোগিতা: রাজ্যের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং মনীষীদের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রবন্ধ লিখন এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
    • সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী: বাংলার লোকসংস্কৃতি, যেমন— বাউল গান, ছৌ নাচ, এবং রবীন্দ্র-নজরুল- সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের মাটির কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

    মনীষীদের অবদান স্মরণ ও চেতনার বিকাশ

    নবান্নের আধিকারিকদের (Paschimbanga Diwas 20 June) মতে, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এবং কাজী নজরুল ইসলামের মতো যুগপুরুষদের জন্মভূমি এই বাংলা। বর্তমান যুগে বিশ্বায়নের আবহে তরুণ প্রজন্ম যাতে নিজেদের এই সমৃদ্ধ শিকড়কে ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশিকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটবে বলে আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    পরিকাঠামো ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি

    এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক (DM) এবং স্কুল পরিদর্শকদের (DI) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি যাতে এই অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো আর্থিক বা পরিকাঠামোগত সমস্যার সম্মুখীন না হয়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এই দিনটিতে ঠিক কী কী কর্মসূচি রূপায়িত হলো, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও আলোকচিত্র পরবর্তী সময়ে শিক্ষা দফতরের নির্দিষ্ট পোর্টালে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    রাজ্য সরকারের এই দূরদর্শী ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রাজ্যের শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী মহলের সিংহভাগ। তাঁদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে এই ধরণের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মনে দেশপ্রেম ও রাজ্যপ্রেমের এক সুস্থ সমন্বয় ঘটায়, যা একটি আদর্শ সমাজ গঠনে অত্যন্ত জরুরি। নবান্নের এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রগুলিতে এক ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনার (Paschimbanga Diwas 20 June) পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

  • Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। বৃহস্পতিবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি ও তার সহযোগী দলগুলি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে, বিশেষ করে কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল। এবারের নির্বাচনে মোট ২৪টি আসনে কোনও ভোটগ্রহণ ছাড়াই প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬টি আসন ছিল এনডিএ-র দখলে, আর বাকি ৮টি আসন বিরোধী শিবিরের হাতে ছিল।

    কোথায় কার কত আসন

    আন্ধ্রপ্রদেশে চারটি আসনের সবকটিই জিতেছে এনডিএ। এর মধ্যে তিনটি আসন পেয়েছে তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং একটি আসন গেছে জনসেনা পার্টির ঝুলিতে। গুজরাটেও চারটি আসনের সবকটিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। এর ফলে কংগ্রেসের দখলে থাকা একটি আসনও বিজেপি পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে। রাজস্থানে বিজেপির সতীশ পুনিয়া ও অলকা গুর্জর এবং কংগ্রেসের নীরজ ডাঙ্গি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও শাসক দলগুলির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। মিজোরামে শাসক জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (জেডপিএম) একটি আসন জয়ের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, মেঘালয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এবং অরুণাচল প্রদেশে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসন নিশ্চিত করেছে।

    মধ্যপ্রদেশ-ঝাড়খণ্ডে বিতর্ক

    সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। সেখানে রাজ্যসভার তিনটি আসনের মধ্যে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্র পুনর্বহাল করা হয়নি। রিটার্নিং অফিসারের এই সিদ্ধান্তকে ‘পরিকল্পিত’ ও ‘অন্যায়’ বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, যে আইনি নোটিশের ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা কোনও সরকারি এফআইআর ছিল না। ঝাড়খণ্ডের দুটি আসন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেখানে নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নাথওয়ানির বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর মনোনয়নপত্রে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। বিরোধীরা না মানলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রাজ্যসভা নির্বাচন একদিকে এনডিএ-র সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় তুলে ধরেছে।

  • PM Modi: “নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান”, দ্বাদশ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন রাজ্য বাজেটে বড় চমকের ইঙ্গিত

    PM Modi: “নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান”, দ্বাদশ বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন রাজ্য বাজেটে বড় চমকের ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) কেন্দ্রীয় সরকারের গৌরবময় ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মোদিকে ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি রাজ্যের আসন্ন বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষকে এক বড়সড় সুখবরের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

    ভারত ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠার পথে (PM Modi)

    কলকাতার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশেন হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) কেবল ভারতের নন, এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের দরবারে সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান। বিগত ১২ বছর ধরে তিনি দেশের আমূল পরিবর্তন ও প্রতিটি নাগরিকের ক্ষমতায়নে নিরলস কাজ করে চলেছেন। নিজেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী নয়, বরং প্রধান জনসেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।” তিনি আরও যোগ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বেই আজ ভারত ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠার পথে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, দেশবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে তা সফল করবে।”

    রাজ্য বড় আর্থিক বরাদ্দ পেতে শুরু করেছে

    রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠার সুফলের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকা পশ্চিমবঙ্গ এখন থেকে দেশের অন্য উন্নত রাজ্যগুলির মতোই সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা পাবে। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বাংলার সার্বিক রূপান্তর ও উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছেন।” উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, জল জীবন মিশন সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ইতিমধ্যেই রাজ্য বড় আর্থিক বরাদ্দ পেতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ইঙ্গিত দেন যে, রাজ্যের আসন্ন বাজেটে সর্বস্তরের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও কল্যাণমুখী কিছু বড় ঘোষণা আসতে চলেছে। কেন্দ্রের সহযোগিতায় রাজ্য সরকারের এই বাজেট বাংলার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বদলে দিতে এবং সাধারণ মানুষকে সরাসরি স্বস্তি দিতে বড় ভূমিকা নেবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

  • Gouri Shankar Ghosh: সব সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, বড় ঘোষণা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের

    Gouri Shankar Ghosh: সব সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই, বড় ঘোষণা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরে বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন নতুন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ (Gouri Shankar Ghosh)। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে কার্যভার গ্রহণ করার পরেই তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যের কোনও সরকারি বা সরকার-পোষিত সাধারণ গ্রন্থাগারে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লেখা বই আর রাখা হবে না।

    পড়াশোনার মানোন্নয়নে যা সহায়ক নয় (Gouri Shankar Ghosh)

    গ্রন্থাগারগুলির আধুনিকীকরণ ও আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা স্পষ্ট করে মন্ত্রী (Gouri Shankar Ghosh) বলেন, “যে সমস্ত বই থেকে নতুন প্রজন্ম শিক্ষণীয় বা গঠনমূলক কিছু লাভ করতে পারবে না, সেগুলি গ্রন্থাগারে রাখার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।” উদাহরণ হিসেবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) লেখা বিখ্যাত ছড়ার বই ‘এপাং-ওপাং-ঝপাং’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় লেখা শিক্ষার্থীদের কোনও উপকারে আসে না। তাই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে যা সহায়ক নয়, এমন সমস্ত বই দ্রুত গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলা হবে।”

    পরিবর্তে রাজ্য সরকার গ্রন্থাগারগুলিতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা, ভারতের প্রাচীন ইতিহাস এবং সংস্কৃতির ওপর বিশেষ জোর দিতে চলেছে। নতুন রূপরেখায় স্থান পাবে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং কাজী নজরুল ইসলামের মতো মনীষীদের জীবন ও কর্মভিত্তিক তথ্যসমৃদ্ধ বই। এছাড়া বিজ্ঞান ও আর্থ-সামাজিক বিষয়ের যেসব বই পড়ুয়াদের বৌদ্ধিক বিকাশে সাহায্য করবে, সেগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরতা কমবে

    নতুন মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর (Gouri Shankar Ghosh) কেবল বই পরিবর্তনের কথাই বলেননি, গ্রন্থাগারগুলির সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপরও জোর দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করে নেন যে বর্তমানে গ্রন্থাগারগুলিতে তীব্র কর্মী সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কট দূর করতে দ্রুত কর্মী নিয়োগ, ই-লাইব্রেরি বা ডিজিটাল পাঠাগার ব্যবস্থার প্রসার এবং স্কুলের পাঠাগারগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করার আশ্বাস দেন তিনি। মন্ত্রীর মতে, স্কুল স্তরে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত বইয়ের জোগান নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং তারা বিদ্যালয়মুখী হবে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বই যে আগামী প্রজন্মের কাছে অপ্রাসঙ্গিক তা মনে করিয়ে দেন রাজ্যের মন্ত্রী।

  • Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতায় বড়সড় সংযোজন ঘটল। দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এসএমপিপি-এর তৈরি ১০৬টি ‘পিসকিপার’ (ভারতে নাম ‘অগ্নিবেগ’) জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সরবরাহের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে মোট ১০৬টি সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০০টি অপারেশনাল ড্রোন এবং ৬টি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ইউনিট। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক লয়টারিং মিউনিশন ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করবে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত।

    নকশা বেলারুশের, উৎপাদন ভারতে

    ২০২৫ সালে বেলারুশ এবং ভারতের মধ্যে প্রায় ১০০টি ‘পিসকিপার’ কামিকাজে ড্রোন সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে ক্রেতা ছিল এসএমপিপি এবং বিক্রেতা ছিল বেলারুশের রাষ্ট্রায়ত্ত বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা বেলস্পেৎসনেশটেকনিকা। প্রযুক্তি হস্তান্তর (Transfer of Technology) চুক্তির আওতায় এসএমপিপি ইতিমধ্যেই কামিকাজে ড্রোনের মিউনিশন (অস্ত্র) অংশের উৎপাদন দেশীয়ভাবে শুরু করেছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। অর্ডারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রোনের বিভিন্ন উপাদান, এমনকি জেট ইঞ্জিন মোটর উৎপাদনের প্রযুক্তিও ভারতে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের খবর, এসএমপিপি ইতিমধ্যেই এই কামিকাজে ড্রোনের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণও প্রস্তাব করেছে, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম।

    কী এই ‘পিসকিপার’?

    ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ একটি টার্বোজেট ইঞ্জিনচালিত কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন, যা শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। প্রচলিত নজরদারি ড্রোনের মতো এটি মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফিরে আসে না। বরং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেই নিজেকে ধ্বংস করে দেয়। এই কারণেই একে ‘কামিকাজে ড্রোন’ বা ‘সুইসাইড ড্রোন’ বলা হয়। বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই ড্রোন শত্রুপক্ষের উচ্চমূল্যের সামরিক কাঠামো, কমান্ড সেন্টার, রেডার স্টেশন, গোলাবারুদ ডিপো কিংবা সাঁজোয়া যানকে নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম।

    ১৮০ কিলোমিটার দূরে নিখুঁত আঘাত

    অগ্নিবেগ ড্রোনের অন্যতম বড় শক্তি তার দীর্ঘ পাল্লা। এটি প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত অভিযান চালাতে পারে। অর্থাৎ সীমান্তের অনেক ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শত্রু লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করার সক্ষমতা রয়েছে এর। শুধু পাল্লাই নয়, গতি এবং নির্ভুলতার দিক থেকেও এটি অত্যন্ত উন্নত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম এই ড্রোনের ‘সার্কুলার এরর প্রোবাব্যল’ (CEP) ৫ মিটারেরও কম। সহজ ভাষায়, নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু থেকে এর বিচ্যুতি অত্যন্ত কম, ফলে অত্যন্ত নির্ভুল হামলা সম্ভব হয়।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্রেও কার্যকর

    বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রশক্তিই নয়, ইলেকট্রনিক যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শত্রুপক্ষ প্রায়ই জ্যামিং এবং স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনের যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করে। তবে ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ-কে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ধরনের ইলেকট্রনিক বাধা অতিক্রম করেও মিশন সম্পন্ন করা যায়। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ড্রোনটি আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিবেশেও সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

    অগ্নিবেগ ড্রোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● আঘাত হানার পাল্লা: সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার
    • ● সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ৪৫০ কিলোমিটার
    • ● নির্ভুলতা: সিইপি- ৫ মিটারের কম
    • ● ইঞ্জিন: দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত টার্বোজেট ইঞ্জিন
    • ● অপারেশন: স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল হামলা
    • ● সক্ষমতা: জ্যামিং ও স্পুফিং প্রতিরোধী

    সেনাবাহিনীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানবচালিত যুদ্ধবিমান বা সেনাদের সরাসরি ঝুঁকিতে না ফেলে শত্রু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সেই ক্ষেত্রে অগ্নিবেগ ড্রোন ভারতীয় সেনাকে কম খরচে, দ্রুত এবং নির্ভুল আঘাত হানার নতুন ক্ষমতা দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সংঘাত বা উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধে এই ধরনের কামিকাজে ড্রোন শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করতে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বড় সাফল্য

    দেশীয় সংস্থা এসএমপিপি-র তৈরি এই ড্রোনের সফল সরবরাহ ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আরেকটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উন্নতমানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করার যে লক্ষ্য ভারত নিয়েছে, ‘অগ্নিবেগ’ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি এই অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোনের অন্তর্ভুক্তি শুধু সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতাই বাড়াবে না, পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা মহলের বিশেষজ্ঞরা।

  • Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    Jahangir Khan: মানুষকে ভয়মুক্ত করতে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গিরকে হাফ প্যান্টে হাঁটিয়ে আদালতে নিয়ে গেল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ধৃত ডায়মন্ড হারবারের ১ নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan) নিয়ে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ তাঁকে হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় হেঁটে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলতার (Falta) একজন কুখ্যাত এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে এই অবস্থায় প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের চেয়ে বিরোধীমহলে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

    পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ (Jahangir Khan)

    গত শনিবার রাতে ডায়মন্ড হারবার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি অভিযানের সময় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জাহাঙ্গির খান (Falta) ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে জাহাঙ্গির সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। এরপর রবিবার ধৃত তৃণমূল নেতাকে ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ করার সময় এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যায়। সাধারণত নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার খাতিরে ধৃতদের পুলিশের গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হলেও, জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) ক্ষেত্রে পুলিশ তাঁকে থানা থেকে আদালত পর্যন্ত হেঁটে নিয়ে যায়। সেই সময় তাঁর পরনে ছিল একটি সাধারণ হাফ প্যান্ট এবং গেঞ্জি। ফলতার (Falta) নেতা গ্রেফতার হতেই ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

    আইন সবার জন্য সমান

    এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। বিজেপির অবশ্য দাবি, এইরকম দাগি দুষ্কৃতীকে প্রকাশ্যে এনে ভয় দেখানোর পরিবেশ থেকে জনসাধারণকে মুক্ত করাই একমাত্র কাজ। অন্যদিকে, একজন ব্লক স্তরের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্য রাস্তায় এভাবে নিয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত (Jahangir Khan) বা এর পেছনে কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিশেষ কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ঘটনার জেরে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় (Falta) রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

  • Jaspal Rana Dies: ‘ভারতীয় ক্রীড়াজগতে বিরাট ক্ষতি’ দেশের অন্যতম সেরা শুটার যশপল রানার মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Jaspal Rana Dies: ‘ভারতীয় ক্রীড়াজগতে বিরাট ক্ষতি’ দেশের অন্যতম সেরা শুটার যশপল রানার মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী শ্যুটার ও কোচ যশপাল রানা প্রয়াত (Jaspal Rana Dies)। দিল্লি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। যশপালের বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৯ বছর। জার্মানিতে শ্যুটিং বিশ্বকাপ থেকে ফেরার সময় হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে দিল্লি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তবে শেষমেশ ৪৯ বছর বয়সেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন যশপাল। এই যশপাল রানার কোচিংয়েই কিন্তু অলিম্পিক্সে জোড়া পদক জেতেন মনু ভাকের। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রীড়াজগত। শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

    প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা

    যশপাল রানার প্রয়াণে এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘শ্রী যশপাল রানা জির প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। ভারতীয় ক্রীড়াজগতের জন্য এটি এক বিরাট ক্ষতি (Sports News Bangla)। শুটিংয়ে তাঁর অসাধারণ সাফল্য দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছে। একইসঙ্গে একজন মেন্টর হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে বহু তরুণ ক্রীড়াবিদকে গড়ে তুলেছেন।’ যশপাল রানার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী শুটার অভিনব বিন্দ্রা (Abhinav Bindra)। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, যশপাল শুধু একজন অসাধারণ শুটারই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতীয় শুটিংয়ের এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় ক্রীড়া তথা শুটিং জগতের জন্য এক বিরাট ক্ষতি। দেশের অসংখ্য তরুণ শুটারের কাছে তিনি চিরকাল আদর্শ হয়ে থাকবেন।

    সোনালি কেরিয়ার

    ১৯৭৬ সালের ২৮ জুন উত্তরাখণ্ডে জন্ম তাঁর। ১৯৯৪ সালে প্রথম বার দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সে বছর মিলানে আয়োজিত জুনিয়র বিশ্বকাপে বিশ্বরেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছিলেন। এশিয়ান গেমসে ২৫ মিটার সেন্টার ফায়ার পিস্তলে সোনা জেতেন। ২০০৬ সালের দোহা এশিয়ান গেমসে তিনটি সোনা জিতে নজর কাড়েন। একটি ইভেন্টে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। আন্তর্জাতিক স্তরে ১৫টি পদক রয়েছে তাঁর। তার মধ্যে ৯টি সোনার। মাত্র ১৮ বছর বয়সে অর্জুন হন। পরে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানও দেয়।

    অর্জুন থেকে দ্রোণাচার্য

    এক সময় বিশ্বের অন্যতম সেরা শুটার রানা নতুন করে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন ২০২৪ সালের অলিম্পিক্সের সময়। প্যারিসে জোড়া পদকজয়ী মনুর কোচ হিসেবে তাঁকে নিয়েও হইচই শুরু হয়। ভারতীয় শুটিংয়ের হাই পারফম্যান্স কোচ হিসাবে কাজ করা রানার হাত ধরে উঠে এসেছেন বেশ কয়েক জন সেরা মানের শুটার। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন সৌরভ চৌধরি, অনীশ ভানওয়ালা, চিঙ্কি যাদবের মতো শুটারেরা। ২০১২ সালে কোচিং শুরু করেন। খেলোয়াড় হিসাবে অর্জুন পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি কোচ হিসাবে দ্রোণাচার্য পুরস্কারও পেয়েছেন রানা। মিউনিখ শুটিং বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরার সময় বিমানে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন রানা। দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রাক্তন অলিম্পিয়ান। শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকেরা একটি স্টেন্ট বসিয়েছিলেন। কিছু দিন পর আরও একটি স্টেন্ট বসানোর কথা ছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সেই সময় দিলেন না এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী শুটার।

  • S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ‘ভারত কখনও ইউরোপকে বিপদে ফেলেনি’, রুশ তেল ইস্যুতে পশ্চিমকে কড়া বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার জন্য পশ্চিমা দেশগুলির সমালোচনার মুখে বারবার পড়তে হয়েছে ভারতকে। তবে সেই সমালোচনার জবাবে আবারও দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডে আয়োজিত ‘কুলতারান্তা টকস্’ (Kultaranta Talks)-এ এক আন্তর্জাতিক আলোচনাচক্রে তিনি ভারতের জ্বালানি নীতির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন এবং ইউরোপের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

    ‘ভারত তেল কেনে দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে’

    ফিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সহকারী বিদেশমন্ত্রী লানা নুসেইবেহর সঙ্গে ‘ইমার্জিং পাওয়ার্স অ্যান্ড দ্য নিউ জিওপলিটিক্যাল কম্পিটিশন’ (Emerging Powers and the New Geopolitical Competition) শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন জয়শঙ্কর। সেখানে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ভারত কেন রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি তেল কিনি তার দাম এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে।” বিদেশমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী অঞ্চল হলেও সেই সময় ইউরোপীয় দেশগুলি বিপুল পরিমাণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল কিনতে শুরু করে। ফলে ভারতের জন্য বিকল্প উৎস খুঁজে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। জয়শঙ্করের কথায়, “সেই সময় বাজারে যে তেল সহজলভ্য ছিল, তার বড় অংশই ছিল রুশ তেল। কারণ ইউরোপীয় দেশগুলি কার্যত মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় অংশ কিনে নিচ্ছিল। পরিস্থিতিই আমাদের একটি নির্দিষ্ট দিকে যেতে বাধ্য করেছিল।”

    ‘নৈতিকতার প্রশ্নে’ ইউরোপকে পাল্টা আক্রমণ

    আলোচনার সময় সঞ্চালক ভারতের এই নীতির মধ্যে কোনও ‘নৈতিক অস্পষ্টতা’ বা ‘মোরাল অ্যাম্বিগুইটি’ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন। জবাবে জয়শঙ্কর ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতি তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “কোনও ইউরোপীয় দেশ ভারতীয় অস্ত্রের আক্রমণের শিকার হয়নি। কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, ইউরোপীয় অস্ত্র ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে— এমন উদাহরণ রয়েছে।” বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, ইউরোপের একাধিক দেশ পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে, যেগুলি পরবর্তীতে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। জয়শঙ্কর আরও বলেন, “বহু বছর ধরে ইউরোপীয় দেশগুলি এমন অস্ত্র বিক্রি করেছে যা ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ ভারত কখনও এমন কোনও কাজ করেনি যা ইউরোপের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে।”

    ইউরোপের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন

    রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে বারবার কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও ইউরোপের নিজেদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়শঙ্কর। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইউরোপীয় দেশগুলি দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছিল এবং এখনও বিভিন্ন উপায়ে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশগুলির মধ্যে অন্যতম ভারতের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করা একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রয়োজন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও তুলে ধরলেন

    জয়শঙ্কর আলোচনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ভারতকে রুশ তেল কেনার বিষয়ে উৎসাহিত করেছিল। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে, ভারতের রুশ তেল আমদানির সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র জাতীয় স্বার্থের কারণেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে।

    ভারতের জ্বালানি কৌশলের বড় পরিবর্তন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া যখন ছাড় মূল্যে তেল বিক্রি শুরু করে, তখন ভারত সেই সুযোগ গ্রহণ করে। ফলে গত কয়েক বছরে রাশিয়া ভারতের অন্যতম বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশই রাশিয়া থেকে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে—

    • ● ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
    • ● আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সত্ত্বেও দেশীয় জ্বালানির দাম তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
    • ● বৈশ্বিক তেল বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে ভারত।
    • ● ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    বহুমুখী কূটনীতির বার্তা

    জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও স্পষ্ট করে দিল যে, ভারত বর্তমান বহুমেরু বিশ্বের বাস্তবতায় নিজস্ব জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমা চাপ কিংবা ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে থেকে ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বাধীনতার নীতি বজায় রেখেই নয়াদিল্লি তার জ্বালানি ও বৈদেশিক নীতি পরিচালনা করতে চায়। ফিনল্যান্ডের মঞ্চ থেকে দেওয়া জয়শঙ্করের বক্তব্য শুধু রুশ তেল ইস্যুতেই নয়, বরং ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক, বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতি এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

  • FIFA World Cup 2026: উদ্বোধনে মাঠ মাতালেন শাকিরা-বার্নবয়, জিতলেও মন ভরাতে পারল না মেক্সিকোর খেলা

    FIFA World Cup 2026: উদ্বোধনে মাঠ মাতালেন শাকিরা-বার্নবয়, জিতলেও মন ভরাতে পারল না মেক্সিকোর খেলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়ে গেল ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026)। বৃহস্পতিবার রাতে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঢাকে কাঠি পড়ল বিশ্বকাপের। কলম্বিয়ার পপ তারকা শাকিরার গান, নাচ এবং নাইজেরিয়ার পপ তারকা বার্না বয়ের গানে ঝলমলে উদ্বোধন। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বিশ্বকাপ ট্রফির উন্মোচনে ছিল আরও গ্ল্যামারের ছোঁয়া। হাজির ছিলেন হলিউড তারকা এবং মেক্সিকোর ঘরের মেয়ে সালমা হায়েক। গ্যালারির ৮০ হাজারের বেশি দর্শক তখন মাতোয়ারা। মেক্সিকান সময় সকাল সাড়ে এগারোটায় ছিল উদ্বোধন। কিন্তু সকাল সাতটা থেকেই মেক্সিকো সিটির অলি–গলি ধরে মানুষের ভিড় হেঁটে এগোচ্ছিল স্টেডিয়ামের দিকে। সেই স্টেডিয়াম যেখানে ১৯৭০ ফাইনালে বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছিল পেলের ব্রাজিল, ১৯৮৬ ফাইনালে দিয়েগো মারাদোনা।

    জমকালো উদ্বোধন

    ভারতীয় সময় রাত ১১ টা নাগাদ শুরু হয় অনুষ্ঠান। শুরু হয় মেক্সিকোর রক ব্যান্ড ‘মানা’কে দিয়ে। স্থানীয় ভাষায় জনপ্রিয় ‘ওয়ে মি আমোর’ গান গেয়ে মেক্সিকোর জনতার হৃদয় জিতে নেয় মানা। গোটা স্টেডিয়াম গাইছিল তাঁদের সঙ্গে। এর পর ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওসান মঞ্চে ওঠেন। তিনিও স্পেনীয় গান এবং তাঁর জমকালো পোশাকে মাতিয়ে দেন দর্শকদের। এর পরেই যাঁর জন্য অপেক্ষা ছিল, তিনি হাজির হন স্টেডিয়ামে। হলুদ জামা, সাদা মিনিস্কার্ট এবং চোখে রোদচশমা নিয়ে হাজির হন শাকিরা। সঙ্গে ছিলেন বার্না বয়। বিশ্বকাপের ‘থিম সং’ গেয়েছেন তাঁরা। স্টেডিয়াম ফেটে পড়েছে উল্লাসে। শাকিরা এবং বার্না বয়ের নাচ এবং গান মাতিয়ে দেয়।

    মেক্সিকোর জয়

    এক ম্যাচে তিন-তিনটে লাল কার্ড! বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দেখা গেল নাটক। দক্ষিণ আফ্রিকার দু’জন ফুটবলার লাল কার্ড দেখলেন। মেক্সিকোর একজন। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল মেক্সিকো। তবে উদ্বোধনী ম্যাচে যে রকম ফুটবল প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা দেখা গেল না। হয়তো ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা নীচের দিকে থাকা দল বলেই আকর্ষণীয় ফুটবল দেখা গেল না। দুই দলের মধ্যেই সেই ঝাঁজের অভাব ছিল। তবে মেক্সিকোর খেলোয়াড়দের দাপট গোড়া থেকেই বেশি ছিল। আগ্রাসী ফুটবলের রাস্তাই তারা বেছে নিয়েছিল। ৯ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান কিনোনেস। চার নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নেমে প্রথম গোল করলেন জিমেনেজ। তা-ও আবার ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে। আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন জিমেনেজ। তবে, ব্রাজিলের রেফারি উইল্টন সাম্পাইয়োর একাধিক সিদ্ধান্ত বিতর্কিত হয়ে থাকবে। এই প্রথম বার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তিন জন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখানো হল। ২০০৬-এর পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে এত জন লাল কার্ড দেখলেন।

    জয় দক্ষিণ কোরিয়ার

    ভারতীয় সময় শুক্রবার সকালে, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া দল পিছিয়ে পড়েও চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে। ৫৯তম মিনিটে চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে পিছিয়ে পড়লেও, দক্ষিণ কোরিয়া দল হোয়াং ইন বম (৬৭তম মিনিট) এবং ওহ হিয়ন গিউয়ের (৮০তম মিনিট) করা দুটি দ্রুত গোলের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের প্রথম জয় নিশ্চিত করে।

LinkedIn
Share