Tag: news in bengali

news in bengali

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বাড়াতে রুশ আর-৩৭এম ভেরি-লং-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার বিষয়ে ভারত এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ন্যাটো নামকরণ ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’

    ন্যাটো নামকরণ অনুযায়ী, আর-৩৭এম মিসাইলকে ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’ বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র সুখোই-৩০ এমকেআই-তে যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনা হাতে থাকা প্রচলিত আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার একটি অস্ত্র পাবে। তবে সর্বোচ্চ ঘোষিত পাল্লা এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর পাল্লা এক বিষয় নয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি কোন উচ্চতা থেকে ছোড়া হচ্ছে, উৎক্ষেপণের সময় বিমানের গতি কত, লক্ষ্যবস্তু কত দূরে এবং লক্ষ্য কীভাবে গতিপথ পরিবর্তন করছে—এসব বিষয়ের উপর প্রকৃত কার্যকর পাল্লা নির্ভর করে।

    কেন এত শক্তিশালী আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম মূলত কাছাকাছি দূরত্বের বিমানযুদ্ধ বা ডগফাইটের জন্য তৈরি নয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকে অনেক দূর থেকেই আক্রমণ করা।

    এই তালিকায় রয়েছে—

    • ● এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) বিমান
    • ● আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্ম
    • ● আকাশে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম

    এই ধরনের বিমান সরাসরি শত্রু যুদ্ধবিমানের মতো আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন না করলেও আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অ্যাওয়াক্স বিমানগুলি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে শত্রু বিমান শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ট্যাঙ্কার বিমান যুদ্ধবিমানগুলিকে দীর্ঘসময় আকাশে থাকার সুযোগ দেয়। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্মগুলি শত্রুর রেডার, যোগাযোগ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এই সহায়ক বিমানগুলিকে দূরপাল্লা থেকে সরিয়ে দিতে পারলে গোটা শত্রু বিমান অভিযানের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    আর-৩৭এমকে কেন ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ বলা হয়?

    আর-৩৭এম এমন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলি সাধারণত যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক পিছনে অবস্থান করে। একটি অ্যাওয়াক্স বিমান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারিতে থাকে না। নিরাপদ দূরত্বে থেকে সেটি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজেদের যুদ্ধবিমানকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। দূরপাল্লার আর-৩৭এম-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র সেই তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বকেই চ্যালেঞ্জ করতে পারে। একইভাবে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার কিংবা ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমানও শত্রুর বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্ল্যাটফর্মগুলির উপর দূর থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে শত্রুকে তার যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমানগুলিকে আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে হতে পারে। এই কারণেই আর-৩৭এম-কে অনেক সময় ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের মারণ ক্ষমতা কত দূর?

    আর-৩৭এম-এর পাল্লা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। কিছু রিপোর্টে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাল্লার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে কার্যকর পাল্লা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। উৎক্ষেপণের উচ্চতা, যুদ্ধবিমানের গতি, লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব এবং লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি—সবকিছুই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। আর-৩৭এম-এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় ম্যাক ৬ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.০৬ মিটার, ওজন প্রায় ৫১০ কিলোগ্রাম এবং এতে প্রায় ৬০ কেজির ফ্র্যাগমেন্টেড ওয়ারহেড রয়েছে। অর্থাৎ আকার ও ওজন—দুই দিক থেকেই এটি অত্যন্ত বড় আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।

    কীভাবে লক্ষ্য খুঁজে নেয় আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে এগোতে পারে। উড়ানের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্যও পাওয়া যায়। এরপর লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছলে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার সিকার সক্রিয় হয়ে লক্ষ্যকে অনুসরণ করতে পারে। অর্থাৎ উৎক্ষেপণকারী সুখোই-৩০ এমকেআই-কে পুরো উড়ানজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একইভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করে যেতে হয় না। শেষ পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার ব্যবস্থা লক্ষ্য শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারে।

    সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম-এর সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে বিপুল সংখ্যায় থাকা সুখোই-৩০ এমকেআই ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান। বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র বহনে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের সুখোই-৩০ এমকেআই-এর শক্তিশালী রেডার, দীর্ঘসময় আকাশে থাকার ক্ষমতা এবং বড় অস্ত্র বহনের সক্ষমতার সঙ্গে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আর-৩৭এম-এর সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষমতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান নয়, শত্রুর পিছনের সারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকেও লক্ষ্য করার সুযোগ বাড়বে।

    চিন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় কেন দরকার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র?

    আধুনিক আকাশযুদ্ধে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ বা বিআরআর যুদ্ধের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ যুদ্ধবিমানগুলি একে অপরের খুব কাছে গিয়ে লড়াই করার পরিবর্তে অনেক দূর থেকেই প্রতিপক্ষকে শনাক্ত ও আঘাত করার চেষ্টা করছে। চিনের পিএল-১৫-এর মতো দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে। পাকিস্তানও আধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগিয়েছে। ভারত নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র, বিশেষ করে অস্ত্র পরিবারের উন্নত সংস্করণ নিয়েও কাজ করছে। কিন্তু দেশীয় এই প্রকল্পগুলির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলতে থাকায় আর-৩৭এম-এর মতো ইতিমধ্যে তৈরি ও ব্যবহৃত একটি অস্ত্র দ্রুত দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা দিতে পারে।

    ‘সুপার সুখোই’-এর সঙ্গে ভয়ঙ্কর সমন্বয়

    ভারত ইতিমধ্যেই সুখোই-৩০ এমকেআই-কে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য ‘সুপার সুখোই’ আধুনিকীকরণ কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে। এই আধুনিকীকরণের আওতায় বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● উন্নত এইএসএ রেডার
    • ● অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা
    • ● উন্নত অ্যাভিওনিক্স
    • ● নতুন সেন্সর ও মিশন ব্যবস্থা
    • ● দেশীয় ও বিদেশি দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● দেশীয় অ্যাস্ট্রা ক্ষপণাস্ত্র পরিবারের বিভিন্ন সংস্করণের সংযুক্তি
    • ● ব্রহ্মোস-এর দীর্ঘপাল্লার সংস্করণের মতো অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● আর-৩৭এম-এর মতো অতিদূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সংযুক্তি

    ফলে সুখোই-৩০ এমকেআই আগামী বহু বছর ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান হিসেবে কার্যকর থাকার সুযোগ পাবে।

    সুখোই-৩০ এমকেআই-তে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের কী লাভ?

    আর-৩৭এম সংযুক্তির সম্ভাব্য গুরুত্ব শুধু নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশযুদ্ধের কৌশলেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    এর মাধ্যমে—

    • ● প্রথমত, ভারতীয় যুদ্ধবিমান আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ পাবে।
    • ● দ্বিতীয়ত, শত্রুর অ্যাওয়াক্স, ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্ল্যাটফর্মের উপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
    • ● তৃতীয়ত, শত্রুর বিমানবাহিনীকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে বাধ্য করা যেতে পারে।
    • ● চতুর্থত, স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ভারতের আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
    • ● পঞ্চমত, উন্নত রেডার, সেন্সর এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থার সঙ্গে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার সমন্বিত আকাশ অভিযান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে আর-৩৭এম

    আর-৩৭এম ইতিমধ্যেই রুশ যুদ্ধবিমানগুলির সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার মিগ-৩১ এবং বিভিন্ন সুখোই যুদ্ধবিমান। ইউক্রেন যুদ্ধে আর-৩৭এম ব্যবহারের বিভিন্ন রিপোর্টও সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শত্রু যুদ্ধবিমানকে নিজেদের অবস্থান, গতি এবং পরিচালন এলাকার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করতে পারে।

    বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক আকাশযুদ্ধের সমীকরণ

    ভারতের সুখোই-৩০ এমকেআই বহরে আর-৩৭এম যুক্ত হওয়ার খবর সত্যি হলে তা শুধু ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রভাণ্ডারেই নতুন সংযোজন হবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আকাশশক্তির ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক বিমানযুদ্ধে শুধু কতগুলি যুদ্ধবিমান রয়েছে, সেটাই এখন মূল বিষয় নয়। কোন বিমান কত দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে, কত দূরের লক্ষ্যকে আঘাত করতে পারে এবং কত দ্রুত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য পেতে পারে—এসব বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কোনও পক্ষই চুক্তি নিয়ে খোলসা করেনি

    এই জায়গাতেই আর-৩৭এম এবং ‘সুপার সুখোই’-এর সম্ভাব্য সমন্বয় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম কেনার ১.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং নির্দিষ্ট সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে রিপোর্টভিত্তিক সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবেই দেখা উচিত। চূড়ান্ত চুক্তি, অস্ত্রের সংখ্যা, সংযুক্তিকরণের সময়সূচি এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সামনে এলে ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের প্রকৃত সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হবে।

  • Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ভারতকে “অনুপ্রবেশমুক্ত” করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ২৫ অগাস্ট কথাগুলি বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশ দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জন-ভারসাম্যের ক্ষেত্রে (Infiltrator Free Nation) বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। গোয়েন্দা ব্যুরোর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, ভারত কোনও ধর্মশালা বা আশ্রয়কেন্দ্র নয়। তাঁর বক্তব্য, দেশের মাটিতে বসবাসের অধিকার কেবল নাগরিকদেরই রয়েছে। তিনি বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মোদি সরকার দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত আট মাসে তিনি দেশের সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফর করেছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে চার দফা কৌশল সংক্রান্ত একটি নথিও রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার “৩৬০ ডিগ্রি নেটওয়ার্ক” ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান শাহ।

    নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনবিন্যাসের সঙ্গে অনুপ্রবেশের যোগ (Amit Shah)

    শাহ তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোর মধ্যে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের উপরও পড়ে। সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, বেআইনি অভিবাসন রোধ এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই বিষয়গুলিও সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শাহ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    চার দফা সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশল

    গত আট মাসে সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফরের কথা উল্লেখ করে শাহ জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে চার দফা কৌশল সম্বলিত একটি নথি রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোই এই কৌশলের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

    সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এর আগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেছিলেন শাহ। অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতেই এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

    সন্ত্রাস দমনে প্রহার কৌশল

    সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার সম্পূর্ণ সহযোগী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহের বক্তব্য, শুধু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবাদী ঘটনা মোকাবিলা করলেই হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও জোর দেন তিনি।

    তাঁর দাবি, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ—এই বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির বিরুদ্ধে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এই অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন শাহ।

    নকশালবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও উত্তর-পূর্বের অশান্তি

    শাহ বলেন, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ ছিল দেশের তিনটি বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। তাঁর দাবি, সরকার এই সমস্যাগুলির মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

    একই সঙ্গে মাদক, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অশান্তির মতো সমস্যার গুরুত্ব আগের সরকারগুলির আরও আগে উপলব্ধি করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় দেরি হওয়ায় দেশকে কয়েক দশক ধরে তার পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের উদাহরণ হিসেবে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, এক রাতের মধ্যেই সংগঠনটির সম্পূর্ণ ক্যাডার কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার উদাহরণ হিসেবে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন (Infiltrator Free Nation)।

    বিদেশে পালিয়ে থাকা ২৭৪ অভিযুক্তকে দেশে ফেরানো

    বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শাহ (Amit Shah)।

    তাঁর বক্তব্য, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৭৪ জন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ভারতীয় আইনের মুখোমুখি করার জন্য প্রতিটি রাজ্যকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে বহু সংস্থার সমন্বিত কেন্দ্রের আধুনিকীকরণের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর মতে, এই প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন স্তরে কার্যকর ফলাফল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। সংগঠিত অপরাধ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান এবং সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।

    এক বছরের মধ্যে নতুন ফৌজদারি আইন পুরোপুরি কার্যকর

    দেশের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে বলে জানান শাহ।

    তাঁর দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে। এমনকি তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দোষী সাব্যস্ত করার হার ২৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সংক্রান্ত আলোচনাকে শুধু বর্তমান হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস দেওয়ার উপরও জোর দেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঝুঁকি বড় হুমকিতে পরিণত হওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করে তার মোকাবিলার কৌশল তৈরি করতে হবে।

    পুলিশিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের উপর জোর

    তরুণ পুলিশ ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের আরও বেশি করে তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের আহ্বান জানান শাহ।

    তাঁর মতে, বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যকে একত্রিত করে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং অপরাধের ধরন ও প্রবণতা চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতে হবে। এর মাধ্যমে এমন একটি পূর্বাভাসভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে, যেখানে বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করা যাবে।

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও এখন একাধিক উৎস থেকে (Infiltrator Free Nation) তথ্য একত্রিত করে উন্নত বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন শনাক্ত করার দিকে এগোচ্ছে (Amit Shah)।

    মাদকমুক্ত ভারতের জন্য তিন স্তরের কৌশল

    শাহের বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযানও গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সমস্ত রাজ্যের পুলিশকে মাদক নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিভঙ্গি সংক্রান্ত ২০২৬-২০২৯ নথি বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার উপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    মাদকমুক্ত ভারত গড়তে শনাক্তকরণ, ব্যাহত করা এবং ধ্বংস—এই তিন স্তরের কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব দেন শাহ। এর মাধ্যমে মাদক চক্র শনাক্ত করা, তাদের কার্যকলাপ ব্যাহত করা এবং শেষ পর্যন্ত বেআইনি মাদক ব্যবসাকে সহায়তা করে এমন গোটা পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শাহের বক্তব্যের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল লড়াই করতে পারে একমাত্র ভারত।”

    ভবিষ্যতের সঙ্কটের পূর্বাভাস দেওয়ার বার্তা

    বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা পরিবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে জাতীয় নিরাপত্তা নীতি তৈরি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন শাহ।ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, জ্বালানি সঙ্কট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, বাড়তে থাকা জঙ্গিবাদ, সাইবার যুদ্ধ, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চক্রের মতো বিষয়গুলিকে বিবেচনায় রাখার কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলি প্রথম পর্যায়েই চিহ্নিত করে বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর লক্ষ্য—একটি নিরাপদ, অনুপ্রবেশমুক্ত এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা (Amit Shah)।

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় শাহের বার্তা

    সাম্প্রতিক মাসগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন শাহ। ২২ মে তিনি জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্তে এক বছরের মধ্যে স্মার্ট সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য (Infiltrator Free Nation)।

    ২৬ মে দেশজুড়ে অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা জানায় সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনসংখ্যার পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়।

    ২৮ মে শাহ দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে নিয়মিত অনুপ্রবেশ হয়েছে এবং এখন অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তিনি অনুপ্রবেশকারীদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। বেআইনি অভিবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানেরই অংশ হিসেবে এই মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।

    যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে শাহের বক্তব্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একাধিক দিক উঠে আসে। অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নজরদারি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, মাদক এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত—সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    একই সঙ্গে প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নীতিকে শুধু বর্তমান হুমকির মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে কী ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে, তারও আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শাহের বক্তব্যের মূল বার্তা হল, কোনও হুমকি বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্যের (Infiltrator Free Nation) উপর নির্ভর করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করাই সরকারের (Amit Shah) লক্ষ্য।

     

     

  • Nepal Flash Floods: ভোটে কোশীর কাছেই নিখোঁজ কলকাতার পর্যটক দল, নেপালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যবাসীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: ভোটে কোশীর কাছেই নিখোঁজ কলকাতার পর্যটক দল, নেপালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যবাসীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। উদ্বেগ বাড়ছে বাংলায়। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়ের মধ্যে ৭১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে কলকাতার একটি ট্রাভেল ক্লাবের সঙ্গে কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় (Kailash Mansarovar yatra) যাওয়া ৩০ পর্যটক রয়েছেন। খোঁজ নেই ওই দলের দুই ম্যানেজারেরও। তাঁদের সঙ্গে শেষ বার যোগাযোগ হয়েছিল বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ। নেপালের এই হড়পা বান ও বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একইসঙ্গে দিয়েছেন পাশে থাকার বার্তা।

    রাজ্যবাসীর পাশে থাকার বার্তা শুভেন্দুর

    নেপালে বিপর্যয়ের খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, “নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়কর মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, সেই সমস্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। নেপালের মানুষের পাশে আমরা আছি।” কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের অধিকাংশই নিখোঁজ। ১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ। এই খবর শুনেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্য সরকার প্রতিবেশী নেপালের পাশে রয়েছে। তিনি লেখেন, “১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক তথা কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় যাওয়া তীর্থযাত্রীদের নিখোঁজ হওয়ার খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা নেপাল ভ্রমণে গিয়েছেন, সেই সকল তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের অথবা কর্মসূত্রে যাওয়া ব্যবসায়ী ও কর্মীরা যারা এই দুর্যোগের দিনে বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন, সেই সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।”

    মানস সরোবর যাত্রায় কলকাতার দল

    ‘চলো যাই’ নামে কলকাতার ওই ট্রাভেল ক্লাবের তরফে জানা গিয়েছে, ৩০ জনের দলে এক আমেরিকা-প্রবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন। দলে আছেন কলকাতার কসবার কয়েক জন বাসিন্দা। এছাড়া, চন্দননগর এবং বারাসতের কয়েক জন পর্যটকও নেপালে আটকে পড়েছেন বলে খবর। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও মেলেনি। পর্যটকদের দলটি ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয়েছিল। ২২ আগস্ট পৌঁছয় নেপালে। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে থাকার পর বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরিয়ে মানসরোবরের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। সকাল পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কয়েক জন পর্যটক সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও বিভিন্ন ভিডিও-ও পোস্ট করেছিলেন। তার পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

    পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    দলের দুই ম্যানেজার জয়ন্ত সান্যাল ও নৃপেন সরকারের ফোনে রোমিং পরিষেবা ছিল। তবু তাঁদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ হড়পা বানের জেরে নেপালের ভোটে কোশী (Bhote Koshi River) নদীর জল হঠাৎ বেড়ে যায়। সেকেন্ডের মধ্যে ধুলিস্যাৎ হয় একাধিক গ্রাম। যে এলাকায় বিপর্যয় ঘটেছে গতকাল, পর্যটকদের রুটও সেই অঞ্চলের মধ্যেই পড়ে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পর্যটকদের খোঁজে নেপালের সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল সংস্থার তরফে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। বিপর্যয়ের পরে ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও কার্যত অচল। ফলে পর্যটকেরা কোথাও নিরাপদ জায়গায় আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

    বিভিন্ন এলাকায় আটকে পর্যটকরা

    হুগলির আরামবাগ থেকে যাওয়া আরও ৬৫ জন পর্যটক নেপালের চেতনপার্ক এলাকায় আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অবশ্য যোগাযোগ রয়েছে। বিপর্যয়স্থল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে থাকায় সরাসরি হড়পা বানের কবলে পড়েননি এই পর্যটকেরা। তবে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। নেপালে ছবির শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীও। তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা যায়নি। ছেলে তমোঘ্ন জানিয়েছেন, তাঁরা বিপর্যস্ত এলাকার কাছাকাছি নেই। মূল সমস্যা যোগাযোগ এবং বিমান পরিষেবায়। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত আশঙ্কার কারণ নেই।

    রাজ্য সরকারের হেল্পলাইন নম্বর

    পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের সকলের নিরাপত্তা, দ্রুত উদ্ধার এবং সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের ঠিক কতজন ব্যক্তি নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সহায়তা ও উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাস, নেপাল (ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ) হল:

    +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০

    ভবানী ভবনে পৃথক পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এই নম্বরগুলি হল:

    ০৩৩২৪৭৯৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১।

    নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবল বৃষ্টি এবং ভোটে কোশী নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার জেরে এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলের তোড়ে সেতু, গ্রাম এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এর (Nepal Floods) মধ্যে রয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত (PM Modi)। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস (C-130 Super Hercules) বিমানে করে নেপালে ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

    নেপালকে সমবেদনা ভারতের (Nepal Floods)

    ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর সমবেদনা এবং সহায়তার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির “উষ্ণ সংহতির বার্তা” এবং “উদার সহায়তার প্রস্তাবে”র জন্য কাঠমান্ডু গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বলেন্দ্র বলেন, ‘‘এই সংহতির প্রকাশ আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এই সম্পর্ককে আমরা গভীরভাবে মূল্য দিই।’’

    ‘‘নেপালের বোন ও ভাইদের পাশে ভারত’’

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নেপালের মানুষের পাশে ভারতের থাকার কথা জানান। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ভারত সব ধরনের সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মোদি বলেন, ‘‘এই কঠিন সময়ে ভারতের মানুষ নেপালের তাঁদের বোন ও ভাইদের পাশে রয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, ভারত নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দল উদ্ধার ও ত্রাণকাজ নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

    ভোটে কোশি নদীর জলস্ফীতিতে ভয়াবহ বন্যা

    বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলে আচমকাই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোটে কোশি নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ফলে রসুয়া ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অঞ্চলগুলি তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি নুওয়াকোট জেলায়ও বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

    প্রবল জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বসতি। একাধিক সেতু ভেসে গিয়েছে এবং অন্তত এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যকলাপ ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পাশাপাশি ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনোও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নেপালি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৫৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। সব (Nepal Floods) মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬০-এ পৌঁছেছে।

    তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এখনও কয়েকশো মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল দুর্গত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদার নীচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (PM Modi)।

    নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয় নাগরিক

    নেপালের এই ভয়াল বন্যায় অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিদেশমন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। নেপালের পাশাপাশি চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, বিশেষ করে রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে (Nepal Floods)।

    ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত

    দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে করে প্রায় ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নেপালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিক্যাল কিট এবং সৌরচালিত বাতিও রয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সৌরবাতি উদ্ধারকাজে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও একটি সি-১৭ (C-17) সামরিক পরিবহণ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী দ্রুত নেপালে পাঠানো হতে পারে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকারী দল ও বিশেষ সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

    সীমান্তজুড়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান

    রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত অঞ্চল নেপাল ও চিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় সেখানে বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য ভারত নেপাল ও চিন—দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই সমন্বয় রেখে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থলপথের পাশাপাশি বিমানপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন

    এই পরিস্থিতিতে ভারতের দ্রুত সাহায্য শুধু উদ্ধার ও ত্রাণকাজেই নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগের সময়ে ভারতের এই সহায়তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেই মনে করছে কাঠমান্ডু (নেপালের রাজধানী)। নেপালে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের (PM Modi) নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য (Nepal Floods)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধান (PM Modi) এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ (Nepal Floods)।

     

  • Cough Syrup Side Effects: শিশুর কাশি সারাতে কফ সিরাপ দিচ্ছেন? বিপদ হতে পারে! বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    Cough Syrup Side Effects: শিশুর কাশি সারাতে কফ সিরাপ দিচ্ছেন? বিপদ হতে পারে! বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঘন ঘন আবহাওয়ায় পরিবর্তন। কখনো একনাগাড়ে বৃষ্টি, আবার কখনো তীব্র রোদ, গরম! আর এই পরিস্থিতিতে সর্দি-কাশির দাপট বাড়ছে। বিশেষত শিশুদের সমস্যা আরও বেশি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার এই মরশুমে স্কুল পড়ুয়াদের ভোগান্তি বাড়ে। অনেক সময়েই তাদের বৃষ্টিতে‌ ভিজতে হয়, আবার কখনো তীব্র গরমে ঘামে ভিজে যায়। ফলে নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের দাপট বাড়ে। কাশি-সর্দিতে নাজেহাল হয়। কিন্তু, সম্প্রতি, কাশির ওষুধে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চার বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনো রকম কাশির ওষুধ বা কফ সিরাপ দেওয়া যাবে না। চার বছর বয়সের উপরের শিশুদের কফ সিরাপ দেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অবশ্যই জরুরি। তবে অধিকাংশ সময়েই কফ সিরাপ বা কাশির ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    কেন শিশুকে কাশির ওষুধ দেওয়ায় আপত্তি?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ক্লোরফেনিরামিন ম্যালিয়েট একটি অ্যান্টিহিস্টামিন গোত্রের ওষুধ যা সর্দি, হাঁচি ও নাক দিয়ে জল পড়া বন্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। ফিনাইলেফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড সর্দি কমাতে ও সাইনাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, এই দুই উপাদান মিশিয়ে যে ওষুধ তৈরি হচ্ছে সেটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক। একাধিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ওষুধ খাওয়ালে শিশুদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা, ঘুমের অভ্যাস পাল্টে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই ওষুধ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে এমন ওষুধ খেতে থাকলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। সিরাপে ডোজ়ের পরিমাণ যা বলা থাকে, তার চেয়ে বেশি খেয়ে ফেললে শিশুর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। নানান শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

    ওষুধের পরিবর্তে কোন ঘরোয়া উপাদানেই ভরসা বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে কয়েকটি দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। পাশপাশি কিছু ঘরোয়া উপাদানেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।

    এসি ব্যবহারে বাড়তি নজরদারি!

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এসির ব্যবহারে রাশ জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, বন্ধ ঘরে এসির ঠাণ্ডা হাওয়া নানান ভাইরাস ঘটিত রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বৃষ্টিতে ভেজার পরে এসি চালিয়ে থাকলে সর্দি-কাশির ভোগান্তি বাড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। মরশুমের নানান ভাইরাসের দাপট বাড়তে পারে। তাই বর্ষায় এসি চালিয়ে ঘুমোনো একেবারেই উচিত নয়। কিছুটা সময় এসি চালানোর পরে বন্ধ করে দিতে হবে। তাঁদের পরামর্শ, রাতে এসি চললে অবশ্যই গায়ে চাদর দেওয়া জরুরি। তাহলে সরাসরি কৃত্রিম ঠাণ্ডা হাওয়া লাগবে না।

    লবঙ্গ-এলাচ দেওয়া গরম জল!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাঙালির রান্নাঘরের পরিচিত একাধিক মশলা সর্দি-কাশি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর এগুলোর খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্ষার মরশুমে শিশুদের সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে লবঙ্গ এবং এলাচ দিয়ে ফোটানো গরম জল এক কাপ দেওয়া যেতে পারে। লবঙ্গ এবং এলাচ একাধিক ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। বিশেষত শ্বাসনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

    সব্জিতে আদার ব্যবহার বিশেষ উপকারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে এবং শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আদা সবচেয়ে উপকারি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আদায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। ফলে, যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।‌ সব্জি বা মাছ, যেকোনো পদ রান্নার সময় উপকরণে আদা বাটা ব্যবহার করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে।

    মধু ও তুলসী পাতার মিশ্রণ!

    কাশি ও সর্দি হলে সকালে কয়েকটি তুলসী পাতা বেঁটে তার সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষত কাশি কমাতে বিশেষ সাহায্য করবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে তুলসী পাতা। সর্দি-কাশি নিরাময়ে মধু বিশেষ উপকারি। তাই এই দুই উপাদান একসঙ্গে খেলে সর্দি-কাশির সমস্যা কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Nepal Floods: নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়-সহ ৩৮৪ পর্যটক

    Nepal Floods: নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়-সহ ৩৮৪ পর্যটক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Floods) অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিদেশিদের তালিকায় রয়েছেন ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ভোতে কোশি নদীর জল আচমকা বেড়ে গিয়ে রাসুয়া, ধাদিং এবং কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নুয়াকোট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াল বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতে নদীর আশপাশের (Indians Missing) বহু বসতি, বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেসে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, নদীতীরবর্তী একাধিক এলাকায় যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্যায় নেপালে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্তারা। নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের পাশাপাশি রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকও। ফলে এই বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু নেপালের পর্যটন ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, একাধিক দেশের নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    নদীর জল বাড়তেই তছনছ বিস্তীর্ণ এলাকা (Nepal Floods)

    স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোতে কোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার পর প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ে রাসুয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। নদী তীরবর্তী বসতিগুলির বহু বাড়িঘর মুহূর্তের মধ্যে জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু যানবাহন স্রোতে ভেসে যায়, ভেঙে পড়ে একটি আস্ত ধাতব সেতু। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নদীর দু’পাশে থাকা গোটা গোটা বসতি বানের জলে তলিয়ে যায়। টেলিভিশন সম্প্রচারে দেখা গিয়েছে, বহু বাড়ি চারদিক থেকে বন্যার জলের মধ্যে আটকে গিয়েছে। কোথাও আবার প্রবল স্রোতে যানবাহন ভেসে যাচ্ছে, কোথাও ভেঙে পড়ছে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ (Indians Missing) সেতু। রাসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নদীর আশপাশে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখানে ব্যাপক প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।” তাঁর এই সতর্কবার্তার পর নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে (Nepal Floods)।

    আত্মীয় নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আতঙ্ক

    বন্যার ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে রাসুয়ার এক স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বি কে জানিয়েছেন, নদীর পাশের বহু বসতি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “যেদিকেই তাকাই, সর্বত্র ধ্বংসের চিত্র দেখতে পাচ্ছি। নদীর পাশের বসতিগুলি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। আমার নিজের পাঁচজন আত্মীয়ও নিখোঁজ।” এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন তাঁদের পরিবারগুলি। বিশেষ করে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসার পর তাঁদের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজে বাধা

    নেপালের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন জলস্তর ক্রমেই বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছতে পারছে না। নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, শিয়াপ্রু বেসি এবং তিমুরে এলাকায় বন্যার জল না কমা পর্যন্ত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আকাশপথে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে (Nepal Floods)। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকস্মিকভাবে এতটা বন্যা কেন হল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই একই নদীতে গত বছরও ভয়াবহ হড়পা বান হয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে সেই বন্যার সঙ্গে একটি হিমবাহ-হ্রদের জল বেরিয়ে যাওয়ার যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল। এবারের ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রাকৃতিক কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    নেপালের পাশাপাশি প্রতিবেশী তিব্বতেও বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। নেপাল সীমান্তের কাছে গিরং এলাকায় প্রবল বন্যার সঙ্গে কাদামাটির ধস নামে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করেছেন (Indians Missing)। কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। ফলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি।

    ভারতীয় পর্যটকদের খোঁজে জরুরি সহায়তা

    নিখোঁজদের তালিকায় ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় থাকায় তাঁদের পরিবারগুলির জন্য জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। কোনও পর্যটকের বিষয়ে তথ্য জানতে বা সহায়তা চাইতে সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

    নেপাল পর্যটন বোর্ডের জরুরি সহায়তা নম্বর: ১২৩৪

    পর্যটক সহায়তা নম্বর: ১১৪৪

    পর্যটক পুলিশের নম্বর: ৯৮৫১২৮৯৪৪৫

    নেপাল প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গমতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় এখনও পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে (Nepal Floods)।

    নিখোঁজ ৩৮৪ জন

    নেপালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চলগুলির মধ্যে রাসুয়া ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই বন্যা শুধু স্থানীয় জনজীবনেই আঘাত করেনি, পর্যটন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষতির কারণে আগামী দিনে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে (Indians Missing)। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ ৩৮৪ জনকে নিরাপদে খুঁজে বের করা। বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটক ও অনাবাসী ভারতীয়দের পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জলস্তর কমার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে (Nepal Floods)।

     

  • UN Report: ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’! রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য কমিটির মন্তব্য খারিজ ভারতের

    UN Report: ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’! রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য কমিটির মন্তব্য খারিজ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (CERD)-র সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণকে কড়া ভাষায় খারিজ করল কেন্দ্র। বুধবার বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, কমিটির কিছু মন্তব্য “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ”। ভারতের বক্তব্য, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে একতরফা সাধারণীকরণ করা হয়েছে। জেনেভায় গত ১১ ও ১২ আগস্ট ভারতের ১১তম পর্যায়ের পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপুঞ্জের বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি। এই পর্যালোচনা ছিল আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ সনদ (ICERD)-এর অধীনে একটি নিয়মিত চুক্তিভিত্তিক পর্যালোচনা। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত গঠনমূলক মনোভাব নিয়েই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল এবং বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের প্রতিশ্রুতি “দৃঢ় ও অবিচল”।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিদ্বেষপূর্ণ

    পর্যালোচনার সময় ভারত তার সংবিধানপ্রদত্ত সুরক্ষা, বিস্তৃত আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদী সামাজিক চরিত্র এবং পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। পর্যালোচনা বৈঠকেই ভারতীয় প্রতিনিধিদল কমিটির কিছু “বিস্তৃত সাধারণীকরণ”, “প্রমাণহীন অভিযোগ” এবং আইসিইআরডি-এর নির্ধারিত সীমার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া মেনেই কমিটির পর্যবেক্ষণের জবাব দেবে ভারত। তবে বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ” মন্তব্য ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।

    কী অভিযোগ তুলেছে সিইআরডি?

    ভারতকে নিয়ে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ কমিটি (CERD) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উপর “বড় আকারের লঙ্ঘন”-এর অভিযোগ সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে জাতিগত ও জাতি-ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও উপজাতি জনগোষ্ঠী, তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত—এবং অ-নাগরিকদের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (UNCERD-UN Committee on the Elimination of Racial Discrimination)-র তাদের সর্বশেষ রিপোর্টে বলেছে ভারতে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম এবং তফশিলি জাতি, উপজাতি ও রোহিঙ্গা জনজাতিদের উপর আক্রমণ নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। ভারতে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ (hate speech) এবং ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ (hate crimes) মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে প্রকাশিত প্রেস নোটে ওই সংস্থা বলেছে, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এসব বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ‘জবাবদিহিতা নিশ্চিত’ করতে ভারত সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই নয়া দিল্লির তরফে প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রিপোর্টটি প্রত্যাখ্যান করার কথা ঘোষণা করেন।

    সিইআরডি কী

    সিইআরডি হল একটি রাষ্ট্রসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি, যার মূল কাজ রাষ্ট্রপক্ষগুলি আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ সনদ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে তা পর্যবেক্ষণ করা। রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ‘বিশেষ করে ২০১৭ সালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরে সংঘটিত পহেলগাঁও হামলার পর’ রোহিঙ্গা, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বেড়েছে। কমিটির মতে, পুলিশি তল্লাশি চৌকি গুলিতে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রোফাইলিং বা (racial profiling) করা হচ্ছে, যার ফলে ‘যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক’ করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ অসম সহ বিভিন্ন রাজ্যে থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাকের (pushback)-এর বিষয়টি সরাসরি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। কমিটি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ‘রোহিঙ্গা, বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ জরুরিভাবে মোকাবিলা করতে, তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে, সম্মিলিতভাবে বহিষ্কার থেকে বিরত থাকতে এবং অ-প্রত্যাবর্তনের‌ (non-refoulement) নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।

    ভারতের পাল্টা বক্তব্য

    জেনেভায় ভারতের স্থায়ী মিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় ভারতের ২০২৩ সালে জমা দেওয়া ১২তম ও ২১তম পর্যায়ের সম্মিলিত রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আইসিইআরডি বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে নীতিগত পদক্ষেপ-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। ভারতীয় প্রতিনিধিদল দেশের বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, সাংবিধানিক ও আইনি সুরক্ষা, ইতিবাচক পদক্ষেপ, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিকার এবং লক্ষ্যভিত্তিক জনকল্যাণমূলক নীতি তুলে ধরে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সমস্ত নাগরিকের সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত ধারাবাহিকভাবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কাজ করে চলেছে। উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশকে ঔপনিবেশিকতা, বর্ণবৈষম্য ও অ্যাপারথেইডের বিরুদ্ধে উন্নয়নশীল দেশগুলির বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সময় ICERD-এর আলোচনা ও খসড়া প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।

  • Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    Chhattisgarh: সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরায় মিলল বিপুল অস্ত্র-বিস্ফোরক, চলতি মাসে তৃতীয় বড় সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় মাওবাদী-বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। জেলার জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে (Chhattisgarh) উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী (Maoist Arms)। গত ২৪ অগাস্ট ভেজ্জি থানার ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা জঙ্গল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর জেলা বাহিনী, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং বস্তার ফাইটার্সের যৌথ দল সোমবার সকালে ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডার জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

    গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান (Chhattisgarh)

    তল্লাশির সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি গোপন অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান পান। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ২৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৯২টি তাজা গুলি, ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড। বিপুল পরিমাণ বিজিএল গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।উদ্ধার হওয়া ২৩টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি দশমিক ৩১৫ বোরের রাইফেল, একটি দশমিক ৪১০ মাসকেট রাইফেল, ছ’টি বিজিএল লঞ্চার, একটি একনলা রাইফেল, একটি দেশীয় দশমিক ৩১৫ বোরের আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ১২ বোরের রাইফেল এবং সাতটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র। এসএলআর এবং দশমিক ৩০৩ রাইফেলের ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ বিজিএল সেল উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৪৯২টি গুলির মধ্যে একে-৪৭, এসএলআর, ইনসাস, দশমিক ৩০৩, দশমিক ৩১৫ এবং ১২ বোরের বিভিন্ন ধরনের গুলি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, দীর্ঘ সময় ধরে মাওবাদী সংগঠনের ব্যবহারের জন্য ওই গোপন ভান্ডারে ধাপে ধাপে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।

    বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪০টি জিলেটিন স্টিক, ১৮ কেজি গানপাউডার, ৬৬টি বিজিএল কার্তুজ, আতসবাজির মতো ৪০টি বিস্ফোরক যন্ত্র এবং ছ’টি অ্যাক্সিলারেটর প্লাগ। এছাড়া বিভিন্ন আকারের ৮৯টি বিজিএল সেল এবং পাঁচটি হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে (Maoist Arms)। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। অস্ত্র-বিস্ফোরকের পাশাপাশি ওই গোপন ভান্ডার থেকে মাওবাদী সদস্যদের দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাত জোড়া কালো পোশাক, ৩২টি কালো ও ২২টি সবুজ কোমরবন্ধ, ১১টি বাঁশি-রক্ষাকবচ, সাতটি বাঁদরটুপি, দুটি ওয়েল্ডিং ঢাল, দু’টি সৌর প্যানেল এবং সাতটি পিঠের ব্যাগ। এছাড়া ম্যাগাজিন রাখার ব্যাগ, অন্যান্য ব্যাগ এবং ওষুধও উদ্ধার হয়েছে (Chhattisgarh)।

    ভান্ডারপদর দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদী-প্রভাবিত এলাকা

    ভান্ডারপদর জঙ্গল এলাকায় এর আগেও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ২০২৪ সালে ওই এলাকায় সংঘর্ষে ১০ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল বলে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এটা স্পষ্ট, ভান্ডারপদর-মুনুরকোন্ডা অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্য পুরানো অস্ত্রভান্ডারের অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

    শুধু অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার নয়, এই ধরনের অভিযান থেকে মাওবাদীদের সংগঠন, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জঙ্গলে থাকা পুরানো পরিকাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলছে বলে মনে করছে প্রশাসন (Chhattisgarh)।

    পুরনো অস্ত্রভান্ডার খুঁজতে জোর তল্লাশি

    সুকমার পুলিশ সুপার ময়াঙ্ক গুর্জর জানিয়েছেন, জঙ্গল এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় মাইনমুক্ত করার কাজও ধারাবাহিকভাবে চলছে। কোথাও বিস্ফোরক যন্ত্র বা অন্য কোনও বিস্ফোরক সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেলে নিরাপত্তা বিধি মেনে সেগুলি দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    পুলিশ সুপারের দাবি, গত ৩১ মার্চ থেকে মাওবাদীদের পুরানো অস্ত্র ও বিস্ফোরকের গোপন ভান্ডার উদ্ধারের পাশাপাশি মাইনমুক্ত করার অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে দুর্গম জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা সামগ্রী খুঁজতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়ার পর প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীরা বিস্ফোরকগুলি নিষ্ক্রিয় করছেন।

    এই অভিযানে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বহু পুরনো ও গোপন অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    অগাস্টে সুকমায় তৃতীয় বড় অস্ত্রভান্ডারের খোঁজ

    চলতি অগাস্ট মাসে সুকমা জেলায় মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভান্ডার উদ্ধারের এটি তৃতীয় বড় ঘটনা (Chhattisgarh)। এর আগে ১৮ অগাস্ট চিন্তলনার থানার ইট্টালঙ্কা গ্রামের কাছে একটি গোপন ভান্ডার থেকে বিস্ফোরক, গোলাবারুদ এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। তারও আগে ৩ অগাস্ট ভেজ্জি থানার বোধরাজপদর জঙ্গলে একটি মাওবাদী অস্ত্রভান্ডারের হদিশ পায় নিরাপত্তা বাহিনী।

    একই মাসে পরপর এই ধরনের উদ্ধার অভিযান থেকে স্পষ্ট, সুকমার দুর্গম জঙ্গলগুলিতে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলার বিষয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জোর দিয়েছে। জঙ্গল ও প্রত্যন্ত এলাকায় অস্ত্রভান্ডারের সন্ধানে এলাকা দখল ও তল্লাশি অভিযান আগামী দিনেও চলবে বলে জানিয়েছে সুকমার পুলিশ।

    প্রশাসনের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক অভিযানের লক্ষ্যই হল মাওবাদীদের অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার পাশাপাশি জেলার নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখা এবং উন্নয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা (Maoist Arms)। অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় শুরু হয়েছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও (Chhattisgarh)।

     

  • Kangana Attacks Rahul: ‘ব্রো, দাঁড়াও… ভারত মাতা কি জয়’— কৃতি অভিনীত রাখির বিজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা কঙ্গনার

    Kangana Attacks Rahul: ‘ব্রো, দাঁড়াও… ভারত মাতা কি জয়’— কৃতি অভিনীত রাখির বিজ্ঞাপন বিতর্কে রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা কঙ্গনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের নিশানায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Kangana Attacks Rahul)। রাখির বিজ্ঞাপনে কৃতি শ্যাননের পোশাক নিয়ে বিতর্কের জল গড়াল রাজনৈতিক তরজায়। অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে মহিলাদের পোশাক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে প্রশ্ন না তোলার বার্তা দিয়েছিলেন রাহুল। ‘পিতৃতন্ত্র ভাঙার’ সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। বিজেপির একটি পোস্ট শেয়ারের মাধ্যমে রাহুলকে নিশানা করে কঙ্গনার মন্তব্য, “ভাই, একটু দাঁড়াও। ভারতমাতার জয়। চলো শুরু করি।”

    ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুলকে আক্রমণ

    বিজেপির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে রাহুল গান্ধীর নারী অধিকার ও পিতৃতন্ত্র-বিরোধী অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। পোস্টটির একটি ছবিতে রাহুলকে বলতে দেখা যায়, “স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি!” এর জবাবে এক নারী বলেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়।” বিজেপির বক্তব্য, সেখানে রাহুলের মন্তব্যকে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। পরের ছবিতে প্রশ্ন তোলা হয় মহিলা সংরক্ষণ বিলের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের পুরনো অবস্থান নিয়ে। আরও একটি ছবিতে শাহ বানো মামলার প্রসঙ্গও আনা হয়। বিজেপির পোস্টের শেষের দিকে কর্নাটক মন্ত্রিসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ৩৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় একজনও মহিলা নেই—এমন দাবি তুলে রাহুলের প্রতিক্রিয়াকে ব্যঙ্গাত্মক ভাবে দেখানো হয়। কঙ্গনা এই পোস্ট শেয়ার করেন ও ব্যঙ্গচিত্রটি তুলে ধরেন।

    কৃতি-কঙ্গনা বিতর্ক

    এই বিতর্কের সূত্রপাত কৃতি শ্যাননের একটি রাখি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। গয়না সংস্থা জিভার ৩৬ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে অফ-হোয়াইট ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। বিজ্ঞাপনে ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধার পাশাপাশি পোষ্য কুকুরকেও রাখি পরাতে দেখা যায় তাঁকে। পোশাক এবং বিজ্ঞাপনের উপস্থাপনা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনা শুরু হয়। কঙ্গনা এর আগে পোশাক নিয়ে আপত্তি তুলে প্রশ্ন করেছিলেন, রাখি বাঁধার সময় কেন এমন পোশাক বেছে নেওয়া হল। বিজ্ঞাপনটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অস্বস্তিকর। এর জবাবে কৃতি পোশাকের সঙ্গে সংস্কৃতি ও নারী স্বাধীনতাকে এক করে দেখার কথা তোলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, কোনও মহিলার সংস্কৃতির প্রতি সম্মান তাঁর পোশাক দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। পোশাক নিয়ে মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। কৃতির বোন নূপুর শ্যাননও কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।

    কৃতির পাশে রাহুল

    কৃতি-কঙ্গনা বিতর্কের আবহে নারী স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে কৃতি শ্যাননের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। কৃতির বক্তব্য শেয়ার করে রাহুল লেখেন, ‘কোনও মহিলা কী পরবেন, কী করবেন বা কোথায় যাবেন, তা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। মহিলারা স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দ প্রকাশ করলে তাঁদের ট্রোল করা বন্ধ করা হোক।’ রাহুলের এহেন মন্তব্য ভাইরাল হতেই প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধী শিবিরের তারকা সাংসদ কঙ্গনাকেই কি খোঁচা দিলেন তিনি? যদিও রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে কারও নামোল্লেখ করেননি, কিন্তু কংগ্রেস সাংসদের এহেন শব্দবাণ যে কঙ্গনার উদ্দেশেই, তেমনটাই অনুমান নেটভুবনের একাংশের।

    ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ

    রাহুল তাঁর পোস্টে ব্যবহার করেন ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ হ্যাশট্যাগ। এরপরই বিজেপির পোস্টে রাহুলের ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ বার্তাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। কঙ্গনা সেই পোস্ট শেয়ার করে লেখেন, “ব্রো, ওয়েট। ভারত মাতা কি জয়। শুরু করতে হ্যায়। কঙ্গনার দাবি রাহুল মুখে নারী অধিকারের কথা বললেও, তাঁর দল কংগ্রেস আদতে নারীদের সমানাধিকার নিয়ে চিন্তিত নয় তাহলে তারা মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন করত। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করানো যায়নি। একযোগে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূলের মতো বিরোধী দলগুলিকে এই বিল সমর্থন করেনি। স্বার্থপর রাজনীতির জন্য দেশের নারীশক্তির ক্ষতি করেছে তারা।

    রাহুল-কঙ্গনা বিতর্ক নতুন মাত্রা

    এর আগে পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিতেও রাহুল পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল। মেয়েরা নিজেদের, বাবার, স্বামী বা ছেলের অধীন নন—এমন বার্তা দিয়ে এই ধরনের মানসিকতার সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। সেই মন্তব্যের আবহেই এবার কৃতিকে ঘিরে বিতর্কে রাহুল-কঙ্গনা সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। এই আবহে  বিতর্কের সূত্রপাত যে বিজ্ঞাপনকে ঘিরে গয়না সংস্থা জিভা তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারা জানায়, বিজ্ঞাপনটি সমাজের কোনও অংশের মানুষের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত করুক, তারা তা চায় না। একটি সরকারি বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও গভীর সম্মান রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা সবসময় পরিবারের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত উদযাপনে বিশ্বাস করি। এবার আমরা সেই ভালোবাসা ও উদযাপনের পরিসরে পোষ্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমাদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনও অংশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে থাকে, তা কখনওই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মানের কথা মাথায় রেখে আমরা সমস্ত মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

LinkedIn
Share