Tag: news in bengali

news in bengali

  • Black Day: ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিতদের ওপর হয়েছিল বিরাট হামলা, জানুন শিহরণ জাগানিয়া সেই কাহিনি

    Black Day: ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই কাশ্মীরি হিন্দু পণ্ডিতদের ওপর হয়েছিল বিরাট হামলা, জানুন শিহরণ জাগানিয়া সেই কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফি বছর ১৩ জুলাই দিনটি ‘ব্ল্যাক ডে’ (Black Day) হিসেবে পালন করে আসছে বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি হিন্দু সম্প্রদায়ের (Kashmiri Hindus) একটি বড় অংশ। দেশের বিভিন্ন শহর এবং বিদেশে বসবাসরত বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত এই দিনটিকে ১৯৩১ সালের ঘটনাবলির স্মরণে পালন করেন। তাঁদের দাবি, ওই দিন থেকেই কাশ্মীরে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সংগঠিত হিংসার সূচনা হয়েছিল, যার পরিণতি ১৯৮৯-৯০ সালের গণ-নির্বাসন। ১৯৩০ সালে লন্ডনে হওয়া গোল টেবিল বৈঠকে দেশীয় রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন মহারাজা হরি সিং। সেখানে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। কাশ্মীরি হিন্দুদের একাংশের মতে, এর পর থেকেই ব্রিটিশ প্রশাসন মহারাজার অবস্থান দুর্বল করার লক্ষ্যে নানা রাজনৈতিক পদক্ষেপ করে এবং রাজ্যের মুসলিম অভিজাতদের একটি অংশকে সেই কৌশলের অংশ করে তোলে।

    সাম্প্রদায়িক মেরুকরণে ইন্ধন (Black Day)

    এদিকে, মহারাজার বৃত্তি নিয়ে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া কয়েকজন ছাত্র পরবর্তীকালে ডোগরা শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শেখ মহম্মদ আবদুল্লা। তিনি প্রথমে শ্রীনগর স্টাডি সার্কেল গড়ে তোলেন, যা পরে জম্মু ও কাশ্মীর মুসলিম কনফারেন্সে রূপান্তরিত হয়। অভিযোগ, এই সংগঠনই ১৯৩১ সালের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় এবং কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে উসকে দেয়। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের একাংশের বক্তব্য, ১৩ জুলাই ১৯৩১ ছিল কাশ্মীরে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রথম বড় আকারের সংগঠিত হামলার দিন। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ প্রশাসন, মুসলিম কনফারেন্স এবং বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীর ভূমিকা এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল (Black Day)। ব্রিটিশদের মদতে পেশোয়ারের বাসিন্দা আবদুল কাদিরকে কাশ্মীরে এনে মহারাজার বিরুদ্ধে মুসলিম জনমত গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সময়ে মুসলিম কনফারেন্স “কাশ্মীর ছাড়ো” স্লোগান তুলে আন্দোলন শুরু করে। অভিযোগ, সেই সময় মহারাজার সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে টার্গেট করা হয় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের।

    জেলে ভেঙেছিল বন্দিরা

    এই বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, ১৯৩১ সালের ২৯ জুলাই খ্রেওর মা জ্বালা দেবীর জন্মোৎসব উপলক্ষে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত শ্রীনগরের বাইরে থাকবেন, সেই সুযোগে তাঁদের বাড়িঘর লুট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও সেই পরিকল্পনার খবর আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বানচাল হয়ে যায় (Black Day) ষড়যন্ত্র। এর কিছুদিন আগে, ১২ ও ১৩ জুলাই শ্রীনগরের হরিপর্বত সেন্ট্রাল জেলে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, আবদুল কাদিরের প্ররোচনায় বন্দিদের একাংশ জেল ভেঙে বেরিয়ে আসে এবং বিপুল সংখ্যক সমর্থক তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয়। ফলশ্রুতিতে শ্রীনগরের বিচারনাগ, মহারাজগঞ্জ, আমিরাকাদল, হরি সিং হাই স্ট্রিট, বোহরি কাদল-সহ একাধিক এলাকায় হিন্দুদের (Kashmiri Hindus) বাড়িঘর ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করার (Black Day) অভিযোগ ওঠে।এখনকার বদগাঁও জেলার কানিকুট গ্রামে হিন্দু পরিবারগুলির ওপর হামলা হয় বলেও অভিযোগ। সেখানে একটি পরিবারের সদস্যদের বহুতল বাড়ি থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মতে, এটি ছিল সম্পূর্ণ একতরফা হামলা এবং নিরীহ হিন্দুদের ওপর সংঘটিত এক সংগঠিত হিংসা।

    শেখ সাহেব…

    প্রাক্তন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রামনাথ কৌল তাঁর “শেখ মহম্মদ আবদুল্লা: আ পলিটিক্যাল ফিনিক্স” গ্রন্থে ১৩ জুলাইয়ের ঘটনার একটি বিবরণ দিয়েছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে কয়েকজন জখম হন। পরে তাঁদের মুসলিম কনফারেন্সের সদর দফতর মুজাহিদ মঞ্জিলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় গুরুতর জখম এক ব্যক্তি শেখ আবদুল্লাকে বলেন, “শেখ সাহেব, আপনি আমাদের যা বলেছিলেন, আমরা তাই করেছি।” এরপর তাঁর মৃত্যু হয় বলে বইটিতে দাবি করা হয়েছে। এই বিবরণ অনুযায়ী, পরে নিহতদের “শহিদ” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতরা এই ঘটনাকে “বাটা লুট” নামে উল্লেখ করতে শুরু করেন এবং ১৯৩২ সাল থেকে ১৩ জুলাই দিনটিকে “ব্ল্যাক ডে” হিসেবে পালন করে আসছেন। নির্বাসিত জীবনেও এই প্রথা বজায় রয়েছে (Black Day)।

    কাশ্মীরি হিন্দুদের জাতিগত উচ্ছেদের ফল

    কাশ্মীরি হিন্দু সংগঠনগুলির একাংশের মতে, ১৩ জুলাই ১৯৩১-এর ঘটনাই পরবর্তী কয়েক দশকে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং কাশ্মীরি হিন্দুদের জাতিগত উচ্ছেদের ভিত্তি তৈরি করে। তাঁদের দাবি, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগেই কাশ্মীর থেকে হিন্দুদের উৎখাতের একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা শুরু (Kashmiri Hindus) হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে তাঁদের দাবি, ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হিংসার স্মৃতিতে ভারত সরকার এবং জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের উচিত দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে “ব্ল্যাক ডে” ঘোষণা করা। প্রসঙ্গত, ১৩ জুলাই ১৯৩১ সালের এই সব ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক, গবেষক এবং রাজনৈতিক মহলের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। ব্যাখ্যাও আলাদা। তবে একথা ঠিক যে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের আক্ষরিক অর্থেই ভিটেছাড়া হওয়ার (Black Day) নেপথ্যে ছিল ইংরেজদের রোপণ করা সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের বীজ।

     

  • CM Suvendu Adhikari: রথযাত্রার ৬০ কমিটিকে ৫ লাখ করে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: রথযাত্রার ৬০ কমিটিকে ৫ লাখ করে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রায় মোটা অঙ্কের অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী বৃহস্পতিবার রথযাত্রা উৎসব (Rath Yatra Committee)। তার আগে সোমবার নবান্নে জেলাশাসক ও বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লাখ টাকা করে সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে। শ্রাবণ মাসে শিবের মন্দিরে যাওয়া জলযাত্রীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন (CM Suvendu Adhikari) তিনি।

    রথযাত্রা কমিটিগুলিকে অনুদান (CM Suvendu Adhikari)

    এদিনের বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিল রথযাত্রা কমিটিগুলি। এই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দশকের পর দশক উৎসব হয়, এমন ৬০টি কমিটিকে ৫ লাখ টাকা করে সরকারি সাহায্য দেব। এটি আমাদের অংশগ্রহণ।” তিনি জানান, প্রথম বছর কমিটির তালিকা তৈরিতে কোনও ত্রুটি থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগামী দিনে ত্রুটিহীন তালিকা তৈরি করব। অনেক দূর যাবে এই বিশেষ ব্যবস্থা। আজ যে বৃক্ষ রোপিত হল, আগামী দিনে তা মহীরূহ হবে। ঐতিহ্যে পরিণত হবে।” মুখ্যমন্ত্রী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদানের অর্থ পুরানো, বিশেষ করে কাঠের তৈরি রথ সংস্কারের কাজে ব্যবহার করারও অনুরোধ জানান।রথযাত্রা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “এত দিন রথযাত্রা উৎসবে সরকারি স্তরে কয়েক জন ট্রাফিক পুলিশ পাঠিয়েই সরকার দায়িত্ব পালন শেষ করত। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে স্লোগান— উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য, দু’টিকে সামনে রেখে এগোতে চায়। তাই এ বারের রথযাত্রায় সরকারিভাবে, সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

    পুষ্পবৃষ্টি

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলায় সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে পুণ্যার্থীদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবা দেওয়া হবে। এই কাজে পুরসভা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলিকে যুক্ত করা হবে।শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীদের জন্যও একাধিক বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বরে যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার। তারকেশ্বর ধামকে সাজানোর জন্য ১৫ কোটি টাকার কাজ করছি।” তিনি জানান, জলযাত্রীদের পরিষেবার জন্য রাজ্যের তিনটি তীর্থস্থানকে বেছে নেওয়া হয়েছে— জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, ভুটান সীমান্তবর্তী জয়ন্তী এলাকার একটি মন্দির এবং তারকেশ্বর। এই তিনটি কেন্দ্রকে ঘিরে পরিষেবা শিবির গড়ে তোলা হবে। সেখানে থাকবে পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির, পানীয় জল, ওআরএস এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা। এই প্রসঙ্গেও পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের অন্য রাজ্যে দেখেছি, সরকারিভাবে এই পরম্পরাকে বাঁচাতে সহযোগিতা করা হয়। এত দিন এই রাজ্য বঞ্চিত ছিল। কিন্তু এই সরকার সহায়তা করবে (CM Suvendu Adhikari)।” তিনি আরও জানান, শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার আবহাওয়া অনুকূল থাকলে জলযাত্রীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গোলাপের পাপড়ি বর্ষণ করা হবে। এর পাশাপাশি, তিনি জানান, ১৪ জুলাই তারকেশ্বরে উপস্থিত থেকে শ্রাবণী মেলার সূচনা করবেন।

    তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাজেটে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্প রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “মঠ, মন্দির, কিরীটেশ্বরী-সহ অনেক প্রাচীন মন্দির, যাদের ইতিহাস রয়েছে, তাদের সংস্কার এবং হেরিটেজের আওতায় আনতে উদ্যোগী হয়েছি। ধর্মীয় স্থানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি।” তিনি আরও জানান, ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা (Rath Yatra Committee) হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সিমলা স্ট্রিটের উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি টাকার কর্পাস তহবিল দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার (CM Suvendu Adhikari)।

     

  • India’s Defence Sector: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় সংস্কার! এবার বেসরকারি সংস্থার হাতেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

    India’s Defence Sector: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় সংস্কার! এবার বেসরকারি সংস্থার হাতেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন (India’s Defence Sector) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রের মোদি সরকার (Modi Govt Missile Manufacture)। প্রথমবারের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি ভারতীয় সংস্থাগুলিকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, সরকারি কারখানার উপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা রফতানির বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং বন্ধু দেশগুলির কাছ থেকে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহের কথা মাথায় রেখেই এই নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    অ্যাস্ট্রা এমকে-২ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বেসরকারি সংস্থাকে সুযোগ

    সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই অ্যাস্ট্রা এমকে-২ (Astra Mk-2) বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল উৎপাদনের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করতে পারে। ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। ভবিষ্যতে এটি তেজস এমকে-১এ, মিগ-২৯, সুখোই সু-৩০ এমকেআই এবং রাফাল মেরিন যুদ্ধবিমানে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি একাধিক বন্ধু দেশ ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শুধু সরকারি উৎপাদন সংস্থার উপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিল্পকে যুক্ত করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেওয়া এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।

    কোন কোন সংস্থা লাভবান হতে পারে?

    যদিও এখনও কোনও সংস্থাকে চূড়ান্তভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, তবুও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি বড় ভারতীয় সংস্থা এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার জন্য সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সম্ভাব্য সংস্থাগুলি হল—

    টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম (Tata Advanced Systems)
    আদানি ডিফেন্ল অ্যান্ড অ্যারো স্পেস (Adani Defence & Aerospace)
    লারসেন অ্যান্ড টোব্রো (Larsen & Toubro-L&T)
    ভারত ফোর্জ (Bharat Forge)
    কল্যানী স্ট্র্যটেজিক সিস্টেম (Kalyani Strategic Systems)

    ইতিমধ্যেই এই সংস্থাগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, মহাকাশ প্রযুক্তি, আর্টিলারি, ড্রোন, সাঁজোয়া যান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান তৈরি করছে।

    প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পেও বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভাবনা

    অ্যাস্ট্রা এমকে-২ প্রকল্পের পর সরকার ‘প্রলয়’ (Pralay) ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনেও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র উচ্চ গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে এই নীতি কার্যকর হলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে বেসরকারি শিল্পের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও প্রতিরক্ষা রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন গতি আসতে পারে।

  • Fundraising Challenges: অযোধ্যায় বিকল্প মসজিদ প্রকল্পে তহবিল-সঙ্কট, জানুন নেপথ্যের কারণ

    Fundraising Challenges: অযোধ্যায় বিকল্প মসজিদ প্রকল্পে তহবিল-সঙ্কট, জানুন নেপথ্যের কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ (Ayodhya New Mosque) মামলার নিরসন হয়েছিল ২০১৯ সালে। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল (Fundraising Challenges)। জমির পরিমাণ পাঁচ একর। দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে হিন্দু পক্ষের দাবি করা জমিতেই গড়ে ওঠে রাম মন্দির। সরকারের দেওয়া ওই জমিতে একটি আধুনিক মসজিদ-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল মুসলিম পক্ষরা। তারপর কালের নিয়মে মানুষের মনে ফিকে হয়ে গিয়েছে অযোধ্যার মন্দির-মসজিদ বিতর্কের রং। রামের জন্মভূমিতে গড়ে উঠেছে সুদৃশ্য মন্দির। জাঁকজমক করে হয়েছিল মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন।  করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। তার পর থেকে ভারতের পর্যটন মানচিত্রে ঠাঁই করে নিয়েছেন ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের আপন দেশ।

    সরকারের দেওয়া জমিতে হয়নি মসজিদ (Fundraising Challenges)

    অথচ, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও, এখনও যোগী সরকারের দেওয়া জমিতে মসজিদ তৈরি হয়নি।  সম্প্রতি প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন (আইআইসিএফ) জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় না হওয়ায় আগের বিরাট পরিকল্পনা বাতিল করে অনেক ছোট পরিসরে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রাম জন্মভূমির বিতর্কিত জমি হিন্দু পক্ষকে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেয়, সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্‌ফ বোর্ডকে অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে পাঁচ একর বিকল্প জমি দিতে হবে, যাতে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা যায়। আদালতের এই নির্দেশের পর ওই জমিতে শুধু একটি মসজিদ নয়, একটি বহুমুখী হাসপাতাল, গ্রন্থাগার, কমিউনিটি কিচেন এবং অন্যান্য সামাজিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয় মুসলমানদের পক্ষ থেকে।

    কী বলছে আইআইসিএফ

    সম্প্রতি, আইআইসিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আগের সেই বিরাট পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সংস্থার চেয়ারম্যান জুফর আহমদ ফারুকি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে আগ্রহের অভাব রয়েছে। যে পরিমাণ অনুদান পাওয়া গিয়েছে, তা মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই এখন আমরা আগের পরিকল্পনার তুলনায় অনেক ছোট একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত (Ayodhya New Mosque) নিয়েছি।” ফারুকির বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন পরিকল্পনা মতো মসজিদ গড়তে গেলে প্রয়োজন হবে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকা। অথচ, এখনও পর্যন্ত জোগাড় হয়েছে সাকুল্যে দেড় কোটি টাকার মতো। ফলে প্রকল্পের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক অংশ আপাতত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম (Fundraising Challenges)।

    সম্প্রদায়ের মধ্যেই মতপার্থক্য

    এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে না যাওয়ার অন্যতম কারণ প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড়ে ব্যর্থতা। শুধু তা-ই নয়, মুসলমান সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই এখনও মনে-প্রাণে এই মসজিদের কনসেপ্ট সমর্থন করেন না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই স্বপ্নের মসজিদ গড়তে যে ফান্ডের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করা যায়নি। মুসলিম সমাজের একাংশের বক্তব্য, বিকল্প জমিতে মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, এবং সেই কারণেও অর্থ সংগ্রহে আসেনি প্রত্যাশিত গতি (Ayodhya New Mosque)। জমি বরাদ্দ হওয়ার পর পাঁচ বছর কেটে গেলেও, মসজিদ তৈরি না হওয়ার কারণ নানাভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত মহলে। ভাষ্যকারদের একাংশের দাবি, বাবরি মসজিদ মামলার রায় মুসলিম সমাজের একটি অংশ এখনও মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। তাদের মতে, সেই কারণেই বিকল্প জমিতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ পাচ্ছে না প্রত্যাশিত জনসমর্থন। অবশ্য, এই ব্যাখ্যাকে সর্বজনস্বীকৃত হিসেবে দেখা হয় না। কোনও কোনও বিশ্লেষকের মতে আবার, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা, দাতাদের অগ্রাধিকার এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমজনতার আগ্রহ কমে যাওয়াও, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে (Fundraising Challenges)।

    “একবার ওয়াকফ, চিরকাল ওয়াকফ”

    এহেন আবহে “একবার ওয়াকফ, চিরকাল ওয়াকফ” ধারণাটিও বারবার উঠে আসছে। ইসলামি আইন অনুযায়ী, কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ হিসেবে নিবেদিত হলে তা ধর্মীয় বা জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তবে এই ধারণার ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যেও মতদ্বৈততা রয়েছে। ফলে এই নীতিকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজের সকলের অভিন্ন অবস্থান রয়েছে—এমন অতিসরলীকরণ দাবি আদৌ করা যায় না (Ayodhya New Mosque)। অন্যদিকে, হিন্দু সংগঠনগুলির একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে বহু দশকের আইনি বিরোধের অবসান হয়েছে, এবং রাম মন্দির নির্মাণ সেই রায়েরই বাস্তব প্রতিফলন। তাদের দাবি, এখন সকল পক্ষের উচিত আদালতের রায়কে চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে (Fundraising Challenges) যাওয়া।

    ভূখণ্ডের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

    যদিও, ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাখ্যায় ভূমি কিংবা ভূখণ্ডের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই যুক্তি তুলে ধরে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাশ্মীর, প্যালেস্তাইন এবং স্পেনের আন্দালুসিয়া প্রসঙ্গও টানা হয়েছে। তাঁদের মতে, বহু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর কাছে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কোনও ভূখণ্ডের দাবি ছেড়ে দেওয়া তারা সহজে মেনে নেয় না। অবশ্য, এই ধরনের ব্যাখ্যা সর্বজনস্বীকৃত নয়। ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক ও মুসলিম সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে এই বিষয়েও ভিন্নমত রয়েছে। বহু মুসলিম ধর্মীয় নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আদালতের রায় মেনে নেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। ফলে সমগ্র মুসলিম সমাজের অবস্থানকে একরৈখিক হিসেবে দেখার সুযোগই নেই।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অযোধ্যায় নবনির্মিত রাম মন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়। তারপর থেকেই সেখানে প্রতিদিন বিপুল ভক্ত সমাগম হচ্ছে। আর, ধন্নিপুরে বিকল্প মসজিদ প্রকল্প এখনও নির্মাণপর্বেই পৌঁছতে পারেনি। ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা (Fundraising Challenges)। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে অনুদান সংগ্রহের অগ্রগতি, ট্রাস্টের সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের ওপর (Ayodhya New Mosque)। আপাতত আইআইসিএফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহৎ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে একটি মসজিদ নির্মাণই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে (Fundraising Challenges)।

     

  • Arrest Punishment: রাজ্যে লাগু হয়ে গেল ‘গুন্ডাদমন আইন’, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত-সহ কড়া ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে

    Arrest Punishment: রাজ্যে লাগু হয়ে গেল ‘গুন্ডাদমন আইন’, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত-সহ কড়া ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, সংগঠিত অপরাধ, হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনাকে কঠোর হাতে দমন করতে (Arrest Punishment) সোমবার থেকে কার্যকর হয়ে গেল রাজ্যের নয়া ‘গুন্ডাদমন আইন’। একই সঙ্গে কার্যকর হয়েছে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশোধিত আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। নতুন (New Anti Social Activities Bill) এই দুই আইনের পোশাকি নাম ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’।

    ‘নিবর্তনমূলক আটকে’র বিধান (Arrest Punishment)

    নবান্নের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা, সংগঠিত অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের মনে আইনের শাসনের ভীতি সৃষ্টি করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আইন কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, আইনের কিছু ধারা প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে। যদিও, সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আইন অপরিহার্য। নয়া আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘নিবর্তনমূলক আটকে’র বিধান। এই আইন অনুযায়ী, প্রশাসনের কাছে যদি বিশ্বাসযোগ্য কোনও তথ্য থাকে যে কোনও ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তাঁকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক করে রাখা যাবে। বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তা কার্যকর করা সম্ভব।

    সমাজবিরোধীর সংজ্ঞা

    আইন অনুযায়ী, রাজ্য সরকার, জেলাশাসক অথবা পুলিশ কমিশনার প্রয়োজন মনে করলে নিবর্তনমূলক আটকের নির্দেশ দিতে পারবেন। রাজ্য সরকারের মতে, বড় ধরনের অপরাধ বা হিংসার ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। নতুন আইনে ‘এলাকাছাড়া’ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও আধিকারিক যদি মনে করেন, কোনও ব্যক্তি নির্দিষ্ট এলাকায় থাকলে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, তাহলে তাঁকে অনধিক এক বছরের জন্য ওই এলাকা বা একেবারে জেলা থেকেই বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে (Arrest Punishment)। আইনে ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী’ শব্দের সংজ্ঞার পরিসরও অনেক প্রসারিত করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধে নিয়মিত যুক্ত ব্যক্তি, অপরাধে অর্থ জোগানদাতা বা মদতদাতা, নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে চার্জশিটে নাম থাকা ব্যক্তি, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক কিংবা মানবপাচার সংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত ব্যক্তি এবং সমাজের জন্য বিপজ্জনক বলে পরিচিত ব্যক্তিদের এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

    পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের নিদান

    এ ছাড়াও সাধারণ মানুষের মনে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি, জনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি বিঘ্নিত করা, জীবন বা সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, বৈধ ব্যবসা বা পেশা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি, বেআইনিভাবে জমি বা সম্পত্তি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির বড় ক্ষতি, সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি, অবৈধ বালি উত্তোলন, বেআইনি খনি কারবার, বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত অপরাধ, বড় ধরনের সাইবার অপরাধ এবং আর্থিক জালিয়াতিকেও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা (Arrest Punishment) হয়েছে। এই আইনের আওতায় থাকা সমস্ত অপরাধই জামিন-অযোগ্য। তাই পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে। পাশাপাশি বাড়ি, গাড়ি বা (New Anti Social Activities Bill) অন্য কোনও জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ, নথি, সম্পত্তি বা অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

    সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সংগঠিত অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায়ও অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে (Arrest Punishment)। আটক বা এলাকাছাড়ার নির্দেশ অমান্য করলে জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়া বা সাহায্য করলেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর মাধ্যমে আন্দোলন বা বিক্ষোভের নামে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য বিশেষ ‘ক্লেম কমিশন’ গঠন করা হবে। কোনও দাঙ্গা, হিংসাত্মক আন্দোলন বা বিক্ষোভের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে চিহ্নিত অভিযুক্তদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করবে এই কমিশন।

    নয়া আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা সরকারের

    বিধানসভায় আইনটি পাস হওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন, “২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সিএএ-কে এনআরসি হিসেবে প্রচার করে যে আন্দোলন হয়েছিল, তাতে মুর্শিদাবাদে থানায় আক্রমণ করা হয়। ট্রেনে হামলা হয়েছিল, ভাঙচুর করা হয়েছিল রেলওয়ে স্টেশন। সরকারি সম্পত্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমি সেই সময়ে পরিবহণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলাম। সেই সময়ে ২০টি সরকারি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, সংগঠিত অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা আরও মজবুত করতেই এই কঠোর আইন কার্যকর করা হয়েছে। তবে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, নিবর্তনমূলক আটক, এলাকাছাড়া (New Anti Social Activities Bill) এবং জামিন-অযোগ্য ধারার মতো বিধান ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে (Arrest Punishment)। ফলে আইনটি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই তা চলে এসেছে রাজ্যের চায়ে পে চর্চায়।

     

  • Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    Lindsey Graham: ভারতের উপর শুল্ক চাপাতে বলেছিলেন! ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রয়াত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত মার্কিন সেনেটের দীর্ঘ দিনের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম (Lindsey Graham)। বারাক ওবামার আমল থেকেই ইরান-বিরোধী নেতা হিসেবেই পরিচিত তিনি। সেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘর্ষের আবহেই প্রয়াত হলেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বয়স হয়েছিল ৭১। বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন গ্রাহাম। রবিবার গ্রাহামের কার্যালয়ের তরফে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রবীণ নেতার মৃত্যু হয়েছে। প্রবীণ এই সেনেটর আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গ্রাহামের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘‘লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকৃত আমেরিকাপ্রেমী ছিলেন।’’ তাঁর মৃত্যু ‘বড় ক্ষতি’ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর পরামর্শ

    গ্রাহাম (US Senator Death) তাঁর কর্মজীবনে নানা সময়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর করা নানা মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে সর্বস্তরে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘উল্লেখযোগ্য ভাবে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে ভারত। আর ভারতের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের শুল্কনীতি। গ্রাহামের দাবি, কী ভাবে একটা নীতিগত পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে, তার ‘ভাল উদাহরণ’ দিল্লির উপর আরোপিত ট্রাম্পের শুল্ক। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বলেছিলেন গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প এমন একটি বিলে (গ্রাহাম-ব্লুমেন্থাল নিষেধাজ্ঞা বিল) অনুমোদন দিয়েছেন, যা নিয়ে তিনি কয়েক দিন ধরে কাজ করছিলেন। এই বিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেবে, যার বলে তিনি রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়কারী ভারত-সহ দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এই শুল্ককে ‘শাস্তি’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর গ্রাহাম।

    ইরান-বিরোধী বলে পরিচিত

    ইরানের আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করার পরামর্শও দিয়েছিলেন গ্রাহাম। ইরানে হামলার প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি যদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জায়গায় থাকতাম, তবে যাঁরা গণহত্যা করছেন, তাঁদের খুন করতাম।’’ গ্রাহাম এ-ও দাবি করেছিলেন, ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনেইকে ‘হত্যা’ করলে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরবে। গ্রাহাম পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান অত্যন্ত সমস্যাজনক। ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের শত্রুতা অনেক দিনের। এটা স্বীকার করতেই হবে পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখা হচ্ছে।’’ প্রসঙ্গত, জুন মাসেই সেনেটে পঞ্চম বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গ্রাহাম। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘উনি আমার দেখা অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব এবং সেনেটর ছিলেন। লিন্ডসে একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ছিলেন, যিনি দেশের জন্য সবসময় কাজ করে গিয়েছেন। ওঁর কথা আমাদের সব সময়ে মনে পড়বে।’

  • Baruipur Incident: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর হিংসায় উসকানির অভিযোগ, ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলি

    Baruipur Incident: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর হিংসায় উসকানির অভিযোগ, ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুর কাণ্ডে (Baruipur Incident) অশান্তিতে উস্কানির অভিযোগে গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি। সূর্যপুরে অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম থেকে প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি। রবিবার ১২ জুলাই রাতে বারুইপুরে বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয় লাহেক আলিকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল এলাকায়। সেই ঘটনার জেরে হওয়া বিক্ষোভে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে এবার গ্রেফতার হলেন স্থানীয় সিপিএম নেতা। এই ঘটনায় এই প্রথম কোনও রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত বাম নেতাকে আজ, সোমবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।

    তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার

    পুলিশ সূত্রে খবর, সূর্যপুরের ঘটনার পর গত রবিবার এলাকায় তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করেন এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপর চড়াও হন। দফায় দফায় ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের গাড়িতে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও এই হামলায় জখম হন। অভিযোগ, ঘটনার দিন আন্দোলনের নামে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানো এবং পুলিশের ওপর হামলায় সরাসরি উস্কানি দিয়েছিলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি। ঘটনার সময় তিনি সশরীরে সেখানে উপস্থিতও ছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার দিনের বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং প্রাথমিক তদন্তে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার (Baruipur violence) দিন আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্করপ্রসাদ বারুইের পাশেও দেখা যায় এই লাহেক আলিকে। ঘটনার পর পুলিশ একটি এফআইআর করে। যেখানে সুজন চক্রবর্তী ও লাহেক আলি-লহ চারজনের নাম ছিল।

    কোন কোন ধারায় মামলা রুজু

    ধৃত সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধে বিএনএস- এর ২০টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। উস্কানি, প্ররোচনা, গন্ডগোল পাকানো, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ধারায় মামলা হয়েছে লাহেক আলির বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, লাহেক আলির বিরুদ্ধে রেলওয়ে অ্যাক্টেও মামলা দায়ের হয়েছে। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, গণপিটুনিতে খুন, প্ররোচনা দেওয়া, বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে আসা, উস্কানি দেওয়া, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা-বিদ্বেষ ছড়ানো, জনসাধারণের সম্পত্তি নষ্ট করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীর উপর হামলা, অপরাধমূলক ভয় দেখানো, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সংরক্ষিত সম্পত্তি নষ্ট করা, অবৈধ কাজ করা, রেলের সম্পত্তির ক্ষতি করা, রেলকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত – এই ধারাগুলিতে মামলা রুজু হয়েছে ধৃত লাহেক আলির বিরুদ্ধে।

  • FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ফিফা (FIFA) র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারটি দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠল। ৪৮ দলের লড়াই, একাধিক আনকোরা দলের সঙ্গে ছিল রাউন্ড অফ ৩২-এর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে কোনও অঘটন ঘটল না বিশ্বকাপে। সেমি ফাইনালে প্রবেশ করল ফিফা (FIFA World Cup 2026) র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড। সেমি ফাইনালে ওঠা চার দলই অতীতে অন্তত একবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। অর্থাৎ, এ বারও কোনও নতুন দল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না। চারটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবার শেষ চারে লড়বে শিরোপার জন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি বিশ্বকাপজয়ী দেশ। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

    সেমিফাইনালের সূচি (ভারতীয় সময়)

    প্রথম সেমিফাইনাল:

    ফ্রান্স বনাম স্পেন

    তারিখ : ১৫ জুলাই (বুধবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম

    দ্বিতীয় সেমিফাইনাল:

    ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

    তারিখ : ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম

    বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

    ৬০ বছর পর কেন, বেলিংহ্যামদের পায়ে আবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, সুইৎজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন লিয়োনেল মেসিরা। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কথায়, “জয়ের পর সত্যিই খুব ভাল লাগছে। পরিশ্রম করে জিততে হয়েছে। আমরা জানতাম খুব কঠিন ম্যাচ হবে। কিন্তু এই ম্যাচ জেতার দরকার ছিল। আরও এক বার আমাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু এই দলটা কখনও বিশ্বাস করা থামায় না। আরও এক বার আমরা বিশ্বের সেরা চার দলের একজন।” মেসির সংযোজন, “জানি না আবার বিশ্বকাপ জিতব কি না। হওয়ার থাকলে নিশ্চয়ই হবে। গত বার জেতার আগে অনেক দিন বিশ্বকাপ পাইনি। তাই এখনকার প্রতিটা মুহূর্তকে উপভোগ করা দরকার।”

    বিশেষ নজরে কারা

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। দুই দেশের নকআউট ম্যাচের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ম্যাচেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার। পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে মেসি বলেছেন, “ওই গোলের (মারাদোনা) সম্পর্ক যা কিছু জেনেছি তা সবই ভিডিয়ো বা ছবি দেখে। আর্জেন্টিনীয়রা নিয়মিত সেই ছবি দেখেন। তবে এই দলটা প্রতিপক্ষের কথা না ভেবেই ফুটবল খেলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। কারণ ওরা ফুটবলের মহাশক্তি। সেই রকম দলের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। প্রথম বার ওদের বিরুদ্ধে খেলব। ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশের বিরুদ্ধে খেলেছি। সেরা ছন্দে থেকে খেলার চেষ্টা করব।” বিশেষ নজর থাকবে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম এবং লামিনে ইয়ামাল-এর মতো তারকাদের ওপর। বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চার দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

  • RSS: শতবর্ষ উপলক্ষে শাখা সম্প্রসারণে জোর, বেলগাভির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা আরএসএসের

    RSS: শতবর্ষ উপলক্ষে শাখা সম্প্রসারণে জোর, বেলগাভির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা আরএসএসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার কর্নাটকের বেলগাভিতে শেষ হল আরএসএসের (RSS) তিন দিনব্যাপী সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক (Prant Pracharak Baithak)। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত এবং সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবালে। শুক্রবার শুরু হওয়া এই বৈঠকে মোট ২২৬ জন পদাধিকারী অংশ নিয়েছিলেন। সংঘের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের পর দেশের বিভিন্ন স্তরে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির পর্যালোচনা করা হয় বৈঠকে। এ বছর দেশজুড়ে মোট ৮৩টি সংঘ শিক্ষা বর্গ এবং ১২টি কার্যকর্তা বিকাশ বর্গের আয়োজন করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ৮৪২ জন স্বয়ংসেবক। শাখা পরিচালনা, সংঘের কর্মপদ্ধতি, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার জাগরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকের আলোচ্যসূচি (RSS)

    বৈঠকে শাখা স্তরে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সর্বাধিক সংখ্যক নতুন শাখা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়। সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়নের পাশাপাশি বাকি নির্ধারিত কর্মসূচির পরিকল্পনাও বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে উঠেছে, তাঁদের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং পঞ্চস্তরীয় সামাজিক রূপান্তরের উদ্যোগে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের সফরসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

    অযোধ্যার শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির প্রসঙ্গ

    বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত একাধিক বিষয়ও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল। বিশেষ করে জনশুমারিকে ঘিরে তথ্য, জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা থেকে (RSS) উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ, মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সন্ত শিরোমণি রবিদাস মহারাজের ৬৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনাও করা হয়েছে। বৈঠকে অযোধ্যার শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনায় অনিয়মের ঘটনায় উপস্থিত সকলেই গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, তীর্থ ক্ষেত্র ন্যাসের আবেদনের ভিত্তিতে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল এবং পুলিশের তরফে যে তদন্ত চলছে, তা দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে (Prant Pracharak Baithak)। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে এমন কোনও ঘটনা ঘটবে না, যাতে রামমন্দিরের প্রতি দেশ-বিদেশের কোটি কোটি ভক্তের গভীর (RSS) বিশ্বাসে টোল পড়ে।

     

  • Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, ধর্মীয় স্থাপনায় চুরি এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)। আসুন, ৫ থেকে ১১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা (Hindus Under Attack)

    পুনের ঐতিহাসিক মহাত্মা ফুলে ওয়াড়ায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ মেধা কুলকার্নির ঐতিহ্যবাহী বট পূর্ণিমার আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তথাকথিত প্রগতিশীল মহলের একাংশের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইতিহাস ও জাতিভিত্তিক বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলায় জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে দুটি পৃথক মামলার জেরে উত্তেজনা বেড়েছে। প্রথম মামলাটি জুনের শুরুতে এক বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ীর ছেলেকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি সামনে আসে জুলাইয়ের শুরুতে, যেখানে একটি রাজপুত পরিবার তাদের ৩৫ বিঘা পৈতৃক জমি দখলের হুমকি এবং ধর্মান্তরের চাপের অভিযোগ তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা বাঘরার যোগ সাধনা আশ্রমের প্রধান স্বামী যশবীর মহারাজের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে প্রয়োজনে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন (Hindus Under Attack)।

    কৃষি উৎসবকে কেন্দ্র করে হিংসা

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার হাঙ্গাল তালুকের নরেগাল গ্রামে শতাব্দীপ্রাচীন সনাতনী কৃষি উৎসব কারা হুন্নিমে উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইসলামি সম্প্রদায়ের একদল দুষ্কৃতী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হিন্দুদের ওপর বিনা প্ররোচনায় হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তত আটজন জখম হন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। কর্নাটকেরই বেঙ্গালুরুর জিগানিতে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বছর তিরিশের অক্ষতা ইন্দরাগির দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের সঙ্গী জনৈক নানা সাব এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি। কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের কেশর আমদানি এবং তিলক পরার রীতি নিয়ে করা মন্তব্যকে ঘিরে (Hindus Under Attack) বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, বিশ্বের অধিকাংশ কেশর ইসলামি দেশগুলি থেকে আমদানি হয়, তাই হিন্দুদের তিলক পরা বন্ধ করা উচিত। সমালোচকদের মতে, অধিকাংশ হিন্দুই দৈনন্দিন তিলকের জন্য বিশুদ্ধ কেশর ব্যবহার করেন না, ফলে তাঁর বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন

    এদিকে, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় নিবন্ধন থাকলেই আর বিদেশি অর্থ নেওয়া সাধারণ অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না। এখন থেকে বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ আপত্তি জানিয়েছে (Roundup Week)। একই সঙ্গে ধর্মান্তর, রাজনৈতিক প্রচার এবং আন্দোলনে বিদেশি অর্থ ব্যবহারের ওপর সরকারের কড়াকড়িও চর্চায় এসেছে। চেন্নাইয়ের তাম্বরমে বছর ছাপ্পান্নর মহম্মদ ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে বছর বারোর এক নাবালিকাকে টানা চার মাস ধরে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে। নির্যাতিতার বাবা তাঁরই গুদামের কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে শিশু সুরক্ষা এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে (Hindus Under Attack)।

    বহির্বিশ্বের ছবি

    বহির্বিশ্বের ছবিটাও খুব একটা ভিন্ন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছেন স্বঘোষিত সাংবাদিক পিটার ফ্রিডরিখ। অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে তিনি আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ঘুরে সিটি কাউন্সিল-সহ বিভিন্ন জনমঞ্চে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। আটলান্টা, পালো অল্টো-সহ একাধিক শহরে তাঁর বক্তব্যের টার্গেট হয়েছে হিন্দুদের বিভিন্ন সংগঠন, যার মধ্যে কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির দাবি, তাঁর অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং হিন্দু সমাজের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ কেবল প্রত্যক্ষ হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন দেশে (Roundup Week) সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে, তামাম বিশ্বে (Hindus Under Attack) খুব একটা সুখে নেই হিন্দুরা।

     

LinkedIn
Share