Tag: PM Modi

PM Modi

  • BBL Opening Match in India: ক্রিকেটেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নয়া অধ্যায়! বিগ ব্যাশ লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ চেন্নাইয়ে, মেলবোর্নে ঘোষণা মোদির

    BBL Opening Match in India: ক্রিকেটেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নয়া অধ্যায়! বিগ ব্যাশ লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ চেন্নাইয়ে, মেলবোর্নে ঘোষণা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি এবার ক্রিকেটেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগ (BBL Opening Match in India)-এর উদ্বোধনী ম্যাচ। ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বিদেশি ক্রিকেট লিগ ভারতের মাটিতে ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা আরও গভীর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মোদি এবং আলবানিজ। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এটি যেমন বড় খবর, তেমনই দুই দেশের ক্রীড়া ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি এক নতুন মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।

    কবে হবে বিগ ব্যাশ লিগ (BBL)-এর ম্যাচ

    ঘোষণা অনুযায়ী, বিগ ব্যাশ লিগ (BBL)-এর ১৬তম মরসুমের উদ্বোধনী ম্যাচ ১২ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম (চিপক) স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস এবং পার্থ স্কর্চার্স। এটি হবে বিগ ব্যাশ লিগের ইতিহাসে বিদেশের মাটিতে আয়োজিত প্রথম ম্যাচ। ম্যাচটি ভারতীয় সময় দুপুর ২:৪০ মিনিটে শুরু হবে। এই বিশেষ আয়োজনের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)-এর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি ১০ জুলাই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (MCG) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যৌথভাবে ঘোষণা করেন। দুই দেশের সরকারই ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে।

    এমসিজিতে অন্য অনুভূতি

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi in Australia) বলেন, “এমসিজিতে প্রবেশ করলে একজন ভারতীয়ের মনে একসঙ্গে দুটি অনুভূতি জাগে। প্রথমত, ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের উত্তেজনা এবং দ্বিতীয়ত, এই উপলব্ধি যে আমাদের দুই দেশেই ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি এক অভিন্ন আবেগ। তবে আজ শেষ ওভারের চাপ নেই, রয়েছে শুধুই খেলার আনন্দ, আমাদের বন্ধুত্বের উষ্ণতা এবং ভবিষ্যতের চ্যাম্পিয়নদের অনুপ্রেরণা।” বিগ ব্যাশ লিগের জেনারেল ম্যানেজার অ্যালিস্টেয়ার ডবসন জানান, বিদেশে বিগ ব্যাশের ম্যাচ আয়োজন লিগের দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণের কৌশলের অংশ। ডবসনের কথায়, “বিগ ব্যাশের জনপ্রিয়তা অস্ট্রেলিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। নতুন বাজারে পৌঁছে আরও বেশি দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এর ফলে সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।” ভারতে বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনকে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি এটি বিশ্বজুড়ে বিগ ব্যাশ লিগের জনপ্রিয়তা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • PM Modi in Australia: ‘দুধে চিনির মতো মিশে সমাজকে আরও মিষ্টি করে তোলেন ভারতীয়রা’ মেলবোর্নে প্রবাসীদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi in Australia: ‘দুধে চিনির মতো মিশে সমাজকে আরও মিষ্টি করে তোলেন ভারতীয়রা’ মেলবোর্নে প্রবাসীদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয়রা ‘দুধে চিনির মতো’ মিশে গিয়ে সেই সমাজকে আরও সমৃদ্ধ ও মধুর করে তোলে। অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ দিনে মেলবোর্নে প্রবাসী ভারতীয়দের এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Australia)। ভারতীয় সম্প্রদায়ের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে প্রবাসীদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Praises Indian Diaspora) বলেন, “আমরা ভারতীয়রা দুধে মিশে যাওয়া চিনির মতো। আমরা যেখানে যাই, সেখানে ভালোবাসা, সংস্কৃতি ও ঐক্যের মাধুর্য ছড়িয়ে দিই। বাড়ির দুধ অস্ট্রেলিয়ার হতে পারে, কিন্তু সেই দুধের চা ভারতীয়। ডাল-সবজি অস্ট্রেলিয়ার হলেও তার ফোড়ন ভারতীয় মশলার।”

    ‘হাউসফুল, একেবারে ব্লকবাস্টার’ অনুষ্ঠান

    মেলবোর্নের প্রবাসী ভারতীয়দের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি দেখে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানটিকে ‘হাউসফুল’ এবং ‘ব্লকবাস্টার’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, এর আগে দু’বার সিডনিতে ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা হলেও এবার মেলবোর্নবাসীদের সঙ্গে ‘ফ্ল্যাট হোয়াইট কফি’ পান করার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রী জানান সেন্টার ফর অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া রিলেশন-এর মৈত্রী গ্র্যান্ট কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার ১০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বরাদ্দের ঘোষণা করেছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নেপথ্যে প্রবাসীরাই

    মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে তাঁর প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় ২৮ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সে দেশে গিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, পরবর্তী সফরের জন্য আর ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। সেই প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১২ বছরে এটি তাঁর তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। তিনি বলেন, “অনেকে ভাবতে পারেন এই সম্পর্কের উন্নতির কৃতিত্ব আমার। কিন্তু না, এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব আপনাদের, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের।” প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফারদার এডুকেশন -এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় ভুবনেশ্বরে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ইন মাইনিং ইকুইপমেন্ট, টেকনোলজি সার্ভিস গড়ে তোলা হবে। ভারতের জাতীয় ভোকেশনাল কাউন্সিল ও অস্ট্রেলিয়ার স্কিলস কোয়ালিটি অথরিটির মধ্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে সহযোগিতা শুরু হবে। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার বিশ্ববিদ্যালয় বেঙ্গালুরুতে এবং ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরগাঁওয়ে ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য অনুমোদনপত্র প্রদান করা হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষায় দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে। বিজ্ঞান-গবেষণা উদ্ভাবন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে যাতে প্রবাসীদের ভূমিকা রয়েছে। জিও সায়েন্স অস্ট্রেলিয়া ও জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে ভূ-বিজ্ঞান গবেষণা ও খনিজ অনুসন্ধানে সহযোগিতার চুক্তি হয়েছে।

    ‘লিটল ইন্ডিয়া’য় ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া

    মেলবোর্ন ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় সংস্কৃতির বিস্তারের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন বাজার ও এলাকাকে কেউ ‘লিটল ইন্ডিয়া’, আবার কেউ ‘মিনি ইন্ডিয়া’ নামে চেনেন। সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি, ব্যবসা এবং উৎসবের আবহ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। হাস্যরসের ছলে তিনি বলেন, একটি বাজারের ভিডিওতে দেখেছেন সেখানে সারা বছরই ছাড়ের অফার চলে। “সেলের চক্রে পড়ে মানুষ ঘ্যাঁচাক্কর হয়ে যায়” মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর। অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয়দের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সপ্তাহান্তে কোথাও সত্যনারায়ণ পূজা, কোথাও গুরুদ্বারে অরদাস, কোথাও শিশুদের ভাংড়া বা ভরতনাট্যম পরিবেশনা, আবার কোথাও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট—সব মিলিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি জীবন্ত হয়ে রয়েছে মেলবোর্নে। এছাড়া কয়েক দিনের মধ্যেই মেলবোর্নে শুরু হতে চলা ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জন্যও শুভেচ্ছা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী ভারতীয়রাই অস্ট্রেলিয়দের মধ্যে ভারতীয় চলচিত্র ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছে। তারই ফলে কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের মধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষা, যৌথ কর্মশালা, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোয় ভারতের অগ্রগতি

    এদিন প্রবাসীদের সামনে ভারতের উন্নয়নের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ৫জি বাজারে পরিণত হয়েছে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে ৬জি উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তিনি জানান, গত ১২ বছরে ভারতের মেট্রো পরিষেবা দুই ডজনেরও বেশি শহরে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১ কোটি ২৫ লক্ষের বেশি মানুষ মেট্রোয় যাতায়াত করেন। এছাড়া নমো ভারত র‌্যাপিড রেল এবং বন্দে ভারত ট্রেনের মতো আধুনিক রেল পরিষেবাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভাষণের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারত এখন ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। তাঁর কথায়, “একটি স্বপ্ন পূরণ হলে আরেকটি নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। একটি লক্ষ্য অর্জিত হলে আরও বড় লক্ষ্য সামনে আসে। ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্প নিয়ে ভারত আজ ‘গ্রো মোর, অ্যচিভ মোর’-এর মন্ত্রে এগিয়ে চলেছে।”

  • PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Australia)। মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খনিজ (Critical Minerals), বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলি ভারত-অস্ট্রেলিয়ার কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-কে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতা

    সূত্রের খবর, জ্বালানি ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত-অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিভিল নিউক্লিয়ার এগ্রিমেন্ট-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ায় এবার শান্তিপূর্ণ কাজে ভারতের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে খুলে গেল। ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ভারত অস্ট্রেলিয়ার থেকে এলএনজি (LNG), কয়লা এবং ডিজেল আমদানিও বাড়াবে।

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তি

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, অস্ট্রেলিয়া শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্যে নতুন গতি আনবে। মেলবোর্নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত শুধু ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে অস্ট্রেলীয় ইউরেনিয়াম। দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সরবরাহের উৎস আরও বহুমুখী হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সময় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার।

    শুধু জ্বালানি নয়, কৌশলগত বার্তাও

    ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ খাতের জন্যও এটি নতুন বাজার সৃষ্টি করবে। বাণিজ্যে চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিল্লিকেই নতুন বাজার হিসেবে বেছে নিল ক্যানবেরা। ২০১৪ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহ করা জ্বালানি যাতে শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরেনিয়াম চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি

    প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে তৎপর দুই দেশই। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ডিফেন্স ইনোভেশন করিডর গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের সহযোগিতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছ। সূত্রের খবর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে মেরিটাইম সিকিউরিটি রোডম্যাপ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি ও উপকূলীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ শিক্ষাবর্ষে একজন ভারতীয় সেনা আধিকারিককে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স কলেজে নিয়োগ করা হতে পারে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জয়েন্ট ডিক্লারেশন অন ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কোঅপারেশন ঘোষণা করেছে, যা ২০০৯ সালের নিরাপত্তা ঘোষণার নবীকরণ। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক শিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও বাড়বে। ভারতের কোস্ট গার্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ড-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল

    এছাড়াও ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিটিক্যাল মিনারেল করিডর গড়ে তোলা হবে। সূত্রের খবর, ভারত-অস্ট্রেলিয়া PACTS চুক্তির আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি-সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বাড়াতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাকে নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক প্রযুক্তি অংশীদারিত্বে সম্মতি জানানো হয়েছে। ভারতের গগনযান কর্মসূচিকে সমর্থন করতে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে একটি অস্থায়ী স্পেস ট্র্যাকিং টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশই পরিচ্ছন্ন শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেরত

    অস্ট্রেলিয়া ভারতের হাতে তিনটি মূল্যবান প্রত্নবস্তু ফিরিয়ে দিয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর ১১-১২ শতকের গ্রানাইটের নন্দী মূর্তি, ১১ শতকের ভদ্রকালীর ত্রিশূল এবং ১২ শতকের ষড়ানন কার্তিকেয়ের বাসাল্ট মূর্তি। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের মধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষা, যৌথ কর্মশালা, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইকোনমিক কর্পোরেশন অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ECTA)-এর ইতিবাচক ফলাফলকে স্বাগত জানান। এই সফরে অনুষ্ঠিত সিইও ফোরামে- প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে সবুজ হাইড্রোজেন, সৌর প্যানেল, বায়ু শক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। গান্ধীনগরের পণ্ডিত দীনদয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় রুফটপ সোলার ট্রেনিং অ্যাকাডেমি চালু হচ্ছে যেখানে ২,০০০ মহিলা ও যুবক-যুবতীকে সৌর প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • PM Modi: ‘‘টি২০-র মতো দ্রুত, টেস্টের মতো দীর্ঘ’’, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে ক্রিকেটের উপমা মোদির মুখে

    PM Modi: ‘‘টি২০-র মতো দ্রুত, টেস্টের মতো দীর্ঘ’’, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে ক্রিকেটের উপমা মোদির মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ককে আরও গভীর এবং বহুমাত্রিক বলে উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ক্রিকেটের উপমায় দুই দেশের কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি (India Australia Relations) জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে ক্রিকেট এক বিশেষ কূটনৈতিক ভাষা হিসেবে কাজ করে এবং দুই দেশের বৈঠকও অনেকটা ক্রিকেট ম্যাচের মতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ আমরা বিশ্বের ক্রীড়া রাজধানী মেলবোর্নে রয়েছি। এখানে খেলাধুলার কথা না বলা ঠিক যেন ক্রিকেট ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট বা বল কোনওটাই না করা। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে ক্রিকেট একটি কূটনৈতিক ভাষা।’’

    ক্রিকেটের উপমা (PM Modi)

    তিনি আরও বলেন, ‘‘অনেক দিক থেকেই আমাদের বৈঠক ক্রিকেটের মতো। আমাদের আলোচ্যসূচি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো লক্ষ্যনির্ভর, আমাদের সিদ্ধান্ত কুড়ি ওভারের ম্যাচের মতো দ্রুত, আর আমাদের অংশীদারিত্ব পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের মতো দীর্ঘস্থায়ী এবং গভীর।’’ যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক বছরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশই অলিম্পিক এবং কমনওয়েলথ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের আয়োজন করবে। তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে শুধু দুই দেশের ক্রীড়া সহযোগিতাই আরও শক্তিশালী হবে না, ক্রীড়া পরিকাঠামোয় বিনিয়োগেরও নতুন নতুন সুযোগও তৈরি হবে।’’

    যৌথ বিবৃতি

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁরা সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করে এমন হিংসাত্মক মৌলবাদের সব ধরনের রূপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তাঁরা(PM Modi)। দুই নেতা জানান, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সব দেশের সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ জরুরি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির তালিকাভুক্ত জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের সহযোগী, মদতদাতা এবং অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও ডাকও দেন তাঁরা।

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহমত দুই দেশই

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। জঙ্গি হুমকি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো, অনলাইন উগ্রপন্থা, সন্ত্রাসে নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পহেলগাঁও ও বন্ডাই সমুদ্রসৈকতের হামলা-সহ সব ধরনের জঙ্গি হামলার নিন্দাও করেন তাঁরা। এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দ্রুত বিকাশমান কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরমাণু সহযোগিতার নয়া মাত্রা যুক্ত হল (PM Modi)।

    উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সহযোগিতা

    জানা গিয়েছে, ভারত-অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশই উগ্রপন্থা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের অঙ্গীকার করেছে। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে অনলাইন উগ্রপন্থা, সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে এমন সহিংস চরমপন্থা, নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি, সন্ত্রাসে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো এবং বিস্তৃত সামুদ্রিক অঞ্চলে উদ্ভূত হুমকির মোকাবিলা করা (India Australia Relations)। শীর্ষ বৈঠকে নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার এই নতুন কাঠামো আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

    পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক চুক্তি

    এর আগে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর ফলে দুই দেশের দ্রুত বিকাশমান অংশীদারিত্বে কৌশলগত পারমাণবিক সহযোগিতার একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হল (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গতিশীল হবে বলেই আশা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। এই অংশীদারিত্বই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। এই কাঠামোর ভিত্তিতেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার মেলবোর্নে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে (India Australia Relations) উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ক্যাঙারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সেখানকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

  • PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপরও জোর দেন (India Backs CECA Deal) তিনি।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া-ভারত প্রধান এক্সিকিউটিভ কর্তাদের ফোরাম এবং অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথভাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি এই আহ্বান জানান। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ শিল্পপতি, প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে এক্স হ্যান্ডেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দু’হাজার তেইশ সাল থেকে এই ফোরাম উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি এই আলোচনায় যোগ দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।”

    ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান

    মোদি জানান, বৈঠকে বিমান চলাচল, পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা, আর্থিক পরিষেবা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভারত প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের জন্য অতুলনীয় সুযোগ এনে দিয়েছে। আমি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভারতে বিনিয়োগ এবং নতুন উদ্ভাবনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি (PM Modi)।” ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দ্রুত বিস্তৃত উদ্ভাবনভিত্তিক পরিবেশের কথা তুলে ধরে বলেন, এগুলি অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে (India Backs CECA Deal)।

    ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি

    প্রধানমন্ত্রী এও জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। উৎপাদন শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, খনিশিল্প, পরিকাঠামো, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), আর্থিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের বিশাল বাজার এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষতার সমন্বয় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি লগ্নির সুযোগ কাজে লাগাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান মোদি (PM Modi)। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়ক হবে।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ কাজে লাগানোয় জোর

    অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানেও নরেন্দ্র মোদি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে থাকা স্বাভাবিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, অর্ধপরিবাহী, এআই, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের দু’শোরও বেশি প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক ও শিল্পোদ্যোগী অংশ নেন। মোদি বলেন, “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, দৃঢ় জনসংযোগ এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে মজবুত ভিত তৈরি করেছে (PM Modi)।” ব্যবসায়িক নেতাদের রেয়ার আর্থ খনিজ, লিথিয়াম, ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন, অর্ধপরিবাহী, এআই এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতি

    দু’হাজার বাইশ সালে কার্যকর হওয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তিতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমন্বিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।” তিনি আরও জানান, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে নিজ নিজ বিশেষ দক্ষতাকে ভিত্তি করে গতিশীল অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। বর্তমানে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভিত্তি করে আরও বিস্তৃত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দু’হাজার পঁচিশ-ছাব্বিশ অর্থবর্ষে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দু’হাজার চারশো দশ কোটি মার্কিন ডলার। প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে (India Backs CECA Deal) ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি যাবেন নিউজিল্যান্ডে।

     

  • PM Modi: অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উষ্ণ অভ্যর্থনা বিমানবন্দরেই

    PM Modi: অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উষ্ণ অভ্যর্থনা বিমানবন্দরেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) তাঁর ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্বে বুধবার পৌঁছলেন অস্ট্রেলিয়ায় (Australia Visit)। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। তিন দিনের এই সফরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও মতামত বিনিময় করবেন।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছে এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সঙ্গে আলোচনার জন্য মুখিয়ে রয়েছি। পাশাপাশি প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও পাব, যারা আমাদের অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।” তিনি আরও জানান, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Comprehensive Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী হবে। ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে এদিন অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তির চলাচল এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। সফরে রওনা হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী জানান, উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, ক্রীড়া এবং ক্রীড়াবিজ্ঞান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি হবে এই সফরে।

    নমস্তে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    এদিকে, ভারতে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার ফিলিপ গ্রিন মেলবোর্ন থেকে এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “নমস্তে প্রধানমন্ত্রী মোদি! মেলবোর্ন এখন আপনার সফরকে ঘিরে উৎসাহে মুখর। আমি সবে এখানে পৌঁছেছি এবং চারদিকে উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। অস্ট্রেলিয়া-ভারত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আলোচনা, সংযোগ এবং অগ্রগতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ হতে চলেছে (PM Modi)।” তিনি আরও বলেন, “অনেকের নজর প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের দিকে থাকলেও, আমাদের দুই দেশের বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পর্যায়ের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শক্তিশালী হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব (Australia Visit)। মেলবোর্ন সংস্কৃতির শহর হিসেবেও পরিচিত এবং ভারতের সঙ্গে শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও আমরা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী (PM Modi)।”

     

  • PM Modi in Indonesia Visit: ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিল ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    PM Modi in Indonesia Visit: ঐতিহাসিক প্রাম্বানান মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী মোদি, সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিল ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়া সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi visits Prambanan Temple) বুধবার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে যোগ্যাকার্তার ঐতিহাসিক প্রাম্বানান (Prambanan) মন্দির পরিদর্শন করেন। প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো এই বিশ্ববিখ্যাত হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার যৌথ প্রকল্পেরও সূচনা হয়। মন্দির পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ হেলিকপ্টার থেকে তোলা প্রাম্বানান মন্দিরের মনোরম আকাশপথের একটি ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, “ম্যাজেস্টিক প্রাম্বানান মন্দির!” সফরের আগে তিনি প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করেন। প্রধানমন্ত্রীর এদিন এই মন্দির দর্শনের সঙ্গে সঙ্গেই আরও একবার চর্চায় এসেছে বিভিন্ন দেশে ভারত সরকারের উদ্যোগে মন্দির পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে গত এক দশকে প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক ঐতিহাসিক মন্দির ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারত।

    নবম শতকের স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন

    বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয় ইন্দোনেশিয়া। যেখানে এমন এক সুপ্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে যা ভারতের প্রাচীন সাংস্কৃতিক প্রভাবের স্বাক্ষ্য বহন করে। প্রায় ১,০০০ বছর পুরনো প্রম্বানন শিব মন্দির ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির। জাভা দ্বীপের যোগ্যাকার্তার কাছে অবস্থিত প্রাম্বানান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক অন্যতম হিন্দু স্থাপত্য নিদর্শন। নবম শতকে নির্মিত এই মন্দিরসমূহ শিব, বিষ্ণু ও ব্রহ্মার উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, একাধিক ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং একাদশ শতকে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে মন্দিরগুলির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। পরে ১৭শ শতকে এই স্থাপত্য পুনরাবিষ্কৃত হয়। ২০০৬ সালের জাভা ভূমিকম্পেও মন্দির কমপ্লেক্সের ক্ষতি হয়।

    ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য

    ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাম্বানন মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। ভগবান মহাদেবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এই মন্দির চত্বরটি তার চমৎকার স্থাপত্য এবং জটিল কারুকার্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। মন্দিরের দেওয়ালে রামায়ণের কাহিনি খোদাই করা আছে। যা ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তুলে ধরে। প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সে মোট ২৪০টি মন্দিরের কাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রাঙ্গণে রয়েছে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মন্দির। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ৪৭ মিটার উঁচু শিব মন্দির, যার পাশে রয়েছে ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মন্দির। ইউনেস্কো এই মন্দির কমপ্লেক্সকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতি দিয়েছে। মন্দিরের পাথরের গায়ে খোদাই করা রয়েছে ইন্দোনেশীয় সংস্করণে রামায়ণের বিভিন্ন কাহিনি। প্রতি বছর মে থেকে অক্টোবর মাসের পূর্ণিমার রাতে মন্দিরের দক্ষিণ প্রান্তে খোলা মঞ্চে বিখ্যাত রামায়ণ ব্যালে মঞ্চস্থ হয়।

    সংরক্ষণে ভারত-ইন্দোনেশিয়ার যৌথ উদ্যোগ

    সফর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘোষণা করেন, প্রাম্বানান মন্দির কমপ্লেক্সের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে। এই প্রকল্পে ভারতের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (ASI) ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বে প্রাম্বানান কমপ্লেক্সের একাধিক ছোট মন্দিরের সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনের কাজ করবে। এই উদ্যোগ দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক নতুন নয়। ঐতিহাসিকদের মতে, বহু শতাব্দী আগে ভারতীয় বণিক থেকে শুরু করে সাধু ও পণ্ডিতগণ সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণ করেছিলেন। তাঁরা নিজেদের সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম এবং ঐতিহ্য নিয়ে এসেছিলেন। এই কারণেই আজও ইন্দোনেশিয়ায় রামায়ণ ও মহাভারত মঞ্চস্থ হয় এবং একাধিক জায়গায় হিন্দু সংস্কৃতির ঝলক দেখা যায়। ১৯৯১ সাল থেকে মন্দিরটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রম্বানন মন্দিরটি নবম শতাব্দীতে হিন্দু মাতারাম (মেদাং) সাম্রাজ্যের শাসক রাকাই পিকাতান নির্মাণ করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, মন্দিরটির নির্মাণকাজ আনুমানিক ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়েছিল।

    প্রাম্বানন মন্দিরে পূজার্চনা মোদির

    শুধু পরিদর্শন নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন প্রাম্বানন মন্দিরে পূজার্চনাও করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট যৌথভাবে ‘প্রাম্বানন মন্দিরের জন্য ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ’ প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমার সৌভাগ্য যে, আমি সর্বদা ভগবান শিবের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ পাই। আমার জন্ম হয়েছিল ভাদনগরে, যেখানে হাতকেশ্বর মহাদেব বিরাজমান। সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ হলো প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ এবং এটি গুজরাটে অবস্থিত; এর উন্নয়নের প্রত্যক্ষ দায়িত্ব আমার ওপর ন্যস্ত। আমার নির্বাচনী এলাকা কাশী (বারাণসী)-তে রয়েছে কাশী বিশ্বনাথ মহাদেব, যাঁর আশীর্বাদ আমি সর্বদা পেয়েছি। কেদারনাথ বা উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরের পুনর্নির্মাণই হোক কিংবা এখানে আমার আগমন-এই সব ক্ষেত্রেই সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু করার সুযোগ আমি পেয়েছি। আমি একে পরম সৌভাগ্য বলে মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমার সফরের আজ তৃতীয় দিন, কিন্তু এখানকার জীবনযাত্রা, কথাবার্তা ও বাতাসে সংস্কৃতির এক সুবাস পাওয়া যাচ্ছে-এমন এক সুবাস যা আমরা ভারতে প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই সুবাসই আমাদের একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করে। এখানকার মানুষ যেভাবে এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করেছেন, তার জন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাই। তাই, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এবং এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী সকল শাসককে আমি এর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

  • PM Modi Visit: চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম সরবরাহ, বিরল খনিজ চুক্তি, মোদির সফরে মিলতে পারে বড় সুখবর

    PM Modi Visit: চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম সরবরাহ, বিরল খনিজ চুক্তি, মোদির সফরে মিলতে পারে বড় সুখবর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (Uranium Supply Pact) গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পৌঁছতে পারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Visit) অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন সফরে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে ভারতের অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম আমদানির দুয়ার খুলে যাবে। এর ফলে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান পরিচ্ছন্ন জ্বালানির চাহিদা পূরণে বড় রকমের সুরাহা হবে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া গত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিক ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ সংক্রান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ের কারণে বাণিজ্যিকভাবে ইউরেনিয়াম রফতানি শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই জটিলতা এখন অনেকটাই কেটে গিয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি (PM Modi Visit)

    ভারত আগামী কয়েক দশকে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে দ্রুত পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়াম শুধুমাত্র ভারতের অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিধি মেনে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, তেমনি অন্যদিকে, নির্ভরতা কমবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর।মেলবোর্ন সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম (PM Modi Visit) সরবরাহ চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব বিশ্বেশ নেগি বলেন, “সাম্প্রতিক আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় এই আলোচনার যৌক্তিক পরিণতি হবে (Uranium Supply Pact) বলেই আমরা আশাবাদী।”

    ভারতের লাভ

    এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির জন্য নির্ভরযোগ্য ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন এবং শিল্প, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) এবং তথ্যকেন্দ্র খাতের বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণেও সহায়ক হবে। গত কয়েক বছরে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে। ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি দুই দেশের বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    বিরল খনিজ নিয়েও হতে পারে বড় চুক্তি

    প্রধানমন্ত্রীর তিন দিনের সফরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রেয়ার আর্থ খনিজের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এই খনিজগুলি সামরিক সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ুচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, স্মার্টফোন এবং উচ্চ প্রযুক্তির চুম্বক তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বিশ্বের রেয়ার আর্থ খনিজ উত্তোলনের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াকরণের প্রায় ৯০ শতাংশই চিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রফতানিতে চিনের বিধিনিষেধের ফলে বিকল্প সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বহু (PM Modi Visit) দেশ। ভারত ইতিমধ্যেই প্রায় ৮০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে উচ্চ প্রযুক্তির চুম্বক উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। লক্ষ্য, বছরে প্রায় ৬ হাজার টন উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করা (Uranium Supply Pact)। অস্ট্রেলিয়ার রেয়ার আর্থ খনিজ সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ ট্র্যাভিস বেইঙ্কে বলেন, “আমাদের প্রকল্প থেকে কাঁচামাল সরবরাহের বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকেও এমন আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।” অন্যদিকে আরাফুরা রেয়ার আর্থ সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ ড্যারিল কাজুব্বো বলেন, “ভারত তাদের উৎপাদন শিল্পের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভারত সরকারের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।”

    ২০৪৭ সালের বড় লক্ষ্য

    ভারত বর্তমানে প্রায় ৮ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। ২০৪৭ সালের মধ্যে এই উৎপাদন ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এআই এবং তথ্যকেন্দ্র শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে আগামিদিনে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে, বিশ্বের মোট পরিচিত ইউরেনিয়াম মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও, বিভিন্ন রাজ্যে খনন নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশটির উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় কম। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ইউরেনিয়াম উৎপাদক হল বিএইচপি, যারা দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অলিম্পিক ড্যাম খনিতে তামার পাশাপাশি ইউরেনিয়ামও উৎপাদন করে (PM Modi Visit)। অস্ট্রেলিয়ার খনিজ পরিষদের সভাপতি টানিয়া কনস্টেবল বলেন, “এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি বড় অগ্রগতি। ভারতের উচ্চাভিলাষী পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে আমাদের ইউরেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। এটি প্রমাণ করে যে অস্ট্রেলিয়ার খনিজ সম্পদ ভারতের কাছে (Uranium Supply Pact) কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” অস্ট্রেলিয়ার খনিজ পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে দেশটি ইউরেনিয়াম রফতানি করে রোজগার করেছে প্রায় ১২০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার (PM Modi Visit)।

     

  • PM Modi: “দুই দেশই বৈচিত্র্যকে জাতীয় ঐক্যের মূল শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে”, ইন্দোনেশিয়ার সংসদে বললেন মোদি

    PM Modi: “দুই দেশই বৈচিত্র্যকে জাতীয় ঐক্যের মূল শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে”, ইন্দোনেশিয়ার সংসদে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ (Indonesian Parliament Speech) দিয়ে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি, স্বাধীনতা সংগ্রামের পারস্পরিক বন্ধন এবং বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের মূল্যবোধের ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ দেওয়া প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বলেন, “দুই দেশই বৈচিত্র্যকে নিজেদের জাতীয় ঐক্যের মূল শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।”

    প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘ সময় বিদেশি শাসনের অধীনে ছিল, এবং স্বাধীনতাও লাভ করে প্রায় একই সময়ে। তিনি বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন যখন আন্তর্জাতিক স্তরে উঠেছিল, তখন ভারত দৃঢ়ভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে সুর চড়িয়েছিল।’’

    প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ১৯৫০ সালে ভারতের প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি সুকর্ণ ছিলেন প্রধান অতিথি। ১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলনে সুকর্ণ ও জওহরলাল নেহরু স্বাধীন দেশগুলির নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সার্বভৌম অধিকারের পক্ষে বিশ্ববাসীর সামনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেছিলেন। ওই সম্মেলনে এশিয়া ও আফ্রিকার ২৯টি নতুন স্বাধীন দেশ অংশ নিয়ে ঔপনিবেশিকতার বিরোধিতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলে, যা পরবর্তী কালে (PM Modi) জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করে।

    মোদি কিংবদন্তি বৈমানিক বিজু পট্টনায়ক এবং তাঁর সহ-পাইলট স্ত্রী জ্ঞানবতী পট্টনায়কের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার পর ডাচ শাসকদের হুমকি উপেক্ষা করে (PM Modi) তাঁরা ডাকোটা বিমান উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সুতান সজাহরির ও উপরাষ্ট্রপতি মহম্মদ হাত্তাকে নিরাপদে ভারত নিয়ে এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিজু পট্টনায়কের সাহস ও দৃঢ়তা আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরও (Indonesian Parliament Speech) গভীর ও মজবুত করেছিল।’’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গত দু’দশকে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত গতিতে এগিয়েছে, এবং এর ফলে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। ভারতের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতাও ঠিক একই বার্তা বহন করে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। গত এক দশকে ভারতে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছেন।’’ ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার উন্নয়নের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে দুই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ।

  • India Indonesia Ties: নতুন উচ্চতায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক! ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত জাকার্তার

    India Indonesia Ties: নতুন উচ্চতায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক! ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত জাকার্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন উচ্চতায় পৌঁছল ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক (India Indonesia Ties)। দু দিনের বাণিজ্যিক সফরে ইন্দোনেশিয়া (BrahMos Deal)গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals), প্রযুক্তি, ডিজিটাল সংযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) এবং শিক্ষা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, ইন্দোনেশিয়ার ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যাস্ট্রা বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত।

    ব্রহ্মোস নিয়ে চুক্তি

    ইন্দোনেশিয়া ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম কিনতে প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের বড় চুক্তি করেছে। ফিলিপিন্সের পর দ্বিতীয় এশিয়া মহাদেশের দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া এই অত্যাধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করল। কূটনীতিকদের একাংশের মতে পাকিস্তান, চিন এবং বাংলাদেশকে আটকাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশের সঙ্গে এই কৌশলগত সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই চুক্তি শুধু অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রতীক।” প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও এই চুক্তিকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাইলফলক বলে অভিহিত করেন। ব্রহ্মোস চুক্তির আওতায় ভারতের ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল) বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা রিপাবলিকর্পের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই মিসাইল সিস্টেম ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। সুপারসনিক গতির এই ক্রুজ মিসাইল সমুদ্র ও স্থল উভয় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইন্দোনেশিয়া এর আগে ব্রহ্মোসের কিছু সংস্করণ কিনলেও এবারের চুক্তি আরও বড় আকারের এবং অতিরিক্ত ব্যাটারি সংযোজনসহ।

    ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ নিয়ে আশ্বাস

    একই বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ (Astra) নিয়ে। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক মিসাইল ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর সু-৩০ ফাইটার জেটে যুক্ত করা হবে। এর ফলে ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীর আকাশ যুদ্ধের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। অস্ত্র মিসাইল দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম এবং আধুনিক যুদ্ধবিমানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। ইন্দোনেশিয়া এই অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ এবং তার সমুদ্রসীমা বিশাল। ব্রহ্মোস ও অস্ত্রের মতো অস্ত্র সংগ্রহ তাদের নৌ ও বিমান শক্তিকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে।

    নতুন যুগের সূচনা

    মঙ্গলবার জাকার্তার মেরদেকা প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Jakarta) এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তিন দেশের সফরের প্রথম পর্যায় হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করবেন। যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “২০১৮ সালে গড়ে ওঠা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। উন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমি নিশ্চিত, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা হল।”

    সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে চুক্তি

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কোস্ট গার্ড ভারত মহাসাগরে যৌথভাবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করবে। দুই দেশই একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। ভারত সবসময়ই আসিয়ান (ASEAN)-এর কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।” অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এমন একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল চায়, যা হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত

    বৈঠকে প্রতিরক্ষার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, স্বাস্থ্য, টেলিকম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, নির্বাচন পরিচালনা এবং মহাকাশ সহযোগিতা-সহ প্রায় এক ডজন ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হল ক্রিটিক্যাল মিনারেলস নিয়ে অংশীদারিত্ব। ভারত ইন্দোনেশিয়ার স্টিল, নিকেল এবং রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করবে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    সাবাং বন্দরের উন্নয়ন

    এছাড়া মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর যৌথভাবে উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের কাছাকাছি অবস্থিত এই বন্দর ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বন্দর উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ায় ইউপিআই

    দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) বেঙ্গালুরু ইন্দোনেশিয়ায় তাদের একটি ক্যাম্পাস স্থাপন করবে। পাশাপাশি ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI)-কে ইন্দোনেশিয়ার ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও পর্যটকদের লেনদেন আরও সহজ হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারতের ইউপিআই ইন্দোনেশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে। এর ফলে ব্যবসা করা যেমন সহজ হবে, তেমনই ভ্রমণকারীদের জন্যও আর্থিক লেনদেন অনেক সুবিধাজনক হবে।”

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে ভারত মনে করে, সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্ব আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারত এখনও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান (Two-State Solution) এবং স্থায়ী শান্তির পক্ষে তার অবস্থান বজায় রেখেছে।” ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত চুক্তিগুলি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই আরও মজবুত করবে না, বরং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

     

     

     

     

LinkedIn
Share