Tag: Narendra Modi

Narendra Modi

  • PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উজবেকিস্তানের (Uzbekistan) রাজধানী তাশখন্দে ‘যোগ ফেডারেশন অব উজবেকিস্তান’ আয়োজিত একটি যোগ অনুষ্ঠানে আজ, রবিবার অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। উজবেকিস্তানে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন তিনি। ২৯ অগাস্ট তাশখন্দে পৌঁছনোর পর এটি ছিল মধ্য এশিয়ার এই দেশে তাঁর চতুর্থ সফর। চলতি সফরে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে।

    ভারত-ময় উজবেকিস্তান (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে উজবেকিস্তানের রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ভারতীয় জাতীয় পতাকার তেরঙ্গা রঙে সেজে ওঠে। এর মধ্যে ছিল তাশখন্দের অন্যতম পরিচিত হিলটন হোটেলও। যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি তাশখন্দের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যোগপ্রেমীদের সঙ্গে দলীয় ছবিতেও অংশ নেন তিনি। মধ্য এশিয়ার একটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাবের শক্তিকেই তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব যে গোটা বিশ্ব স্বীকার করেছে, তারও প্রতিফলন ঘটেছে এই অনুষ্ঠানে।

    দুই দেশের সেতু

    তাশখন্দের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ভারত ও উজবেকিস্তানের সম্পর্ক আরও গভীর করতে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তাশখন্দের বাসিন্দা ক্রিস্টিনা বলেন, “এটি দারুণ একটি অভিজ্ঞতা ছিল। বিশেষ করে এত বড় একজন ব্যক্তি উজবেকিস্তানে এসেছেন, তাঁর সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে থাকা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয়, যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি দুই দেশকে আরও কাছাকাছি আনবে এবং বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করবে (PM Modi)।”

    আর এক বাসিন্দা মারিয়ামও অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, “এটি খুবই সুন্দর একটি অনুভূতি। এখানে এসে আমি সুস্থ ও অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি। এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-সহ আমরা অনেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। আজকের অনুষ্ঠানটিও খুব ভালো হয়েছে। এখানে আমন্ত্রিত হয়ে এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা ভারতীয় যোগকেন্দ্রে আমাদের দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।”

    ভারতের সফট পাওয়ারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যোগ

    ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ সপ্তধারার সপ্তম শক্তি। যোগের পাশাপাশি হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, খেলাধুলা ও ডিজিটাল বিষয়বস্তু এবং বৃহত্তর সৃজনশীল ক্ষেত্রকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

    উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন দুই নেতা।

    গত কয়েক বছরে নয়াদিল্লি ও তাশখন্দের দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট মিরজিয়য়েভের ভারত সফর এবং ২০১৯ সালে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট বিশ্ব সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।

    উজবেকিস্তান সফর শেষ করে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে (Uzbekistan) বিশকেকে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি অংশ নেবেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে (PM Modi)।

     

  • Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও রাজনৈতিক নেতার স্মৃতিকথা তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। সেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং সমকালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই বই প্রকাশে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু কোনও বইয়ে প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক সংগঠন (Congress), ভারত-চিন সীমান্ত কিংবা ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনও দাবি থাকলে বিষয়টি শুধুমাত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন সামনে আসে তথ্য, প্রমাণ এবং প্রকাশকের দায়িত্বের প্রশ্ন। এই বিতর্কের কেন্দ্রেই রয়েছে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi Book Row) প্রস্তাবিত স্মৃতিকথা “বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ”। বইটির আন্তর্জাতিক সংস্করণ আগামী ১০ নভেম্বর, ২০২৬ প্রকাশিত হওয়ার কথা। পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউসের আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে বইটিকে ৫৪৪ পৃষ্ঠার একটি স্মৃতিকথা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক (Sonia Gandhi Book Row)

    ভারতে বইটির প্রকাশনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এবং সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের কথিত অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সোনিয়া সেই পরিবর্তনগুলি মেনে নেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর পরেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ওঠে, একই বই বিদেশে প্রকাশিত হলেও ভারতে কেন প্রকাশিত হচ্ছে না। দলের কয়েকজন নেতা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তোলেন। কিন্তু বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে প্রকাশকের বক্তব্যের পর।

    পেঙ্গুইনের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    ২৮ অগাস্ট পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রকাশ্যে জানায় যে ভারতে “বিলংগিং” বইটির প্রকাশক তারা নয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানায়, সোনিয়া সম্পাদকীয় পরিবর্তন মেনে না নেওয়ায় তারা বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত বদল করেছে—এমন দাবি পুরো পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না। প্রকাশকের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য যাচাই করা এবং লেখকদের সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। সংশ্লিষ্ট আলোচনার সময় বইটি প্রকাশ করার বিষয়ে তারা আগ্রহী ছিল বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গোপন আলোচনার বিষয়ে তারা আর কোনও মন্তব্য করতে চায়নি (Congress)। এই বক্তব্যের পর বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে এসেছে—প্রকাশক নিজেই যখন সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করছে না, তখন সরাসরি মোদি সরকারের সঙ্গে বই প্রকাশ না হওয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্ত করার ভিত্তি কী?

    প্রশ্ন শুধু সোনিয়ার বই নিয়ে নয়

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ কি কোনও লেখক যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার বা সেনাবাহিনী সম্পর্কে যে কোনও দাবি করতে পারবেন এবং প্রকাশককে তা তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করতে হবে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার প্রয়োজনই বা কোথায়? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলিতে সম্পাদকীয় পর্যালোচনা, তথ্য যাচাই এবং আইনি পর্যালোচনা প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কোনও বইয়ে জীবিত ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ, সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর মন্তব্য, সামরিক অভিযান সংক্রান্ত তথ্য অথবা কোনও দেশের সীমান্ত নিয়ে দাবি থাকলে সেই দাবির ভিত্তি খতিয়ে দেখা স্বাভাবিক। লেখকের লেখার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনও প্রকাশককে নির্দিষ্ট আকারে সেই লেখা প্রকাশ করতে বাধ্য করা যায় না।

    ভারত-চিন সীমান্তের প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়

    সোনিয়ার বইকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তে চিনের কার্যকলাপ, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা, ভারতীয় ভূখণ্ডের অবস্থান এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ সাধারণ রাজনৈতিক মন্তব্যের বিষয় নয়। এই বিষয়গুলির সঙ্গে সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও স্মৃতিকথায় যদি বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, কোনও সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি, অথবা কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তাহলে পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে—এগুলি কি লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন, নাকি যাচাই করা তথ্য? এখানেই প্রকাশকের দায়িত্ব শুরু হয়। তথ্য চাওয়া সেন্সরশিপ নয়। বরং বহু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করাই প্রকাশকের দায়িত্ব। কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি লেখেন, কোনও নির্দিষ্ট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কথা বলেছিলেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। কিন্তু একই বইয়ে কোনও সামরিক ঘটনা, সীমান্ত বিরোধ বা সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হলে সেই দাবির প্রকৃতি বদলে যায় (Sonia Gandhi Book Row)। তখন প্রশ্ন উঠবেই—এর উৎস কী? কোনও নথি রয়েছে কি? অন্যান্য সূত্র কী বলছে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি? সরকারি নথি বা জনসমক্ষে থাকা তথ্য দিয়ে দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায় কি? এই প্রশ্নগুলি করা লেখকের কণ্ঠরোধ করা নয়, বরং পাঠকের জানার অধিকার রক্ষা করা (Congress)।

    কংগ্রেসের যুক্তি এবং তার দুর্বল জায়গা

    কংগ্রেসের নেতারা গোটা ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। অশোক গেহলট, কমল নাথ-সহ দলের একাধিক নেতার প্রশ্ন, বিদেশে বইটি প্রকাশিত হতে পারলে ভারতে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা কোথায় এবং কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না। অবশ্যই এটি গুরুতর অভিযোগ। কিন্তু গুরুতর অভিযোগের জন্যও প্রয়োজন জোরালো প্রমাণ। যদি কেন্দ্রীয় সরকার পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে বইয়ের কোনও অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ করা উচিত। কোনও সরকারি আধিকারিক প্রকাশকের উপর চাপ দিয়ে থাকলে তার প্রমাণও সামনে আনা উচিত। কোনও মন্ত্রক বইটি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকলে সেই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসা উচিত। বর্তমানে প্রকাশকের যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তাতে এমন কোনও সরকারি নির্দেশের উল্লেখ নেই। বরং সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রকাশক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া এবং তথ্য যাচাইকেই প্রকাশনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাই এই পর্যায়ে “মোদি সরকার বইটি আটকে দিয়েছে”—এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়, বরং রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা যায়।

    লেখকের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের স্বাধীনতা

    এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে কি প্রকাশকের স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা যায় (Sonia Gandhi Book Row)? সোনিয়ার নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই কোনও পাণ্ডুলিপিতে তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে মনে হলে প্রকাশকের লেখককে প্রশ্ন করার অধিকারও রয়েছে। লেখক কোনও পরিবর্তন গ্রহণ করতে না চাইলে সেটিও তাঁর অধিকার। একইভাবে, সেই আকারে বই প্রকাশ করতে প্রকাশক অনিচ্ছুক হলে সেটিও প্রকাশকের অধিকার। গণতন্ত্র উভয় পক্ষের স্বাধীনতার কথা বলে। এক পক্ষের স্বাধীনতা যখন অন্য পক্ষের উপর বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়, তখনই ব্যবস্থাটি অসুস্থ হয়ে ওঠে।

    পেঙ্গুইনের আগের বিতর্কও কি প্রাসঙ্গিক?

    পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার নাম এর আগেও বিতর্কিত প্রকাশনা সংক্রান্ত ঘটনায় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে ২০১৩ সালের মুজফফরনগর দাঙ্গার উপর ভিত্তি করে জো সাকোর গ্রাফিক প্রতিবেদন “দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট” ভারতে বিতরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সংস্থাটি। সাকোর দাবি ছিল, বইয়ে ব্যবহৃত কয়েকটি উদ্ধৃতি নিয়ে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া পরিবর্তন চেয়েছিল। অতএব, সোনিয়ার বইকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। তবে “মোদিকে প্রশ্ন করা” এবং “মোদিকে দোষারোপ করা”—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সরকারকে প্রশ্ন করা বিরোধী দলের অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করাও গণতান্ত্রিক অধিকার। ভারত-চিন নীতি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়াও সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু কোনও প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশকের সিদ্ধান্তকে সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় (Congress)। প্রশ্ন করা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা গণতন্ত্রের মানকে দুর্বল করে।

    সরকার বদলালেও কি তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলাবে?

    কংগ্রেস যদি মনে করে বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাহলে তাদের সেই দাবির প্রমাণ সামনে আনা উচিত। কিন্তু প্রমাণ না থাকলে প্রতিটি সম্পাদকীয় মতপার্থক্যকে মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরলে রাজনৈতিক বিতর্কের গভীরতা কমে যায়। আগামী দিনে সরকার বদলালে কি এই মানদণ্ডও বদলে যাবে? এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তার আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল। ভবিষ্যতে অন্য কোনও দল ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে কি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকাশনার স্বাধীনতার মানদণ্ডও বদলে যাবে? উত্তর হওয়া উচিত—না। আজ বিজেপি সরকারের সঙ্গে যুক্ত কোনও নেতাকে নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তথ্য যাচাই প্রয়োজন। আগামীকাল যদি কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকে এবং কোনও কংগ্রেস নেতাকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগসম্বলিত বই প্রকাশিত হয়, তাহলেও তথ্য যাচাই প্রয়োজন হবে। এটাই গণতান্ত্রিক নীতি। রাজনৈতিক দল বদলায়। সরকার বদলায়। প্রধানমন্ত্রী বদলায়। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলানো উচিত নয় (Sonia Gandhi Book Row)।

    সেনাবাহিনী নিয়ে কে কী লিখতে পারেন, প্রশ্নটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    চিন এবং ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত অংশের কথা সামনে আসায় জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিতর্ককে দেখা প্রয়োজন। ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, সিদ্ধান্ত এবং মোতায়েন নিয়ে গুরুতর কোনও দাবি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্মৃতিকথার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সম্পর্কিত কোনও বক্তব্য যাচাই না করেই গ্রহণ করা সমীচীন নাও হতে পারে। এখানে উদ্দেশ্য কোনও সরকারকে রক্ষা করা হওয়া উচিত নয়। কোনও সরকার সীমান্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক প্রশ্ন থাকা উচিত। সেনাবাহিনীর কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। চিন কোনও পদক্ষেপ নিয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা দরকার। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে খণ্ডন করা উচিত।দেশপ্রেমের অর্থ সরকারের বলা প্রতিটি কথাকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া নয়। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের নামে কোনও যাচাই না-করা দাবিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও দেশপ্রেম নয়। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের মূল প্রশ্ন তাই শুধু সোনিয়ার বই প্রকাশিত হবে কি না, তা (Congress) নয়। প্রশ্ন হল—গণতন্ত্রে লেখকের স্বাধীনতা, প্রকাশকের স্বাধীনতা এবং পাঠকের সত্য জানার অধিকার—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনই সংবেদনশীল দাবির ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না (Sonia Gandhi Book Row)।

     

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এর (Nepal Floods) মধ্যে রয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত (PM Modi)। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস (C-130 Super Hercules) বিমানে করে নেপালে ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

    নেপালকে সমবেদনা ভারতের (Nepal Floods)

    ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর সমবেদনা এবং সহায়তার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির “উষ্ণ সংহতির বার্তা” এবং “উদার সহায়তার প্রস্তাবে”র জন্য কাঠমান্ডু গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বলেন্দ্র বলেন, ‘‘এই সংহতির প্রকাশ আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এই সম্পর্ককে আমরা গভীরভাবে মূল্য দিই।’’

    ‘‘নেপালের বোন ও ভাইদের পাশে ভারত’’

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নেপালের মানুষের পাশে ভারতের থাকার কথা জানান। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ভারত সব ধরনের সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মোদি বলেন, ‘‘এই কঠিন সময়ে ভারতের মানুষ নেপালের তাঁদের বোন ও ভাইদের পাশে রয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, ভারত নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দল উদ্ধার ও ত্রাণকাজ নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

    ভোটে কোশি নদীর জলস্ফীতিতে ভয়াবহ বন্যা

    বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলে আচমকাই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোটে কোশি নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ফলে রসুয়া ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অঞ্চলগুলি তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি নুওয়াকোট জেলায়ও বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

    প্রবল জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বসতি। একাধিক সেতু ভেসে গিয়েছে এবং অন্তত এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যকলাপ ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পাশাপাশি ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনোও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নেপালি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৫৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। সব (Nepal Floods) মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬০-এ পৌঁছেছে।

    তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এখনও কয়েকশো মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল দুর্গত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদার নীচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (PM Modi)।

    নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয় নাগরিক

    নেপালের এই ভয়াল বন্যায় অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিদেশমন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। নেপালের পাশাপাশি চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, বিশেষ করে রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে (Nepal Floods)।

    ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত

    দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে করে প্রায় ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নেপালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিক্যাল কিট এবং সৌরচালিত বাতিও রয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সৌরবাতি উদ্ধারকাজে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও একটি সি-১৭ (C-17) সামরিক পরিবহণ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী দ্রুত নেপালে পাঠানো হতে পারে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকারী দল ও বিশেষ সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

    সীমান্তজুড়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান

    রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত অঞ্চল নেপাল ও চিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় সেখানে বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য ভারত নেপাল ও চিন—দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই সমন্বয় রেখে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থলপথের পাশাপাশি বিমানপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন

    এই পরিস্থিতিতে ভারতের দ্রুত সাহায্য শুধু উদ্ধার ও ত্রাণকাজেই নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগের সময়ে ভারতের এই সহায়তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেই মনে করছে কাঠমান্ডু (নেপালের রাজধানী)। নেপালে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের (PM Modi) নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য (Nepal Floods)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধান (PM Modi) এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ (Nepal Floods)।

     

  • India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও কানাডার (India Canada) মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই। মঙ্গলবার কানাডার টরন্টোয় এক অনুষ্ঠানে এই আশার কথা শুনিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিন দিনের (Investment Protection Pact) কানাডা সফরের প্রথম দিনেই টরন্টোয় পৌঁছন তিনি। তাঁর এই সফর গত দশ বছরে কানাডায় প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফর। টরন্টোয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সীতারামন জানান, দুই দেশ চলতি বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনা শেষ করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “আমরা চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা চুক্তিটি শেষ করার চেষ্টা করব।”

    বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি (India Canada)

    তবে চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ভর করবে কানাডার অর্থ ও জাতীয় রাজস্বমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সম্মতির উপর। সীতারামনের সফরে তাঁর সঙ্গে একদল আধিকারিকও রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার টরন্টোয় দুই দেশের অর্থমন্ত্রীরা প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংলাপের সূচনা করবেন। মঙ্গলবার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার সময় কানাডার অর্থমন্ত্রী শ্যাম্পেনও জানিয়েছিলেন যে তিনি সীতারামনকে আতিথ্য দেবেন। টরন্টোয় ভারতের কনসুলেট জেনারেল আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের কর্পোরেট ও পেশাজীবী মহলের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন সীতারামন। তাঁর বক্তব্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে।

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি

    যদিও সীতারামন সরাসরি উল্লেখ করেননি, তাঁর বলা বছরের শেষের সময়সীমাটি ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সময়সীমার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই চুক্তি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসে কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথভাবে বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা রয়েছে। সীতারামন জানান, ২০১৬ সালে বিনিয়োগ সুরক্ষা সংক্রান্ত যে কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছিল, তার পর থেকে ভারত সরকার এই বিষয়ে আরও উদার, অগ্রসর এবং বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “বিনিয়োগের আর্থিক সুরক্ষা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় (India Canada)।”

    কী বলছেন সীতারামন

    অনুষ্ঠানে সীতারামনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রকের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনও। ভারত-কানাডা সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও (Investment Protection Pact) তুলে ধরেন সীতারামন। ২০২৫ সালের মার্চে কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সীতারামনের কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের মতো অভিন্ন মূল্যবোধ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের অভূতপূর্ব গতিশীল পারস্পরিক সফর ও আলোচনার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।” ভারত ও কানাডাকে বিশ্বের স্বাভাবিক অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আমি বিশ্বাস করি, ভারত ও কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক অংশীদার। আমরা দু’টি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসনের প্রতি গভীর আস্থা রয়েছে। আমাদের মধ্যে কমনওয়েলথের ঐতিহ্য, একই ধরনের সংসদীয় কাঠামো এবং একই সরকারি ভাষার ঐতিহ্য রয়েছে (India Canada)।”

    ভারত-কানাডার সম্পর্ক

    এদিকে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডার অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়েও পরোক্ষভাবে মন্তব্য করেন সীতারামন। মঙ্গলবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছে কানাডা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে পুঁজি যখন নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সন্ধান করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ওঠানামা সামলানোর পথ খুঁজছে, তখন ভারত ও কানাডার সামনে আরও গভীর এবং বহুমুখী আর্থিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সীতারামন বলেন, এই সম্ভাবনা কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকাঠামো, আর্থিক পরিষেবা, আর্থিক প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন শক্তি, উদ্ভাবন এবং বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভারত ও কানাডার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সময়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে তা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই এগিয়ে নিতে পারে (India Canada)।

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

    এদিকে টরন্টোয় সীতারামনের বুধবারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কানাডার কর্পোরেট জগতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। কানাডা-ভারত ব্যবসায়িক পরিষদ এবং ভারতের শিল্প মহলের শীর্ষ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আর্থিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভারত ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি—দু’টি উদ্যোগই বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, শক্তি এবং আর্থিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হতে পারে (Investment Protection Pact)। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, শুল্কনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে, তখন ভারত-কানাডা সম্পর্কের এই নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অগ্রগতি কতটা হয়, এখন সেটাই দেখার (India Canada)।

    ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার

    অন্যদিকে, কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ভারত-কানাডা (India Canada) আর্থিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গিফট সিটি এবং ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বুধবার টরন্টোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন সীতারামন। সেখানে তিনি বলেন, পরিসর, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, তরুণ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয় এবং দ্রুত সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার—এই সবকিছুর এমন সমন্বয় ভারতকে তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা অন্যদের পক্ষে কঠিন (Investment Protection Pact)।ভারতের আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা কেন্দ্র গিফট সিটির গুরুত্ব তুলে ধরে সীতারামন বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এটি ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে উঠে আসছে। সীমান্তপারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের কথা মাথায় রেখে তৈরি নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং করব্যবস্থা গিফট সিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তিনি বলেন, “কানাডার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি শুধু ভারতের প্রবৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে না, ভারতকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে।”

    ইউপিআই

    ভারত-কানাডা সহযোগিতার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইউপিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India Canada)। সীতারামন বলেন, “এখানে কানাডার ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। শুধু অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, আগামী প্রজন্মের ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে (Investment Protection Pact)।”

     

  • India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেজিংয়ে দু’দিনের সফরে গিয়ে মঙ্গলবার চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA Ajit Doval) অজিত ডোভাল। বৈঠকে ভারত-চিন (India China Talks) সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

    ডোভালের চিন সফর (India China Talks)

    ডোভালের চিন সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হল ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার বৈঠক। মঙ্গলবারই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সেই বৈঠকে বসার কথা ডোভালের। সীমান্ত-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ২৫ অগাস্ট ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই পক্ষ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা

    সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা ২০০৩ সালে গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য হল ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। এর আগে ২০২৫ সালের অগাস্টে ২৪তম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে সীমান্ত প্রশ্ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে একাধিক সমঝোতা হয়েছিল (NSA Ajit Doval)। এবারের বৈঠকও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার প্রধান মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এবারের আলোচনায় সীমান্ত প্রশ্নের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা।

    “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” আলোচনা

    ডোভাল ও ওয়াং ই-র মধ্যে এর আগে জুন মাসে নয়াদিল্লিতে সাক্ষাৎ হয়েছিল। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে পার্শ্ববৈঠকে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পর ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক দুই পক্ষের আলোচনাকে “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” বলে বর্ণনা করেছিল। তখন সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য ছিল, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (India China Talks)। ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপথে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছিল। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক উত্তেজনা বজায় ছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক দফায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি দেখা যায়।

    মোদি-জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক

    এর পর ২০২৫ সালের ৩১ অগাস্ট চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক গতি এবং অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তাঁরা দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় (NSA Ajit Doval)। ওই বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং একে অপরের সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের মতে, ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল সহযোগিতা শুধু দুই দেশের উন্নয়নের জন্যই নয়, বহুমেরু বিশ্ব এবং বহুমেরু এশিয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ডোভালের বেজিং সফরের গুরুত্ব

    অজিত ডোভালের এবারের বেজিং সফর সেই বৃহত্তর সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যেমন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, তেমনই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে আস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ফলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানোই আপাতত নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য (India China Talks)।আগামী দিনের ভারত-চিন সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হবে, তার ক্ষেত্রে এই আলোচনাগুলির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, সামরিক উত্তেজনা এড়ানো এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরই দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্ব অনেকটাই নির্ভর করছে। অজিত ডোভাল ও ওয়াং ই-র ২৫তম দফার বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে (NSA Ajit Doval) আলোচনা নয়, বরং বৃহত্তর ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ (India China Talks)।

     

  • PM Modi: চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য স্মরণে জাতীয় মহাকাশ দিবস, দেশবাসীকে শুভেচ্ছা মোদি-শাহের

    PM Modi: চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য স্মরণে জাতীয় মহাকাশ দিবস, দেশবাসীকে শুভেচ্ছা মোদি-শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় মহাকাশ দিবস উপলক্ষে রবিবার দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সাফল্যের কথা তুলে ধরে দেশের বিজ্ঞানী ও তরুণ প্রজন্মকে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর আহ্বান জানান (National Space Day) তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী এক বার্তায় বলেন, “জাতীয় মহাকাশ দিবসের শুভেচ্ছা। আরও বড় স্বপ্ন দেখার, আরও বেশি উদ্ভাবনের এবং নতুন নতুন সীমান্ত অতিক্রম করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলুন।”

    মহাকাশ দিবসের শুভেচ্ছা (PM Modi)

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দেশবাসীকে জাতীয় মহাকাশ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রত্যেক দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনেই ভারতের চন্দ্রযান-৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফলভাবে অবতরণ করেছিল। সময়ের বুকে নিজেদের প্রতিভার অমোচনীয় ছাপ রেখে দেওয়া ইসরোর বিজ্ঞানীদেরও আজ আমরা অভিনন্দন জানাই।” ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণের ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণ করেই জাতীয় মহাকাশ দিবস পালিত হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি সফলভাবে অবতরণকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়ে।

    চন্দ্রযান-৩ অভিযানের অবতরণযান বিক্রম নিয়ন্ত্রিতভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে নরম অবতরণ করে। এরপর তার ভিতরে থাকা প্রজ্ঞান নামের চলমান যানটি চাঁদের মাটিতে নেমে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। এই সাফল্যের ফলে চাঁদে সফল অবতরণকারী নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় ভারত আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে।

    গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

    চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য ভারতের আগের চন্দ্রাভিযানগুলির ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে এই সাফল্য দেশের মহাকাশ কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও মর্যাদা এনে দেয় (PM Modi)।

    জাতীয় মহাকাশ দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হল মহাকাশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ানো। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণা, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে (National Space Day) এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করাও এই দিবস পালনের অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রবিবারের বার্তায় তরুণ ভারতীয়দের বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করতে তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর বার্তাই উঠে এসেছে তাঁদের বক্তব্যে (PM Modi)।

     

  • Bihar Temple Stampede: বিহারের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, আহত ১২, শোক রাষ্ট্রপতি-মোদি-রাজনাথের

    Bihar Temple Stampede: বিহারের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, আহত ১২, শোক রাষ্ট্রপতি-মোদি-রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোকধাম মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত পুণ্যার্থীর। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ জন। সোমবার ভোরে শ্রাবণ মাসের সোমবার উপলক্ষে মন্দিরে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়েছিল (President Droupadi Murmu)। সেই সময়ই আচমকাই ভিড়ের চাপ বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের অধিকাংশই মহিলা বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর (Temple Stampede)। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। আহত সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    শ্রাবণী সোমে ব্যাপক ভিড় (President Droupadi Murmu)

    প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। শ্রাবণ মাসের সোমবার হওয়ায় ভোর থেকেই অশোকধাম মন্দিরে পুণ্যার্থীদের থিকথিকে ভিড় জমতে শুরু করেছিল। শিবের উদ্দেশে প্রার্থনা ও জলাভিষেক করতে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ মন্দিরে এসেছিলেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় পুণ্যার্থীদের একাংশ ব্যারিকেড ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভিড় চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঠেলাঠেলির চোটে আচমকাই কয়েক জন মাটিতে পড়ে যান। তাঁদের উপর দিয়েই অন্যরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মন্দির চত্বরে। ওই সময়ই স্থানীয় রেলস্টেশনে চলে আসে পর পর আরও দু’টি ট্রেন। তার জেরে মন্দিরে ভিড় আরও বেড়ে যায়। ভিড়ের চাপে মন্দির চত্বরে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে। সেই কারণেও ভয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। আহতদের কাছাকাছি বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। অশোকধাম মন্দিরটি ইন্দ্রমণেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত। লাখিসরাই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দির এটি (President Droupadi Murmu)। শ্রাবণ মাসে এই মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে সোমবারগুলিতে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে জলাভিষেক করেন ভক্তরা। সোমবারের দিনগুলিতে তাই মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় (Temple Stampede)। এবার ভিড় আরও বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার। ধর্মীয় উৎসবের আবহের সঙ্গে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম এবং রেলপথে মানুষের আগমন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

    মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

    দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রতিটি মৃত পুণ্যার্থীর পরিবারের জন্য ৪ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরের ব্যারিকেড ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরিয়ে আসার পথ, নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

    শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

    অশোকধাম মন্দিরের দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি অত্যন্ত ব্যথিত। এই শোকের সময়ে আমার ভাবনা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সঙ্গে রয়েছে। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে (President Droupadi Murmu)।”

    প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন। এক বার্তায় নীতীশ কুমার বলেন, “লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্টের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। দুর্ঘটনায় পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর খবর আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি (Temple Stampede)।”

    শোক প্রকাশ রাজনাথের

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    শ্রাবণ মাসে দেশের বিভিন্ন শিবমন্দিরে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম হয়। ফলে এই সময় মন্দিরগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অশোকধাম মন্দিরের এই দুর্ঘটনা সেই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন (Temple Stampede) ঘটনা রুখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, এখন সেদিকেই নজর সকলের (President Droupadi Murmu)।

     

  • Atal Bihari Vajpayee: অটলবিহারী বাজপেয়ী, রাজনীতিতে এক বিরল যুগের উপখ্যান

    Atal Bihari Vajpayee: অটলবিহারী বাজপেয়ী, রাজনীতিতে এক বিরল যুগের উপখ্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) ছিলেন একাধারে কৃতী সাংবাদিক, কবি, অসাধারণ বক্তা, নিষ্ঠাবান দলীয় কর্মী এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ স্বয়ংসেবক। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, স্নেহশীল ও (Death Anniversary) আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনওভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ফিরেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি হাজার নয়, লাখ লাখ মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় রাজনীতির এমন একটি অধ্যায়ের অবসান হয়েছে, যেখানে প্রতিযোগিতা বা সংঘাতের পরিবর্তে সমঝোতা, সৌহার্দ্য এবং ক্ষমতার প্রতি আসক্তির পরিবর্তে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা গুরুত্ব পেত।

    বহুরূপে বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)

    ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে, যে জন্মগ্রহণ করে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো রাষ্ট্রনায়কের প্রয়াণে পৃথিবী ও মানবসমাজ আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে। কেউ তাঁকে পিতৃসম ব্যক্তিত্ব বলেছেন, কেউ রাষ্ট্রনায়ক, কেউ প্রকৃত গণতন্ত্রী। কারও কাছে তিনি ছিলেন অসাধারণ বক্তা, আবার কারও কাছে স্নেহের ‘বাবজি’। প্রখ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকর তাঁকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করতেন। মার্কিন নাগরিকদের কাছে অটলবিহারী বাজপেয়ী স্মরণীয় ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে ‘স্বাভাবিক মিত্রতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার জন্য। চিনে তাঁকে স্মরণ করা হয় এমন একমাত্র ভারতীয় নেতা হিসেবে, যিনি মাও সে তুং থেকে দেং শিয়াওপিং এবং হু চিনতাও—চিনের নেতৃত্বের পরপর তিন প্রজন্মের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য স্মরণীয়। অনেকেই হয়তো জানেন না, তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারাও তাঁকে এমন এক নেতা হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি আন্তরিকভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। সমকালীন ভারতের কাছে অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণ তাই এক অপূরণীয় ক্ষতি।

    ক্ষমতার রাজনীতি নয়, দেশের প্রতি ভালোবাসা

    অটলবিহারী বাজপেয়ী এমন এক ধরনের রাজনীতির চর্চা করতেন, যা আজকের দিনে বিরল। তাঁর কাছে ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর রাজনীতিতে আবেগ, অনুভূতি ও মানবিকতার জায়গা ছিল—যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতির মধ্যেও সহমর্মিতা বজায় থাকত। তিনি প্রতিপক্ষকে অসম্মান করতেন না, অন্যের মতকে অগ্রাহ্য করতেন না এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তির রাজনীতিতেও বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁর জীবন ছিল খোলা বইয়ের মতো স্বচ্ছ। ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে তাঁর কোনও দ্বিচারিতা ছিল না। মহাত্মা গান্ধীর মতোই তাঁর জীবন ছিল সবার সামনে উন্মুক্ত (Atal Bihari Vajpayee)। সবাই তাঁকে ভালোবাসতেন, তাঁর প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং নিজের বিশ্বাসের প্রতি তাঁর দৃঢ়তার প্রশংসা করতেন। কিন্তু এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে কখনও দলের ঊর্ধ্বে ভাবেননি। একজন প্রকৃত স্বয়ংসেবক হিসেবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতেন। কোনও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মতের অমিল থাকলেও, একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী হিসেবে তিনি তা মেনে নিতেন। বিশিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ওয়াল্টার অ্যান্ডারসন একবার বলেছিলেন, রাজনীতি ও শৃঙ্খলা সাধারণত পাশাপাশি চলে না, অটলবিহারী বাজপেয়ী ছিলেন তার একমাত্র ব্যতিক্রম।

    রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সৌহার্দ্যের রাজনীতি

    সামাজিক জীবনে অস্পৃশ্যতার প্রথা আমরা অনেকটাই দূর করতে পেরেছি। কিন্তু তার পরিবর্তে রাজনীতিতে এক নতুন ধরনের অস্পৃশ্যতা তৈরি হয়েছে। দুই ভিন্ন দলের মানুষ যেন পরস্পরের মতের সঙ্গে একমত হওয়া তো দূরের কথা, একে অপরের সঙ্গে চোখে চোখ রেখেও কথা বলতে পারেন না।

    অটলবিহারী বাজপেয়ী এর সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষের প্রতিও ছিল সৌহার্দ্য। এমনকি পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মতো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতিও তিনি প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে দ্বিধা করতেন না।

    নেহরু একসময় বলেছিলেন, অটলবিহারী বাজপেয়ী একদিন তাঁর জায়গায় অধিষ্ঠিত হবেন। নেহরুর মৃত্যুর পর বাজপেয়ী তাঁর প্রতি যে আন্তরিক ও উজ্জ্বল শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেছিলেন, তাতেও তাঁর রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় পাওয়া যায়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই গুণ ধরে রেখেছিলেন।

    কর্মীদের প্রতি ছিল গভীর মমতা

    দলীয় কর্মীদের প্রতি অটলবিহারী বাজপেয়ীর ছিল বিশেষ মমত্ববোধ। তিনি যে পদেই থাকুন না কেন, কখনও অহংকার প্রকাশ করতেন না (Atal Bihari Vajpayee)।

    অযোধ্যার তথাকথিত ‘বিতর্কিত’ কাঠামো ভেঙে পড়ার কয়েক মাস পরে বাজপেয়ীর সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন এক সাংবাদিক। তিনি প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ওই সাংবাদিকের সমস্ত তিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন ঠান্ডা মাথায়, তাঁর আচরণ কিংবা অভিব্যক্তিতে রাগের লেশ মাত্র ছিল না (Death Anniversary)।

    সংবিধান নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজন

    অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল ২০০০ সালে সংবিধানের কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা। সংবাদমাধ্যমের একাংশ সেই কমিটিকে সংবিধান পুনর্বিবেচনার কমিটি হিসেবে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরেছিল। অথচ এর উদ্দেশ্য ছিল সংবিধান কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা খতিয়ে দেখা।

    বিআর আম্বেদকর সংবিধান প্রণয়নের সময় সতর্ক করে বলেছিলেন, সংবিধান যতই ভালো হোক, তা যদি খারাপ মানুষের হাতে পড়ে, তাহলে তার উদ্দেশ্য সফল হবে না। প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হলেন দেশের মানুষ।

    প্রাক্তন ব্রিটিশ কূটনীতিক কার্নে রস তাঁর ‘নেতৃত্বহীন বিপ্লব’ গ্রন্থে লিখেছেন, গণতন্ত্র ভোটদাতা অর্থাৎ জনগণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি অর্থাৎ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তির ব্যবস্থা করে। গণতন্ত্র আসলে ভোটদাতা ও নির্বাচিতের মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ সমঝোতা।

    সাধারণ মানুষ সাধারণত সংবিধানের সেই অংশটুকুই জানেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষকে সংবিধান সম্পর্কে শিক্ষিত করার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    সংবিধান সচেতনতা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ২০১৫ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস পালন করা হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সংবিধানের মূল্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন করা।

    সমাজের বৃহৎ অংশের মধ্যে সংবিধান সম্পর্কে এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে দেশের ভিতরে ও বাইরে থাকা কিছু সংগঠন নানা ধরনের অপব্যবহার করছে। আম্বেদকর এই ধরনের অপব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা হারানোর পেছনে নিজেদের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতাও ছিল। ভবিষ্যতে যদি নিজেদের মানুষই আবার বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে এবং দেশকে ফের পরাধীনতার দিকে (Atal Bihari Vajpayee) ঠেলে দিতে পারে। তাই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

    সংবিধান পরিচালনার সামনে চার বড় চ্যালেঞ্জ

    সংবিধাননির্ভর শাসনব্যবস্থার সামনে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ বিচারব্যবস্থা। সংবিধানের তিনটি প্রধান অঙ্গের মধ্যে বিচারব্যবস্থা বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি, বিচার পেতে দেরি হওয়া মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া। আবার কেউ কেউ মনে করেন, অতিদ্রুত বিচার করাও কখনও কখনও ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করতে পারে।

    রাম জন্মভূমি মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত জমি তিন ভাগে ভাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায় বৈধ কি না, তা নির্ধারণের জন্য মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু বিরোধী পক্ষ মসজিদ ইসলাম ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ কি না, সেই প্রশ্ন তুলে রায় বিলম্বিত করার চেষ্টা করে।

    বিষয়টি যখন শুনানির জন্য ওঠে, তখন প্রধান বিচারপতি মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিয়ে জানান, এটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় নয়। এর ফলে মন্দিরপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় আকারের বিক্ষোভ দেখা দেয়। লাখ লাখ মানুষ সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দেখিয়ে দেন যে তাঁদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ আসে আমলাতন্ত্র থেকে। এখানে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, গোটা আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথাই বলা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা অনেক সময় উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। একটি ব্যবস্থা হিসেবে আমলাতন্ত্রের জবাবদিহির অভাব সাংবিধানিক শাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে (Death Anniversary)।

    আম্বেদকরের সতর্কবার্তা

    আম্বেদকর এই বলে সতর্ক করেছিলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলি যদি দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের মতাদর্শ বা দলীয় স্বার্থকে ওপরে স্থান দেয়, তাহলে দ্বিতীয়বারও দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে।

    অটলবিহারী বাজপেয়ীর কাছে দেশ ছিল মন্দিরের মতো। তিনি মনে করতেন, আমরা সেই মন্দিরের পুরোহিত এবং রাষ্ট্রপুরুষের সেবায় আমাদের জীবন উৎসর্গ করতে হবে। এটাই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন।

    ১৯৯৭ সালে ক্ষমতায় মাত্র ১৩ দিন থাকার পর পরাজিত হয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, “দল আসবে, দল যাবে, সরকার আসবে, সরকার যাবে, কিন্তু দেশকে থাকতে হবে এবং গণতন্ত্রকে চিরকাল থাকতে হবে (Atal Bihari Vajpayee)।”

    আজ পরিস্থিতি বদলেছে। জাতীয় রাজনীতিতে একটি দলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে এবং অধিকাংশ দলই আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির বিস্তার। জাত, ভাষা, অঞ্চল ইত্যাদির ভিত্তিতে তৈরি পরিচয় আজ রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। এটি শুধু ভারতের নয়, বিশ্বেরও একটি বড় রাজনৈতিক প্রবণতা। সংবিধানের পক্ষে এই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    বাইরের চাপও বড় চ্যালেঞ্জ

    তৃতীয় চ্যালেঞ্জ আসে বাইরে থেকে। এমন এক শ্রেণির উদারপন্থী বুদ্ধিজীবী ও সংগঠন রয়েছে, যারা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তাঁদের কাজকর্ম জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে সংবিধানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া মৌলিক সমঝোতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

    বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মধ্যে যেমন সত্যিই জনকল্যাণে কাজ করা সংগঠন রয়েছে, তেমনই কিছু সংগঠন ব্যবস্থার অপব্যবহারও করে।

    শবরীমালা মামলার কথাই ধরা যাক। শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে এমন ব্যক্তিরাও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, যাঁরা নিজেরাই সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুসারী নন। কেরলের মতো একটি মাতৃতান্ত্রিক সমাজকে বাইরে থেকে লিঙ্গসমতার শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ও এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তোলে বলে অভিযোগ।

    সংবিধানের ২৫ থেকে ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে, যার মধ্যে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে, নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পরিচালনার অধিকার দেয় (Atal Bihari Vajpayee)।

    রাফাল চুক্তির ক্ষেত্রেও আদালতে যাওয়া পক্ষগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অভিযুক্ত করা। আদালত অভিযোগগুলি খারিজ করে জানিয়েছিল যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তবে কিছু বুদ্ধিজীবী ও বেসরকারি সংগঠন নিজেদের স্বার্থে ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ।

    কবিতায় আশ্রয় খুঁজতেন অটলজি

    অটলবিহারী বাজপেয়ী শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন কবিও। রাজনীতির কোলাহল ও সংঘাতের মধ্যে তিনি কবিতার কাছে আশ্রয় নিতেন। তাঁর নিজের কথায়, তাঁর কবিসত্তা তাঁকে রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার শক্তি দিত, বিশেষ করে যেসব সমস্যা তাঁর বিবেককে স্পর্শ করত।

    তিনি ছিলেন গভীর আবেগপ্রবণ এবং বিনয় তাঁর চরিত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। রাজনীতিতে এমন বিনয়ী মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিজের কবিতায় তিনি ঈশ্বরের কাছে এমন উচ্চতায় না পৌঁছনোর প্রার্থনা করেছিলেন, যেখানে পৌঁছে তিনি নিজের মানুষের কাছ থেকেই দূরে সরে যাবেন।

    সাফল্য ও ব্যর্থতাকে কীভাবে সমানভাবে গ্রহণ করতে হয়, অটলজি নিজের জীবন দিয়ে তা দেখিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, জয় ও পরাজয়কে সমভাবে গ্রহণ করতে পারাই একজন প্রকৃত নেতার লক্ষণ।

    ‘অজাতশত্রু’

    আজকের কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশে সত্য কথা বলা সহজ নয়। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ী সততা, সহনশীলতা ও সমঝোতার রাজনীতি চর্চা করেছিলেন। রাজনীতিক হিসেবে তিনি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যে তাঁর ব্যক্তিগত শত্রু প্রায় ছিল না। তাই তাঁকে বলা হত ‘অজাতশত্রু’।

    তিনি নিজের কাছে সৎ ছিলেন এবং দেশের মানুষের কাছেও ছিলেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। তিনি কখনও মনে করতেন না যে তিনিই সবসময় সঠিক। কারণ, কেউ যদি মনে করেন তিনিই সর্বদা ঠিক, সেখান থেকেই বিদ্বেষের সূচনা হয়।

    অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁর জীবন ও রাজনীতির মাধ্যমে আমাদের সামনে একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে একটি যুগের অবসান ঘটেছে। সত্যিই তাঁর মতো আর একজন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু (Death Anniversary) তিনি যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছিলেন—ইতিবাচকতার রাজনীতি, সহমর্মিতা ও মর্যাদার রাজনীতি এবং বিনয়ের রাজনীতি—তা আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে (Atal Bihari Vajpayee)।

     

  • Dimagi Naxals: ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর, প্রাক্তন নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের দাবি

    Dimagi Naxals: ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর, প্রাক্তন নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) নকশাল সমস্যার একটি নতুন রূপের কথা তুলে ধরলেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন “দিমাগি নকশাল” (Dimagi Naxals)। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, জঙ্গলে সক্রিয় সশস্ত্র নকশালদের অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তবে নকশালপন্থী মানসিকতায় প্রভাবিত কিছু মানুষ এখনও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘মাওবাদী হিংসা শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে’ (Dimagi Naxals)

    নকশাল হিংসার অতীতের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের পর বছর দেশের একাধিক অঞ্চলকে আতঙ্কের মধ্যে রেখেছিল ‘লাল সন্ত্রাস’। মাওবাদী হিংসার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে গিয়ে ৩,৫০০-এরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অভিযানে নিহত নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা যুদ্ধের কারণে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যার থেকেও বেশি। ২০১৪ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৪ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশকে নকশালমুক্ত করার শপথ নিয়েছিলাম। আমি খুশি যে মাওবাদী হিংসা এখন তার শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে।”

    ক্ষমতার অলিন্দে ‘দিমাগি নকশাল’

    প্রধানমন্ত্রীর দাবি, একাধিক জঙ্গল এলাকা থেকে সশস্ত্র নকশালদের হটাতে সরকার সফল হয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগ, মাওবাদী চিন্তাধারায় প্রভাবিত কিছু মানুষ অতীতে সরকারি কমিটি এবং ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নিয়েছিলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বছরের পর বছর নকশাল মানসিকতার মানুষ ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁরা সরকারি কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন। মাওবাদী চিন্তাধারা নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলেছিল।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই ‘দিমাগি নকশাল’রা এখন হিংসা ও অশান্তি তৈরির সুযোগ খুঁজছে এবং সমাজকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “এই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং যুবসমাজকে মূলস্রোতের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে (Dimagi Naxals)।”

    প্রাক্তন নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের দাবি

    নকশাল হিংসায় একসময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মাওবাদীদের উপস্থিতির কারণে যে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিকে একসময় উন্নয়নের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হত, সেখানেও এখন অগ্রগতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিংসার কারণে যে অঞ্চলগুলি দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল, সেখানে এখন উন্নয়নের গতি বেড়েছে এবং রাষ্ট্রের উপস্থিতিও আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিবর্তন দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশ একসময় যেখানে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েছিল, সেখানেই এখন উন্নয়নের ধ্বজা উড়ছে (PM Modi)। একসময় নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত সেই অঞ্চলগুলিতেই এখন উন্নয়নের নতুন ছবি দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী (Dimagi Naxals)।

     

LinkedIn
Share