Tag: Rajya Sabha

Rajya Sabha

  • India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ খনিজের (Critical Minerals) নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও কৌশলগত তৎপরতা আরও জোরদার করেছে ভারত (India)। অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে নয়াদিল্লি। ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে এ কথা জানান বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করতে ভারত ধারাবাহিকভাবে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের যৌথ উদ্যোগে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    কী বললেন মন্ত্রী (India)

    মন্ত্রীর কথায়, “পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, অর্ধপরিবাহী উৎপাদন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলিতে নির্ভরযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ক্রমাগত দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের সমন্বিত সহযোগিতা জোরদার করার কাজ করছে।” তিনি জানান, খনিজ পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, উচ্চমানের খনিজের দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রাখতে টেকসই পদ্ধতির প্রসারের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ভারত অংশীদার দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলির সঙ্গে কাজ করছে। মার্ঘেরিটা বলেন, “নির্ভরযোগ্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।”

    জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন

    বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন খনিজ নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের উত্তরসূরি হিসেবে গঠিত দায়িত্বশীল ভূ-কৌশলগত সম্পৃক্ততা মঞ্চ এবং চতুর্দেশীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাঠামোর উদ্যোগগুলিতে ভারত অংশ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত করা। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে স্থিতিস্থাপক ও বহুমুখী খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সম্পূর্ণ সরবরাহ-শৃঙ্খল জুড়ে গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে। দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন চালু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় খনিজ অনুসন্ধান, উত্তোলন, আকরিক থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান পৃথকীকরণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পণ্য থেকে খনিজ পুনরুদ্ধার—পুরো প্রক্রিয়াটিকেই শক্তিশালী করার (India) লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ

    মন্ত্রী আরও জানান, “বর্জ্য থেকে খনিজ পুনর্ব্যবহার, প্রযুক্তি বিনিময় এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক গবেষণার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।” জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশনের অধীনে বর্জ্য ও বাতিল ধাতব সামগ্রীর মতো দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণের জন্য পুনর্ব্যবহার ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আর্থিক উৎসাহমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর (Critical Minerals) ফলে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র (India)।

     

  • PM Modi on Paper Leak: ‘‘পেপার লিক মাফিয়াদের রেয়াত নয়’’ ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi on Paper Leak: ‘‘পেপার লিক মাফিয়াদের রেয়াত নয়’’ ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘দেশের নবীন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে, তাদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।’’ ফের ভিডিও বার্তায় প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংসদে পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিন্স) সংশোধনী বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi on Paper Leak) বলেন,‘‘পেপার লিক মাফিয়া ও দেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা খেলা করেছে তাদের ছাড়া হবে না।’’ প্রধানমন্ত্রী জানান, বহু দশক ধরে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্নফাঁসের মতো সমস্যার মোকাবিলা করে এসেছে। এই ধরনের অপরাধ লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করেছে। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ধারাবাহিকভাবে সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্র।

    শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন সময়ের দাবি

    লোকসভায় বুধবারই প্রশ্নফাঁস-বিরোধী সংশোধনী বিল (পাবলিক এগজামিনেশন-প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস্— অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬) পাস হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার তা রাজ্যসভাতেও পাস হয়েছে। তার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন করে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে ওই ভিডিওতে তিনি জানিয়েছেন, দেশের পরীক্ষা পদ্ধতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ভাবেই ধীরে ধীরে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে তাঁর সরকার। মোদি বলেন, ‘‘পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রাজ্যগুলির পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছি। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে পরীক্ষায় দুর্নীতি রোধ করতে হবে।’’

    দু’মিনিটের ভিডিও বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    ২০২৪ সালের প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিলে কিছু সংশোধন করে এই সংক্রান্ত অপরাধে শাস্তি প্রায় দ্বিগুণ করতে চাইছে সরকার। খসড়া বিলে মন্ত্রিসভা আগেই অনুমোদন দিয়েছিল। তা গত সোমবার লোকসভায় পেশ করা হয়। দু’দিন আলোচনার পর বুধবার ধ্বনি ভোটে লোকসভায় ওই বিল পাস হয়েছিল। রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে তা পাস হয়েছে বৃহস্পতিবার। বিল সংসদের উচ্চ কক্ষে পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী দু’মিনিটের ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘‘দেশের পরীক্ষা পদ্ধতিকে নির্ভরযোগ্য করে তোলার জন্য টাস্ক ফোর্স গঠন থেকে শুরু করে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত— অনেক কিছু করা হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রত্যেক রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই ধরনের প্রশ্নফাঁসের সমস্যা হচ্ছে। এতে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বার বার বিপন্ন হচ্ছে। দেশব্যাপী, রাজ্য এবং কেন্দ্রের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন অনিবার্য।’’

    কঠোর আইনই একমাত্র পথ

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাঁর কথায়, ‘‘পেপার মাফিয়া ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত চক্র, যারা দেশের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে, তাদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন অত্যন্ত প্রয়োজন।’’ সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর এবার কেবল রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষা। তা পেলেই বিলটি আইনে পরিণত হয়ে যাবে।

    ‘পরীক্ষা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

    সংসদের দুই কক্ষেই বিলটি নিয়ে দু’দিন ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘প্রশ্নফাঁস যারা ঘটাচ্ছে, এই ধরনের কোনও গোষ্ঠীকে বরদাস্ত করা হবে না। তার জন্য কঠোর আইন জরুরি। আমরা সেই মতো সংসদে বিল পেশ করেছিলাম। সংসদের দুই কক্ষেই অনেক সদস্য এই সংক্রান্ত আলোচনায় যোগ দিয়েছেন। আজ উভয় কক্ষে বিলটি পাস হয়েছে। পরীক্ষা পদ্ধতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ মিটল। এই ধরনের কাজ চলতে থাকবে। আসুন আমরা সকলে মিলে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন পূরণ করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলি।’’

    কী আছে সংশোধনী বিলটিতে?

    এই বিলে প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনও অনিয়মে কঠোর শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে। রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির হাতে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের কার্যক্রমেও জোর দেওয়া হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত বা পরীক্ষায় যে কোনও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল হতে পারে। ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানারও বিধান রয়েছে। তা ছাড়া, সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে এই বিলে ন্যূনতম সাত বছরের জেল এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম হলে তার মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ২০২৪ সালের আগে ছিল না। প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত বিতর্কের মুখে ওই বছর আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তার প্রাথমিক লক্ষ্যই হল ইউপিএসসি, এসএসসি, রেল, ব্যাঙ্কিং সেক্টরে নিয়োগের পরীক্ষা, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) দ্বারা পরিচালিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁস ঠেকানো। এ বার সেই পুরনো আইন সংশোধন করে শাস্তির পরিধি আরও বিস্তৃত করছে সরকার। কেন্দ্র সরকারের দাবি, এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করা হবে এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

  • BJP: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, রাহুলের আচরণকে ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’ বললেন নিতিন নবীন

    BJP: প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, রাহুলের আচরণকে ‘নৈরাজ্যের রাজনীতি’ বললেন নিতিন নবীন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শতাব্দীপ্রাচীন দলের নেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP) নিতিন নবীন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, কেসি বেণুগোপাল এবং পবন খেরার নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার পদে থেকে রাহুল গান্ধীর আচরণ সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়”।

    নৈরাজ্যের প্রতীক (BJP)

    নিতিন নবীন বলেন, “রাহুল গান্ধীর আচরণ থেকেই স্পষ্ট, তিনি বিরোধী দলনেতার পদের মর্যাদাকে গুরুত্ব দেন না। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, রাহুল গান্ধী ক্রমশ নৈরাজ্যের প্রতীক হয়ে উঠছেন। সংসদের কিছু সাংবিধানিক পদ কোনও একক দলের সম্পত্তি নয়। প্রধানমন্ত্রী শুধু একটি দলের নেতা নন, তিনি ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধি। আজ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীদের আচরণ এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা প্রমাণ করে, এটি মতপার্থক্যের রাজনীতি নয়, বরং নৈরাজ্যের রাজনীতি। আরও উদ্বেগের বিষয়, প্রবীণ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।”

    বিজেপি সীমা লঙ্ঘন করেনি

    তিনি এও বলেন, “আমরাও দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে ছিলাম, কিন্তু কখনও এই ধরনের সীমা লঙ্ঘন করিনি। রাহুল গান্ধী যে শর্ত দিয়েছিলেন, তা মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার পর বিরোধী দলনেতার সেই অবস্থান থেকে সরে আসা দুর্ভাগ্যজনক। সংসদের ভেতরে যে কোনও ধরনের আলোচনার জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত। কিন্তু শিষ্টাচার ভঙ্গ এবং বিরোধী শিবিরে যে নৈরাজ্যবাদী মানসিকতা তৈরি হচ্ছে, তা দেশকে উদ্বিগ্ন করছে। দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর পাশে রয়েছেন।”

    ব্যাহত লোকসভা-রাজ্যসভার কার্যক্রম

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নিকে আটক করে। নিরাপত্তারক্ষীদের দেখা যায় রাহুলকে পুলিশের বাসে করে তুলে নিয়ে যেতে (BJP)। সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবও ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁকেও পুলিশ আটক করে। সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “ওরা ভীতু। ওরা আমাদের ভয় পায়। কিন্তু আমরা ওদের ভয় পাই না (Rahul Gandhi)।” এদিকে, নিট-স্নাতক স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের হট্টগোলের জেরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো (BJP) লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

     

  • Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করলে হবে জেল-জরিমানা! সংসদে আসছে নয়া বিল

    Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করলে হবে জেল-জরিমানা! সংসদে আসছে নয়া বিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে (Vande Mataram) জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পথে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে একটি সংশোধনী বিল আনার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র, যার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান (Jail Law India Bill) করা বা গানটি গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রস্তাবিত আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেরই বিধান রাখা হয়েছে।

    ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর আওতায় জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে এই আইনের অধীনে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’কে ইচ্ছাকৃত অবমাননা বা অসম্মান থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া বা গান বন্ধ করে দেওয়াও এই আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পাবে ‘বন্দে মাতরম’ও। জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। ২০ জুলাই শুরু হবে সংসদের বাদল অধিবেশন। তখনই বিলটি পেশ করা হতে পারে। বিলটি প্রথমে লোকসভা এবং পরে রাজ্যসভায় পাস হতে হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই তা আইনে পরিণত হবে এবং সংশোধিত বিধান কার্যকর হবে।

    বন্দে মাতরম’কে জাতীয় প্রতীকের সমান আইনি সুরক্ষা

    প্রস্তাবিত আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’কে অপমান করা বা গানটির পরিবেশন ব্যাহত করার ঘটনাকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। দুর্ঘটনাজনিত কোনও ভুল, অনিচ্ছাকৃত আচরণ বা প্রকৃত ভুলবশত ঘটে যাওয়া ঘটনার ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সচেতনভাবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতীয় গানকে অসম্মান করেছেন বা গান পরিবেশন বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন (Jail Law India Bill)। কেন্দ্রের মতে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘বন্দে মাতরমে’র গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে এই গান অসংখ্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে, প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই জাতীয় গানকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতীকের সমান আইনি মর্যাদা ও সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Vande Mataram)।

    জাতীয় চেতনায় বিশেষ স্থান বন্দে মাতরমের

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জাতীয় সঙ্গীত, ‘বন্দে মাতরম’, বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য সঙ্গীত এবং ভিনদেশের জাতীয় সঙ্গীত সরকারি অনুষ্ঠানে কীভাবে পরিবেশন করা হবে, সেই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সর্বত্র একই ধরনের সম্মান ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল ওই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য। তার কিছুদিনের মধ্যেই ‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠে’ প্রথম এই গান প্রকাশিত হয়। পরবর্তী কালে এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সেই কারণেই গানটি আজও দেশের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনায় বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে (Jail Law India Bill)। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ হলেও, ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃত। বর্তমানে গানটির প্রথম দুটি স্তবকই সরকারিভাবে স্বীকৃত এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাবেশে এই অংশই সাধারণত গাওয়া হয়। নতুন সংশোধনী আইন কার্যকর হলে জাতীয় সঙ্গীতের মতো জাতীয় গানকেও আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হবে।

    ‘বন্দে মাতরমে’র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দেড়শো বছর পূর্তি

    প্রস্তাবিত সংশোধনী এমন এক সময়ে আনা হচ্ছে, যখন ‘বন্দে মাতরমে’র ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দেড়শো বছর পূর্তি পালন করা হচ্ছে। ফলে এই আইন কেবল প্রশাসনিক বা আইনি পদক্ষেপ হিসেবেই নয়, ঐতিহাসিক ও প্রতীকী দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছে কেন্দ্র। তবে বিলটি এখনও আইন হয়ে যায়নি। সংসদের উভয় কক্ষে তা নিয়ে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাবও উঠতে পারে। উভয় কক্ষের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললেই সংশোধনী কার্যকর হবে। সেই পর্যন্ত এটি একটি প্রস্তাবিত আইন হিসেবেই বিবেচিত হবে। আইনটি কার্যকর হলে ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১’-এর পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। এর ফলে জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ও একই ধরনের আইনি সুরক্ষা পাবে। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় গানকে অপমান করা বা গান পরিবেশনে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে এবং আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে (Vande Mataram)।

    কী বলছে কেন্দ্র

    কেন্দ্র সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জাতীয় প্রতীকগুলির প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে আরও (Jail Law India Bill) দৃঢ়ভাবে সংরক্ষণ করা। সংসদের বাদল অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল নিয়ে কী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয় (Vande Mataram), এখন তা-ই দেখার।

     

  • Koel Mallick: রথযাত্রার সকালে ধাক্কা তৃণমূলের! রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক

    Koel Mallick: রথযাত্রার সকালে ধাক্কা তৃণমূলের! রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক। রথের দিন (১৬ই জুলাই) বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন অভিনেত্রী কোয়েল অর্থাৎ রুক্মিনী মল্লিক (Koel Mallick)। তার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সম্প্রতি ভূপেন্দ্রের হাত ধরেই রাজ্যসভার তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। তাঁদের তিন জনকেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে বিজেপি। এ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কোয়েলের সাক্ষাতের পরেই জল্পনা, তবে কি তিনিও বিজেপি-তে যাচ্ছেন!

    ইস্তফাপত্র জমা দিলেন কোয়েল

    সূত্রের খবর, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণণের কাছে ইমেল করে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন কোয়েল। কিন্তু নিয়ম অনুসারে, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিতে হলে সাংসদকে সশরীরে হাজিরা দিতে হয়। সেই মতো বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের হাতে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দেন রুক্মিণী, যিনি কোয়েল নামেই সমধিক পরিচিত। তার পরেই তিনি দেখা করেন ভূপেন্দ্রের সঙ্গে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পরে এক বারও সংসদের কোনও অধিবেশনে যোগ দেওয়া হয়নি কোয়েলের। সোমবার থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সাংসদপদ পাওয়ার পরে সেটাই হতে পারত কোয়েলের প্রথম অধিবেশন। কিন্তু তার আগেই তিনি ইস্তফা দিলেন। তবে, মনে করা হচ্ছে বাদল অধিবেশনের আগেই তাঁকে বিজেপি থেকে ওই আসনে প্রার্থী করা হতে পারে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরেই কোয়েলের দূরত্ব বাড়ছিল। সূত্রের খবর, অভিনেত্রী বিদেশে থাকায় ইস্তফা দিতে কিছুটা সময় লেগেছে, তবে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। কোয়েল মল্লিকের এই দলবদলকে তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন অনেকে। মল্লিক পরিবারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং টলিউডের ওপর কোয়েলের প্রভাব বিজেপির পালে বাড়তি হাওয়া দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, বর্তমানে টলিউডের সঙ্গে দুর্নীতির নানা অভিযোগ জড়িয়ে পড়ার আবহে কোয়েলের মতো একজন হেভিওয়েট তারকার বিজেপিতে যোগদান পদ্মশিবিরের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

    গুঞ্জনই সত্যি হল

    রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। তার কয়েক দিন আগে তদানীন্তন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান নিয়ে মল্লিকবাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে এপ্রিল মাসে দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদপদে শপথ নিতে যান কোয়েল। সঙ্গে ছিল তাঁর গোটা পরিবার। শপথের পরে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা— এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি যে, আমার নাম মনোনীত হয়েছে এবং আমি এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় আসতে পেরেছি।” রাজ্যে পালা বদলের পর গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে গুঞ্জন ছিল, তৃণমূলের আরও এক তারকা সাংসদের সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের দূরত্ব বাড়ছে। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, সেই তিনি হলেন প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।

    রইল বাকি ৯

    গত ৬ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। তিন মাসেই পদত্যাগ! যদিও ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের রাজনৈতিক বৃত্তের ছবিটাই রাতারাতি বদলাতে শুরু করে। লোকসভার সিংহভাগ সাংসদই তৃণমূল ছেড়েছেন। এখন রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে রইলেন বাবুল সুপ্রিয়, মেনকা গুরুস্বামী, রাজীব কুমার, নাদিমুল হক, মমতাবালা ঠাকুর, সাগরিকা ঘোষ, ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম।

    ভূপেন্দ্রর প্রচ্ছন্ন ভূমিকা

    গত ৯ জুলাই বিজেপি-তে যোগ দেন সুখেন্দু, সুস্মিতা, প্রকাশ। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন জনকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী করে বিজেপি। উল্লেখ্য, সুস্মিতা, প্রকাশ চিক এবং সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগের কারণে রাজ্যসভার তিনটি আসন খালি হয়। তাঁদেরই আবার ওই আসনে প্রার্থী করে পাঠায় বিজেপি। অর্থাৎ, প্রার্থীরা একই, কেবল দল বদলে যায়। ভোট হয়নি। শুক্রবার ওই তিন জনের হাতে রাজ্যসভার সাংসদপদের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। অনুমান করা হচ্ছে, কোয়েলও সেই পথেই হাঁটবেন। এর আগে ভূপেন্দ্রের হাত ধরেই তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন। জুন মাসে ভূপেন্দ্রের দিল্লির বাড়িতেই দফায় দফায় বৈঠক করে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। নেতৃত্বে ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তার পরেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানান, তাঁদের ব্লক এনসিপিআই-এ মিশে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, বিদ্রোহীদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের নেপথ্যে অন্যতম ভূমিকা ছিল ভূপেন্দ্রের।

  • Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    Rajya Sabha: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভার ১৯টি আসনে জয় এনডিএ-র, শক্তি বাড়ল উচ্চকক্ষে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য পেল বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। বৃহস্পতিবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি ও তার সহযোগী দলগুলি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে, বিশেষ করে কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল। এবারের নির্বাচনে মোট ২৪টি আসনে কোনও ভোটগ্রহণ ছাড়াই প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬টি আসন ছিল এনডিএ-র দখলে, আর বাকি ৮টি আসন বিরোধী শিবিরের হাতে ছিল।

    কোথায় কার কত আসন

    আন্ধ্রপ্রদেশে চারটি আসনের সবকটিই জিতেছে এনডিএ। এর মধ্যে তিনটি আসন পেয়েছে তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং একটি আসন গেছে জনসেনা পার্টির ঝুলিতে। গুজরাটেও চারটি আসনের সবকটিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। এর ফলে কংগ্রেসের দখলে থাকা একটি আসনও বিজেপি পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে। রাজস্থানে বিজেপির সতীশ পুনিয়া ও অলকা গুর্জর এবং কংগ্রেসের নীরজ ডাঙ্গি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সেখানে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও শাসক দলগুলির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। মিজোরামে শাসক জোরাম পিপলস মুভমেন্ট (জেডপিএম) একটি আসন জয়ের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, মেঘালয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এবং অরুণাচল প্রদেশে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসন নিশ্চিত করেছে।

    মধ্যপ্রদেশ-ঝাড়খণ্ডে বিতর্ক

    সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। সেখানে রাজ্যসভার তিনটি আসনের মধ্যে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়নপত্র পুনর্বহাল করা হয়নি। রিটার্নিং অফিসারের এই সিদ্ধান্তকে ‘পরিকল্পিত’ ও ‘অন্যায়’ বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, যে আইনি নোটিশের ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তা কোনও সরকারি এফআইআর ছিল না। ঝাড়খণ্ডের দুটি আসন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেখানে নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নাথওয়ানির বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর মনোনয়নপত্রে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। বিরোধীরা না মানলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রাজ্যসভা নির্বাচন একদিকে এনডিএ-র সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় তুলে ধরেছে।

  • Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি যদি অভিষেকের ওপরই নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গেই থাকুন। আর যদি তাঁর থেকে দূরে সরে আসেন, তাহলে আমি আপনার পাশে আছি।” বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata TMC Rebellion)। মমতার হাতে গড়া সাধের তৃণমূলে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় এমনিতেই শ্যাম রাখি না কূল দশা তৃণমূল সুপ্রিমোর।

    ‘ভাইপো কালচারে’র জের! (Mamata TMC Rebellion)

    এহেন আবহে কল্যাণের এই হুমকি বার্তায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতারা। তৃণমূলে ‘ভাইপো কালচার’ শুরুর পর থেকেই বইতে শুরু করেছিল অশান্তির চোরাস্রোত। তবে সে সবকে কোনওদিনই পাত্তা দেননি (Kalyan Banerjee) দলনেত্রী। উল্টে সাপ এবং ব্যাঙ-দু’পক্ষকেই তাঁবে রাখতে একের পর এক ‘গেম’ খেলে গিয়েছেন তিনি। তবে তাতে যে বিশেষ কাজ হয়নি, তার প্রমাণ মিলল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গাড্ডায় পড়তেই। ভেঙে দু’খান হয়ে গেল কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার ‘কারিগর’ মমতার দল।

    অভিষেককে নিশানা কল্যাণের

    এদিন কল্যাণ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবী নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে ‘ভাতিজা’র বিরুদ্ধে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর তিনি যে অভিষেকের হয়ে কোনও মামলায় সওয়াল করবেন না, তাও জানিয়ে দেন এই তৃণমূল সাংসদ। অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “ওঁর অহংকারী মনোভাবের কারণেই দলের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উনি কাউকেই সম্মান করতে জানেন না।” তিনি জানান, দলের প্রবীণ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, মমতা এখনও ফোন করেননি। তবে তিনি যে তৃণমূলের অন্যান্য সাংগঠনিক ও আইনি বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন, তাও জানিয়ে দিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা।

    ফাটল চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে

    এদিকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। গত তিনদিনে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ। বুধবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক। ৮ জুন ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। আর ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। প্রকাশ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে তাঁকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ আরও চড়েছে।এদিকে, তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনও সংযুক্তির জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। যদিও বুধবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন (Mamata TMC Rebellion) অভিষেক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের সঙ্গে সমর্থন রয়েছে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, লোকসভায় ২০ জন সাংসদ পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। এ থেকেই (Kalyan Banerjee) স্পষ্ট, তৃণমূলের ছত্রখান হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

     

  • Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। সেই সংকটের মাঝেই বুধবার (১০ জুন) তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই দিনে দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সুস্মিতা দেবের পদত্যাগকে অনেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে চলা বৃহত্তর বিদ্রোহের অংশ হিসেবে দেখছেন। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    কে এই সুস্মিতা দেব?

    সুস্মিতা দেব দেশের এক সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। তাঁর মা বীথিকা দেব অসমের শিলচর কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সুস্মিতা। ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে অসমের শিলচর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে শিলচর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের অন্যতম সক্রিয় সাংসদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

    ৫ বছরের মেয়াদ তৃণমূলে

    কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টেনে ২০২১ সালের অগাস্ট মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে অসম ও ত্রিপুরায় দলের বিস্তারের লক্ষ্যে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সময় তৃণমূল তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল। দলে যোগদানের পর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন সুস্মিতা?

    রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে সুস্মিতা দেব লেখেন, ‘‘আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। আমার কার্যকালের সময় সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং সচিবালয়ের সমস্ত আধিকারিককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’ তবে পদত্যাগপত্রে দলত্যাগের কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন সুস্মিতা?

    পদত্যাগের পরই দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, একসময় দু’জনেই কংগ্রেসে ছিলেন। পরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিজেপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যতে সুস্মিতা দেবের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখছে না। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি বা বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের আগে মঙ্গলবারই তৃণমূল ছেড়েছেন সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। পদত্যাগের সময় তিনি সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয় আসলে ‘‘১৫ বছরের নৈরাজ্যপূর্ণ শাসনের ফল’’। এদিকে লোকসভায় তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ পৃথক গোষ্ঠী গঠনের পথে হাঁটছেন বলে খবর। এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা আসন বরাদ্দের আবেদন করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) বলেছেন, ‘‘আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে পৃথক বসার ব্যবস্থা চেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করব।’’ এই মন্তব্য কার্যত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান বলেই মনে করা হচ্ছে।

    এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা

    বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, বিদ্রোহী গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-তে যোগ দিতে পারে। তবে ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কারণে বিষয়টি সহজ নয়। আইন অনুযায়ী কোনও দলের সংসদীয় গোষ্ঠী ভেঙে আলাদা সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা ২০ বলে দাবি করা হলেও, তা আইনি স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

    সংকট সামলাতে সক্রিয় শীর্ষ নেতৃত্ব

    দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী ঐক্য রক্ষা এবং দলের ভাঙন রোধ করাই এই বৈঠকগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।

    বিধানসভাতেও অস্থিরতা

    সংসদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বে একটি পৃথক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। পরবর্তীতে বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ শুধুমাত্র একজন সাংসদের দলত্যাগ নয়, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের বিস্তারের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত সুস্মিতা দেবের প্রস্থান তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যদি বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ সত্যিই এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে তা শুধু সংসদীয় সমীকরণ নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও নতুন মোড় দিতে পারে। এখন নজর থাকবে— সুস্মিতা দেবের পর আর কতজন সাংসদ বা নেতা তৃণমূল ছাড়েন এবং বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

  • ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের (Rajya Sabha Polls) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার জারি হয় এই বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে ১০টি রাজ্যের ২৪টি আসন সদস্যদের অবসরের কারণে ফাঁকা হয়েছে। পদত্যাগজনিত কারণে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার ৩টি আসনে হবে উপনির্বাচন।

    নির্বাচনের সাত-সতেরো (ECI)

    কমিশন জানিয়েছে, ২৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুন। ওই দিনই বিকেল ৫টার পর হবে ভোট গণনা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৮ জুন বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা ৯ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। ১১ জুন প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন।অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং মিজোরামে ২৪টি শূন্যপদে ভোট হবে। পদত্যাগের কারণে আরও ৩টি পদ শূন্য। ফলে বিরোধী জোট রাজ্যসভায় অন্তত তিনটি অতিরিক্ত আসন পেতে পারে বলেই ইঙ্গিত। যদিও শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের বর্তমান শক্তি বজায় রাখবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। আগামী মাসে রাজ্যসভা থেকে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েন।

    শক্তি বাড়ছে এনডিএর!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২৭টি আসনের মধ্যে শাসক এনডিএ তাদের শক্তি এক বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ২৪৫ সদস্য বিশিষ্ট রাজ্যসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ১৪৮। কংগ্রেসের রয়েছে ৪টি আসন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর ১টি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)-এর ৩টি আসন। রাজ্য বিধানসভাগুলিতে (Rajya Sabha Polls) দলগুলির বর্তমান শক্তির ভিত্তিতে কংগ্রেস তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ করতে পারে (ECI)। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দু’টি আসনে জিততে পারে। শাসক তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনে একটি আসন জিতে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভায় জায়গা পেতে পারে।

    এনডিএ ভালো অবস্থায়

    এনসিপি নেতা সুনেত্রা পাওয়ার এবং এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগম বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণেই উপনির্বাচন হবে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে। ওড়িশায় দেবাশিস সমান্ত রায়, বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ছেড়েছেন রাজ্যসভার সদস্যপদও। তাই এই কেন্দ্রেও হবে উপনির্বাচন (ECI)। মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা পাওয়ারের শূন্য পদে এনডিএ ভালো অবস্থায় রয়েছে (Rajya Sabha Polls)। তামিলনাড়ুর একটিমাত্র আসন বন্ধু দলগুলির সমর্থনে টিভিকের দখলে যেতে পারে। ওড়িশার আসনটি শাসক দলের ঝুলিতে যেতে পারে।

    কোন আসনে জিতছে কারা

    অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ চারটি আসনই জিততে পারে। গুজরাটে বিজেপি চারটি আসনেই জিতবে। তাই এই রাজ্য থেকে কংগ্রেস তাদের একমাত্র আসনটি খোয়াতে পারে। কর্নাটকে কংগ্রেস চারটির মধ্যে তিনটি আসনে জিততে পারে, একটি আসন যেতে পারে পদ্ম-ঝুলিতে। খাড়্গে ফের রাজ্যসভায় মনোনীত হতে পারেন (ECI)। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিজেপি দু’টি করে আসন জিততে পারে। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেস একটি করে আসন পেতে পারে। ঝাড়খণ্ডে শাসক জেএমএম-কংগ্রেস জোট দু’টি আসনই জিততে পারে। তাদের জয়ের পথে খাড়া প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারে বিজেপি। অর্থাৎ, জোরদার লড়াই হতে পারে (Rajya Sabha Polls)।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচনে ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনের মধ্যে (ECI) বিজেপি জিতেছিল ১৩টি আসনে।

     

  • Delhi Mayor: দিল্লি পুরসভার মেয়র হলেন বিজেপির প্রবেশ ওয়াহি

    Delhi Mayor: দিল্লি পুরসভার মেয়র হলেন বিজেপির প্রবেশ ওয়াহি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (এমসিডি) মেয়র নির্বাচিত হলেন বিজেপি কাউন্সিলর প্রবেশ ওয়াহি। রোহিণী পূর্ব, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্ম-কাউন্সিলর তিনি। ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আনন্দ বিহারের বিজেপি কাউন্সিলর মনিকা পন্ত। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে দু’জনকেই অভিনন্দন জানিয়েছে এমসিডি। মেয়র ও ডেপুটি মেয়র — উভয়েই বিজেপির সদস্য। বিজেপির রাজা ইকবাল সিং ছিলেন বিদায়ী এমসিডি মেয়র। এর আগে, দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর (এলজি) তরণজিৎ সিং সান্ধু এমসিডি নির্বাচনে সিংকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন।

    আপের অঙ্গীকার নিয়েই প্রশ্ন (Delhi Mayor)

    বুধবার সকালেই রাজ্যসভার সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, এমসিডি মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ায় আপের সমালোচনা করেন। তিনি জানান, হার নিশ্চিত জানলেও গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস রাখা উচিত। আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে কটাক্ষ করে তিনি জানান, আপের প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দলটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার নিয়েই প্রশ্ন তোলে। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল কোনও প্রার্থী দেননি। এটা কেমন রাজনীতি? তাদের উচিত গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখা। তারা জানে যে তারা হারবে, তবুও তাদের উচিত ছিল নির্বাচন লড়া।”

    ট্রিপল-ইঞ্জিন সরকার

    তিনি জানান, এমসিডি জাতীয় রাজধানীর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং নাগরিক প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “দিল্লির উন্নয়নের জন্য এমসিডি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন দিল্লিতে আপ সরকার ক্ষমতায় ছিল, তারা একে খুব খারাপ অবস্থায় ফেলে রেখেছিল। এখন এমসিডি ও দিল্লি সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” একই ধরনের মন্তব্য করে, মেয়র নির্বাচনে আপ প্রার্থী না দেওয়া প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক রবিন্দর সিং নেগি বলেন, “আপ জানে তারা হারবে, তাই তারা কাউকেই প্রার্থী করেনি।” তিনি বলেন, “আপ প্রার্থী দিচ্ছে না কারণ তারা জানে তারা নির্বাচনে হারবে, যেহেতু তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। দিল্লিতে এখন ট্রিপল-ইঞ্জিন সরকার রয়েছে, যা ঐতিহাসিক কাজ করছে, এবং এটি আরও শক্তিশালী হবে।”

     

LinkedIn
Share