Tag: news in bengali

news in bengali

  • Bharats Frontiers: সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়নি কেন? রাজ্যকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

    Bharats Frontiers: সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়নি কেন? রাজ্যকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সীমান্তের অখণ্ডতা কেবল প্রশাসনিক মানচিত্র নির্ধারণের বিষয় (Bharats Frontiers) নয়, এটি একটি অবিরাম হাইব্রিড যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা-রেখা। ২০১৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে (Mamata Banerjee) আমরা এক উদ্বেগজনক প্রবণতা প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী, আইএসআইএস এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি চাক্ষুষ ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর চেষ্টা করেছে।

    বিপজ্জনক হুমকি (Bharats Frontiers)

    তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক হুমকি অনেক সময় বাইরে থেকে নয়, বরং ভেতর থেকেই আসে, বিশেষ করে যখন কোনও রাজ্য সরকার জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়। পশ্চিমবঙ্গে চলমান সঙ্কট, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষার কাজে বাধা দিয়ে এসেছে, তা সংবিধানগত দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার শামিল। সীমান্তে বেড়া না দিয়ে ফাঁকফোকর রেখে দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্য কার্যত অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সন্ত্রাসের প্রবেশদ্বার খুলে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার প্রাধান্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। যে কোনও রাজ্য সরকারের পবিত্র দায়িত্ব হল দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারবার জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু পাচার এবং রাষ্ট্রবিরোধী উপাদানের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বেড়ে চললেও, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ।

    সীমান্তে বেড়া

    সীমান্তে বেড়া, চৌকি ও অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য জমি হস্তান্তরে এই পরিকল্পিত বিলম্ব কোনও সাধারণ প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, এটি ভারতের সার্বভৌম প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অন্তরায়। বিএসএফকে সীমান্ত সিল করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে রাজ্য সরকার কার্যত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের জন্য লাল কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ মানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একগুঁয়ে অস্বীকৃতি রাজ্যটিকে এমন এক দুর্বল প্রবেশদ্বারে পরিণত করছে, যা প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে (Bharats Frontiers)। জাতীয় অখণ্ডতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে কলকাতা হাইকোর্ট অবশেষে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিপজ্জনক টালবাহানার অবসান ঘটাতে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে ভর্ৎসনা করে জানিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্ত পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি হস্তান্তর করতে হবে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, কীভাবে ন’টি সংবেদনশীল সীমান্ত জেলা জুড়ে অধিগৃহীত জমি হস্তান্তর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা তৈরি করে রেখেছিল, যার ফলে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা

    জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বড় জয়ে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৈরি ব্যুরোক্রেটিক অবরোধ (Mamata Banerjee) ভেঙে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর অধিগৃহীত সমস্ত জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে (Bharats Frontiers)। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, প্রশাসনিক অজুহাত বা নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে জাতীয় নিরাপত্তাকে আটকে রাখা যাবে না। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য তালিকাভুক্ত করে আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে, সীমান্ত ঝুঁকির মুখে রেখে আর কোনও বিলম্ব কৌশল সহ্য করা হবে না। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬ কিলোমিটার, যার মধ্যে ২,২১৬ কিলোমিটার পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই সীমান্ত অত্যন্ত ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এটি অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক চক্র, গবাদি পশু পাচার ও জাল নোট চক্রের প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে—যা ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমোদন

    ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বারবার অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ধারাবাহিকভাবে গড়িমসি করেছে। যার জেরে সীমান্তের প্রায় ২৬ শতাংশ এখনও বেড়াবিহীন। রাজ্যের ন’টি জেলায় ২৩৫ কিমি জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য মাত্র ৭১ কিমি জমি হস্তান্তর করেছে। অবশিষ্ট জমি না দেওয়ায় বিএসএফ কার্যত ঠুঁটো হয়ে রয়ে গিয়েছে। যদিও ‘জমি’ রাজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তবে সংবিধানের ২৫৬, ২৫৭ ও ৩৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব রয়েছে। প্রায় এক দশক আগের মন্ত্রিসভা অনুমোদন কার্যকর না করা স্পষ্ট সংবিধান অবমাননা। স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থকে ফেডারেল দায়িত্বের ঊর্ধ্বে তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেবল নিজের রাজ্যের নাগরিকদের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করেছে (Bharats Frontiers)। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সমস্ত ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত জমি বিএসএফকে দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী তালিকা সংশোধন বা ভোটের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়, জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কোনও ব্যুরোক্র্যাটিক অজুহাত চলবে না। বলা বাহুল্য, এই রায় প্রতিটি ভারতীয়ের জন্য একটি বড় বিজয়, যারা বিশ্বাস করেন, মাতৃভূমির নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না (Mamata Banerjee)।

    অখণ্ডতার ওপর আঘাত

    এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত অবহেলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সুব্রত সাহা, যিনি দেশরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত ও পরিশ্রমের মূল্য ভালোই বোঝেন।
    তাঁর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায়  তিনি যুক্তি দেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিষ্ক্রিয়তা সরাসরি ভারতের প্রতিরক্ষা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতার ওপর আঘাত। আবেদনে একটি উদ্বেগজনক ও দেশদ্রোহিতামূলক প্রবণতার কথা তুলে ধরা হয়, ২০১৬ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমির কেবলমাত্র একটি অংশই হস্তান্তর করেছে। সংসদীয় নথি উদ্ধৃত করে জানানো হয়, এই নির্দিষ্ট ফাঁকগুলোকেই কাজে লাগাচ্ছে চোরাকারবারি ও অনুপ্রবেশকারীরা, যে ফাঁক কেবলমাত্র রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই রয়ে গিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট আর অপেক্ষা করতে রাজি হয়নি। এর আগে, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব চায়, যে জমির পুরো অধিগ্রহণমূল্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরিশোধ করেছে, তা কেন এখনও হস্তান্তর করা (Mamata Banerjee) হয়নি? প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া চূড়ান্ত রায় রাজ্যের বাধাদানমূলক রাজনীতির ওপর বড় আঘাত হানে। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, অধিগৃহীত ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া সমস্ত জমি ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে।

    অজুহাত খারিজ

    ‘ভোটার তালিকা সংশোধন’ বা ‘আসন্ন নির্বাচন’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা আদালত খারিজ করে দেয়। জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য কেন্দ্র অর্থ জোগালে, কোনও প্রক্রিয়াগত অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না, এ কথা পরিষ্কার জানিয়ে দেয় বেঞ্চ (Bharats Frontiers)। এই রায় প্রতিটি ভারতবাসীর জয়, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে মাতৃভূমির নিরাপত্তা কোনও রাজ্যস্তরের রাজনীতির দরকষাকষির বিষয় হতে পারে না। আইনের শক্তিতে অবশেষে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পাতা ‘লাল কার্পেট’ গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ফেডারেল সহযোগিতার প্রতি চরম অবহেলা প্রকাশ্যে আসে। কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সাংবিধানিক আইনের দৃষ্টান্তমূলক ব্যাখ্যা দেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ২৫৬, ২৫৭ ও ৩৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে আইনগত ও নৈতিকভাবে বাধ্য (Mamata Banerjee)। কেন্দ্রের যুক্তি, ভারতের সার্বভৌমত্ব যখন বিপন্ন, তখন কোনও রাজ্য নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না। ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ধারা ৪০-এর জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্র স্পষ্ট করে দেয়, সন্ত্রাসবাদী, অনুপ্রবেশকারী ও চোরাকারবারিদের হাত থেকে সীমান্ত রক্ষা করা একটি স্থায়ী জরুরি অবস্থা, যা রাজ্যের ধীর আমলাতান্ত্রিক গতির ঊর্ধ্বে। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবীরা বিএসএফের জরুরি প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে তাদের ‘ডাইরেক্ট পারচেজ পলিসি (DPP)’-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা ‘স্ট্যান্ডার্ড রুল’ ও ‘মামলামুক্ত প্রক্রিয়া’র কথা বলেন, যেন রাষ্ট্রবিরোধী অনুপ্রবেশ রাজ্যের সুবিধামতো অপেক্ষা করতে পারে। জাতীয় প্রতিরক্ষাকে শুধুমাত্র একটি ‘পরিকাঠামো প্রকল্প’ হিসেবে দেখিয়ে জরুরি ক্ষমতাকে ব্যতিক্রম বলে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

    বিএসএফকে লাল ফিতের জালে জড়িয়ে রাখা

    এই ফাঁপা যুক্তির ফল ছিল স্পষ্ট, অবৈধ সীমান্ত কার্যকলাপের দরজা খোলা রেখে বিএসএফকে লাল ফিতের জালে জড়িয়ে রাখা। হাইকোর্ট রাজ্যের এই গড়িমসি কৌশলে বিভ্রান্ত হয়নি। ডিভিশন বেঞ্চ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের মতো গুরুতর বিষয়ে কীভাবে ‘অচল সেতু’র জন্য তৈরি নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে?
    আদালত সরাসরি জানতে চায়, এত বছর আগেই কেন ধারা ৪০ প্রয়োগ করা হয়নি, যা কার্যত সীমান্ত রক্ষায় রাজ্যের সদিচ্ছার অভাবকেই তুলে ধরে (Bharats Frontiers)। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আর কোনও বিলম্বের যৌক্তিকতা নেই। ‘ভোটার তালিকা সংশোধনে’র অজুহাত পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তাকে রাজ্যের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের দোহাই দিয়ে বন্দি করা  যাবে না (Mamata Banerjee)। রাজ্যের দীর্ঘদিনের অন্তর্ঘাত ঠেকাতে আদালত তিনটি স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। এগুলি হল, যেসব জমির মূল্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরিশোধ করেছে, তা ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সম্পূর্ণ হস্তান্তর করা। ডিপিপি প্রক্রিয়ায় থাকা জমির ক্ষেত্রে একই সময়সীমার মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়া। যেখানে কোনও কাজই হয়নি, সেখানে ধারা ৪০ অনুযায়ী জরুরি অধিগ্রহণের পথ খোলা।

    স্পষ্ট সংকেত

    এতে স্পষ্ট সংকেত দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মদতে সীমান্ত দুর্বল করার যুগের আইনি সমাপ্তি ঘটছে। এই হস্তক্ষেপ ভারতের প্রতিরক্ষার পক্ষে বড় জয় এবং টিএমসির ‘নরম সীমান্ত’ নীতির বিরুদ্ধে কড়া পরাজয়। বছরের পর বছর বেঙ্গলের অরক্ষিত সীমান্ত চোরাকারবারি, মাদকচক্র ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রাণরক্ষার পথ ছিল। আদালতের নির্দেশে এবার সেই ফাঁক বন্ধ হতে চলেছে (Bharats Frontiers)। এপ্রিল ২০২৬-এর পর্যালোচনায় স্পষ্ট হবে, রাজ্য অবশেষে দেশপ্রেম দেখাবে, নাকি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা চালিয়ে যাবে। এই সময়সীমাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের শেষ পরীক্ষা। বিচারব্যবস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির বলিতে মাতৃভূমির নিরাপত্তা আর দেওয়া হবে না। বস্তুত, আইনের শাসন অবশেষে প্রহরীকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্তর্ঘাতকারীকে নয়।

     

  • Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি হল পরিবার, ব্যক্তি নয় (Family Over Individual)। একাকী বাঁচা যায় না, সবাইকে নিয়েই চলতে হয়। নরেন্দ্র মোদি সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির নকশা ও বাস্তবায়ন এই নীতির উপরই গঠিত। প্রকল্পগুলির দিকে নজর রাখলে স্পষ্ট হয় যে বিজেপি সরকারের সামাজিক কল্যাণ দর্শন পশ্চিমি উদারবাদী ও সমাজতান্ত্রিক মডেলের ব্যক্তি-কেন্দ্রিক চিন্তাধারা থেকে একটি সচেতন আদর্শিক বিচ্যুতি ঘটিয়েছে। এই কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শন—যেখানে ব্যক্তি নয়, পরিবারকেই সমাজ, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রের মৌলিক একক হিসেবে দেখা হয়।

    সরকারি প্রকল্পগুলির পরিকল্পনায় পরিবার

    বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলিতে এই আদর্শের প্রতিফলন স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY 2.0)-এর আওতায় যোগ্য পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা বা গৃহঋণের উপর সুদের ছাড় দেওয়া হয়। এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির পরিবারগুলিকে। প্রকল্পটি ব্যক্তিকে নয়, সম্পূর্ণ পরিবারকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিত। একইভাবে জল জীবন মিশন, উজ্জ্বলা যোজনা এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিতেও পরিবারকেই মূল ফোকাস হিসেবে ধরা হয়েছে। পানীয় জল সরবরাহ করা হয় বাড়িতে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়। পরিষ্কার রান্নার গ্যাস পুরো পরিবারের স্বাস্থ্য ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। স্যানিটেশনকেও ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনে গৃহস্থালির স্তরে শৌচালয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দৈনন্দিন অভ্যাস, সামাজিক আচরণ এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই সমস্ত উদ্যোগ মিলিয়ে একটি স্পষ্ট নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে—যেখানে পরিবারকে সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান একক হিসেবে দেখা হয়।

    আদর্শিক স্পষ্টতা, কাকতালীয় নকশা নয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতি কোনও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদর্শিক স্পষ্টতার ফল। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘ইন্টিগ্রাল হিউম্যানিজম’ দর্শনে পরিবারকে সেই স্থান হিসেবে দেখা হয়েছে, যেখানে ব্যক্তি প্রথম সামাজিক মূল্যবোধ—দায়িত্ব, সহযোগিতা এবং প্রজন্মগত সম্মান—শেখে। এই দর্শন অনুযায়ী, কল্যাণমূলক নীতি মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতাকে সমর্থন করবে, কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের বিকল্প হয়ে উঠবে না। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, এই দর্শন ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী নয়; বরং স্বাধীনতাকে দায়িত্ব ও ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে।

    কেন পরিবারকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার?

    পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় পশ্চিমি সমাজে চরম ব্যক্তি-স্বাধীনতার ধারণার সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ব্যক্তি-কেন্দ্রিকতা পারিবারিক বন্ধন দুর্বল করে এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ক্ষয় করে। এর ফলে পরিবার তার কার্যকর ভূমিকা হারায় এবং যত্ন ও দায়িত্বের ভার রাষ্ট্রের উপর পড়ে। এর বিপরীতে, ‘ধর্ম’-ভিত্তিক জীবনদর্শনের মাধ্যমে পরিবারকে সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রশিক্ষণক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কল্যাণ কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়া দান নয়, বরং সেই পরিবারগুলিকে সহায়তা করা, যারা সামাজিক সামঞ্জস্য ও সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলে। বিজেপির মতে, পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতির মাধ্যমে সরকার একটি গভীর সভ্যতাগত বার্তা দিচ্ছে—উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, বরং শক্তিশালী পরিবারের মাধ্যমে সামাজিক সামঞ্জস্য পুনর্গঠন।

    বসুধৈব কুটুম্বকম ও একীভূত ভারত ভাবনা

    বিজেপি সরকারের পরিবার-কেন্দ্রিক (Family Over Individual) দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে রয়েছে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—বিশ্ব এক পরিবার—এই ধারণা। এই ভাবনায় পরিবারই সামাজিক জীবনের কেন্দ্র, যেখানে মূল্যবোধ, দায়িত্ব ও অন্যের প্রতি যত্নের শিক্ষা শুরু হয়। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ভারতকে একটি সমন্বিত পরিবার হিসেবে দেখার কথা বলেছিলেন, যেখানে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য বজায় থাকে। ১৯৫১ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জনসংঘের নেতৃত্বে থাকা এই চিন্তাবিদ তাঁর দার্শনিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের মাধ্যমে বিজেপির আদর্শিক দিশা নির্ধারণ করে গিয়েছেন। বর্তমানে বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামো সেই দর্শনেরই আধুনিক রূপ—যেখানে নীতি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র ভারতীয় সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন।

  • India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    India US Trade Deal: ধাক্কা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের! ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে কমল শুল্ক, সুবিধা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য চুক্তিতে সহমত হয়েছে ভারত এবং আমেরিকা (India US Trade Deal)। যার ফলে ভারতের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে বলে খবর। আর তাতেই ফাঁপড়ে পড়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিন। কারণ, তাদের থেকে ভারতের শুল্ক অনেকটাই কম। যার ফলে ভারতের বাণিজ্য বাড়বে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনালাপের পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনবে এবং প্রয়োজনে ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানি করতে পারে।

    স্বাগত বার্তা মোদির

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে দারুণ আনন্দিত। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের ওপর শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনার এই ঘোষণায় আমি অত্যন্ত খুশি। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্র ও অর্থনীতি একসঙ্গে কাজ করলে তা সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

    ঐতিহাসিক চুক্তি, শাহ

    অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর পোস্টে এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ (Historic Deal) বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক ১৮ শতাংশে নামায় ভারত–মার্কিন বাণিজ্য (India-US Trade) নতুন মাত্রা পাবে। উভয় দেশের মানুষই এর সুফল পাবেন।’ দুই দেশের তুলনামূলক শুল্ক নিয়ে সরকারি সূত্র জানায়, এখন ভারতের শুল্ক ইন্দোনেশিয়া (১৯%), ভিয়েতনাম (২০%), বাংলাদেশ (২০%), এবং চিনের (৩৪%) চেয়ে কম। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা আরও বাড়বে।

    ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    ভারত-মার্কিন বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) সম্পন্ন হওয়ায় আজ ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় উত্থানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০% শুল্ক কমে ১৮%-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে অটোমোবাইল (Auto Stocks), আইটি (IT Stocks), ডিফেন্স (Defence Stocks) এবং ফার্মার (Pharma Stocks) মতো রফতানি-নির্ভর সেক্টরগুলি বিনিয়োগকারীদের (Investment) নজরে রয়েছে।ভারত-আমেরিকা শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের ফলে রফতানি বাণিজ্যে নতুন জোয়ার আসবে। বিশেষ করে আইটি এবং ডিফেন্স স্টকগুলোতে ভালো মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, বলে মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

    অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থান

    এই চুক্তির ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারত এখন এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে পড়ল, যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম শুল্ক আরোপ করছে। চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের শুল্কহার কম। তবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় ভারতের শুল্ক সামান্য বেশি। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যা আগের ২৫ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’-এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল। নতুন চুক্তির ফলে এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

    বেশি ট্যারিফ যাদের উপর

    চিন- ৩৭ শতাংশ

    ব্রাজিল- ৫০ শতাংশ

    দক্ষিণ আফ্রিকা- ৩০ শতাংশ

    মায়ানমার- ৪০ শতাংশ

    লাওস- ৪০ শতাংশ

    কম ট্যারিফ রয়েছে যাদের উপর

    ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন- ১৫ শতাংশ

    জাপান ১৫ শতাংশ

    দক্ষিণ কোরিয়া- ১৫ শতাংশ

    সুইৎজারল্যান্ড- ১৫ শতাংশ

    ইউকে- ১০ শতাংশ

    দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন শুল্ক

    বাংলাদেশ- ২০ শতাংশ

    ভিয়েতনাম- ২০ শতাংশ

    মালেয়শিয়া- ১৯ শতাংশ

    কম্বোডিয়া- ১৯ শতাংশ

    থাইল্যান্ড- ১৯ শতাংশ

    পাকিস্তান- ১৯ শতাংশ

    ভারত-মার্কিন চুক্তির শর্ত

    সূত্রের খবর, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে যে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়েছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। একই সঙ্গে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে জ্বালানি, কয়লা, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের মোট মার্কিন জ্বালানি ক্রয় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যের দিকে নিয়ে যাবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের গড় শুল্কহার ছিল বিশ্বের অন্যতম উচ্চ—সাধারণভাবে প্রযোজ্য হার ১৫.৬ শতাংশ এবং কার্যকর হার ৮.২ শতাংশ।

    রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে বাণিজ্য চুক্তি হওয়ায় ভারতের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। বাণিজ্যে আরও সুবিধা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুল্ক কমার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভারত এবার থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। তার বদলে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে তেল কিনবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টে এ কথা উল্লেখ নেই।

    এখনো যেসব বিষয় স্পষ্ট নয়

    এই চুক্তি কবে থেকে কার্যকর হবে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের সময়সীমা কী, কিংবা কোন কোন মার্কিন পণ্য ভারত কিনবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত হোয়াইট হাউস এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি বা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিস জারি করেনি। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই এখনো চুক্তির বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে রাশিয়াও ভারতের তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে ভারতের সঙ্গে ঘোষিত এই চুক্তিতে তেমন কোনো বিনিয়োগের উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, গত এক বছরে দু’দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও উচ্চ শুল্ক এবং কূটনৈতিক মতবিরোধে সম্পর্ক কিছুটা চাপের মধ্যে ছিল। শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতাকে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।

     

     

     

     

     

  • Daily Horoscope 03 February 2026: কাজের চাপ বাড়তে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 03 February 2026: কাজের চাপ বাড়তে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

     

     

    মেষ

    ১) অতিরিক্ত বিলাসিতার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ২) গুরুজনদের সদুপদেশে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি।

    ৩) পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতে পারে।

    বৃষ

    ১) নিজের ভুল সংশোধন করার ফলে ব্যবসায় উন্নতি ও বিপুল অর্থপ্রাপ্তির যোগ।

    ২) গুরুজনের শরীর নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    মিথুন

    ১) কাজের চাপ বাড়তে পারে।

    ২) বন্ধুদের সহায়তায় ব্যবসায় উন্নতি।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

     

     

    কর্কট

    ১) সহকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করায় মানসিক চাপ বাড়বে।

    ২) প্রেমে কষ্ট বাড়তে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে।

    সিংহ

    ১) সব কাজেই সুনাম পেতে পারেন।

    ২) ব্যবসায় কর্মচারীদের দ্বারা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    কন্যা

    ১) দাম্পত্য কলহের কারণে মন চঞ্চল হতে পারে।

    ২) কোনও ঝুঁকিপ্রবণ কাজ করতে হতে পরে।

    ৩) দুশ্চিন্তা বাড়বে।

    তুলা

    ১) প্রিয়জনের সঙ্গে বিবাদ নিয়ে চিন্তা হতে পারে।

    ২) গরিব মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    বৃশ্চিক

    ১) শত্রুভয় কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

    ২) ব্যবসায় ফল নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    ধনু

    ১) কাজের ক্ষেত্রে প্রচুর চিন্তা থাকবে।

    ২) ব্যবসার ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকুন, বুদ্ধিভ্রংশ হতে পারে।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    মকর

    ১) বাড়িতে অশান্তির সম্ভাবনা ও সেই কারণে আপনার মানহানি হতে পারে।

    ২) আপনার বক্তব্য সকলের মন জয় করতে সক্ষম হবে।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করুন।

    কুম্ভ

    ১) নম্র স্বভাবের জন্য কর্মস্থলে পদন্নোতি।

    ২) বাসস্থান পরিবর্তন নিয়ে খরচ বৃদ্ধি।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    মীন

    ১) কোনও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করাই ভালো হবে।

    ২) ভ্রমণে সমস্যা বাড়তে পারে, একটু সাবধান থাকুন।

    ৩) ভেবেচিন্তে কথা বলুন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 572: “একটি কথা আছে, ঈশ্বরের বাণী মানুষের ভিতর দিয়ে না এলে মানুষ বুঝতে পারে না”

    Ramakrishna 572: “একটি কথা আছে, ঈশ্বরের বাণী মানুষের ভিতর দিয়ে না এলে মানুষ বুঝতে পারে না”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর

    শ্রীরামকৃষ্ণ—Sir Humphrey Davy ও অবতারবাদ

    ঠাকুর (Ramakrishna) মাস্টারের সহিত ডাক্তার সরকারের কথা কহিতেছেন। পূর্বদিনে ঠাকুরের সংবাদ লইয়া মাস্টার ডাক্তারের কাছে গিয়াছিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — তোমার সঙ্গে কি কি কথা হল?

    মাস্টার—ডাক্তারের ঘরে অনেক বই আছে। আমি একখানা বই সেখানে বসে বসে পড়ছিলাম। সেই সব পড়ে আবার ডাক্তারকে শোনাতে লাগলাম। Sir Humphrey Davy-র বই। তাতে অবতারের প্রয়োজন এ-কথা আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— বটে? তুমি কি কথা বলেছিলে (Kathamrita)?

    মাস্টার — একটি কথা আছে, ঈশ্বরের বাণী মানুষের ভিতর দিয়ে না এলে মানুষ বুঝতে পারে না। (Divine Truth must be made human Truth to be appreciated by us)। তাই অবতারাদির প্রয়োজন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বাঃ, এ-সব তো বেশ কথা!

    মাস্টার — সাহেব উপমা দিয়েছে, যেমন সূর্যের দিকে চাওয়া যায় না, কিন্তু সূর্যের আলো যেখানে পড়ে, (Reflected rays) সেদিকে চাওয়া যায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বেশ কথা, আর কিছু আছে?

    মাস্টার — আর এক যায়গায় ছিল, যথার্থ জ্ঞান হচ্ছে বিশ্বাস।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— এ তো খুব ভাল কথা। বিশ্বাস হল তো সবই হয়ে গেল (Kathamrita)।

    মাস্টার — সাহেব আবার স্বপ্ন দেখেছিলেন রোমানদের দেবদেবী।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — এমন সব বই হয়েছে? তিনিই (ঈশ্বর) সেখানে কাজ করছেন। আর কিছু কথা হল?

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও ‘জগতের উপকার’ বা কর্মযোগ

    মাস্টার — ওরা বলে জগতের উপকার করব। তাই আমি আপনার কথা বললাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — কি কথা?

    মাস্টার — শম্ভু মল্লিকের কথা। সে আপনাকে বলেছিল, ‘আমার ইচ্ছা যে টাকা দিয়ে কতকগুলি হাসপাতল, ডিস্পেন্সারি, স্কুল, এইসব করে দিই; হলে অনেকের উপকার হবে।’ আপনি তাকে যা বলেছিলেন, তাই বললুম, ‘যদি ঈশ্বর সম্মুখে আসেন, তবে তুমি কি বলবে, আমাকে কতকগুলি হাসপাতাল, ডিস্পেনসারি, স্কুল করে দাও!’ আর-একটি কথা বললাম।

  • Hindu Sammelan: নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বিশাল হিন্দু সম্মেলন

    Hindu Sammelan: নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বিশাল হিন্দু সম্মেলন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাগাল্যান্ডের (Nagaland) ডিমাপুরে হয়ে গেল বিশাল হিন্দু সম্মেলন (Hindu Sammelan)। ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার ডিমাপুর হিন্দু সোসাইটির উদ্যোগে ডিডিএসসি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় ওই সম্মেলনের। এই সম্মেলনে যোগ দেন নাগাল্যান্ড ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আসা হাজার পাঁচেক মানুষ। এই সম্মেলন রাষ্ট্রীয় স্বার্থ (রাষ্ট্রীয়ত)-কে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় দায়িত্ব নিয়ে ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব (Hindu Sammelan)

    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, আরএসএসের অখিল ভারতীয় কার্যকরিণী সদস্য মনমোহন বৈদ্য, রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির অখিল ভারতীয় সহ-সারকার্যবাহিকা সুনীতা হালদেকর, রমেশ কুমার মুনি এবং প্রখ্যাত সমাজচিন্তক থুনবাই। তাঁদের উপস্থিতি সম্মেলনকে বৌদ্ধিক গভীরতা ও জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা সাংস্কৃতিক আত্মসচেতনতা, সামাজিক সংহতি এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রেক্ষাপটে। বক্তৃতায় বলা হয়, সনাতন মূল্যবোধ ভারতের সভ্যতাগত চেতনাকে শক্তিশালী করতে এবং বহুবিধ সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (Hindu Sammelan)।

    ভারতের প্রকৃত শক্তি

    বক্তব্যে বৈদ্য বলেন, “ভারতের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে তার সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা ও সমষ্টিগত চেতনায়।” তিনি সমাজ বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, “জাতি গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং আদিবাসী ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আজ সময়ের দাবি।” সম্মেলনে সব বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যা সাংস্কৃতিক পরিচয় ও জাতীয় দায়িত্ব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতার প্রতিফলন। অনুষ্ঠানের শেষে সামাজিক ঐক্য, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং একটি শক্তিশালী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ভারত গঠনে ইতিবাচক অবদান রাখার যৌথ সংকল্প গ্রহণ করা হয় (Nagaland)।

    ডিমাপুরে অনুষ্ঠিত এই হিন্দু সম্মেলন জাতীয় সংহতি ও সাংস্কৃতিক জাগরণের আদর্শকে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই বিবেচিত হচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলে। এটি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতে’র বৃহত্তর ভাবনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ (Hindu Sammelan)।

     

  • Election Commission: “এরকম মিথ্যেবাদী কমিশন কখনও দেখিনি”, বললেন মমতা

    Election Commission: “এরকম মিথ্যেবাদী কমিশন কখনও দেখিনি”, বললেন মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এরকম মিথ্যেবাদী কমিশন আমি কখনও দেখিনি। বহু ধিন ধরে রাজনীতি করছি, এরকম ঔদ্ধত্য আমি আগে দেখিনি (Election Commission)।” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলি হেলনেই কাজ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জানাতে সদলে দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা। সেখানে তাঁর বৈঠক হয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানের কুমারের সঙ্গে। সেই বৈঠক থেকে বেরিয়েই কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

    ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম! (Election Commission)

    জানা গিয়েছে, বেঁচে থাকতেও নির্বাচন কমিশনের নথিতে মৃত বলে চিহ্নিত এমন ৫০জন ভোটারকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছেন মমতারা। শুধু তা-ই নয়, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে পরিবারের কোনও না কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগ থাকা আরও ৫০জনকেও দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজাররা। এদিন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের (Mamata Banerjee)। সেখানেই ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম, হয়রানি এবং মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ তুলে ধরে কমিশনের কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল। যদিও খানিক পরে নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, বৈঠকের আগেই তাঁদের অসম্মান ও অপমান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাদ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অভিযোগও করেন মমতা।

    হিন্দু-মুসলমান

    তাঁর দাবি, “যাঁরা হিন্দু-মুসলমান করেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন? এখানে দু’জন মুসলিম রয়েছেন (Election Commission)। ক’জন হিন্দু?” তাঁর আরও প্রশ্ন, “বিজেপি শাসিত অসমে কেন এই প্রক্রিয়া করা হল না?” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআরের নামে রাজ্যে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব করা হয়েছে। তার নেপথ্যে রয়েছেন সীমা খন্না। কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত বড় সংখ্যায় ভোটার বাদ পড়ার পরেও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যাখ্যা চাইছে না।”

    প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা

    এদিন আরও একবার প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করুন। ওঁর বাবা-মায়ের জন্ম-কুন্ডলী বের করতে বলুন।” তিনি বলেন, “লালকৃষ্ণ আডবাণীর নাগরিকত্ব এবং জন্মস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নও এক সময় উঠেছিল।” এদিনের বৈঠকের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। বলেন, “বৈঠকের সময় কমিশনের নিজস্ব ক্যামেরাম্যানরা উপস্থিত ছিলেন, অথচ বাইরের ক্যামেরাম্যানদের সেখানে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের যা ইচ্ছে, তাই করবেন, তা তো হয় না! বহুদিন ধরে রাজনীতি করছি, মন্ত্রীও ছিলাম (Election Commission)। এরকম অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন কখনও দেখিনি (Mamata Banerjee)।”

  • T20 World Cup 2026: বাইশ গজে এক ঘরে পাকিস্তান! মোটা টাকা ক্ষতিপূরণ, ভারত ম্যাচ বয়কট নিয়ে পিসিবি-কে কী বার্তা আইসিসির?

    T20 World Cup 2026: বাইশ গজে এক ঘরে পাকিস্তান! মোটা টাকা ক্ষতিপূরণ, ভারত ম্যাচ বয়কট নিয়ে পিসিবি-কে কী বার্তা আইসিসির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) খেললেও ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না পাকিস্তান। পাক সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে আইসিসি। এই ভাবনা খেলার পরিপন্থী। পিসিবি এই সিদ্ধান্ত না বদলালে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে মহসিন নকভিদের। আইসিসির সূত্র জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে তারা। মঙ্গল বা বুধবার তারা বৈঠকে বসবে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাকিস্তান যদি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তাহলে কড়া শাস্তি হবে তাদের। নির্বাসিত করা হতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে। সত্তরের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে যে ভাবে আইসিসি নির্বাসিত করেছিল, সেই পদক্ষেপ আরও এক বার করতে পারে তারা।

    আইসিসির বার্তা

    রবিবার পাকিস্তান সরকার এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তারা বলেছে, “পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান।” অবশ্য যদি ফাইনালে দু’দল মুখোমুখি হয় তখন পাকিস্তান কী করবে, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি পাক সরকার বা সে দেশের বোর্ড। যদি সত্যিই তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয় তা হলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসি, দুই সংস্থারই সমস্যা আরও বাড়বে। সে ক্ষেত্রে বিশ্বকাপে জটিলতা আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা বলেছে, “জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ভূমিকাকে আইসিসি সম্মান করে। কিন্তু পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থী। গোটা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ক্রিকেটপ্রেমী, যাঁদের মধ‍্যে পাকিস্তানের সমর্থকেরাও রয়েছেন, তাঁদের ভালর কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নয়।” আইসিসি জানিয়েছে, তারা প্রত‍্যাশা করে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি লিখেছে, “পিসিবি তাদের দেশের ক্রিকেটের উপর এর সুদূরপ্রসারী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের কথা বিবেচনা করবে। কারণ এটি বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যার অন্যতম সদস্য এবং সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেই।”

    আর্থিক জরিমানা

    আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়া বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরশিপ ইন্টিগ্রেশনের জন্য ৩৮ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩৪৭.৮৯ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আইসিসি-র থেকে বছরে ৩৪.৫ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩১৫.৮৯ কোটি টাকা, ৫.৭৫% অংশ) পায় পাকিস্তান। চুক্তি লঙ্ঘন হলে সেই টাকা আটকে যেতে পারে। ম্যাচের দিনের বিজ্ঞাপনের সরাসরি ক্ষতি; ১০ সেকেন্ডের স্লটের দাম ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে সেই টাকার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২০০-২৫০ কোটি টাকা অংশগ্রহণ ফি বাজেয়াপ্ত এবং আইসিসি কর্তৃক ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্ভাব্য জরিমানা হতে পারে পাকিস্তানের।

    ব্রাত্য পাকিস্তান ক্রিকেট

    আইসিসি সদস্য বোর্ডগুলিকে পাকিস্তান সুপার লিগের জন্য বিদেশি খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দিতে পারে। যা লিগটির বাণিজ্যিক মূল্যকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দুই দল যোগ হওয়ায় এই মুহর্তে পিএসএলের বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্ব বাতিল হতে পারে! যার ফলে বহু বছর ধরে রাজস্বে ধারাবাহিক ক্ষতি হবে। পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে ওই ম্যাচের পয়েন্ট হারাবে এবং ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ-সহ ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টে নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারে পাকিস্তান। তেমনটা হলে পাকিস্তান ক্রিকেট পিছিয়ে যাবে বেশ কয়েক বছর। অন্ধকার হয়ে যাবে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ।

  • Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেগের সালিশি আদালত (কোর্ট অফ আরবিট্রেশন) ইন্দাস জলচুক্তির (Indus Waters Treaty) কাঠামোর আওতায় নতুন শুনানি ও নথি তলবের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে গেলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার বৈধতা তারা স্বীকার করে না এবং এতে অংশও নেবে না (India)। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হল, গত সপ্তাহে ইন্দাস জলচুক্তির (IWT) অধীনে গঠিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন (CoA)-এর জারি করা একটি নির্দেশ। ওই নির্দেশে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির পরিচালনাসংক্রান্ত ‘পন্ডেজ লগবুক’ জমা দিতে বলা হয়েছে, যা আদালত ‘মেরিটস সংক্রান্ত দ্বিতীয় ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছে।

    হেগের পিস প্যালেসে শুনানি (Indus Waters Treaty)

    আদালত জানিয়েছে, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি হেগের পিস প্যালেসে শুনানি হবে। একই সঙ্গে আদালত নথিভুক্ত করেছে যে, ভারত এখনও কোনও কাউন্টার-মেমোরিয়াল জমা দেয়নি এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের কোনও ইঙ্গিতও দেয়নি। তবে নয়াদিল্লির কাছে এই পুরো প্রক্রিয়াটাই অর্থহীন। সরকারি সূত্রের খবর, ‘অবৈধভাবে গঠিত’ এই তথাকথিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ‘সমান্তরাল শুনানি’ চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের ভাষায়, “আমরা যেহেতু এই আদালতের বৈধতা স্বীকার করি না, তাই তাদের কোনও যোগাযোগেরই জবাব দিই না। তাছাড়া ইন্দাস জলচুক্তি বর্তমানে স্থগিত থাকায়, ভারতের পক্ষে কোনও জবাব দেওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। এটি পাকিস্তানের একটি কৌশল—আমাদের টেনে এনে দেখানোর চেষ্টা যে আমরা এখনও প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছি।”

    পহেলগাঁওকাণ্ড

    এই নজিরবিহীন অচলাবস্থার নেপথ্যের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল, যখন পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ওই ঘটনার একদিন পরেই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দাস জলচুক্তিকে ‘স্থগিত’ ঘোষণা করে। ১৯৬০ সালের পর এই প্রথমবার ভারত জল সহযোগিতাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করল (India)। এই সিদ্ধান্ত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সঙ্গেও যুক্ত ছিল এবং ভারতের পাকিস্তান নীতিতে এক সুস্পষ্ট মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দেয়। এটি জানিয়ে দেয়, শত্রুতার আবহে সহযোগিতা কখনওই চলতে পারে না। ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। পরবর্তী ন’মাসে পাকিস্তান কূটনীতিকদের তলব করেছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘে চিঠি দিয়েছে, ১০টিরও বেশি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন (Indus Waters Treaty) করেছে। এসব কিছুর কেন্দ্রীয় বক্তব্য একটাই, ভারত তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল দুর্বল জায়গায় আঘাত হেনেছে।

    ইন্দাস নদী

    পাকিস্তানের কৃষির প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ ইন্দাস নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। দেশটির জলাধার সক্ষমতা এক মাসের প্রবাহও ধরে রাখতে পারে না। তাদের প্রধান জলাধার, তারবেলা ও মাঙ্গলা নাকি প্রায় ‘ডেড স্টোরেজে’ পৌঁছে গিয়েছে। একসময় যা ছিল নিছক একটি প্রযুক্তিগত চুক্তি, তা এখন পরিণত হয়েছে কৌশলগত চাপের হাতিয়ারে (India)। ভারতের অবস্থান সত্ত্বেও হেগ-ভিত্তিক আদালত এমনভাবে এগোচ্ছে, যেন চুক্তির কাঠামো এখনও পুরোপুরি কার্যকর। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির এক নির্দেশে আদালত ২–৩ ফেব্রুয়ারির শুনানির বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করে এবং জানায়, ভারত উপস্থিত না থাকলে পাকিস্তান একাই পিস প্যালেসে সশরীরে যুক্তি উপস্থাপন করবে। এর পাঁচ দিন পর, পাকিস্তানের অনুরোধে জারি করা আর এক নির্দেশে আদালত ভারতকে বাগলিহার ও কিষানগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ পরিচালন লগবুক জমা দিতে বলে। উদ্দেশ্য, ভারত ঐতিহাসিকভাবে পন্ডেজের হিসেব ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখিয়েছে কি না, তা যাচাই করা। আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত সহযোগিতা না করলে তারা ‘প্রতিকূল অনুমান’ টানতে পারে অথবা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান যে নথি পাবে, তা গ্রহণ করতে পারে (Indus Waters Treaty)।

    ভারতের অবস্থান

    আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান তাদের বিচার করার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে না (India)। এটাই সেই অবস্থান, যা ভারত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইন্দাস জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত মতপার্থক্য নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের কাছে যায়, আর আইনি বিরোধ যায় সালিশি আদালতে। ভারতের ধারাবাহিক দাবি, বর্তমান বিরোধগুলি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের এক্তিয়ারভুক্ত, আর পাকিস্তানের সালিশি আদালত সক্রিয় করার চেষ্টা ‘ফোরাম শপিং’য়ের শামিল। এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকার করছে নয়াদিল্লি। শুধুমাত্র নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারত ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাকিস্তানকে এই বিরোধকে বৃহত্তর আইনি ও রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ দিতে দেওয়া হবে না (Indus Waters Treaty)। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশগুলি দেখাচ্ছে, তারা দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়ার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করার চেষ্টা করছে, যাকে ভারত সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মনে করছে (India)।

    আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা

    হেগে যা ঘটছে, তা কেবল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হিসেবনিকেশ নিয়ে আইনি বিরোধ নয়। এটি সংযমের দীর্ঘ দশকের পর কূটনৈতিকভাবে চুক্তিকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের ভারতের সিদ্ধান্তের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা। পাকিস্তানের কাছে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানো অস্তিত্বের প্রশ্ন। আর ভারতের কাছে সরে দাঁড়ানো একটি কৌশলগত পছন্দ। কোর্ট অব আরবিট্রেশন আদেশ জারি করতে পারে, শুনানির দিন ঠিক করতে পারে, প্রক্রিয়াগত নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া এবং চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত থাকায়, এই কার্যক্রম একতরফা আইনি নথি হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে রয়েছে, বাধ্যতামূলক রায়ের নয় (India)।

    সাউথ ব্লকের দৃষ্টিতে, সেটাই আসলে উদ্দেশ্য। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর থেকে ভারতের বার্তা স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক—ভূমির বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনও চুক্তি টিকে থাকতে পারে না। আর পাকিস্তান যতদিন না নয়াদিল্লির ভাষায় ‘অস্বাভাবিক শত্রুতা’ বন্ধ করছে, ততদিন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জলবণ্টন চুক্তিটিও একাধিক অর্থে স্থগিতই থাকবে (Indus Waters Treaty)।

     

  • India’s GDP: বিশ্ব অর্থনীতিতে চিনের পরই ভারত, তিনে আমেরিকা! মাস্কের মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ নির্মলার

    India’s GDP: বিশ্ব অর্থনীতিতে চিনের পরই ভারত, তিনে আমেরিকা! মাস্কের মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতিতে আমেরিকার একছত্র আধিপত্য আর নয়! সদ্য প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির রিপোর্ট সামনে আসার পর তেমনই ইঙ্গিত দিলেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ডের (IMF) রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিশ্বের আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে আমেরিকাকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভারত। এই ঘটনায় প্রশংসার সুরেই টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্কের দাবি, ‘অবশেষে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে।’ মাস্কের মতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৬ সালে গোটা বিশ্বের সম্ভাব্য আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও তাতে সবচেয়ে বেশি যোগদান রাখা ১০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করে আইএমএফ। সেই রিপোর্টেই দেখা গিয়েছে, ডলারের দেশ আমেরিকাকে ছাপিয়ে বিশ্ব তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। বিশ্বের জিডিপিতে ভারতের অংশীদারিত্ব হতে চলেছে ১৭.০ শতাংশ। এই তথ্য সামনে রেখে বাজেট অধিবেশনের পর বিরোধীদের এক হাত নিয়েছেন নির্মলা।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর সাম্প্রতিক তথ্য

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধিতে অবদানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে ভারত। আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ১৭ শতাংশ অবদান রাখবে ভারত। আমেরিকার (৯.৯ শতাংশ) ঠাঁই হয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে চিন। বিশ্ব জিডিপিতে তাদের যোগদান হতে চলেছে ২৬.৬ শতাংশ। পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (৩.৮%), তুরস্ক (২.২%), নাইজেরিয়া (১.৫%), ব্রাজিল (১.৫%), ভিয়েতনাম(১.৬%), সৌদি আরব (১.৭%), জার্মানি (০.৯%)। অর্থাৎ রিপোর্টে স্পষ্ট যে বিশ্ব অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক যোগদান হতে চলেছে এশিয়ার দুই দেশ চিন ও ভারতের। যৌথভাবে দুই দেশের যোগদান হতে চলেছে ৪৩.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক আর্থিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে চিন ও ভারতে। দীর্ঘ বছর ধরে যার কেন্দ্র ছিল আমেরিকা ও ইউরোপ বেষ্টিত।

    আমেরিকার দাদাগিরি আর কতদিন

    সোশাল মিডিয়ায় এই রিপোর্ট তুলে ধরেই ইলন মাস্ক লেখেন, ‘অবশেষে বিশ্বে পরিবর্তিত হচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য।’ উল্লেখ্য, ইলন মাস্কের এহেন মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এল যখন শুধুমাত্র আমেরিকার দাদাগিরির জেরে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। নানা কূটনৈতিক সংঘাতের জেরে বিশ্বের দেশগুলির উপর আরোপ করা হচ্ছে কড়া শুল্ক। চিন ও ভারতের উপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছে আমেরিকা। এবার আইএমএফের রিপোর্টেই জানা গেল, গোটা বিশ্বে আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি যোগদান সেই চিন ও ভারতের।

    ইলন মাস্কের মন্তব্যের তাৎপর্য

    ইলন মাস্কের এই মন্তব্যকে নিছক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি দু’বার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, ভারতে টেসলার উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছেন এবং ১৪০ কোটির বাজারে চীনের মতো সাফল্যের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সময়েই মাস্ক ভারতের অর্থনৈতিক উত্থানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন, যখন টেসলার পশ্চিমি বাজারে বিক্রি শ্লথ। চিনে টেসলার গতি কমেছে, ইউরোপ জটিল নিয়ন্ত্রক সমস্যায় আটকে। এই প্রেক্ষাপটে আইএমএফ কর্তৃক ভারতের ৬.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস মাস্কের মতো শিল্পপতিদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয়।

    পশ্চিমি অর্থনীতির স্থবিরতা, উদীয়মান দেশের উত্থান

    আইএমএফ-এর তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে জার্মানির অবদান বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে মাত্র ০.৯ শতাংশ। গোটা ইউরোজোন মিলিয়ে অবদান মাত্র ২ শতাংশ। উন্নত অর্থনীতিগুলির গড় প্রবৃদ্ধি যেখানে ১.৮ শতাংশ, সেখানে উদীয়মান বাজারগুলির প্রবৃদ্ধি হার ৪.২ শতাংশ—যা বছর বছর ব্যবধান আরও বাড়াচ্ছে। ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া (৩.৮%), তুরস্ক (২.২%), ভিয়েতনাম (১.৬%) এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, নাইজেরিয়ার ১.৫ শতাংশ অবদান অনেক ইউরোপীয় দেশের সম্মিলিত অবদানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

    জনসংখ্যা নয়, উৎপাদনই চালিকাশক্তি

    আইএমএফ জানিয়েছে, ভারতের প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি রফতানি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন। ২০২৫ সালে দেশের পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য শ্লথ থাকলেও ভারতের উৎপাদন খাত গতি ধরে রেখেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত থাকায় ভোক্তা চাহিদাও স্থিতিশীল। অর্থনীতিবিদদের মতে, মাস্কের মন্তব্য আসলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এক নীরব বাস্তবতার প্রকাশ—বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র ধীরে ধীরে পশ্চিম থেকে সরে এশিয়া ও উদীয়মান অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে।

    বিরোধীদের সচেতন করলেন অর্থমন্ত্রী

    বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের (India) ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও (Nirmala Sitharaman)। বাজেট ২০২৬-২৭ (Budget 2026-27) পেশের পর সংসদ ভবনে যুব সংলাপের (Youth Dialogue) মঞ্চে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি তুলে ধরলেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডারের (IMF) সাম্প্রতিক হিসেব। ‘ওয়াও’ মন্তব্য করলেন ইলন মাস্ক। উদ্ধৃত করে বক্তব্য রাখলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে হয়তো দেখেছেন, মাস্ক আইএমএফ–এর ডেটা শেয়ার করে আশ্চর্য হয়ে লেখেন, “ওয়াও, এটা সত্যি?” অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি ঠিক মনে করতে পারছি না তিনি ‘ওয়াও’ বলেছেন, না অন্য কিছু বলেছেন। কিন্তু আইএমএফ–এর তথ্য তুলে তিনি ভারতের অবদান নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।” মাস্কের মন্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিরোধীদের একহাত নেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর সাফ বক্তব্য, “আমি তো সংসদে বলবই। কিন্তু দেশের বিরোধীদের (Opposition) বোঝা উচিত, এখন ভারত যে জায়গায় দাঁড়িয়ে— তা শক্তির পরিচয়। আমরা চিনের পরেই। ব্যবধান হয়তো একটু বেশি— ২৬ আর ১৭। কিন্তু আমরা এটা কমিয়ে আনব।”

LinkedIn
Share