Tag: news in bengali

news in bengali

  • Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আইন আনতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী সোমবার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে রাজ্য বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হবে। তার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) ২০২৬’ বিল। পাশাপাশি দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি এবং গুণ্ডাদমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও আনা হচ্ছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মোট পাঁচটি বিল পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইউসিসি বিল এবং দুর্নীতি-বিরোধী বিলকে সরকার তাদের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

    সোমবারই বিধানসভায় ইউসিসি বিল

    বিধানসভা সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি সোমবার পেশ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যবিবরণী কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রশাসনিক ও আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হলেও ইউসিসি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় পৌঁছনোর পর চলতি অধিবেশনেই বিলটি আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সোমবারের কর্মসূচির দ্বিতীয় ভাগে বিলটি পেশ করা হবে। বিধানসভার টেবিল অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শাসক ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য অংশ নেবেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

    দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হওয়ার পথে পশ্চিমবঙ্গ

    বর্তমানে দেশের মধ্যে অসম, উত্তরাখণ্ড এবং গোয়ায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রাজ্যটি দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হতে পারে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল লক্ষ্য হল বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক পৃথক আইনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো প্রয়োগ করা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর এটি রাজ্য সরকারের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    একই অধিবেশনে আসছে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী বিল

    বিশেষ অধিবেশনেই সরকার দুর্নীতি ও বেআইনি সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও পেশ করতে চলেছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কোনও আপস করবে না। তাঁর বক্তব্য, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। আমরা শপথ নিয়েছি, কোনও চোর জেলের বাইরে থাকবে না। অনেকে ভাবছেন জেলে গিয়ে দু’মাস পরে জামিনে বেরিয়ে এলাম। তা হবে না। বিল আনছি। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অকশন করব।”

    কী থাকছে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন আইনে বেআইনি আয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন, গুণ্ডামি, ঘুষের অর্থ সাদা করা এবং অপরাধমূলক উপায়ে সম্পত্তিকে বৈধ রূপ দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিলের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● বেআইনি সম্পত্তি অর্জন ও দখলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা।
    • ● ‘গুণ্ডা’ শব্দকে আইনের অংশ করে সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা।
    • ● গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি প্রয়োগের সুযোগ।
    • ● দুর্নীতি দমনের অভিযানে বাধা দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
    • ● বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের বিধান।
    • ● রাজ্য সরকার, কেন্দ্র সরকার এবং বেসরকারি—সব ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই একই আইনি বিধান প্রয়োগ।
    • ● বেআইনি দখল, ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আইনি সুযোগ।
    • ● দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত বা ভাঙচুরের ঘটনার ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা বাজেয়াপ্তির দাবি জানানো যাবে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে

    একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং দুর্নীতি-বিরোধী—দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইউসিসি কার্যকর করার মাধ্যমে বিজেপির দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ, অন্যদিকে দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এনে প্রশাসনিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় এই দুই বিল পেশ হওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা এবং তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • UPSC uses AI: প্রথমবার এআই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের যাচাই, প্রিলিমসের আগেই ৫৬৯ অযোগ্য আবেদন বাতিল করল ইউপিএসসি

    UPSC uses AI: প্রথমবার এআই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের যাচাই, প্রিলিমসের আগেই ৫৬৯ অযোগ্য আবেদন বাতিল করল ইউপিএসসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশন (UPSC) প্রথমবারের মতো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার (CSE) আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অযোগ্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করেছে। এই উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে ৫৬৯টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া আবেদনগুলির মধ্যে ছিল একাধিকবার জমা দেওয়া আবেদন এবং নির্ধারিত প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করা প্রার্থীদের আবেদন।

    পূজা খেডকর বিতর্কের পর কঠোর নজরদারি

    ইউপিএসসি-র এই পদক্ষেপ এসেছে প্রাক্তন আইএএস প্রশিক্ষণার্থী পূজা খেড়কর-কে ঘিরে বিতর্কের প্রায় দুই বছর পর। ২০২৪ সালে অভিযোগ ওঠে যে তিনি নিজের ও তাঁর বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যদিও তিনি ইতিমধ্যেই অনুমোদিত প্রচেষ্টার সংখ্যা শেষ করে ফেলেছিলেন। পরে UPSC তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে এবং তাঁকে পরিষেবা থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে সাধারণত এই ধরনের যাচাই-বাছাই সাক্ষাৎকার পর্বে, অর্থাৎ প্রিলিমস ও মেইনস উত্তীর্ণ হওয়ার পর করা হতো। তবে এ বছর কমিশন আবেদন জমার পরপরই যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

    এআই ও আধারভিত্তিক যাচাই

    ২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য মোট ৮.১৮ লক্ষ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫.৪৯ লক্ষ পরীক্ষায় অংশ নেন। গত বছরের ৯.৫ লক্ষ আবেদনকারীর তুলনায় এ বছর সংখ্যা কিছুটা কম। সূত্রের মতে, নতুন যাচাই পদ্ধতি এই হ্রাসের অন্যতম কারণ হতে পারে। কমিশন এ বছর একটি নতুন আবেদন পোর্টাল চালু করে, যেখানে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ ছিল। প্রায় ৯৪ শতাংশ আবেদনকারী এই সুবিধা গ্রহণ করেন। বাকি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ এবং ছবি মিলিয়ে ডুপ্লিকেট আবেদন শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ১৫ বছরের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় প্রার্থীরা বয়সসীমা বা প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করেছেন কি না। এই প্রক্রিয়ায় ৫৬৯ জন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী এবং আরও ৬৯ জন ভারতীয় বন পরিষেবা (IFS) পরীক্ষার আবেদনকারীকে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়।

    সংরক্ষণ শ্রেণি পরিবর্তনও খতিয়ে দেখা হয়েছে

    ইউপিএসসিতে এআই-এর সাহায্যে পরীক্ষা করেছে, কোনও প্রার্থী পূর্ববর্তী আবেদনের তুলনায় সামাজিক শ্রেণি (Category) পরিবর্তন করেছেন কি না। তদন্তে দেখা যায়, ৪৩,৪৯৭ জন আবেদনকারী আগেরবারের তুলনায় ভিন্ন ক্যাটাগরি নির্বাচন করেছেন। তাঁদের ই-মেইলের মাধ্যমে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করা হয়। অনেক প্রার্থী জানান, সময়মতো প্রয়োজনীয় শংসাপত্র না পাওয়ায় তাঁরা আগে সাধারণ (General) শ্রেণিতে আবেদন করেছিলেন। তবে যাচাই শেষে ১৩৩টি আবেদন বাতিল করা হয়, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা তাঁদের বর্তমান শ্রেণির নির্ধারিত প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করেছিলেন।

    প্রযুক্তির লক্ষ্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করা

    ইউপিএসসি-র চেয়ারম্যান অজয় কুমার বলেন, “প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। এ বছর UPSC প্রিলিমসের আবেদন পর্যায়েই ডি-ডুপ্লিকেশন প্রক্রিয়া চালিয়েছে, যাতে প্রকৃত প্রার্থীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায় এবং জাল বা একাধিক আবেদন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউপিএসসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং প্রযুক্তি সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি।”

  • Emergency History: জরুরি অবস্থা নিয়ে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অধ্যায়, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরল এনসিইআরটি

    Emergency History: জরুরি অবস্থা নিয়ে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অধ্যায়, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরল এনসিইআরটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় পাঁচ দশক আগে ভারতে জারি হওয়া জরুরি অবস্থা নিয়ে প্রথমবারের মতো নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করল ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। নতুন সোশ্যাল সায়েন্স বই ‘Understanding Society: India and Beyond’-এ জরুরি অবস্থাকে ভারতীয় গণতন্ত্রের সামনে আসা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে উল্লেখ (Emergency History) করা হয়েছে, ওই সময় দেশের অধিকাংশ মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) স্থগিত করা হয়েছিল এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এনসিইআরটির এক আধিকারিক জানান, নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে এই প্রথম জরুরি অবস্থা নিয়ে আলাদা অংশ যুক্ত করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫০ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে এই অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

    জরুরি অবস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর প্রভাব (Emergency History)

    নতুন পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশে বলা হয়েছে, “ভারতে গণতন্ত্রের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময়। ১৯৭০-এর গোড়ার দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল। বেকারত্ব বৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় তুমুল বিক্ষোভ দেখা দেয়।” বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা’র কারণ দেখিয়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এই সময় অধিকাংশ মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয় এবং বহু রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি তীব্র চাপে পড়ে এবং নাগরিক স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

    জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন

    পাঠ্যবইয়ে (NCERT) জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ। তাঁর (Jayaprakash Narayan) ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘লোকনায়ক’ নামে পরিচিত এই সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক নেতা ছাত্র-যুব এবং সাধারণ নাগরিকদের সংগঠিত করেছিলেন। বিশেষ করে বিহার ও গুজরাটে তাঁর নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয় এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়। সেই নির্বাচনে তৎকালীন শাসক দলের পরাজয় ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের মতামতের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (Emergency History)।

    গণতন্ত্রের সামনে অন্যান্য চ্যালেঞ্জও আলোচনায়

    জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গটি বৃহত্তর একটি অধ্যায়ের অংশ, যেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে ভুয়ো খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, জননিয়ম লঙ্ঘন, দারিদ্র্য, আঞ্চলিকতাবাদ, সামাজিক বৈষম্য এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে গণতান্ত্রিক চর্চার সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    নতুন বিভাগ

    নয়া সংস্করণের বইয়ে প্রথমবারের মতো ‘ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইউ’ (Democracy and You) নামে একটি বিশেষ বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। এনসিইআরটির মতে, এই অংশের লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠের সঙ্গে বাস্তব জীবনের নাগরিক দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সম্পর্ক বোঝানো। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারবে।

    গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ওপর জোর

    সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে ভারতের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চার উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে, কীভাবে সেই ঐতিহ্য বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত (Emergency History)। এছাড়া গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে একটি পৃথক অধ্যায়ও রাখা হয়েছে। সেখানে সংবাদমাধ্যমকে ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ (Fourth Pillar of Democracy) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। জনসাধারণের সমস্যাকে সামনে আনা, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে (NCERT)।

    বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের পরিসংখ্যান

    ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যাপ্তি বোঝাতে বইটিতে বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৬.৮ কোটিরও বেশি। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামোর কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্র ও নারীদের অংশগ্রহণ

    পাঠ্যবইয়ের এই অধ্যায়ে তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্রের বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও কয়েকটি কেস স্টাডি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুজরাটের একটি পঞ্চায়েত এবং ত্রিপুরার মহিলা-বান্ধব পঞ্চায়েতের উদাহরণের মাধ্যমে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে (Emergency History)। এছাড়া নারীদের ভোটাধিকার, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিতে সংরক্ষণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়েও একটি পৃথক অংশ রাখা হয়েছে (NCERT)। এর মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে (Emergency History)।

  • Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চারদিনের প্রতীক্ষার অবসান। অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর শুক্রবার ভোর থেকে পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল অসমের অন্যতম শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার। এদিন ভোরে দেবীর নিত্যপুজো সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই সাধারণ ভক্তদের দর্শনের জন্য মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নীলাচল পাহাড়ে শুরু হয় দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়।

    অম্বুবাচী মহাযোগের নিবৃত্তি

    গত ২২ জুন রাত ৯টা ৮ মিনিট ২২ সেকেন্ডে অম্বুবাচী মহাযোগের সূচনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী টানা তিন দিন, অর্থাৎ ২৫ জুন পর্যন্ত মন্দিরে সাধারণ দর্শন ও পুজো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। ২৫ জুন রাতে অম্বুবাচীর নিবৃত্তির পর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান এবং নিত্যপূজা সম্পন্ন করে শুক্রবার সকাল থেকে আবার ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

    নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

    অম্বুবাচী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের ঢল নামে। অসমের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা রাজ্য এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য সাধু-সন্ন্যাসী, তপস্বী, অঘোরী, সন্ন্যাসী ও সাধারণ ভক্ত মা কামাখ্যার আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মন্দিরে প্রবেশের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় হাজার হাজার পুণ্যার্থীকে। এই সময় নীলাচল পাহাড় কার্যত এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাধু-সন্ন্যাসীদের বিচিত্র বেশভূষা, ধর্মীয় আচার এবং ভক্তদের ভিড় উৎসবের আবহকে আরও গাঢ় করে তোলে।

    কেন চারদিন বন্ধ থাকে কামাখ্যা মন্দির?

    হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচীর সময় ধরিত্রী বা বসুমতী রজস্বলা হন। সেই বিশ্বাসের কারণেই এই কয়েকদিন কামাখ্যা মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং দেবীর নিয়মিত পূজাও স্থগিত থাকে। শুধু কামাখ্যা মন্দিরই নয়, অসমের বহু মঠ, মন্দির এবং নামঘরেও এই সময় পূজা-অর্চনা করা হয় না। কৃষিকাজের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিধিনিষেধ। হালচাষ, জমি কোপানো বা মাটি খোঁড়ার মতো কাজ এই কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয়। অসমের বহু মানুষ এই সময়কে ‘সাত’ বা ‘আমতি’ হিসেবে পালন করেন। অম্বুবাচীর নিবৃত্তির দিন বাড়িঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া এবং শুচিতা পালনের পরেই আবার মন্দির ও নামঘরে নিয়মিত পূজা শুরু হয়।

    আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের বিশেষ বিশ্বাস

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচী মহাযোগের সময় মা কামাখ্যার আরাধনা করলে বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তি এবং দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। সেই কারণেই প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই সময় কামাখ্যা ধামে এসে উপস্থিত হন। শক্তি উপাসকদের কাছে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।

    রাজ্যপালের শুভেচ্ছা

    কামাখ্যা মন্দির পরিদর্শন করে অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য বলেন, “এই শুভ অনুষ্ঠানের উপলক্ষে আমি রাজ্যবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে লক্ষ লক্ষ মানুষ মা কামাখ্যার দর্শনে এসেছেন এবং তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য অত্যন্ত সুসংগঠিত ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তা

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “পবিত্র অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর আজ পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে গেল মা কামাখ্যা ধামের পবিত্র দ্বার। নীলাচল পাহাড়ে আবার অনুভূত হল আদ্যাশক্তির অপরিসীম মহিমা ও আধ্যাত্মিক শক্তির স্পন্দন। এই শুভক্ষণে মা কামাখ্যার শ্রীচরণে সকলের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি। কামাখ্যা ধাম অসমের ঐতিহ্যে নারীশক্তির কেন্দ্রীয় প্রতীক। গত কয়েকদিনে ৮ লক্ষেরও বেশি ভক্ত এই অনন্য ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন।”

    ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও ভক্তির এক মহামিলন

    অম্বুবাচী মহাযোগ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি অসমের সংস্কৃতি, শাক্ত উপাসনা এবং নারীশক্তির প্রতীকী উদযাপন হিসেবেও বিবেচিত হয়। প্রতিবছরের মতো এ বছরও লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে নীলাচল পাহাড় সাক্ষী থাকল এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহের। মন্দিরের দ্বার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের প্রার্থনা, আরতি এবং ‘জয় মা কামাখ্যা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা কামাখ্যা ধাম।

  • ABHIGYAN App: মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে অপরাধী শনাক্তকরণে ভারতের নতুন ডিজিটাল অস্ত্র ‘অভিজ্ঞান’

    ABHIGYAN App: মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে অপরাধী শনাক্তকরণে ভারতের নতুন ডিজিটাল অস্ত্র ‘অভিজ্ঞান’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করল ভারত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) সম্প্রতি চালু করেছেন অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) নামের একটি অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপ, যা মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি ভারতের পুলিশি তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং আধুনিক করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অপরাধ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য পেতে সাহায্য করবে। এটি শুধু তদন্তের গতিই বাড়াবে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে উন্নততর সমন্বয় সাধনেও সাহায্য করবে।

    অভিজ্ঞান অ্যাপ কী?

    অভিজ্ঞা(ABHIGYAN App)  হলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করার জন্য নির্মিত একটি উন্নত ডেটা-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো অপরাধ-সম্পর্কিত তথ্যের একটি একক উৎস প্রদান করা। আগে বিভিন্ন বিভাগ ও ডেটাবেসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্য খুঁজে বের করতে অনেক সময় লাগত, কিন্তু এখন অভিজ্ঞানের মাধ্যমে এই তথ্য সহজেই এক জায়গা থেকে পাওয়া যাবে। এই প্ল্যাটফর্মটি আঙুলের ছাপের রেকর্ড, অপরাধীদের প্রোফাইল, মানব পাচার নেটওয়ার্ক এবং অপরাধ-সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে। এই অ্যাপটি তদন্তকারীদের দ্রুত মামলাটি সমাধানে সাহায্য করার জন্য বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণও করে। এই অ্যাপটির ডেমোতে দেখানো হয়েছে যে, মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে ডাটাবেসের সাথে আঙুলের ছাপ মেলানো যায়।

    ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণে বড় অগ্রগতি

    অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) অ্যাপটি দেশের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে একটি বিশাল জাতীয় বায়োমেট্রিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বর্তমানে এই ডেটাবেসে ১.২৯ কোটিরও বেশি ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষিত রয়েছে। এর ফলে আগে যেখানে কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় যাচাই করতে কয়েক দিন সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ৩৫ সেকেন্ডেই সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এই অ্যাপটি সরাসরি যুক্ত রয়েছে ন্যাশনাল অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের (National Automated Fingerprint Identification System বা NAFIS) সঙ্গে। এনএএফআইএস দেশের স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। পুলিশ স্টেশন কিংবা প্রথম পর্যায়ে কোনো ব্যক্তির আঙুলের ছাপ স্ক্যান করা হলে, অভিজ্ঞান তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য পরিচয় খুঁজে বের করে। ফলে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন হয় না।

    অ্যাপের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য

    • ● মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে শনাক্তকরণ
    • ● জাতীয় অপরাধ তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ
    • ● নতুন বায়োমেট্রিক তথ্য যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটাবেস সম্প্রসারণ
    • ● গ্রাউন্ড লেভেল থেকেই তদন্ত ও পুলিশি কাজে সহায়তা
    • ● ম্যানুয়াল যাচাইয়ের উপর নির্ভরতা কমানো

    তদন্তে গতি ও নির্ভুলতা বাড়বে

    দ্রুতগতিতে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। প্রতারকরা মানুষকে টার্গেট করতে নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে স্ক্যাম করছে। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা এবং মানব পাচার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে, অপরাধ নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়াটি এত দীর্ঘ সময় নেয় যে অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দেশজুড়ে পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি পেতে চলেছে যা তাদের কাজকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করে দেবে। সরকারি সূত্রের দাবি, অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) অ্যাপ চালুর ফলে পুনরাবৃত্ত অপরাধী এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে তদন্তের গতি যেমন বাড়বে, তেমনি প্রমাণ সংগ্রহ ও মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।

    রাস্তায় দাঁড়িয়েই অপরাধী শনাক্তকরণ

    অভিজ্ঞান অ্যাপের (ABHIGYAN App) সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। কোনও সন্দেহভাজন তথ্য বা একটি মামলা সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে বের করার জন্য তদন্তকারীদের বিভিন্ন রেকর্ড ঘাঁটতে হবে না, এখান থেকেই সব পাবেন। এই একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে, তাঁরা দ্রুত সেই কেসটি শনাক্ত করতে পারবেন। এছাড়াও, এই প্ল্যাটফর্মটি অপরাধের ধরন বুঝতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে অপরাধ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকা বা কার্যকলাপ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এর ফলে পুলিশ আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই অ্যাপটির সাহায্যে পুলিশ রাস্তায়ও যেকোনো সন্দেহভাজনের বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করতে পারবে, ফলে পলাতক অপরাধীদের ধরতে আরও সহজ হবে।

    প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের দিকে ভারত

    বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলি ক্রমশ বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। সেই ধারায় ভারতও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল রেকর্ড ও সময়সাপেক্ষ ফরেনসিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল পুলিশি ব্যবস্থা এখন রিয়েল-টাইম ডিজিটাল শনাক্তকরণের যুগে প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অ্যাপ শুধু তদন্তের সাফল্যের হারই বাড়াবে না, বরং দ্রুত পরিচয় যাচাইয়ের কারণে অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডেটাবেস, অটোমেশন এবং মোবাইল প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি অভিজ্ঞান ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • West Bengal BJP: ট্রামের ‘পুনর্জন্ম’ কলকাতায়, অত্যাধুনিক বিদেশি মডেলে গড়াবে ঐতিহ্যের চাকা!

    West Bengal BJP: ট্রামের ‘পুনর্জন্ম’ কলকাতায়, অত্যাধুনিক বিদেশি মডেলে গড়াবে ঐতিহ্যের চাকা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নব কলেবরে ফিরতে চলছে কলকাতার ঐতিহাসিক ট্রাম পরিষেবা (Kolkata Tram)। অন্তত এমনই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার (West Bengal BJP)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নেওয়া ট্রাম পরিষেবা প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে এবার আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ট্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এশিয়ার প্রাচীনতম চলমান ট্রাম নেটওয়ার্ককে শুধুমাত্র ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর গণপরিবহণ ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে।

    তৃণমূল জমানায় ট্রামের কফিনে শেষ পেরেক (West Bengal BJP)

    উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে কলকাতার ট্রাম পরিষেবা সঙ্কুচিত করা হয়েছিল। একের পর এক রুট বন্ধ হওয়া, একাধিক ট্রাম ডিপোকে বাস ডিপোয় রূপান্তর, বিভিন্ন সেতুতে ট্রাম চলাচলে নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে একসময় শহরের বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে থাকা ট্রাম নেটওয়ার্ক সীমিত হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে তৎকালীন তৃণমূল সরকার কার্যত অধিকাংশ ট্রাম পরিষেবা বন্ধ করে শুধুমাত্র ময়দান-এসপ্ল্যানেডের একটি ছোট ঐতিহ্যবাহী রুট পর্যটনের উদ্দেশ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন পরিবহণ দফতরের যুক্তি ছিল, কলকাতার ব্যস্ত ও সংকীর্ণ রাস্তায় ধীরগতির ট্রাম যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি মূল্যবান ডিপো জমি অন্য কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে ওঠে। ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মী, পরিবেশবিদ, নাগরিক সংগঠন এবং বহু নিয়মিত যাত্রী ট্রাম বন্ধের বিরোধিতায় সোচ্চার হন। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। আদালত ট্রাম পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি পরামর্শদাতা কমিটিও গঠন করে এবং ট্র্যাক সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। এমনকি বিটুমিনের নীচে চাপা পড়ে যাওয়া ট্রামলাইন পুনরুদ্ধারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

    ছবি বদলাচ্ছে বিজেপির আমলে

    নয়া বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে ট্রাম পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং জানান, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ব্যবহৃত আধুনিক ট্রামের আদলে কলকাতায় নতুন প্রজন্মের ট্রাম চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই কিছু প্রস্তাব এসেছে এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (Kolkata Tram)। পরিবহণ দফতরের মতে, দীর্ঘদিন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ডিপোয় পড়ে থাকা পুরানো ট্রামগুলির অধিকাংশই প্রায় অচল হয়ে গিয়েছে। সেগুলি সংস্কার করতে হলে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। পরিষেবাও তেমন মিলবে না। তাই বিদেশ থেকে হালকা, শক্তি-সাশ্রয়ী এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ট্রাম আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে (West Bengal BJP)। সরকারি সূত্রে খবর, নতুন ট্রামগুলিতে উন্নতমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক যাত্রীসুবিধা এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি থাকবে। শুধু তাই নয়, এগুলি বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থার সঙ্গে পাল্লাও দিতে পারবে।

    পদ্ম সরকারের পরিকল্পনা

    বর্তমানে কলকাতায় মাত্র দু’টি রুটে ট্রাম চলাচল করছে—এসপ্ল্যানেড থেকে শ্যামবাজার এবং এসপ্ল্যানেড থেকে গড়িয়াহাট। ভবিষ্যতে কোন কোন রুট ফের চালু করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষাও করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক এসপ্ল্যানেড-খিদিরপুর রুটকে। ময়দানের সবুজ পরিবেশ ঘেঁষে চলা এই রুট বহু বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। এছাড়া ট্রামলাইন, ডিপো এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কলকাতা মেট্রোর সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বহুমুখী গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের মতে, এতে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে, এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে।

    ‘চলন্তিকা’ ফেরাতে বিজেপি সরকারের উদ্যোগ

    ১৮৭৩ সালে যাত্রা শুরু করা কলকাতার ট্রাম পরিষেবা ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় এটি ছিল কলকাতার অন্যতম প্রধান গণপরিবহণ ব্যবস্থা। নয়া উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যৎমুখী পরিবহণ ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্যের পালাবদলের সরকার (West Bengal BJP)।

    ট্রামওয়েজ ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির বক্তব্য

    অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী, ট্রাম অনুরাগী তথা কলকাতা ট্রামওয়েজ ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস ভট্টাচার্য এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “নাগরিকদের সর্বসম্মত অভিমত হল, কলকাতা ট্রামওয়েজের অন্তর্ঘাতের কাহিনি দুর্নীতি থেকেই শুরু হয়েছিল এবং সেখানেই শেষ হয়েছে। ট্রাম ডিপোগুলি বিশাল এবং সেগুলি রয়েছে শহরের প্রধান রাস্তাগুলির পাশে, গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে। ব্রিটিশরা মূলত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ট্রাম ব্যবস্থার সম্প্রসারণের জন্য বিশাল পরিমাণ জমি কিনেছিল।” তিনি জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টও বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, ট্রাম ডিপোগুলিতে (Kolkata Tram) কেন বহুতল ভবন রয়েছে? শহর পরিকল্পনাবিদরা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, একবার জমি বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে রেললাইনের পাশে ট্রাম ডিপো পুনর্নির্মাণের আর কোনও সুযোগ থাকবে না।

    কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    বছর তিনেক আগে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম পরিষেবা (West Bengal BJP) এবং তার সঙ্গে জড়িত সম্পত্তি রক্ষার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ট্রামডিপো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়েছিলেন। শহরের এই ঐতিহ্যবাহী পরিবহণ ব্যবস্থা সংরক্ষণে জোর দিয়ে ট্রামওয়েজের জমি এবং সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও জারি করেছিল আদালত। উল্লেখ্য, হাইকোর্টে মামলাটি দায়ের করেছিলেন জনৈক সুলগ্না মুখোপাধ্যায়। আরটিআইয়ের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ট্রামওয়েজের একাধিক জমি ও সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। তার পরেই তিনি দ্বারস্থ হন হাইকোর্টের। আদালত জানিয়েছিল, সরকারি জমি বিক্রির আগে নিশ্চিত করতে হবে যে তা সরকারি কাজ বা সাধারণ মানুষের কোনও প্রয়োজনেই আর ব্যবহারযোগ্য নয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছিল আদালত। ট্রামওয়েজের জমি যখন বেসরকারি সংস্থাকে বিক্রি করা হয়েছিল, তখন কেউ কেন প্রতিবাদ করেননি, সেই প্রশ্নও তুলেছিল হাইকোর্ট।

    আদালতের সেই পর্যবেক্ষণের পরে (Kolkata Tram)ও, তৃণমূলের রাজত্বে দৈন্যদশা ঘোচেনি ট্রামের। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই পরিসর ছোট হয়ে এসেছিল শহর কলকাতার এই পরিবেশ বান্ধব যানের। রাজ্যে পালাবদল হতেই ফের স্বমহিমায় ফিরতে চলছে (West Bengal BJP) ট্রাম।

    আজ্ঞে হ্যাঁ, নব কলেবরে!

     

  • Superfoods for Children: দিনভর পড়াশোনা, টিউশন, খেলাধুলা! ক্লান্তি দূর করে স্কুলপড়ুয়াদের এনার্জি বাড়াবে এই ৭ সুপারফুড

    Superfoods for Children: দিনভর পড়াশোনা, টিউশন, খেলাধুলা! ক্লান্তি দূর করে স্কুলপড়ুয়াদের এনার্জি বাড়াবে এই ৭ সুপারফুড

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভোর থেকে রাত, দিনভর থাকে নানান কাজ! পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, গান শেখা কিংবা সাঁতার-ক্যারাটের মতো খেলা চলে। একদম রুটিন মেনে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ক্লান্তি। শরীর ও মনে এর গভীর প্রভাব পড়ছে। তাই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্কুল পড়ুয়াদের বাড়তি যত্ন জরুরি। বিশেষত তাদের খাবারের দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্কুল পড়ুয়াদের শারীরিক বিকাশে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাদের ঠিকমতো শারীরিক বিকাশ না হলে পরবর্তীতে একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্যেও গভীর প্রভাব পড়ে। মনঃসংযোগ নষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি স্মৃতিশক্তিতেও প্রভাব ফেলে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের পাতে নিয়মিত এমন কিছু খাবার থাকা জরুরি, যাতে তাদের শরীর ও মন ভালো থাকে। দিনভরের ধকল নিতে সক্ষম হয়।

    কোন খাবারে ভরসা রাখছেন পুষ্টিবিদেরা?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর পাতে এমন খাবার দিতে হবে, যা সহজেই হজম হবে। কিন্তু তার পুষ্টিগুণ পর্যাপ্ত থাকবে। এমন একাধিক সব্জি এবং ফল নিয়মিত শিশুকে দেওয়া যেতে পারে, যাতে তার শরীরের সমস্ত চাহিদা পূরণ হয়।

    পালং শাক!

    পুষ্টিকর সব্জির তালিকায় প্রথমেই থাকছে পালং শাক। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, পালং শাক সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাওয়া উচিত। পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন কে সহ একাধিক ভিটামিন। ভারতের অসংখ্য শিশু আয়রনের অভাবে ভোগে। আয়রনের ঘাটতি শিশুর ক্লান্তি বোধ বাড়িয়ে দেয়। রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। এছাড়া ভিটামিন শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ জরুরি। তাই পালং শাকের মতো ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

    গাজর!

    স্কুল পড়ুয়াদের পাতে নিয়মিত গাজর থাকা প্রয়োজন বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ শিশুর দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। চোখ ভালো রাখতে গাজর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত সব্জি হিসাবে কিংবা স্যালাডের সঙ্গে গাজর খাওয়া যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গাজর বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ একটি সব্জি। তাই গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমতে পারে।

    ফুলকপি এবং মিষ্টি আলু!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, মজবুত পেশি এবং স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।‌ ভিটামিন, আয়রনের পাশপাশি শিশুর পাতে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যাতে থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাই ফুলকপি এবং মিষ্টি আলুর মতো সব্জি নিয়মিত শিশুকে খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুলকপি এবং মিষ্টি আলু ভিটামিন এ, সি, কে এবং ফাইবার সমৃদ্ধ দুটো সব্জি। তাই এগুলো নিয়মিত খেলে অন্ত্র, লিভার ভালো থাকবে। আবার পেশি ও স্নায়ুর সচলতা বাড়বে। পাশপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। ফলে শিশুর সহজে ক্লান্তিবোধ হবে না।

    পেয়ারা, কলা, আমের মতো ফলে বাড়বে খেলাধুলার এনার্জি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশুই সাঁতার, ক্রিকেট কিংবা ক্যারাটের মতো নানান ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধূলা চালানোর জন্য বাড়তি এনার্জি জরুরি। শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দিলে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়বে। মনে রাখার ক্ষমতা কমবে। তার সঙ্গে দক্ষতাও কমবে। ফলে শিশুর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের যাতে বাড়তি এনার্জি পাওয়া যায়, এমন কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, পেয়ারা, কলা এবং আমের মতো ফল নিয়মিত খেলে সহজেই বাড়তি এনার্জি পাওয়া যেতে পারে। কলা কার্বোহাইড্রেট এবং পটাশিয়ামের জোগান দেয়। পেয়ারার থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি। আম কার্বোহাইড্রেটের পাশপাশি ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ফল। তাই এই তিন ফলের মধ্যে যেকোনো একটা ফল নিয়মিত খেলেই শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দেবে না।

    কেন সব্জি ও ফলে বাড়তি গুরুত্ব?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অন্যতম বড় সমস্যা স্থুলতা। বিশেষত শিশুদের অতিরিক্ত ওজন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। শিশুদের ওবেসিটির হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর তাই সুস্থ দীর্ঘ জীবন‌ যাপনের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। শিশুদের নিয়মিত এমন কিছু খাবার দেওয়া প্রয়োজন, যা মেদ তৈরি করবে না। বরং পুষ্টির জোগান দেবে। অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া বিশেষত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার জেরেই স্থূলতার সমস্যা বাড়ছে। প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার প্রবণতাই শিশুর সুস্থ জীবনের পরিপন্থী হয়ে উঠছে। তাই প্রোটিনের পাশপাশি শিশুর ভিটামিন, ফাইবার, আয়রন এবং পটাশিয়ামের মতো উপাদানের চাহিদা মিটছে কিনা সেদিকে নজর রাখাও জরুরি।‌ কারণ সেগুলোর ঘাটতি হলে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব নয়। আর তাই ভরসা রামধনু মেনুতে। অর্থাৎ, প্রতিদিন খাবারে নানান রঙের সব্জি থাকবে‌। অর্থাৎ , ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে গাজর, বিট, পালং শাক, কুমড়ো, পটলের মতো নানান রঙের সব্জি থাকবে। যাতে শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়। তবেই সুস্থ দীর্ঘ জীবন সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • India Reopens Tourist Visas: বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু

    India Reopens Tourist Visas: বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ফের পর্যটন ভিসা (India Reopens Tourist Visas) চালুর কথা ঘোষণা করল ভারত। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশে (Bangladeshi Citizens) ভারতের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী এই খবর জানান। তিনি বলেন, “২৮ জুন, রবিবার থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হবে।” রাষ্ট্রদূত জানান, ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও স্বাভাবিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশিরা আবারও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে ভ্রমণ করতে পারবেন।

    বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা (India Reopens Tourist Visas)

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা দেওয়া হচ্ছিল। এবার সেই বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যটন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া ফের চালু করা হচ্ছে।দীনেশ জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন নেওয়া হবে। তিনি এও জানান, বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় সফরের সময় ভিসা সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও যাতায়াত অনায়াস করতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ

    এদিন দুপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ। এই সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন (India Reopens Tourist Visas)। গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার দীনেশকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তিনি ভারতের প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দীনেশ কংগ্রেস, জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলতি মাসে স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, “ভারত ও বাংলাদেশ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের সহযোগিতা আরও (Bangladeshi Citizens) জোরদার হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।” উল্লেখ্য, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন (India Reopens Tourist Visas) দীনেশ।

     

  • US: হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মার্কিন কংগ্রেসম্যান স্যানফোর্ড বিশপের

    US: হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মার্কিন কংগ্রেসম্যান স্যানফোর্ড বিশপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমাদের হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে”। ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের উদ্দেশে এমনই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মার্কিন (US) কংগ্রেসম্যান স্ট্যানফোর্ড বিশপ (Sanford Bishop)। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ধর্মীয় বিদ্বেষ ও হিন্দু-বিরোধী মনোভাবের তীব্র নিন্দা করেন (Georgia Anti Hindu Resolution), এবং এই ধরনের ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ড রোধে আরও বেশি সতর্কতা ও ঐক্যের আহ্বান জানান।

    ভারতীয়দের অসামান্য অবদান (US)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়-আমেরিকানদের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন বিশপ। বলেন, “এই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, সম্মান জানানো এবং মূল্যায়ন করা উচিত। ঘৃণা ও হিংসা ছড়ানোর পরিবর্তে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালনকারী এই সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।” বিশপ জানান, হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি—এই দুই বিষয় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাঁর মতে, আমেরিকায় হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্য, বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং ঘৃণাজনিত অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছে।

    হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ডাক

    ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কড়া সমালোচনাও করেন তিনি। জানান, তাঁর নিজের রাজ্য জর্জিয়া হিন্দু-বিরোধী অপরাধ এবং বিদ্বেষ মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এর পরেই ওই মার্কিন কংগ্রেসম্যান বলেন, “আমাদের হিন্দুফোবিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে”। স্ট্যানফোর্ডের এহেন মন্তব্যে উপস্থিত ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বছরে আমেরিকায় হিন্দুদের মৌখিক আক্রমণ, অবমাননাকর মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হয়রানি এবং হিন্দুদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচারের ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন সংগঠনের দাবি। এর পাশাপাশি মন্দির ও অন্যান্য হিন্দু উপাসনালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভারতীয়-আমেরিকানদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো হুমকির মুখোমুখিও হতে হচ্ছে, যদিও তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দক্ষ কর্মশক্তি এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ (US)।

    হিন্দুফোবিয়াকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জর্জিয়ার

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে জর্জিয়া হিন্দুফোবিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঘৃণাজনিত অপরাধ ও বৈষম্যের বিষয়টি রাজ্যের আইনগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে (Georgia Anti Hindu Resolution)। এই উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে Coalition of Hindus of North America। এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে আসছে। রাজ্যের গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি বিভিন্ন দফতর হিন্দুফোবিয়াজনিত বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক ঘটনার নথিভুক্তকরণ এবং তদন্তের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে। এই আইন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে কোয়ালিশন অব হিন্দুজ অব নর্থ আমেরিকা (CoHNA) জানিয়েছে, ‘সেনেট বিল ৩৭৫ শুধু ক্রমবর্ধমান হিন্দু-বিরোধী ঘৃণার প্রতিক্রিয়া নয়, এটি আমাদের সম্প্রদায় যে (Georgia Anti Hindu Resolution) এই দেশের অংশ, অবদানকারী এবং আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য—তারও একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি (US)।’

     

  • Kolkata Thunder Lightning: মুহূর্তে অন্ধকার শহর, তারপর তাণ্ডব! কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাতের নেপথ্যে কোন রহস্য?

    Kolkata Thunder Lightning: মুহূর্তে অন্ধকার শহর, তারপর তাণ্ডব! কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাতের নেপথ্যে কোন রহস্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সকাল থেকেই ছিল অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম। কিন্তু দুপুর গড়াতেই যেন আচমকা বদলে গেল প্রকৃতির মেজাজ। মুহূর্তের মধ্যে কালো মেঘে ঢেকে গেল আকাশ, তারপর শুরু হল ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বর্ষণ এবং একের পর এক বিকট শব্দে বজ্রপাত। বৃহস্পতিবারের কলকাতা যেন সাক্ষী থাকল প্রকৃতির এক বিরল ও রুদ্র রূপের। সাম্প্রতিক অতীতে এত ঘনঘন এবং এত তীব্র বজ্রপাতের অভিজ্ঞতা খুব কমই হয়েছে মহানগরবাসীর। আকাশ চিরে পরপর বিদ্যুতের ঝলকানি এবং কানফাটানো বজ্রধ্বনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু মানুষ। শহরের বহুতল আবাসন থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট— সর্বত্রই অনুভূত হয় বজ্রপাতের তীব্রতা।

    ঝড়-বৃষ্টিতে কার্যত থমকে শহর

    বৃহস্পতিবার দুপুরের এই আকস্মিক দুর্যোগে কলকাতার স্বাভাবিক জনজীবনে বড়সড় প্রভাব পড়ে। ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট, ময়দান, এসপ্ল্যানেড, কলকাতা হাইকোর্ট চত্বর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পরিবেশ। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসফেরত মানুষ, পথচারী ও নিত্যযাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হন। বহু এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। শুধু কলকাতাই নয়, এই ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে।

    কেন এত তীব্র বজ্রপাত? ব্যাখ্যা আবহাওয়া দফতরের

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে কাজ করছে একাধিক সক্রিয় আবহাওয়াজনিত সিস্টেম। বর্তমানে উত্তর বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। একই সময়ে রাজস্থান থেকে গাঙ্গেয় বঙ্গ পর্যন্ত মৌসুমী অক্ষরেখাও সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আবার বঙ্গোপসাগরের উপরও এই মরশুমের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় হয়েছে। এই সমস্ত আবহাওয়াগত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প এবং দিনের তাপমাত্রাজনিত অস্থিরতার ফলে দ্রুত তৈরি হচ্ছে বিশালাকার কিমিউলোনিম্বাস (Cumulonimbus) বা বজ্রগর্ভ মেঘ। এই মেঘ থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে প্রবল বজ্রঝড় এবং ঘনঘন বজ্রপাতের ঘটনা।

    কী সতর্কতা মেনে চলবেন?

    আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী—

    • ● বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, ছাদ বা গাছের নিচে দাঁড়াবেন না।
    • ● মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
    • ● বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন।
    • ● ঝড় শুরু হলে পাকা বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন।
    • ● অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।

    সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হলুদ সতর্কতা

    গত কয়েকদিন ধরে চলা দফায় দফায় বৃষ্টি এবং ঝড়ের কারণে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে আবহাওয়া দফতরের মতে, আপাত স্বস্তির মাঝেও দুর্যোগের আশঙ্কা এখনও কাটেনি। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই পরিস্থিতির জন্য জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা।

    বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে—

    • ● উত্তর ২৪ পরগনা
    • ● দক্ষিণ ২৪ পরগনা
    • ● পূর্ব বর্ধমান
    • ● পশ্চিম বর্ধমান
    • ● বীরভূম
    • ● মুর্শিদাবাদ
    • ● নদিয়া
    • ● পুরুলিয়া
    • ● বাঁকুড়া
    • ● ঝাড়গ্রাম
    • ● পূর্ব মেদিনীপুর

    এই জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে প্রবল বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

    উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক

    দক্ষিণবঙ্গে যেখানে মূল উদ্বেগ বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টি, সেখানে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে অতিভারী বৃষ্টির কারণে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় আগামী কয়েকদিনে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২০ সেন্টিমিটারও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস। অতিভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা, তোর্সা, বালাসন-সহ একাধিক পাহাড়ি নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জল জমা, নদী উপচে পড়া এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

    উত্তাল সমুদ্র, মৎস্যজীবীদের সতর্কবার্তা

    শুধু স্থলভাগ নয়, বঙ্গোপসাগরও বর্তমানে উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। উত্তর ওড়িশা উপকূল এবং পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ বন্দরে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের স্পষ্ট বার্তা, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির এই অস্থির আবহাওয়া বজায় থাকবে। ফলে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

LinkedIn
Share