Tag: Narendra Modi

Narendra Modi

  • PM Modi: তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন মোদি?

    PM Modi: তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী, কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে (India Nordic Partnership) যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এই সম্মেলনে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    কী লিখলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠক সম্পর্কে জানান, “অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় ভারত-নর্ডিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি, যা নর্ডিক অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্বের ক্রমবর্ধমান গভীরতা ও গতিশীলতা প্রতিফলিত করে।” এই সম্মেলনে ভারত এবং নর্ডিক দেশগুলি—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের নেতারা—ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি যৌথ রূপরেখা তৈরি করতে একত্রিত হন। আলোচনায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।বহুপাক্ষিক আলোচনার মূল বিষয়গুলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আলোচনা টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য সহযোগিতা জোরদারের মতো বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীভূত ছিল।”

    ভারতের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক উত্তর ইউরোপে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে তুলে ধরে, যেখানে যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং টেকসই উন্নয়ন মডেলের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আন্তঃআঞ্চলিক অংশীদারিত্বের মূল নীতিগুলি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও নর্ডিক দেশগুলি যৌথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের মাধ্যমে একত্রিত।” মূল সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী আইসল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জলবায়ু পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তিগত সংযুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয় (PM Modi)। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলিতে উত্তর ইউরোপের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করা হয় (India Nordic Partnership)।

    আইসল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদি

    প্রধানমন্ত্রী প্রথমে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিয়ার (Kristrun Frostadottir)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সবুজ প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক সম্পদ উন্নয়নে নতুন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন ফ্রস্টাডোটিরের সঙ্গে অত্যন্ত সুন্দর বৈঠক হয়েছে। ভারত আইসল্যান্ডের সঙ্গে বন্ধুত্বকে গভীরভাবে মূল্য দেয়।” দুই নেতা নবায়নযোগ্য শক্তি, কার্বন ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই মৎস্য শিল্পে কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন (PM Modi)। আইসল্যান্ডের বিশেষ অর্থনৈতিক শক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্লু- ইকোনমি সম্পর্কিত ক্ষেত্রে আইসল্যান্ডের দক্ষতা প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া-ইএফটিএ (India-EFTA TEPA) বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ককে আরও গতি দেবে।”

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, আলোচনায় উদ্ভাবন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সৃজনশীল অর্থনীতি, আর্কটিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ও ছিল (India Nordic Partnership)। তিনি বলেন, “দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করেছেন।” এরপর প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেট্টেরি অর্পোর (Petteri Orpo) সঙ্গে। দুই রাষ্ট্রনেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৫জি এবং ৬জি নেটওয়ার্ক, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল পরিকাঠামোয় অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, দুই নেতা ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও মতবিনিময় করেন (PM Modi)।

    বৈঠক ডেনমার্কের সঙ্গেও

    প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টি ফ্রেডেরিকসেনের (Mette Frederiksen) সঙ্গেও। দুই দেশের মধ্যে সবুজ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত এবং টেকসই উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনে সহযোগিতা বাড়াতেই হয় এই বৈঠক। পাঁচটি নর্ডিক দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন ১.৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি, এবং তারা সবুজ রূপান্তর মডেলের ক্ষেত্রে বিশ্বে অগ্রণী। প্রসঙ্গত, সোমবার সুইডেন থেকে নরওয়েতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। এটি ছিল তাঁর ১৫-২০ মে পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালি সফর নিয়ে গঠিত পাঁচ দেশের বিস্তৃত সফরের অংশ। নরওয়ের রাজধানীতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি (India Nordic Partnership) সফরের শেষ পর্যায়ে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন (PM Modi)।

     

  • PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    PM Modi in Norway: ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান! ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ, শিল্পপতিদের মনের কথা শুনলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সুইডেন থেকে নরওয়ে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন ও সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি। নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে সোমবার অনুষ্ঠিত ভারত-নরওয়ে বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিটে যোগ দিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। ভারত-ইএফটিএ ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (TEPA) কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে

    সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করল নরওয়ে। এদিন নরওয়ের রাজা হারাল্ড (King Harald V) ভি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট’ সম্মান প্রদান করেন। নেতৃত্ব ও ভারত-নরওয়ে সম্পর্কের অগ্রগতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান প্রদান করা হল প্রধানমন্ত্রীকে। এটি কোনও নাগরিককে দেওয়া নরওয়ের সর্বোচ্চ সম্মান। এটা প্রধানমন্ত্রী মোদির ৩২তম আন্তর্জাতিক সম্মান। প্রধানমন্ত্রী মোদি এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়্যাল নরওয়েজিয়ান অর্ডার অফ মেরিট পেয়ে সম্মানিত। ভারতের নাগরিক এবং নরওয়ে ও ভারতের অটুট বন্ধুত্বের প্রতি উৎসর্গ করছি এই সম্মান। এর মাধ্যমে গোটা বিশ্বের অগ্রগতিতে আমাদের মিলিত অঙ্গীকার প্রতিফলিত হচ্ছে।’ ঠিক একদিন আগেই সুইডেনের ঐতিহ্যশালী ‘রয়্যাল অর্ডার অব দ্য পোলার স্টার, ডিগ্রি কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতিতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে মোদিকে এই সম্মান প্রদান করে সুইডেন।

    ৪৩ বছর পর প্রথম

    সুইডেন সফর শেষ করেই সোমবার দু’দিনের সফরে নরওয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা তাঁর প্রথম নরওয়ে সফর। ৪৩ বছর পর প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউরোপের এই দেশটিতে এলেন তিনি। অসলোর রয়্যাল প্যালেসে রাজা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এক বিশেষ মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করেন। সোমবার ভারত-নরওয়ে বিজনেস কনক্লেভে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে মনের কথা উজার করে দিলেন নরওয়ের শিল্পপতিরা। পাল্টা শিল্পের জন্য শ্রম আইন-সহ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যে যে সংস্কার করা হয়েছে, তা তুলে ধরেন মোদিও। জানান নতুন করনীতির কথাও। অসলো সিটি হলে ‘নরওয়ে-ইন্ডিয়া বিজনেস অ্যান্ড রিসার্চ সামিট’-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে যোগ দেন মোদি। উপস্থিত ছিলেন নরওয়ের বড় বড় সংস্থার কর্ণধাররা। তাদের মধ্যে ওরকলা, ইয়ারা ও ইকুইনরের মতো সংস্থা অন্যতম। ভারতে বড় ব্যবসাও রয়েছে তাঁদের।

    ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থা

    এই সামিটে ভারত ও নরওয়ের ব্যবসা ও গবেষণা মহলের ২৫০-র বেশি প্রতিনিধি এবং ৫০টিরও বেশি সংস্থার সিইও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় ও নরওয়েজিয়ান বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। মূল সম্মেলনের আগে অসলোর বিভিন্ন স্থানে চারটি বিশেষ রাউন্ডটেবল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, সামুদ্রিক সহযোগিতা, ব্যাটারি ও এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থা, ডিজিটালাইজেশন ও বিদ্যুতায়ন এবং বায়ুশক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

    দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা

    ভারত ও ইউরোপের মধ্যে হওয়া নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করেন ওরকলার কর্তা নিলস কে সেলতে। তাঁর কথায়, ‘এর ফলে ব্যবসা করা অনেক সহজ হবে। অনিশ্চয়তা কমবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুবিধা হবে।’

    বড় পরিসরে বিনিয়োগের আহ্বান

    সবার কথা মন দিয়ে শোনেন মোদি। তার পরে করব্যবস্থা, শ্রম আইন ও প্রশাসনিক সংস্কারের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন নরওয়ের শিল্পপতিদের সামনে। তিনি বলেন, ‘নেক্সট জেনারেশন রিফর্মস আনা হয়েছে। নরওয়ের জন্য ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া’-র মধ্যে একটি বিশেষ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ডেস্কও তৈরি করেছে কেন্দ্র।’ নরওয়ের শিল্পপতিদের উদ্দেশে মোদির স্পষ্ট বার্তা, ‘ভারতে আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করুন। আমি আপনাদের ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এখন বল আপনাদের কোর্টে।’

    ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান

    সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সম্প্রতি ভারত-নরওয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি দুই দেশের শিল্পমহলকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতে প্রায় ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বৃহৎ যুবশক্তি, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং প্রতিযোগিতামূলক ফেডারেল ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তিনি নরওয়ের সংস্থাগুলিকে ব্লু ইকোনমি, জাহাজ নির্মাণ, সবুজ জ্বালানি, নবীকরণযোগ্য শক্তি, হেলথ-টেক, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যত

    ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট ক্লিন এনার্জি উৎপাদনের লক্ষ্যের কথাও সবিস্তারে বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘ভারতের গ্রিন এনার্জির ভবিষ্যতে নরওয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।’ একই সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও নরওয়েকে ভারতের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমানে নরওয়ের ১০ শতাংশ জাহাজ ভারতে তৈরি হয়। আগামী পাঁচ বছরে সেটিকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক খাতে কার্বন নির্গমন হ্রাস, সমুদ্র সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অর্থায়নে নরওয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

     

     

     

  • PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে। এটি (Terrorism) দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিফলন।” সোমবার কথাগুলি বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি জানান, ভারত ও নরওয়ে উভয়েই নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেই কঠিন সময়ে নরওয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল, যা প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়—এই বিশ্বাস দুই দেশেরই।

    বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন (PM Modi)

    তিনি বলেন, “আমরা একমত যে সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়া-সহ সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে ভারত ও নরওয়ে। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, উদীয়মান আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ভারত ও নরওয়ের অভিমত হল, গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার হওয়া উচিত।”

    সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন

    সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি।” সুইডেন সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী দু’দিনের সফরে নরওয়েতে পৌঁছন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্টোরে এবং নরওয়ের প্রবীণ নেতারা। প্রসঙ্গত, এই (PM Modi) সফরটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নরওয়ে সফর এবং চার দশকেরও বেশি সময় পরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নর্ডিক দেশ সফর।দুই রাষ্ট্রনেতা ১৯ মে অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় নর্ডিক-ইন্ডিয়া সামিটেও যৌথভাবে অংশ নেবেন। এই সম্মেলনে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির নেতারা অংশ নেবেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, সুইডেন এবং নরওয়ের প্রধানরা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী রাজা হেরাল্ড ফাইভ (Harald V) এবং রানি সনজার (Sonja) সঙ্গেও (Terrorism) সাক্ষাৎ করবেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত-নরওয়ে ব্যবসা ও গবেষণা (PM Modi) সম্মেলনেও ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

     

  • PM Modi: ডাচ প্রধানমন্ত্রীর বিরূপ মন্তব্য, কড়া প্রতিক্রিয়া নয়াদিল্লির

    PM Modi: ডাচ প্রধানমন্ত্রীর বিরূপ মন্তব্য, কড়া প্রতিক্রিয়া নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন। অন্তত এমনই খবর প্রকাশিত হয় সংবাদ মাধ্যমে। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেদারল্যান্ডস সফর কূটনৈতিকভাবে কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে (Netherlands Trip)। এর জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল নয়াদিল্লি। ঘটনাটি ঘটে প্রধানমন্ত্রীর দু’দিনের দ্য হেগ সফরের সময়। এর মূল উদ্দেশ্যই ছিল ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক কৌশলগত বিষয়গুলিতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    বিতর্কের সূত্রপাত (PM Modi)

    বিতর্কের সূত্রপাত হয় তখন, যখন এক ডাচ সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, কেন মোদি ও জেটেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেননি। তিনি ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গ তোলেন। ডাচ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে জেটেন বলেছিলেন যে ডাচ সরকারের ‘ভারতের পরিস্থিতি’ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে। তবে এই মন্তব্য আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বৈঠকে করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ভারত এহেন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে।

    ভারতের প্রতিক্রিয়া

    বিদেশমন্ত্রকের সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জ (Sibi George) জানান, এই ধরনের প্রশ্ন সাধারণত ভারতের ইতিহাস, গণতন্ত্র ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে ‘বোঝাপড়ার অভাব’ থেকে উঠে আসে। তিনি বলেন, “এই ধরনের প্রশ্ন ওঠে মূলত প্রশ্নকর্তার যথাযথ বোঝার অভাবের কারণে।” ভারতের গণতান্ত্রিক পরিচয় তুলে ধরে জর্জ বলেন, “ভারত একটি ৫,০০০ বছরের প্রাচীন সভ্যতা। ধর্ম, ভাষা, খাদ্য ও সংস্কৃতির দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৈচিত্র্যময় সমাজ।” তিনি এও জানিয়ে দেন, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম এবং শিখধর্ম—সবক’টির উৎপত্তি ভারতে এবং এগুলি এখনও সহাবস্থান করছে। ২,৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে নির্যাতন ছাড়াই বসবাস করেছে ইহুদি সম্প্রদায়। খ্রিস্টধর্ম এবং ইসলামও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এদেশে বিকশিত হয়েছে (PM Modi)। ভারতীয় এই কূটনীতিক সাম্প্রতিক নির্বাচন ও ভোটদানের হারকে ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সম্প্রতি আমাদের দেশে নির্বাচন হয়েছে। ভোটদানের হার কত ছিল, তা জানা দরকার। ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। এটাই ভারতের সৌন্দর্য (Netherlands Trip)।”

    ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র

    তিনি জানিয়ে দেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, যেখানে শত শত মিলিয়ন ভোটার নিয়মিত রাজ্য ও জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। সরকার বরাবরই বলে আসছে যে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর, স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাপক ভোটারের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর দৃঢ়তা প্রমাণ করে (PM Modi)। এদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (Reporters Without Borders) এবং ফ্রিডম হাউসের (Freedom House) মতো সংস্থা যেসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, ইন্টারনেট বন্ধ, মিডিয়া মালিকানার কেন্দ্রীকরণ, ধর্মীয় মেরুকরণ, ঘৃণামূলক মন্তব্যের ঘটনা। তবে ভারত সরকার বহু আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং ও প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট, নির্বাচিত তথ্যভিত্তিক বা ভারতের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে।

    ভারতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সক্রিয় সংবাদমাধ্যম

    সরকারি কর্তাদের দাবি, ভারতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সক্রিয় সংবাদমাধ্যম রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন ভাষায় পরিচালিত হচ্ছে। জর্জ জানিয়ে দেন, ভারতে সংখ্যালঘুরা পদ্ধতিগতভাবে হুমকির মুখে রয়েছে—এমন ধারণা ঠিক নয়। তিনি স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বৃদ্ধির উদাহরণ দেন (PM Modi)। তিনি বলেন, “আমরা স্বাধীন হওয়ার সময় ভারতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল ১১ শতাংশ। এখন তা ২০ শতাংশেরও বেশি (Netherlands Trip)।” এহেন কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ভারত নেদারল্যান্ডস-দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। জেটেন জানান, ভারত ও নেদারল্যান্ডস উভয়েই গণতন্ত্র, সুশাসন এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের মূল ফোকাস ছিল, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সবুজ জ্বালানি ও জলবায়ু উদ্যোগ, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, সামুদ্রিক লজিস্টিকস, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব, এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক সমন্বয়।

    নেদারল্যান্ডস ইউরোপে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার এবং শিপিং, জল ব্যবস্থাপনা, কৃষি প্রযুক্তি ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (PM Modi)। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখা হয়, সেই বিতর্ককেও সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নিয়মিত নির্বাচন ও সক্রিয় জনঅংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারত এখনও একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে কাজ করছে। সমালোচকদের মতে, ভারতের বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, ভিন্নমত ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উদ্বেগগুলির ওপর নজর রাখা প্রয়োজন (Netherlands Trip)।

     

  • PM Modi Sweden Visit: বিশ্বকবির ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ উপহার বিনিময় মোদি-ক্রিস্টারসনের, সামনে এল ১০০ বছরের ইতিহাস

    PM Modi Sweden Visit: বিশ্বকবির ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ উপহার বিনিময় মোদি-ক্রিস্টারসনের, সামনে এল ১০০ বছরের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সুইডেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে বিশেষ উপহার বিনিময় করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন। রবিবার সুইডেনে পৌঁছনোর পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এই প্রতীকী উপহার বিনিময় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ এ বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক সুইডেন সফরের শতবর্ষও উদযাপিত হচ্ছে।

    কী উপহার পেলেন নরেন্দ্র মোদি?

    সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উপহার দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে লেখা দুটি এপিগ্রামের (সংক্ষিপ্ত কাব্যপংক্তি) প্রতিলিপি। এর সঙ্গে ছিল একটি ব্যাখ্যামূলক নোট এবং ১৯২১ সালে রবীন্দ্রনাথের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় সফরের সময় তোলা একটি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এই মূল নথিগুলি সম্প্রতি সুইডিশ ন্যাশনাল আর্কাইভস থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলি রবীন্দ্রনাথের ১৯২১ এবং ১৯২৬ সালের সুইডেন সফরের সময় রচিত।

    কী উপহার দিলেন নরেন্দ্র মোদি?

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনাবলীর একটি বিশেষ সংকলন। সঙ্গে ছিল শান্তিনিকেতনের শিল্পীদের হাতে তৈরি একটি কারুকার্যখচিত ব্যাগ, যার নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে সেইসব মোটিফ যা রবীন্দ্রনাথ নিজে স্থানীয় কারিগরদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে বেছে নিয়েছিলেন।

    কবিগুরুর সুইডেন সফর…

    সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যাগটি রবীন্দ্রনাথের সেই দর্শনের প্রতীক, যেখানে শিল্পকে শুধুমাত্র গ্যালারির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, বুদ্ধিবৃত্তিক শিল্পচর্চা এবং ব্যবহারিক জীবনের মধ্যে সেতুবন্ধনই ছিল তাঁর ভাবনার মূল ভিত্তি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যক্তিগত কারণে সুইডেনে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি। পরবর্তীতে ১৯২১ সালে সুইডেন সফরকালে তাঁকে রাজা পঞ্চম গুস্তাভ অভ্যর্থনা জানান। সেই সফরই ভারত-সুইডেন সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

    উপহার বিনিময়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুইডেন সফর কূটনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দিনের সফরে তিনি সুইডেনের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মানগুলির অন্যতম ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার, ডিগ্রি কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’-এ ভূষিত হন। ভারত-সুইডেন সম্পর্ক উন্নয়নে অসামান্য অবদান এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদল-স্তরের বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উদীয়মান প্রযুক্তি, স্টার্টআপ, গ্রিন ট্রানজিশন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। ২০২৫ সালে ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৭.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে দুই পক্ষই আশাবাদী।

    রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে ভারত-সুইডেন সাংস্কৃতিক কূটনীতি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কেন্দ্র করে এই সাংস্কৃতিক কূটনীতি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন নয়, বরং ভারত-সুইডেন সম্পর্ককে মানবিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তিতেও আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। মোদির এই সফর প্রমাণ করল, কূটনীতির ভাষা শুধু বাণিজ্য বা প্রতিরক্ষা নয়—সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সাহিত্যও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

  • Modi 31st International Award: ৩১তম আন্তর্জাতিক সম্মান মোদির ঝুলিতে, সুইডেনের ঐতিহাসিক ‘পোলার স্টার’ সম্মান হাতে প্রধানমন্ত্রী

    Modi 31st International Award: ৩১তম আন্তর্জাতিক সম্মান মোদির ঝুলিতে, সুইডেনের ঐতিহাসিক ‘পোলার স্টার’ সম্মান হাতে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সুইডেন কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সুইডেনের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার, কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ প্রদান করল সুইডেন সরকার। সোমবার সুইডেন সফরে গোথেনবার্গে পৌঁছনোর পর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মান তুলে দেন সুইডেনের ক্রাউন প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়া। এই পুরস্কার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রনেতৃত্ব এবং বিশ্বব্যাপী সহযোগিতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। সুইডেনের পাঁচ দেশের সফরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এই সম্মান প্রাপ্তি ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা এবং কৌশলগত গুরুত্বকে নতুন মাত্রা দিল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

    কী এই ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’?

    ‘রয়্যাল অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’ (Kungliga Nordstjärneorden) সুইডেনের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্মাননা, যা ১৭৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত নাগরিক সেবা, বিজ্ঞান, সাহিত্য, জনকল্যাণ এবং আন্তর্জাতিক সদ্ভাব বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এর ‘কমান্ডার গ্র্যান্ড ক্রস’ গ্রেডটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্তরগুলির মধ্যে অন্যতম। সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধান, শীর্ষ কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই সম্মান দেওয়া হয়।

    সম্মান গ্রহণ করে কী বললেন মোদি?

    সম্মান গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই সম্মান শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রাপ্তি নয়, এটি ১৪০ কোটি ভারতবাসীর সম্মান। আমি এই পুরস্কার ভারত ও সুইডেনের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্যের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।” তিনি আরও বলেন, সুইডেনের এই সম্মান দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং আধুনিক কৌশলগত অংশীদারিত্বেরই প্রতিফলন। মোদির কথায়, “ভারত ও সুইডেন শুধু অর্থনৈতিক অংশীদার নয়, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।”

    মোদির ৩১তম আন্তর্জাতিক সম্মান

    বিদেশি সরকারের তরফে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক সম্মানের সংখ্যা এবার দাঁড়াল একত্রিশে। গত কয়েক বছরে বিশ্বের একাধিক দেশ মোদিকে তাদের সর্বোচ্চ বা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক সম্মান ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রভাব, কৌশলগত অবস্থান এবং মোদি সরকারের সক্রিয় কূটনৈতিক নীতির প্রতিফলন। বিশেষ করে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, গ্লোবাল সাউথ-এর স্বার্থরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের পক্ষে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মান?

    সুইডিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত-সুইডেন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার-এ পৌঁছেছে।

    দুই দেশের সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
    • ● সবুজ শক্তি ও দুষণমুক্ত জ্বালানি প্রযুক্তি
    • ● কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
    • ● উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম
    • ● টেকসই নগর উন্নয়ন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করতে সুইডেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একই সঙ্গে নর্ডিক অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

    ভারত-সুইডেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

    প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, উদ্ভাবন, সবুজ প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে শুধু একটি সম্মাননা নয়, এই সফরকে ভারত-সুইডেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুইডেনের এই সম্মান বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার আরেকটি প্রতীক হয়ে থাকল।

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর নেদারল্যান্ডস সফরে স্বাক্ষরিত হল ফ্রন্ট-এন্ড সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন প্ল্যান্ট নির্মাণের চুক্তি

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর নেদারল্যান্ডস সফরে স্বাক্ষরিত হল ফ্রন্ট-এন্ড সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন প্ল্যান্ট নির্মাণের চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সেমিকন্ডাক্টর খাতে উচ্চাকাঙ্খা পূরণে ১৬ মে নেওয়া হল বিরাট পদক্ষেপ। এদিনই টাটা ইলেকট্রনিক্স (Tata Electronics) এবং এএসএমএল (ASML) গুজরাটে দেশের প্রথম ফ্রন্ট-এন্ড সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন প্ল্যান্ট নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে (Gujarat)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেদারল্যান্ডস সফরে স্বাক্ষরিত হয়েছে এই চুক্তি।

    কী বলছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (PM Modi)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেট্টেনের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয় চুক্তি। এই অংশীদারিত্ব গুজরাটের ঢোলেরায় টাটা ইলেকট্রনিক্সের পরিকল্পিত ৩০০-মিলিমিটার সেমিকন্ডাক্টর ফেব্রিকেশন ইউনিটকে সাহায্য করবে। এজন্য বিনিয়োগ করা হচ্ছে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কোম্পানিগুলির তরফে জানানো হয়েছে, এএসএমএলের সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্রপাতি প্রযুক্তি এই প্ল্যান্টে ব্যবহৃত হবে। এখানে অটোমোবাইল, মোবাইল ডিভাইস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রের জন্য চিপ তৈরি করা হবে। এএসএমএলের এক্সিকিউটিভ খ্রিস্টোফি ফুকেট (Christophe Fouquet) বলেন, “ভারতের দ্রুত প্রসারমান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে অনেক আকর্ষণীয় সুযোগ রয়েছে।” তিনি জানান, তাদের (ডাচ) এই কোম্পানি ভারতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ব্যবস্থা

    ভারত ইতিমধ্যেই দেশের নিজস্ব সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বর্তমানে দেশে আটটি সেমিকন্ডাক্টর-সম্পর্কিত প্রকল্প চলছে। এর মধ্যে গুজরাটে টাটা ইলেকট্রনিক্সের আর একটি ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্পও রয়েছে। চলতি ইউরোপ সফরে প্রধানমন্ত্রী নেদারল্যান্ডসের রাজা উইলেম আলেকজান্ডার (Willem-Alexander) এবং রানি (ম্যাক্সিমা)-র (Máxima) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দ্য হেগের রাজপ্রাসাদে। আলোচনায় ভারত-নেদারল্যান্ডস সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ও উঠে এসেছিল, বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ফিনটেক এবং ব্লু ইকোনমির ক্ষেত্রে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ডাচ কোম্পানিগুলিকে সেমিকন্ডাক্টর, নবীকরণযোগ্য শক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রে ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। উভয় পক্ষ ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার পক্ষেও সম্মত হয়েছে (PM Modi)।

    ভারত-নেদারল্যান্ডস সহযোগিতার প্রতিফলন?

    প্রসঙ্গত, এই চুক্তি ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার প্রতিফলন। বর্তমানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-চিন প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠিত হচ্ছে। ডাচ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলি নতুন বাজার ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের দিকে ঝুঁকছে। আর ভারত চাইছে বিরাট বিনিয়োগ ও নীতিগত প্রণোদনার মাধ্যমে নিজেকে একটি বড় উৎপাদন ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। এই সেমিকন্ডাক্টর চুক্তিটি প্রধানমন্ত্রীর ১৫ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা পাঁচ-দেশীয় কূটনৈতিক সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে (Gujarat)। নেদারল্যান্ডসে পৌঁছানোর আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর করেন (PM Modi)।

     

  • PM Modi Convoy Cut: জ্বালানি সাশ্রয় লক্ষ্য, নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi Convoy Cut: জ্বালানি সাশ্রয় লক্ষ্য, নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমালেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়ে নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Convoy Cut)। পেট্রোল-ডিজেলের দাম ঊর্দ্ধমুখী। এই পরিস্থিতিতে কনভয় ছোট করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর কনভয়ের আকার ৫০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইরান যুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দেশের ব্যয় কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্যই এই পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বৈদ্যুতিক যান ব্যবহার বাড়ানোর জন্যও আহ্বান জানান।

    এসপিজি-কে পাঠানো বিশেষ নির্দেশ

    পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধনের কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সূত্র ধরেই নিজেও তার বাইরে বেরোলেন না প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পেশ্যাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি-র কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত রেখেই কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমাতে হবে। পেট্রল-ডিজেলচালিত গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের উপর জোর দিতে হবে। তবে তার জন্য নতুন কোনও গাড়ি এখন কেনা যাবে না বলে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, নির্দেশ হাতে পাওয়ার পরেই তা বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে এসপিজি। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের প্রভাব থেকে নাগরিকদের রক্ষা করার জন্য কেন্দ্র চেষ্টা করছে, এই কথার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির দাবি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝে এই সময়ে জ্বালানি ব্যবহার এবং ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায় খুঁজছে।

    কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রীরাও

    সূত্রের খবর, বিজেপিশাসিত বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রী মোদির পথে হেঁটে তাঁদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমাতে পারেন। পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, সোনা, তামা, রাসায়নিক সার— এই পণ্যগুলির একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় ভারতকে। টান পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডারে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝে এই পণ্যগুলি সংযমী হয়ে ব্যবহারের অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার তেলঙ্গানার সেকেন্দরাবাদের এক সভাতে মোদির মুখে প্রথম ওই আর্জির কথা শোনা গিয়েছিল। সোমবার গুজরাতের ভদোদরায় এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ফের বলেন, ‘‘বিশ্ব দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার এক পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা কোভিড-১৯ অতিমারি দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং এখন পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।’’

  • PM Modi in Europe: নজরে জ্বালানি-প্রতিরক্ষা-এআই! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেই পাঁচ দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Europe: নজরে জ্বালানি-প্রতিরক্ষা-এআই! পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মাঝেই পাঁচ দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার আবহে আগামী ১৫ মে, শুক্রবার থেকে ছয় দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে শুরু করে ইউরোপের একাধিক দেশে যাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ভারতের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সম্পর্ক আরও গভীর করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। ১৫ থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলা এই পাঁচ দেশের সফরে প্রধানমন্ত্রী যাবেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালিতে। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে চলেছে জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, সবুজ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ব্লু ইকোনমি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সদ্য সম্পন্ন ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (India-EU FTA) প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করাই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    আমিরশাহীতে আলোচনায় জ্বালানি ও প্রবাসী ভারতীয়রা

    প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের শুরু ১৫ মে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। সেখানে প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (Mohamed bin Zayed Al Nahyan)-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টানরাশিপ (Comprehensive Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পাবে জ্বালানি নিরাপত্তা। এছাড়াও আরবে থাকা প্রায় ৪৫ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসীর কল্যাণও মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম বড় উৎস। উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চিলক ও আন্তর্জাতিক নানান বিষয়ে মত বিনিময় করবেন। দ্বিপাক্ষিক সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং মানুষে মানুষে সংযোগের বিষয়টিও স্থান পাবে তাঁদের আলোচ্য সূচীতে।

    নেদারল্যান্ডসে প্রযুক্তি ও সবুজ শক্তি

    সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী যাবেন নেদারল্যান্ডসে। সেখানে তিনি রাজা উইলিয়াম অ্যালেকজান্ডার (Willem-Alexander) এবং রানী ম্যাক্সিমার সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের (Rob Jetten) সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হবেন। নেদারল্যান্ডসে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিতীয় সফর। এর আগে তিনি ২০১৭-এ সেখানে যান। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, পরিবেশ বান্ধব হাইড্রজেন, সেমিকন্ডাক্টর ও জল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১৫ থেকে ১৭ মে নেদারল্যান্ডস সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমানে ভারত-নেদারল্যান্ডস দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৭.৮ বিলিয়ন ডলার। আগামী দিনে তা কয়েক গুণ বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস বর্তমানে ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ।

    সুইডেনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা ও শিল্প সহযোগিতা

    ১৭ ও ১৮ মে রবিবার সুইডেনের কোটেনবার্গে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে সুইডিস প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসনের (Ulf Kristersson) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সম্পর্কের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবেন তারা। এর মধ্যে আছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, স্টার্ট আপ, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আলোচনা। দুই প্রধানমন্ত্রী শিল্পের জন্য ইউরোপীয় রাউন্ড টেবিল বৈঠকেও ভাষণ দেবেন। এই অগ্রণী প্যান ইউরোপীয় বাণিজ্যিক ফোরামের বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েনও (Ursula von der Leyen) উপস্থিত থাকবেন। ২০২৫ সালে ভারত-সুইডেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৭.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুইডেনের বিনিয়োগ ভারতে ২.৮২৫ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।

    নরওয়েতে ব্লু ইকোনমি ও নর্ডিক সম্মেলন

    ১৮ থেকে ১৯ মে নরওয়ে সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ৪৩ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সে দেশে যাচ্ছেন। নরওয়েতে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেখা করবেন রাজা হারলাড ভি (Harald V) এবং প্রধানমন্ত্রী জোনাস (Jonas) এর সঙ্গে। ভারত-ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ এবং নরওয়ের ২৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। ১৯ মে অসলোতে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় ইন্ডিয়া-নর্জিক সামিট (India-Nordic Summit)। সেখানে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেনের নেতারা অংশ নেবেন। আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে আর্কটিক গবেষণা, নবীকরণযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং টেকসই উন্নয়ন। ভারত-নরওয়ে বাণিজ্য ও গবেষণা সম্মেলনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বর্তমানে ভারত-নরওয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২.৭৩ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া নরওয়ের গভর্নমেন্ট পেনশন ফান্ড ভারতের পুঁজিবাজারে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

    ইতালিতে প্রতিরক্ষা ও উদ্ভাবন নিয়ে আলাপচারিতা

    সফরের শেষ পর্যায়ে ১৯ ও ২০ মে ইতালি সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলানির (Giorgia Meloni) সঙ্গে বৈঠকে ২০২৫-২৯ জয়েন্ট স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান (Joint Strategic Action Plan 2025–2029) পর্যালোচনা করা হবে। এই রোডম্যাপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা, শক্তি, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দুই দেশের। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের দেশগুলির কয়েক কোটি মানুষের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এখান থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত নির্মাণশিল্প এবং অনুসারী শিল্পগুলির ক্ষেত্রে আরও গতি আনবে। এর ফলে বাণিজ্যের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক গণতন্ত্রও পোক্ত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, ২০২৫-২০২৯ যৌথ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার আওতায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্ন শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত-ইতালি সম্পর্ক দ্রুত এগোচ্ছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ১৬.৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ইতালির মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.৬৬ বিলিয়ন ডলার।

  • PM Modi: ‘আবার ঘর থেকে কাজ করুন, পেট্রোল-ডিজেল-গ্যাস ব্যাবহারে সংযত হন’, দেশবাসীকে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: ‘আবার ঘর থেকে কাজ করুন, পেট্রোল-ডিজেল-গ্যাস ব্যাবহারে সংযত হন’, দেশবাসীকে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তার আবহে দেশবাসীর উদ্দেশে এক বছরের “নাগরিক সত্যাগ্রহ”-এর (Civic Satyagraha) ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সোমবার তেলঙ্গানার হায়দরাবাদের প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশবাসীকে বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। দেশবাসীকে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানি পণ্য সংযতভাবে ব্যবহারের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য রক্ষা করার জন্য তিনি নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

    দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা

    পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে জ্বালানি ব্যবহার যথাসম্ভব সীমিত রাখা জরুরি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার তেলঙ্গনায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া যেমন দেশপ্রেম, তেমনই দেশের জন্য বাঁচাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তাঁর কথায়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিটি ভারতীয়কে “রুপির রক্ষক” হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে মত প্রধানমন্ত্রীর।

    পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর উপর জোর

    বর্তমানে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেল সরবরাহের মূল পথ হরমুজ প্রণালীটি অবরুদ্ধ। তাই আমদানিনির্ভর জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে, রবিবার হায়দরাবাদের অনুষ্ঠান থেকে এমন আশঙ্কার কথাই জানান নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে এ কথা মাথায় রেখে দেশবাসীকে আরও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তৃতায় তিনি বলেন, “সময়ের দাবি মেনে পেট্রোল, গ্যাস এবং ডিজেলের মতো জ্বালানি অত্যন্ত সংযমের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে ভারতের জ্বালানির অধিকাংশই আমদানি নির্ভর। তাই এর সঠিক ব্যবহার যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সাহায্য করবে, তেমনি যুদ্ধের প্রভাব থেকেও দেশকে রক্ষা করবে।” মোদি যাতায়াতের পদ্ধতিতে বদল আনার কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া জ্বালানি অপচয় করা উচিত নয়। যেখানে সম্ভব, সেখানে মেট্রো রেল ও গণপরিবহণ ব্যবহার, ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে কার-পুলিং, পণ্য পরিবহণে রেলের ব্যবহার এবং ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝোঁকার পরামর্শ দেন তিনি।

    ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কেন

    কোভিড-১৯-এর সময়কার দক্ষতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে, প্রধানমন্ত্রী দেশের কার্বন ফুটপ্রিন্ট এবং শক্তির খরচ কমাতে ভার্চুয়াল পরিকাঠামো পুনরায় চালুর আহ্বান জানান। করোনা কালের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, অনলাইন বৈঠক ও ভার্চুয়াল কনফারেন্স ফের চালু করা যেতে পারে। এতে জ্বালানি খরচ যেমন কমবে, তেমনই কার্বন নিঃসরণও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    বিদেশ সফর নিয়ে সতর্ক বার্তা

    বিদেশ সফর নিয়েও সতর্ক বার্তা দেন মোদি। তাঁর কথায়, “আজকাল বিদেশে বিয়ে করা, বিদেশে বেড়াতে যাওয়া, ছুটি কাটাতে যাওয়ার সংস্কৃতি বাড়ছে মধ্যবিত্তদের মধ্যে। আমাদের ঠিক করতে হবে, সঙ্কটকালে, দেশের খাতিরে অন্তত এক বছর বিদেশযাত্রা বন্ধ রাখব আমরা। আগামী এক বছর অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ, বিদেশে বিয়ে বা বিলাসবহুল অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলা উচিত আমাদের।” তার বদলে দেশীয় পর্যটনকে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। মোদি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমন সম্পর্কে সচেতন থেকে “টাকার পাহারাদার” হিসেবে কাজ করতে বলেন।

    অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এখন নয়

    সোনার গয়না বা অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনাকাটাও এক বছরের জন্য কমানোর আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমবে। মোদি বলেন, “বিদেশি মুদ্রা বাঁচানোর সব উপায় দেখতে হবে। সোনা কেনার ক্ষেত্রেও বিদেশি মুদ্রা বেশি খরচ হয়। এককালে সঙ্কটের সময়, যুদ্ধের সময় দেশের স্বার্থে সোনা দান করতেন মানুষ। আজ দানের প্রয়োজন নেই। কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্তত এক বছর, যে অনুষ্ঠানই হোক না কেন, সোনার গয়না কিনব না আমরা। সোনা কিনব না। বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে, আমাদের দেশপ্রেম চ্যালেঞ্জের মুখে। বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে হবে।”

    ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য ব্যবহারের গুরুত্ব

    ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য ব্যবহারের উপরও জোর দেন তিনি। জুতো, ব্যাগ, আনুষঙ্গিক সামগ্রী-সহ দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারগুলিকে ভোজ্য তেলের ব্যবহারও কমাতে হবে। এতে যেমন দেশের আমদানি ব্যয় কমবে, তেমনই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

    প্রাকৃতিক চাষের দিকে নজর

    কৃষকদের উদ্দেশে তিনি প্রাকৃতিক চাষের দিকে ঝোঁকার এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার অন্তত ৫০ শতাংশ কমানোর পরামর্শ দেন। তিনি ভারতীয় কৃষককে পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার লড়াইয়ে এক জন প্রথম সারির সৈনিক হিসেবে তুলে ধরেন। কৃষিক্ষেত্রে ডিজেলচালিত পাম্পের বদলে সৌরশক্তিচালিত পাম্প ব্যবহারের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারত এখন বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। পাশাপাশি আমদানিকৃত জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাতে পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মিশ্রণের ক্ষেত্রেও দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বলে তাঁর দাবি।

    দেশপ্রেমের এক নতুন সংজ্ঞা

    এদিন দেশপ্রেমের এক নতুন সংজ্ঞা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিককে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে এক সম্মিলিত আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেনের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকট শুধু সরকারের একার চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি জাতির চরিত্রের পরীক্ষা। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “শুধু সীমান্তে জীবন উৎসর্গ করাই দেশপ্রেম নয়। এই সময়ে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দায়িত্বশীলভাবে বেঁচে থাকা এবং দেশের প্রতি আমাদের কর্তব্য পালন করাই আসল দেশপ্রেম। এগুলি কোনও ত্যাগ নয়, বরং দেশের প্রতি নাগরিক দায়িত্ব।” তিনি দাবি করেন, ১৪০ কোটির বেশি ভারতীয় যদি এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাগুলি একসঙ্গে করেন, তবে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে ভারতকে আরও আত্মনির্ভর করে তোলা সম্ভব হবে।

LinkedIn
Share