Tag: Mamata Banerjee

Mamata Banerjee

  • TMC: প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কঙ্কালসার চেহারা! দলীয় কর্মসূচিতে গরহাজির সিংহভাগ বিধায়ক

    TMC: প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কঙ্কালসার চেহারা! দলীয় কর্মসূচিতে গরহাজির সিংহভাগ বিধায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার বিধানসভায় ধরা পড়ল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কঙ্কালসার চেহারাটা! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে কালীঘাটের ঘরে সেঁধিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। বাকি ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার সদস্য, বিধানসভার নন। এহেন দুই হেভিওয়েট ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ পর্দার আড়ালে চলে যাওয়ায় ফাঁপরে পড়েছেন ঘাসফুল প্রতীকে জয়ী বিধায়করা (MLAs Skip Protest Programme)। ২৯৪টি আসন রয়েছে বিধানসভায়। ভোট হয়েছে ২৯৩টিতে। বৃহস্পতিবার, ২১ তারিখে পুনর্নির্বাচন হওয়ার কথা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। এই ২৯৩টির মধ্যে মাত্র ৮০টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন ঘাসফুলের প্রতিনিধিরা। বুধবার দলীয় কর্মসূচিতে দেখা গেল না তাঁদেরই ৪৬ জনকে। তার জেরে মাত্র আধঘণ্টার মধ্যেই নমো নমো করে কর্মসূচি সেরে পাততাড়ি গুটিয়ে পালাতে হল তৃণমূলকে।

    ‘ফ্লপ’ তৃণমূলের কর্মসূচি (TMC)

    ফেরা যাক খবরে। এদিন ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস, হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিধানসভার আম্বেডকর মূর্তির পাদদেশে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন তৃণমূল বিধায়করা। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দেখা গেল না তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের অর্ধেকেরও বেশিকে। প্রশ্ন হল, কেন? এ প্রসঙ্গে বেলেঘাটার বিধায়ক তৃণমূলের কুণাল ঘোষ বলেন, “আমাদের পরিষদীয় দলের বৈঠক থেকে এই কর্মসূচিটা হয়েছে। আমরা সেটা ভাগ করে নিয়েছি (TMC)। কয়েকজন আমরা এখানে বসব, যাঁরা এলাকা সামলেও আসতে পারবেন। আবার বহু এলাকায় মানুষ ঘরছাড়া, যেখানে মানুষ এখনও বাড়িই ঢুকতে পারছেন না, থানার সঙ্গে কো-অর্ডিনেট করা দরকার, সেই বিধায়কদের বলা হয়েছে অবিলম্বে সেখানে চলে যেতে।”

    শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা তৃণমূলের!

    কুণাল বলেন, “মানুষের পাশে বসে না থেকে, সবাই এখানে থাকবেন? আবার এরকমও হতে পারে ক’দিন বাদে, তাঁরা এসে কোনও ইস্যুতে বসবেন, আমরা এলাকায় থাকব।” কুণালের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বুঝতে পেরে বালিগঞ্জের বিধায়ক তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের অনেক নেতা-কর্মীকে কেস দেওয়া হচ্ছে। তাই বহু বিধায়কই এসব ঝামেলা সামাল দিতে গিয়ে আটকে পড়েছেন৷ বিভিন্ন কারণে দলের বিধায়করা ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন (MLAs Skip Protest Programme)৷ তাই অনেকে আসতে পারেননি৷” তিনি বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গেই আছি। এটা ভাবার কোনও কারণ নেই যে আমরা আলাদা আছি (TMC)৷”

    তৃণমূলে ভাঙন ধরছে…!!

    তবে, তৃণমূলের বিধায়করা যা-ই বলুন না কেন, বিধায়কের দলে অর্ধেকেরও বেশি সদস্যের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এবার কি তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন ধরতে চলেছে? বিজেপির দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের ভিতরে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেক বিধায়কের অনুপস্থিতিকে সেই অস্বস্তিরই প্রতিফলন বলে কটাক্ষ করেছে তাঁরা।  ভাঙনের জল্পনা ছড়িয়েছে দলের অন্দরেও। কারণ, ধর্না মঞ্চে রাজনৈতিক স্লোগানের মধ্যেও বিশেষভাবে নজর কাড়ে একটি বিষয়। কর্মসূচিতে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ ধ্বনি শোনা গেলেও, একসময় তৃণমূলের সভা-সমাবেশে নিয়মিত উচ্চারিত হওয়া ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগান এদিন প্রায় শোনা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিবর্তন দলের অন্দরমহলের বর্তমান সমীকরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    জাহাঙ্গিরকে নিয়েও অসন্তোষ দলে…

    এই প্রথম নয়। সম্প্রতি, ফলঘোষণার পর কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হওয়া বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন একাধিক তৃণমূল নবনির্বাচিত বিধায়ক।  বিধায়কের দলে অর্ধেকেরও বেশি সদস্যের অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র জল্পনা। তার ওপর, মঙ্গলবারের বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরাও জাহাঙ্গির খানের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সম্প্রতি ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে দলের ভিতরেই অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জাহাঙ্গির খানকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দেখা হয়। তাঁর প্রার্থীপদ প্রত্যাহার নিয়ে হওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দলের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। একাধিক বিধায়কও দাবি তুলেছেন, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে দল যেন কড়া পদক্ষেপ করে। ফলে, সবমিলিয়ে বিরাট পরাজয়ের পর দলের অন্দরে বিদ্রোহ ও বিক্ষোভের আঁচ প্রকট হয়ে উঠেছে।

  • CM Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর বার্তা পেয়েই নড়েচড়ে বসল পুলিশ, নিরাপত্তার খোলনলচে বদলাচ্ছে রাজ্যের পাঁচ সরকারি হাসপাতালে

    CM Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর বার্তা পেয়েই নড়েচড়ে বসল পুলিশ, নিরাপত্তার খোলনলচে বদলাচ্ছে রাজ্যের পাঁচ সরকারি হাসপাতালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই বাম-তৃণমূল জমানার ঘুণ ধরা সমাজব্যবস্থাটাকে আমূল বদলে দিতে কোমর কষে মাঠে নেমে পড়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এর আগে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে ফ্রি-হ্যান্ড খেলতে দিয়েছেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তার পর উদ্যোগী হয়েছেন রাজ্যের হাসপাতালগুলির (Hospital Security Guidelines) ভোল বদলাতে। সেই কারণেই দিন কয়েক আগে এসএসকেএম হাসপাতালে হাই-প্রোফাইল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার রেশ কাটার আগেই ‘অ্যাকশনে’ নেমে পড়েছে লালবাজার।

    দালাল-রাজ নির্মূলে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari)

    সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং দালাল-রাজ নির্মূল করতে শহরের পাঁচটি বড় সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। আজ, বুধবার থেকেই নয়া নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রে খবর। গত শুক্রবারই স্বাস্থ্য দফতরের পদস্থ কর্তা এবং মেডিক্যাল কলেজগুলির প্রিন্সিপাল-সুপারদের নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বহিরাগতদের প্রবেশ রোখার ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তা পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ-প্রশাসন।

    বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা কলকাতার পাঁচ হাসপাতালে

    পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে কলকাতার পাঁচটি বড় সরকারি হাসপাতালে এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ করা হচ্ছে। এই হাসপাতালগুলি হল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, এসএসকেএম হাসপাতাল, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ভেতরে যাতে কোনওভাবেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কিংবা চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা না ঘটে, তাই গুচ্ছের গাইডলাইন জারি করা হয়েছে লালবাজারের তরফে (Hospital Security Guidelines)।

    আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার বলয়

    আগে হাসপাতালে যে কেউ, যখন তখন দালালদের হাত ধরে হাসপাতালে ঢুকে পড়ত। নয়া ব্যবস্থায় হাসপাতালে ঢুকতে গেলেই কড়া চেকিংয়ের মুখে পড়তে হবে। ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি রোগী এবং তাঁদের পরিজনদেরও পরিচয়পত্র বা নির্দিষ্ট কালার-কোডেড ব্যান্ড খতিয়ে দেখে তবেই দেওয়া হবে হাসপাতালে ঢোকার ছাড়পত্র। বহিরাগতদের প্রবেশ রুখতেই এই সিদ্ধান্ত (CM Suvendu Adhikari)। হাসপাতাল চত্বরে সর্বক্ষণ নজরদারির জন্য সক্রিয় থাকবে কলকাতা পুলিশের বিশেষ ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম। কোনওরকম অশান্তির আঁচ পেলেই মুহূর্তের মধ্যে খবর চলে যাবে কন্ট্রোল রুমে। রাতের শিফটে ডিউটিতে থাকা জুনিয়র ডাক্তার ও নার্সদের সুরক্ষায় হাসপাতাল চত্বরে চলবে পুলিশের বিশেষ ‘নাইট পেট্রলিং’। মহিলা চিকিৎসকদের রেস্ট রুম এবং ডিউটি রুমের আশপাশে নজরদারি করা হয়েছে দ্বিগুণ।

    বাড়ানো হচ্ছে নজরদারিও

    করা নিরাপত্তার বলয় তৈরির পাশাপাশি ঢেলে সাজানো হচ্ছে হাসপাতালগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও। পরিকাঠামো ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে তা আরও উন্নত করা হচ্ছে। আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও হাইড্র্যান্ট প্রস্তুত থাকবে। দমকল বিভাগের সঙ্গেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমন্বয় রাখার কথা বলা হয়েছে লালবাজারের তরফে জারি করা ওই নির্দেশিকায় (CM Suvendu Adhikari)। হাসপাতালগুলিতে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি ঠিকঠাক কাজ করছে কিনা, নিয়মিত তা পরীক্ষা করতে হবে। হাসপাতালের সব জায়গা যাতে সিসিটিভির আওতায় চলে আসে, তাও নিশ্চিত করাতে হবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছে লালবাজারের তরফে জারি করা ওই নির্দেশিকায়। সব জায়গায় সুষ্ঠুভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে (Hospital Security Guidelines)। পুলিশকর্মী ছাড়াও হাসপাতালগুলির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি সংস্থাকে নির্দিষ্টি ডিউটি রোস্টার বানানোর নির্দেশও দিয়েছে লালবাজার। সেই হিসেবেই তাদের কর্মী নিয়োগ করতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে অবৈধ পার্কিংও বন্ধ করা হচ্ছে। রোগীর পরিবার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া অন্য কারও গাড়ি রাখা যাবে না। হাসপাতালের প্রধান গেটগুলির সামনের এলাকা হকারমুক্ত করা হবে। হাসপাতালজুড়ে চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের জন্য বড় বড় করে লেখা থাকবে হেল্পলাইন নম্বর।

    ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    পুলিশ সূত্রে খবর, ওই পাঁচটি হাসপাতালের সুপার ও অধ্যক্ষের সঙ্গে স্থানীয় থানা, ডিভিশনাল ও লালবাজার কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ থাকবে। প্রতি রাতে প্রতিটি হাসপাতালে টহল দেবে পুলিশকর্মী এবং নিরাপত্তা কর্মীর যৌথ দল (CM Suvendu Adhikari)।  ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূল জমানায় আরজি করকাণ্ডের জেরে তৈরি হওয়া ক্ষতে প্রলেপ দিতে এবং হাসপাতালে দালাল-রাজে ইতি টানতে শুভেন্দুর সরকার যে কোনও আপস করতে রাজি নয়, লালবাজারের এই তৎপরতাই তার প্রমাণ। দুর্নীতি এবং দাদাগিরি বন্ধে নয়া মুখ্যমন্ত্রী নিয়েছেন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। সেই বার্তা পেয়েই পুলিশ-প্রশাসনের সর্বস্তরেই শুরু হয়েছে খোলনলচে বদলানোর কাজ (Hospital Security Guidelines)।

    প্রসঙ্গত, বছর দুই আগে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। তারপর থেকেই জুনিয়র ও সিনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর বেহাল দশা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। মমতা জমানার এই ঘটনায় সোচ্চার হয়েছিল রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে গোহারা হারিয়ে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নবান্নে এসেছে শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার। তার পরেই রাজ্যের নানা ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে স্বমহিমায় ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে পদ্ম-পার্টি (CM Suvendu Adhikari)।

  • Suvendu Vs Mamata: এ কী অবস্থা! বেশ কিছু বুথে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’, সবিস্তার হিসেব দিল কমিশন

    Suvendu Vs Mamata: এ কী অবস্থা! বেশ কিছু বুথে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’, সবিস্তার হিসেব দিল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ঘরের মেয়ে’কেই চাইল না খোদ ভবানীপুরবাসী। এ কী অবস্থা জননেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)? ভবানীপুরের একাধিক বুথে নাকি ৫০টির-ও কম ভোট পেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। এই কেন্দ্রে তাঁর নিকটতম বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Vs Mamata) কাছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা পরাজিত হয়েছেন ১৫,১০৫ ভোটে। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়ে এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। আর পাঁচ বছরের মধ্যেই পালা বদল!

    কোথায় ৫০টিও ভোট পাননি মমতা!

    ভবানীপুর বিধানসভায় বুথের সংখ্যা ছিল ২৬৭টি। প্রতি বুথে ভোটদাতার সংখ্যা ছিল মোটামুটি ৪০০ থেকে ৭০০। সেখানে এমন অনেক বুথ রয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একশো ভোটও পাননি। কমিশনের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১১ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭০টি ভোট। ওই বুথে বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পেয়েছেন ১০৬টি ভোট। কিন্তু এমন বেশ কিছু বুথ রয়েছে যেখানে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’! যেমন ১৪ নম্বর বুথ। সেখানে ৪৩টি ভোট পেয়েছেন তিনি। ১৬ নম্বর বুথে ৪২, ২০ নম্বর বুথে ৪১, ২৪ নম্বর বুথে ৪৫, ৭৭ নম্বর বুথে ৪০, ৮৯ নম্বর বুথে ৪১, ১০৫ নম্বর বুথে ৩১টি ভোট পেয়েছেন মমতা। ২২৭ নম্বর বুথে মাত্র ১২টি ভোট পেয়েছেন মমতা।

    মমতা-শুভেন্দু বিরাট ফারাক

    নির্বাচন কমিশন যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে যে সব মিলিয়ে মমতা ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ২৮টি বুথে। উল্টো দিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ৩৯টি বুথে। সার্বিক ভাবে শুভেন্দু অধিকারী ২০৭টি বুথে লিড পেয়েছেন। সেই জায়গায় মমতা মাত্র ৬০টি বুথে লিড পান। সার্বিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন মোট ৭৩,১৯৭টি ভোট। শতাংশের বিচারে ৫৩.০২। উল্টোদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,৮১২টি ভোট। অর্থাৎ, ৪২.১৯%। এই বিরাট ফারাকই পার্থক্য গড়ে দেয়।

  • TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    TMC: মুখ লুকিয়েছেন তৃণমূলের মাথারা, বিপদ আঁচ করেই কি ফলতার নির্বাচন থেকে সরে গেলেন জাহাঙ্গির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পরেই এলাকা ছেড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী (TMC) জাহাঙ্গির খান। জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) গা ঢাকা দেওয়ার আগেই বড়সড় কোনও বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কর্পূরের মতো উবে গিয়েছেন তাঁর মাথায় যাঁর আশীর্বাদী হাত ছিল, তৃণমূলের সেই ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বা ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়া (কমান্ডার) বন্দ্যোপাধ্যায় রাতারাতি ‘হাওয়া’ হয়ে যাওয়ায় প্রমাদ গুণতে শুরু করেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী। গ্রেফতারির আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে থাকা জাহাঙ্গির মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে ঘোষণা করেন, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’ তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক কিংবা ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা জানাননি ফলতার ‘বাদশা’।

    বিজেপির কাছে গোহারা (TMC)

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপির কাছে গোহারা হেরে গিয়ে এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঙ্গা নিতে গিয়ে কার্যত মুখ পুড়িয়েছেন তৃণমূল অ্যান্ড কোং-এর (অন্তত, লোকে তো তাই বলে) কর্ণধার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে মুখ লুকিয়েছেন বুয়া-ভাতিজা। অবশ্য, এর মধ্যে একদিন সহানুভূতি কুড়োতে এবং অবশ্যই জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আইনজীবীর সাজ-পোশাক পরে কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন মমতা। সেখানে নিজের কানে ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনে (এই প্রথম নয়, আগেও শুনেছেন, তবে এত জোরালোভাবে নয়), সেই যে কালীঘাটের বাড়িতে সেঁধিয়েছেন, তার পর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি টিভি কিংবা সংবাদপত্র মায় হ্যান্ডবিলেও। এই যখন স্বয়ং দলনেত্রীর দশা, তখন আর কোন ভরসায় ফলতার নির্বাচনী ময়দানে খেলতে নামেন জাহাঙ্গির! অগত্যা তিনিও মুখ লুকোলেন।

    জাহাঙ্গিরের বোধোদয়!

    ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন (TMC) পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গির এবং তাঁর দল তৃণমূলের বোতাম জ্বলজ্বল করবে। তৃণমূলের রাজত্বে কেউটে জাহাঙ্গির প্রথমবার নির্বাচনের সময় কোনও ইভিএমে টেপ আটকে দিয়েছিলেন পদ্ম-প্রতীকের পাশে, কোথাও আবার বিজেপি প্রার্থীর বোতামে লাগিয়ে দিয়েছিলেন আতর। ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানতেই এই ‘ডায়মন্ড হারবার দাওয়াই’ অ্যাপ্লাই করেছিলেন বলে অভিযোগ।

    ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’

    রাজ্যে পালাবদলের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সেই জাহাঙ্গিরই বদলে গিয়ে ‘কেউটে’ থেকে ‘হেলে’ হয়ে গিয়েছেন! মঙ্গলবারই ফলতায় রোড-শো করেন ‘সিংহম’ মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে প্রচারে এসেছিলেন তিনি। সেই সময় প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভালো থাকুক (TMC)। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলার কাছে দলা পাকানো কান্নাটা আটকে কোনওক্রমে ধরা গলায় তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’ জাহাঙ্গিরের এহেন ভোল বদলে যারপরনাই বিস্মিত ফলতায় তৃণমূলের ‘দুধেল গাই’রাও।

    প্রসঙ্গত, পুনর্নির্বাচন শুরু হওয়ার আগেই হাতকড়া পড়েছে জাহাঙ্গিরের ভায়রাভাইয়ের হাতে (Jahangir Khan)। গ্রেফতার হয়েছেন ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। রাজনীতির কারবারিদের মতে, জাহাঙ্গির ভেবেছেন এবার হয়তো তাঁর পালা। তাই লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পগার পার হয়েছেন ‘ঐতিহাসিক’ চরিত্র জাহাঙ্গির (TMC)।

    বেচারা! কারা যেন জাহাঙ্গিরকে গাছে তুলে মইটা কেড়ে নিল!

     

  • Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবগঠিত বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কক্ষ। ভোট-পরবর্তী অশান্তি এবং কর্মীদের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে যদি কোনও তৃণমূল নেতা ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা মামালায় অভিযুক্ত হন তাহলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেমে। পালটা যুক্তিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওপর দিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করেই তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। ‘হাড়গোড় ভাঙা নয়”, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই ভাবে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলকে মনে করিয়েদিলেন দুর্বিষহ সন্ত্রাসের কথা।

    বিরোধী দলনেতার অভিযোগ ও উদ্বেগ (Suvendu Adhikari)

    স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্র বসুর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পর অধিবেশন শুরু হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ভয় নয়, ভরসা বিজেপির এই স্লোগান অর্থহীন, সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু তৃণমূল কর্মী বর্তমানে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত। এই ঘরছাড়া কর্মীরা নিরাপদে নিজ নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন সেই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যয় ও শর্তসাপেক্ষ আশ্বাস

    বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রেখে জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ব্যক্তি যদি প্রকৃতই ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তবে বিরোধী দলনেতা যেন সেই তালিকা ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP)-কে প্রদান করেন। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি ঘরছাড়া থাকলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার সসম্মানে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে দেবেন। তবে একটি শর্তও রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ না থাকে। যদি কোনও অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই আইনের সম্মুখীন হতে হবে। জেলে যেতে হবে।”

    ‘‘সদনে দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না’’

    বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশনে তৃণমূলের অপকর্মের আয়না দেখালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। তিনি বলেন, “তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে এতদিনে ১৫০ জন বিজেপি কর্মী খুন হতেন। এটা শুধুমাত্র সরকার গড়ার আর নির্বাচিত হয়ে আসার নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। আর সেই ধর্মযুদ্ধে যাঁরা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই।” এই প্রসঙ্গে তাপস রায় নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে বলেন, “স্যার, একটা জিনিস করতে হবে। এই সদনে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না। আইন করে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বিল এনে।”

    “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত, পাপমুক্ত, ভয়মুক্ত হয়েছে”

    ২০২৬ সালের বিধান সভা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ভয়মুক্ত হয়েছে।” ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। গতকাল আদালতে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তাপস রায় বলেন, “গতকাল কেউ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কারও নাম করিনি। সে বলেছিল, হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলব, সে যেন এবার বেরোয়। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ ও তৃণমূলই করবে।”

    ‘‘বেহায়া না হলে…ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে’’

    বিধানসভায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তাপস রায় (Tapas Roy) তৃণমূলকে নির্লজ্জ এবং বেহায়া বলেছেন। যারা ক্ষমতায় আসার আগে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় তাঁদের মুখে এই কথা কি শোভা পায়। তাপস রায় বলেন, “নির্লজ্জ, বেহায়া না হলে আজকে ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে। এর আগে একটাও রক্তপাতহীন, লাশহীন নির্বাচন হয়েছে? রক্তের উপর দিয়ে ভি সাইন দেখিয়েছে। স্যার, আজকে দেড়শোর উপর লাশ আপনাকে গুনতে হত বিজেপির। যদি এরা ক্ষমতায় ফিরে আসত। বাড়ি জ্বালিয়ে দিত। আর লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মী সমর্থক বাড়িছাড়া থাকত। আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, আমার নাম থাকে, আমাকে জেলে পাঠাবেন।’’

    ‘‘অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না’’

    উল্লেখ্য একসময় তৃণমূলে ছিলেন তাপস রায়। একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি দলের চরম দুর্নীতি এবং তোষণনীতির কারণে বিজেপিতে যোগদান করেন। এদিকে, ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসদ সিদ্দিকি বলেন, ‘‘আজ তাপস রায় যা বলেছেন, তা খুব একটা ফেলে দেওয়ার নয়। ২০২১ সালে ভোটের জেতার পর, ৬ মাস এমন দিন পার করেছি, যখন ভেবেছিলাম, আমি ইস্তফা দিয়ে দিই, যাতে আমার ছেলেগুলোর উপর অত্যাচার বন্ধ হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধায়ককের বলতেই দেওয়া হয়নি।’’

    পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান নওশাদ। তাঁর কথায়, “অতীতে আমাদের বক্তব্য শাসকদলের অপছন্দ হওয়ায় অনেক সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হত। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমাদের যে দাবিগুলি রয়েছে, সেগুলি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। আমরাও অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না।”

  • Mamata as Lawyer: আদৌ লাইসেন্স আছে তো! ‘আইনজীবী’ মমতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, সত্যতা জানতে চেয়ে চিঠি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার

    Mamata as Lawyer: আদৌ লাইসেন্স আছে তো! ‘আইনজীবী’ মমতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, সত্যতা জানতে চেয়ে চিঠি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata as Lawyer) আদালতে সওয়াল করার পর পশ্চিমবঙ্গের বার কাউন্সিলে চিঠি দিল বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI)। প্র্যাকটিস করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈধ এনরোলমেন্ট আছে কি না, কবে সাসপেন্ড করা হয়েছে, কবে রিজাম্পসান (পুনর্বহাল) হয়েছে, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। দুদিনের মধ্যে সব তথ্য জানাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী পদ চলে যাওয়ার পর কীভাবে হঠাৎ সওয়াল করলেন, প্রশ্ন উঠেছে আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে। এরপরই দু’দিনের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী পরিচয় সবিস্তার জানতে চাইল দেশে আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ৷

    মমতার আইনি পেশার বৈধতা কী

    বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আইনজীবীর চিরাচরিত কালো পোশাকে আদালত কক্ষে উপস্থিত হন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যে ‘বিজেপি আশ্রিত’ দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব রুখতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেই মামলাতেই এদিন সওয়াল করেন তিনি। তবে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মমতার আইনি পেশার বৈধতা ও স্টেটাস নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে কড়া চিঠি দিয়েছেন ভারতের বার কাউন্সিল-এর (Bar Council Of India) প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শ্রীমন্ত সেন ৷

    কী জানতে চাইল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া

    বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া তাদের চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে মমতার ‘লিগ্যাল প্র্যাকটিস স্টেটাস’ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছে – ঠিক কবে আইনজীবী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল? আর পেশা স্থগিত রাখা এবং পুনরায় শুরু করার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। তাঁর আইনি পেশার শংসাপত্র বা ‘সার্টিফিকেট অফ প্র্যাকটিস’ দেখতে চেয়েছে বিসিআই। আগামী দুই দিনের মধ্যে এই সমস্ত তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চিঠিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর গাউন পরে নিজেকে আইনজীবী দাবি করে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় সওয়াল করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কিন্তু তিনি ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ৷ সেই জন্য তাঁর আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্ট নম্বর যাচাই করা প্রয়োজন ৷ কবে তিনি বার কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন এবং তাঁর লাইসেন্স বাতিল হয়েছিল কি না, তিনি লাইসেন্স জমা রেখেছিলেন কি না এবং কবেই বা ফেরত পেয়েছেন ৷ এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে ৷

    উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আহ্বান

    আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর লাইসেন্সটি সাসপেন্ড ছিল ৷ রিজাম্পশন সার্টিফিকেট না-পেয়ে এভাবে আইনজীবী হিসেবে আদালতে কি হাজির হতে পারেন ?’’ এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্বদল হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর উদাহরণ দেন ৷ আইনজীবী জানান, প্রাক্তন বিচারপতি কয়েক মাস আগে বিচারপতি হিসেবে অবসর নিয়েছেন ৷ বিচারপতি থাকাকালীন তাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ডেড ছিল ৷ চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি অবসর নেন ৷ এই চার মাসেও সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার রিজাম্পশন সার্টিফিকেট পাননি ৷ বার কাউন্সিল এখনও দেয়নি ৷ এই অবস্থায় বিল্বদল ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদ্য নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এখনই হঠাৎ বার কাউন্সিলের কাছ থেকে তিনি রিজাম্পশন সার্টিফিকেট পেতে পারেন না ৷ যদি এই সার্টিফিকেট ছাড়া তিনি আইনজীবী হিসেবে এসে থাকেন, তাহলে বার কাউন্সিলের কাছে আমরা অনুরোধ করব, উপযুক্ত পদক্ষেপ করার ৷’’

    বার কাউন্সিলের নিয়ম

    কোনও আইনজীবী আইনি পেশায় থাকাকালীন তিনি যদি মন্ত্রিত্বের পদ, চাকরি, বিচারক বা বিচারপতি হিসাবে কাজ করেন তাহলে তাঁকে চিঠি দিয়ে বার কাউন্সিলকে জানাতে হয় তিনি আইনি পেশা থেকে কার্যকালের মেয়াদ পর্যন্ত অব্যাহতি নিচ্ছেন। যদি ওই আইনজীবী বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে না জানান তাহলে বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তাকে আইনি পেশা সাসপেনশন করা হয়। পরবর্তীকালে ওই আইনজীবী যখন মন্ত্রিত্বের পদ থেকে সরে যান, চাকরি থেকে অবসর, বিচারক বা বিচারপতির পথ থেকে অবসর নেন, তখন যদি তিনি পুনরায় আইনি পেশায় ফেরত আসতে চান তখন তাকে বার কাউন্সিলে পুনর্নবীকরণের জন্য আবেদন জানাতে হয় এবং নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হয়। তবে শুধুমাত্র বিধায়ক বা সাংসদ পদে থাকাকালীন আইনজীবীরা আইনি পেশায় নিযুক্ত থাকতে পারেন।

    আইনজীবী মমতাকে নিয়ে প্রশ্ন কেন

    ২০২৬ সালের নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল ৷ মাত্র ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে ঘাসফুল শিবির ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৷ গত বছর সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) নিয়ে সওয়াল করেছেন তিনি, তাও আম জনতা হিসাবে, আইনজীবীর কালো গাউন তাঁর গায়ে ছিল না ৷ এরপর ভোট মিটতে এদিন আইনজীবী অবতারে অবতীর্ণ হন তৃণমূল সুপ্রিমো ৷ তিনি আইনজীবীর ডিগ্রি অর্জন করলেও মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দীর্ঘ সময় তাঁকে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে দেখা যায়নি ৷ ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কীভাবে তিনি আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেন, এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইনজীবীদের একাংশও ৷ বৃহস্পতিবার সকালেই রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় সওয়াল করতে কলকাতা হাইকোর্টে আসেন রাজ্যের সদ্য-প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কোর্ট গাউন পরে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তিনি প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে সওয়াল করেন ৷ এই ঘটনার পরই সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিল্বদল ভট্টাচার্য, সূর্যনীল দাস-সহ বিজেপি লিগাল সেলের একাধিক আইনজীবী ৷

  • Mamata Banerjee: হাইকোর্টে মমতাকে ‘চোর চোর’ স্লোগান, ‘কৃতকর্মের ফল’ বললেন শমীক, কী প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর?

    Mamata Banerjee: হাইকোর্টে মমতাকে ‘চোর চোর’ স্লোগান, ‘কৃতকর্মের ফল’ বললেন শমীক, কী প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘চোর চোর স্লোগান শুনতে হল মমতাকে! কলকাতা হাইকোর্টের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল বৃহস্পতিবার। ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং বুলডোজার দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এদিন  সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।  একেবারে আইনজীবীর কালো গাউন বা শামলা পরে।

    প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিগত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের সময়ে চলা ভোট-পরবর্তী হিংসার সময় মমতা কোথায় ছিলেন এই প্রশ্ন তোলে বিজেপি। সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের আলোয় আসতে এই নাটক বলে তীব্র কটাক্ষ বিজেপির। উল্লেখ্য রাজ্যে বিগত সরকারের সকল দুর্নীতির মাথা স্বয়ং নেত্রী এই অভিযোগ তুলে আইনজীবীদের একাংশ চোর চোর স্লোগান দেয়। কোর্ট চত্বরে মুখ পুড়ল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর।

    এজলাসের ভেতরে বাদানুবাদ ও সওয়াল-জবাব(Mamata Banerjee)

    সকাল ১১টার কিছু আগে হাইকোর্ট (Calcutta High Court) চত্বরে পৌঁছে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আইনজীবীর বেশে হাজির হন প্রধান বিচারপতি পালের এজলাসে। সেখানে সওয়াল করেন তিনি। এদিন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে ছিল তিল ধারণের জায়গা নেই। আইনজীবী রীতঙ্কর দাস এবং শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ভিড় জমতে শুরু করে। অভিযোগ ছিল, হগ মার্কেট এলাকায় জেসিবি দিয়ে ইমারত ভাঙা হয়েছে এবং ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। পাল্টা কলকাতা হাইকোর্টে অ্যাডিশনাল সলিসেটার জেনারেল অশোক চক্রবর্তী তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগকে বাস্তব ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন।

    ‘‘আদালত যেন নাটকের মঞ্চে পরিণত না হয়’’

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে নিজের বক্তব্য পেশ করতে ওঠেন, তখন এজলাসের ভেতরেই উপস্থিত আইনজীবীদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ ওঠে, সওয়াল চলাকালীন এক আইনজীবী তাঁকে উদ্দেশে মন্তব্য করেন যে, আদালত যেন নাটকের মঞ্চে পরিণত না হয়। এই পরিস্থিতিতে উপস্থিত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রুখে দাঁড়ান এবং কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দেন। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ে এজলাসের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত থমথমে। তার পরে এজলাস থেকে বেরোনোর সময়েই তৃণমূলনেত্রী যে মামলা লড়তে গিয়েছেন, সে কথা প্রত্যাশিত ভাবেই ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছিল হাইকোর্টের আইনজীবী মহলে। এরপর রাজ্যের ঘটে যাওয়ার একাধিক দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    আদালত চত্বরে ‘চোর চোর’ স্লোগান ও উত্তেজনা

    আসল নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় শুনানি শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যখন আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছিলেন। আইনজীবীদের (Calcutta High Court)  একটি বড় অংশ তাঁকে দেখে ‘চোর চোর’ এবং ‘পিসি চোর, ভাইপো চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই ঘটনায় উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা রীতিমতো হিমশিম খান। উত্তেজিত আইনজীবীদের ভিড় সামলাতে গিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আদালতের মূল প্রবেশদ্বারে থাকা মেটাল ডিটেক্টর গেটটি ধাক্কাধাক্কিতে উল্টে যায়।

    আদালত চত্বর ‘শুদ্ধ’ করার ডাক

    উপস্থিত আইনজীবীদের অনেকেই মোবাইলে এই ঘটনার ভিডিও করতে থাকেন। ক্ষুব্ধ এক আইনজীবী মন্তব্য করেন, “যিনি একসময় বিচারপতিদের সম্মান জানাতেন না, আজ তিনি নিজেই আদালতে আশ্রয় নিতে এসেছেন। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।” এমনকি আদালত চত্বর ‘শুদ্ধ’ করার ডাক দিয়ে কেউ কেউ গোবর ও গঙ্গাজল ব্যবহারের দাবিও তোলেন। মোবাইল করে আইনজীবীরাই মমতার ছবি তুলতে থাকেন। গোটা পরিস্থিতির ভিডিও করতে থাকেন। আরও এক আইনজীবী বলেন, “হাইকোর্টকে আজকে গোবর, গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করতে হবে। বিচারপতিদের সবচেয়ে বেশি অপমান করেছে তৃণমূল।”

    প্রাক্তনকে নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিতর্ক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমানে তাঁর মূল ফোকাস রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ এবং উন্নয়নমূলক দায়িত্ব পালনের উপরেই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “এই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আমাদের সামনে রাজ্যের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে, তাই সেই দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর উপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি পরিষেবা এবং রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের দিকে সমানভাবে নজর রাখতে হচ্ছে। সেই কারণেই বিতর্কিত বা রাজনৈতিক মন্তব্যে জড়াতে তিনি আগ্রহী নন। তাঁর কথায়, “এখন আমার অনেক দায়িত্ব। রাজ্যের সব দিকেই নজর দিতে হচ্ছে। তাই এ ধরনের বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই, আর আমি ব্যক্তিগতভাবেও এসব নিয়ে ভাবতে রাজি নই।”

    ‘‘এই অবস্থার জন্য দায়ী তৃণমূলই’’, বলল বিজেপি

    কোর্টে (Calcutta High Court)  মমতার (Mamata Banerjee)  এই নাটক দেখে এই ঘটনাকে তীব্র তোপ দেগে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপি আছে বলেই তৃণমূলের কর্মীরা এখনও বেঁচে আছেন, আমাদের কর্মীরাও তৃণমূলের ভাষা জানেন। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে জয়ের পরেও ৩ জন বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে তৃণমূল। বাকি সব জায়গায় তৃণমূল বনাম তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে হত্যা হয়েছে।” শমীক জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভের সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এ ধরনের আচরণ বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ নয়। উনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং একজন মহিলা। তাঁকে দেখে রাস্তায় মানুষ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেবে— এমন পরিস্থিতি বিজেপি তৈরি করে না। এই অবস্থার জন্য দায়ী তৃণমূলই।’’

    ‘‘কৃতকর্মের ফল একসময় ফিরে আসেই’’: শমীক

    তিনি আরও বলেন, ‘‘মানুষের কৃতকর্মের ফল একসময় ফিরে আসেই। যদিও আমরা চাই না এ ধরনের ঘটনা ঘটুক। বিজেপি সবসময় সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশের পক্ষেই রয়েছে। তৃণমূল অতীতে যা করেছে, বর্তমানের এই প্রতিক্রিয়া তারই ফল।’’ মমতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়েও শমীক দাবি করেন, এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা প্রতিবাদ করছেন, তাঁরাও তৃণমূলের; আবার যাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তাঁরাও তৃণমূলেরই অংশ। এখানে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। আসলে এটা তৃণমূলের ভিতরে সুবিধাভোগী এবং বঞ্চিত গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব। এতদিন যারা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বঞ্চিতরাই এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে।’’

  • Post Poll Violence: নবান্নে বিজেপির সরকার, ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বঙ্গে হিংসা চালিয়ে যাচ্ছে হেরো পার্টি তৃণমূল!

    Post Poll Violence: নবান্নে বিজেপির সরকার, ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বঙ্গে হিংসা চালিয়ে যাচ্ছে হেরো পার্টি তৃণমূল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবাসী ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে (Post Poll Violence)! পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিতে পারেনি দলের সর্বময় কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যান্ড কোং (TMC)! অভিযোগ, এহেন আবহে দিব্যি বাংলায় নির্বাচনোত্তর হিংসা চালিয়ে যাচ্ছে মমতার সাধের তৃণমূল। মমতার হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেস ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর অরাজকতা ও সংঘর্ষ সৃষ্টি করতে তৃণমূল গুন্ডা-বদমায়েশদের মাঠে নামিয়েছে বলে অভিযোগ। গোহারা হেরে গিয়েও পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছিলেন মমতা। তাঁর দেখাদেখি লাফাতে থাকে তৃণমূলের গুন্ডারা। অভিযোগ, তারা বিজেপি কর্মীদের হত্যা, সম্পত্তি ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষকে হিংসার মাধ্যমে ভয় দেখাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক, ৪ মে থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা এমন ঘটনার তালিকা।

    বিজেপির ওপর হামলা (Post Poll Violence)

    ৪ মে, সোমবার রাতে, হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর এলাকায় বছর পঁয়তাল্লিশের বিজেপি কর্মী যাদব বরকে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। বিজেপির জয় উদযাপন শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ঘটে এই ঘটনা। পরিবারের সদস্যদের দাবি, যাদব অন্যান্য বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে রং খেলতে বাইরে বেরিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণ পরে কাছাকাছি একটি পুকুরে স্নান করতে যান। সেই সময় একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ, তাঁর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালায়। উদয়নারায়ণপুর হাসপাতালে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন যাদবকে। এদিন রাতে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা বিধানসভা এলাকায় বিজেপি সমর্থক মদন মোড়লের বাড়িতে তৃণমূল মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মদন বলেন, “আমরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছি। তাই গভীর রাতে তৃণমূলের ৪০-৫০ জন দুষ্কৃতী এসে আমাদের বাড়ি ভাঙচুর করে, আমাদের মারধরও করে। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী আসে। আমি খুব ভয়ে ভয়ে আছি।”

    টালিগঞ্জের পেট্রোল পাম্পে হামলা

    এদিনই, কলকাতার টালিগঞ্জ এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের মালিক শালিনী সেন অভিযোগ করেন, তৃণমূল আশ্রিত ৩০-৪০ জন দুষ্কৃতী তাঁর পাম্পে গিয়ে থ্রেট করে। তিনি বলেন, “ওরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসে আমার ম্যানেজারকে হুমকি দেয়। বলে ১০ মিনিটের মধ্যে ট্যাঙ্কার সরাতে হবে, না হলে অশান্তি করবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শেষমেশ নির্ভয়ে বাঁচার সুযোগ পাচ্ছেন (Post Poll Violence)।

    বিজেপি নেতাকে পিটিয়ে খুন

    ৫ মে, মঙ্গলবার নিউ টাউনের বালিগুড়ি এলাকায় বিজয় মিছিলে যাওয়ায় বিজেপি নেতা মধু মণ্ডলকে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। তাঁর দেহ কাদায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই ঘটনায় পুলিশ তৃণমূল নেতা কমল মণ্ডল ও তার ৪ সহযোগীকে গ্রেফতার করে (TMC)। রাজারহাট-নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিজেপির পীযূষ কানৌডিয়া বলেন, “আমি বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি, চার ঘণ্টাও হয়নি। আর আমাকেই মালা দিতে হচ্ছে আমার ভাইয়ের মৃতদেহে! আমি পুলিশকে বলেছি, যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের কাউকে যেন রেহাই না দেওয়া হয়।” এদিনই দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে বছর ছেষট্টির বিজেপি কর্মী জগদীশ বসাক ও তাঁর ছেলে জয়ন্ত আক্রান্ত হন। অভিযোগ, তাঁর নাতি বিজেপির জয় উদযাপন করে বাজি ফাটায়, স্লোগান দেয় ‘জয় শ্রীরাম’। এরপর তৃণমূলের লোকজন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। জগদীশের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়, গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় জয়ন্তকে। ৯ মে মৃত্যু হয় জগদীশের (Post Poll Violence)।

    তৃণমূলের হামলা অন্যত্রও

    ৬ মে, বুধবার বিজেপি নেতা (বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী) শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন করা হয় উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। একটি কালো স্করপিও গাড়িতে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি (TMC)। দুই বাইক আরোহী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি লাগে চন্দ্রনাথের মাথা, বুক ও পেটে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। গুলির ঘায়ে গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথের গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। তদন্তের জন্য গঠন করা হয়েছে সিট(SIT)। এদিনই বসিরহাটে বিজেপি কর্মী রোহিত রায়কে লক্ষ্য করে তৃণমূল কর্মীরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বিজেপির জয় উদযাপন করতে তিনি এলাকায় টাঙাচ্ছিলেন দলীয় ঝান্ডা। সেই সময় ৮-১০ জন তৃণমূল কর্মী তাঁকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে থেকে কয়েকজন গুলি চালায়। বসিরহাট স্টেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোহিত। তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক হলেও, স্থিতিশীল। এই দিনই উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে বিজেপির বুথ সভাপতি সোমনাথ ধরের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালানো হয়। জখম হন তাঁর পরিবারের সদস্যরাও। পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূলের রঞ্জিত ধর ও শুভঙ্কর ধর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পৈতৃক বাড়ি দখল করার চেষ্টা করছিল (TMC)। সম্পত্তি ছাড়তে অস্বীকার করায় হামলা চালানো হয় (Post Poll Violence)।

    ছোড়া হল তাজা বোমা 

    এদিনই উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে তাজা বোমা ছোড়া হয়। ওই ঘটনায় ৫ জন গুরুতর জখম হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাইকে চড়ে কয়েকজন এসে ৩টি বোমা ছুড়ে পালিয়ে যায়। আহতদের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিনই সন্দেশখালির বামনঘেরিয়া এলাকায় টহলদারি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ওপরও হামলা হয়। দুষ্কৃতীরা গুলি চালালে জখম হন পুলিশ আধিকারিক ভারত পুরকায়েত, ভাস্বত গোস্বামী, এক মহিলা পুলিশ অফিসার এবং ২ সিআরপিএফ জওয়ান। তাঁদের কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ৭ মে, হাওড়ার শিবপুর এলাকায় তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী শামিম আহমেদের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ভিডিও ফুটেজে দেখা (TMC) গিয়েছে, হামলাকারীরা ৭-১৫টি তাজা বোমা ছোড়ে, গুলি চালায় ৭-৮ রাউন্ড। তাদের টার্গেট ছিলেন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি মনোজ খান। ওই ঘটনায় জখম হন বিজেপি নেতা মুন্না খান এবং সিকন্দর খানও (Post Poll Violence)।

     

  • Suvendu on Mamata-Abhishek Security: শুভেন্দুর প্রথম বড় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত! মমতা পাচ্ছেন বিশেষ সুরক্ষা, কমছে অভিষেকের নিরাপত্তা

    Suvendu on Mamata-Abhishek Security: শুভেন্দুর প্রথম বড় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত! মমতা পাচ্ছেন বিশেষ সুরক্ষা, কমছে অভিষেকের নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে ধারাবাহিকভাবে একাধিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। প্রথমে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক, তারপর জেলাশাসক এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। শীর্ষ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে তিনি নির্দেশ দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান নিরাপত্তা বলয় একই রকম বহাল থাকবে। তবে একইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, যাঁদের বাস্তবিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, তাঁদের জন্য অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র প্রভাব বা মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় কেন করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের জেরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মমতার নিরাপত্তায় গুরুত্ব

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, যাতায়াত এবং জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁকফোকর বা গাফিলতি যেন না থাকে, সে বিষয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করছে। বিশেষ করে ভোটপর্বের পর শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় রাজ্যের হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর নিরাপত্তা একই রকম বহাল থাকবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যাতে কোনো রকম শিথিলতা বা ওঁর প্রতি কোনো অসম্মান না হয়, তা দেখার জন্য আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। এই সম্মান ওঁর প্রাপ্য।’’

    অভিষেকের নিরাপত্তায় কাটছাঁট

    অন্যদিকে, একই সময়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, তাঁর জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হিসেবে যে নিরাপত্তা প্রটোকল প্রযোজ্য, ভবিষ্যতে অভিষেকের ক্ষেত্রেও সেই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বলয়ে ছিলেন অভিষেক। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা ধাপে ধাপে কমানো শুরু হয়। সোমবার বিকেলেই এই সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী নয়, পাইলট কারের সুবিধাও তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতদিন অভিষেকের সঙ্গে পাইলট কার চলতে দেখা গেলেও সরকারি নির্দেশের পর আর সেই সুবিধা থাকবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই তাঁর নিরাপত্তা পুনর্গঠন করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি।

    শুভেন্দুর ইতিবাচক বার্তা

    ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই অভিষেকের নিরাপত্তা বলয়ে কাটছাঁট শুরু হয়। তৃণমূল সরকারের আমলে কড়া নিরাপত্তায় মোড়া থাকত ক্যামাক স্ট্রিট এলাকা। কিন্তু সরকার বদলের পর প্রথমেই তাঁর দফতরের সামনে থেকে পুলিশ প্রহরা তুলে নেওয়া হয়। পরে বাড়ির সামনের নিরাপত্তাও কমানো হয়। শান্তিনিকেতনে তাঁর বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশের স্ক্যানার-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম। শুধু অভিষেক নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের নিরাপত্তাতেও পরিবর্তন আসে। ১৮৮এ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তাঁর বাড়ির সামনে থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তা কমানো হয়। রাজ্যে পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বাড়ির গলির মুখে থাকা ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ সরিয়ে দেওয়া হয়, পরে লালবাজারের তরফেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হয়। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর এই সম্মান প্রদর্শনকে ইতিবাচক বলেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসনিক স্তরে এই নির্দেশ জারি করে তিনি যেমন সৌজন্য ও পরম্পরার বার্তা দিয়েছেন, তেমনই স্পষ্ট করেছেন যে রাজ্যে ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতের কোনও স্থান থাকবে না।

  • BSF Land Allotment: “বাংলার সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গে দেশের সম্পর্ক জড়িত” বর্ডারে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি রাজ্যের

    BSF Land Allotment: “বাংলার সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গে দেশের সম্পর্ক জড়িত” বর্ডারে কাঁটাতারের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্ত সুরক্ষায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF)-কে জমি দিল রাজ্য। সোমবার প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্যাবিনেট মিটিং করার পর একাধিক বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের বৈঠকে যে’কটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া। সূত্রের খবর, বৈঠকে বিএসএফকে জমি দেওয়ার (BSF Land Allotment) সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে। নদিয়ার করিমপুরে ০.৯ একর জমি দেওয়া হচ্ছে তাদের। সেই জমিতে নতুন আউটপোস্ট তৈরি হবে বলে খবর। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, “বাংলার সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গে দেশের সুরক্ষা জড়িত রয়েছে। এই কাজ করা হচ্ছে দেশের হিতের জন্য। সেই কারণেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

    রাজ্যের সুরক্ষা, দেশের নিরাপত্তা

    এতদিন বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করতে ঢিলেমি করছিল রাজ্য। বিএসএফ জমি না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল। তাতেই বসানো যাচ্ছিল না কাঁটাতার। উন্মুক্ত ছিল রাজ্যের একাধিক সীমান্ত। এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল অবস্থান। কোনওভাবেই যে রাজ্যের সুরক্ষার সঙ্গে কোনও রকমের আপোস করা হবে না, তা স্পষ্ট করা হয়েছিল। কারণ রাজ্যের এই অনুপ্রবেশ ইস্যুই দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রশ্নচিহ্ন হয়ে উঠছিল। মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবারের ক্যাবিনেট বৈঠকের পরই ঘোষণা করেন, “বাংলার সুরক্ষার প্রশ্নে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, বিএসএফ-এর সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য ‘ল্যান্ড ট্রান্সফার প্রসেসে’ অনুমোদন দেওয়া হল। আজ থেকেই ল্যান্ড ট্রান্সফার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব সচিব ও মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করতে হবে।”

    সীমান্তে কত অংশ খোলা-মুক্তাঞ্চল

    দক্ষিণবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২১৭ কিলোমিটার, যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত। এই সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর কাজ চলছে, তবে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যার (Suvendu Adhikari on BSF Land Transfer) কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছিল। এখনও পর্যন্ত ১৬৪৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার লাগানো হয়েছে। বাকি ৫৬৯ কিলোমিটারের মধ্যে ১১৩ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এই অংশটি নদী সীমান্তের অন্তর্গত। বাকি ৪৫৬ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য পশ্চিমবঙ্গে ২২১৬.৭ কিমি। এর মধ্যে এখনও ৫৬৯ কিমি বেড়াহীন।

    কত একর জমির প্রয়োজন

    পরিসংখ্যান বলছে, ১৭ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে কাঁটাতার বসাতে প্রয়োজন ৬৭ একর জমি। ন’টি বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণে প্রয়োজন ১৮ একর জমি। জমি মালিকদের থেকে ক্রয় করে তা বিএসএফের হাতে তুলে দিতে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিলেও তেমন ভাবে কার্যকর করা হয়নি। এর মধ্যেই কেন্দ্র ইতিমধ্যে ১৮১ কিমি জমির জন্য টাকা ছেড়ে দিয়েছে, অথচ রাজ্য সরকার সেই জমি হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেছিল। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ১০৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবার শুরু করল রাজ্য সরকার। এদিন বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “ভূমি দফতর ইতিমধ্যেই কাজ এগিয়ে রেখেছে। কিন্তু আগের সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্য বিএসএফ-কে জমি দেয়নি। এমনকি হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। আমি হিসেব করে বুঝতে পারলাম, প্রায় ৯০ শতাংশ জমি রাজ্যের ভূমি দফতর এমনিই বিএসএফ-কে দিতে পারে।”

    সীমান্ত সুরক্ষিত ছিল না

    এর আগে একাধিকবার রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে তৎকালীন সরকার বিএসএফ- কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ব্যাপারে অসহযোগিতা করছে। আর এর জেরে যে সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল, অনুপ্রবেশ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছিল, সীমান্ত সুরক্ষিত ছিল না – তা স্পষ্ট। ভুয়ো পাসপোর্ট চক্র, তার পরে রাজ্য থেকে একাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গি ও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল রাজ্য প্রশাসন। তার পরেই পাল্টা বিএসএফের দিকে আঙুল তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছিলেন, জঙ্গি অনুপ্রবেশের নেপথ্যে ভূমিকা রয়েছে বিএসএফের। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছিল, বিএসএফই রাজ্যে গুন্ডা, লোক ঢোকাচ্ছে। সরকারি ভাবে তার জবাবও দিয়েছিল বিদেশ মন্ত্রক। জানিয়েছিল, অনিয়মের কোনও প্রশ্ন নেই।

    করিমপুরে আউটপোস্ট

    রাজ্যবাসীর নিরাপত্তার খাতিরে প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদিয়ার করিমপুরে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও বিএসএফের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। নদিয়া জেলায় প্রায় ২১৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে এখনও প্রায় ২০.৬১১ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায়নি বলে বিএসএফ সূত্রে খবর। কাঁটাতার ছাড়া সীমান্ত রয়েছে করিমপুরেও। সেখানে আউটপোস্ট তৈরি করতে চেয়েছিল বিএসএফ। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, সে কারণেই করিমপুরে আউটপোস্ট করতে চেয়েছিল বিএসএফ। এ বার তার জন্যই জমি দিচ্ছে রাজ্য।

    জনবিন্যাসে পরিবর্তন নয়

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গড়ার পরেই বিজেপি সরকার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসএফ- কে জমি হস্তান্তর করার ব্যাপারে। এর ফলে সীমান্তজুড়ে সঠিকভাবে কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হবে, যা অনুপ্রবেশের পাশাপাশি সীমান্তে থাকা অন্যান্য সমস্যা রুখতেও সাহায্য করবে। আর সুরক্ষিত থাকবে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি। শুভেন্দুর কথায়, “দেশ ও রাজ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সীমান্ত এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তনের বিষয় মাথায় রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।”

LinkedIn
Share