Tag: Narendra Modi

Narendra Modi

  • PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি এক উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে অর্থনৈতিক, সামাজিক শাসন ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ৷ মোদির নেতৃত্বে ভারত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী এবং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিদেশনীতি প্রসঙ্গে ভারত নিজস্ব একটি ব্যাখ্যাও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ৷ এমনই দাবি বিদেশ মন্ত্রকের (MEA)। ৯ জুন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা এক পোস্টে মন্ত্রক জানায়, এই সময়কালে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-র প্রকাশ

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ শুধু “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-কে শক্তিশালী করেনি, বরং বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সোলার জোট (International Solar Alliance)-এর মতো উদ্যোগ, সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল জন পরিকাঠামো হিসেবে ইউপিআই (UPI)-এর প্রসার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা—সব মিলিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর

    বিদেশ মন্ত্রক তাদের পোস্টে উল্লেখ করেছে, “গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতি অসাধারণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করা—ভারত জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক কল্যাণকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।” পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে (James Marape) একটি ভিডিও বার্তায় মোদিকে “নেতৃত্বের আদর্শ উদাহরণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারতে কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনার সাফল্য বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়।” একইসঙ্গে তিনি ভারত ও পাপুয়া নিউ গিনির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা

    মোদি সরকার শুরু থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও চিন এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চেষ্টা করছে, ভারত তার কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ), বাণিজ্য, এবং মানবিক সহায়তা দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ত্রিনিদাদ টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ (Kamla Persad-Bissessar)-ও প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আজ ভারত বিশ্ব রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

    মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে প্রেরণা

    টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে দীর্ঘতম ধারাবাহিক মেয়াদের নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছেন। ১০ জুন তাঁর টানা ৪,৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রিত্ব পূর্ণ হয়েছে, যা ভারতের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। এই উপলক্ষে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতা ও সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনরা কুমারা দিশানায়েক (Anura Kumara Dissanayake) এক চিঠিতে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ বারবার মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেছেন, আর এই দীর্ঘ মেয়াদ সেই আস্থারই প্রতিফলন। তিনি ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী উপস্থিতি

    মোদি সরকারের আমলে ভারত জি-২০ (G20) এর মতো শীর্ষ বৈশ্বিক ফোরামের সফল সভাপতিত্ব করেছে এবং ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (ISA)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে, ভারত গণতান্ত্রিক রাজনীতির ‘ভারতীয় বৈশিষ্ট্য’ তুলে ধরার জন্য পশ্চিমের সঙ্গে তার গণতান্ত্রিক ঐক্যমত্যের উপর জোর দেওয়া থেকে সরে এসেছে । বর্তমানে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভারতীয় উৎসের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ৷ এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ভারত তার ঐতিহাসিক ঔপনিবেশিক ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে ৷ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ‘বিশ্ব পরামর্শদাতা’ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছে ভারত ।

    কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বড় শক্তিগুলোর সাথে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, ‘কোয়াড’ (Quad)-এর মতো জোটে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আত্মনির্ভর ভারত

    দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিকাশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে বিদেশনীতিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতিগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব সাপ্লাই চেইনে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করা হচ্ছে। মোদি সরকারের আমলে মেক-ইন-ইন্ডিয়া উদ্যোগ, দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের সঙ্গে ভারত আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী ও নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করতে এবং সেটার বিকাশে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ।

    সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করা এই সরকারের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় বসার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে উন্নীত করে বহু-সংখ্যাবদ্ধ কৌশলের পক্ষে কথা বলছেন ৷ ভারত সবসময় নিজেকে একটি বিশ্বশক্তি বলে মনে করে।

    বিশ্বস্ত উদ্ধারকারী ও মানবিক রাষ্ট্র

    বিশ্বের কোথাও কোনো সংকট দেখা দিলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ভারত তাৎক্ষণিক সাহায্যকারী বা ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ ও আফ্রিকার সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং উন্নয়ন, প্রযুক্তি, জলবায়ু উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে বিশ্বপরিসরে দেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত এখন বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

  • Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    Lord Ram Idol: বাংলাদেশে নির্মীয়মান রামের মূর্তি ভেঙে ফেলার ডাক উগ্র ইসলামপন্থী বক্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলায় ভগবান রামের (Lord Ram Idol) নির্মীয়মান একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন উগ্র ইসলামপন্থী এক ব্যক্তি। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলমান গোষ্ঠীগুলির নানা মন্তব্যও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে হিন্দু দেবতা রামকে ‘হিন্দুত্বের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে হিংসায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে।

    উগ্র ইসলামি বক্তার হুমকি (Lord Ram Idol)

    ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা’ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক উগ্র ইসলামি বক্তা হুমকি দিয়ে বলেন, “পলাশবাড়ী উপজেলায় হিন্দুদের দেবতা রামের মূর্তি নির্মাণের কাজ যদি নির্বিঘ্নে চলতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে, এ দেশে কোনও সম্মানিত ইসলামি আলেম নেই। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুত্ববাদীদের হাতে গণহত্যার শিকার হওয়ারই যোগ্য।” তিনি এও বলেন, “পলাশবাড়ীতে রামের একটি মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দাও। সরকারকেই মূর্তিটি ভেঙে ফেলতে হবে। সরকার যদি তা না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ (মুসলমানরা) সেটি ধ্বংস করবে। সরকারকে সাহায্য করা মুসলমানদের দায়িত্ব। বাংলাদেশে এই মন্দির ভেঙে ফেলতেই হবে।”

    ভারত দখলের হুমকি

    এর আগে ভারত দখলের হুমকি দিয়েছিলেন এই উগ্র ইসলামি বক্তা। তাঁর দাবি, “বাংলাদেশ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালানো হবে। ভারত দখল করা হবে। মোদি ও তাঁর রাম রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মুসলমানরা যদি একযোগে আক্রমণ করে, তাহলে ভারত এক ঘণ্টাও টিকতে পারবে না।” প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যেই চলছে এই আক্রমণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবকে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশছাড়া করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

     

  • PM Modi: টলছে নেহরুর আসন! ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়ার পথে মোদি

    PM Modi: টলছে নেহরুর আসন! ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়ার পথে মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক নজির গড়তে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবথেকে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা দেশের প্রধান (Longest Serving Head of Government) হয়ে কাজ করার রেকর্ড গড়তে চলেছেন তিনি। আগামী ১০ জুন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) একটানা দেশের দীর্ঘতম সময় দায়িত্বে থাকা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর (Jawaharlal Nehru) ৬২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করবেন।

    নেহরুর রেকর্ড ভাঙবেন মোদি

    ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে ১০ জুন, ২০২৬-এ মোদির টানা দায়িত্বকাল দাঁড়াবে ৪,৩৯৯ দিনে। এর ফলে তিনি নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের ধারাবাহিক প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড অতিক্রম করবেন। নেহরু ১৯৫২ সালের ১৩ মে স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন এবং ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তাঁর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এর আগেই ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই মোদি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) দীর্ঘতম টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট ৪,০৭৭ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

    নেহরু ও মোদির শাসনকাল দুই ভিন্ন যুগের ছবি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নেহরু ও মোদির শাসনকাল দুই ভিন্ন যুগের প্রতিচ্ছবি। নেহরুর সময় ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ কোটি। অন্যদিকে ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার সময় দেশের জনসংখ্যা ১৩১ কোটির বেশি ছিল, যা বর্তমানে ১৪৬ কোটিরও বেশি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরও কয়েক দশকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম লোকসভা নির্বাচনে যেখানে ৫৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল, সেখানে ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৬৪ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা দাঁড়ায় ৭৪৪-এ। একইভাবে ভোটারের সংখ্যা প্রথম সাধারণ নির্বাচনের প্রায় ১৭ কোটি থেকে বেড়ে ২০১৪ সালে ৮৩ কোটিরও বেশি হয়।

    রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও পার্থক্য

    রাজনৈতিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও নেহরু ও মোদির সময়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। নেহরুর সময় কংগ্রেসের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। ১৯৫২ সালের নির্বাচনে দলটি ৪৮৯টির মধ্যে ৩৬৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল। বিপরীতে, মোদির নেতৃত্বে ভারত বহু আঞ্চলিক দল, জোট রাজনীতি এবং তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে পরিচালিত হয়েছে। মোদি আরও একটি অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী। তিনি প্রথম অ-কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী যিনি টানা দুইবার পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠন করেছেন। পাশাপাশি নেহরুর পর তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ক্ষমতাসীন নেতা হিসেবে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।

    দুই যুগের প্রযুক্তিগত পার্থক্য

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনামলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোরও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আইআইটির সংখ্যা ১৬ থেকে ২৩, আইআইএমের সংখ্যা ১৩ থেকে ২১ এবং এআইআইএমএসের সংখ্যা ৭ থেকে ২৩-এ উন্নীত হয়েছে। প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দুই যুগের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। নেহরু এমন এক সময় দেশ পরিচালনা করেছিলেন, যখন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, সামাজিক মাধ্যম বা তাৎক্ষণিক ডিজিটাল যোগাযোগের অস্তিত্ব ছিল না। অন্যদিকে মোদির শাসনকাল কেটেছে ২৪ ঘণ্টার সংবাদমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিবিড় নজরদারির মধ্যে।

    নির্বাচিত সরকার প্রধানের স্বীকৃতি

    প্রসঙ্গত, চলতি বছর মোদি ইতিমধ্যেই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সম্মিলিত দায়িত্বকাল ৮,৯৩০ দিন অতিক্রম করে দেশের দীর্ঘতম সময়ের নির্বাচিত সরকারপ্রধানের স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে আগেও একাধিক রেকর্ড গড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনিই গুজরাটের সবথেকে বেশি সময় ধরে থাকা মুখ্যমন্ত্রী। সবথেকে বেশি সময় মুখ্যমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীও মোদিই। একইসঙ্গে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যার জন্ম স্বাধীনতার পর। ২০১৪ সাল থেকে পরপর তিনবার লোকসভা নির্বাচনে জয়ের রেকর্ডও রয়েছে তাঁর।

    মোদির একাধিক রেকর্ড

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে দেশের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম অ-কংগ্রেসী নেতা, যিনি লোকসভায় সম্পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। অ-কংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দুইবারের মেয়াদ পূরণ করে, তৃতীয় মেয়াদে দেশ সামলাচ্ছেন। এই বছর ডিজিটাল মাধ্যমেও একাধিক রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ইউটিউবে তাঁর চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৩০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩ কোটি পার করেছে। বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার থেকে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা বেশি। ইন্সটাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদির ফলোয়ার্সের সংখ্যা পার করেছে ১০০ মিলিয়ন। তিনিই বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান, যার ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১০ কোটির বেশি। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদির ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১০৬.৪ মিলিয়ন। প্রধানমন্ত্রী মোদির দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ছাপ পড়েছে। বিশ্লেষকের মতে, মোদির নেতৃত্বে ভারত এক নতুন রাজনৈতিক ধারায় প্রবেশ করেছে, যার প্রভাব আগামী প্রজন্মেও পড়বে।

  • PM Modi: ১ বৈশাখ নয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হবে ২০ জুন, ঘোষণা নবান্নর, সেই দিনই রাজ্যে মোদি?

    PM Modi: ১ বৈশাখ নয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হবে ২০ জুন, ঘোষণা নবান্নর, সেই দিনই রাজ্যে মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০ জুন রাজ্যজুড়ে সরকারিভাবে পালিত হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (West Bengal Day)। এই মর্মে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নয়া রাজ্য সরকার। মন্ত্রিসভার সবুজ (PM Modi) সঙ্কেত মেলার পর সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যব্যাপী বিশাল কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পদ্ম-শিবির।

    ২০ জুনের গুরুত্ব (PM Modi)

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন তারিখটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি জেলায় ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস’ পালনের পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। জেলাস্তরে ইতিমধ্যেই রাজ্য দিবস পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক এবং শীর্ষ পদাধিকারীদের নিজের নিজের এলাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ২০ জুন বাংলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই অবিভক্ত বাংলার বিধানসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বঙ্গভঙ্গ তথা ভারতের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। রাজ্যবাসীর কাছে সেই গৌরবময় অতীত তুলে ধরতেই এই দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিজেপির বক্তব্য

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে পদ্ম শিবির বঙ্গবাসীর স্মৃতিতে প্রায় ফিকে হয়ে যাওয়া শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ ও প্রাসঙ্গিকতার আগুন উসকে দেবে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “গোটা রাজ্যে এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হবে। আমরা বাংলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে এই রাজ্যের অবদান তুলে ধরব।” তিনি জানান, ১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরে রাখতে যাঁরা আত্মত্যাগ ও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, এই দিনটিতে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে তাঁদের।

    রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি

    জানা গিয়েছে, ওই দিন রাজ্য বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় স্মরণসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নিবিড় জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের (PM Modi) ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ প্রচার কর্মসূচিও চালাবে গেরুয়া শিবির। এই কর্মসূচির মূল (West Bengal Day) লক্ষ্যই হল পিএম আবাস যোজনা, পিএম-কিষান, জল জীবন মিশন এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনমুখী কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সাফল্য ও সুবিধা সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া। প্রবীণ এক পদ্ম নেতা জানান, রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের মাধ্যমে দল বাংলার নিজস্ব পরিচিতি ও কৃষ্টিকে সম্মান জানাবে। রাজ্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে বঙ্গবাসীর সচেতনতাও বাড়ানো হবে। এদিন, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাও জানানো হবে।

    মমতা জমানায় বিস্তর জলঘোলা

    শুভেন্দুর আগে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে ছিলেন তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ১ বৈশাখ রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলাও হয়েছিল। সেই সময় লোকভবনে ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি ২০ জুন রাজভবনে (বর্তমান লোকভবন) আলাদা করে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতেন। তা নিয়ে চিঠি চালাচালিও হয়েছিল (PM Modi)। প্রাক্তন রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা লিখেছিলেন, “আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি এটা জেনে যে আপনি ২০ জুন রাজভবনে ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস’এর মতো একটা অদ্ভুত দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    কী বলছেন দিলীপ ঘোষ

    বিজেপি বরাবরই দাবি করে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের একমাত্র দিন হতে পারে ২০ জুন। পদ্ম নেতাদের এহেন দাবি উপেক্ষা করে তৃণমূল ১ বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে। রাজ্যে পালাবদলের পর নয় সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক একমাসের মাথায় জানিয়ে দিল, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে ২০ জুন, ১ বৈশাখ নয়। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “এবার থেকে ২০ জুন তারিখটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে।”

    পশ্চিমবঙ্গ দিবসে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    এদিকে, ২০ জুনের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তারকেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজোও দেবেন। পরে তিনি (West Bengal Day) ভাষণ দেবেন জনসভায়। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সেদিন কলকাতায় আয়োজিত মূল কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গের প্রায় সর্বত্রই ফুটেছে পদ্ম। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এ রাজ্যে গঠিত হয়েছে প্রথম বিজেপি সরকার। তৃণমূলকে গোহারা হারিয়ে বিজেপি জিততেই দিল্লিতে রীতিমতো বাঙালি পোশাক ধুতি-পাঞ্জাবী পরে জনসমক্ষে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। নির্বাচনের আগে একাধিকবার দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করতে বাংলায় এসেছিলেন তিনি। রাজ্যে পদ্ম-সরকার গঠিত হওয়ার পর আর বাংলায় আসেননি প্রধানমন্ত্রী। তাই ২০ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা।

     

  • Modi Meets Min Aung Hlaing: চিনকে টেক্কা দিতে মায়ানমারের বিরল খনিজে নজর ভারতের! মোদি-মিন অং হ্লাইং বৈঠকে বড় বার্তা

    Modi Meets Min Aung Hlaing: চিনকে টেক্কা দিতে মায়ানমারের বিরল খনিজে নজর ভারতের! মোদি-মিন অং হ্লাইং বৈঠকে বড় বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বিরল খনিজ মৌল বা রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements, সংক্ষেপে REE)-এর জোগান নিয়ে যখন নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তখন মায়ানমারের সামরিক শাসক ও প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং-এর ভারত সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। পাঁচ দিনের ভারত সফরের অংশ হিসেবে সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি মায়ানমারের বিপুল বিরল খনিজ সম্পদও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মে ৩০ থেকে জুন ৩ পর্যন্ত চলা এই সফরে মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ভারতের শীর্ষ শিল্পপতিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মায়ানমারের বিরল মৃত্তিকা খনিজ সম্পদ, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ মায়ানমারের বিরল খনিজ মৌল?

    বর্তমানে মায়ানমার বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বিরল খনিজ মৌল উৎপাদনকারী দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের পরেই তার অবস্থান। বিশেষ করে দেশটির কাচিন ও শান প্রদেশে বিপুল পরিমাণে মজুত রয়েছে ভারী বিরল খনিজ মৌল— ডিসপ্রোসিয়াম (Dysprosium) এবং টার্বিয়াম (Terbium)। এই খনিজগুলি আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), বায়ুচালিত বিদ্যুৎ টারবাইন, উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে এগুলির ব্যবহার অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়াম এমন এক ধরনের উপাদান যা চুম্বককে অত্যধিক তাপমাত্রাতেও কার্যকর রাখে। ফলে যুদ্ধবিমান, রেডার ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরিতে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

    ভারতের জন্য কেন কৌশলগত তাৎপর্যপূর্ণ?

    ভারত বর্তমানে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে নিজস্ব যুদ্ধবিমান, উন্নত রেডার ও সামরিক প্রযুক্তি বিকাশে জোর দিচ্ছে। সেই কারণে মায়ানমারের বিরল খনিজ সম্পদের প্রতি নয়াদিল্লির আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।

    বিশেষ করে—

    • ● যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনে ব্যবহৃত সুপারঅ্যালয় তৈরিতে ডিসপ্রোসিয়াম প্রয়োজন।
    • ● উন্নত রেডার ব্যবস্থায় বিরল মৃত্তিকা চুম্বক অপরিহার্য।
    • ● স্টেলথ প্রযুক্তি ও বিশেষ প্রতিরক্ষা আবরণ তৈরিতেও এই উপাদানের ব্যবহার রয়েছে।
    • ● ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের জন্যও এই খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্তমানে মায়ানমারের অধিকাংশ বিরল খনিজ অপরিশোধিত অবস্থায় চিনে রফতানি বা পাচার হয়ে যায়। কারণ দেশটির নিজস্ব পরিশোধন (refining) পরিকাঠামো এখনও পর্যাপ্ত নয়। ফলে চিন দীর্ঘদিন ধরে এই খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    চিনের বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিরল খনিজের সরবরাহে চিনের আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের মোট পরিশোধিত বিরল খনিজের বড় অংশই চিনের নিয়ন্ত্রণে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান এবং ভারত বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মায়ানমার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মায়ানমারের ভৌগোলিক সংযোগ এবং দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় দুই দেশের মধ্যে খনিজ সহযোগিতার সম্ভাবনাও বেশি।

    বাণিজ্যিক সম্পর্কও শক্তিশালী হচ্ছে

    ভারত ও মায়ানমারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ পৌঁছেছে ২.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বর্তমানে ভারত মায়ানমারের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। মায়ানমার থেকে ভারতে রফতানিকৃত পণ্যের মধ্যে ডালশস্য (Pulses) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা মোট রফতানির প্রায় ৭৭ শতাংশ। এছাড়াও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া রুপি-কিয়াত (Rupee-Kyat) নিষ্পত্তি ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের পথ খুলে দিয়েছে। এতে ডলার নির্ভরতা কমবে এবং বাণিজ্য আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিনিয়োগেও বাড়ছে ভারতের উপস্থিতি

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ভারত ধীরে ধীরে মায়ানমারে নিজের অবস্থান শক্ত করছে। বর্তমানে ভারত মায়ানমারের একাদশ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ। ভারতীয় সংস্থাগুলির অনুমোদিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৮২.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল খনিজ, জ্বালানি, অবকাঠামো ও উৎপাদন শিল্পে যৌথ উদ্যোগ গড়ে উঠলে আগামী কয়েক বছরে এই বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে।

    ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

    বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বিরল খনিজ মৌলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে মায়ানমারের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চিনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে ভারত যে সক্রিয়ভাবে এগোচ্ছে, মিন অং হ্লাইংয়ের এই সফর তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মায়ানমারের খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে ওঠে, তাহলে তা ভারতের প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্প এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদন খাতে বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।

  • 114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    114 Rafale Jets: ১১৪ রাফালের জন্য আবেদনের পথে ভারত! শীঘ্রই ফ্রান্সে পাঠানো হবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান চুক্তির পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি অত্যাধুনিক রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ (LoR) চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্র। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ফ্রান্স সরকারের কাছে পাঠানো হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পের অধীনে সরকার-টু-সরকার চুক্তির মাধ্যমে এই বিপুল প্রতিরক্ষা ক্রয় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    কী এই ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’?

    প্রতিরক্ষা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘লেটার অফ রিকোয়েস্ট’ বা এলওআর হল একটি আনুষ্ঠানিক নথি, যার মাধ্যমে ক্রেতা দেশ বিক্রেতা দেশের সরকারকে জানায় তারা কত সংখ্যক যুদ্ধাস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে চায় এবং তার প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল চাহিদা কী। ভারতের পাঠানো এলওআর-এর ভিত্তিতে ফ্রান্স সম্ভাব্য মূল্য, সরবরাহের সময়সূচি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য পাঠাবে। তারপর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল’ (RFP) জারি করে বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু করবে।

    ভারতে তৈরি হবে অধিকাংশ রাফাল

    প্রস্তাবিত ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রায় ৯০টি ভারতেই তৈরি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফরাসি সংস্থা ‘দাসো’র সঙ্গে একটি ভারতীয় সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এই উৎপাদন হবে। বাকি বিমানগুলি ফ্রান্স থেকে সরাসরি ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এই প্রকল্পে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেশীয় উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে বড়সড় অগ্রগতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বছরের শেষেই চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য

    সূত্রের খবর, চলতি বছরের শেষের মধ্যেই চূড়ান্ত চুক্তি সই করতে চাইছে কেন্দ্র। তবে তার আগে প্রয়োজন হবে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি বা সিসিএস-এর অনুমোদন। ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ডিফেন্স অ্যাকুইডিশন কাউন্সিল (DAC) এই প্রস্তাবকে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আগামী মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এপি সিংয়ের ফ্রান্স সফর এবং জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সম্ভাব্য ফ্রান্স সফরকে ঘিরেও এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইতিমধ্যেই ৩৫টি রাফাল ব্যবহার করছে ভারত

    ভারতীয় বায়ুসেনা বর্তমানে ৩৫টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে, যা পূর্ববর্তী ভারত-ফ্রান্স চুক্তির অধীনে কেনা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২৬টি রাফাল-এম (Rafale Marine) যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করতে চলেছে, যা বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, একই প্ল্যাটফর্মের আরও রাফাল অন্তর্ভুক্ত হলে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্র সংযোজন এবং লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমবে। কারণ ইতিমধ্যেই রাফাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভারতীয় বাহিনীর হাতে রয়েছে।

    ভারতীয় অস্ত্র সংযোজনের চেষ্টা

    ভারত বর্তমানে ফ্রান্সের সঙ্গে ইন্টারফেস কনট্রোল ডকুমেন্ট, সংক্ষেপে আইসিডি (ICD) নিয়ে আলোচনা করছে। এই প্রযুক্তিগত নথি হাতে এলে ভারতীয় অস্ত্র ব্যবস্থা যেমন অ্যাস্ট্রা (Astra) ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভবিষ্যতের ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG) মিসাইল রাফাল প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। এটি সফল হলে রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতীয় প্রতিরক্ষা চাহিদা অনুযায়ী আরও আধুনিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে।

    কেন জরুরি এই চুক্তি?

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২৯-এ, যেখানে অনুমোদিত সংখ্যা ৪২। ফলে যুদ্ধ প্রস্তুতিতে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন রাফাল যুদ্ধবিমান বায়ুসেনার ক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে দেশীয় প্রকল্প যেমন হ্যাল-এর তেজসের মার্ক-১এ (Tejas Mk1A), মার্ক-২ (Tejas Mk2) সংস্করণ এবং পঞ্চম প্রজন্মের অ্যামকা (AMCA) সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে আরও অনেক সময় লাগবে। অ্যামকা পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ২০৩৫ সালের পর পরিষেবায় আসতে পারে বলে অনুমান।

    রাশিয়ার সু-৫৭ জেটও বিবেচনায়

    অন্তর্বর্তী সময়ে ভারত বিদেশি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছে। তার মধ্যে রাশিয়ার সুখোই সু-৫৭ (Sukhoi Su-57) স্টেলথ ফাইটারের নামও উঠে এসেছে। তবে আপাতত রাফাল এফ-৪ সংস্করণই ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান পছন্দ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য কত?

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, ১১৪টি রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) মাল্টিরোল ফাইটার কেনার জন্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার সরকার-টু-সরকার চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। মার্কিন ডলারে যার মূল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে এটিই হবে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান ক্রয়।

  • Donald Trump: “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় ভক্ত”, লাইভ ফোন কলে বললেন ট্রাম্প, হঠাৎ কী হল ‘পোটাস’-এর?

    Donald Trump: “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড় ভক্ত”, লাইভ ফোন কলে বললেন ট্রাম্প, হঠাৎ কী হল ‘পোটাস’-এর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বড় ভক্ত”। কথাগুলি বললেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে সরাসরি নয়, ফোনে। ঘটনাটি খুলেই বলা যাক। বর্তমানে ভারত সফর করছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। কলকাতা সফর সেরে তিনি গিয়েছেন দিল্লিতে। সেখানেই মার্কিন স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল অনুষ্ঠানের। এই অনুষ্ঠানে লাইভ ফোন কলে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উপস্থিত ছিলেন রুবিও-ও। এই অনুষ্ঠানেই ট্রাম্পের মুখে শোনা গেল মোদি-প্রশস্তি। ট্রাম্প বলেন, “সার্জিও, আপনাকে আমাদের দেশের প্রতিনিধি হতে হবে। তবে আমি সবাইকে শুধু শুভেচ্ছা জানাতে চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। মোদি অসাধারণ। তিনি আমার বন্ধু।”

    ‘আমি মোদির বড় ভক্ত’ (Donald Trump)

    অনুষ্ঠানস্থলে দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছিল এক বিশাল স্ক্রিন। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন গর এবং রুবিও। ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনও এত ঘনিষ্ঠ ছিল না। ভারত শতভাগ আমার এবং আমাদের দেশের ওপর ভরসা করতে পারে। যদি তাদের কোনও সাহায্য লাগে, তারা জানে কোথায় ফোন করতে হবে। তারা এখানেই ফোন করবে। আমরা খুব ভালো করছি। আমরা একের পর এক রেকর্ড গড়ছি।” তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতি রেকর্ড পর্যায়ে, শেয়ার বাজারও রেকর্ড উচ্চতায়। ভারত যা চাইবে, তা-ই পাবে। আর আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির একজন বড়, খুব বড় ভক্ত।”

    মোদিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণ

    রুবিওর প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “তিনি (রুবিও) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা বিদেশসচিব হিসেবে পরিচিত হবেন। যখন আপনার সঙ্গে মার্কো এবং সার্জিওর মতো মানুষ থাকেন, তখন আপনি বড় ধরনের কাজই পাবেন।” তিনি বলেন,
    “আমি জানি আপনি আমাদের ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সবাই সন্ধেটা উপভোগ করুন। প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো আমার কাছে সম্মানের। আর তাঁকে জানিয়ে দিন যে, আমি তাঁর বড় ভক্ত।” শনিবার সার্জিও, ট্রাম্পের (Donald Trump) পক্ষ থেকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হোয়াইট হাউস সফরের আমন্ত্রণও জানান।

    দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি

    প্রসঙ্গত, রুবিওর ভারত সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন আমেরিকায় বড় ধরনের অভিবাসন নীতির পরিবর্তন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে (PM Modi)। নয়া নীতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত বহু অভিবাসীকে দেশ ছেড়ে নিজ দেশের বাইরে থেকে ফের একবার গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে রুবিও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা উভয় দেশের পক্ষেই উপকারী, স্থিতিশীল এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।” রুবিও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করেন। উভয় পক্ষের এই আলোচনায় (Donald Trump) বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো বিষয়ও উঠে এসেছিল।

    ভারত প্রধান বাণিজ্য অংশীদার

    বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর এই সফরের উদ্দেশ্য হল, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে আস্থা আরও জোরদার করা এবং একটি বিস্তৃত বাণিজ্য কাঠামোর আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। রুবিও বলেন, “এটি ভারতের বিরুদ্ধে কিছু নয়।” তাঁর মতে, বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের ঐতিহ্যগত মিত্রদের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা করছে। তিনি বলেন, “ভারত একটি বিশাল অর্থনীতি এবং আমাদের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। ভারতের সঙ্গে আমাদের বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য রয়েছে (PM Modi)। এত বড় অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্যের ভারসাম্য পুনর্গঠন করাও স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন ধরনের বিষয় (Donald Trump)।”

     

  • PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের (PM Modi on Falta Repoll) নির্বাচনে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। ফলতার এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর বিজেপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১,০৯,০২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ফলতা বিজয়র পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদির বার্তা, “ফলতাবাসী নিজেদের রায় দিয়ে দিয়েছে! গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। ভয়ভীতি-হুমকি হেরে গিয়েছে।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য, বিকশিত বাংলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন রাজ্যবাসীর কাছে।

    অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাব

    ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ফলতা থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হওয়ার জন্য দেবাংশু পণ্ডাজিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই জয় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বিজেপির প্রতি অটুট আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসাধারণ কাজ মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন, আর সেই কারণেই তাঁরা আমাদের প্রতি আরও আশীর্বাদ ও সমর্থন জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির সকল কর্মী ও সমর্থকদের তাঁদের অসাধারণ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আগামী দিনেও আমরা পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।” নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দু’সপ্তাহ পরেই এই নির্বাচন হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার যে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করে চলেছে, তা মানুষের নজর এড়ায়নি। এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গবাসী আবার আমাদের আশীর্বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

    কেন প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার ফল শুধু একটি বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচনের ফল নয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্যতম অংশ এই ফলতা। নির্বাচন কমিশন ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণার পর অভিষেক বলেছিলেন, ‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না। দিল্লি থেকে যত শক্তশালী, যাকে খুশি আনুন, ক্ষমতা থাকলে ফলতায় লড়ে দেখাও।’ এই ফলতায় ভোটাররা বছরের পর বছর ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরির’ অভিযোগ ওঠে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে এই ফলতায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন অভিষেক। সেই ফলতাতে বিজেপি প্রার্থীর লক্ষাধিক ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বার্তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এ বারের নির্বাচনে যে বিজেপি জিতবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগেই ময়দান ছেড়েছেন। তবে বিজেপি যে এই বিপুল ব্যবধানে ফলতায় বিজয়ধ্বজা ওড়াবে, তা আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি অনেকেই। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জিতেছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা। তৃণমূল সেখানে নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে।

  • PM Modi: ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়িওয়ালাকে হুমকি ফোন পাকিস্তান-বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের

    PM Modi: ঝাড়গ্রামের সেই ঝালমুড়িওয়ালাকে হুমকি ফোন পাকিস্তান-বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীকে (PM Modi) ঝালমুড়ি বিক্রি করে বিপাকে দোকানদার বিক্রম সাও। তাঁর দাবি, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে তিনি (Jhalmuri vendor) প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঝালমুড়ি খাইয়েছিলেন বিক্রম। তার পরেই শুরু হয়েছে ফোনে নিয়মিত হুমকি দেওয়া। বিক্রমের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তিনি অজ্ঞাত আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হুমকিমূলক ফোন এবং ভিডিও কল পাচ্ছেন।

    হুমকি ফোন বিক্রমকে (PM Modi)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে বারবার ভিডিও কল এবং ফোন কলের মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছি। তারা আমায় বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। যারা ভিডিও কল করছে তারা ভয় দেখানোর জন্য ভীতিকর অঙ্গভঙ্গি করছে এবং অস্ত্রও দেখাচ্ছে। তারা আমায় সতর্ক করেছে যে আমায় ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।” বিক্রম জানান, যারা ফোন করে, তারা প্রথমে ধর্মীয় শুভেচ্ছা জানায়, পরে দেয় খুনের হুমকি। তিনি বলেন, “তারা আমায় জিজ্ঞেস করে, তুমি বেঁচে আছ নাকি মারা গেছ। আমি হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ পেয়েছি। তাতে লেখা, বোমা বিস্ফোরণে তোমায় মেরে ফেলা হবে।”

    চর্চায় ঝালমুড়ি

    হাইভোল্টেজ নির্বাচনী প্রচারের সময় ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বিক্রমের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খান। এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী দোকানদারকে ঝালমুড়ি মাখাতে বলছেন। তিনি (PM Modi) দাম দিতে চাইলে বিক্রম প্রথমে নিতে অস্বীকার করেন, পরে প্রধানমন্ত্রীর জোরাজুরিতে টাকা নেন। ঝালমুড়ি হল মুড়ি, কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ এবং সর্ষের তেল দিয়ে তৈরি একটি জনপ্রিয় খাবার।প্রধানমন্ত্রীর সেই সংক্ষিপ্ত সফরের পর থেকেই চর্চায় চলে আসেন বিক্রম। তিনি জানান, যারা তাকে হুমকি দিচ্ছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) সফরের পর থেকেই এই ফোন আসা শুরু হয়েছে। বিক্রম (Jhalmuri vendor) ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্তও।

     

  • Modi Rubio Meeting: ভারত ও আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা, মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ রুবিওর

    Modi Rubio Meeting: ভারত ও আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা, মোদিকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ রুবিওর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের আবহে চার দিনের ভারত সফরে এসেছেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Modi Rubio Meeting)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানালেন তিনি। শনিবার কলকাতা (Marco Rubio in India) থেকে ভারত সফর শুরু করলেন রুবিও। এদিন দুপুরে দিল্লি পৌঁছোন তিনি। রাজধানীতে নেমে সেবাতীর্থে মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন রুবিও। এক ঘণ্টার বেশি বৈঠক হয় দুই রাষ্ট্রনেতার। বৈঠক শেষে এক্স পোস্ট করে মোদি জানান কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে রুবিওর সঙ্গে।

    কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা

    রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স পোস্টে লেখেন, ‘‘আমরা ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। শুধু তা-ই নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিও।’’রুবিওর এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তিনি জানান, এই সফর কোনও সম্পর্ক মেরামতের উদ্দেশ্যে নয়। বরং দুই বিশ্বস্ত অংশীদারের মধ্যে যোগাযোগের প্রতিফলন। তিনি এ-ও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। আসন্ন কোয়াড সম্মেলন নিয়েও আশাবাদী সার্জিও। তিনি জানান, ওই সম্মেলনে অনেক কিছু আলোচনার আছে। আশা করা যায়, ইতিবাচক ফলাফল বেরোবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘দূরদৃষ্টির’ প্রশংসাও করেছেন সার্জিও।

    গত ১৪ বছরে এই প্রথম কলকাতায়

    শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতায় এসে পৌঁছোন রুবিও (Marco Rubio in India)। গত ১৪ বছরে এই প্রথম আমেরিকার কোনও বিদেশসচিব পশ্চিমবঙ্গে এলেন। শেষ বার কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব হিসাবে এসেছিলেন হিলারি ক্লিন্টন। ২০১২ সালে এই মে মাসেই তিনি কলকাতায় পা রাখেন। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সোজা চলে যান তালতলার মাদার হাউসে। সেখানে ঘণ্টাখানেক থাকার পর রুবিও যান নির্মলা শিশুভবনে। এর পর কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন রুবিও। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত রুবিও ভারতে থাকবেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, দিল্লি ছাড়াও তাঁর আগরা, জয়পুরে যাওয়ার কথা রয়েছে। চলতি মাসেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটে গিয়েছে। প্রথম বার এ রাজ্যে সরকার গঠন করেছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমেরিকার বিদেশসচিবের এই কলকাতা সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

    কোয়াড বৈঠকে অংশ

    শুধু কলকাতা নয়, পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের আবহে রুবিওর ভারত সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ভারত বরাবর আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় সমস্যার সমাধান এবং শান্তি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেছে। হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও বার বার দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। উল্লেখ্য, ভারত সফরের শেষ দিনে অর্থাৎ, ২৬ মে কোয়াডের বৈঠকে যোগ দেবেন রুবিও। তাঁর ভারত সফরে আসার অন্যতম উদ্দেশ্য ওই বৈঠক। কোয়াডের সদস্য দেশ অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং, জাপানের বিদেশমন্ত্রী মোটেগি তোশিমিৎসুর সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সেই বৈঠকে থাকবেন।

LinkedIn
Share