Tag: news in bengali

news in bengali

  • Beijing Plane Crash: ১০৯ তলা বহতলে ধাক্কা! বেজিংয়ে ভেঙে পড়ল চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান

    Beijing Plane Crash: ১০৯ তলা বহতলে ধাক্কা! বেজিংয়ে ভেঙে পড়ল চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের রাজধানী বেজিংয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা (Beijing Plane Crash)। শহরের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং সিআইটিআইসি টাওয়ারে শনিবার ভেঙে পড়ে একটি বিমান। ওপর থেকে নিচে পড়তে পড়তে সোজা ওই বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খায় বিমানটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এদিনের ঘটনার একাধিক ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, বিমানটির সঙ্গে ওই বিল্ডিংয়ের ধাক্কা লাগার পরেই মাটিতে পড়ছে ধ্বংসাবশেষ। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও ঘটনার ভিডিও আপলোড করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, ১০৮ তলা সিআইটিআইসি টাওয়ারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, চিনের ঘরোয়া প্রযুক্তিতে নির্মিত একটি ছোট বিমান বেজিংয়ের সর্বোচ্চ অট্টালিকা ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ার (চায়না জুন)-এ আছড়ে পড়েছে। সংঘর্ষের জেরে ওই অট্টালিকার দুটি জানালা ভেঙে গিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। চিনের অন্যতম উঁচু বিখ্যাত এই টাওয়ারে দুর্ঘটনার ঘটনায় হইচই বিশ্বজুড়ে৷ ভাইরাল ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১,৭০০ ফুট উঁচু বাড়িটির উপর থেকে বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ছে। টাওয়ারের নীচের তলায় ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে বিমানের ভাঙা অংশ। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর গোটা ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, ওই বিল্ডিংটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সিআইটিআইসি গ্রুপের সদর দফতর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    ভেঙে পড়ল চিনের ঘরোয়া প্রযুক্তিতে নির্মিত বিমান

    বিমানের গায়ে থাকা রেজিস্ট্রেশন নম্বর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ ৬০১ অরোরা’ নামের একটি লাইট স্পোর্ট বিমান। এই বিমানটি তৈরি করে থাকে স্থানীয় একটি জেনারেল এভিয়েশন সংস্থা। ওই সংস্থার তরফে মূলত পাইলট প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিগত জেট এবং আকাশপথে ছবি তোলার মতো পরিষেবা দেওয়া হয়ে থাকে বলে জানা গিয়েছে। তবে দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা চিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। চিনের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছু ছবি ও ভিডিও সরিয়ে দেওয়া হলেও, সেগুলি দ্রুত অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলি থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি গাড়ির আকারের একটি ছোট বিমান।

     

     

     

     

     

     

  • Bankim Chandra Chattopadhyay: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রভাব, জাতীয় চেতনার অমর পথপ্রদর্শক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    Bankim Chandra Chattopadhyay: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রভাব, জাতীয় চেতনার অমর পথপ্রদর্শক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসংখ্য আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বের অবদানে সমৃদ্ধ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। সেই সব মহাপুরুষদের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অনন্য। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী মন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। সশস্ত্র বিপ্লবী থেকে শুরু করে অহিংস জাতীয় আন্দোলনের কর্মী—সবার কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে এই গান, যা ভারতবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে শক্তি জুগিয়েছিল।

    বঙ্কিমচন্দ্রের দেশপ্রেম (Bankim Chandra Chattopadhyay)

    ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন (কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে অবশ্য ২৬ জুন উল্লেখ রয়েছে) বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্কিমচন্দ্র। তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সমৃদ্ধ ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারের সদস্য। মা দুর্গাদেবী ছিলেন ভারতীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধে গভীরভাবে আস্থাশীল। শৈশব থেকেই বঙ্কিমচন্দ্রের মনে রোপিত হয় দেশপ্রেম, আত্মসম্মান ও সাংস্কৃতিক চেতনার বীজ। প্রথমে হুগলি কলেজ এবং পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে শিক্ষালাভ করেন বঙ্কিমচন্দ্র। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় তিনি স্নাতক স্তরের ছাত্র ছিলেন। ব্রিটিশদের নির্মম দমননীতি এবং গণহত্যার খবর তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। বিদ্রোহের কারণ ও ব্যর্থতার পেছনের বাস্তবতা তিনি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন। একই বছরে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথম ভারতীয় স্নাতক হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগ দেন। পরে বঙ্গ সরকারের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৬৯ সালে আইনশাস্ত্রে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে সমাজের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন।

    ‘বঙ্গদর্শন’

    ভারতের গৌরবময় অতীত এবং ঔপনিবেশিক শাসনের কাছে অনেক ভারতীয়ের আত্মসমর্পণের মানসিকতা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। তাই সাহিত্যকে তিনি জাতীয় চেতনা জাগরণের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা ‘Rajmohan’s Wife’ ইংরেজিতে লেখা হলেও, সেখানে ঔপনিবেশিক সমাজের বাস্তব চিত্র উঠে আসে। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্নিহিত শক্তিকে তুলে ধরে পাঠকদের নতুনভাবে প্রাণিত করে। এরপর প্রকাশিত হয় ‘কপালকুণ্ডলা’। ১৮৭২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রভাবশালী মাসিক পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শন’, যা দ্রুতই জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়। ‘বঙ্গদর্শনে’ নিয়মিতভাবে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস ও ভারতের প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশিত হত। এখানেই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ‘বিষবৃক্ষ’, যেখানে সমাজের দুর্বলতা ও সংকীর্ণতার প্রতীকী বিশ্লেষণ করা হয়। একইভাবে ‘কৃষ্ণকান্তের উইলে’ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গও ফুটে ওঠে।

    কালজয়ী সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’

    ১৮৭৬ সালের ৭ নভেম্বর কাঁঠালপাড়ায় তিনি রচনা করেন কালজয়ী সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘আনন্দমঠে’ গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘বন্দে মাতরমে’র প্রথম দু’টি স্তবক সংস্কৃত ভাষায় এবং পরবর্তী অংশ বাংলা ভাষায় রচিত। শ্রীঅরবিন্দ এই গানের প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করেন। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত ‘আনন্দমঠ’ শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং জাতীয়তাবাদ, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রকাশের পর থেকেই ‘বন্দে মাতরম’ দেশজুড়ে জনসভা, আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়।

    বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের প্রভাব

    বঙ্কিমচন্দ্রের শেষ উপন্যাস ‘সীতারামে’ (১৮৮৬) মধ্যযুগীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিত্র ফুটে ওঠে। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘মৃণালিনী’, ‘ইন্দিরা’, ‘রাধারাণী’, ‘দেবী চৌধুরাণী’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ এবং ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’। ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ এবং কবিতাও লিখেছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধকে নতুনভাবে তুলে ধরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ‘কৃষ্ণচরিত্র’ গ্রন্থে তিনি আদর্শ সমাজ গঠনের নৈতিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। ‘ধর্মশাস্ত্রে’ দেশপ্রেমকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। ‘লোক রহস্যে’  পরনির্ভরশীল রাজনীতির সমালোচনা করে আত্মনির্ভরতার আহ্বান জানান। ‘আমার দুর্গোৎসবে’ বিধবা বিবাহ, নারীর স্বাধীনতা এবং অন্ধ পাশ্চাত্য অনুকরণের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, মাতৃভূমি কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং পূজার যোগ্য এক জীবন্ত জননী।

    হিন্দু সমাজের সমালোচনা

    হিন্দু সমাজের সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য—“হিন্দু সমাজ কুমারসম্ভব ছেড়ে সুইনবার্ন পড়ে, ভগবদ্গীতা ছেড়ে মিল পড়ে, আর ওড়িশার পাথরের ভাস্কর্য উপেক্ষা করে ইংরেজদের পোর্সেলিন পুতুলের প্রশংসা করে”—আজও সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা ও বৌদ্ধিক স্বাধীনতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল প্রয়াত হন বঙ্কিমচন্দ্র। তাঁর মৃত্যু কেবল একটি জীবনের সমাপ্তি, যদিও তাঁর চিন্তা, সাহিত্য, আদর্শ এবং ‘বন্দে মাতরম’ আজও ভারতের জাতীয় চেতনা, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ও স্বাধীনতার ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে রয়েছে।

     

  • Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    Madhya Pradesh: মধ্যপ্রদেশে মহরমের তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ১২, মৃত ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) রতলাম জেলার হাটনারা গ্রামে মহররমের (Muharram Tazia Accident) মিছিলের সময় একটি তাজিয়া হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে লেগে বড় বিপত্তি ঘটল। সূত্রের খবর, মহরমের মিছিলটি গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তাজিয়ার একেবারে উপরের অংশ হাই-ভোল্টেজের বিদ্যুৎ তারের সংস্পর্শে আসায় ঘটে যায় বড় দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎ-এর সংস্পর্শে আসতেই ইলেকট্রিক শক লাগে তাজিয়া বহনকারী মানুষদের। জ্বলে ওঠে তাজিয়াটি। প্রায় ১২ জন আগুনে ঝলসে যান। আহতদের সবাইকে দ্রুত রতলাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি নয়জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত ৩ জনের নাম হল রশিদ খান, সাদ্দু হুসেন ও আরবাজ খান।

    দুর্ঘটনার কবলে মহরমের তাজিয়া

    শুক্রবার পালিত হয়েছে মহরম। ইসলাম ধর্মের মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাসই হল মহরম। দেশ জুড়ে বহু রাজ্যে পালিত হয়েছে দিনটি। তারই মধ্যে এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছে হাটনারা গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মহররমের মিছিলটি প্রতি বছর একই পথ দিয়ে যায় এবং মধ্যপ্রদেশ বিদ্যুৎ বোর্ডের (এমপিইবি) কর্মীরা মিছিলের সঙ্গে থাকেন। যাতে তাজিয়াটি ওভারহেড লাইনের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া যায়। তাদের দাবি, এ বছরও লাইনম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। তারপরও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি, যার ফলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    বিষয়টি তদন্তাধীন

    স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেছেন যে, ১১ কেভি হাই-ভোল্টেজ লাইনটি গ্রামের মাঝখান দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে নিচু দিয়ে গেছে, যার ফলে এর নিচ দিয়ে বাস ও ট্রাকেরও চলাচল করতে অসুবিধা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে তাঁরা বিদ্যুৎ লাইনটি স্থানান্তর অথবা এর উচ্চতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক কুমার লাল বলেছেন, আহতদের রতলাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করা হচ্ছে। কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিবেক কুমার আরও জানান, মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

  • PM Modi: মোদির সফরে নয়া মাত্রা পাবে ভারত-সেশেলস সম্পর্ক, পর্যটন-সামুদ্রিক নিরাপত্তায় একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    PM Modi: মোদির সফরে নয়া মাত্রা পাবে ভারত-সেশেলস সম্পর্ক, পর্যটন-সামুদ্রিক নিরাপত্তায় একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর দুদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে আশাবাদী পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস। দেশটির বিদেশমন্ত্রী ব্যারি ফাউরে (Barry Faure) জানিয়েছেন, এই (Cyber Security Pacts) সফরের মাধ্যমে ভারত ও সেশেলসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং পর্যটন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মহাকাশ, সাইবার নিরাপত্তা ও আইনি সহযোগিতা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সেশেলসের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    ২৭ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সেশেলসে রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির (Patrick Herminie) আমন্ত্রণে তিনি সে দেশের জাতীয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাউরে বলেন, “বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলেই আশা। শুধু সামুদ্রিক নিরাপত্তাই নয়, মহাকাশ সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আইনি সাহায্যের মতো নতুন ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।” তিনি জানান, ভারত ও সেশেলসের মধ্যে বাণিজ্য এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেশেলসের প্রাকৃতিক সম্পদ ও রফতানি সক্ষমতা যেমন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতের বিশাল পর্যটন বাজার ও ভোক্তা অর্থনীতিও সেশেলসের জন্য নয়া সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে (PM Modi)।

    মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা

    পর্যটনকে সেশেলসের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি উল্লেখ করে ফাউরে জানান, দেশটির মোট ডিডিপির(GDP) প্রায় ৩০ শতাংশই পর্যটন শিল্প থেকে আসে। বর্তমানে ভারতের মুম্বই থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট চালাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে দিল্লি-সহ ভারতের আরও বিভিন্ন শহর থেকে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবের কারণে তাঁর এই সফর সেশেলসকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে আরও বেশি পরিচিত করে তুলবে। আমরা আশা করছি, ভারত থেকে পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে (PM Modi)।”

    বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র

    সেশেলসের বিদেশমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ চালুর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির ভারত সফরের সময় এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল। এই যোগাযোগ চালু হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের (Cyber Security Pacts)। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ফাউরে জানান, এই অঞ্চল এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রত্যাশিতভাবেই জলদস্যুদের উপদ্রব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে।

    জলদস্যুদের উপদ্রব

    তিনি বলেন, “অতীতে আমরা জলদস্যুদের উপদ্রবের জেরে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। এখনও হরমুজ প্রণালী, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের বিভিন্ন ঘটনাবলি সরাসরি সেশেলসের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ভারত-সেশেলসের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত (PM Modi) মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, পর্যটন, সংযোগ ব্যবস্থা এবং (Cyber Security Pacts) সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব পৌঁছতে পারে নয়া উচ্চতায়।

     

  • Samrajya Diwas: শিবাজির আদর্শেই আধুনিক ভারত গঠনের আহ্বান, সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা মিলল প্রবন্ধে

    Samrajya Diwas: শিবাজির আদর্শেই আধুনিক ভারত গঠনের আহ্বান, সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা মিলল প্রবন্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে (Shivaji Maharaj) শুধু একজন ঐতিহাসিক যোদ্ধা বা মারাঠা সাম্রাজ্যের (Samrajya Diwas) প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নয়, বরং ভারতীয় সভ্যতার পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এক প্রবন্ধে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত তিনশো বছরে ভারত যে কয়েকজন অনন্য সাধারণ শাসক দেখেছে, তাঁদের মধ্যে শিবাজি মহারাজ অন্যতম। লেখাটিতে তাঁর জীবন, প্রশাসন, সামরিক কৌশল, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তাকে বর্তমান সমাজের জন্য অনুসরণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ‘হিন্দবী স্বরাজ্যে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা (Samrajya Diwas)

    প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, শিবাজির আবির্ভাবের বহু আগেই মহারাষ্ট্রের বহু সাধু-সন্ত তাঁর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। লেখকের দাবি, মুঘল শাসনের সময় হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে শিবাজি হিন্দু সমাজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন এবং ‘হিন্দবী স্বরাজ্যে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির সবচেয়ে বড় অবদান ছিল মানুষের মানসিক দাসত্ব ভেঙে দেওয়া। বহু স্থানীয় হিন্দু শাসক বিদেশি সুলতানদের অধীনে ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও, শিবাজি স্বাধীন ও স্বশাসিত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখান। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম কেবল শাসক পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, বরং নিজস্ব সংস্কৃতি, ধর্ম ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

    শিবাজি এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক

    ওই প্রবন্ধে আরও দাবি করা হয়েছে, মুঘল আমলে নারী নির্যাতন, প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন এবং একের পর এক হিন্দু মন্দির ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছিল। এই প্রেক্ষাপটে শিবাজির সংগ্রামকে সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে ওই প্রবন্ধে। সেখানে (Samrajya Diwas) শিবাজিকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি ভৌগোলিক বাস্তবতা অনুযায়ী নতুন সামরিক কৌশল প্রয়োগ করেন, দুর্গকেন্দ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির সম্ভাব্য সামুদ্রিক হুমকি উপলব্ধি করে শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরি করেন। লেখকের মতে, ভারতীয় নৌবাহিনীর ভিত্তি নির্মাণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখায় বলা হয়েছে, তিনি প্রশাসনে ফার্সির পরিবর্তে সংস্কৃত ব্যবহারের উদ্যোগ নেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং রাজধর্ম পালনের নীতিকেও আদর্শ শাসনের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ

    সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রসঙ্গে প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির কাছে ভূমি কেবল কর আদায়ের ক্ষেত্র ছিল না, বরং তা ছিল পবিত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তিনি বিভিন্ন মন্দির সংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগী হয়েছিলেন। গোয়ার সপ্তকোটেশ্বর, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলম এবং তামিলনাড়ুর সমুদ্রতীরবর্তী কয়েকটি মন্দির পুনর্নির্মাণে তাঁর ভূমিকা ছিল (Samrajya Diwas) গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধে বাবরের সময় অযোধ্যার রামজন্মভূমি, আওরঙ্গজেবের আমলে কাশী বিশ্বনাথ ও মথুরার মন্দির ধ্বংসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শিবাজি সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনকে রাষ্ট্ররক্ষার অংশ হিসেবে দেখতেন। এই অংশে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্ধৃতিরও উল্লেখ রয়েছে (Shivaji Maharaj)।

    জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা

    লেখাটিতে সমকালীন সমাজের জন্যও একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নিজস্ব ইতিহাস পুনর্লিখন ও গবেষণার প্রসার, শিক্ষা ব্যবস্থায় ভারতীয় সভ্যতার অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া, মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী কাঠামো সংরক্ষণ, সামাজিক ঐক্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুবসমাজকে রাজনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির শাসনব্যবস্থা জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত (Samrajya Diwas) করেছিল। বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন। লেখকের মতে, বর্তমান সমাজেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দূর করে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

    সনাতন ধর্মের আদর্শে দীক্ষিত শিবাজি

    সবশেষে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, শিবাজির জীবন ও আদর্শ কেবল ইতিহাসের অংশ নয়, বরং আধুনিক রাষ্ট্র গঠন, সুশাসন, নৈতিক নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং সামাজিক সংহতির ক্ষেত্রেও একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রবন্ধের উপসংহারে শিবাজিকে সনাতন ধর্মের আদর্শে পরিচালিত এক দূরদর্শী শাসক হিসেবে (Shivaji Maharaj) উল্লেখ করে তাঁর চিন্তাধারাকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে (Samrajya Diwas) অভিহিত করা হয়েছে।

     

  • Azaan Controversy in Denmark: ‘যেন ইসলামাবাদের শহরতলি মনে না হয়’, লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধ করতে চলেছে ডেনমার্ক

    Azaan Controversy in Denmark: ‘যেন ইসলামাবাদের শহরতলি মনে না হয়’, লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধ করতে চলেছে ডেনমার্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইসলামিকরণ ইস্যুতে ফের বিতর্ক ইউরোপে। মুখঢাকা বোরখা পরে জনসমক্ষে বেরোনোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল আগেই। এবার ইউরোপের দেশ ডেনমার্কে কোপ পড়তে চলেছে লাউডস্পিকারে শোনানো আজানে! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেলি মেল’-এ প্রকাশিত খবরে দাবি, ‘ক্রমবর্ধমান ইসলামিকরণ’ ঠেকাতে সম্প্রতি এমনই প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেন বডস্কভ। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডরিকসেন ইতিমধ্যেই তাতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহাগেনে আগে থেকেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনে লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। এবার গোটা দেশেই সেই ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে।

    আজানের আওয়াজ ডেনমার্কের সংস্কৃতি নয়

    ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রী মর্টেনের মন্তব্য, ‘‘ডেনমার্কের কিছু কিছু এলাকা এখন দেখে মনে হয়, যেন তা ইসলামাবাদেরই (পাকিস্তানের রাজধানী) কোনও শহরতলি। এমনটা হতে দেওয়া যায় না।’’ এর পরেই ডেনমার্কের বামপন্থী দল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস পার্টির ওই মন্ত্রীর মন্তব্য, “ডেনিশ ছাদগুলোর উপর দিয়ে আজানের শব্দ যাওয়া বাঞ্ছিত নয়।’’তিনি জানান আজানের আওয়াজ ডেনমার্কের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ নয়। ডেনমার্কের মানুষের যাতে মনে না হয়, তাঁরা ডেনমার্কের বদলে ইসলামাবাদে বসবাস করছেন।

    ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধ করার প্ল্যান

    ডেনমার্কে আজান (Azaan Controversy in Denmark) নিষিদ্ধ করার বিষয়টি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত মঞ্জুরি মেলেনি। ডেনমার্কের সংবিধানে সর্বজনীন ভাবে ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই সরকারকে এ ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। ডেনমার্কের বিরোধী দল সহ সব পক্ষের সহমত দরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ইউরোপীয় দেশে অভিবাসন, হিজাব, ধর্মীয় পরিচয় এবং প্রকাশ্য ধর্মীয় কার্যকলাপ নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বহু দেশের ডানপন্থী ও অভিবাসন বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে, ব্যাপক অভিবাসন ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ক্ষুণ্ণ করছে। ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে, ডেনমার্কে বসবাসের বৈধ অধিকার নেই এমন বিদেশিদের পর্যায়ক্রমে বহিষ্কার করা হবে।

    ইসলামিক অভিবাসন নিয়ে কড়া ডেনমার্ক

    ডেনমার্কের জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ মুসলিম। সে দেশের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিমরাই। গত এক দশকে পশ্চিম এশিয়া থেকে ক্রমাগত মুসলিম শরণার্থীদের আগমন বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলে সম্প্রতি অভিবাসন নীতি কড়া করার কথাও ঘোষণা করেছে প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডরিকসেনের সরকার। ঘটনাচক্রে, বছরখানেক আগেই ডেনমার্ক সরকার জনসমক্ষে ‘ইসলামিক পূর্ণ মুখঢাকা পর্দা’ (বোরখা) নিষিদ্ধ করার একটি আইন পাশ করেছে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নির্দেশিকা পাঠিয়ে নমাজের জন্য কোনও ঘর আর বরাদ্দ না-রাখার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

  • FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদানের ব্যবহার নিয়ে নজরদারি আরও কঠোর করতে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (FCRA)-এর অধীনে নতুন সংশোধিত বিধি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এই নতুন নিয়মে প্রথমবার স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিদেশি অনুদান কোনওভাবেই ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কার্যকলাপে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, কিছু বিদেশি অর্থপুষ্ট বেসরকারি সংস্থা (NGO), ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মিশনারি সংগঠন সমাজসেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে ধর্মান্তরণের কাজে বিদেশি অনুদান ব্যবহার করছে। বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের পর কেন্দ্র এফসিআরএ-র নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    এফসিআরএ (FCRA)-র ইতিহাস

    বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (Foreign Contribution (Regulation) Act) প্রথম চালু হয় ১৯৭৬ সালে। উদ্দেশ্য ছিল, বিদেশি অর্থ যাতে দেশের রাজনীতি, সামাজিক কাঠামো বা জাতীয় স্বার্থকে প্রভাবিত করতে না পারে। ২০১০ সালে আইনটি সংশোধিত হয়। এরপর ২০২০ এবং ২০২৬ সালে আরও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নিবন্ধন করতে হয়। এই নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং পরে তা নবীকরণ করতে হয়।

    নিবন্ধনের সময় জানাতে হবে উদ্দেশ্য ও কাজের ক্ষেত্র

    সেবা ইন্টারন্যাশনালের জাতীয় কোষাধ্যক্ষ রাকেশ মিত্তলের দাবি, নতুন সংশোধনের ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে। এখন থেকে নিবন্ধন বা নবীকরণের আবেদন করার সময় সংস্থাকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কোন উদ্দেশ্যে বিদেশি অনুদান নেওয়া হচ্ছে এবং কোন রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে। যেসব সংস্থার ইতিমধ্যেই এফসিআরএ নিবন্ধন রয়েছে, তাদেরও এক বছরের মধ্যে নিজেদের ঘোষিত উদ্দেশ্য নতুন নিয়ম অনুযায়ী হালনাগাদ করে কেন্দ্রকে জানাতে হবে।

    পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে কার্যক্রম

    সংশোধিত নিয়মে বিদেশি অনুদানে পরিচালিত কার্যক্রমকে পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে— ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, শিক্ষামূলক, অর্থনৈতিক। এর অধীনে একাধিক উপ-বিভাগও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ২২টি উপ-শ্রেণি রাখা হয়েছে। তবে সংবিধান, মৌলিক অধিকার, মৌলিক কর্তব্য ও নাগরিক সচেতনতা সংক্রান্ত কর্মসূচি পরিচালনা করতে হলে তা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হতে হবে। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ১৮টি উপ-শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় ঐতিহ্যভিত্তিক সমকালীন শিল্পকলার প্রসারের অনুমতি থাকলেও রাজনৈতিক বা মতাদর্শভিত্তিক বিষয়বস্তু নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ধর্মীয় কার্যক্রমে ধর্মান্তরণে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

    নতুন সংশোধনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ধর্মীয় কার্যক্রমের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ। ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, সৎসঙ্গ, ধর্মীয় আলোচনা, ধ্যান শিবির, ধর্মীয় সাহিত্য প্রকাশ, উপাসনালয় নির্মাণ এবং তীর্থযাত্রীদের সুবিধা প্রদানের মতো কার্যক্রমের অনুমতি থাকলেও, নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কোনও কার্যকলাপ বিদেশি অনুদানে করা যাবে না।

    বিদেশি নাগরিক থাকলে নিবন্ধনে কড়াকড়ি

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে বিদেশি নাগরিক থাকলে সাধারণভাবে সেই সংস্থাকে এফসিআরএ নিবন্ধন দেওয়া হবে না। এছাড়া বিদেশি অনুদানের পরবর্তী কিস্তি পাওয়ার আগে আগের প্রাপ্ত অর্থের অন্তত ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে বলে দেখাতে হবে। সংস্থাগুলিকে তাদের ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, প্রকাশনা এবং ট্রাস্টি, পরিচালক, অংশীদার ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্যও সরকারকে জানাতে হবে। ফলে পরিচালনাকারী ব্যক্তিদের আইনগত জবাবদিহিও বাড়বে।

    সরকারের লক্ষ্য কী?

    সেবা ভারতীর জাতীয় সম্পাদক রমেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। সরকারের মতে, বিদেশি অনুদান শুধুমাত্র যে উদ্দেশ্যে অনুমোদিত হয়েছে, সেই কাজেই ব্যবহার করা উচিত।

    কত সংস্থার লাইসেন্স বাতিল হয়েছে?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন এবং বাধ্যতামূলক বার্ষিক রিপোর্ট জমা না দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ২১,৯৩৩টি এনজিওর এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে অথবা তাদের নবীকরণের আবেদন খারিজ হয়েছে। ফলে এসব সংস্থা আর বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

    একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে

    গত কয়েক বছরে বিদেশি অনুদান ব্যবহারের অভিযোগে একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে পড়েছে। ২০১৬-১৭ সালে মার্কিন সংস্থা কমপ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল (Compassion International)-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ নবীকরণ আটকে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিসন ইন্ডিয়া (World Vision India) এবং গসপেল ফর এশিয়া (Gospel for Asia)-সহ একাধিক বিদেশি অর্থপুষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আসে। ২০২১ সালে মাদার টেরেসা প্রতিষ্ঠিত Missionaries of Charity-র FCRA নবীকরণও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। সম্প্রতি, ২০২৬ সালের জুনে বেঙ্গালুরু পুলিশ মার্কিন মিশনারি সংস্থা দ্য টিমোথি ইনিসিয়েটিভ (The Timothy Initiative)-র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বৈধ এফসিআরএ নিবন্ধন ছাড়াই বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং মিশনারি কার্যক্রমে তা ব্যবহারের অভিযোগে ৯২ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আরও কঠোর নজরদারির পথে কেন্দ্র

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের সংশোধিত এফসিআরএ বিধি ভারতের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে। প্রথমবার ধর্মান্তরণকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, ব্যবহার, কার্যপরিধি এবং সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি সম্পর্কেও বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলিকে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়মের আওতায় কাজ করতে হবে।

  • Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র পরবর্তী ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেলেন প্রবীণ আইপিএস অফিসার মহেশ দীক্ষিত। বর্তমানে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে কর্মরত দীক্ষিত বিদায়ী ডিরেক্টর তপন কুমার ডেকা-র স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি (ACC) তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

    কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের (DoPT) জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহেশ দীক্ষিতকে পরিষেবার মেয়াদ বাড়িয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে দুই বছরের জন্য, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন। সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, এফআর ৫৬(ডি) এবং অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) রুলস, ১৯৫৮-এর রুল ১৬(১এ)-এর বিধান অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি আইবি-র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। বর্তমান আইবি প্রধান তপন কুমার ডেকার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবেই দীক্ষিতের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    কে এই মহেশ দীক্ষিত?

    মহেশ দীক্ষিত ১৯৯৩ ব্যাচের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-র কর্মকর্তা। তিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের অফিসার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিশেষ বিষয় হল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পেশায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি চিকিৎসক (Medical Doctor) হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে আইপিএস হন।

    দীর্ঘ গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা

    তিন দশকেরও বেশি কর্মজীবনে মহেশ দীক্ষিত সন্ত্রাসবাদ দমন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল দায়িত্ব সামলেছেন। নিরাপত্তা মহলে তাঁকে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। আইবির সদর দফতরে স্পেশাল ডিরেক্টর হওয়ার আগে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (SIB)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।

    অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    মহেশ দীক্ষিতের কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সময়কার দায়িত্ব। সেই সময় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য অশান্তি মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাঁর অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

    জি-২০ বৈঠকের নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন

    ২০২৩ সালে শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত জি-২০ ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান। সেই সম্মেলনকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছিলেন মহেশ দীক্ষিত।

    গত বছর হয়েছিলেন আইবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী

    ২০২৫ সালে মহেশ দীক্ষিতকে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে উন্নীত করা হয়। এই পদটি সংস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই থেকেই তিনি আইবির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এবার সংস্থার সর্বোচ্চ পদে বসে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার হুমকি, আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

    কেন এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

    ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সাইবার অপরাধ, উগ্রপন্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব এই সংস্থার উপরেই বর্তায়। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা কার্যক্রমে দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মহেশ দীক্ষিতকে আইবির নতুন ডিরেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

  • Taratala Godown Collapse: তারাতলায় মৃত বেড়ে ১৫, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে থাকার আশঙ্কা! তদন্তে গ্রেফতার কালীচরণ

    Taratala Godown Collapse: তারাতলায় মৃত বেড়ে ১৫, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে থাকার আশঙ্কা! তদন্তে গ্রেফতার কালীচরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হল। শুক্রবার ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে আরও দু’জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। যদিও উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন। ফলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখনও কেউ আটকে আছে কি না, এখনই বলা সম্ভব নয়। এটা এনডিআরএফ ও সেনা চূড়ান্ত জানালে, আমি কলকাতা পুলিশকে জানাব।” হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ৩৩ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    বুধবারের ভয়াবহ দুর্ঘটনা

    বুধবার দুপুরে তারাতলার একটি নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ আচমকাই ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিটের বিশাল অংশ, লোহার বিম এবং নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক ও কর্মী। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশ, দমকল, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ এবং পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী সময়ে ক্রেন, হাইড্রোলিক কাটার, অত্যাধুনিক যন্ত্র এবং স্নিফার ডগ ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া আহতদের ঘটনাস্থলে তৈরি অস্থায়ী চিকিৎসা শিবিরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর এসএসকেএম-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সরানো হচ্ছে, কারণ এখনও ভিতরে কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঝেমধ্যে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটলেও অভিযান বন্ধ করা হয়নি।

    তদন্তে সিট, গ্রেফতার একাধিক

    ঘটনার পরই রাজ্য প্রশাসন তদন্তভার দেয় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে এবং গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তে নির্মাণে গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি, অনুমোদনপত্র এবং প্রযুক্তিগত দিকও পরীক্ষা করছে তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদাম নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে ধৃতদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে অতীতেও ফৌজদারি মামলার অভিযোগ ছিল বলেও জানা গিয়েছে।

    সিটের জালে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কে তিনি?

    এই তদন্তেই নতুন মোড় আসে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে। প্রথমে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সিট তাঁকে গ্রেফতার করে। ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, গুদাম নির্মাণের প্ল্যান কীভাবে অনুমোদন পেল এবং সেই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত ছিলেন, সেই বিষয়েই মূলত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এই ইস্যুতে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। একটি নথি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নির্মাণের অনুমোদনপত্রে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভায় শুভেন্দু বলেন, “প্রাক্তন মেয়র জড়িত। দেখুন মাননীয় ফিরহাদ হাকিমের সই। দেখুন কীভাবে স্ট্রাকচারে ডিফেক্ট থাকা অবস্থাতেও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ করেছেন।” একইসঙ্গে তিনি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, “কালীকে তুললেই সব হয়ে যাবে। পুরসভায় কালী না বললে কোনও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ হয় না। আর কালী ক্যামাক স্ট্রিটের দ্বারা নিযুক্ত।” তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম বা তাঁর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

    পরিচয় জানার চেষ্টা, অভিযান অব্যাহত

    শুক্রবার উদ্ধার হওয়া দুই মৃতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাঁদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন থানার নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা, আঙুলের ছাপ, ছবি এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ সরিয়ে নিশ্চিত না-হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। একইসঙ্গে তদন্তে যদি কারও গাফিলতি, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন বা আইনভঙ্গের প্রমাণ মেলে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে।

  • Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আইন আনতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী সোমবার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে রাজ্য বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হবে। তার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) ২০২৬’ বিল। পাশাপাশি দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি এবং গুণ্ডাদমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও আনা হচ্ছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মোট পাঁচটি বিল পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইউসিসি বিল এবং দুর্নীতি-বিরোধী বিলকে সরকার তাদের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

    সোমবারই বিধানসভায় ইউসিসি বিল

    বিধানসভা সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি সোমবার পেশ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যবিবরণী কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রশাসনিক ও আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হলেও ইউসিসি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় পৌঁছনোর পর চলতি অধিবেশনেই বিলটি আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সোমবারের কর্মসূচির দ্বিতীয় ভাগে বিলটি পেশ করা হবে। বিধানসভার টেবিল অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শাসক ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য অংশ নেবেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

    দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হওয়ার পথে পশ্চিমবঙ্গ

    বর্তমানে দেশের মধ্যে অসম, উত্তরাখণ্ড এবং গোয়ায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রাজ্যটি দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হতে পারে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল লক্ষ্য হল বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক পৃথক আইনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো প্রয়োগ করা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর এটি রাজ্য সরকারের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    একই অধিবেশনে আসছে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী বিল

    বিশেষ অধিবেশনেই সরকার দুর্নীতি ও বেআইনি সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও পেশ করতে চলেছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কোনও আপস করবে না। তাঁর বক্তব্য, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। আমরা শপথ নিয়েছি, কোনও চোর জেলের বাইরে থাকবে না। অনেকে ভাবছেন জেলে গিয়ে দু’মাস পরে জামিনে বেরিয়ে এলাম। তা হবে না। বিল আনছি। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অকশন করব।”

    কী থাকছে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন আইনে বেআইনি আয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন, গুণ্ডামি, ঘুষের অর্থ সাদা করা এবং অপরাধমূলক উপায়ে সম্পত্তিকে বৈধ রূপ দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিলের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● বেআইনি সম্পত্তি অর্জন ও দখলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা।
    • ● ‘গুণ্ডা’ শব্দকে আইনের অংশ করে সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা।
    • ● গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি প্রয়োগের সুযোগ।
    • ● দুর্নীতি দমনের অভিযানে বাধা দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
    • ● বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের বিধান।
    • ● রাজ্য সরকার, কেন্দ্র সরকার এবং বেসরকারি—সব ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই একই আইনি বিধান প্রয়োগ।
    • ● বেআইনি দখল, ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আইনি সুযোগ।
    • ● দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত বা ভাঙচুরের ঘটনার ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা বাজেয়াপ্তির দাবি জানানো যাবে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে

    একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং দুর্নীতি-বিরোধী—দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইউসিসি কার্যকর করার মাধ্যমে বিজেপির দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ, অন্যদিকে দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এনে প্রশাসনিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় এই দুই বিল পেশ হওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা এবং তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

LinkedIn
Share