Tag: news in bengali

news in bengali

  • Europe Record Heatwave: রোদেই রান্না হচ্ছে ডিম! গলছে রাস্তা-ট্রামলাইন, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ইউরোপে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

    Europe Record Heatwave: রোদেই রান্না হচ্ছে ডিম! গলছে রাস্তা-ট্রামলাইন, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ইউরোপে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে চলছে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ। একাধিক দেশে তাপমাত্রা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রবল গরমে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ, চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফ্রান্সে মর্গ ও শ্মশান পরিষেবার উপর তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত চাপ, জার্মানিতে গলে যাচ্ছে ট্রামলাইন, আর ইউক্রেনে বিদ্যুৎ গ্রিড বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

    সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল তাপপ্রবাহের চিত্র

    এই তীব্র গরমের একাধিক ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, খোলা রোদে রাখা ফ্রাইং প্যানে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডিম ও বেকন রান্না হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে—

    • ● দোকানের ভিতরেই গলে যাচ্ছে চকোলেট ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য।
    • ● দীর্ঘক্ষণ রোদে পড়ে থাকা শপিং ট্রলির প্লাস্টিকের অংশ বিকৃত হয়ে যাচ্ছে।
    • ● জুতোর সোল গলে যাচ্ছে।
    • ● অতিরিক্ত গরমে কলার খোসা আলাদা হয়ে ফল নিচে পড়ে যাচ্ছে।
    • ● বার্লিনে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে জলকামান থেকে জল ছিটিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।

    তবে এই সমস্ত ভাইরাল ছবি ও ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি মাধ্যম

    জার্মানিতে গলে গেছে ট্রামলাইন

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জার্মানির একাধিক এলাকায় অতিরিক্ত তাপের কারণে ট্রামলাইন বিকৃত ও গলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর জেরে সপ্তাহান্তে লাইপজিগ শহরে ট্রাম পরিষেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেসুস ইউরোপের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
    তিনি বলেছেন, “ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে বসবাস করছেন। ২১ জুনের পর থেকে ইউরোপে অতিরিক্ত গরমের কারণে ১,৩০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। তেদ্রোস এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ লিখেছেন, “হিট স্ট্রেসকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের বাড়ি, অফিস বা স্কুল—কোনওটাই এই ধরনের চরম তাপমাত্রার জন্য নির্মিত নয়।”

    কোথায় কত তাপমাত্রা?

    সপ্তাহান্তে ইউরোপের একাধিক দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে—

    • ● চেক প্রজাতন্ত্র – ৪১.৯° সেলসিয়াস
    • ● জার্মানি – ৪১.৭° সেলসিয়াস
    • ● পোল্যান্ড – ৪০.৫° সেলসিয়াস

    এই তাপমাত্রা ওই দেশগুলির স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার তুলনায় অনেক বেশি।

    ফ্রান্সে এক হাজারের বেশি মৃত্যু

    ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত এই সময়ে সাধারণ বছরের তুলনায় প্রায় ১,০০০ জন বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি ন্যাশনাল ফিউনারেল ফেডারেশনের প্রতিনিধি এলিজাবেথ শারিয়ের জানান—

    • ● সাধারণত গ্রীষ্মকালে ফিউনারেল হোমগুলিতে ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ দখল থাকে।
    • ● বর্তমানে সেই হার বেড়ে ৬০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।

    প্যারিসের অবস্থা শোচনীয়, চাপ বাড়ছে মর্গে…

    সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজধানী প্যারিসে। শারিয়ের বলেন, “গত শুক্রবার থেকেই প্যারিসের মাত্র দুটি ফিউনারেল হোম পুরোপুরি ভর্তি। ফলে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহরের বাইরে, উপকণ্ঠ বা আরও দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাঁর মতে—

    • ● দাহ করার জন্য অপেক্ষার সময় বেড়ে যাবে।
    • ● কবরস্থানে সমাধিস্থ করার জায়গা দ্রুত ফুরিয়ে আসবে।
    • ● কবর খোঁড়ার কাজ সীমিত গতিতে হওয়ায় চাপ আরও বাড়বে।
    • ● এর ফলে এক ধরনের ‘ডোমিনো এফেক্ট’ তৈরি হতে পারে।

    ইউক্রেনে বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়তি চাপ

    রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আগেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার উপর এই তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন সংকট তৈরি করেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রিভনে অঞ্চলে বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার ইউক্রেনের পাঁচটি অঞ্চলের বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মঙ্গলবার ব্ল্যাকআউট হতে পারে। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সংস্থা ইয়াসনো-র সিইও সেরহি কোভালেঙ্কো বলেন, “চার বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলা এবং একাধিক হামলা সহ্য করা বিদ্যুৎ সরঞ্জামের জন্য এই তাপপ্রবাহও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

    কেন এত বিপজ্জনক এই তাপপ্রবাহ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের অধিকাংশ দেশ ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। ফলে—

    • ● বহু বাড়িতে এখনও পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশনিং নেই।
    • ● হাসপাতাল, স্কুল ও অফিস ভবনের নকশা এত উচ্চ তাপমাত্রার উপযোগী নয়।
    • ● রেললাইন, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামোও এত বেশি তাপ সহ্য করার মতো করে নির্মিত নয়।
    • ● বয়স্ক, শিশু ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
    • ● বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গ্রিডের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি সতর্কবার্তা

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চরম তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দীর্ঘস্থায়ী ও প্রাণঘাতী হিটওয়েভ এখন আর ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং ক্রমশ নতুন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাই নয়, ভবিষ্যতে ইউরোপকে নগর পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, গণপরিবহণ এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। না হলে প্রতি বছর গ্রীষ্মেই আরও বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

  • ONGC: জুলাই থেকেই অশোকনগরে শুরু হচ্ছে বাণিজ্যিক তেল উত্তোলন! উত্তর ২৪ পরগনার প্রকল্পে নয়া আশা

    ONGC: জুলাই থেকেই অশোকনগরে শুরু হচ্ছে বাণিজ্যিক তেল উত্তোলন! উত্তর ২৪ পরগনার প্রকল্পে নয়া আশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের মাস্টারস্ট্রোক! উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের (Ashokenagar) বাইগাছি এলাকা থেকে জুলাই মাসের শেষের দিক থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খনিজ তেল উত্তোলনের কাজ (ONGC)। অন্তত সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংস্থা ওএনজিসি। ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক উৎপাদনেরও পরিকল্পনা রয়েছে এই সংস্থার। প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হয়ে গেলে অশোকনগর পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উত্তোলন কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

    তেল উত্তোলন শুরুর পরিকল্পনা (ONGC)

    এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই প্রায় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। অশোকনগরে সব মিলিয়ে মোট সাতটি কুয়ো খোঁড়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বাইগাছির একটি কুয়ো থেকেই তেল উত্তোলন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ওএনজিসির। পাশাপাশি ভুরকুন্ডা, দৌলতপুর-সহ আশপাশের এলাকায় আরও কুয়ো খোঁড়ার কাজ চলছে। রানাঘাটেও খনিজ তেলের সম্ভাবনার সন্ধান মিলেছে বলেও জানা গিয়েছে।বাইগাছিতে ২০১৮ সালে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য ভান্ডারের সন্ধান মেলে। পরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় একটি কূপ থেকে প্রায় ৩৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এখানকার অপরিশোধিত তেলের মান অত্যন্ত উন্নত এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ সমুদ্রবর্তী তৈলক্ষেত্রের তেলের সঙ্গে তার গুণগত মিলও রয়েছে।

    জোর কদমে চলছে কাজ

    সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগর থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য হলদিয়ার শোধনাগারে পাঠানো হবে। বর্তমানে প্রায় আড়াই কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত কুয়ো খোঁড়ার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই দু’কিলোমিটারেরও বেশি খোঁড়া হয়ে গিয়েছে (ONGC), এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ মিটার করে এগোচ্ছে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে বিশেষ ধরনের তেল উত্তোলন যন্ত্রের সাহায্যে নিয়মিত তেল তোলা হবে। সেই সঙ্গে প্রকল্পে যুক্ত করা হবে আরও আধুনিক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি। এখন প্রকল্প এলাকায় দু’টি শিফটে কাজ করছেন শতাধিক কর্মী। নিরাপত্তার স্বার্থে গোটা এলাকা উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। তবে প্রকল্পে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রয়োজন উন্নত রাস্তার। সেই কারণে প্রকল্প এলাকা থেকে হাবড়া-নৈহাটি সড়ক পর্যন্ত নয়া রাস্তা নির্মাণ এবং আলোকসজ্জা-সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    কী বলছে বিজেপি?

    এদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। সম্প্রতি প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মেলার পর কাজের গতি বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংসদে বিষয়টি একাধিকবার উত্থাপন এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের ফলেই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। শমীকের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু হলে রাজ্যের রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনই অশোকনগর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় শিল্পের প্রসার, কর্মসংস্থান এবং (Ashokenagar) সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নয়া সুযোগ তৈরি হবে। দেশের জ্বালানি (ONGC) উৎপাদনেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।

  • PM Modi: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কী বার্তা দিতে চায় কেন্দ্র?

    PM Modi: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কী বার্তা দিতে চায় কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা সৈয়দ আলি খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য এবং দাফন অনুষ্ঠানে (Khamenei State Funeral) উপস্থিত থাকতে পারবেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক সফরের কারণে ওই শোকের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও যেতে পারছেন না তিনি। তাই ভারতের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে এঁদের।

    খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে প্রতিনিধি দল (PM Modi)

    ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে সরকারি সূত্রের খবর, ওই সময় প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকবেন। আগে থেকেই নির্ধারিত এই বিদেশ সফরের সূচির কারণে তাঁর পক্ষে ইরান সফর সম্ভব হচ্ছে না। এরপরই নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বিহারের রাজ্যপাল এবং বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীকে ভারতের প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়েছে। তাঁরাই যাবেন। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনেই নিহত হন বলে খবর। প্রথমে মার্চ মাসে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরে ইরান সরকার জুলাই মাসে নতুন করে অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে (PM Modi)।

    ভারতের বার্তা

    আগামী ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুরু হবে। সেখানে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে খামেনেইয়ের দেহ। এরপর তেহরান ও পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রার আয়োজন করা হবে। ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। শিয়া মুসলিমদের কাছে এই দু’টি শহরের বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। ৯ জুলাই খামেনেইয়ের নিজের শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তাঁর দাফনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য পর্ব। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভারতের সঙ্গে (Khamenei State Funeral) ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকেই তুলে ধরে। যদিও, সরকারি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতির একমাত্র কারণ পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফরের সূচি (PM Modi)।

     

  • College Street Make Over: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট! বইয়ের দোকান নিয়ে ব্যতিক্রমী ভাবনা অগ্নিমিত্রার

    College Street Make Over: লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে সাজবে কলেজ স্ট্রিট! বইয়ের দোকান নিয়ে ব্যতিক্রমী ভাবনা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে সেজে উঠবে বইপাড়া। ঐতিহ্যবাহী বইপাড়া অর্থাৎ কলেজ স্ট্রিটের (College Street Make Over) এবার ভোলবদল করতে চলেছে বিজেপি সরকার। এক আন্তর্জাতিক রূপরেখায় এই বদল হবে। এবার আর যানজট বা হর্ন-এর শব্দ নয়, লন্ডনের বিখ্যাত ‘অক্সফোর্ড স্ট্রিট’-এর আদলে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এবং ‘নো ভেহিকল জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে এই এলাকাকে। এমনকী, বইয়ের দোকানগুলিকেও নতুন থিমে সাজানো হবে। আসানসোলের জেলা গ্রন্থাগারে এসে এই অত্যন্ত অভিনব ও মেগা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।

    কেন এই উদ্যোগ

    আগামী প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে এনে ফের বইমুখী করতেই বইপাড়া হিসেবে পরিচিত কলেজ স্ট্রিটকে নতুন ভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুধু কলকাতাই নয়, মন্ত্রীর এই মেগা ভাবনার ছোঁয়া পেতে চলেছে শিল্পাঞ্চল আসানসোলও। তিনি জানান, আগামী প্রজন্মকে মোবাইল ও ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে বের করে ফের বইমুখী করাই সরকারের লক্ষ্য।

    কীভাবে সাজবে কলেজ স্ট্রিট

    নতুন এই রূপরেখা অনুযায়ী, কলেজ স্ট্রিটের একটি নির্দিষ্ট বৃত্তাকার অংশে সাধারণ কোনও গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কিছুটা দূরে সাইকেল স্ট্যান্ড থাকবে, যেখান থেকে পরিবেশবান্ধব সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। বয়স্ক মানুষদের চলাচলের সুবিধার্থে থাকবে ব্যাটারিচালিত গাড়ি। শহরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কলেজ স্ট্রিটে বিশেষভাবে ডিজাইন করা ট্রাম চালানোর ইচ্ছা রয়েছে মন্ত্রীর। তিনি জানান, সম্পূর্ণ বইপাড়ার ফুটপাত ও রাস্তা সেজে উঠবে ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে। চারপাশের বইয়ের দোকানগুলোকে একই রকম থিমে সাজানো হবে। পুরনো দিনের ভিন্টেজ ল্যাম্পপোস্ট, বসার বেঞ্চ ও ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম শান্ত মনে বসে বই পড়তে বা হেডফোন নিয়ে গান শুনতে পারে। হেরিটেজ রেলিংগুলোকে সংস্কার করে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।

    আসানসোলেও অক্সফোর্ড স্ট্রিট!

    কলকাতার এই মডেলের অনুপ্রেরণায় আসানসোলেও একটি আন্তর্জাতিক মানের পড়ার জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রীর। তাঁর নিজস্ব বিধানসভা এলাকা আসানসোল দক্ষিণে দামোদর নদের অববাহিকায় ভূতাবেরিয়া থেকে ছটঘাট পর্যন্ত যে দীর্ঘ এলাকা রয়েছে, সেটিকেও বিশেষভাবে উন্নত করার কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানেও অক্সফোর্ড স্ট্রিটের থিম মাথায় রেখে কোলাহলমুক্ত, শান্ত একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করা হবে। ডিজিটাল যুগে বইয়ের কোনও বিকল্প হয় না দাবি করে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল স্ক্রিনে আটকে গিয়ে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই এই আধুনিক ও নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে আবার লাইব্রেরি ও বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনাই তাদের আসল লক্ষ্য।”

  • West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং হিংসাত্মক অশান্তি মোকাবিলায় কড়া অবস্থান নিল সরকার। বিধানসভায় সোমবার পাশ হয়েছে গুন্ডা-দমন সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল— ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেন্টেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। সরকারের দাবি, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য বিপদের আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেবে এই আইন। একইসঙ্গে সমাজ-বিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কড়া আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংগঠিত অপরাধ ও জনশৃঙ্খলা ভাঙার প্রবণতা দমনে এই আইন কার্যকর ভূমিকা নেবে। যদিও বিরোধী মহল ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, বিলের কয়েকটি ধারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে, যা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে?

    বিল অনুযায়ী, কোনও জেলাশাসক (ডিএম), পুলিশ কমিশনার (সিপি) অথবা রাজ্য সরকারের মনোনীত ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি মনে করেন, কোনও ব্যক্তি সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা ভবিষ্যতে তেমন কাজে জড়াতে পারেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কার (Externment) করার ক্ষমতা থাকবে প্রশাসনের হাতে। ওই সময় তিনি সেই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিত থানায় হাজিরা দেওয়া অথবা নিজের গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশকে জানাতেও হতে পারে।

    এক বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক

    বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত অংশ হল প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention)-এর বিধান। জনসুরক্ষার স্বার্থে কোনও ব্যক্তিকে বিচার শুরু হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই আটক অনির্দিষ্টকালের জন্য হবে না। আটক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড বা পরামর্শদাতা বোর্ড গঠনের কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এই বিধান জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর কাঠামোর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    জামিন অযোগ্য অপরাধ, তল্লাশি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু অপরাধকে ‘কগনিজেবল’ এবং ‘নন-বেলেবল’ বা জামিন অযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পুলিশ প্রয়োজনে ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালাতে, গ্রেফতার করতে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

    অভিযুক্তকে আশ্রয় দিলেও শাস্তি

    শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিই নন, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা আটকাদেশ জারি থাকার পরও যদি কেউ তাঁকে আশ্রয় দেন বা কোনওভাবে সাহায্য করেন, তবে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

    সমাজবিরোধী বলতে কাদের বলা হয়েছে?

    বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

    • ● সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করা।
    • ● ব্যক্তি বা সম্পত্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা।
    • ● জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি নষ্ট করা।
    • ● বৈধ ব্যবসা, বাণিজ্য বা পেশায় বাধা সৃষ্টি করা।
    • ● বেআইনিভাবে কাউকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করা।
    • ● সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা।
    • ● খনি, বালিখাদান, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী পাচারের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করা।

    আইনের চোখে ‘গুন্ডা’ কারা?

    বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও নির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পড়বেন—

    • ● যাঁরা একা বা কোনও গোষ্ঠী, সিন্ডিকেট কিংবা চক্রের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা তাতে অর্থ ও সহায়তা জোগান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১১১ বা ১১২ ধারায় যাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে।
    • ● অস্ত্র আইন, এনডিপিএস আইন, বিস্ফোরক পদার্থ আইন বা অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তি।
    • ● যাঁদের সাধারণ মানুষ বিপজ্জনক বা বেপরোয়া বলে মনে করেন এবং যাঁদের কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

    সরকার বনাম সমালোচনা

    সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ, দখলদারি, সিন্ডিকেটরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখতেই এই আইন আনা হয়েছে। অপরাধ ঘটার আগেই প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেবে এই বিল। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, প্রতিরোধমূলক আটক, ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি এবং প্রশাসনের বিস্তৃত ক্ষমতা নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর বাস্তবে তার প্রয়োগ কীভাবে হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে আইন বিশেষজ্ঞ— সব পক্ষের।

  • Uniform Civil Code Bengal Bill: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল অগাস্টে! রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Uniform Civil Code Bengal Bill: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল অগাস্টে! রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিটি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) কার্যকর করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। সোমবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইউসিসি (uniform civil code west bengal) প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেন। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবে।

    অগাস্টেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল!

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী অগাস্ট মাসেই রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সুপারিশের উপর ভিত্তি করে বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করা হবে। তবে প্রস্তাবিত আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে রাজ্যের আদিবাসী, মূলবাসী, কুড়মি এবং অন্যান্য স্বীকৃত প্রাচীন জনজাতির সম্প্রদায়কে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলে দেন যে, উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাট মডেলকে অনুসরণ করেই এই ব্যতিক্রম রাখা হচ্ছে বিলে।

    বিলের খসড়া নিয়ে আলোচনা

    আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইউসিসি বিলের খসড়া অনুমোদনের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এই বিল তৈরির ক্ষেত্রে গুজরাটের ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল-২০২৬, অসমের ইউসিসি আইন এবং উত্তরাখণ্ডের ইউনিফর্ম সিভিল কোড আইন-২০২৪-কে একটি ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত আইন চালু থাকার পরিবর্তে গোটা রাজ্যে একটিই আইন কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েই এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচনী সংকল্পপত্রে ইউসিসি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি ছিল এবং সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর।’’ তিনি আরও বলেন, “আমরা কমিটেড। সংকল্পপত্রে যা লিখেছি তা বাস্তবায়ন করব। পশ্চিমবঙ্গেও ইউনিফর্ম সিভিল কোড কার্যকর হবে।”

    সুপারিশ কমিটিতে থাকছেন কারা

    রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, একজন আইন বিশেষজ্ঞ, একজন শিক্ষাবিদ, একজন সমাজকর্মী এবং রাজ্য সরকারের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব সদস্য হিসেবে থাকবেন। প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য ঐ অতিরিক্ত সচিবই কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। কমিটির কাজের পরিধিও সোমবার বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন নিয়ে বিস্তৃত সমীক্ষা চালাবে কমিটি। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, লিভ-ইন সম্পর্ক-সহ একাধিক বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধানের পর্যালোচনা করবে তারা। এ ছাড়াও সামাজিক ও আইনি প্রভাব, সাংবিধানিক প্রশ্ন এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।

  • Suvendu Adhikari Warning: মুখ্যমন্ত্রীর ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! হুমায়ুনের সভা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    Suvendu Adhikari Warning: মুখ্যমন্ত্রীর ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! হুমায়ুনের সভা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার এক দিনের মধ্যেই হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত জনসভার তিন আয়োজককে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে দুই পৃথক অভিযানে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ গোলাম মোস্তাফা, মহম্মদ আমিনুল (আমিনুক) হক এবং আনিসুর রহমানকে আটক করে।

    রেজিনগর, শক্তিপুর থানায় অভিযোগ…

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিনগর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন গোলাম মোস্তাফা ও মহম্মদ আমিনুল হক। গোলাম আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র কাশীপুর-২ অঞ্চলের সভাপতি। অন্যদিকে, শক্তিপুর থানার মামলায় ধরা পড়েছেন আনিসুর রহমান, যিনি এজেইউপির বেলডাঙা-২ ব্লকের আহ্বায়ক। সম্প্রতি রেজিনগর ও শক্তিপুরে আয়োজিত দুটি জনসভায় এজেইউপির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, তাঁর ভাষণে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়।

    সোমবারই বিধানসভায় হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    এই ইস্যু সোমবার বিধানসভাতেও ওঠে। অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং স্পষ্ট জানান, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যাঁরা ওই সভার আয়োজন করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই আগে পদক্ষেপ করা হবে, তারপর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘এনাফ ইজ এনাফ। এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।’’ পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরকে ভবিষ্যতে সংযত ভাষা ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তিনি।

    ‘স্যাঁটা’ শব্দটি নিয়েও আলোচনা শুরু

    বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী রেজিনগরের সভায় হুমায়ুনের বক্তব্যের একটি অংশও পড়ে শোনান। তাঁর অভিযোগ, ওই ভাষণে রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশে হুমকি ও সংঘাতমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এমন বক্তব্য দেওয়ার অধিকার কাউকেই দেওয়া হয়নি এবং রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কোনও রকম আপস করবে না। এদিকে, বিতর্কিত মন্তব্যে ব্যবহৃত ‘স্যাঁটা’ শব্দটি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাষাতত্ত্ববিদদের মতে, শব্দটির অর্থ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। কোথাও এটি শিরদাঁড়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, কোথাও আবার অবমাননাকর বা ঘৃণাসূচক অর্থে প্রচলিত। ফলে বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়েও নানা মত উঠে এসেছে।

    কী প্রতিক্রিয়া হুমায়ুনের?

    অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কোনও মন্তব্য করেননি। হুমায়ুন জানান, এই বক্তব্যের জন্য যদি তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়, তাতেও তিনি বিচলিত নন। তাঁর দাবি, মানুষের স্বার্থে লড়াই করেই তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছেন এবং নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দুই থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

  • FIFA World Cup 2026: বিদায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের! নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় প্যারাগুয়ে, মরক্কোর, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

    FIFA World Cup 2026: বিদায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের! নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় প্যারাগুয়ে, মরক্কোর, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে (FIFA World Cup 2026) এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঘটন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিল চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানকে। নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে গেলেন জোসুয়া কিমিচেরা। জোড়া শট আটকে প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। অন্যদিকে শুরুতে জাপানের কাছে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিল ব্রাজিল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা (Brazil vs Japan Match Report)। কার্লো আন্সেলোত্তির দল ছিটকে যাওয়াটা অঘটন। তাই তাদের জয়ের চেয়েও সামুরাই ব্লুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই যেন বেশি করে মনে রাখবেন দর্শকরা। এদিন জার্মানির পর বিদায় হল বিশ্বফুটবলের আরও এক শক্তির। আরও এক বার টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল নেদারল্যান্ডসও। ২০১৪, ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও সেই টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হল কমলাবাহিনীকে। এগিয়ে গিয়েও মরক্কোর কাছে হারতে হল কোডি গাকপো, ভার্জিল ভ্যান ডাইকদের।

    ভালো খেলেও ব্রাজিলের কাছে হার মানতে হল জাপানকে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে এশীয় সূর্যের উত্থান মন কেড়েছে ফুটবল দুনিয়ার। গোটা মহাদেশকে বিশ্বমঞ্চে মিরাকলের স্বপ্ন দেখিয়েছে জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো দলকে আটকে দিয়ে পৌঁছে গিয়েছে শেষ ৩২-এ। কিন্তু নকআউটের প্রথম লড়াইটাই ছিল পাহাড় প্রমাণ কঠিন। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্থে খোদ জাপানই ভিনি জুনিয়রদের খেলাটাকে এলোমেলো করে দিল। ২৯ মিনিটে অনবদ্য গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়ে দুনিয়াকে যেন সানো বার্তা দিলেন, হাম ভি কিসিসে কম নহি!তবে জাপানি বোমাকে শক্ত হাতে ব্রাজিল সামাল দিল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। জোড়াল হল আক্রমণ। ৫৬ মিনিটে ক্যাসেমিরোর নিখুঁত হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। আর ইনজুরি টাইমের শেষ লগ্নে গোটা স্টেডিয়াম যখন ধরেই নিয়েছে ম্যাচ গড়াবে এক্সট্রা টাইম, ঠিক তখন এল জয়সূচক গোল। দলের শেষ ষোলোর টিকিট পাকা করে দিলেন মার্টিনেলি। তবে জাপানি গোলকিপার সুজুকির দুরন্ত সেভ আর ভিনির শট বারে লেগে ফিরে না এলে আরও বড় ব্যবধানে জিততেই পারত ব্রাজিল।

    প্যারাগুয়ের কাছে হেরে  বিদায় জার্মানির

    ব্রাজিল জিতলেও নাটক বাকি ছিল। মঙ্গলবার ভোর রাতে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে চলতি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জার্মানি। ম্যাচের শুরু থেকে প্রত্যাশা মতোই দাপট ছিল জার্মানির। ফেলিক্স মেচা, কাই হাভার্ৎজ়েরা একের পর আক্রমণ তৈরি করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে প্রচুর পাস খেলে কখনও মাঠের মাঝ খান দিয়ে আবার কখনও উইং ব্যবহার করে প্যারাগুয়ের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ছ’গজের বক্সের মধ্যে তাঁদের জায়গা দিচ্ছিলেন না প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারেরা। জার্মানেরা গোলমুখী শট নেওয়ার চেষ্টা করলেই ব্লক করে দিচ্ছিলেন তাঁরা। ৪২ মিনিটে প্যারাগুয়ে এগিয়ে যায়। ৫৪ মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়। ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ ফলে। এরপর টাইব্রেকার। হাভার্ৎজের প্রথম শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে চপে ফেলে দেন গিল। আবার নিক ওল্টেমেডকে রুখে দেন চতুর্থ শটে। সে সময় টানা তিন শটে গোল করে জয়ের অপেক্ষায় প্যারাগুয়ে। কিন্তু চতুর্থ শট নিতে এসে বাইরে মারেন অ্যান্তোনিয়ো সানাব্রিয়া। পঞ্চম শটে গোল করে জার্মানির আশা জিইয়ে রাখেন নাদিম আমিরি। এর পর ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে লড়াইয়ে ফেরান নয়ার। তাতেও লাভ হল না। প্রথম পাঁচ শটেল পর ফলাফল ৩-৩ হওয়ার পর তুঙ্গে পৌঁছোয় উত্তেজনা। জার্মানির হয়ে ষষ্ঠ শট নিতে আসা তাহ বল উড়িয়ে দেন বারের উপর দিয়ে। আবার চাপে পড়ে যায় চার বারের চ্যাম্পিয়নেরা। এর পর হোসে ক্যানালে গোল করতেই বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে।

    বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল নেদারল্যান্ডস-ও

    গত বিশ্বকাপে টাইব্রেকার স্পেনের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছিলেন। এ বার তাঁর হাতে আটকে গেল ডাচেরা। মরক্কোর রক্ষাকর্তা হয়ে দেখা দিলেন সেই ইয়াসিন বোনো। এদিন টাইব্রেকারে প্রথম শটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন টিউন কুপমেইনার্স। মরক্কোর আল আয়নায়োই প্রথম শট বারে মারেন। ডাচদের হয়ে দ্বিতীয় শট পোস্টে মারেন জাস্টিন ক্লুইভার্ট। রহিমি গোল করে সমতা ফেরান। নেদারল্যান্ডসকে আবার এগিয়ে দেন উইট উইঘর্স্ট। গোল করেন মরক্কোর তালবিও। চতুর্থ শট মিস্‌ করেন কুইন্টন টিম্বার। মরক্কোর কাছে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু আশরফ হাকিমিও গোল করতে পারেননি। সামারভিলের পঞ্চম শট আটকে দেন বোনো। শেষ শটে গোল করতে ভুল করেননি সাইবারি। ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে আফ্রিকার দেশ। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই গুটিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। পাঁচ ডিফেন্ডারে খেলা শুরু করে ডাচেরা। নেদারল্যান্ডসের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা কাজে লাগায় মরক্কো। হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ, সাইবারিদের পায়ে আক্রমণে উঠছিল তারা। প্রথমার্ধের গোল পেয়ে যেতে পারত মরক্কো। হাকিমির শট ভাল বাঁচান ভারব্রুগেন। সাইবারির শট অল্পের জন্য গোলের বাইরে যায়। প্রথমার্ধ গোল শূন্য থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে নেদারল্যান্ডসকে গোল করে এগিয়ে দেন গাকপো। ৭২ মিনিটের মাথায় গাকপোর সেই গোলের পর মনে হচ্ছিল, নেদারল্যান্ডস জিতে যাবে। কিন্তু সংযুক্তি সময়ে এক ক্রসে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন দিয়প। সমতা ফেরায় মরক্কো। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই স্বপ্ন শেষ ডাচদের।

     

     

     

     

     

  • Control of Anti-Social Activities Bill: বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল গুন্ডাদমন বিল, পক্ষে ১৭৬ বিধায়ক, বিপক্ষে ৪১

    Control of Anti-Social Activities Bill: বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল গুন্ডাদমন বিল, পক্ষে ১৭৬ বিধায়ক, বিপক্ষে ৪১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধ্বনি ভোটে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল গুন্ডা দমন বিল (Control of Anti-Social Activities Bill)। এই বিলের পক্ষে ভোট দিলেন ১৭৬ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, বিপক্ষে ভোট দিলেন ৪১ জন। আর ভোটদানে বিরত থাকলেন ২০ জন বিধায়ক। সম্পত্তি নষ্ট করলে গ্রেফতার, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে এই আইনে। কড়া ভাবে এই আইন প্রয়োগ করা হবে, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Cm Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন,“এই আইনে একবছর কারাবাস করতে হবে। তবে কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হবে না।”

    কাদের বিরুদ্ধে এই বিল

    উত্তরাখন্ড, গুজরাট এবং উত্তর প্রদেশের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও সমাজবিরোধী ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে চরম কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ হল বহুল চর্চিত ‘অ্যান্টি-গ্যাংস্টার বিল’ বা গুন্ডাদমন বিল। ধ্বনি ভোটে বিলটি পাশও হয়ে যায়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অপরাধ দমনে যে কঠোর আইনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, এই বিল তারই বাস্তব রূপায়ন। প্রস্তাবিত এই খসড়া আইনে সমাজের জন্য বিপজ্জনক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে ‘গুণ্ডা’ বা ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে এমন যেকোনো ব্যক্তিকে ‘গুণ্ডা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যিনি নিজে অথবা কোনো দল বা সিন্ডিকেটের নেতা বা সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কাজ করেন বা তাতে অর্থায়ন করেন। এ ছাড়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS, ২০২৩)-এর ১১১ বা ১১২ ধারার অধীনে (সংগঠিত অপরাধ) অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অস্ত্র আইন, মাদক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন বা বিস্ফোরক আইনের অধীনে অপরাধী বা অপরাধে উস্কানিদাতাদেরও এই আইনের আওতায় আনা হবে।

    ফৌজদারি আইনের সঙ্গে নতুন এই আইনের পার্থক্য

    গুন্ডা দমন বিল চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে। আজ, সোমবার দীর্ঘক্ষণ ধরে এই বিল নিয়ে আলোচনা চলে। এবং সেই আলোচনার পর অবশেষে হয় ভোটভুটি। সেই ভোটাভুটিতে দেখা গেল, সংখ্যা গরিষ্ঠ বিধায়করা এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই বিলে বলে দেওয়া হয়েছে কারা গুন্ডা। চিহ্নিত করা হয়েছে কারা সমাজ বিরোধী। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যদি কোনও ভাঙচুর হয়, অগ্নি সংযোগ হয় বা অন্য কোনও ভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হয়, তাহলে দোষীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, সেখান থেকে সেই ক্ষতি পূরণ করার প্রভিশনও রাখা হয়েছে। দাঙ্গা, বেআইনি সমাবেশ, হিংসাত্মক বিক্ষোভ, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফৌজদারি আইনে প্রকৃত দোষীদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে কোনও ব্যবস্থা ছিল না। আর সেই কারণেই এই আইনের প্রয়োজন।

  • Suvendu Adhikari: ‘দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা তোলা হবে’— বিধানসভায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা তোলা হবে’— বিধানসভায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দাঙ্গা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং আইন অমান্যের প্রবণতা রুখতে বিধানসভায় সোমবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পেশ করল নতুন সরকার। বিলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিগত তৃণমূল সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি এবং প্রশাসনিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। বিরোধীদের হইচইয়ের মধ্যেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন— দাঙ্গা বা ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি ব্যবস্থাই নয়, প্রয়োজনে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করেও ক্ষতিপূরণ আদায় করবে সরকার।

    গ্যালারিতে উপস্থিত হরগোবিন্দ দাসের পরিবার

    বক্তব্যের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার দর্শক গ্যালারির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজনৈতিক হিংসার একাধিক নিহত ও আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা এ দিন হাউসে উপস্থিত রয়েছেন। ডায়মন্ড হারবারে নিহত রাজু সামন্ত, মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস এবং নন্দীগ্রামের আক্রান্ত দেবব্রত মাইতির পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, অতীতে প্রশাসন সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ নিলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।

    তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, সাধারণ অপরাধ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির মধ্যে সীমারেখা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল তৎকালীন সরকার। তাঁর কথায়, সেই কারণেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছিল এবং সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে সেই সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। নিজেদের নির্বাচনী সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে বিজেপি বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন তিনি।

    শুভেন্দুর ভাষণে ‘হার্মাদ রাজনীতি’র উল্লেখ

    বর্তমান বিরোধী শিবিরের অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁর দাবি, বিধানসভায় এখন কার্যকর বিরোধী শক্তির অভাব রয়েছে। কেউ ওয়াকআউট করছেন, কেউ আবার নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে বাম আমলের ‘হার্মাদ রাজনীতি’র প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সংস্কৃতির সূচনা হয়েছিল সেই সময়েই।

    এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে শুভেন্দু

    ২০১৯ সালের সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আন্দোলনের নামে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছিল। তাঁর দাবি, সামশিতে রেললাইন উপড়ে ফেলা, রেজিনগর স্টেশনে অগ্নিসংযোগ এবং সাঁতরাগাছিতে একাধিক বাসে আগুন লাগানোর মতো ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেই সময় তিনি পরিবহণমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

    শুভেন্দুর বক্তব্যে মোথাবাড়ি, ধুলিয়ান

    পরবর্তীকালে নুপূর শর্মার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হাওড়ায় অশান্তির ঘটনাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন এবং প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। মোথাবাড়ি, ধুলিয়ান-সহ একাধিক এলাকার সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও এ দিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ওয়াকফ্ সংশোধনী বিলের বিরোধিতার নামে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছিল। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই তৎকালীন সরকার যথাসময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

    ‘‘যাঁরা সম্পত্তি ধ্বংস করবেন…’’! চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    নতুন আইনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই আইন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য নয়, বরং দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের মতো অপরাধ রোধ করতেই আনা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা সম্পত্তি ধ্বংস করবেন, তাঁদের থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের ভিটেমাটি বিক্রি করেও সেই টাকা উদ্ধার করবে সরকার। আগের আইনে ফাঁক ফোকর ছিল। বর্তমান আইনে ফাঁক-ফোকড় রাখা হল না। এই আইন গুণ্ডা দের জন্য প্রযোজ্য।’’ তিনি আরও জানান, অতীতে আসানসোলে দাঙ্গার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের নজির তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। পুলিশের উপর হামলা বা আইনশৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা করলে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ভাঙড় নিয়ে নওশাদকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ভাঙড়ের নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে সেখানে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি বিরোধী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে উদ্দেশ্য করে রাজনৈতিক মন্তব্যও করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘‘ভাঙড়ে তো কোনও মৃত্যু নেই। বিজেপির ওইখানে ৭০ হাজার ভোট আছে। আমরা ভাঙড়টাকে ছেড়ে দিতে পারতাম। ছেড়ে দিলে যিনি জেলে ছিলেন তিনি এখানে আসতেন। আর বিলের যিনি বিরোধিতা করেছেন তিনি এখানে আসতে পারতেন না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য চলাকালীন বিরোধী সদস্যরা একাধিকবার প্রতিবাদ ও স্লোগান তোলেন। হইচইয়ের মধ্যেই সরকার সংশোধনী বিল দুটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কঠোর আইন প্রয়োগের বার্তা দেয়।

LinkedIn
Share