Tag: Suvendu Adhikari

Suvendu Adhikari

  • Suvendu Adhikari: দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর! কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর! কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি না থাকার ফলে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর (Tajpur Seaport) হওয়া সম্ভব নয়। বিকল্প হিসেবে দাদনপত্রবাড়ে হতে পারে গভীর সমুদ্রবন্দর। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, তাজপুরের প্রকল্পটি সম্পর্কে আদানিদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। ওই প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি রাজ্য সরকারের কাছে নেই। তাই তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়কে কেন্দ্র করে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে সরকার। সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্যের মালিকানাধীন। বন্দর, উপকূলবর্তী এলাকা এবং কলকাতার নদী সংলগ্ন এলাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে একটি বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর

    পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমল থেকেই শোনা গিয়েছিল তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি হবে। তার ফলে বদলে যাবে তাজপুরের চেহারা। বাড়বে কর্মসংস্থান। তবে সে প্রকল্প আজও বাস্তবায়িত হয়নি। রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর এই বিষয়ে নজর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার করণ আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বাস্তব সমস্যা উপলব্ধি করেই শিল্পের জন্য বিকল্প পথ খুঁজলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু বলেন, “তাজপুরে সরকারের কাছে জমি নেই। তাই সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর হওয়া সম্ভব নয়। তার পরিবর্তে তাজপুর থেকে ১০ কিমি দূরে দাদনপাত্রবাড়ে যেখানে নুনের পুরনো কারখানা ছিল সেখানে ১ হাজার ৭০০ একর জমি রয়েছে। ওই জায়গাটির কথা করণ আদানিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।” পরবর্তীকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান তিনি।

    কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা

    কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গেও তাজপুর নিয়ে কথা হয়ে গিয়েছে শুভেন্দুর। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। তিনি অনুমতি দিয়েছেন। তাজপুরের বদলে দাদনপত্রবাড়ে আমরা বাস্তবসম্মত ভাবে এগোব।’’

    ওয়াটার মেট্রো কলকাতায়

    রাজ্য সরকারের পালাবদলের পরই কলকাতার জলপথ পরিবহণে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ভাবনাচিন্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এবার কলকাতায় চালু হতে চলেছে ওয়াটার মেট্রো। এখনও পর্যন্ত দেশের মোট ১৭টি জায়গায় এই পরিষেবা চালু রয়েছে। ১৮ তম শহর হিসাবে যুক্ত হল তিলোত্তমার নাম। প্রথম পর্যায়ে গুয়াহাটি, শ্রীনগর, বারাণসী, অযোধ্যা, প্রয়াগরাজ, পাটনায় চালু হবে ওয়াটার মেট্রো। তেজপুর এবং ডিব্রুগড়েও চালু হওয়ার কথা ওয়াটার মেট্রো। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী বলেন, এবার কলকাতাতেও (Kolkata) চালু হবে ওয়াটার মেট্রো। বলে রাখা ভালো, নদী, খাল, হ্রদ বা জলপথ ব্যবহার করে একটি আধুনিক নৌযান হল ওয়াটার মেট্রো। এটি কলকাতা মেট্রোর মতোই সময় ধরে চলাচল করবে। কলকাতা ও হাওড়ায় রয়েছে হুগলি নদী। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই জলপথে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হলে উপকৃত হবেন বহু যাতায়াতকারী। যন্ত্রচালিত হওয়ায় অতি দ্রুত এক স্থান থেকে অন্যত্র যাতায়াতে সম্ভব। তাই স্বাভাবিকভাবে ওয়াটার মেট্রোর মাধ্যমে যাত্রীরা অতি দ্রুত নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে পারবেন। তার উপর আবার এই ওয়াটার মেট্রো পরিবেশবান্ধব। তার ফলে পরিবেশেরও কোনও ক্ষতি হবে না। ভাড়ায় মানুষের নাগালের মধ্যে। তাছাড়া পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই ওয়াটার মেট্রো যথেষ্ট আকর্ষণীয়। তাই ওয়াটার মেট্রো চালু হলে কলকাতাবাসী যে যথেষ্ট উপকৃত হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

    সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা

    কেন্দ্রের ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সাগরমালা ১ প্রকল্পে আগের সরকার যুক্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু ‘সাগরমালা ২’ আবার শুরু হচ্ছে। আমরা তাতে যুক্ত হব। এই প্রকল্পের একটি প্রস্তাবনা আমরা প্রস্তুত করব। পাঁচ বছরের জন্য ২২৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব তৈরি করা হবে। তাতে বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূল অঞ্চলে মাছ ধরার পরিকাঠামো, সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, নয়াচর, খেজুরি থেকে শুরু করে ওড়িশার সীমান্ত পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের কষ্ট দূর করতে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হবে।’’

    কলকাতার সমস্ত ঘাটের সৌন্দর্যায়ন

    কলকাতা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। শহরের সমস্ত ঘাটের সৌন্দর্যায়ন এবং পুনর্নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, বাগবাজার ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, আহিরিটোলা ঘাট, মল্লিকঘাট, বাবুঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাট, বান্দা ঘাট নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দু’টি ঘাটের সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ। বাকিগুলির কাজও দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। দুর্গাপুজোর মধ্যেই ঘাটগুলির নবীকরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এবং মা সারদাদেবীর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যকে এই ঘাটগুলির সৌন্দর্যায়নে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

    কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট

    শহরে জমি জবরদখল এবং বিপজ্জনক বাড়িতে বসতি নিয়েও নবান্নের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, পুরসভাকে এই সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদি তাঁরা জমি দেন, সরকার আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেণিকে ঘর বানিয়ে দেবে। এ ছাড়া, কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট, তোলাবাজি রুখতে এ বার থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, পুলিশ, সিআইএসএফ, কাস্টম্‌স এবং গোয়েন্দা বিভাগ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

     

     

     

  • PM Modi: ১ বৈশাখ নয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হবে ২০ জুন, ঘোষণা নবান্নর, সেই দিনই রাজ্যে মোদি?

    PM Modi: ১ বৈশাখ নয়, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত হবে ২০ জুন, ঘোষণা নবান্নর, সেই দিনই রাজ্যে মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০ জুন রাজ্যজুড়ে সরকারিভাবে পালিত হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ (West Bengal Day)। এই মর্মে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নয়া রাজ্য সরকার। মন্ত্রিসভার সবুজ (PM Modi) সঙ্কেত মেলার পর সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যব্যাপী বিশাল কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পদ্ম-শিবির।

    ২০ জুনের গুরুত্ব (PM Modi)

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন তারিখটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি জেলায় ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস’ পালনের পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। জেলাস্তরে ইতিমধ্যেই রাজ্য দিবস পালনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক এবং শীর্ষ পদাধিকারীদের নিজের নিজের এলাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ২০ জুন বাংলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই অবিভক্ত বাংলার বিধানসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বঙ্গভঙ্গ তথা ভারতের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। রাজ্যবাসীর কাছে সেই গৌরবময় অতীত তুলে ধরতেই এই দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিজেপির বক্তব্য

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে পদ্ম শিবির বঙ্গবাসীর স্মৃতিতে প্রায় ফিকে হয়ে যাওয়া শ্যামাপ্রসাদের আদর্শ ও প্রাসঙ্গিকতার আগুন উসকে দেবে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “গোটা রাজ্যে এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হবে। আমরা বাংলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে এই রাজ্যের অবদান তুলে ধরব।” তিনি জানান, ১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরে রাখতে যাঁরা আত্মত্যাগ ও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, এই দিনটিতে বিশেষভাবে স্মরণ করা হবে তাঁদের।

    রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি

    জানা গিয়েছে, ওই দিন রাজ্য বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় স্মরণসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নিবিড় জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের (PM Modi) ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ প্রচার কর্মসূচিও চালাবে গেরুয়া শিবির। এই কর্মসূচির মূল (West Bengal Day) লক্ষ্যই হল পিএম আবাস যোজনা, পিএম-কিষান, জল জীবন মিশন এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনমুখী কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সাফল্য ও সুবিধা সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া। প্রবীণ এক পদ্ম নেতা জানান, রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের মাধ্যমে দল বাংলার নিজস্ব পরিচিতি ও কৃষ্টিকে সম্মান জানাবে। রাজ্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে বঙ্গবাসীর সচেতনতাও বাড়ানো হবে। এদিন, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাও জানানো হবে।

    মমতা জমানায় বিস্তর জলঘোলা

    শুভেন্দুর আগে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে ছিলেন তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ১ বৈশাখ রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলাও হয়েছিল। সেই সময় লোকভবনে ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি ২০ জুন রাজভবনে (বর্তমান লোকভবন) আলাদা করে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করতেন। তা নিয়ে চিঠি চালাচালিও হয়েছিল (PM Modi)। প্রাক্তন রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা লিখেছিলেন, “আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি এটা জেনে যে আপনি ২০ জুন রাজভবনে ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস’এর মতো একটা অদ্ভুত দিবস উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

    কী বলছেন দিলীপ ঘোষ

    বিজেপি বরাবরই দাবি করে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের একমাত্র দিন হতে পারে ২০ জুন। পদ্ম নেতাদের এহেন দাবি উপেক্ষা করে তৃণমূল ১ বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে। রাজ্যে পালাবদলের পর নয় সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক একমাসের মাথায় জানিয়ে দিল, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হবে ২০ জুন, ১ বৈশাখ নয়। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “এবার থেকে ২০ জুন তারিখটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে।”

    পশ্চিমবঙ্গ দিবসে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    এদিকে, ২০ জুনের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি তারকেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পুজোও দেবেন। পরে তিনি (West Bengal Day) ভাষণ দেবেন জনসভায়। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সেদিন কলকাতায় আয়োজিত মূল কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গের প্রায় সর্বত্রই ফুটেছে পদ্ম। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এ রাজ্যে গঠিত হয়েছে প্রথম বিজেপি সরকার। তৃণমূলকে গোহারা হারিয়ে বিজেপি জিততেই দিল্লিতে রীতিমতো বাঙালি পোশাক ধুতি-পাঞ্জাবী পরে জনসমক্ষে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। নির্বাচনের আগে একাধিকবার দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করতে বাংলায় এসেছিলেন তিনি। রাজ্যে পদ্ম-সরকার গঠিত হওয়ার পর আর বাংলায় আসেননি প্রধানমন্ত্রী। তাই ২০ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা।

     

  • Suvendu Adhikari: বড় শিল্পের খরা কি কাটতে চলেছে? আদানি-শুভেন্দু বৈঠকের পর আশায় বুক বাঁধছে বাংলা

    Suvendu Adhikari: বড় শিল্পের খরা কি কাটতে চলেছে? আদানি-শুভেন্দু বৈঠকের পর আশায় বুক বাঁধছে বাংলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের শিল্পখরা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কি ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে? রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল বিভিন্ন মহলে। এবার সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করল নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তা করণ আদানির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

    নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    বুধবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন করণ আদানি। তিনি ভারতের বৃহত্তম বন্দর ও লজিস্টিক্স সংস্থা ‘আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন’ (APSEZ)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং আদানি গোষ্ঠীর পরিকাঠামো ও বন্দর ব্যবসার অন্যতম প্রধান মুখ। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ক্ষেত্র, লজিস্টিক্স হাব নির্মাণ, গ্রিনফিল্ড সড়ক প্রকল্প এবং সম্ভাব্য বৃহৎ বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    শিল্পবান্ধব বার্তা দিতে চায় নতুন সরকার

    রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নতুন প্রশাসন শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থা, সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বচ্ছ নীতির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শিল্প বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে সড়ক ও লজিস্টিক্স নেটওয়ার্ক উন্নয়নে আদানি গোষ্ঠী আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গ?

    ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। উত্তর-পূর্ব ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে রাজ্যটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বৃহৎ লজিস্টিক্স ও ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে আদানি গোষ্ঠী আগ্রহী বলে সূত্রের খবর। যদিও সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ বা নির্দিষ্ট প্রকল্প সম্পর্কে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তাজপুর বন্দরের তিক্ত অভিজ্ঞতা

    তবে এই সম্ভাবনার আলোচনার পাশাপাশি উঠে আসছে অতীতের কিছু ব্যর্থতার কথাও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। সেই প্রকল্পকে ঘিরে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। মনে করা হয়েছিল, বন্দরটি চালু হলে বিপুল কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের পথ খুলবে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতিগত সমস্যার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত টেন্ডার বাতিল হয়ে যায় এবং আদানি গোষ্ঠী তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই ঘটনা রাজ্যের শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তির উপরও প্রভাব ফেলেছিল।

    বদলেছে পরিস্থিতি?

    অর্থনৈতিক ও শিল্পমহলের একাংশের মতে, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। নতুন সরকারের অধীনে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই কারণেই অতীতের তিক্ততা ভুলে আদানি গোষ্ঠী আবারও পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে মনে করা হচ্ছে। করণ আদানির এই সফর ও বৈঠক সেই বার্তাই দিচ্ছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।

    কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাবের সম্ভাবনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দর, বিদ্যুৎ, সড়ক এবং লজিস্টিক্সের মতো কোর সেক্টরে বৃহৎ বিনিয়োগ এলে রাজ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। এর ফলে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিও গতি পেতে পারে। শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকেই বর্তমানে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার।

    অন্য শিল্পগোষ্ঠীর কাছেও ইতিবাচক বার্তা

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আদানি গোষ্ঠীর মতো বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থা যদি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়, তবে তা দেশের অন্যান্য শিল্পপতিদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে। অতীতে বিভিন্ন কারণে বাংলায় বিনিয়োগ থেকে দূরে থাকা বহু সংস্থাও নতুন করে রাজ্যের দিকে নজর দিতে পারে। এর ফলে বৃহত্তর শিল্পায়নের পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে।

    এখন নজর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে

    শুভেন্দু অধিকারী ও করণ আদানির বৈঠককে অনেকেই নতুন শিল্প-সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকল্প, বিনিয়োগের অঙ্ক বা সময়সীমা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তাই এখন শিল্পমহল ও সাধারণ মানুষের নজর আগামী দিনের দিকে। এই বৈঠক কি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে, নাকি তা কেবল সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে— সেই উত্তরই সময় দেবে।

     

  • Suvendu Adhikari: কাকলির পর শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়না! হাজির ঋতব্রতও, বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড়

    Suvendu Adhikari: কাকলির পর শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়না! হাজির ঋতব্রতও, বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এবার সেই বদলের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হল বুধবার নবান্নে আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূলের তিন বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh-Firhad Hakim), জাভেদ খান এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারের মেয়াদের শুরুতেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী শিবিরের দুই নেতার উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং শাসকদলে যোগদানের সুপ্ত ইঙ্গিত বা ‘দলবদল’-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও রুদ্ধদ্বার আলোচনা (Suvendu Adhikari)

    গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল শিবিরের একাধিক প্রথম সারির নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সকলের গঠনমূলক পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে। তবে প্রশাসনিক আলোচনার আড়ালে এই বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব যে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

    সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি অন্য কিছু?

    নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকটি বেশ কিছু সময় ধরে চলে। যদিও বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) উভয়েই একে একটি ‘প্রশাসনিক সৌজন্য সাক্ষাৎ’ এবং কলকাতার কিছু বকেয়া উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা বলে দাবি করেছেন। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কলকাতার মেয়র হিসেবে শহরের বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আমি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলাম।” অন্যদিকে, কুণাল ঘোষও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে হালকা করার চেষ্টা করে বলেন, “প্রতিটি বৈঠকের পেছনেই দলবদলের সমীকরণ খোঁজা অর্থহীন।” উল্লেখ্য এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খানও।

    জল্পনা বনাম বাস্তবতা

    তৃণমূল রাজত্বে দুই অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী নেতার এভাবে নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা কেবল ‘প্রশাসনিক’ বলে মানতে নারাজ। এই বৈঠকের নেপথ্যে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ উঠে আসছে। এই সমীকরণগুলি হল-

    নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব

    রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর তৃণমূলের বহু বিদায়ী মন্ত্রী ও নেতার সরকারি নিরাপত্তা ও ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং এলাকার উন্নয়ন সচল রাখতে নতুন শাসক শিবিরের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন অনেকে।

    তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ

    বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে পুরনো বনাম নতুন নেতৃত্বের কোন্দল প্রকাশ্যে আসছিল। বিশেষ করে কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) মতো নেতারা অতীতেও দলের একাংশের বিরুদ্ধে একাধিকবার সোচ্চার হয়েছিলেন। ফলে এই বৈঠক দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

    শুভেন্দুর কৌশলী অবস্থান

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বরাবরই তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে দক্ষ। বিরোধী শিবিরের (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) হেভিওয়েট নেতাদের নবান্নে ডেকে বৈঠক করার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন ‘উদার ও সমন্বয়বাদী’ নেতার ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন, অন্যদিকে বিদায়ী শাসকদলকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছেন।

    রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

    এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দাবি, তৃণমূলের বহু নেতাই এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল হতে যোগাযোগ রাখছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হবে।

    ঋতব্রত-সন্দীপনদের সঙ্গেই কুণাল-ববিরা!

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা সন্দীপন সাহার মতো প্রকাশ্য বিদ্রোহীরা যে শুভেন্দুর বৈঠকে আসবেন, তা আগেই নিশ্চিত ছিল। কিন্তু, কুণাল-ববি-নয়নার উপস্থিতি আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্তও ফিরহাদ হাকিম (কলকাতার মেয়র) এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতাদের কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার বার্তা দিতে দেখা গিয়েছিল। অথচ, বুধবার তাঁদের দেখা গেল নবান্নের কনফারেন্স রুমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঠিক কয়েক আসন দূরে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে বসে থাকতে।

    ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’

    অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরে এই বৈঠক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলের একাংশ বিষয়টিকে তীব্র সমালোচনা করে একে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের মতে, দলের কঠিন সময়ে যাঁরা এভাবে বিরোধী শিবিরের দরজায় কড়া নাড়ছেন, তাঁরা আদতে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। তবে অন্য একটি অংশের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতারা দেখা করতেই পারেন, একে দলবদল ভাবা অতি রঞ্জিত মানসিকতার পরিচয়। সব মিলিয়ে, শুভেন্দুর সঙ্গে (Suvendu Adhikari) নবান্নের এই বৈঠক যে আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক চালচিত্রকে অনেকটাই প্রভাবিত করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবলই প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি অদূর ভবিষ্যতে কোনও বড়সড় রাজনৈতিক দলবদলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।

  • Arijit Das Thakur: তোলাবাজির অভিযোগে ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, তালিকায় এবার অরিজিৎ দাস ঠাকুর

    Arijit Das Thakur: তোলাবাজির অভিযোগে ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, তালিকায় এবার অরিজিৎ দাস ঠাকুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক শাসকদলের বিদায়ী নেতা ও কাউন্সিলরের গ্রেফতারির পালা চলছে। সুদীপ পোল্লে এবং সচিন সিংয়ের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন কলকাতা পুরনিগমের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur)। তোলাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। বুধবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার।

    ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ (Arijit Das Thakur)

    তৃণমূল নেতাদের (TMC Councillor) বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তৎকালীন বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি এই নিয়ে বারবার সরব হলেও, শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠত। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আইন এখন নিজের পথে চলছে এবং একের পর এক প্রভাবশালী নেতার শ্রীঘরে ঠাঁই হচ্ছে। অরিজিতের বিরুদ্ধে মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই এভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধরপাকড় চলছে।

    অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur) তৃণমূলের দীর্ঘদিনের প্রবীণ নেতা দুলাল দাস ঠাকুরের পুত্র। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। অথচ, সম্প্রতি দল তাঁকে নিজেদের আইটি (IT) সেলে বড়সড় দায়িত্বও দিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না; ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

    এক নজরে সাম্প্রতিক গ্রেফতারি

    কলকাতা পুরনিগমে এই নিয়ে পরপর তিনজন তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councillor) পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। যারা যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করে মানুষের জনজীবনকে বিপন্নকে করেছেন তাঁদের আরও কয়েকজন সম্পর্কে অভিযোগগুলি ছিল ভীষণ গুরুতর। সুদীপ পোল্লে, ওয়ার্ড নম্বর ১২৩, কলকাতা পুরনিগমের প্রথম কাউন্সিলর হিসেবে কয়েকদিন আগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপর সচিন সিং, ওয়ার্ড নম্বর ৩৬, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গত ২৭ মে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

    সচিন সিংয়ের গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছে ২০২১ সালের ৪ মে-র একটি ঘটনা। অভিযোগকারী আদর্শ পাণ্ডে দাবি করেন, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ সচিন সিংয়ের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সেই পুরনো মামলার তদন্তে নেমেই পুলিশ সচিনকে গ্রেফতার করে। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur)।

  • Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ মিলবে, তারকেশ্বর থেকেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ মিলবে, তারকেশ্বর থেকেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের একাধিক জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়ন করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এক বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, “অন্নপূর্ণা যোজনা-র (Annapurna Yojana) আওতায় প্রতিশ্রুতি মতন অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া বুধবার (৩ জুন) থেকেই শুরু হতে চলেছে।” এই প্রসঙ্গে তিনি মঙ্গলবার তারকেশ্বর থেকে আরও বলেন, “যত দ্রুত ফর্ম ফিলআপ হবে, তত দ্রুতই চালু হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার।” এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ও পারদ চড়তে শুরু করেছে।

    ঘুষপেটিয়াকে টাকা দেওয়া হবে না (Annapurna Yojana)

    উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য এই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র (Annapurna Yojana) কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। শাসকদলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এরপর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় যে রাজ্যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। ২০২৬ সালে ঐতিহাসিক রায়ে বিধানসভায় বিজেপি সরকার গড়তেই ঠিক কথা মতো কাজ শুরু করে দিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তারকেশ্বরে বলেন, “কাল থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া শুরু হবে। যাঁরা ফর্ম পূরণ করেছেন, তাঁরা টাকা পাবেন। আমরা যা বলি, ভেবেচিন্তেই বলি। কোনও ঘুষপেটিয়াকে টাকা দেওয়া হবে না। সরকারি ভাতা যোগ্যদের পাশাপাশি অযোগ্যদের খাতায়ও ঢুকেছে। যাঁরা অন্নপূর্ণার ফর্ম এখনও পূরণ করেননি, তাঁরাও বঞ্চিত হবেন না। তাঁদের অ্যাকাউন্টেও আগের মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে।”

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠ করেছেন, ছাড়ব না

    এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আগামীকাল থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই যোজনার অর্থ সরাসরি প্রেরণের প্রক্রিয়া আরম্ভ হবে। যাঁরা ১২ পাতা, ১৬ পাতা, ১৮ পাতা করছেন, এই জনগণের দ্বারা রিজেক্টেড নেতা এবং তাঁদের দলের লোকেদের বলব যে, এই সংখ্যাটা কত হবে আমরা জানি না। তাঁদের আমলে অনুপ্রবেশকারীরা তো ভাতা পেয়েছেনই, তার সঙ্গে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, যাঁরা মহিলা নন বা এই কর্মসূচির আওতায় আসেন না, তাঁরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Annapurna Yojana) লুঠ করেছেন। আমি কাউকে ছাড়বো না।”

    দুর্নীতি নিয়ে সরব

    একই সঙ্গে, এই কর্মসূচির ঘোষণা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্যের বর্তমান শাসকদল ও রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যের বর্তমান প্রশাসন সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও কেন্দ্রীয় অনুদান সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি প্রশ্রয় পাচ্ছে। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া এবং এই রাকিবুল, মুস্তাফিজুর, তারিকুলরা মিলে অন্তত ৩০ লক্ষ ভুয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলেছে। ৩০ লক্ষ গুণিতক ১৫০০ টাকা করে যদি হিসাব করেন, জনগণের কত হাজার কোটি টাকা এরা লুঠ করেছে, এটা তার প্রমাণ। আমরা এদের একেবারে গ্রাসরুট থেকে ক্র্যাক ডাউন করব আইনের মাধ্যমে।”

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে শুভেন্দু অধিকারীর এই দ্রুত পদক্ষেপ (Annapurna Yojana) এবং পাল্টা প্রকল্প চালুর ঘোষণা আসলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে গ্রামীণ ও শহরতলীর মহিলা ভোটারদের নিজেদের পক্ষে ধরে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল।

  • Dilip Ghosh: “তৃণমূলে মুষলপর্ব শুরু, যত তাড়াতাড়ি দলটা উঠে যায়, ততই মঙ্গল”, বললেন দিলীপ

    Dilip Ghosh: “তৃণমূলে মুষলপর্ব শুরু, যত তাড়াতাড়ি দলটা উঠে যায়, ততই মঙ্গল”, বললেন দিলীপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পুরো পার্টিটাই জালি। আর কী আশা করা যাবে! মুষলপর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। যত তাড়াতাড়ি দলটা উঠে যায়, বাংলার পক্ষে ততই মঙ্গল।” তৃণমূল (TMC) ভাঙনের জল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সইকাণ্ডে মুখ খোলায় তৃণমূল বহিষ্কার করেছে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে। তারপরেই জল্পনা ছড়ায়, ৫০ বিধায়ককে নিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গড়ছেন ঋতব্রতরা। শোনা যাচ্ছে, নিজেদের প্রধান বিরোধী দল দাবি করে তাঁরা স্পিকারের কাছে চিঠিও দেবেন। এমতাবস্থায় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূল। সেক্ষেত্রে তাঁর দল বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদাও খোয়াতে পারে। কারণ বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা ধরে রাখতে প্রয়োজন ৩০ বিধায়কের সমর্থন। নতুন করে এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তৃণমূল তা আদৌ জোগাড় করতে পারবে কিনা, সেটাই বড় প্রশ্ন। আজ, মঙ্গলবার সকালে তৃণমূলের এই হতশ্রী দশা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন দিলীপ।

    “নেত্রী সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন” (Dilip Ghosh)

    রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী বলেন, “যেমন যেখান যেখান থেকে লোকজন একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিল, এখন তেমন তেমন সেখানে চলে যাচ্ছে। প্রয়াত সুব্রত মুখার্জি একবার আমায় গল্পচ্ছলে বলেছিলেন, তৃণমূল আসলে একটা প্ল্যাটফর্ম। সবাই দাঁড়িয়ে আছে। যার যেমন ট্রেন আসছে, সে তেমন চলে যাচ্ছে। আজ উনি বেঁচে নেই। কিন্তু, ওঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। শুধু পয়সা কমানোর জন্য লোকগুলো এসেছিল। দুনিয়ার ক্রিমিনাল, অ্যান্টি সোশ্যাল এসেছিল। এখন যার যার মতো পালিয়ে যাচ্ছে। দলটা বিধানসভায় ঢুকলই না, তার আগেই দু’জন সাসপেন্ড হয়ে গেল। আমার ভাবতে অবাক লাগে, এই দলটাকে বাংলার মানুষ ১৫ বছর ধরে সহ্য করেছে! দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, “নেত্রী সবাইকে চুরি করতে শিখিয়েছেন। এখন তার ফল ভোগ করতে হবে। ছোটবেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম। রাখাল স্কুলে সবার খাতা, বই, পেনসিল চুরি করত। যেদিন ধরা পড়ল সেদিন মাসির কানে কথা বলার বাহানায় মাসির কান কামড়ে ছিঁড়ে দিয়েছিল। বলল, মাসি তুমিই আমায় চুরি করতে শিখিয়েছ। এই মাসির কান কাটা এখনও বাকি আছে।”

    ‘দুই সাংসদ পালিশ খেয়েছেন’

    তিনি বলেন, “ওদের দু’জন সাংসদ পাবলিকের কাছে অলরেডি পালিশ খেয়েছেন। অথচ দু’জনের কারোর গায়ে কোনও দাগ নেই! এরমধ্যে একজন কল্যাণ ব্যানার্জি। তাঁর নাটক আমরা পার্লামেন্টে বহুবার দেখেছি। ওঁকে সেদিন কেউ একটা চাঁটি মেরেছিল। রুমাল দিয়ে রগড়েও একফোঁটা রক্ত বের করতে পারলেন না!” মন্ত্রী (Dilip Ghosh) বলেন, “আমি এখন বুঝতে পারছি, আমার হরিণঘাটা ডিমের দাম এত বাড়ল কেন? এদিক-ওদিক ডিম ছোড়া হচ্ছে। অভিষেক কোনও হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেননি। বেলভিউ হাসপাতালের ডাক্তাররা বুঝিয়ে (TMC) দিয়েছেন, তাঁদের মেরুদণ্ড শক্ত। এটা খুব জঘন্য একটা আচরণ। সরকার কাজ করছে। মানুষ দেখছে। কয়েকদিন আপনারা ঘরের ভেতরে থাকুন। আন্দোলনের নামে ব্লকে বা থানায় ঘেরাও-ফেরাও করবেন না। দেখছেন তো চারিদিকে কী অবস্থা! হুজ্জুতি করতে যাবেন পাবলিক আবার ধরে পালিশ করে দেবে! আবার হাসপাতালে যেতে হবে। শান্তিতে থাকুন। বাড়িতে থাকুন।”

    ‘ডিম খান, শক্তি বাড়ান’

    খড়্গপুরের বিধায়ক বলেন, “আমরা বলেছি ডিমের ক্রাইসিস আছে। ডিম এঁর তাঁর গায়ে ছুড়ে নষ্ট করবেন না। ডিম খান। শক্তি বাড়ান। ফালতু লোককে ডিম মেরে লাভ নেই।” এদিনই ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে প্রসঙ্গে দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, “গণতান্ত্রিক কার্যকলাপ আমরা বন্ধ করতে চাই না। আন্দোলন করতে কারওর কোর্টে যাওয়ার দরকার হবে না। তবে পুলিশের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীকে আন্দোলন করার অনুমতির জন্য ১০৪ বার কোর্টে ছুটতে হয়েছিল। রেড রোডের নমাজ শান্তিতে ব্রিগেডে হয়ে গেল। তাই, আমি বলব কয়েকটা মাস (TMC) শান্তিতে ঘরে থাকুন।”

    ‘মায়ের কাছেও কাটমানি খেয়েছে’

    তিনি বলেন, “তৃণমূল পঞ্চায়েত, মণ্ডল সভাপতি, প্রাক্তন বিধায়কদের অফিস সার্চ হচ্ছে। আর আজব আজব জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। ডাব, নারকেল, তেল, হাঁড়ি-কলসি-খুন্তি। আমি জানি না এগুলো কারখানা ছিল, গুদাম ছিল, নাকি অফিস ছিল! পার্টি অফিসে যাঁরা পিঠে বানাতে যেতেন, সেখানকার বাসিন্দারাই তার বদলা নিয়েছেন। তৃণমূল পার্টি ব্যান করে দেওয়া উচিত। এদের প্রতীক চিহ্ন ব্যান করে দেওয়া উচিত। এরা একটা টেরোরিস্ট সংগঠনের মতো কাজ করে গিয়েছে। গোপন সংগঠনের মতো কাজ করে গিয়েছে।” পদ্ম-মন্ত্রিসভার সদস্য দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, “স্যাঁকরা নিজের মায়ের গয়না থেকেও সোনা চুরি করে। তৃণমূল নেতারা আবাস যোজনায় নিজের মা ঘর পেলে, তার থেকেও কাটমানি নিয়েছে। মেসিও রেহাই পেলেন না! তাঁর মূর্তি থেকেও কাটমানি নেওয়া হল। লোকটা ওখানে ছ’মাস দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না, ফেলে দিল তৃণমূল।”

    পিঠ বাঁচাতে পদত্যাগ!

    পদত্যাগ করেছেন বিধায়ক তারক সিং। সে প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ বলেন, “এতদিন কী করেছেন? নেতাদের বাড়িতে রেড হতেই বোঝা যাচ্ছে, কে কী কাজ করেছেন! পিঠ বাঁচানোর জন্য এখন অনেকে পদত্যাগ করছেন। বিষবৃক্ষ রোপণ করেছেন কে? তার ফল এখন সবাইকে ভুগতে হবে।” রাজ্যে শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি (Dilip Ghosh) বলেন, “আমূলের কলকাতা প্রধান দেখা করার জন্য সময় চেয়েছেন। আজই (TMC) হয়তো দেখা হবে। কথা হবে। অনেকে ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন। অনেক ফোনই আসছে।”

     

  • CM Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই মিলবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা, ঘোষণা নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    CM Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই মিলবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা, ঘোষণা নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকল্পের নাম ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ (Lakshmir Bhandar Fraud), মহিলাদের জন্য। অথচ তার সুবিধা পাচ্ছে ‘পেঁচা’রাও! অন্নপূর্ণা ভান্ডারে কেন ১১ পাতার ফর্ম ফিল-আপ করতে হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই বিতর্কে জল ঢালতেই হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “অনেক বড় রহস্য ফাঁস হয়েছে।” সোমবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে লক্ষ্মীর ভান্ডারে হওয়া ‘কেলেঙ্কারির বাক্স’ খুলতে সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ দিতে গিয়ে ‘পেঁচা’র খোঁজ (CM Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু বলেন, “অনেক বড় রহস্য ফাঁস হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে পুরুষরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিচ্ছে। এমন আরও অনেক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যাবে বলে অনুমান। ১৫টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তুলিকার। ৬টি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে তারিকুল রহমানের। কেবলমাত্র জঙ্গিপুরেই ৩ হাজার ভুয়ো নাম বেরবে। কী চিটিংবাজ! যোগ্য প্রাপকরা নিশ্চয়ই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।” তিনি বলেন, “বাজার থেকে একটা ঢ়্যাড়স কিনতে গেলেও টিপে দেখেন, তাহলে ফর্মে তথ্য যাচাই করা হবে না? ৩৬ হাজার টাকা দেবে সরকার, একটু সহযোগিতা করে দেখুন না! একটু ভরসা করে দেখুন!” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভুয়ো বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতা নেওয়ার জন্য (Lakshmir Bhandar Fraud) গ্রেফতার করা হয়েছে চন্দ্রকোণার টিএমসি নেতা উত্তম সাউকে।

    ১১ পাতার ফর্ম কেন, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    অন্নপূর্ণ যোজনার সুবিধা পেতে গেলে কেন ১১ পাতার ফর্ম ফিল-আপ করতে হবে, এদিন তার ব্যাখ্যাও দেন শুভেন্দু। বলেন, “জনগণের দ্বারা রিজেক্টেড নেতা ও তাঁর দলের লোকেদের বলব, অপপ্রচার না করে বুঝে নিন কেন ১১ পাতার ফর্ম ফিল-আপ করতে হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছেই, মহিলা নন তৃণমূলের এমন হাজার হাজার লোক লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা লুট করছে। সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। এসআইআরে বাদ যাওয়া অন্তত ৩০ লাখ মানুষও ভুয়ো লক্ষ্মীর ভান্ডারে নাম তুলছেন। কত হাজার কোটি টাকা জনগণের কীভাবে লুট করেছে এই লুটেরাদের পার্টি, এটাই তার প্রমাণ। তৃণমূল স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করব।”

    লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে বিস্তর ঘাপলা

    প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল-আপ করতে গিয়েই ভিরমি খাওয়ার জোগাড় আবেদনকারীদের। সেই সুযোগটাকেই কৌশলে কাজে লাগাচ্ছে কোনও কোনও রাজনৈতিক দল। তারা প্রচার করছে, ৩ হাজার টাকা দিতে গিয়ে হাঁড়ির খবর নিয়ে নিচ্ছে সরকার! যদিও রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বক্তব্য, লক্ষ্মীর ভান্ডারে বহু ভুয়ো নাম ঢুকেছিল। তাই প্রতিটি পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করেই দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতিশ্রুত অর্থ (CM Suvendu Adhikari)। অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের ঘোষণা করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অগ্নিমিত্রা পাল দু’জনেই জানিয়েছিলেন, যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প পাচ্ছেন, তাঁদের ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা যোজনায়। ফর্ম ফিল-আপের প্রয়োজন পড়বে না। পরে প্রকল্প চালু করতে গিয়ে শুভেন্দুর সরকার দেখে, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে বিস্তর ঘাপলা হয়েছে। তার পরেই শুরু হয় চাল থেকে কাঁকর বাছার প্রক্রিয়া (Lakshmir Bhandar Fraud)। তাতেই উঠতে শুরু করেছে রাঘব-বোয়ালরা।

    বুধবার থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা

    বুধবার থেকেই যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকতে শুরু করবে, এদিন তাও জানিয়ে দেন পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘গত দু’-তিন ধরে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি, কিছু মিথ্যা প্রচার যাঁরা চালিয়েছিলেন, এখন তাঁরা নিজেরাই ফর্ম ফিল-আপের জন্য এগিয়ে এসেছেন। আমরা এর আগে অফলাইনে চালু করেছিলাম। আজ থেকে অনলাইনেও চালু হয়ে গিয়েছে। ২০ জন আধিকারিক জেলায় জেলায় গিয়ে এই কাজ নজরদারি করছেন। আমরা আশা করছি, বুধবার বড় সংখ্যায় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে শুরু করব (CM Suvendu Adhikari)।’’

    ফি মাসে ৩০ লাখ টাকা গায়েব!

    শুভেন্দুর সরকার কেন বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে, এদিন তার ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। টেনে আনেন রাকিবুল শেখের প্রসঙ্গ। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা রাকিবুল দীর্ঘ দিন ধরে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ। কীভাবে একজন পুরুষ হয়ে রকিবুল এই প্রকল্পের সুবিধা পান, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরেই পুলিশ রাজ্যজুড়ে ‘লক্ষ্মীর পেঁচা’দের খোঁজ শুরু করেছে (CM Suvendu Adhikari)। আরও কয়েক জনের খোঁজও মেলে। তৃণমূল জমানার সেই সব দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই তালিকা অনেক বড় হবে। পুলিশকে তদন্তের গতি আরও বাড়াতে বলেছি। সংখ্যাটা ঠিক কত হবে, আমি জানি না। অনুপ্রবেশকারীরা তো পেতেনই, হাজার হাজার তৃণমূল নেতাও মহিলা না হয়েও, লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা নিচ্ছিলেন। যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডারের (Lakshmir Bhandar Fraud) টাকা লুট করছেন, তাঁদের কাউকে ছাড়ব না। আমি ডিজিপিকে বলেছি সিট গঠন করতে।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা হিসেব করে দেখেছি, ভুয়োভাবে অন্তত ৩০ লাখ টাকা তোলা হচ্ছিল। আইনের মাধ্যমে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে এই দুর্নীতি রোধ করব (CM Suvendu Adhikari)।’’

     

  • Suvendu Adhikari: “জাল সই-কাণ্ডের পর্দাফাঁস করেছেন তৃণমূলেরই ২ বিধায়ক”! তাঁরা কারা? নাম ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: “জাল সই-কাণ্ডের পর্দাফাঁস করেছেন তৃণমূলেরই ২ বিধায়ক”! তাঁরা কারা? নাম ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এরা প্রতিষ্ঠিত চোর। নিজেদের দলের বিধায়কের সইও জাল করেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, দলের দুই বিধায়ক আবার সেই অভিযোগ স্বীকারও করে নিয়েছেন।” বিধানসভার সই জাল (TMC MLA Signature Mismatch) বিতর্কে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    দুয়ারে সিআইডি (Suvendu Adhikari)

    শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হবেন-এই মর্মে একটি রেজোলিউশন নিয়েছিল তৃণমূল। দলীয় বিধায়কদের স্বাক্ষর-সহ সেই রেজোলিউশন জমাও দেওয়া হয় বিধানসভায়। কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই নিয়ে সন্দেহ হয় বিধানসভার আধিকারিকদের। অভিযোগ দায়ের হয় হেয়ার স্ট্রিট থানায়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট এমএলএর বাড়িতে হানা দেন। তাঁদের সঙ্গে পৌঁছে যান সিআইডির হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্টও। এই সই-কাণ্ডেই তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করেছে সিআইডি।

    মুখ্যমন্ত্রীর তোপ

    সেই প্রসঙ্গেই এবার তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি জানান, এই বিষয়ে বিরোধী দল তৃণমূল অনেক সময় দাবি করছে, এটা নাকি বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। সেই অভিযোগ উড়িয়ে শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা-ই এই বিষয়ে অভিযোগ জানান। তাঁদের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই  হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। তদন্তে সিআইডির হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্টদের সাহায্য নেয় পুলিশ (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু বলেন, “তদন্তের স্বার্থে আঞ্চলিক দলের ‘সর্বভারতীয়’ সাধারণ সম্পাদককে হাজিরার নোটিস দিয়েছিল সিআইডি। যদিও নির্ধারিত দিনে হাজিরা দেননি তিনি। এত বড় দুর্নীতিগ্রস্ত একটা দল তদন্তের মুখোমুখি হতেও ভয় পাচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হারের পরেও চুরির অভ্যেস যায়নি, দলের বিধায়কদেরই সই জাল! সই জালিয়াতির কথা স্বীকারও করেছেন তৃণমূলেরই ২ বিধায়ক। ১৩ জন তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে কথা হয়েছে।”

    জাল করা হয়েছে সই!

    প্রসঙ্গত, শনিবারই অভিষেকের ১৮৮-এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে হানা দেন তদন্তকারীরা। সেখানে না পেয়ে তাঁরা যান অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে। সেখানে নীচে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সাংসদকে ডেকে পাঠান তদন্তকারীরা। অভিষেক নীচে নামলে তাঁর হাতেই নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই নোটিশে আজ, সোমবার তাঁকে হাজিরা (TMC MLA Signature Mismatch) দিতে বলেছিল সিআইডি। যদিও উপস্থিত হননি অভিষেক। জানা গিয়েছে, বাহরুল ইসলাম, শুভাশিস দাস ও অরূপ রায় স্বীকার করেছেন যে, তাঁদের সই নকল করা হয়েছে। বাহরুল এও জানান, তিনি কলকাতায় যাননি, বাড়িতেই ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিআইডির সামনে তিন জন স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁরা কেন ফাঁসবেন? রেজোলিউশন তো আমাদেরও দিতে হয়েছিল ২০২১ সালে। এরা এত দুর্নীতিগ্রস্ত!” মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Government Full Cabinet: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত, শপথ নিলেন ৩৫ মন্ত্রী, দেখুন পূর্ণ তালিকা

    Suvendu Government Full Cabinet: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত, শপথ নিলেন ৩৫ মন্ত্রী, দেখুন পূর্ণ তালিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল সোমবার। কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আরএন রবি মোট ৩৫ জন বিধায়ককে মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন মন্ত্রিসভায় ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে দফতর বণ্টনের ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় শপথ গ্রহণ করেন অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। ইতিমধ্যেই তাঁদের দফতর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ‘বন্দেমাতরম’, ‘জন গণ মন’-তে অনুষ্ঠানের সূচনা

    সোমবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-র মাধ্যমে। এরপর মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল একে একে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিধায়করা ছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। লোকভবনে শপথ নিতে আসা অধিকাংশ নেতাকেই দেখা যায় ধুতি-পাঞ্জাবি বা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে। অনেকেই পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • দীপক বর্মন (ফালাকাটা)
    • তাপস রায় (মানিকতলা)
    • মনোজকুমার ওঁরাও (কুমারগ্রাম)
    • শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি)
    • জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি)
    • স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী)
    • অর্জুন সিং (নোয়াপাড়া)
    • গৌরীশংকর ঘোষ (মুর্শিদাবাদ)
    • অরূপকুমার দাস (সিঙ্গুর)
    • দুধকুমার মণ্ডল (ময়ূরেশ্বর)
    • শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (বিধাননগর)
    • কল্যাণ চক্রবর্তী (খড়দা)
    • অজয়কুমার পোদ্দার (কুলটি)

    স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • মালতী রাভা রায় (তুফানগঞ্জ)
    • রাজেশ মাহাতো (গোপীবল্লভপুর)
    • ইন্দ্রনীল খাঁ (বেহালা পশ্চিম)

    প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • জুয়েল মুর্মু (হবিবপুর)
    • আনন্দময় বর্মন (মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি)
    • অশোক দিন্দা (ময়না)
    • শান্তনু প্রামাণিক
    • উমেশ রাই
    • পূর্ণিমা চক্রবর্তী
    • কৌশিক চৌধুরী
    • দিবাকর ঘরামি
    • কলিতা মাজি
    • গার্গী দাস ঘোষ
    • দীপঙ্কর জানা
    • সুমনা সরকার
    • হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক)
    • বিশাল লামা (কালচিনি)
    • মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র (বর্ধমান দক্ষিণ)
    • নাদিয়ার চাঁদ বাউরি (পারা)
    • বিরাজ বিশ্বাস (করণদিঘি)
    • ভাস্কর ভট্টাচার্য (শ্রীরামপুর)
    • অমিয় কিস্কু (নয়াগ্রাম)

    এদিকে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টনের দিকে। সূত্রের খবর, শপথগ্রহণের পর নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা সরাসরি নবান্নে যান এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দফতর বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে। সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হওয়ায় প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আসবে বলেই মনে করছে শাসক শিবির।

LinkedIn
Share