Tag: Madhyom

Madhyom

  • Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের (Saudi Arabia) তেল পরিকাঠামো ও জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে রিয়াধের অপরিশোধিত তেল (Hormuz Crisis) রফতানি নেটওয়ার্কে বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে, যা সৌদি নেতৃত্বের কাছে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরামকোর জাজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের একাধিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে পাঠানো একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এমন সময় এই হামলা হয়েছে, যখন লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তেলবাহী জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে এবং ইউরোপে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে রফতানিকারীদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

    হুথিদের হামলার জের (Saudi Arabia)

    সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই হুথিদের হামলার পর দৈনিক চার লাখ ব্যারেল পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন জাজান শোধনাগার বন্ধ করে দেয় সৌদি আরামকো। হামলায় শোধনাগারের সমন্বিত গ্যাসীকরণ ও যৌথ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং তেল সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু পর্যন্ত তেল পরিবহণের জন্য সৌদি আরব যে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন তৈরি করেছিল, সেটিও এখন আর পুরো সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ ইয়ানবুতে পৌঁছনোর পরও তেলবাহী জাহাজকে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী পেরোতে হয়। হরমুজের মতো এই জলপথও এখন হুথিদের হামলার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিকল্প রুটের সন্ধানে সৌদি আরবকে ভাবতে হতে পারে। আর সেই বিকল্প বহু বছর ধরেই রয়েছে, যদিও এতদিন তা কার্যত আড়ালেই ছিল। ইজরায়েলের লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাত থেকে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী আশকেলন পর্যন্ত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন রয়েছে। প্রায় ছ’দশক আগে ইরানের অর্থায়ন ও ইজরায়েলের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় গোপনে এটি নির্মিত হয়েছিল। তখনও ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান ও ইজরায়েলের সম্পর্ক বৈরিতার রূপ নেয়নি। এই পাইপলাইনের উদ্দেশ্য ছিল এলাতে আসা ইরানি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে পৌঁছে সেখান থেকে ইউরোপে পাঠানো। এর ফলে সুয়েজ খাল এড়িয়ে দ্রুত তেল পরিবহণ সম্ভব হত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে কম আলোচিত জ্বালানি পরিকাঠামো হিসেবে এটি পরিচিত। বর্তমানে হরমুজ ও বাব-আল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথই সংঘাতের কারণে ঝুঁকিতে পড়ায় ইজরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলছেন, একই পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য হতে পারে ইউরোপমুখী নয়া রফতানি পথ।

    সিআইএর নজরেও ছিল প্রকল্পটি

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটিকে এতটাই কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল যে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অংশ ছিল। সেই মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, বিশাল তেলবাহী জাহাজে ইরানি তেল এলাতে নামানো হবে, তারপর ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মাধ্যমে তা আশকেলনে পৌঁছে ছোট জাহাজে ইউরোপে পাঠানো হবে। প্রথম ধাপে বছরে প্রায় দুই কোটি টন এবং পরবর্তীতে ছয় কোটি টন পর্যন্ত তেল পরিবহণের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে সুয়েজ খাল বা আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাওয়ার তুলনায় এই পথে খরচ কম হবে বলেও সিআইএ মনে করেছিল। পরে এই পরিকাঠামোর পরিচালনাকারী সংস্থার নাম হয় ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানি (Saudi Arabia)। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হলে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইজরায়েল। পরবর্তীকালে সুইজারল্যান্ডের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল ইরানকে একশো দশ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, শত্রুর সঙ্গে বাণিজ্য আইন দেখিয়ে সেই রায় মানতে অস্বীকার করে ইজরায়েল। আজও এই সংস্থা ইজরায়েলের অন্যতম গোপন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

    কীভাবে কাজ করবে এই রুট?

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি অপরিশোধিত তেল প্রথমে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ইয়ানবু পৌঁছাবে। সেখান থেকে জাহাজে করে লোহিত সাগর পেরিয়ে আকাবা উপসাগরের এলাত বন্দরে আনা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে নিয়ে গিয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাঠানো হবে। বর্তমানে উত্তরমুখী এই পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহণ ক্ষমতা প্রায় বারো লাখ ব্যারেল (Hormuz Crisis)। তবে সৌদি আরবের দৈনিক ছয় থেকে সাড়ে সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানির তুলনায় এটি মাত্র পাঁচ থেকে পনেরো শতাংশ বহন করতে পারবে। ফলে এটি মূল রফতানি পথের বিকল্প নয়, বরং একটি সহায়ক রুট হিসেবেই কার্যকর হতে পারে।

    ইজরায়েলের প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?

    মার্কিন বংশোদ্ভূত, ইজরায়েল-ভিত্তিক উন্মুক্ত উৎস গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং ওএসআইএনটি সিক্স ওয়ান থ্রির প্রতিষ্ঠাতা জে লেটনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ইজরায়েলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন ওয়াশিংটনের কাছে সৌদি আরব থেকে এলাত পর্যন্ত প্রায় সাতশো কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ব্যর্থ সমঝোতার পর এটিই ইজরায়েল সরকারের সবচেয়ে জোরালো উদ্যোগ। তবে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি সৌদি আরবের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।” তিনি আরও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ইজরায়েল হয়ে ইউরোপে গেলে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইজরায়েলের পরিকাঠামো কৌশলগত গুরুত্ব পাবে।”

    পরিকাঠামো এখনও বড় বাধা

    লেটনির মতে, এলাত বন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো সৌদি আরবের মতো বড় রফতানি সামলানোর উপযুক্ত নয়। তাঁর কথায়, “হুথিদের হামলার কারণে এলাত বন্দরের কার্যক্রম নব্বই শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি আর্থিক সংকটের কারণে কার্যত বন্দরটি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সৌদি আরবের পরিমাণের তেল পরিবহণের জন্য গভীর নৌপথ, অতিবৃহৎ তেলবাহী জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা, নতুন সংরক্ষণাগার এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা-সহ কয়েকশো কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে (Saudi Arabia)।” তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে পাইপলাইনে অন্তত ১১টি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ন’টি নাশকতা বা মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে রকেট হামলাও হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের হামলায় ইজরায়েলের বাজান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

    সবচেয়ে বড় বাধা রাজনীতি

    সৌদি আরব এখনও স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা কার্যত থমকে যায়। সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সৌদি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা আমার স্বপ্ন।” তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বারবার জানিয়েছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব পথ না থাকলে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না (Hormuz Crisis)। লেটনির মতে, “আব্রাহাম চুক্তি মানসিক বাধা ভেঙে দিয়েছে। ইজরায়েলের অনেক নীতিনির্ধারক এখন মনে করেন, সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বাস্তবে রিয়াধ বারবার বলেছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। এই পাইপলাইন প্রস্তাবের মাধ্যমে ইজরায়েল যৌথ পরিকাঠামো, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক শর্তকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।”

    গোপনে কি সম্ভব এই সহযোগিতা?

    ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানির দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার ইতিহাস থাকলেও, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে (Saudi Arabia) এত বড় প্রকল্প গোপন রাখা কঠিন বলে মনে করেন লেটনি। তাঁর ভাষায়, “সীমিত পরিসরে কিছুদিন গোপন রাখা সম্ভব হলেও, উপগ্রহ চিত্র ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুব দ্রুতই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসবে। ইরান এটিকে সৌদি-ইজরায়েল জোট হিসেবে তুলে ধরবে এবং হুথিরাও নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।”

    আমেরিকা ও ইরানের অবস্থান কী হতে পারে?

    লেটনির মতে, ইরান এমন কোনও চুক্তিকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে দেখবে এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এই প্রকল্পের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ এতে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমবে, সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে এবং ইউরোপ রাশিয়া বা মিশরের বিকল্প জ্বালানি পরিবহণ পথ পাবে (Saudi Arabia)। লেটনির ভাষায়, “ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে সামনে না এলেও, পর্দার আড়াল থেকে এই ধরনের উদ্যোগের পথে বাধা দূর করতে আগ্রহী হতে পারে (Hormuz Crisis)।”

     

  • Digital Arrest: ডিজিটাল অ্যারেস্টে কড়া আইন! সংসদে আসতে পারে নতুন বিল, আলাদা অপরাধ হবে ‘ডিপফেকও’

    Digital Arrest: ডিজিটাল অ্যারেস্টে কড়া আইন! সংসদে আসতে পারে নতুন বিল, আলাদা অপরাধ হবে ‘ডিপফেকও’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি সংসদ অধিবেশনেই ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest), ‘ডিপফেক’ (Deepfake) এবং অন্যান্য সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একটি বিস্তৃত বিল আনা হতে পারে। এই বিলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এবং ‘ডিপফেক’-কে আলাদা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ। মঙ্গলবার দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে স্পষ্টভাবে জানায়, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-কে একটি স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে আইনে সংজ্ঞায়িত করতে হবে এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত বাড়তে থাকা ‘ডিপফেক’ ও অন্যান্য নতুন ধরনের অনলাইন অপরাধ মোকাবিলায়ও আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয় আদালত।

    কী বলল সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ?

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানায়, কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত যদি প্রাথমিকভাবে শক্ত প্রমাণ পায়, তাহলে তদন্ত চলাকালীন তাঁর সম্পত্তি বা আর্থিক সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দ করার ক্ষমতা তদন্তকারী সংস্থার থাকা উচিত। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘ডিপফেক’ (Deepfake) প্রযুক্তির অপব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই এই ধরনের নতুন সাইবার অপরাধকে আইনের আওতায় আনতে এবং স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে দ্রুত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।

    কেন্দ্র কী জানাল আদালতে?

    সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একটি খসড়া বিল তৈরি করছে। সেই বিলে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest), ‘ডিপফেক’ (Deepfake) এবং এ ধরনের অন্যান্য সাইবার অপরাধ মোকাবিলার জন্য বিস্তৃত আইনি ব্যবস্থা রাখা হবে। আদালতে তিনি বলেন, “একটি খসড়া বিল তৈরি হচ্ছে। সেখানে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, ডিপফেক-সহ এই ধরনের সমস্ত অপরাধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।”

    ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল কমিটির রিপোর্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে

    অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরমণি আদালতকে জানান, একটি আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (IDC) বর্তমানে বিদ্যমান আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখে একটি বিস্তৃত রিপোর্ট তৈরি করছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নতুন আইন চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১০ কোটি টাকা বা তার বেশি ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২০টি বড় ডিজিটাল প্রতারণার মামলার তদন্ত করছে সিবিআই। অন্য মামলাগুলির তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট রাজ্য পুলিশের সাইবার শাখা।

    বুধবার নির্দেশ দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট

    মঙ্গলবারের শুনানির শেষে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, এই মামলায় বুধবার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হবে।

    কেন শুরু হয়েছিল এই মামলার শুনানি?

    গত বছর দেশজুড়ে বেড়ে চলা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) প্রতারণার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। এই ধরনের প্রতারণায় জালিয়াতরা নিজেদের পুলিশ, সিবিআই, ইডি বা আদালতের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদেরই বেশি টার্গেট করা হয়। এর আগের এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বিচারকদের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়ো আদালতের নির্দেশ তৈরি করা শুধু প্রতারণা নয়, এটি বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার উপর সরাসরি আঘাত। আদালতের মর্যাদা ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।

    কী হতে পারে নতুন আইনে?

    প্রস্তাবিত বিলে সম্ভাব্যভাবে যে বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হতে পারে- ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-কে আলাদা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি। ‘ডিপফেক’ (Deepfake) তৈরি ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি শাস্তি। নতুন ধরনের সাইবার প্রতারণার স্পষ্ট সংজ্ঞা ও শাস্তির বিধান। গুরুতর মামলায় তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তের সম্পত্তি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে জব্দ করার ক্ষমতা। সাইবার অপরাধের তদন্ত ও বিচার আরও দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য নতুন আইনি কাঠামো।

  • Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, কর্মীসঙ্কট এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানী ভবনে (Bhawani Bhavan) পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং কর্মীবান্ধব করে তুলতেই এই পদক্ষেপ। নতুন নিয়োগ, ডিএ বৃদ্ধি, সপ্তম বেতন কমিশন, আধুনিক তদন্তকারী সংস্থা, বদলি নীতি- সব মিলিয়ে পুলিশের জন্য কার্যত একগুচ্ছ ‘মেগা প্যাকেজ’-এর ঘোষণা করেন তিনি। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, সেটা হয় নাকি! পরে আরও দেব, আপনারা ভালোভাবে কাজ করুন।”

    ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment)

    রাজ্যে পুলিশের ঘাটতি পূরণে আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment) করা হবে বলে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া (Police Recruitment) শুরু হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের পথও এখন পরিষ্কার। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জট কাটার পর দ্রুত নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করা ১৪ হাজার কনস্টেবলকে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই বিভিন্ন জেলায় কাজে যোগ দেওয়ানো হবে।

    পুজো থেকেই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)

    তৃণমূল সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সরকারে আসতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে ডিএর ফারাক কমাতে প্রথম দফায় আগামী অক্টোবর (পুজোর মাস) থেকেই পুলিশকর্মীদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)-র ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি রাজ্য গঠিত সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই দ্রুত তা কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি। বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করারও ঘোষণা করা হয়েছে, যা পুজোর সময় থেকেই কার্যকর হবে।

    এনআইএ-র আদলে গড়ে উঠছে ‘SIA’

    রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আদলে ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA) গঠনের ঘোষণাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, জটিল অপরাধ ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ তদন্তে এই বিশেষ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আধুনিক পুলিশ পরিকাঠামো

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাহীন সরকারি পুলিশ যান ধাপে ধাপে বদলে নতুন আধুনিক গাড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হবে। পুলিশকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য গুজরাতের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ-এর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণও চালু হবে।

    বদলি নীতিতে মানবিক উদ্যোগ

    পুলিশকর্মীদের দীর্ঘদিনের বদলি-সংক্রান্ত সমস্যার দিকেও নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী-

    • মহিলা কনস্টেবলদের নিজ নিজ জেলায় পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে
    • মহিলা অফিসারদের পার্শ্ববর্তী জেলায় বদলির নীতি গ্রহণ করা হবে
    • যাঁরা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের জেলা থেকে দূরে কর্মরত, তাঁদের ধাপে ধাপে স্বজেলায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে

    গড়ে উঠছে অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড

    পুলিশকর্মীদের আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার না করে তাঁদের পেশাগত উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের পুরনো নাগরিক সহায়তা প্রকল্পও নতুন করে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দেন, শক্তিশালী ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি যেমন চলবে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসে দশ হাজার মিটারে ভারতের প্রথম পদক, রুপো জিতে ইতিহাস গুলবীরের

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসে দশ হাজার মিটারে ভারতের প্রথম পদক, রুপো জিতে ইতিহাস গুলবীরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চম দিনের মতো সোনালি সাফল্য না এলেও কমনওয়েলথ গেমসের ষষ্ঠ দিনটা মন্দ গেল না ভারতের। মঙ্গলবার, গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ গুলবীর সিং পুরুষদের ১০,০০০ মিটারে দেশের হয়ে প্রথম পদক জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। হরজিন্দর কৌর ভারোত্তোলনে রুপো জিতেছেন। এর পাশাপাশি, তিনজন ভারতীয় বক্সার সেমিফাইনালে উঠে দেশের জন্য অন্তত আরও তিনটি পদক নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় অ্যাথলিট গুলবীর সিং এবং হরজিন্দর কৌরকে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ রুপোর পদক জেতার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন (Commonwealth Games 2026)।

    গুলবীর সিং-এর ঐতিহাসিক রুপো

    কমনওয়েলথ গেমসের অ্যাথলেটিক্সে নতুন ইতিহাস লিখলেন ভারতের দীর্ঘদূরত্বের দৌড়বিদ গুলভীর সিং। পুরুষদের ১০,০০০ মিটার দৌড়ে রুপোর পদক জিতে নজির গড়লেন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জজয়ী এই অ্যাথলিট। এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও ভারতীয় অ্যাথলিট পদক জিতলেন। বৃষ্টিভেজা ট্র্যাক, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে গুলভীরের এই সাফল্য ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। স্কটল্যান্ডের স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে টানা বৃষ্টির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটি। ভেজা ট্র্যাকে দৌড়ানো সহজ ছিল না। তবুও শুরু থেকেই গুলভীর নিজেকে শীর্ষ প্রতিযোগীদের মধ্যে ধরে রাখেন। শেষ কয়েকটি ল্যাপে অসাধারণ গতি বাড়িয়ে তিনি রুপোর পদক নিশ্চিত করেন। ২৭ মিনিট ৪৯.৭৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ভারতীয় অ্যাথলিট। সোনা জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার কাই রবিনসন। তাঁর সময় ছিল ২৭ মিনিট ৪৮.৯৩ সেকেন্ড। মাত্র এক সেকেন্ডেরও কম ব্যবধানে সোনার হাতছাড়া হলেও গুলভীরের লড়াই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। আইল অব ম্যানের ডেভিড মুলার্কি ২৭ মিনিট ৫০.২৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন।

    হরজিন্দর কৌরের রুপোর পদক

    ষষ্ঠ দিনে ভারতের হয়ে প্রথম পদকটি আনেন হরজিন্দর কৌর। তিনি মহিলাদের ৬৯ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে রুপো জেতেন। পাঞ্জাবের এই লিফটার মোট ২২৭ কেজি ওজন তোলেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য সেরা। তার মধ্যে স্ন্যাচে ১০১ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৬ কেজি। তিনি কানাডার শার্লট সিমোনোর পিছনে থেকে দ্বিতীয় হন। হরজিন্দর এই প্রতিযোগিতায় দু’বার কমনওয়েলথ গেমসের স্ন্যাচ রেকর্ডও ভাঙেন। বার্মিংহাম ২০২২ গেমসে জেতা ব্রোঞ্জ পদকের পর এবার তিনি রুপো জিতে নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করলেন। বক্সিং রিংয়ে এদিন মহিলাদের ৫৪ কেজি কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের প্রীতি পাওয়ার সেমিফাইনাল উঠে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিকোল ক্লাইডকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে সেমির টিকিট নিশ্চিত করেন প্রীতি। যার ফলে প্রীতির ব্রোঞ্জজয় নিশ্চিত। সেমিতে জিতলে বদলাবে পদকের রং। একইভাবে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে ফেলেছেন ভারতের বক্সার প্রিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে স্কটল্যান্ডের নিমাহ মিচেলকে হারান তিনি। ফলে প্রিয়াও সেমিতে উঠে পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন।

  • India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    India Slams China: ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চিনের দাবি উড়িয়ে কড়া জবাব নয়াদিল্লির, কী বলল মোদির দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন (India Slams China)। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র বৈঠককে ঘিরে বেজিং যে (Sovereignty Row) ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ভারতের, চিনের নয়। কারণ, ১৯৬৩ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ডের একটি অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে চিন। পাশাপাশি ওই অঞ্চলগুলিতে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

    জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক (India Slams China)

    সম্প্রতি ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান ও পূর্ব এশিয়া বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই-র মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পর চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দাবি করে, তাইওয়ান ও তিব্বত-সংক্রান্ত বিষয়ে ভারত তার আগের অবস্থানই বজায় রেখেছে এবং চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার কথা জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। এই দাবির বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, চিনের জারি করা বিবৃতিতে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রসঙ্গ-বিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর কথায়, বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বরং জোর দিয়ে বলেছেন, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করার অধিকার ভারতেরই রয়েছে, কারণ ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতাই দীর্ঘদিন ধরে লঙ্ঘিত হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “ভারত সবসময় চিনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করেছে এবং কখনও এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, যা চিনের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু চিনের ক্ষেত্রে সেই কথা বলা যায় না। ১৯৬৩ সাল থেকে তারা জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের ভারতের ভূখণ্ড বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির ওপর ভারতের আইনগত অধিকার সম্পর্কে চিনও অবগত। সেই অবস্থায় সার্বভৌমত্ব নিয়ে বেজিংয়ের দাবি পরস্পরবিরোধী। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের বিভিন্ন পরিকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধেও আবারও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর দিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ভারত। ভারত আবারও স্পষ্ট করেছে, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে পারে না। ২২ জুলাইয়ের বৈঠকে জয়শঙ্কর ওয়াং ই-কে বলেন, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত (India Slams China)।” তিনি জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই লক্ষ্যেই দুই দেশ কাজ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বর্তমান ব্যবস্থাগুলিকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং উভয় পক্ষকেই ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    ভারতের সাফ কথা

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে হওয়া ভারত-চিন সেনা অপসারণ চুক্তির প্রসঙ্গেই। পূর্ব লাদাখে দীর্ঘ চার বছরের সামরিক অচলাবস্থার পর ওই চুক্তি হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সেনা অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। ওই চুক্তির আওতায় দেপসাং ও দেমচকের মতো শেষ দু’টি স্পর্শকাতর এলাকায়ও সেনা অপসারণের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। এর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক বিতর্কিত এলাকা থেকে সেনা সরানো সম্ভব হয় এবং দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয় (Sovereignty Row)। তবে ভারত জানিয়ে দিয়েছে, কেবল সেনা অপসারণ যথেষ্ট নয়। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গত ছ’বছর ধরে এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে নয়াদিল্লি (India Slams China)। এই ঘটনার মাধ্যমে ভারত ও চিনের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্যও আবার সামনে এসেছে। ম্যানিলার বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ও চিন দু’টি বৃহৎ, প্রভাবশালী এবং প্রতিবেশী দেশ। ফলে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে মতভেদ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়, সেটাই কূটনীতির দায়িত্ব। এই অবস্থান ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিরই পুনরাবৃত্তি। ২০১৭ সালে ব্রিকস সম্মেলনের সময়ও দুই দেশ একমত হয়েছিল যে, মতপার্থক্যকে সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

    ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকায় জোর

    এদিকে, চিনের বিদেশমন্ত্রক বৈঠককে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে। সিনহুয়ার প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ওয়াং ই বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলি বাস্তবায়নে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বেজিং। অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংবাদমাধ্যম, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্পর্শকাতর বিষয়গুলি যথাযথভাবে পরিচালনার ওপরও জোর দেন তিনি (India Slams China)। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বহুমেরুকরণ ও আরও গণতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত ও চিনের ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ভারত বরাবরই ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, সীমান্ত ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় নয়াদিল্লি। চিনের ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়ে ভারত আবারও জানিয়ে দিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে চিনের বেআইনি দখল (Sovereignty Row) এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা প্রকল্পের বিরোধিতাই ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে থাকবে (India Slams China)।

     

  • Misir Besra Arrested: মাথার দাম ১ কোটি! গিরিডি থেকে গ্রেফতার একমাত্র জীবিত মাও পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা

    Misir Besra Arrested: মাথার দাম ১ কোটি! গিরিডি থেকে গ্রেফতার একমাত্র জীবিত মাও পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদী-মুক্ত ভারত! কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে ঝাড়খণ্ডের শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা অধরাই ছিলেন। অবশেষে কোবরা বাহিনীর ‘জালে’ ধরা পড়লেন তিনি। ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং সিআরপিএফ-র এলিট কোবরা ব্যাটালিয়নের রুদ্ধশ্বাস যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলেন মাওবাদী এই শীর্ষ নেতা (Misir Besra Arrested)। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। ধানবাদ-গিরিডি সীমানার মানিয়াদি এলাকা থেকে বেসরা ও তাঁর দুই দুর্ধর্ষ সহযোগীকে পাকড়াও করে নিরাপত্তা বাহিনী। মিসির ছিলেন একমাত্র জীবিত মাওবাদী পলিটব্যুরো সদস্য।

    কীভাবে ধরা পড়লেন মিসির

    পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল মিসির। সম্প্রতি পুলিশের কাছে খবর আসে শীর্ষ এই মাওবাদী নেতা ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছে। এরপরই সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ থানার পুলিশ একযোগে তল্লাশি শুরু করে। রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার জঙ্গলে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মেহনত ওরফে মোচ্ছু এবং সক্রিয় সদস্য গৌরব ওরফে সৌরভ। অভিযানে দুই গ্রামবাসীকেও আটক করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক, পলাতক সদস্যদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। মিসিরের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানায় ১৫৪টির বেশি মামলা রয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দ্বারা তদন্ত করা হচ্ছে এমন তিনটি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    প্রায় দু’ দশক ধরে অধরা

    ধানবাদ পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে. প্রায় দু’ দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে মিসির পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহার পুলিশের হেফাজত থেকে মিসির পালিয়ে গিয়েছিলেন। ওই বছর তাঁকে বিহারের লখিসরাই জেলার আদালতে পুরোনো একটি মামলায় হাজির করানোর জন্য পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে মাওবাদীরা আদালত চত্বরে মিসির বেসরাকে ছাড়াতে আচমকা হামলা চালায়। তাতেই পালিয়ে যান মিসির। মিসিরের গ্রেফতার নিয়ে তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থর দাবি, পুলিশ বা সিআরপিএফ-এর তরফ থেকে তাঁর বাবার গ্রেফতার নিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত তাঁকে খবর দেওয়া হয়নি। তিনি সূত্র মারফত জেনেছেন তাঁর বাবার গ্রেফতার হওয়ার খবর। সিদ্ধার্থর দাবি, ১৫ দিন আগেও পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁকে বলেছিল, বাবাকে চিঠি লিখে আত্মসমর্পণের ব্যাপারে অনুরোধ করতে। একই সঙ্গে মিসিরের ছেলে জানিয়েছেন, ২০ বছর তিনি বাবাকে দেখেননি। বাবা জীবিত রয়েছেন জেনে তিনি খুশি।

    মিসির বেসরা কে?

    মিসিরের আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহিতে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মাওবাদীদের সংগঠনের শীর্ষস্তরের নেতা ও তাদের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য মিসির। পলিটব্যুরোর অন্য সদস্যরা হয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন, নয়ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সি ওই নেতার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। সংগঠনের তাত্ত্বিক নেতা ও অপারেশনাল কম্যান্ডার ছিলেন তিনি। সংগঠনের নেতা ও কর্মীদের কাছে তিনি ভাস্কর ও সাগর নামেও পরিচিত। নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মিসিরের। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সারান্ডা, পোরাহাট ও কোলহানের জঙ্গল এলাকায় সংগঠনের ঘাঁটি শক্তিশালী করা, সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা, নতুন ক্যাডার নিয়োগ, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মাওবাদী ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল সে।

    পলাতক মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    ধৃত মেহনত ওরফে মোচ্ছু, বিভীষণ বা কুম্বা মুর্মু ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানার ঘোড়াবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা। সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিল মোচ্ছু। তার গ্রেফতারির জন্য ঝাড়খণ্ড সরকার ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, মিসির বেসরার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সারান্ডা-পোডাহাট অঞ্চলে সংগঠনের কার্যকলাপ, তোলাবাজি, ক্যাডার পরিচালনা এবং প্রচার কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মোচ্ছুর। আর এক ধৃত গৌরব ওরফে সৌরভও সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছ থেকেও সংগঠনের কাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পলাতক মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    মাওবাদীদের সাংগঠনিক কাঠামোয় শেষ পেরেক!

     ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে আরও একটি বড় সাফল্যের কথা জানায় পুলিশ। মোট ১৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মাথার দাম মিলিয়ে ছিল ৩৯ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সন্তোষ মাহাত ওরফে বাসুদেব দা ওরফে দিলীপ। তাঁর বিরুদ্ধে ১২৮টি মামলা রয়েছে এবং মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া সংগঠনের দুই সাব-জোনাল কমিটি সদস্য ও দুই এরিয়া কমিটি স্তরের নেতাও অস্ত্র ছেড়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছেন ৪৫ জন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২২ জন মাওবাদী। ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, মিসির বেসরার গ্রেফতরি রাজ্যে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধাক্কা। পুলিশের দাবি, বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় মাওবাদীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। রাজ্যজুড়ে মাত্র ১৭ জন সক্রিয় মাওবাদী জঙ্গি বর্তমানে পলাতক।

  • POK Elections 2026: মুনিরের দমনপীড়নে রক্তাক্ত পিওকে, মৃত বেড়ে ৬৭! ‘লোক দেখানো নির্বাচন’ দাবি ভারতের

    POK Elections 2026: মুনিরের দমনপীড়নে রক্তাক্ত পিওকে, মৃত বেড়ে ৬৭! ‘লোক দেখানো নির্বাচন’ দাবি ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন (POK Elections 2026) আসলে একটা প্রহসন। গায়ের জোরে অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট করাচ্ছে পাক সরকার। শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে সেখানকার জনগণের আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল। ভোটের প্রথম দফায় সেই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে অধিকৃত কাশ্মীরে। এই পরিস্থিতিতে অধিকৃত কাশ্মীরের ভোট নিয়ে ইসলামাবাদকে তোপ দাগল নয়াদিল্লি। তারা জানিয়েছে, এই নির্বাচন দখলদারি আড়ালের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই নির্বাচন শুধুই লোক দেখানো। ইতিমধ্যেই, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭-এ পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

    দখলদারি আড়ালের প্রচেষ্টা মাত্র

    অধিকৃত কাশ্মীরে ৩ দফা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ছিল গত সোমবার। নির্বাচন শুরু হতেই নানা জায়গা থেকে হিংসার খবর আসতে থাকে। একাধিক জায়গায় ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান গণবিক্ষোভ হল পাক সরকারের অর্থনৈতিক শোষণ, জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্খন এবং দমন-পীড়নের প্রত্যক্ষ পরিণতি।” ভারত সরকার এই নির্বাচনকে “Cosmetic Electoral Exercise” বা লোক দেখানো নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পিওকের জনগণের মৌলিক অধিকার দীর্ঘদিন ধরে খর্ব করা হয়েছে বলেই সেখানে ব্যাপক জনবিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সেখানে যে লোকদেখানো নির্বাচন হচ্ছে, তা আসলে দখলদারি আড়ালের প্রচেষ্টা মাত্র। সেখানে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি ঘটছে, সেগুলিও গোপন করার প্রচেষ্টা।” রণধীর স্পষ্ট করেছেন, “বর্তমানে পাকিস্তানের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকাগুলি-সহ জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ।”

    কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র রাওয়ালকোট

    ভোটের দিন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় রাওয়ালকোট, কোটলির মতো এলাকাগুলি। গত ৫২ দিন ধরে রাওয়ালকোটে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। এই বিক্ষোভ দমনে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে উপর অতর্কিতে গুলিবৃষ্টি শুরু করে পুলিশ। এই হামলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। বহুমানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সংগঠনটির দীর্ঘ মিছিল মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরই পাকিস্তানি বাহিনী আরও কঠোর দমন অভিযান চালায় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার পিওকের মিরপুরের একটি ব্যস্ত বাজারে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন নিহত হন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে থাকেন সাধারণ মানুষ। গুলির শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে, একটি দোকান থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়।

    ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন

    পিওকের নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে গত ৯ জুন থেকে হাজার হাজার সমর্থক রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। সংগঠনটির ৩৮ দফা দাবির অন্যতম ছিল তথাকথিত আইনসভায় পাকিস্তানের প্রভাবাধীন ১২টি আসন বাতিল করা। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আলোচনার পথে না গিয়ে ইসলামাবাদ বলপ্রয়োগের পথই বেছে নিয়েছে।

    ভোট নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    পিওকের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) এবং পাকিস্তান তেহরক-ই ইনসাফ (PTI)-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, প্রথম দফার ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই জয়ী হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N)।

    পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি চাই

    এদিকে ফ্রান্সে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। এরপর পাকিস্তানের রাষ্ট্রসংঘে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি (Maleeha Lodhi) প্রশ্ন তোলেন, পিওকে-তে নিহত সাধারণ মানুষের জন্য একই ধরনের সহানুভূতি কেন দেখানো হচ্ছে না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পিওকের বিভিন্ন এলাকায় “পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি চাই” স্লোগানও শোনা গেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীকে “অবৈধ দখলদার” বলেও অভিযোগ তুলেছেন।

    শুধু পিওকে নয়, কেপিতেও চাপ বাড়ছে

    পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট কেবল পিওকেই সীমাবদ্ধ নয়। খাইবার পাখতুনখোয়ায় কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)-এর বোন আলীমা খান (Aleema Khan) তাঁর মুক্তির দাবিতে প্রচার শুরু করেছেন। তিনি ইমরান খানের কথিত একাকী বন্দিত্বের অবসান এবং দ্রুত চিকিৎসার দাবিও জানিয়েছেন।

    বাড়ছে চাপ

    বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, পিওকের নির্বাচন কি শুধুই আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর চেষ্টা, নাকি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ আড়াল করার একটি রাজনৈতিক কৌশল? একইসঙ্গে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানের জেরে পাকিস্তান আরও চাপে পড়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

  • Guru Purnima 2026: আজ গুরুপূর্ণিমা, কেন হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন-শিখ— চার ধর্মেই এত বিশেষ এই দিন?

    Guru Purnima 2026: আজ গুরুপূর্ণিমা, কেন হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন-শিখ— চার ধর্মেই এত বিশেষ এই দিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বুধবার, ২৯ জুলাই, গুরুপূর্ণিমা। ভারতীয় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে এই দিনটি গুরু বা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মজাগরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধু হিন্দুধর্মেই নয়, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ ধর্মেও গুরুপূর্ণিমার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই চার ধর্মের অনুসারীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালন করেন। সংস্কৃত ভাষায় ‘গু’ শব্দের অর্থ অন্ধকার এবং ‘রু’ শব্দের অর্থ দূর করা। সেই অর্থে ‘গুরু’ হলেন তিনি, যিনি অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞান ও আত্মোপলব্ধির পথে পরিচালিত করেন। তাই গুরুপূর্ণিমা কেবল কোনও ধর্মীয় আচার পালনের দিন নয়, বরং নিজের ভিতরকে নতুন করে জানারও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

    কেন পালিত হয় গুরুপূর্ণিমা?

    হিন্দু ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মত অনুযায়ী, এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহর্ষি বেদব্যাস। তিনি মহাভারতের রচয়িতা এবং বৈদিক জ্ঞানকে ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ— এই চার ভাগে সংকলিত করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই কারণেই গুরুপূর্ণিমাকে অনেকেই ‘ব্যাস পূর্ণিমা’ নামেও চিহ্নিত করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গুরুপূর্ণিমা নতুন কোনও শুভ কাজ শুরু করার জন্য অত্যন্ত শুভ দিন। এই তিথিতে পূজা, দান, জপ, হোম বা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান করলে সংসারে শুভ ফল আসে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে বলে মনে করা হয়।

    শিবের দক্ষিণামূর্তি রূপের সঙ্গে সম্পর্ক

    হিন্দু দর্শনের আর একটি প্রচলিত বিশ্বাসে, মহাদেবের দক্ষিণামূর্তি রূপই হল আদিগুরুর প্রতীক। এই দিনেই ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং সপ্তঋষি শিবের কাছ থেকে পরম জ্ঞান লাভ করেছিলেন বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। সেই কারণেই বহু ভক্ত শিবকে প্রথম গুরু বা আদিগুরু হিসেবে শ্রদ্ধা জানান।

    বৌদ্ধধর্মে গুরুপূর্ণিমার গুরুত্ব

    বৌদ্ধ ঐতিহ্যেও গুরুপূর্ণিমার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বোধিবৃক্ষের নীচে বুদ্ধত্ব লাভের কয়েক সপ্তাহ পরে গৌতম বুদ্ধ সারনাথে গিয়ে তাঁর পাঁচ প্রাক্তন সঙ্গীকে প্রথম ধর্মদেশনা দেন। বৌদ্ধধর্মে এটিকে ধর্মচক্র প্রবর্তনের সূচনা হিসেবে ধরা হয়। এই উপলক্ষে বহু বৌদ্ধ ভিক্ষু ও গৃহী ভক্ত অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ, ধ্যান এবং বিপাসনা সাধনায় অংশ নেন। নেপালে দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবেও পালিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বিভিন্ন উপহার, মালা এবং ঐতিহ্যবাহী টপি দিয়ে সম্মান জানান।

    জৈন ধর্মেও রয়েছে বিশেষ মর্যাদা

    জৈন সম্প্রদায়ের কাছেও গুরুপূর্ণিমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এই দিনটিকে ‘ত্রিনোক গুহ পূর্ণিমা’ হিসেবে পালন করেন। জৈন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান মহাবীর কৈবল্য লাভের পর ইন্দ্রভূতি গৌতমকে প্রথম শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সেই ঘটনাকেই গুরু-শিষ্য পরম্পরার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।

    বিভিন্ন দেশে ভিন্ন আচার

    শ্রীলঙ্কায় এই সময় থেকে শুরু হয় ‘বর্ষাবাস’ পালনের প্রথা। আবার থাইল্যান্ডে একই উৎসব ‘ফানসা’ নামে পরিচিত। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ভিক্ষুরা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে ধর্মচর্চা করেন। ভিয়েতনাম, তিব্বত, কোরিয়া এবং মায়ানমারের বহু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও এই সময় বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করেন।

    শিখ ধর্মেও গুরুপূর্ণিমার তাৎপর্য

    শিখ ধর্মে গুরুপূর্ণিমা গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। শিখ ধর্মাবলম্বীরা গুরুদের ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে সম্মান করেন। এই দিনে গুরু গ্রন্থ সাহিব পাঠ, গুরুদের জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা এবং তাঁদের দেখানো পথে চলার অঙ্গীকার করা হয়। শুধু ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক উন্নতি নয়, শিখ সমাজে পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি এবং মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও গুরুপূর্ণিমা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

    গুরুপূর্ণিমার মূল বার্তা

    ধর্মভেদে আচার-অনুষ্ঠানের রীতি আলাদা হলেও গুরুপূর্ণিমার মূল দর্শন একটাই— জ্ঞান, শৃঙ্খলা, আত্মোপলব্ধি এবং গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা। এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার পিছনেই কোনও না কোনও গুরুর অবদান থাকে। তাই গুরুপূর্ণিমা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, মানবজীবনে জ্ঞানের আলোকে সম্মান জানানোরও এক অনন্য দিন।

  • Polymer Bank Notes: আসছে প্লাস্টিকের ১০ ও ২০ নোট? পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপার অনুমোদন কেন্দ্রের

    Polymer Bank Notes: আসছে প্লাস্টিকের ১০ ও ২০ নোট? পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপার অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে খুব শীঘ্রই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে পারে পলিমার (প্লাস্টিক-ভিত্তিক) ১০ ও ২০ টাকার নোট। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আপাতত এটি শুধুমাত্র ফিল্ড ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। সফল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই নিয়মিতভাবে এই নোট চালু করা হবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেন্দ্র জানিয়েছে, আরবিআই অ্যাক্ট, ১৯৩৪-এর আওতায় ১০ ও ২০ মূল্যমানের মোট ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) পিস পলিমার নোট পরীক্ষামূলকভাবে ছাপানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি পিস ১০ টাকার, এবং ১০০ কোটি পিস ২০ টাকার নোট ছাপা হবে। তবে বর্তমানে প্রচলিত কাগজের নোট তুলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা এই প্রস্তাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

    কাগজের নোট কি তুলে নেওয়া হবে?

    লোকসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই পলিমার নোট বর্তমান কাগজের নোটের পাশাপাশি চলবে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পলিমার নোটের আয়ু কাগজের নোটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে বর্তমানে এই প্রকল্প একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

    ডিজিটাল পেমেন্টে কোনও প্রভাব পড়বে?

    ডিজিটাল লেনদেন নিয়ে উদ্বেগেরও কোনও কারণ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। তাঁর কথায়, পলিমার নোট নিয়মিতভাবে চালু হওয়ার পরেই এর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, নগদ লেনদেন ও ডিজিটাল পেমেন্ট একে অপরের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক ব্যবস্থা। ফলে পলিমার নোট চালু হলেও ভারতের শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উপর তাৎক্ষণিক কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।

    কীভাবে হবে পরীক্ষা?

    পরীক্ষামূলক পর্যায়ে পলিমার নোটগুলিকে বিভিন্ন জলবায়ু ও ব্যবহারিক পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হবে।

    মূলত যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে, সেগুলি হল—

    • ● নোটের স্থায়িত্ব
    • ● ভাঁজ পড়লে ক্ষয়ক্ষতি
    • ● ছিঁড়ে যাওয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা
    • ● দৈনন্দিন ব্যবহারে কার্যকারিতা
    • ● সাধারণ মানুষের মতামত

    ভারতের তীব্র গরম, আর্দ্রতা, ধুলো এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহারের মতো পরিস্থিতিতে নোট কতটা কার্যকর থাকে, তা যাচাই করাই এই পরীক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য।

    পরীক্ষার আগেই শুরু প্রস্তুতি

    কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের কয়েক সপ্তাহ আগেই, ১৭ জুলাই, আরবিআইয়ের নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড (BRBNMPL) আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। সংস্থাটি ৬৮ হাজার রিম অপাসিফায়েড পলিমার সাবস্ট্রেট শিট কেনার জন্য বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের কাছ থেকে দরপত্রের আহ্বান করে। এই শিটগুলিতে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযুক্ত থাকবে, যাতে টেক্সচার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সাবস্ট্রেটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যায়।

    কেন পলিমার নোট?

    প্রথমদিকে, পলিমার নোট তৈরির খরচ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় ২০% থেকে ২৪% বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলির আয়ু ২.৫ থেকে ৪ গুণ বেশি হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রণ, পরিবহণ এবং পুরোনো নোট ধ্বংস করার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।উল্লেখ্য, নোট মুদ্রণের জন্য বার্ষিক ব্যয় বেড়ে ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তাই বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার মতো বেশি ব্যবহৃত নোটে পলিমার প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনও উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে ভারতে পলিমার নোটের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

  • Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে এবার সরব ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাকর্মীরা। নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিযোগ ঘিরে এখনও উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার জাতীয় পতাকা হাতে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত জোড়া মহামিছিলের (Dharmatala Rally) আয়োজন করে ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় রাজ্যের অনেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ নয়; বরং গণতন্ত্র, শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার সামাজিক উদ্যোগ।

    পথে শিক্ষা জগৎ

    ধর্মতলার সাম্প্রতিক অশান্তির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর, পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিবাদের অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হলেও হিংসা ও নৈরাজ্য কখনওই গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। সেই কারণেই ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।

    জোড়া মহামিছিল

    মঙ্গলবার দুপুর থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক, শিক্ষাকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দুটি প্রান্ত থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে শুরু হয় পদযাত্রা (Dharmatala Rally)। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ডাকে আয়োজিত এই মহামিছিলে অংশ নেয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP), অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ইতিহাস সংকলন সমিতি-সহ সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

    সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা

    মহামিছিলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর কিংবা সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত এবং সেই স্বাধীনতার উপর আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মিছিলে (Dharmatala Rally) অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে বাম ও কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, দিল্লির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে যেমন নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছিল, কলকাতার ঘটনাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এছাড়াও কিছু বামপন্থী সংগঠন ছাত্রদের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি এবং দেশবিরোধী শক্তির মদতপুষ্ট প্রচারকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    বিদেশি শক্তির মদতের আশঙ্কাও

    দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে কলকাতার ধর্মতলা- প্রতিবাদের নামে যেখানেই হিংসা বা নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটুক, তার কড়া নিন্দা হওয়া উচিত বলেই মত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার নেপথ্যে বিদেশি শক্তির মদতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।

    গণতন্ত্রের নামে হিংসা নয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তা

    হাওড়া থেকে ধর্মতলা ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা – জাতীয় পতাকার ছায়ায় আয়োজিত এই দুই মহামিছিল থেকে উঠে আসে একটাই বার্তা। প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের শক্তি হলেও, সেই অধিকারের আড়ালে হিংসা, ভাঙচুর, সাংবাদিক নিগ্রহ কিংবা অরাজকতার কোনও স্থান নেই। মতের লড়াই হতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথ কখনওই বর্বরতার পথ হতে পারে না – এই বার্তাই রাজপথ থেকে তুলে ধরল ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চে’র এই মহামিছিল।

LinkedIn
Share