Tag: Mamata Banerjee

Mamata Banerjee

  • Sheikh Hasina: শুভেন্দুকে বিশেষ অভিনন্দন হাসিনার, কী বললেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী?

    Sheikh Hasina: শুভেন্দুকে বিশেষ অভিনন্দন হাসিনার, কী বললেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চব্বিশের ‘জুলাই বিপ্লবে’র জেরে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina)। প্রথমে তদারকি সরকার এবং পরে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশের। এই পুরো পর্বটায় হাসিনাকে বাংলাদেশের ‘বৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলে গিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই শুভেন্দুই যখন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন, সেই সময়ই যারপরনাই আনন্দ প্রকাশ করল দেশান্তরিত হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।

    হাসিনার বার্তা (Sheikh Hasina)

    শুক্রবার বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক দলের তরফে নেত্রী হাসিনার বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে লেখা, ‘‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সকল বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জয়ী দল বিজেপির বিজয়ীরাও রয়েছেন এর মধ্যে। তিনি (হাসিনা) শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।’’ ক্ষমতা হারিয়ে ভারতেই আশ্রয় নিয়েছেন হাসিনা। বঙ্গের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে নানা সময় বলতে দেখা গিয়েছে, তিনি মনে করেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই আবার বাংলাদেশে ফিরবেন হাসিনা।

    ভারতের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা

    যদিও হাসিনা-উত্তর কালে বাংলাদেশের রশি যায় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারের হাতে। তার পরেই নিষিদ্ধ করা হয় আওয়ামি লিগের কার্যকলাপ। গণহত্যার অভিযোগে হাসিনাকে ফাঁসির সাজাও দিয়েছে সে দেশের আদালত। ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি হাসিনা দল আওয়ামি লিগ। বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ইঙ্গিত দিয়েছেন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনা কবে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, কিংবা আদৌ পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সেই হাসিনাই শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন (Sheikh Hasina)।

    বিজেপিকে অভিনন্দন বিএনপির

    এদিকে, বিজেপির বিপুল জয়ে পদ্মশিবিরকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন বিএনপি-ও। শাসক দলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুর বারি হেলাল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তিস্তা ব্যারেজ চুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল (Suvendu Adhikari)। এই জয়ের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাবে (Sheikh Hasina)।”

     

  • Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কথা কম, কাজ বেশি’- পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি তাঁর নামে সিলমোহর দেওয়ার পরই সেই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির নব-নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পরে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য় বিজেপির সংকল্পপত্রে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পূরণ করা হবে। বন্ধ করা হবে অনুপ্রবেশ। নিশ্চিত করা হবে মহিলাদের সুরক্ষা। সেইসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট পেতে হবে বিজেপিকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর, নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব

    রাজ্যে সরকার গঠনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব। সব দুর্নীতির তদন্ত হবে।” তিনি জানান, এই সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অপরাধ বা নারী নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, প্রশাসনিক স্তরে হওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “যাঁরা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।”

    বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ

    এদিন বক্তব্যের শুরুতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য, মঙ্গল সিং সকলকে ধন্যবাদ। মোদিজি জিন্দাবাদ।” এরপরই আবেগঘন সুরে বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি স্মরণ করতে চাই ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। যাঁরা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, তাঁদের সব স্বপ্ন পূরণ হবে।” রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘পরিবর্তন’ এবং ‘ন্যায়বিচার’-এর প্রসঙ্গ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক পুরনো অভিযোগ ও মামলার তদন্তে গতি আসতে পারে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা।

    রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে

    মুখ্যমন্ত্রী যে শুভেন্দুই হচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও খুব একটা সংশয় ছিল না পদ্মশিবিরে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাঁকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, তিনি পর পর দু’বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটের লড়াইয়ে পরাস্ত করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে শুভেন্দু হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। এবার তাঁর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে বসার পালা।

  • Central Welfare Schemes: সরকার গড়ছে বিজেপি, বঙ্গে দ্রুত চালু হতে পারে আটকে থাকা বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প

    Central Welfare Schemes: সরকার গড়ছে বিজেপি, বঙ্গে দ্রুত চালু হতে পারে আটকে থাকা বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গের ২০৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি (BJP Bengal Win)। তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে প্রায় ৮০টি আসন। বিজেপির (BJP) এই বিপুল জয় এখন কেন্দ্রীয় সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক প্রকল্পের (Central Welfare Schemes) অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের পথ খুলে দিতে পারে। এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে। জানা গিয়েছে, বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর অন্তত সাতটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প (Ayushman Bharat)

    এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY)। এবার পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে এই যোজনা। এই প্রকল্পে পরিবার পিছু বছরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালুর (Central Welfare Schemes) কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “বাংলায় মহিলারা নিরাপত্তার পরিবেশ পাবেন, যুবসমাজ কর্মসংস্থান পাবে। রাজ্য থেকে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যাওয়া বন্ধ হবে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে অনুমোদন দেওয়া হবে।” পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের ৩৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু রয়েছে। যদিও এটি কেন্দ্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্প, এর ব্যয় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রের ৪.৫৬ মিলিয়ন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে উপভোক্তা নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে তদন্তও হয়েছে। গ্রামীণ ও শহুরে আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে (BJP)।

    প্রসঙ্গত, সারা দেশে প্রকল্পটির নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’। যদিও পশ্চিমবঙ্গে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ নামেই চলেছে প্রধানমন্ত্রীর জন আরোগ্য যোজনার কাজ। ২০১৮ সালে কেন্দ্রের এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকার। সেই সময় স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছিল,  ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্পে সারা দেশে যে দশ কোটি পরিবারকে চিকিৎসা ভাতার অধীনে আনা হচ্ছিল, তার মধ্যে ছিল পশ্চিমবঙ্গের এক কোটি ১২ লক্ষ পরিবারও। আর্থ-সামাজিক জাতি গণনা অনুযায়ী এই এক কোটি ১২ লাখ পরিবারকে চিহ্নিত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে দেড় লাখ টাকার বিমার সুবিধা পায় লাখ চল্লিশেক পরিবার। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পটি ‘স্বাস্থ্যসাথী’র সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ায় রাজ্যে দেড় কোটিরও বেশি পরিবার চিকিৎসা বিমার সুবিধা পাবে বলে সেই সময় (BJP) জানিয়েছিল রাজ্য।

    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানিয়েছিলেন, মূলত ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতিতে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করা হবে। স্বাস্থ্য দফতর নিজেরাই ট্রাস্ট তৈরি করে চিকিৎসা বিমার খরচ মেটাবে (Central Welfare Schemes)। বেসরকারি বিমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত তাদের মাধ্যমেও একাংশের বিমার প্রিমিয়াম মেটানো হবে। পরে সকলের চিকিৎসা খরচই মেটানো হবে রাজ্যের ট্রাস্ট থেকে। এত দিন ৪০ লাখের কিছু বেশি পরিবারের বার্ষিক প্রিমিয়ামের পুরো টাকাটাই রাজ্য সরকারকে মেটাতে হত। গড়ে এক-এক জনের প্রিমিয়াম বাবদ দিতে হত ৫৮০ টাকা। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যোগ দেওয়ায় প্রায় সওয়া কোটি পরিবারের স্বাস্থ্য বিমার ৬০ শতাংশ টাকা (Central Welfare Schemes) দেবে কেন্দ্র। রাজ্য সরকার দেবে বাকি ৪০ শতাংশ। ফলে রাজ্যেও অনেক কম খরচে জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে বেশি মানুষকে চিকিৎসা বিমার সুবিধা দেওয়া যাবে। বেসরকারি ক্ষেত্রেও এই সুবিধা মিলবে। যদিও বাংলায় এই প্রকল্পের নাম ছিল স্বাস্থ্যসাথী। সর্বত্র সুবিধা মিলত না বলেও অভিযোগ। বিজেপি (BJP) জমানায় এবার ফের শুরু হবে থমকে থাকা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কাজ।

    প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা

    পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জন্য কার্যকর হতে পারে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা। এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, বিমা এবং আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়া হবে (Central Welfare Schemes)। পশ্চিমবঙ্গে জল জীবন মিশনের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য নয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণ এলাকার ৫৬.৪৬ শতাংশ পরিবার পাইপলাইনের পানীয় জলের সংযোগ পেয়েছে। সংসদে দেওয়া এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত কেন্দ্রের বরাদ্দ ২৪,৬৪৫ কোটি টাকার মধ্যে রাজ্য মাত্র ৫৩ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাব জমা ও নথিপত্র সংক্রান্ত দেরিকে।

    পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্প

    পশ্চিমবঙ্গে স্থগিত রয়েছে পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্পের কাজ। কেন্দ্রের পয়সায় চলা এই মডেল স্কুলগুলি এবার চালু হতে পারে। এতে উন্নত হবে শিক্ষার পরিকাঠামো। পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় ফসল বিমা প্রকল্প থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতির বিরুদ্ধে কৃষকরা সুরক্ষা পাবেন এবং সময়মতো ক্ষতিপূরণও পাবেন (Central Welfare Schemes)। প্রথাগত কারিগর ও শিল্পীদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে চালু হয়েছে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁতি, কুমোর, কামার-সহ দক্ষ শ্রমিকরা প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টেও ঋণের সুবিধা পাবেন, যা তাঁরা আগে পেতেন না (BJP)।

    প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বিজেপি (BJP Bengal Win)। রাজ্যের ২০৬টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে পদ্মশিবির। উৎখাত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকে। যে শাসনের গেরোয় (Central Welfare Schemes) গত ১৫ বছর ধরে হাঁসফাঁস করছিলেন বঙ্গবাসী!

     

  • Akhilesh Yadav: বঙ্গ এবং তামিলভূমের ভোটে ধরাশায়ী সংস্থার ‘ক্লায়েন্ট’, আই-প্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন অখিলেশ

    Akhilesh Yadav: বঙ্গ এবং তামিলভূমের ভোটে ধরাশায়ী সংস্থার ‘ক্লায়েন্ট’, আই-প্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন অখিলেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে মুখে রাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে পালায় ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাক (Akhilesh Yadav)। এই সংস্থার সঙ্গেই গাঁটছড়া বেঁধেছিল অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি। আগামী বছর হওয়ার কথা উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার নির্বাচন। বুধবার দুপুরেই অখিলেশ জানিয়ে দেন, আই-প্যাকের (I-PAC) সঙ্গে কাজ আর করবে না তারা। তিনি জানান, অর্থের অভাবে এই চুক্তি থেকে সরে এসেছেন।

    আই-প্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন অখিলেশের (Akhilesh Yadav)

    ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের হাতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল আই-প্যাকের। পরে অবশ্য সংস্থা থেকে সরে যান তিনি। এই সংস্থার সঙ্গেই কথা হয়েছিল অখিলেশের। কথা ছিল, ২০২২ সালের নির্বাচনে যেখানে অখিলেশের দলের পরাজয়ের ব্যবধান কম ছিল, সেই সব কেন্দ্রে কাজ করার। জানা গিয়েছে, অখিলেশ যাদবের দল আর একটি নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা ‘শোটাইমে’র সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে, যা প্রায় দু’মাস আগে একটি চুক্তির মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। আই-প্যাকের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের কারণ জানতে চাইলে অখিলেশ রসিকতা করে বলেন, “আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। আপনারা (মিডিয়া) যদি আমাদের অর্থ দেন, তাহলে আমরা আর একটি সংস্থা নিয়োগ করতে পারি।”

    নেপথ্যের কারণ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অখিলেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বঙ্গে তৃণমূল এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকে, যাদের সঙ্গে আই-প্যাকের সম্পর্ক ছিল, পতনের পর। দুই রাজ্যেই আই-প্যাকের সঙ্গে কাজ করে গোহারা হারে সংস্থার দুই ‘ক্লায়েন্ট’। বঙ্গে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হয় তৃণমূল। ২৯৪টির মধ্যে ২০৭টি আসন জেতে বিজেপি। আর তামিলভূমে ডিএমকে পরাজিত হয় অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের নয়া দল টিভিকে-র কাছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডিএমকে নেতা এমকে স্টালিন নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতেই প্রার্থী হয়ে গোল খেয়ে যান। যদিও অখিলেশ এই জল্পনা উড়িয়ে দেন যে আই-প্যাকের (I-PAC) সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত এই (Akhilesh Yadav) দুই রাজ্যে নির্বাচনী ফলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। তারা কয়েক মাস আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু আমরা সেভাবে অর্থ জোগাড় করতে পারছি না, তাই চালিয়ে যেতে পারছি না।”

    ভিনেশ চন্দেলের গ্রেফতারি

    এই বিচ্ছেদের পেছনে আর একটি কারণ হল ভিনেশ চন্দেলের গ্রেফতারি। ভিনেশ আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত একটি অর্থ পাচার মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।  এপ্রিলের শুরুতে দিল্লিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থাটির অভিযোগ,  এক ‘হাওয়ালা’ অপারেটর, যে ওই পাচারকারীদের সঙ্গে যুক্ত, সে কোটি কোটি টাকা ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে পাঠাতে সাহায্য করেছে (I-PAC)। এই সংস্থাও পরিচালনা করে আই-প্যাক। ইডির আরও দাবি, আই-প্যাক এই অর্থ ঘোরানোর এবং কালো টাকা সাদা করার একটি মডেল তৈরি করেছিল। অভিযোগ, আই-প্যাক দুভাবে অর্থ পেত—অর্ধেক ব্যাঙ্কিং মাধ্যমে (চেক/অনলাইন ট্রান্সফার) এবং বাকি অর্ধেক নগদ বা নন-ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, চন্দেলের গ্রেফতারি এবং বাংলা ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনী ফল বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে সমাজবাদী পার্টিকে (Akhilesh Yadav)।

    চন্দেলের গ্রেফতারির জেরে আই-প্যাকের নির্বাচনী প্রচার পরিচালনার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের চাপের কারণে প্রচারের শেষ সপ্তাহগুলিতে আই-প্যাক বিভিন্ন রাজ্যে তাদের কার্যকলাপ কমিয়ে দিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের অফিসগুলিতেও তাদের টিম ছোট করা হয়েছে (I-PAC)।

     

  • West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ভোটপর্ব মিটেছে। ১৫ বছর পর ফের একবার ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী রইল বঙ্গভূমি। শনিবারই নতুন সরকার গড়বে বিজেপি। ইস্তফা না-দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন ‘প্রাক্তন’। বিধানসভার (West Bengal Assembly) স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতক, এবং ডেপুটি চিফ হুইপের ঘরগুলি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঢুকতে পারবেন না কেউই। বিধানসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মূলত এই নির্দেশ বহাল থাকছে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরে আবার পুনরায় কাজ কর্ম শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সরল মমতার ছবি

    ইতিমধ্যেই বিধানসভার মন্ত্রীদের ঘর থেকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি খুলে ফেলা হয়েছে। এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা। এরইমধ্যে দেশের সংবিধান মেনে আগের সরকার ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। করেছেন ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা মারফত প্রাপ্ত ক্ষমতার প্রয়োগ। ইতিমধ্যে বিবৃতি জারি করে পুরনো বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। তবে, সরকার ভেঙে দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল আরএন রবি। আসলে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাজিত হয়েও যে রীতি এবং রেওয়াজ মেনে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা না-দিতে পারেন, তেমন ‘অভিনব’ পরিস্থিতির কথা সংবিধান প্রণেতাদেরও মাথায় আসেনি। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই পরিস্থিতিকে একটা ‘ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট’ (খামখেয়াল) হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ, রাজ‍্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হল মানে মন্ত্রিসভার আর অস্তিত্ব রইল না। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীও হয়ে গেলেন প্রাক্তন।

    সাজছে বিধানসভা

    ইতিমধ্যে বিধানসভায় বিভিন্ন মন্ত্রীদের ঘরে বা অন্যত্র কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে সেখানে মেরামতির কাজ চলছে। যেমন কোনও সুইচ বোর্ডের সমস্যা থাকলে, কোথাও শীততাপ যন্ত্রের সমস্যা থাকলে মেরামত করার কাজ চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে গোটা বিধানসভাজুড়েই। একইভাবে বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে বারবার প্রয়োজনীয় পরিদর্শন করছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করছেন। নতুন নতুন নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের। সূত্রের খবর, ওখানেই তৈরি হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। গোটা বিধানসভায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি বন্দোবস্ত। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের করিডরের সামনে বসানো হয়েছে পুলিশ প্রহরা।

  • Jamaat Video Row: “দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন”, মমতাকে ‘পরামর্শ’ বাংলাদেশের জামাত নেতার, ভাইরাল ভিডিওয় ব্যাপক চাঞ্চল্য

    Jamaat Video Row: “দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন”, মমতাকে ‘পরামর্শ’ বাংলাদেশের জামাত নেতার, ভাইরাল ভিডিওয় ব্যাপক চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নির্বাচনী পরাজয়ের পর পদত্যাগ না করার আহ্বান জানান বাংলাদেশের জামাত নেতা মহম্মদ নুরুল হুদা (Jamaat Video Row)। মমতাকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সংঘাত আরও তীব্র করার পরামর্শও দেন। হুদার এই ভিডিও বার্তার জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

    দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন (Jamaat Video Row)

    হুদার ভিডিওটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজটির ভাষা ও প্রকাশের সময়কাল দ্রুতই একে একটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত করে। ওই ভিডিও বার্তায় হুদা সরাসরি মমতার উদ্দেশে বলেন, “পদত্যাগ করবেন না, দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন।” বাংলাদেশি এক মুসলমান নেতার এহেন মন্তব্য এবং পরামর্শই হয়ে উঠেছে বিতর্কের মূল বিষয়। হুদা পশ্চিমবঙ্গকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার কথাও বলেন। এতে আরও চড়ে যায় বিতর্কের পারা।ভারতের রাজনৈতিক দলের নেতারা হুদার এই মন্তব্যকে অত্যন্ত উসকানিমূলক আখ্যা দেন। হুদার দাবি, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মুসলমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবে। তাঁর এই বক্তব্য বিতর্কে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করেছে, বাড়িয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক নজরদারি।

    মন্তব্যের তীব্র নিন্দা বিজেপির

    বিজেপির তরফে হুদার এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। বিজেপি নেতারা এসব মন্তব্যকে বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, “কেন একটি বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করছেন?” বিজেপি-বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতাও হুদার এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য উসকানিমূলক এবং যথোপযুক্ত নয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই বিতর্ককে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বাইরের রাজনৈতিক মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব ফেলে না (Mamata Banerjee)।

    মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা

    সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। দলের কান্ডারি মমতা স্বয়ং নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। ২৯৩টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল (Jamaat Video Row)। তার মধ্যে বিজেপি জয়ী হয় ২০৭টি আসনে। নির্বাচনে দলের করুণ ফলের পরেও মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা। তার জেরে বঙ্গে বেড়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। নির্বাচনের ফল এবং ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক বয়ান এখনও রাজ্য-রাজনীতির চর্চার প্রধান বিষয়। এহেন আবহে হুদার ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজটি রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলি এই বিতর্ককে একে অপরের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তোলা হয়নি। তা সত্ত্বেও এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একটা অংশের মতে, এই ধরনের ভাষা উত্তেজনা বাড়াতে পারে, পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো এবং অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। কারও কারও মতে, এই জাতীয় মন্তব্য অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটি অনলাইনে ভাইরাল হওয়ায় এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক ভাষা, ডিজিটাল প্রচার (Mamata Banerjee) এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমান্তপারের মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক চর্চার বিষয়ে পরিণত হয়েছে (Jamaat Video Row)।

  • Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের পর বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ চান না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তৃণমূল আছে তৃণমূলেই। বলা ভাল মমতা আছেন মমতা-তেই। তৃণমূলের এই ভরাডুবির পিছনে যখন দলের একাংশ অভিষেকীকরণ-কে দায়ী করছেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়ানোর কথা বললেন। যা নিয়ে দলের অন্দরে বিতর্ক তুঙ্গে।

    ৫ বছরের ব্যবধানে ধরাশায়ী অবস্থা

    তৃণমূলের ক্ষমতার মিনার ভেঙে পড়ার পর থেকেই দলের অন্দরে আলোচ্য হয়ে উঠেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা। তাঁর কর্পোরেট কায়দা, পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে সংগঠনের সমান্তরাল করে তোলা নিয়ে নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে ক্ষোভ গোপন করছেন না। একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলার ২৯৪ আসনে তৃণমূলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ছিল ২১৩। ভয়ঙ্কর ভরাডুবি দেখাল ছাব্বিশের নির্বাচন। জনতার রায়ে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে রইল মাত্র ৮০ কেন্দ্র। তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রী থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ধরে রাখতে পারেননি নিজেদের কেন্দ্র। গড় হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতেও উঠেছে গেরুয়া ঝড়। কিন্তু ৫ বছরের ব্যবধানে এমন ধরাশায়ী অবস্থা কীভাবে? ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলার ‘অগ্নিকন্যার’ লড়াই ছাব্বিশেই ইতি টানল? বিভিন্নমহল থেকে একাধিক কাটাছেঁড়া চললেও, এবার দলের অন্দরেই ফোঁস করে উঠছেন নেতারা। বলছেন, ‘অভিষেকই (Abhishek Banerjee) যত নষ্টের গোড়া। দলে কর্পোরেট কালচারটাই কাল হল।’

    সেই অভিষেককেই সম্মান!

    বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়াতে হল সকলকে। উঠতে হল অভিষেকের জন্মের আগে থেকে রাজনীতির আঙিনায় থাকা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সমর মুখোপাধ্যায়, জাভেদ খান, ফিরহাদ হাকিমদেরও। কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন প্রার্থীকে ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন অভিষেকও। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন মমতা। তৃণমূলের এক বিজয়ী প্রার্থী বলেন, ‘‘অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানতে মমতাই সকলকে বলেন উঠে দাঁড়াতে।’’ রতুয়ার প্রবীণ বিধায়ক সমর, বালিগঞ্জ থেকে জেতা শোভনদেব, কলকাতার মেয়র তথা বন্দর আসন থেকে জেতা ফিরহাদ, বজবজ থেকে জেতা অশোক দেব— সকলকেই উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে অভিষেকের প্রতি। যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের মধ্যে।

    চেয়ার ছাড়তে হল প্রবীণদেরও

    সূত্রের খবর, মমতার নির্দেশ মেনে অনেককে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে ঠিকই। তবে অনেকেই চেয়ার ছেড়ে উঠতে ইতস্তত করেছেন। জয়ী এক প্রার্থী বলেন, ‘‘বসেও তো হাততালি দেওয়া যেত। কিন্তু হাঁটুর বয়সি অভিষেকের সামনে উঠে দাঁড়ানো প্রবীণ নেতাদের কাছে দৃশ্যতই অস্বস্তিকর ছিল।’’ তবে বৈঠকের ভিতরে উঠে দাঁড়ালেও বাইরে বেরিয়ে কেউই বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। যা খানিকটা প্রত্যাশিতই।

    অভিষেকের সমালোচনা নয়

    তৃণমূল সূত্রে আরও খবর, মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, অভিষেকের সমালোচনা করলে পার্টি বরদাস্ত করবে না। শৃঙ্খলা রাখার বিষয়ে তিনি একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গড়ে দিয়েছেন। যাতে রাখা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং ধনেখালির জয়ী প্রার্থী অসীমা পাত্রকে। ডেরেককে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বসার দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকবেন।

    জয়ীদের মধ্যে ১১ জন গরহাজির কেন

    তৃণমূলের টিকিটে এবার জিতেছেন সাকুল্যে ৮০ জন। সূত্রের খবর, বুধবারের বৈঠকে জয়ীদের মধ্যে ১১ জন হাজির ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাসনের কাজল শেখ এবং আমডাঙা থেকে জয়ী তথা ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা কাশেম সিদ্দিকি। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরে দলনেত্রীর ডাকা এই বৈঠকে একসঙ্গে এতজন জয়ী প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, যে জয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত হননি, মমতা নিজেই তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন, আপাতত নিজেদের এলাকায় ‘আক্রান্ত’ মানুষের পাশে থাকতে। দলীয় নেতৃত্বের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও মমতার উপস্থিতিতে নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম সভায় ১১ জন গরহাজির থাকায় যে জয়ী প্রার্থীরা কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতা তথা জয়ী প্রার্থীর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা বেনজির। একমাত্র কাজল শেখের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নানুরে রাজনৈতিক অশান্তির কারণে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। কিন্তু বাকিরা কেন অনুপস্থিত, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।’

    অভিষেকের বিরুদ্ধে গেলে ব্যবস্থা!

    ফল প্রকাশের পর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, খগেশ্বর রায়ের মতো প্রবীণ নেতা থেকে বিভিন্ন পুরসভার প্রাক্তন–বর্তমান চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ভোটকুশলী সংস্থার বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন অনেকে। বেসুরো নেতাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে দেখে ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অসীমা পাত্র ও শুভাশিস চক্রবর্তীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন মমতা। সূত্রের দাবি, বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী বলেছেন, ‘যিনি দলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।’ তবে, মমতা যাই বলুন, তৃণমূল সূত্রে খবর, শুধু প্রবীণরাই নন অভিষেকের পথ মানতে নারাজ অনেক যুব তৃণমূল নেতাও। তাঁদের অভিযোগ, “হারের পিছনে এক এবং একমাত্র কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটাকে কর্পোরেট একনায়কতন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। যে দল গ্রাসরুটে মিশে থাকার কথা, তাকে নিয়ে চলে গিয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের ৬ তলায়। ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করা নেতাদের পাত্তাই দেননি অভিষেক।” ক্ষমতা হারানোর পর দলের অভ্যন্তরে বিরোধিতা তৈরী হলেও মমতা কিন্তু ভোট দিলেন পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই।

  • TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ১৫ বছরের সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হতেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে দোষারোপের পালা। দীর্ঘদিন ধরে মনের ভিতর জমে থাকা ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোতে শুরু করেছে। এঁদের মধ্যে কেউ জেলাস্তরের দলের সাংগঠনিক নেতা, তো কেউ বঞ্চিত টিকিটপ্রার্থী। নির্বাচনে তৃণমূল পর্যুদস্ত হতেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে এক এক করে যাবতীয় রাগ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলের এই নেতানেত্রীরা। কারও মুখে দলের পরাজয়ের কারণ, তো কেউ ফাঁস করছেন টিকিট নিয়ে কালোবাজারির কথা। কেউ কেউ তো আবার সরাসরি হারের জন্য নাম করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের ভোট-কুশলী সংস্থা আই-প্যাককে দায়ীও করেছেন।

    ‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’

    এবারের নির্বাচনে গোটা উত্তরবঙ্গ পদ্মময়। কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল। এই প্রেক্ষিতে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানত্রী পাপিয়া ঘোষের সাফ কথা, “তৃণমূলে আমরা ছিলাম চাকর। তাই এমন হওয়ার ছিল। গত ৫ বছরে দল চলেছে শুধু-মালিক আর চাকর হিসাবে। আমাদের কাজ ছিল চাকর হয়ে নির্দেশ মানা।” তৃণমূলের এই দাপুটে নেত্রী বলেন, ‘‘২০২১ থেকে ২০২৬, এই পাঁচ বছর দল আর আগের মতো সিস্টেমে চলেনি। কোথাও যেন মনে হয়েছে গোটা দলটাই মালিক আর চাকরের হয়ে গিয়েছে। এই সময়কালে সিন্ডিকেট-রাজ মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে। আমাদের তো কথা বলার জায়গাই ছিল না। যে এজেন্সি এসেছিল তাঁদের হয়তো যাঁরা মিষ্টির প্যাকেট দিতে পারতেন তাঁদের কথা উপরে যেত।’’ তাঁর মতে, বাংলার সাধারণ মানুষ তৃণমূলের মতো দলকে প্রত্যাখ্যান করেনি। প্রত্যাখ্যান করেছে দাম্ভিক, অহংকারী নেতাদের।

    ‘অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক’

    উত্তরবঙ্গের আরও এক তৃণমূল নেতা হারের জন্য সরাসরি অভিষেককে দায়ী করেছেন। শিলিগুড়ি জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অত্রিদেও শর্মার দাবি, শওকত, জাহাঙ্গিরের মতো অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। মানুষ এসব ভালোভাবে নেয়নি। আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা ছিল। রাজ্যস্তরের নেতারা কিছুই করতে পারছিল না। সব এদের মাধ্যমে হচ্ছিল। ফলে কোনও কিছুই সংগঠিতভাবে ছিল না। সবার দম্ভ দেখে মনে হয়েছিল আমরা যেভাবে চাইব সেভাবেই নির্বাচন হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রচেষ্টায়, নির্বাচন কমিশনের তীক্ষ্ণ নজরে আমরা আমাদের মতো ভোট করাতে পারিনি।”

    ‘দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’

    ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও সরাসরি তোপ দেগেছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “একজন ব্যক্তি দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” কৃষ্ণেন্দুবাবুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ করে রাখা হয়েছিল। টিভিতে নেত্রীর লাঞ্ছনার দৃশ্য দেখে ব্যথিত এই প্রবীণ নেতা বলেন, “মমতাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমন দৃশ্য রাজনৈতিক জীবনে দেখিনি।” প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভিষেককে একহাত নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, হরিশ্চন্দ্রপুরে এমন একজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে যাঁর ভাষাজ্ঞান নেই, আবার রতুয়ায় দাঁড়িয়েছেন ৮৪ বছরের এক অশক্ত বৃদ্ধ। এই ভুল সিদ্ধান্তের মাসুলই দিচ্ছে দল।

    ‘ঔদ্ধত্ব ও অহংকার…পতনের মূল কারণ’

    চুঁচুড়া আসন নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। পোড়খাওয়া ও বর্ষীয়ান নেতা অসিত মজুমদারকে সাইডলাইন করে তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‘আমরা অনেক দক্ষ লোক ছেড়ে, অদক্ষ লোক নিয়ে সংগঠন তৈরি করার চেষ্টা করেছিলাম। একবারে সমস্ত পুরনো নেতাদের বাদ দেওয়া দলের কর্মীরা ভালো চোখে নেয়নি। অনেকের ঔদ্ধত্ব ও অহংকার হয়ে গিয়েছিল যে, আমরাই হয়তো শেষ কথা বলার লোক। সেটাও মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। আর এটাই পতনের মূল কারণ।’’ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোট কুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর সাফ কথা, দলের পুরনো ও অভিজ্ঞ ঘোড়াদের বসিয়ে দিয়ে ‘ভাড়াটে’ দিয়ে দল চালাতে যাওয়ার মাসুল দিতে হয়েছে এই নির্বাচনে। অসিত বলেন, ‘‘যাঁদের বাদ দেওয়া হল, তাঁদের সঙ্গে অন্তত আলোচনার প্রয়োজন ছিল। আই-প্যাকের প্রয়োজন আমাদের কখনও হয়নি। সিপিএমের চরম অত্যাচারের সময় যখন আমরা দুটো নির্বাচন জিতেছি, তখন তো কোনও ভাড়ার লোক লাগেনি!’’

    ‘আগে ভদ্র লোকেরা তৃণমূল করত’

    বর্ধমানের তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান তৃণমূলের এই পরাজয়ের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তোলাবাজদের সংস্থার মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠন করা, মাতাল গাঁজাখোরদের এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়া হলে এটাই হবে। তাঁর দাবি, ‘‘আগে ভদ্র লোকেরা পার্টি করত, কিন্তু এখন যাদের হাতে পার্টিটা দিয়েছে, তারা কেউ কোনও দিন তৃণমূল করেনি। কেউ ১০১২, কেউ ২০১৬-এ দলে এসেছে। তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পর দলে এসেছে। এই অহংকার ও দাম্ভিকতার জন্য তৃণমূলের এই হাল।’’

    ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’

    অসিতের মতোই এবারের নির্বাচনে টিকিট পাননি প্রাক্তন ক্রিকেটার-বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি। তাঁর বদলে তৃণমূল এবার শিবপুরে প্রার্থী করেছিল রানা চট্টোপাধ্যায়কে। ঘাসফুলের সেই শক্ত ঘাঁটিতেই ফুল ফুটিয়েছেন বিজেপি-র রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। পাঁচ বছর আগে, একুশের বিধানসভা ভোটে হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী রথীন চক্রবর্তীকে তিরিশ হাজারের উপর ভোটে হারিয়েই বিধায়ক হন তিনি। এরপর মনোজকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার, তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর মনোজের ইঙ্গিতবাহী পোস্ট— ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’। মনোজ জানিয়েছেন, শুধু তারাই টিকিট কিনতে পেরেছেন, যাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা দিতে পেরেছেন। এবার অন্তত ৭০-৭২ জন প্রার্থী টিকিট পাওয়ার জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। মনোজের দাবি, তাঁকেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় টিকিট পাননি। মনোজের আরও অভিযোগ, তৃণমূলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে। ক্রিকেটারের সংযোজন, ‘‘আমাকে ‘এমওএস’ (প্রতিমন্ত্রী) পদের একটি ললিপপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার কার্যত কোনও অর্থই ছিল না। আমি যদি উঠে দাঁড়িয়ে বলতাম, দিদি, আমি একটি নির্দিষ্ট সমস্যার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, তিনি মাঝপথেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলতেন, তোমাদের মতো লোকের জন্য আমার কাছে কোনও সময় নেই।’’ মনোজ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও ধুয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘অরূপদা তো খেলার এ-বি-সি-ডি’ই জানেন না। নিজের হীনমন্যতা বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমাকে আমার মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করতে দেননি।’’

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিদ্রোহ কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। একদিকে কর্পোরেট সংস্কৃতি আর অন্যদিকে প্রবীণদের ব্রাত্য করে রাখা, এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই যে বাংলার মসনদ হারাতে হলো তৃণমূলকে, তা এখন ঘরোয়া কোন্দলেই স্পষ্ট।

  • Election Commission: সিসিটিভি বন্ধ করে শারীরিক নিগ্রহ! মমতার সব ‘ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত’ অভিযোগ খারিজ কমিশনের

    Election Commission: সিসিটিভি বন্ধ করে শারীরিক নিগ্রহ! মমতার সব ‘ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত’ অভিযোগ খারিজ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবাসীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েও গদি ছাড়েননি রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের হেরো তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)! উল্টে তাঁর এবং তাঁর দল তৃণমূলের (নিন্দুকেরা অবশ্য বলেন, কোম্পানি) হারের জন্য কাঠগড়ায় তোলেন নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission)। সেই কারণেই হেরে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা ইস্তফা দেননি বুধবার সকাল পর্যন্তও।

    নির্বাচন কমিশনের সাফ কথা (Election Commission)

    যদিও তাদের বিরুদ্ধে মমতার তোলা সব অভিযোগই খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সিসিটিভি বন্ধের অভিযোগ ভিত্তিহীন, কল্পনাপ্রসূত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না বলা পর্যন্ত গণনা থামানো হয়নি। তারপর তাঁকে জানিয়ে, গাইডলাইন মেনে ফের শুরু হয় গণনা। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, “আমি ৩২ হাজার ভোটে জিতছিলাম। তারপরেই বিজেপির প্রার্থী ২০০-র বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকে হুমকি দেওয়া শুরু করে। কাউন্টিং সেন্টারে যাওয়ার সময় আমাকে আটকে দেয়। আমাকে নিগ্রহ করা হয়। তখন সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আমি বলেছিলাম যে কাউন্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি থাকব। কিন্তু আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বের করে দেয়। দল কর্মীদের সঙ্গে আছে। আমরা লড়াই করে ফিরব। এখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, যেমন অন্য রাজ্যেও হয়েছিল।”

    মমতার তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন

    দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিকের (DEO) পক্ষ থেকে দেওয়া রিপোর্টে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভবানীপুরে মমতার তোলা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। কমিশনের সাফ কথা, ভোট গণনার পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম-আইন মেনে অত্যন্ত স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা কখনওই বন্ধ করা হয়নি। ভবানীপুরের প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কমিশন এও জানিয়েছে, প্রার্থীর জেদের কারণে গণনার কাজ কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পরে নিয়ম মেনে তাঁকে জানিয়েই আবারও গণনার কাজ শুরু করা হয়েছিল (Election Commission)।

    ভবানীপুরে গোহারা মমতা

    প্রসঙ্গত, সোমবার, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার দিন গোটা দেশের (Mamata Banerjee) নজর ছিল হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে। এই কেন্দ্রেই দ্বৈরথ হয়েছে মমতা ও তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর। গণনা শুরুর পর থেকেই সমানে সমানে টক্কর চলছিল মমতা-শুভেন্দুর। যদিও শেষ দিকে এগোতে থাকেন শুভেন্দু। তার পর আর তাঁর নাগাল পাননি মমতা। হাজার পনেরো ভোটে হেরে যান ‘বাংলার নিজের মেয়ে’ মমতা। রাজ্যে গোহারা হারে তাঁর দল, তৃণমূলও। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে, সব অফিসারকে বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে (Mamata Banerjee) লাগিয়ে ভোট লুঠ করেছে।’ এর পরেই তিনি বলেন, “আমরা তো হারিনি! হারলে পদত্যাগ করতাম (Election Commission)।”

     

  • Mamata Close Aides Resign: মমতা ইস্তফা না দিলেও, এক-এক করে পদত্যাগ তাঁর পছন্দের আমলা-শীর্ষকর্তাদের

    Mamata Close Aides Resign: মমতা ইস্তফা না দিলেও, এক-এক করে পদত্যাগ তাঁর পছন্দের আমলা-শীর্ষকর্তাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ১৫ বছরের সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হতেই শুরু হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত সদ্যপ্রাক্তন রাজ্য সরকার-নিযুক্ত আমলা, শীর্ষকর্তাদের পদত্যাগের হিড়িক। সেদিন থেকেই এক-এক করে ইস্তফা দিচ্ছেন রাজ্যের একাধিক শীর্ষস্তরের আমলা, কর্তা ও পদাধিকারীরা।

    পদত্যাগ আলাপন-হরিকৃষ্ণ-মনোজের…

    মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা ঘোষণা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেবেন না। তবে, তাঁর নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষস্তরে নিযুক্ত হওয়া তাঁর পছন্দের ও কাছের আমলা-কর্তারা এক-এক করে নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন। যেমন, ক্ষমতার পালাবদলের পরে এ বার (সদ্যপ্রাক্তন) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ‍্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দুই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। নবান্ন সূত্রে খবর, আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই একদা রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। অবসরের পরে ওই দুই আমলাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ‍্য উপদেষ্টা হিসাবে বিশেষ পদ দেওয়া হয়েছিল। আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতার আস্থাভাজন হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থ।

    পদত্যাগ রাজ্যের এজি কিশোর দত্তর

    তার আগেই, একেবারে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার দিনই, তৃণমূলের পরাজয়ের পরেই পদত্যাগ করছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত। মঙ্গলবার তিনি রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন কিশোর দত্ত৷ মঙ্গলবার সকালেই বিজেপির লিগাল সেলের পক্ষ থেকে আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রাজ্য সরকার সম্পর্কিত সমস্ত মামলায় রায়দান যেন স্থগিত রাখা হয়৷ প্রধান বিচারপতি সেই আশ্বাস দেন৷ এরপর বেলা বাড়তেই খবর পাওয়া যায় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত পদত্যাগ করেছেন৷ উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তারপরই কিশোর দত্তকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর নয়া সরকার গদিতে বসার আগেই নিজে থেকে কিশোর পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগ অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের…

    এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল পরাজয়ের পরেই রাজ্য সরকারের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার। মঙ্গলবার রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগম এবং স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদ থেকে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর নৈকট্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অতীতে একাধিকবার চর্চা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, রাজ্যে বিপুল পট পরিবর্তনের কারণে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক ও বিভিন্ন পর্ষদের পদাধিকারীরা ইস্তফার পথে হাঁটতে পারেন।

    এদিকে, নবান্ন থেকে এক জারি হওয়া এক নির্দেশের মাধ্যমে অবসরের পরও দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বুধবার থেকে অফিসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। সচিবরা নিজের নিজের দফতরে মৌখিকভাবে এই নির্দেশ জারি করেছেন। লোক ভবন থেকে আসা এই নির্দেশ মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা সব দফতরের সচিবদের জানিয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রের খবর। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশ বহাল থাকবে।

LinkedIn
Share