Tag: Narendra Modi

Narendra Modi

  • Mark Zuckerberg Apologizes: মোদির ভিডিও বিতর্কে চাপে মেটা, দুঃখপ্রকাশ জুকেরবার্গের! শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক নিয়েও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

    Mark Zuckerberg Apologizes: মোদির ভিডিও বিতর্কে চাপে মেটা, দুঃখপ্রকাশ জুকেরবার্গের! শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক নিয়েও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের চাপে নতিস্বীকার করলেন মেটা। ইনস্টাগ্রাম-সহ মেটার নানা সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ‘চাইল্ড পর্ন’-এর মতো নানা আপত্তিকর কন্টেন্ট আপলোড করার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন মেটাকর্তা মার্ক জুকেরবার্গ (Mark Zuckerberg)। সূত্রের খবর, এর পাশপাশি মোদির ভিডও সরানোর বিষয়ে প্রযুক্তি-প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথাও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়া, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং ডিপফেক মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে তীব্র চাপে পড়ে মেটা। কেন্দ্রের হুঁশিয়ারিতে অস্বস্তিতে বাড়ে সংস্থার। উল্লেখ্য, ভারত মেটার বৃহত্তম বাজার। এখানে কোটি কোটি মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।

    ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা-র জন্যই নতি স্বীকার!

    সরকারি সূত্রের দাবি, মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মার্ক জুকেরবার্গ এই ঘটনাগুলির জন্য সরকারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। সূত্রের দাবি, কেন্দ্র মেটাকে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা কেবলমাত্র একটি নিরপেক্ষ ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ হিসেবে কাজ করে না। বরং কোন ব্যবহারকারীর কাছে কোন কনটেন্ট পৌঁছবে, তা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বেছে দেয়। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর ধারা ৭৯ অনুযায়ী যে ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা ইন্টারমিডিয়ারিদের দেওয়া হয়, তা মেটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

    তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক

    বুধবার মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল ক্যাপলানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিব এস. কৃষ্ণনের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করে। বৈঠকে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মেটা। মেটার তরফে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল পটস, সিনিয়র ডিরেক্টর রাফায়েল ফ্রান্কেল, আমান জৈন ও প্রিয়া শ্রীনিবাসন। বৈঠকে কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাড়ানোর কথা বলা হয়। কেন্দ্রের তরফে মেটাকে কঠোরভাবে বলা হয় আইন-নিয়ম মেনে চলতে। বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে না, তবে সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে আইন মেনে চলতে হবে। সূত্রের খবর, মেটার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও ফ্যাক্ট চেকিং মেকানিজম আগে থেকেই রয়েছে।

    কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

    এর আগে সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে কড়া ভাষায় মেটাকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলা কোনও ইন্টারমিডিয়ারির কাজ নয়, বরং প্রকাশকের (Publisher) মতো আচরণ। তাই তিন দিনের মধ্যে মার্ক জুকেরবার্গকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে। দুবে বলেন, “সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি দীর্ঘদিন ধরে এই আইনি সুরক্ষার অপব্যবহার করছে। যদি এই সুরক্ষা তুলে নেওয়া হয়, তবে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্টের জন্য সরাসরি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ফেসবুকে অনুপস্থিত ছিল। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ

    শুধু ভিডিও বিতর্ক নয়, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং নারীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও তোলেন দুবে। তাঁর দাবি, মেটা এবং ইউটিউব—উভয় প্ল্যাটফর্মেই এই ধরনের কনটেন্ট রয়ে যায়, যদিও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের উদ্বেগ একাধিকবার জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ইন্সটাগ্রামে পেইড বিজ্ঞাপনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নিপীড়ন নিয়ে ভিডিও দেখানো নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের নজরদারিতে এসেছে মেটা। সরকারের তরফে গত মাসে এই ইস্যুতে নোটিসও পাঠানো হয়।

    ভুলস্বীকার জুকেরবার্গ-এর

    পরিচালনগত ত্রুটি এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেটা-কর্তা মার্ক জুকেরবার্গ। বুধবার সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে এমনই জানিয়েছে বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মেটা-র সিইও শিশু যৌন নির্যাতনমূলক (সিএসএএম) এবং ডিপফেক কন্টেন্ট (মূলত ভিডিও) ছড়ানোর বিষয়ে তাঁদের ভুলস্বীকার করেছেন। জুকেরবার্গ বলেছেন যে, তাঁদের কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাগত ত্রুটি ছিল। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে তাঁরা আরও সতর্ক থাকবেন। বৃহস্পতিবার সরকারপক্ষের সঙ্গে আবার একপ্রস্ত আলোচনা হতে পারে মেটার।

    কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

    প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওই ভিডিওটি ছিল নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলা ৩৬ দিনের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তরুণদের উদ্দেশে তাঁর প্রথম সরাসরি বার্তা। ভিডিওতে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্র পরীক্ষা (Prevention of Unfair Means) সংশোধনী বিল ২০২৬ অনুমোদন করে এবং বিলটি সংসদের উভয় কক্ষেই পাস হয়। গত ২৮ জুলাই মেটা এক বিবৃতিতে জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি সরিয়ে গিয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় পুনঃস্থাপন করা হয়। তবে এই ঘটনার পর সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির অ্যালগরিদমিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।

  • Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’বছর পরে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফেরার কথা ঘোষণা করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বুধবার এক প্রকাশ্য ভাষণে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান তিনি। ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরে ঢাকা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে বলে কবুল করেছেন হাসিনা। তবে কোনও ভয়ই তাঁকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলেও দৃঢ়ভাবে জানান তিনি।

    ‘হত্যাও করা হতে পারে’ (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, “আমাকে জেলে পাঠানো হতে পারে, এমনকি হত্যাও করা হতে পারে। কিন্তু মানুষের প্রতি আমার কর্তব্য কী হবে, তা ভয় দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি এবং ছ’বছর নির্বাসনে কাটিয়েছি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।” দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসিনা জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ফের প্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, শান্তি ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘আমি ফিরতে চাই’

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ফিরতে চাই, কারণ বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং শান্তির অধিকারী। তারা এমন একটি রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকারী, যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন তারা দেখেছিল এবং এমন একটি অর্থনীতি পাওয়ার অধিকারী, যা তাদের সামনে সুযোগ তৈরি করবে। আমার ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়, বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সাহায্য করতে ফিরতে চাই। সমস্ত ক্ষমতার উৎস হল জনগণ।” দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও, দেশের মানুষের সঙ্গে তাঁর কখনও বিচ্ছেদ ঘটেনি বলেও দাবি করেন হাসিনা। বলেন, “গত দু’বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে দেখেছি… এ সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এ সেই বাংলাদেশও নয়, যার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।”

    ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না

    ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন নিয়ে হাসিনা জানান, তাঁর সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া সেই (Bangladesh) আন্দোলন কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, ছাত্রদের সামনে রেখে হিংসা ও সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল। হাসিনা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের সত্যটা আমি আপনাদের জানাতে চাই। এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র প্রতিবাদও ছিল না।” আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের জীবন এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব (Sheikh Hasina)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, “যখন পুলিশ ও সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয় এবং সেগুলি লুট করা হয়, তখন মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার কি রাষ্ট্রের কোনও দায়িত্ব নেই?” হাসিনা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই হিংসার ঘটনার তদন্ত এবং প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য তিনি একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা।”

    ভারতকে ‘চিরকালের বন্ধু’ বললেন হাসিনা

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কথাও উঠে আসে হাসিনার বক্তব্যে। প্রতিবেশী দেশ ভারতকে তিনি “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে ভারত সরকার অবগত কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “তিনি দেশে ফিরতে চান—এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। তাই ভারতের সকলেই এ বিষয়ে জানবেন।” গত দু’বছর ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে জয় বলেন, তাঁকে একজন সরকারপ্রধানকে যে মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়, সেই মর্যাদা ও নিরাপত্তাই দেওয়া হয়েছে (Sheikh Hasina)। তিনি বলেন, “ভারত তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মর্যাদা দিচ্ছে এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করছে। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের মতো পূর্ণ নিরাপত্তায় এখানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছে (Bangladesh)।”

    বাংলাদেশের ক্ষোভ

    হাসিনার এই বক্তব্যের পর দিল্লিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে হাসিনাকে “পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী” বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, তাঁকে দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে “বিষোদ্গার” করেছেন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি প্রকাশ্যে আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে (Sheikh Hasina)।

    ভারতের বক্তব্য

    তবে মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের যে যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনারা যে যোগাযোগের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এর সঙ্গে সরকারের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই (Bangladesh)। ওই মঞ্চে যে মতামত প্রকাশ করা হবে, সরকার তার (Sheikh Hasina) কোনওটিই সমর্থনও করে না।”

     

  • Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক লাইভ ডিলিট নিয়ে মেটা কর্ণধার মার্ক জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি। ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় মামলা দায়ের হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যে বা যাঁরা গোটা ঘটনার জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। নিশিকান্ত নেতৃত্বাধীন সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি জানিয়েছে, মোদি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। তাঁর ভিডিও ডিলিট করে দেওয়ার অর্থ ‘গণতন্ত্রে’র উপর হামলা। জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতেই হবে। অন্যথায় দায়ের করা হবে মামলা। যে বা যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করলে আইনি রক্ষাকবচও মিলবে না।

    ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে। সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। সেই আবহেই গত ২৩ জুলাই দেশের যুবসমাজকে ভিডিও বার্তা দিতে ফেসবুক লাইভ করেন মোদি। কিন্তু সেই ভিডিও আচমকাই গায়েব হয়ে যায় ফেসবুক থেকে। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে, মেটা জানায়, ভুলবশত ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। ভিডিওটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে মেটা-র সাফাইয়ে সন্তুষ্ট নয় সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি। সংস্থার প্রতিনিধিদের ডেকে ক্ষোভ জানানো হয়। ক্ষমা চাইতে বলা হয় তাঁদের। মেটা জানায়, তারা আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছে। আবারও ক্ষমা চাইতে রাজি। কিন্তু ওই কমিটি জানায়, মেটা নয়, ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে। মেটা-র তরফে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হলেও কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের মনঃপুত হয়নি সেই যুক্তি।

    সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান

    সরকারের অভিযোগ, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদের শীর্ষ ব্যক্তিত্বের বক্তব্য এভাবে সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান। মেটা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে আগামী ৩ দিন জুকেরবার্গ কী অবস্থান নেন এবং ভারতীয় সংসদীয় কমিটির কাছে ক্ষমা চান কি না, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহল।

     

  • Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে চলা ইরান সংঘাত এবং দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সোমবার ইজরায়েলের বিদেশনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইজরায়েল বিপুল গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি নিজের “অন্যতম সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রতি ভারতের যে সমর্থন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল একদিকে যেমন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তেমনই পুরানো ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ইজরায়েল (Netanyahu)

    ইজরায়েলের বিদেশনীতি প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা ইজরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের আরও অতিরিক্ত জোট গড়ে তুলতে হবে।” এর পরেই ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছি। আমার বন্ধু নরেন্দ্রর সঙ্গে এই সম্পর্ককে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি আমাদের অন্যতম সেরা বন্ধু।” ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, “লোকে বলে ইজরায়েল বিচ্ছিন্ন। কিন্তু ভারতে ইজরায়েল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা ইজরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    বহু ক্ষেত্রে বাড়ছে ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতা

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। নেতানিয়াহুও দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। সেই সফরের সময় ভারত ও ইজরায়েল মোট ন’টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই সময় দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে “বিশেষ” অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছিল (Netanyahu)। ওই সফরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিধিও বেড়েছে।

    ২০২৬ সালে নতুন মাত্রা পেল সম্পর্ক

    ২০২৬ সালেও ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহু দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করে “শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত-ইজরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সফরের সময় বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নতুন পর্যায়ের এই অংশীদারিত্বের আওতায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শ্রমশক্তির চলাচল, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে প্রযুক্তি—বিস্তৃত হচ্ছে পরিধি

    ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে (India)। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে। এআই, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করে তুলছে (Netanyahu)। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত ও শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সহযোগিতা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্য এবং শ্রমশক্তির চলাচলের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সামাজিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বে পরিণত হচ্ছে।

    ভারতের সমর্থনের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

    নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে “প্রধান বৈশ্বিক শক্তি” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের জন্য ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইজরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টিও একাধিকবার তুলে ধরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ইজরায়েলকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যে ইজরায়েলকে “বিপুলভাবে সমর্থন” করে চলেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই বক্তব্যের তাৎপর্যও যথেষ্ট। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, তখন ইজরায়েল তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে। সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

    ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ইজরায়েল যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

    “অন্যতম সেরা বন্ধু”

    সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহুর ভারত সম্পর্কে সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নরেন্দ্র মোদিকে “অন্যতম সেরা বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করা এবং ভারত থেকে ইজরায়েলের প্রতি পাওয়া সমর্থনের প্রশংসা করা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তেল আভিভের কাছে নয়াদিল্লির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, এআই, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমশক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে (India) সহযোগিতা বাড়ায় দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে (Netanyahu)।

     

  • PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও (PM Modi Video Row) মুছে ফেলার ঘটনায় সরাসরি মার্ক জুকেরবার্গের ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় প্যানেল। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ওই প্যানেলের মাথায় রয়েছেন। মেটা এ ঘটনায় আগেই ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু প্যানেলের বক্তব্য, সংস্থার তরফে শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না। কী ভাবে এটা ঘটল, তার জন্য কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে, জানাতে হবে। ক্ষমা চাইতে হবে মেটা-র মালিক স্বয়ং মার্ক জুকেরবার্গকে। জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য করে বানানো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাইরাল সেলফি ভিডিও হঠাৎ করেই ফেসবুক থেকে গায়েব হয়ে যায়। এই নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়।

    শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন?

    সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর কমিটি প্রধান নিশীকান্ত দুবের সাফ কথা, এমন ঘটনায় ‘মেটা’র ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, এই ঘটনার দায় নিতে হবে তাদের। সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও প্রয়োজন। সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সোমবার গুগল, মেটা ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলির প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও ‘মেইটি’ শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন রয়েছে? এই সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মেটার কর্তাদের।

    ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা

    এমন ঘটনায় মেটার ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, বলে দাবি করে নিশিকান্ত জানান, গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারিতে জুকেরবার্গ দাবি করেছিলেন, কোভিডের পরে বিভিন্ন দেশের দেওয়া সরকারি তথ্যের উপরে মানুষ আস্থা হারিয়েছে। তাঁর আরও দাবি ছিল, সেই কারণেই ২০২৪-এ যে সব দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষমতাসীন সরকারই ভোটে ধাক্কা খেয়েছে। এই প্রসঙ্গে ভারতের নামও নিয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়ে বিপুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ক্ষমাও চেয়েছিল মেটা। এ দিন সেই প্রসঙ্গও টেনে নিশিকান্ত বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন।’’ নিশিকান্ত জানিয়ে দেন, জুকেরবার্গকেই ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় যে আইনি সুরক্ষা (Safe Harbour Protection) রয়েছে, তা তুলে নেওয়া উচিত।’’

    মেটাকে ‘সেফ হারবার’ নয়

    তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স-এর মতো সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোনও ব্যবহারকারী বেআইনি বা আপত্তিকর কিছু পোস্ট করলে, শুধুমাত্র সেই পোস্টের জন্য প্ল্যাটফর্মকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়ী করা যায় না। এই আইনি সুরক্ষাকেই বলা হয় ‘সেফ হারবার’। ফলে, মেটার এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হলে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত বা বেআইনি কনটেন্টের জন্য মেটাকেও সরাসরি আইনি জবাবদিহি করতে হতে পারে।

    ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা অপরাধ’

    প্রসঙ্গত, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে গত একমাস ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছে সিজেপি। এর আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। এরমধ্যেই গত ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ৩ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটা লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।’’ তিনি জানান, দোষীদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সাড়ে ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর এক বছর যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই প্রয়াস নিমেষেই রেকর্ড গড়ে ফেলে। ইনস্টাগ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটির ভিউ সংখ্যা ৩০৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়, যা এক নতুন বিশ্বরেকর্ড! এই আবহে সেই ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা গুরুতর অপরাধ, বলে দাবি করে সংসদীয় প্যানেল।

    প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে!

    বৈঠকে বিজেপির এক প্রবীণ সাংসদ মেটার কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে! সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে বিজেপি সাংসদ মেটা কর্তাদের প্রশ্ন করেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও ডিলিট করা হল কেন? ফেসবুক অন্য আপত্তিকর কনটেন্ট যেখানে সরায় না, সেক্ষেত্রে ওই ভিডিওটিই কেন সরানো হল প্ল্যাটফর্ম থেকে? এর দায় কে নেবে?” মেটার তরফে জানানো হয়, ওই ভুলের জন্য ইতিমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, শুধু দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইলেই হল না। দায় নিতে হবে। করতে হবে আইনি পদক্ষেপ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও এভাবে সরানো গেলে, সাধারণ নেটিজেনদের সুরক্ষা কোথায়, জানতে চান ওই বিজেপি সাংসদ।

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও প্রশ্ন

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির কনটেন্টের ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৩ কোটি হলেও, কোনও রাজনৈতিক দল বা নথিভুক্ত সংগঠন নয়— এমন সংস্থাগুলির ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৭ কোটি। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টির মতো দলগুলির মোট ভিউয়ারশিপ ২.৩ থেকে ২.৪ কোটির মধ্যে। কিন্তু রাজনৈতিক দল বা এনজিও নয়, এমন অ্যাকাউন্টের ভিউয়ারশিপ ২.৭ কোটি।’’ নিশিকান্তের অভিযোগ, নতুন বা অচেনা অ্যাকাউন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতির কারণেই এমন হচ্ছে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে তৈরি একটি সংরক্ষণ বিরোধী ফোরামের ভিউয়ারশিপও প্রায় ৭০ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে।

  • PM Modi: ‘মাদকমুক্ত যুবসমাজই বিকশিত ভারতের ভিত্তি’, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ‘মাদকমুক্ত যুবসমাজই বিকশিত ভারতের ভিত্তি’, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে দেশের যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ হতে হবে। তাদের সব ধরনের মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকাও অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রবিবার ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে ‘নেশামুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান’-এর সূচনা করে তিনি বলেন, মাদকবিরোধী এই দেশব্যাপী প্রচারের লক্ষ্য শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার, সমাজ এবং সমগ্র দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করা (Viksit Bharat)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ যে অভিযান আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জন্য; সর্বোপরি এটি দেশের জন্য। এই আন্দোলনের নামই—বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযানের অধীনে ‘মাদকমুক্ত যুব’ উদ্যোগ—এর সংকল্পকে স্পষ্ট করে দেয়।” তিনি আরও বলেন, “দেশ যখন বিকশিত ভারত হয়ে ওঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে, তখন আমাদের যুবসমাজের শরীর ও মন সুস্থ থাকা, আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ থাকা এবং মাদকের মতো প্রাণঘাতী অভ্যাস থেকে চিরতরে মুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য। আমাদের সংকল্প নিতে হবে, যাতে যুবসমাজ মাদক ও মাদকাসক্তির বিপদ সম্পর্কে সচেতন হয়, সতর্ক থাকে এবং এই ধ্বংসাত্মক অভ্যাস থেকে দূরে থাকে।”

    সম্মিলিত উদ্যোগেই সামাজিক পরিবর্তন (PM Modi)

    সামাজিক প্রচারাভিযানকে সফল করার ক্ষেত্রে সম্মিলিত অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, একা কোনও কঠিন কাজ করতে গেলে অনেক সময় হতাশা, ক্লান্তি এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই কাজই যখন গণআন্দোলনের রূপ নেয়, তখন মানুষের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও শক্তির সঞ্চার হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছু কাজ রয়েছে, যা একা করতে গেলে কখনও কখনও হতাশা, ক্লান্তি এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার অনীহা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই কাজ যখন একটি সম্মিলিত অভিযানে পরিণত হয় এবং লাখ লাখ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলেন, তখন যাঁরা একা সেই কাজটি করতে পারতেন না, তাঁরাও নতুন শক্তি ও উদ্দীপনায় ভরে ওঠেন।” তিনি এও বলেন, “আজ সেই শক্তিতেই পরিচালিত এই অভিযান প্রতিটি তরুণ হৃদয়কে স্পর্শ করছে।”

    কাশী থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল অভিযান

    প্রধানমন্ত্রী জানান, গত বছর কাশী থেকে পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে এই অভিযান শুরু হয়েছিল। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষের কল্যাণে ১২৫টিরও বেশি আধ্যাত্মিক সংগঠন এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে (Viksit Bharat)।তিনি বলেন, “গত বছর এই অভিযান পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়েছিল। আজ আমাদের কোটি কোটি সহনাগরিকের কল্যাণে ১২৫টিরও বেশি আধ্যাত্মিক সংগঠন আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাই আমাদের সকলকে সংকল্প নিতে হবে, যাতে যুবসমাজ মাদকাসক্তি ও মাদকের বিপদ সম্পর্কে বুঝতে পারে, সর্বদা সচেতন থাকে এবং এগুলি থেকে দূরে থাকে।”

    ১০০ সপ্তাহ ধরে চলবে দেশব্যাপী জনঅংশগ্রহণের অভিযান

    ‘নেশামুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযানে’র লক্ষ্য হল তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করা এবং নিজেদের এলাকার ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের দূত হিসেবে গড়ে তোলা (PM Modi)। এই অভিযানের সূচনার মাধ্যমে মাদকবিরোধী ১০০ সপ্তাহের দেশব্যাপী জনঅংশগ্রহণ কর্মসূচি শুরু হল। এর আওতায় প্রতি রবিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। অভিযানের অংশ হিসেবে ক্রীড়া অনুষ্ঠান, পদযাত্রা, ধ্যানের অধিবেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সচেতনতামূলক প্রচার, পথনাটিকা, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে (Viksit Bharat)।

    এক মঞ্চে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন

    মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিত আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন, নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী, শিল্পক্ষেত্রের সংগঠন এবং আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে একটি অভিন্ন মঞ্চে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।দেশের ১০ হাজারেরও বেশি জায়গা থেকে যুবসমাজ এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ভারত সরকারের ‘মাই ভারত’-এর স্বেচ্ছাসেবক, জাতীয় সেবা প্রকল্পের স্বেচ্ছাসেবক, যুব ক্লাব, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের যুব শাখার সদস্যরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন এই কর্মসূচিতে (PM Modi)।

     

  • PM Modi: যন্তর মন্তরে গালিগালাজ করা পড়ুয়াদের ক্ষমা করলেন প্রধানমন্ত্রী, শাস্তির বদলে ‘পথ দেখানোর’ বার্তা

    PM Modi: যন্তর মন্তরে গালিগালাজ করা পড়ুয়াদের ক্ষমা করলেন প্রধানমন্ত্রী, শাস্তির বদলে ‘পথ দেখানোর’ বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠা (PM Modi) পড়ুয়াদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত (Bharat) এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি জানান, ভুলের জন্য পড়ুয়াদের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ঠেলে না দিয়ে তাঁদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। শাস্তির পরিবর্তে তাঁদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য সমাজের কাছে আবেদন জানান তিনি।

    অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী জানান, যন্তর মন্তরের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েকজন পড়ুয়া অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছিল, তা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে… দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কিছু পড়ুয়া অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষা ব্যবহার করেছে। তারা আমাকে গালিগালাজ করেছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল।” তবে একই সঙ্গে পড়ুয়াদের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। তাঁর কথায়, “শিশুরা ভুল করে। আর শৈশব এমন একটি সময়, যখন তাদের সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত।”

    ‘শাস্তি নয়, পথ দেখান’

    অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যারা আমাকে গালিগালাজ করেছে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। আমার এই সিদ্ধান্ত সমাজ মেনে নিক—এটাই আমার আবেদন।” নিজের বক্তব্য বোঝাতে একটি উদাহরণও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কখনও কখনও আমরা নিজের দাঁত দিয়ে অসাবধানতাবশত নিজের জিভ কামড়ে ফেলি এবং রক্ত বের হয়। কিন্তু আমরা দাঁত ভেঙে ফেলি না। কারণ দাঁত এবং জিভ—দু’টিই আমাদের নিজের।” অভিযুক্ত পড়ুয়াদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে তাঁদের আপন করে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছিল। তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতের চক্করে ঘোরানো বা সামাজিকভাবে হেনস্থা করা—কোনও কিছুতেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।”

    জিরো এফআইআর

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নয়ডার এক মহিলার বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে (PM Modi)। গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে “অশালীন ও আপত্তিকর” ভাষা ব্যবহার করেছেন। এর ফলে জনমনে বিরোধ তৈরি করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্য ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ নম্বর ধারা—শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান, ৩৫৩(১) নম্বর ধারা—জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন বক্তব্য এবং ৩৫৬(১) নম্বর ধারা—মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের জন্য মামলাটি সংসদ মার্গ থানায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। অভিযোগের ঘটনাস্থল যে থানার আওতায়ই পড়ুক না কেন, দেশের যে কোনও থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করা যায়। পরে সেটি সংশ্লিষ্ট এলাকার এক্তিয়ারভুক্ত থানায় তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এই ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে মামলাটি সংসদ মার্গ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    ‘ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ো’

    পড়ুয়াদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের দেশের অগ্রগতির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, “আসুন, দেশের জন্য আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই। নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নিই এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলি (Bharat)। ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আমি চাই, আপনাদের প্রত্যেকেও একইভাবে এগিয়ে যান।”  ভিডিয়োর শেষে তিনি বলেন, “গালিগালাজ কখনও কোনও সমস্যার সমাধান করে না। যারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে, তাদের সঠিক পথ দেখাই। একসঙ্গে কাজ করি। ভারতের জন্য কাজ করি।”

    নিট বিক্ষোভের অবসান

    দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলা বিক্ষোভ ২৫ জুলাই শেষ হয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে হাজার হাজার পড়ুয়া অংশ নেন। উদ্ভাবক-সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও ২৬ দিনের অনশনের সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদেই এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল (PM Modi)। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিও পালন করা হয়েছিল। পরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো-সহ একাধিক (Bharat) গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে কেন্দ্র সরকার সম্মতি জানালে আন্দোলন প্রত্যাহার করে (PM Modi) নেয় ককরোচ জনতা পার্টি।

     

  • Facebook Post: প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট ব্লক করায় মেটার ওপর কড়া নজরদারি কেন্দ্রের

    Facebook Post: প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট ব্লক করায় মেটার ওপর কড়া নজরদারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট (Facebook Post) সাময়িকভাবে ব্লক করার ঘটনায় মেটার ওপর নজরদারি আরও জোরদার করল কেন্দ্রীয় সরকার। ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে মেটার (Meta Global Team) আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষ কর্তাদের ভারতে তলব করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে মেটার ঊর্ধ্বতন কর্তাদের অ্যালগরিদমের পক্ষপাত, বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং জনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে সংস্থার দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হবে। তাঁদের একটি সংসদীয় কমিটির সামনেও হাজির হতে হতে পারে।

    মেটার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা (Facebook Post)

    ঘটনার সূত্রপাত প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। দেশের যুবসমাজকে উদ্দেশ করে ওই পোস্টে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কিছু সময়ের জন্য পোস্টটি ফেসবুকে ব্লক করে দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটার এক শীর্ষ আধিকারিককে তলব করে ঘটনার ব্যাখ্যা চায়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন বৈঠকে মূলত মেটার অ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করে, তাতে কোনও ধরনের পক্ষপাত রয়েছে কি না এবং বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে।

    মেটার আগের বক্তব্য

    এর আগে মেটা জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর পোস্টটি সাময়িকভাবে ব্লক হওয়ার পিছনে ছিল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি। ঘটনার জন্য সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমাও চাওয়া হয়। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, মন্ত্রকের কাছে এই ব্যাখ্যা যথেষ্ট মনে হয়নি। পরে মেটা সরকারকে আশ্বস্ত করে জানায়, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট জনপরিচিত ব্যক্তিদের প্রকাশিত পোস্টে কোনও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অতিরিক্ত নজরদারি ও পর্যালোচনা করা (Facebook Post) হবে। সূত্রের আরও দাবি, সংস্থাটি লিখিতভাবে সরকারকে জানিয়েছে, সংবেদনশীল বা হাইপ্রোফাইল অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একাধিক স্তরে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। সেই প্রক্রিয়ায় সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকদের নজরদারিও থাকবে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা প্রক্রিয়াগত ঘাটতির কারণে যাতে একই ধরনের ঘটনা ফের না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে মেটার তরফে জানানো হয়েছে।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ!

    এদিকে, ভারতীয় আইন লঙ্ঘন করলে অথবা নিজেদের ঘোষিত নীতি মেনে চলতে ব্যর্থ হলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে আইনি ও নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও কেন্দ্রের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি এখন আর শুধুমাত্র প্রযুক্তি সংস্থায় সীমাবদ্ধ নেই। জনমত গঠন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর তাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাই তাদের কাছ থেকে উচ্চমাত্রার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রত্যাশিত। এরই মধ্যে তেলঙ্গানায় মেটাকে ঘিরে আলাদা আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাস এবং একাধিক ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ দমন শাখা। প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বিকৃত ও এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন ছবি ও ভিডিয়ো অনলাইনে ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

    স্ক্রুটিনির মুখে মেটা!

    অভিযোগ অনুযায়ী, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে চলা বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি ও ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মেটাকে নোটিশ পাঠিয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলি কারা পরিচালনা করছিল, তা চিহ্নিত করতে তদন্তও শুরু হয়েছে। পরপর এই ঘটনাগুলির ফলে মেটার ওপর কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক নজরদারি উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে গিয়েছে। বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের কাঠামো, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়বস্তু পরিচালনা—এই তিন ক্ষেত্রেই এখন একসঙ্গে সরকারি কর্তৃপক্ষ, সংসদীয় কমিটি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার স্ক্রুটিনির মুখে পড়েছে সংস্থাটি (Meta Global Team)। আগামী দিনের বৈঠক ও তদন্তের ফলাফল ভারতে বড় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই (Facebook Post) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত এআই ভিডিও ঘিরে মামলা, মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের নামে এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)-এর সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) বিকৃত ভিডিও।ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মেটার ভারতীয় প্রধান অরুণ শ্রীনিবাস-সহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর (Meta) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিডিওগুলির উৎস কোথায়, কারা সেগুলি তৈরি করেছে এবং কীভাবে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, মেটার নিজস্ব নজরদারি ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ভিডিওগুলির প্রচার ঠেকাতে কতটা কার্যকর ছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হয়ে যাওয়ার পৃথক ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মেটার টানাপোড়েন চলছে। ওই পোস্ট পরে ফের দেখা যায়। মেটা ঘটনাটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল বলে ব্যাখ্যা করলেও, কেন্দ্র সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়, এবং সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কে এই অরুণ শ্রীনিবাস? (PM Modi)

    অরুণ শ্রীনিবাস বর্তমানে ভারতে মেটার পরিচালক এবং প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ১ জুলাই তিনি এই দায়িত্ব নেন। তার আগে তিনি ভারতে মেটার বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান ছিলেন। মেটার পক্ষ থেকেই ২০২৫ সালের জুনে তাঁর নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মেটায় যোগ দেওয়ার আগে শ্রীনিবাস হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, রিবক এবং ওলার মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন (PM Modi)। মেটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুরু হয় ২০২০ সালে। প্রথমে তিনি ভারতে সংস্থাটির গ্লোবাল বিজনেস গ্রুপের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁকে ভারতে বিজ্ঞাপন ব্যবসার পরিচালক ও প্রধান করা হয়। নতুন দায়িত্বে তিনি ভারতে মেটার ব্যবসা, উদ্ভাবন ও আয়সংক্রান্ত অগ্রাধিকারগুলিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পান। কলকাতার ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান থেকে বিপণনে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা করেছেন শ্রীনিবাস। তার আগে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হন। প্রায় তিন দশকের বিক্রয় ও বিপণন-অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    কেন মামলা দায়ের?

    পুলিশ সূত্রে খবর, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এআই ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই দুই সোশ্যাল মিডিয়াই মেটার মালিকানাধীন। তদন্তকারীরা প্রথমে জানতে চাইছেন, ভিডিওগুলি কোথা থেকে তৈরি বা প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরে কীভাবে সেগুলি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। শুধু ভিডিও নির্মাতাদের ভূমিকা নয়, যারা ওই ভিডিও আপলোড, ফের প্রকাশ বা ছড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের ভূমিকাও তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেটার নিজস্ব বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওই ধরনের বিকৃত ভিডিও শনাক্ত করে দ্রুত সরাতে পেরেছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পুলিশ এখনও পৌঁছয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন (Meta)।

    মেটা কী বলেছে?

    এফআইআর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মেটার পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, মেটার এক প্রতিনিধি তদন্তকারীদের সামনে হাজির হয়ে সংস্থার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং আইন মেনে চলার বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেছেন।হায়দরাবাদ সাইবার অপরাধ পুলিশের পক্ষ থেকে মেটার প্রতিনিধিদের ডেকে এআই ব্যবহার করে তৈরি প্রতারণামূলক বিষয়বস্তু, ভুয়ো বিজ্ঞাপন এবং অন্যান্য বিকৃত বিষয়বস্তু শনাক্ত ও সরানোর পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি সূত্রের। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট নিয়ে আলাদা চাপের মুখে মেটা

    শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরটি প্রধানমন্ত্রীর একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনার থেকে আলাদা। তবে দু’টি ঘটনাই মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও পোস্ট ফেসবুকে সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে যায়। ভিডিওটিতে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল। পরে সেটি পুনরুদ্ধার করা হয়। মেটার তরফে ঘটনাটিকে এআই-নির্ভর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং দুঃখপ্রকাশ করা হয় সংস্থার তরফে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ওই ব্যাখ্যাকে যথেষ্ট বলে মনে করেনি। তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণণ বলেন, “তারা ক্ষমা চেয়েছে এবং স্বীকার করেছে যে যা ঘটেছে তা ভুল ছিল—এটি ভালো। কিন্তু আমরা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নই… এটি যথেষ্ট নয় এবং আমরা আরও বিস্তারিত তথ্য চাইছি (PM Modi)।” এর পরেই মেটার শীর্ষ কর্তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ফলে একদিকে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট  সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে তাঁর কৃত্রিমভাবে তৈরি বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ—দু’টি ঘটনাই ভারতে মেটার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কেন বাড়ছে নজরদারি?

    ভারতে বড় সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর সরকারি নজরদারি সম্প্রতি আরও বেড়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিও, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন, পরিচয় জাল করা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে সরকারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এর পাশাপাশি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়েও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা সক্রিয় হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলির ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে—কোন বিষয়বস্তু দ্রুত শনাক্ত করা হবে, কোনটি সরানো হবে এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Meta)। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে এফআইআর শুধু একটি নির্দিষ্ট ভিডিওকে ঘিরে তদন্ত নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া -নির্ভর বিকৃত বিষয়বস্তুর দায় কার—সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায় কতটা?

    এআইয়ের সাহায্যে তৈরি ভিডিও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হওয়ায় সাধারণ ইউজারদের পক্ষে আসল ও নকল ভিডিও আলাদা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের নামে বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণেই তদন্তে শুধু ভিডিওটি কে তৈরি করেছে, তা জানাই যথেষ্ট নয়। সেটি কোন মাধ্যমে প্রথম ছড়াল, কত দ্রুত ছড়াল, কারা তা ফের প্রকাশ করল এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম সেটি শনাক্ত করতে বা সরাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছিল—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। হায়দরাবাদ পুলিশের বর্তমান তদন্ত সেই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিই সামনে নিয়ে আসছে। তবে তদন্ত যেহেতু এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তাই শ্রীনিবাস বা অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এই মামলা ভারতে এআই-নির্ভর ভুয়ো বিষয়বস্তু এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লকড হওয়ার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে যে ব্যাখ্যা-পর্ব চলছে, তার সঙ্গে এই (Meta) নতুন তদন্ত যুক্ত হওয়ায় ভারতের ডিজিটাল পরিসরে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

  • PM Modi on Paper Leak: ‘‘পেপার লিক মাফিয়াদের রেয়াত নয়’’ ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi on Paper Leak: ‘‘পেপার লিক মাফিয়াদের রেয়াত নয়’’ ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘দেশের নবীন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে, তাদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।’’ ফের ভিডিও বার্তায় প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংসদে পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) সংশোধনী বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi on Paper Leak) বলেন,‘‘পেপার লিক মাফিয়া ও দেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা খেলা করেছে তাদের ছাড়া হবে না।’’ প্রধানমন্ত্রী জানান, বহু দশক ধরে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্নফাঁসের মতো সমস্যার মোকাবিলা করে এসেছে। এই ধরনের অপরাধ লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করেছে। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ধারাবাহিকভাবে সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র।

    শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন সময়ের দাবি

    লোকসভায় বুধবারই প্রশ্নফাঁস-বিরোধী সংশোধনী বিল (পাবলিক এগজামিনেশন-প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস্— অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬) পাস হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার তা রাজ্যসভাতেও পাস হয়েছে। তার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন করে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে ওই ভিডিওতে তিনি জানিয়েছেন, দেশের পরীক্ষা পদ্ধতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ভাবেই ধীরে ধীরে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে তাঁর সরকার। মোদি বলেন, ‘‘পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রাজ্যগুলির পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছি। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে পরীক্ষায় দুর্নীতি রোধ করতে হবে।’’

    দু’মিনিটের ভিডিও বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    ২০২৪ সালের প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিলে কিছু সংশোধন করে এই সংক্রান্ত অপরাধে শাস্তি প্রায় দ্বিগুণ করতে চাইছে সরকার। খসড়া বিলে মন্ত্রিসভা আগেই অনুমোদন দিয়েছিল। তা গত সোমবার লোকসভায় পেশ করা হয়। দু’দিন আলোচনার পর বুধবার ধ্বনি ভোটে লোকসভায় ওই বিল পাস হয়েছিল। রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে তা পাস হয়েছে বৃহস্পতিবার। বিল সংসদের উচ্চ কক্ষে পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী দু’মিনিটের ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘‘দেশের পরীক্ষা পদ্ধতিকে নির্ভরযোগ্য করে তোলার জন্য টাস্ক ফোর্স গঠন থেকে শুরু করে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত— অনেক কিছু করা হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রত্যেক রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই ধরনের প্রশ্নফাঁসের সমস্যা হচ্ছে। এতে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বার বার বিপন্ন হচ্ছে। দেশব্যাপী, রাজ্য এবং কেন্দ্রের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন অনিবার্য।’’

    কঠোর আইনই একমাত্র পথ

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাঁর কথায়, ‘‘পেপার মাফিয়া ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্র, যারা দেশের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে, তাদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন অত্যন্ত প্রয়োজন।’’ সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর এবার কেবল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষা। তা পেলেই বিলটি আইনে পরিণত হয়ে যাবে।

    ‘পরীক্ষা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

    সংসদের দুই কক্ষেই বিলটি নিয়ে দু’দিন ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘প্রশ্নফাঁস যারা ঘটাচ্ছে, এই ধরনের কোনও গোষ্ঠীকে বরদাস্ত করা হবে না। তার জন্য কঠোর আইন জরুরি। আমরা সেই মতো সংসদে বিল পেশ করেছিলাম। সংসদের দুই কক্ষেই অনেক সদস্য এই সংক্রান্ত আলোচনায় যোগ দিয়েছেন। আজ উভয় কক্ষে বিলটি পাস হয়েছে। পরীক্ষা পদ্ধতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ মিটল। এই ধরনের কাজ চলতে থাকবে। আসুন আমরা সকলে মিলে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন পূরণ করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলি।’’

    কী আছে সংশোধনী বিলটিতে?

    এই বিলে প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনও অনিয়মে কঠোর শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে। রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির হাতে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত বা পরীক্ষায় যে কোনও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল হতে পারে। ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানারও বিধান রয়েছে। তা ছাড়া, সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে এই বিলে ন্যূনতম সাত বছরের জেল এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম হলে তার মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ২০২৪ সালের আগে ছিল না। প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত বিতর্কের মুখে ওই বছর আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তার প্রাথমিক লক্ষ্যই হল ইউপিএসসি, এসএসসি, রেল, ব্যাঙ্কিং সেক্টরে নিয়োগের পরীক্ষা, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) দ্বারা পরিচালিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁস ঠেকানো। এ বার সেই পুরনো আইন সংশোধন করে শাস্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করছে সরকার। কেন্দ্র সরকারের দাবি, এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করা হবে এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

LinkedIn
Share