Tag: PM Modi

PM Modi

  • PM Modi: “বিশ্বের প্রয়োজনীয় সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তোমাদেরই’’, তরুণ প্রজন্মকে বার্তা মোদির

    PM Modi: “বিশ্বের প্রয়োজনীয় সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তোমাদেরই’’, তরুণ প্রজন্মকে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মের প্রতি ফের বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বের যেসব সমাধান অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে, সেগুলি খুঁজে বের করার ক্ষমতা রয়েছে নবীন প্রজন্মের (Gen Z) হাতেই। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎকে বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার এবং বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখনই। তরুণদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, নির্ভয়ে নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে হবে, প্রচলিত চিন্তাধারার বাইরে গিয়ে ভাবতে হবে এবং নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

    চেন্নাইয়ের নন্দনবক্কমে চেন্নাই বাণিজ্য কেন্দ্রে জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিক উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নত ভারত গড়ে তোলার জন্য যে নতুন ভাবনা ও সমাধানের প্রয়োজন, তা শুধু ভারতের ভবিষ্যৎকেই রূপ দেবে না, গোটা বিশ্বের ভবিষ্যৎ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”

    তরুণদের সম্ভাবনার উপর আস্থা (PM Modi)

    তরুণদের সম্ভাবনার উপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ গোটা বিশ্ব বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজছে। সেই সমাধান দেওয়ার সম্ভাবনা তোমাদের রয়েছে। আমি চাই, প্রত্যেক তরুণ-তরুণী নিজেদের ভবিষ্যৎকে বৃহত্তর পরিসরে দেখুক। কারণ, এটাই তোমাদের সময়, এটাই তোমাদের সুযোগ।” নিজেকে কাশীর প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মহান তামিল কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতীর কথাও স্মরণ করেন। নির্ভীকভাবে জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা জোগানো এই কবির ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের কাছে আমার আবেদন, নিজেদের নির্ভীক হওয়ার সুযোগ দাও। নিজেদের ভাবনা নিয়ে কাজ কর। বড় স্বপ্ন দেখ, অন্যভাবে চিন্তা কর এবং নির্ভয়ে এগিয়ে চলো।” তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে আশাবাদী বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতে অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে। এটাই তোমাদের সময়, এটাই তোমাদের সুযোগ। আমরা একসঙ্গে এই কাজ করে দেখাব।”

    তরুণদের ক্ষোভের আবহে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা এমন একটা সময়ে এল, যখন দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে নেমেছে পড়ুয়া ও তরুণদের একাংশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রতিবাদ ক্রমশ জোরালো হয়েছে।

    শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে পুলিশ আটক করে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকাকে। মুম্বই থেকে তাঁদের বিমান দিল্লিতে অবতরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই আটক করা হয়। এর পাশাপাশি, প্রায় তিন হাজার মানুষকে আটক করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয় একাধিক মেট্রো স্টেশন ও পরিষেবা, পাশাপাশি থামিয়ে দেওয়া হয় স্থানীয় ট্রেন চলাচলও (PM Modi)।

    এই পরিস্থিতিতে বিশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, নিতান্ত প্রয়োজন না হলে সমস্ত ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারার প্রয়োগ প্রত্যাহারের বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে বলা হয়।

    তরুণদের অসন্তোষ কি বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপির?

    এর আগে চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়।

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে। বেকারত্ব, স্বচ্ছতার অভাব এবং বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়া নিয়ে তরুণদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে ক্রমশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

    তৃতীয় দফার (Gen Z) শাসনকালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তরুণ ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং তাঁদের প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা শাসকদলের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে তরুণদের স্বপ্ন, উদ্ভাবনী শক্তি ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ক্ষমতার উপর প্রধানমন্ত্রীর এই জোর দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (PM Modi)।

  • PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর সরকারের শীর্ষপদে থাকার যাত্রা। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও সেই দায়িত্ব অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর তাঁর এই ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা পূর্ণ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ভুটান, জাপান, ফিলিপিন্স, নাইজেরিয়া, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, ডোমিনিকা-সহ একাধিক দেশের নেতারা মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের বার্তায় ভারতের উন্নয়ন, সুশাসন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

    বিষ্ণুর অবতার বলে উল্লেখ ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে “আমাদের সময়ের এক অবতার” বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৯ সালে নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন তিনি। সেই সময় মোদিকে নিজের দাদা এবং ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দেখেন বলে জানিয়েছিলেন তোবগে।

    মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান, সহমর্মিতা এবং সাহস—একজন আলোকিত নেতার এই গুণগুলির সমন্বয় তিনি মোদির মধ্যে দেখতে পান। তাঁর মতে, ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্যের মাধ্যমে ভারতের সামনে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে (PM Modi)। তোবগে আরও বলেন, মোদির নেতৃত্বে ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের দেশ ও নিজেদের ক্ষমতার প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    কী বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ভারতের উন্নয়নে অবদানের জন্য গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

    তিনি বলেন, “বহু বছর ধরে আপনি ভারতীয় সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনি অসাধারণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন। ভারতের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে আপনার কৃতিত্বের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

    ভারত সফরের সময় উষ্ণ আতিথেয়তার জন্যও মোদিকে ধন্যবাদ জানান তাকাইচি। ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মোদির সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

    মোদির প্রশংসা ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্টেরও

    ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতৃত্ব পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার উল্লেখ করে মার্কোস বলেন, মোদির নেতৃত্বে সুশাসন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মার্কোসের মতে, এই বিষয়গুলি ভারতের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। নভেম্বরে আসিয়ান-ভারত এবং পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মণিলায় মোদিকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান (PM Modi) তিনি।

    ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’, বললেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

    নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু মোদির ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রাকে সত্যিই ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিনি বলেন, “একটানা ২৫ বছর নেতৃত্বে থাকা যে কোনও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেই বিরল কৃতিত্ব। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে এটি ভারতীয় জনগণের তাঁর প্রতি দীর্ঘস্থায়ী আস্থার একটি শক্তিশালী প্রমাণ।”

    তিনুবু আরও বলেন, এই ২৫ বছরে মোদি উন্নয়নের প্রতি অটুট দায়বদ্ধতা নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরিকাঠামো, ডিজিটাল পরিষেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভারত ও নাইজেরিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার কথাও জানান নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট।

    মোদি স্তুতি বতসোয়ানার প্রেসিডেন্টের

    বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট ডুমা গিডিয়ন বোকো প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতীয় জনগণের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও সেবার প্রশংসা (PM Modi) করেন।

    তিনি বলেন, “সরকারের শীর্ষে ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন। ভারতীয় জনগণের প্রতি আপনার নিষ্ঠা ও সেবার আমরা প্রশংসা করি। আগামী বছরগুলিতে আপনার সাফল্য কামনা করি এবং আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা রাখি।”

    ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট দে ভেভারও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি—সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছরের যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গত মাসে আমার ফলপ্রসূ ভারত সফরের পর দুই দেশের শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অপেক্ষায় রয়েছি।” নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও মোদিকে ২৫ বছরের জনসেবার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভারত সরকার ও মোদির আগামী দিনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

    মোদির জার্নি, গুজরাট থেকে ‘কর্তব্যপথ’

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নেন নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন তিনি গুজরাটের  মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর গুজরাটে টানা তিন দফা মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই সময় থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে টানা তৃতীয় মেয়াদ সম্পূর্ণ করার পথে রয়েছেন। ২৫ বছর পূর্তিতে পাওয়া শুভেচ্ছার জবাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নাইজেরিয়া, ভুটান, ফিলিপিন্স, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম এবং ডোমিনিকার নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন (PM Modi)।

     

  • PM Modi: ২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্প, ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রায় মোদি বললেন, “আমরা করবই”

    PM Modi: ২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্প, ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রায় মোদি বললেন, “আমরা করবই”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর অঙ্গীকার ফের স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বুধবার প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছরের যাত্রা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই তা অর্জন করব। আমরা করবই, আমরা করবই, আমরা করবই।” জাতীয় রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘সেবা জ্যোতি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোদি। তিনি বলেন, “আজ যখন পিছন ফিরে তাকাই, তখন শুধু কৃতজ্ঞতার অনুভূতিই জাগে। প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রত্যেক ঘটনা (Viksit Bharat) আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। আমি তাঁদের প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ।”

    অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা (PM Modi)

    নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যে আমাকে জয় এনে দিয়েছে, সে আমাকে বিনয়ী হতে শিখিয়েছে; যে আমাকে ফেলে দিয়েছে, সে আবার উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, আর সমালোচকরা নিজের ভিতরে আরও গভীরভাবে তাকাতে শিখিয়েছেন। যাঁরা আমাকে সমর্থন করেছেন, তাঁরা বিশ্বাসের শক্তি দেখিয়েছেন, আর যাঁরা বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা গণতন্ত্রের শক্তি বুঝতে সাহায্য করেছেন।”

    নিজেকে কখনও একা মনে হয়নি বলেও জানান মোদি। তিনি বলেন, “আমি কখনও অনুভব করিনি যে আমি একা। অসংখ্য স্বয়ংসেবক রয়েছেন, যাঁরা ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মার রক্ষক। তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য ভারতসেবা। তাঁরা এই চেতনা নিয়েই বাঁচেন এবং প্রতি মুহূর্তে নিজেদের মনে করিয়ে দেন—‘আমরা সেবক। আমরা মানবতার সেবক।’” দেশের প্রতি নিষ্ঠা ও কর্তব্যে অবিচল থাকা প্রত্যেক স্বয়ংসেবক ও কর্মীকে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ভূমিকম্প, চন্দ্রযান থেকে করোনা—অভিজ্ঞতাই দিয়েছে শিক্ষা

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ করে মোদি জানান, ২০০১ সালের ভুজ ভূমিকম্প তাঁকে পুনর্গঠনের কাজে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দিয়েছে। চন্দ্রযান অভিযান তাঁকে ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। করোনা মহামারি তাঁকে দেশের সম্মিলিত চেতনার গুরুত্ব উপলব্ধি করিয়েছে। সুখ-দুঃখ মেশানো অভিজ্ঞতার মধ্যেও এগিয়ে যেতে তাঁকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

    ভারতের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও নিজের শক্তির উৎস হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বেদ থেকে বিবেকানন্দ পর্যন্ত যে দেশ মহান চিন্তাকে ধারাবাহিকভাবে ধারণ করেছে, যে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হাজার হাজার বছর ধরে বিস্তৃত, যে দেশ মানবতার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করেছে—এমন একটি দেশের সেবা করার সময় আমি কখনও নিজেকে (Viksit Bharat) একা মনে করিনি।”

    তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের দিনটি শুধু অতীতের স্মৃতিচারণের দিন নয়, ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে সংকল্প নেওয়ার দিনও। তাঁর কথায়, “এই দিন সেই প্রতিশ্রুতি আবারও স্মরণ করার দিন। এই দিন সেই সংকল্প প্রকাশ করার দিন, যা বলে—‘আমরা অবশ্যই তা অর্জন করব।’ আমরা অর্জন করব, আমরা করবই (PM Modi), আমরা করবই, আমরা করবই।”

    পুষ্পবৃষ্টিতে মোদিকে স্বাগত

    ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র অংশ হিসেবে বিজেপি আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় যোগ দিতে পৌঁছনোর সময় মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দলের কর্মী-সমর্থকেরা। ফুল ছিটিয়ে, বিজেপির পতাকা হাতে এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘স্বাগত হ্যায়, ভাই স্বাগত হ্যায়; মোদি জি কা স্বাগত হ্যায়’ স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। মোদির আগমনের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে বহু মানুষকে মোবাইল ফোন বের করতেও দেখা যায়।

    সভায় বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশাসনের প্রধান হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “মানুষ আপনাকে আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, যাতে আপনি আগের মতোই একই নিষ্ঠার সঙ্গে দেশসেবা চালিয়ে যেতে পারেন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা আপনাকে ধারাবাহিকভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং সাফল্য কামনা করছি, যাতে আপনি বিকশিত ভারতের সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।”

    নিতিন নবীনের দাবি, গত ২৫ বছর ধরে মোদি নিজের জীবনকে প্রদীপের মতো জ্বালিয়ে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জীবনে উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। তিনি বলেন, “আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আপনার দীর্ঘ ও সফল জনজীবনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা জানাই।”

    সংগ্রাম থেকে প্রশাসনের শীর্ষে

    বিজেপির জাতীয় সভাপতি বলেন, “আজ সমস্ত ভারতীয় এবং বিজেপির সমস্ত কর্মীর কাছে একটি অবিস্মরণীয় দিন। আজ এমন এক ব্যক্তিত্বের ২৫ বছরের যাত্রার সাক্ষী থাকার দিন, যাঁর পথচলা সংগ্রামের মধ্যে শুরু হয়েছিল (PM Modi) এবং যিনি প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে এগিয়ে গিয়েছেন।”

    নবীনের বক্তব্য, তপস্যা, নিষ্ঠা (Viksit Bharat) ও সংকল্পের মাধ্যমে মোদি জনসেবাকেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁর কথায়, “তাঁর কাছে জনসেবা হয়ে উঠেছিল দেশসেবার পথ। সেই সংকল্প নিয়ে রাজনীতি ও ক্ষমতাকে সেবার মাধ্যম করে তিনি দেশসেবার পথে এগিয়ে গিয়েছেন।”

    প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যের উল্লেখ করে নবীন দাবি করেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের সামনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হওয়া ভারতের ইতিহাসে মোদিই প্রথম ব্যক্তি, এবং পরে জনগণ বিজেপিকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে তাঁকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে (PM Modi)।

    ২০০১-এ গুজরাট, ২০১৪-তে দিল্লি

    নরেন্দ্র মোদি ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেন। সেই সময় গুজরাট ভয়াবহ ভুজ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলাচ্ছিল। পাশাপাশি রাজ্যটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ছিল।

    ২০১৪ সাল পর্যন্ত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর জাতীয় রাজনীতিতে আসেন মোদি। তারপর তিন দফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক প্রস্তাবেও উল্লেখ করা হয়েছে (Viksit Bharat)। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথে ভারতের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে তাঁর (PM Modi) সরকার।

     

  • PM Modi: বুধে বাংলায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ২৩ জেলা সদরে বিশেষ আয়োজন বিজেপির

    PM Modi: বুধে বাংলায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ২৩ জেলা সদরে বিশেষ আয়োজন বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র সমাপ্তি কর্মসূচি হিসেবে ৭ অক্টোবর, বুধবার ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র আয়োজন করবে বিজেপি (PM Modi)। সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার সদর দফতরেও এই কর্মসূচি পালিত হবে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান (Seva Jyoti Yatra) রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ (PM Modi)

    বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রধান হিসেবে একটানা ২৫ বছরের কার্যকাল পূর্ণ হওয়ার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই কর্মসূচির আয়োজন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু হয়েছিল ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। ৭ অক্টোবর তার সমাপ্তি হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র মাধ্যমে। শমীক বলেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ৭ অক্টোবর সারা দেশে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার সদর দফতরে বিজেপি কর্মীদের উপস্থিতিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।”

    তিনি জানান, বিভিন্ন জেলা সদরে বড় পর্দায় সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য সম্প্রচার করা হবে। তাঁদের বক্তব্যের পর শুরু হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’। মশাল হাতে পদযাত্রায় অংশ নেবেন বিজেপি কর্মীরা।

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম বার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। টানা প্রায় ১৩ বছর ওই পদে থাকার পর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে রেখে ভোটে লড়ে বিজেপি। ওই নির্বাচনে প্রথম বার লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় পদ্মশিবির। এরপর টানা ১২ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নরেন্দ্র মোদি। ৭ অক্টোবর সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছরের কার্যকাল পূর্ণ হবে।

    বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন

    শমীক জানান, কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরেও একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। সেখানে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক সাফল্য, গুজরাটের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ২৫ বছরের জনসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে (PM Modi)।

    একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম ১০০ থেকে ১৪০ দিনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সাফল্যও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

    রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রাজনীতির প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন এসেছে এবং উন্নয়নকে রাজনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শমীক বলেন, “আজকের ধর্ম গণতন্ত্র এবং আজকের রাজনীতি উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজনীতির গতানুগতিক পরিভাষা বদলে উন্নয়নকে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত (Seva Jyoti Yatra) করেছেন।”

    তাঁর কথায়, “আজকের তরুণ প্রজন্ম আধুনিক জীবনযাত্রা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ চায়। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশাকেই বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন (PM Modi)।”

     

  • PM Modi: ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা, মোদির সঙ্গে বৈঠকে পারমেলিন

    PM Modi: ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা, মোদির সঙ্গে বৈঠকে পারমেলিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সুইজারল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক বিনিময়, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পরমাণু শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ-সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিস্তৃত (Trade AI Defence Cooperation) ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে দুই নেতা শান্তি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।

    কী বললেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র (PM Modi)

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হায়দরাবাদ হাউসে সুইস প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। দুই নেতা ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের সামগ্রিক দিক পর্যালোচনা করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক বিনিময় ও প্রতিরক্ষা উৎপাদন, পরমাণু শক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।”

    তিনি আরও জানান, “ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, দুই নেতা তা উল্লেখ করেন এবং উদ্ভাবননির্ভর অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।”

    বৈঠকে পরিবহণ, যাতায়াত ও পরিকাঠামো, অভিবাসন ও চলাচল এবং তরুণ পেশাজীবীদের নিয়ে নতুন কয়েকটি চুক্তির বিষয় উঠে আসে। স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণার নতুন উদ্যোগ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত ও সুইজারল্যান্ড।

    বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি, বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিষয়ক সচিব সিবি জর্জ-সহ অন্যান্য আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট পারমেলিন পরস্পরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এর আগে সোমবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গণে পারমেলিনকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।

    সুইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই সফর ভারত ও সুইজারল্যান্ড উভয় দেশ এই সম্পর্ককে যে গুরুত্ব দেয়, তা তুলে ধরার একটি চমৎকার সুযোগ।”

    ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্কের ভিত্তি যে অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের উপর গড়ে উঠেছে, তাও (PM Modi) উল্লেখ করেন তিনি।

    পারমেলিন বলেন, “আমার এই সফর আমাদের ঘনিষ্ঠ, বিস্তৃত এবং দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে আরও বৃদ্ধি, গভীর ও শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত ও সম্মানিত।”

    তিনি আরও বলেন, “বিশেষভাবে আমি আনন্দিত যে, ভারতে আমার এই সফরের মাধ্যমে ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের সুযোগ হচ্ছে।”

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে সোমবার ভারতে আসেন গাই পারমেলিন। তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভারত-সুইজারল্যান্ড সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে পারমেলিনের এটি (Trade AI Defence Cooperation) ভারতে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। তবে চলতি বছর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভারতে এলেন তিনি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভাব সম্মেলনে যোগ দিতে (PM Modi) ভারতে এসেছিলেন সুইস প্রেসিডেন্ট।

     

  • Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, সংঘাতের অবসান ঘটাতে মোদির কাছে ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে এবং তিনি উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদি নিয়মিতভাবে ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। পুতিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই বিশ্বনেতাদের একজন, যিনি আমাদের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। তবে রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের বিষয়টি নিয়মিতভাবে তিনি তুলে ধরেছেন।”

    সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী মোদি

    রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের (India Russia Relation) বিষয়ে মোদির গভীর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর মতে, পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কিছু ‘খুব ভালো ভাবনা’ রয়েছে। পুতিনের ভাষায়, মোদি এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে একইসঙ্গে সংঘাতের অবসানের ব্যাপারে তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট এ ধরনের উদ্যোগের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর তাঁর ইচ্ছার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

    সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর ভারতের

    ইউক্রেন সংঘাতের শুরু থেকেই ভারত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একাধিকবার বলেছেন, সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ। আগস্টে জাপানের সংবাদপত্র দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান ‘নীতিনিষ্ঠ ও মানবিক’। তাঁর দাবি, এই অবস্থান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। মোদি জানান, দুই নেতাই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত তার নীতিনিষ্ঠ ও ধারাবাহিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে।

    শান্তি প্রচেষ্টায় সহযোগিতার বার্তা

    ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন মোদি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশের সঙ্গেই ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দ্রুত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের বৈঠক হয়। সেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, পরিকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশ তাদের ‘প্রোগ্রাম ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করে।

    বরাবরই শান্তির পক্ষে ভারত

    চোখের বদলে চোখ উপড়ে নিলে একদিন গোটা পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে, মন্তব্য করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। একটানা চলা দুই যুদ্ধ— ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরানে কার্যত সেই অবস্থা! ভেঙে পড়ছে ভারত-সহ গোটা পৃথিবীর অর্থনীতি। এই অবস্থায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২ অক্টোবর গান্ধীর জন্মদিনে রুশ প্রেসিডেন্টের বার্তা, যুদ্ধের বদলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে মোদির কাছে “দুর্দান্ত কিছু ভাবনা” রয়েছে। গত মাসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করেন পুতিন। সেই সময় রুশ প্রেসিডেন্টের সামনেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ১১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মোদি বলেছিলেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। উল্লেখ্য, দুটি যুদ্ধ (ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরান) অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে, কদিন আগেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। নেপথ্যে জ্বালানি, সারের মতো জরুরি পণ্য সামগ্রী আমদানিতে বাঁধা। এই অবস্থায় যুদ্ধ থামাতে মরিয়া চিরকাল শান্তিপ্রিয় ভারত।

    রুশ প্রেসিডেন্টের শ্রদ্ধা

    রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে ভারত বরাবর নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও সংঘাতের প্রশ্নে কখনও কোনও এক পক্ষকে সমর্থন জানায়নি নয়াদিল্লি। ভারতের এই অবস্থানকে শ্রদ্ধা করে রাশিয়া, এবার তা নিজেই বুঝিয়ে দিলেন পুতিন। সেই সঙ্গে জানালেন, শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে মোদীর চেষ্টা এবং চিন্তাভাবনাগুলি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। মস্কোয় ভালদাই ফোরাম অফ ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়া এক্সপার্টের মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদীর প্রসঙ্গ টানেন পুতিন। বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী সেই রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে একজন, যিনি আমাদের মধ্যে খুব ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বার বার ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর বিষয়ে কথা বলেন এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।’’

     

     

     

     

     

  • PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা রুখে দেওয়া ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে কথা বলার সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন মচ্ছরের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় পরিস্থিতি অন্যরকম হলে শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই বিপন্ন হত না, ভারতীয় পাইলটদের নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারত। তাঁর মতে, মচ্ছরের সাহসিকতা কার্যত বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তিও রক্ষা করেছে।

    ‘কীভাবে দেখা হত ভারতীয় পাইলটদের, কে জানে’

    মচ্ছরের সঙ্গে কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যদি এটা না ঘটত, কে জানে ভারতকে কী কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত, ভারতীয় পাইলটদের কী কী সহ্য করতে হত এবং ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত। আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি অংশের তরফে এমন প্রশ্ন উঠেছিল—বিমানটি যদি শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনার শিকার হত, তাহলে কি পুরো ঘটনার দায় ভারতীয় ক্যাপ্টেনের উপর চাপত? প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ওই সামাজিক মাধ্যমের পোস্টগুলির উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তি নিয়ে যে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে, তা সেই বিতর্কের সঙ্গেই সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘ভারতীয়রা প্রাণ নেয় না, প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখে’

    মোদির কথায়, ‘‘দেশ গর্ব করে বলতে পারে, ভারতীয়রা এমন মানুষ নয় যারা প্রাণ নেয়। বরং অন্যদের বাঁচাতে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত।’’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মচ্ছরের ভূমিকার বৃহত্তর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কেবল একটি বিমানের ভিতরে হামলা প্রতিহত করার ঘটনা ছিল না। একজন ভারতীয় পাইলট হিসেবে মচ্ছর এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বিপন্ন করে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    কী হয়েছিল সেই বিমানে?

    ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ, ওমানি কো-পাইলট আচমকাই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। গুরুতর আঘাত পেয়েও মচ্ছর প্রতিরোধ চালিয়ে যান।

    পরিস্থিতি সামলাতে তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। এই পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই বা আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

    বিমানে ১৭০-রও বেশি যাত্রী ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে মচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আত্মসংযমই বড় বিপর্যয় ঠেকানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে তাঁর প্রশংসা করা হচ্ছে।

    ‘আমি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলাম’

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে ৩৯ বছর বয়সি দুই সন্তানের বাবা মচ্ছর জানান, হামলার সময় তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন। গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে ফের পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

    মচ্ছর প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘‘আমি এত আঘাত পেয়েছিলাম। কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম, আমাকে উঠতেই হবে এবং ব্যবস্থা নিতেই হবে। তা না হলে আমি মারা যেতাম।’’

    তাঁর এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, হামলার মুহূর্তে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল এবং নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি বিমানে থাকা অন্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বও তাঁকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছিল।

    কেন মোদির মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ?

    মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনের পর নতুন করে সামনে এসেছে সামাজিক মাধ্যমের সেই বিতর্ক। ঘটনার পর একাংশের পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বিমানটি যদি তেল আভিভে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে পড়ত, তাহলে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারত।

    কিছু পোস্টে এমনও দাবি করা হয়, কো-পাইলটের হামলা সফল হলে শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেনকেই বিমানটির পরিণতির জন্য দায়ী করা হত। তবে এগুলি সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের বক্তব্য; এগুলিকে কোনও সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না।

    প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যে এই পোস্টগুলির সত্যতা বা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগকে সমর্থন করেননি। বরং তিনি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটি অন্যভাবে ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত, তা বলা কঠিন।

    এয়ার ইন্ডিয়া এআই১৭১ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও কেন উঠছে?

    মোদির মন্তব্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তখন আলোচনা চলছিল।

    বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন প্রাণ হারান।

    দুর্ঘটনার প্রায় এক মাস পরে প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের পর বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ প্রায় একই সময়ে অন্য অবস্থানে চলে গিয়েছিল। সেই রিপোর্টে পাইলটদের উপর কোনও দায় চাপানো হয়নি।

    তবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের একটি সংক্ষিপ্ত অংশকে কেন্দ্র করে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটদের দায়ী করা হয়নি।

    দুই ঘটনার মধ্যে পার্থক্য কী?

    এআই১৭১ দুর্ঘটনা এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি এক নয়। একটি হল দুর্ঘটনা, অন্যটি হল বিমানের ভিতরে সম্ভাব্য হামলা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করার ঘটনা। তাই দুটির তদন্ত, পরিস্থিতি এবং দায় নির্ধারণের বিষয়ও আলাদা।

    তবে দুটির মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তৈরি হয়েছে—বিমান দুর্ঘটনা বা মাঝআকাশে গুরুতর বিপদের ক্ষেত্রে পাইলটের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং তদন্তের আগে সামাজিক মাধ্যমে কীভাবে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়ে।

    এই প্রেক্ষাপটেই মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তির প্রসঙ্গ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

    ‘শুধু বিমান নয়, আরও বড় কিছু বাঁচিয়েছেন’

    মচ্ছর বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি যে ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে সেই সাহসিকতার পাশাপাশি আরও একটি দিক সামনে এসেছে—বিপদের মুহূর্তে একজন ভারতীয় পাইলটের সিদ্ধান্ত শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই নির্ধারণ করতে পারে না, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর পেশাগত পরিচয় এবং বৃহত্তরভাবে ভারতীয় বিমানচালকদের ভাবমূর্তিও জড়িয়ে থাকতে পারে।

    মচ্ছরের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তের ফল হয়েছে জীবনরক্ষা। আর সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে বলেছেন, ‘‘আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    মচ্ছরের সাহসিকতা তাই এখন শুধু একটি বিমানকে সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার ঘটনা নয়; মাঝআকাশের সংকটময় মুহূর্তে পাইলটের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে জনপরিসরে তৈরি হওয়া বয়ান—সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

  • Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতে জ্বালানি পরিষেবার প্রসারের প্রশংসা করলেন অস্ট্রেলিয়ার (India Australia Relation) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ (Albanese Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, ভারতের যত মানুষ গত এক দশকে বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পরিষেবার আওতায় এসেছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত বড় পরিসরে এমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (UNGA) পার্শ্ববৈঠকে প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের সঙ্গে এক আলোচনায় এই মন্তব্য করেন আলবানিজ। ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই আলোচনায় মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি।

    উজ্জ্বলা থেকে সৌরবিদ্যুৎ—বেড়েছে জ্বালানি পরিষেবার পরিধি

    আলবানিজ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তাঁর নেতৃত্বে ভারতে যত মানুষ জ্বালানি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত মানুষকে এভাবে সংযুক্ত করার নজির নেই।” মূলত ভারতে বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারের প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের মধ্যে ১০.৫৭ কোটিরও বেশি এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে চালু হওয়া সৌভাগ্য যোজনা-র মাধ্যমে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২.৮৬ কোটি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা (PM Surya Ghar Muft Bijli Yojana)-র আওতায় ২০২৬ সালের আগস্টে উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। PM-KUSUM প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১.৭৭ লক্ষেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এই প্রকল্পের আওতায় সৌরচালিত কৃষি পাম্প-সহ বিভিন্ন বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো হচ্ছে।

    ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে, আলবানিজ

    আলোচনায় ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারত ভবিষ্যতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ। গত এক দশকে ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎসও বৈচিত্র্যময় করেছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১টি দেশ হয়েছে। এর ফলে কোনও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নানা ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি-এর সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়েছে ভারত।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত-অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা

    পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে অস্ট্রেলিয়াও ভারতকে এলএনজি সরবরাহ করেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

    ‘আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে’

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন আলবানিজ। তাঁর কথায়, দুই দেশের সম্পর্ক “ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে”। তবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। আলবানিজ জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দু’বার ভারত সফর করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিও দু’বার অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। মেলবোর্নের একটি স্টেডিয়ামে মোদিকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের কথাও স্মরণ করেন তিনি। হালকা মেজাজে আলবানিজ বলেন, কোনও রাজনৈতিক সম্মেলনে নেতাদের জন্য যতটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়, “মোদির স্টেডিয়াম অনুষ্ঠান না দেখলে সেই উচ্ছ্বাসের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন।” তিনি জানান, ডিসেম্বরে আমেরিকায় আয়োজিত নির্ধারিত জি২০ বৈঠকের পর তিনি মুম্বই সফর করবেন। সেখানে ব্যবসা-কেন্দ্রিক ‘গুড ডে নমস্তে’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরের শেষে চেন্নাইয়ে একটি ক্রিকেট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। রাজনীতি ও ক্রিকেটের বাইরেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের বিস্তৃত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন আলবানিজ। কমনওয়েলথের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ইংরেজি ভাষার যোগাযোগ এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলবানিজের কথায়, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের সম্ভাবনাকে এতদিন পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। আগামী দিনে দুই দেশের সরকারই এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।

  • Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Modi Trump Phone Call)। ৩০ সেপ্টেম্বর দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে টেলিফোনে এই কথোপকথন হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-এর তরফে জানানো হয়েছে, দুই নেতা ভারত-মার্কিন ‘বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive Global Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    ফোনালাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও ট্রাম্প। বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছি। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশলগত অংশীদারিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে আমরা একমত হয়েছি।’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেছি। যার মধ্যে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’’

    মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের তাৎপর্য

    বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পাশাপাশি, আলোচনায় এসেছে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও। ঘটনাচক্রে, ইরানের পড়শি দেশ ইরাক থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারপর্ব সাঙ্গ হওয়ার দিনেই মোদি ও ট্রাম্পের কথা হল। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাশ হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিল ট্রাম্প সরকার কার্যকর করলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে মোদির ফোন ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে (India-US Relation) দীর্ঘদিন ধরে একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সফরের সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ এখন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তবে বর্তমানে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে “মোটামুটি একটি বোঝাপড়া” তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং সেকশন ৩০১-এর প্রক্রিয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। মার্কিন বাণিজ্য নীতি ১৯৭১-এর সেকশন৩০১-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের এমন বাণিজ্যিক নীতি বা কার্যকলাপ তদন্ত করতে পারে, যেগুলিকে তারা অন্যায্য বলে মনে করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শুল্ক-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও এই ধারায় রয়েছে।

    রাশিয়া ও ইরান নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

    এদিকে রাশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া আইন (SRIA) নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। ওই আইনের আওতায় রাশিয়া এবং রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সুযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে আসতে পারে। ভারত ও চিনও সম্ভাব্যভাবে এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি বজায় রাখবে এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি সাম্প্রতিক কালে একাধিক মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ভারতীয় পক্ষের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

    বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারতের অবস্থান

    বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে এসআরআইএ-সংক্রান্ত ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কীভাবে পড়তে পারে, তা নিয়ে ভারতের অবস্থান প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে কঠিন বৈশ্বিক কূটনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে রয়েছে দেশ। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহী ভারত, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানির কেনার রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছে দিল্লি। ব্রিকস-এ জিনপিং আসার পর আন্তজার্তিক কূটনীতি কোন পথে এগোয় সেদিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। এই অবস্থায় মোদি-ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপ দুই দেশ তথা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

     

     

  • Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েও নিজের প্রাণের কথা না ভেবে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FlyDubai FZ1073) বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর জখম হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর ফলে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পান। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে থাকা ১৭৪ জনের প্রাণ রক্ষা পায়।

    এই অসাধারণ সাহসিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-সহ দেশের একাধিক শীর্ষ নেতা ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    মাচ্ছরের পরিবারের সঙ্গে কথা মোদির, দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনার আবেদন

    বৃহস্পতিবার ইউপিএসসির শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, তিনি ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের বাবা-মা এবং স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আহত পাইলটের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীকে প্রার্থনা করার আবেদনও জানান তিনি।

    মোদি বলেন, ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত নিজের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই ভূমিকার জন্য গোটা বিশ্ব গর্বিত। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মোদি জানান, মাচ্ছর বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন তিনি।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩। মাঝআকাশে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সঙ্গে সহ-পাইলটের সংঘর্ষ বাধে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহ-পাইলট মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং হামলার কারণ এখনও তদন্তাধীন।

    এরপর বিমানটির উচ্চতা অত্যন্ত দ্রুত কমে যায়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪,৩০০ ফুট নেমে যায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেন—আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন।

    ককপিটের দরজা খুলে যাওয়ার পর যাত্রী ও কেবিন ক্রু সেখানে পৌঁছে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিমানে থাকা অন্য পাইলটরাও পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে ইজরায়েলের পরিবর্তে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

    আহত অবস্থাতেও যাত্রীদের কথা মাথায়

    ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন, যাতে বাইরের মানুষ ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে তিনি ককপিটের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁর এই পদক্ষেপের ফলেই যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়।

    প্রায় ১৭৪ জনকে নিয়ে উড়ছিল বিমানটি। ফলে পরিস্থিতি সামান্য অন্যরকম হলে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করায় বিমানে থাকা প্রত্যেকের প্রাণ রক্ষা পায়।

    রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কুর্নিশ

    ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। তিনি জানান, গুরুতর বিপদের মধ্যেও মাচ্ছর অন্যদের জীবন রক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করেছে। আহত অবস্থাতেও অন্যদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

    রাজনাথ, বিড়লা, যোগী থেকে খড়্গে—প্রশংসা সর্বত্র

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, নিজের জীবন বিপন্ন করেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর বিমানে থাকা সকলের জীবন রক্ষায় দায়িত্ব ও কর্তব্যের সর্বোচ্চ নজির তৈরি করেছেন।

    লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও তাঁকে প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মাচ্ছরের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহস বহু মানুষের জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করেছে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও ক্যাপ্টেনের সাহস, কর্তব্যবোধ এবং উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন। গুরুতর আহত হয়েও অন্য যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য তাঁর ভূমিকার উল্লেখ করে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, আচমকা বিমানটির উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ফুট কমে যাওয়ার পরও মাচ্ছর পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মতে, এই সাহসিকতা ভারতীয় বিমানচালকের দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং শিবরাজ সিং চৌহানও একইভাবে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ক্যাপ্টেন, বিমানের ক্রু এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করা সকলের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

    কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর?

    ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন ভারতীয় নাগরিক এবং বর্তমানে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট। এর আগে প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন তিনি। ২০২২ সালের জুন থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বহরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮/৯ বিমানে তাঁর প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    এই দীর্ঘ উড়ান অভিজ্ঞতাই চরম সংকটের মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

    তদন্তে একাধিক প্রশ্ন

    ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ককপিটের ভিতরে কীভাবে এই হামলা ঘটল, সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কীভাবে তিনি হামলা চালানোর সুযোগ পেলেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে দেখছে। ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা এবং পাইলটদের ককপিটে প্রবেশ-সংক্রান্ত বিধি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনাটির নির্দিষ্ট চরিত্র নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না।

    আপাতত নজর ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সুস্থতার দিকে

    একদিকে ভয়াবহ মাঝআকাশের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের দ্রুত আরোগ্যের দিকে নজর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দেশবাসীকে প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা—দলমত নির্বিশেষে মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

    একটি উড়ন্ত বিমানে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম সংকটে আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। তাই এফজেড ১০৭৩-এর এই ঘটনা শুধু বিমান নিরাপত্তার প্রশ্নই তুলছে না, চরম বিপদের মধ্যেও পাইলটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

LinkedIn
Share