Tag: news in bengali

news in bengali

  • India Bangladesh Border: বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় সাপ ও কুমির! অনুপ্রবেশ রুখতে নয়া ভাবনা বিএসএফ-এর

    India Bangladesh Border: বাংলাদেশ সীমান্তে পাহারায় সাপ ও কুমির! অনুপ্রবেশ রুখতে নয়া ভাবনা বিএসএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্ত পাহারা দেবে সাপ ও কুমির। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে অভিনব পরিকল্পনার কথা ভাবছে বিএসএফ (Border Security Force)। সূত্রের খবর, নদী ও জলাভূমি অঞ্চলগুলিতে প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে সাপ ও কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে অভ্যন্তরীণ স্তরে আলোচনা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি। বিএসএফ সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    কেন সাপ ও কুমির ব্যবহারের ভাবনা

    ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমি ঘেরা। এইসব জায়গায় প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়া বসানো কঠিন হওয়ায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও বেআইনি কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই ‘ডিটারেন্স-ফার্স্ট’ বা ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা ভাবা হচ্ছে। সীমান্ত-সুরক্ষার কৌশল হিসেবে এই পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে। একটি সূত্র জানিয়েছে যে, বিএসএফ-এর সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ৯ ফেব্রুয়ারি ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পেশ করা হয়েছিল। জানা গেছে, ২০ মার্চ নয়াদিল্লিতে বিএসএফ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত আরেকটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাবটি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা হয়। এরপর পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সেক্টরের সীমান্ত পর্যায়ের কর্তাদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়। এরকমই একটি নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নদী তীরবর্তী এলাকায় সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের উপর একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

    সীমান্তে নজরদারি

    বিএসএফ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তার নজরদারি পরিকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। জানা গেছে যে, সৈন্যরা নাইট-ভিশন ক্ষমতাসম্পন্ন ৫,০০০-এর বেশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছে। এছাড়াও, সীমান্ত বরাবর যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য এআই-সক্ষম নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের আঙুলের ছাপ এবং আইরিস স্ক্যান সংগ্রহ করার জন্য বায়োমেট্রিক ডিভাইসও ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের মতো রাজ্যগুলোর সীমান্তের বিভিন্ন অংশে দ্রুত অ্যান্টি-কাট ও অ্যান্টি-ক্লাইম্ব বেড়া, নজরদারি ড্রোন, জিপিএস-সক্ষম ট্র্যাকিং সিস্টেম, থার্মাল ইমেজার এবং বিদ্যুতায়িত বেড়া স্থাপন। বিশেষভাবে সংবেদনশীল নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে বিএসএফ নজরদারি আরও জোরদার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বোল্ড-কিউআইটি (BOLD-QIT) প্রকল্প, যা ২৪x৭ নজরদারির জন্য সেন্সর, ইনফ্রারেড ও নাইট-ভিশন ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করে।

    অন্ধকার অঞ্চলে বিশেষ মনোযোগ

    নদী তীরবর্তী এলাকায় অভিযানের জন্য বাহিনী বর্তমানে বিশেষ জলযান, স্পিডবোট এবং ভাসমান বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) মোতায়েন করেছে। নিয়মিত টহল দেওয়া হয়। সরীসৃপ মোতায়েনের প্রস্তাবের পাশাপাশি, ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে পূর্ব ভারতের সেক্টর সদর দফতরগুলোকে এমন সব ‘ডার্ক জোন’-এ অবস্থিত সীমান্ত চৌকি চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেখানে কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবটিকে যতই গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হোক না কেন, বেশ কিছু বাস্তব প্রশ্ন অমীমাংসিতই থেকে যায়। কোন সংস্থা বা কর্মীদের সাপ বা কুমির ধরা এবং সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হবে, কতগুলো সরীসৃপ ছাড়া হবে এবং সীমান্তের কোন কোন জায়গায় সেগুলোকে ছাড়া হতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    সীমান্তে বিএসএফ-এর সাফল্য

    সম্প্রতি সীমান্তে চোরাচালান রুখতে একাধিক সাফল্য পেয়েছে বিএসএফ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় একটি বড় অভিযানে প্রায় ১ কোটি টাকার সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা অভিযানে নেমে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নদিয়াতেই একটি ঘটনায় এক বাংলাদেশি পাচারকারী নিহত হয়। অভিযোগ, বিএসএফের ওপর হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গুলি চালানো হলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, ফেনসিডিলের বোতল এবং বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ সবচেয়ে বেশি

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ২০২৫ সালে ১,১০৪ বার অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা হয়েছে। যা গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে ৯৭৭টি অনুপ্রবেশের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছিল। এই সীমান্তে অনুপ্রবেশের ব্যাপকতা অন্যান্য সীমান্তে হওয়া চেষ্টাগুলিকে ম্লান করে দিয়েছে। ২০২৫ সালে পাকিস্তান ৩২টি অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। মায়ানমার ৯৫টি এবং নেপাল ও ভুটান একত্রে ৫৪টি। অর্থাৎ, বর্তমানে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশ। ২০২৫ সালে ভারতীয় সংস্থাগুলি অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করায় ২,৫৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৩৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেপ্টেম্বরে ৩৩০ জন এবং নভেম্বরে ৩০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    অনুপ্রবেশের চেষ্টা, কঠোর সরকার

    অন্যদিকে, অনুপ্রবেশের চেষ্টাও বেশি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১২৭টি এবং অক্টোবরে ১২৫টি ঘটনা ঘটে। মাসিক গ্রেফতারের সংখ্যা ৮৯ থেকে ১১০-এর মধ্যে ছিল। এই ঘটনায় প্রমাণ করে অরক্ষিত সীমান্ত এলাকার সুযোগ নিয়ে সংগঠিত চোরাচালান চক্রের বাড়বাড়ন্তের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ বাড়ছে। এই আবহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় সরীসৃপ ব্যবহারের প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে এযাবৎকালের অন্যতম কৌশলগত পদক্ষেপ। এটি কঠিন নিরাপত্তা ঘাটতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কতটা দূর যেতে প্রস্তুত, তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

  • Mani Kumar Chhetri: প্রয়াত বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মণি ছেত্রী, চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া

    Mani Kumar Chhetri: প্রয়াত বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মণি ছেত্রী, চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই পেরিয়েছিলেন ১০৫ বছরের গন্ডি। সেদিনও তিনি শুভানুধ্যায়ীদের দীর্ঘায়ু হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই প্রবীণ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (Doctor) মণিকুমার ছেত্রী (Mani Kumar Chhetri) প্রয়াত হলেন রবিবার, নিজের বাড়িতেই। বার্ধক্যজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বিশ্বশ্রুত এই চিকিৎসকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চিকিৎসক মহল।

    মণি ছেত্রীর জীবনালেখ্য (Mani Kumar Chhetri) 

    ১৯২০ সালের ২৩ মে দার্জিলিংয়ে জন্ম মণিকুমারের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমে এমবিবিএস এবং এমডি, তারও পরে লন্ডন থেকে এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন তিনি। তাঁর মেধা, ক্লিনিক্যাল জ্ঞান ও মানবিক বোধ তাঁকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর চিকিৎসক ছিলেন মণি ছেত্রী। হয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তাও। এসএসকেএম হাসপাতালে (পিজি) সার্জেন-সুপারিনটেনডেন্ট পদে ছিলেন। আইপিজিএমইআরে কার্ডিওলজি এবং মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর-ডিরেক্টর হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি। পরে যুক্ত হয়েছিলেন একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে। ১৯৭৪ সালে প্রখ্যাত এই চিকিৎসককে দেওয়া হয় পদ্মশ্রী। চিকিৎসকমহলে তিনি ছিলেন (West Bengal) ভীষণ জনপ্রিয়। তাঁর হাতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান, সমৃদ্ধ হয়েছে চিকিৎসাশাস্ত্র। ছেত্রীর চিকিৎসায় উপকৃত হয়েছেন অগণিত রোগী।

    রাজ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন তিনি

    বেসরকারি হাসপাতাল আমরিতে অগ্নিকাণ্ডের জেরে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। তখন তিনি ছিলেন ওই হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। পরে অবশ্য আদালত তাঁকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। ১৯৮২ সালে অবসর নেন ছেত্রী।  যদিও পেশাদারিত্ব ও রোগীদের সেবার দায়িত্ব ছাড়তে পারেননি। অবসরের পরেও চিকিৎসার (Mani Kumar Chhetri) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কিছুদিন আগেই বালিগঞ্জ প্লেসের বাড়িতে পড়ে গিয়ে আঘাত পান মণি ছেত্রী। বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি বাড়ি ফিরলেও শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। রবিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রথিতযশা এই চিকিৎসক (Doctor)। এসএসকেএম হাসপাতালের অধিকর্তা থাকাকালীন এই চিকিৎসকের হাত ধরেই রাজ্যে আধুনিক চিকিৎসায় বিপ্লব ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট (ITU) তৈরি হয়েছিল তাঁরই উদ্যোগে। কার্ডিওলজি থেকে নেফ্রোলজি, একাধিক বিশেষ বিভাগ চালু করে তিনি সরকারি (West Bengal) স্বাস্থ্য পরিষেবাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন (Mani Kumar Chhetri)।

     

  • PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Cooch Behar: ‘‘বাংলায় এবার পরিবর্তনের ভোট’’, কোচবিহার থেকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরব প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের (Assembly Election 2026) মাধ্যমে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। এখান থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার শপথ নিলেন তিনি। ভোট ঘোষণার পর প্রথমবার বাংলায় এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। বললেন, “বাংলায় এসেই বুঝে গেছি তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন শুধুই পরিবর্তন চাইছে। আর তারপর তৃণমূলের পাপের হিসেব করা হবে। বেছে বেছে হিসেব নেওয়া হবে।”

    মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি

    এদিন কোচবিহারে রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Cooch Behar) কালিয়াচক-প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “মালদায় যা হয়েছে, সেটা গোটা দেশ দেখেছে। দেশের মানুষ স্তম্ভিত। কীভাবে মালদায় বিচারকদেরই বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তৃণমূলের শাসনে বিচারকেরাও রেহাই পান না। এটা কোন সরকার, কোন প্রশাসন, কোন ব্যবস্থা। যেখানে বিচারক, সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই সুরক্ষিত নয়। বাংলার সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এদের থেকে কীভাবে আশা করা যায়? মালদায় যা হয়েছে, তৃণমূলের গুন্ডামি।” এ প্রসঙ্গেই মোদির সংযোজন, “এটাই প্রমাণ করছে, এখানে জঙ্গলরাজ চলছে। তৃণমূল সংবিধানের গলা টিপে ধরছে। তৃণমূলের সন্ত্রাসের মোকাবিলায় আপনাদের ভরসা বিজেপি। এখানে যা হচ্ছে, তাতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকেই হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।”

    ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar) বলেন, “এত বছর ধরে বাংলার মানুষের পয়সা লুট করা হয়েছে। সকল দুর্নীতিবাজদের এই টাকা ফেরত দিতে হবে। ব্রিগেড থেকে বাংলার পরিবর্তনের সূচনা করেছিলাম। মানুষের সেই ভিড়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট ঘাবড়ে গিয়েছে। ব্রিগেডের বিউগল কোচবিহারে আরও বেশি হয়েছে। টিএমসির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ। পাল্টানো দরকার। এটাই নতুন বাংলার দিশা। বিজেপি এখানে সরকার গড়বে।” রাজ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে নির্বাচন। প্রথম দফা ভোটের আগে এটাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সভা। ব্রিগেডে জনসভার পর এবারেই প্রথমবার রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    উন্নয়ন বনাম অত্যাচার

    রাজ্যে তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ে নিয়েও এদিন সরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “এবার বাংলায় একদিকে তৃণমূলের ভয় রয়েছে, অন্যদিকে মোকাবিলা করার জন্য বিজেপির ভরসা রয়েছে। একদিকে তৃণমূলের কাটমানি রয়েছে, অন্যদিকে বিজেপির বিকাশের ভরসা। একদিকে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা, অন্যদিকে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর সংকল্প নিয়েছে বিজেপি। একদিকে সিন্ডিকেট রাজে সম্পত্তি হারানোর ভয় রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে বিজেপির উন্নয়ন। একদিকে সন্দেশখালিতে মহিলাদের ওপর অত্যাচার, অন্যদিকে মহিলাদের অত্যাচার রুখতে মোদির গ্যারান্টি রয়েছে।” এদিন আইনের ওপর ভরসা রাখার কথা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর গলায়। তিনি বলেন, “একদিকে বেকারত্ব রয়েছে অন্যদিকে সুশাসন রোজগারের দিশা রয়েছে। ভোটের দিন তৃণমূলের গুন্ডারা যতই ভয় দেখাক আপনাকে আইনের সাহায্য নিতে হবে। এবার ভোটে ভয় পালাবে। বিজেপি জিতবে। ৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ করবে। বিজেপি বাংলার মানুষের জন্যেই আসরে নেমেছে। মহিলারা এরপর সঠিক বিচার পাবেন। গোটা দেশের মহিলারা বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। বিজেপি মহিলাদের পাশে রয়েছে। তবে দেশের উন্নতির ভাগ বাংলায় আসে না। এবার বাংলার উন্নতি হবে।”

    অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই! বাঙালি ঐতিহ্য

    পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Cooch Behar)। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়েছে তৃণমূল। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে। এর ফলে বাংলার মানুষের নিরাপত্তা বিপদের মুখে।” বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর অনুপ্রবেশকারীদের রোখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। বক্তৃতার শুরুতেই বাংলায় বলেছিলেন, “সবাইকে আমি নমস্কার জানাই।” তার পর একাধিক বার কাটা কাটা বাংলায় বক্তৃতা করতে শোনা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। কখনও তিনি বলেছেন, “বাংলায় এখন একটাই আওয়াজ, পাল্টানো দরকার।” কখনও বলেছেন, “জঙ্গলরাজের অন্ত হবে।” এই সূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল তাদের ঘোষণাপত্রের নাম বাংলায় রাখেনি। মোদির কথায়, “তৃণমূল ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে, যার নাম বাংলায় রাখেনি। বরং ইস্তাহার বলা হচ্ছে। ভেবে দেখুন কেমন ভাবে বাংলার পরিচয় বদলে দিচ্ছে।”

    তৃণমূলকে দুর্নীতি-তির 

    তৃণমূলের দুর্নীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে ‘গ্রহণ নেমে এসেছে’ বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “অন্য রাজ্যগুলি এগিয়ে যাচ্ছে, আর বাংলাকে পিছনে ঠেলে দিয়েছে তৃণমূল। এখানে সরকারি চাকরির উপরেও তৃণমূলের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে। বাংলার যুবসমাজ জানে, এই সরকার কত বড় নিয়োগ দুর্নীতি করেছে। কারা এতে শামিল ছিল! তৃণমূলের নিজের মন্ত্রী, বিধায়ক। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত গোটা তৃণমূল দুর্নীতিতে যুক্ত ছিল। কাটমানি, কমিশন আর দুর্নীতি করে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে এরা।”

    মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস

    গত কয়েকটি নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, রাজ্যে মহিলাদের ভোট মূলত তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে। এ বার সেই ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চায় পদ্মশিবির। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই কোচবিহারের সভায় ‘মা-বোনেদের’ বার্তা দেন মোদি। বলেন, “বিজেপি এলে মহিলারা স্বনির্ভর হবেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মা-বোনেদের সব সুবিধা দিয়েছে। ৩ কোটি মহিলাকে লাখপতি বানিয়েছে। আমাদের সরকার লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার আইন এনেছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এর সুবিধা মিলবে।” বিজেপি ‘মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস’ বলেও জানান মোদি।

    মোদিতে মাতোয়ারা

    রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে পৌঁছন মোদি (PM Modi in Cooch Behar)। সেখান থেকে গাড়িতে চেপে রাসমেলার মাঠে সভায় পৌঁছন। বিমানবন্দর থেকে রাসমেলার মাঠ, প্রায় দেড় কিলোমিটারের রাস্তায় অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন দু’পাশে তাঁকে দেখার জন্য। নির্বাচন (Assembly Election 2026) ঘোষণা হওয়ার পরে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকেই প্রচার শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ৪ মে-র পর বাংলায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার হবে। কোচবিহার এবং উত্তরবঙ্গের আর অন্যায় হবে না। এটা মোদির গ্যারান্টি।

  • Suvendu Adhikari: তাঁর ওপর নজর রাখছে সাদা পোশাকের পুলিশ! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, কমিশকে দিলেন চিঠি

    Suvendu Adhikari: তাঁর ওপর নজর রাখছে সাদা পোশাকের পুলিশ! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর, কমিশকে দিলেন চিঠি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের নির্বাচনে (Bengal Elections 2026) হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর (Bhabanipur Assembly Constituency)। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে ভবানীপুরে বিজেপির বাজি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুই হেভিওয়েটের মুখোমুখি লড়াইয়ে (Suvendu vs Mamata) ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) উপস্থিতি এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করেছে।

    অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক

    এই আবহেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর তোলা এক গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রবিবার তিনি ইমেলের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি, ভবানীপুরে বাড়ি বাড়ি প্রচারের সময় সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা তাঁকে অনুসরণ করছেন, তাঁর উপর নজরদারি চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, যেসব সাধারণ ভোটার তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন বা কথা বলছেন, তাঁদের নাম, ঠিকানা ও পরিচয় নথিভুক্ত করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

    ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ

    শুভেন্দুর মতে, এই ধরনের পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে পারে ভবিষ্যতে ওই ভোটারদের ভয় দেখানো। তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা সাহস করে আমার সঙ্গে দেখা করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং ভোটারদের উপর পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভবানীপুরে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কলকাতা পুলিশকে শাসকদল তাদের ‘নজরদারি বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, এই পরিস্থিতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পথে বড় বাধা।

    সমাজমাধ্যমে সরব শুভেন্দু

    এই অভিযোগের সমর্থনে নিজের সমাজমাধ্যমেও একটি বিস্তারিত পোস্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি লেখেন, “ভবানীপুরে আক্রান্ত গণতন্ত্র। কলকাতা পুলিশকে তৃণমূল ব্যক্তিগত নজরদারি বাহিনী হিসেবে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করছে।” তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রচারের সময় তাঁকে অনুসরণ করা হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করা প্রতিটি ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি বড় বাধা বলে দাবি ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থীর। যদিও এই সব কৌশল আর কাজ করবে না বলে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এই ধরনের কৌশল আর কাজ করবে না। রাজ্যে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষের পথে। ভবানীপুরের ভোটাররা এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।”

    ছবি প্রকাশ শুভেন্দুর, নজর কমিশনের দিকে

    উল্লেখযোগ্যভাবে, শুভেন্দু অধিকারী দু’জন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছেন, যাঁদের তিনি পুলিশকর্মী বলে দাবি করেছেন। তাঁদের নাম, পদ এবং সংশ্লিষ্ট থানার তথ্যও তিনি উল্লেখ করেছেন। যদিও এই ছবিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য প্রশাসন বা কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে। এখন নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  • Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বেলা বাড়তেই রোদের দাপট বাড়ছে। চৈত্র মাসের শেষ জানান দিচ্ছে, চলতি বছর গরমের প্রকোপ বাড়বে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, তীব্র রোদ আর অস্বস্তিকর আবহাওয়া শরীরে গভীর প্রভাব ফেলবে। বিশেষত, রক্তচাপ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা থাকছে। গরমে বাড়তে পারে রক্তচাপ। কমবয়সী থেকে প্রৌঢ়, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই আবহাওয়া তাঁদের জন্য যেমন বাড়তি সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনি হঠাৎ করেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়ে, অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন গরমে রক্তচাপ বাড়ে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার সঙ্গে শরীরের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত তাপমাত্রার পরিবর্তনে শরীরে গভীর প্রভাব পড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ঘাম হয়। এর ফলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়। শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণ জল কমে গেলে,রক্ত ঘন হয়ে যায়। তখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
    • গরমে অস্বস্তি বাড়ে। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতাও বাড়ে। তাই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
    • গরমের ঘাম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মানসিক চাপ বাড়ায়। স্ট্রেস হরমোনের সঙ্গে শরীরের রক্তচাপের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই স্ট্রেস বাড়লেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়।
    • গরমে সাময়িক আরাম পেতে অনেকেই বারবার প্যাকেটজাত পানীয় খায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ধরনের পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে লবন, মিষ্টি এবং নানান প্রক্রিয়াজাত পদার্থ থাকে। এগুলি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

    হঠাৎ রক্তচাপ বাড়লে কী বিপদ হতে পারে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে গেলে শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। হৃদপিণ্ডের ওপরে সরাসরি প্রভাব পড়ে। হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
    • হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। তার নেপথ্যে থাকে হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
    • রক্তচাপ বাড়লে চোখের ওপরে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রক্তচাপ হঠাৎ বাড়লে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়।
    • তাছাড়া রক্তচাপ বাড়লে কিডনির উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। কিডনির কার্যকারিতা কমে। তাছাড়া বমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও হতে পারে।

    কীভাবে এই আবহাওয়ায় রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখবন?

    • চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুক্তভোগীদের এই আবহাওয়ায় নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি।
    • নিয়মিত পরীক্ষা করলে তাঁদের রক্তচাপ কতখানি ওঠানামা করছে, সেটা স্পষ্ট বোঝা যাবে। ফলে, আগাম সতর্কতা নেওয়া সহজ হবে। বড় বিপদ এড়ানো‌ যাবে।
    • লাগাতার প্রচন্ড মাথা যন্ত্রণা, বমি ভাব, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
    • গরমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে হবে। তবে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। আরামের জন্য প্যাকেটজাত পানীয় নয়। ডাবের জল, টক দইয়ের সরবত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    • অতিরিক্ত লবন দেওয়া খাবার নয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার নয়। বরং নিয়মিত খাবারের তালিকায় সব্জি, ফল রাখা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এতে অস্বস্তি কমবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোলে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আধ ঘন্টা হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত হাঁটলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Ramakrishna 616: “কি রকম ভক্ত আছে গো? ‘গোপাল!’ ‘গোপাল!’ যারা বলেছিল, সেইরকম ভক্ত নাকি?”

    Ramakrishna 616: “কি রকম ভক্ত আছে গো? ‘গোপাল!’ ‘গোপাল!’ যারা বলেছিল, সেইরকম ভক্ত নাকি?”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৬শে অক্টোবর
    ভক্তসঙ্গে — শুধু পাণ্ডিত্যে কি আছে?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— বঙ্কিম তোমাদের একজন পণ্ডিত। বঙ্কিমের সঙ্গে দেখা হয়েছিল — আমি জিজ্ঞাসা করলুম, মানুষের কর্তব্য কি? তা বলে (Kathamrita), ‘আহার, নিদ্রা আর মৈথুন।’ এই সকল কথাবার্তা শুনে আমার ঘৃণা হল। বললুম যে, তোমার এ কিরকম কথা! তুমি তো বড় ছ্যাঁচ্‌ড়া। যা সব রাতদিন চিন্তা করছো, কাজে করছো, তাই আবার মুখ দিয়ে বেরুচ্চে। মূলো খেলেই মূলোর ঢেঁকুর উঠে। তারপর অনেক ঈশ্বরীয় কথা হল। ঘরে সংকীর্তন হল। আমি আবার নাচলুম। তখন বলে, মহাশয়! আমাদের ওখানে একবার যাবেন। আমি বললুম, সে ঈশ্বরের ইচ্ছা। তখন বলে, আমাদের সেখানেও ভক্ত আছে, দেখবেন। আমি হাসতে হাসতে বললুম, কি রকম ভক্ত আছে গো? ‘গোপাল!’ ‘গোপাল!’ যারা বলেছিল, সেইরকম ভক্ত নাকি?

    ডাক্তার — ‘গোপাল!’ ‘গোপাল।’ সে ব্যাপারটা কি?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— একটি স্যাকরার দোকান ছিল। বড় ভক্ত, পরম বৈষ্ণব — গলায় মালা, কপালে তিলক, হস্তে হরিনামের মালা। সকলে বিশ্বাস করে ওই দোকানেই আসে, ভাবে এরা পরমভক্ত, কখনও ঠকাতে যাবে না। একদল খদ্দের এলে দেখত কোনও কারিগর বলছে ‘কেশব!’ ‘কেশব!’ আর-একজন কারিগর খানিক পরে নাম করছে ‘গোপাল!’ ‘গোপাল!’ আবার খানিকক্ষণ পরে একজন কারিগর বলছে, ‘হরি’, ‘হরি’, তারপর কেউ বলছে ‘হর; হর!’ কাজে কাজেই এত ভগবানের নাম দেখে খরিদ্দারেরা সহজেই মনে করত, এ-স্যাকরা অতি উত্তম লোক। — কিন্তু ব্যাপারটা কি জানো? যে বললে, ‘কেশব, কেশব!’ তার মনের ভাব, এ-সব (খদ্দের) কে? যে বললে ‘গোপাল! গোপাল!’ তার অর্থ এই যে আমি এদের চেয়ে চেয়ে দেখলুম, এরা গরুর পাল। (হাস্য)

    যে বললে ‘হরি হরি’ — তার অর্থ এই যে, যদি গরুর পাল(Kathamrita), তবে হরি অর্থাৎ হরণ করি। (হাস্য) যে বললে, ‘হর হর!’ — তার মানে এই — তবে হরণ কর, হরণ কর; এরা তো গরুর পাল! (হাস্য)

  • Jan Vishwas Bill 2026: সংসদে পাশ হয়ে গেল ‘জন বিশ্বাস বিল’, কী আছে এতে?

    Jan Vishwas Bill 2026: সংসদে পাশ হয়ে গেল ‘জন বিশ্বাস বিল’, কী আছে এতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘জন বিশ্বাস’ বিলের (Jan Vishwas Bill 2026) কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে পুনর্গঠনের এক উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। এই আইন ৭৯টি কেন্দ্রীয় আইনে ছড়িয়ে থাকা ১০০০-এরও বেশি অপরাধকে যৌক্তিকীকরণ এবং ৭১৭টি বিধানকে অপরাধমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে (Parliament)। এই বিধানগুলির অনেকই ছিল ছোটখাটো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি সম্পর্কিত, যেগুলির জন্য প্রায়ই ফৌজদারি মামলা, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারত।

    আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক (Jan Vishwas Bill 2026)

    এই সংস্কারের মাধ্যমে সরকার প্রযুক্তিগত বা তেমন গুরুতর নয় এমন নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ফৌজদারি দায়বদ্ধতার ভয় দূর করতে চেয়েছে। এর পরিবর্তে একটি নতুন কাঠামো আনা হয়েছে, যা গুরুতর অপরাধ এবং ছোটখাটো নিয়মভঙ্গের মধ্যে পার্থক্য করে এবং অপরাধের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি নিশ্চিত করে। সরকারি আধিকারিকরা একে “ইনস্পেক্টর রাজ” মানসিকতা থেকে সরে এসে একটি সহায়ক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে জোরজবরদস্তির বদলে বিশ্বাসের মাধ্যমে নিয়ম মানতে উৎসাহ দেওয়া হয়। এই আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অপরাধীকরণ থেকে নিয়ম-মানার দিকে স্পষ্ট পরিবর্তন। পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় নথিপত্র জমা দিতে দেরি করা বা কিছু রেকর্ড সংরক্ষণে ব্যর্থ হওয়ার মতো ছোটখাটো ভুলের জন্যও ফৌজদারি শাস্তি, এমনকি কারাদণ্ডও হতে পারত।

    সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী খাত

    নয়া ব্যবস্থায় এসবের পরিবর্তে ধাপে ধাপে আর্থিক জরিমানা এবং প্রশাসনিক বিচার প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। ফলে ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আর ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি না হয়ে অপরাধের গুরুত্ব ও পুনরাবৃত্তির ওপর ভিত্তি করে কেবল আর্থিক জরিমানা দিতে হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রক  জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে অপ্রয়োজনীয় মামলার সংখ্যা কমবে, হ্রাস পাবে আদালতের ওপর চাপও। একই সঙ্গে গুরুতর অপরাধ, বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলিতে কঠোর শাস্তি বহাল থাকবে। এই সংস্কারের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী খাতগুলির একটি হল স্বাস্থ্যসেবা খাত। জন বিশ্বাস বিলের আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধন করা হয়েছে, যেমন—ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০, ফার্মেসি অ্যাক্ট, ১৯৪৮, ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট, ২০০৬,  ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্টস অ্যাক্ট, ২০১০,  এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর অ্যালায়েড অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রফেশনস অ্যাক্ট, ২০২১ (Jan Vishwas Bill 2026)।

    বিলটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

    নয়া কাঠামোর অধীনে রেকর্ড সংরক্ষণে ত্রুটি, প্রক্রিয়াগত বিলম্ব বা ছোটখাটো নিয়ন্ত্রক লঙ্ঘনের মতো (Parliament) অপরাধগুলি, যেগুলির জন্য আগে জরিমানা বা কারাদণ্ড হতে পারত, এখন সুশৃঙ্খল দেওয়ানি জরিমানার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। এতে ছোট ও মাঝারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, ফার্মেসি এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন। একই সময়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান বহাল থাকবে, যাতে রোগীর নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের মান বজায় থাকে। বিলটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল বিভিন্ন আইনে একটি আনুষ্ঠানিক বিচার কাঠামোর প্রবর্তন। প্রথমবারের মতো কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরে নিযুক্ত বিচারিক কর্তারা আধা-বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছোটখাটো মামলা নিষ্পত্তির ক্ষমতা পাবেন।

    ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ

    এই ব্যবস্থায় কারণ দর্শানোর নোটিশ, ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ এবং একটি সুনির্দিষ্ট আপিল ব্যবস্থা থাকবে। ফলে যথাযথ প্রক্রিয়া বজায় রেখে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে (Jan Vishwas Bill 2026)। সরকার মনে করে, এই ব্যবস্থা বিশেষ করে ওষুধ ও প্রসাধনী শিল্পের জন্য উপকারী হবে, যেখানে নিয়মকানুন অনেক এবং ছোটখাটো ভুল হওয়া স্বাভাবিক। আদালতের বদলে প্রশাসনিকভাবে এসব সমস্যা সমাধান করলে সময় ও সম্পদ উভয়ই সাশ্রয় হবে। জন বিশ্বাস বিল শুধুমাত্র একটি খাত বা মন্ত্রকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ২৩টি মন্ত্রকের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহৎ সংস্কার উদ্যোগ। এই বহুমন্ত্রক-ভিত্তিক পদ্ধতির লক্ষ্যই হল নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে সামঞ্জস্য আনা এবং আইনগুলির মধ্যে দ্বন্দ্ব বা পুনরাবৃত্তি দূর করা, যাতে একটি স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয় (Parliament)।

    বিলের সুবিধা

    এই সমন্বয় স্বাস্থ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল, বাণিজ্য ও শিল্প-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামগ্রিক প্রভাব ফেলবে। এই আইনের বৃহত্তর লক্ষ্য হল ব্যবসা পরিচালনা সহজ এবং জীবনযাত্রার সহজ বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রে ছোটখাটো নিয়মভঙ্গের জন্য ফৌজদারি মামলার ভয় দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় বাধা হয়ে ছিল (Jan Vishwas Bill 2026)। এই ভয় দূর করে সরকার উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নিয়ম মানার হার বৃদ্ধি এবং স্বেচ্ছায় নিয়ম অনুসরণের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায়। নাগরিকদের জন্যও এটি আইনি জটিলতা কমাবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক কম খারাপ করবে। বিশ্বাসভিত্তিক প্রশাসনের ওপর জোর দেওয়া সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির একটি পরিবর্তন নির্দেশ করে—যেখানে কঠোর প্রয়োগের বদলে সহযোগিতা ও সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় (Jan Vishwas Bill 2026)।  এই সংস্কারের একটি বড় প্রত্যাশিত ফল হল মামলা কমে যাওয়া। বর্তমানে আদালতগুলিতে অনেক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে অনেকই ছোটখাটো নিয়ন্ত্রক লঙ্ঘন সম্পর্কিত। এসব মামলা বিচারব্যবস্থার বাইরে এনে প্রশাসনিকভাবে সমাধান করলে বিচারদান দ্রুত হবে এবং আদালতের সম্পদের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে।

    বিলটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই সংস্কার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করতে চায়। ব্যবসা ও পেশাজীবীদের অপরাধী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে দেখার মাধ্যমে একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য (Parliament)। ২০২৬ সালের জন বিশ্বাস (বিধান সংশোধন) বিল ভারতের নিয়ন্ত্রক দর্শনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। এটি ভয়ভিত্তিক নিয়মপালন থেকে বিশ্বাস, স্বচ্ছতা ও সামঞ্জস্যভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যদিও এই সংস্কারের সাফল্য বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে, তবে এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট। ছোটখাটো অপরাধকে অপরাধমুক্ত করা, দ্রুত বিচার ব্যবস্থা চালু করা এবং বিভিন্ন খাতে আইনগুলির সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সরকার একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়। সংক্ষেপে, এই বিল শুধু শাস্তি কমানোর বিষয়ে নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি প্রচেষ্টা। এটি কতটা সফল হবে তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে, তবে আপাতত এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ সংস্কার উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে (Jan Vishwas Bill 2026)।

     

  • US Iran War: “উই গট হিম”, নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের ক্রু-সদস্যকে উদ্ধারের পর মন্তব্য ট্রাম্পের

    US Iran War: “উই গট হিম”, নিখোঁজ যুদ্ধবিমানের ক্রু-সদস্যকে উদ্ধারের পর মন্তব্য ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “উই গট হিম।” রবিবার এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US Iran War)। “দুঃসাহসিক” অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে নিখোঁজ এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের মতে, এই উদ্ধার সম্ভব হয়েছে, কারণ মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান মোতায়েন করেছিল (Donald Trump)। শুক্রবার ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান—দুই আসনের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল—ভূপাতিত করে, যাতে একজন পাইলট এবং একজন অস্ত্রব্যবস্থা আধিকারিক ছিলেন। পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও, ওই আধিকারিক নিখোঁজ ছিলেন।

    ট্রাম্পের পোস্ট (US Iran War)

    নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প জানান, নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর ওই বিমানসেনাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “আমার নির্দেশে, মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান পাঠায় তাঁকে উদ্ধার করতে। তিনি জখম হয়েছেন। তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।” আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাধিক বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্য এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তাঁরা ইরানের গভীরে প্রবেশ করে বিমানসেনাকে উদ্ধার করে এবং তাঁকে নিরাপদে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে (US Iran War)।

    “অলৌকিক” অভিযান

    এই নাটকীয় অভিযানটি অন্ধকারে শুরু হয়ে দিনের আলোয় শেষ হয়, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরোপুরি এগোয়নি। মাঝপথে গোলাগুলি শুরু হয়, আর সেই সংঘর্ষের মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ওই বিমানসেনাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দুদিনব্যাপী এই অভিযানে শতাধিক বিশেষ বাহিনী অংশ নিয়েছিল। মার্কিন বিমানগুলি বোমা বর্ষণ ও গুলি চালিয়ে ইরানি বাহিনীকে দূরে রেখে দিয়েছিল (Donald Trump)। এই উদ্ধার অভিযানটিকে ট্রাম্প “অলৌকিক” আখ্যা দিয়েছেন। এটি ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা অঞ্চলের গভীরে, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার হুমকির মধ্যে পরিচালিত হয়। এদিন মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করেছিল এইচএইচ-৬০ ডাব্লু জলি গ্রিন ২ উদ্ধার হেলিকপ্টার, এ-১০ ওয়ারথগ আক্রমণ বিমান, এইচসি-১৩০ মাঝ-আকাশ ট্যাঙ্কার, এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, বিশেষ বাহিনী, কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট। এর মধ্যে জলি গ্রিন-২ কপ্টারটি এই অভিযানের প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত। এটি আধুনিক সেন্সর, দীর্ঘ পাল্লা, এবং যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি (US Iran War)।

    সিআইএর কৌশল

    এক্সিয়সের (Axios) তথ্য অনুযায়ী, পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়। তবে ওই সময় ইরান একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে আঘাত হানে, যার জেরে কিছু ক্রু সদস্য জখম হন। অস্ত্রব্যবস্থা আধিকারিককে খুঁজে পেতে এক দিনেরও বেশি সময় লাগে (Donald Trump)। জানা গিয়েছে, ওই আধিকারিককে খুঁজে পাওয়ার আগে সিআইএ একটি বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালায়। তারা জানিয়ে দেয়, ওই আধিকারিককে ইতিমধ্যেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছে এবং স্থলপথে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সিআইএ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁকে খুঁজে বের করেছে এবং তাঁর সঠিক অবস্থান হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে শেয়ার করে। এরপর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

    কেমন আছেন উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য

    ট্রাম্প বলেন, “উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্য একজন অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল। তিনি এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ। এই সাহসী যোদ্ধা শত্রু এলাকার বিপজ্জনক পাহাড়ে ছিলেন, শত্রুরা তাঁকে খুঁজছিল, কিন্তু তিনি কখনও একা ছিলেন না। ২৪ ঘণ্টা তাঁর অবস্থান নজরদারিতে ছিল এবং তাকে উদ্ধারের পরিকল্পনা চলছিল (US Iran War)।” তিনি আরও জানান, শনিবার আর একজন পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে।  এটি প্রথমে গোপন রাখা হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি, ইতিহাসে প্রথমবার দুজন মার্কিন পাইলটকে শত্রু অঞ্চলের কোর এলাকা থেকে আলাদা আলাদাভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। কোনও মার্কিন সেনা নিহত বা গুরুতর জখম হননি। এটি মার্কিন আকাশ আধিপত্যের প্রমাণ। এদিকে, ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজ বিমানসেনাকে জীবিত ধরিয়ে দিলে প্রায় ৬৬,০০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে (Donald Trump)।

    ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের দাবি, একটি মার্কিন অনুসন্ধান বিমান ধ্বংস করা হয়েছে, ইসফাহানের দক্ষিণে সি-১৩০ পরিবহণ বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে একটি ইজরায়েলি ড্রোনও। তাদের আরও দাবি, উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন (US Iran War)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু- হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু- হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ-বিদেশে অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে একটি গণহত্যার রূপ নিচ্ছে, যা আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তার উপেক্ষা করেছে। অথচ এটি উদ্বেগজনক হিন্দুবিরোধী পক্ষপাতিত্ব দ্বারা (Roundup Week) পরিচালিত।

    খুন-জখম-রাহাজানি (Hindus Under Attack)

    খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack), মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত—হিন্দুরা তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়ছে, শিকার হচ্ছে নজিরবিহীন হিন্দুবিদ্বেষের। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ২৯ মার্চ থেকে ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ছবিটা। বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ যাতে এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হয়, তাই এই প্রচেষ্টা।

    খবরে কর্নাটক

    প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। ফের বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। দিন কয়েক আগে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, তিনি উগাদি এবং মহাশিবরাত্রির মতো পবিত্র হিন্দু উৎসবের দিনেও আমিষ খাবার খান। বিধানসভায় বাজেট আলোচনার জবাবে দেওয়া এই বক্তব্য শাসক দলের হিন্দু প্রথার প্রতি অবহেলার বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে।  সেখানে এক কলেজছাত্রীর অভিযোগ, এক মুসলিম ব্যক্তি ভুয়ো হিন্দু পরিচয়ে ইনস্টাগ্রামে তার সঙ্গে পরিচয় করে, তাকে ধর্ষণ করে, ব্যক্তিগত ছবি এবং ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে। শুধু তা-ই নয়, পরে তাঁকে ধর্মান্তরিত হয়ে নমাজ আদায়ের জন্য চাপ দেয়। অভিযুক্ত শাদাব ‘আদিত্য’ নাম নিয়ে করে প্রতারণা করেছিল (Hindus Under Attack)।

    উদ্বেগজনক ঘটনা

    ধারওয়াড়ের মারাঠা কলোনিতে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে একজন ইসলামপন্থী জিম প্রশিক্ষক মোহাম্মদ সাবিরের বিরুদ্ধে হিন্দু মহিলাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং বজরং দল কর্মীরা প্রতিবাদ হিসেবে জিমটি বন্ধ করে দেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে (Roundup Week)। উত্তরপ্রদেশের হাপুরে মেঘালয় থেকে আসা এক তরুণীর অভিযোগ, স্থানীয় এক মুসলিম যুবক তাকে ধর্ষণ করেছে, ব্ল্যাকমেল করেছে এবং অশ্লীল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুনে জেলার মাঞ্চারে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে একটি ঐতিহাসিক ‘বারাভ’ (ধাপ কূপ, যা স্থানীয়দের মতে পাণ্ডব যুগের এবং ১২শ শতকে পুনর্নির্মিত) তা ওয়াকফ বোর্ডের নথি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। চলছে পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশ থেকে ধীরে ধীরে মুছে ফেলার প্রয়াস (Roundup Week)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবস্থাগত নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্মনিন্দার অভিযোগ তুলে হামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণাসূচক বক্তব্য—এসবই হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    মসজিদের কাছ থেকে উদ্ধার হিন্দুর দেহ

    চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলায় একটি মসজিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় বছর পঞ্চাশের স্বপন দাসের মৃতদেহ। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে মিলল তাঁর দেহ। তিনি পটিয়া উপজেলার পূর্ব ডেঙ্গা পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে নিখোঁজ হন তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২৮ মার্চ বিকেলে তাঁর দেহের হদিশ মেলে (Hindus Under Attack)। বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দুবিরোধী পক্ষপাতিত্ব দ্বারা চালিত, যা কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত। ইসলামিক দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলি প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্ম হিন্দুবিরোধী মনোভাব রয়েছে, যা হিন্দুবিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধকে উৎসাহিত করে (Roundup Week)।

    এই সূক্ষ্ম, দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না, যদি না আইন ও সামাজিক প্রবণতাগুলি বিশ্লেষণ করা হয়। দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি একটি উদাহরণ। আপাতদৃষ্টিতে এটি পরিবেশগত মনে হলেও, আদতে এটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা যায় হিন্দু উৎসবগুলির ওপর একতরফা বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তে (Hindus Under Attack)।

     

  • Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    Rahul Gandhi: রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় কীভাবে? দোটানায় কংগ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গি-বিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে (Modi Govt) পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মোকাবিলা করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশকে। এমতাবস্থায় বিরোধী দল (Rahul Gandhi) কংগ্রেস এক অভ্যন্তরীণ দ্বিধার সম্মুখীন। রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জাতীয় ঐকমত্যের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, নিরন্তর তা-ই ভেবে চলেছেন শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেসের মাথারা।

    কংগ্রেসে ফাটল (Rahul Gandhi)

    ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং দেশে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি এই দ্বন্দ্বকে ফের একবার সামনে নিয়ে এসেছে। এই মুহূর্তটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে শুধু কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তর থেকেই উঠে আসা তীব্র মতপার্থক্য। এই বিভেদের কেন্দ্রে রয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করেন। তবে এই সমালোচনার জবাব শুধু শাসকদলই দেয়নি, কংগ্রেসেরই বহু প্রবীণ নেতাও এর বিরোধিতা করেছেন।

    রাহুলের বেফাঁস মন্তব্য

    রাহুল মোদি সরকারের বিদেশনীতিকে “সমঝোতাপূর্ণ” এবং “ক্ষতিগ্রস্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এহেন মন্তব্যটি করেন ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষিতে। তিনি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, দাবি তুলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনির হত্যার ঘটনার নিন্দে করার। তবে এই অবস্থান দলের ভেতরেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রবীণ নেতা শশী থারুর সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের অবস্থান একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনীতির উদাহরণ।” তাঁর বক্তব্যে কূটনীতির একটি সূক্ষ্ম ও বাস্তববাদী বোঝাপড়া ফুটে ওঠে, যেখানে বৈশ্বিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করাটা ভীষণভাবে জরুরি (Rahul Gandhi)।

    দ্বিধা বিভক্ত কংগ্রেস

    এই মতপার্থক্য শুধু কথার লড়াই নয়, এটি কংগ্রেসের ভেতরে দুটি আলাদা দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত—একটি রাজনৈতিক বিরোধিতার ভিত্তি, অন্যটি কৌশলগত বাস্তববাদ (Modi Govt)। থারুর একা নন। প্রবীণ নেতা আনন্দ শর্মা সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে “পরিপক্ব ও দক্ষ” বলে প্রশংসা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, আন্তর্জাতিক সঙ্কটকালে জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিদেশনীতি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত। কংগ্রেস নেতা মনীশ তেওয়ারিও বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সামলাতে সরকার সম্ভবত সঠিক কাজই করছে।” বস্তুত, এটি বিরোধী শিবিরের এক নেতার বিরল স্বীকারোক্তি।

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন

    দেশীয় ইস্যুতেও বিভাজন দেখা গিয়েছে। এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের ক্ষেত্রে কমল নাথ ঘাটতির দাবি নাকচ করে দেন, যা দলের বৃহত্তর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বলেন, “সঙ্কটের একটি ধারণা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এতে আদতে উপকৃত হচ্ছে বিজেপি। কারণ এটি শাসক বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছি।” রাহুলের দলের এই বিরোধিতা নতুন কিছু নয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে চালু হওয়া অপারেশন সিঁদুরের পরেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল (Rahul Gandhi)। রাহুল সরকারের “রাজনৈতিক সদিচ্ছা” নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, কংগ্রেসেরই থারুর এবং তেওয়ারি প্রকাশ্যে অভিযানকে সমর্থন করেন, প্রশংসা করেন সেনাবাহিনীর। তাঁদের এই অবস্থানকে দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে (Modi Govt)।

    থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি

    সরকার যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গঠন করে, সেখানে থারুর ও তেওয়ারির অন্তর্ভুক্তি কংগ্রেস নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। থারুরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকায় একটি প্রতিনিধিদলের প্রধান করা হলে এই অস্বস্তি আরও প্রকট হয় (Rahul Gandhi)। সংসদে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিতর্কেও থারুর এবং তেওয়ারিকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়াও কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত আবারও এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সামনে নিয়ে এসেছে। ভারতের পরিমিত ও কৌশলী কূটনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলেও উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। আনন্দ জানান, এই নীতি ভারতকে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করেছে। তিনি পারস্য (আধুনিক ইরান)-এর সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। (Rahul Gandhi)

    এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্য

    কমল নাথের এলপিজি সংক্রান্ত মন্তব্যও দেখায় যে দলের সব নেতা কেন্দ্রীয় অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। এই পরিস্থিতিতে দলে রাহুলের নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে। এটি আর কোনও বিচ্ছিন্ন মতভেদ নয়, বরং এমন একটি প্রবণতা, যেখানে অভিজ্ঞ নেতারা তাঁর অবস্থানের সঙ্গে নিঃশর্তভাবে একমত হতে অনিচ্ছুক, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে। থারুর, আনন্দ, কমল নাথ ও তেওয়ারির মতো অভিজ্ঞ নেতাদের প্রকাশ্য মতবিরোধ কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ঐকমত্যের কঙ্কালসার চেহারাটাই তুলে ধরে (Modi Govt)।ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে কংগ্রেস যেন নিজেদের নেতৃত্বকেই যাচাই করছে। এতে দলের সমালোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।

    বড় চ্যালেঞ্জ

    রাজনৈতিক যোগাযোগের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অসঙ্গতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি বিরোধী দলের শক্তি আসে সুসংহত ও পরিষ্কার বার্তা থেকে। কিন্তু যখন দলের প্রবীণ নেতারা ভিন্ন বা পরিমিত মতামত দেন, তখন দলের অবস্থান বিভক্ত হয়ে যায়। কংগ্রেসের এই সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন। সেটি হল, জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ না করে কীভাবে সরকারের সমালোচনা করা যায় (Rahul Gandhi)? থারুর ও শর্মার মতো নেতারা দ্বিদলীয় (bipartisan) দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষে, যেখানে ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে, রাহুলের অবস্থান বেশি আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক একটি কৌশলের প্রতিফলন, যা কখনও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হতে পারে। কংগ্রেসের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার—নেহরুর নিরপেক্ষ আন্দোলন থেকে নরসিমা রাওয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার—এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস

    বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, দল কি তার কৌশলগত ঐতিহ্যকে আধুনিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারবে? অপারেশন সিঁদুর থেকে ইরানের সংঘাত—সব মিলিয়ে কংগ্রেস এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে এক সন্ধিক্ষণে (Modi Govt)। একদিকে আক্রমণাত্মক বিরোধিতা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের সংযত ও বাস্তববাদী অবস্থানের ঘূর্ণিপাকেই ঘুরপাক খাচ্ছে কংগ্রেস (Rahul Gandhi)। এই মতপার্থক্য যদি গঠনমূলক আলোচনার রূপ নেয়, তবে তা ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু যদি এটি গভীর বিভাজনে পরিণত হয়, তবে তা কংগ্রেস ও ভারতের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বর্তমান সময়ে যখন ভূ-রাজনীতি ও দেশীয় রাজনীতি ক্রমশ জড়িয়ে যাচ্ছে, তখন সুসংহত ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান উপস্থাপন করার ক্ষমতাই নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা।

     

LinkedIn
Share