Tag: PM Modi

PM Modi

  • Chocolate Made India Gate: মোদির কাছে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে গেল চকোলেটের ‘ইন্ডিয়া গেট’! আবার পাঠাবে বেলজিয়াম

    Chocolate Made India Gate: মোদির কাছে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে গেল চকোলেটের ‘ইন্ডিয়া গেট’! আবার পাঠাবে বেলজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার নিয়ে এসেছিলেন এক অভিনব উপহার—পুরোটাই বেলজিয়ান চকোলেট (India Gate in Chocolate) দিয়ে তৈরি ইন্ডিয়া গেটের প্রতিকৃতি। কিন্তু ভারতে পৌঁছনোর আগেই সেই ‘মিষ্টি উপহার’-এ ঘটে বিপত্তি। দীর্ঘ যাত্রার ধকল সামলাতে না পেরে ভেঙে যায় চকোলেটের তৈরি ইন্ডিয়া গেট। শুক্রবার বেলজিয়ামের দূতাবাসের তরফে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ ভেঙে যাওয়া চকোলেটের ভাস্কর্যের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। দূতাবাস জানায়, প্রধানমন্ত্রী ডি ওয়েভার এই বিশেষ উপহারটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথেই সেটি ভেঙে যায়। দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, উপহারটি ভেঙে গেলেও তা প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে ডি ওয়েভার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বেলজিয়ামে এর একটি ‘ব্যাক-আপ’ প্রতিকৃতিও রয়েছে। ফলে নতুন করে তৈরি করে সেটি ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ‘কূটনীতির জন্য চকোলেট দারুণ, তবে যাত্রার জন্য নয়’

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিনব উপহারের কথা জানান ডি ওয়েভার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উপযুক্ত একটি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই কারণেই বিশ্বের অন্যতম সেরা বেলজিয়ান চকোলেট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ইন্ডিয়া গেটের প্রতিকৃতি। তবে মজার ছলে ডি ওয়েভার বলেন, “আসল ইন্ডিয়া গেট প্রায় এক শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু তার চকোলেট সংস্করণটি বেলজিয়াম থেকে ভারতে আসার পথটুকুও টিকতে পারল না।” এরপরই তাঁর রসিক মন্তব্য, “কূটনীতির জন্য চকোলেট দারুণ, কিন্তু কূটনৈতিক যাত্রার জন্য যে খুব একটা ভালো নয়, তা আমরা বুঝতে পেরেছি।” তবে উপহারটি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ডি ওয়েভার। তিনি জানান, বেলজিয়ামে এর আরেকটি প্রতিকৃতি প্রস্তুত রয়েছে এবং যে কোনওভাবে সেটি অক্ষত অবস্থায় মোদির কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

    কেন বেছে নেওয়া হল ইন্ডিয়া গেট?

    চকোলেট দিয়ে ইন্ডিয়া গেট তৈরির সিদ্ধান্তের পিছনেও রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য। ডি ওয়েভারের কথায়, ইন্ডিয়া গেট ভারত ও বেলজিয়ামের অতীতের যৌথ ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের প্রতীক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্ল্যান্ডার্স ফিল্ডসে বহু ভারতীয় সেনা যুদ্ধ করেছিলেন এবং প্রাণ দিয়েছিলেন। সেই ভারতীয় সৈনিকদের সাহস ও আত্মত্যাগের স্মৃতিও বহন করে এই উপহার। ডি ওয়েভার বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ফ্ল্যান্ডার্সে লড়াই করা ভারতীয় সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগ বেলজিয়াম এখনও ভোলেনি। তাঁদের সেই অবদান দুই দেশেরই যৌথ ইতিহাসের অংশ। তাঁর মতে, এই স্মৃতি আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—শান্তি কখনওই নিশ্চিত বা চিরস্থায়ী ধরে নেওয়া যায় না। ফলে শেষ পর্যন্ত চকোলেটের ইন্ডিয়া গেট ভেঙে গেলেও, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভারত-বেলজিয়ামের বন্ধুত্ব, ইতিহাস এবং কূটনৈতিক বার্তাটি অটুটই রয়ে গেল।

  • Durga Puja 2026: মহালয়ায় মেগা শো, দেবীপক্ষে মাতবে ইডেন! আগমনীর আয়োজনে শুভেন্দু সরকার, থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও

    Durga Puja 2026: মহালয়ায় মেগা শো, দেবীপক্ষে মাতবে ইডেন! আগমনীর আয়োজনে শুভেন্দু সরকার, থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিমধ্যেই ইউনেস্কো (UNESCO)-র ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে বাঙলার দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। এবার উৎসবের দিনগুলোতে কলকাতাকে গ্লোবাল পুজো ডেস্টিনেশন করার ভাবনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Sevendu Adhikari)। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলায় এই প্রথমবার দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। এই আবহে পরিবর্তনের বাংলায় এবার বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal) আনছে নয়া চমক। এই প্রথমবার মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) নজিরবিহীন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। আগমনী সুর গঙ্গার প্রান্ত দিয়ে ভেসে যাবে শহরের আকাশে-বাতাসে। আগমনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নবান্নের শীর্ষ সূত্রের দাবি, বাংলার দুর্গাপুজোকে বিশ্বের সামনে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরাই হবে এই মেগা শোয়ের মূল উদ্দেশ্য।

    প্রস্তুতি শুরু, দরপত্র আহ্বান

    সরকারি সূত্রে খবর, মহালয়ার এই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে হবে সেই মেগা অনুষ্ঠান (Mahalaya Agamani Event)। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর শেষে কলকাতায় রেড রোডে পুজো কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। সেখানে শহরের নির্বাচিত প্রতিমা ও পুজো কমিটিগুলি অংশ নেয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকার এ বার শুধু বিসর্জন-পরবর্তী কার্নিভালের মধ্যে উৎসবের প্রচার সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। বরং সরকারের শীর্ষ এক নেতার কথায়, কার্নিভাল ছিল সরকার পোষিত কিছু পুজোকে নিয়ে ভাঙা পুজোর হাট। তা গোটা রাজ্যের মানুষকে স্পর্শ করত না।

    কেন মহালয়ার দিনেই মেগা-শো

    মহালয়া বাঙালির কাছে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় তিথি নয়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, তর্পণ এবং দেবীর আগমনী বার্তা—সব মিলিয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে দিনটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই আবেগকে কেন্দ্র করেই ইডেনে আলো, সঙ্গীত, নৃত্য এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি বৃহৎ উপস্থাপনার ভাবনা রয়েছে। নবান্নের পরিকল্পনা, মহালয়ার দিন থেকেই গোটা রাজ্যে পুজোর আবহকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার দিনটিকেই তাই বেছে নেওয়া হয়েছে।

    ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠান, সিএবি-র সম্মতির অপেক্ষা

    কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইডেন গার্ডেন্স শুধু দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিত একটি জায়গা। বিপুল দর্শক ধারণের ক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশ্বজোড়া পরিচিতির কারণেই মেগা শোয়ের সম্ভাব্য মঞ্চ হিসেবে ইডেনকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ক্রিকেটের মরশুম, মাঠের সুরক্ষা, সিএবি-র সম্মতি এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থার মতো একাধিক বিষয় রয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে রাজ্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    কী থাকতে পারে মহালয়ার মেগা অনুষ্ঠানে

    অনুষ্ঠানের রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাস, দেবীর আগমনী, বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতি, ঢাক, ধুনুচি নাচ, ছৌ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পধারাকে একটি সুবিশাল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে আনার পরিকল্পনা চলছে। শুধু কলকাতার শিল্পীরাই নন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক শিল্পী ও ঢাকিকে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হতে পারে। একই সাজে এবং একই ছন্দে কয়েক হাজার শিল্পীর সমবেত পরিবেশনার কথাও ভাবা হচ্ছে। নবান্নের এক শীর্ষ সূত্রের কথায়, আয়োজনের ব্যাপ্তি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে তা গোটা দেশের নজর কাড়ে। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন ডিজিটাল ও সম্প্রচার মাধ্যমে দেখানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারের অংশ হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    অসমের রেকর্ড ভাঙবে বাঙলা

    ইডেনের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় অসমের মেগা বিহু উৎসবের মডেলও আলোচনায় রয়েছে বলে খবর। ২০২৩ সালের ১৩ ও ১৪ এপ্রিল গুয়াহাটির সরুসজাই স্টেডিয়ামে অসম সরকার একটি বিশাল বিহু নৃত্য ও ঢোলবাদনের আয়োজন করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শিল্পী একই সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১১,৩০৪ জন নৃত্যশিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রী সমবেত বিহু পরিবেশনায় যোগ দেন। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের (Guinness World Records) চূড়ান্ত নথিতে বৃহত্তম বিহু নৃত্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১১,২৯৮ বলে উল্লেখ রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ২,৫৪৮ জন ঢোলবাদক একসঙ্গে পরিবেশন করে আরও একটি রেকর্ড গড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অসম সরকারের হাতে রেকর্ডের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। অসমের সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সেই অনুষ্ঠান বড় সাফল্য পেয়েছিল। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বাংলার অনুষ্ঠানটির ব্যাপ্তিও এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা রয়েছে, যা অসমের আয়োজনকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

    ৬৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড!

    মহালয়ার মেগা অনুষ্ঠান সফল হলে পুজোর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নজর কলকাতার দিকে ঘোরানো সম্ভব হবে। এর ফলে হোটেল, বিমান পরিষেবা, রেল, পরিবহণ, খাদ্য এবং খুচরো ব্যবসায় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন সমীক্ষা ও বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর সময় বাংলায় সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্র মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে। তাই উৎসবের প্রাণবন্ত চরিত্র বজায় রাখা সরকারের কাছেও একটি বড় অর্থনৈতিক প্রয়োজন। সেই কথা মাথায় রেখেই দেবীপক্ষের শুরুটা জমজমাট করতে চাইছে সরকার।

     

  • PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতির ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধিকে দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন বলে প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে দেশবাসীকে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর প্রচার আরও জোরদার করার আহ্বান জানালেন তিনি। অপ্রয়োজনীয় বিদেশি খরচ, বিশেষ করে অবকাশযাপন, বিদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এবং প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনার মতো ব্যয় কমানোর বার্তাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, নানা সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাঁর মতে, এই সাফল্য কোনও একজনের নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের সংকল্প ও পরিশ্রমের ফল।

    সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন

    ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “দেশের মানুষকে অনেক অভিনন্দন। ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। দেশ আনন্দে ভরে উঠেছে। তবে দেশের মানুষের সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানাই। এটি সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন।” বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় থেকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বে স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধের খবর আসছে, বিশ্ব একাধিক সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মোদি বলেন, “২০২০ সালে কোভিডের সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোথাও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, চারদিকে সংকট। সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত। তা সত্ত্বেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।”

    ভোকাল ফর লোকাল

    বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাজারে। তখন সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে ভারতীয় অর্থনীতি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি GDP) বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ। ভারতের অর্থনীতির এই সাফল্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষকে দেশীয় পণ্য ও পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি ব্যয় কমিয়ে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-কে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    মেড ইন ইন্ডিয়া

    ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ভারতকে পুরোপুরি ‘আত্মনির্ভর’ হতে হবে এবং ‘স্বদেশী’ মন্ত্র মেনে কাজ করতে হবে। তিনি দেশবাসীকে অনুরোধ জানান, যেন তারা বিদেশে গিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত বা অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বদলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ মন্ত্রকে জীবনে আপন করে নেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা বন্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, আমরা যত বেশি দেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হব, স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছে দেশের যুবসমাজকে তত সুন্দর এক নতুন ভারত উপহার দিতে পারব।

    ভারত আবারও বিকশিত হল

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত GDP (মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। সোমবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই তথ্য সামনে আসার পরই এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশের অসাধারণ জিডিপি বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সাফল্য। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দামের ধাক্কা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার মধ্যেও দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তিই ভারতকে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহায্য করেছে।” এরপরই ভারতীয় অর্থনীতির সমালোচকদের নিশানা করে মোদি লেখেন, “হতাশাবাদীদের ভবিষ্যদ্বাণী মুখ থুবড়ে পড়ল, ভারত আবারও বিকশিত হল।” প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, যাঁরা ভারতের অর্থনীতি নিয়ে হতাশার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাঁদের সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

    আরবিআই-এর পূর্বাভাস

    প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে সেটাই হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি (GDP)-র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। জিডিপি বৃদ্ধির এই হার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) ৭ শতাংশ পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকের জন্য আরবিআই ৭ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

    তরুণ প্রজন্মকে বার্তা

    অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্ম নিয়েও আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আজ যে পরিশ্রম করা হচ্ছে, তার সুফল ভবিষ্যতে দেশের যুব সমাজ পাবে। মোদি বলেন, তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করাই দেশের অন্যতম বড় লক্ষ্য। আজকের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আগামী দিনের ভারত তৈরি হবে। তিনি দেশবাসীকে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সরকারের নীতি সঠিক পথে রয়েছে। উদ্দেশ্যও স্পষ্ট। আর ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শক্তি ভারতকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার মূল সুর হল—দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকেও নিজেদের কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং জীবনযাপনের কিছু সিদ্ধান্তে দেশীয় ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

  • PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi at SCO Summit)। মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একসঙ্গে, একই সুরে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধান যুদ্ধের ময়দানে নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসসিও-র (SCO) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।

    সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙতে হবে

    সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রসঙ্গের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে এবং এক ভাষায় কথা বলতে হবে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ‘দুমুখো নীতি’ মেনে নেওয়া যায় না। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই হবে না, তাদের সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে—সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এককথায়, পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসে সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙার কথা বলেন মোদি। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও দ্বিচারিতার জায়গা থাকা উচিত নয়। সন্ত্রাসের গোটা পরিকাঠামো—অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—ধ্বংস করতে হবে।”

    ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না

    মোদির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগ তুলে এসেছে। এসসিও-র মঞ্চে তাই ‘দুমুখো নীতি’র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে পাকিস্তানের উদ্দেশে কূটনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শেহবাজ শরিফ যখন একই হলে উপস্থিত, তখন এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পাকিস্তানের সরকারি তথ্যও নিশ্চিত করে যে শেহবাজ শরিফ এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের পটভূমিতে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা-সহ সীমান্তপারের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ও তাকে মদত দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেয়। এসসিও-র আগের সম্মেলনেও মোদি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেওয়া বা সমর্থন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না। মোদির কথায়, যে দেশগুলি রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহযোগিতা দেয়, তাদের কাছে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। “সন্ত্রাসবাদ কখনও কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান

    আন্তর্জাতিক সংঘাত প্রসঙ্গে মোদির বক্তব্য, যুদ্ধের ময়দানে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাত আলোচনার টেবিল এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে জানান তিনি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কোনও একটি অঞ্চলের সংঘাত আর সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার প্রভাব পড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। এই ধরনের অস্থিরতার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হয় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে হবে একমাত্র আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই।

    মাদক পাচার নিয়েও উদ্বেগ

    মাদক পাচারকে শুধুমাত্র অপরাধ হিসেবে দেখলে হবে না বলেও সতর্ক করেন মোদি। তাঁর মতে, মাদক পাচার তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তা গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে।

    আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর জোর

    শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইউরেশিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সরাসরি যুক্ত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আফগানিস্তানের মানুষের উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় ভারত ধারাবাহিকভাবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব

    আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বাজারকে সংযুক্ত করা, বাণিজ্য সহজ করা এবং উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করার সমস্ত উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে। তবে একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এসসিও-র সনদেরও এটাই মৌলিক চেতনা। আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে। শুধু সড়ক, রেল ও বিমানপথ নয়, শুল্ক প্রক্রিয়া সরল করা, ডিজিটাল নথিপত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থা আরও দক্ষ করার উপরও জোর দিতে হবে।

    বিশ্ব-শান্তি ও উন্নয়নই ভারতের লক্ষ্য

    অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানিয়ে পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা পাকিস্তানের দখল করা কাশ্মীরের উপর দিয়ে যাওয়া ‘চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (সিপিইসি)-এর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এই মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালে গঠিত ১০ সদস্যের এসসিও জোটে ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। চলতি বছরের এই শীর্ষ সম্মেলনটি সম্প্রসারিত ‘এসসিও-প্লাস’ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে তুরস্ক, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, মঙ্গোলিয়া সহ এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নিয়েছেন। এসসিও (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান উঠে এসেছে, অন্যদিকে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি, আঞ্চলিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

  • PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ব্যক্তিগত কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত (SCO Summit) দেখা গেল। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে পারিবারিক ছবি তোলার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে খানিক সময়ের জন্য হাত মেলাতে দেখা গেল। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অবস্থিত ইরিস অর্দো কংগ্রেস হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যামেরার সামনে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত ছিলেন।

    সৌজন্য বিনিময় (PM Modi)

    ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময় এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন দুই দেশই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। সীমান্তে একাধিক পর্যায়ে সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলিকেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের প্রেসিডেন্টকে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ভারত চলতি মাসের শেষ দিকে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে। মোদির আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিনপিং, আশ্বাস দেন চিনের পক্ষ থেকে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রতি সমর্থনের। এই ঘটনাকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত বিরোধ। সেই পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    চিনা সাংবাদিকের বক্তব্য

    ভারত-চিন সম্পর্ক এবং আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিনা বিশ্ব টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ঝাও ইউনফেই মঙ্গলবার বলেন, দুই দেশের উচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ঝাও ইউনফেইয়ের মতে, এই দুই আন্তর্জাতিক মঞ্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি হওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এর ফলে দুই প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারত ও চিন প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সত্যিই ভালো হবে। চিন সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরা প্রতিবেশী, তাই আমাদের সমস্ত মতপার্থক্য মিটিয়ে এক সঙ্গে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।” সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সত্যিই একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। আশা করি, ব্রিকসও দুই পক্ষের জন্য একটি ভালো মঞ্চ হবে।”

    ভারতে আসবেন জিনপিং!

    ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট ভারতে আসবেন কি না, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝাও বলেন, চিনা নেতার কর্মসূচি সম্পর্কে (SCO Summit) তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন (PM Modi)।

    ঝাও বলেন, “আমাদের কাছে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা আশা করছি, প্রেসিডেন্ট শি-র কর্মসূচি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে। অবশ্যই ব্রিকস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সদস্যরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলির প্রতিনিধিত্ব করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে।”

    ভারত ও চিনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। গত ২৬ অগাস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে জেনারেল স্তরের ব্যবস্থা বা সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক করার জন্য আরও দু’টি বৈঠকস্থল নির্ধারণে সম্মত হয়েছে।

    গলছে সম্পর্কের বরফ!

    এর পাশাপাশি সীমান্তের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে সামরিক হটলাইন যোগাযোগের জন্য আরও দু’টি ব্যবস্থা চালু করার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই সিদ্ধান্ত ভারত ও চিনের সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২৫তম দফার আলোচনায় অর্জিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্যের অংশ। বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন (SCO Summit)।

    সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামরিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ভারত-চিন সম্পর্কের জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

    দূর সীমান্তে আশার আলো

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সীমান্ত সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান না হলেও, সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্তরে শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সম্ভাবনা দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই যোগাযোগ কতটা স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করবে সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক আস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর (PM Modi)।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে মোদি ও জিনপিংয়ের করমর্দন যেমন প্রতীকী বার্তা বহন করছে, তেমনই ব্রিকসের আসন্ন মঞ্চ দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ দিতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা—দুই দেশের সামনে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফলে আগামী দিনে (SCO Summit) বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলি ভারত-চিন সম্পর্কের নয়া কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন (PM Modi)।

     

  • PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে সব ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানই বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব এই (Ukraine War) যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ‘যুদ্ধের অবসান হোক’ (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই বৈঠকের পরেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। মোদির বক্তব্যকে কয়েক বছর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া তাঁর ‘‘এটি যুদ্ধের যুগ নয়’’ বার্তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সেই বক্তব্য যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, “আমাদের ‘অন্তহীন যুদ্ধে’র পরিস্থিতি থেকে ‘যুদ্ধের অবসানে’র দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান হোক।” ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা যখন শেষবার দেখা করেছিলাম, তখনও আপনি পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সব ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।” ভারতের অবস্থান যে কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট করে মোদি বলেন, “ভারত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মানবতার স্বার্থে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় (PM Modi)।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় ভারত বারবার জানিয়েছে, যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। ২০২২ সালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মোদি একই ধরনের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এটি যুদ্ধের যুগ নয়। মানবতার সামনে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলায় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। তাই ভারত কূটনীতি ও আলোচনায় বিশ্বাস করে।”

    মোদির মুখে শান্তির ললিত বাণী

    সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ভারত বুদ্ধের ভূমি। সহমর্মিতা ভারতীয়দের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের কোনও দেশে যখনই সংকট দেখা দেয়, ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে। বুদ্ধের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ভারত যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পক্ষেই অবস্থান করে (Ukraine War)। এবারও মোদির বক্তব্যে মানবতার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয় এবং আমাদের অবশ্যই শত্রুতা ও সংঘাতের অবসানের জন্য কাজ করতে হবে (PM Modi)।” ভারতের শান্তির বার্তার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের আদর্শের সম্পর্কও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গান্ধীর ভূমি এবং বুদ্ধের ভূমি একই বার্তা বহন করে—শান্তির পথ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপ এবং পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করে শান্তিপূর্ণ সমাধান, আলোচনা এবং কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানই আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য যে যুদ্ধের সমর্থন নয়, বরং সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তির পরিবেশ তৈরি করা—তা তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি অংশেই স্পষ্ট হয়েছে।

    শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারত বরাবরই জানিয়েছে, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সংঘাতের অবসান সম্ভব (PM Modi)। এদিকে পুতিনের সঙ্গে মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ এর এক সপ্তাহ পরেই রুশ প্রেসিডেন্টের নয়াদিল্লি সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরে তিনি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশকেকে মোদি-পুতিন বৈঠককে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (Ukraine War)।

    নয়াদিল্লির অবস্থান

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে ভারতের এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। যুদ্ধের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে শান্তির পথ—এই নীতিকেই ভারত সামনে রেখে এগোতে চাইছে বলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট (PM Modi)।

  • Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর একই গাড়িতে চড়ে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Modi-Putin Car Diplomacy)। সোমবার বিশকেক অ্যারেনায় ষষ্ঠ ‘ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুই রাষ্ট্রনেতার এই গাড়ি সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছে। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’র আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর গাড়ির ভিতর থেকে পুতিনের সঙ্গে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের পথে।”

    পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত

    মোদির বিদেশ সফরে এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক গাড়ি সফর অবশ্য নতুন নয়। এর আগে উজবেকিস্তান সফরেও প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে। তাসখন্দে পৌঁছনোর পর মিরজিয়য়েভ নিজে মোদিকে অভ্যর্থনা জানান এবং পরে দু’জনকে একসঙ্গে গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা যায়। দুই নেতার এই আনুষ্ঠানিক মুহূর্ত তাঁদের পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কেরই ইঙ্গিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের (Modi-Putin Meet) মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারত-রাশিয়া ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

    মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ নতুন নয়

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একসঙ্গে গাড়িতে সফর এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার দুই রাষ্ট্রনেতাকে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে যা ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। গত বছর চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের পর পুতিনের লিমুজিনে একসঙ্গে সফর করেছিলেন মোদি ও পুতিন। জানা যায়, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থান হোটেলে যাওয়ার সময় দুই নেতাকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন নিজেই। গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কথোপকথন হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর ফের একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় পুতিনের ভারত সফরের সময়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রোটোকল ভেঙে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পুতিনকে স্বাগত জানাতে নিজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিমানবন্দর থেকে দু’নেতা একসঙ্গে গাড়িতে করে ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে মোদি ও পুতিনের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজও হয়। মোদি-পুতিনের ফের একই গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতা ও দুই নেতার ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।

  • SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের (SCO Summit) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক হল। বৈঠকে ভারত ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী (PM Modi) ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

    দুই ‘হুজুরের গপ্পো’ (SCO Summit)

    ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি-সহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    মধ্যপ্রাচ্যে যখন একের পর এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্যতম। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নানা বাধার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও।

    এর আগে জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছিল। সেই সময় ইরানি প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবহিত করেন এবং সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে যে সমঝোতা তৈরি হয়েছিল, তাকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছিলেন (SCO Summit) তিনি।

    আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে সওয়াল

    পেজেশকিয়ান বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বৈঠকের আগেই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। একই সঙ্গে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দেশের অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন। তাঁর কথায়, “ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেবে।”

    এক মাসের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা ইরানের একটি ছোট দ্বীপে হামলা চালানোর পর পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলা অস্থিরতা নিয়ে ইরানের উদ্বেগও স্পষ্ট হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা কোনও দেশের জন্যই ভালো নয়। বরং এর প্রভাব গোটা অঞ্চলের দেশগুলির ওপর পড়ে। তাই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত লক্ষ্য পূরণে দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো জরুরি (PM Modi)।

    বৈঠকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অঞ্চলের অধিকাংশ নেতাই এতে উপস্থিত থাকবেন। এমন একটি পরিস্থিতিতে, যখন কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বে একটি অভিন্ন পরিসর তৈরি করার চেষ্টা করছে, তখন এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরের অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

    মোদির আঞ্চলিক কূটনীতিতে আর্মেনিয়াও গুরুত্বপূর্ণ

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা ভারত ও আর্মেনিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধশিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা—সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত আর্মেনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে দিল্লি সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানান তিনি। এর ফলে মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সক্রিয় হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে (SCO Summit)।

    পুতিনের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন মোদি

    এদিনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে বলেই খবর।

    রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে দুই নেতা পর্যালোচনা করতে পারেন। এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাশিয়ায় দু’দিনের সফরে গিয়ে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই আলোচনার পর এবার দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে (PM Modi)।

    মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। সেই সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। আসন্ন বৈঠকটি চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই নেতার প্রথম বৈঠক হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে (SCO Summit)।

    ইরান, আর্মেনিয়া ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একই সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠক ভারতের বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলের দিকটিও সামনে আনছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত একদিকে যেমন নিজের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে চাইছে, তেমনই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও কৌশলগত সহযোগিতাও বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সংঘাতের সময়েও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া ভারতের বিদেশনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উঠে আসছে (SCO Summit)।

     

  • PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে (SCO Summit 2026) যোগ দিতে কিরগিজস্তানে সরকারি সফরে গিয়ে বিশকেকে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ৩০ অগাস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে পৌঁছন তিনি। এই সফরে ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

    বিশকেকে মোদি (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। বিশকেকে পৌঁছনোর পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রিসভার চেয়ারম্যান আদিলবেক কাসিমালিয়েভ। বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। ঐতিহ্যবাহী কিরগিজ নৃত্যের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। স্থানীয় সংস্কৃতির এই উপস্থাপনা দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগের দিকটিও তুলে ধরে।বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছনোর পরেও মোদিকে ঘিরে ছিল উষ্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন। সেখানে উপস্থিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী ভারতীয়রা “বন্দে মাতরম” ধ্বনি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি মোদি একটি যোগ প্রদর্শনীও দেখেন। দেশাত্মবোধক গান “মা তুঝে সালামে”র সঙ্গে পরিবেশিত হয় সেই যোগ প্রদর্শনী। পরে ভগবান শিবকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক নৃত্যও দেখেন তিনি। এর মাধ্যমে ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

    ২৫ বছর পূর্ণ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার

    এবারের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, চলতি বছর এই আঞ্চলিক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনে প্রথম দিকে ছিল চিন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। পরবর্তীতে সংগঠনের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। এরপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ পূর্ণ সদস্য হওয়ায় সংগঠনটির পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।

    সম্মেলনের আগে সফর শুরুর সময় দেওয়া বিবৃতিতে মোদি এই অঞ্চলের জন্য ভারতের ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আঞ্চলিক অগ্রগতির ভিত্তি হওয়া উচিত নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও সুযোগ। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং উগ্রবাদের মতো চ্যালেঞ্জমুক্ত একটি অঞ্চল গড়ে তুলতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি।

    মোদির এই বক্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরেশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে সদস্য (SCO Summit 2026) দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (PM Modi)।

    নিরাপত্তা থেকে বাণিজ্য, আলোচনায় একাধিক বিষয়

    সম্মেলনে সদস্য দেশগুলির নেতারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা ওয়াকিবহাল মহলের। বিশেষ করে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

    এই সম্মেলনে মোদির উপস্থিতি ভারতের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। সদস্য দেশগুলির সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে অভিন্ন সমস্যাগুলির সমাধান খোঁজার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ রয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি।

    উজবেকিস্তান সফরের পর কিরগিজস্তানে মোদি

    কিরগিজস্তানে পৌঁছনোর আগে মোদি শেষ করেন দু’দিনের উজবেকিস্তান সফর। সেখানে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করে সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয় (PM Modi)।

    দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ভারত ও উজবেকিস্তান যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী, তা স্পষ্ট হয়েছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

    উজবেকিস্তানের পর কিরগিজস্তান সফরও সেই একই কৌশলগত ধারার অংশ। কিরগিজস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং জনসম্পর্কের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও মোদির আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে (SCO Summit 2026)।

    প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ

    মোদির বিদেশ সফরে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিরগিজস্তানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশকেকে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। প্রবাসীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সফরের আবেগঘন দিকটিও সামনে এনেছে।

    যোগ প্রদর্শনী এবং শিবকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক নৃত্যের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। একদিকে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে কিরগিজস্তানের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা—দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (PM Modi)।

    মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি

    মোদির এই সফরকে শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রয়াসের অংশ হিসেবেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে শক্তির ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সময়ে মধ্য এশিয়া ভারতের কাছে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মঞ্চ সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করে। ফলে বিশকেক সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সদস্য দেশগুলির সঙ্গে নতুন সমঝোতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে (SCO Summit 2026)।

    সম্মেলন শেষে বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও অনুমান। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারত যেমন লাভবান হবে, তেমনই সম্ভাবনা রয়েছে বৃহত্তর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলির মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার (PM Modi)।

     

  • PM Modi in Uzbekistan: ইউরেনিয়াম আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই! প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান

    PM Modi in Uzbekistan: ইউরেনিয়াম আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই! প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi in Uzbekistan) দু’দিনের উজবেকিস্তান সফরের শেষে ভারত ও উজবেকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। রবিবার (৩০ আগস্ট) তাশখন্দে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশ নিজেদের সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Comprehensive Strategic Partnership)-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের অসামরিক পরমাণু কর্মসূচির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহের (Uranium Supply Deal) ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহে জোর

    মোদির সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইউরেনিয়াম সরবরাহ। ভারতের অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচি সম্প্রসারণের জন্য নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করতে উজবেকিস্তানের সঙ্গে এই সমঝোতা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমরা ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করব।” এই ব্যবস্থার বিস্তারিত শর্ত ও সরবরাহের কাঠামো আগামী দিনে দুই দেশ চূড়ান্ত করবে। পরমাণু শক্তির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিশ্চিত হলে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনাকে তা আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন ও গবেষণায় জোর

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। মোদি জানান, আগামী দিনে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ, যৌথ উৎপাদন এবং যৌথ উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, দুই দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন লক্ষ্য করা গিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছে ভারত ও উজবেকিস্তান। দুই দেশই এই সমস্যাগুলিকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে জোর দিয়েছে। মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উজবেকিস্তানের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোদি দেশটিকে মধ্য এশিয়ার ‘হৃদয়স্থলে’ অবস্থিত বলে উল্লেখ করেন।

    ২০৩০-এর মধ্যে বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য

    অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দুই দেশ। উজবেক প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভ জানান, ভারত-উজবেকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। এবার ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, ব্যাংকিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ করা এবং নতুন পরিকাঠামো প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে একটি যৌথ বিজনেস সামিটও আয়োজন করা হবে। মির্জিয়োয়েভ জানান, ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের সংখ্যা গত কয়েক বছরে প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগও বেড়েছে—বর্তমানে সপ্তাহে ১৪টি সরাসরি বিমান চলাচল করছে।

    এআই, ডিজিটাল প্রযুক্তি, মহাকাশ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজেও সহযোগিতা

    নতুন অংশীদারিত্বের আওতায় ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মহাকাশ এবং পরমাণু শক্তির মতো ভবিষ্যৎমুখী ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন মোদি। দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে শুধু ঐতিহ্যগত কূটনীতি বা বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে।

    ‘সিস্টার সিটি’ চুক্তি, নজরে নিউ তাশখন্দ ও গুজরাট

    ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে তিনটি ‘সিস্টার সিটি’ এবং ‘সিস্টার স্টেট’ চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মোদি বলেন, এই ধরনের চুক্তি যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, তার জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা প্রয়োজন। উজবেকিস্তানের নতুন নগর প্রকল্প নিউ তাশখন্দ নিয়েও আলোচনা হয়। এই প্রকল্পের পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুজরাটের গিফ্ট সিটি-র অভিজ্ঞতা উজবেকিস্তানের কাজে আসতে পারে বলে জানান মোদি। উজবেকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলকে গুজরাটে আমন্ত্রণ জানিয়েগিফ্ট সিটি-র উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা সরেজমিনে দেখার প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সাংস্কৃতিক সম্পর্কেও বাড়ছে ঘনিষ্ঠতা

    দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। মোদি বলেন, ভারত ও উজবেকিস্তানের উন্নয়নের লক্ষ্যগুলির মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ এবং ‘নিউ উজবেকিস্তান’-এর লক্ষ্যগুলির মধ্যে যুবসমাজ, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে মিল রয়েছে। উজবেকিস্তানে ভারতীয় সংস্কৃতির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। তাশখন্দের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান কালচার এবং মহাত্মা গান্ধী সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান স্টাডিজ দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উজবেকিস্তানে যোগচর্চার জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। ২০১৮ সাল থেকে সেখানে জাতীয় যোগ ফেডারেশন রয়েছে এবং চলতি বছরের জুনে একটি আঞ্চলিক যোগ উৎসবও আয়োজন করা হয়।

    মোদিকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান

    সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘ওলি দরাজলি দোস্তলিক’-এ ভূষিত করা হয়। এই সম্মান (Order of Oliy Darajali Do‘stlik’) প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভ। ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্ক শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মোদির অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান দেওয়া হয়। এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রাপ্ত ৩৬তম আন্তর্জাতিক পুরস্কার। সম্মান গ্রহণ করে মোদি বলেন, এই পুরস্কার দুই দেশের বন্ধুত্ব এবং ভারত ও উজবেকিস্তানের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করছেন। ‘দোস্তলিক’ শব্দের অর্থ বন্ধুত্ব—উল্লেখ করে মোদি বলেন, এই শব্দটিই দুই দেশের সম্পর্কের মূল চেতনাকে তুলে ধরে।

    মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত পদক্ষেপ আরও জোরদার

    দু’দিনের সফর শেষে ভারত ও উজবেকিস্তান প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার একটি বিস্তৃত কাঠামো তৈরি করেছে। দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Comprehensive Strategic Partnership)-এ উন্নীত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহের উদ্যোগ ভারতের পরমাণু ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি মোদির চতুর্থ উজবেকিস্তান সফর। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

LinkedIn
Share